কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্টার লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় প্রাইভেট কারের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও দুইজন।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিহতরা একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। নিহতরা হচ্ছে- খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের ভগ্নিপতি মুফতি আব্দুল মমিন, বোন ঝর্ণা ও ভাগনি লাবিবা। ভাগনে আবরার ও আরশাদ গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত চালকের নাম জামাল। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল একটি প্রাইভেট কার। এ সময় মহাসড়কের কালাকচুয়ায় এলে চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন বাস প্রাইভেট কারটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এ সময় দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ওসি আব্দুল মমিন বলেন, ঘটনার পর চালক বাসটি ফেলে পালিয়ে গেছেন। আমরা বাসটি আটক করেছি।
রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেন দিয়ে বাসটি ওপরে তোলা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত ২৬ জনের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছে। ঢাকা অভিমুখে যাওয়া ওই বাসটিতে ৪০ থেকে ৫৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।দুর্ঘটনায় নিহত সবার পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ১. রেহেনা আক্তার (৬১), তার স্বামী- মৃত ইসমাঈল হোসেন খান, রাজবাড়ী পৌরসভা। ২. মর্জিনা খাতুন (৫৬), স্বামী- মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, কুষ্টিয়া পৌরসভা। ৩. রাজীব বিশ্বাস (২৮), বাবা- হিমাংশু বিশ্বাস, খাগড়বাড়ীয়া, কুষ্টিয়া সদর। ৪. জহুরা অন্তি (২৭), বাবা- মৃত ডা. আবদুল আলীম, রাজবাড়ী পৌরসভা। ৫. কাজী সাইফ (৩০), বাবা- কাজী মুকুল, রাজবাড়ী পৌরসভা। ৬. মর্জিনা আক্তার (৩২), স্বামী- রেজাউল করিম, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ। ৭. ইস্রাফিল (৩), বাবা- দেলোয়ার হোসেন, খোকসা, কুষ্টিয়া। ৮. সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), বাবা- রেজাউল করিম, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ। ৯. ফাইজ শাহানূর (১১), বাবা- বিল্লাল হোসেন, কালুখালী, রাজবাড়ী। ১০. তাজবিদ (৭), বাবা- কেবিএম মুসাব্বির, রাজবাড়ী পৌরসভা। ১১. আরমান খান (৩১), বাবা- আরব খান, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী (বাসচালক)। ১২. নাজমিরা বা জেসমিন (৩০), স্বামী- আব্দুল আজিজ, কালুখালী, রাজবাড়ী। ১৩. লিমা আক্তার (২৬), বাবা- সোবাহান মণ্ডল, রাজবাড়ী সদর। ১৪. জোস্ন্যা (৩৫), স্বামী- মান্নান মণ্ডল, রাজবাড়ী সদর। ১৫. মুক্তা খানম (৩৮), স্বামী- মৃত জাহাঙ্গীর আলম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ। ১৬. নাছিমা (৪০), স্বামী- মৃত নূর ইসলাম, পার্বতীপুর, দিনাজপুর। ১৭. আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), স্বামী- মো. নুরুজ্জামান, আশুলিয়া, ঢাকা। ১৮. সোহা আক্তার (১১), বাবা- সোহেল মোল্লা, রাজবাড়ী পৌরসভা। ১৯. আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), বাবা- গিয়াসউদ্দিন রিপন, সমসপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া। ২০. আরমান (৭ মাস), বাবা- নুরুজ্জামান, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ। ২১. আব্দুর রহমান (৬), বাবা- আব্দুল আজিজ, কালুখালী, রাজবাড়ী। ২২. সাবিত হাসান (৮), বাবা- শরিফুল ইসলাম, রাজবাড়ী সদর। ২৩. আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), বাবা- ইসমাইল হোসেন খান, রাজবাড়ী সদর। ২৪. উজ্জ্বল, বাবা- মজনু শেখ, কালুখালী, রাজবাড়ী। ২৫. আসরাপুল, বাবা- আফসার, কালুখালী, রাজবাড়ী। ২৬. জাহাঙ্গীর, বাবা- সানি উল্লা, কালুখালী, রাজবাড়ী।
মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গভবনে এ সৌজন্য অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।এদিন বিকেলে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আয়োজিত এক বিশেষ প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অন্তর্বর্তী সরকার যেন ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে, ‘ডিপ স্টেট’ তেমন একটা স্ট্র্যাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে এনসিপি আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল, আপনারা শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটি আপনারা শেষ করুন। আপনারা শেষ করুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।তিনি বলেন, তাদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ছিল, কিছু কিছু জায়গায় তাদেরকে ফ্যাসিলিটেট করা। তারা রোড ম্যাপও করে নিয়ে এসেছিল যে, বিএনপির নেতাদের তো সাজা আছে, সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে না, তাদের সাজাগুলো ইয়ে না করে (বাতিল না করে) আদালতের মাধ্যমে এগুলো দীর্ঘ করে, আপনারা তো জানেন সেটা কীভাবে করা যায়, আদালতের ডেট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। তারেক রহমানের নিজের নামে সাজা ছিল। তিনি যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকতেন, নির্বাচন হলেও তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। তারা পুরো স্ট্র্যাটেজি আমাদেরকে সাজিয়ে দিয়েছিল, কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় তাদের সঙ্গে এক ধরনের নেগোসিয়েশন বা সমঝোতার ভিত্তিতে। আমরা কিন্তু সেটাতে সায় দিইনি।সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা সবসময় গণতন্ত্রকে সামনে রেখেছি এবং সেটার প্রতি কমিটমেন্ট সরকারের ছিল বলেই নির্বাচনটা হয়েছে। নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করে চলে এসেছি। কিন্তু আমরা দেখলাম, বিগত সরকারের দুজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় আছেন। যদিও এই সরকারি দলই সেই সময় আমাদের পদত্যাগ চেয়েছিল। তখন নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির এক ধরনের যুক্তি দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু তারাই এখন একই কাজ করল। আগের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুজন দায়িত্বশীলকে তাদের সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নিলো।তিনি আরও বলেন, এতে বোঝা যায়, তারা এই নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ডকে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সুবিধা পাওয়ার জন্য এই মানুষগুলোকে, যাদেরকে তারা এখন পুরস্কৃত করেছে, তাদেরকে ব্যবহার করেছে। এই যে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলা হচ্ছে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ন্যারেটিভ তখন আমাদের পক্ষে উৎপাদিত হতো। ডিপ স্টেট, এজেন্সি যদি সঙ্গে থাকত, তাহলে তো সবাই বলতে পারত, সংবিধান অনুযায়ী ২৯ সালে নির্বাচন হওয়া উচিত, তাহলে সরকার থাক ২৯ সাল পর্যন্ত। আমরা সেই সমঝোতা করি নাই।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর ও চান্দগাঁও থানা ওয়ার্ডে জামায়াতের উদ্যোগে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বহদ্দারহাট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. আবু নাছের। তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন দুটি ব্যালেটের মাধ্যমে গণভোটের রায় দিয়েছে এবং এখন তা বাস্তবায়ন করা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এ দেশের মানুষ পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে না।’মহানগর জামাতেব এসিস্টেন্ট সহকারী মোহাম্মদ উল্লাহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ এ বিষয়ে কোনো ধরনের ব্যত্যয় মেনে নেবে না।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংসদের ভেতরে সমাধান না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমে গণভোট বাস্তবায়ন করা হবে।সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁও ওয়ার্ডের আমির মোহাম্মদ ইসমাইলহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এক বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। ২৬ মার্চ সকালেই জেএন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে হঠাৎ উদয় সরকার (৩৬) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ প্রচার শুরু করেন।উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্থানীয়রা উদয় সরকারকে আটক করে পীরগাছা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।আটক উদয় সরকার সদর ইউনিয়নের অনন্তরাম (যুগীপাড়া) এলাকার মৃত সুশীল চন্দ্র সরকারের ছেলে।পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জানান, “স্থানীয়দের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ ঘটনার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেছেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে নাই করে দেওয়া হচ্ছে। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ সব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংস্কার যদি পার্লামেন্টে (সংসদে) বাস্তবায়ন না হয় সেটা মাঠে গড়াবে। রাজনৈতিকভাবে সেটার ফয়সালা হবে। সংস্কার ও বিচার হতেই হবে। আপনারা দেখেছেন, বিচারপতি মানিক, ইনু ও মেনন যারা শেখ হাসিনার বৈধতা উৎপাদন করেছিল ভারতের সঙ্গে মিলে, তাদের বিভিন্ন মামলায় জামিন দেওয়া হচ্ছে।এনসিপির এই নেতা বলেন, বুধবার শহীদ মিনারে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। শহীদ পরিবার এবং আমাদের যারা আহত ভাইয়েরা রয়েছেন তাদের এখনও আমরা বিচার দিতে পারিনি। এমতাবস্থায় যখন জয় বাংলা স্লোগান হয় সরকারের তত্ত্বাবধানে, তখন এটা আমাদের আশঙ্কা সৃষ্টি করে যে ইলেকশনটা ইন্ডিয়ার সঙ্গে একটা নেগোসিয়েশন করেই হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করে হয়েছে। আমরা সরকারকে এই জায়গা থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই।তিনি বলেন, সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে যারা জয় বাংলা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে বাংলাদেশে তাদের নিবৃত্ত করতে হবে।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার এবং সংস্কার দুইটা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি এটা না হয়, আমাদের হয়তো আবার মাঠে নামতে হবে। অনেকেই বলেন যে, আমাদের ডাকে মানুষ মাঠে নামবে কি না? মানুষ প্রস্তুত হয়ে আছে, সাইলেন্ট হয়ে আছে। জাস্ট কল হবে মানুষ মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত আছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় পদ্মার পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন নবদম্পতি কাজী সাম্য সাইফ ও তার স্ত্রী জহুরা অন্তু। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে বুধবার বিকেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজবাড়ীর বাড়িতে এসেছিলেন সাম্য ও অন্তু। স্বল্প সময়ের দাম্পত্য জীবন হলেও তাদের সংসার ভরে উঠেছিল ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের নানা স্বপ্নে। ছুটি শেষে আবার কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেরিতে ওঠার সময় একটি নিয়ন্ত্রণহীন বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাম্য ও অন্তু নদীতে তলিয়ে যান।পরদিন সকালে উদ্ধার হওয়া তাদের মরদেহ রাজবাড়ীর নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে শোকের মাতম নেমে আসে এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। একমাত্র সন্তান সাম্যকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা কাজী মুকুল। অন্যদিকে অন্তু ছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত হলেও ভালোবাসায় পূর্ণ। ঢাকায় বসবাস করে তারা ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎই এক দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন থেমে যায়।এই মর্মান্তিক ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো রাজবাড়ী জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী বলছেন, এমন মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি দুটি সম্ভাবনাময় জীবনের অসমাপ্ত গল্প।পদ্মার ঢেউ বয়ে চললেও তার গভীরে হারিয়ে গেছে সাম্য ও অন্তুর অপূর্ণ স্বপ্ন। তাদের স্মৃতি হয়ে থাকবে পরিবার ও স্বজনদের হৃদয়ে।
যথাযোগ্য মর্যাদায় মৌলভীবাজারে পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান মৌলভীবাজারের সর্বস্তরের মানুষ। বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়, প্রথম প্রহরে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় স্মৃতিসৌধে প্রথমে শহীদদের প্রতিশ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও মৌলভীবাজার তিন (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসেরর হমান। এর পর জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপিি মজানুর রহমান,পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক মো: ফয়জুল করিম ময়ূন, বীর শ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, মৌলভীবাজার পৌরসভার প্রশাসক, পৌর কর্মচারী ফেডারেশন, উপজেলা পরিষদ, যুবদল, মহিলাদলসহ বিভিন œরাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবি সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কার ও পরবর্তীতে তার সঙ্গে লাগোয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বগিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কুমিরা স্টেশনে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে।রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগুন লাগছে মূলত পাওয়ার কারে। সেখান থেকে আরেকটা বগিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু তার আগে ওই বগিতে লোকজন বের হয়ে পড়ে এবং লাগেজগুলোও বের করে ফেলা হয়। আগুনে কেউ হতাহত হয়নি। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো আলাদা করে ফেলা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে পাওয়ার কার পাঠানো হচ্ছে। এটি জোড়া লাগিয়ে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা করবে। তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী লেনে ট্রেন চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে কোনো ট্রেনের শিডিউল বাতিল হয়নি। বর্তমানে মোটামুটি স্বাভাবিক হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মিরপুরে গুলিতে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি তিনি।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান পাখি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্রজনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্রজনতার ওপর এজাহারভুক্ত আসামিসহ ৫০০-৭০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। তারা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সন্ধিগ্ধ আসামি শেখ মামুন খালেদ মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতার, অচেনা আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।শেখ মামুন খালেদ ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে শেখ মামুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন। প্রায় দেড় বছর এই দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সে সময় রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের নিপীড়নসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অন্তর্বর্তী সরকার যেন ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে, ‘ডিপ স্টেট’ তেমন একটা স্ট্র্যাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে এনসিপি আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল, আপনারা শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটি আপনারা শেষ করুন। আপনারা শেষ করুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।তিনি বলেন, তাদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ছিল, কিছু কিছু জায়গায় তাদেরকে ফ্যাসিলিটেট করা। তারা রোড ম্যাপও করে নিয়ে এসেছিল যে, বিএনপির নেতাদের তো সাজা আছে, সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে না, তাদের সাজাগুলো ইয়ে না করে (বাতিল না করে) আদালতের মাধ্যমে এগুলো দীর্ঘ করে, আপনারা তো জানেন সেটা কীভাবে করা যায়, আদালতের ডেট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। তারেক রহমানের নিজের নামে সাজা ছিল। তিনি যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকতেন, নির্বাচন হলেও তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। তারা পুরো স্ট্র্যাটেজি আমাদেরকে সাজিয়ে দিয়েছিল, কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় তাদের সঙ্গে এক ধরনের নেগোসিয়েশন বা সমঝোতার ভিত্তিতে। আমরা কিন্তু সেটাতে সায় দিইনি।সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা সবসময় গণতন্ত্রকে সামনে রেখেছি এবং সেটার প্রতি কমিটমেন্ট সরকারের ছিল বলেই নির্বাচনটা হয়েছে। নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করে চলে এসেছি। কিন্তু আমরা দেখলাম, বিগত সরকারের দুজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় আছেন। যদিও এই সরকারি দলই সেই সময় আমাদের পদত্যাগ চেয়েছিল। তখন নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির এক ধরনের যুক্তি দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু তারাই এখন একই কাজ করল। আগের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুজন দায়িত্বশীলকে তাদের সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নিলো।তিনি আরও বলেন, এতে বোঝা যায়, তারা এই নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ডকে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সুবিধা পাওয়ার জন্য এই মানুষগুলোকে, যাদেরকে তারা এখন পুরস্কৃত করেছে, তাদেরকে ব্যবহার করেছে। এই যে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলা হচ্ছে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ন্যারেটিভ তখন আমাদের পক্ষে উৎপাদিত হতো। ডিপ স্টেট, এজেন্সি যদি সঙ্গে থাকত, তাহলে তো সবাই বলতে পারত, সংবিধান অনুযায়ী ২৯ সালে নির্বাচন হওয়া উচিত, তাহলে সরকার থাক ২৯ সাল পর্যন্ত। আমরা সেই সমঝোতা করি নাই।
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্টার লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় প্রাইভেট কারের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও দুইজন।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিহতরা একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। নিহতরা হচ্ছে- খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের ভগ্নিপতি মুফতি আব্দুল মমিন, বোন ঝর্ণা ও ভাগনি লাবিবা। ভাগনে আবরার ও আরশাদ গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত চালকের নাম জামাল। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল একটি প্রাইভেট কার। এ সময় মহাসড়কের কালাকচুয়ায় এলে চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন বাস প্রাইভেট কারটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এ সময় দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ওসি আব্দুল মমিন বলেন, ঘটনার পর চালক বাসটি ফেলে পালিয়ে গেছেন। আমরা বাসটি আটক করেছি।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে স্বাভাবিকভাবেই আগেভাগেই হোটেল-মাঠ, অনুশীলন কেন্দ্রসহ বেশকিছু স্পট সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ হাজার হোটেলকক্ষ বুক করে ফিফা। কিন্তু এরমধ্যে বাতিল করা হয়েছে ২ হাজার কক্ষ। তবে কী কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি ফিফা।ফিলাডেলফিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এড গ্রোস মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি৬–কে বলেছেন, চার শহরের কেন্দ্রীয় হোটেলে সংরক্ষিত বড় সংখ্যক কক্ষ বাতিল করা হয়েছে। এর নেপথ্য কারণ জানায়নি ফিফা। তবে চুক্তির শর্ত মেনেই সেসব রিজার্ভেশন বাতিল এবং এজন্য কোনো জরিমানা গুনতে হচ্ছে না বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থাকে।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ ফিফা এবং ফিলাডেলফিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের দ্বারস্থ হয়। গ্রোস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরও আয়োজক শহরেও ফিফার কক্ষ বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এমন পদক্ষেপের কারণে হোটেল ভাড়া কতটা বাড়ে তা অনিশ্চিত এবং সে কারণে কক্ষ বুক করতে আগ্রহী ফুটবলভক্তদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে নিরুৎসাহিত করেছেন এই ফিলাডেলফিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।গ্রোস বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাবোধ করছি না, যদিও সেজন্য বিশ্বও থেমে থাকবে না। বাতিল হওয়া রুম আবার ভাড়া হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে এবং ফিলাডেলফিয়ায় আগত ভক্তদের কাছে বিক্রি করা হবে।’ একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালেই একাধিক সম্মেলন রয়েছে এই অঙ্গরাজ্যে। সে কারণে কক্ষ ভাড়া দেওয়া খুব একটা কঠিন হবে না বলেও প্রত্যাশা।ফিলাডেলফিয়ায় কক্ষ বাতিলের সংবাদ সামনে আসার পর মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম ‘এল ফাইনান্সিয়েরো’ জানিয়েছে, মেক্সিকো সিটিতেও নিজেদের বুক করা হোটেল কক্ষের ৪০ শতাংশ বাতিল করেছে ফিফা। যেখানে তার উদ্ধৃতি দিয়েছে মেক্সিকো সিটি হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল ডিরেক্টর আলবার্তো আলবারান লেইভার। তিনি বলেছেন, গত মাসে বিশ্বকাপের জন্য সংরক্ষিত ২০০০ কক্ষের মধ্যে ৮০০ কক্ষ বাতিল করেছে ফিফা। ইএসপিএনকে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে আলবারান লেইভা কক্ষ বাতিলের বিষয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তার মতে, ফিফা কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই অতিরিক্ত বুকিং করেছিল।আলবারান বলছেন, ‘ফিফা (সংকট) প্রতিরোধের কৌশল এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মাসখানেক আগে ২০০০ রুম বুক করেছিল। পরে কিছু সংখ্যক কক্ষ বাতিল করা হয়, কারণ সেগুলো আর প্রয়োজন নেই বলে বিবেচনা করছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ কিংবা বিষয় নেই।’ ফিফার তথ্যমতে– তারা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন মেগা ইভেন্টে সারাবিশ্ব থেকে ৫ থেকে সাড়ে ৬ মিলিয়ন ফুটবলভক্তের উপস্থিতি আশা করেছিল।
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুটি হয়ে আসছেন চিত্রনায়ক এবিএম সুমন ও চিত্রনায়িকা সাদিয়া জাহান প্রভা। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ঝুমুর আসমা জুঁই পরিচালিত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা "দুই পয়সার মানুষ"-এ দেখা যাবে তাদের। দ্রোহ আর প্রেমকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে এ সিনেমা।সিনেমায় দেখা যায়, বাবার মৃত্যুর পর এলাকার প্রভাবশালী এক বড় ভাইয়ের নজরে পরে যায় সুমন। বিল্লাহ, যার অপর নাম ত্রাস। কি করে না সে? মেয়ে পাচার, টেন্ডারবাজি, চোরাকারবারি, মার্ডার। সুমন এক সময় জড়িয়ে যায় অপরাধ জগতের সাথে। বিল্লাহর ছোটো ভাইয়ের রক্ত অনেক পছন্দ, লাল লাল রক্ত। সুমন তার চোখের কা়ঁটা। দুজনের মধ্যে চলে নিরব লড়াই। সব কিছুই বাইরে সুমনের জীবনে এক টুকরো শান্তির তার প্রেমিকা। মিষ্টি মেয়ে যার চোখে দুষ্ট হাসি। দুজনে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। হঠাৎ আসে কালবৈশাখী মতো এক ঝড়। সব কিছু তছনছ করে দিয়ে যায়। কি করবে সুমন? পালিয়ে যাবে নাকি লড়বে। এভাবে উত্তেজনা নিয়ে ঝড়ের বেগে ছুটে চলে সিনেমাটি। ইতোমধ্যে সিনেমার শুটিং শেষ পযায়ে আছে বলে জানিয়েছেন সিনেমার পরিচালক ঝুমুর আসমা জুঁই। চলতি বছরে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার আশা করছেন নির্মাতা। প্রভা ও সুমন জুটির অ্যাকশন আর প্রেমের রসায়ন দর্শক খুব উপভোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন পরিচালক। তিনি আশা করেন দর্শক একটা ভালো সিনেমা হলে গিয়ে দেখবে। প্রভা ও সুমন ছাড়াও এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, সমু চৌধুরী, রামিজ রাজু, মিলি বাশার, আনোয়ার শাহী, সুমন পারভেজসহ অনেকে।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কার্টুন ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা মারা গেছেন। গত ৬ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বুধবার (১৮ মার্চ) তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘এশিয়া দো’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক সংবাদটি প্রকাশ করেছে। সুতোমুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে অ্যানিমেশন জগতে।মিন্ট নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন সুতোমু। এ পরিচালককে জাপানের অ্যানিমেশন শিল্পে অন্যতম পথপ্রদর্শক মনে করা হয়। ক্যারিয়ারে ‘ডোরেমন’-এর পরিচালনা ছাড়াও সিরিয়াল ও সিনেমা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।সুতোমু শিবায়ামা ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ‘ডোরেমন’ টিভি সিরিজের প্রধান পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, ডোরেমনের জনপ্রিয় ২২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও তার হাত ধরে তৈরি হয়েছে। নোবিতা, শিজুকা ও ডোরেমন চরিত্রগুলোকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে প্রিয় করে তোলার পেছনে তার অবদান অনবদ্য।সুতোমু ১৯৬৩ সালে একটি খ্যাতনামা আনিমেশন প্রতিষ্ঠানে তার কর্মজীবন শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বহু জনপ্রিয় অ্যানিমেশন উপহার দেন এবং একপর্যায়ে নিজেই স্টুডিও গড়ে তোলেন।অ্যানিমেশন শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা পান এ নির্মাতা। তার মৃত্যুতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল, ভক্ত ও শুভাকাঙক্ষীরা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রিয় ছোটবেলার কারিগরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। জাপানি অ্যানিমেশন জগতের এই নক্ষত্রের প্রয়াণকে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেকড়ের টানে ঘরমুখো মানুষের অনুভূতি তুলে ধরেই নিজের নতুন মৌলিক গান ‘ফেরা’ নিয়ে হাজির হয়েছেন সংগীতশিল্পী নাবিলা নূর কুহু। গানটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ মার্চ তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, স্পটিফাই ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে।গানের কথা লিখেছেন কুহু নিজেই। সংগীতায়োজন করেছেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক অটমনাল মুন, যিনি ব্লুজ ও জ্যাজের অনুপ্রেরণা দিয়ে গানটিতে স্বতন্ত্র একটি আবহ তৈরি করেছেন।ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন মীর হিশাম। সাধারণ ভিডিওর বাইরে গিয়ে স্কেচ অ্যানিমেশনের মাধ্যমে গানটির আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।কুহু বলেন, ‘‘‘ফেরা’-তে ঘর ছেড়ে দূরে থাকা মানুষের নস্টালজিয়া ও দীর্ঘদিন পর নিজের ঘরে ফেরার অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে সেই আবেগ দোলাবে।’’শিল্পী হিসেবে কুহু শৈশব থেকেই সংগীতচর্চায় যুক্ত। তিনি ছায়ানট থেকে নজরুলগীতিতে পুরস্কার অর্জন করেছেন, শুদ্ধসংগীত তালিম নিয়েছেন অনুপ বডুয়ার কাছে, এবং দীর্ঘদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন।শিল্পীর উল্লেখযোগ্য মৌলিক কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বেহাগের এই রাত’, ‘দ্য সং অফ এ রোডট্রিপ’, ‘শহুরে মায়া’, ‘ছায়াহরিণের ডাক’ ও ‘শূন্যতায় জীবন’। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের গান দিয়ে শ্রোতাদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের জন্য এই নতুন গানটি দোলা এবং আনন্দ ছড়াবে—তাই প্রত্যাশা কুহুর।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব আয়োজন করেছে ২ দিনব্যাপী প্রথম ‘কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব’। ১টি প্রামাণ্যচিত্র এবং ৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এই উৎসবে।উৎসবের পর্দা উঠবে ২৭ মার্চ বিকাল ৫টায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। পরে প্রদর্শিত হবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’, অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘জলরঙ’ এবং বড়ুয়া সুনন্দা কাঁকন পরিচালিত ‘ডট’।২৮ মার্চ উৎসবের সমাপনী দিনে দর্শকরা দেখতে পাবেন সবুজ খান পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বেহুলা দরদী’, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘ময়নার চর’ এবং তানভীর হাসান পরিচালিত ‘মধ্যবিত্ত’ প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্দা নামবে ১ম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবের।কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম জানান, ‘মুঠোফোনের ক্ষুদ্র স্ক্রিনে সিনেমা দেখার এই যুগে বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্রুপদী ও আধুনিক গল্পগুলোকে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’আয়োজকরা জানান, কক্সবাজার লাবণী বিচ পয়েন্টে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেখানো হবে ৩টি ছবি, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬-এর মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল এস। সহযোগিতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজন করেছে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা “সেরাদের সেরা সিজন–৬”। বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।গান, অভিনয় ও আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায় অতিক্রম করে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগী বাছাই করা হয়।নির্বাচিত প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে রমজান মাসজুড়ে দেশের স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ৯–এ বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। প্রতিদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত প্রচারিত এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় আরজে টুটুল এবং টেলিভিশন পর্ব পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহিল কাফী।‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এইচ এম আবু মুসা এবং সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। এছাড়া আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেন আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, হাদিউজ্জামান বুলবুল, মিনার উদ্দিন, তানভির আহমেদ শিবলী, আহমদ শরীফ, হুজ্জাতুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহাদিউজ্জামান, ইব্রাহিম আলী ও আবু বকরসহ সংশ্লিষ্টরা।প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়—ক গ্রুপ: ১ম থেকে ৮ম শ্রেণিখ গ্রুপ: ৯ম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে সসাস-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবারের আসরে বিজয়ীদের মাঝে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন পান ১ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাস-এর মতে, “সংস্কৃতি কোনো বিলাস নয়—সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।” ‘সেরাদের সেরা’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিভা, নৈতিকতা ও শুদ্ধ শিল্পচর্চার সমন্বয় ঘটছে। আয়োজকদের আশা, এই মঞ্চ থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের সেই প্রতিভাবান মুখগুলো, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এবারের ঈদে মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সিনেমাটিকে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনের অনুমতি দেয়। মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এখন মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছে। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমাটির স্থিতিকাল ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানা। সোমবার রাতে সামাজিক আমধ্যমে সার্টিফিকেট প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোর্তিময়ীসহ আরও অনেকে।এদিকে প্রিন্স ছাড়াও মুক্তি মিছিলে থাকা আরও চার সিনেমা ছাড়পত্র পেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মঈনউদ্দীন গত সোমবার সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেগুলো হচ্ছে- ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও প্রেশার কুকার। প্রতিটি সিনেমাই ভিন্ন ভিন্ন ধারার হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্সর সার্টিফিকেশন পাওয়ার মাধ্যমে সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে হঠাৎ বড় পতনের মুখে পড়েছিল স্বর্ণের দাম। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুটি। মার্কিন ডলারের দরপতন এবং তেলের দাম কমার ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ ও বিশ্বব্যাপী উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়ায় বুধবার স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে আরেক মূল্যবান ধাতু রুপার দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৫৮ দশমিক ০৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও গত সোমবার মূল্যবান ধাতুটির দাম চার মাসের সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৯৭ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছিল। একই সময় এপ্রিলে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৫৫৬ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও স্পট প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ১ হাজার ৯৫৯ দশমিক ১৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৫৫ দশমিক ২৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের মান কমে যাওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ ও রুপা তুলনামূলক সস্তা হয়ে পড়েছে, ফলে চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে এক মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতি চাইছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন প্রত্যাশায় বুধবার বিশ্ববাজারে জ্বলানি তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। এছাড়াও রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারী সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারের পৌঁছেছিল স্বর্ণের দর, আর রেকর্ড সর্বোচ্চ ১২১ দশমিক ৬৪ ডলারে ছুঁয়েছিল রুপা। সূত্র: রয়টার্স
রিয়াদ-এ অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন দিবসটির কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় রিয়াদে অবস্থানরত বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনও স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাসের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।আলোচনা সভায় দিবসটির তাৎপর্যের ওপর বক্তব্য রাখেন রিয়াদে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্য মামুনুর রশিদ ও ডাঃ গোলাম হাসনাইন সোহান। পরিশেষে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্য প্রদান করেন।রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদ, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং দেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন।এছাড়া তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সকলকে মহান স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি সৌদি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পর্শকাতর তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।অনুষ্ঠানের শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহিদের আত্মার শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটি কাটাতে রাজধানী থেকে গ্রামে আসা ও চরফ্যাশন উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নেমেছে মেঘনা নদীর কোলঘেঁষা প্রশান্তি পার্কে। ঈদের চতুর্থ দিনেও সেখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে ছুটে এসেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজতে।বিশেষ করে দুপুরের পর ভিড় বেড়ে যায়। পার্কের ভেতরে আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নদীর তীরে বসে অনেকেই উপভোগ করেছেন শীতল বাতাস আর মেঘনার শান্ত জলরাশি।কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। পার্কিং সংকট, খাবারের দোকানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং টয়লেট ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ঈদের চতুর্থ দিনে মেঘনার তীরে অবস্থিত প্রশান্তি পার্ক পরিণত হয়েছে আনন্দ-উৎসবের এক মিলনমেলায়। প্রকৃতি আর অবকাশের টানে মানুষের এই আগমন প্রমাণ করে, নগর জীবনের কোলাহল থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এমন খোলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।দর্শনার্থীরা বলেন, 'ঈদের ব্যস্ততার পর একটু খোলা জায়গায় সময় কাটাতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো লাগছে। বাচ্চারাও খুব আনন্দ করছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার-এর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ঈদের দিন থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে প্রায় লাখো পর্যটকের আগমনে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি।জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত এবং শ্রীমঙ্গল চা-বাগান এলাকাগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও গাইডসহ সংশ্লিষ্ট খাতের লোকজন এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।মৌলভীবাজারে প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয়সহ লাখো পর্যটক আসেন। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকরা ঘুরতে বের হয়েছেন। কেউ ঝর্ণার পানিতে গোসল করছেন, কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সেলফিতে বন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। স্থানীয় আলোকচিত্রীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।খাসিয়া পল্লি আর চা-বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। অনেকে প্রাইভেট কার নিয়ে আবার অনেকে দল বেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকবাহী ও সাধারণ পরিবহন, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ির কারণে শহরের মূল পর্যটন এলাকা ও সড়কগুলোতে যানজট তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বধ্যভূমি, হামহাম জলপ্রপাত, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, উঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগান, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, হাকালুকি হাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, খাসিয়া পল্লি, পাত্রখোলা েেলকসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাসস্থলসহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কমলগঞ্জ ও বড়লেখা রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হয়েছে। এর মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঈদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকসহ মোট ৪ হাজার ৭২৪ জন পর্যটক টিকিট কেটে প্রবেশ করেছেন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মোট ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০৯ টাকা।ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এখানে এসে মুগ্ধ হয়েছি। পাহাড় বেয়ে নামা ঝর্ণাধারা সত্যিই অসাধারণ। মৌলভীবাজারে অনেক সুন্দর পর্যটন স্পট রয়েছে, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে।’পরিবার নিয়ে মৌলভীবাজারে ঘুরতে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজ পাহাড়-জঙ্গল সত্যিই মনোমুগ্ধকর। সময়টা খুব আনন্দে কাটছে।”ঢাকা থেকে আসা মাহবুবুর রহমান নামে এক পর্যটক বলেন, ‘শহরের যানজট আর কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি।লাউয়াছড়া টিকেট কালেক্টর শাহিন আহমদ জানান, ‘এ বনে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় ছিল। পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিনি জানান প্রায় ২ হাজার ৮ শ ৮৪ জন পর্যটক বনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। যা সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা।’অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন,পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘোরাফের করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারে আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় থানা-পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার, সদস্যরা কাজ করছেন।
চাঁদপুর জেলায় প্রায় সাতাশ লাখ মানুষের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় বিভিন্ন উৎসব ও অবসর সময়ে লোকজন ছুটে আসে তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। এখানে এসে সময় কাটাতে পেরে আনন্দিত সব বয়সী লোকজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জেলার বাহির এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ গণপরিবহনে, আবার অনেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে এসেছেন ঘুরতে।নদীর মোহনায় প্রাকৃতিক পরিবেশে এই স্থানটির দৃশ্য সকালে একরকম, দুপুরে আরেকরকম। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। তবে রাতে বেশি সময় থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও জোস্না রাতে আরেক সৌন্দর্য অবতরণ হয়। প্রিয়জনদের নিয়ে নৌকা করে রাতের বেলায় ডাকাতিয়া নদীতে ঘুরতে পারলে ভালো সময় কাটানো যেতে পারে। মোহনার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট বড় ট্রলার ও স্পিড বোট।এসব ট্রলার আর স্পিড বোট দিয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশে মিনি কক্সবাজার নামক স্থানে ঘুরে আসা যায়। তবে বিকেল ৫টার মধ্যে আবার মোহনায় চলে আসতে হয়। আসা-যাওয়া ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ১শ টাকা। স্পিডবোটে জনপ্রতি ভাড়া কমপক্ষে ৩শ টাকা। এখানে এলে মাইকে ঘোষণা শোনা যাবে ট্রলারে যাওয়ার জন্য।
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সারা দেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফারের ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো, যাতে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গ্রাহকরা অপো স্মার্টফোন ক্রয়ের সময় এক্সক্লুসিভ অফার উপভোগ করতে পারবেন, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একেবারে নতুন অপো এ৬এস প্রো।উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে অপো গ্রাহকরা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক পার্টনারদের মাধ্যমে বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। নির্ধারিত অপো স্মার্টফোন কিনলে গ্রাহকরা ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) কার্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পেতে পারবেন। অন্যদিকে এনআরবি ব্যাংক কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং কমিউনিটি ব্যাংক কার্ডধারীরা ফ্ল্যাট ১,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও, অপো রেনো১৫ এফ ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূবালী ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করলে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন, যা ঈদ উপলক্ষে স্মার্টফোন আপগ্রেড করতে আগ্রহীদের জন্য বাড়তি সুবিধা যোগ করবে।এই ক্যাম্পেইনের মূল আকর্ষণ অপো এ৬এস প্রো, যা শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি নিয়ে তৈরি। এই ডিভাইসে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম এআই অটো জুম ৫০মেগাপিক্সেল আল্ট্রা ওয়াইড সেলফি ক্যামেরা, যা স্মার্ট ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে বড় গ্রুপ সেলফি সহজে ধারণ করতে পারে—ঈদের পারিবারিক আড্ডা ও আনন্দময় মুহূর্ত ধারণের জন্য একেবারে উপযুক্ত।ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “ঈদ আনন্দ, একসাথে থাকার মুহূর্ত এবং স্মরণীয় সময়ের উৎসব। এই বিশেষ অফারগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে চাই এবং একই সঙ্গে অপো এ৬এস প্রো -এর মতো উদ্ভাবনী ডিভাইস তুলে ধরতে চাই।”
কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দেন তিনি।ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না। সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে মাশাআল্লাহ’। তার এই পোস্টের নিচে কয়েক হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।এদিকে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে যানজট ও চাঁদামুক্ত এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে ঢাকা মহানগরীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক মনিটারিং করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে কোনো জনসচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার বা সংগঠনের নেতাদের কোথাও কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। এটা একটা কাগজে-কলমে ভুঁইফোঁড় সংগঠন।যদিও এর আগে ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ে ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গের পথে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।