কয়েক ঘণ্টার তীব্র হামলা পাল্টা হামলার পর ইসরাইল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যা আজ শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।সংবাদ সংস্থাটি বলেছে: ‘হিজবুল্লাহ ও ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে,’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের আলোচকরা ইরানের সহায়তায় এই চুক্তি করেছে।কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানে গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ‘লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার কথা থাকলেও ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যায় যা ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তি হুমকির মুখে ফেলেছে। লেবাননে সংঘাত তীব্র হওয়ায় আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা বাতিল করা হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া নিশ্চিত করার অত্যাবশ্যকীয় এই আলোচনার সময়সূচী নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত গত রাতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই তীব্রতর হয়। যা আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলে। হামলা পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। লেবাননের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে আজ ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। আরও ৩৩ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলের সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানায়, লেবাননে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও পাঁচ সেনা আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আইডিএফের দাবি, হামলাগুলো হিজবুল্লাহর ‘বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের‘ জবাবে চালানো হয়েছে। ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে’ হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছে, যা আজ বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল বলে গোষ্ঠীর দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। সংবাদ সংস্থাটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে: ‘যুদ্ধবিরতির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তা কার্যকর করেছি।’
বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে আবারও পরিবর্তন এনেছে সরকার। গাঢ় নীল এবং হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণে আগের পোশাক বহাল করা হয়েছে। এছাড়া সবার প্যান্টের রং হবে খাকি।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশের ইউনিফর্মের পরিবর্তন এনে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হয় আজ শুক্রবার (১৯ জুন)।পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পূর্বে নির্ধারিত আয়রন রঙের শার্টের পরিবর্তে জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল রঙের টিসি (সাধারণ বুননের) কাপড়ের শার্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে শার্ট হবে লাইট অলিভ রঙের টিসি কাপড়ের। এছাড়া কফি রঙের ট্রাউজারের পরিবর্তে খাকি রঙের ট্রাউজার নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পূর্বে নির্ধারিত আয়রন রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভারের পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভার ব্যবহার করা হবে। তবে মহানগর পুলিশের জ্যাকেট হবে লাইট অলিভ রঙের।নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলা পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বিশেষায়িত পুলিশ ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ি ও গাঢ় নীল ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে লাইট অলিভ রঙের ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। হেড কভার অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।সংশোধিত বিধানে গ্রীষ্মকালে অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণহাতা শার্ট পরার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।এর আগে গত মে মাসের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোশাকের ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল মেট্রোর জন্য এবং সারাদেশের জন্য, সেটা আমরা বহাল রা হয়েছে। তবে প্যান্ট, পায়জামা সেটা আমরা খাকি ড্রেস দিয়েছি।পোশাক পরিবর্তনে কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি সারাদেশে এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না এবং এটার যেটা দৃশ্যমান যে এই পোশাকটা আসলে ওয়াইডলি একসেপ্টেডও হয়নি। মানানসই না শুদ্ধ বাংলায়। সেজন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টা বিবেচনা করেছি যে এই ড্রেসটা কীভাবে হয়।২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে পুলিশ অবস্থান নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবিও করেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ।সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারাও পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এই রঙের পোশাক দেখতে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হওয়ায় তারা অস্বস্তি বোধ করেন।বিএনপি সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পুলিশের পোশাক আরেক দফা পরিবর্তন আনল। বর্তমানে যে পোশাক পুলিশের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, বিএনপির আগের মেয়াদে (২০০১-২০০৬) একই পোশাক ছিল।
বগুড়ার নবগঠিত দুই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা প্রশাসককে ফোন করে দুটির নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই দুটি ইউনিয়ন হলো ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’। এগুলোর নাম পরিবর্তনে নতুন করে গণশুনানি করা হবে।বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোনে তাকে দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করা হবে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।জানা গেছে, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় সম্প্রতি ‘মীরবাড়ি’ ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়। ইউনিয়ন গঠনে প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের পর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের গণশুনানি টিম গঠন করেন।টিমের প্রধান সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তিনি সঠিকভাবে গণশুনানি করেছেন। কিন্তু এলাকায় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সঠিকভাবে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে খুশি করতে তার পৈতৃক বাড়ির নামে ‘মীরবাড়ি’, দুই ছেলের নামে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ এবং লন্ডন প্রবাসী ভাতিজির নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন নামকরণের প্রস্তাব করেন।এরপর গণশুনানি কমিটির সুপারিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান গ্রহণ করেন। তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠালে তিনি (জেলা প্রশাসক) গত ১১ ও ১৪ জুন এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, নাম পরিবর্তন করলে চারটির করতে হবে। দিগন্ত ও সীমান্ত নাম পরিবর্তন করলেও মীরবাড়ি ও স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের নাম থেকেই যাচ্ছে। তারা এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সারাদেশে সন্দেহজনক হামে গত ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সন্দেহজনক হামে নতুন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৭৪ জন। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়ে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৯০ হাজার ৯৮২ জনে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯৬ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯ জন।
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদীর তীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন মন্ত্রী। শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এলাকায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা, সেচ কার্যক্রম, পানি ব্যবস্থাপনা এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখেন। পরে ব্যারাজের ‘অবসর’ হলরুমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা।সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সেচ ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা বলেন, তিস্তা ব্যারাজ শুধু একটি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একসময় খরা ও পানির সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত এ অঞ্চলে আজ তিস্তার সেচের পানি লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করেছে। এক ফসলি জমি বহু ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে এবং কৃষকদের জীবনমানেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।সফরের অংশ হিসেবে মন্ত্রীরা তিস্তা নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর দুর্ভোগ এবং স্থায়ী নদীশাসনের দাবি মন্ত্রীদের সামনে তুলে ধরেন।স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফরের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি বাড়বে এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।মতবিনিময় সভা ও পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং রোকন উদ্দিন বাবুল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ.কে.এম. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. এনায়েত উল্লাহ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, নকশা ও গবেষণা) প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. সরফরাজ বান্দা, তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ জন মিত্র জানান, মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।উল্লেখ্য, তিস্তা ব্যারাজ দেশের অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের কৃষি বিপ্লব, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর অবদান অপরিসীম। তাই তিস্তা ব্যারাজকে শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
শিগগিরই জামায়াতে ইসলামীর নির্মম পতন হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।বিজ্ঞাপনশুক্রবার (১৯ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি।জামায়াতে ইসলামীকে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্য বিরোধীদল আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন লিখেন, এই পতনের জন্য দায়ী থাকবে তাদের মূর্খ নেতাকর্মীরা।পোস্টে নিজের মোবাইলে আসা একটি মেসেজের স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি লিখেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ভাষা দেখেন। ঠিক প্রতিদিন এমন অসংখ্য গালিগালাজ মেসেজ করে আমার আইডি ও পেজের ইনবক্সে পাঠায়। আমি কেন ওদের যৌক্তিক সমালোচনা করি, জাস্ট একটা নমুনা দিলাম।বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত গণঅধিকার পরিষদের সাবেক এ নেতা লিখেন, ওরা ভাবে মা-বাপ তুলে গালি দিলে আমি ওদের গালির ভয়ে চুপ হয়ে যাবো। মূলত, আমাকে থামিয়ে দিতে গালিই ওদের হাতিয়ার। কিন্তু, এই গালিবাজরা বুঝতেছে না, সামনে ওদের করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে। আমরা ইতোপূর্বে শুধু সরকারি দলের পতন দেখেছি। কিন্তু, এবার ভিন্নতা ঘটবে।রাশেদ খাঁন এরপর আরও লিখেন, এরইমধ্যে পতনের ঘণ্টা বাজা শুরু হয়ে গেছে। তাদের অযোগ্যতা সংসদে দৃশ্যমান। তারা যত মুখ খুলবে, ততো তাদের ভুল ও অযোগ্যতা বের হয়ে আসবে। আর এভাবে খুব শিগগির ইতিহাসের সব থেকে ঘৃণ্য বিরোধীদল জামায়াতের নির্মম পতন হবে। আর এই পতনের জন্য দায়ী থাকবে তাদের মূর্খ নেতাকর্মীরা।
আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম। তবে দিনটিকে ঘিরে ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ২৩ জুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এটিকে কেন্দ্র করে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।তিনি বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে ‘কাইল্লা ফারুক’ নামে এক ব্যক্তির জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামিনের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। আদালতই সিদ্ধান্ত নেয় কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে কি না।তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ১৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কয়েকজন আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ)। খবর-আলজাজিরার।এনএনএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া এই হামলা সাম্প্রতিক সময়ে এলাকাটিতে চালানো সবচেয়ে তীব্র ইসরাইলি আক্রমণগুলোর একটি। একাধিক আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।এনএনএ আরও জানায়, নাবাতিয়েহ শহর, কফার জৌজ, কফার রেমান এবং জেবদিনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী কামানের গোলাবর্ষণ করে। পরে কফার তিবনিত ও রাইহান পাহাড়ি এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়।হামলায় নাবাতিয়েহ ও হারুফ এলাকায় অন্তত আটজন নিহত হন। এছাড়া আল-শারকিয়া ও দুয়েইরের মধ্যবর্তী একটি বাড়িতে হামলায় চারজন এবং কফার সির শহরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত হন।এদিকে, দুয়েইর পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি তিনটি ট্যাংক ধ্বংস এবং দক্ষিণ লেবাননে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এখনও চলছে বলে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা শুক্রবার (১৯ জুন) দাবি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণাঞ্চলে তিনজন নিহত হয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরও লেবাননে সংঘর্ষ চলছে। যদিও চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছে।ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের যোদ্ধারা ইসরাইলের তিনটি মেরকাভা ট্যাংকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সেগুলো পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।হিজবুল্লাহর জানায়, সাঁজোয়া ও পদাতিক ইউনিট নিয়ে গঠিত ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের পাহাড়ের উত্তর দিক দিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। গোষ্ঠীটি আরও জানায়, ওই এলাকায় এখনও সংঘর্ষ চলছে।মার্কিন-ইসরায়েল অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে সশস্ত্র হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ইসরায়েলে হামলা চালালে গত মার্চে লেবাননও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।এরপর লেবাননজুড়ে ব্যাপক হামলা এবং দক্ষিণে স্থল অভিযান শুরু করে তেল আবিব। দেশটির দক্ষিণাঞ্চল ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এবং দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মার্কিন-ইরান চুক্তি সত্ত্বেও এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।হিজবুল্লাহ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা নাবাতিয়ার নিকটবর্তী ‘আরনুন শহর থেকে কাফার তিবনিতের উপকণ্ঠের দিকে অগ্রসর হতে চাওয়া ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি দলের’ বিরুদ্ধে লড়াই করছে।লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, কাফার তিবনিত এলাকায় ‘শত্রুপক্ষের ড্রোন একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে দুজন নিহত হন। পার্শ্ববর্তী জেবদিন গ্রামে ড্রোন হামলায় আরও একজন প্রাণ হারান।এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে আগের রাতের এক ঘটনায় তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন যে, লেবাননে শান্তিরক্ষীরাও বৃহস্পতিবার গোলাগুলির খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিক্ষকদের সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কটূক্তি, অপপ্রচার এবং আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাদের চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুসরণ করা সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক।অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পোস্ট ও মন্তব্য করছেন, যা নির্দেশিকার পরিপন্থী।এসব পোস্টের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর কিংবা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া এবং সেসব পোস্ট শেয়ার করাও সরকারি চাকরির আচরণবিধির লঙ্ঘন।এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত মনিটরিং কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এসব কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি, অপপ্রচার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।একই সঙ্গে গৃহীত ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের সব বিভাগীয় উপ পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং উপজেলা ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়টি আবারও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে আবারও পরিবর্তন এনেছে সরকার। গাঢ় নীল এবং হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণে আগের পোশাক বহাল করা হয়েছে। এছাড়া সবার প্যান্টের রং হবে খাকি।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশের ইউনিফর্মের পরিবর্তন এনে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হয় আজ শুক্রবার (১৯ জুন)।পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পূর্বে নির্ধারিত আয়রন রঙের শার্টের পরিবর্তে জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল রঙের টিসি (সাধারণ বুননের) কাপড়ের শার্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে শার্ট হবে লাইট অলিভ রঙের টিসি কাপড়ের। এছাড়া কফি রঙের ট্রাউজারের পরিবর্তে খাকি রঙের ট্রাউজার নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পূর্বে নির্ধারিত আয়রন রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভারের পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভার ব্যবহার করা হবে। তবে মহানগর পুলিশের জ্যাকেট হবে লাইট অলিভ রঙের।নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলা পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বিশেষায়িত পুলিশ ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ি ও গাঢ় নীল ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে লাইট অলিভ রঙের ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। হেড কভার অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।সংশোধিত বিধানে গ্রীষ্মকালে অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণহাতা শার্ট পরার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।এর আগে গত মে মাসের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোশাকের ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল মেট্রোর জন্য এবং সারাদেশের জন্য, সেটা আমরা বহাল রা হয়েছে। তবে প্যান্ট, পায়জামা সেটা আমরা খাকি ড্রেস দিয়েছি।পোশাক পরিবর্তনে কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি সারাদেশে এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না এবং এটার যেটা দৃশ্যমান যে এই পোশাকটা আসলে ওয়াইডলি একসেপ্টেডও হয়নি। মানানসই না শুদ্ধ বাংলায়। সেজন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টা বিবেচনা করেছি যে এই ড্রেসটা কীভাবে হয়।২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে পুলিশ অবস্থান নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবিও করেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ।সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারাও পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এই রঙের পোশাক দেখতে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হওয়ায় তারা অস্বস্তি বোধ করেন।বিএনপি সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পুলিশের পোশাক আরেক দফা পরিবর্তন আনল। বর্তমানে যে পোশাক পুলিশের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, বিএনপির আগের মেয়াদে (২০০১-২০০৬) একই পোশাক ছিল।
শিগগিরই জামায়াতে ইসলামীর নির্মম পতন হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।বিজ্ঞাপনশুক্রবার (১৯ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি।জামায়াতে ইসলামীকে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্য বিরোধীদল আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন লিখেন, এই পতনের জন্য দায়ী থাকবে তাদের মূর্খ নেতাকর্মীরা।পোস্টে নিজের মোবাইলে আসা একটি মেসেজের স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি লিখেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ভাষা দেখেন। ঠিক প্রতিদিন এমন অসংখ্য গালিগালাজ মেসেজ করে আমার আইডি ও পেজের ইনবক্সে পাঠায়। আমি কেন ওদের যৌক্তিক সমালোচনা করি, জাস্ট একটা নমুনা দিলাম।বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত গণঅধিকার পরিষদের সাবেক এ নেতা লিখেন, ওরা ভাবে মা-বাপ তুলে গালি দিলে আমি ওদের গালির ভয়ে চুপ হয়ে যাবো। মূলত, আমাকে থামিয়ে দিতে গালিই ওদের হাতিয়ার। কিন্তু, এই গালিবাজরা বুঝতেছে না, সামনে ওদের করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে। আমরা ইতোপূর্বে শুধু সরকারি দলের পতন দেখেছি। কিন্তু, এবার ভিন্নতা ঘটবে।রাশেদ খাঁন এরপর আরও লিখেন, এরইমধ্যে পতনের ঘণ্টা বাজা শুরু হয়ে গেছে। তাদের অযোগ্যতা সংসদে দৃশ্যমান। তারা যত মুখ খুলবে, ততো তাদের ভুল ও অযোগ্যতা বের হয়ে আসবে। আর এভাবে খুব শিগগির ইতিহাসের সব থেকে ঘৃণ্য বিরোধীদল জামায়াতের নির্মম পতন হবে। আর এই পতনের জন্য দায়ী থাকবে তাদের মূর্খ নেতাকর্মীরা।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির জমি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।উপজেলার খন্দকার কান্দি গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তর আমলি আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলার বাদী খন্দকার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান। মামলায় একই গ্রামের শাহীন, মোক্তার, নাজমুলসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ নম্বর ধনারচক মৌজার বিএস ৪১৮ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বিএস ৯৬১ নম্বর দাগে মোট ১৪ শতাংশ জমির মধ্যে বাদীর পিতা মৃত তৈয়ব আলী শিকদার ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করলেও অবশিষ্ট জমিতে আম, নারিকেল, সুপারি ও বাঁশসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করে দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন তার ছেলে হাবিবুর রহমান।অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩১ মে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে একটি আম গাছ, তিনটি নারিকেল গাছ, ১৮টি সুপারি গাছ এবং একটি বাঁশঝাড়সহ মোট ২৩টি গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গাছ কাটার ঘটনায় বাধা দিতে গেলে আসামিরা দা ও কুড়াল নিয়ে বাদীর দিকে তেড়ে আসে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। পরে ১৯৮৯ সালে রায় ঘোষণার পর ১৯৯০ সালে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। দীর্ঘ ২৭ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালে আপিল মামলার নিষ্পত্তি হয়।বাদী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার বাবা কদম আলী জমাদারের কাছ থেকে ৭ শতাংশ এবং জলিল জমাদারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে আরও ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন। পরে তিনি ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করলেও গাছগুলো যে অংশে ছিল, সেটি আমাদের দখলে ছিল এবং দলিল অনুযায়ী আমরা ওই অংশের বৈধ মালিক। সম্প্রতি আমার মা মারা যাওয়ার পর আমি বাড়িতে না থাকায় প্রতিপক্ষরা সুযোগ নিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলেছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী শাহীন ও মোক্তার হোসেন। তারা বলেন, “হাবিবের বাবা জীবিত থাকতেই বিএস ৯৬১ দাগের ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে গিয়েছেন। দলিলের চৌহদ্দি অনুযায়ী জমিটির পশ্চিমাংশ আমাদের মালিকানাধীন। আমাদের জমির মধ্যেই গাছগুলো ছিল এবং সেখানে খামার স্থাপনের পরিকল্পনা থাকায় আমরা গাছ কেটেছি। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। আমরা আদালতেই আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করব এবং ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করছি।”মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল কাতারের সঙ্গে ড্র করে হোঁচট খেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফিরেছে তারা।বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সুইসরা। বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে সুইজারল্যান্ডের এই বড় জয়ের মূল নায়ক ফ্রাইবুর্গের স্ট্রাইকার জোহান মানজাম্বি।দলের হয়ে বাকি দুটি গোল করেন রুবেন ভারগাস এবং অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। অন্যদিকে বসনিয়ার পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন মাহমিচ।শুরু থেকেই মাঠের লড়াইয়ে বসনিয়ার চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিল তুলনামূলক শক্তিশালী সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে খুব একটা সুযোগ দেয়নি তারা।বসনিয়ার অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এডিন জেকোর এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হলেও সুইস ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় প্রতিপক্ষ শিবিরে কোনো বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়াতে পারেননি তিনি।প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণে একাকী লড়াই করছিলেন রেনের ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্রেল এমবোলো। তিনি কিছু ভালো আক্রমণ করলেও বসনিয়ার গোলরক্ষক ভাসিলকে পরাস্ত করতে পারছিলেন না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচ ৯ নম্বর জার্সিধারী মানজাম্বিকে মাঠে নামানোর পরই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায় এবং ম্যাচের গতি ফিরে আসে।মাঠে নেমেই জোড়া গোল করার পাশাপাশি রুবেন ভারগাসের চমৎকার গোলটিতেও সরাসরি অবদান রাখেন মানজাম্বি। তার অন্তর্ভুক্তিতে সুইসদের আক্রমণভাগ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এরপর একটি বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন গ্রানিত জাকা।ম্যাচে চার গোল হজম করলেও বসনিয়ার পক্ষে মাহমিচের করা একমাত্র গোলটি ছিল দেখার মতো। কর্নার থেকে ফিরে আসা ফিরতি বল ধরে ২৬ নম্বর জার্সি পরা এই খেলোয়াড় এক দুর্দান্ত ও চোখ ধাঁধানো শটে সুইজারল্যান্ডের জাল কাঁপান।এই বড় জয়ের পর চার পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ 'বি'-এর টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো সুইজারল্যান্ড। এই গ্রুপের অপর ম্যাচে আজ ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে কানাডা ও কাতার।
হাসি মুখের কারিনা কায়সার গত ১৬ মে প্রয়াত হয়েছেন। তার এ অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ শোবিজের অঙ্গনের মানুষ। সদ্যপ্রয়াত এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘চরকি কার্নিভাল’। এতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চরকিতে মুক্তি পাওয়া কনটেন্টগুলো থেকে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে।এরই মধ্যে সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগের (২০২৪) মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ’৩৬-২৪-৩৬’ ওয়েব ছবির জন্য বেস্ট অ্যাক্টরের (ফিমেল) মনোনয়ন পেয়েছিলেন কারিনা। তবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে তাকে।চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ’কারিনার অসাধারণ সব কাজ রয়ে গেলেও, তিনি আজ সকল প্রতিযোগিতার উর্ধ্বে। তাই প্রয়াত কারিনা কায়সারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে এবারের চরকি অ্যাওয়ার্ডসে আমরা তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চাই।’এদিকে ২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েছে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘তুফান’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ’৩৬-২৪-৩৬’। রয়েছে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সিরিজ, সেরা গানসহ বিভিন্ন বিভাগ। চরকির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পছন্দের কনটেন্ট বা শিল্পীকে ভোট দিতে পারবেন সাবস্ক্রাইবাররা। আজ থেকে শুরু হয়েছে ভোট। সমালোচক বিভাগ এবং ২০২৩ সালের কনটেন্টে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামও প্রকাশ করা হবে শিগগির।
নব্বই দশকের পর দেশের সংগীতাঙ্গনে ভাটিয়ালি ধারার গানকে জনপ্রিয় করে তোলা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগ। ‘লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা’ গানটির মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করা ভাটিয়ালি ব্যান্ডের এই প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী একসময় দেশের যুবসমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত একাধিক গান দেশজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয় এবং সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোড়ন। সেই জনপ্রিয় শিল্পী এবার তাঁর গানের রয়্যালটি আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ, কপিরাইট লঙ্ঘন ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার এক ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেনগণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির নোটিশ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগের পক্ষে জজ কোর্ট, সাতক্ষীরার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন গত ৮ জুন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোঃ আহসানুল হাবিব অনিকের কাছে এ নোটিশ প্রেরণ করেন।লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর শিল্পী শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দেন আহসানুল হাবিব অনিক। সে সময় তিনি শিল্পীর মৌলিক গান আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, বিপণন ও মনিটাইজেশনের প্রস্তাব দেন এবং অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ শিল্পীকে রয়্যালটি হিসেবে প্রদানের আশ্বাস দেন।পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি আজ পর্যন্ত শিল্পীকে প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হিসাব ও রয়্যালটির অর্থ প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।নোটিশে আরও বলা হয়, শিল্পীর জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ ও ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় দুই শতাধিক গান Spotify, Apple Music, YouTube Music, YouTube Content ID, TikTok, Facebook Music Library, Shazam, Beatport এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।শিল্পীর দাবি, এসব গান থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং, বিজ্ঞাপন, ডাউনলোড, লাইসেন্সিং ও কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি আয় হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য রয়্যালটির একটি টাকাও তাকে প্রদান করা হয়নি।লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৩, ৪০৬, ৪১৫ ও ৪২০ ধারাসহ কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন বিধানের লঙ্ঘনের শামিল।নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ আয়ের হিসাব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবরটি নিজেই নিশ্চিত করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলো করে এলো নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ পোস্টে এই সুখবরটি শেয়ার করেছেন বুবলী। তাদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন শারলিন খান। পোস্টে একটি কার্ড প্রকাশ করেন বুবলী, তা থেকে বোঝা যায়, গত ১১ মে তাদের এই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কার্ডে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা-মা হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে।পোস্টে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।উল্লেখ্য, বুবলী-শাকিবের ঘরে রয়েছে আরও এক সন্তান- শেহজাদ খান বীর। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন নায়ক। এর মাস ছয়েক পর গুঞ্জন ওঠে, সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বুবলী। তাদের ভক্তরাও কার্যত দিনক্ষণ গুনছেন- কবে ভূমিষ্ঠ হবে তাদের সন্তান। অবশেষে কন্যা সন্তান আসার খবরের মাঝে এলো এই সুসংবাদ।
বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।ভারতের দিল্লি শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হাসিবুর রেজা কল্লোল নির্মাতা, সংগঠক এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রযোজনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।পরিচালক হিসেবে তাঁর নির্মিত সত্তা চলচ্চিত্রটি ব্যাপক আলোচিত হয় এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি চ্যানেল নাইন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।প্রতিক্রিয়ায় হাসিবুর রেজা কল্লোল বলেন, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবার (১ জুন) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায়। এর প্রেক্ষিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করায় প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হয়।একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দুটি ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, আল মাহমুদসহ অসংখ্য গুণীজনের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি। বছরের পর বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সাংস্কৃতিক চর্চায় অনবদ্য অবদান রেখে আসছেন এ জেলার কৃতিসন্তানরা। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদর্শনের অনুমতিপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে এর প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান। নিজ জন্মভূমিতে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।আমরা চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমরা সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল চলচ্চিত্রধারার পক্ষে। চলচ্চিত্র দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা, দেশপ্রেম, বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জনগণের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের অনুমতি নিয়েই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রটি জনসমক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর কন্যাসহ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন, যা চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। এমন বাস্তবতায় চলচ্চিত্রের প্রতি কারও বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।আমরা সকলের মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো মহলবিশেষের অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”বিবৃতিদাতারা হলেন--১. সাংবাদিক আবদুন নূর, আহ্বায়ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র; অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া, সদস্যসচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।২. নীহাররঞ্জন সরকার, সাধারণ সম্পাদক, খেলাঘর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৩. জহিরুল ইসলাম, সভাপতি, উদীচী জেলা সংসদ; ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী জেলা সংসদ।৪. অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, সভাপতি, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি; অধ্যাপক মাসুদ-উর-রহমান, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি।৫. শোভা সেন, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা; সাথী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৬. হাবিবুর রহমান পারভেজ, জেলা পরিচালক, আবরণী; শারমিন সুলতানা, সহকারী পরিচালক, আবরণী।৭. হুমায়ুন কবির, সভাপতি, কবির কলম; আব্দুল মতিন শিপন, সাধারণ সম্পাদক, কবির কলম।৮. ডা. প্রেমানন্দ দাস, সংগঠক, চারণ।৯. ফাহিম মুনতাসির, সভাপতি, সোনালি সকাল; সানিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, সোনালি সকাল।১০. মুস্তাফা জাফরি হামিম, জেলা সভাপতি, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন; সর্পা মিত্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন।
দেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি ও এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এবার ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে।শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে বাজুসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ এখন থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায় বিক্রি হবে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে, সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দামে ২ হাজার ৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে। এতে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৭ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটকে জনকল্যাণমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর, আত্মনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করে বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপির জার্মানি শাখা। দলটির নেতারা বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত এই বাজেট প্রমাণ করেছে যে তিনি বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের একজন অকৃত্রিম দেশবন্ধু।শুক্রবার (১২ জুন) জার্মানির মানহাইমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির জার্মানি শাখার সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশবন্ধু তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নতুন বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি আধুনিক, উন্নত, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা। এই বাজেটে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দিকনির্দেশনা রয়েছে।”তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে দেশের মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণরা নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য এই বাজেটে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপকে তিনি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় উন্নয়নের এই যাত্রায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে অংশীদার হতে হবে। ঐক্য, উদ্ভাবন, সুশাসন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, যা হবে জনকল্যাণমূলক, প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাশীল।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা নতুন বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
গ্লোবাল ইনোভেটিভ এআই-চালিত প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো, যা জনপ্রিয় স্পার্ক সিরিজের সর্বশেষ সংযোজন। ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের প্রটেকশন, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং স্মার্ট এআই সুবিধার সমন্বয়ে তৈরি এই স্মার্টফোনটি আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আনা হয়েছে।স্পার্ক সিরিজের সফলতার ধারাবাহিকতায় টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে যুক্ত করা হয়েছে এমন কিছু ফিচার, যা এই সেগমেন্টের স্মার্টফোনে কম দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে আইপি৬৮/আইপি৬৯ ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স, সর্বোচ্চ ৬ মিটার পানির গভীরতায় যা সার্ভাইভ করতে পারবে, ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৬০ ওয়াট সুপার চার্জিং, ৫০ মেগাপিক্সেল সনি লাইটিয়া ৬০০ ফ্ল্যাশস্ন্যাপ মেইন ক্যামেরা, মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ আল্টিমেট প্রসেসর, ১২০ হার্জ ডিসপ্লে এবং টেকনো এআই সুবিধা।দৈনন্দিন ব্যবহারে বাড়তি নিশ্চয়তা দিতে টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে আইপি৬৮ ও আইপি৬৯ সার্টিফায়েড সুরক্ষা, যা ডিভাইসটিকে ধুলাবালি ও পানির প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। এছাড়াও, সর্বোচ্চ ৬ মিটার গভীর পানির মধ্যেও ডিভাইসটি নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে সক্ষম, যা আন্ডারওয়াটার ছবি ও ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা যোগ করে। শুধু পানি থেকে সুরক্ষাই নয়, টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে এসজিএস ফাইভ-স্টার প্রিমিয়াম ড্রপ রেজিস্ট্যান্স এবং ৩৬০ ডিগ্রি ড্রপ প্রোটেকশন, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে অনাকাঙ্ক্ষিত পড়ে যাওয়া বা আঘাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করে। এছাড়া টি-গার্ড প্রোটেকশন সিস্টেম ডিভাইসটির নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুরক্ষিত স্পার্ক স্মার্টফোনগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ৬০ ওয়াট সুপার চার্জিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো দীর্ঘ সময় ব্যবহার এবং দ্রুত চার্জিং সুবিধা নিশ্চিত করে। যারা সারাদিন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। টেকনোর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটারিটি ১,৯০০টিরও বেশি চার্জিং সাইকেলের পরেও ৮০ শতাংশের বেশি ব্যাটারি সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, যা দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স নিশ্চিত করবে।ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি লাইটিয়া ৬০০ ফ্ল্যাশস্ন্যাপ মেইন ক্যামেরা, যা বিভিন্ন লাইটিং কন্ডিশনে চমৎকার ডিটেইল ধরে রাখতে সক্ষম। এছাড়া ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা ক্লিয়ার সেলফি এবং উন্নত ভিডিও কলিং এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে। ভ্রমণ, প্রতিদিনের মুহূর্ত কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরিতে ক্যামেরা সিস্টেমটি একটি ভার্সেটাইল ফটোগ্রাফি এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করে।মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ আল্টিমেট প্রসেসরচালিত টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো মাল্টিটাস্কিং, গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং ডেইলি ইউজে স্মুথ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। স্মার্টফোনটি ২৪ জিবি ডাইনামিক র্যাম (৮ জিবি র্যাম + ১৬ জিবি এক্সটেন্ডেড র্যাম) এবং ১৮ জিবি ডাইনামিক র্যাম (৬ জিবি র্যাম + ১২ জিবি এক্সটেন্ডেড র্যাম) – এই দুই সংস্করণে পাওয়া যাবে। উভয় সংস্করণেই রয়েছে ১২৮ জিবি স্টোরেজ।স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির ১২০ হার্জ ডিসপ্লে, যা স্মুথ স্ক্রলিং এবং ইমার্সিভ ভিউয়িং এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে। পাশাপাশি ডিটিএস সাউন্ডসমৃদ্ধ ডুয়াল স্পিকার এবং অল-সিনারিও নয়েজ ক্যানসেলেশন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য আরও রিচ অডিও এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে, যা বিনোদন ও ভয়েস কমিউনিকেশনকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে ওয়ান-ট্যাপ সামারাইজেশন, এআই ফ্ল্যাশমেমো, এআই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাসিস্ট্যান্ট, এআই প্রবলেম সলভিং, এআই রাইটিং, এআই হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এআই স্মার্ট স্কেডিউলিং-সহ বিভিন্ন এআই সুবিধা। এছাড়া ফ্রিলিংক ২.০ এবং টাচ ট্রান্সফার উইথ আইফোন ফিচার বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে আরও সহজ ও স্মুথ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করে।টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো এখন দেশজুড়ে টেকনোর সকল ব্র্যান্ড আউটলেট ও রিটেইল স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে এবং স্মার্টফোনটির মূল্য শুরু হচ্ছে ২৬,৯৯৯ টাকা থেকে (ভ্যাট প্রযোজ্য)।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’