নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. নূর হোসেন কাজী (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক।গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোদনাইল মধুঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শহিদুল্লাহর টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন নূর হোসেন কাজী। এ সময় শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে নূর হোসেনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই তারেক সুমন জানান, ৯৯৯ নম্বরে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১ দিন আগে
কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ।পুলিশ জানায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) টেকনাফ মডেল থানা এলাকায় অবৈধ মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হ্নীলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গমছাড়া এলাকায় ইউনুছের বাড়িতে ইয়াবা মজুদের তথ্য পাওয়া যায়।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোহাম্মদ আলী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবহৃত খাটের নিচ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।পরে একই বাড়ির অন্য একটি কক্ষে থেকে মোহাম্মদ আমিনকে আটক করা হয়। তার ব্যবহৃত খাটের নিচ থেকে আরও ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুইজনের কাছ থেকে সর্বমোট ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিল বলে তথ্য দিয়েছে। পুলিশ জানান, আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ১ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম মইনুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনকে। এর আগে গত ৩১ জুলাই অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, জহিরুল ইসলাম রুবেল, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির, শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক এবং মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে রায়হান আলী ও আনজুম সাকিব নামের দুজন আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং অনেককে গুরুতর আহত করেছেন আসামিরা।প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলী গুলিতে নিহত হন। একই সময় শাহ মখদুম কলেজের সামনে নিহত হন আনজুম সাকিব। এছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও ৪৫ জন গুরুতর আহত হন।অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার এলাকা, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় এবং আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
১ দিন আগে
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সংশ্লিষ্টবিধি অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। চিঠিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি), বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।চিফ প্রসিকিউটর জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো বলে আমরা মনে করি।পর্যায়ক্রমে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামি যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং অন্য মামলায় গ্রেফতার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ ছাড়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী,সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। সাংবাদিকদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে।
১ দিন আগে