চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর বের হয়েছে সেটি সঠিক নয়।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সময় সংবাদকে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আইজিপি বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি।’এর আগে বিকেল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে বলা হয়, তিনি এরইমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আইজিপি হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয় বাহারুল আলমকে।অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক আইজিপি পদে নিয়োগ দেয়। সে অনুযায়ী এ বছরের ২০ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।এর আগে ২০২০ সালে তিনি পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছিলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি আসছেন।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনীতিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানি। আফগানিস্তান-মিয়ানমার বাদে সার্ক ও বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্র আছে। জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে এরইমধ্যে ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ ১৩টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে নতুন সরকারের শপথ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নতুন সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে। শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে অংশ নেয়ার জন্য ভারত-পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে একই দিন সকাল ১০টায় শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদেরকে শপথ পড়াবেন। নির্ধারিত সময়ে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। তিনি জানান, নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আজ দাপুটে জয় পেয়েছে ভারত। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ইশান কিষাণের ঝোড়ো ৭৭ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের সংগ্রহ গড়েছিল সূর্যকুমার যাদবের দল। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যান ইন গ্রিনরা শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। সেই বিপর্যয় থেকে আর ওঠে দাঁড়াতে পারেনি সালমান আঘার দল। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলারদের তোপে ১৮ ওভারেই ১১৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ৬১ রানের জয়ে সুপার এইট নিশ্চিত হয় ভারতের। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ছিল পাকিস্তানের জন্য ভয়াবহ। ভারতের পেস জুটি যশপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পান্ডিয়া মাত্র দুই ওভারের মধ্যে ১৩ রানে তুলে নেন সাহিবজাদা ফারহান (শূন্য), সাইম আয়ুব (৬) ও অধিনায়ক সালমান আলি আগা (৪)-কে।শুরুর বিপর্যয়ের পর পাঁচ নম্বরে নেমে ইনিংসের হাল ধরেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার উসমান খান। তিনি বাবর আজমকে (৫) সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ২১ রান। তবে পঞ্চম ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে বোল্ড হন বাবর। এরপর উসমান ও অলরাউন্ডার শাদাব খান মিলে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৩৯ রানের সতর্ক জুটি। কিন্তু আবারও আঘাত হানেন অক্ষর, ভেঙে দেন এই জুটি।উসমান ৩৪ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। তার বিদায়ের পর পরপর ধাক্কা খায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ নওয়াজ (৪) ও সেট ব্যাটার শাদাব (১৪) দ্রুত আউট হলে ১২ দশমিক ১ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৭৮।অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ (১০) ও নিচের সারির ব্যাটার শাহিন শাহ আফ্রিদি অষ্টম উইকেটে ১৯ রান যোগ করেন। তবে বরুণ চক্রবর্তী ১৬তম ওভারে আবরার আহমেদকে শূন্য রানে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ৯৭ রানে ৯ উইকেটের চাপে ফেলেন।শেষ আঘাত হানেন হার্দিক পান্ডিয়া। ১১ নম্বরে নামা উসমান তারিককে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি। ভারতের হয়ে বুমরাহ, অক্ষর, পান্ডিয়া ও বরুণ নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া কুলদীপ যাদব ও তিলক বর্মাও অবদান রাখেন।এর আগে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে ভারত। ভারতের শুরুটাও ছিল হতাশাজনক। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের শীর্ষ ব্যাটার অভিষেক শর্মা চার বল খেলেই শূন্য রানে বিদায় নেন।তবে ওপেনার ইশান কিষান তিলক বর্মাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৪৫ বলে ৮৭ রানের দারুণ জুটি। পাকিস্তানের বোলারদের চাপে ফেলে এই জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে নেয়। সাইম আয়ুব কিষানকে ফেরালে ভাঙে সেই জুটি। কিষান ৪০ বলে ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ৭৭ রান।এরপর তিলক বর্মা ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তৃতীয় উইকেটে ৩৮ রান যোগ করেন। কিন্তু সাইম পরপর দুই বলে বর্মা (২৫) ও হার্দিক পান্ডিয়াকে (শূন্য) আউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন।১৪ দশমিক ৩ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১২৬। সেখান থেকে সূর্যকুমার ও শিবম দুবে মিলে ৩৩ রানের জুটি গড়ে দলের গতি ধরে রাখেন। শেষের আগের ওভারে উসমান তারিকের বলে আউট হওয়ার আগে সূর্যকুমার ২৯ বলে ৩টি চারে ৩২ রান করেন।দুবে ১৭ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ রান করে ইনিংসের শেষের আগের বলে বিদায় নেন। পাকিস্তানের হয়ে সাইম আয়ুব ছিলেন সেরা বোলার। চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া সালমান আলি আগা, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও উসমান তারিক একটি করে উইকেট শিকার করেন।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।এরাববার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এই হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।গাজার চিকিৎসকরা বলেছেন, গাজায় বাস্তুচ্যুত বিভিন্ন পরিবার তাঁবুতে টানিয়ে বসবাস করছেন। রোববার সেখানকার একটি আশ্রয় শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় পাঁচজন এবং উত্তরাঞ্চলে গুলিতে আরও একজন নিহত হয়েছেন।এছাড়াও গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকায় হামাসের মিত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।গাজায় হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ওপর নতুন এই গণহত্যার জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অফ পিসের প্রথম বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন আগে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা রোববারের এসব হামলা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গত অক্টোবরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করেছে।ইসরায়েল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। গাজা যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ ছিল এই চুক্তি। কয়েক দশক ধরে চলা ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাতের মাঝে এবারের এই যুদ্ধকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এবং ধ্বংসাত্মক বলা হচ্ছে।ইসরায়েলি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। হামাসের ওই হামলায় এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।ঢাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতেমা তাসনিম ঝুমা ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন।তিনি জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য মনোনীত করা হচ্ছে।আব্দুল্লাহ আল জাবের ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।বিশেষ করে, হাদির হত্যার বিচার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তার নেতৃত্ব তাকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিতি ও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার নয় মাস আগেই ভারতের নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার ফয়সাল মাহমুদকে সরাল সরকার।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের আদেশ দিয়েছে।তবে কী কারণে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে, সেই বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু জানানো হয়নি।আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দুই বছরের জন্য প্রেস মিনিস্টার হিসেবে দুই বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বাংলা আউটলুকের সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদকে।অন্তর্বর্তী সরকার সেসময় দিল্লির পাশাপাশি আরও দূতাবাসের বিভিন্ন পদে রদবদল আনে।এখন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির সরকার গঠনের আগ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকার ফয়সালের চুক্তির নিয়োগ বাতিল করল।
ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল সপ্তমবারের মতো পেছানো হয়েছে। নতুন করে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত নতুন করে এ দিন ধার্য করেন।এর আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠবারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন পেছানো হয়েছিল। ওই দিন একই আদালত থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। তবে, এ অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানায় হাদির ইনকিলাব মঞ্চ।গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ধার্য ছিল। সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।পরে, ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। এরপর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসা আততায়ী তাকে গুলি করে।গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় পরে হত্যা সংক্রান্ত ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।এছাড়া, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় যান তিনি।এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন তারেক রহমান। শনিবার বিএনপির বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় এবং রাত ৮টায় নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তিনি।গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি জোটের বর্তমান আসনসংখ্যা ২১২। দীর্ঘ দেড় দশক পর এমন ‘ভূমিধস’ বিজয় দলটির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক বিজয়ে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক মোবারকবাদ। গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই স্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
দ্রোহ, প্রেম, প্রকৃতি ও প্রার্থনার কবি আল মাহমুদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি)। ২০১৯ সালের এই দিনে সাহিত্যের ষোলকলা পূর্ণ করে তিনি ইন্তেকাল করেন।বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তর হয়ে রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জাতির আত্মপরিচয়ের বিপ্লবী পথ পরিক্রমায় যার কবিতা মুক্তিকামী গণমানুষকে প্রেরণা জুগিয়ে সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে, তিনি সবুজের কবি আল মাহমুদ।আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃপ্রদত্ত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তার পিতার নাম মীর আবদুর রব ও মাতার নাম রওশন আরা মীর। তার দাদার নাম আব্দুল ওহাব মোল্লা; যিনি হবিগঞ্জ জেলায় জমিদার ছিলেন।বাংলা ভাষার প্রধানতম এ কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক, সাহিত্যিক সংগঠন নানা প্রোগ্রামের উদ্যোগ নিয়েছে।আল মাহমুদ কেন্দ্রিক সংগঠন ‘কালের কলস’র সম্পাদক আবিদ আজম জানিয়েছেন, কবির মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্ণারে আজ বিকেলে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যাতে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং কবির ভক্ত-অনুরাগীরা উপস্থিত থাকবেন।অনুষ্ঠানে কবির জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা ছাড়াও আবৃত্তি এবং সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর ফলাফল পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার খোরাক যোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের 'ছায়া মন্ত্রিসভা' (Shadow Cabinet) গঠনের ঘোষণা। নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিলেও, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জোটের এই ঘোষণা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।ছায়া মন্ত্রিসভা (Shadow Cabinet) আসলে কী?ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি বিশেষ কাঠামো, যেখানে প্রধান বিরোধী দল সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে তাদের নিজস্ব একজন বিশেষজ্ঞ বা মুখপাত্র নিয়োগ করে। সহজ কথায়, সরকারের একজন 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী' থাকলে বিরোধী দলেরও একজন 'ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী' থাকবেন।এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের প্রতিটি কাজের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা, ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা। ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা বাস্তবে কোনো দাপ্তরিক ক্ষমতা ভোগ করেন না, তবে তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন।ছায়া মন্ত্রিসভার ভূমিকা ও গুরুত্ব১. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: প্রকৃত মন্ত্রীরা যখন সংসদে কোনো বিল বা নীতি উত্থাপন করেন, তখন ছায়া মন্ত্রীরা সেই বিষয়ের কারিগরি ও রাজনৈতিক ত্রুটিগুলো তুলে ধরেন।২. বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি: ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল প্রমাণ করে যে, তারা যেকোনো সময় রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রস্তুত। এটি এক ধরনের 'সরকার গঠনের মহড়া'।৩. জনগণের অধিকার রক্ষা: সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত জনস্বার্থ বিরোধী হলে ছায়া মন্ত্রিসভা তাৎক্ষণিক বিকল্প প্রস্তাব পেশ করে জনমত গঠন করতে পারে।৪. বিশেষজ্ঞ মতামত: ছায়া মন্ত্রীরা সাধারণত নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হন, ফলে সংসদে আলোচনা অনেক বেশি গঠনমূলক ও তথ্যসমৃদ্ধ হয়।বিশ্বের কোন কোন দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা রয়েছে?ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণাটি মূলত ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থা বা 'ওয়েস্টমিনিস্টার সিস্টেম' থেকে এসেছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে এই চর্চা রয়েছে:যুক্তরাজ্য: ছায়া মন্ত্রিসভার সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেখা যায় ব্রিটেনে। সেখানে বিরোধী দলীয় নেতাকে ‘Leader of His/Her Majesty’s Loyal Opposition’ বলা হয় এবং তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা পান।কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া: এই দুই দেশেও ব্রিটিশ আদলে অত্যন্ত সক্রিয় ছায়া মন্ত্রিসভা রয়েছে।নিউজিল্যান্ড: এখানেও বিরোধী দল নিয়মিত ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখে।ভারত: ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশদের মতো বেতনভুক্ত ছায়া মন্ত্রিসভা না থাকলেও, প্রধান বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্দিষ্ট মুখপাত্র নিয়োগের মাধ্যমে এই চর্চা বজায় রাখে।দক্ষিণ আফ্রিকা: দেশটির প্রধান বিরোধী দল 'ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স' নিয়মিত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে থাকে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া এবং ইন্টারনেট
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর বের হয়েছে সেটি সঠিক নয়।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সময় সংবাদকে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আইজিপি বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি।’এর আগে বিকেল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে বলা হয়, তিনি এরইমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আইজিপি হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয় বাহারুল আলমকে।অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক আইজিপি পদে নিয়োগ দেয়। সে অনুযায়ী এ বছরের ২০ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।এর আগে ২০২০ সালে তিনি পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছিলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি আসছেন।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনীতিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানি। আফগানিস্তান-মিয়ানমার বাদে সার্ক ও বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্র আছে। জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে এরইমধ্যে ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ ১৩টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে নতুন সরকারের শপথ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নতুন সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে। শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে অংশ নেয়ার জন্য ভারত-পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে একই দিন সকাল ১০টায় শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদেরকে শপথ পড়াবেন। নির্ধারিত সময়ে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। তিনি জানান, নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
নির্বাচন পরবর্তীতে এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও একটি বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফরিদপুরের সালথা এবং বোয়ালমারী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে একাধিক বসতবাড়িতে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সালথা উপজেলা যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া ও বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া এলাকাবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সালথা ও বোলয়ামারী উপজেলার সীমান্তে ময়েনদিয়া বাজারের অবস্থান। বাজারটি এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বড়। ওই বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও এলাকার অধিপত্য বিস্তার নিয়ে সালথার খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কামাল আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে মো. জিহাদ মিয়া ও টুলু মিয়ার সঙ্গে বোয়ালমারীর পরমেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বিরোধ চলছে প্রায় একযুগ ধরে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রধান স্বাক্ষী হন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। এরপর ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন মান্নান ও তার সমর্থকরা। এতে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায় এলাকা ছেড়ে চলে যান বাচ্চুর ছেলে জিহাদ মিয়া ও তার পরিবার।জানা যায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জিহাদ মিয়া এলাকায় এসে ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে মান্নান চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করেন জিহাদ মিয়ার সমর্থকরা। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্নান চেয়ারম্যান বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেন। দেশব্যাপী বিএনপির বিজয় হলে মান্নান বাড়ি আসেন। এরপর এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়।উত্তেজনার মধ্যে শনিবার সকালে জিহাদ মিয়া ও টুলু মিয়ার সমর্থক ও আব্দুল মান্নানের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে স্থানীয় খারদিয়া, নটখোলা, ময়েনদিয়া ও পরমেশ্বর্দী এলাকার হাজারো মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এই সংঘর্ষ। এসময় অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় দুটি বাড়িও। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।সালথা আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, নির্বাচনের পরদিন থেকে সালথার খারদিয়া ও বোয়ালমারী ময়েনদিয়া এলাকায় বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিল। কিন্তু শনিবার সকালে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আশঙ্কা করে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু দেশীয় অস্ত্রসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো এবং আটকৃত আসামিরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সালথা থানায় রয়েছে। এলাকার পরিবেশ এখন স্বাভাবিক। ঘটনাস্থলের আশপাশে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অবস্থান করছে। সালথা উপজেলায় যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও অরাজকতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি এবং টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুষ্কৃতিকারীদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আজ দাপুটে জয় পেয়েছে ভারত। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ইশান কিষাণের ঝোড়ো ৭৭ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের সংগ্রহ গড়েছিল সূর্যকুমার যাদবের দল। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যান ইন গ্রিনরা শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। সেই বিপর্যয় থেকে আর ওঠে দাঁড়াতে পারেনি সালমান আঘার দল। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলারদের তোপে ১৮ ওভারেই ১১৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ৬১ রানের জয়ে সুপার এইট নিশ্চিত হয় ভারতের। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ছিল পাকিস্তানের জন্য ভয়াবহ। ভারতের পেস জুটি যশপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পান্ডিয়া মাত্র দুই ওভারের মধ্যে ১৩ রানে তুলে নেন সাহিবজাদা ফারহান (শূন্য), সাইম আয়ুব (৬) ও অধিনায়ক সালমান আলি আগা (৪)-কে।শুরুর বিপর্যয়ের পর পাঁচ নম্বরে নেমে ইনিংসের হাল ধরেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার উসমান খান। তিনি বাবর আজমকে (৫) সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ২১ রান। তবে পঞ্চম ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে বোল্ড হন বাবর। এরপর উসমান ও অলরাউন্ডার শাদাব খান মিলে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৩৯ রানের সতর্ক জুটি। কিন্তু আবারও আঘাত হানেন অক্ষর, ভেঙে দেন এই জুটি।উসমান ৩৪ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। তার বিদায়ের পর পরপর ধাক্কা খায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ নওয়াজ (৪) ও সেট ব্যাটার শাদাব (১৪) দ্রুত আউট হলে ১২ দশমিক ১ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৭৮।অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ (১০) ও নিচের সারির ব্যাটার শাহিন শাহ আফ্রিদি অষ্টম উইকেটে ১৯ রান যোগ করেন। তবে বরুণ চক্রবর্তী ১৬তম ওভারে আবরার আহমেদকে শূন্য রানে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ৯৭ রানে ৯ উইকেটের চাপে ফেলেন।শেষ আঘাত হানেন হার্দিক পান্ডিয়া। ১১ নম্বরে নামা উসমান তারিককে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি। ভারতের হয়ে বুমরাহ, অক্ষর, পান্ডিয়া ও বরুণ নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া কুলদীপ যাদব ও তিলক বর্মাও অবদান রাখেন।এর আগে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে ভারত। ভারতের শুরুটাও ছিল হতাশাজনক। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের শীর্ষ ব্যাটার অভিষেক শর্মা চার বল খেলেই শূন্য রানে বিদায় নেন।তবে ওপেনার ইশান কিষান তিলক বর্মাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৪৫ বলে ৮৭ রানের দারুণ জুটি। পাকিস্তানের বোলারদের চাপে ফেলে এই জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে নেয়। সাইম আয়ুব কিষানকে ফেরালে ভাঙে সেই জুটি। কিষান ৪০ বলে ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ৭৭ রান।এরপর তিলক বর্মা ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তৃতীয় উইকেটে ৩৮ রান যোগ করেন। কিন্তু সাইম পরপর দুই বলে বর্মা (২৫) ও হার্দিক পান্ডিয়াকে (শূন্য) আউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন।১৪ দশমিক ৩ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১২৬। সেখান থেকে সূর্যকুমার ও শিবম দুবে মিলে ৩৩ রানের জুটি গড়ে দলের গতি ধরে রাখেন। শেষের আগের ওভারে উসমান তারিকের বলে আউট হওয়ার আগে সূর্যকুমার ২৯ বলে ৩টি চারে ৩২ রান করেন।দুবে ১৭ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ রান করে ইনিংসের শেষের আগের বলে বিদায় নেন। পাকিস্তানের হয়ে সাইম আয়ুব ছিলেন সেরা বোলার। চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া সালমান আলি আগা, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও উসমান তারিক একটি করে উইকেট শিকার করেন।
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে আনন্দচিত্তে ভোট দিলেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী ও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত বেবী নাজনীন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন তিনি।ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বেবী নাজনীন। তিনি বলেন, “ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। খুব আনন্দ হচ্ছে। অবশেষে ভোট দিতে পারলাম। এটাই তো চেয়েছিলাম। ইচ্ছে করছে ১৭ বছরের সব ভোট আবার দেই।”দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তই তার কাছে চূড়ান্ত। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে সংসদে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটাও নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহ যদি চান, তবে হয়তো হবে।”ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর, সফল ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ধানের শীষের জয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ভোটে অংশ নিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোটে অংশ নিচ্ছেন বিনোদন অঙ্গনের তারকা, অভিনয় শিল্পী, নির্মাতারাও। নিজের ভোটটি দিয়ে এসে একটি ভিডিও বার্তায় কথা বললেন নির্মাতা আশফাক নিপুন।১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মহানগর খ্যাত নির্মাতা জানান, ভোট দেওয়া শেষ। সকাল ৭:৩০ মিনিটে এখানে এসেছি এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে ৮:১০ মিনিটে আমার পালা এলো। মনোরম আবহাওয়া, উৎসাহী ভোটার আর আন্তরিক কর্মকর্তাদের দেখে খুব ভালো লাগছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত- সবাই ভোট দিন। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক। সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তায় নিপুন বলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে হোক।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সারা দেশে যখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলছে, তখনই ন্যান্সি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে জানিয়ে দিলেন, তিনি না ভোটের পক্ষে। যদি নেটিজেনদের একাংশ তাকে তীব্র তোপের মুখে ফেলেছেন। তবে এসবে একেবারে নজর দিচ্ছেন না এই গায়িকা। জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন ন্যান্সি। বিগত সময় তার নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। অনেক কনসার্ট তার বাতিল হয়েছে।তবুও ভেঙে পড়েননি। নতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরনতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরশোবিজ তারকাদের সবার যখন নানা সুযোগ হাতছানি দিচ্ছিল, তখন ন্যান্সি বলেছিলেন, শিল্পীদের এত এমপি-মন্ত্রী হওয়ার শখ কেন? কী আছে সেখানে? কত টাকা বেতন পায় এমপিরা? গান অথবা অভিনয় করে কি যথেষ্ট সম্মানী আসে না যে এমপি হওয়ার জন্য লোভ করতে হবে? যারা এগুলো করে এদের ধরা উচিত। আমার মধ্যে এসব চিন্তা একেবারেই নেই। নিজে নির্বাচন করবেন কি না এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, আমি এখনই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই না। তবে যে দল আমার ভালো লাগে, আমি তো চাইবই তারা ক্ষমতায় আসুক। তবে সব কিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের জনগণ। জনগণের কাছে আমার চাওয়া এত দিন যারা কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করে গুম, দুর্নীতি এবং কিছু বললেই চরিত্র নিয়ে কথা বলত, তাদের ক্ষমতায় আনবে কি না মাথায় রাখতে। আর কোনো তারকা দেখলেই নমিনেশন দেবেন না। যদি সেই তারকা রাজনীতির লম্বা পথ পাড়ি দিতে পারে তাহলে তাকে সেই টাইমে দেওয়া উচিত। তারপর তাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন।
নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত ‘মাস্টার’ চলচ্চিত্রটি সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে ছবিটি। উৎসবের শুরু থেকেই সিনেমার নির্মাতা সুমিতসহ অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম ও নাসির উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।রটারড্যামের অভিজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে জানান অভিনেত্রী বাঁধন। পুরস্কার প্রাপ্তির মুহূর্তটিকে তিনি বর্ণনা করলেন আবেগাপ্লুত হয়ে। বাঁধন বললেন, সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা খুব সাধারণভাবে গিয়েছিলাম; ভেবেছিলাম অন্য সবাই পুরস্কার পাবে আর আমরা হাততালি দেব। সেই হাততালি যখন বাংলাদেশের জন্য হয়ে গেল, সেটা খুব আনন্দের ছিল।পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত একজন অত্যন্ত সৎ নির্মাতা। আজ তার সেই সততারই প্রতিফলন ঘটেছে এই অর্জনে।প্রবাসীদের ভালোবাসায় মুগ্ধ বাঁধন জানান, সাপ্তাহিক কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ডাচ দর্শকদের সিনেমা দেখার আগ্রহ এবং প্রশংসা অভিনেত্রীকে অভিভূত করেছে। এবারের রটারড্যাম উৎসবে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সাফল্য নিয়ে বাঁধন বলেন, বাংলাদেশের সিনেমা শক্ত একটি জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। রেহেনা থেকে শুরু করে যেসব সিনেমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেছে, সবগুলোই বাংলাদেশের সিনেমাকে সমৃদ্ধ করছে। আর এটা খুব সম্মানের বিষয়, এবার রটারড্যামে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা ছিল। মনে হয়েছে, ফেস্টিভ্যালটা আমাদের। একই সঙ্গে আমরা তিনটি টিম নেদারল্যান্ডসে এসেছি। সবার সঙ্গে সবার দেখা হচ্ছে, সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে গ্র্যামি-মনোনীত জনপ্রিয় মার্কিন রক ব্যান্ড ‘থ্রি ডোরস ডাউন’এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রধান ভোকালিস্ট ব্র্যাড আর্নল্ড মারা গেছেন। ৪৭ বছরে তার জীবনাবসান ঘটলো।৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যেই চলে গেলেন তিনি। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্টেজ–৪ কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত ব্র্যাড স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে জানান ব্র্যাড আর্নল্ড। তখন তিনি জানান, তার শরীরে স্টেজ–৪ ক্লিয়ার সেল রেনাল কার্সিনোমা শনাক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়ে। ক্যানসারের খবর জানিয়ে সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমি ভয় পাই না। সত্যিই ভয় পাচ্ছি না। সুযোগ পেলে আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। তার অসুস্থতার কারণে ওই সময় ব্যান্ডটির নির্ধারিত একাধিক ট্যুর বাতিল করা হয়।১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে গঠিত হয় ‘থ্রি ডোরস ডাউন’। ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য বেটার লাইফ’ প্রকাশের পরই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং অ্যালবামটি ছয় মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়।এখন পর্যন্ত ব্যান্ডটি মোট ছয়টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। তাদের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গ্র্যামি মনোনয়ন ও বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। ব্র্যাড আর্নল্ডের লেখা ‘ক্রিপ্টোনাইট’, ‘হেয়ার উইথাউট ইউ’, ‘হোয়েন আই’ম গন’ ও ‘লুজার’ এই গানগুলো রক সংগীতে তাকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি ও খ্যাতি।
ঈদুল আজহায় আসছে শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’। এ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে শাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তানজিয়া জামান মিথিলা। দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে পাকিস্তানের কোনো নায়িকা থাকতে পারেন-এমনটাই শোনা যাচ্ছে।সিনেমা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় নায়িকার চরিত্রের জন্য ইতোমধ্যে পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করেছেন মিথিলা। চরিত্রটি তার পছন্দও হয়েছে। তবে ছবির প্রধান নায়িকা হিসেবে কে থাকছেন, তা গোপন রাখা হয়েছে; হতে পারে পাকিস্তানের শীর্ষ কোনো অভিনেত্রীকে রাখা হবে সে স্থানে।বিষয়টি এখন পর্যন্ত গুঞ্জনে মোড়া থাকলেও কারও সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনই নাম প্রকাশ করতে চাইছে না নির্মাতা পক্ষ। এ বিষয়ে সিনেমার পরিচালক আজমান রুশো সংবাদ মাধ্যমে জানান, নায়িকা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না, আমরা দ্বিতীয় নায়িকার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব। চূড়ান্ত হওয়ার আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এ প্রসঙ্গে চুপ রয়েছেন তানজিয়া মিথিলাও। বর্তমানে ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শাকিব খান। সেই ছবির কাজ শেষ করে দুই সপ্তাহের বিরতি নেবেন তিনি। এরপরই ‘রকস্টার’-এর শুটিং শুরু করার কথা রয়েছে ঢালিউড কিংয়ের।
বাংলাদেশে চেরি গাড়ির একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর এশিয়ান মোটরস্পেক্স লিমিটেড সম্প্রতি চেরি শোরুমে ‘ডেলিভারিংলাভস’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করেছে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার পাশাপাশি চেরি ব্র্যান্ডের উদ্ভাবন, ও গ্রাহক সেবার প্রতি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান মোটরস্পেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান সাজেদুর রহমান। তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বৃদ্ধি করে এবং বাংলাদেশে চেরি ব্র্যান্ডের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে এশিয়ান মোটরস্পেক্স-এর একাগ্রতা পুনর্ব্যক্ত করে।অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্যে দেওয়ান সাজেদুর রহমান বলেন, “আমরা শুধু গাড়ি বিক্রি করতে চাই না; আমরা আপনাদের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোর অংশ হতে চাই।” তার এই বক্তব্য চেরি ব্র্যান্ডের লক্ষ্য—অর্থাৎ কেবল যানবাহন বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশেষ দিনগুলোতে গ্রাহকদের জন্য অর্থবহ অভিজ্ঞতা ও আবেগীয় মূল্য তৈরির বিষয়টিকেই ফুটিয়ে তোলে।অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজ যোগ করতে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার ইফতেখার রাফসান, রাকিন আবসার এবং শৌমিক। তারা আগত অতিথি ও গ্রাহকদের সাথে আলাপচারিতায় অংশ নেন এবং চেরি ব্র্যান্ডের আধুনিক ও তরুণ-প্রজন্মের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরেন।ভালোবাসা দিবসের থিমে সাজানো চেরি শোরুমে দর্শনার্থীদের জন্য ছিল এক উষ্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ। আগত অতিথিরা শোরুমে চেরি গাড়ির আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রিমিয়াম ফিচারগুলো পরখ করে দেখেন এবং বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও একটি সুসজ্জিত চেরি টিগো ৮ প্রো (Chery Tiggo 8 Pro) গাড়ি ঢাকার বিভিন্ন এলাকা যেমন— বনানী, গুলশান, তেজগাঁও এবং ধানমন্ডির রাস্তায় প্রদর্শিত হবে।এই সফল উদযাপনের মাধ্যমে চেরি বাংলাদেশ কেবল রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং একটি নিবিড় গ্রাহক কমিউনিটি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। প্রযুক্তি ও আভিজাত্যের সাথে আন্তরিক সম্পর্কের মেলবন্ধন ঘটিয়ে চেরি তার গ্রাহকদের সাথে বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।
মালদ্বীপের থিলাফুশিতে নিখোঁজের দুই দিন পর আবর্জনার স্তূপ থেকে আমিন মিয়া (২৪) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে, যা যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি আমিন মিয়া নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৮ জানুয়ারি থিলাফুশির একটি কর্মস্থলের আবর্জনার স্তূপের ভেতর থেকে ওই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়ক মেনিকা একটি খননকারী যন্ত্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, যন্ত্রটির আঘাত লাগার ফলেই আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে।অভিযুক্ত মেনিকাকে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ।তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক আঘাতের পর আমিন মিয়া আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে যান এবং এরপরও ঘটনাস্থলে কাজ অব্যাহত রাখা হয়। খননকারী যন্ত্রের অপারেটর ঘটনাটি ঘটার সময় বিষয়টি অবগত ছিলেন কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।পুলিশের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার আহত হওয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।এদিকে ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।এছাড়া, আমিন মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে মালদ্বীপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, স্থানীয় গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অবহেলার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের অবহেলার কারণে পুলিশকে অবহিত করতে দেরি হয়। স্থানীয় সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা গেছে, আমিন মিয়া ময়লার স্তূপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পরও দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্য করেননি। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে হয়তো তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘একলা খেলে যম নেয়, দশজনে খেলে ধর্ম রয়।’ এ প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ যমরাজ এসে ধরে নিয়ে যাওয়া না। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি অত্যন্ত গভীর। প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো, দশজনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে শরীর ও মন উভয়ই ‘ধর্ম’ অর্থাৎ সুশৃঙ্খল থাকে। আবার দশজন মানে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সংখ্যার দশ নয়, এর অর্থ অনেকে মিলে।খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষেরা একা খেতে বসার পক্ষে নন। দাদি-নানিরা সব সময়ই বলে থাকেন, একা একা বসে খাচ্ছিস কেন, সবার সঙ্গে বসে খা! এই একা খেতে বসার অভ্যাস কেবল একাকিত্ব বাড়ায় না। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তোলে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, একা খেতে বসার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে অন্তত দুবার একা বসে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সংমিশ্রণে হওয়া মেটাবলিক সিনড্রোম নামে একটি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, একা খেতে বসলে পুরুষদের স্থূলতার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ২৪টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বলছে, একা খেতে বসলে মানুষ পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন প্রক্রিয়াজাত বা রেডি মিল বেশি পছন্দ করে। এতে শরীরে প্রোটিন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয়।মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবএকা খাওয়া কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৮ হাজারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক অসুস্থতার পর একা খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসুখী করে তোলে। অনেকে মনে করেন, একা খেতে বসা মানেই স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজিস্ট ড. স্টিফানি কাসিওপ্পোর মতে, মানুষ যদি খাওয়ার সময় নিজেকে একা মনে করে, তবে তার শরীর বেশি চর্বিযুক্ত ক্যালরি শোষণ করে।বার্ধক্য ও একাকী ভোজনপ্রবীণদের জন্য একা খাওয়া এক নীরব ঘাতক। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা যখন একা খান, তখন তাঁরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা ফ্রেইল হয়ে পড়েন। একা খাওয়ার ফলে বয়স্কদের প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণ কমে যায়। তা নেমে আসে প্রায় ৫৮ গ্রাম থেকে ৫১ গ্রামে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওপোরোসিস বা হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং পুষ্টিহীনতা উভয়ই মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে, যা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কের আয়তনও সংকুচিত হতে পারে।কেন একা খেতে বসা ক্ষতিকরগবেষকেরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:উদ্দীপনার অভাব: যখন কেউ একা খান, তখন তাঁর ভালো কিছু রান্না করার আগ্রহ কমে যায়।খাওয়ার গতি: দলগতভাবে খেলে মানুষ গল্প করে ধীরে ধীরে খায়। এ বিষয়টি হজমে সাহায্য করে। একা খেলে মানুষ হয় খুব দ্রুত খায় নতুবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে।ইগো ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ওজনের মানুষ অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে অন্যদের সামনে খেতে চান না। এটা তাঁদের আরও বেশি একা খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।খাবার কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপায়। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া বা মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস ম্যাগাজিন, ডেইলি মেইল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যায়, ইনসাফ এবং সুশাসনের প্রত্যাশা করেছেন বিজয়ীদের কাছে জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ প্রত্যাশার কথা বলেন তিনি।পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, নির্বাচনে বিজয়ী এবং বিজিত— উভয় পক্ষকে অভিনন্দন। দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের শক্তি বিভাজনে নয়, ঐক্যে।তিনি লেখেন, যাদের কাঁধে ইতিমধ্যেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এসেছে, তারা ইসলামিক মূল্যবোধকে ধারণ করে— ন্যায়, ইনসাফ এবং সুশাসনের বাংলাদেশ উপহার দেবেন, সেই প্রত্যাশা রাখি।তার দেওয়া পোস্টের কমেন্টে আজহারী লেখেন, বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। বিজয়ী দলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আর যারা বিজয়ী হতে পারেননি, তাদের প্রতিও শুভকামনা।মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।তিনি আরও লেখেন, মনে রাখতে হবে— নেতৃত্ব স্রেফ কোনো সম্মান নয়; এটি একটি আমানত। বিজয় এবং সাফল্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) দায়িত্ব থেকে পালিয়ে থাকতেন জবাবদিহিতার ভয়ে। কিয়ামতের ময়দানে প্রতিটি দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই, বিজয় যেন কারো অন্তরে দাম্ভিকতা না আনে; বরং বিনয়, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বোধ জাগ্রত করে। দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এগোয় ঐক্যে, পিছিয়ে পড়ে বিভাজনে।