প্রতিবছর ১০ হাজার বৈধ শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ আছে ইতালিতে। পরিবারসহ এই সংখ্যা ১২ হাজার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।পরে সাংবাদিকদের সাথে প্রতিমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী আছে ইতালিতে। ইতালিতে অবস্থানরত আড়াই লাখ বাংলাদেশির প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে যৌথ ওয়ার্কশপ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে যারা আছে, তাদের বৈধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আর দালালের মাধ্যমে যারা অবৈধভাবে যাচ্ছে, তাদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।মালয়েশিয়ার শ্রমিক নেওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, মালোয়েশিয়ার হাইকমিশনারকে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সাল থেকে খাদ্য অপচয় রোধ ও ফুড সিকিউরিটিতে কাজ করা ইতালির মিলান শহরের মডেলে দেশটি বাংলাদেশেও কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ইতালির সাথে মিল রেখে এক্ষেত্রে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ভাষায় প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে দুই দেশ।বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতে ইতালিতে প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট তালিকা পাঠালে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের এই সফরে পাঠানো হবে। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষা শেখাতে প্রতিনিধি পাঠাবে ইতালি। দেশের যেকোনো একটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বাণিজ্য, অভিবাসন, দুই দেশের শহরগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক (টুইনশিপ) নিয়ে আলোচনা করেছি। যদিও এটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল, তার পরেও ইতালি ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে কীভাবে একসাথে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় স্বাভাবিকভাবেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই ধরনের মন্ত্রণালয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি ও উৎসাহিত করতে ইতালি সবসময়ই আগ্রহী।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি গতকালই সেই আহ্বান জানিয়েছি- আমরা সংঘাত ও প্রতিশোধের এই ধরনের রাজনীতি দেখতে চাই না। অনেক হয়েছে। এখন একটা সমঝোতার রাজনীতি, গণতন্ত্রের রাজনীতি, সহনশীলতার রাজনীতি- গোটা দেশের মানুষের এটাই চাওয়া।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ভাতারমার ইক্ষু খামার এলাকায় ঠাকুরগাঁও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল জেলায় একটি জাতীয় পর্যায়ের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে আজকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের এই আনন্দময় মুহূর্তে আমি পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর অশেষ রহমতে আজ ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হতে যাচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি স্থানীয় জনগণের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টি দেখভাল ও সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, আমি এখন পলিটিক্যাল প্রশ্নের উত্তর দেব না।
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর চলতি মাসে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে মুদ্রানীতির পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে আরও ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। খবর রয়টার্স।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২১ দশমিক ০৪ ডলারে নেমেছে। ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারও ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটি থাকায় বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম।স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবিষয়ক কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, শুক্রবার প্রকাশিত শক্তিশালী মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর বন্ডের সুদহার বেড়েছে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশাও জোরালো হয়েছে। এর প্রভাবে স্বর্ণ ও রুপার দাম জ্বালানি পণ্যের বিপরীত দিকে গিয়ে আরও কমেছে।হ্যানসেনের মতে, সোমবারের লেনদেনে দুইবার প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ ডলারের নিচে নামার পর স্বর্ণের বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে। ৪ হাজার ৩২০ ডলারের কাছাকাছি পর্যায়কে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের ওপরে গেলে বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে।গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে দেশটির বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ৫৮ শতাংশ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৫০ শতাংশ।বাজারে এখন বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক এবং শুক্রবার প্রকাশিতব্য ভোক্তা মূল্যসূচকের দিকে নজর রয়েছে। এসব তথ্য ফেডের ভবিষ্যৎ সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।সপ্তাহান্তে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে ইরান জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় এলাকায় একটি নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন একটি নৌপথের মানচিত্র ঘোষণা করা হবে। এতে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হলেও সুদের হার বাড়লে সুদ বা আয় না দেওয়া স্বর্ণয় বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, ফেড সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত না নিলে—যে দাবি তিনি এর আগেও করে আসছেন—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারেন।অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ০৬ ডলারে নেমেছে। তবে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮২৫ দশমিক ২১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০১ দশমিক ৮৪ ডলারে উঠেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়াকিটকি কেনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুপুরে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ওয়াকিটকি কেনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. আহসানুল কবির পলাশ কে তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এর আগে, ২০২৫ এর ১৭ আগষ্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ওয়াকিটকি কেনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান করেছিল দুদক। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি দেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একটি চীনা কোম্পানির সনদ ব্যবহার করেছে বলেও জানা গেছে।অভিযান পরিচালনাকারী দল ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করে।প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএনসিসির ক্রয়কৃত ওয়াকিটকির দাম অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এ বিষয়ে প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত সব রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। যাচাই শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করে দুদকের টিম।
গাজীপুরে পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ এবং প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার কলেজছাত্র মো. আব্দুল্লাহ সিফাত ওরফে বিল্লালের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক রাকিবুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সিফাতের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম রবি জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান জামিনের বিরোধিতা করেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, সিফাত নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম রবি বলেন, সিফাতের বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্যের বিষয়টি মূল এজাহারে উল্লেখ নেই। এমনকি শুনানিতেও রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়টি উত্থাপন করেনি। ৪ জুনের একটি পুরোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যার সঙ্গে সিফাতের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তার দাবি, সিফাত পতিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ৫ আগস্টের আগে থেকেই কাজ করে আসছেন এবং এখনো তা অব্যাহত রেখেছেন।পুলিশ জানায়, সিফাত তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এতে তার হাতে দুটি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেখা যায় এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুরের গাছা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।সিফাত রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গাজীপুরে এবং তিনি সিকান্দর আলীর ছেলে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সিফাত তার বাড়িতে অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগটি তদন্ত করে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। তদন্তে বিল প্রস্তুতিতে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীর বলেন, সিফাতের অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। সরেজমিন তদন্ত করে গ্রাহকের বিল প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া যায়নি।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাইলকৈর টিনের মসজিদ এলাকায় সিফাতের দোতলা বাড়িতে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসের বিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই ও আগস্ট মাসে তিনটি মিটারে মোট বিল এসেছে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা। সিফাত ভিডিওতে যে ১০ হাজার টাকার বিলের কথা উল্লেখ করেছিলেন, সেটি ওই দুই মাসের বিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে তিনটি মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।তবে তদন্ত প্রতিবেদনের উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান। তার দাবি, দুই মাসের প্রকৃত বিলে গরমিল না থাকলেও চার মাসের হিসাব একসঙ্গে প্রকাশ করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে, যা সিফাতের চরিত্র হননের শামিল।এদিকে সিফাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর ও টঙ্গীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নাগরিক সমস্যা বা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় জানানো যায়। তবে কোনো প্রশাসনিক ব্যক্তি বা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।পুলিশ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে সিফাতের বিরুদ্ধে আলাদা কোনো মানহানির মামলা হয়নি। ৪ জুন দায়ের করা একটি পুরোনো সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, সিফাতের বক্তব্যের বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তার কথাবার্তা ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে ওই সংগঠনের মিছিল আয়োজন ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত বিষয় উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ জোরদারের মুখে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের অংশবিশেষ জুড়ে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে অতিরিক্ত ব্যবহারকারীদের জন্য পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান মহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ রেখা থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরের নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে এই নিষিদ্ধ অঞ্চল গঠন করা হবে। এই এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জলযানকে ইরানের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর চাপ সামলাতে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে প্রতি লিটার তেলের তৃতীয় ধাপের দর ৫ হাজার তোমান থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার তোমান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি মুখপাত্র ফাতেমে মহাজেরানি নিশ্চিত করেন, মাসিক কোটার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানি রিয়ালের মান ধারাবাহিকভাবে কমছে। বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে ২ দশমিক ২ মিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে।যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন। যার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন দেশটির তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে আনতে সামুদ্রিক অবরোধ ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করছে।সূত্র: টাইমস নাউ
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযান যত জোরদার হচ্ছে, ততই বাড়ছে দেশে ফেরার প্রবণতা। গ্রেফতার, মামলা ও কারাবন্দিত্ব এড়াতে সরকারি সুযোগ নিয়ে নিজ দেশে ফিরছেন কাগজপত্রহীন বিদেশিরা। ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যেই মালয়েশিয়া সরকারের অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি-২ (পিআরএম ২.০)-এর আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে জরিমানা দিয়ে আইনি জটিলতা এড়িয়ে দেশে ফেরার সুযোগ মিলছে।পিআরএম ২.০ চলবে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত। ফলে দেশটিতে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের সামনে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ আরও আট মাস থাকছে।মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ৩০ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকা কর্মসূচি ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কর্মসূচিটির কার্যকারিতা এবং বিপুলসংখ্যক বিদেশির সাড়া বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ইমিগ্রেশন বিভাগের হিসাবে, ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১১২ দেশের ২ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৬ জন অনিবন্ধিত অভিবাসী এ কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছেন। এ সময় সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১২৭ কোটি রিঙ্গিত।তবে নিবন্ধনকারী ও দেশে ফিরে যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা এক নয়। ইমিগ্রেশন বিভাগের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ বিস্তারিত হিসাবে, ওই সময় পর্যন্ত ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জন বিদেশি কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। একই সময়ে নিবন্ধন করেছিলেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৯৬১ জন।অর্থাৎ, ২৯ এপ্রিলের ২ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৬ জন হলো কর্মসূচিতে নিবন্ধনকারী, আর ১৫ এপ্রিলের ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জন হলো বাস্তবে দেশে ফিরে যাওয়া বিদেশি। দুটি সংখ্যা একই সময়ের নয় এবং একই বিষয়ও নির্দেশ করে না।ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশিরা। ফলে কর্মসূচিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ অন্যতম বড়।তবে এ পর্যন্ত ঠিক কতজন বাংলাদেশি পিআরএম ২.০-এর আওতায় দেশে ফিরেছেন, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে পৃথক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।পিআরএম ২.০ মূলত অনিবন্ধিত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার কর্মসূচি। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়।মালয়েশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ পাস ছাড়া দেশটিতে প্রবেশ বা অবস্থান এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানের ক্ষেত্রে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা নির্ধারিত রয়েছে।তবে আগের প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেও যারা দেশে ফেরেননি, ইমিগ্রেশন বিভাগের কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি এবং কর্তৃপক্ষের খোঁজে থাকা ব্যক্তিরা এ সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন।মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত এসব অভিযানে বৈধ কাগজপত্রহীন বিদেশি নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে। ফলে গ্রেফতার ও আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই সরকারি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির সুযোগ নিতে চাইছেন।অভিবাসনসংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ অভিবাসীদের সামনে এখন দুটি পথ একদিকে ইমিগ্রেশনের অভিযান ও গ্রেফতারের ঝুঁকি, অন্যদিকে সরকারি ব্যবস্থায় স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ। এ কারণেই প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন। হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, পিআরএম ২.০-এর সুযোগ নিয়ে আইনসম্মত ও নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়।দেশে ফিরতে বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে বা মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ভ্রমণ অনুমতিপত্র নেওয়া যাবে। এরপর নিশ্চিত বিমান টিকিট নিয়ে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে আবেদনকারীকে নিজেকেই উপস্থিত হতে হবে।আবেদনের সময় পাসপোর্ট বা ভ্রমণ অনুমতিপত্র, পাসপোর্টের পরিচিতি পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হবে।পিআরএম ২.০-এর আবেদন নিয়ে দালালচক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে হাইকমিশন। তরিকুল ইসলাম বলেন, এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। নিজের আবেদন নিজেকেই করার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।মালয়েশিয়া সরকারের বার্তা পরিষ্কার অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু যারা এ সুযোগ নেবেন না তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।পিআরএম ২.০-এর মেয়াদ বাড়ানোর ফলে কাগজপত্রহীন বাংলাদেশিদের জন্য আরও এক বছর দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযানের মধ্যে গ্রেফতার হওয়ার পর আইনি জটিলতায় পড়ার চেয়ে আগেই সরকারি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরাই নিরাপদ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দীর্ঘমেয়াদে অবৈধ অভিবাসন কমাতে বৈধ নিয়োগব্যবস্থা, স্বচ্ছ ভিসা প্রক্রিয়া এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে উদযাপিত হলো ৪০তম ফোবানা সম্মেলন। ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিনদিনব্যাপী এই উদযাপনের আয়োজন করেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা।সংগঠনের আহ্বায়ক নুরুল আমিন বাবু, প্রধান পৃষ্ঠপোষক শফিকুল আলম ও সদস্য সচিব মঞ্জুর কাদেরের আয়োজনে আয়োজনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ড. নুরুন নবী। কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরীর সভাপত্বিতে এক্সেকিউটিভ সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামানের সার্বিক নির্দেশনায় ও উপস্থাপিকা শারমিন সিরাজ সোনিয়ার পরিচালনায়,যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির " Evangel ChristianCenter " এ হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। দেশ বিদেশের শত শত জনপ্রিয় শিল্পীবৃন্দ যেমন-আঁখি আলমগীর, প্রিয়দর্শনী মৌসুমী, বিন্দু কনা, শাহ মাহামুব, শিশু শিল্পী সাগ্নিক মজুমদার ও লালন শিল্পী মেলাল করিমসহ অনেকে এতে গান পরিবেশ করেন। অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতার কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে এবারের ফোবানা সম্মেলনটি ছিল খুবই আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে আগত অনেক বরেণ্য গুণী ব্যাক্তি এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ড. সিদ্দিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্রের হাজি আব্দুল কাদের মিয়া,আলী কবির চান, সাংবাদিক ও লেখক জনাব দস্তগীর আহমেদ, আব্দুল হামিদ, এইচ এম ইকবালসহ আরো অনেকে।
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৪০ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানি ঘটে।সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রোববার ভোরের মধ্যে সরকারি বাহিনীর অন্তত ৮৪ সৈন্য নিহত হয়েছেন; যাদের অধিকাংশই রকেট হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।অন্যদিকে, চারটি হুথি সূত্র বলেছে, একই সময়ে তাদের ৫৭ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ফলে একদিনের কম সময়ের এই সংঘাতে উভয়পক্ষের মোট ১৪১ জন নিহত হয়েছেন।ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক ফ্রন্টে, বিশেষ করে তায়েজ ও হোদাইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগর উপকূলে হঠাৎ করে লড়াই ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি বলে দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে।রোববার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হোদাইদার দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলার নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে সরকারি বাহিনী। এই জেলাটি হোদাইদা, তায়েজ ও ইব্ব প্রদেশ সংযোগকারী সড়কের কাছাকাছি অবস্থিত।সরকারি বাহিনী পার্শ্ববর্তী আল-জারাহি জেলাতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ও ডজনখানেক হুথি যোদ্ধাকে বন্দি করার দাবি করেছে। তায়েজ ও লাহজের আশপাশেও লড়াই ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইয়েমেন সংঘাত তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল; যা এই নতুন লড়াইয়ের মাধ্যমে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যদিও সেই আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ওই বছরের শেষের দিকে ভেস্তে যায়। তবে চুক্তির কারণে গত কয়েক বছর দেশজুড়ে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ দেখা যায়নি। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির কয়েকটি প্রদেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেই আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে।ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তায়েজ ও হোদাইদায় হুথিদের অবস্থান, যানবাহন ও সমাবেশ লক্ষ্য করে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অন্তত ১৫ বার বিমান হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগত সমুদ্রপথ ও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুট বাব-এল-মানদেব প্রণালির দিকে হুথিরা বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরপরই এসব বিমান হামলা চালানো হয়।চলমান এই সংঘাতে দেশটিতে বেসামরিক নাগরিকরাও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) বলেছে, তায়েজে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার পর দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সেখান থেকে বিতাড়িত করার পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। হুথিরা এখনো সানা এবং ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলেরবড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলো দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।সূত্র: এএফপি
লক্ষ্মীপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের দাদা, নাতি ও নাতনির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাকচর এলাকার ইব্রাহিম পাটোয়ারী বাড়ির পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন, আবু সিদ্দিক পাটোয়ারী (৭০), তার নাতি পিয়াস (৮) ও নাতনি পপি আক্তার (৬)। নিহত আবু সিদ্দিক পাটোয়ারী ওই বাড়ির আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীর ছেলে। নিহত পিয়াস তার ছেলে আব্দুল আজিজের সন্তান এবং পপি তার মেয়ে সুমি আক্তারের সন্তান।স্থানীয়রা জানান, দুপুরে আবু সিদ্দিক তার দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যান। একপর্যায়ে তিনি পানিতে ডুব দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তাকে আর পানির ওপরে উঠতে দেখা যায়নি। পরে দাদাকে খুঁজতে পানিতে নামে পিয়াস ও পপি। এরপর তারাও পানিতে ডুবে যায়।ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।শাকচর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবছর ১০ হাজার বৈধ শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ আছে ইতালিতে। পরিবারসহ এই সংখ্যা ১২ হাজার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।পরে সাংবাদিকদের সাথে প্রতিমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী আছে ইতালিতে। ইতালিতে অবস্থানরত আড়াই লাখ বাংলাদেশির প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে যৌথ ওয়ার্কশপ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে যারা আছে, তাদের বৈধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আর দালালের মাধ্যমে যারা অবৈধভাবে যাচ্ছে, তাদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।মালয়েশিয়ার শ্রমিক নেওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, মালোয়েশিয়ার হাইকমিশনারকে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সাল থেকে খাদ্য অপচয় রোধ ও ফুড সিকিউরিটিতে কাজ করা ইতালির মিলান শহরের মডেলে দেশটি বাংলাদেশেও কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ইতালির সাথে মিল রেখে এক্ষেত্রে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ভাষায় প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে দুই দেশ।বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতে ইতালিতে প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট তালিকা পাঠালে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের এই সফরে পাঠানো হবে। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষা শেখাতে প্রতিনিধি পাঠাবে ইতালি। দেশের যেকোনো একটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বাণিজ্য, অভিবাসন, দুই দেশের শহরগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক (টুইনশিপ) নিয়ে আলোচনা করেছি। যদিও এটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল, তার পরেও ইতালি ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে কীভাবে একসাথে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় স্বাভাবিকভাবেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই ধরনের মন্ত্রণালয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি ও উৎসাহিত করতে ইতালি সবসময়ই আগ্রহী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংসদ বাদ দিয়ে মাত্র ছয় মাসের মাথায় রাজপথে ‘লং মার্চ’-এর নামে বিরোধী দল গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দল রাজপথে লং মার্চের কর্মসূচি নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে অশ্রাব্য ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে এবং দলকে সেগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে দেখা যাচ্ছে, যা স্পষ্টত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। জনগণের সামনে যেসব শব্দ উচ্চারণ করা যায় না, তা প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে বিরোধী দল তাকে দমন-পীড়ন বলে দাবি করে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল শুধু সমালোচনাই করে যাচ্ছে, অথচ সংকট নিরসনে তাদের গঠনমূলক কোনো প্রস্তাবনা নেই। তারা সংসদে এই বিষয়ে কোনো পরামর্শ না দিয়ে বাইরে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক অর্জনগুলোকে তারা জনগণের সামনে তুলে না ধরে আড়াল করার চক্রান্ত করছে।তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে বিরোধীরা রাজপথে আন্দোলন করে বেড়ালেও সাধারণ জনগণ তাদের এই ভূমিকা ভালোভাবে দেখছে না। দায়িত্বশীল বিরোধী দলের মতো সংসদে নিজেদের দাবি বা প্রস্তাব না তুলে তারা রাজপথ বেছে নিয়েছে, যা মূলত সরকারের সার্বিক উন্নয়ন ঢাকা দেওয়ারই অপচেষ্টা। রিজভী বলেন, বিএনপির পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ব্যবহৃত সব বিলবোর্ড ও ব্যানার অবিলম্বে খুলে ফেলতে হবে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, মাহমুদুর রহমান সুমন, আসাদুল করিম শাহীন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মরহুম জহিরুল হক খসরু মাস্টার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের উদ্যোগে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় নবীনগর উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জনকারী ও সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে কৃতী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং তাদের হাতে অভিনন্দনপত্র ও মেধাবৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় নবীনগর উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকারী শারমিন সুলতানা চৈতীকে ১০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী জান্নাতুল মাওয়াকে ৭ হাজার টাকা এবং যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকারী কাজী তাসনিয়া ইবনান নিধি ও মুনতাহা মেহজাবিনকে ৫ হাজার টাকা করে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। কৃতী শিক্ষার্থীরা সবাই নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী।ভালো ফলাফলের জন্য নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ কাওসার বেগমকে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়।মরহুম জহিরুল হক খসরু মাস্টার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সভাপতি ও জনতা ব্যাংক পিএলসি, নবীনগর শাখার ব্যবস্থাপক আশরাফুল হকের সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ জামাল হোসেন পান্নার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ কাওসার বেগম।বিশেষ অতিথি ছিলেন নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি, সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম লিটন, নবীনগর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন এবং নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াছিনুল হক।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মরহুম জহিরুল হক খসরু মাস্টার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিন্টু মিয়া।বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তারা।কৃতী শিক্ষার্থীরা এমন সম্মাননা ও মেধাবৃত্তি পেয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন ও উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
দুর্দান্ত জয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকি শুরু করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চীনে হকিতে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল বাংলাদেশি মেয়েদের একচেটিয়া আধিপত্য।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলে বাংলাদেশ। দলের হয়ে প্রথম গোল করেন কনা আক্তার। কনার পর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করেন ইমা এবং আইরিন আক্তার রিয়া। তারা দুজনেই ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জোড়া গোল করেন।চতুর্থ কোয়ার্টারে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বাংলাদেশ। এ সময় দলের পক্ষে হাল ধরেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। তিনি চমৎকার দক্ষতায় পরপর আরও দুটি গোল করেন। অধিনায়কের এই জোড়া গোলে বাংলাদেশের বড় জয় নিশ্চিত হয়।কনার প্রথম গোল, এরপর ইমা ও রিয়ার জোড়া গোল এবং শেষ কোয়ার্টারে অধিনায়ক সারিকা রিমনের জোড়া গোলের ওপর ভর করে ৭-০ ব্যবধানের এই বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ।টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচসেরা হয়েছেন আইরিন আক্তার রিয়া। এ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। হংকং চায়নার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে শুরু করেছে পাকিস্তান।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ মুকুট জিতেছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে ১১১ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব জেতেন তিনি।এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডোমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সুবাদে এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে সফল জোহাইরি একাধারে শিক্ষক, সাংবাদকর্মী, সমাজকর্মী। শনিবার তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি।এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
কক্সবাজারের সমুদ্রে সৈকতে মোহনীয় লুকে দেখা মিলল অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির। তিনি নিজেই সমুদ্র সৈকত থেকে নিজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এরপর থেকেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবেতিনি জানিয়েছেন অন্য কোনো কারণে নয় শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন চিত্রনায়িকা দীঘি। নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।ছবিতে সমুদ্রের পাড়ে স্বাভাবিক ও ছিমছাম সাজে দেখা গেছে তাকে। সাগরের নীল জল আর বালুচরের আবহে অভিনেত্রীর নতুন লুকও নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।ছবির ক্যাপশনে দীঘি লিখেছেন, ‘আমি এসেছি সাগর পাড়ে ‘গো প্লান’-এর সাথে।’ এরপর থেকেই তার কক্সবাজার সফরের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই অভিনেত্রীর প্রশংসা করার পাশাপাশি জানতে চেয়েছেন, সেখানে নতুন কোনো কাজের শুটিং করছেন কি না।দীঘি অবশ্য বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাইছেন না। জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন প্রজেক্টের জন্য সেখানে গেছেন, সেটি আপাতত গোপনই রাখছেন অভিনেত্রী।নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীঘি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সময় হলে জানতে পারবেন।’ ফলে তার নতুন কাজটি সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রজেক্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও শেয়ার করেন দীঘি। এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপাড় থেকে প্রকাশ করা ছবিগুলোও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। ছবির পাশাপাশি নতুন কাজের রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আগ্রহ।শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন দীঘি। ছোটবেলায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এখন নতুন এই কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে কী চমক নিয়ে হাজির হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজ ধারণ করে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুকাইয়া জাহান চমক। নিজের ভ্লগ সিরিজ ‘ডিসকভারিং বাংলাদেশ উইথ চমক’-এর একটি পর্বে বেগম জিয়ার আইকনিক লুকে ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। হঠাৎ কেন এই সাজ, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলে সম্প্রতি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন অভিনেত্রী। ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে এই সাজ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চমক বলেন, “আপনারা কি আমার ‘ডিসকাভারিং বাংলাদেশ’ ব্লগ আগে দেখেন নাই? এর আগে আমি যখন মনিপুরী বা গারোদের নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাদের কস্টিউম পরেছি। আমি যখন তাঁতশিল্প নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাঁতের শাড়িটা পরছি। আমি যখন যে ভিডিওটা করি, তখন সেটার লুক নিই। ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা করিনি, আপনারা খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন এটা আমার ভিডিও বানানোর প্যাটার্ন।”নিজের সাজ ও পোশাক দিয়ে দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ফ্যাশন, আমাদের ট্র্যাডিশন ও কালচার নিয়ে স্টাডি করি। বাংলাদেশের পোশাক এমন একটা জিনিস যার মাধ্যমে আমরা আমাদের আইডেন্টিটি, দেশের পরিচয় ও কালচার রিপ্রেজেন্ট করতে পারি।’চলতি বছর বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় এসেছিলেন চমক। রাজনীতি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমি দেশনীতিবিদ হতে চাই। আমার জন্য রাজনীতি শব্দটা একটু আলাদা। দেশের জন্য কিছু করার একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। এরকম কিছু বড় প্ল্যাটফর্ম যদি পাই, সেখান থেকে আমার জন্য দেশের পলিসি মেকিং, দেশের অনেক পরিবর্তন আনার জায়গাটা পাওয়া সহজ হবে। এটাই আমার রাজনীতিতে জড়ানোর কারণ ছিল।’বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এই মূল্যায়নটা কোনো আলাদা জায়গা দিয়ে করতে পারব না। কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ১০, কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ০। এক কথায় তো উতর দেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।’২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে শোবিজে পা রাখেন রুকাইয়া জাহান চমক। এরপর ‘হায়দার’, ‘মহানগর’, ‘হাউস নম্বর-৯৬’ ও ‘ভাইরাল হ্যাজব্যান্ড’-এর মতো জনপ্রিয় কাজ দিয়ে অল্প দিনেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং নিয়েও বেশ সরব এই অভিনেত্রী।
এ প্রজন্মের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মডেল তাসরিন ইসলাম রশনি। এবার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘ফুলের বিয়ে’। এটি নির্মাণ করেছেন রুবেল আনুশ।তিনি ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ফ্যাশন মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে ফটোশুট ও মিউজিক ভিডিওতেও নিয়মিত কাজ করছেন এই মডেল।‘ফুলের বিয়ে’ নাটকে রশনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি ও জুনায়েদ বোগদাদী। এসকে মিডিয়া পিআর প্রযোজিত নাটকটির শুটিং এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে।নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তাসরিন ইসলাম রশনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছি। কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো ছিল। কাজটি খুব সুন্দর হয়েছে। আমার ইচ্ছা মডেলিং ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করা। এছাড়াও নতুন কিছু কাজ নিয়ে কথা চলছে। মডেলিং ও অভিনয়ের সব মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাশন মডেলিং নিয়ে আমার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের পরিচিতি বাড়ানো। আমি চাই বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের মঞ্চে তুলে ধরতে। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সব মাধ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’নাটকে অভিষেকের মধ্য দিয়ে মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান তাসরিন। সামনে ভালো গল্প ও চরিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান তিনি।
নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। নিখোঁজ আছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। চরম এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে আটকে পড়েছিলেন ঢাকাই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো ইউনিট। তবে অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা। পরিস্থিতি বিবেচনা ও মানবিক দিক চিন্তা করে নেপালের শুটিং শিডিউল স্থগিত রেখে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগটি ঘটে। কাকতালীয়ভাবে তাদের পরিকল্পনা ছিল ২৭ আগস্ট একই পথ দিয়ে যাত্রা করার। ভ্রমণের সময় একদিন পর হওয়ায় অলৌকিকভাবে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং টিম।ভয়ংকর সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে অপু বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’দুর্ভোগের মাঝে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এই নায়িকা বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল। ছবিতে অপুর পাশাপাশি অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও। যখন নেপালে বন্যা, ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির কথা খবরে আসতে থাকে, তখনই তাদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে ভক্তরা। গতকাল কলকাতা বিমানবন্দরে খরাজ পা রাখতেই ভক্ত সকলকে আশ্বস্ত করেন তারা নিরাপদে ছিলেন; তার ঘণ্টা কয়েক পর অপু বিশ্বাস ঢাকায় ফিরে সেখানকার অবস্থার কথা জানালেন।
চা বাগান ও পাহাড়ি গিরিপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে সম্পন্ন হয়েছে টেলিফিল্ম ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’-এর দৃশ্যধারণের কাজ। এটি রচনা ও প্রযোজনা করেছেন নির্মাতা মো: বোরহানুল আশেকীন (পেশাগত নাম: বোরহান খান)। খুব শীঘ্রই নাটকটি একটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।নাটকটি পরিচালনা করেছেন ফরিদ আহমেদ রনি। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলিনা শাম্মী, আল মামুন রূপান্তর, বাঁধন খান, রাজিব, ফাহাদ সরদার, রোহান সরকার, সাদিয়া আমিন একা, ইকফাত শেখ মারিয়া এবং ইমরান সানি। এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন এস এম রনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিমস ইন ফ্রেম’-এর ব্যানারে এটি নির্মিত হয়েছে।টেলিফিল্মটির গল্প প্রসঙ্গে প্রযোজক মো. বোরহানুল আশেকীন জানান, ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’ মূলত একটি গভীর ভাবনামূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে, যা দর্শকদের মনে দীর্ঘ রেখাপাত করবে। এর আগে তার প্রযোজনায় ও পরিচালনায় একাধিক টিভি সিরিজ, একক নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে।পরিচালনার পাশাপাশি বোরহান খান একজন লেখক। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো কাব্যগ্রন্থ ‘সবুজ প্রেম’, থ্রিলার উপন্যাস ‘অপারেশন কার্গো নিক্স’ এবং ‘শিশুর দেখা ৭১’।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দুর্নীতিবাজদের কোনো ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের (নোয়াখালী-৬) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সরকার কোনোভাবেই সুরক্ষা দিচ্ছে না। দুর্নীতিতে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে এবং মামলাগুলো চলবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কার্যক্রম চালু রাখলেও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কোম্পানির বকেয়া দায় পরিশোধের স্বার্থে আইনসম্মতভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানির কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, ‘সরকার এক্ষেত্রে দুটি বিষয় পৃথকভাবে বিবেচনা করছে- আইনসম্মতভাবে প্রয়োজন হলে কোম্পানিগুলোকে তাদের বৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আর্থিক খাত পরিচালনায় আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতি অনুসরণ করবে এবং একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।’অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কোম্পানির শুধু মালিক বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেই ওই কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হবে না।’তিনি বলেন, ‘করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আইনগত সত্তা এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায়- এই দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।’আমির খসরু বলেন, ‘অর্থনীতি ও আর্থিক খাত পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু নীতি রয়েছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সত্তা কোনো ব্যক্তির সত্তা থেকে পৃথক।’তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে বিচারের আওতায় আনা যেতে পারে। তবে কোম্পানির কার্যক্রম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। কারণ, একটি কোম্পানি একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা।’তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে এবং তাকে বিচারের আওতায় আনা যাবে। কিন্তু কোম্পানি একটি আইনগত সত্তা।’আমির খসরু বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে একটি কোম্পানি বন্ধ করে দিলে এর ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে কর্মচারী, ঋণদাতা, ঋণ পরিশোধ এবং অর্থনীতিতে কোম্পানিটির অবদান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’তিনি বলেন, ‘কোম্পানির কর্মচারী আছে, দায়-দেনা আছে। তাদের ঋণ পরিশোধ করতে হয় এবং অর্থনীতিতে তাদের অবদান রয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত আবেগের ভিত্তিতে নয়, আইন ও প্রতিষ্ঠিত আর্থিক নীতির ভিত্তিতে নিতে হবে।’অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আবেগ দিয়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা যায় না; আইন অনুযায়ী তা পরিচালনা করতে হয়।’বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি কোম্পানিকে ঋণসংক্রান্ত সুবিধা দিয়ে আইন লঙ্ঘন করছে- এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি।আমির খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে ঋণ দিচ্ছে না।’ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানে সুযোগ থাকলেই কোনো কোম্পানি ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুবিধা পেতে পারে।’তিনি আরও বলেন, ‘আইনে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকলে যোগ্য কোম্পানিগুলো তা নিতে পারবে। যারা যোগ্য নয়, তারা এই সুবিধা নিতে পারবে না।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে উদযাপিত হলো ৪০তম ফোবানা সম্মেলন। ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিনদিনব্যাপী এই উদযাপনের আয়োজন করেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা।সংগঠনের আহ্বায়ক নুরুল আমিন বাবু, প্রধান পৃষ্ঠপোষক শফিকুল আলম ও সদস্য সচিব মঞ্জুর কাদেরের আয়োজনে আয়োজনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ড. নুরুন নবী। কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরীর সভাপত্বিতে এক্সেকিউটিভ সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামানের সার্বিক নির্দেশনায় ও উপস্থাপিকা শারমিন সিরাজ সোনিয়ার পরিচালনায়,যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির " Evangel ChristianCenter " এ হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। দেশ বিদেশের শত শত জনপ্রিয় শিল্পীবৃন্দ যেমন-আঁখি আলমগীর, প্রিয়দর্শনী মৌসুমী, বিন্দু কনা, শাহ মাহামুব, শিশু শিল্পী সাগ্নিক মজুমদার ও লালন শিল্পী মেলাল করিমসহ অনেকে এতে গান পরিবেশ করেন। অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতার কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে এবারের ফোবানা সম্মেলনটি ছিল খুবই আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে আগত অনেক বরেণ্য গুণী ব্যাক্তি এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ড. সিদ্দিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্রের হাজি আব্দুল কাদের মিয়া,আলী কবির চান, সাংবাদিক ও লেখক জনাব দস্তগীর আহমেদ, আব্দুল হামিদ, এইচ এম ইকবালসহ আরো অনেকে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
কাজের চাহিদা ও ধরন বদলানোর সাথে সাথে বর্তমানে একইসাথে অনেকগুলো কাজ করা নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠেছে। কম্পিউটারের মনিটরের এক কোণায় স্প্রেডশিট খোলা, তো আরেক পাশে ক্লায়েন্টের মেইল; জুমে মিটিং করতে করতেই কিছুক্ষণ পরপর ইনবক্স চেক করা, জরুরি কোন ইমেল আসল কি-ই না। এর সাথে আছে ব্রাউজারে খোলা অসংখ্য ট্যাব, যার অর্ধেকের বেশিই কেন খোলা হয়েছিল, সেটার হদিস নেই।সময়ের সাথে সাথে কাজের ধরণ বদলেছে ঠিকই, তবে এর সাথে তাল মিলিয়ে এখনো বদলায়নি অনেকের কম্পিউটারের স্ক্রিন। এখন যেভাবে দ্রুত ও একসাথে অনেক কাজ সামলাতে হয়, তা আদতে পুরোনো বা ২৪ ইঞ্চির ছোট মনিটরে করা সম্ভব নয়। পুরোনো মনিটরে মানিয়ে নিতে হয়তো প্রত্যেকটি কাজের জন্য আলাদা উইন্ডো বেছে নিতে হবে, অথবা সব একসঙ্গে দেখতে উইন্ডোগুলো এতটাই ছোট করতে হবে যে পড়তে গেলে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়বে। পাশাপাশি, বারবার উইন্ডো ও ট্যাব বদলানোর কারণে কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।তবে, এখন সময় বদলেছে; বদলেছে মনিটরের পরিসরও। নতুন প্রযুক্তির মনিটরগুলো যেমন প্রশস্ত, তেমনই টেকসই, যা বদলে দিতে পারে কাজের অভিজ্ঞতা। বড় মনিটরগুলোতে বারবার ট্যাব পরিবর্তনের ঝামেলা নেই, তিন-চারটি উইন্ডোতে অনায়াসেই কাজ করা যায়। হাতের কাজগুলো সব একসাথে সামনে থাকলে কমে মানসিক চাপও।তবে, একইসাথে, একাধিক কাজ করার সুবিধা শুধুমাত্র মনিটরের আকারের ওপরেই নির্ভর করে না; অন্যান্য ফিচারও গুরুত্বপূর্ণ। ছবির ক্লারিটি, রঙের নির্ভুলতা, রেজ্যুলেশন; সবকিছুই কাজের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলে। পেশাজীবীদের দিনের দীর্ঘ একটি সময় কাটে স্ক্রিনের সামনে। তাই, চোখের ওপর চাপ কমানো, কম নীল আলো নিঃসরণ এবং ফ্লিকার-ফ্রি প্রযুক্তির মত সুবিধাসহ মনিটর থাকা এখন কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই তৈরি হচ্ছে আধুনিক মনিটর। উদাহরণ হিসেবে স্যামসাংয়ের নতুন ‘ওডিসি নিও জি৯’ -এর কথা বলা যায়। ৫৭ ইঞ্চি আকারের এই মনিটরটি বর্তমানে বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে বড় মনিটর। এর বড়, বাঁকানো পর্দায় একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিসর তৈরি করে পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করা সম্ভব।অন্যদিকে, যাদের কাজ তুলনামূলকভাবে বেশি ভ্যিজুয়াল নির্ভর, যেমন গ্রাফিক ডিজাইন বা ভিডিও সম্পাদনা, তাদের জন্য রয়েছে ৪৯ ইঞ্চির ‘ওডিসি ওএলইডি জি৯’। আল্ট্রাওয়াইড স্ক্রিনের সাথে মনিটরটিতে রয়েছে ওএলইডি প্রযুক্তি, যা উজ্জ্বল রঙ ও তীক্ষ্ণ কন্ট্রাস্টর জন্যে সুপরিচিত। আর গেম খেলার ক্ষেত্রে আলাদা ভাবে নজর কাড়ে স্যামসাংয়ের ‘ওডিসি জি৬’। এটি বিশ্বের প্রথম ৫০০ হার্টজ ওএলইডি মনিটর, যা দ্রুতগতির দৃশ্যেও ল্যাগ কমিয়ে মসৃণ গেমিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি আধুনিক এ মনিটরগুলো আমাদের প্রাত্যহিক কাজকে আরও সহজ করে দিতে পারে। কম্পিউটার যেহেতু দিনের বড় একটি সময় আমরা ব্যবহার করি, তাই নতুন হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ করা কে নিছক খরচ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কাজের সময় স্ক্রিনে যদি পর্যাপ্ত জায়গা, ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য এবং চোখের স্বস্তি থাকে, তাহলে হাজারটা ট্যাব বা উইন্ডো সামলানো নিয়ে আর ভাবতে হয় না, কাজ শেষ করা যায় স্বস্তিতে, কোন ঝামেলা ছাড়াই।
গ্যাস সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘No gas no bill, No service no tax’ (গ্যাস না থাকলে বিল নয়, সেবা না মিললে কর নয়)। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রুমিন ফারহানা। জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে মানুষ বলে— দুষ্টু লোকেরা বলে, অবশ্য ভালো লোক না— ‘টুকু আসে টুকু যায়’। এই আসে এই যায়, কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।