বর্তমানে দেশের মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। অর্থাৎ দেশে ভোটার বাড়ল ছয় লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন। ভোটার বৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা এই তথ্য জানিয়েছেন।তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ভোটার বাড়ল ছয় লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন। আগে ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার।সব মিলিয়ে দেশে ভোটার এখন ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন ও নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন।২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোটা ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। হালনাগাদ তালিকায় ভোটার বেড়েছে ৬ লাখ ২৮ হাজার ৩০০ জন। ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, যারা ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বরের পর নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে—তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে হালনাগাদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্নকারীদের তথ্যই চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। ইসির নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৬ শিশু এবং নিশ্চিত হামে এক মিশু মারা গেছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গে ৬ শিশু এবং নিশ্চিত হামে এক মিশু মারা গেছে। এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৫৫ শিশু এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৬৩ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন র্পন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭০ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ শিশু। আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৪ হাজার ৪১৯ শিশু।
সরকার একযোগে দেশের ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক ১০টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।নতুন উপাচার্য পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, নবনিযুক্ত উপাচার্যরা যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তারা তাদের বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, ডিনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম। তিনিও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ড. মো. মামুন অর রশিদ।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইন্সটিটিউট অব সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এন্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক হিসিবে কর্মরত ছিলেন।এছাড়া ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল।তিনি বর্তমানে সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।অন্যদিকে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এর আগে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।আর পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।এছাড়া জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন তিনি। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। ক্যাম্পাসে তারেক রহমানের আগমনে উৎসুক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের স্লোগান ছিল ‘ক্যাম্পাসের বড় ভাই, ক্যাম্পাসে স্বাগতম’। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের কৌতূহল জাগে, তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কখন কোন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন তারেক রহমান। তবে তিনি আইন বিভাগে দুই মাস ক্লাস করার পর বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন।দুই বিভাগে পড়ার সময় তারেক রহমানের সহপাঠী (ক্লাসমেট) ছিলেন ১২২ জন। এর মধ্যে আইন বিভাগে ৭৭ জন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ছিলেন ৪৫ জন। ঢাবির নিয়ম অনুযায়ী শুধু যারা একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে সনদ নিয়ে বের হন, তাদের তালিকা সংরক্ষিত থাকে। ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনের পুরাতন শিক্ষার্থীদের তথ্যে দেখা যায়, তারেক রহমান স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম বা এসএম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।আইন বিভাগের ৭৭ জন:১. শিরীন শারমিন চৌধুরী২. ফারাহ মাহবুব৩. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান৪. তাহমিনা আহমেদ৫. মালেকা বাহার শামসী৬. আজিজ আহমদ৭. শামিমা আওশর রহমান৮. মুবিনা আসাফ৯. ফাহমিদা মারিয়াম১০. জাহান আরা রহমান১১. সানাইয়া ফাহীম আনসারী১২. এহসানুল হাবীব১৩. মুফাসসিল মুহাম্মদ মাজহার১৪. আহমেদ ফয়সাল১৫. শেখ আবু তাহের১৬. মাহবুবা নাসরীন১৭. পল্টু কুমার সিকদার১৮. স্মৃতি কর্মকার১৯. মো. শফিকুর রহমান২০. মো. ইমাম হোসেন২১. সাবেরা সোবহান২২. সুফিয়া খাতুন২৩. আব্দুন নাসের খান২৪. মো. রফিকুল ইসলাম২৫. জামিলা খাতুন২৬. মো. মাহবুব-উল-আলম২৭. মো. হেলাল উদ্দিন২৮. কনিকা নারী সরকার২৯. সুলতানা লিজা৩০. সানিয়া সুলতানা৩১. নাসরীন ফেরদৌস৩২. অপূর্ব কুমার কর৩৩. জাকিয়া পারভিন৩৪. জওহর লাল দাশ৩৫. মাহফুজা আহমেদ৩৬. শফিকুল কবীর খান৩৭. নারায়ন চন্দ্র মন্ডল৩৮. সৌরেন্দ্র নাথ মন্ডল৩৯. মো. মফিজুর রহমান ভূঞা৪০. সায়কা তুহীন৪১. ভীষ্মদেব চক্রবর্ত্তী৪২. গোলক চন্দ্র বিশ্বাস৪৩. পারভীন আফরোজ৪৪. মনজুর মোরশেদ৪৫. নরেশ চন্দ্র সরকার৪৬. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ৪৭. লিয়াকত আলী মোল্লা৪৮. শেখ মফিজুর রহমান৪৯. আ ন ম আনিসুর রহমান পাটোয়ারী৫০. মো. ইকবাল কবির৫১. মো. কায়সার আহমেদ৫২. ফারিহা হুদা৫৩. মো. জাহাঙ্গীর আলম৫৪. মো. রেজা আলী৫৫. আবু বকর সিদ্দিক৫৬. গগাঙ্ক শেখর সরকার৫৭. আসমা জাহান৫৮. নাহিদা সুলতানা৫৯. মো. হাবিবুল্লাহ শিকদার৬০. সাহানা কাদের চৌধুরী৬১. শাহনাজ বেগম৬২. মো. আব্দুস সামাদ আজাদ৬৩. সুফিয়া খাতুন৬৪. মো. হুমায়ুন কবির৬৫. মো. জাকির হোসেন৬৬. মো. আব্দুল মান্নান৬৭. মো. হুমায়ুন কবির৬৮. মো. দেলোয়ার হোসেন৬৯. মো. আাবু সাঈদ৭০. মো. তৈয়ব আনোয়ার৭১. নাজির আহম্মেদ৭২. কাজী মিজানুর রহমান৭৩. এ,টি,এম, এমরুল আহমেদ৭৪. মো. ওসমান গনি ভূঁঞা৭৫. মো. আজমীর ফকির৭৬. মো. নুরুল ইসলাম৭৭. মো. মোস্তাফিজুর রহমানআন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪২ জন:১. মো. এনায়েত মাওলা২. মুহা. রুহুল আমীন৩. মো. জসীম উদ্দিন৪. সৈয়দ মাহমুদ আক্তার৫. দেলোয়ার হুসেন৬. স্বপ্না জুলিয়েট কেরোলীনা৭. মো. ফুয়াদ রেজা৮. পলিন মেরী কুইয়া৯. ফজলে ইলাহি মাহমুদ১০. মো. রুহুল আমিন১১. তাহসীন মাহবুব১২. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী১৩. শাহীন আক্তার১৪. ফারহানা আমীন১৫. শারমিন নছিমা বানু১৬. এস.এম. মাহমুদ হাসান১৭. স্নিগ্ধা চক্রবর্ত্তী১৮. ফৌজিয়া আহমেদ১৯. জি. এম. আবুল কালাম২০. কানিজ সাইয়েদা হায়দার২১. বি.এম. বেনজীর আহমেদ২২. গোলাম ফারুক২৩. মো. সামছুদ্দোহা২৪. কাজী জাহিদ হোসেন২৫. ফারহানা জাহান২৬. রহিমা হক২৭. জিনাত আরা চৌধুরী২৮. মো. বদিউজ্জামান২৯. গোলাম মোহাম্মদ৩০. মো. এবাদুর রহমান৩১. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন৩২. ফারহানা৩৩. মো. আলমগীর হোসেন৩৪. আফরোজা আক্তার৩৫. সাহিদা শিকদার৩৬. মো. মাজহারুল হক৩৭. শায়লা পারভীন৩৮. উম্মে সালমা৩৯. রাহী রহমান৪০. আসমা ভূঁইয়া৪১. দিলরোজ বেগম৪২. মো. রেফাতুল ইসলাম৪৩. এলিজাবেথ ডি. কস্তা৪৪. মো. বদরুল ইসলাম৪৫. মো. শামসুদ্দীন হোসেনআইন বিভাগে তারেক রহমানের সিনিয়র ছিলেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। গত বুধবার (১৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তারেক রহমানের সহপাঠীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অতি পরিচিত মানুষ রয়েছেন। তারা হলেন, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বর্তমান বিচারক ফারাহ মাহবুব। তখন এরশাদ ক্ষমতায় ছিল। এরশাদ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। সম্ভবত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তারেক রহমানের ঢাবির পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।
নিলামের মাধ্যমে আরও ৪০ মিলিয়ন বা ৪ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কাটঅফ মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।চলতি মে মাসে মোট ২১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। এর আগেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েক দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ৫৮৮ কোটি ৩৫ লাখ বা ৫.৮৮ বিলিয়ন ডলার।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে যাত্রীদের জন্য ১৪ দফা সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে সম্ভাব্য নৌদুর্ঘটনা এড়াতে যাত্রী, নৌযান মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিআইডব্লিউটিএ জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী চলাচল করে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ নৌপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যাত্রীদের সচেতন থাকার বিকল্প নেই।বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রীদের টিকিট কেটে লঞ্চে ওঠা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কিংবা লঞ্চের ছাদে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এতে নৌযান ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।এ ছাড়া শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লঞ্চে ওঠানামা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে যাত্রা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা এবং জরুরি প্রয়োজনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বিআইডব্লিউটিএ জানায়, যাত্রাপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে যাত্রীদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।পাশাপাশি ঈদের ভিড় শুরুর আগেই পরিবার-পরিজনকে গন্তব্যে পাঠানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।নৌযানে ওঠার পর লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া সম্পর্কে জেনে নেওয়া, অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা এবং পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার বা নৌকা থেকে চলন্ত লঞ্চে ওঠানামা করা যাবে না। ঘাটে লঞ্চ না আসা পর্যন্ত যাত্রীদের টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হবে এবং নিজেদের মালামালের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।যাত্রাপথে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি জরুরি হটলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর হটলাইন ১৬১১৩, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সরকারি তথ্য ও সেবা ৩৩৩, ফায়ার সার্ভিস ১০২, কোস্টগার্ড ১৬১১১ এবং নৌপুলিশের মোবাইল নম্বর ০১৭৬৯-৭০২২১৫।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় উদ্ধার করে সিআইডি। পরে যাচাই করে জানা যায়, সেগুলো পলাতক ফোরকানের। এরপর বৃহস্পতিবার পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া বছরখানেক আগে রাউতকোনা গ্রামের ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েস ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়।ঘটনার দিন মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পড়ে থাকতে দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান হোসেন এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। একই সঙ্গে ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরেই ফোরকান এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগেই দুজনকে আটক করেছিল পুলিশ।
কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম অবশেষে ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। দক্ষিণের এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ভিডি সতীশনকে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে তার নাম ঘোষণা করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও কেরালার–দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী দীপা দাশমুন্সি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন, মুকুল ওয়াসনিক ও জয়রাম রমেশ।কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ১০২টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে ভোট গণনার পর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না দলটি।মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ভিডি সতীশন, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং জ্যেষ্ঠ নেতা রমেশ চেন্নিতালা।দলীয় সূত্রে আগে জানা গিয়েছিল, কংগ্রেস পরিষদীয় দল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেণুগোপালের নাম প্রস্তাব করেছিল। তবে বিধায়কদের একটি বড় অংশ সতীশনের পক্ষ নেয়। তাদের যুক্তি ছিল, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কংগ্রেস ও ইউডিএফকে আবারও জনসমর্থনের পথে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সতীশন। শেষ পর্যন্ত সেই সতীশনকেই নেতৃত্বের দায়িত্ব দিল কংগ্রেস।ভিডি সতীশন একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কেরালার এর্নাকুলাম জেলার পারাভুর কেন্দ্রের প্রতিনিধি। দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।এর আগে বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে রাহুল গান্ধীসহ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। প্রায় ৪০ মিনিটের ওই বৈঠকের পর জয়রাম রমেশ জানিয়েছিলেন, কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। পরে দুপুরে কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে সতীশনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।তবে তিনি কবে শপথ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কোরবানি একটি ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কারও কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব।যে ব্যক্তি কোরবানি দেবে তার জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি করার আগ পর্যন্ত শরীরের পশম, চুল ও নখ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকা মুস্তাহাব। হজরত উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন (জিলহজ মাসের) প্রথম দশক শুরু হয় এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন তার চুল ও শরীরের কোনো অংশ স্পর্শ না করে (না কাটে)। (মুসলিম: ১৯৭৭)নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, যে ব্যক্তি জিলহজের নতুন চাঁদ দেখেছে এবং কোরবানির নিয়ত করেছে সে যেন নিজের চুল ও নখ (কোরবানির পূর্ব পর্যন্ত) না কাটে। (তিরমিজি: ১৫২৩; ইবনে মাজাহ: ৩১৪৯)তবে এই মুস্তাহাব হুকুম তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা এর ওপর আমল করলে নখ কাটা ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কারের মেয়াদ ৪০ দিন অতিক্রম করবে না। কিন্তু এর ওপর আমল করতে গিয়ে যদি ৪০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যায় তবে সেক্ষেত্রে ৪০ দিনের ভেতরে অবশ্যই তা পরিষ্কার করে নেবে। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়ে ফেলা এবং নাভির নিচের লোম ছেঁটে ফেলার জন্য আমাদের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছিল যে, আমরা তা ৪০ দিনের অধিক দেরি না করি। (মুসলিম: ৪৮৭)নখ ও চুল কখন কাটবেন? কোরবানিদাতা নিজের কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর চুল-নখ ইত্যাদি কাটবেন। কেননা হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম বলেন, যার কোরবানির পশু রয়েছে, সে যেন জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি করার পূর্ব পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে। (আবু দাউদ: ২৭৯১)
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আগামী ২৫ মে নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।বিশেষ করে ‘২৫ মে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা’—এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চাকরিজীবীদের মাঝে তৈরি হয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। ঈদের আগে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় রাজধানী ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন অনেকে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ছুটির সমন্বয়ের অংশ হিসেবে আগামী ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রোববার) অফিস খোলা থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, ডাক, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবাসহ জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো যথারীতি চালু থাকবে।এছাড়া চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহনও ছুটির বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের কার্যক্রম নিয়ে আলাদা নির্দেশনা দেবে সুপ্রিম কোর্ট।বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ এ ছুটিকে ঘিরে সড়ক, রেল ও নৌপথে ঈদযাত্রার প্রস্তুতিও জোরদার হতে শুরু করেছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধের ঘটনায় বাবার পর একে একে মারা গেলো ছোট ছোট ৩ ভাইবোন। হাসপাতালে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তাদের মা সালমা আক্তার।সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টার মুন্না (১২) আর দুপুর ১টার দিকে মারা যায় মুন্নি (৭)। এর আগে বুধবার তাদের বোন কথা (৪) এবং সোমবার মারা যান তাদের বাবা আবুল কালাম (৩৫)।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, মুন্নার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তাদের মা সালমা আক্তার ৬০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় এখনও ভর্তি আছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।গত রোববার (১০ মে) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লা গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন: সবজি বিক্রেতা মো. আবুল কালাম, তার স্ত্রী সালমা আক্তার। তাদের ছেলে মুন্না, দুই মেয়ে কথা ও মুন্নি।তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. হাসান জানান, রোববার সকাল ৭টার দিকে ওই বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে। পরে ভেতর থেকে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে বাসার গ্যাস লিকেজ থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, দেশের প্রয়োজনে যেমন ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন, তেমনি আজও দেশের প্রয়োজনেই তারা রাজপথে নেমেছেন। রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে মুক্তিযোদ্ধারা আবারও দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছেন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম’র উদ্যোগে ঢাকা ডিএসসিসির নগর ভবনে আয়োজিত ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।আবদুস সালাম বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন। আজও তারেক রহমানের ডাকে ঢাকা শহরকে ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটিতে রূপান্তর করতে তারা রাজপথে নেমেছেন। আমরা একদিন চলে যাব, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মকেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে দেশ ও জাতির জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর। এই শহরকে যদি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে চাই, তাহলে আগে নিজেদের বদলাতে হবে। আমরা বদলালে ঢাকাও বদলাবে। আমরা চাই না পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকায় ঢাকা থাকুক। আমরা চাই পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও সবুজ শহরের তালিকায় ঢাকা এক নম্বরে থাকুক।অনুষ্ঠান শেষে পরিচ্ছন্নতা অভিযান নগর ভবন থেকে শুরু হয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেট অতিক্রম করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একটি বসতবাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের হামলায় শাহ আলম ও জানে আলম নামে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সদর পৌরসভার মুকুন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।আহত শাহ আলম ও জানে আলম স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলী আজগরের ছেলে। গুরুতর আহত শাহ আলমকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে তার ছোট ভাই জানে আলম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহ আলম জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল তাদের বাড়ির কেঁচি গেটের তালা কেটে এবং বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একই সময় জানে আলমকেও মারধর ও নির্যাতন করা হয়।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডাকাতরা শাহ আলমের ঘর থেকে প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এছাড়া জানে আলমের ঘর থেকে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে দ্রুত আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শাহ আলমকে ভর্তি করা হয় এবং জানে আলমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (গ-অঞ্চল) মেহেদী ইসলাম বলেন, এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড এথনোস্পোর্টস ইউনিয়নের (ডব্লিউইসি) সভাপতি নেজমেদ্দিন বিলাল এরদোয়ানের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১২ মে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় খেলাধুলার উন্নয়ন এবং প্রসারে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বাংলাদেশের গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আধুনিক ক্রীড়ার পাশাপাশি প্রতিটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও দেশীয় খেলাধুলা সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব খেলাকে আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।ওয়ার্ল্ড এথনোস্পোর্টস ইউনিয়নের সভাপতি নেজমেদ্দিন বিলাল এরদোয়ান বাংলাদেশের ক্রীড়া খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি এথনোস্পোর্টসের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার প্রসারে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে তার সংস্থা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।সাক্ষাৎকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিলাল এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আশা প্রকাশ করেন, এ বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ক্রীড়া সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়রা পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
অভিনেতা ও নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সের বাতিল করা হয়েছে। অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বুধবার (১৩ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি।মাসুমা রহমান তানি জানান, সিনেমার একজন সহ-অভিনেত্রীর অভিযোগই ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর বাতিল করা হয়েছে।বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি বলেন, “আমরা চলচ্চিত্রটির সেন্সর দিয়েছিলাম। তখন এটির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে জেবা জান্নাত নামে প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত একজন লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে জেবা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ একটি নাটক বলে তার সঙ্গে চুক্তি করা হয় বলে জানান। পরে সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেওয়ার পরকিল্পনা করলে তিনি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। তার সঙ্গে নাটকের চুক্তি হয়েছে, সিনেমার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। সে জন্যই আমরা এর মুক্তির অনুমতি বাতিল করেছি।”এই প্রজেক্টে বাংলাদেশের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীও অভিনয় করেছেন। দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি প্রজেক্টে চুক্তি করেন তিনি। সম্প্রতি তিনিও বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।মৌসুমী এক অডিওতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা এক ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়। কিছুদিন পর নির্মাতা এসে বলেন, এটার শুটিং তো বেশি হয়েছে, আমরা টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করতে চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি। কিন্তু খবরে দেখছি, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি।’‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে জেবার অভিযোগ ছিল, তাকে নাটকের কথা বলে কাজ করিয়েছিলেন সিনেমার পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর। কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে পড়েন এই অভিনেত্রী। এক পর্যায়ে জানতে পারেন, এটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে শক্ত অবস্থান নেন জেবা।‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এ মৌসুমী, হাসান জাহাঙ্গীর ও জেবা জান্নাত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
ফ্রান্সের উপকূলীয় শহর কান-এ শুরু হচ্ছে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরগুলোর একটি কান চলচ্চিত্র উৎসব। মঙ্গলবার (১২ মে) ৭৯তম এই আয়োজন শুরু হবে। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলা এ উৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে জমে উঠেছে ভূমধ্যসাগর তীরের ছোট্ট এই শহর। বিশ্বের নামকরা নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কান এখন পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক সিনেমার প্রাণকেন্দ্রে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় কান শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘পালে দে ফেস্টিভাল এ দে কঁগ্রে’ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।এর মধ্য দিয়েই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত রেড কার্পেট আয়োজন, যেখানে অংশ নেবেন বিশ্বের খ্যাতিমান তারকারা। এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় থাকছেন ফরাসি অভিনেত্রী আইসা মাইগা। অন্যদিকে প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রখ্যাত নির্মাতা পার্ক চান-উক।উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পেয়েছে ২১টি চলচ্চিত্র।মর্যাদাপূর্ণ ‘পাম দ’র’ পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সমসাময়িক বিশ্ব সিনেমার একাধিক খ্যাতিমান পরিচালক। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের আসগর ফারহাদি,স্পেনের পেদ্রো আলমোদোভার, জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদা, পোল্যান্ডের পাওয়েল পাভলিকোভস্কি এবং জাপানের রিউসুকে হামাগুচি।এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগে আলোচনায় থাকা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে পেদ্রো আলমোদোভারের বিটার ক্রিসমাস, ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউয়ের ফিয়র্ড, পাওয়েল পাভলিকোভস্কির ফাদারল্যান্ড, আসগর ফারহাদির প্যারালাল টেলস, রিউসুকে হামাগুচির অল অব আ সাডেন এবং হিরোকাজু কোরে-এদার শিপ ইন দ্য বক্স। চলতি আসরে হলিউড নির্ভরতার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একমাত্র নির্মাতা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ইরা স্যাক্স। তার নির্মিত দ্য ম্যান আই লাভ চলচ্চিত্রটি আশির দশকের নিউইয়র্কে এইডস সংকটের প্রেক্ষাপটে নির্মিত।উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ফরাসি নির্মাতা পিয়ের সালভাদোরি পরিচালিত রোমান্টিক সিনেমা দ্য ইলেকট্রিক কিস। এছাড়া বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রিমিয়ার বিভাগে প্রদর্শিত হবে হলিউড অভিনেতা জন ট্রাভোল্টা পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র প্রপেলার: ওয়ান-ওয়ে নাইট কোচ।চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারের সম্মানসূচক ‘পাম দ’র’ প্রদান করা হবে নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি পরিচালক পিটার জ্যাকসন এবং মার্কিন সংগীত ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ডকে। উৎসব চলাকালে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিশ্ব প্রিমিয়ার, সংবাদ সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজার কার্যক্রম একযোগে চলবে। প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বের শতাধিক দেশের চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মিলনায়তনে পরিণত হবে কান শহর।যদিও এবারের আসরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিপাদ্য ঘোষণা করা হয়নি, তবুও নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের অংশগ্রহণ, বিশ্ব সিনেমার বৈচিত্র্য এবং নারী-পুরুষ চলচ্চিত্রকারদের প্রতিনিধিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৩ মে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন। তবে পুরো উৎসবজুড়ে আন্তর্জাতিক সিনেমা অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে ফ্রান্সের কান শহর।
মা—এই শব্দের আরেক নাম আশ্রয়, ভালোবাসা ও মমতা। একজন মা কর্মজীবী হোন কিংবা গৃহিণী, প্রতিদিনের অসংখ্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের জন্য খুব সামান্য সময়ই বের করতে পারেন। তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো মায়েদের জন্য তৈরি করেছে নতুন এক সম্ভাবনার জগৎ।দিনের ব্যস্ততা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে অনেক মা এখন খুঁজে পাচ্ছেন বিনোদন ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ। শুধু দর্শক হিসেবেই নয়, অনেকেই হয়ে উঠছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। নিজেদের বাস্তব জীবনের গল্প, পরিবার, রান্নাবান্না কিংবা ছোট ছোট আনন্দঘন মুহূর্ত ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরছেন তারা, যা সহজেই জায়গা করে নিচ্ছে দর্শকদের মনে।নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ডিজিটাল ফিচার ব্যবহার অনেক অভিভাবকের জন্য এখনও কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তবে TikTok-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করাকে সহজ করে দিয়েছে। সংসার ও পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজেদের সৃজনশীলতা ধরে রাখছেন অনেক মা, যা তাদের ভিডিও কনটেন্টে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে সামিহা সাইয়ারা, আরিফা বেগম এবং মাসফিক হোসেন এখন সামাজিক মাধ্যমে বেশ পরিচিত মুখ। আন্তর্জাতিক মা দিবসে তাদের কনটেন্ট যেন মনে করিয়ে দেয়—জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো তৈরি হয় আপন মানুষদের ঘিরেই।সামিহা সাইয়ারা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লাইফস্টাইল কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ফ্যাশন, স্কিনকেয়ার ও দেশীয় পোশাক নিয়ে তার ভিডিও তরুণীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে তার কনটেন্টকে আরও বিশেষ করে তোলে মেয়ের উপস্থিতি। মা-মেয়ের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, মিলিয়ে পোশাক পরা কিংবা উৎসবকেন্দ্রিক ভিডিও দর্শকদের কাছে বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে আরিফা বেগম তার রান্না ও পারিবারিক জীবনের নানা মুহূর্তকে ভিডিওতে তুলে ধরেন। বিশেষ উৎসবের আয়োজন, পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না এবং একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দ তার কনটেন্টে ফুটে ওঠে আন্তরিকভাবে। সাধারণ ও স্বাভাবিক উপস্থাপনার কারণেই দর্শকদের কাছে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।এদিকে মাসফিক হোসেন, যিনি ‘লেইজি পান্ডা’ নামে পরিচিত, মাকে নিয়ে তৈরি করেন ভিন্নধর্মী কমেডি কনটেন্ট। মা-ছেলের খুনসুটি, ট্রেন্ডি চ্যালেঞ্জ ও হাস্যরসাত্মক অভিনয় তার ভিডিওগুলোকে করে তুলেছে দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় নিখুঁত জীবনের ছবিই বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই বাংলাদেশি মায়েরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তুলে ধরছেন বাস্তব জীবনের গল্প—রান্নাবান্না, ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়। আর তাদের এই আন্তরিক উপস্থাপনাই সহজেই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে।
মডেল ও অভিনেত্রী মারিয়া মিম। পোশাক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বেশ আলোচিত থাকেন সবসময়। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। সম্প্রতি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের ফ্যাশন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন গণমাধ্যমে।মারিয়া মিম বলেন, তার পরনের লাল রঙের ওয়েস্টার্ন পোশাকটি ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে কেনা। ভবিষ্যতে সেখানে গেলে আরও এমন পোশাক কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। অনুষ্ঠানে নিজের সাজপোশাক প্রসঙ্গে মিম জানান, কোন ড্রেস পরবেন বা কোন লুকে হাজির হবেন, তা নিয়ে তার আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকে।সৌদি আরবে অত্যন্ত চমৎকার সব ওয়েস্টার্ন পোশাক পাওয়া যায় উল্লেখ করে মিম বলেন, আমার রেড অনেক পছন্দ, আর রেড পরলে আমাকে অনেক সুন্দর লাগে। আমার এই ড্রেসটা আমি যখন ওমরাহ করতে গিয়েছিলাম, তখন জেদ্দা থেকে কিনেছিলাম। ওখানে ওয়েস্টার্ন ড্রেস অনেক সুন্দর সুন্দর পাওয়া যায়। সো এটা আমার জানা ছিল না। আর নেক্সট টাইম আমি সৌদি আরব গেলে অবশ্যই আরও আরও অনেক ওয়েস্টার্ন ড্রেস কিনব। সো আমি ওখান থেকেই নিয়েছিলাম এই ড্রেসটা।তবে পোশাকের দাম কত, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার প্রস্তাব পেলেও চিত্রনাট্য ও সহ-শিল্পী মনের মতো না হওয়ায় কাজে নামা হয়নি। তিনি বলেন, আমি তো সিনেমার অফার অনেক আগে থেকেই পাচ্ছি। বাট ব্যাটে-বলে মিলে না। আরেকটা করছি আমি, ওটার তো শুটিং আরও বাকি আছে। সো হ্যাঁ, যখন আসবে তখন তো অবশ্যই তোমরা দেখতে পারবে।অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানের প্রাক্তন স্ত্রী মারিয়া মিম ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। শোবিজ অঙ্গনে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন থাকলেও ব্যক্তিগত নানা জটিলতায় মাঝপথে তাকে থেমে যেতে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে সেই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেই ব্যক্তিগত জীবন ও প্রাক্তন স্বামীকে নিয়ে সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নে মেজাজ হারান মিম। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের বুম মাইক্রোফোন ছুঁড়ে ফেলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি, যা নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিল্ম অ্যান্ড আর্টস (বাইফা) অ্যাওয়ার্ড পেলেন গীতিকবি মাহবুবুল খালিদ। ‘মাগুরার ফুল’ শিরোনামের আলোচিত গান রচনার জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।শুক্রবার (৮ মে), বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাইফা পুরস্কারের পঞ্চম আসরের সূচনা হয়। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।‘সেরা গীতিকার’ বিভাগে মাহবুবুল খালিদ ছাড়াও এবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন- ‘তুমি’ গানের জন্য আইদিদ রশিদ, ‘বাজি’ গানের জন্য ইমন চৌধুরী ও হাশিম মাহমুদ, ‘গুলবাহার’ গানের জন্য ঈশান মজুমদার, ‘লং ডিসটেন্স লাভ’ গানের জন্য শুভেন্দু দাস শুভ।সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সংকট ও সচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গান লিখে আসছেন গীতিকার, সুরকার মাহবুবুল খালিদ। তার লেখা পাঁচ শতাধিক গান ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘খালিদ সংগীত’ প্ল্যাটফর্মে। নিজের অধিকাংশ গানের সুরকারও তিনি। মাগুরায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত ৮ বছর বয়সি শিশু আছিয়াকে নিয়ে লেখা হৃদয়স্পর্শী গান ‘মাগুরার ফুল’-এর জন্য ‘সেরা গীতিকার’ বিভাগে বাইফা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন মাহবুবুল খালিদ।বাইফার জমকালো এ আয়োজনে দর্শক ভোট ও জুরি বোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে গান, নাটক, চলচ্চিত্র, ওটিটি, নৃত্য ও ফ্যাশনসহ মোট ২৯টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এবারের আসরে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমিন এবং ঢালিউডের বরেণ্য অভিনেত্রী কোহিনূর আখতার সুচন্দা। তারকাদের পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, রেড কার্পেট ও বিশেষ গ্ল্যামার সেগমেন্ট দিয়ে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়।বলে রাখা ভালো, বাইফা অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় আসর থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান শুরু হয়। এর আগে এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা, নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মহম্মদ।‘মাগুরার ফুল’ গানটি লেখা হয়েছে মাগুরার সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেখানে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গত বছরের ৫ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী মাঠপাড়া গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে।এই নির্মম ঘটনা গভীরভাবে নাড়া দেয় মাহবুবুল খালিদকে। সেই বেদনা থেকেই তিনি রচনা ও সুর করেন ‘মাগুরার ফুল’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন মৌটুসী খান, মৌলি মজুমদার ও মৌমিতা বড়ুয়া। সংগীতায়োজন করেছেন শেখ পুলক ও রোমান রহমান।গানটির শুরুতেই উঠে এসেছে এক শিশুর অপূর্ণ স্বপ্ন আর সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতা- “মাগুরার ফুল ছোট্ট মুকুল, ঝরে গেলো ফুটে ওঠার আগেই/ ডাক্তার হবার স্বপ্নটা তার, নিভে গেলো পিশাচের এক ছোবলেই...।” আবেগঘন এই গান ইতোমধ্যে শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।গানটি নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি মিউজিক ভিডিও, যা পরিচালনা করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী। ‘খালিদ সংগীত’ শিরোনামের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আগামী ১৬ মে শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬’। দেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে এদিন সকাল ১০টা থেকে এই সম্মেলন শুরু হবে। দিনব্যাপী আয়োজনে সারা দেশের শতাধিক চলচ্চিত্র সংসদের প্রতিনিধি, সংগঠক ও স্বাধীন চলচ্চিত্রকর্মীদের অংশগ্রহণে সম্মেলনে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের বর্তমান প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা- পলিসি, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ডা. জাহেদ উর রহমান।আয়োজনের উল্লেখযোগ্য অংশের মধ্যে রয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ আলোচনা সভা। এদিন অস্কারের জন্য বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত লিসা গাজীর ‘বাড়ির নাম শাহানা’ এবং আকরাম খানের মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘নকশিকাঁথার জমিন’ প্রদর্শিত হবে। এছাড়া ‘ঢাকার বাইরের চলচ্চিত্র সংসদ’ এবং ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক চলচ্চিত্র সংসদ’—এই দুই বিষয়ের ওপর পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রান্তিক পর্যায়ের সংগঠকরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।চলচ্চিত্র আন্দোলনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারের সম্মেলনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বিএফএফএস পদক ২০২৫ (বর্ষসেরা সংগঠন)’ এবং ‘চলচ্চিত্র সংসদ সম্মাননা ২০২৬ (বিএফএফএস আজীবন সম্মাননা)’। সম্মেলন উপলক্ষে একটি বিশেষ স্মরণিকাও প্রকাশ করবে আয়োজক সংস্থাটি।উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) দেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। সুস্থ চলচ্চিত্র সংস্কৃতি গড়ে তোলা, দর্শক তৈরি ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি অস্কারের জন্য দেশীয় চলচ্চিত্র মনোনয়ন প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করে আসছে এই সংগঠনটি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সম্মেলন দেশের চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেম উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
নিলামের মাধ্যমে আরও ৪০ মিলিয়ন বা ৪ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কাটঅফ মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।চলতি মে মাসে মোট ২১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। এর আগেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েক দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ৫৮৮ কোটি ৩৫ লাখ বা ৫.৮৮ বিলিয়ন ডলার।
কয়েকদিন পর বিয়ের সানাই বাজানোর কথা ছিল যে বাড়িতে, সেই বাড়িতেই এখন শুধুই কান্নার শব্দ। নেই আনন্দের কোলাহল, নেই বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা। স্বজনদের চোখে এখন শুধু অশ্রু আর অপেক্ষা, চার ভাইয়ের লাশ দেশে ফেরার অপেক্ষা।১৩ মে বুধবার ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ।ওমানে থাকা একই এলাকার বাসিন্দা ও নিহতদের মামাতো ভাই বাবুর মাধ্যমে প্রথমে দেশে পৌঁছে এ হৃদয়বিদারক সংবাদ। পরে লালানগর ইউনিয়নের মো.ইয়াকুব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার একই পরিবারের চার সহোদর রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে ওমানে অবস্থান করছিলেন চারভাই। তাদের এক ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় ঘরে চলছিল আনন্দের প্রস্তুতি। খুব শিগগিরই দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা করতেই চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ যাত্রা।জানা যায়, বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে তারা গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এতে এসির গ্যাস লিকেজ বা বিষক্রিয়াজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।বর্তমানে চার ভাইয়ের লাশ রোস্তাক থানার হেফাজতে রয়েছে এবং মাস্কাটে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গিগাবাইট জানিয়েছে, তাদের চারটি নতুন প্রজন্মের মাদারবোর্ড ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘রেড ডট ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে। পণ্য ডিজাইন ক্যাটাগরিতে এই স্বীকৃতি পেয়েছে— এক্স৮৭০ অরাস স্টেলথ আইস, এক্স৮৭০ই অরাস এক্সট্রিম এক্সথ্রিডি এআই টপ, এক্স৮৭০ই অরাস মাস্টার এক্সথ্রিডি আইস এবং এক্স৮৭০ই অ্যারো এক্সথ্রিডি উড মডেল।প্রতিষ্ঠানটির দাবি, উদ্ভাবনী নকশা, উন্নত প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং ব্যবহারকারীবান্ধব ফিচারের সমন্বয়ের কারণে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। প্রতিটি মাদারবোর্ডেই আলাদা ডিজাইন দর্শন ব্যবহার করা হয়েছে, যা পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নান্দনিকতাকেও গুরুত্ব দিয়েছে।এক্স৮৭০ অরাস স্টেলথ আইস মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে রিভার্স কানেক্টর মিনিমালিস্ট ডিজাইন, যার ফলে ডেস্কটপ সেটআপ আরও পরিচ্ছন্ন ও কেবলবিহীন রাখা সম্ভব হয়। এটি দ্রুত অ্যাসেম্বলি, উন্নত এয়ারফ্লো এবং আরও ভালো হার্ডওয়্যার ম্যানেজমেন্ট সুবিধা দেয়।এক্স৮৭০ই অরাস এক্সট্রিম এক্সথ্রিডি এআই টপফ্ল্যাগশিপ মডেল এক্স৮৭০ই অরাস এক্সট্রিম এক্সথ্রিডি এআই টপ-কে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে শক্তিশালী এএমডি মাদারবোর্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি এআই টপ-সার্টিফায়েড প্ল্যাটফর্ম, যা সর্বোচ্চ গেমিং পারফরম্যান্স এবং পেশাদার এআই সক্ষমতার জন্য তৈরি। এতে থাকা এক্সথ্রিডি টার্বো মোড ২.০ প্রযুক্তি এএমডি রাইজেন থ্রিডি ভি-ক্যাশ প্রসেসর থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত গেমিং পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। এটি প্রতিযোগিতামূলক গেমার এবং পাওয়ার ইউজারদের জন্য উচ্চক্ষমতার সমাধান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছেএক্স৮৭০ই অরাস মাস্টার এক্সথ্রিডি আইসএক্স৮৭০ই অরাস মাস্টার এক্সথ্রিডি আইস মডেলটি অল-হোয়াইট বা সম্পূর্ণ সাদা ডিজাইনে তৈরি, যেখানে আইস-থিমযুক্ত হিটসিংক ও প্রিমিয়াম ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নত কুলিং সিস্টেম ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যার সক্ষমতার কারণে এটি গেমিং ও প্রফেশনাল কাজ-উভয়ের জন্য উপযোগী। এতে এক্সথ্রিডি টার্বো মোড ২.০ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রসেসরের পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স অপ্টিমাইজ করা হয়।এক্স৮৭০ই অ্যারো এক্সথ্রিডি উড এক্স৮৭০ই অ্যারো এক্সথ্রিডি উড মডেলে সবচেয়ে ভিন্নধর্মী ডিজাইন দেখা যায়। এতে কাঠের টেক্সচারযুক্ত হিটসিংক ব্যবহার করা হয়েছে, যা হার্ডওয়্যার ডিজাইনে প্রাকৃতিক নান্দনিকতা যুক্ত করেছে। এটি মূলত ক্রিয়েটর, ডিজাইনার এবং পেশাদার ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি, যেখানে রেন্ডারিং, সিমুলেশন, এআই ইনফারেন্স ও গেমিং—সব ক্ষেত্রেই উন্নত পারফরম্যান্স দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এখানেও এক্সথ্রিডি টার্বো মোড ২.০ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।এক্স৮৭০ অরাস স্টেলথ আইসঅন্যদিকে এক্স৮৭০ অরাস স্টেলথ আইস মডেলে রিভার্স কানেক্টর ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে কেবলবিহীন এবং পরিচ্ছন্ন ডেস্কটপ সেটআপ তৈরি করা সম্ভব। এটি দ্রুত অ্যাসেম্বলি, উন্নত এয়ারফ্লো এবং আরও ভালো হার্ডওয়্যার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাইজেন থ্রিডি ভি-ক্যাশ প্রসেসরের সর্বোচ্চ সক্ষমতা উন্মোচনের জন্য এতে এক্সথ্রিডি টার্বো মোড ব্যবহার করা হয়েছে।উল্লেখ্য, ১৯৫৫ সালে যাত্রা শুরু করা রেড ডট অ্যাওয়ার্ড বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ডিজাইন প্রতিযোগিতা। জার্মানির ডিজাইন জেন্ট্রাম নর্ডরাইন ওয়েস্টফালেন এই আয়োজন পরিচালনা করে থাকে। উদ্ভাবন, কার্যকারিতা, গুণগত মান ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।
গোনাহ থেকে বাঁচতে এবং হালালের পথে থাকার উদ্দেশেই জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানিয়েছিলেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।বুধবার (৬ মে) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য জানান মাদানী।সেখানে তিনি লেখেন, আল্লাহকে ভয় করা এবং গোনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এমন আলোচনা-সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন আলোচিত এ ইসলামি বক্তা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘কিছু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব’ শিরোনামে দীর্ঘ এক ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন তিনি।সেখানে মাদানী বলেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্ক বা টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু লোক বলার চেষ্টা করছে, আমি নাকি আমার প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় এই মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে চাপে পড়ে বিয়ে করেছি। আবার অনেক নির্লজ্জরা তো বলছে টিকটকে নাকি পরিচয়, মাআযাল্লাহ! আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি, এই মেয়েকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত আমি জীবনে কোনোদিন দেখিনি, এমনকি তার সাথে একবারের জন্য কথাও হয়নি,আর টিকটকে জীবনে কোনদিন আমার আইডি ছিল না, সেটা এত বুঝিও না!’সবচেয়ে বেশি আপত্তি তোলা হচ্ছে- কেন প্রথম স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন আলোচিত এ ইসলামী বক্তা। এর জবাবেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।ফেসবুক পোস্টে মাদানী দাবি করে বলেন, বিয়েটা করেছি আইএমভির মাধ্যমে। সেখানে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়ে করতে আগ্রহী-ছেলে বা মেয়ে-তাদের ফরম পূরণ করতে হয়। আমার ফরম পূরণ করা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। এরপর তারা কুফু অনুযায়ী মিলে গেলে ছেলে ও মেয়ের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে। উভয়পক্ষ রাজি হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।তিনি বলেন, আমি সেই সময়ই আমার প্রথম স্ত্রীকে ফরম পূরণের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। অতএব, আইএমভি শুধু বিবাহের মধ্যস্থতাকারী। আমার জন্য উপযুক্ত মেয়ে পাওয়ার সময়টা আমার স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির সময়ের সাথে মিলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমিও দ্বিধান্বিত ছিলাম, সিদ্ধান্ত নিতেও কষ্ট হয়েছে।নিজের পোস্টে প্রথম স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, আমি সারাক্ষণ স্ত্রীর পাশে হাসপাতালে থেকেছি। ময়মনসিংহের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন—৪ দিন ছিলাম রাত-দিন আমার ঘুম ছিল না, ঠিকমতো খাওয়াও হয়নি। যেদিন আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে, সেদিন অপারেশনের পর সারারাত তার বিছানার পাশে বসে থেকেছি। রাত ৩টার দিকে নার্সরাই আমার জন্য মায়া করে বলেছে, ‘হুজুর, আপনার স্ত্রী ভালো আছেন, আপনি বসে না থেকে এবার একটু ঘুমান।’গর্ভাবস্থার পুরো সময় হাসপাতালে থেকে স্ত্রীর দেখভাল করেছেন এবং সংসারজীবনে অবহেলার কোনো অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন তিনি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিষয়টি শুনে কষ্ট পেলেও তারা তার আচরণ বা দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি বলেও দাবি করেন তিনি।এ ছাড়া আলোচনায় আসা আইএমভি নামের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও ব্যাখ্যা করেন মাদানী। তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি এমন নারী-পুরুষকে একত্র করে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। কাউকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় না।একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেক অসহায় ও আশ্রয়হীন নারীর জন্য প্রতিষ্ঠানটি সহায়তার জায়গা হিসেবেও কাজ করছে।সমালোচকদের উদ্দেশে মাদানী আরও বলেন, অনেকেই একাধিক বিয়ের ইসলামী বিধানকে অপছন্দ করেন বলেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দেশের অনেক আলেমবিদ্বেষী মানুষ এপস্টিন ফাইলস বা বড়লোক বড় নেতাদের স্ত্রী রেখে ৫টা ৭টা রক্ষিতা নিয়েও এত কথা বলেনি, যতটা আমার একাধিক বিয়ে নিয়ে বলছে। তাদের কাছে মনে হয়, এপস্টিন ফাইলসের সেই ছোট ছোট শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ!’