জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি নতুন প্রকল্প, ৩টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন; ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু; শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “Integrated Health System Response to Fight Against TB, HIV/AIDS and Malaria In Bangladesh” এবং “পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত)”। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)”। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রাম-এ হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা”।পানি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী এবং বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)” এবং “মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা”। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)”।স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প” এবং “মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধন)”। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)”। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “র্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)”। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ” এবং “তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ”।একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১৫টি প্রকল্প সর্ম্পকেও অবহিত করা হয়। ওই প্রকল্পগুলো হলো- বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান ৩ তলা ভবনের উপর ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (৬ তলার ভিত) প্রকল্প; বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলা ঢাকায় বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প; আলীকদম সেনানিবাসে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্ব) প্রকল্প; ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ১০ জেলায় বিএসটিআইর আঞ্চলিক কার্যলয় স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; রূপসা ৮০০ মে. ওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প (১ম সংশোধিত); মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং মানসম্পদ উন্নয়ন (১ম সংশোধিত); ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়ার্টার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডাব্লিউএম) (বাপাউবো অংশ) প্রকল্প (১ম সংশোধিত); কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীণ ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডান তীর সংরক্ষণ (২য় সংশোধন); হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানী বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের সম্মুখে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা (২য় সংশোধন) প্রকল্প; ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প (জিওবি আইডিবি) (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ভূয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক (জেড-৪৮০১) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধপূর্বক পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্প।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে নিয়ে ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, এখন পর্যন্ত (১৫ মার্চ থেকে) হাম উপসর্গ নিয়ে ১০০৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর এই সময়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের।অর্থাৎ হাম ও উপসর্গে এখন পর্যন্ত (১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,১০৪ জনে।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো হাম বিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।অধিদফরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজন শিশুর ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে। আর সিলেট ও চট্রগ্রামে ১ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।অধিদফতরের প্রতিবেদন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জন। এরমধ্যে ঢাকায় ৬৬ জন ও চট্রগ্রামে ১৮ জন। এ ছাড়া হাম উপসর্গ নিয়ে একই সময়ে হাসপাতালে এসেছে ১ হাজার ২৫৫ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ৪৫০ জন। এ ছাড়া চট্রগ্রামে ২৬১ জন, সিলেটে ২০৬ জন, বরিশালে ১০৭ জন, খুলনায় ৮৯ জন, ময়মনসিংহে ৮৬ জন, রাজশাহীতে ২৯ জন এবং রংপুরে ২৭ জন রয়েছে।অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯২ জনে। আর একই সময়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১০ জনে।পরিসংখ্যান আরও বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির সঙ্গে এবার যুক্ত হলো আরও একদিন। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।এই ছুটি বাড়ায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবার আর আলাদা করে কোনো ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মহানবমী উপলক্ষে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নির্বাহী আদেশে এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।এর পরের দুদিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। এ দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি থাকবে।ফলে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবার আর আলাদা করে কোনো ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে এই ছুটি শেষ হবে শনিবার।চলতি বছর মহালয়া হবে ১০ অক্টোবর। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।সরকারি ছুটির আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও ছুটির প্রভাব পড়বে। তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শিক্ষাখাতের নীতিমালা, পরিকল্পনা ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করেছেন বিশ্ব ব্যাংক ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। মঙ্গলবার বিকেলে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে সরকারের অগ্রাধিকার, শিক্ষার আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ নিয়েও কথা হয়।বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসম, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের শিক্ষা ও দক্ষতা বৈশ্বিক প্র্যাকটিসের প্র্যাকটিস ম্যানেজার শেরেজাদ মোনামি লতিফ, বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার ড. গেইল এইচ মার্টিন, সিনিয়র শিক্ষা বিশেষজ্ঞ আব্দুল হাই সোফিজাদা, সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ এবং সিনিয়র শিক্ষা বিশেষজ্ঞ তাসনিনা রহমান।বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে ‘মিড-ডে মিল’ চালু, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণ, চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে নতুন দুটি বই সংযোজন এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিক্ষাক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক পরীক্ষাগার ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।এছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ছাত্রীদের স্নাতকোত্তর এবং ছাত্রদের মাধ্যমিক ও সমমান পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ইকোসিস্টেম ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অফিস স্থাপন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নিয়েও কথা হয়। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বাধ্যতামূলক কারিগরি ল্যাব চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বৈঠকে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ বাস্তবায়নের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।এছাড়া শিক্ষাখাতের অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, নীতি পরামর্শ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় (রোডক্র্যাশ) তরুণ ও যুবকেরা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণদের সম্পৃক্ততা ও হতাহতের হার বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তরুণদের একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল ব্যবহার করায় অতিরিক্ত গতি, হেলমেটের সঠিক ব্যবহার না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ বিভিন্ন কারণে তারা সড়কে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে তরুণদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ যানবাহন, মানসম্মত হেলমেট, সিটবেল্ট এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবাকে সমন্বিত করে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।‘সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের পক্ষে তরুণদের আহ্বান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি উঠে আসে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।সভায় নিরাপদ যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত হেলমেট এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা নিয়ে প্যানেল আলোচনা হয়। পাশাপাশি ‘রোড সেফটি আইন কেন দরকার ও তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেশনে সড়ক নিরাপত্তায় তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহার সঞ্চালনায় কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচল।আলোচনায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণদের ঝুঁকির চিত্রও উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিএইচও) হিসাবে, সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী ৫–২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ। অতিরিক্ত গতি, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে অনীহা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা ও জরুরি সেবা না পাওয়ায় দুর্ঘটনার ক্ষতি বেড়ে যেতে পারে। তাই সড়ক নিরাপত্তায় যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ব্যবহারকারীর আচরণ এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।তারা আরও বলেন, আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তরুণদের মতামত ও উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
রাজধানীর আদাবরে চাপাতি নিয়ে একটি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অভিযান চালিয়ে দুই সন্ত্রাসীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করেছে । গ্রেফতার করা হয়েছে আরও আটজনসহ মোট ১০ জনকে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আদাবর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশ জানায়, একদল সন্ত্রাসী চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
এশিয়ান গেমসে সোনার পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণ শক্তির দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ছেলেদের ক্রিকেটে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে মাঠেই নামতে হলো না টাইগারদের। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় কোনো বল না খেলেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।টানা বৃষ্টিতে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি একটি বলও মাঠে না গড়িয়েই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে ম্যাচ বাতিল হলেও এতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বাংলাদেশের ওপর। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় কোয়ার্টার ফাইনাল পার করে সরাসরি শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।জাপানের নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই বৃষ্টিতে মাঠ খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং আগের দিনের পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাচটি নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কাই সত্যি হয়।টসের নির্ধারিত সময়ের আগেই ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মাঠ খেলার উপযোগী না হওয়ায় আম্পায়াররা ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। ফলে ব্যাটিং কিংবা বোলিং- কোনোটিতেই নামার সুযোগ পায়নি দুই দল।এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বৃষ্টির কারণে এবার একের পর এক ম্যাচ পরিত্যক্ত হচ্ছে। নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এটি টানা ষষ্ঠ ম্যাচ, যেটি বৃষ্টির কারণে বাতিল হলো। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচেই একটি বলও মাঠে গড়ায়নি।বাংলাদেশের জন্য অবশ্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়া শেষ পর্যন্ত স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পায়। সেই হিসাবে মালয়েশিয়ার চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশই পেয়েছে শেষ চারের টিকিট।অর্থাৎ এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেই সেমিফাইনালে ওঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে না নেমেই পরের ধাপে চলে গেল বাংলাদেশ।সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আগামী ১ অক্টোবর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।তবে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সামনে নতুন করে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো সেমিফাইনালও যদি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় এবং কোনো বল মাঠে গড়ানো সম্ভব না হয়, তাহলে পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে। কারণ, সে ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধা পাবে পাকিস্তান। ফলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে ফাইনালে উঠে যাবে পাকিস্তান।তাই ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মাঠে নামলে বাংলাদেশকে শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষেই লড়তে হবে না, নজর রাখতে হবে আবহাওয়ার দিকেও। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত যেভাবে বৃষ্টি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে, তাতে সেমিফাইনালের আগে সেটিই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুরে বাসচাপায় মোটরসাইকেল চালকসহ তিন বন্ধু ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার আটিপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন।মৃতরা হলেন- আটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কবির ঢালীর ছেলে সৌরভ ঢালী (১৪), একই গ্রামের তাওহীদ ইসলাম (১৩) ও পাশের ধামসর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে মোস্তাকিন (১৪)।তারা তিনজনই আটিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আটিপাড়া এলাকায় ঢাকাগামী বেপরোয়াগতির ‘সুরভী পরিবহনের’ একটি বাস মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এসময় মোটরসাইকেলচালক সৌরভ ঢালীসহ আরোহী মোস্তাকিক ও তাওহীদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়।খবর পেয়ে উজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও থানা পুলিশ এসে লাশ তিনটি উদ্ধার করে। পুলিশ বাসটি জব্দ করলেও চালকসহ স্টাফরা পালিয়ে গেছেন।এ ঘটনার পর প্রায় আধাঘণ্টা মহাসড়কে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ এসে যানচলাচল স্বাভাবিক করে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ ঘিরে রেখেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সেখানে বিপুলসংখ্যক ককটেল ও পেট্রোল বোমা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বোম্ব নিষ্ক্রিয় কাজ শুরু করেছে।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে অভিযান চালায় এসআরবি। অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০টির বেশি ককটেল ও পেট্রোল বোমার সন্ধান পাওয়া গেছে।এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে অভিযান চালিয়ে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলো নিষ্ক্রিয় করতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে ডাকা হয়েছে। তারা কাজ করছে।ঘটনাস্থলে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলো সেখানে কীভাবে এল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। উদ্ধার অভিযান ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার কাজ শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এসআরবির স্কোয়াড্রন লিডার নিফাজ বলেন, আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। একটি ব্যাগের ভেতর বেশ কিছু বোমা পাওয়া গেছে। এরইমধ্যে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে নিষ্ক্রিয় করেছে। আরো কিছু রয়েছে সেগুলো জনসাধারণ এলাকার বাইরে নিয়ে গিয়ে পরে নিষ্ক্রিয় করা হবে। আনুমানিক ২০টির মতো এখানে ককটেল এবং পেট্রোল বোমা পাওয়া গেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তার দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পর যে ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মান্না বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন ‘অত্যাচারের উৎসব’ চলছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—কেউই নিরাপত্তার বাইরে নয়।সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সম্প্রতি তার স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি পরিবারের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মান্নার ভাষ্য, স্টুডিওটি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য মালিকের থাকলেও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের জীবিকা কী হবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।একইভাবে একটি বাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, সেখানে এক মা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল কি না—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।নিজ দলের এক নেতার গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি জানান, শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি জানতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, পুলিশের কাছে কোনো মামলা নেই; আদালতে মামলা হয়েছে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন না হওয়ার পাশাপাশি জজকোর্টও কয়েক দিন বসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।এ পরিস্থিতিকে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে মান্না প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর মামলার কপি না দেওয়া এবং আদালতের কার্যক্রম না চলার বিষয়টি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার চাপ কমছে না। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।মান্না বলেন, এসব বিষয়ে কথা বললে কেউ কেউ তাকে বিএনপির বিরোধিতাকারী হিসেবে দেখাতে পারেন। তবে তার দাবি, তিনি কোনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন না; বরং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সত্য কথাই বলছেন। বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি দলটির সফলতাও কামনা করেন।রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মান্না বলেন, এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে গণতন্ত্র ও সংবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধান পরিষদ গঠনের কথা ছিল। সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের পক্ষ থেকে আরেকটি গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে—এমন বক্তব্য এসেছে বলেও উল্লেখ করেন মান্না।বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ‘গায়ের জোরে’ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে কাজ করার যে কথা বলা হয়েছিল, সেটিও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারি শহিদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিল্লুর চৌধুরী দীপু ও দেলোয়ার হোসেন রাজাসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. হুমায়ূন কবিরকে নীলফামারী এবং চৌধুরী আশরাফুল করিমকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীকে পিরোজপুরের ডিসি করা হয়েছে।অন্যদিকে পিরোজপুরের বর্তমান ডিসি আবু সাঈদকে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অতীতের বিভাজনের রাজনীতির দায় পর্যালোচনা এবং আগামীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রূপরেখা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের উদ্যোগে ‘রামু’র আগুন: কার রাজনীতি, কার ক্ষতি; ১৪ বছরের দায় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা মনে করি যে আমাদের জাতিগত মুক্তিটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই সম্ভব।”তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে। সামনে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সরকারকে আগাম যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।রামুর ঘটনার বিচার না হওয়ার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “রামুর ঘটনাটা দেখেন, এত আলোচিত একটা ঘটনা, ১৪ বছর পরেও কিন্তু বিচার নিশ্চিত করা যায় নাই। রাষ্ট্রের এই কালেক্টিভ ফেইলিউরের কারণে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায়, তারা বারংবার সাহস পায়।”তিনি বলেন, বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে- কোথাও জমি দখল, কোথাও প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা গুজবকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকাতে সারাদেশে মন্দির পাহারা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। জাতীয় নাগরিক পার্টিও সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”তিনি আরও বলেন, “যারা আমাদের রাষ্ট্রের শত্রু আছে, তারা সবসময় চাইবে যেন আমরা নিজেদের মধ্যে দাঙ্গা বা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে এই রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণিত করতে পারি। সেখানে আমাদের রোল গুরুত্বপূর্ণ, আমাদেরকে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে এবং আইনের শাসনের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।”ঢাকা শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতিগত মুক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই সম্ভব।”
বাগেরহাটের রামপালে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার অগ্রগতি ও 'এক দেশ এক QR, লেনদেনে BANGLA QR!' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলা কিউআর (BANGLA QR) ও ক্যাশলেস বাংলাদেশ কার্যক্রম সম্প্রসারণ সংক্রান্ত সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রামপাল উপজেলা অডিটোরিয়ামে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি (ভাগা শাখা, গিলাতলা শাখা, চুলকাটি শাখা, মোংলা পোর্ট শাখা)-এর যৌথ আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা কার্যালয় ও রামপাল উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ তামান্না ফেরদৌসী। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ভাগা শাখার ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার দামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাফিউল করিম এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি বাগেরহাট আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) মনিময় কুমার হোড়।সভায় বক্তারা নিরাপদ, স্মার্ট ও ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার নানা দিক তুলে ধরেন। নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি এড়াতে এবং দ্রুত ও সহজে কেনাকাটা ও লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে অবহিত করা হয়।অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এশিয়ান গেমসে সোনার পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণ শক্তির দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ছেলেদের ক্রিকেটে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে মাঠেই নামতে হলো না টাইগারদের। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় কোনো বল না খেলেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।টানা বৃষ্টিতে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি একটি বলও মাঠে না গড়িয়েই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে ম্যাচ বাতিল হলেও এতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বাংলাদেশের ওপর। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় কোয়ার্টার ফাইনাল পার করে সরাসরি শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।জাপানের নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই বৃষ্টিতে মাঠ খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং আগের দিনের পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাচটি নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কাই সত্যি হয়।টসের নির্ধারিত সময়ের আগেই ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মাঠ খেলার উপযোগী না হওয়ায় আম্পায়াররা ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। ফলে ব্যাটিং কিংবা বোলিং- কোনোটিতেই নামার সুযোগ পায়নি দুই দল।এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বৃষ্টির কারণে এবার একের পর এক ম্যাচ পরিত্যক্ত হচ্ছে। নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এটি টানা ষষ্ঠ ম্যাচ, যেটি বৃষ্টির কারণে বাতিল হলো। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচেই একটি বলও মাঠে গড়ায়নি।বাংলাদেশের জন্য অবশ্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়া শেষ পর্যন্ত স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পায়। সেই হিসাবে মালয়েশিয়ার চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশই পেয়েছে শেষ চারের টিকিট।অর্থাৎ এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেই সেমিফাইনালে ওঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে না নেমেই পরের ধাপে চলে গেল বাংলাদেশ।সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আগামী ১ অক্টোবর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।তবে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সামনে নতুন করে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো সেমিফাইনালও যদি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় এবং কোনো বল মাঠে গড়ানো সম্ভব না হয়, তাহলে পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে। কারণ, সে ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধা পাবে পাকিস্তান। ফলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে ফাইনালে উঠে যাবে পাকিস্তান।তাই ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মাঠে নামলে বাংলাদেশকে শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষেই লড়তে হবে না, নজর রাখতে হবে আবহাওয়ার দিকেও। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত যেভাবে বৃষ্টি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে, তাতে সেমিফাইনালের আগে সেটিই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ।
মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়েন মারা গেছেন। ‘দ্য স্টিং’ ও ‘জ্যানাডু’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের বিভিন্ন পর্বে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে গত ২২ জুলাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি জেমস স্লোয়েনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। সপ্তাহের শেষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।‘স্টার ট্রেক’ ভক্তদের কাছে জেমস স্লোয়েন পরিচিত ছিলেন ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ ও ‘ভয়েজার’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য। ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এ তিনি একজন রোমুলান অ্যাডমিরালের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ক্লিঙ্গন চরিত্র ওয়ার্কের ছেলের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাকে। ‘ডিপ স্পেস নাইন’-এ বিজ্ঞানী ড. মোরা এবং ‘ভয়েজার’-এ হাকোনিয়ান বিজ্ঞানী মা’বোর জেটরেল চরিত্রে অভিনয় করেন।১৯৭৩ সালে জর্জ রয় হিল পরিচালিত অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’-এ মোটোলা চরিত্রে অভিনয় করেন স্লোয়েন। সিনেমাটিতে তিনি অপরাধী ডয়েল লনেগানের হয়ে জুয়া পরিচালনাকারী এক কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া অলিভিয়া নিউটন-জন অভিনীত মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জ্যানাডু’তেও অভিনয় করেন তিনি।১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়েন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা জেমস ছিলেন নির্মাণ প্রকৌশলী। বিদেশে ও নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে কিছু সময় কাটানোর পর দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। পরে তিন বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেন।সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে নিউইয়র্কে ফিরে জোসেফ প্যাপের নিউইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে অভিনয়ের পাশাপাশি ফাইটিং দৃশ্যের কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৯ সালে আর্থার কপিটের ‘ইন্ডিয়ান’ নাটকের মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় তার। ১৯৭০ সালের ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি।১৯৭৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান জেমস স্লোয়েন। এরপর ‘দ্য গ্যাং দ্যাট কুডন্ট শুট স্ট্রেইট’, ‘দ্য ডক্টরস’, ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রানসিসকো’, ‘কোজাক’ ও ‘ডেলভেকিও’-সহ বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেন। ১৯৭৭ সালে এবিসির নাটক ‘ওয়েস্টসাইড মেডিকেল’-এ নিয়মিত চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন স্লোয়েন। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর টয়োটার বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনে ভয়েসওভার শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি।জেমস স্লোয়েন মৃত্যুকালে স্ত্রী অভিনেত্রী ডিআরড্রে লেনিগান, ছেলে সংগীতশিল্পী ড্যানিয়েল এবং মেয়ে অভিনেত্রী সামান্থা স্লোয়েনকে রেখে গেছেন। তার ভাই লেখক ও পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক প্যাট্রিক স্লোয়েন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান।
দুই বছর মঞ্চে ফিরছে নাট্যদল ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। তাও আবার পরপর দুই দিন দুটি প্রদর্শনী নিয়ে। শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে হবে প্রদর্শনী।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে এনএসডি আয়োজিত ‘ভারত রঙ মহোৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়েছিল নাটকটি। এরপর আর মঞ্চে ওঠেনি ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। একক চরিত্রের নাটকটিতে অভিনয় করেন আর্য মেঘদূত। বর্তমানে তিনি স্কলারশিপে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়নরত। ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছাড়ার পর নাটকটির মঞ্চায়ন স্থগিত হয়ে যায়।সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে এসেছেন। সেই সুবাদেই নাটকের দুটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করবেন।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। তখন মেঘদূত মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্রী। কনিষ্ঠ একক অভিনেত্রী হিসেবে চমকে দেন সবাইকে। এ পর্যন্ত নাটকটির ৮টি প্রদর্শনী হয়েছে।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের গল্পের শুরুটা এরকম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। হিটলারের বাহিনী একদিন দখল করে নেয় হল্যান্ড। ফ্রাঙ্ক পরিবার হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। ১৯৪২ সালের ৬ জুলাই তারা আশ্রয় নেয় সিক্রেট অ্যানেক্সে। ফ্রাঙ্ক পরিবারের ছোট মেয়ে অ্যানা ফ্রাঙ্ক। সিক্রেট অ্যানেক্সে ফ্রাঙ্ক পরিবারের সাথে যোগ দেয় অ্যানা ফ্রাঙ্কের বাবার বন্ধুর পরিবার ও একজন ডাক্তার। সব মিলেয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটজন। সিক্রেট অ্যানেক্স! ছোট্ট, স্যাঁতস্যাঁতে একটা জায়গা। এসবের মধ্যে এতগুলো মানুষ। তবু অ্যানা নিঃসঙ্গ, তার মনের কথা বলার মতো সে কাউকে পায় না। তার সব কথা সে লিখে রাখে ডায়েরিতে, ডায়েরিটাই হয়ে ওঠে তার কাছে প্রিয় বন্ধু।
সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতার কলম, তারপর ক্যামেরার সামনে অভিনয়—হাসান মাসুদের পেশাজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তিনি। পরে অভিনয়ে এসে ছোট পর্দায় পরিচিতি পান। এবার তার কর্মজীবনে যুক্ত হলো কর্পোরেট দুনিয়া।অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও পরিচালনাতেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। তবে কয়েক বছর ধরে অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবার সেই পথচলায় যুক্ত হলো নতুন পরিচয় কর্পোরেট পেশাজীবী হাসান মাসুদ।যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান জেইন গ্লোবাল -এ হেড অব স্টুডেন্ট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ব্র্যান্ড হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেতা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তিনি।একসময় নাটক, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন টেলিভিশন আয়োজনে নিয়মিত দেখা যেত হাসান মাসুদকে। অভিনয়ের নিজস্ব ধরন ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার ব্যস্ততা। নাটক কিংবা সিনেমায় এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বেছে বেছে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও অভিনয়কে আগের মতো পেশাগত জীবনের কেন্দ্রে রাখেননি।অভিনয় থেকে দূরে থাকার সেই সময়েই পেশাগত জীবনে নতুন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।জেইন গ্লোবালে নতুন দায়িত্বে হাসান মাসুদের কাজের পরিধি হবে শিক্ষার্থীসেবা, ব্র্যান্ডিং ও যোগাযোগ কার্যক্রম ঘিরে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।জেইন গ্লোবালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৪ বছর ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসান মাসুদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগ এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে চায় তারা।হাসান মাসুদের ক্যারিয়ার বরাবরই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে। সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতা। তারপর অভিনয়ের জগতে প্রবেশ। ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।অভিনয়ের ব্যস্ত দিনগুলো থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাওয়া হাসান মাসুদের সামনে এখন নতুন ধরনের দায়িত্ব। ক্যামেরার সামনে চরিত্র হয়ে ওঠার বদলে এবার তাকে কাজ করতে হবে ব্র্যান্ড, শিক্ষার্থী ও যোগাযোগ নিয়ে।পেশাজীবনে একাধিকবার পথ বদলেছেন হাসান মাসুদ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়েছেন তিনি। এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রেখেছেন। নতুন এই অধ্যায়ে তার দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরাধীন মাতৃভূমিকে মুক্ত করার লড়াইয়ে চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মহান আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষ্যে মঞ্চনাটক 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনী, সংগীতানুষ্ঠান ও শিশুদের অঙ্কিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা পদাতিক।ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় তপোবন-এর সহযোগিতায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হবে।রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যদল ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম প্রযোজনা 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'। এবার ঐতিহাসিক এই নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের বিয়োগান্তক বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে নাটকটি মঞ্চে আনে ঢাকা পদাতিক।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুননাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর মৃত্যুর পর নাটকটির নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী। প্রয়োজন অনুযায়ী, নাটকটির কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ-পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি।নাটকটি মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের আলোচিত প্রযোজনাগুলোর অন্যতম। এরই মধ্যে ভারতের দিল্লিতে নাটকটির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদের চৌধুরী বলেন, "ট্রায়াল অব সূর্যসেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মাসুম আজিজ ভাই। তাঁর প্রয়াণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ করে নবনির্দেশনার কাজটি করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।"প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অপর্ণা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিল। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, আক্তার হোসেন, রবিউল ইসলাম মিলটন, শাহনাজ পারভীন জয়া, তারেক আলী মিলন, কাজী সম্রাট, আতিকুর রহমান, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, নূর, খাজা ফরিদউল্লাহ, জাহিদ প্রমুখ। নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন শ্যামল হাসান।২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটি ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।এবারের 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনীর শুরুতে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবন-এর শিল্পীরা জাগরণমূলক দলীয় সংগীত পরিবেশন করবেন।মিলনায়তনের প্রবেশপথেই প্রদর্শিত হবে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আঁকা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, চট্টগ্রাম যুবিবদ্রোহ, জালালাবাদ পাহাড় ও ধলঘাট যুদ্ধের ছবি। এছাড়া সেইসব যুদ্ধে শহীদ চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবীদের ছবি এবং ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর বিভিন্ন প্রদর্শনীর প্রামাণ্যচিত্রও এতে প্রদর্শিত হবে। অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরপরই শুরু হবে ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর মঞ্চায়ন। বিশেষ এই প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত।
আবারও বাবা হলেন বলিউড তারকা অভিনয়শিল্পী রণবীর সিং আর মা হলেন তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ) তাদের ঘর আলো করে এসেছে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।দীপিকা ও রণবীর যৌথভাবে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায় নবজাতকের পায়ের ছাপ। ছবির সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘ওয়েলকাম বেবি গার্ল! ১৯/৯/২০২৬। দোয়া, দীপিকা অ্যান্ড রণবীর।’এর মধ্য দিয়ে তাদের দুই বছরের মেয়ে দোয়া পেল ছোট বোন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের আগে বেশ কিছুদিন ধরেই দীপিকা ও রণবীরের পরিবারে নতুন অতিথি আসার খবর নিয়ে আলোচনা চলছিল।চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয়বার বাবা-মা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনেন দীপিকা ও রণবীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে দেখা যায়, তাদের মেয়ে দোয়ার হাতে একটি ইতিবাচক গর্ভধারণ পরীক্ষার কিট। তখনই জানানো হয়েছিল, সেপ্টেম্বরেই আসছে তাদের দ্বিতীয় সন্তান। সন্তান জন্মের কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে একসঙ্গে দেখা যায় দীপিকা ও রণবীরকে। ২০২৪ সালে প্রথম সন্তান দোয়ার জন্মের আগেও একই মন্দিরে গিয়েছিলেন তারা। সেবার ৬ সেপ্টেম্বর মন্দিরে যাওয়ার দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছিল দোয়ার।এবারও সেই ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেল। তবে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের খবরটি এবার আর কোনো জল্পনা নয়; দীপিকা ও রণবীর নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন।২০১৮ সালে বিয়ে করেন দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান দোয়ার জন্ম হয়। এবার পরিবারে যুক্ত হলো আরও এক কন্যাসন্তান।দীপিকা পাড়ুকোন
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে রুপালি পর্দার সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে। ছবিটিতে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর খুব শিগগিরই তিনি হয়ে ওঠেন কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর ৮৪তম জন্মবার্ষিকী, তার দীর্ঘদিনের অবদান ও দূরদর্শী চিন্তাকে স্মরণ করে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি স্টোরে ফাউন্ডার্স ডে উদযাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে এপেক্সের সকল পণ্যে থাকছে ২৬ শতাংশ ছাড়।এই বিশেষ ছাড় উপভোগ করা যাবে এপেক্সের সবকটি রিটেইল আউটলেটের পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটাতেও। ফলে জুতা, স্যান্ডেল, লেদার ব্যাগ, বেল্ট, অ্যাকসেসরিজ ও অ্যাপারেলসহ পরিবারের সব বয়সী সদস্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পাশাপাশি, বিশেষভাবে নারীদের জন্য বৈচিত্র্যময় কালেকশন থেকে ক্রেতারা পছন্দমত পণ্যটি বিশেষ ছাড়ে কিনতে পারবেন।নতুন ডিজাইন ও বিভিন্ন কালেকশন ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহের পাশাপাশি ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে বিশেষ ছাড়কে কেন্দ্র করে স্টোরগুলোতে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর কেনাকাটার পরিবেশ। গত কয়েক বছরের ফাউন্ডার্স ডে উদযাপনের ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনেও উৎসব, বিশেষ দিন, কিংবা বিভিন্ন মৌসুমকে মাথায় রেখে বাজারে নিয়ে আসা এপেক্স পণ্য বিশেষ ছাড়ে কেনাকাটার দারুণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারছে ক্রেতারা। এপেক্সের সঙ্গে এ দেশের মানুষের দীর্ঘ পথচলাকে সামনে রেখেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর এই ক্যাম্পেইন উদযাপন করে থাকে। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী গুণগত মান ও গ্রাহকের আস্থা ভিত্তির ওপর এপেক্সেকে গড়ে তুলেছিলেন। তার সেই স্বপ্নকে স্মরণ করে এবং বিশেষ এই কেনাকাটার অভিজ্ঞতার অংশ হতে এপেক্সের নিকটস্থ আউটলেটে আসার জন্য ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এপেক্স।
দেশের বাজারে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আরও কমেছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দামও কমানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে।নতুন দর অনুযায়ী, আজ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা। এর আগে গতকাল সোমবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ দুই লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, ২১ ক্যারেট দুই লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট এক লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায় বিক্রি হয়।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর থাকবে। গয়নার ডিজাইন অনুযায়ী অতিরিক্ত মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালংকারের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে। মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার পথকে আরও সুগম ও সাশ্রয়ী করতে আইডিপি এডুকেশন বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে পার্টনারশিপ করেছে তরুণদের জন্য গ্রামীণফোনের ডিজিটাল-ফার্স্ট ব্র্যান্ড স্কিটো। এই পার্টনারশিপের আওতায় বিদেশে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিশেষ কিছু সুবিধা পাবেন স্কিটোর গ্রাহকরা; যার মধ্যে রয়েছে ফ্রি আইইএলটিএস মাস্টারক্লাস সেশন, আইডিপির ‘স্টাডি অ্যাব্রোড প্রিভিলেজ কার্ড’ এবং দেশব্যাপী যেকোনো আইডিপি অফিসে আইইএলটিএস নিবন্ধনে ১,০০০ টাকা ছাড়। এই সুবিধাগুলো সব স্কিটো ব্যবহারকারীর জন্য প্রযোজ্য। গ্রামীণফোনের হেড অব স্কিটো মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন কবীর এবং আইডিপি এডুকেশন বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর বি এম মাহবুবুল আলম রাজীব সম্প্রতি জিপিহাউজে এ বিষয়ক চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। এ সময় গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে স্কিটোর পার্টনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন লিড সামান্তা আক্তার; স্কিটোর হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড এনগেজমেন্ট নুজহাত জান্নাতুন নাঈম; স্কিটোর হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স মো. রেজাউল করিম ও স্কিটোর হেড অব সেলস অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস মোহাম্মদ শোয়েব আনসার এবং আইডিপি এডুকেশন বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স ম্যানেজার মমিনুর রহমান মঈন উপস্থিত ছিলেন। গ্রামীণফোনের হেড অব স্কিটো মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন কবীর বলেন, “এখন আরো বেশি উদ্যমী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা নতুন কিছু শিখতে, এগিয়ে যেতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে দেশের বাইরে যেতে আগ্রহী। স্কিটোতে আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্ম ও পার্টনারশিপগুলো কাজে লাগিয়ে তাদের সেই স্বপ্ন পূরণকে আরও সহজ করতে চাই। আইডিপি এডুকেশন বাংলাদেশের সাথে স্কিটোর এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমরা স্কিটো গ্রাহকদের কাছে এ সম্পর্কিত সুবিধাগুলো পৌঁছে দিচ্ছি, যাতে বিদেশে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো তাদের কাছে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হয়ে উঠে।” আইডিপি এডুকেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর বি এম মাহবুবুল আলম রাজীব বলেন, “আমরা বুঝি যে বিদেশে পড়াশোনা করা অনেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর জন্য একটি বড় স্বপ্ন, আর সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রস্তুতি সেই যাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। স্কিটোর সাথে এই পার্টনারশিপ আমাদের আরও বেশি সংখ্যক তরুণদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আইইএলটিএস প্রস্তুতির রিসোর্স ও সহায়তা পৌঁছে দেয়ার সুযোগ করে দেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি যেন তারা প্রয়োজনীয় রিসোর্সের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে আন্তর্জাতিক শিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে পারে।” এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু সংযোগ সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশের তরুণদের পরিবর্তনশীল চাহিদা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সুবিধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে স্কিটো।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।