দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭২ জন।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২৬০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭৬ জন, খুলনা বিভাগে ২৫৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০৯ জন, রংপুর বিভাগে ১০১ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৬ জন রয়েছেন।এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১ হাজার ৫৯৮ জন।
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়া বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদত্যাগের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।এর আগে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রজনন স্বাস্থ্য, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। এই সেন্টারটি পড়েছে ঢাকা-১৪ আসনে। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার আরমান।গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ের একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আর পাকা ভবনের আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, টিকাকক্ষ, ল্যাবরেটরিসহ পাঁচটি কক্ষের জানালা-দরজা ভেঙে ফেলা হয়।অভিযোগ রয়েছে, দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙার সরঞ্জাম নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে। সব মিলিয়ে পুরো স্থাপনাটিতে কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় করা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়।রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে।২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন মিষ্টি। তখন ওই সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে সভাপতি হিসেবে সই করেছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ।এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ।স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে।রাড্ডার ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়।তবে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কুকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। একই দিনে ছাত্রদলের পাঁচজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুজন ও শ্রমিক দলের চারজনকে বহিষ্কার করা হয়।ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির কোনো কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। যুবদল ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট কমিটি দুটির ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
দেশের ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।দিবসটি উপলক্ষে দেশের শ্রমজীবী মানুষ, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক এবং উৎপাদন ও সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বৃহৎ শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় ও অপচয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনের জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।রাষ্ট্রপতি বলেন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প ও সেবা খাতকে আরও দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে এ বছরের জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসের প্রতিপাদ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয় সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।বাণীতে তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নীতিগত সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকার, শিল্পোদ্যোক্তা, শ্রমিক, গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন দেশের শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখবে।তিনি বলেন, টেকসই উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদের যথাযথ ও সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে আরও উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই শিল্প অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।রাষ্ট্রপতি জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
চলমান সংঘাতের মধ্যেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ইতোপূর্বে আলোচনার চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র তিনবার ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলা চালালেও তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসতে দ্বিধা করেনি এবং ভবিষ্যতেও তা এড়িয়ে যাবে না। খবর আল জাজিরার।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইরানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে এক ব্যবসায়ী সম্মেলনে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত ওই সভায় পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের কারণে দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতিতে যেসব প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে, তা নিরসনে তার সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন, সংকট মোকাবিলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে বর্তমানে চমৎকার সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে।সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রের অবরুদ্ধকরণ ও বিধিনিষেধের বিষয়টি উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান জানান, সামুদ্রিক রুট বিঘ্নিত হওয়া সত্ত্বেও ইরান থেমে নেই। আঞ্চলিক বাণিজ্য চাঙ্গা রাখতে পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান, ইরাক, তুর্কমেনিস্তান ও আজারবাইজানের সঙ্গে স্থলপথে বিকল্প আমদানি-রপ্তানির সুযোগ ও বাণিজ্য পরিধি আরও সম্প্রসারণের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববাসীকে মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। আগামীকাল ২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় মহাসচিব মহাত্মা গান্ধীর অসাধারণ জীবন ও শান্তির নীতিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অন্যায়ের জবাব কখনো সহিংসতা বা নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে দেওয়া যায় না, বরং সংলাপ ও অহিংসার পথ অবলম্বন করেই একটি সম্মানজনক ও টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান বিভাজন, উত্তেজনা ও সংঘাতের এই সময়ে গান্ধীর শিক্ষা নতুন করে জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জাতিসংঘ প্রধান মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বৈষম্য ও দারিদ্র্য মানুষের মধ্যে ব্যবধান বাড়াচ্ছে। একই সাথে শান্তি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি যেমন— জাতিসংঘের সনদ, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনীতির পথকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।সংকটময় এই সময়ে সহিংসতা ও বিভাজন দূর করতে সাহসিকতা, সহানুভূতি এবং মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করার আহ্বান জানান মহাসচিব। তিনি বলেন, একমাত্র সংলাপ, কূটনীতি ও অহিংস পথের মাধ্যমেই বর্তমান পৃথিবীর দুর্ভোগ অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।
নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি দেশীয় পণ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হচ্ছে দশম হার-ই-ট্রেড এক্সিবিশন ‘শারদীয় আবাহন’। হার-ই-ট্রেড ট্রাস্টের আয়োজনে আগামী ২ ও ৩ অক্টোবর ধানমন্ডি-২৭-এর মাইডাস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রদর্শনী। আয়োজকরা জানান, এবারের এক্সিবিশনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৬২ জন নারী উদ্যোক্তা অংশ নেবেন। প্রদর্শনীতে থাকবে ফ্যাশনপণ্য, হস্তশিল্প, সেবা ও খাবারসহ বিভিন্ন দেশীয় লাইফস্টাইল পণ্য।২ অক্টোবর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ—সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ।আয়োজকদের ভাষ্য, নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনকে তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং, বাজার সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরির সুযোগ করে দেবে এ আয়োজন।২ ও ৩ অক্টোবর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনী। এর মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল এস।
৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, বিসিএস বা এই সমস্ত পরীক্ষা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।৪৯তম বিসিএস (বিশেষ শিক্ষা) ক্যাডারের নিয়োগের প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছি, গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছি। এই বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, এই সমস্ত পরীক্ষা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সেই কারণে কোনো বৈষম্য করা হবে না।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে কয়েকটি উদাহরণ আমি আপনাদের দিতে পারি। সোশ্যাল মিডিয়াতে- মনে হয় ফেসবুকে একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তিনি আত্মহত্যা করবেন, গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবেন। প্রজ্ঞাপনে তাঁর নাম ছিল, কিন্তু ভেরিফিকেশনের কারণে পরবর্তীতে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি; সেজন্য গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবেন। প্রজ্ঞাপন তো একবার হয় না, কয়েকবার হতে পারে। সার্ভিসে যোগদানের তারিখ সম্ভবত ১২ তারিখ, আজকে ১ তারিখ, মাঝে আরও ১১টি দিন আছে। যারা এই সমস্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন। তিনি তাঁদের একজন।মন্ত্রী বলেন, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চয়ই আপনারা জেনেছেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের পদ-পদবীধারী নেতা ছিলেন, সম্ভবত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর সেই রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে তিনি সন্দেহ করে নিয়েছেন যে তাঁকে চাকরির নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। আমি এখন ঘোষণা করছি, আগেও বলেছি- কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারো প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারো বিরুদ্ধে যদি গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে শতকরা একজন বা হাজারে দুই-একজনের সেই অপরাধের কারণে বাদ পড়তে পারে। কারো বিরুদ্ধে যদি কোনো কনভিকশন থাকে, সেটা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেরকম কিছু কিছু আইনি বিধান থাকে। তা না হলে পরবর্তীতে পাবলিক সার্ভিসে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, যেমন অতীতে অনেক বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে আমরা দেখেছি। ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করব।মন্ত্রী বলেন, আরও একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন- আমি নাম নেব না, তিনিও একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বিভিন্ন রকমের স্ট্যাটাস দিয়েছেন যে, ‘ভেরিফিকেশনের নামে সমস্ত অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হোক’। ভেরিফিকেশন একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া; সেটা সবসময়, সব সরকারের সময় বিধি মোতাবেক করা হয়ে থাকে। কিন্তু যদি গুরুতর কোনো অভিযোগের কারণে কেউ ভেরিফিকেশনের দরুন নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটা অভিযোগ বা আবেদন দাখিল করা যায়, যা তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এখনো সেই সময়টা আসেনি।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ সমস্ত অপপ্রচার বা অপতথ্য দিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি করার কোনো কারণ নাই। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করব, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য আমাদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের যেন উত্তেজিত না করা হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না। তিনি বলেন, নিয়োগপত্র ইস্যু করার জন্য প্রজ্ঞাপনের আরও সময় আছে। আগামী সোমবারে ৪৬ জনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির দিন নির্ধারিত আছে। তার আগে কিছু প্রক্রিয়া আছে, প্রজ্ঞাপনের ফাইলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। আমি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করব। আর যারা এ সমস্ত অপতথ্য প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদেরকে এসব থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।দূতাবাসের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের স্থানীয় আইন ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা পরিপন্থী কিংবা বিতর্কিত কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে সংরক্ষিত এলাকা, স্থাপনা ও সংবেদনশীল ঘটনা বা বিষয় নিয়ে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় আইন, জননিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার বিরোধী কোনো বিষয় প্রকাশ, প্রচার, সংরক্ষণ, আদান-প্রদান, লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার না করার জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।দূতাবাস ও কূটনৈতিক এলাকার অভ্যন্তরে, বাইরে কিংবা আশপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা এবং অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।দূতাবাস জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করা স্থানীয় সৌদি আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রবাসীজীবন নিশ্চিত করতে সকল বাংলাদেশিকে দায়িত্বশীল আচরণ, সচেতনতা এবং সৌদি আরবের আইন ও বিধিবিধানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।ওই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।রাশেদ খান লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটি আবারও প্রমাণিত হলো।’একই পোস্টে জামায়াতের এক এমপির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকেও যদি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য করতেন, তাহলে হয়তো ছোট্ট মেয়ে মরিয়মের দুনিয়া ছাড়া লাগতো না।’দলীয় শৃঙ্খলা ও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাশেদ খান লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যারা অপচেষ্টা করবে এবং যারা নিজের স্বার্থের জন্য দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হবে, তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে।দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।প্রসঙ্গত, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে আকস্মিক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ভারী যন্ত্র দিয়ে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আলোচিত এই ঘটনায় স্থানীয় এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারীসহ ৫৭ জনের নাম গেজেট থেকে বাদ পড়েছে। বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।তারা বলেন, বিসিএসের মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পরও কারও নিয়োগ আটকে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একটি চাকরি শুধু একজন তরুণের কর্মসংস্থান নয়, বরং একটি পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত আচরণ ও মানবিকতা নিশ্চিত করা উচিত।তাঁরা বলেন, কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী বা আইনত নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকলে কেবল তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে চাকরি আটকে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। একজন প্রার্থীর মূল্যায়ন হতে হবে তাঁর নিজের মেধা, যোগ্যতা, সততা ও ব্যক্তিগত রেকর্ডের ভিত্তিতে,তাঁর বাবা, চাচা বা মামা কোন রাজনৈতিক দল করেন, তার ভিত্তিতে নয়।নেতৃদ্বয় বলেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে কেন্দ্র করে মেধাবীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছিল। যারা তখন এর প্রতিবাদ করেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তাঁদের আমলে একই ধরনের অভিযোগ তৈরি হলে তা গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ক্ষমতার পরিবর্তনের অর্থ কেবল সরকার পরিবর্তন নয়,রাষ্ট্রের আচরণ ও বঞ্চনার সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হতে হবে।এবি পার্টির নেতৃদ্বয় ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৭ জনকে ( ফৌজদারী অপরাধ জড়িত না থাকলে) গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা অস্বচ্ছ ও হয়রানিমূলক ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।তাঁরা বলেন, মজলুমের কাতার থেকে ক্ষমতায় এসে যদি একই বঞ্চনার সংস্কৃতি চালু করা হয়, জনগণ তা মেনে নেবে না। ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের আচরণের পরিবর্তনই জনগণের প্রত্যাশা।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের মতামত ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে জলবায়ু নীতি প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু মোকাবিলায় তরুণদের উদ্যোগ ও নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতে হবে।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী ‘তরুণদের স্থানীয় সম্মেলন বাংলাদেশ ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩০০ তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে প্রণীত জাতীয় তরুণ জলবায়ু অবস্থানপত্র প্রকাশ করা হয়। পরে এটি সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সরকার তরুণদের স্বাগত জানায়। পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে তরুণরা আরও সোচ্চার হোক এবং নিজেদের মতামত ও উদ্যোগের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখুক। সরকার তাদের পাশে থাকবে।’ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘সারা দেশের তরুণদের তৈরি এই অবস্থানপত্রকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তরুণদের জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলো সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ জায়গায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। এ ধরনের উদ্যোগে সরকার সব সময় তরুণদের সহযোগিতা করবে।’সম্মেলনে জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, সবুজ কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু নীতিনির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। এসব বিষয়ে তরুণেরা তাঁদের দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত এবং ব্রাইটার্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সাইদুর রহমান সিয়াম।ব্রাইটার্সের চেয়ার ফারিয়া সুলতানা অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর আয়োজন করা হয়। ব্রাইটার্স ফাউন্ডেশনসহ ৩০টি যুব সংগঠন এতে সহযোগিতা করে। আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল অ্যাকশনএইড, কেয়ার, ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তরুণদের অংশগ্রহণে প্রণীত এই অবস্থানপত্র আগামী আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণদের অগ্রাধিকার, দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।ওই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।রাশেদ খান লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটি আবারও প্রমাণিত হলো।’একই পোস্টে জামায়াতের এক এমপির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকেও যদি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য করতেন, তাহলে হয়তো ছোট্ট মেয়ে মরিয়মের দুনিয়া ছাড়া লাগতো না।’দলীয় শৃঙ্খলা ও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাশেদ খান লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যারা অপচেষ্টা করবে এবং যারা নিজের স্বার্থের জন্য দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হবে, তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে।দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।প্রসঙ্গত, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে আকস্মিক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ভারী যন্ত্র দিয়ে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আলোচিত এই ঘটনায় স্থানীয় এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে মোঃ মাছুম মিঞা নামের এক সাংবাদিকের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই সাংবাদিকের বাম চোখের উপরিভাগে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে থেঁতলানো জখম করা হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে এসে তার বড় ভাই মাসুদ মিঞাও হামলার শিকার ও আহত হন।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে রূপগঞ্জ থানাধীন মঠের ঘাটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত সাংবাদিক দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকা ও অনলাইন 'এম এইচ নিউজ-২৪'-এর রূপগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হামলাকারীরা হলেন জাঙ্গীর এলাকার শাহিদুল ইসলাম সাহেদ (৩০), মোঃ জাহিদুল (৪০), মোঃ আবু সাঈদ (৩৫) এবং তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন । অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তারা সাংবাদিক মাছুম মিঞাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে মঠের ঘাট এলাকায় অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো ছেনদা, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে তার গতিরোধ করে হামলা চালায়। হামলাকারীদের ১ নং আসামি চাপাতি দিয়ে তার বাম চোখের উপরিভাগে খুনের উদ্দেশ্যে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে এবং তার বড় ভাই মাসুদ মিঞাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে তার পকেট থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। রূপগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
এশিয়ান গেমসে সোনার পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণ শক্তির দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ছেলেদের ক্রিকেটে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে মাঠেই নামতে হলো না টাইগারদের। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় কোনো বল না খেলেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।টানা বৃষ্টিতে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি একটি বলও মাঠে না গড়িয়েই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে ম্যাচ বাতিল হলেও এতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বাংলাদেশের ওপর। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় কোয়ার্টার ফাইনাল পার করে সরাসরি শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।জাপানের নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই বৃষ্টিতে মাঠ খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং আগের দিনের পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাচটি নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কাই সত্যি হয়।টসের নির্ধারিত সময়ের আগেই ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মাঠ খেলার উপযোগী না হওয়ায় আম্পায়াররা ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। ফলে ব্যাটিং কিংবা বোলিং- কোনোটিতেই নামার সুযোগ পায়নি দুই দল।এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বৃষ্টির কারণে এবার একের পর এক ম্যাচ পরিত্যক্ত হচ্ছে। নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এটি টানা ষষ্ঠ ম্যাচ, যেটি বৃষ্টির কারণে বাতিল হলো। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচেই একটি বলও মাঠে গড়ায়নি।বাংলাদেশের জন্য অবশ্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়া শেষ পর্যন্ত স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পায়। সেই হিসাবে মালয়েশিয়ার চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশই পেয়েছে শেষ চারের টিকিট।অর্থাৎ এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেই সেমিফাইনালে ওঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে না নেমেই পরের ধাপে চলে গেল বাংলাদেশ।সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আগামী ১ অক্টোবর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।তবে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সামনে নতুন করে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো সেমিফাইনালও যদি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় এবং কোনো বল মাঠে গড়ানো সম্ভব না হয়, তাহলে পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে। কারণ, সে ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধা পাবে পাকিস্তান। ফলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে ফাইনালে উঠে যাবে পাকিস্তান।তাই ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মাঠে নামলে বাংলাদেশকে শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষেই লড়তে হবে না, নজর রাখতে হবে আবহাওয়ার দিকেও। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত যেভাবে বৃষ্টি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে, তাতে সেমিফাইনালের আগে সেটিই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ।
মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়েন মারা গেছেন। ‘দ্য স্টিং’ ও ‘জ্যানাডু’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের বিভিন্ন পর্বে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে গত ২২ জুলাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি জেমস স্লোয়েনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। সপ্তাহের শেষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।‘স্টার ট্রেক’ ভক্তদের কাছে জেমস স্লোয়েন পরিচিত ছিলেন ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ ও ‘ভয়েজার’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য। ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এ তিনি একজন রোমুলান অ্যাডমিরালের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ক্লিঙ্গন চরিত্র ওয়ার্কের ছেলের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাকে। ‘ডিপ স্পেস নাইন’-এ বিজ্ঞানী ড. মোরা এবং ‘ভয়েজার’-এ হাকোনিয়ান বিজ্ঞানী মা’বোর জেটরেল চরিত্রে অভিনয় করেন।১৯৭৩ সালে জর্জ রয় হিল পরিচালিত অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’-এ মোটোলা চরিত্রে অভিনয় করেন স্লোয়েন। সিনেমাটিতে তিনি অপরাধী ডয়েল লনেগানের হয়ে জুয়া পরিচালনাকারী এক কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া অলিভিয়া নিউটন-জন অভিনীত মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জ্যানাডু’তেও অভিনয় করেন তিনি।১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়েন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা জেমস ছিলেন নির্মাণ প্রকৌশলী। বিদেশে ও নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে কিছু সময় কাটানোর পর দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। পরে তিন বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেন।সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে নিউইয়র্কে ফিরে জোসেফ প্যাপের নিউইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে অভিনয়ের পাশাপাশি ফাইটিং দৃশ্যের কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৯ সালে আর্থার কপিটের ‘ইন্ডিয়ান’ নাটকের মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় তার। ১৯৭০ সালের ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি।১৯৭৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান জেমস স্লোয়েন। এরপর ‘দ্য গ্যাং দ্যাট কুডন্ট শুট স্ট্রেইট’, ‘দ্য ডক্টরস’, ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রানসিসকো’, ‘কোজাক’ ও ‘ডেলভেকিও’-সহ বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেন। ১৯৭৭ সালে এবিসির নাটক ‘ওয়েস্টসাইড মেডিকেল’-এ নিয়মিত চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন স্লোয়েন। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর টয়োটার বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনে ভয়েসওভার শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি।জেমস স্লোয়েন মৃত্যুকালে স্ত্রী অভিনেত্রী ডিআরড্রে লেনিগান, ছেলে সংগীতশিল্পী ড্যানিয়েল এবং মেয়ে অভিনেত্রী সামান্থা স্লোয়েনকে রেখে গেছেন। তার ভাই লেখক ও পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক প্যাট্রিক স্লোয়েন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান।
দুই বছর মঞ্চে ফিরছে নাট্যদল ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। তাও আবার পরপর দুই দিন দুটি প্রদর্শনী নিয়ে। শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে হবে প্রদর্শনী।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে এনএসডি আয়োজিত ‘ভারত রঙ মহোৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়েছিল নাটকটি। এরপর আর মঞ্চে ওঠেনি ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। একক চরিত্রের নাটকটিতে অভিনয় করেন আর্য মেঘদূত। বর্তমানে তিনি স্কলারশিপে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়নরত। ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছাড়ার পর নাটকটির মঞ্চায়ন স্থগিত হয়ে যায়।সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে এসেছেন। সেই সুবাদেই নাটকের দুটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করবেন।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। তখন মেঘদূত মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্রী। কনিষ্ঠ একক অভিনেত্রী হিসেবে চমকে দেন সবাইকে। এ পর্যন্ত নাটকটির ৮টি প্রদর্শনী হয়েছে।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের গল্পের শুরুটা এরকম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। হিটলারের বাহিনী একদিন দখল করে নেয় হল্যান্ড। ফ্রাঙ্ক পরিবার হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। ১৯৪২ সালের ৬ জুলাই তারা আশ্রয় নেয় সিক্রেট অ্যানেক্সে। ফ্রাঙ্ক পরিবারের ছোট মেয়ে অ্যানা ফ্রাঙ্ক। সিক্রেট অ্যানেক্সে ফ্রাঙ্ক পরিবারের সাথে যোগ দেয় অ্যানা ফ্রাঙ্কের বাবার বন্ধুর পরিবার ও একজন ডাক্তার। সব মিলেয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটজন। সিক্রেট অ্যানেক্স! ছোট্ট, স্যাঁতস্যাঁতে একটা জায়গা। এসবের মধ্যে এতগুলো মানুষ। তবু অ্যানা নিঃসঙ্গ, তার মনের কথা বলার মতো সে কাউকে পায় না। তার সব কথা সে লিখে রাখে ডায়েরিতে, ডায়েরিটাই হয়ে ওঠে তার কাছে প্রিয় বন্ধু।
সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতার কলম, তারপর ক্যামেরার সামনে অভিনয়—হাসান মাসুদের পেশাজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তিনি। পরে অভিনয়ে এসে ছোট পর্দায় পরিচিতি পান। এবার তার কর্মজীবনে যুক্ত হলো কর্পোরেট দুনিয়া।অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও পরিচালনাতেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। তবে কয়েক বছর ধরে অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবার সেই পথচলায় যুক্ত হলো নতুন পরিচয় কর্পোরেট পেশাজীবী হাসান মাসুদ।যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান জেইন গ্লোবাল -এ হেড অব স্টুডেন্ট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ব্র্যান্ড হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেতা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তিনি।একসময় নাটক, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন টেলিভিশন আয়োজনে নিয়মিত দেখা যেত হাসান মাসুদকে। অভিনয়ের নিজস্ব ধরন ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার ব্যস্ততা। নাটক কিংবা সিনেমায় এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বেছে বেছে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও অভিনয়কে আগের মতো পেশাগত জীবনের কেন্দ্রে রাখেননি।অভিনয় থেকে দূরে থাকার সেই সময়েই পেশাগত জীবনে নতুন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।জেইন গ্লোবালে নতুন দায়িত্বে হাসান মাসুদের কাজের পরিধি হবে শিক্ষার্থীসেবা, ব্র্যান্ডিং ও যোগাযোগ কার্যক্রম ঘিরে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।জেইন গ্লোবালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৪ বছর ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসান মাসুদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগ এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে চায় তারা।হাসান মাসুদের ক্যারিয়ার বরাবরই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে। সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতা। তারপর অভিনয়ের জগতে প্রবেশ। ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।অভিনয়ের ব্যস্ত দিনগুলো থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাওয়া হাসান মাসুদের সামনে এখন নতুন ধরনের দায়িত্ব। ক্যামেরার সামনে চরিত্র হয়ে ওঠার বদলে এবার তাকে কাজ করতে হবে ব্র্যান্ড, শিক্ষার্থী ও যোগাযোগ নিয়ে।পেশাজীবনে একাধিকবার পথ বদলেছেন হাসান মাসুদ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়েছেন তিনি। এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রেখেছেন। নতুন এই অধ্যায়ে তার দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরাধীন মাতৃভূমিকে মুক্ত করার লড়াইয়ে চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মহান আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষ্যে মঞ্চনাটক 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনী, সংগীতানুষ্ঠান ও শিশুদের অঙ্কিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা পদাতিক।ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় তপোবন-এর সহযোগিতায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হবে।রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যদল ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম প্রযোজনা 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'। এবার ঐতিহাসিক এই নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের বিয়োগান্তক বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে নাটকটি মঞ্চে আনে ঢাকা পদাতিক।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুননাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর মৃত্যুর পর নাটকটির নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী। প্রয়োজন অনুযায়ী, নাটকটির কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ-পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি।নাটকটি মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের আলোচিত প্রযোজনাগুলোর অন্যতম। এরই মধ্যে ভারতের দিল্লিতে নাটকটির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদের চৌধুরী বলেন, "ট্রায়াল অব সূর্যসেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মাসুম আজিজ ভাই। তাঁর প্রয়াণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ করে নবনির্দেশনার কাজটি করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।"প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অপর্ণা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিল। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, আক্তার হোসেন, রবিউল ইসলাম মিলটন, শাহনাজ পারভীন জয়া, তারেক আলী মিলন, কাজী সম্রাট, আতিকুর রহমান, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, নূর, খাজা ফরিদউল্লাহ, জাহিদ প্রমুখ। নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন শ্যামল হাসান।২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটি ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।এবারের 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনীর শুরুতে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবন-এর শিল্পীরা জাগরণমূলক দলীয় সংগীত পরিবেশন করবেন।মিলনায়তনের প্রবেশপথেই প্রদর্শিত হবে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আঁকা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, চট্টগ্রাম যুবিবদ্রোহ, জালালাবাদ পাহাড় ও ধলঘাট যুদ্ধের ছবি। এছাড়া সেইসব যুদ্ধে শহীদ চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবীদের ছবি এবং ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর বিভিন্ন প্রদর্শনীর প্রামাণ্যচিত্রও এতে প্রদর্শিত হবে। অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরপরই শুরু হবে ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর মঞ্চায়ন। বিশেষ এই প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত।
আবারও বাবা হলেন বলিউড তারকা অভিনয়শিল্পী রণবীর সিং আর মা হলেন তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ) তাদের ঘর আলো করে এসেছে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।দীপিকা ও রণবীর যৌথভাবে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায় নবজাতকের পায়ের ছাপ। ছবির সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘ওয়েলকাম বেবি গার্ল! ১৯/৯/২০২৬। দোয়া, দীপিকা অ্যান্ড রণবীর।’এর মধ্য দিয়ে তাদের দুই বছরের মেয়ে দোয়া পেল ছোট বোন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের আগে বেশ কিছুদিন ধরেই দীপিকা ও রণবীরের পরিবারে নতুন অতিথি আসার খবর নিয়ে আলোচনা চলছিল।চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয়বার বাবা-মা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনেন দীপিকা ও রণবীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে দেখা যায়, তাদের মেয়ে দোয়ার হাতে একটি ইতিবাচক গর্ভধারণ পরীক্ষার কিট। তখনই জানানো হয়েছিল, সেপ্টেম্বরেই আসছে তাদের দ্বিতীয় সন্তান। সন্তান জন্মের কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে একসঙ্গে দেখা যায় দীপিকা ও রণবীরকে। ২০২৪ সালে প্রথম সন্তান দোয়ার জন্মের আগেও একই মন্দিরে গিয়েছিলেন তারা। সেবার ৬ সেপ্টেম্বর মন্দিরে যাওয়ার দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছিল দোয়ার।এবারও সেই ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেল। তবে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের খবরটি এবার আর কোনো জল্পনা নয়; দীপিকা ও রণবীর নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন।২০১৮ সালে বিয়ে করেন দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান দোয়ার জন্ম হয়। এবার পরিবারে যুক্ত হলো আরও এক কন্যাসন্তান।দীপিকা পাড়ুকোন
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে রুপালি পর্দার সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে। ছবিটিতে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর খুব শিগগিরই তিনি হয়ে ওঠেন কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর ৮৪তম জন্মবার্ষিকী, তার দীর্ঘদিনের অবদান ও দূরদর্শী চিন্তাকে স্মরণ করে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি স্টোরে ফাউন্ডার্স ডে উদযাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে এপেক্সের সকল পণ্যে থাকছে ২৬ শতাংশ ছাড়।এই বিশেষ ছাড় উপভোগ করা যাবে এপেক্সের সবকটি রিটেইল আউটলেটের পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটাতেও। ফলে জুতা, স্যান্ডেল, লেদার ব্যাগ, বেল্ট, অ্যাকসেসরিজ ও অ্যাপারেলসহ পরিবারের সব বয়সী সদস্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পাশাপাশি, বিশেষভাবে নারীদের জন্য বৈচিত্র্যময় কালেকশন থেকে ক্রেতারা পছন্দমত পণ্যটি বিশেষ ছাড়ে কিনতে পারবেন।নতুন ডিজাইন ও বিভিন্ন কালেকশন ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহের পাশাপাশি ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে বিশেষ ছাড়কে কেন্দ্র করে স্টোরগুলোতে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর কেনাকাটার পরিবেশ। গত কয়েক বছরের ফাউন্ডার্স ডে উদযাপনের ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনেও উৎসব, বিশেষ দিন, কিংবা বিভিন্ন মৌসুমকে মাথায় রেখে বাজারে নিয়ে আসা এপেক্স পণ্য বিশেষ ছাড়ে কেনাকাটার দারুণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারছে ক্রেতারা। এপেক্সের সঙ্গে এ দেশের মানুষের দীর্ঘ পথচলাকে সামনে রেখেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর এই ক্যাম্পেইন উদযাপন করে থাকে। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী গুণগত মান ও গ্রাহকের আস্থা ভিত্তির ওপর এপেক্সেকে গড়ে তুলেছিলেন। তার সেই স্বপ্নকে স্মরণ করে এবং বিশেষ এই কেনাকাটার অভিজ্ঞতার অংশ হতে এপেক্সের নিকটস্থ আউটলেটে আসার জন্য ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এপেক্স।
টানা তৃতীয় দফা কমানোর পর এবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।বুধবার ( ৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। স্বর্ণের এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।দূতাবাসের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের স্থানীয় আইন ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা পরিপন্থী কিংবা বিতর্কিত কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে সংরক্ষিত এলাকা, স্থাপনা ও সংবেদনশীল ঘটনা বা বিষয় নিয়ে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় আইন, জননিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার বিরোধী কোনো বিষয় প্রকাশ, প্রচার, সংরক্ষণ, আদান-প্রদান, লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার না করার জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।দূতাবাস ও কূটনৈতিক এলাকার অভ্যন্তরে, বাইরে কিংবা আশপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা এবং অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।দূতাবাস জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করা স্থানীয় সৌদি আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রবাসীজীবন নিশ্চিত করতে সকল বাংলাদেশিকে দায়িত্বশীল আচরণ, সচেতনতা এবং সৌদি আরবের আইন ও বিধিবিধানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জটিল কাজ স্থানীয়ভাবে করার জন্য ‘এআই টপ অ্যাটম’ নামে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সিস্টেম এনেছে গিগাবাইট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চারটি এআই টপ অ্যাটম একসঙ্গে যুক্ত করে বড় এআই মডেল ও বৈজ্ঞানিক সিমুলেশনের মতো মেমোরি-নির্ভর কাজ করা সম্ভব।সহজভাবে বললে, এআই টপ অ্যাটম একটি সাধারণ ডেস্কটপ কম্পিউটার নয়। এটি মূলত এআই মডেল চালানো, বড় ডেটা নিয়ে কাজ করা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জটিল হিসাব-নিকাশের জন্য তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ইউনিট একসঙ্গে যুক্ত করে এর সক্ষমতা বাড়ানো যায়।গিগাবাইটের তথ্যমতে, প্রতিটি এআই টপ অ্যাটম নোডে রয়েছে ১ পিফ্লপস এফপি৪ এআই পারফরম্যান্স এবং ১২৮ গিগাবাইট ইউনিফায়েড মেমোরি। ২০০ গিগাবিট ইথারনেটের মাধ্যমে চারটি নোড পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ফলে একক কম্পিউটারের তুলনায় বড় ও জটিল কাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।গিগাবাইট ও এনভিডিয়া যৌথভাবে এ প্রযুক্তির সক্ষমতা দেখাতে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজ প্রদর্শন করেছে। এতে এআই ব্যবহার করে গবেষণার সম্ভাব্য ধারণা তৈরি করা হয় এবং পরে ‘গ্রোম্যাক্স’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেই ধারণা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সিমুলেশন চালানো হয়।উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিংয়ের জন্য ‘থার্মাল ইন্টারফেস ম্যাটেরিয়াল’ বা টিআইএম উন্নয়নের উদাহরণ দেখানো হয়। এ ধরনের গবেষণায় কোনো উপাদানের অণুগুলো কীভাবে আচরণ করে, তা কম্পিউটারে সিমুলেশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা যায়।গিগাবাইট জানিয়েছে, সাধারণ একক সিস্টেমে প্রায় ১ কোটি পরমাণুর সিমুলেশনের পর মেমোরি সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। সেখানে চার নোডের এআই টপ অ্যাটম ক্লাস্টার ব্যবহার করে ৩ কোটির বেশি পরমাণুর সিমুলেশন চালানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে।এর ফলে সেমিকন্ডাক্টর, উপাদান বিজ্ঞান, এআই গবেষণা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কাজে বড় পরিসরের কম্পিউটিং সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে তথ্য ও গবেষণার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হওয়ায় সংবেদনশীল ডেটার ওপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।গিগাবাইটের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান জানান, বাংলাদেশে এআই টপ অ্যাটমের তিনটি ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে-৯০০০, ৯০০১ ও ৯০০২। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী এর দাম সর্বোচ্চ প্রায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তারঁ মতে, এআই টপ অ্যাটম শুধু এআই উন্নয়নের জন্য নয়, ভবিষ্যতে বড় পরিসরের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সিমুলেশনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।