ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের এক সাধারণ চা বিক্রেতা থেকে দেশের আইকন হয়ে ওঠা “এম এ পাস চা ওয়ালা” এবার যাচ্ছেন গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লেখাতে। চায়ের কাপ হাতে শুরু করা তার ব্যতিক্রমী যাত্রা এখন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বমঞ্চে। চলতি মাসে রাজধানীর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “এম এ পাস চা ওয়ালা’স গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড টি ফেস্টিভ্যাল ২০২৫”। আয়োজকরা জানায়, এক দিনে ৫০ হাজার+ চা পরিবেশন ও অংশগ্রহণকারীর রেকর্ড গড়াই এ উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। এম এ পাস চা ওয়ালা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এক কাপ চা শুধু পানীয় নয় এটা মানুষের হৃদয়কে যুক্ত করার মাধ্যম। গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বাংলাদেশের নাম উঠুক, এটাই আমার স্বপ্ন।” আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের খ্যাতনামা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন এই মহোৎসবে। চা শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের চা সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুনভাবে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তা ও তরুণ সমাজের জন্য হবে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।দেশজুড়ে এখন আলোচনা একটাই কবে ইতিহাস গড়বেন এম এ পাস চা ওয়ালা। যদি সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোয়, তবে অক্টোবর মাসেইগিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পাতায় যুক্ত হবে বাংলাদেশের এই গর্বের নাম।“মাস্টার্স পাস একজন যুবক চায়ের দোকান দিবেন” শুনলেই অনেকে অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকেছেন। অনেকে বলেছিলেন, ‘কফি শপ বা আধুনিক কোনো ক্যাফে হলে মানাতো, কিন্তু চায়ের দোকান?’ কিন্তু সেই সব সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাহ্য করে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সৎ উপার্জন ও আত্মসম্মানের কাছে সমাজের কথার কোনো মূল্য নেই। শিক্ষাজীবন থেকে সংগ্রামের পথচাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সহিদুল রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য বহু চেষ্টা করেছেন। আবেদন করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চাকরি জোটেনি। তবুও হাল ছাড়েননি।এক সময় তিনি ফ্রিজের দোকান খোলেন। কিছুটা সময় সেই ব্যবসা চালালেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতা করতে করতে আবারও স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি অনলাইন স্কুল গড়ে তোলার। সেই স্বপ্ন নিয়েই পথ চলছিল, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতার চাপে তা বেশিদূর এগোয়নি।নতুন স্বপ্নের নাম ‘এমএ পাস চাওয়ালা’এই দীর্ঘ সংগ্রামের পর সহিদুল নতুন সিদ্ধান্ত নেন। ভেবেচিন্তে ঠিক করেন চায়ের দোকান দেবেন। তবে এই সিদ্ধান্তও সহজ ছিল না। অনেকেই আপত্তি তোলেন। পরিবার থেকেও বলা হয়েছিল, যদি করতেই হয় তবে অন্তত ‘ক্যাফে’ জাতীয় কিছু করা হোক। কিন্তু সহিদুল নড়েননি। অক্টোবরের শুরুতে রাজধানীর ভাটারা কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে যাত্রা শুরু করে ‘এমএ পাস চাওয়ালা’। দোকান ভাড়া করতে গিয়েও তাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়। মালিকেরা যখনই জানতে পারতেন দোকানটি হবে চায়ের, তখনই ভাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করতেন। কেউ কেউ ফোনেই কথা বলা বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু সহিদুলের জেদ আরও বেড়ে যায়।তিনি বলেন, “এই নামের পেছনে দুটি কারণ আছে। প্রথমত, নাম শুনেই যেন সবাই আকৃষ্ট হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষিত বেকার তরুণরা যেন অনুপ্রাণিত হয় এবং কোনো কাজকে ছোট না ভাবে।”সাজানো দোকান আর বিচিত্র স্বাদের চাসহিদুলের দোকান সাজানো হয়েছে বেশ যত্ন নিয়ে। তামার তৈরি আরবি কেতার কেটলি, নানা রকম চা তৈরির সরঞ্জাম, পরিপাটি আসবাব সব মিলিয়ে দোকানটি আলাদা আমেজ তৈরি করেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা নিয়মিত ভিড় করছেন এখানে।চায়ের তালিকাও বেশ বৈচিত্র্যময়। ইরানি জাফরান চা, ইরানি দুধ চা, স্পেশাল মাসালা দুধ চা, গরুর দুধ চা এমন সব নতুন নাম ও স্বাদের চা মিলছে একেবারে কম দামে এম এ পাস চা ওয়ালার দোকানে। সঙ্গে থাকছে মাংসের স্পেশাল শিঙাড়া। আরো আছে আইস টি,মকটেল,জুস,লাচ্ছি,মিল্ক শেক,ফ্রেঞ্চ ফ্রাই,মটু শর্মা,মটকা মিট বক্স।
৩ মাস আগে
রোববার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় নেপালের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিসহ ৭ বিচারপতি এজলাসে বসেন।প্রথমে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেপালের প্রধান বিচারপতিসহ তার সঙ্গে আগত ডেলিগেটদের পরিচয় করায়ে দিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এর পর নেপালের প্রধান বিচারপতিকে অভিবাদন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।এরপর ১২টা ২০ মিনিটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে আপিল শুনানি শুরু হয়। এসময় বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী।ঐতিহাসিক এ মামলার আপিল শুনানি গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন নেপালের প্রধান বিচারপতি।
বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি ও এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, প্রোপাগান্ডা ও মিডিয়া ট্রায়াল থামছে না। এমনকি, জুলাই আন্দোলনে যুক্ত থাকা মানুষটিকে উল্টো ‘রোষানলে’ পড়ে হত্যা মামলার আসামিও হতে হয়েছে। একের পর এক প্রোপাগান্ডায় জড়ানোর পর প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ৮ জন পরিচালকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট জব্দের ফলে এর সঙ্গে যুক্ত দুই হাজার সাপ্লায়ার ও ভেন্ডর পড়েছেন বিপাকে। দেশের বিজ্ঞাপন খাতের একজন বিশ্লেষক বলছেন, যেকোনও মূল্যে প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখতে হবে। এশিয়াটিকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের নামে যে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে—তার কোনও ভিত্তি নেই। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে বলেই বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাজ পায় তারা।‘ষড়যন্ত্রের’ সূচনাইস্ট এশিয়াটিক অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেড নামে ১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে বড় হলেও এর আগে কখনও সরাসরি ‘ষড়যন্ত্রের’ মুখে পড়তে হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর একে একে নানা অভিযোগের ঘেরাটোপে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয় প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। মিডিয়া ট্রায়ালের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলে (সিআইসি) একাধিক অভিযোগ ও নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর একে একে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ায় ক্লায়েন্টদের টাকা অ্যাকাউন্টে আটকে গেছে। অপরদিকে প্রতিষ্ঠান তাদের ভেন্ডর ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে আগেই সম্পন্ন হওয়া ইভেন্টের জন্য টাকা পরিশোধ করতে পারছে না।এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট জার্মানি থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল মিরর এশিয়া ‘বিজ্ঞাপনের বাজার ছিল এশিয়াটিকে জিম্মি, ভোল পাল্টাচ্ছেন কর্তারা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় নেতিবাচক উপস্থাপন শুরু হয় এশিয়াটিকের বিরুদ্ধে। এরপর দেশি-বিদেশি পত্রিকায় একই ধরনের তথ্য দিয়ে, কখনও চিঠিতে হুমকির মাধ্যমে, কখনও চেনা-অচেনা মানুষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে প্রতিষ্ঠানটিকে টার্গেট করা হয়। ঘুরে ফিরে কয়েকটি জায়গায় ঘুরছে এসব অভিযোগ। কত রকমের ‘প্রোপাগান্ডা’এশিয়াটিক এমন কী করেছে যে, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের আগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উপস্থাপন না করে, পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ শুরু হলো। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি উত্থাপন করা হয়— এশিয়াটিক মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননার জন্য নকল স্বর্ণপদক সরবরাহ করেছে। যদিও এশিয়াটিক তথ্যপ্রমাণ হাজির করে বরাবরই এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে আসছে। তারা বলছে, অনুষ্ঠানটির জন্য স্বর্ণপদক একটি পৃথক সরকারি ক্রয় কমিটির মাধ্যমে অ্যামিকন নামের কোম্পানি থেকে কেনা হয়েছিল— যা দেশের সব জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, চিন্তাবিদ, দার্শনিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের হাতে যে স্বর্ণপদক তুলে দেওয়া হয়েছিল— সেগুলো এশিয়াটিক নয়, অন্য একটি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেছিল।এশিয়াটিকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ, তারা ‘বিতর্কিত সংস্থা’ সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সঙ্গে ‘জয় বাংলা কনসার্ট’ আয়োজন করেছে। কিন্তু বাস্তবে এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি গ্রুপের কোনও সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসব কনসার্ট আয়োজনের সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। গত কয়েক বছর ধরে সব ‘জয় বাংলা কনসার্ট’ আয়োজন করেছে গ্রে বাংলাদেশ লিমিটেড এবং ব্লুজ কমিউনিকেশনস লিমিটেড। এমনকি এশিয়াটিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান নিয়েও।জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই কাজটি এশিয়াটিক এককভাবে পরিচালনা করেনি। সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যেখানে ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে মূল্যায়নে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এশিয়াটিক, গ্রে বাংলাদেশ লিমিটেড ও কে-স্পোর্টস লিমিটেড নির্বাচিত হয়। আসলেই বিজ্ঞাপনের বাজার দখলে রেখেছিল?এশিয়াটিকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ— প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞাপনের বাজার দখল করে রেখেছিল। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেঞ্চমার্কের স্বত্বাধিকারী আশরাফ কায়সার শুরু থেকেই ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার। একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের অভিযোগ উত্থাপনের প্রক্রিয়া কী হতে পারে— প্রশ্নটি নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইলে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে টেক্সট করে কল করার কারণ জানিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে অসমর্থিত সূত্র বলছে, তিনি অসুস্থ।বাজার দখল প্রসঙ্গে এশিয়াটিকের গ্রুপ নির্বাহী পরিচালক জোবায়ের বাবু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এশিয়াটিক কোনও ভুঁইফোড় কোম্পানি নয়, আমরা সার্ভিসের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিয়ে কম্প্রোমাইজ করি না। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে বলেই বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাজ পাই।’’কী ধরনের হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রায় দুই হাজারের মতো সাপ্লায়ার ও ভেন্ডর রয়েছে। কাজ শেষে রাজস্ব বোর্ডের সিআইসিতে জমা দেওয়া ইনভয়েসের ভিত্তিতে আমরা তাদের পে করতে পারছি। এভাবে কাজ করে যাচ্ছি, কিন্তু এটা স্বাভাবিক অপারেশন না। আমরা এটুকু করতে পারায় তাদের ধন্যবাদ জানাই। অনেক সময় ভেন্ডরদের অ্যাডভান্স দিয়ে কাজ করাতে হয়। এখন সেটা পারছি না। তারপরও আমরা কাজটা সহজ করতে পছন্দ করি।’’লাগাতার প্রোপাগান্ডা মোকাবিলার বিষয়টিকে তিনি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা মনে করেন না, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এটাকে আমি সমগ্র গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখি। এটার সঙ্গে কারও কারও ব্যক্তিস্বার্থ জড়িত। যারা বলেন, আমরা সিআরআই’র কাজ করেছি, তারা কেবল বলে দিলেই তো হবে না। প্রমাণ হাজির করতে হবে। মুখ আছে তাই বলে দিলাম— এভাবে রাষ্ট্র চলে না। এভাবে ইন্ডাস্ট্রি চলে না। যারা কেবল কথা দিয়ে এশিয়াটিকের মতো বড় কোম্পানিকে ঘায়েল করতে চান, তারা কিন্তু গত ১৬ বছর নানা সুবিধা নিয়েছেন। যারা রাতারাতি এশিয়াটিকের মতো হয়ে যাবে ভাবছেন, তাদের কাজ দেখিয়ে বড় হতে হবে।’’গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের সঙ্গে সরাসরি কাজের বিষয়ে জোবায়ের বাবু বলেন, ‘‘আমরা গণমাধ্যমগুলোকে যে টাকা দেই, সেটা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে নিয়ে দিয়ে থাকি। সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় মিডিয়াগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এশিয়াটিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতেই পারে। সেটি আইনিভাবে আমরা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। কিন্তু ব্যবসা বন্ধ করে তদন্ত করবেন কেন? সেদিক থেকে এনবিআর আমাদের একটা পথ দেখিয়ে দিতে পেরেছে, সেটা অনেকটা কাজের হয়েছে।’’ তাই বলে হত্যা মামলা?‘ক্ষমতা খাটিয়ে কাজ বের করা’, ‘বিজ্ঞাপনের বাজার একচেটিয়া দখল’সহ নানা ধরনের অভিযোগের পর এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি’র গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের সময় এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করা হলে— সরকার, সুশীল সমাজ ও তার গণমাধ্যম সহকর্মীরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। মামলায় তিনি ১৫৭তম আসামি। সাক্ষীদের বেশ কয়েকজন এই মামলা সম্পর্কে ‘অজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন এবং কেউ কেউ জানিয়েছেন, ‘নাম দিতে বলা হয়েছিল বলেই দিয়েছেন’। এসব মামলায় বিস্ময়, উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাও। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সে সময় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে লেখেন, ‘‘ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি মামলা হলো। সব কিছু ভীষণভাবে ভুল পথে যাচ্ছে, এটি তার আরেকটি উদাহরণ।’ প্রতিযোগিতায় না এসে ট্যাগ দিয়ে প্রতিশোধইন্ডাস্ট্রির একাধিক ব্যক্তি ‘এশিয়াটিকের মনোপলি ব্যবসা’ নিয়ে কারও কারও সরাসরি অবস্থানকে দৃষ্টিকটু বলে উল্লেখ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘এশিয়াটিক বিজনেস বড় করেছে। সেটা আপনার ঈর্ষার জায়গা হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিজনেস বড় করাটা তার অপরাধ নয়। একটা প্রতিষ্ঠানকে গড়তে কতদিন লাগে, এর সঙ্গে কত মানুষ জড়িত। হুট করে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টাটা খুবই দৃষ্টিকটু। এমনকি এশিয়াটিকের গণমাধ্যম ক্লায়েন্টরাও বিপদে আছেন।’’সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক মাসুদ কামাল মনে করেন, ‘‘কেউ কেউ ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রতিহিংসায় জয়ী হতে জুলাই আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এশিয়াটিকের ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে যে মামলা, সেটা যে পাতানো বোঝাই যায়। যখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়, তখন এটুকু বোঝা যায় যে— এই সরকার সুবিচারের চেয়ে প্রতিশোধপরায়ণতাকে সহায়তা করতে চায়। এশিয়াটিকের সঙ্গে আসাদুজ্জামান নূরের সম্পর্ক আছে, সে জন্য তার কর্মীরা হয়রানির মধ্যে পড়ুক সেটা কাম্য নয়। প্রতিষ্ঠানকে চালু রাখতে হবে। এ মানুষগুলো জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের মাধ্যমে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। এশিয়াটিকের সঙ্গে গণমাধ্যমগুলোর সম্পর্ক আছে। আমি জানি, অনেক গণমাধ্যম বিল পরিশোধ করতে পারছে না, ফলে গণমাধ্যমগুলোর সোচ্চার হওয়া জরুরি।’’
পাবনা প্রতিনিধি:দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিজিক্যাল স্টার্টআপের (জ্বালানী লোডিং) প্রস্তুতির সামগ্রিক অবস্থা নিরীক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (BAERA), রাশিয়ার শিল্প ও কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা তরাদকি সংক্রাস্থ সংস্থা- ভিও সেফটিসহ দেশটির অন্যান্য নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল গত ৭ নভেম্বর হতে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের বিস্তৃত ও সুনির্দিষ্ট পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বায়েরার চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান এই খবর নিশ্চিত করেছেন।প্রকল্প সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিঃ (এনপিসিবিএল) এর মানবসম্পদ, প্রকল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইক্যুইপমেন্ট, প্রকল্পের বিভিন্ন সিস্টেম ও ফ্যাসিলিটি এবং পরিচালন সংক্রান্ত বিভিন্ন ডকুমেন্ট পরিদর্শন টিম পর্যালোচনা করেছেন। এছাড়াও প্রতিনিধি দলটি কমিশনিং কার্যক্রমের অগ্রগতি, বিভিন্ন স্থাপনা, স্টার্টআপ ও সমন্বয় প্রটোকল এবং সনদসমূহ বিচার বিশ্লেষণ করেন। প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপের বিষয়টি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডঃ জাহেদুল হাসান এবং সমন্বয় করেছেন সংস্থার প্রধান পরিদর্শক মো. ইয়ামিন আলী।ফিজিক্যাল স্টার্টআপ এবং জ্বালানী লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এপর্যায়ে রিয়্যাক্টরে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানী লোড করার পর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হয়। যার অধীনে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সীমিত মাত্রায় রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার সুচনা করা হয়।এবিষয়ে এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডঃ জাহেদুল হাসান জানান, এনপিসিবিএল ইতোমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আইএইএ কর্তৃক পরিচালিত ২ সপ্তাহব্যাপী পরীক্ষামূলক প্রি-ওসার্ট মিশন ও ৩ সপ্তাহব্যাপী প্রি-ওসার্ট মিশন, সর্বশেষ ২ সপ্তাহব্যাপী বায়েরা, ভিও সেফটি এবং রাশান রেগুলেটরী সংস্থা ‘রস্টেকনাদজর’ কর্তৃক পরিচালিত যৌথ পরিদর্শন। এছাড়াও এনপিসিবিএল এবং রসএনার্গোএটম নিয়মিতভাবে তাদের সেলফ এসেসমেন্ট বা স্বমূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।তিনি বলেন, নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বায়েরা রূপপুর প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ প্রস্তুতি যাচাই করেছে। এসময়কালে তারা এনপিসিবিএল এর বিভিন্ন মন্তব্য ও সুপারিশ বিবেচনা করে কার্যকর সমাধানেও কাজ করছে।পরিদর্শন শেষে বিশেষজ্ঞ দলটি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জানিয়ে ড. হাসান বলেন, বিশেষজ্ঞ দল রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আরো উন্নত করার জন্য কয়েকটি সুপারিশ করেছেন। এনপিসিবিএল কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এসকল সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করছে। কার্য সম্পাদনের পর শীঘ্রই একটি প্রতিবেদন বায়েরা এর কাছে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে সন্তোষজনক মনে হলে বায়েরা ফিজিক্যাল স্টার্টআপ এবং প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানী লোডিং এর জন্য অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান করবে।বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপ এর চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ড ফোকাস রেখে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ রেডিনেস ইন্সপেকশন সম্পন্ন করেছে। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে স্টার্টআপ বা ফুয়েল লোডিং এর জন্য রাশিয়ার রেগুলেটরি অথরটি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার সুপারিশ প্রয়োজন হয়। সুপারিশ যথাযথ হলে বায়েরা ফুয়েল লোডিং এর অনুমতি প্রদান করবে। উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানী লোডিং এর জন্য জেনারেল ডিজাইনার (Rosatom Engineering Division), রিয়্যাক্টর প্লান্ট ডিজাইনার (Gidro Press), রাশিয়ার ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার 'কুরচাতভ ইন্সটিটিউট' এবং বায়েরা এরর অনুমোদন ছাড়াও ভিও সেফটি'র এসেসমেন্ট প্রতিবেদন জরুরী বলে জানা গেছে। old('details') }} old('details') }} old('details') }}
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালিয়াকৈর নবীনগর সড়কে এই ঘটনা ঘটে।এলাকাবাসী জানান, গাজীপুর মহানগরের চক্রবর্তী এলাকার জ্যোতি ফিলিং স্টেশনের সামনে রাস্তার পাশে একটি বাস দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একজন মিস্ত্রি বাসের নিচে শুয়ে মেরামতের কাজ করছিলেন।রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুজন যুবক বাসের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। এক পর্যায়ে তারা বাসে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভান। তবে বাসে যাত্রী না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনে বাসের বেশ কিছু আসন ও যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল নিয়ে এসে বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। এতে বাসের ক্ষয়ক্ষতি হলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন যেন পিছিয়ে যায়, সময়মতো নির্বাচন যাতে না হয়, সেই চেষ্টাই করছে কোনো কোনো দল। তিনি বলেন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে নির্বাচন এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি মিলনায়তনে ‘শহীদ জিয়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।রাজনীতি, অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে নির্বাচনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রয়োজন।কিছু সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কারের প্রকৃত বাহক আমাদের দল, বিএনপি।যারা বিএনপিকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে বলছে বিএনপি সংস্কার চায় না, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার। দেশের যা কিছু ভালো, তার সবই এসেছে বিএনপি ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে।তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে শহীদ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতো। দেশ লিবিয়া বা আফগানিস্তানের মতো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ত।
পাবনা প্রতিনিধি:দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিজিক্যাল স্টার্টআপের (জ্বালানী লোডিং) প্রস্তুতির সামগ্রিক অবস্থা নিরীক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (BAERA), রাশিয়ার শিল্প ও কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা তরাদকি সংক্রাস্থ সংস্থা- ভিও সেফটিসহ দেশটির অন্যান্য নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল গত ৭ নভেম্বর হতে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের বিস্তৃত ও সুনির্দিষ্ট পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বায়েরার চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান এই খবর নিশ্চিত করেছেন।প্রকল্প সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিঃ (এনপিসিবিএল) এর মানবসম্পদ, প্রকল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইক্যুইপমেন্ট, প্রকল্পের বিভিন্ন সিস্টেম ও ফ্যাসিলিটি এবং পরিচালন সংক্রান্ত বিভিন্ন ডকুমেন্ট পরিদর্শন টিম পর্যালোচনা করেছেন। এছাড়াও প্রতিনিধি দলটি কমিশনিং কার্যক্রমের অগ্রগতি, বিভিন্ন স্থাপনা, স্টার্টআপ ও সমন্বয় প্রটোকল এবং সনদসমূহ বিচার বিশ্লেষণ করেন। প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপের বিষয়টি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডঃ জাহেদুল হাসান এবং সমন্বয় করেছেন সংস্থার প্রধান পরিদর্শক মো. ইয়ামিন আলী।ফিজিক্যাল স্টার্টআপ এবং জ্বালানী লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এপর্যায়ে রিয়্যাক্টরে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানী লোড করার পর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হয়। যার অধীনে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সীমিত মাত্রায় রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার সুচনা করা হয়।এবিষয়ে এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডঃ জাহেদুল হাসান জানান, এনপিসিবিএল ইতোমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আইএইএ কর্তৃক পরিচালিত ২ সপ্তাহব্যাপী পরীক্ষামূলক প্রি-ওসার্ট মিশন ও ৩ সপ্তাহব্যাপী প্রি-ওসার্ট মিশন, সর্বশেষ ২ সপ্তাহব্যাপী বায়েরা, ভিও সেফটি এবং রাশান রেগুলেটরী সংস্থা ‘রস্টেকনাদজর’ কর্তৃক পরিচালিত যৌথ পরিদর্শন। এছাড়াও এনপিসিবিএল এবং রসএনার্গোএটম নিয়মিতভাবে তাদের সেলফ এসেসমেন্ট বা স্বমূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।তিনি বলেন, নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বায়েরা রূপপুর প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ প্রস্তুতি যাচাই করেছে। এসময়কালে তারা এনপিসিবিএল এর বিভিন্ন মন্তব্য ও সুপারিশ বিবেচনা করে কার্যকর সমাধানেও কাজ করছে।পরিদর্শন শেষে বিশেষজ্ঞ দলটি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জানিয়ে ড. হাসান বলেন, বিশেষজ্ঞ দল রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আরো উন্নত করার জন্য কয়েকটি সুপারিশ করেছেন। এনপিসিবিএল কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এসকল সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করছে। কার্য সম্পাদনের পর শীঘ্রই একটি প্রতিবেদন বায়েরা এর কাছে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে সন্তোষজনক মনে হলে বায়েরা ফিজিক্যাল স্টার্টআপ এবং প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানী লোডিং এর জন্য অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান করবে।বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপ এর চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ড ফোকাস রেখে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ রেডিনেস ইন্সপেকশন সম্পন্ন করেছে। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে স্টার্টআপ বা ফুয়েল লোডিং এর জন্য রাশিয়ার রেগুলেটরি অথরটি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার সুপারিশ প্রয়োজন হয়। সুপারিশ যথাযথ হলে বায়েরা ফুয়েল লোডিং এর অনুমতি প্রদান করবে। উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানী লোডিং এর জন্য জেনারেল ডিজাইনার (Rosatom Engineering Division), রিয়্যাক্টর প্লান্ট ডিজাইনার (Gidro Press), রাশিয়ার ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার 'কুরচাতভ ইন্সটিটিউট' এবং বায়েরা এরর অনুমোদন ছাড়াও ভিও সেফটি'র এসেসমেন্ট প্রতিবেদন জরুরী বলে জানা গেছে। old('details') }} old('details') }} old('details') }}
নিজের প্রথম পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যা**ডস অব বলিউড’ মুক্তির আগেই হইচই ফেলে দিয়েছেন শাহরুখপুত্র আরিয়ান খান। টিজার প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আরিয়ানকে নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।আর গতকাল ট্রেইলার উন্মোচন অনুষ্ঠানে রীতিমতো সবার মন জয় করেছেন এই তরুণ। এ অনুষ্ঠানে ছেলেকে উৎসাহ দিতে ভাঙা হাত নিয়ে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং শাহরুখ খান। তিনিই মূলত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। তার স্ত্রী গৌরী খানও এসেছিলেন, সিরিজটি প্রযোজনা করেছেন বলিউডের এই ফার্স্ট লেডি।এই অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিত্ব, রসবোধ ও প্রেজেন্টেশন দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন আরিয়ান। তার একটি ইমেজ গড়ে উঠেছিল এতোদিন, কখনো তাকে হাসতে দেখা যেত না। কিন্তু এদিন একেবারেই ভিন্ন মানুষ হয়ে সবার সামনে আসেন আরিয়ান। শুধু বাবার মতো দেখতে নন, পেয়েছেন বাবার সেন্স অব হিউমারও। বাবা ছেলে নিজেরাই নিজেদের খামতি বের করে হাসলেন, সমালোচক ও নিন্দুকদের খোঁচা দেওয়ার সুযোগই দিলেন না!বলিউডের ভেতরের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিরিজটি। ট্রেইলারের শুরুতেই শোনা যায় শাহরুখ খানের কণ্ঠ (তবে তাকে সিরিজে দেখা যাবে না)। তিনি বলেন, কেউ জন্ম নেয় হিরোর পরিবারে আর কেউ জন্ম নেয় হিরো হয়ে। বলিউডের তেমনি এক নবাগত আউটসাইডারের প্রথম সিনেমাই হুট করে হিট হয়ে যায়। তার প্রেম হয় ইন্ডাস্ট্রির মেগাস্টারের মেয়ের সাথে। এরপর নানা নাটকীয়তা ও অ্যাকশনের মধ্য দিয়ে সিরিজের গল্প এগিয়ে যায়। অনুমান করা যাচ্ছে, এতে বলিউডের অন্দরের নানা খবর উঠে আসবে। ট্রেইলার দেখলে সহজেই বোঝা যায়, এটি কতোটা বিগ বাজেটের সিরিজ। ছবির লোকেশন, সেট, প্রপস, কাস্টিং- সবই চমকপ্রদ।তবে সবচেয়ে বেশি চমক দিয়েছে সিরিজটির অতিথি চরিত্রগুলো। মেগাস্টার সালমান থেকে শুরু করে এ সময়ের সুপারস্টার রণবীর সিং, এমনকি সেলিব্রেটি পরিচালক করণ জোহরকেও দেখা যাবে সিরিজটিতে।বলে রাখা ভালো, অতিথি চরিত্র হলেও এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অভিনয় করবেন সালমান খান। এর আগে অবশ্য তিনি ‘বিগ বস ওটিটি’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন।প্রসঙ্গত, ‘দ্য ব্যা**ডস অব বলিউড’ ওয়েব সিরিজটি নির্মিত হয়েছে নেটফ্লিক্সের জন্য। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে সিরিজটি। এতে নায়ক-নায়িকার ভূমিকায় দেখা যাবে উঠতি দুই মুখ লক্ষ লালওয়ানি ও সাহের বামবা। খলনায়ক হিসেবে দেখা যাবে ববি দেওলকে। এছাড়াও অভিনয় করেছেন রাঘব জুয়াল, মোনা সিং, গৌতমী কাপুর প্রমুখ।
ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের এক সাধারণ চা বিক্রেতা থেকে দেশের আইকন হয়ে ওঠা “এম এ পাস চা ওয়ালা” এবার যাচ্ছেন গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লেখাতে। চায়ের কাপ হাতে শুরু করা তার ব্যতিক্রমী যাত্রা এখন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বমঞ্চে। চলতি মাসে রাজধানীর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “এম এ পাস চা ওয়ালা’স গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড টি ফেস্টিভ্যাল ২০২৫”। আয়োজকরা জানায়, এক দিনে ৫০ হাজার+ চা পরিবেশন ও অংশগ্রহণকারীর রেকর্ড গড়াই এ উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। এম এ পাস চা ওয়ালা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এক কাপ চা শুধু পানীয় নয় এটা মানুষের হৃদয়কে যুক্ত করার মাধ্যম। গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বাংলাদেশের নাম উঠুক, এটাই আমার স্বপ্ন।” আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের খ্যাতনামা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন এই মহোৎসবে। চা শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের চা সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুনভাবে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তা ও তরুণ সমাজের জন্য হবে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।দেশজুড়ে এখন আলোচনা একটাই কবে ইতিহাস গড়বেন এম এ পাস চা ওয়ালা। যদি সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোয়, তবে অক্টোবর মাসেইগিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পাতায় যুক্ত হবে বাংলাদেশের এই গর্বের নাম।“মাস্টার্স পাস একজন যুবক চায়ের দোকান দিবেন” শুনলেই অনেকে অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকেছেন। অনেকে বলেছিলেন, ‘কফি শপ বা আধুনিক কোনো ক্যাফে হলে মানাতো, কিন্তু চায়ের দোকান?’ কিন্তু সেই সব সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাহ্য করে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সৎ উপার্জন ও আত্মসম্মানের কাছে সমাজের কথার কোনো মূল্য নেই। শিক্ষাজীবন থেকে সংগ্রামের পথচাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সহিদুল রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য বহু চেষ্টা করেছেন। আবেদন করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চাকরি জোটেনি। তবুও হাল ছাড়েননি।এক সময় তিনি ফ্রিজের দোকান খোলেন। কিছুটা সময় সেই ব্যবসা চালালেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতা করতে করতে আবারও স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি অনলাইন স্কুল গড়ে তোলার। সেই স্বপ্ন নিয়েই পথ চলছিল, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতার চাপে তা বেশিদূর এগোয়নি।নতুন স্বপ্নের নাম ‘এমএ পাস চাওয়ালা’এই দীর্ঘ সংগ্রামের পর সহিদুল নতুন সিদ্ধান্ত নেন। ভেবেচিন্তে ঠিক করেন চায়ের দোকান দেবেন। তবে এই সিদ্ধান্তও সহজ ছিল না। অনেকেই আপত্তি তোলেন। পরিবার থেকেও বলা হয়েছিল, যদি করতেই হয় তবে অন্তত ‘ক্যাফে’ জাতীয় কিছু করা হোক। কিন্তু সহিদুল নড়েননি। অক্টোবরের শুরুতে রাজধানীর ভাটারা কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে যাত্রা শুরু করে ‘এমএ পাস চাওয়ালা’। দোকান ভাড়া করতে গিয়েও তাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়। মালিকেরা যখনই জানতে পারতেন দোকানটি হবে চায়ের, তখনই ভাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করতেন। কেউ কেউ ফোনেই কথা বলা বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু সহিদুলের জেদ আরও বেড়ে যায়।তিনি বলেন, “এই নামের পেছনে দুটি কারণ আছে। প্রথমত, নাম শুনেই যেন সবাই আকৃষ্ট হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষিত বেকার তরুণরা যেন অনুপ্রাণিত হয় এবং কোনো কাজকে ছোট না ভাবে।”সাজানো দোকান আর বিচিত্র স্বাদের চাসহিদুলের দোকান সাজানো হয়েছে বেশ যত্ন নিয়ে। তামার তৈরি আরবি কেতার কেটলি, নানা রকম চা তৈরির সরঞ্জাম, পরিপাটি আসবাব সব মিলিয়ে দোকানটি আলাদা আমেজ তৈরি করেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা নিয়মিত ভিড় করছেন এখানে।চায়ের তালিকাও বেশ বৈচিত্র্যময়। ইরানি জাফরান চা, ইরানি দুধ চা, স্পেশাল মাসালা দুধ চা, গরুর দুধ চা এমন সব নতুন নাম ও স্বাদের চা মিলছে একেবারে কম দামে এম এ পাস চা ওয়ালার দোকানে। সঙ্গে থাকছে মাংসের স্পেশাল শিঙাড়া। আরো আছে আইস টি,মকটেল,জুস,লাচ্ছি,মিল্ক শেক,ফ্রেঞ্চ ফ্রাই,মটু শর্মা,মটকা মিট বক্স।
৩ মাস আগে
ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের এক সাধারণ চা বিক্রেতা থেকে দেশের আইকন হয়ে ওঠা “এম এ পাস চা ওয়ালা” এবার যাচ্ছেন গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লেখাতে। চায়ের কাপ হাতে শুরু করা তার ব্যতিক্রমী যাত্রা এখন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বমঞ্চে। চলতি মাসে রাজধানীর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “এম এ পাস চা ওয়ালা’স গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড টি ফেস্টিভ্যাল ২০২৫”। আয়োজকরা জানায়, এক দিনে ৫০ হাজার+ চা পরিবেশন ও অংশগ্রহণকারীর রেকর্ড গড়াই এ উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। এম এ পাস চা ওয়ালা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এক কাপ চা শুধু পানীয় নয় এটা মানুষের হৃদয়কে যুক্ত করার মাধ্যম। গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বাংলাদেশের নাম উঠুক, এটাই আমার স্বপ্ন।” আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের খ্যাতনামা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন এই মহোৎসবে। চা শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের চা সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুনভাবে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তা ও তরুণ সমাজের জন্য হবে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।দেশজুড়ে এখন আলোচনা একটাই কবে ইতিহাস গড়বেন এম এ পাস চা ওয়ালা। যদি সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোয়, তবে অক্টোবর মাসেইগিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পাতায় যুক্ত হবে বাংলাদেশের এই গর্বের নাম।“মাস্টার্স পাস একজন যুবক চায়ের দোকান দিবেন” শুনলেই অনেকে অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকেছেন। অনেকে বলেছিলেন, ‘কফি শপ বা আধুনিক কোনো ক্যাফে হলে মানাতো, কিন্তু চায়ের দোকান?’ কিন্তু সেই সব সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাহ্য করে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সৎ উপার্জন ও আত্মসম্মানের কাছে সমাজের কথার কোনো মূল্য নেই। শিক্ষাজীবন থেকে সংগ্রামের পথচাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সহিদুল রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য বহু চেষ্টা করেছেন। আবেদন করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চাকরি জোটেনি। তবুও হাল ছাড়েননি।এক সময় তিনি ফ্রিজের দোকান খোলেন। কিছুটা সময় সেই ব্যবসা চালালেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতা করতে করতে আবারও স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি অনলাইন স্কুল গড়ে তোলার। সেই স্বপ্ন নিয়েই পথ চলছিল, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতার চাপে তা বেশিদূর এগোয়নি।নতুন স্বপ্নের নাম ‘এমএ পাস চাওয়ালা’এই দীর্ঘ সংগ্রামের পর সহিদুল নতুন সিদ্ধান্ত নেন। ভেবেচিন্তে ঠিক করেন চায়ের দোকান দেবেন। তবে এই সিদ্ধান্তও সহজ ছিল না। অনেকেই আপত্তি তোলেন। পরিবার থেকেও বলা হয়েছিল, যদি করতেই হয় তবে অন্তত ‘ক্যাফে’ জাতীয় কিছু করা হোক। কিন্তু সহিদুল নড়েননি। অক্টোবরের শুরুতে রাজধানীর ভাটারা কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে যাত্রা শুরু করে ‘এমএ পাস চাওয়ালা’। দোকান ভাড়া করতে গিয়েও তাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়। মালিকেরা যখনই জানতে পারতেন দোকানটি হবে চায়ের, তখনই ভাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করতেন। কেউ কেউ ফোনেই কথা বলা বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু সহিদুলের জেদ আরও বেড়ে যায়।তিনি বলেন, “এই নামের পেছনে দুটি কারণ আছে। প্রথমত, নাম শুনেই যেন সবাই আকৃষ্ট হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষিত বেকার তরুণরা যেন অনুপ্রাণিত হয় এবং কোনো কাজকে ছোট না ভাবে।”সাজানো দোকান আর বিচিত্র স্বাদের চাসহিদুলের দোকান সাজানো হয়েছে বেশ যত্ন নিয়ে। তামার তৈরি আরবি কেতার কেটলি, নানা রকম চা তৈরির সরঞ্জাম, পরিপাটি আসবাব সব মিলিয়ে দোকানটি আলাদা আমেজ তৈরি করেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা নিয়মিত ভিড় করছেন এখানে।চায়ের তালিকাও বেশ বৈচিত্র্যময়। ইরানি জাফরান চা, ইরানি দুধ চা, স্পেশাল মাসালা দুধ চা, গরুর দুধ চা এমন সব নতুন নাম ও স্বাদের চা মিলছে একেবারে কম দামে এম এ পাস চা ওয়ালার দোকানে। সঙ্গে থাকছে মাংসের স্পেশাল শিঙাড়া। আরো আছে আইস টি,মকটেল,জুস,লাচ্ছি,মিল্ক শেক,ফ্রেঞ্চ ফ্রাই,মটু শর্মা,মটকা মিট বক্স।
৩ মাস আগে
ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের এক সাধারণ চা বিক্রেতা থেকে দেশের আইকন হয়ে ওঠা “এম এ পাস চা ওয়ালা” এবার যাচ্ছেন গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লেখাতে। চায়ের কাপ হাতে শুরু করা তার ব্যতিক্রমী যাত্রা এখন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বমঞ্চে। চলতি মাসে রাজধানীর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “এম এ পাস চা ওয়ালা’স গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড টি ফেস্টিভ্যাল ২০২৫”। আয়োজকরা জানায়, এক দিনে ৫০ হাজার+ চা পরিবেশন ও অংশগ্রহণকারীর রেকর্ড গড়াই এ উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। এম এ পাস চা ওয়ালা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এক কাপ চা শুধু পানীয় নয় এটা মানুষের হৃদয়কে যুক্ত করার মাধ্যম। গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বাংলাদেশের নাম উঠুক, এটাই আমার স্বপ্ন।” আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের খ্যাতনামা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন এই মহোৎসবে। চা শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের চা সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুনভাবে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তা ও তরুণ সমাজের জন্য হবে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।দেশজুড়ে এখন আলোচনা একটাই কবে ইতিহাস গড়বেন এম এ পাস চা ওয়ালা। যদি সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোয়, তবে অক্টোবর মাসেইগিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পাতায় যুক্ত হবে বাংলাদেশের এই গর্বের নাম।“মাস্টার্স পাস একজন যুবক চায়ের দোকান দিবেন” শুনলেই অনেকে অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকেছেন। অনেকে বলেছিলেন, ‘কফি শপ বা আধুনিক কোনো ক্যাফে হলে মানাতো, কিন্তু চায়ের দোকান?’ কিন্তু সেই সব সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাহ্য করে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সৎ উপার্জন ও আত্মসম্মানের কাছে সমাজের কথার কোনো মূল্য নেই। শিক্ষাজীবন থেকে সংগ্রামের পথচাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সহিদুল রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য বহু চেষ্টা করেছেন। আবেদন করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চাকরি জোটেনি। তবুও হাল ছাড়েননি।এক সময় তিনি ফ্রিজের দোকান খোলেন। কিছুটা সময় সেই ব্যবসা চালালেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতা করতে করতে আবারও স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি অনলাইন স্কুল গড়ে তোলার। সেই স্বপ্ন নিয়েই পথ চলছিল, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতার চাপে তা বেশিদূর এগোয়নি।নতুন স্বপ্নের নাম ‘এমএ পাস চাওয়ালা’এই দীর্ঘ সংগ্রামের পর সহিদুল নতুন সিদ্ধান্ত নেন। ভেবেচিন্তে ঠিক করেন চায়ের দোকান দেবেন। তবে এই সিদ্ধান্তও সহজ ছিল না। অনেকেই আপত্তি তোলেন। পরিবার থেকেও বলা হয়েছিল, যদি করতেই হয় তবে অন্তত ‘ক্যাফে’ জাতীয় কিছু করা হোক। কিন্তু সহিদুল নড়েননি। অক্টোবরের শুরুতে রাজধানীর ভাটারা কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে যাত্রা শুরু করে ‘এমএ পাস চাওয়ালা’। দোকান ভাড়া করতে গিয়েও তাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়। মালিকেরা যখনই জানতে পারতেন দোকানটি হবে চায়ের, তখনই ভাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করতেন। কেউ কেউ ফোনেই কথা বলা বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু সহিদুলের জেদ আরও বেড়ে যায়।তিনি বলেন, “এই নামের পেছনে দুটি কারণ আছে। প্রথমত, নাম শুনেই যেন সবাই আকৃষ্ট হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষিত বেকার তরুণরা যেন অনুপ্রাণিত হয় এবং কোনো কাজকে ছোট না ভাবে।”সাজানো দোকান আর বিচিত্র স্বাদের চাসহিদুলের দোকান সাজানো হয়েছে বেশ যত্ন নিয়ে। তামার তৈরি আরবি কেতার কেটলি, নানা রকম চা তৈরির সরঞ্জাম, পরিপাটি আসবাব সব মিলিয়ে দোকানটি আলাদা আমেজ তৈরি করেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা নিয়মিত ভিড় করছেন এখানে।চায়ের তালিকাও বেশ বৈচিত্র্যময়। ইরানি জাফরান চা, ইরানি দুধ চা, স্পেশাল মাসালা দুধ চা, গরুর দুধ চা এমন সব নতুন নাম ও স্বাদের চা মিলছে একেবারে কম দামে এম এ পাস চা ওয়ালার দোকানে। সঙ্গে থাকছে মাংসের স্পেশাল শিঙাড়া। আরো আছে আইস টি,মকটেল,জুস,লাচ্ছি,মিল্ক শেক,ফ্রেঞ্চ ফ্রাই,মটু শর্মা,মটকা মিট বক্স।
৩ মাস আগে