আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি। এদিন বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন শুরু হবে।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম (২০২৬ খ্রিস্টাব্দের প্রথম) অধিবেশন আহ্বান করেছেন। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন।প্রথা রয়েছে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরে ভাষণ দেন। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এখন ১২ মার্চ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৪ হাজার ৮৬২ দশমিক ০২ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১০৭ দশমিক ৮২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
তিন সচিবকে তাদের দফতর থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পাওয়া ৯ সচিবের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাদের চুক্তি বাতিলের কথা জানানো হয়েছে।চুক্তি বাতিল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মো. মোখলেস উর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এম এ আকমল হোসেন আজাদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ, বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এসব প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসব কর্মকর্তার সাথে সরকারের সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চট্টগ্রামের হালিশহরের ভাড়া বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এক পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান। আহতরা হলেন- মোটরপার্টস ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন (৪৭), তার স্ত্রী নুর জাহান আক্তার রানী (৪০), ছেলে শাওন (১৭), মেয়ে আয়মন (৮), ভাই, পর্তুগালপ্রবাসী সামির আহামেদ সুমন (৪০), তার স্ত্রী পাখি আক্তার (৩৫), তার ছেলে আনাছ (৮), মেয়ে আয়েশা (৪) ও ব্যবসায়ীর আরেক ভাই শিপন (২৫)।তাদের মধ্যে নুর জাহান আক্তার রানীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।দগ্ধ ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেনের চাচাতো ভাই মো. মিলন বলেন, ‘চট্টগ্রামের হালিশহর এইচ ব্লকের একটি ৮ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন শাখাওয়াত হোসেন। এর মধ্যে তার পর্তুগালপ্রবাসী ভাই গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেশে আসেন এবং গত বুধবার চট্টগ্রামের বাসায় তার পরিবার নিয়ে বেড়াতে যান।’তিনি জানান, গতকাল রবিবার রাতে পরিবারের সবাই সাহরি খাওয়া শেষ করেন। পরে ডাইনিং টেবিলে বসা থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিকট শব্দের মুহূর্তে তারা সবাই দগ্ধ হন। তবে সেটি কিসের বিস্ফোরণ ছিল, তা জানেন না তিনি।বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাসন বিন রহমান জানিয়েছেন, দগ্ধ আটজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে ব্যাবসায়ী শাখাওয়াত হোসেনের শতভাগ, তার ছেলে শাওনের ৫০ শতাংশ, মেয়ে আয়মনের ৩৮ শতাংশ, ভাই সামির আহামেদ সুমনের ৪৫ শতাংশ, তার স্ত্রী পাখি আক্তারের শতভাগ, তার ছেলে আনাছের ৩০ শতাংশ, মেয়ে আয়েশার ৪৫ শতাংশ ও ছোট ভাই শিপন হোসাইনের ৮০ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।
দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘বিনাভোটের মেয়র’আখ্যায়িত করে এর কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ব্যাপারে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেন। আসিফ লিখেছেন, শহরগুলোতে ভোটের সমীকরণ দেখে নির্বাচন দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না সরকারি দল। যারা ইন্টেরিম সরকারকে সকাল-বিকাল ‘বিনাভোটের সরকার’ বলে সমালোচনা করে, তারাই এখন বিভিন্ন স্থানে বিনাভোটের মেয়র দিচ্ছে।’পোস্টের শেষাংশে তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, সামনে হয়তো বিনাভোটের উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরও দেখা যাবে।এর আগে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হন মো. শফিকুল ইসলাম খান। খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকারকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পর্যায়ের ১১২ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন উপজেলা, থানা পর্যায়ে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।ইসি জনবল ব্যবস্থাপনার শাখার সহকারি সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমানের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা পর্যায়ের ১১২ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।‘আগামী ১ মার্চের মধ্যে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হবেন। অন্যথায় অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ হবেন’, বলা হয় আদেশে।১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর এটাই বড় ধরনের বদলির উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।
হজ মৌসুম সামনে রেখে যাত্রীসেবায় কোনও ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, পবিত্র হজ পালনে যাওয়া নাগরিকদের যেন সামান্য অসুবিধাও না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বিমানের টিকিট নিয়ে গড়ে ওঠা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মানিকগঞ্জ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী তিনি এ কথা বলেন।আফরোজা খানম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময় পেলেও কাজ শুরু হয়ে গেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর বিষয়টি অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীরও এ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজ পালন নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের যাতায়াতে স্বস্তি ফেরাতে বিমানবন্দরে সেবার মান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা যেন দেশে নেমেই ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করেন, সে লক্ষ্যেই কাজ এগোচ্ছে।মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শাহানুর ইসলাম, সাবেক সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বি এম খোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিন সচিবকে তাদের পদ থেকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।আজ সোমবার জনপ্রশাসনের মন্ত্রণালয় তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাহার করে। প্রত্যাহার হওয়া সচিবরা হলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মিজ্ রেহানা পারভীন।প্রত্যাহারের পর তিন সচিবকেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি নাইমা হায়দারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি নাইমা হায়দার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান-এর ৯৬ অনুচ্ছেদ-এর দফা (৮) মোতাবেক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি এক বছর ধরে ছুটিতে থাকা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো পদত্যাগ পত্রটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে পাঠানো হয়। কানাডা থেকে বিচারপতি মামনুন রহমান পদত্যাগ পত্রটি পাঠান।এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগ পত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।সেদিন সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিচারপতি নাইমা হায়দার গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্বহস্তে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্বীয় পদ হতে পদত্যাগ করার ইচ্ছা পোষণ করে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এরইমধ্যে, সুপ্রিম কোর্ট হতে পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান ইইউর রাষ্ট্রদূত।মাইকেল মিলার বলেন, আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার। এই দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী, সহায়তা প্রদানকারী এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। আমরা আমাদের বৈঠক নিয়ে আনন্দিত। ইইউ বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।নতুন অধ্যায় বলতে কি বোঝাতে চান-এমন প্রশ্নে ইইউর রাষ্ট্রদূত বলেন, কোনো বিষয় আলোচনার টেবিলের বাহিরে ছিল না। আমরা ইইউ ও বাংলাদেশ সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে কথা বলেছি। এর মধ্যে উন্নয়ন, মানবিক বিষয়, অভিবাসনের মতো বিষয় ছিল।নতুন সরকারের সঙ্গে কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে ইইউ, জানতে চাইলে মাইকেল মিলার বলেন, নতুন সরকারকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময়ে শরু হওয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। আমরা বিচার বিভাগীয় সংস্কার, বাণিজ্যিক আদালতের পরিবর্তে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এগুলো সবই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা ইইউ বাংলাদেশ সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চাই।অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) করার বিষয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইইউর রাষ্ট্রদূত বলেন, আজ সমস্ত বিষয় আলোচনার টেবিলে ছিল। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক ছিল। আমাদের অংশীদারিত্ব এবং সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি। আমরা আশা করি যে, আমরা নিকটতম ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে এটি স্বাক্ষর করতে পারব।মানবাধিকার, বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবগুলো বিষয় তুলে ধরেছি।
তিন সচিবকে তাদের দফতর থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পাওয়া ৯ সচিবের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাদের চুক্তি বাতিলের কথা জানানো হয়েছে।চুক্তি বাতিল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মো. মোখলেস উর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এম এ আকমল হোসেন আজাদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ, বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এসব প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসব কর্মকর্তার সাথে সরকারের সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘বিনাভোটের মেয়র’আখ্যায়িত করে এর কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ব্যাপারে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেন। আসিফ লিখেছেন, শহরগুলোতে ভোটের সমীকরণ দেখে নির্বাচন দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না সরকারি দল। যারা ইন্টেরিম সরকারকে সকাল-বিকাল ‘বিনাভোটের সরকার’ বলে সমালোচনা করে, তারাই এখন বিভিন্ন স্থানে বিনাভোটের মেয়র দিচ্ছে।’পোস্টের শেষাংশে তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, সামনে হয়তো বিনাভোটের উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরও দেখা যাবে।এর আগে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হন মো. শফিকুল ইসলাম খান। খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকারকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হজ মৌসুম সামনে রেখে যাত্রীসেবায় কোনও ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, পবিত্র হজ পালনে যাওয়া নাগরিকদের যেন সামান্য অসুবিধাও না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বিমানের টিকিট নিয়ে গড়ে ওঠা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মানিকগঞ্জ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী তিনি এ কথা বলেন।আফরোজা খানম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময় পেলেও কাজ শুরু হয়ে গেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর বিষয়টি অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীরও এ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজ পালন নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের যাতায়াতে স্বস্তি ফেরাতে বিমানবন্দরে সেবার মান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা যেন দেশে নেমেই ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করেন, সে লক্ষ্যেই কাজ এগোচ্ছে।মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শাহানুর ইসলাম, সাবেক সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বি এম খোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্কুল-কলেজের মাঠ শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, স্থানীয় শিশু-কিশোরদের জন্যও উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রসারে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো মাঠের সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।বর্তমানে দেশের অনেক স্কুল-কলেজে বড় মাঠ থাকলেও পাঠ শেষ হওয়ার পর সেগুলো বন্ধ রাখা হয়। এতে আশপাশের শিশু-কিশোররা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পায় না।এই বাস্তবতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্কুলের মাঠ সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠ ব্যবহারের একটি কাঠামো তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।তার মতে, বড় স্টেডিয়াম নির্মাণের চেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা। আর সেই পরিবেশ তৈরির প্রথম ধাপ হলো স্কুল ও কলেজের মাঠ।শিশু-কিশোররা যদি সহজে খেলতে পারে, তবে তৃণমূল থেকে প্রতিভা উঠে আসবে, এমনটাই বিশ্বাস ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের।সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, অনেক জেলায় স্টেডিয়াম থাকলেও সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠগুলো সচল থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল কিংবা অ্যাথলেটিকসের চর্চা বাড়বে। এতে সামাজিক সম্প্রীতি ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগও বাড়বে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু অবকাঠামো নয়, খেলোয়াড় তৈরির দিকেই গুরুত্ব দিতে চান তারা। এজন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি খালি মাঠ ও স্কুল মাঠ খেলার উপযোগী করে তোলার আহ্বান জানানো হবে। মাঠ ব্যবহারের সময়সূচি নির্ধারণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।ক্রীড়াবিদ ও অভিভাবক মহলের মতে, স্কুল-কলেজের মাঠ উন্মুক্ত হলে মোবাইল ও অনলাইন নির্ভরতা কমবে এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা জনপ্রিয় করতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।সব মিলিয়ে, স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক উন্নয়নের বাইরে এসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া বিকাশের যে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের তৃণমূল খেলাধুলায় নতুন গতি আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষণার পর বাস্তবে কতটা মাঠ উন্মুক্ত হয়।
ইতোমধ্যে সিনেমাটির শুটিং নিয়ে বর্তমানে কলকাতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢালিউড সুপারস্টার। গত কয়েক দিন ধরে কলকাতার বৌবাজার, হাওড়া ও আলিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সিনেমাটির দৃশ্যধারণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি শাকিব খানের নতুন কিছু লুকের কিছু ছবি দেখা গেল ভারতীয় বাংলা গণমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে। ছবিতে শাকিব খানের চরিত্র অনুযায়ী নব্বই দশকের কুখ্যাত গ্যাংস্টার ‘কালা জাহাঙ্গীর’-এর আদলে দেখা গেছে। অগোছালো চুল, ঘন দাড়ি-গোঁফ এবং বুক খোলা জ্যাকেটের নিচে শার্ট; যেখানে তাকে পুরোপুরি ভিন্ন এক অবতারে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ। একজন সাধারণ মানুষ থেকে কীভাবে তিনি দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টারে পরিণত হন, সেই উত্তরণের গল্পই উঠে আসবে এই সিনেমায়।আনন্দবাজারের খবর, গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে হাওড়ার শালিমারের একটি পরিত্যক্ত কারখানায় রাতভর সিনেমাটির মারপিট বা অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং শুরু হয়। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বৌবাজারের মাধো ভবনে চিত্রধারণ করা হয়। সেখানে বাইক নিয়ে শাকিব খানের একটি প্রবেশ দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দেয়। কলকাতার এই ধাপ শেষ করে পুরো ইউনিটের ভারতের হায়দেরাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে জানা গেছে শাকিব খানের এই সিনেমাটিতে মেগাস্টারের বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ও পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। এছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের শরীফ সিরাজ ও মাহমুদ; কলকাতার লোকনাথ দে, পিয়ান সরকার, মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য।সিনেমার চিত্রগ্রহণে রয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘অ্যানিম্যাল’ খ্যাত চিত্রগ্রাহক অমিত রায় এবং শৈলেশ অবস্থী। জানা গেছে, শ্রীলঙ্কায় প্রথম লটের শুটিং শেষ হওয়ার পর এটি সিনেমার দ্বিতীয় লটের কাজ। ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে শিলিন সুলতানা প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমাটি চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
বলিউড তারকা মালাইকা অরোরা আবারও ব্যক্তিগত জীবনের কারণে আলোচনায়। ইতালির রাজধানী রোমে ছুটি কাটাতে গিয়ে কথিত প্রেমিক হর্ষ মেহতার সঙ্গে তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবিকে ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে তাদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা।গত বছর মুম্বাইয়ে গায়ক এনরিকে ইগলেসিয়াসের কনসার্টে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই মালাইকা ও হর্ষকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। এবার ইতালির ভ্রমণ সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দুজনকে দেখা যায় রোমের বিখ্যাত ট্রেভি ফাউন্টেনের সামনে দাঁড়িয়ে।ছবিতে মালাইকার পরনে ছিল ওভারসাইজড কালো ট্রেঞ্চ কোট। নো মেকআপ লুক ও স্লিক হেয়ারস্টাইলে তিনি ছিলেন স্বাভাবিক অথচ স্টাইলিশ। অন্যদিকে ধূসর জ্যাকেটে হর্ষ মেহতাকেও দেখা যায় স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে। শোনা যাচ্ছে, ৩৩ বছর বয়সী উদ্যোক্তা হর্ষ মেহতার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন মালাইকা। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউই কিছু জানাননি, তবু একসঙ্গে উপস্থিতি ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়েছে।‘ছাইয়া ছাইয়া’, ‘আনারকলি ডিস্কো চলি’, ‘মুন্নি বদনাম’–এর মতো জনপ্রিয় গানে পারফর্ম করে মালাইকা বলিউডে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দায় নাচের সংখ্যায় তাকে কম দেখা গেলেও শহরের নানা আয়োজনে উপস্থিতি ও ব্যক্তিগত জীবনের ঝলক তাকে সব সময়ই খবরের শিরোনামে রাখে।অর্জুনের সঙ্গে বিচ্ছেদ তবু মালাইকা বললেন...রোম ভ্রমণের এই ছবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—একি কেবল বন্ধুত্ব, নাকি সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়েছে? আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত উত্তর অজানাই থাকছে। তবে আপাতত ইতালির মনোরম পটভূমিতে মালাইকা–হর্ষের এক ফ্রেমই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের প্রশংসায় ভাসলেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জাইমা রহমানকে নিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।জাইমা রহমানকে মাটির মানুষ আখ্যা দিয়ে তিশা লেখেন, ‘বিদেশে বেড়ে উঠলেও তিনি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অত্যন্ত সৌন্দর্য, মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে ধারণ করেন।’তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যেখানে বেড়ে উঠুক না কেন, নিজের শিকড়কে এভাবে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রোজায় রাজধানীর ভাসানটেক এলাকায় নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে এক ইফতার মাহফিলে অংশ নেন জাইমা রহমান।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের স্মরণ করলেন ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান।নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নায়ক। শাকিব খানের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এসকে ফিল্মস’ -এর পেজ থেকেও একই ছবি ও বার্তা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।শাকিব খানের শেয়ার করা পোস্টটির কার্ডে ভাষা দিবসের অর্থবহ গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে।ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চলচ্চিত্রের তিনটি ফিল্ম রোল লম্বালম্বিভাবে দাঁড় করিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদল তৈরি করা হয়েছে এবং পাশে একটি ফিল্ম রিল রাখা হয়েছে। নিজের পেশা অর্থাৎ চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ফিল্ম রোলের সাথে জাতীয় শোক, অহংকার ও গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনারকে এক সুতোয় গেঁথেছেন এই শীর্ষ নায়ক।এই ছবিটির ভেতরে এবং পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন দেওয়া সকল বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’
একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি)। ২০২১ সালের আজকের এই দিনে তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুদিনে তাকে নানাভাবে স্মরণ করছে বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীতে নানাবাড়ি দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। চলচ্চিত্রে তার পথচলা শুরু হয় ১৯৬১ সালে। উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৬৫ সাল থেকে অভিনয়ে নিয়মিত হন তিনি। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমনি’ তাঁকে খল চরিত্রে এনে দেয় অসামান্য খ্যাতি।তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি লিখেছেন চিত্রনাট্যও। নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘জলছবি’ ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে কাহিনিকার হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তার। এরপর শতাধিক ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি।এটিএম শামসুজ্জামান প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৮৭ সালে। কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০১২ সালে রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এ নন্দিত অভিনেতা। ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই অভিনেতা।শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ নামের প্রথম ছবি পরিচালনা করেন তিনি।এটিএম শামসুজ্জামানের উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে- ওরা এগারোজন, সূর্য দীঘল বাড়ি, লাঠিয়াল, অনন্ত প্রেম, যাদুর বাশি, রামের সুমতি, অশিক্ষিত, গোলাপি এখন ট্রেনে, ছুটির ঘন্টা, পুরস্কার, চাপা ডাঙ্গার বউ, দায়ী কে, ম্যাডাম ফুলি, দোলনা, ভন্ড, চোরাবালি, মোল্লা বাড়ির বউ, শ্বশুর বাড়ি জিন্দাবাদ, খায়রুন সুন্দরী, নাচনেওয়ালি, বাংলার বউ, হাজার বছর ধরে, গেরিলা, ডাক্তার বাড়ি, দাদীমা ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশেষ নাটক ‘চিঠিওয়ালা’ নির্মাণ করা হয়েছে। নাটকের চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে শহরের একটি পরিবারকে ঘিরে। স্ত্রী শৈলী ও ছেলে অনিন্দ্যকে নিয়ে শহরে থাকেন অনিক। নাগরিক আধুনিকতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নানা চেষ্টা তার। ছেলেকেও পড়ান ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। একদিন হঠাৎ তাদের বাড়ি বেড়াতে আসেন গ্রামের হাশেম চাচা। একটি চিঠি নিয়ে এসেছেন তিনি। নানা ব্যস্ততায় সেই চিঠি আর পড়া হয় না অনিকের। কিন্তু হাশেম চাচা বাড়িতে আসার পর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা।এরপর একদিন হাশেম চাচার আনা চিঠিটা পড়েন অনিক। চিঠিটি অনিকের প্রয়াত বাবার বন্ধু একজন ভাষাসৈনিকের লেখা। আবেগমাখা সেই চিঠি পড়ে অনিক বুঝতে পারেন, যে স্বপ্ন নিয়ে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে দেশের মানুষ, যে স্বপ্ন নিয়ে প্রাণের বিনিময়ে তারা স্বাধীন করেছে দেশ, সেই স্বপ্ন আজ ভুলতে বসেছে অনেকে। চিঠিটি বদলে দেয় পুরো পরিবারের বোধ।নাটকে হাশেম চাচার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ; অনিক চরিত্রে আহসান হাবিব নাসিম এবং শৈলীর চরিত্রে কাজ করেছেন সুষমা সরকার।‘চিঠিওয়ালা’ নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন রশীদ হারুন।নির্মাতা রশিদ হারুন জানান, “গল্পটা একটু ভিন্ন ধরনের। বিদেশি সংস্কৃতির জোয়ারে গা ভাসিয়ে আধুনিক হওয়ার চেষ্টা আমাদের সকলের মধ্যে আছে, কিন্তু এতে নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে ভুলতে বসেছে। দর্শককে সেই দিকটা দেখিয়ে দিবে এই নাটকটি, আশা করছি নাটকটি সবার পছন্দ হবে।” আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি চ্যানেল আইয়ে প্রচার করা হবে নাটকটি।
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৪ হাজার ৮৬২ দশমিক ০২ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১০৭ দশমিক ৮২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ ৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সৌদি আরবের আবহা শহরে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার। দুর্ঘটনা একই গাড়ির ড্রাইভার মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।একই ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুত্ব আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যার ছেলে ও নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। নিহত প্রবাসী গাড়ির ড্রাইভার একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।বাহারুল আলম জানান, মিজান সৌদি প্রবাসী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ হজ্বে যান। ৫দিন আগে ওমরাহর উদ্দেশে তারা সৌদির বাসা থেকে বের হন। ওমরাহ শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তারা। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।নিহত মিজানুর রহমানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পাশের গ্রামের সৌদি প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে তারা মিজানসহ ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এছাড়া মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদি আরবে ৫ জন মারা গেছে শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করব।
বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে বরকতময় মাস রমজান। এটি শুধু উপবাসের মাস নয়; আত্মিক পরিশুদ্ধি, ত্যাগের মহিমা ও সহমর্মিতার অনন্য শিক্ষায় ভরা এক মহিমান্বিত সময়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এই সাধনা মুমিনের জীবনে আনে প্রশান্তি, সংযম ও আত্মশুদ্ধির বার্তা।আত্মিক পরিশুদ্ধির আহ্বানরমজান মানেই এক পবিত্র আবহ। ভোরের সেহরি থেকে রাতের তারাবিহ—প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের সৌরভে ভরপুর। এ মাসে মানুষ কুপ্রবৃত্তি দমন করে ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার চর্চা করে। রোজা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা নয়; এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক বিশেষ অনুশীলন। এই এক মাসের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক শিক্ষাই যেন বছরের বাকি সময়ের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে।ইফতারের আমেজ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনদিনভর সিয়াম সাধনার পর সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, ঘরে ঘরে শুরু হয় ইফতারের প্রস্তুতি। মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, খেজুর ও শরবতের সুগন্ধে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তবে ইফতারের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের চর্চা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষারমজান আমাদের শেখায় ক্ষুধার প্রকৃত অর্থ। যারা সারা বছর অভাব-অনটনের সঙ্গে সংগ্রাম করে, তাদের কষ্ট উপলব্ধির সুযোগ এনে দেয় এই মাস। তাই রমজানে দান-সদকা ও জাকাত প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মুখে হাসি ফোটানো—এসবের মধ্য দিয়েই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য প্রতিফলিত হয়।বদলে যাওয়া নাগরিক জীবনরমজানে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দেও আসে পরিবর্তন। অফিস-আদালতের সময়সূচি সামঞ্জস্য করা হয়, বাজারে বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা। বিশেষ করে শেষ দশকে ঈদের আনন্দঘন আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের হৃদয়ে থাকে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা।রমজান ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত। শান্তি, রহমত ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের কাছে ফিরে আসে এই মহিমান্বিত মাস। রমজানের সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হয়, তবে গড়ে উঠবে কলুষমুক্ত, সুন্দর এক সমাজ। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমাদের জীবন—এই হোক মাহে রমজানের অঙ্গীকার।
রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীর পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিতে থাকে। কারণ সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়, ফলে শরীরের তরল ক্ষতি হয় ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পেশীর কার্যক্রমে। এই অবস্থায় পানিশূন্যতা এড়াতে শুধু ইফতার বা সেহরিতে পানি খাওয়া যথেষ্ট নয়, সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুনসেহরি ও ইফতারের সময় মোটামুটি ৮-১০ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনে একবারে খুব বেশি পানি খাওয়ার চেয়ে এতে পানি ধীরে ধীরে পান করলে শরীর তার শোষণ ভালোভাবে করতে পারে। ফল ও সবজি যেমন তরমুজ, শসা, কমলা, টমেটো ইত্যাদি পানি-সমৃদ্ধ। এগুলো সেহরি ও ইফতারে থাকলে শরীর দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড থাকে।ক্যাফেইন ও চিনি-সমৃদ্ধ পানীয় সীমিত করুনচা, কফি ও কোলার মতো পানীয় শরীর থেকে পানি বের করে দেয় (ডাইউরেটিক প্রভাব), ফলে শরীর দ্রুত পানি হ্রাস পায়। জুস বা চিনিযুক্ত মিষ্টি পানীয়ও বেশি শর্করা থাকার কারণে ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে।লবণ ও মসলাযুক্ত খাবার কম খানঅতিরিক্ত লবণ শরীরের পানির চাহিদা বাড়ায়। তাই সেহরি ও ইফতারে বেশি লবণ বা তীব্র মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে লবণের বদলে লেবু, জিরা, তুলসী ইত্যাদি ব্যবহার করে স্বাদ বাড়িয়ে নিতে পারেন।হালকা ও নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুনরোজা যখন ভাঙবে (ইফতার), তখন একবারে অনেক পানি না গিলেই বরং ধীরে ধীরে এবং নিয়মিত পানি পান করুন। এইভাবে শরীরকে পর্যায়ক্রমে হাইড্রেটেড রাখা সহজ হয়।বাইরের তাপ বা গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে সতর্ক থাকুনযদি রোজা রাখার সময়ে সূর্যের তাপে বেশি সময় কাটে বা শারীরিক কাজ বেশি হয়, তাহলে ঘাম বের হয়ে শরীর থেকে আরও পানি ক্ষয় হতে পারে। চেষ্টা করুন সূর্যের তাপ থেকে দূরে থাকুন এবং হালকা কাজ বা বিশ্রাম নিন।ইফতার ও সেহরিতে স্যুপ বা দই রাখুনহালকা তরকারি স্যুপ বা দই পানি ও ইলেকট্রোলাইট সরবরাহে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়ক। বিশেষ করে দইতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের ত্বরণ ভালো রাখে।রোজা রাখার সময় শরীরের সিগন্যাল যেমন খুব বেশি পিপাসা, মাথাব্যথা, অতি ক্লান্তি বা কম প্রস্রাবের রং এসব লক্ষণ পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে রোজা ভেঙে শরীরকে রিফ্রেশ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়—এটি শরীর ও মনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার এক অনন্য সুযোগ। কিন্তু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারের টেবিলে বসে অনেকেই অজান্তেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। ফল হিসেবে রমজান শেষে দেখা দেয় ওজন বৃদ্ধি, বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা কিংবা সারাক্ষণ ক্লান্তিভাব।সারাদিন উপবাসের ফলে শরীরের শক্তির মজুত কমে আসে। এ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য বদলে যায়, ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তি পাওয়ার সংকেত পাঠায়। তখন তেলেভাজা, মিষ্টি বা ভারী খাবারের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।এছাড়া পাকস্থলী ভরে গেছে—এই তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এর আগেই অনেক খাবার খাওয়া হয়ে যায়। পারিবারিক আড্ডা, ঐতিহ্যবাহী ইফতার আর আবেগ মিলে এই প্রবণতা আরও বাড়িয়ে তোলে।ধীরে ইফতারই সুস্থতার প্রথম ধাপবিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতার শুরু করার পদ্ধতিই পুরো রাতের হজম ও ক্যালরি গ্রহণ নির্ধারণ করে।দুই থেকে তিনটি খেজুর ও এক গ্লাস পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে স্বাভাবিক হয়। এরপর ১০–১৫ মিনিট বিরতি দিয়ে হালকা কিছু খান—যেমন স্যুপ, ফল বা সালাদ।এই বিরতিতে পাকস্থলী প্রস্তুত হয়, হজমের চাপ কমে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।সুষম খাবার মানেই কম খাবার নয়, সঠিক খাবাররমজানে খাবার কমানোর চেয়ে ঠিকভাবে সাজানো প্লেট বেশি গুরুত্বপূর্ণ।খাবারের অর্ধেক অংশ রাখুন শাকসবজি ও সালাদে। এক-চতুর্থাংশে রাখুন প্রোটিন—মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা বা দই। বাকি অংশে থাকুক গোটা শস্য—রুটি, ওটস বা অল্প পরিমাণ ভাত।এই সমন্বয় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, রক্তে শর্করার ওঠানামা কমায় এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি জমতে দেয় না।মনোযোগী খাওয়া: নীরব অভ্যাস, বড় উপকারঅনেক সময় ক্ষুধার কারণে নয়, বরং অভ্যাসের কারণে আমরা বেশি খাই। টিভি দেখা, মোবাইল স্ক্রল করা বা গল্প করতে করতে খেলে মস্তিষ্ক বুঝতেই পারে না কতটা খাওয়া হয়েছে।খাওয়ার সময় মনোযোগ দিন খাবারের দিকে। ধীরে চিবিয়ে খান, স্বাদের অনুভূতি নিন। পেট অর্ধেক ভরলেই থামুন। এতে হজম সহজ হয় এবং শরীর প্রয়োজনের বেশি খাবার জমাতে পারে না।ভাজা ও মিষ্টি—পুরোপুরি নয়, সীমিত করুনরমজানের ইফতার ভাজা ও মিষ্টি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। এগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই। তবে এগুলোকে ইফতারের মূল খাবার না বানিয়ে পরিপূরক হিসেবে রাখুন।ভাজা খাবার প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে এক–দুদিন সীমিত রাখুন। সিরাপজাত মিষ্টির বদলে ফল, দই বা অল্প মধু ভালো বিকল্প হতে পারে।সেহরি: সারাদিনের নিয়ন্ত্রকসেহরি বাদ দিলে ইফতারে অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ সেহরি সারাদিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।ওটস, ডিম, দই, ফল, বাদাম ও সবজি দিয়ে হালকা কিন্তু পুষ্টিকর সেহরি হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি, যাতে দিনভর পানিশূন্যতা না হয়।বিশেষজ্ঞের মতবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন,“রমজানে অসুস্থ হওয়ার প্রধান কারণ অতিরিক্ত তেল, চিনি ও একসঙ্গে অনেক খাবার গ্রহণ। অল্প পরিমাণে, ধীরে এবং সুষমভাবে খেলে রোজা শরীরের জন্য উপকারী হয়ে ওঠে।”সংযমেই সুস্থতারমজান সংযমের শিক্ষা দেয়—খাবারেও তার ব্যতিক্রম নয়। প্লেট ছোট রাখুন, গতি কমান, প্রয়োজনের কথা ভাবুন। এতে ওজন বাড়বে না, বদহজম কমবে এবং রোজার আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য আরও গভীর হবে।সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন—রমজান হোক শরীর ও মনের জন্য প্রশান্তির মাস।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান ইশরাক হোসেন।আজ সোমবার বিকেলে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়ার স্ট্যাটাসে এ ইচ্ছার কথা জানান ইশরাক।ইশরাক হোসেন লেখেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীর্ষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ইশরাক হোসেন।