দেশের ২৯ হাজারেরও বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুকে প্রতিবছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সবুজায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় মোট পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ কর্মসূচি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭৫০ জন মেডিক্যাল ও সমসংখ্যক নার্সিং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে দ্রুত হাসপাতালটি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ রাখায় শত শত মেডিক্যাল ও নার্সিং শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুধু বই পড়ে চিকিৎসক বা নার্স হওয়া সম্ভব নয়; এ জন্য ব্যবহারিক শিক্ষা ও রোগীর সংস্পর্শ অপরিহার্য। হাসপাতালের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বার্থে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও মানবিক ও সেবাধর্মী মডেলে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতার প্রশংসা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যতটা কঠোর ও সক্রিয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না। সরকারি খাতে বড় ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির ঘটনাতেও অনেক সময় দায়ীরা পার পেয়ে যায়। অপরাধ যেখানেই ঘটুক, সরকারকে উভয় খাতকে সমানভাবে দেখতে হবে।আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা থাকলে তার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।এ ছাড়া বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা থেকে দেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, মাঝপথে হাসপাতাল বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে আসার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। তাই মানবিক ও যৌক্তিক কারণে দ্রুত আদ-দ্বীন হাসপাতালটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানান তিনি।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭১৬।সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬২৩ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুইজন এবং ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে।গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪১ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৫১ জন। একই সময়ে ১ হাজার ৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১১ জনে।
নতুন চেয়ারম্যান পেল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসান হাবিবকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।সোমবার (২৯ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।আহসান হাবিব এর আগে এনবিআরের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের কর প্রশাসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৫তম বিসিএস পরীক্ষায়ও তিনি তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন।কর্মজীবনে আহসান হাবিব এনবিআরের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।সিআইসির মহাপরিচালক থাকাকালে কর ফাঁকি, অর্থ পাচার এবং আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত একাধিক আলোচিত অনুসন্ধান কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন। অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।নতুন চেয়ারম্যানের রাজস্ব প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের কারণে এনবিআরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের রাজস্ব আহরণ, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধেও নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন তারা।
নরসিংদীর শিবপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চরম অবহেলা ও গাফিলতির কারণে একটি তাজা প্রাণ এখন নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার কুমরাদী এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা জরাজীর্ণ তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রথম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী গুরুতর দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পাঞ্জা লড়ছে। আহত শিক্ষার্থীর নাম রায়হান, সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।রোববার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে অসাবধানতাবশত ঝুলে থাকা তারের সংস্পর্শে আসে। মুহূর্তে বিকট শব্দে বিদ্যুতায়িত হয়ে তার শরীরে আগুন ধরে যায় এবং স্থানীয়রা চিৎকার শুনে দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টের তীব্রতায় শিশুটির শরীরের সিংহভাগ অংশ গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রায়হানকে প্রথমে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সেখানেই শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে।চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শিবপুর জোনাল অফিসের অধীনে কুমরাদী এলাকার একটি রাস্তার পাশে পল্লী বিদ্যুতের মেইন লাইনের তার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে নিচের দিকে ঝুলে ছিল। এই বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর শিবপুর জোনাল অফিসে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর কুমরাদী এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যুৎ অফিসের চরম গাফিলতিকে দায়ী করে দোষী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, শিবপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবার বিষয়ে বরাবরই উদাসীন। বারবার ধরণা দেওয়ার পরও তারা ঝুঁকিপূর্ণ তার মেরামত করেনি, যার মাশুল দিতে হচ্ছে এই নিষ্পাপ শিশুকে। এই বিষয়ে জানতে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর শিবপুর জোনাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে জানানো হয়, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং কারো অবহেলা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রথম ১১ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি আয়ারল্যান্ড। সেই দলই এবার টানা দুই ম্যাচ জিতে ২-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে। বেলফাস্টে রুদ্ধশ্বাস দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ১ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে আইরিশরা।বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে আয়ারল্যান্ড ১৫৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করেও ভারত থামে ১৫৩ রানে। ফলে মাত্র ১ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। প্রথম ওভারেই শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা বড় ধাক্কা খায়।ভারতকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল আয়ারল্যান্ডএরপর তিলক ভার্মা ৪৬ বলে ৫৫ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেললেও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ম্যাচ বের করতে পারেনি ভারত। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০ রান। শেষ বলে ছক্কা এলেও জয় থেকে মাত্র ১ রান দূরেই থেমে যেতে হয় সফরকারীদের।আয়ারল্যান্ডের জয়ের নায়ক ছিলেন ভারতের রাজস্থানে জন্ম নেওয়া জেয় মুন্ড্রা। ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন। এছাড়া ম্যাট হলার্ডও ৩ উইকেট শিকার করেন।এর আগে ব্যাট হাতে হ্যারি টেক্টর ৫৩ এবং বেন কালিৎজ ৩৭ রান করে আয়ারল্যান্ডকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন।উল্লেখ্য, এই হারের মধ্য দিয়ে ভারতের টানা ১৬টি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ভেঙে গেল।
একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার জানাজা মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত হবে। জানাযা শেষে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ নেয়া হবে জাতীয় শহীদ মিনারে।২৯ জুন সোমবার বেলা ১১টায় হাসপাতালে এ সব কথা জানিয়েছেন ছেলে সাদাত মনোয়ার। তিনি জানান, আগামীকাল জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ নেয়া হবে জাতীয় শহীদ মিনারে। তবে, আজ বাড়িতেই রাখা হবে মরদেহ। বনানী কবরস্থানে দাফন করতে চায় পরিবার।এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।দীর্ঘদিন ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়ার জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ১৪ জুন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেয়া হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন তিনি।১৯৩৫ সালে মাগুরায় জন্ম নেয়া মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। চিত্রকলা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, বিশেষ করে বাংলাদেশে পাপেট বা পুতুলনাচের শিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি।শিল্প-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে লাভ করেন একুশে পদক। তার এই প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন (VEON)-এর চেয়ারম্যান অগি ফাবেলা।সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং নাগরিকবান্ধব ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতকরণ নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলালিংক কর্তৃপক্ষকে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।পাশাপাশি তিনি ইন্টারনেটের মূল্য আরও সহনীয় পর্যায়ে আনার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান, যাতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ডিজিটাল সেবার সুফল সহজে ভোগ করতে পারেন।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি গ্রামের কৃতী সন্তান হাফেজ মাওলানা মুফতি আবু উবাইদা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইমাম নির্বাচনে প্রথম স্থান অর্জন করে গোপালগঞ্জসহ সমগ্র দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। তাঁর এই অসাধারণ অর্জনে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুমধুর কিরাত, জ্ঞানগর্ভ খুতবা, ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচার এবং সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর নিষ্ঠা তাঁকে একজন গ্রহণযোগ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।হাফেজ মাওলানা মুফতি আবু উবাইদা উচ্চশিক্ষায়ও সমান কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি (কামিল) অর্জন করেছেন। দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তোলায় তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।তাঁর এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে তাঁর বাবা-মায়ের। তাঁর বাবা, হাফেজ আব্দুল হান্নান, গোপালগঞ্জ কোর্ট মসজিদ মাদ্রাসার সাবেক প্রধান হাফেজ সাহেব হুজুর এবং গোপালগঞ্জ কলেজ মসজিদের সাবেক ইমাম হিসেবে দীর্ঘদিন দ্বীনের খেদমত করে আসছেন। একই সঙ্গে তাঁর মায়ের অক্লান্ত ত্যাগ, স্নেহ, দোয়া ও সুশিক্ষাই তাঁর জীবনের ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। বাবা-মায়ের আদর্শ, দিকনির্দেশনা ও দোয়ার ফলেই আজ তিনি জাতীয় পর্যায়ে এই সম্মানজনক অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বন্যা বইছে।এলাকাবাসীর বিশ্বাস, হাফেজ মাওলানা মুফতি আবু উবাইদা ভবিষ্যতেও ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচার, মানবকল্যাণ এবং দেশ ও জাতির সেবায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাঁর এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও আদর্শিক নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক সড়কের পাশের খালে উল্টে পড়ে দুই কিশোর নিহত হয়েছেন।সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার তিনলাখপীর-চারগাছ সড়কের মান্দারপুর জোড়াপুকুরপাড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মৃত অহাব মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়া (১৮) এবং একই ইউনিয়নের মো. ফরহাদ মিয়ার ছেলে আরশাদ (১৮)।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে তিনলাখপীর-চারগাছ সড়ক দিয়ে একটি ট্রাক চলাচলের সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে ট্রাকটি সড়কের পাশের খালে উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকে থাকা দুই কিশোর গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।কসবা থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার জানাজা মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত হবে। জানাযা শেষে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ নেয়া হবে জাতীয় শহীদ মিনারে।২৯ জুন সোমবার বেলা ১১টায় হাসপাতালে এ সব কথা জানিয়েছেন ছেলে সাদাত মনোয়ার। তিনি জানান, আগামীকাল জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ নেয়া হবে জাতীয় শহীদ মিনারে। তবে, আজ বাড়িতেই রাখা হবে মরদেহ। বনানী কবরস্থানে দাফন করতে চায় পরিবার।এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।দীর্ঘদিন ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়ার জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ১৪ জুন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেয়া হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন তিনি।১৯৩৫ সালে মাগুরায় জন্ম নেয়া মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। চিত্রকলা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, বিশেষ করে বাংলাদেশে পাপেট বা পুতুলনাচের শিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি।শিল্প-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে লাভ করেন একুশে পদক। তার এই প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭৫০ জন মেডিক্যাল ও সমসংখ্যক নার্সিং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে দ্রুত হাসপাতালটি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ রাখায় শত শত মেডিক্যাল ও নার্সিং শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুধু বই পড়ে চিকিৎসক বা নার্স হওয়া সম্ভব নয়; এ জন্য ব্যবহারিক শিক্ষা ও রোগীর সংস্পর্শ অপরিহার্য। হাসপাতালের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বার্থে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও মানবিক ও সেবাধর্মী মডেলে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতার প্রশংসা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যতটা কঠোর ও সক্রিয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না। সরকারি খাতে বড় ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির ঘটনাতেও অনেক সময় দায়ীরা পার পেয়ে যায়। অপরাধ যেখানেই ঘটুক, সরকারকে উভয় খাতকে সমানভাবে দেখতে হবে।আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা থাকলে তার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।এ ছাড়া বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা থেকে দেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, মাঝপথে হাসপাতাল বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে আসার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। তাই মানবিক ও যৌক্তিক কারণে দ্রুত আদ-দ্বীন হাসপাতালটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানান তিনি।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ইচলী বাগেরহাট আশ্রয়ণ প্রকল্প প্লাবিত হয়েছে। এতে তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শতাধিক ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।স্থানীয়রা জানান, রবিবার (২৮ জুন) তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়ার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ইচলী বাগেরহাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।পানিবন্দি পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা এবং চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলে তারা অভিযোগ করেন। নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করীম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা সম্পন্ন হলে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার। দেশটির জরুরি উদ্ধার তৎপরতা ও মানবিক সহায়তার জন্য তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা) অনুদান দিয়েছেন।ভেনেজুয়েলার সংবাদমাধ্যম এল সুমারিও এ তথ্য জানিয়েছে। Referenceপ্রতিবেদন অনুযায়ী, নেইমারের দেওয়া অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, চিকিৎসাসামগ্রী এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে ব্যয় করা হবে। দুর্যোগের পর জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।ভেনেজুয়েলার মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে এক বার্তায় নেইমার বলেন, ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে। আমি আশা করি, এই ছোট্ট সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও শক্তি ও স্বস্তি বয়ে আনবে।
অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমান সময়ে অনেক তরুনেরই ক্রাশ। তার ব্যক্তিগত জীবন তথা প্রেম-বিয়ে নিয়ে ভক্তদের যেন চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান অকপটে জানালেন এ অভিনেত্রী।এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তটিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে নেই; আর সঠিক মানুষের সন্ধান পেলেই তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। এর আগে অভিনেতা ইয়াশ রোহানের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বারবার বলেছেন, শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্কই তাদের। উঠে আসা নানা গুঞ্জনের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, হি ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড অফ মাইন। এইটা আমি আসলে এতবার বলেছি! আর আমার মনে হয় যে, প্রেম যদি থাকত তাহলে জিনিসটা আমি আরও প্রাইভেটলি হ্যান্ডেল করতাম। আসলে এইটা নিয়ে আমি কথা বলার সুযোগই দিতাম না। সো, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, কোনো প্রেম নেই।ভবিষ্যতে বিয়ে করার পরিকল্পনা এবং কেমন জীবনসঙ্গী তার পছন্দ—এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি একজন সঠিক মানুষের অপেক্ষায় আছেন।এ প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে তটিনী বলেন, বিয়ে করব যখন সঠিক মানুষ পাব। যে মানুষ আমাকে প্রপার সম্মান দিবে, আমাকে, আমার... আমার প্রফেশনকে, আমার ফ্যামিলিকে ভালোবাসবে—অবশ্যই। আমার কাছে একটা কথা সবসময় মনে হয়, জীবনে ভালোবাসার মানুষের থেকেও ভালো রাখার মানুষ খুব দরকার; যে আমাকে ভালো রাখতে পারবে। আল্লাহ যদি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষ দেয়, তাহলে করব। একটি সম্পর্কে শুধু অন্ধ ভালোবাসা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান এবং দিনশেষে ভালো রাখার মানসিকতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন পর্দার এই সুন্দরী। নিজের সেই জীবনবোধের কথা উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ভালোবাসা একটা পয়েন্ট পর্যন্ত তো অবশ্যই দরকার। বাট আমার কাছে মনে হয় মেইন প্রায়োরিটি—আপনাকে ভালো রাখতে পারছে কি না। অনেকে অনেক... আপনি অনেক ভালোবাসলেন, বাট সে আপনাকে প্রপার সম্মান দিল না; দিনশেষে সেখানে তো শান্তি নেই।তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত নাটকগুলো দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। এদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি পরিচালিত এবং খাইরুল বাশারের সঙ্গে জুটি বাঁধা তটিনীর ‘সুতরাং’ নাটকটিও বেশ সাড়া ফেলছে।
টেলিভিশন মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের নীতিনির্ধারক, উপদেষ্টা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত হোটেল সুপারস্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসলাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ব্রডকাস্ট কমিউনিটি (এবিসি)-এর প্রেসিডেন্ট চৌধুরী দৌলত মোহাম্মদ জাফরি, এনবিএ-এর সেক্রেটারি রাইসুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক তমাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এছাড়াও সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, টেলিভিশন মেকআপ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বক্তারা বলেন, দেশের টেলিভিশন মেকআপ শিল্পকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি পেশাজীবীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সংগঠনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। একই সঙ্গে তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে পারিবারিক-সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা ঘরানার ওয়েবফিল্ম ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’–এর শুটিং। গভীর আবেগ, পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক বাস্তবতা এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ওয়েবফিল্মটি দর্শকদের সামনে এক সংবেদনশীল গল্প তুলে ধরবে বলে আশা করছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা।ওয়েবফিল্মটি পরিচালনা করেছেন মো: আকতার হোসেন। চিত্রগ্রহণে ছিলেন ইসমাইল হোসেন লিটন। জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ওয়েবফিল্মটি।প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান রেজা, তৃণা ইসলাম ও তাহসান বিন রফিক। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেবেকা সুলতানা, ফারজানা ছবি, মৌরি, বড়দা মিঠু, আজম খান, শশী রহমান, সিফাত ও আভাসহ আরও অনেকে।নির্মাতা জানান, ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শুধু একটি গল্প নয়; এটি সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা, নীরব কষ্ট এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক মানবিক উপস্থাপন। পাশাপাশি এই ওয়েবফিল্মে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শুটিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন চলছে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। খুব শিগগিরই ওয়েবফিল্মটির ট্রেলার প্রকাশ করা হবে।জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শিগগিরই একটি স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ কর্মশালা “Call Sheet to Final Cut: সিনেমার সহকারী পরিচালকের কর্মযাত্রা”।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্পে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার এবং Runout Films-এর পরিচালক সাবরিনা আইরিন।চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালকের যাত্রা, কাজ, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে এটিই দেশের প্রথম দিককার বিশেষায়িত কর্মশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।কর্মশালায় সহকারী পরিচালকের বাস্তব দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট ব্রেকডাউন, কলশিট ও শুটিং শিডিউল প্রস্তুতকরণ, প্রি-প্রোডাকশন পরিকল্পনা, সেট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন সমন্বয়, সময় ব্যবস্থাপনা, সংকট মোকাবিলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান। তারা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।কর্মশালার প্রশিক্ষক সাবরিনা আইরিন বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকই মূলত একটি চলচ্চিত্রের কর্মপ্রবাহকে সচল রাখেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি নিয়ে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি।”উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম লেখালিখি ২০১৮ সাল থেকে কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গল্প থেকে চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, মাস্টারক্লাস এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।লেখালিখির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। সহকারী পরিচালনা নিয়ে এই কর্মশালার ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্রের নেপথ্যের পেশাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা চলচ্চিত্রশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নে আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চাই।”আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেইন স্টেজ শো ফিচারিং আতিফ আসলাম’। গত বছরের স্থগিত হওয়া কনসার্টটি পুনরায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’।আয়োজনটি প্রসঙ্গে ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’-এর পরিচালক কাজী রাফসান বলেন, ‘গত বছর কনসার্টটি স্থগিত হওয়ার পর আমরা দর্শকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সুযোগ পেলেই এই আয়োজন আবারও ফিরিয়ে আনব। গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২৪ জুলাই আমরা গত বছরের অসমাপ্ত অধ্যায়টি পূর্ণতা দিতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট নয়; এটি আমাদের দর্শকদের প্রতি দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। যারা গত বছর টিকিট কিনেছিলেন, তাদের আস্থা ও ধৈর্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে।’আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্টের ভেন্যু শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Apply’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে আটক থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামির দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন রাখেন।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করতো। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সে অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, শনাক্তকরণ ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।গত ১ মার্চ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অপর আসামি হলেন- আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
নতুন চেয়ারম্যান পেল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসান হাবিবকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।সোমবার (২৯ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।আহসান হাবিব এর আগে এনবিআরের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের কর প্রশাসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৫তম বিসিএস পরীক্ষায়ও তিনি তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন।কর্মজীবনে আহসান হাবিব এনবিআরের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।সিআইসির মহাপরিচালক থাকাকালে কর ফাঁকি, অর্থ পাচার এবং আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত একাধিক আলোচিত অনুসন্ধান কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন। অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।নতুন চেয়ারম্যানের রাজস্ব প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের কারণে এনবিআরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের রাজস্ব আহরণ, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধেও নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন তারা।
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজনের ছবি ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির পুলিশ।শনিবার (২৭ জুন) রাতে রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের নির্দেশনায় ইতালির রাষ্ট্রীয় পুলিশ ‘পোলিজিয়া দি স্তাতো’ তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে একটি ওয়ান্টেড নোটিশ প্রকাশ করে।ইতালীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজনের নাম শাহাদাত হোসেন। তার জন্ম ১৯৮৩ সালের ১০ মে, বাংলাদেশে। ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তির অবস্থান বা এ সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত রোম পুলিশের মোবাইল স্কোয়াডের বিশেষ নম্বর 3346903295-এ জানানোর জন্য বিশ্বব্যাপী অনুরোধ জানানো হয়েছে।শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে এক বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।এ ঘটনায় পরিবারের ২০ বছর বয়সী ছেলে অয়ন গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোমে বসবাস করছিলেন তিনি। এ মর্মান্তিক ঘটনায় ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্বারোপ ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সাইবার সিকিউরিটি কনভারজেন্স প্ল্যাটফর্ম ফিনিক্স সামিট ২০২৬ শনিবার (২৭ জুন) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ‘ক্লোজিং দ্য সাইবার গ্যাপ ইন ইমার্জিং ইকোনোমিস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি। অনুষ্ঠানে সরকারি নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।সামিটের মূল কনফারেন্সে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল সহনশীলতা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সাইবার হুমকি মোকাবিলা বিষয়ে একাধিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সম্প্রতি চীন সফরে তাদের নীতিনির্ধারকদের সাথে প্রযুক্তি বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কীভাবে তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সফট পাওয়ার কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করছেন। আমাদের দেশের জনসংখ্যার বড় অংশই নবীন। এই ডেমোগ্রাফিক বাস্তবতা আমাদের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে, যদি আমরা তা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারি। এই আয়োজন থেকে বোঝা যাচ্ছে আমাদের তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আয়োজনের উদ্যোক্তাদের আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।”এ বিষয়ে দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের ফাউন্ডার ও চিফ অব রিসার্চ এএসএম শামীম রেজা বলেন, “ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করার একটি যৌথ উদ্যোগ। গত কয়েকদিনে দেশ-বিদেশের নীতিনির্ধারক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সামিটে যে জ্ঞান-বিনিময়, সহযোগিতার সুযোগ এবং নতুন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি, এখান থেকে তৈরি হওয়া সংযোগ ও উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথকে সুদৃঢ় করবে।”দেশের অন্যতম শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোগ দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ (টিটিপিজি), পাওয়ার্ড বাই ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ১০ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সেশন, কর্মশালা, প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে যুক্ত হন। সামিটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৭৩টি স্টল অংশ নেয়। এতে, ক্লাব পার্টনার হিসেবে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও নলেজ পার্টনার হিসেবে দেশি-বিদেশি ৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সামিটে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সংগঠনটির সদস্যদের নিষ্ঠা, দলগত প্রচেষ্টা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।সাইবার নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডোমেইন) জয়ীতা সেন রিম্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সাইবার নিরাপত্তা শিল্পে আজীবন নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (সিআইও) সুমন আহমেদ সাবিরকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অনার অ্যাওয়ার্ড) প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের সাইবার নিরাপত্তা খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান এবং নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন থেকে শুরু হওয়া সামিটের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন টেকনিক্যাল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির (এনসিএসএ) সহযোগিতায় ‘প্র্যাক্টিক্যাল সাইবার ইনভেস্টিগেশন’ কর্মশালা বিশেষভাবে অংশগ্রহণকারীদের আকর্ষণ করে। এছাড়া ‘ডেভসেকঅপস ফর প্র্যাকটিশনার্স’, ‘মাস্টার অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি: ভালনারেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং’ এবং ‘র্যানসামওয়্যার মেকানিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।সামিটটি সফল হতে সহযোগিতা করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ)। আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও ইন অ্যাসোসিয়েশন উইথ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এক্সেনটেক পিএলসি। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল), ম্যাগনাস কর্পোরেশন, সান্স ইনস্টিটিউট, এমজিএইচ, মোহাম্মদ অ্যান্ড সন্স ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি ও ম্যাক্সক্রিট। এছাড়াও, ব্রোঞ্জ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এগ্রোশিফট, গোল্ড কিনেন, এপনিক, বিজিআই, সাইহাম নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সিটিজেনস ব্যাংক, বেঙ্গল ইনফোসেক লিমিটেড ও অরেঞ্জ সল্যুশন লিমিটেড। সাইবার সিকিউরিটি নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে এপনিক, সান্স ইনস্টিটিউট ও রিসিকিউরিটি। পাশাপাশি, ফেলোশিপ পার্টনার হিসেবে ফ্ল্যাক্সঅপ্টিক্স জিএমবিএইচ ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে এসসিআইটিপি ও আইএসপিএবি রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’