শেষ ওভারে একের পর এক ছক্কার বৃষ্টি আর পরে স্পিনারদের ঘূর্ণিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল বাংলাদেশ। বুলাওয়েতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়ে আনল টাইগাররা।বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে তারা তুলে নেন ১২০ রান। তানজিদ ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন যাতে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। সাইফ হাসান ৪৫ বলে ৫৫ রানে থামেন, তার ইনিংস সাজানো ৮টি চার ও এক ছক্কায়।দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। মাত্র ১৪ বলের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে দল। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় মাত্র ৬, পারভেজ হোসেন ইমন ১ ও নুরুল হাসান সোহান ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।তবে শেষ দিকে এসে ম্যাচের চেহারা পাল্টে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সের বলে টানা চার ছক্কা হাঁকিয়ে ২৮ রান তুলে নেন তিনি। মাত্র ১০ বলে ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করেন সাইফউদ্দিন। ইয়াসির আলী ১২ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে।জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারে ১৫ রান তুললেও শেষ বলে প্রথম উইকেট হারায় তারা। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স দ্রুত ফিরে যাওয়ায় ২১ রানেই তিন উইকেট খুইয়ে বসে স্বাগতিকরা।অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ১২ বলে ২৮ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে তিনি ফিরে গেলে জিম্বাবুয়ের আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। রিশাদ পরে মিল্টন শুম্বা ও রায়ান বার্লকেও আউট করেন। বার্ল ১৯ বলে ২৯ রান করেন।শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ১৪ বলে ২৫ রান করে লড়াই চালিয়ে গেলেও জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ ব্যাটসম্যান ব্লেসিং মুজারাবানিকে বোল্ড করে ম্যাচ শেষ করেন রিশাদ হোসেন। জিম্বাবুয়ে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয়।রিশাদ হোসেন ৩.৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। মেহেদী হাসান ৩ উইকেট নেন ২৪ রানে। এছাড়া নাহিদ রানা, সাইফ হাসান ও সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট শিকার করেন।এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় ফিরেছে। আগামী রোববার একই মাঠে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাদের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় মাইঝ পাড়া মাহমুদুন নবী চৌধুরী স্কুলের সামনে ও হাদী পাড়ায় ত্রাণ বিতরণকালে এ কথা জানান তিনি।অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার, ডাল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণের এই ধারা এখনো অব্যাহত আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তা চলমান থাকবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ত্রাণ বিতরণের পরপরই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সার, বীজ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে। একইসঙ্গে, বন্যার পরে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেন যেকোনো সংক্রমণ বা রোগ দেখা দিলে দ্রুততার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।মন্ত্রী বলেন, যতদিন পর্যন্ত পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষ না হয়, ততদিন সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।পতেঙ্গায় ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি শেষে বন্যার্তদের সহায়তায় সরাসরি চন্দনাইশ-দোহাজারী ও সাতকানিয়ায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে ও ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্যে রওনা হন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ক্ষমতার মোহে রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাবলে জুলাই বারবার ফিরে আসবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের দাবি হলো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা।জুলাই শহীদদের স্মরণে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এবি পার্টি আয়োজিত প্রতীকী কফিনমিছিলের শুরুতে এ কথা বলেন মজিবুর রহমান। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাইয়ের শহীদেরা একাত্তরের শহীদদের বাস্তব অনুসারী। তাঁরা অকাতরে জীবন ও রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছেন তাঁরা তাঁদের সার্থক উত্তরসূরি।মজিবুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা/ দেশটা কারও বাপের না’। যারাই ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে নিজেদের গোলাম ভাবতে শুরু করবে, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই বারবার ফিরে আসবে।জুলাই কী দিয়েছে—এমন প্রশ্ন বারবার আসবে উল্লেখ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দল হিসেবে বিএনপি–জামায়াত যা যা চেয়েছিল, সব পেয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, লাখ লাখ নেতা-কর্মীর মুক্তি, জামায়াত-শিবিরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজনীতির অধিকার ফিরে পাওয়া, নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াতের ঐতিহাসিক ভালো ফল।বিএনপি–জামায়াতের কথা উল্লেখ করে মজিবুর রহমান আরও বলেন, একদল ক্ষমতায় এবং আরেক দল প্রধান বিরোধী দলে আছে। যারা জুলাইয়ে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের প্রধান অংশ একটি নতুন রাজনৈতিক দল (এনসিপি) করে সংসদে দ্বিতীয় বড় বিরোধী দল হয়েছে। এখন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এই তিন দলের ওপর অর্পিত হয়েছে।এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের দাবি হলো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন।মজিবুর রহমান বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সেই সময় বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, সংস্কারের মূল দায়িত্ব সংসদের। এখন সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের সময় এসেছে। পাশাপাশি তিনি পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিকে অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানান।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জুলাই শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। একাত্তরের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, প্রকৃত শহীদদের স্বীকৃতি নিশ্চিত না হলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।প্রতীকী কফিন মিছিলটি রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড়, পল্টন মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সংঘটিত এক সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর, ঘটনার অন্যতম পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফরের গ্রেপ্তারের খবর দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে এক নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য, নেপথ্যের কুশীলব এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচনের লক্ষ্যে এখন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘জাতীয় তদন্ত কমিশন’ গঠনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়ের রহস্যভেদে মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।ঐতিহাসিক তথ্য ও নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের মে মাসের শেষ সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করতে চট্টগ্রামে যান। ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একটি দলের অতর্কিত হামলায় তিনি নিহত হন। ঘটনার পর সরকারি বিবৃতিতে ‘বিপ্লবী পরিষদ’ নামক একটি গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করা হলেও, হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মরদেহ গোপনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দাফন করাসহ নানা ঘটনা সে সময় গভীর রহস্যের জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে তড়িঘড়ি করে একটি সামরিক আদালতে বিচার সম্পন্ন করে কিছু কর্মকর্তার সাজা কার্যকর করা হলেও, অভ্যুত্থানে সরাসরি অংশ নেওয়া মেজর খালেদ ও মেজর মোজাফফর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের অন্তর্নিহিত সত্য ও প্রকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য (মোটিভ) চিরকালই আড়ালে থেকে যায়।দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তার এখন সেই বহুপ্রতীক্ষিত সত্য উদ্ঘাটনের পথ প্রশস্ত করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের গুঞ্জন অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি প্রতিবেশী দেশ ভারতে ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ধারণ করে দেশটির একটি গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এই তথ্যটি যদি সত্য হয়, তবে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো শক্তিশালী বিদেশি শক্তির ইন্ধন বা প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেসামরিক আদালতে কোনো নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের না হওয়া দেশের সাধারণ জনগণের মনে দীর্ঘদিনের এক বিরাট কৌতূহল ও প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।এই বাস্তবতায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো ইতিহাসের সবচেয়ে সংবেদনশীল ঘটনার সত্য অনুসন্ধান করা। আর এই উদ্দেশ্য সফল করতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন নিরপেক্ষ বিচারপতির নেতৃত্বে অতিসত্বর একটি ‘জাতীয় পর্যায়ের তদন্ত কমিশন’ গঠন করা জরুরি। এই কমিশনে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI), প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত তদন্ত চালানো আবশ্যক। একই সঙ্গে, দেশের ইতিহাসের স্বার্থে কমিশনের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে আটক মেজর মোজাফফরের বিরুদ্ধে কোনো তড়িঘড়ি বিচারিক প্রক্রিয়া বা দণ্ড কার্যকর না করার জন্য জোরালো সুপারিশ করা হচ্ছে, যেন তাঁর কাছ থেকে সর্বোচ্চ তথ্য ও জবানবন্দি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামী দল ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই ঐক্য প্রক্রিয়া, দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলা সভায় কওমি ধারার সাতটি দল অংশ নেয়।সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিনজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন। এ ছাড়া হেফাজতের অন্তত ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।সভা শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, ‘সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। অল্প দিনের মধ্যেই সেই ঐক্যের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।’সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সাতটি ইসলামি দল কওমি ধারার। হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক দল রয়েছে। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন জোটে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতটি দলের মধ্যে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা হলেও দলটি শেষ পর্যন্ত আটটি আসনে এককভাবে নির্বাচন করে।আপাতত সাতটি দল ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে। কী প্রক্রিয়ায় একসঙ্গে পথচলা যায়, সে বিষয়ে প্রতিটি দলের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির চান, এই দলগুলো অন্য কোনো দলের সঙ্গে না গিয়ে নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ থাকুক। অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চারটি আসনে সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যায়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন ভাগাভাগির বিরোধে জামায়াত জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচন করে। ইসলামী ঐক্যজোটও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।নির্বাচনের পর জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়া কয়েকটি দলের সঙ্গে হেফাজতের শীর্ষ আলেমদের একাংশের দূরত্ব তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১-দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক চট্টগ্রামে গিয়ে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, জামায়াতের সঙ্গে তাদের ঐক্য আদর্শিক নয়, রাজনৈতিক ছিল।হেফাজতের আমির চান কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হোক এবং তারা নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক। এ জন্য প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা শেষে প্রস্তাব জমা দেবে। সেগুলো নিয়ে আগামী আগস্টের শুরুতে আবার বৈঠক হবে। তখন সম্ভাব্য ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করার চেষ্টা হবে।
‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন-২০২৬। একই সঙ্গে উদ্বোধন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’।শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ম্যারাথনটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাবি শিবিরের নেতারা জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করার ঘটনাকে স্মরণ এবং জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।ম্যারাথনটি কার্জন হল থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি, তোরণ, হাজী মুহম্মদ মহসিন হল ও মাস্টারদা সূর্যসেন হল প্রদক্ষিণ করে কলাভবনে গিয়ে শেষ হয়। ম্যারাথন শেষে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তিন দিনব্যাপী (১৭-১৯ জুলাই) বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ডাকসুর পরিবহণ সম্পাদক এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ১৭ জুলাই সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নয়া আজাদীর সূচনা করেছিল, যার চূড়ান্ত রূপ আসে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে। জুলাইয়ের শহীদদের বিচার নিশ্চিত করতে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।ডাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, গণপরিসর থেকে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু ব্যক্তি পুনরায় ফ্যাসিবাদের বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাইয়ে বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদের জুলুমের ইতিহাস বারবার জনপরিসরে তুলে ধরতে হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, দুই সহস্রাধিক শহীদ ও অসংখ্য আহতের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।তিনি জানান, প্রদর্শনীতে জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতিচারণ, আলোকচিত্র, তৎকালীন নিপীড়নের বিভিন্ন দলিল, জুলাই আন্দোলনের স্মারক, ইনকিলাবি সংগীত এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন স্থান পেয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চলবে। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনী পরিদর্শনের আহ্বান জানান।
কানাডাজুড়ে ৮৫৭টি দাবানল জ্বলছে। এসব দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের আকাশ ধোঁয়াটে হয়ে পড়েছে এবং বায়ুর মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, মিশিগান অঙ্গরাজ্য এবং মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ) জানিয়েছে, আপার মিডওয়েস্ট, গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা কার্যকর রয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না গিয়ে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।কানাডিয়ান ইন্টারএজেন্সি ফরেস্ট ফায়ার সেন্টারের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশটিতে ৮৫৭টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে ২৩টি দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে। কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেম জানিয়েছে, অধিকাংশ দাবানল এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।বিশেষ করে অন্টারিওর পশ্চিমাঞ্চলের বড় বড় দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘন ধোঁয়ায় থান্ডার বে ও টরন্টোর বায়ুর মানের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে অপেক্ষাকৃত হালকা ধোঁয়া উঁচু বায়ুমণ্ডল দিয়ে গ্রেট লেকস অতিক্রম করে নিউইয়র্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় আকাশ ধোঁয়াটে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লালচে দেখাতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।আরিফ হোসেন খান বলেন, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ তিন হাজার ১৯৬ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ডলার। গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৬৫৪ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ১৯০ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার ডলার।এর আগে ১২ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৬৫৮ কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ১৯৪ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার।৭ জুলাই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেনা পরিশোধের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৬৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ১৮৭ কোটি ১৪ লাখ ডলার। ওইদিন আকুর দেনা পরিশোধ করা হয়েছিল ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আকু হলো এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যকার একটি আন্ত-আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তার মূল্য দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়। আকুর সদস্যদেশগুলো হচ্ছে–বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ।এরও আগে গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৭৮৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৩১৯ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত ২ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল তিন হাজার ৭৬৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আর আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল তিন হাজার ৩০১ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৭৫৬ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ২৯০ কোটি ছয় লাখ ৩০ হাজার ডলার।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে।বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায়। তিন ম্যাচের সিরিজে পিছিয়ে থাকা টাইগারদের সামনে এখন সমতা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ।প্রথম ম্যাচে নাসুম আহমেদের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তার জায়গায় একাদশে ফিরতে পারেন লেগ স্পিন অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেন। পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে বাড়তি ভারসাম্য আনতে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকেও খেলানোর ভাবনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের।পেস বোলিং বিভাগেও আসতে পারে পরিবর্তন। সুযোগ পেতে পারেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। সেক্ষেত্রে বাদ পড়তে পারেন সাইফউদ্দিন। তবে ম্যাচের আগে উইকেট ও দলের সমন্বয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারানোর পর টি-টোয়েন্টিতেও পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। তাই সিরিজে টিকে থাকতে আজকের ম্যাচে জিততেই হবে টাইগারদের।বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশতানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), ইয়াসির আলি চৌধুরী, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, আবদুল গাফফার সাকলাইন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে। অবিশ্বাস্য কামব্যাকের গল্প লিখে আরেকটি ফাইনাল খেলতে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। তবে টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচেই মাঠে দেখা যায়নি দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে। এমনকি তিনি ফাইনাল দেখতেও মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক ‘কুসংস্কার’। রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়বে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। কিন্তু নিজ দেশের ম্যাচ নিজের বাসভবন থেকেই দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলবিসেলেস্তে প্রেসিডেন্ট। চলতি আসরে মেসিদের গত সাতটি ম্যাচও তিনি নিজ বাসভবনে দেখেছেন। কোনো অবস্থাতেই নিজের সেই ‘লাকি টোটকা’ ভাঙতে চান না হাভিয়ের মিলেই।বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌভাগ্য বয়ে আনে– এমন নানা ধরনের কুসংস্কার বা আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলার প্রবণতা রয়েছে। তবে লাতিন আমেরিকায়, বিশেষত আর্জেন্টিনায় ‘কাবালা’ নামে পরিচিত এসব আচার বা বিশ্বাসের গুরুত্ব অনেক বেশি। জাতীয় দলের প্রতি মানুষের আবেগ ও নিবিড় অনুসরণের প্রতিফলন হিসেবেই এগুলো দেখা হয়।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট মিলেইকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে নিউজার্সিতে বসে ফাইনাল দেখবেন কি না। জবাবে মিলেই বলেন, ‘কোনোভাবেই না।’ বুয়েনস আয়ার্সের স্থানীয় রেডিও স্টেশন এল অবজারভাদর–কে তিনি বলেন, ‘আমি সব ম্যাচের মতো এবারও অলিভোস (প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন) থেকেই খেলা দেখব।’নির্দিষ্ট কুসংস্কারের কারণেই মিলেই বাড়িতে থাকছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন ঠান্ডা, কিন্তু আমি হিটার চালাই না। তাই একটি তেল কোম্পানির লোগোযুক্ত জ্যাকেট পরি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিন জ্যাকেট পরে খুব গরম লাগছিল। আমি সেটা খুলে ফেলতেই তারা আমাদের বিপক্ষে গোল করে। এরপর আবার জ্যাকেটটি পরে নিই এবং আর কখনও খুলি না।’
জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা আজকে অনেকগুলো কথা ও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফয়সালা হবে। আমি মনে করি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিরোধীদল জুলাই সনদকে ব্যবহার করতে চায়।জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শেষে প্রয়াত অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়, জনগণেকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জুলাই সনদ আমরা স্বাক্ষর করেছি একসঙ্গে। যে সমস্ত দল আমরা আন্দোলন করেছি একসঙ্গেই তারা সবাই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার করে বলছি যে, জুলাই সনদে প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়িত করব, এটাই অঙ্গীকারবদ্ধ।গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, সেই গণভোটের একটা অংশে তো আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। আমরা বারবার করে যে কথা বলতে চাচ্ছি যে, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটে যে প্রতিনিধিত্ব হবে সেই বিষয়টাতে আমরা কখনোই একমত হইনি এবং সে সময়ে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম আমি নিজেই যে, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সেই সংস্কার কমিশন-রিফর্ম কমিশন, তারা যে কথাগুলো সেদিন যেভাবে নিয়ে এসেছেন, আমাদের কনসেন্ট ছাড়া তারা নিয়ে আসছেন। জুলাই সনদের বইটা যদি আপনারা পড়েন, সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে।বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমরা বারবারই এই কথা বলে এসেছি এবং উই আর কমিটেড। আমরা ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, ঠিক তেমনিভাবে আমরা কমিটেড হচ্ছি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে আমরা বলছি। এখানে বিরোধী দল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না।সংস্কার বিএনপিই এনেছেমির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কারের কথা বলে। সংস্কার এদেশে কারা এনেছে? বিএনপি এনেছে। একদলের শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে, প্রেসিডেনশিয়াল ফর্ম গভমেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফর্ম অফ গভমেন্ট বিএনপি নিয়ে এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান সেই বিধান আমরাই পার্লামেন্টে সারারাত কাজ করে পাশ করেছি। আজকে যখন এ সমস্ত কথাগুলো বলা হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলা হয় বলে আমি মনে করি।বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন বিরোধী দলে যারা আছেন তারা অনেকে বিভিন্ন রকম মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত কোর চেষ্টা করছেন। জনগণের চেয়ে ভালো তো আর কেউ বোঝে না। আমরা যতই মনে করি, জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারাই সেই সিদ্ধান্তটা নেবেন যে আমরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে কী বলেছি? আমরা সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন চায়মির্জা ফখরুল বলেন, এখন যে কথাগুলো নিয়ে তাদের কথা, সংবিধান সংস্কার আর সংবিধান সংশোধন। আমরা তো বরাবরই বলে এসেছি যে, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। জনগণ আমাদেরকে যে ভোট দিয়েছে, ম্যানিফেস্টোর মধ্যে যেটা ছিল, সেই ম্যানিফেস্টোতে আমরা টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচয় দায়িত্ব পেয়েছে। সুতরাং ওই জায়গায় কোনো রকমের কোনো বিভ্রান্তি, কোনো অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।ক্ষমতায় যেতে ওরা জুলাই সনদকে ব্যবহার করতে চায়বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি বিরোধী দল শুধু তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে (জুলাই সনদ) তারা ব্যবহার করতে চায়। আমরা কিন্তু চাই না যে, জুলাই শুধু ক্ষমতার যাওয়ার জন্য আরেকটা হাতিয়ারে পরিণত হোক।মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় ১৭শ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যা হয়েছে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। সুতরাং এই কথাগুলো বারবার করে আমাদেরকে বলতে হয় এজন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা লিবারাল ডেমোক্রেসির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি, সেই লিবারেল ডেমোক্রেসির পক্ষে আমরা যেতে চাই। আমার প্রায় একটা কথা মনে হয় যে, আমরা এখান (লিবারেল ডেমোক্রেসি) থেকে সরে যেতে চাই কেন? ডেমোক্রেসি থাকতে আমাদের প্রবলেমটা কোথায়? আমরা ডেমোক্রেসিতে থাকি। বিভাজনের রাজনীতি না করি। আমরা সবাই মিলে যেভাবে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আবার ২৪শে আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই করে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই মিলে আমরা এটাকে যদি সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারি, যেখানে আমাদের সেই লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারব।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই স্মরণে সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লফিত মাসুদ, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, আবুল কাশেম হায়দার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, এম আবদুল্লাহ, অধ্যাপক ওমর ফারুক, অধ্যাপক শেখ সাদী ও কবি নাহিদ নজরুল বক্তব্য দেন।
ক্ষমতার মোহে রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাবলে জুলাই বারবার ফিরে আসবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের দাবি হলো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা।জুলাই শহীদদের স্মরণে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এবি পার্টি আয়োজিত প্রতীকী কফিনমিছিলের শুরুতে এ কথা বলেন মজিবুর রহমান। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাইয়ের শহীদেরা একাত্তরের শহীদদের বাস্তব অনুসারী। তাঁরা অকাতরে জীবন ও রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছেন তাঁরা তাঁদের সার্থক উত্তরসূরি।মজিবুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা/ দেশটা কারও বাপের না’। যারাই ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে নিজেদের গোলাম ভাবতে শুরু করবে, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই বারবার ফিরে আসবে।জুলাই কী দিয়েছে—এমন প্রশ্ন বারবার আসবে উল্লেখ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দল হিসেবে বিএনপি–জামায়াত যা যা চেয়েছিল, সব পেয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, লাখ লাখ নেতা-কর্মীর মুক্তি, জামায়াত-শিবিরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজনীতির অধিকার ফিরে পাওয়া, নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াতের ঐতিহাসিক ভালো ফল।বিএনপি–জামায়াতের কথা উল্লেখ করে মজিবুর রহমান আরও বলেন, একদল ক্ষমতায় এবং আরেক দল প্রধান বিরোধী দলে আছে। যারা জুলাইয়ে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের প্রধান অংশ একটি নতুন রাজনৈতিক দল (এনসিপি) করে সংসদে দ্বিতীয় বড় বিরোধী দল হয়েছে। এখন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এই তিন দলের ওপর অর্পিত হয়েছে।এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের দাবি হলো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন।মজিবুর রহমান বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সেই সময় বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, সংস্কারের মূল দায়িত্ব সংসদের। এখন সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের সময় এসেছে। পাশাপাশি তিনি পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিকে অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানান।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জুলাই শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। একাত্তরের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, প্রকৃত শহীদদের স্বীকৃতি নিশ্চিত না হলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।প্রতীকী কফিন মিছিলটি রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড়, পল্টন মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়।
সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিতে দুইদিনের সরকারি সফরে শুক্রবার (১৭ জুলাই) কক্সবাজারে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জেলার চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা সরাসরি পরিদর্শন করার উদ্দেশে এ সফর করছেন তিনি।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপ-সচিব) মুহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সরকারি সফরসূচি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি সরাসরি সড়কপথে চকরিয়া উপজেলার উদ্দেশে যাত্রা করেন।সকাল ১১টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি চকরিয়ার বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেন। দুপুর ১টায় জুমার নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেল ৩টায় তিনি পুনরায় চকরিয়ার অন্যান্য বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাত ৯টায় তিনি পেকুয়ায় নিজ বাসভবনে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন বলে জানা গেছে।পরদিন শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এরপর বেলা ১২টায় তিনি মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ছুটে যাবেন এবং সেখানে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন।দুপুর ২টায় তিনি কক্সবাজার সার্কিট হাউসে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম নেবেন। সন্ধ্যা ৭টায় তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং রাত ৮টা ৫ মিনিটে বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন। এই সরকারি সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন তার সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
শেষ ওভারে একের পর এক ছক্কার বৃষ্টি আর পরে স্পিনারদের ঘূর্ণিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল বাংলাদেশ। বুলাওয়েতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়ে আনল টাইগাররা।বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে তারা তুলে নেন ১২০ রান। তানজিদ ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন যাতে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। সাইফ হাসান ৪৫ বলে ৫৫ রানে থামেন, তার ইনিংস সাজানো ৮টি চার ও এক ছক্কায়।দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। মাত্র ১৪ বলের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে দল। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় মাত্র ৬, পারভেজ হোসেন ইমন ১ ও নুরুল হাসান সোহান ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।তবে শেষ দিকে এসে ম্যাচের চেহারা পাল্টে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সের বলে টানা চার ছক্কা হাঁকিয়ে ২৮ রান তুলে নেন তিনি। মাত্র ১০ বলে ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করেন সাইফউদ্দিন। ইয়াসির আলী ১২ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে।জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারে ১৫ রান তুললেও শেষ বলে প্রথম উইকেট হারায় তারা। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স দ্রুত ফিরে যাওয়ায় ২১ রানেই তিন উইকেট খুইয়ে বসে স্বাগতিকরা।অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ১২ বলে ২৮ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে তিনি ফিরে গেলে জিম্বাবুয়ের আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। রিশাদ পরে মিল্টন শুম্বা ও রায়ান বার্লকেও আউট করেন। বার্ল ১৯ বলে ২৯ রান করেন।শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ১৪ বলে ২৫ রান করে লড়াই চালিয়ে গেলেও জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ ব্যাটসম্যান ব্লেসিং মুজারাবানিকে বোল্ড করে ম্যাচ শেষ করেন রিশাদ হোসেন। জিম্বাবুয়ে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয়।রিশাদ হোসেন ৩.৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। মেহেদী হাসান ৩ উইকেট নেন ২৪ রানে। এছাড়া নাহিদ রানা, সাইফ হাসান ও সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট শিকার করেন।এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় ফিরেছে। আগামী রোববার একই মাঠে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুঁটি বেঁধে অভিনয় করছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাদের। তরুণ নির্মাতা জাহিদ প্রীতম সিনেমাটি নির্মাণ করছেন। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে কামব্যাক করছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের জন্য এটিই চরকির সাথে প্রথম কাজ। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ (এমওএল) প্রজেক্টের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমাটি হতে যাচ্ছে সপ্তম চলচ্চিত্র, যা সহ-প্রযোজনা করছে খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’।নির্মাতা জাহিদ প্রীতম জানান, সমকালীন জীবনের নানা জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং আধুনিক জীবনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবকে এই সিনেমার গল্পে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি আমি তৈরি করতে পারব।’সাধারণত পর্দায় আরিফিন শুভকে অ্যাকশন হিরো কিংবা ‘আলফা মেইল’ চরিত্রে দেখে দর্শক অভ্যস্ত। তবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমায় আনিস নামের একটি চরিত্রে একদম ভিন্নরূপে হাজির হবেন তিনি। এখানে তাকে দেখা যাবে একজন ‘সিগমা মেইল’ হিসেবে।নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০-এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম-কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন না এটা।’সিনেমার গল্পটি গড়ে উঠেছে বর্তমান যুগের এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের এক প্রান্তে রয়েছেন সহজ-সরল ও সৎ যুবক আনিস (শুভ), আর অন্য প্রান্তে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকা। এই অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল, যার চরিত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে আবর্তিত।নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে উচ্ছ্বসিত কেয়া পায়েল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে, প্রথমত আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত চরকির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, তৃতীয়ত এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় যে, দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন। ‘চরকির ব্যতিক্রমী প্রজেক্ট ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ মূলত সম্পর্কের নানা রূপ নিয়ে গল্প বলে। এই প্রজেক্ট নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ প্রজেক্টটের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটা সম্পর্কের গল্প দর্শকরা দেখতে পারবেন।’গল্পের ভিন্নতার কারণেই এই প্রজেক্টের সাথে সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। সিনেমাটি নিয়ে নিজের ভালো লাগা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুইজন মানুষের যে দ্বন্দ্ব, খুনসুটি, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মেলানোর চেষ্টা– গল্পের এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে জন্যই কাজটার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আর গল্পের মতো করেই আমরা মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে পাব। সেটা দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করি।’উল্লেখ্য, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে আরিফিন শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কনটেন্ট ছিল ২০২৩ সালের ‘উনিশ২০’। অন্যদিকে, নির্মাতা জাহিদ প্রীতম ‘ঘুমপরী’র পর তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে চরকিতে ফিরছেন। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ প্রজেক্টের আওতায় এর আগে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অফ মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬-২৪-৩৬’ এবং ‘ডিমলাইট’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পেয়েছে।
রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক কর্পোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তির আওতায় অভিনয় শিল্পী সংঘের সব সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা এক্সিকিউটিভ হেলথ চেক-আপ, কার্ডিয়াক হেলথ চেক-আপসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।চুক্তিতে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী এবং অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষে সভাপতি আজাদ আবুল কালাম যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।এ সময় অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং আইনবিষয়ক সম্পাদক সূচনা সিকদারও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ব্রডওয়ে ও টেলিভিশন অঙ্গনের জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা জশ গ্রিসেত্তি আর নেই। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানায়, গত ১০ জুলাই আত্মহত্যা করেন এই অভিনেতা। পরে তার সহ-অভিনেতা রব ম্যাকব্লুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বিষয়টি জানান।রব ম্যাকব্লুর লিখেছেন, এই মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তিনি জশের স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের একসঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবিও প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, জশ গ্রিসেত্তিকে ছাড়া অভিনয়জগত আর আগের মতো থাকবে না। তাকে সবাই গভীরভাবে মিস করবেন।মৃত্যুর আগে নিজের শেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জশ জানান, ব্যক্তিগত কারণে একটি নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।তার মৃত্যুর পর উৎসব কর্তৃপক্ষও শোক প্রকাশ করে জানায়, জশ গ্রিসেত্তি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, স্নেহশীল ও নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন খুবই প্রিয়।ব্রডওয়েতে নাইজেল বটম চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান জশ গ্রিসেত্তি। এছাড়া ইট শুডা বিন ইউ, ব্রডওয়ে বাউন্ড, রেন্ট, পিটার অ্যান্ড দ্য স্টারক্যাচার ও এন্টার লাফিং-সহ একাধিক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।টেলিভিশনেও সফল ছিলেন জশ। তিনি দ্য মার্ভেলাস মিসেস মেজেল, দ্য নাইটস অব প্রসপারিটি, নার্স জ্যাকি এবং দ্য গুড ফাইট-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্র ও সংগীতনির্ভর নাটকের পরিচালনাও করেছেন।১৯৮১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় জন্ম নেওয়া জশ গ্রিসেত্তি ছোটবেলা থেকেই মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে হলিউড ও ব্রডওয়ের অভিনয় অঙ্গনে।
চার বছর আগে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার বছর পর প্রথমবারের মতো বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তিনি দাবি করেছেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাজীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান ও মানসিক শান্তি আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন এই অভিনেত্রী।স্ট্যাটাসে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনি বলেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে দেওয়া তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পেরেছে, বনানীর বাসায় দীর্ঘ অভিযান শেষে তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।নিজের জীবনের সেই অধ্যায়কে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে পরীমনি লেখেন, ‘আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’তিনি আরও দাবি করেন, ‘পরবর্তী সময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’পরীমনির ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি আজও সেই ঘটনার ভুক্তভোগী হয়ে আছেন। তার ভাষ্য, ‘যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’রাষ্ট্রের উদ্দেশে কয়েকটি প্রশ্নও তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানতে চান, হারিয়ে যাওয়া সময়, সম্মান এবং মানসিক শান্তি কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? তিনি লেখেন, ‘আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’তবে অতীতের ঘটনার প্রতিশোধ নয়, বরং সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তার প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ছোট করতে চাই না, কাউকে অপমানও করতে চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।’স্ট্যাটাসের শেষাংশে কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, সাংবাদিক এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।’২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে র্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় বাসা থেকে বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধারের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।এদিকে ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।অন্যদিকে একই ঘটনার জেরে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকার আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা বোট ক্লাবে অ্যালকোহল বিনা মূল্যে দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে পরীমনি তাকে গালাগাল করেন এবং গ্লাস ছুড়ে মারেন। মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন।
চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দর্শকদের জন্য থাকছে তারকাখচিত আয়োজনও। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে সুপার বোলের আদলে আয়োজিত হবে বিশেষ হাফটাইম শো। সেখানে এক মঞ্চে পারফর্ম করবেন বিশ্বের জনপ্রিয় পপ তারকা শাকিরা, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য এই বর্ণাঢ্য পরিবেশনায় আরও অংশ নেবেন তাদের মধ্যে অন্যতম নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল, কোল্ডপ্লের অংশগ্রহণে পিএস২২ কোরাস এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসেমি স্ট্রিট’-এর মাপেট চরিত্রগুলো। অনুষ্ঠানটি ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশে আয়োজিত হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে জাস্টিন বিবার বলেন, ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটি আসর, যা পৃথিবীর মানুষকে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি একত্রিত করে।’স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে ‘জাস্টিস’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর বাতিলের চার বছর পর চলতি বছরের বসন্তে ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা উৎসবে মঞ্চে ফিরেছিলেন বিবার। সেখানে তিনি ‘বেবি’, ‘নেভার সে নেভার’, ‘ওয়ান টাইম’ এবং ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিট’-সহ তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন। ফিফার এই ঐতিহাসিক হাফ-টাইম শোর কিউরেশন করেছেন কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষায় ব্যয় করা হবে।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করা কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ও আবারও একসঙ্গে মঞ্চে উঠবেন। তাদের যৌথ গান ‘দাই দাই’ টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সংগীত চার্টে শীর্ষে রয়েছে এবং বিভিন্ন ম্যাচেও ব্যাপকভাবে বাজানো হচ্ছে।এদিকে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই আসরের আয়োজক তিন দেশের দলই এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে।বৃহস্পতিবার বোস্টনে ফ্রান্স ও মরক্কোর ম্যাচ দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব আবার শুরু হচ্ছে। শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে মুখোমুখি হবে স্পেন ও বেলজিয়াম। শনিবার মিয়ামিতে খেলবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড, আর একই দিনে কানসাস সিটিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড।গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন পর্যন্ত আট গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তার ঠিক পেছনেই সাত গোল করে অবস্থান করছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের এরলিং হালান্ড। এছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের গোলসংখ্যা ছয়।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিজের প্রতি প্রতারণার অভিযোগ দেশের জনপ্রিয় ও বরেণ্য চিত্রনায়িকা রোজিনার। অভিমানের সুরে তিনি জানিয়েছেন মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে না নেওয়া হয়।রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন, চলচ্চিত্রাঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে এ সব কথা জানান তিনি।অভিমানী কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘জীবনে আর কখনো শিল্পী সমিতিতে যাবো কি না, আমার জানা নেই। তবে এফডিসি থেকে যেহেতু আমার পরিচয়, সে কারণে এফডিসিকে তো ভুলতে পারবো না। যদি পরিচালক কিংবা প্রযোজক সমিতিতে কোনো অনুষ্ঠান হয় কিংবা কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে আমার ডাক পড়ে; তবে অবশ্যই যাবো। তা ছাড়া কখনোই আমি এফডিসিতে পা রাখব না।’অভিমানের পারদ এতটাই আকাশচুম্বী যে মৃত্যুর পর তার মরদেহ যেন কোনো অবস্থাতেই এফডিসিতে নিয়ে যাওয়া না হয়—পরিবারের সদস্যদের এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন রোজিনা। এর কারণ হিসেবে এফডিসির বর্তমান পরিবেশ ও শ্রদ্ধাবোধের অভাবকে দায়ী করেছেন তিনি।ৎরোজিনা বলেন, ‘আমার পরিবারকে অনেক আগেই বলে রেখেছি যে মৃত্যুর পর আমাকে তোমরা এফডিসিতে নেবে না। এ সিদ্ধান্ত কোনো আক্ষেপ বা কষ্ট থেকে নয়। সেখানে এখন আর সেসব মানুষ নেই, যারা শিল্পীদের ন্যূনতম শ্রদ্ধা করবে। এখন সেখানে সেই সম্মান, মূল্যবোধ কিংবা শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ খুঁজে পাওয়া যায় না।’রোজিনা জানান, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তার ছিল না। জয় চৌধুরীর অনুরোধ ও পীড়াপীড়িতেই তিনি প্রার্থী হতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু যাদের ওপর ভরসা করেছিলেন, সেই প্যানেলই তাঁর সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করেছে।ক্ষোভ উগরে দিয়ে এই গুণী অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আসলেই খুব মর্মাহত। এভাবে প্ল্যানিং করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হবে, এটা ভাবতেও পারিনি। আমার প্যানেলেও যারা ছিল, তাদের অনেকে আমাকে ভোট দেয়নি। কাকে কাকে ভোট দিয়ে জেতাতে হবে, ওরা আগে থেকেই তা সিলেক্ট করে রেখেছিল। নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধার জন্য আমাকে কেবল একটা ট্রাম্পকার্ড বানিয়ে এভাবে হেয় করাটা তাদের মোটেও উচিত হয়নি।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অব্যাহত পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছেন আল জাজিরা।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের ওপরে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে আগের দিনের দামের পতন পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছে বাজার।চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রেন্ট টানা তৃতীয় সপ্তাহ এবং ডব্লিউটিআই টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে।এদিকে, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। শুক্রবার সকালে এশিয়ার কয়েকটি দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন নিম্নমুখী ছিল। জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই ২২৫ ৩ শতাংশের বেশি কমে দিনের লেনদেন শুরু করেছে।এদিকে, ইরানের হরমোজগান প্রদেশের বান্দার-ই খামির সেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন।ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ আরও জানিয়েছে, আহতদের জরুরি সেবা ও চিকিৎসাকর্মীরা চিকিৎসা দিচ্ছেন। হামলার পর এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহতের বিষয়টি স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া হামলার বিস্তারিত কারণ বা নিহতদের পরিচয়ও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩৬ হাজার ৯০০ অবৈধ অভিবাসী আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। একই সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় এক হাজার নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে পরিচালিত ৬ হাজার ২৩৭টি অভিযানে মোট ৮৪ হাজার ৪৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৯০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৯৭৮ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।তিনি বলেন, শুধু জুন মাসেই দেশব্যাপী ১ হাজার ১৫৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৩ হাজার ৭৮ জনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১৩৩ জন নিয়োগকর্তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে।জাকারিয়া জানান, আটক বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস না থাকার অপরাধ। এছাড়া ইমিগ্রেশনের দেওয়া পাসের অপব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে শনাক্ত হয়েছে।রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার আইনগত অবস্থান ও নথিপত্রের ভিত্তিতে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অধিকাংশ রোহিঙ্গার কাছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পরিচয়পত্র রয়েছে। তাই শুধু বৈধ পাস না থাকা বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার মতো অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।তবে রোহিঙ্গারা দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইন থেকে অব্যাহতি পান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হন বা অন্য কোনো আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।এছাড়া কেউ অবৈধভাবে সড়কের পাশে ব্যবসা পরিচালনা করলে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ (পিবিটি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইমিগ্রেশন বিভাগ যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে বলেও জানান মহাপরিচালক।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো, ঢাকার পান্থপথে অবস্থিত বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের ১ নম্বর বেজমেন্টের ৪১ ও ৪২ নম্বর দোকানে তাদের নতুন ‘গামা কোম্পানি স্টোর ৩.০ প্রো’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন রিটেইল অভিজ্ঞতায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আকর্ষণীয় পরিবেশে ডিজাইন করা নতুন এই প্রজন্মের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটিতে ক্রেতারা অপোর অত্যাধুনিক স্মার্টফোন, আইওটি ডিভাইস, ওয়্যারেবল, অডিও প্রোডাক্ট ও অ্যাক্সেসরিজগুলো সরাসরি দেখে কেনার সুযোগ পাবেন। চলমান ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে ফুটবল থিমভিত্তিক একটি প্রাণবন্ত ফ্যান এনগেজমেন্ট ইভেন্ট অত্যন্ত সফলভাবে উদযাপন করা হয়েছে।এই জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করতে, আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্রথম ১০০ জন ভাগ্যবান ক্রেতাকে জামাল ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা এক্সক্লুসিভ লিমিটেড এডিশন টি-শার্ট উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি, অপো স্মার্টফোন কিনে মেগা লটারিতে অংশ নেওয়া ক্রেতারা অপো ওয়াচ, অপো প্যাড এসই, অপো এনকো বাডস ৩ প্রো ও জামাল ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা ফুটবল সহ আরও অনেক আকর্ষণীয় উপহার জিতে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।দিনটির আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল জামাল ভূঁইয়ার সাথে আয়োজিত একটি এক্সক্লুসিভ ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেশন। এই সেশনে অপোর ‘মেক ইওর ওয়ার্ল্ড কাপ মোমেন্ট উইথ অপো’ ও ‘শুট অ্যান্ড উইন’ নামক বিশেষ ক্যাম্পেইনের বিজয়ীরা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কের সাথে সরাসরি দেখা করার দুর্লভ সুযোগ পান। যেখানে ফ্যানরা প্রিয় তারকার কাছ থেকে অটোগ্রাফ নেওয়া ও তার সাথে ছবি তোলার পাশাপাশি, ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসাকে একসাথে উদযাপন করেন।এই জমকালো উদ্বোধনী আয়োজনে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন; বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া; অপো হেডকোয়ার্টারের রিটেইল অপারেশন ম্যানেজার কাইল ও সায়েন্স; বাংলাদেশের ঢাকা ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব জিটিএম লিউ বো (জেড); অপো বাংলাদেশের ব্র্যান্ড স্টোর বিজনেস ডেভেলপমেন্টের হেড অব ডিপার্টমেন্ট ওয়াং হাইনিং (ভিক); ব্র্যান্ড স্টোর অপারেশনসের হেড অব ডিপার্টমেন্ট লিয়া; অপো হেডকোয়ার্টারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ক্যাথি ও অপো বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং মো. নাজিমুদ্দৌলা নিলয়। তাদের এই উপস্থিতি বাংলাদেশে অপোর প্রিমিয়াম রিটেইল কার্যক্রমকে আরও অর্থবহ করে তুলে বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা প্রদানের প্রতিশ্রুতিকে আরও সুনিশ্চিত করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’