সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের ১৪ হাজার ৩৮৫ পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ ফল প্রকাশ করা হয়।ফলাফলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় সর্বাধিক ২ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর কুমিল্লা থেকে ২ হাজার ৫৬৪ জন, কুড়িগ্রাম থেকে ২ হাজার ৪৬০ জন, দিনাজপুর থেকে ২ হাজার ৪২১ জন, গাইবান্ধা থেকে ২ হাজার ২৯৫ জন, সিরাজগঞ্জ থেকে ২ হাজার ১২৩ জন এবং সুনামগঞ্জ থেকে ২ হাজার ৬০ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল গত ২১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। একই সঙ্গে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।গত বছরের ৫ ও ১২ নভেম্বরের বিজ্ঞাপনের আলোকে ৬১টি জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে গত ৯ জানুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।সহকারী শিক্ষকের ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠেয় নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন করে রূপ দিতে পারে। এই নির্বাচন ঘিরে বেইজিং প্রভাব সুসংহত করতে চাইছে আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক টালমাটাল হয়ে উঠছে।এবারের এই ভোট ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশের প্রথম নির্বাচন। প্রত্যর্পণের অনুরোধ সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতকে নিয়ে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। যে কারণে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা জোরদার করা হয়েছে।১৭ কোটি জনসংখ্যার মুসলিমপ্রধান এই দেশ শেখ হাসিনার শাসনামলে চীনের সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিই ছিল ঢাকার প্রধান অংশীদার, যে সমীকরণ এখন বদলাচ্ছে।• বেইজিংয়ে ঝুঁকছে ঢাকা?যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো জশুয়া কার্লান্টজিক বলেন, ‘‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ভবিষ্যৎ সরকার প্রকৃত অর্থেই চীনের দিকে ঝুঁকছে।তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এখন বঙ্গোপসাগর সম্পর্কিত চীনের কৌশলগত চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং বাংলাদেশ এই কৌশলে চীনপন্থী ভূমিকা পালন করবে—এ ব্যাপারে চীন ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসী।’’ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল চীনে; যা কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গত জানুয়ারিতে দুই দেশ ভারতের কাছে প্রস্তাবিত একটি উত্তরাঞ্চলীয় বিমানঘাঁটির কাছে ড্রোন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার একটি অপরিবর্তনীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’’• লাগামহীন বৈরিতাএর বিপরীতে, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে নিয়মিত টানাপোড়েন চলছে। গত ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে ‘‘সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অবিরাম বৈরিতা’’ চলছে অভিহিত করে এর নিন্দা জানায়।পুলিশ বলেছে, বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৭০ জন সদস্য নিহত হন। ঢাকা এই সহিংসতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করার অভিযোগে ভারতকে দোষারোপ করেছে। তবে সম্পর্ক মেরামতের বিচ্ছিন্ন কিছু প্রচেষ্টাও হয়েছে।জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকায় আসেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে এগিয়ে আছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।বিএনপি জিতলে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত খালেদা জিয়ার ৬০ বছর বয়সী ছেলে তারেক রহমানের প্রতিও সমবেদনা জানিয়ে বার্তা পাঠান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু ভারতের হিন্দুত্ববাদী ডানপন্থীদের বিক্ষোভের পর এক বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এর জেরে ভারতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।• অস্থিতিশীলতা নয়, স্থিতিশীলতায় প্রাধান্যইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রবীণ দোন্থি বলেন, উভয় পক্ষেরই বাস্তববাদী অবস্থানের সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। তিনি বলেন, নয়াদিল্লি ও ঢাকা—দু’পক্ষই সম্পর্কের অবনতির সমাধান না করার মূল্য সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত।ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে ঢাকা। এক দশকের বেশি সময় পর জানুয়ারিতে দুই দেশের মাঝে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সরকার নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের আর অবনতি না ঘটিয়েই ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ধারা অব্যাহত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।দোন্থি বলেন, নতুন প্রশাসন সম্ভবত অস্থিতিশীলতার চেয়ে স্থিতিশীলতাকেই অগ্রাধিকার দেবে। তবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে—বিশেষ করে বিএনপি জিতলে, ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল হতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক হুমায়ুন কবির।তিনি বলেন, একসময় ভারতের সঙ্গে তীব্র বিরোধে থাকা ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীও তাদের প্রচারে ‘‘এক ধরনের বাস্তববাদী বাস্তবতা’’ তুলে ধরেছে।তীব্র বাগাড়ম্বরের পরও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বাস্তব ভিত্তি অটুট রয়েছে। বাণিজ্য স্থিতিশীল আছে এবং শেখ হাসিনা আমলের কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি—ভারতীয় টাগবোট সংক্রান্ত; বাতিল করা হয়েছে।বাংলাদেশে ভারতের সাবেক উপ-হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ভারতীয় কূটনীতিক দিলীপ সিনহা বলেন, চীন এমনভাবে অবকাঠামো সরবরাহ করছে; যা ভারত পারে না।তিনি বলেন, কিন্তু ভারত এমন কিছু জিনিস সরবরাহ করে; যা বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন, বিদ্যুৎ এবং পোশাকশিল্পের জন্য সুতা।বিশ্লেষকরা বলেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়া মানেই ভারতের সঙ্গে বৈরিতা; বিষয়টি এমন নয়। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘‘এটি ‘একটি না হলে আরেকটি’ ধরনের পরিস্থিতি নয়। দুই সম্পর্কই একই সঙ্গে বিকশিত হতে পারে।’’সূত্র: এএফপি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনে সাময়িক সীমা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহারকারীরা দৈনিক সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করতে পারবেন, যেখানে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সীমা ৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে এমএফএস এবং এনপিএসবি-এর আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পি-টু-পি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টায় পি-টু-পি লেনদেনের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ লেনদেনের পরিমাণ হবে এক হাজার টাকা এবং লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টি। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চালু থাকবে। একই সময়ে অন্যান্য সব ধরনের এমএফএস লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এছাড়া এই তিনদিন আইবিএফটির মাধ্যমে পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।এতে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি প্রোভাইডারকে নিজস্ব কুইক রেসপন্স সেল গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের লেনদেন সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে হবে। কোনো সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় জানাতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস প্রোভাইডার ও ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক নিয়মে পুনরায় চালু হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের শাপলা প্রতীকের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম জাতির উদ্দেশে নির্বাচনি ভাষণ দিয়েছেন।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) তার বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়।প্রায় দীর্ঘ এই ভাষণে নাহিদ ইসলাম সামাজিক বৈষম্য দূর করে ‘ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরে দেশে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্ত গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তি ছিল বৈষম্য। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক গণবিদ্রোহ।’ভাষণে তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ও উন্নয়ন প্রকল্প থেকে লুটপাট হওয়া অর্থ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম।পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তিনি নতজানু অবস্থান পরিহার করে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতি গ্রহণের কথা বলেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ সবার সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেট ভাঙা, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও ছিল তার ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে জননিরাপত্তার গণসংস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।বিচার বিভাগ সংস্কার, শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা, নারীর সমঅধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে দুর্নীতি বন্ধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও বলেন এনসিপি আহ্বায়ক।ভাষণের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণ যদি এনসিপির ওপর আস্থা রাখে, তবে বৈষম্য, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে— যেখানে রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কল্যাণেই ব্যবহৃত হবে।
৪৬তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২৩-এর ক্যাডার পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১ হাজার ৪৫৭ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে (প্রভিশনালি) নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পিএসসির ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ফল প্রকাশ করা হয়।কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরিনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৪৬তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারের মোট ৩ হাজার ১৪০টি শূন্য পদের বিপরীতে এই ১ হাজার ৪৫৭ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাডারভুক্ত প্রশাসন ক্যাডারে ২৭২ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৭৯ জন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১০ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আনসার ক্যাডারে ১৪ জন, কর ক্যাডারে ৩৭ জন এবং পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ১৪ জন মনোনয়ন পেয়েছেন।কারিগরি বা পেশাদার ক্যাডারগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারে (সহকারী সার্জন) বড় একটি অংশ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। পাশাপাশি কৃষি ক্যাডারে ৬৮ জন (বিভিন্ন বিভাগে), মৎস্য ক্যাডারে ২৬ জন এবং পশুসম্পদ ক্যাডারে ৭৩ জনকে মনোনিত করা হয়েছে। অন্যান্য পদের মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ৩৩ জন এবং পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদে ৭ জনকে সুপারিশ করেছে কমিশন।কমিশন জানিয়েছে, বিসিএস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৪ অনুযায়ী এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মনোনিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যথাযথ এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিয়োগ জীবনবৃত্তান্ত যাচাই শেষে সরকার চূড়ান্ত নিয়োগ দেবে। তবে এই মনোনয়ন প্রার্থীর চাকরি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বা অধিকার প্রদান করবে না। নিয়োগ সংক্রান্ত সব বিধি-বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এই মনোনয়ন কার্যকর করবে।পরীক্ষার ফল পিএসসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে (bpsc.teletalk.com.bd) বিস্তারিত দেখা যাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির ছুটির বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। রোববার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য চলতি মাসে ১০ তারিখের বিশেষ ছুটি বহাল থাকবে। তবে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিশেষ ছুটি ভোগের ক্ষেত্রে স্ব স্ব নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ চলতি মাসে ১০ তারিখের পর সুবিধাজনক যেকোনো একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে ‘কর্মদিবস’ ঘোষণা করতে পারবে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা যেসব কারখানা কার্যকর করবে, তারা প্রয়োজনে পরবর্তীতে যেকোনো দিনে শ্রমিকদের দিয়ে এক দিন কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি রবিবার অনুষ্ঠিত আকস্মিক নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই ফলাফল চীনকে ক্ষুব্ধ করতে পারে এবং আর্থিক বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে বলে গণমাধ্যমের হিসাব বলছে।ফলাফল নিশ্চিত হলে, এটি হবে ২০১৭ সালের পর লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য—যে নির্বাচনে তাকাইচির রাজনৈতিক অভিভাবক, নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৬৫ আসনের মধ্যে এলডিপি এককভাবে প্রায় ৩০০টি আসনে জয় পেতে পারে, যা আগের ১৯৮টি আসনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে দলটি ২০২৪ সালে হারানো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার করবে এবং এককভাবে সুপার-মেজরিটিও পেতে পারে।এলডিপির মহাসচিব শুনিচি সুজুকি জাপানি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দায়িত্বশীল ও সক্রিয় রাজস্বনীতি এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের পক্ষে জনগণের সমর্থন আমরা পেয়েছি।’মূল বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিপি) ও এলডিপির সাবেক শরিক কোমেইতোর গঠিত নতুন সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স তাদের ১৬৭টি আসনের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি হারাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অভিবাসনবিরোধী সানসেইতো দলটি তাদের আসনসংখ্যা দুই থেকে বাড়িয়ে পাঁচ থেকে ১৪টির মধ্যে নিতে পারে।দশকের পর দশক প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে জাপান শাসন করে আসা এলডিপি সাম্প্রতিক নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি ও দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে সমর্থন হারাচ্ছিল। তবে তাকাইচির নেতৃত্ব দলটিতে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।আজ রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তার ভাষণটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি সরাসরি সম্প্রচার করবে।এদিকে আগামীকাল ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আগে ব্যাট করা আফগানিস্তান ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল। টি-টোয়েন্টির রানবন্যার যুগে এই রান আহামরি বেশি না হলেও জিততে নিউজিল্যান্ডকে রেকর্ডই করতে হত। টি-২০ বিশ্বকাপে ১৬৭’র চেয়ে বেশি রান তাড়া করে যে তাদের জয়ের কোনো নজির নেই।নিউজিল্যান্ড রেকর্ড গড়েছে টিম সেইফার্টের ফিফটিতে। তার ৪২ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ১৩ বল হাতে রেখেই কিউইরা ৫ উইকেটে জিতেছে। জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চাপম্যান, ড্যারেল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনারও। এই আফগানিস্তানের বিপক্ষেই গত টি-২০ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ৮৪ রানে হেরেছিল।চিপকে গুলবাদিন নাইবের ৩৫ বলে ৬৩ রানে ভর করে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য পাওয়া আফগানিস্তান দ্বিতীয় ওভারে নিউজিল্যান্ডের ২ উইকেট তুলে নিয়ে চাপ তৈরি করে। মুজিব উর রহমানের শিকার হওয়া ফিন অ্যালেন ১ রান করলেও রাচিন রবীন্দ্র শূন্য রানে বিদায় নেন। এরপর গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে বোলারদের ওপর চাপ ঠেলে দেন সেইফার্ট।ফিলিপসের সঙ্গে সেইফার্টের জুটি হয় ৭৪ রানের। ফিলিপস ২৫ বলে ৪২ রান করে রশিদ খানের শিকার হন। সেইফার্ট ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংস সাজিয়ে বিদায় নেন দলীয় ১২৪ রানে। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ৪ রান ও মার্ক চাপম্যানকে শিকারের একটি ওভার সত্ত্বেও আফগানিস্তান ম্যাচ থেকে ছিটকেই যায়।১৭তম ওভারে মিচেল ও স্যান্টারের ব্যাটে উঠে ১৫ রান। পরের ৫ বলেই ১৩ রান তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে তারা। চাপম্যান ১৭ বলে করেন ২৮ রান। ১৪ বলে মিচেল ২৫ ও স্যান্টার ৮ বলে ১৭। আফগানিস্তানের হয়ে ৩১ রানে ২ উইকেট নিয়ে দিনের সেরা বোলার মুজিব উর রহমান।
টানা দেড় মাসের ছুটিতে যাচ্ছে দেশের সব মাদরাসা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আর এই ছুটি থেকেই শুরু হবে মাদরাসায় টানা ৪৬ দিনের ছুটি।গত ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।ছুটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ছুটি, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি মাদরাসায় শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাসের ছুটি। এরপর একে একে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১৭ মার্চ শবেকদর, ২০ মার্চ জুমাতুল বিদা, ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ২৭-২৮ মার্চ যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার।তাই মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে ২৯ মার্চ।উল্লেখ্য, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ দিন ছুটি থাকবে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে। এই ছুটি চলবে আগামী ২৪ মে থেকে ১১ জুন।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে দেশের সব সরকারি ও আধাসরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে সাহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় দেশের সব সরকারি ও আধাসরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করা হলো। সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাংক, বিমা, অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বার্থ বিবেচনায় তাদের নিজস্ব আইন বা বিধি অনুযায়ী অফিস সূচি নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও এর আওতাধীন সব কোর্টের অফিস সময়সূচি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারণ করবে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু সম্ভাব্য তারিখ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের বৈঠক হয়েছে।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের নেতৃত্বে জামায়াত প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. যুবায়ের আহমেদ, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি মিসেস নূরুন্নিসা সিদ্দিকা ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ। বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে মাওলানা আবদুল হালিম কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আদ্দোর নেতৃত্বে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের এ প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় অবস্থান করছে। কমনওয়েলথ এর প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য অংশীজনদের সাথে বৈঠক করে নির্বাচন প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মতবিনিময় করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা কমনওয়েলথ টিমের লক্ষ্য।বৈঠকে জামায়াত প্রতিনিধি দল নির্বাচন পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি অনেক জায়গায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীগণ প্রচারণা চালানোর সময় বড় একটি দলের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে জামায়াতের নারীকর্মীগণ নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বারবার জামায়াতের নারী ভোটকর্মীদের উপর হামলা, শারিরীক নির্যাতন, মোবাইল কেড়ে নেয়ার মত ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও অসংখ্য জায়গায় ভোটকর্মীদের ওপর হামলা নির্যাতন, ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়েছে।তারা আরও বলেন, নির্বাচনকালীন প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস, বাসা ও নির্বাচন কর্মীদের নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা মনে করছি আমাদের প্রতিপক্ষ নির্বাচনকালীন আমাদের প্রতিপক্ষ দাগী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঘটনা ও হামলার সমূহ শঙ্কা রয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ‘মুচলেকা দিয়ে যারা পালিয়ে ছিলেন তারা এখন চটকদার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাদের নির্বাচিত করবেন, নাকি আদর্শবান নেতৃত্বকে বেছে নেবেন, সে সিদ্ধান্ত জনগণকে নিতে হবে।’‘যে দলের হাতে নিজেদের নেতাকর্মীরাই নিরাপদ নয়, সেই দলের হাতে একটি দেশ কীভাবে নিরাপদ থাকতে পারে। গত দেড় বছরে ওই দল (বিএনপি) নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২০০ জনকে হত্যা করেছে বলে আমরা দেখেছি।’রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ সংলগ্ন মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।সাদিক কায়েম বলেন, ‘জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ যখন দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন জামায়াতে ইসলামীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ মন্ত্রী ছিলেন। তারা তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এক পয়সার দুর্নীতি কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মন্ত্রী-নেতাদের বিরুদ্ধে এক পয়সার দুর্নীতির অভিযোগও কেউ তুলতে পারবে না।’তিনি বলেন, ‘দুর্দিনে যারা আপনাদের ছেড়ে মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, ১৭ বছর পর এসে চটকদার কথা ও নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে—তাদের নির্বাচিত করবেন, নাকি আদর্শবান নেতৃত্বকে বেছে নেবেন, সে সিদ্ধান্ত জনগণকে নিতে হবে।’
আগে ব্যাট করা আফগানিস্তান ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল। টি-টোয়েন্টির রানবন্যার যুগে এই রান আহামরি বেশি না হলেও জিততে নিউজিল্যান্ডকে রেকর্ডই করতে হত। টি-২০ বিশ্বকাপে ১৬৭’র চেয়ে বেশি রান তাড়া করে যে তাদের জয়ের কোনো নজির নেই।নিউজিল্যান্ড রেকর্ড গড়েছে টিম সেইফার্টের ফিফটিতে। তার ৪২ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ১৩ বল হাতে রেখেই কিউইরা ৫ উইকেটে জিতেছে। জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চাপম্যান, ড্যারেল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনারও। এই আফগানিস্তানের বিপক্ষেই গত টি-২০ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ৮৪ রানে হেরেছিল।চিপকে গুলবাদিন নাইবের ৩৫ বলে ৬৩ রানে ভর করে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য পাওয়া আফগানিস্তান দ্বিতীয় ওভারে নিউজিল্যান্ডের ২ উইকেট তুলে নিয়ে চাপ তৈরি করে। মুজিব উর রহমানের শিকার হওয়া ফিন অ্যালেন ১ রান করলেও রাচিন রবীন্দ্র শূন্য রানে বিদায় নেন। এরপর গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে বোলারদের ওপর চাপ ঠেলে দেন সেইফার্ট।ফিলিপসের সঙ্গে সেইফার্টের জুটি হয় ৭৪ রানের। ফিলিপস ২৫ বলে ৪২ রান করে রশিদ খানের শিকার হন। সেইফার্ট ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংস সাজিয়ে বিদায় নেন দলীয় ১২৪ রানে। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ৪ রান ও মার্ক চাপম্যানকে শিকারের একটি ওভার সত্ত্বেও আফগানিস্তান ম্যাচ থেকে ছিটকেই যায়।১৭তম ওভারে মিচেল ও স্যান্টারের ব্যাটে উঠে ১৫ রান। পরের ৫ বলেই ১৩ রান তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে তারা। চাপম্যান ১৭ বলে করেন ২৮ রান। ১৪ বলে মিচেল ২৫ ও স্যান্টার ৮ বলে ১৭। আফগানিস্তানের হয়ে ৩১ রানে ২ উইকেট নিয়ে দিনের সেরা বোলার মুজিব উর রহমান।
নীল ও বেগুনি রঙের একটি জমকালো শাড়ি, ম্যাচিং স্লিভলেস সিকুইন ব্লাউজ, গলায় কয়েক লহরের সাদা মুক্তার মালা ও হাতে মুক্তার ব্রেসলেট পড়েছেন। মনোমুগ্ধকর লুকে হাজির হয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই অনন্য রুপের ঝলকে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। তিনি আর কেউ নন, সবার প্রিয়ভাজন, সুঅভিনেত্রী রুনা খান।রুনা খান একদিকে পর্দায় সাবলীল অভিনয় করেন, অন্যদিকে তার সাহসী ও গ্ল্যামারাস উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রে থাকে সবসময়। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে রুনার এই স্টানিং অবতার দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন সহকর্মী ও অনুরাগী থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তরা। সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলার পাশাপাশি পর্দার কাজেও এখন ব্যস্ত সময় তার। সম্প্রতি নির্মাতা আলী জুলফিকার জাহেদীর স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘রক্তছায়া’-তে প্রথমবারের মতো পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুনা খান।
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান আবার ফিরছেন বড় পর্দায়। দেখা যাবে ‘কিং’ মুক্তির পর তিনি দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরছেন ‘ম্যায় হু না-২’ নিয়ে। প্রায় দুই দশক আগে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায় হু না’র সিক্যুয়াল নিয়ে। বলিউডে গুঞ্জন পরিচালক ফারাহ খানের সঙ্গেই আবার জুটি বাঁধতে পারেন তিনি। আর এটি ‘ম্যায় হু না’–এর সিক্যুয়াল।শাহরুখ-ফারাহ জুটির আগের কাজগুলোও ছিল দারুণ সফল। ‘ম্যায় হু না’র পর ২০০৭ সালে আসে ‘ওম শান্তি ওম’, আর ২০১৪ সালে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’—সবকটিই বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করে। তাই এই জুটি ফের এক হলে প্রত্যাশা যে আকাশছোঁয়া, তা বলাই বাহুল্য।‘ম্যায় হু না ২’-এ শাহরুখ খানকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একেবারে ভিন্নধর্মী দুটি চরিত্রে তাঁকে হাজির করার পরিকল্পনা করেছেন ফারাহ খান। এই ডাবল-রোল ভাবনাই নাকি অভিনেতাকে বেশ আগ্রহী করে তুলেছে। ছবির গল্পে থাকছে দেশাত্মবোধের ছোঁয়া, সঙ্গে অ্যাকশন ও হালকা কমেডি। ভারতের বিরুদ্ধে নতুন এক হুমকিকে কেন্দ্র করেই এগোবে কাহিনি। মূল ছবির আবহ বজায় রেখেই গল্পকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। জানা গেছে, ছবির গল্পের ধারণা দিয়েছেন শাহরুখ খান নিজেই, আর চিত্রনাট্য লিখছেন আকাশ কৌশিক। তবে সবকিছু এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায় হু না’ পরিচালনা করেছিলেন ফারাহ খান। ছবিটিতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন সুস্মিতা সেন, সুনীল শেঠি, অমৃতা রাও ও জায়েদ খান। কলেজ ছাত্র সেজে গোপন মিশনে নামা মেজর রাম প্রসাদ শর্মার চরিত্র আজও দর্শকদের কাছে স্মরণীয়।
ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীকে নিয়ে নতুন করে শোবিজে গুঞ্জন- বুবলী অন্তঃসত্ত্বা। এ গুঞ্জনের ব্যপারে মুখ খুলেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু এগুলো খুব ব্যক্তিগত বিষয়, তাই এগুলো নিয়ে যখন কথা বলব তখন সবাইকে সম্মান জানিয়ে কথা বলব। আমি একটি শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি চাই। আমরা চাই প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে বাংলাদেশটাকে নিরাপদ রাখুক। আমি একটি সুষ্ঠু পরিবেশ আশা করছি।’সম্প্রতি একটি ব্র্যান্ডের গ্র্যান্ড লঞ্চিং অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এভাবে কথা বলেন বুবলী। আসন্ন ভালোবাসা দিবসে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বুবলী বলেন, ‘ভ্যালেন্টাইন মানেই আমার কাছে আমার প্রিয় মানুষগুলো। সবার ভালোবাসা নিয়ে প্রতিদিনকেই আমি ভালোবাসা দিবসের মতো করে কাটাতে চাই। স্পেশাল প্ল্যান তো অবশ্যই থাকবে। আর আমার দর্শক, পরিবার ও ভক্তদের ভালোবাসা তো সবসময়ই পাশে আছে।’সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খানের নাম জড়িয়ে বুবলীর বিদেশ যাত্রা নিয়ে বুবলী বলেন, ‘আপনারা যারা সাংবাদিক আছেন, আপনাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি সবকিছুর একটা সময় আছে। আজকে আমরা একটা প্রোগ্রামের গ্র্যান্ড লঞ্চিংয়ে এসেছি, এখানে এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।’তার কথায়, ‘আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনেরা ওনারা অনেক কিছু নিয়েই নিউজ করবেন, দর্শকদের অনেক কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা থাকবে। সো এটা হবেই, হয়ে আসছে আজীবন সবার ক্ষেত্রেই। এটা নতুন কিছু না। তবে আমি বলব যে আপনারা একটু সবাই সবার জায়গা থেকে যথাযথ রেসপেক্ট দিয়ে আসলে একজন শিল্পী বা শিল্পীদের প্রেজেন্ট করা যায় সেটাই করবেন, যেটা বরাবরই করে আসছেন।’
ঢালিউডের কিং অভিনেতা শাকিব খান ও তাঁর দুই স্ত্রীর সঙ্গে সমীকরণ নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। শাকিবের প্রথম স্ত্রী অপু বিশ্বাস। দ্বিতীয় স্ত্রী শবনম বুবলী। একটা সময়ে তারকা নিজেই দুই স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এবার শোনা যাচ্ছে বুবলীর সঙ্গে দ্বিতীয় সন্তান পরিকল্পনা করেছেন অভিনেতা। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অভিনেত্রী। সেই হিসাবে তৃতীয়বার বাবা হতে চলেছেন অভিনেতা।গত বছরের শেষের দিকে বুবলী ও শাকিব, তাঁদের ছেলে শেহজাদ বীরকে নিয়ে আমেরিকায় ঘুরতে যান। সেই সময়েই নাকি তাঁরা ফের ঘনিষ্ঠ হন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই অভিনেত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ছড়ায়। তবে এরপরে এমনও শোনা যায়, গর্ভপাত করিয়েছেন বুবলী। অবশেষে এখন শোনা যাচ্ছে, গর্ভপাত করাননি অভিনেত্রী। রমজানের প্রথম সপ্তাহেই নাকি আমেরিকায় উড়ে যাবেন বুবলী। সেখানেই সন্তানের জন্ম দেবেন তিনি।বুবলী ও শাকিবের সন্তান বীরের জন্মও হয় আমেরিকাতেই। যদিও, বুবলী জানিয়েছিলেন সেই সময়েও শাকিব নাকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁর খেয়াল রাখেননি একদমই। শাকিব নাকি সেই দেশে বুবলীকে একা ফেলে চলে আসেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।যদিও সেই সব অভিযোগ এখন অতীত। ফের শাকিবের সন্তানের মা হতে চলেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে বুবলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও উত্তর মেলেনি। ফোনে উত্তর মেলেনি শাকিব খানেরও।
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। ফ্যাশন সচেতনতার জন্য তিনি আলোচনায় থাকেন। এবার তিনি ধরা দিলেন আবেদনময়ী এক লুকে। তার লুক যেনো বলিউড অভিনেত্রীদেরও হার মানায়।অভিনেত্রীর ছবিতে তার এই বোল্ড রূপ দেখে মুগ্ধ ভক্ত-অনুরাগীরা। কেউ কেউ মিমের এ লুককে সরাসরি ‘বলিউড স্টাইল’ বলে আখ্যা দেন। তার ব্যক্তিত্ব ও শারীরিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন কেউ কেউ। ২০০৭ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বিনোদন জগতে পা রাখেন মিম। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত ‘আমার আছে জল' সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন তিনি।
বলিউডের পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। সোজাসাপটা বক্তব্য আর কর্মকাণ্ডে নানা সময়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তবে এবার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে উঠে এসেছে তার নাম।এ নিয়ে চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন আলোচনা। ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ করে। প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনকে পাঠানো একাধিক ই–মেইলে অনুরাগ কাশ্যপের নাম পাওয়া গেছে। এসব ই–মেইল তিন ব্যক্তির মধ্যে আদান–প্রদান হয়েছিল, যেখানে আলোচনায় জেফরি এপস্টেইনও ছিলেন বলে জানা গেছে। মেইলে এপস্টেইনের কিউবা সফরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বৌদ্ধধর্ম, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিষয়ক কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকায় অনুরাগ কাশ্যপের নাম উল্লেখ করা হয়।অনুরাগ কাশ্যপের নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি সত্যিই ওই অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটাই করা হয়নি। তাকে কেবল জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বা সম্ভাব্য মূল বক্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রকাশিত নথিতে বিভিন্ন তারকার নামও উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাইকেল জ্যাকসন, অভিনেত্রী ও গায়িকা ডায়ানা রস, মার্কিন অভিনেতা ক্রিস ট্যাকার, সংগীতশিল্পী মিক জ্যাগারসহ আরও কয়েকজন।তবে ই–মেইলে কারও নাম থাকলেই তিনি কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বা এপস্টেইনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন-এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে এপস্টেইন ও অনুরাগ কাশ্যপের একই সময়ে একই স্থানে উপস্থিত থাকার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরাগ কাশ্যপকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সূত্র: আনন্দবাজার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনে সাময়িক সীমা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহারকারীরা দৈনিক সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করতে পারবেন, যেখানে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সীমা ৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে এমএফএস এবং এনপিএসবি-এর আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পি-টু-পি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টায় পি-টু-পি লেনদেনের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ লেনদেনের পরিমাণ হবে এক হাজার টাকা এবং লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টি। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চালু থাকবে। একই সময়ে অন্যান্য সব ধরনের এমএফএস লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এছাড়া এই তিনদিন আইবিএফটির মাধ্যমে পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।এতে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি প্রোভাইডারকে নিজস্ব কুইক রেসপন্স সেল গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের লেনদেন সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে হবে। কোনো সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় জানাতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস প্রোভাইডার ও ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক নিয়মে পুনরায় চালু হবে।
মালয়েশিয়ার জালান পেরাকে ‘স্পাইডার লিফট’ ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজেই ক্রেনটির চালক ছিলেন।কুয়ালামপুর ট্রাফিক ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান এসিপি মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ইসা বলেছেন, গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি সেখানে রাস্তার পাশের একটি বিলবোর্ডে কাজ করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ক্রেনটি ফুটপাতের সঙ্গে আটকে যায়। এটি রিমোট কন্টোলের মাধ্যমে চালানো হচ্ছিল। ফুটপাতে আটকে গিয়ে ক্রেনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। সেটির নিচেই চাপা পড়েন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক।এছাড়া ক্রেনটির ভারে দুটি গাড়িও চূর্ণ হয়। তবে গাড়ির ভেতর থাকা যাত্রীদের কেউ আহত হননি।ক্রেনের নিচে চাপা পড়লে সেখানে ছুটে আসেন কুয়ালামপুর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। তিনি তাকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করেন।দুর্ঘটনার পর ওই ক্রেনটির মালিক প্রতিষ্ঠানকে খুঁজছে পুলিশ। কুয়ালামপুরে এটি চালানোর অনুমতি ছিল কি না সেটি তদন্ত করছেন তারা। সূত্র: মালয় মেইল
বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘একলা খেলে যম নেয়, দশজনে খেলে ধর্ম রয়।’ এ প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ যমরাজ এসে ধরে নিয়ে যাওয়া না। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি অত্যন্ত গভীর। প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো, দশজনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে শরীর ও মন উভয়ই ‘ধর্ম’ অর্থাৎ সুশৃঙ্খল থাকে। আবার দশজন মানে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সংখ্যার দশ নয়, এর অর্থ অনেকে মিলে।খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষেরা একা খেতে বসার পক্ষে নন। দাদি-নানিরা সব সময়ই বলে থাকেন, একা একা বসে খাচ্ছিস কেন, সবার সঙ্গে বসে খা! এই একা খেতে বসার অভ্যাস কেবল একাকিত্ব বাড়ায় না। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তোলে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, একা খেতে বসার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে অন্তত দুবার একা বসে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সংমিশ্রণে হওয়া মেটাবলিক সিনড্রোম নামে একটি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, একা খেতে বসলে পুরুষদের স্থূলতার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ২৪টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বলছে, একা খেতে বসলে মানুষ পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন প্রক্রিয়াজাত বা রেডি মিল বেশি পছন্দ করে। এতে শরীরে প্রোটিন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয়।মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবএকা খাওয়া কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৮ হাজারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক অসুস্থতার পর একা খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসুখী করে তোলে। অনেকে মনে করেন, একা খেতে বসা মানেই স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজিস্ট ড. স্টিফানি কাসিওপ্পোর মতে, মানুষ যদি খাওয়ার সময় নিজেকে একা মনে করে, তবে তার শরীর বেশি চর্বিযুক্ত ক্যালরি শোষণ করে।বার্ধক্য ও একাকী ভোজনপ্রবীণদের জন্য একা খাওয়া এক নীরব ঘাতক। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা যখন একা খান, তখন তাঁরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা ফ্রেইল হয়ে পড়েন। একা খাওয়ার ফলে বয়স্কদের প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণ কমে যায়। তা নেমে আসে প্রায় ৫৮ গ্রাম থেকে ৫১ গ্রামে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওপোরোসিস বা হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং পুষ্টিহীনতা উভয়ই মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে, যা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কের আয়তনও সংকুচিত হতে পারে।কেন একা খেতে বসা ক্ষতিকরগবেষকেরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:উদ্দীপনার অভাব: যখন কেউ একা খান, তখন তাঁর ভালো কিছু রান্না করার আগ্রহ কমে যায়।খাওয়ার গতি: দলগতভাবে খেলে মানুষ গল্প করে ধীরে ধীরে খায়। এ বিষয়টি হজমে সাহায্য করে। একা খেলে মানুষ হয় খুব দ্রুত খায় নতুবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে।ইগো ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ওজনের মানুষ অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে অন্যদের সামনে খেতে চান না। এটা তাঁদের আরও বেশি একা খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।খাবার কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপায়। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া বা মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস ম্যাগাজিন, ডেইলি মেইল
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। পরিকল্পিতভাবেই এবারের বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে দূরে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, প্রিয় ক্রিকেটপ্রেমী বন্ধুরা, আজ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হলো। এমন দিনে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের চোখ থাকত টিভি স্ক্রিনে। সবাই অপেক্ষা করতাম টাইগারদের মাঠের লড়াই আর বিজয়ের আনন্দ দেখতে।‘দুঃখের বিষয়, এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আজ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও আমরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের ক্রিকেটারদের সাথে জাতিকেও অপমান করা হয়েছে। লাল-সবুজের হয়ে উল্লাস করার মুহূর্ত থেকে আমাদের পরিকল্পিতভাবে দূরে রাখা হলো।’ক্রিকেটারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রিয় ক্রিকেটার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের সাথে সমব্যথী। দেশের মর্যাদা, দেশের স্বপ্নের সাথে কোনো আপস নয়। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে আমরা হার মানতে পারি না। দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশকে আমরা আন্তর্জাতিক ইভেন্টে মর্যাদার আসনে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।এ সময় বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ইভেন্টে মাথা উঁচু করে, গর্ব, শক্তি ও সম্মান নিয়ে ফিরবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।