পোশাক খাতের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলা আন্দোলনে উসকানি দিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থেকে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম এ তথ্য জানান। আটককৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, তারা হলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আ. হালিম (৩৭), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম (৪৮) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী (৪৬)।ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের ওসি সাইদুল ইসলাম আটকের বিষয়ে বলেন, চলমান শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে অস্থিরতা তৈরির যথাযথ তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এই তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে জিরাবো এলাকা থেকে শামীমকে, বসুন্ধরা সোনিয়া মার্কেট থেকে হালিম ও মনসুরকে আটক করা হয়। তাদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।
১৩ ঘন্টা আগে
২০০৯ সালের পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নেপথ্য ষড়যন্ত্র, ঘাতকদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তারকৃত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিরোধী বিভিন্ন তৎপরতায় যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সক্রিয় চক্রান্ত এবং সরাসরি জড়িত চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।অভিযান পরিচালনার পরপরই গ্রেপ্তারকৃত খন্দকার আব্দুল হাফিজকে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।ডিবি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের গভীরতা খতিয়ে দেখতে তাকে বর্তমানে সংস্থাটির কার্যালয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।এদিন দুপুর ২টার দিকে দীপকে সংশ্লিষ্ট আদালতে তোলে পুলিশ এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত চার দিন মঞ্জুর করেছেন। এর আগে একই দিন সকালে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। বিষয়টি নিশ্চিত করে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, তাহসিফের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের কাছ থেকে নিতে হবে।গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধু স্থানীয় ছোট ভাই দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দীপকে দেখা যায়। তারা হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান।পরিবারের কাছে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা হওয়ায় তারা ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেল ঠিক করার পর একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান। তবে ওই রাতে তাদের চলাফেরা ও যোগাযোগ নিয়ে পরে তদন্ত শুরু হয়।২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দীপকে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদ সংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদ সংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে দীপের এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিবিআই তার বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতি যাচাই করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন। তার দাবি, ছেলে সাঁতার জানতেন। ফলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে, এমন বক্তব্য নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
৪ দিন আগে
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটান।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তাকে কিছু বিষয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই।পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দ্বীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্যমতে, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে তুরাগ নদে একটি লাশ ভেসে থাকার কথা জানানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ডাঙায় তোলে।ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে দেখা করে আসি’— মাকে এই কথা বলেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট কেএম তাহসিফ সাউরি। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তার পরদিন (২৮ অক্টোবর) নিখোঁজ তাহসিফের নিথর দেহ ভেসে ওঠে তুরাগ নদে।দ্বীপ ছিলেন তাহসিফের ছোট ভাইয়ের মতো কাছের বন্ধু। সেই কালরাতে ঠিক কী হয়েছিল, দুজনে কোথায় গিয়েছিলেন আর কখন ফিরেই বা এসেছিলেন— এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন দ্বীপ। তার দাবি, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তারা একসঙ্গেই ছিলেন। তখন তাহসিফকে বেশ স্বাভাবিক ও উৎফুল্ল মেজাজেই দেখেছিলেন তিনি।তবে তাহসিফের এ রহস্যজনক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না দ্বীপ; তার কাছে এ পুরো ঘটনাই ধোঁয়াশাপূর্ণ মনে হচ্ছে।এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বাইক নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে এসে হাজির হন দ্বীপ। গ্যারেজে ঢুকে প্রথমেই তিনি নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রাখেন এবং পরিহিত কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাহসিফ ওপর থেকে নেমে নিচে চলে আসেন এবং দ্বীপের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে হাত মেলান। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি আলাদা মোটরসাইকেল নিয়ে গ্যারেজ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
৫ দিন আগে