নবম জাতীয় পে স্কেলে বেসরকারি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নবম জাতীয় পে-স্কেল ও বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়ে কাজ করছি। সব সমস্যার সমধান হয়নি, হবেও না। পে-স্কেলে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের গুণগত মানের উন্নয়ন বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সংগীতসহ সব ধরনের প্রতিযোগিতা করছি। শিক্ষার্থীদের কালচারারি ডেভেলপ করার জন্য করছি। নৈতিকতা, ফ্যামিলি ভ্যালুজ সব শেখানো হচ্ছে। এসবের শিক্ষা না থাকায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। তাদের শিক্ষকরা উপজেলা লেভেলে সহযোগিতা করবেন।’ ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে শিক্ষক পাব। এ সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন।
১ দিন আগে
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একইসঙ্গে ২০২৮ সালের মধ্যে শিক্ষাক্রমকে আরও আধুনিক, দক্ষতানির্ভর ও যুগোপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।তিনি বলেন, গত বছর শিক্ষা খাতে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। চলতি অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ ৩ দশমিক ৫, ৪ এবং পরে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, বরং প্রতিটি টাকার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে প্রকল্পভিত্তিক ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বাস্তব দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় অগ্রাধিকার পাবে।বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে জনশক্তির সংকট থাকলেও বাংলাদেশে বিপুল জনসম্পদ রয়েছে। এ সম্পদকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর বর্তায়।কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার (টিভেট) গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং টেকসই আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। এ খাতের উন্নয়নে চলতি বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। পরে তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
২ দিন আগে
সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু জিপিএ-৫, এ প্লাস বা গোল্ডেন এ প্লাসের পেছনে না ছুটে মেধাবী, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ শুধু জিপিএ-৫, এ প্লাস, গোল্ডেন প্লাস, এই সোনার হরিণের পেছনে ছুটে বেড়াক। আমরা চাই তারা মেধাবী ছাত্র হোক, তারা ক্রিয়েটিভ হোক, তারা সৃজনশীল হোক এবং তারা খেলতে খেলতে শিখবে, সেটাই আমরা চাই।’ সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ খেলার মাঠে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আনন্দময় শিক্ষার জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ব্যবস্থা করছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী বাজেটে সেটা দেখতে পাবেন। এই ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ থেকে একজন শিক্ষক তার ক্লাসরুমে কতজন ছাত্রছাত্রী রয়েছে, তাদের শারীরিক অবস্থা, তাদের মানসিক অবস্থা, তাদের পারিবারিক অবস্থা, তাদের অ্যাটেনডেন্স—হতে শুরু করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে এই শিক্ষকদের ট্যাবলেট থেকে তাদেরকে আনন্দময় শিক্ষা শেখানো হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্লাস ফোর থেকে স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার অ্যান্ড ডিবেট—সেটা আমরা ইনক্লুড করছি। ক্লাস সিক্সে আমরা ডিবেট, মানবসম্পদ উন্নয়নের যে ধারণাটি, সেখানে আমরা সেটি দেব। এবং ক্রমান্বয়ে আমরা কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেব। কারণ বাংলাদেশে এই অবাধ মানবসম্পদকে আমরা কর্মক্ষম জাতি হিসেবে পরিণত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এরপর সেকেন্ডারিতে এবং টারশিয়ারিতে এডুকেশনেও আমরা সেখানে কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চাই বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ টিকে থাকুক। এবং আমাদের এই অপরিসীম মানবসম্পদ, যেটা আমরা মনে করি-বিশ্বে বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি রাষ্ট্র, হাইলি ডেনসলি পপুলেটেড কান্ট্রি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। এই জনসংখ্যা একটি জাতির কখনো অভিশাপ হতে পারে না। এই জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে হবে।’
৪ দিন আগে
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে ই-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য শিগগিরই নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠতম দিনে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আখতার হোসেনের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, অত্র এলাকায় সরকারি এবং এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট কতটি শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে এবং এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই শূন্য পদগুলো পূরণে বিশেষ কোনো অগ্রাধিকার বা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে কি না। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট নিরসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক স্বল্পতা নিরসনের লক্ষ্যে এরইমধ্যে শূন্য পদের তালিকা প্রস্তুতপূর্বক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি)তে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে। এ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে রংপুর-৪ এলাকার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহসহ দেশের অন্যান্য সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) প্রবেশ পর্যায়ের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতিতে জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রক্রিয়ার আওতায় গত বছরের ১৯ আগস্ট ৪১ হাজার ৬২৭ জন এবং চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ১১ হাজার ৭১৩ জনসহ সর্বমোট ৫৩ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে ই-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পূরণে শিগগিরই নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। রংপুর-৪ এলাকার শূন্যপদসমূহও জাতীয় মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় অগ্রাধিকারসহ পূরণ করা হবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দেন। সরকার আশা করছে, চলমান এ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
৫ দিন আগে