স্থগিত হয়েছে সুইজারল্যান্ডে অনিুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠক । সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ১৯ জুন শুক্রবার দেশটির বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।এই বৈঠকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।তবে আলোচনার পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় সফর ও বৈঠক-দুটিই আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরে নতুন তথ্য জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে সই করেছেন।সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে।তথ্যসূত্র: দ্য ডন
৭ ঘন্টা আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তার দাবি, এই চুক্তি ইরানের আগ্রহে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আগ্রহ ও চাপের ফলেই সম্পন্ন হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আনুষ্ঠানিক এক বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।ইরানি কর্মকর্তারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আন্তরিকভাবে কাজ করলেও চুক্তিটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে মার্কিন পক্ষই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। তার ভাষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপ প্রয়োগ করেছেন।চুক্তি নিয়ে নিজের কিছু আপত্তি ছিল বলেও উল্লেখ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তবে ইরানি জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখেই তিনি এতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানান।মোজতবা খামেনি আরও বলেন, চুক্তির বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ইরান তা মেনে নেবে না। দেশের জনগণকে তিনি চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানান।প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজিত এক নৈশভোজে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তি স্বাক্ষরের পর ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদি শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে।‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত এই চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো লেবাননসহ বিভিন্ন সামরিক ফ্রন্টে সব ধরনের যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা।চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে ইরান সীমান্তের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।বিনিময়ে ইরান আগামী ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি
৮ ঘন্টা আগে
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ১৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কয়েকজন আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ)। খবর-আলজাজিরার।এনএনএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া এই হামলা সাম্প্রতিক সময়ে এলাকাটিতে চালানো সবচেয়ে তীব্র ইসরাইলি আক্রমণগুলোর একটি। একাধিক আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।এনএনএ আরও জানায়, নাবাতিয়েহ শহর, কফার জৌজ, কফার রেমান এবং জেবদিনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী কামানের গোলাবর্ষণ করে। পরে কফার তিবনিত ও রাইহান পাহাড়ি এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়।হামলায় নাবাতিয়েহ ও হারুফ এলাকায় অন্তত আটজন নিহত হন। এছাড়া আল-শারকিয়া ও দুয়েইরের মধ্যবর্তী একটি বাড়িতে হামলায় চারজন এবং কফার সির শহরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত হন।এদিকে, দুয়েইর পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
১০ ঘন্টা আগে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটাতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, কেবল সামরিক শক্তি বা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো দেশের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। ১৮ জুন বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ অবসানে সমঝোতা স্মারকে সই করার একদিন পর।ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলের কিছু নেতা, বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও ইতামার বেন-গভির এ চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কী? নয় মিলিয়ন মানুষের একটি দেশ হয়ে আপনারা প্রতিটি জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান হত্যার মাধ্যমে করতে পারেন না।'তিনি ইসরায়েলকে চলমান আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন ইসরায়েল সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্রতি এমন কঠোর ভাষা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় ব্যতিক্রমী। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং দখলদারিত্ব ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের প্রচেষ্টাকে বারবার জটিল করে তুলছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যুদ্ধ পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলের বর্তমান যুদ্ধ কৌশলের কারণে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, 'অনেক বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'কাউকে খুঁজছেন বলে প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই। সেখানে অনেক মানুষ বসবাস করে এবং তারা সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নয়।'যুক্তরাষ্ট্রের এসব মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে।
১০ ঘন্টা আগে