শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা বিবেচনায় নিয়ে আগামী নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন না করার চিন্তাভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, পরীক্ষা শেষ হলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সম্ভব্য নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সরাসরি কোনো চিঠি চালাচালি করার নিয়ম বা নজির নেই। তবে কমিশন প্রস্তুত রয়েছে এবং বর্তমানে সরকারের কাছে কোন কোন ক্ষেত্র নির্বাচন উপযোগী তার একটি স্পষ্ট তালিকা চাওয়া হয়েছে।নির্বাচন পেছানোর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকেন। একই সময়ে নির্বাচন পরিচালনা করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। বাস্তবতার নিরিখে এবং সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে রাখতেই নির্বাচনের প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৩৪৫ জন, ঢাকা বিভাগে (মহানগরের বাইরে) ৩৭১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, খুলনা বিভাগে ২৭৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩০ জন, সিলেট বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে ৭৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৮ জন রয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫ হাজার ৬৬ জন।২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৬৯ হাজার ১৪৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৩০৩ জন, যা এ বছরের এক মাসে সর্বোচ্চ।এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। আর মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২০৯ জন।এর আগে ২০২৫ সালে দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে। মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিটি দেশ নিয়ে গঠিত বিশ্বের একমাত্র সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান ‘জাতিসংঘ’। এই প্রতিষ্ঠানের মূল নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি জাতিসংঘের প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালিত হয় মহাসচিবের নেতৃত্বে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র পাঁচটি—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। এই দেশগুলোর রয়েছে ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা। এছাড়া প্রতি বছর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনসাপেক্ষে ১০টি দেশ অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়। অন্যদিকে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত ‘সাধারণ পরিষদ’ যেন পুরো বিশ্বের একান্নবর্তী পরিবার। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের বাজেট অনুমোদন, নতুন সদস্য গ্রহণ এবং নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচন।আমাদের সমাজে যেমন ধর্মীয় উৎসব বা পারিবারিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সবাই নিজ নিজ ঠিকানায় একত্রিত হয়, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনও অনেকটা সেরকম সামাজিক পরিবেশ তৈরি করে। এ উপলক্ষে নির্দিষ্ট কাজের সমাধান হয়, প্রতিনিধিরা একে অপরের সান্নিধ্য পান এবং জটিল আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের পথ বা সূত্র তৈরি হয়। একইভাবে এই অধিবেশনে সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা পরস্পরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন, যা পরে বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।এর এক চমৎকার ও কালজয়ী উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম— ১৯৮০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৩৫তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে জাতিসংঘের ৩৫তম অধিবেশনে এই ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক তার বক্তব্যে যে অঙ্গীকার ও রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন, তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন। যেসব বিষয়ে তিনি দৃষ্টিপাত করেছিলেন, তার বহিঃপ্রকাশ পরে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিকভাবে ঘটেছে।১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে (বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে) দেওয়া তার প্রথম ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বমঞ্চে এক ঐতিহাসিক বার্তা দেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি বাংলাদেশের স্বনির্ভর উন্নয়ন সংগ্রামের বিবরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আকুল আহ্বান জানান।তিনি বাংলাদেশের তৎকালীন মূল চ্যালেঞ্জ—যেমন জনসংখ্যার চাপ, বেকারত্ব, ভূমিহীনতা ও নিম্ন মাথাপিছু আয়ের চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বাংলাদেশে বাস করে। এখানকার জনসংখ্যার ঘনত্ব জাপান ও নেদারল্যান্ডসের চেয়েও দ্বিগুণ। অর্ধেকের বেশি মানুষ বেকার অথবা ভূমিহীন কৃষক, যাদের বড় অংশই কেবল মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ২০ লাখ মানুষের খাদ্যসংস্থান করতে হয়। এত কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ যে থমকে যাবে না, সে কথা জানিয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাইনি এবং কখনোই হবো না।’পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন তিনি। ১৯৮৫ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং নতুন বিদ্যালয় ও হাসপাতাল স্থাপনের লক্ষ্যের কথা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ‘কোনো নারী, পুরুষ বা শিশু যেন অন্ন, বস্ত্র ও আশ্রয় থেকে বঞ্চিত না হয়’ তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন।’ দেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষকে এই উন্নয়নযজ্ঞে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কোনো অবস্থাতেই নড়চড় হবে না।’ স্বনির্ভরতাকেই তিনি দেশের মূলমন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বলেন, ‘আমাদের সফল হতেই হবে, কারণ আমাদের সামনে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’জিয়াউর রহমানের ভাষণে সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী বিষয়টি ছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব। আঞ্চলিক শান্তির সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার যোগসূত্র ব্যাখ্যা করে তিনি এ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের কাছে কিংবা দূরে যেকোনো ধরনের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, যা নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিহীন।’তিনি বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশ ইতোপূর্বে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে উঠলেও দক্ষিণ এশিয়ায় তখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত এক টেবিলে বসা এবং এ অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করা। দক্ষিণ এশিয়ায় এখন আমাদের যাত্রা শুরু করার সময় এসেছে।’ (যার ধারাবাহিকতায় পরে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়)। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন ও কাজগুলোকে পরে এগিয়ে নিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৪৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে বেগম খালেদা জিয়া বেশ কিছু মৌলিক ও তাত্পর্যপূর্ণ বিষয়ে আলো ফেলেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরকে শক্তিশালী করে। দারিদ্র্য মোকাবিলার সক্ষমতার ওপরই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে।’তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দেন, মূলধনের অভাব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে বাংলাদেশের একার পক্ষে এত বড় পথ চলা কঠিন। তাই তিনি উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে যখন আমরা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই, তখন একা এই কঠিন কাজ সম্পাদন করা সম্ভব নয়; আমাদের সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।’বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মানবাধিকার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ছোট রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে যুক্ত করেন। স্নায়যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় ছোট ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর অধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর তাগিদ দেন। তিনি ঘোষণা করেন, ‘জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার মাধ্যমে এক সমৃদ্ধ সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ ছোট ও বড় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ছোট দেশগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এছাড়া অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, সমুদ্র আইন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মর্যাদার বিষয়গুলোকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। আজ ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় মধ্য রাতে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম ভাষণে অংশ নিতে যাচ্ছেন। পুরো জাতি আজ গভীর আগ্রহ ও প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছে—তার পিতার সুচিন্তিত ও দূরদর্শী ভাবনার অনুকরণে বিশ্বমঞ্চে কেমন দিগদর্শন ফুটে ওঠে। আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন সর্বদা নতুন রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য নিজেদের দূরদৃষ্টি ও দেশের অবস্থান তুলে ধরার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। অতীতে অনেক বিশ্বনেতা প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে এসে পুরো দুনিয়ার সামনে যে ঐতিহাসিক বক্তব্য ও স্বপ্ন তুলে ধরেছিলেন, তা কালক্রমে বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছিল। ঐতিহাসিক এই ধারা প্রমাণ করে—প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রপ্রধানরা যে স্বপ্ন দেখান, তা কেবল নিজ দেশের ভাগ্য নয়, বরং সমগ্র বৈশ্বিক রাজনীতির চিন্তা-চেতনাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এদিক থেকে বাংলাদেশ থেকে আজকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দেশের সামগ্রিক নজর থাকবে, এটিই স্বাভাবিক।ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক গতিধারা, বৈশ্বিক সংকট, বিশ্বজুড়ে মানবতা ও মানবাধিকারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের এক নতুন দিকনির্দেশনা ফুটে উঠবে তার কণ্ঠে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মা-বাবার রক্ত ও আদর্শের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে ৩১-দফার ভিত্তিতে এক আধুনিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথাই তিনি স্মরণ করিয়ে দেবেন বিশ্বমঞ্চে, বিশ্বনেতাদের।লেখক: সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী
মালদ্বীপের রাজধানী মালেস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও মতবিনিময় সভা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের পক্ষ থেকে দেশে টাকা পাঠাতে ব্যাংকিং সমস্যা, প্রবাসীদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার সমস্যা, যারা অবৈধ হয়ে গেছে তাদের বৈধকরণ অথবা তারা যাতে সহজে দেশে ফিরতে পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ, কনস্যুলার সেবা, সিন্ডিকেট ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সমস্যা ও ভোগান্তির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রবাসীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হাইকমিশন বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমাধানের আশ্বাস প্রদান করে। একই সঙ্গে বিষয়গুলো এমপির পক্ষ থেকে পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে বলেও তিনি প্রবাসীদের আশ্বাস প্রদান করেন।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন।
গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় ছয় মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এই অমানবিক পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।অভিযুক্ত মফিজুল হক মাসুদ (৫৯) গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার মান্ধুরা গ্রামের মৃত জমিরউদ্দীন শেখের ছেলে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবার একই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকতো। গতকাল দুপুরে অভিযুক্তের তিন বছরের মেয়ে শিশুটিকে কোলে নিয়ে তাদের রুমে যায়। রুমে যাওয়ার দশ মিনিট পর থেকেই শিশুটি অস্বাভাবিক চিৎকার করতে থাকে। পরে শিশুটির বাবা গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। কিন্তু কোনভাবেই শিশুটির চিৎকার না থামায় তাদের সন্দেহ হয়। তারা শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহৃ দেখতে পান। পরে রাতেই জিরানি বাজার এলাকায় অবস্থিত নাসিরউদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায় ওই শিশুকে। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন যে শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন আছে। রাতেও শিশুটি কান্নাকাটি করে এবং শরীরে জ্বর চলে আসে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, রাতেই আমরা অভিযুক্তের স্ত্রীকে বিষয়টি জানাই। কিন্তু তিনি প্রথমে বিশ্বাস করেননি। পরে আজকে সকাল ৯ টার দিকে অভিযুক্তের স্ত্রীসহ আমরা শিশুটিকে নিয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মোজিব মেমোরিয়াল কেপিজি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন যে শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন আছে।তিনি বলেন, বাসায় এসে জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দিলে কাশিমপুর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে যায়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল লিটন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করি। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্ততি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের এক যৌথ প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স অ্যাডভাইজার লুইস বেননের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর লিপিকা বিশ্বাস।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, বৈঠকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গঠন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শশুর বাড়ি গিয়ে নিলুফা আক্তার মিলু (৪০) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্ম হত্যার চেষ্টা করে স্বামী হযরত আলী। এ সময় ঘটনা স্থলে শাশুড়ি এগিয়ে আসলে জামাতা তাকেও কুপিয়ে আহত করে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। হতাহতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন নাগরপুর থানার ওসি মো. জহুরুল ইসলাম। পারিবারিক কলহের কারনে হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে পুলিশের ধারনা। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ৬ বছর আগে ধুবড়িয়া গ্রামের ডহর পাচুরিয়া গ্রামের হযরতের সাথে পার্শ্ববর্তী বাদে কাকনা গ্রামের নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মাঝে চলতে থাকে দাম্পত্য কলহ। এরই জের ধরে নিলুফা ১ সপ্তাহ আগে হযরতকে তালাক দেয়। তালাকের খবর পেয়ে হযরত ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার দিন রাত ৮ টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে শশুর বাড়ি যায়। সেখানে স্ত্রী নিলুফাকে দেখা মাত্রই এলোপাথারী ছুরিকাঘাত করলে ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার রক্তাক্ত নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকে। এসময় নিলুফার মা চেনবানু ফিরাতে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে স্বামী হযরত আলী তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীরা মুমূর্ষু অবস্থায় স্বামী হযরত ও শাশুড়ি চেনবানু কে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌসুমী ভৌমিক বলেন, গুরুতর জখম অবস্থায় হযরত আলী ও চেনবানু কে নিয়ে আসা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওই রাতেই ২জন কে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে হযরতের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ও অপর আহত শাশুড়ি চেনবানুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানান। নিহত নিলুফার পিতা ছইনুদ্দিন বলেন, আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি যাই। বাড়ি গিয়ে দেখি মেঝেতে মেয়ে ও জামাতার রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেশীয় তৈরি একটি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল জব্দ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের বাবুপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।এসআরবি-১৩ সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুরের একটি আভিযানিক দল গজঘন্টা বাবুপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মো. নজরুল হক (৬০) নামের এক ব্যক্তির বাড়ির পেছনের রাস্তার পাশে বাঁশঝাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় লোহার তৈরি সিলভার রঙের একটি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল পাওয়া যায়।পরে জব্দ করা অস্ত্রটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এসআরবি-১৩ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা রয়েছে। তবে সেই চাপ একসঙ্গে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে মূল্য সমন্বয় করা যেতো। কিন্তু জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে ৭ মাসে ২ বার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরকারের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিজয়নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান এ সব দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানির প্রভাব নিয়ে মূল বক্তব্য রাখেন দলের ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া,অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, মোঃ আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান। মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কৃষি, সেচ, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধির বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে কৃষক, শ্রমিক, পরিবহন খাত ও সাধারণ ভোক্তার ওপর।আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু সেই চাপ একবারে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে হবে,এমন কোনো নীতি নেই। আমাদের প্রয়োজন price shock নয়, price adjustment।এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ পাম্প, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার ও অন্যান্য কৃষিযন্ত্রের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। ফলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে। সামনে বোরো মৌসুম হওয়ায় এর প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ।আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর আরও চাপ তৈরি করবে।মঞ্জু বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বাড়ে। এর প্রভাব পরিবহন ব্যয় থেকে পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়ে।শুধু প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে,এভাবে দেখলে বাস্তব অর্থনীতির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। জ্বালানির দাম বাড়ে, পরিবহন খরচ বাড়ে, এরপর পণ্যের দাম বাড়ে, বলেন তিনি।জ্বালানির প্রভাব নিয়ে মূল বক্তব্যে ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান বলেন, সরকার জানিয়েছে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বেশি দামে জ্বালানি কিনে কম দামে বিক্রি করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এ চাপ বাস্তব হলেও আন্তর্জাতিক বাজারদর, freight, insurance, exchange rate, tax, handling ও distribution cost এবং BPC-এর প্রকৃত ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন।তিনি বলেন, সংকটকালীন সময়ে আমদানি শুল্ক ও কর সাময়িকভাবে সমন্বয়, BPC-এর দক্ষতা বৃদ্ধি, অপচয় ও জ্বালানি চুরি বন্ধের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।এবি পার্টির এই নেতা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১. কৃষি, সেচ, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের ওপর চাপ কমাতে পৃথক মূল্যনীতি গ্রহণ;২. একবারে বড় মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়;৩. আন্তর্জাতিক বাজার, freight, exchange rate, import cost ও করের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও formula-based pricing mechanism কার্যকর এবং দাম কমলে জনগণকে সুফল দেওয়া;৪. সংকটকালে আমদানি শুল্ক ও কর সাময়িকভাবে সমন্বয়ের বিষয় বিবেচনা;৫. প্রকৃত কৃষক ও কৃষিযন্ত্রের জন্য targeted diesel support চালু;৬. জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে অযৌক্তিক পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর ভাড়া সমন্বয় ব্যবস্থা;৭. BPC-এর আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ, procurement, system loss ও জ্বালানি চুরির ওপর স্বাধীন পূর্ণাঙ্গ অডিট;৮. সীমান্তপথে জ্বালানি পাচার বন্ধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা;৯. সংকট মোকাবিলায় Strategic Fuel Emergency Fund গঠন;১০. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অডিট ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা;১১. দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ব্যারিস্টার নোমান আরো বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে নীতি গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা মেনে নিয়েও জনগণের ওপর এককালীন বড় মূল্য-শক এড়ানো সম্ভব।সরকারের রাজস্ব বাড়াতে হবে, কিন্তু মানুষের পকেট কেটে নয়। কর ফাঁকি বন্ধ, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ এবং progressive revenue mobilisation-এর মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।আমাদের প্রয়োজন price shock নয়, price adjustment; প্রয়োজন এককালীন চাপ নয়, বরং স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও ন্যায়সংগত জ্বালানি মূল্যনীতি, বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়।বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।এ সময় অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
ফ্যাসিবাদের উত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের উত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবে না। এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে রাষ্ট্রই থাকবে না। বিরোধী দলের নেতারা বর্তমানে সরকারি দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করছে। তারা ফ্যাসিবাদের ভাষায় কথা বলছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, শুধু জল্লাদ নয়, মীর জাফররা চারপাশে অবস্থান নিয়ে আছে। তাঁর অভিযোগ, পাশের দেশ থেকে বোমা রেখে ছবি তুলে পাঠাতে টেলিফোনে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এরপর তারা টাকা দেবে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।বিরোধী দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মসূচি পালন করা তাদের অধিকার। কথা বলার স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। শেখ হাসিনার মতো সরকার বিরোধী দলের লংমার্চে বাধা দেয়নি।এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যতই মতানৈক্য থাকুক, কেন ফ্যাসিবাদের জায়গায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে সমালোচনা বা কটাক্ষ থাকলেও পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য না থাকলে কারও রক্ষা হবে না।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় অভিযান চালিয়ে ৩৫০ গ্রাম ওজনের একটি তাজা গাঁজার গাছসহ মো. মান্নান (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১২ (এসআরবি) এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজ্ড কোম্পানি (সিপিএসসি), বগুড়া।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে দুপচাঁচিয়া উপজেলার আশুঞ্জা মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।এসআরবি-১২ সিপিএসসি বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার ফিরোজ আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি বগুড়া জানতে পারে, আশুঞ্জা মধ্যপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য গাঁজার গাছ রয়েছে। এর ভিত্তিতে একটি আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানের সময় মো. মান্নানের বসতবাড়ির উঠান থেকে ৩৫০ গ্রাম ওজনের একটি তাজা গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়।আটক মান্নান আশুঞ্জা মধ্যপাড়া এলাকার মো. মোয়াজ্জেমের ছেলে।এসআরবি জানিয়েছে, জব্দ করা গাঁজার গাছসহ আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।
প্রচলিত ও অপ্রচলিত বিভিন্ন খেলায় মেয়েদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। এর আওতায় অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সী মেয়েদের রাগবি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে শহীদ রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই সংগঠনের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সহসভাপতি মৌসুম আলী নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে দুই সংগঠনের অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এর মেয়াদ হবে তিন বছর। তৃণমূল ও রাজধানী থেকে আগ্রহী মেয়েদের বিভিন্ন মেয়াদে রাগবি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করবে রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়ন। ফেডারেশন থেকে প্রশিক্ষক, খেলার উপকরণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে এবং ফেডারেশনের হয়ে খেলার জন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করা হবে।বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, সারা বিশ্বে রাগবি একটি জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশেও খেলাটির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নারীদের খেলাধুলায় গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে মেয়েদের জনপ্রিয় ও অপ্রচলিত বিভিন্ন খেলা শেখার সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।
দুই বছর মঞ্চে ফিরছে নাট্যদল ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। তাও আবার পরপর দুই দিন দুটি প্রদর্শনী নিয়ে। শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে হবে প্রদর্শনী।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে এনএসডি আয়োজিত ‘ভারত রঙ মহোৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়েছিল নাটকটি। এরপর আর মঞ্চে ওঠেনি ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। একক চরিত্রের নাটকটিতে অভিনয় করেন আর্য মেঘদূত। বর্তমানে তিনি স্কলারশিপে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়নরত। ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছাড়ার পর নাটকটির মঞ্চায়ন স্থগিত হয়ে যায়।সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে এসেছেন। সেই সুবাদেই নাটকের দুটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করবেন।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। তখন মেঘদূত মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্রী। কনিষ্ঠ একক অভিনেত্রী হিসেবে চমকে দেন সবাইকে। এ পর্যন্ত নাটকটির ৮টি প্রদর্শনী হয়েছে।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের গল্পের শুরুটা এরকম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। হিটলারের বাহিনী একদিন দখল করে নেয় হল্যান্ড। ফ্রাঙ্ক পরিবার হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। ১৯৪২ সালের ৬ জুলাই তারা আশ্রয় নেয় সিক্রেট অ্যানেক্সে। ফ্রাঙ্ক পরিবারের ছোট মেয়ে অ্যানা ফ্রাঙ্ক। সিক্রেট অ্যানেক্সে ফ্রাঙ্ক পরিবারের সাথে যোগ দেয় অ্যানা ফ্রাঙ্কের বাবার বন্ধুর পরিবার ও একজন ডাক্তার। সব মিলেয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটজন। সিক্রেট অ্যানেক্স! ছোট্ট, স্যাঁতস্যাঁতে একটা জায়গা। এসবের মধ্যে এতগুলো মানুষ। তবু অ্যানা নিঃসঙ্গ, তার মনের কথা বলার মতো সে কাউকে পায় না। তার সব কথা সে লিখে রাখে ডায়েরিতে, ডায়েরিটাই হয়ে ওঠে তার কাছে প্রিয় বন্ধু।
সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতার কলম, তারপর ক্যামেরার সামনে অভিনয়—হাসান মাসুদের পেশাজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তিনি। পরে অভিনয়ে এসে ছোট পর্দায় পরিচিতি পান। এবার তার কর্মজীবনে যুক্ত হলো কর্পোরেট দুনিয়া।অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও পরিচালনাতেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। তবে কয়েক বছর ধরে অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবার সেই পথচলায় যুক্ত হলো নতুন পরিচয় কর্পোরেট পেশাজীবী হাসান মাসুদ।যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান জেইন গ্লোবাল -এ হেড অব স্টুডেন্ট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ব্র্যান্ড হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেতা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তিনি।একসময় নাটক, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন টেলিভিশন আয়োজনে নিয়মিত দেখা যেত হাসান মাসুদকে। অভিনয়ের নিজস্ব ধরন ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার ব্যস্ততা। নাটক কিংবা সিনেমায় এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বেছে বেছে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও অভিনয়কে আগের মতো পেশাগত জীবনের কেন্দ্রে রাখেননি।অভিনয় থেকে দূরে থাকার সেই সময়েই পেশাগত জীবনে নতুন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।জেইন গ্লোবালে নতুন দায়িত্বে হাসান মাসুদের কাজের পরিধি হবে শিক্ষার্থীসেবা, ব্র্যান্ডিং ও যোগাযোগ কার্যক্রম ঘিরে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।জেইন গ্লোবালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৪ বছর ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসান মাসুদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগ এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে চায় তারা।হাসান মাসুদের ক্যারিয়ার বরাবরই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে। সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতা। তারপর অভিনয়ের জগতে প্রবেশ। ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।অভিনয়ের ব্যস্ত দিনগুলো থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাওয়া হাসান মাসুদের সামনে এখন নতুন ধরনের দায়িত্ব। ক্যামেরার সামনে চরিত্র হয়ে ওঠার বদলে এবার তাকে কাজ করতে হবে ব্র্যান্ড, শিক্ষার্থী ও যোগাযোগ নিয়ে।পেশাজীবনে একাধিকবার পথ বদলেছেন হাসান মাসুদ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়েছেন তিনি। এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রেখেছেন। নতুন এই অধ্যায়ে তার দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরাধীন মাতৃভূমিকে মুক্ত করার লড়াইয়ে চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মহান আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষ্যে মঞ্চনাটক 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনী, সংগীতানুষ্ঠান ও শিশুদের অঙ্কিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা পদাতিক।ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় তপোবন-এর সহযোগিতায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হবে।রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যদল ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম প্রযোজনা 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'। এবার ঐতিহাসিক এই নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের বিয়োগান্তক বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে নাটকটি মঞ্চে আনে ঢাকা পদাতিক।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুননাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর মৃত্যুর পর নাটকটির নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী। প্রয়োজন অনুযায়ী, নাটকটির কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ-পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি।নাটকটি মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের আলোচিত প্রযোজনাগুলোর অন্যতম। এরই মধ্যে ভারতের দিল্লিতে নাটকটির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদের চৌধুরী বলেন, "ট্রায়াল অব সূর্যসেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মাসুম আজিজ ভাই। তাঁর প্রয়াণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ করে নবনির্দেশনার কাজটি করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।"প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অপর্ণা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিল। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, আক্তার হোসেন, রবিউল ইসলাম মিলটন, শাহনাজ পারভীন জয়া, তারেক আলী মিলন, কাজী সম্রাট, আতিকুর রহমান, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, নূর, খাজা ফরিদউল্লাহ, জাহিদ প্রমুখ। নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন শ্যামল হাসান।২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটি ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।এবারের 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনীর শুরুতে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবন-এর শিল্পীরা জাগরণমূলক দলীয় সংগীত পরিবেশন করবেন।মিলনায়তনের প্রবেশপথেই প্রদর্শিত হবে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আঁকা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, চট্টগ্রাম যুবিবদ্রোহ, জালালাবাদ পাহাড় ও ধলঘাট যুদ্ধের ছবি। এছাড়া সেইসব যুদ্ধে শহীদ চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবীদের ছবি এবং ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর বিভিন্ন প্রদর্শনীর প্রামাণ্যচিত্রও এতে প্রদর্শিত হবে। অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরপরই শুরু হবে ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর মঞ্চায়ন। বিশেষ এই প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত।
আবারও বাবা হলেন বলিউড তারকা অভিনয়শিল্পী রণবীর সিং আর মা হলেন তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ) তাদের ঘর আলো করে এসেছে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।দীপিকা ও রণবীর যৌথভাবে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায় নবজাতকের পায়ের ছাপ। ছবির সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘ওয়েলকাম বেবি গার্ল! ১৯/৯/২০২৬। দোয়া, দীপিকা অ্যান্ড রণবীর।’এর মধ্য দিয়ে তাদের দুই বছরের মেয়ে দোয়া পেল ছোট বোন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের আগে বেশ কিছুদিন ধরেই দীপিকা ও রণবীরের পরিবারে নতুন অতিথি আসার খবর নিয়ে আলোচনা চলছিল।চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয়বার বাবা-মা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনেন দীপিকা ও রণবীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে দেখা যায়, তাদের মেয়ে দোয়ার হাতে একটি ইতিবাচক গর্ভধারণ পরীক্ষার কিট। তখনই জানানো হয়েছিল, সেপ্টেম্বরেই আসছে তাদের দ্বিতীয় সন্তান। সন্তান জন্মের কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে একসঙ্গে দেখা যায় দীপিকা ও রণবীরকে। ২০২৪ সালে প্রথম সন্তান দোয়ার জন্মের আগেও একই মন্দিরে গিয়েছিলেন তারা। সেবার ৬ সেপ্টেম্বর মন্দিরে যাওয়ার দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছিল দোয়ার।এবারও সেই ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেল। তবে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের খবরটি এবার আর কোনো জল্পনা নয়; দীপিকা ও রণবীর নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন।২০১৮ সালে বিয়ে করেন দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান দোয়ার জন্ম হয়। এবার পরিবারে যুক্ত হলো আরও এক কন্যাসন্তান।দীপিকা পাড়ুকোন
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে রুপালি পর্দার সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে। ছবিটিতে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর খুব শিগগিরই তিনি হয়ে ওঠেন কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
এ প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি। সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের বিপরীতে ‘এই নিয়ে সংসার’ নামের একটি নতুন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ফেরারি ফরহাদের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন শাহ মোহাম্মদ রাকিব।ইতোমধ্যে রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নাটকটিতে প্রথমবারের মতো মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি।নতুন নিয়ে অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি বলেন, 'ফারহান ভাইয়ের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করা। প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ ছিল। তিনি খুবই আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী। নাটকটির গল্পও বেশ চমৎকার, যেখানে সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। চরিত্রটিও আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে কাজটি করে আমি খুবই আনন্দিত। আশা করছি, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে এবং আমাদের কাজটি তাদের মনে জায়গা করে নেবে।'জানা গেছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৬০ প্লাসের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রচারিত হবে।
একসময় কোনো প্রসাধনীর গায়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা থাকলে অনেক ক্রেতাই হয়তো একটু দ্বিধায় পড়তেন। দেশি পণ্য বলে নয়, বরং ত্বক আর চুলের যত্নের বিষয়টা যেহেতু বেশ স্পর্শকাতর তাই কোন পণ্যটি ব্যবহার করছি, তাতে কী আছে, আদৌ ভরসা করা যায় কি না, এসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সেই ভরসার জায়গাটা ছিল মূলত বিদেশি পণ্যের দখলে।কোরিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা ইউরোপের কোনো দেশ থেকে আসা পণ্য মানেই যেন বেশি নিরাপদ, বেশি ভালো, এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল গত দুই দশকে। বিপরীতে, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ অনেকের কাছে ছিল সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প হিসেবে। এই ধারণা অবশ্য হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দেশের পার্সোনাল কেয়ার বাজারের একটা বড় সময় কেটেছে মূলত দামের প্রতিযোগিতায়। কোন উপাদান দিয়ে পণ্যটি তৈরি, কীভাবে তৈরি, কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এসব তথ্য ক্রেতার সামনে সবসময় পরিষ্কার ছিল না। তার ওপর নকল আর অননুমোদিত পণ্যের দাপট তো ছিলই। ফলে পরিচিত বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যকেই অনেকের কাছে সহজ ও নিরাপদ মনে হয়েছে।তবে সেই জায়গাটা এখন ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। একটি বিউটি শপে গিয়ে স্থানীয় ব্র্যান্ডের ক্লেনজার, সানস্ক্রিন, হেয়ার অয়েল বা সিরাম দেখলে ক্রেতারা আগের মতো শুধু ‘দেশি’ বলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন না। একই শেলফে থাকা বিদেশি পণ্যের সঙ্গে পাশাপাশি রেখে দেখছেন। শুধু সস্তা বিকল্প হিসেবে নয়, বরং নিজেদের গুণ ও কার্যকারিতার ভিত্তিতেই এসব পণ্য ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।এখন ক্রেতারা শুধু একটি ব্র্যান্ডের পরিচিতির ওপর নির্ভর করছেন না। বরং পণ্যে থাকা উপাদানগুলো, তার কার্যকারিতা সম্পর্কে বলা কথাগুলো এবং বাস্তবে তা কতটা কার্যকর, এই সব বিষয়েই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই একসময় অপরিচিত মনে হওয়া উপাদানের নাম ও পণ্যের বিভিন্ন দাবি এখন দৈনন্দিন সৌন্দর্যচর্চার আলোচনারই অংশ হয়ে উঠেছে।সাজগোজ লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কনটেন্ট অফিসার সিনথিয়া শারমিন ইসলাম সাজগোজের কনটেন্ট ও কমিউনিটির মাধ্যমে এই পরিবর্তনটি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন শুরু করি, তখন কমেন্ট সেকশনের প্রায় প্রতিটি প্রশ্নই ছিল ‘পণ্যটি বিদেশ থেকে এসেছে, না দেশে তৈরি?’ এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন প্রশ্ন আসে, ‘এতে কত পার্সেন্ট নিয়াসিনামাইড আছে?’, ‘এটি কি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে?’, ‘ঢাকার আর্দ্র আবহাওয়ায়, তৈলাক্ত ত্বকে এটি কাজ করবে কি না?’ এই পরিবর্তনটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক , যদিও ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এর উত্তর দেওয়াও কঠিন।”ক্রেতাদের এই বদলে যাওয়া প্রশ্ন আসলে স্থানীয় সৌন্দর্যপণ্যের বাজারেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কোভিড-১৯-এর সময় এবং পরবর্তী সময়ে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমদানি করা পণ্যের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের মানসম্মত পণ্য, উন্নত ফর্মুলেশন স্বচ্ছ উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের আরও সুযোগ পায়।এখন স্থানীয় বিউটি ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিযোগিতা শুধু দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্পষ্ট উপাদান তালিকা, তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষা, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন, কিংবা পণ্য নিয়ে দাবি করা নির্ভরযোগ্য তথ্য ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে পণ্যটি কোন দেশের, তার চেয়ে সেটি বাস্তবে কতটা কার্যকর, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।পণ্য সম্পর্কে জানার সুযোগও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিউটি কমিউনিটি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ক্রেতাদের রিভিউয়ের মাধ্যমে ব্র্যান্ডের প্রচারণার বাইরেও পণ্য ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। এতে কেনার আগে একটি পণ্য নিয়ে যাচাই-বাছাই করার সুযোগও বেড়েছে। ফলে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য পণ্যের কার্যকারিতাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অফার বা ছাড় একজন ক্রেতাকে প্রথমবার পণ্যটি কিনতে আগ্রহী করতে পারে। কিন্তু সেই ক্রেতাকে আবার ফিরিয়ে আনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।সাজগোজ লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ. প্রীতি বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, “অফার দিলে যে কেউই একবার হলেও একটি পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠবে। স্থানীয় বাজার হোক বা আমদানিকৃত পণ্যের ব্র্যান্ড, দুই ক্ষেত্রে বাজারব্যবস্থা এভাবেই কাজ করে। কিন্তু শুধু অফার দিয়ে একজন ক্রেতাকে আবার ফিরিয়ে আনা যায় না। স্থানীয় স্কিনকেয়ার ও হেয়ারকেয়ারের জায়গায় এই পরিবর্তনটি ঠিক এভাবেই এসেছে।”সব মিলিয়ে, বাজারের প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু সাশ্রয়ী দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিউটি শেলফে জায়গা করে নিতে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে তাদের পণ্যের মান, কার্যকারিতা এবং ধারাবাহিকতা প্রমাণ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে সৌন্দর্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা আছে কি না, সেটিই এখন আর ক্রেতার একমাত্র বিবেচনা নয়। পণ্যের গায়ে থাকা লেবেলের বাইরে গিয়ে ক্রেতারা এখন নিজের মতো করে খতিয়ে দেখছেন পণ্যের ভালো-মন্দ।
রাজধানী ঢাকা ও এর চারপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরতলী অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই করতে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই অর্থের মাধ্যমে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনে থাকা ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। বুধবার এডিবির ঢাকা অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।এডিবি জানায়, সম্প্রতি ঘোষিত এই ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মূল লক্ষ্য হলো ওভারলোড বা অতিরিক্ত লোড থাকা সাবস্টেশন সংস্কার, পুরনো অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, কারিগরি অপচয় বা সিস্টেম লস কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে প্রায়ই যে নেটওয়ার্ক সংকট তৈরি হয়, এডিবির সমন্বিত বৃদ্ধি উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় গৃহীত এই প্রকল্প তা অনেকাংশে দূর করবে।বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেন ঝাং জানান, বাংলাদেশ যখন এক সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন শক্তিশালী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রকল্পের ফলে ঢাকা অঞ্চলের শিল্প ও বসতিগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ তৈরি হবে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ভূমিকা রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।সংস্থাটি জানায়, প্রকল্পের মাধ্যমে ৫২টি নতুন সাবস্টেশনে ১,১৫০ মেগাবোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ধারণক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার বসানো হবে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের ক্ষমতা আরও ১১৫ মেগাবোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে। বিতরণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ২,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে, যেখানে ব্যবহার করা হবে আধুনিক ইনসুলেটেড পরিবাহী। এছাড়া দ্রুত লাইন চ্যুতি বা ত্রুটি শনাক্ত করে তা মেরামতের জন্য ৯০০টি আধুনিক ফল্ট লোকেটর সেট স্থাপন করা হবে। নদীতে টাওয়ার ও আধুনিক সুইচিং স্টেশনও এই প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হবে।বাংলাদেশ ২০২২ সালেই সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জন করলেও দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পটি কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে বার্ষিক প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করতে সাহায্য করবে। এজন্য এডিবি প্রায় ১৪৬.৫২ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং দিচ্ছে, যার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।বিদ্যুৎ অবকাঠামোর পাশাপাশি বিআরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এই প্রকল্প বিশেষ জোর দেবে। ডিজিটাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে পরিচালনা, পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পিবিএসগুলোর আর্থিক ভিত শক্ত হবে, যা পরবর্তী সময়ে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণে সাহায্য করবে। প্রকল্পটিতে নারীদের কর্মসংস্থান ও কাজের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেও বিশেষ পদক্ষেপ থাকছে।ঢাকার উপকণ্ঠের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই মহাপরিকল্পনায় মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ আসছে দেশীয় উৎস থেকেও। এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ১০৭.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১৪১.৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। তাছাড়া কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড থেকে ১ মিলিয়ন ডলারের অনুদান সহায়তায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক এই উন্নয়ন ব্যাংকটির এই নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে। মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
সংযোগ ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ পুলিশের সাথে দশ বছরের একটি কৌশলগত পার্টনারশিপ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর সিরিজ (০১৩২০০০০০০০–০১৩২০২৯৯৯৯৯) এবং অফিসিয়াল ও সল্যুশন-ভিত্তিক নম্বরগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সংযোগ সেবা প্রদান করবে অপারেটরটি। এছাড়া অনলাইন জিডি এবং ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস)-এর মতো প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সংযোগ ও সংশ্লিষ্ট সহায়তাও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (হেডকোয়ার্টার্স) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন এবং গ্রামীণফোনের হেড অব ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিজ বিজনেস হেলাল উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি ঢাকায় বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। এসময় বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার আসিফ নাইমুর রশীদ, চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার সৈয়দা তাহিয়া হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশ ও গ্রামীণফোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম বলেন, “দেশজুড়ে জনগণের সেবা , আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশ। আমাদের কাজ ও জনগণকে সেবা দেওয়ার ধরন যেভাবে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেভাবে নির্ভরযোগ্য সংযোগ ও প্রযুক্তিও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গ্রামীণফোনের সাথে এই পার্টনারশিপ আমাদের যোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবার চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। আরও উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশিং জোরদার করতে একসাথে কাজ করার প্রত্যাশায় রয়েছি আমরা।” গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ পুলিশের পরিবর্তিত চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সক্ষমতা দিয়ে তাদের সহায়তা করা। এই চুক্তিটি ভবিষ্যতে উদীয়মান প্রযুক্তিগুলোকে কীভাবে আরও সুসংহত ও দক্ষ পরিচালনায় কাজে লাগানো যায় তা বোঝার সুযোগ তৈরি করে দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রযুক্তি যখন দায়িত্বশীলভাবে এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হয় তখন তা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হয়। আমাদের সক্ষমতা দিয়ে একটি নিরাপদ ও আরও স্মার্ট আগামী গড়তে অবদান রাখার প্রত্যাশায় রয়েছি আমরা।”
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।