নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় তিন বছরের শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)। নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি গত সোমবার মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরেন। তার কাছে বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই টাকার লোভেই দুর্বৃত্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। পাশাপাশি, বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করা হয়েছে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের দুল পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তারা।নিয়ামতপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে বাড়ির কর্তা হাবিবুর ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডাকাতি করার উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১৫৯ জনের মধ্যে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৯৩৫ জনে। এ নিয়ে চলতি বছর হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। সেই সঙ্গে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে। ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮০৫ জন। এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৭ হাজার ৮৫ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১৪ হাজার ১০৬ জন।
পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ৬ কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার।সোমবার (২১ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌহিফ আহমেদ।বদলি ও পদায়নকৃত কর্মকর্তারা হলেন: শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলামকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার এ কে এম জহিরুল ইসলামকে শেরপুরের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নাটোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে বদলি করা হয়েছে এপিবিএন-এর পুলিশ সুপার হিসেবে।এ ছাড়া পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হককে নাটোরের নতুন পুলিশ সুপার, খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে পিবিআই-এর পুলিশ সুপার হিসেবে এবং কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। আদেশের অনুলিপি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুলিশ অধিদফতর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন এর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গহীন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা সবাই একই এলাকার উত্তর শিলখালী গ্রামের বাসিন্দা।নিহতরা হলেন—নুরুল বশর (২৮), পিতা: নুরুল ইসলাম; রবি আলম (২৩), পিতা: রুহুল আমিন; এবং মুজিবুর রহমান (২৮), পিতা: নুরুল কবির।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে মোর্শেদ আলম নামের এক সন্ত্রাসী রবি আলমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আজ ভোর ৬টার দিকে মোর্শেদ আলম তার ভাই মুজিবুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় শামলাপুর এলাকার একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, নুরুল বশরকে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গোপন আস্তানা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই স্থান থেকে পুলিশ রবি আলমের মরদেহ উদ্ধার করে।গোপন সূত্রে জানা গেছে, মোর্শেদ আলম গ্রুপ ও অজ্ঞাত আরেকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মোর্শেদ আলম তার আপন ভাই মুজিবুর রহমান, চাচাতো ভাই রবি আলম এবং সহযোগী নুরুল বশরকে গোপন আস্তানায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা সংঘর্ষের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ঘটনার মূল রহস্য মোর্শেদ আলমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। তবে আরেকটি ধারণা অনুযায়ী, নিহতরা অপহরণ চক্রের সদস্য হতে পারে এবং কোনো ভিকটিম কৌশলে পালানোর সময় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।ঘটনার খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দূর্জয় বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানা এর তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় একই দিনে (২০ এপ্রিল) তিনজনের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পৃথক তিনটি ঘটনায় স্কুলছাত্রীসহ দুই গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।মৃত ব্যক্তিরা হলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকার পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান মো. আনারুল কবিরের মেয়ে শামসে আরা কবির (১৩), লক্ষীটারী ইউনিয়নের সরকারটারি এলাকার মজনু মিয়ার স্ত্রী ও হারাগাছ এলাকার মজিবর রহমানের মেয়ে মাছুমা বেগম (৪২) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকার সামসুল হকের স্ত্রী সুবর্ণা বেগম।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামসে আরা কবির গঙ্গাচড়া হাজী দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন।অন্যদিকে, মাছুমা বেগম গত ১৯ এপ্রিল বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ এপ্রিল মধ্যরাতে তিনি মারা যান।এছাড়া, পারিবারিক কলহের জেরে সুবর্ণা বেগম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার জেরেই তিনি এ পথ বেছে নেন।এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুজা আহম্মেদ সাজুসহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, বিশেষ করে স্কুলছাত্রী শামসে আরা কবির মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর সবুর বলেন, একই দিনে তিনটি আত্মহত্যার ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগজনক। প্রতিটি ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। এতে জামায়াত থেকে আটজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে দুজনকে। জোটের অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যে দুটি দলকে দুটি আসন দেওয়া হয়েছে।জুলাই শহীদ পরিবারকে একটি আসন ‘উপহার’ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।জামায়াত জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন নাহার মুন্নি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও মহিলা বিভাগের সদস্য মারদিয়া মমতাজ, মহিলা বিভাগের সদস্য নাজমুন নাহার নীলু।এ ছাড়া সিলেটের নেত্রী মাহফুজা সিদ্দিকা, বগুড়ার নেত্রী ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ, খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি সামসুন নাহার।এদিকে জোটের শরিক দল এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্যসচিব মাহমুদা আলম মিতু।শরিক দল হিসেবে জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিমকে দেওয়া হয়েছে মনোনয়ন।এ ছাড়া জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির।
প্রথম বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে যুক্ত প্রায় ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে আবাসন দেওয়া হয়েছে।সোমবার (২০ এপ্রিল) ২০২৫–২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের সিট সমস্যা সমাধান, রেজিস্ট্রার ভবনের ধারাবাহিক অসঙ্গতি এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে ডাকসুর উদ্যোগে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডাকসু নেতারা। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এস এম ফরহাদ।সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ জানান, বিগত প্রশাসনের কাছেও তারা দাবি জানিয়েছিলেন, প্রথম বর্ষের যেসব শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের আবাসিক বৃত্তির আওতায় আনতে হবে। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, চলতি বছর সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হলেও পরবর্তী বছর থেকে সবাইকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, এ বছর সিট বরাদ্দ নিশ্চিত না করেই ক্লাস শুরু করে দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবে, কীভাবে খাবে এসব নিয়ে কেউ ভাবছে না। ডাকসুতে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা এসে হতাশা প্রকাশ করছেন। আমরা প্রায় পাঁচ মাস ধরে চেষ্টা করেছি, যেন এ বছর আবাসন নিয়ে কোনো জটিলতা না তৈরি হয়। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি, অনানুষ্ঠানিকভাবেও জানিয়েছি। প্রতিটি হলের প্রভোস্টের সঙ্গে দেখা করেছি। হল সংসদের ভিপি-জিএসরা জানিয়েছে। প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটিকেও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, সিট বরাদ্দ নীতিমালা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। আর যাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, তাদের জন্য আবাসিক বৃত্তি চালু করতে হবে। অন্যথায় সিট ছাড়া ক্লাস চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর এক ধরনের নির্যাতন ছাড়া আর কিছু নয়।ফরহাদ জানান, উপাচার্য তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কতটি সিট খালি আছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো হবে।যুবদল ও ছাত্রদলের ৩৬ জন নেতাকর্মীকে সিট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে এস এম ফরহাদ বলেন, আমরা যখন জবাব চেয়েছি, তখন বলা হয়েছে নীতিমালা অনুসারে সিট দেওয়া হয়েছে। পরে আমরা নীতিমালার কপি দেখালে তারা স্বীকার করে—এগুলো বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন— ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়েরসহ ডাকসুর অন্যান্য নেতারা।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর অপরাধ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি রাখা হবে এবং কোনোভাবে পরীক্ষার ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।এবার খাতা মুল্যায়নে মানবিক নম্বর দেওয়ার নির্দেশনা নেই, উত্তরপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। আনন্দমুখর পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল দেওয়ার কথা জানান তিনি।মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।
মৌলভীবাজার থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন পেয়েছেন ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী।ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ও মৌলভীবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবাদুর রহমান চৌধুরীর কন্যা। পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি নিজস্ব কর্মজীবনে কর্পোরেট খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান গড়ে তোলেন।তিনি দীর্ঘদিন দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে।রাজনীতিতে তার এই মনোনয়নকে বিএনপির একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্পোরেট নেতৃত্বের সমন্বয়ে তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।এদিকে মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে দক্ষ নেতৃত্ব রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাসের চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন।২০ এপ্রিল সোমবার সকাল ৬টায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, গোপালপুর উপজেলার মনতলা গ্রামের লাল মামুদের ছেলে বাসের সুপারভাইজার আতিকুল ইসলাম (৪০) ও একই উপজেলার পাকুয়া গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেন ছেলে বাসের হেলপার মজন মিয়া (৪৩)।ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, গোপালপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার ও চালক নিহত হয়। পরে দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়ার সময় স্থানীয় বিদ্যুৎ নামে এক যুবক মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হলেও পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।তিনি আরও বলেন, ঘাটাইল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ৬ কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার।সোমবার (২১ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌহিফ আহমেদ।বদলি ও পদায়নকৃত কর্মকর্তারা হলেন: শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলামকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার এ কে এম জহিরুল ইসলামকে শেরপুরের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নাটোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে বদলি করা হয়েছে এপিবিএন-এর পুলিশ সুপার হিসেবে।এ ছাড়া পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হককে নাটোরের নতুন পুলিশ সুপার, খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে পিবিআই-এর পুলিশ সুপার হিসেবে এবং কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। আদেশের অনুলিপি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুলিশ অধিদফতর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে উত্তরার সামনের সারিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা তরুণ সংগঠক সাজ্জাদ সাব্বির জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। গত ১৯ এপ্রিল দুপুর দেড়টায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন ধারার রাজনীতির স্বপ্ন নিয়ে সাজ্জাদ সাব্বির পূর্বে ‘আপ বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন। সেখানে তিনি কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রচার ও জনসংযোগ কমিটির প্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।সংগঠন বিস্তৃতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে কাঠামো গড়ে তুলতে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তার নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর, নোয়াখালী জেলা এবং প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি কমিটি গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়।এনসিপিতে যোগদানের বিষয়ে সাজ্জাদ সাব্বির বলেন, নাহিদ ইসলামের হাতকে শক্তিশালী করা, জুলাইয়ের শক্তিকে আরও সংগঠিত করা এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক জনগণের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই আমি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছি।তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে তাকে নির্দিষ্ট সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি নোয়াখালী জেলা এনসিপিকে সুসংগঠিত করা এবং দলীয় প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও দায়িত্ব অর্পণ করা হতে পারে।সাজ্জাদ সাব্বির শান্ত মরিয়ম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে গ্রাফিক ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন প্রফেশনাল।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন এর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গহীন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা সবাই একই এলাকার উত্তর শিলখালী গ্রামের বাসিন্দা।নিহতরা হলেন—নুরুল বশর (২৮), পিতা: নুরুল ইসলাম; রবি আলম (২৩), পিতা: রুহুল আমিন; এবং মুজিবুর রহমান (২৮), পিতা: নুরুল কবির।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে মোর্শেদ আলম নামের এক সন্ত্রাসী রবি আলমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আজ ভোর ৬টার দিকে মোর্শেদ আলম তার ভাই মুজিবুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় শামলাপুর এলাকার একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, নুরুল বশরকে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গোপন আস্তানা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই স্থান থেকে পুলিশ রবি আলমের মরদেহ উদ্ধার করে।গোপন সূত্রে জানা গেছে, মোর্শেদ আলম গ্রুপ ও অজ্ঞাত আরেকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মোর্শেদ আলম তার আপন ভাই মুজিবুর রহমান, চাচাতো ভাই রবি আলম এবং সহযোগী নুরুল বশরকে গোপন আস্তানায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা সংঘর্ষের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ঘটনার মূল রহস্য মোর্শেদ আলমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। তবে আরেকটি ধারণা অনুযায়ী, নিহতরা অপহরণ চক্রের সদস্য হতে পারে এবং কোনো ভিকটিম কৌশলে পালানোর সময় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।ঘটনার খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দূর্জয় বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানা এর তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে হেরে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি আজ তাই লাল-সবুজের দলের জন্য সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের ম্যাচে বোলারদের নৈপুণ্যে কিউইদের ১৯৮ রানে আলআউট করে টাইগাররা। ১৯৯ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও তানজিদ তামিম ও নাজমুল হাসান শান্তর অর্ধশতকে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই ধাক্কা। নাথান স্মিথের বলে দুটি চার মেরে উড়ন্ত শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাইফ হাসান। কিন্তু ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়ে ৬ বলে ৮ রান করে ফিরতে হয় তাকে। দুই সিরিজ পর একাদশে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকার দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করলেও থিতু হতে পারেননি। ১১ বলে ৮ রান করে উইলিয়াম ও’রুর্কের বলে ডিন ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।দুই উইকেট হারানোর পরও তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত হাত খুলে খেলতে শুরু করেন। বিশেষ করে তানজিদ যে আগ্রাসী মেজাজ দেখিয়েছেন, তাতে পাওয়ারপ্লের শেষে ৬৭ রান হওয়ায় বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।তানজিদ-নাজমুল হোসেন শান্ত জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তানজিদ ছিলেন একেবারেই আলাদা ছন্দে। শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন, স্পিন-ফাস্ট কাউকেই ছাড় দেননি। মাত্র ৫৮ বলে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। তার এই ইনিংসই মূলত বাংলাদেশের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেয়।শান্তও খেলেছেন পরিণত ইনিংস। ঝুঁকি না নিয়ে ইনিংস ধরে রেখে সঙ্গ দিয়েছেন তানজিদকে। পরে লিটন দাস ক্রিজে এসে রান তোলার কাজ এগিয়ে নেন। এরপর লিটন আউট হলেও ধীর গতিতে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে নিজের ব্যাক্তিগত অর্ধশতক করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন শান্ত। ২ ছক্কা ও ৫ চারে ৭১ বলে ৫০ রান করেছেন।শেষ দিকে অধিনায়ক মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয় দেখেশুনে খেলে ৬ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। হৃদয় ৩০ রানে মিরাজ ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাতে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতায় ফেরে টাইগাররা। এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। নিক কেলি ৮৩ রানের লড়াই করলেও অন্য প্রান্তে কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন নটিয়াল জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন সবসময় আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন এই তারকা। তাই তার বিয়ের খবরটিও সামনে এসেছে অনেকটা নিভৃতেই।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে একেবারে সাদামাটা ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন করেন তিনি। কোনো জাঁকজমক নয় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই শুভ আয়োজন। শোনা যাচ্ছে, যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন জুবিন, তিনি তার শৈশবের ভালোবাসার মানুষ। তবে কনের নাম-পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও দেননি এই গায়ক। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।দেরাদুনের এই শিল্পী ২০১১ সালে ‘এক্স ফ্যাক্টর ইন্ডিয়া’ অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর ২০১৪ সালে ‘সোনালি কেবল’ সিনেমার ‘এক মুলাকাত’ গানের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। তবে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ‘জিন্দেগি কুছ তো বাতা’ এবং ‘কাবিল’এর টাইটেল ট্র্যাক গেয়ে। পরবর্তীতে ‘লুট গায়ে’, ‘তুম হি আনা’ এবং ‘রাতা লম্বিয়া’র মতো জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ‘শেরশাহ’ সিনেমার ‘রাতান লম্বিয়াঁ’ গানটি তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রিয় গায়কের নতুন জীবনের জন্য ভক্ত-অনুরাগীদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা জুটি রণবীর সিং-দীপিকা পাড়ুকোনকে ঘিরে আবারও ছড়িয়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। দীর্ঘ প্রেম আর আট বছরের দাম্পত্য জীবন কি তবে শেষের পথে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তদের মনে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায়, রেডিটে একটি ভাইরাল পোস্ট থেকেই এই জল্পনার শুরু। সেখানে দাবি করা হয়, রণবীর ও দীপিকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নাকি আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে পারেন এই তারকা দম্পতি।এই গুঞ্জনের প্রভাব পড়েছে ভক্তদের মধ্যেও। বিশেষ করে তাদের কন্যা দুয়া’র ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে এখনও পর্যন্ত এই নতুন গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি রণবীর বা দীপিকা কেউই।এই সিনেমা সাফল্যের সময় দীপিকার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। প্রিমিয়ারেও তাকে না দেখা যাওয়ায় জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও পরে সমালোচনার জবাবে দীপিকা স্পষ্টই জানান, তিনি সিনেমাটি সবার আগেই দেখে ফেলেছেন।এদিকে তারকা দম্পতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই বিচ্ছেদের খবর পুরোপুরিই ভিত্তিহীন। এর আগেও ২০২৪ সালে একই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল, যা পরে নাকচ করেন রণবীর নিজেই। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই। সংসার জীবনে তারা ভালো আছেন।ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, গ্ল্যামার দুনিয়ায় এ ধরনের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়—বাস্তবের সঙ্গে যার মিল অনেক সময়ই থাকে না।সব মিলিয়ে, ‘বাজিরাও-মাস্তানি’ জুটির সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, সত্যিটা জানতে এখন অপেক্ষাই ভরসা।
আগামী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসবে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের দুই সিনেমা। যুবরাজ শামীমের ‘অতল’ ও আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। প্রতিযোগিতা শাখার বাইরে ‘অ্যাপক্যালিপ্স নাউ’ সেকশনে মনোনীত হয়েছে অতল আর আর্টকোর বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘প্রিন্সেস’।২০২২ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরে প্রিমিয়ার হয় যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা ‘আদিম’। জিতে নেয় ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’সহ নেটপ্যাক সম্মাননা। নির্মাতার দ্বিতীয় সিনেমার প্রিমিয়ারও মস্কোয় হচ্ছে। সিনেমায় অস্তিত্বসংকটে ভোগা এক মানুষের মনস্তত্ত্ব দৃশ্যগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। যুবরাজ শামীম বলেন, ‘একজন মানুষ, যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যুপরবর্তী জীবন পার করছে কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছে। যেখানে সময়, চারপাশের সব চরিত্র—সব থমকে আছে। সেটাই সিনেমায় পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি।’যুবরাজ শামীমের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা অতল। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম তুষার। তিনি পেশায় ফটোগ্রাফার। অভিনয়ের পাশাপাশি এ সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফিও করেছেন তুষার।আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প, যেখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকে প্রতিফলিত করাই সিনেমাটির মূল উপজীব্য। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।‘প্রিন্সেস’ চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ৯ কেজি, শিখতে হয়েছে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়। ‘“রোজি” চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি,’ বলেন তিনি।আসিফ ইসলামের আগের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে ১৬ এপ্রিল, পর্দা নামবে ২৩ এপ্রিল।
ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় গায়িকা আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে নিজস্ব গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।দাদাসাহেব ফালকে ও বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ খ্যাতনামা গায়িকা। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। তবে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্মণ পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা অভিনয় জগত থেকে বিরতি নেবেন বলে জানিয়েছিলেন বেশ কিছুদিন আগেই। এবার জানা গেল তার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছার কথা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল বলেন, বর্ষা দীর্ঘদিন ধরেই নিঃশব্দে সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছেন। জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই তাকে নেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তার মনে প্রবল দেশসেবা করার ইচ্ছা আছে। বর্ষার মানবিক কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনন্ত জলিল আরও বলেন, বর্ষা স্কুল ব্যাগে করে টাকা নিয়ে নিজ হাতে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়। তার ভেতরে দেশসেবা করার এক অদম্য ইচ্ছা আছে। আমরা কোনোদিন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু দেশসেবার স্বার্থে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল তো বেছে নিতেই হয়।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও আদর্শের জায়গা থেকে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তারকা দম্পতি। সৎ রাজনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে অনন্ত জলিল বলেন, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কথাগুলো দেখুন, তিনি একদম সরাসরি সত্য কথাগুলো বলেন। সবার সামনে স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না, অন্যায় করতে পারবে না। সৎ পথে থেকেও তো নেতৃত্ব দেওয়া যায়!প্রসঙ্গত, এর আগেও অনন্ত জলিল বর্ষাকে নেত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বর্ষাও জনসেবায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, মানুষের সেবা করতে তার ভালো লাগে এবং সরকারের সহযোগিতায় বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন পেরিয়ে এবার রাজনীতির মাঠে নামার এই ঘোষণা ভক্ত ও চলচ্চিত্র মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের ছায়া কাটেনি টলিউডে। একাধারে টলিপাড়া যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ?ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এমন আবহেই এবার টেলিভিশন জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক ও ‘টেন্ট সিনেমা’র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর অভিযোগ, “আমার নিজের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।”সুকন্যার দাবি, “আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, “ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবকিছু শুনে মনে সাহস দিয়েছে। আমি আর চুপ করে থাকব না। ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এ অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রযোজক সুশান্ত দাস।
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার।সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।এর আগে গত মার্চে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে এর বিনিময় হার বেড়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠিয়ে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া– এই তিন দেশ থেকে এক দিনেই ৩৪ জন প্রবাসীর মরদেহ এসে পৌঁছেছে দেশে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) পৃথক ফ্লাইটে এই ৩৪ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল।প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, এই ৩৪ জনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল।এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের দেওয়া তথ্যানুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত থেকে সবচেয়ে বেশি মরদেহ এসেছে। গতকাল সন্ধ্যায় কুয়েত এয়ারলাইনসের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে একযোগে ৩০ জন প্রবাসীর মরদেহ আসে।এছাড়া লিবিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আসা অন্য ফ্লাইটে দুটি করে মোট চারটি মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।মন্ত্রণালয় বলছে, মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে দাফন ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়ছে।এছাড়া এসব প্রবাসীদের পরিবার অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা বীমা পাওয়ার যোগ্য হলে, তা দ্রুত প্রদান করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।এদিকে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সময় বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
টেলিযোগাযোগ খাতকে জরুরী সেবার আওতায় এনে বিশেষ জ্বালানি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে টেলিকম টাওয়ার কোম্পানির সম্মিলিত সংগঠন ‘বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশন’ (বিটিএ)। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে ও জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্প্রতি এক আলোচনায় বিষয়টি তুলে ধরে বিটিএ। নির্বিঘ্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি বিশেষ জ্বালানি বরাদ্দকরণের পাশাপাশি গুরুত্বসহকারে বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানিয়েছে।দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, যার কেন্দ্রে রয়েছে টেলিকম টাওয়ার। সারাদেশে ৪৫ হাজারেরও বেশী টেলিকম টাওয়ার রয়েছে, যা বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি নির্ভর ব্যাকআপ ব্যবস্থার (জেনারেটর) ওপর নির্ভর করে সচল থাকে। ফলে চলমান জ্বালানি সংকট এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে এ খাতে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে নিরবচ্ছিন্ন সেবা ব্যাহত হয়ে সংযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, ফলে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন কোটি গ্রাহক।এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে বিটিএ’র অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি এবং ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল আইজ্যাক বলেন, ‘বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সেবা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হলে এ খাত যেকোনো মূল্যে সচল রাখা প্রয়োজন, আর তাই গুরুত্বপূর্ণ এ অবকাঠামোকে জরুরী সেবার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন’।তিনি আরও বলেন, ‘ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যাংক, আইটিসহ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল সংযোগের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে প্রতিটি সেক্টর। তাই ঝুঁকি এড়াতে করণীয় ও চলমান সংকটের বাস্তবিক সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর সে কারণেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি বরাদ্দকরণের পাশাপাশি নীতিগত সহায়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করেছি’।ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি টেলিযোগাযোগ উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, সংযোগে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব আর্থিক লেনদেন, রপ্তানি সমন্বয় থেকে শুরু করে জরুরি যোগাযোগ ও জনসেবাসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতেই পড়বে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে দেশ ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই এ দুর্যোগ এড়াতে নীতি সহায়তার পাশাপাশি যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারেও সরকারকে তাগাদা দেয় সংগঠনটি।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।