সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের যোগদান আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তাদের পদায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের যোগদান নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তদন্ত ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে যোগদান বিলম্বিত হয়েছে। তবে আগামী ২৯ অক্টোবর তাদের যোগদান সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক ২৯ অক্টোবর যোগদান করার পর তাদের পদায়ন করা হবে। এরপর তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।এর আগে, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।তবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও নির্বাচিত প্রার্থীরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। এ নিয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলন করেন তারা। পরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের যোগদান করানো হবে এবং পদায়নের পর পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে দেশের সব বন্দর দিনে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন বলেন, বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল- চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা ঢাকা বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম টোয়েন্টিফোর সার্ভিস করা যায় কি না।প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের সকল দপ্তর মিলে সামনের দিনগুলোতে নিশ্চিত করবে যেন বাংলাদেশের প্রতিটি বন্দর ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস প্রোভাইড করতে পারে। এর মাধ্যমে ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট আরও ফাস্ট ও ত্বরান্বিত হবে।তিনি জানান, শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ এ বৈঠকে বেসরকারি খাতের নানা চ্যালেঞ্জ, বিদ্যমান সমস্যা ও বিনিয়োগের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।মাহদী আমিন বলেন, দেশে বেশ কিছু ইকোনোমিক জোন, বেজা ও বেপজা রয়েছে। সেগুলোতে কীভাবে আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং যেখানে জটিলতা রয়েছে তা কীভাবে সহজতর করা যায়, এসব নিয়ে প্রাইভেট সেক্টরের সাথে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরাও সেখানে নিজেদের মতামত দিয়েছেন।বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রাইভেট সেক্টরের জন্য সরকার থেকে পলিসি সাপোর্ট থাকবে। তার জন্য একটা প্রো-বিজনেস, প্রো-ইনভেস্টমেন্ট বাজেট আমরা দেখেছি এবং সেই নীতিমালাগুলোকে আমরা বাস্তবায়ন করব। যার মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্থাৎ আমাদের তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য আরও বিকশিত করা।প্রধানমন্ত্রীর একটি স্লোগান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন- করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সেই নীতিকে ধারণ করেই বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আজকের এই আলোচনা হয়েছে। আমাদের জনবান্ধব সরকার, জনবান্ধব বাজেট এবং জনবান্ধব নীতিমালা কার্যকর করার এই পথযাত্রাকে প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিনিধিরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।পলিসি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আসায় ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ব্যবসাকে আরও সহজীকরণ করা, বিনিয়োগকে আরও প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাড়ানো এবং বাংলাদেশের জন্য বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সরকার বলেন, সরকার রেল বিভাগকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট রেললাইনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। জনগণের স্বার্থে এই রেলপথে কী কী উন্নয়ন করা যায়, তা আমরা পর্যালোচনা করছি। সাধারণ মানুষ যেন আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন এবং রেলের সেবার গুণগত মান কীভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায়, মূলত সেটিই আমি দেখতে এসেছি।শনিবার (১ আগস্ট) সকালে মন্ত্রী শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগার, টয়লেটের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্টেশনের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন শ্রমমন্ত্রী।এ সময় তাঁর সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কবির আহমদ ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন। পর্যটকদের জন্য সিলেট বিভাগে আরও একটি ট্রেন চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের বয়স অল্পদিন। আমাদের কিছুটা সময় দিন। আমাদের বলতে হবে না, জনগণের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আমরা নিজ দায়িত্বেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।”পরিদর্শনের সময় তিনি শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা, টয়লেটের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য তাঁর সফরসঙ্গী রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।মন্ত্রীর সফরসঙ্গী মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, “সিলেট অঞ্চলের রেলওয়েকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মান যাচাই করতেই মূলত আজকের এই পরিদর্শন।” তিনি জানান, এর আগে মন্ত্রী সায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনও পরিদর্শন করেছেন।
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং বেসরকারি খাতের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বিনিয়োগ, শিল্প, জ্বালানি, করনীতি ও রপ্তানি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, করব্যবস্থার সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার জটিলতা দূরীকরণ, লজিস্টিক সহায়তা, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং শতভাগ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজীকরণ (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস), করনীতি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বাজার সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যাংকিং ও অর্থায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নীতিগত সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের এ ধরনের নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশে একটি সত্যিকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় ও সমস্যার সমাধানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। সংসদের পরিবর্তে রাজপথকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে।শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর যৌথ উদ্যোগে 'ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান' শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।তিনি বলেন, আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।তিনি বলেন, এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি তিনি তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল শিক্ষা হলো জনগণের ঐক্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হবে। একই সঙ্গে মব কালচার, সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তিনি এসব প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মীদের মানবতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত।এ সময় আমরা বিএনপি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাদেরগনি চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, বিপিজেএর সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহসভাপতি মশিউর রহমান সুমনসহ সংগঠনের সদস্যরা।
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মিজান মিয়া (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত মিজান মিয়া বড়চাপা পূর্বপাড়া গ্রামের সফুর উদ্দিনের ছেলে। তিনি বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ছিলেন।অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ (৬৫) একই এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে। তিনি বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। এ ঘটনায় তার ছেলে জীবন মিয়ার নামও অভিযোগে এসেছে।নিহত মিজান মিয়ার পরিবার জানান, বাড়ির পাশের একটি রাস্তা নিয়ে মিজান মিয়া ও তার চাচা শহীদুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও তা মিমাংসা হয়নি। শনিবার দুপুরে রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছ কাটতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে শহীদুল্লাহ ও তার ছেলে জীবন লাঠি দিয়ে মিজান মিয়ার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খন্দকার আনিসুর রহমান বলেন, দুপুরে মিজান মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, চাচা-ভাতিজার মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
উইকেট কঠিন ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররাও দারুণ বোলিং করেছেন। কিন্তু সেটার কোনো উত্তর খুঁজে পাননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। গুটিয়ে গেছে স্রেফ ৮৯ রানে। এরপর বোলাররাও অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারেননি। ফলে বড় ব্যবধানে হেরেই ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।আজ শনিবার (১ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রনক্লুফ ওভালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩০.২ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে মোটে ৮৯ রান করে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। জবাব দিতে নেমে ১৮.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল।টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রোটিয়া বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরু থেকেই হাত খুলে খেলতে পারেননি লাল-সবুজের ব্যাটাররা। ইনিংসের প্রথম ৪ ওভারে মোটে ৩ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক জাকির হাসান।নয় বল খেলে মাত্র ১ রান করে জাকির ফেরার পর আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন বাকিরা। শাহাদাৎ হোসেন ৮, ইফতেখার হোসেন ২ আর মাহিদুল ইসলাম করেন মাত্র ২ রান। শুরুর সেই ধাক্কা আর সামাল দিতে পারেনি বাংলাদেশ।নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর খেসারত দিতে হয়েছে ইনিংসের শেষভাগে। দলের স্কোর বড় করার বদলে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০ ওভার ২ বলে স্রেফ ৮৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ৭৩ বল খেলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন। এছাড়া বাকিদের মধ্যে দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছেন কেবল দুজন—আমিনুল ইসলাম ১১ ও সামিউন বাসীর করেন ১০ রান।দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একাই ৫ উইকেট শিকার করেন দাইয়ান গালিম।৯০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলও অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল। ইনিংসের প্রথম ওভারেই পেসার ইকবাল হোসেন ইমনের শিকার হয়ে শূন্য রানে ফেরেন জর্ডান কিং।পরে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান আরও দুটি উইকেট তুলে নিলেও জয় আটকানো যায়নি। রিচার্ড সেলেটসওয়ানের ৩৫ এবং মিচেল ভ্যান ব্যুরেনের ১৮ রানের সুবাদে ১৮ ওভার ৪ বলেই সহজ জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।
শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগমান’ প্রতিপাদ্যে মাতৃদুগ্ধ পান বাড়াতে সচেতনতা জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী প্রমুখ।মায়ের দুধ পানে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আল্লাহ তায়ালা মায়ের দুধকে দুনিয়ার সেরা প্রোটিন হিসেবে তৈরি করেছেন। প্রথম ৪-৫ মাস একটি শিশুর বৃদ্ধির মূল উৎসই মায়ের দুধ। প্রসবের পরপরই শিশুকে শালদুধ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যা প্রোটিনের সর্বোচ্চ ভান্ডার। কোরআনসহ সকল ধর্মেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে। অথচ বর্তমানে সিজারিয়ানের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু শালদুধ ও মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।তিনি বলেন, অতীতে মানুষের জীবনযাত্রা ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু শিশুদের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন ছিল অকৃত্রিম। বর্তমানে শিক্ষিত ও বিত্তবান সমাজে শিশুদের প্রতি যত্ন অনেকটাই অনুপস্থিত।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম রোগীদের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক মা নিজের অপুষ্টির দোহাই দিয়ে শিশুকে দুধ দেওয়া বন্ধ রাখেন, যা একেবারেই অনুচিত। অল্প বয়সে বিয়ে, অসচেতনতা এবং শিশুকে দুধ না দেওয়ার কারণেই পুষ্টিহীনতা বাড়ছে।বিগত দিনে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত এক বছরে গ্রামের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মতো কার্যকর কোনো ধরনের সভা-সেমিনার করা হয়নি। এখন থেকে এক বছর কর্মসূচি তৈরি করে প্রতি মাসে অন্তত একটি জেলায় গিয়ে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা লেভেলের কর্মকর্তাদের এক অডিটোরিয়ামে নিয়ে মাতৃদুগ্ধপানের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে এবং তা পালনে বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে দেশের মানুষ সচেতন হবে এবং নিরাপদে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে উঠতে সহযোগিতা করবে। সেইসঙ্গে কমে আসবে শিশু মৃত্যুর হার।শিশুখাদ্য ও বিকল্প দুধের ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, দেশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন রয়েছে। বাজারে প্রচলিত প্রিজারভেটিভ ও মেডিসিন মেশানো গুঁড়ো দুধের চেয়ে ঘরে তৈরি সুষম খাবার বাচ্চার জন্য অনেক বেশি উপযোগী। ছয় মাস পর থেকে চালের খুদ, ডাল, আলু ও শাকসবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়িজাতীয় পথ্যই শিশুদের জন্য সেরা খাবার।মায়েদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহর দেওয়া মাতৃদুগ্ধের নিয়ামত থেকে যেন মায়েরা তাদের সন্তানদের কোনোভাবেই বঞ্চিত না করেন। মা যখন শিশুকে বুকে টেনে নেন, শিশু তখনই তার পরম নিরাপত্তায় কান্না থামায়। তাই কৃত্রিম বিকল্পের দিকে না গিয়ে শিশুদের প্রকৃতির এই স্বাভাবিক উপহার দেওয়া উচিত। একটি সুন্দর, সুস্বাস্থ্য ও শক্তিশালী শিশুগোষ্ঠী গড়ে তোলাই হোক আজকের দিনের প্রধান শপথ, যারা ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরবে।
টিসিবির পণ্য কিনতে গিয়ে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে দেয়ালধসে তিনজনের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।নিহত রিকশাচালক ফিরোজের স্ত্রী সাহিদা বেগম কলেজ কর্তৃপক্ষকে আসামি করে শুক্রবার (৩১ জুলাই) মিরপুর মডেল থানায় এই মামলা দায়ের করেন।মামলায় মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অজ্ঞাতনামা ঠিকাদারকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুরে দেয়াল ধসের ঘটনায় নিহত রিকশাচালক ফিরোজের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অজ্ঞাতনামা ঠিকাদারকে আসামি করা হয়েছে।এর আগে, গত মঙ্গলবার দুপুরে কলেজটির পেছনে খাদ্য অধিদপ্তরের খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচির ট্রাক থেকে কম দামে নিত্যপণ্য কিনতে সারিতে অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর হঠাৎ সীমানাপ্রাচীরের একটা অংশ ধসে পড়ে। এতে গুরুতর আহত নাসিমা বেগম ও মো. ফিরোজকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতেই মারা যান বিউটি বেগম। এ ঘটনায় আহত ৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সাবেক মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া ফাইনালিস্ট কিশোওয়ার চৌধুরীকে নিয়ে ‘ফ্লেভারস অব হোম’ আয়োজনের মাধ্যমে ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) শুধু বাঙালি ঐতিহ্যকেই উদযাপন করেনি, পাশাপাশি বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিয়েছে।যুগের পর যুগ ধরে নারীদের কাছে খাবার কখনোই শুধু স্বাদ গ্রহণের বিষয় না । এর প্রতিটি পদে পদে লুকিয়ে থাকে নানা রকম স্মৃতি, প্রতিটি রন্ধনপ্রণালীতে থাকে একেকটি গল্প, আর প্রতিটি পরিবেশনে ফিরে আসে নিজের শিকড়ের টান। সেই টান উপলব্ধি করে বিশ্ব দরবারের বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পান্তাভাত, আলুভর্তা আর খিচুড়ির মতো সাধারণ বাঙালি খাবারকে পৌঁছে দিয়েছিলেন যে নারী, সে হল কিশোওয়ার চৌধুরী। মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া সিজন ১৩ এর দ্বিতীয় রানার-আপ, যার পথচলা আজ রান্নাঘরের গণ্ডি পেরিয়ে তরুন সমাজের অনুপ্রেরণা ও সামাজিক উদ্যোগের এক অনন্য উদাহরণ। গত ২৬ জুলাই, ভিএএইউএস আয়োজিত ‘ফ্লেভারস অব হোম’ অনুষ্ঠানে তিনি শৈশবের স্মৃতি, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পৌঁছানোর যাত্রা এবং ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট (কেসিসি) উইংস’-এর মাধ্যমে করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য রন্ধন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।২০১৬ সালের অক্টোবরে সিডনিতে একটি পুনর্মিলনী আয়োজনের পরিকল্পনা থেকেই যাত্রা শুরু হয় ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) এর। পুরোনো শিক্ষার্থী বন্ধনকে আবারও জাগিয়ে তুলতে এবং সেই বন্ধনকে কীভাবে সমাজের জন্য অর্থবহ কিছুতে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবা থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ভিএঅস। এরপর থেকে সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও অঞ্চলের প্রায় ১২টি সংস্থাকে সহায়তা করেছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল নারী, শিশু ও পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মর্যাদা উন্নয়নে কাজ করা। অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া এই মানবিক উদ্যোগের প্রভাব বাংলাদেশেও পৌঁছে দিতে ভিএঅস এবার ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট - কেসিসি উইংস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আয়োজন করেছে ‘ফ্লেভারস অব হোম: অ্যান আরভো উইথ কিশোওয়ার চৌধুরী’।আশি ও নব্বইয়ের দশকে, যখন ক্যাটারিং সেবা এতটা প্রচলিত ছিল না, তখন পারিবারিক আয়োজন মানেই ছিল সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ। এমন এক প্রাণবন্ত পরিবেশেই কিশোওয়ারের রান্নার হাতেখড়ি, যেখানে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের আসতে আলাদা নিমন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে, খাবার শুধু পুষ্টি নয়, মানুষকে একত্রে আনারও শক্তি। আর এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল তার ছেলের একটি কথাই, "মা, তুমিও করো।"এই অনুপ্রেরণা তাঁর মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় যাত্রায় শুধু বিশ্বজুড়ে বাঙালি ঘরোয়া রান্নার পরিচয়ই দেয়নি, বরং একটি সাধারণ স্বপ্নকে বৃহত্তর উদ্দেশ্যে রূপান্তরিত করার মঞ্চও জুগিয়েছিল এবং অন্যদেরও বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল যে রান্নাও একটি পেশা হতে পারে। সাথে দিয়েছিল এক গভীর উপলব্ধি, , রেসিপি, পারিবারিক স্মৃতি আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা গল্পগুলো যদি লিপিবদ্ধ না করা হয়, তবে সেগুলো খুব সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। আর সেই উপলব্ধিই জন্ম দেয় তাঁর বই ‘স্মোক, রাইস, ওয়াটার’-কে। বইটির ১৬০টিরও বেশি কপি অনুষ্ঠানের দিন নতুন ঠিকানা খুঁজে পায়। বইটির মাধ্যমে ঐতিহ্য রক্ষা ছিল কিশোওয়ারএর লক্ষ্যের একটি অংশ মাত্র। তিনি চেয়েছিলেন, খাদ্য যেন অন্যদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয়। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কেসিসি উইংস’ উদ্যোগের সূচনা করেন। এই প্রোগ্রামটির মূল উদ্দেশ্য হলো, করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, পেশাদার রান্নাঘরে কাজের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ, ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ, পারিবারিক সহায়তা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনের সঙ্গে মেন্টরশিপের সুযোগ করে দেয়া। কিশোওয়ারের এই স্বপ্নের উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে ভিএঅস কেসিসি উইংসের জন্য ৫,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি অনুদান চেক প্রদান করে। এই অনুদানটি ভিএঅসের "কানেক্ট টু কেয়ার" দর্শন অর্থাৎ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক থেকে অর্থবহ সামাজিক প্রভাব সৃষ্টির বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে। কিশোওয়ারের কাছে এই অনুদান শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এর তাৎপর্য ছিল আরও অনেক গভীর। তিনি বলেন, “ভিএঅসকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ, কারণ তারা শুধু আমার যাত্রাকেই উদযাপন করেনি, বরং অন্য কারও ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ” কিশোওয়ারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ভিএঅসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও অ্যাডভাইসর ড. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান বলেন, “ভিএএইউএস বিশ্বাস করে, শিক্ষা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।” ভিএঅসের জন্য ‘ফ্লেভারস অফ হোম’ কেবল একজন প্রখ্যাত শেফকে আমন্ত্রণ জানানো বা প্রবাসীদের একত্রিত করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল না বরং ঐতিহ্যকে অর্থবহ কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করা।
বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন এবং জাপানের হোন্ডা মোটর কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ— বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড মেক্সিকোতে মোটরসাইকেল রফতানি শুরুর মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিচ্ছে। যা কোম্পানির বৈশ্বিক যাত্রায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।গুয়াতেমালায় সফলভাবে হোন্ডা মোটরসাইকেল রফতানির পর, বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড হোন্ডা এনএক্স২০০ রফতানির মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক বাজার ক্রমাগত প্রসারিত করে চলেছে, যা হোন্ডার বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মোটরসাইকেল সরবরাহের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘সরকার একটি টেকসই ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যা উৎপাদন, রফতানি এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে। মেক্সিকোতে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের হোন্ডা এনএক্স ২০০ রফতানি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন, যা রফতানি বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক স্বীকৃতিতে অবদান রাখছে। আমি রফতানির গন্তব্য প্রসারে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের অব্যাহত সাফল্য কামনা করি।’মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফসা নাদিয়া অতিথি হিসেবে বিশেষ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই বড় মাইলফলক উদযাপন করেন।এই অর্জন দেশের রফতানি বহুমুখীকরণ বৃদ্ধি, স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিতকরণ, স্থানীয় সাপ্লাই চেইন শক্তিশালীকরণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের অবিরাম প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এটি আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমানের পণ্য সরবরাহে বাংলাদেশের মোটরসাইকেল শিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকেও প্রদর্শন করে।মেক্সিকোতে হোন্ডা এনএক্স২০০ মডেলের রফতানি বিশ্বব্যাপী উৎপাদন নেটওয়ার্কের সুবিধা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে হোন্ডার বৈশ্বিক কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা একই সাথে নির্ভরযোগ্য মোটরসাইকেলের উদীয়মান রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে।বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মি. সুসুমু মরিসাওয়া (Mr. Susumu Morisawa) বলেছেন, ‘মেক্সিকোতে আমাদের রফতানি ব্যবসার প্রসারণ আমাদের উৎপাদন সক্ষমতার ধারাবাহিক উন্নতি, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং আমাদের সহকর্মীদের নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টার প্রতিফলন। গুয়াতেমালায় আমাদের সফল রফতানির পর, আরেকটি আন্তর্জাতিক বাজার মেক্সিকোতে হোন্ডা এনএক্স২০০ রফতানি অব্যাহত রাখতে পেরে আমরা গর্বিত। এই অর্জন বৈদেশিক রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করার পাশাপাশি আমরা যে দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছি, সেই দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে হোন্ডার প্রতিশ্রুতিকে আরও সুদৃঢ় করে।’তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সংগ্রহ বৃদ্ধি, উৎপাদন প্রতিযোগিতায় উন্নতি এবং ভবিষ্যতের দিকে আমাদের রফতানিকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের অংশীদারদের সাথে নিয়ে আমরা বাংলাদেশি শিল্পে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড এর উপস্থিতি আরও জোরদার করতে চাই।’বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান বলেছেন ‘মেক্সিকোতে হোন্ডা এনএক্স ২০০ মডেল রফতানি একটি গর্বের মাইলফলক, যা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতা এবং হোন্ডার বৈশ্বিক মানকে ফুটিয়ে তোলে। যদিও আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার, তবুও এই অর্জন রফতানি বহুমুখীকরণ, স্থানীয়করণ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক মোটরসাইকেল উৎপাদন ও রফতানি ঘাঁটি হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।’মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এমন গতিশীল পণ্য সরবরাহের হোন্ডার বৈশ্বিক লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড তাদের উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, স্থানীয়করণ এবং অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সুযোগ প্রসারিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বাংলাদেশ সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ডিউটি এক্সেম্পশন অ্যান্ড ড্রব্যাক অফিস (ডিইডিও), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), শুল্ক কর্তৃপক্ষ, ব্যাংকিং অংশীদার, সরবরাহকারী, ডিলার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমানের মোটরসাইকেলের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশকে উন্নীত করতে সহায়তা প্রদানকারী সকল স্টেকহোল্ডারদের প্রতি বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।চলমান রফতানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর।
সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে।এতে ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং তার সঙ্গে থাকা আরও একজন; দুজনেরই হাত থেকে রক্তপাত হয়।এর আগে হবিগঞ্জে প্রথমবার ও দ্বিতীয়বার ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপি নেতাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদেরবিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী।
গোপালগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন মুকসুদপুর প্রেসক্লাব চার দশকের গৌরবময় পথচলা উদযাপন করেছে। ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিনব্যাপী আলোচনা সভা, কেক কাটা, সম্মাননা প্রদান, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময়সহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়।মুকসুদপুরের ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্সে অবস্থিত প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি এ. কে. এম. সোহরাব-উন-নূর (মো. ছিরু মিয়া)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. ওহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (EUB)-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকার আজীবন সদস্য এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অনুদান বোর্ডের সদস্য সাবরীনা বিনতে আহমেদ শুভ্রা। প্রধান আলোচক ছিলেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন, মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফরিদ আহমেদ মিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান, সাধারণ সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম রাজু, সরকারি মুকসুদপুর কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সরকারি মুকসুদপুর কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং মানবজমিনের উপজেলা প্রতিনিধি মাহাবুব হাসান বাবর, মুকসুদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার টুল্টু বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু।এ ছাড়া বক্তব্য দেন সরকারি সাবের মিয়া জসিমুদ্দীন (এস.জে.) মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ূম শরীফ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বিপ্লব, সদস্য সচিব মো. কাইয়ুম মুন্সী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রহমান রইন, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি হাফিজুর রহমান লেবু, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কাশবন সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক মিন্টু হক, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আশিক মুন্সীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুকসুদপুর প্রেসক্লাব বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ, সামাজিক সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা গণমাধ্যমে তুলে ধরে সংগঠনটির সাংবাদিকেরা দীর্ঘদিন ধরে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।প্রধান অতিথি সাবরীনা বিনতে আহমেদ শুভ্রা বলেন, একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি। স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তিনি সত্যনিষ্ঠ, ন্যায়ভিত্তিক ও পেশাগত নৈতিকতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে সাংবাদিকতা চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।প্রধান আলোচক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গণমাধ্যম প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মুকসুদপুর প্রেসক্লাব প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, চাকরি জীবনে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন এবং একাধিক থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল, পেশাদার ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।সরকারি মুকসুদপুর কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মানবজমিনের উপজেলা প্রতিনিধি মাহাবুব হাসান বাবর বলেন, “মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। সাংবাদিকতায় আমার হাতেখড়ি এই প্রতিষ্ঠান থেকেই। এখানকার সাংবাদিকরা অত্যন্ত মেধাবী, দায়িত্বশীল ও পেশাদার।”সভাপতির বক্তব্যে এ. কে. এম. সোহরাব-উন-নূর (মো. ছিরু মিয়া) বলেন, চার দশকের পথচলায় মুকসুদপুর প্রেসক্লাব সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা এবং সংগঠনের ঐক্য আরও সুসংহত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থা অটুট রাখতে প্রেসক্লাব নিরলসভাবে কাজ করবে।অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য সুমাইয়া নূর প্রভা ও জান্নাতুল ফেরদৌস পাপড়ী প্রধান অতিথি সাবরীনা বিনতে আহমেদ শুভ্রাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি ও প্রধান আলোচকের হাতে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সদস্য ও অতিথিদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনমুখী করার লক্ষ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
উইকেট কঠিন ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররাও দারুণ বোলিং করেছেন। কিন্তু সেটার কোনো উত্তর খুঁজে পাননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। গুটিয়ে গেছে স্রেফ ৮৯ রানে। এরপর বোলাররাও অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারেননি। ফলে বড় ব্যবধানে হেরেই ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।আজ শনিবার (১ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রনক্লুফ ওভালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩০.২ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে মোটে ৮৯ রান করে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। জবাব দিতে নেমে ১৮.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল।টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রোটিয়া বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরু থেকেই হাত খুলে খেলতে পারেননি লাল-সবুজের ব্যাটাররা। ইনিংসের প্রথম ৪ ওভারে মোটে ৩ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক জাকির হাসান।নয় বল খেলে মাত্র ১ রান করে জাকির ফেরার পর আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন বাকিরা। শাহাদাৎ হোসেন ৮, ইফতেখার হোসেন ২ আর মাহিদুল ইসলাম করেন মাত্র ২ রান। শুরুর সেই ধাক্কা আর সামাল দিতে পারেনি বাংলাদেশ।নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর খেসারত দিতে হয়েছে ইনিংসের শেষভাগে। দলের স্কোর বড় করার বদলে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০ ওভার ২ বলে স্রেফ ৮৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ৭৩ বল খেলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন। এছাড়া বাকিদের মধ্যে দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছেন কেবল দুজন—আমিনুল ইসলাম ১১ ও সামিউন বাসীর করেন ১০ রান।দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একাই ৫ উইকেট শিকার করেন দাইয়ান গালিম।৯০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলও অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল। ইনিংসের প্রথম ওভারেই পেসার ইকবাল হোসেন ইমনের শিকার হয়ে শূন্য রানে ফেরেন জর্ডান কিং।পরে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান আরও দুটি উইকেট তুলে নিলেও জয় আটকানো যায়নি। রিচার্ড সেলেটসওয়ানের ৩৫ এবং মিচেল ভ্যান ব্যুরেনের ১৮ রানের সুবাদে ১৮ ওভার ৪ বলেই সহজ জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।
সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অনুপম রায়ের ঢাকা কনসার্ট। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ‘ওয়ান ট্রু সাউন্ড উইথ অনুপম রায়’ আয়োজন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন জানিয়েছে, কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করে অনুষ্ঠানটি আয়োজন না করার নির্দেশনা দেয়।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আয়োজকরা বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি ও অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কনসার্টটি আপাতত স্থগিত করতে হয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে শুধু দর্শকই নন, শিল্পী, স্পন্সর, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই হতাশ হয়েছেন।টিকিট ক্রয়কারী দর্শকদের আশ্বস্ত করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, কনসার্টের জন্য কেনা সব টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। অফিসিয়াল টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জানানো হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনিবার্য কারণ উল্লেখ করলেও কনসার্ট স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
শাকিব খানের ব্যক্তিজীবন অনেকটা খোলা বইয়ের মতো। অনেক পাতা-ই পড়া নেটিজেনদের। একটি পৃষ্ঠা যেন উল্টানো বাকি ছিল। যেটি কিং খান নিজেই উল্টালেন। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে জানালেন অপু-বুবলী না, ইংলিশ মিডিয়ামের এক তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন অভিনেতা।বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন শাকিব খান। উপস্থাপনার কাজটি সামলাচ্ছিলেন পূর্ণিমা। দীর্ঘদিনের সহকর্মীর কাছেই মনের গোপন জানিয়েছেন মেগাস্টার।জানান একসময় গুলশানের ইংরেজি মাধ্যমের এক তরুণীর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। দুজনের সম্পর্কটি খুব বেশি দূর এগোয়নি। তবে সেই অসমাপ্ত ভালোবাসার স্মৃতি এখনও তাকে নাড়া দেয়।শাকিব বলেন, ‘আমার বাসার কাছাকাছি ছিল ওর বাড়ি। দেখতেও ভীষণ সুন্দর ছিল। আমি কিন্তু তার সঙ্গেই সেটেলড হতে চেয়েছিলাম। আমি মনে মনে সিরিয়াসলি তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। আমাকে মেয়েটি খুব ভালোবাসত। আমি সত্যিই তার সঙ্গেই সংসার করতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে একা বসে ভাবি— আমি চাইলাম কাকে, ভালোবাসলাম কাকে, আর কোথায় গেলাম!’সেই তরুণীকে এখনও মিস করেন বলে পূর্ণিমাকে জানান শাকিব। বলেন, ‘আমি এখনও তাকে মিস করি। মাঝেমাঝেই যখন একা থাকি তখন ভাবি যে, কেন এরকম হলো! সম্পর্কে যখন ভালোবাসাবাসি বেশি হয়ে যায় তখন মনে হয় এরকম হয়ে যায়।’ উপস্থাপকের আসনে পূর্ণিমা বরাবরই দক্ষ। শাকিবের বেলায়ও একই রকম ছিলেন। নায়কের পেট থেকে কথা বের করতে মোক্ষম প্রশ্ন ছোড়েন। প্রশ্ন করেন, সেই তরুণী যদি আবার জীবনে ফিরে আসেন, তাহলে তাকে গ্রহণ করবেন কি না। উত্তরে শাকিব বলেন, ‘সে অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করে। আমি চাই, সে অনেক ভালো থাকুক।’
ভারতের মুম্বাইয়ের ২৭ বছর বয়সী মডেল ও থিয়েটারশিল্পী রিয়া আহির বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করলে, তাদের মুক্তির দাবিতে তিনি নিদ্বির্ধায় পুলিশের ভ্যানের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।সেই সাহসী অবস্থানের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তাকে ‘সাহসী’ ও অকুতোভয় আখ্যা দিয়ে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সম্পর্কে রিয়া জানান, তার বাবা-মা মেয়ের এই সাহসিকতায় ভীষণ খুশি হয়েছেন এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে জাতীয় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে তোলে, যার মধ্যে নারী আন্দোলনকারীও ছিলেন।রিয়া আহির জানান, আটক হওয়া সেই ব্যক্তিদের কাউকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না। তবে যেভাবে গাদাগাদি করে মানুষকে ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তা দেখে নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি চুপ থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, ভ্যানে অনেককে তুলে দেওয়া দেখে তিনি এক নারীকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে তিনি চলন্ত ভ্যানের ঠিক সামনে গিয়ে দাঁড়ান এবং আটকে থাকা সবাইকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রিয়া অবিচলভাবে পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সেখান থেকে সরে যেতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। রিয়ার অভিযোগ, তাকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভ্যানচালক বেশ কয়েকবার জোরে ইঞ্জিন চালিয়ে গাড়ি সামনে নেওয়ার ভয় দেখান, কিন্তু তিনি একচুলও নড়েননি।রিয়ার এই অদম্য অবস্থান দেখে অন্য আন্দোলনকারীরাও তার পাশে এসে কাঁধ মেলান। তীব্র প্রতিবাদ ও তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশ আটক ব্যক্তিদের শিবাজি পার্কেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।রিয়া জানান, এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ। ২১ জুলাই তিনি প্রথমবার শিবাজি পার্কে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ অনেককে আটক করায় তিনি পরদিন ২২ জুলাই আবার সেখানে যান। আর সেদিনই ঘটে যায় সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, যা তাকে এক লহমায় পরিচিত মুখ বানিয়ে তোলে। রিয়া বলেন, আন্দোলনটির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না; পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়ে সে মুহূর্তে নিজের বিবেকের তাড়না থেকেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন।এমন বিপদের মুখেও সাহসের পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে রিয়া জানান, তার পরিবারের সঙ্গে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘ ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশে (ITBP) দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রতিরক্ষাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। রিয়া মুচকি হেসে বলেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস হয়তো তাঁর রক্তেই প্রবাহিত হচ্ছিল।রিয়া মনে করেন, এই সংগ্রাম কেবল প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে নয়, বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পক্ষে। মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও পেশাগত ব্যাস্ততায় গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি রিয়া। বর্তমানে তিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করছেন।নিজের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা থেকে অভিযোগ তুলে রিয়া বলেন, নিয়মিত কোর্স ফি পরিশোধ করা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যায় না এবং সরকারি যোগাযোগের নম্বরগুলোতেও কেউ সাড়া দেয় না। তার ভাষায়, এটি শুধু বিশেষ একটি পরীক্ষার বিষয় নয়, পুরো ব্যবস্থার যে গলদ রয়েছে—এ আন্দোলন তারই এক সম্মিলিত প্রতিবাদ।প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠার পাশাপাশি পেশাগত জীবনে রিয়া আহির প্রায় ১৩ বছর ধরে নিয়মিত হিন্দি থিয়েটারে যুক্ত রয়েছেন এবং দাপটের সাথে মডেলিং করছেন। এর বাইরে গত বছর তিনি ‘রিয়াসত’ নামে নিজস্ব একটি উদ্যোগ চালু করেন, যার মূল কাজ হলো স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাডার কোলহাপুরি চপ্পলের নকশা বিতর্কের পর দেশের প্রান্তিক কারিগরদের কাজকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার ভাবনা থেকেই এই সামাজিক উদ্যোগের জন্ম দেন তিনি।
অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী মো. খুরশীদ আলমকে নিয়ে এবার একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন টিভি ব্যাক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। দেশের বরেণ্য এই সংগীতশিল্পীর জীবন, সংগীতচর্চা ও শিল্পীসত্তাকে তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’ শিরোনামের প্রামাণ্য চিত্রটিতে খুরশীদ আলমের দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, স্মৃতি, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্য চিত্রটিতে খুরশীদ আলমের সংগীতজীবনের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি তার ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা গল্প, স্মৃতিচারণ এবং বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তার অসামান্য অবদান উঠে এসেছে।দেশের সংগীতপ্রেমী দর্শকদের জন্য প্রামাণ্য চিত্রটি হবে একজন বরেণ্য শিল্পীকে নতুনভাবে জানার ও তার বর্ণাঢ্য জীবন-সংগীতের পথচলা উপভোগ করার একটি বিশেষ আয়োজন। আগামী ১লা আগস্ট খুরশীদ আলম ৮১ বছরে পা রাখবেন। তার এই জন্মদিন উপলক্ষে সেদিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে চ্যানেল আইতে প্রচার হবে প্রামাণ্য চিত্র ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’।
দীর্ঘ ছয় দশকের সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক সংগীত পরিবেশনায় হাজির হচ্ছেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। একই অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা। তবে এবারের আয়োজনটি শুধু সম্মাননা ও সংগীত পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় দেওয়া হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘রুনা লায়লা’ শীর্ষক এই সম্মাননা ও একক সংগীত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই। রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে অনুষ্ঠানটি। এতে নিজের জনপ্রিয় কয়েকটি গান পরিবেশন করবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই শিল্পী।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের টিকিটের শুভেচ্ছা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিনটি শ্রেণিতে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির টিকিটের দাম ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের দাম ২ হাজার টাকা। টিকিট বিক্রির অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে।টিকিট সংগ্রহের জন্য আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে অর্থ, হিসাব ও পরিকল্পনা বিভাগের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায়।জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং ডা. জাহেদ উর রহমান (উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।
ছোটপর্দা ও বিজ্ঞাপন নির্মাণে সাফল্য অর্জন করে ফেলেছেন। এরপর এখন যাত্রা শুরু করলেন বড় পর্দার নির্মাণ। নির্মাতা আদনান আল রাজী কয়েক দিন আগে দিয়েছেন নিজের প্রথম সিনেমার ঘোষণা। তখন সিনেমার নাম কিংবা অভিনয়শিল্পীদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও তিনি এখন জানিয়েছেন এটি হবে একটি প্রেমের গল্প। আর সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন সিয়াম আহমেদ।সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাতা ও সিয়ামের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগেই মৌখিক কথাবার্তা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি নন আদনান আল রাজীব কিংবা সিয়াম। দুজনই এ বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন।যদিও নায়ক হিসেবে সিয়ামের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, সিনেমাটির নায়িকা কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য জানা যায়নি।এ বিষয়ে আদনান আল রাজীবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।সিয়াম আহমেদকে সর্বশেষ গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘রাক্ষস’-এ দেখা গেছে। নতুন এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও একটি রোমান্টিক চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরতে যাচ্ছেন তিনি।অন্যদিকে ‘কাছে আসার গল্প’, ‘বিকেল বেলার পাখি’ ও ‘মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট’-এর মতো আলোচিত নাটক নির্মাণের পর পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনায় অভিষেক হতে যাচ্ছে আদনান আল রাজীবের।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারের হটস্পট, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মানুষ স্কিন ক্যান্সার এবং মেলানোমায় মারা যায় এবং প্রতি ৩ জন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় ২ জনের জীবনে অন্তত একবার স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে ধারণা করা হয়। এমন একটি দেশে যেখানে সানস্ক্রিন একটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে।ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘চয়েস’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লিখিত এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ছিল এসপিএফ ৫০+ (SPF 50+) হিসেবে বাজারজাত করা একটি পণ্যকে ঘিরে, যা পরীক্ষায় প্রায় এসপিএফ ৪ (SPF 4) এর মতো কাজ করেছে বলে জানা যায়। ব্র্যান্ডটি এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালেও পণ্যটি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে কেন এত বড় অমিল দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে যে আমদানি করা পণ্য ত্বকের যত্নের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই সংবাদটি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের নামই এখন আর যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোক বা কোনো স্থানীয় কোম্পানির, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি তার লেবেলে লেখা সুরক্ষা সত্যিই প্রদান করে কি না । এই বিষয়টি ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আরও বেশি মানুষকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না। তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়। কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা। বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে। এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে। শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে। তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং বেসরকারি খাতের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বিনিয়োগ, শিল্প, জ্বালানি, করনীতি ও রপ্তানি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, করব্যবস্থার সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার জটিলতা দূরীকরণ, লজিস্টিক সহায়তা, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং শতভাগ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজীকরণ (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস), করনীতি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বাজার সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যাংকিং ও অর্থায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নীতিগত সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের এ ধরনের নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশে একটি সত্যিকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সাবেক মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া ফাইনালিস্ট কিশোওয়ার চৌধুরীকে নিয়ে ‘ফ্লেভারস অব হোম’ আয়োজনের মাধ্যমে ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) শুধু বাঙালি ঐতিহ্যকেই উদযাপন করেনি, পাশাপাশি বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিয়েছে।যুগের পর যুগ ধরে নারীদের কাছে খাবার কখনোই শুধু স্বাদ গ্রহণের বিষয় না । এর প্রতিটি পদে পদে লুকিয়ে থাকে নানা রকম স্মৃতি, প্রতিটি রন্ধনপ্রণালীতে থাকে একেকটি গল্প, আর প্রতিটি পরিবেশনে ফিরে আসে নিজের শিকড়ের টান। সেই টান উপলব্ধি করে বিশ্ব দরবারের বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পান্তাভাত, আলুভর্তা আর খিচুড়ির মতো সাধারণ বাঙালি খাবারকে পৌঁছে দিয়েছিলেন যে নারী, সে হল কিশোওয়ার চৌধুরী। মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া সিজন ১৩ এর দ্বিতীয় রানার-আপ, যার পথচলা আজ রান্নাঘরের গণ্ডি পেরিয়ে তরুন সমাজের অনুপ্রেরণা ও সামাজিক উদ্যোগের এক অনন্য উদাহরণ। গত ২৬ জুলাই, ভিএএইউএস আয়োজিত ‘ফ্লেভারস অব হোম’ অনুষ্ঠানে তিনি শৈশবের স্মৃতি, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পৌঁছানোর যাত্রা এবং ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট (কেসিসি) উইংস’-এর মাধ্যমে করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য রন্ধন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।২০১৬ সালের অক্টোবরে সিডনিতে একটি পুনর্মিলনী আয়োজনের পরিকল্পনা থেকেই যাত্রা শুরু হয় ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) এর। পুরোনো শিক্ষার্থী বন্ধনকে আবারও জাগিয়ে তুলতে এবং সেই বন্ধনকে কীভাবে সমাজের জন্য অর্থবহ কিছুতে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবা থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ভিএঅস। এরপর থেকে সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও অঞ্চলের প্রায় ১২টি সংস্থাকে সহায়তা করেছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল নারী, শিশু ও পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মর্যাদা উন্নয়নে কাজ করা। অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া এই মানবিক উদ্যোগের প্রভাব বাংলাদেশেও পৌঁছে দিতে ভিএঅস এবার ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট - কেসিসি উইংস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আয়োজন করেছে ‘ফ্লেভারস অব হোম: অ্যান আরভো উইথ কিশোওয়ার চৌধুরী’।আশি ও নব্বইয়ের দশকে, যখন ক্যাটারিং সেবা এতটা প্রচলিত ছিল না, তখন পারিবারিক আয়োজন মানেই ছিল সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ। এমন এক প্রাণবন্ত পরিবেশেই কিশোওয়ারের রান্নার হাতেখড়ি, যেখানে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের আসতে আলাদা নিমন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে, খাবার শুধু পুষ্টি নয়, মানুষকে একত্রে আনারও শক্তি। আর এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল তার ছেলের একটি কথাই, "মা, তুমিও করো।"এই অনুপ্রেরণা তাঁর মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় যাত্রায় শুধু বিশ্বজুড়ে বাঙালি ঘরোয়া রান্নার পরিচয়ই দেয়নি, বরং একটি সাধারণ স্বপ্নকে বৃহত্তর উদ্দেশ্যে রূপান্তরিত করার মঞ্চও জুগিয়েছিল এবং অন্যদেরও বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল যে রান্নাও একটি পেশা হতে পারে। সাথে দিয়েছিল এক গভীর উপলব্ধি, , রেসিপি, পারিবারিক স্মৃতি আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা গল্পগুলো যদি লিপিবদ্ধ না করা হয়, তবে সেগুলো খুব সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। আর সেই উপলব্ধিই জন্ম দেয় তাঁর বই ‘স্মোক, রাইস, ওয়াটার’-কে। বইটির ১৬০টিরও বেশি কপি অনুষ্ঠানের দিন নতুন ঠিকানা খুঁজে পায়। বইটির মাধ্যমে ঐতিহ্য রক্ষা ছিল কিশোওয়ারএর লক্ষ্যের একটি অংশ মাত্র। তিনি চেয়েছিলেন, খাদ্য যেন অন্যদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয়। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কেসিসি উইংস’ উদ্যোগের সূচনা করেন। এই প্রোগ্রামটির মূল উদ্দেশ্য হলো, করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, পেশাদার রান্নাঘরে কাজের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ, ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ, পারিবারিক সহায়তা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনের সঙ্গে মেন্টরশিপের সুযোগ করে দেয়া। কিশোওয়ারের এই স্বপ্নের উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে ভিএঅস কেসিসি উইংসের জন্য ৫,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি অনুদান চেক প্রদান করে। এই অনুদানটি ভিএঅসের "কানেক্ট টু কেয়ার" দর্শন অর্থাৎ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক থেকে অর্থবহ সামাজিক প্রভাব সৃষ্টির বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে। কিশোওয়ারের কাছে এই অনুদান শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এর তাৎপর্য ছিল আরও অনেক গভীর। তিনি বলেন, “ভিএঅসকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ, কারণ তারা শুধু আমার যাত্রাকেই উদযাপন করেনি, বরং অন্য কারও ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ” কিশোওয়ারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ভিএঅসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও অ্যাডভাইসর ড. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান বলেন, “ভিএএইউএস বিশ্বাস করে, শিক্ষা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।” ভিএঅসের জন্য ‘ফ্লেভারস অফ হোম’ কেবল একজন প্রখ্যাত শেফকে আমন্ত্রণ জানানো বা প্রবাসীদের একত্রিত করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল না বরং ঐতিহ্যকে অর্থবহ কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করা।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিং নিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহযোগিতায় “টিকটক মাস্টারক্লাস অন জার্নালিজম অ্যান্ড ডিজিটাল স্টোরিটেলিং” শীর্ষক দুই দিনের একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ আয়োজন করে টিকটক। নর্থ সাউথ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই ওয়ার্কশপে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটররা অংশ নেন। এই আয়োজনে ছিল আলোচনা, টিকটক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজরুম পরিদর্শনের সুযোগ।সংবাদ প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলভাবে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, ব্যাখ্যামূলক ভিডিও, জনসচেতনতামূলক এবং তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির বিষয়গুলো এতে উঠে আসে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক সাংবাদিকতা, দর্শকের সাথে সংযোগ, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নৈতিকভাবে কনটেন্ট তৈরির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারেন শিক্ষার্থীরা। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “আমাদের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সাথে টিকটক এমন একটি আয়োজন করায় আমরা আনন্দিত। এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি।”ওয়ার্কশপের প্রথম দিন বক্তব্য দেন মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারিসুর রহমান, স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ডিন ড. মো. রিজওয়ানুল ইসলাম এবং উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী। এছাড়া, ‘ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা কেমন হবে?’ শিরোনামের একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ড. মো. হারিসুর রহমান, টিকটকের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি লিড আসমা আনজুম, বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারান পারিহার। এই আলোচনায় ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, নির্ভরযোগ্য কনটেন্টের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।ড. মো. হারিসুর রহমান বলেন, “সাংবাদিকতার পড়াশুনা এখন আর শুধু প্রচলিত রিপোর্টিং ও যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শুধু নিউজরুমের জন্য নয়, মিডিয়া, কমিউনিকেশন এবং তথ্য ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির জন্যও প্রস্তুত করা।"ওয়ার্কশপের দ্বিতীয় দিনে নিউজরুম ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। যমুনা টেলিভিশনে গবেষক এবং নর্দান ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মো. জাহিদ হোসেন খান, সংবাদ বা কনটেন্টের বিষয়বস্তু নির্বাচন, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সাংবাদিকতার সামাজিক প্রভাব এবং ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, ‘ম্যাজিক রাজিক’ নামে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাশিক মোহতাসিন, এবং সাবা চৌধুরী কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। কনটেন্ট তৈরি, দর্শক তৈরি, ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ এবং এই পেশার আরও দিকগুলো তারা তুলে ধরেন।টিকটকের এপ্যাক ও মেটাপিএসএইই অঞ্চলের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি অ্যান্ড টেক কমিউনিকেশন লিড, ইমাদ জাফরের সাথে গণমাধ্যম, সাংবাদিকতা ও ক্যারিয়ার সম্পর্কে একটি আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ডিজিটাল মিডিয়া এবং গণমাধ্যমে সফল হতে কী কী দক্ষতা ও মানসিকতা দরকার, সেটিও উঠে আসে। ইমাদ জাফর বলেন, "মানুষ নতুন আইডিয়া জানতে, শিখতে এবং নতুন গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে টিকটক ব্যবহার করছে। এই মাস্টারক্লাসের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা শেখাতে চেয়েছি, যেন তারা সাংবাদিকতার মূল নীতি, নির্ভুলতা, তথ্য যাচাই, জবাবদিহি এবং জনস্বার্থ মেনে সৃজনশীল ও দায়িত্বশীলভাবে শর্ট ভিডিও তৈরি করতে পারে।” এই ওয়ার্কশপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ডিজিটাল স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারীরা #growwithtiktok এবং #nsu হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে নিজেদের ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে শর্ট ভিডিও তৈরি করেন। সেরা তিনটি কনটেন্টকে এতে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সমাপনী বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য ড. নাসার ইউ. আহমেদ। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীরা একটি জাতীয় টিভির নিউজরুম ঘুরে দেখার সুযোগ পান। সেখানে তাঁরা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন এবং সংবাদ সংগ্রহ, প্রযোজনা ও উপস্থাপনার প্রক্রিয়া বোঝার সুযোগ পায়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’