মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা পণ্যের ওপর বিশ্বব্যাপী শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।নতুন সিদ্ধান্ত 'অবিলম্বে কার্যকর' হবে বলে আজ শনিবার এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।গতকাল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে 'বেআইনি' ঘোষণার পর আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প।এরপর আজ ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প জানান, শুক্রবার আদালতের দেওয়া 'যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সিদ্ধান্তের' পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর তার প্রশাসন 'আইনিভাবে পরীক্ষা' করে আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করছে।গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো ঢালাও শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে।এরপর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাম্প আমদানি পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে ‘আরও যথাযথভাবে শুল্ক বাস্তবায়নের’ উপায় খুঁজবে।
নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ভাতা দিবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তবে এই সম্মানি কত টাকা তা এখনও নির্ধারণ করেনি সরকার। ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু করবে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেইটে তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা জানান৷এসময় স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পাশে রেখে মাহদী আমিন জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান করা৷ ক্ষমতায় এসে সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে৷ পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তা চালু হবে৷কত টাকা সম্মানি ভাতা প্রদান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন্ত:মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হবে।এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, আজ ছিল তারেক রহমানের ৩য় কর্মদিবস। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশকিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, আজ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান। অফিসে প্রবেশের আগে ব্রিফ করেছেন। অনেক পুরাতন কর্মজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পলিসি কার্যক্রম নিয়েও আজ আলোচনা করেছেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সহঅর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপি যদি বিষয়টিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখে ইগনোর করতে চায়, তাহলে তাদের জন্য ভালো হবে না। এটা আমার পরিষ্কার বার্তা।আজ শনিবার দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলা চত্বরে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল শুক্রবার একুশের প্রথম প্রহরে জেলার সরাইল উপজেলা পরিষদ মাঠে শহীদ মিনারে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, একটা আসনে এ ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে সব আসনেই সেটা ছড়িয়ে পড়বে। এতে সারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। এর আগে তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশুগঞ্জের ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া। রুমিন ফারহানার অভিযোগ, একুশের প্রথম প্রহরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে তিনি একদল উচ্ছশৃংখল জনতার বাধা ও পরিকল্পিত হামলার শিকার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই রুমিন ফারহানার সমর্থকরা সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে অবরোধ তৈরি করে। এদিকে গতকাল শনিবার বিকেলে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবে সরাইলে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে আশুগঞ্জ উপজেলা রুমিন ফারহানা সমর্থক গোষ্ঠী। তার সমর্থকরা বলেন, ভাষার মাসে একজন ভাষা সৈনিকের (অলি আহাদ) কন্যা ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওপর একদল উচ্ছশৃংখল জনগোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলা আইনের শাসনের পরিপন্থি ও দেশের জন্য অশনিসংকেত। তারা বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতারা তথা তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির জন্য মাঠে-ঘাটে জনতার পাশে ছিলেন রুমিন ফারহানা। দুর্দিনে বিএপির পাশে যে নেত্রী ছিলেন তার ওপর এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক। তারা অবিলম্বে তদন্তপুর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃংলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুরোধ করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মো. নাসির মুন্সি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) মো. আতাউর রহমান বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) ডা. ইদ্রিস হাছান। এ সময় অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
শীত বিদায় নিতে না নিতেই বেড়েছে সূর্যের উত্তাপ। দিনের বেলা বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে কয়েক দিন ধরে। এদিকে বসন্তকালে বৃষ্টির দেখা পাওয়াও কঠিন। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে ভিন্ন কথা। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকাসহ তিন বিভাগে বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তবে সেই বৃষ্টি ঝরবে বজ্রবৃষ্টি হয়ে। শান্তির পরশ না ছড়িয়ে বাড়াবে রাতের উত্তাপ।আজ শনিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিষুবীয় ভারত মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বিষুবীয় ভারত মহাসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপবলয়ের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে বাড়বে রাত ও দিনের তাপমাত্রা।এদিকে আগামী সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।আগামী বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এরপর রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাঙামাটিতে, ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ দিন দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি।
জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হত্যা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এসব সহিংসতা বন্ধ না হলে বাংলাদেশ আবারও অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা অঞ্চলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল দাবি করেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণায় অনিয়ম ও পরবর্তী সহিংসতা দেশের মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে এবং ফলাফল ঘোষণায় যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তে কোনো টালবাহানা করা উচিত নয়। এজন্য নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশকে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে জনরায় অমান্য করা হলে তা ফ্যাসিবাদের পথকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে তার পরিণতিও ফ্যাসিবাদের মতোই হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের একাধিক নেতা।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। সুদ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত যাকাতভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তাদের সংগঠন কাজ করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলার ভিত্তিতে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করেন।শেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষমতা লাভে উচ্ছ্বাস কিংবা পরাজয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে।
অন্যান্যবারের মতো এবারও আগামী ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জাতীয় ভোটার দিবস ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বা পরশু ভোটার দিবসের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, অন্যান্য বারের মতো এবারও আগামী ২ মার্চ যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় ভোটার দিবস পালন করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমান মোট নিবন্ধিত ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। আর ট্রান্সজেন্ডার ১ হাজার ২৩২ জন।
মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। আজ শনিবার বিকেলে তারা রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।কবরস্থান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বায়ান্ন ভাষা আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উর্দুর বিপরীতে বাংলার কোনো আন্দোলন হয় নাই। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে।’ইনকিলাব, আজাদী, ইনসাফসহ কিছু শব্দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জাবের। এ সময় তিনি সংগঠনের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেন।জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে হবে। এই হত্যার পেছনে কারা রয়েছে, কারা পরিকল্পনা করেছে এবং এখন পর্যন্ত কারা খুনিদের লালন-পালন করে রেখেছে—সরকার সদিচ্ছা দেখালে তা বের করা সম্ভব।অতীতে দীর্ঘ বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন জাবের।ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠানো বিষয়ে জাবের বলেন, এ নিয়ে যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে, তার আপডেট জনগণ এখনো পায়নি। সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানাতে আহ্বান জানান তিনি।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে জাবের বলেন, তারা এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকারেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।জাবের বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না হলে ইনকিলাব মঞ্চ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। শহীদ ওসমান হাদিকে ধারণ করতে হলে তাঁর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। হাদির মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে মোংলা বন্দরের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা বন্দর পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।নৌ পরিবহনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতি এবং বৈদেশিক বাণিজ্য এই বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় কিছু সমস্যা চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর উন্নয়নে কার্যক্রম শুরু করা হবে, যা এই অঞ্চলের মানুষ, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। শেখ রবিউল আলম বলেন, অল্প কিছু সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে মোংলা বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের মতো দ্রুত সময়ে সফল এবং পুরোপুরি সক্ষম বন্দরে প্রতিষ্ঠিত হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কোনো বৈষম্য থাকবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের যে সম্ভাবনা আছে তার শতভাগ ব্যবহার করে এই বন্দরকে প্রস্তুত করা হবে। মোংলা বন্দরের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি রাষ্ট্রের বাতিল বা স্থগিত হওয়া উন্নয়ন চুক্তি আবার চালু করা হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই সেসব পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে যেসব চুক্তিতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই চুক্তি আবার করা যাবে কিনা সেটিও ভেবে দেখা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান প্রমুখ।
রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ৬ ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।বার্তায় বলা হয়, জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ৬ ঘণ্টা আশুগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, নিজের ভাষাকে আমরা ঠিকমত জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মধ্যে ন্যাশনালিজম গ্রো করেনা। ইনকিলাব তো অন্য দিকের ভাষা যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এখন এটা নিয়ে আমাদের ইয়ং জেনারেশন গর্ব করে। আমার রক্তক্ষরণ হয়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম জীবন দেওয়ার জন্য। সমাজ পরিবর্তনের জন্য। তবে সমাজ যে উল্টোপথে হাঁটে এখন দেখতেছি। ইনকিলাব আরও আরও শব্দ পাচ্ছি আমি। যাদের সাথে বাংলার কোনো সম্পর্ক নাই। যারা বাংলাকে ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য, ব্যবহার করার জন্য কাজ করতো। অথচ আমাদের ছেলেদের সেটাই ভাষা হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরেও কিন্তু আমরা আমাদের ভাষাটাকে সুরক্ষিত করতে পারিনি। আমরা যত্নবান ছিলাম না। আর যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না, সেই জাতি কোনো দিন উন্নয়ন করতে পারে না। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি প্রায়ই তর্ক করি মানুষের সাথে। আমি এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। অনেকে বলে ভাই শিল্পকারখানা দিয়ে ভরে ফেলতে হবে। আমি বলি শিল্প কারখানা করতে তো জমি লাগে সেই জমি কোথায়? বলে এই যে আমি এই কৃষিতে যদি শিল্প কারখানা করি তাহলে খাওয়ার জন্য আমাদের অন্য কিছুর ওপর ডিপেন্ড করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু প্রমুখ।আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সর্বশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। আজ শনিবার বিকেলে তারা রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।কবরস্থান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বায়ান্ন ভাষা আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উর্দুর বিপরীতে বাংলার কোনো আন্দোলন হয় নাই। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে।’ইনকিলাব, আজাদী, ইনসাফসহ কিছু শব্দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জাবের। এ সময় তিনি সংগঠনের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেন।জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে হবে। এই হত্যার পেছনে কারা রয়েছে, কারা পরিকল্পনা করেছে এবং এখন পর্যন্ত কারা খুনিদের লালন-পালন করে রেখেছে—সরকার সদিচ্ছা দেখালে তা বের করা সম্ভব।অতীতে দীর্ঘ বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন জাবের।ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠানো বিষয়ে জাবের বলেন, এ নিয়ে যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে, তার আপডেট জনগণ এখনো পায়নি। সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানাতে আহ্বান জানান তিনি।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে জাবের বলেন, তারা এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকারেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।জাবের বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না হলে ইনকিলাব মঞ্চ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। শহীদ ওসমান হাদিকে ধারণ করতে হলে তাঁর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। হাদির মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হত্যা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এসব সহিংসতা বন্ধ না হলে বাংলাদেশ আবারও অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা অঞ্চলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল দাবি করেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণায় অনিয়ম ও পরবর্তী সহিংসতা দেশের মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে এবং ফলাফল ঘোষণায় যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তে কোনো টালবাহানা করা উচিত নয়। এজন্য নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশকে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে জনরায় অমান্য করা হলে তা ফ্যাসিবাদের পথকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে তার পরিণতিও ফ্যাসিবাদের মতোই হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের একাধিক নেতা।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। সুদ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত যাকাতভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তাদের সংগঠন কাজ করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলার ভিত্তিতে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করেন।শেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষমতা লাভে উচ্ছ্বাস কিংবা পরাজয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সহঅর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপি যদি বিষয়টিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখে ইগনোর করতে চায়, তাহলে তাদের জন্য ভালো হবে না। এটা আমার পরিষ্কার বার্তা।আজ শনিবার দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলা চত্বরে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল শুক্রবার একুশের প্রথম প্রহরে জেলার সরাইল উপজেলা পরিষদ মাঠে শহীদ মিনারে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, একটা আসনে এ ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে সব আসনেই সেটা ছড়িয়ে পড়বে। এতে সারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। এর আগে তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশুগঞ্জের ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া। রুমিন ফারহানার অভিযোগ, একুশের প্রথম প্রহরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে তিনি একদল উচ্ছশৃংখল জনতার বাধা ও পরিকল্পিত হামলার শিকার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই রুমিন ফারহানার সমর্থকরা সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে অবরোধ তৈরি করে। এদিকে গতকাল শনিবার বিকেলে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবে সরাইলে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে আশুগঞ্জ উপজেলা রুমিন ফারহানা সমর্থক গোষ্ঠী। তার সমর্থকরা বলেন, ভাষার মাসে একজন ভাষা সৈনিকের (অলি আহাদ) কন্যা ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওপর একদল উচ্ছশৃংখল জনগোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলা আইনের শাসনের পরিপন্থি ও দেশের জন্য অশনিসংকেত। তারা বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতারা তথা তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির জন্য মাঠে-ঘাটে জনতার পাশে ছিলেন রুমিন ফারহানা। দুর্দিনে বিএপির পাশে যে নেত্রী ছিলেন তার ওপর এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক। তারা অবিলম্বে তদন্তপুর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃংলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুরোধ করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মো. নাসির মুন্সি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) মো. আতাউর রহমান বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) ডা. ইদ্রিস হাছান। এ সময় অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সবার সঙ্গে সঙ্গে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন দেশের ক্রিকেটাররাও।সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা এক ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন,‘সকল ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’ আরেক সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল লিখেছেন, ‘ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটার সৌম্য সরকার লিখেছেন, ‘রক্তে লেখা যে ইতিহাস, তা কখনও মুছে যায় না। একুশ আমাদের আত্মমর্যাদা, আমাদের অস্তিত্ব। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের সেই ত্যাগ আজও আমাদের শক্তি দেয়, সাহস দেয়।’তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘২১ মানে প্রতিবাদ। ২১ মানে আত্মমর্যাদার ঘোষণা। ২১ মানে পৃথিবীর বুকে প্রথম ভাষার জন্য আত্মদান। বাংলা আমার অহংকার, বাংলা আমার পরিচয়।’ একইভাবে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও রুবেল হোসেনরা।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের স্মরণ করলেন ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান।নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নায়ক। শাকিব খানের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এসকে ফিল্মস’ -এর পেজ থেকেও একই ছবি ও বার্তা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।শাকিব খানের শেয়ার করা পোস্টটির কার্ডে ভাষা দিবসের অর্থবহ গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে।ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চলচ্চিত্রের তিনটি ফিল্ম রোল লম্বালম্বিভাবে দাঁড় করিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদল তৈরি করা হয়েছে এবং পাশে একটি ফিল্ম রিল রাখা হয়েছে। নিজের পেশা অর্থাৎ চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ফিল্ম রোলের সাথে জাতীয় শোক, অহংকার ও গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনারকে এক সুতোয় গেঁথেছেন এই শীর্ষ নায়ক।এই ছবিটির ভেতরে এবং পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন দেওয়া সকল বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’
একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি)। ২০২১ সালের আজকের এই দিনে তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুদিনে তাকে নানাভাবে স্মরণ করছে বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীতে নানাবাড়ি দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। চলচ্চিত্রে তার পথচলা শুরু হয় ১৯৬১ সালে। উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৬৫ সাল থেকে অভিনয়ে নিয়মিত হন তিনি। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমনি’ তাঁকে খল চরিত্রে এনে দেয় অসামান্য খ্যাতি।তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি লিখেছেন চিত্রনাট্যও। নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘জলছবি’ ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে কাহিনিকার হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তার। এরপর শতাধিক ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি।এটিএম শামসুজ্জামান প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৮৭ সালে। কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০১২ সালে রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এ নন্দিত অভিনেতা। ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই অভিনেতা।শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ নামের প্রথম ছবি পরিচালনা করেন তিনি।এটিএম শামসুজ্জামানের উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে- ওরা এগারোজন, সূর্য দীঘল বাড়ি, লাঠিয়াল, অনন্ত প্রেম, যাদুর বাশি, রামের সুমতি, অশিক্ষিত, গোলাপি এখন ট্রেনে, ছুটির ঘন্টা, পুরস্কার, চাপা ডাঙ্গার বউ, দায়ী কে, ম্যাডাম ফুলি, দোলনা, ভন্ড, চোরাবালি, মোল্লা বাড়ির বউ, শ্বশুর বাড়ি জিন্দাবাদ, খায়রুন সুন্দরী, নাচনেওয়ালি, বাংলার বউ, হাজার বছর ধরে, গেরিলা, ডাক্তার বাড়ি, দাদীমা ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশেষ নাটক ‘চিঠিওয়ালা’ নির্মাণ করা হয়েছে। নাটকের চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে শহরের একটি পরিবারকে ঘিরে। স্ত্রী শৈলী ও ছেলে অনিন্দ্যকে নিয়ে শহরে থাকেন অনিক। নাগরিক আধুনিকতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নানা চেষ্টা তার। ছেলেকেও পড়ান ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। একদিন হঠাৎ তাদের বাড়ি বেড়াতে আসেন গ্রামের হাশেম চাচা। একটি চিঠি নিয়ে এসেছেন তিনি। নানা ব্যস্ততায় সেই চিঠি আর পড়া হয় না অনিকের। কিন্তু হাশেম চাচা বাড়িতে আসার পর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা।এরপর একদিন হাশেম চাচার আনা চিঠিটা পড়েন অনিক। চিঠিটি অনিকের প্রয়াত বাবার বন্ধু একজন ভাষাসৈনিকের লেখা। আবেগমাখা সেই চিঠি পড়ে অনিক বুঝতে পারেন, যে স্বপ্ন নিয়ে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে দেশের মানুষ, যে স্বপ্ন নিয়ে প্রাণের বিনিময়ে তারা স্বাধীন করেছে দেশ, সেই স্বপ্ন আজ ভুলতে বসেছে অনেকে। চিঠিটি বদলে দেয় পুরো পরিবারের বোধ।নাটকে হাশেম চাচার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ; অনিক চরিত্রে আহসান হাবিব নাসিম এবং শৈলীর চরিত্রে কাজ করেছেন সুষমা সরকার।‘চিঠিওয়ালা’ নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন রশীদ হারুন।নির্মাতা রশিদ হারুন জানান, “গল্পটা একটু ভিন্ন ধরনের। বিদেশি সংস্কৃতির জোয়ারে গা ভাসিয়ে আধুনিক হওয়ার চেষ্টা আমাদের সকলের মধ্যে আছে, কিন্তু এতে নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে ভুলতে বসেছে। দর্শককে সেই দিকটা দেখিয়ে দিবে এই নাটকটি, আশা করছি নাটকটি সবার পছন্দ হবে।” আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি চ্যানেল আইয়ে প্রচার করা হবে নাটকটি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। সংবাদমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার সকালে হিরো আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নামে একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। সেই মামলাতেই তাকে গ্রেফতার করা হলো।’গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আনোয়ারুল হক মামলাটির শুনানি শেষে হিরো আলমের বিরুদ্ধে ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ‘নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে’ সাদিয়া রহমান মিথিলাকে একাধিকবার ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেন হিরো আলম। পাশাপাশি তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাতেও বাধ্য করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী মিথিলা গত বছরের ২১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বগুড়ার আদালতে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।মামলাটি নিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যমকে হিরো আলম বলেছিলেন, ‘আমি এলাকার দিকে রওনা হয়েছি। রাতের মধ্যে এলাকায় চলে যাবো। মামলা তো ভুয়া। নির্বাচনের পর আমি আদালত যাব। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েও আমি ভোট দিতে যাব। কারণ ভোট দেয়া আমার নাগরিক অধিকার।’এদিকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন থেকে নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন হিরো আলম। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আমজনতার দলের হয়ে মনোনয়ন চাইলেও এবার আলম এনসিপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।
বলিউডের প্রভাবশালী চিত্রনাট্যকার এবং সুপারস্টার সালমান খানের বাবা সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি বর্তমানে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। ৯০ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।হাসপাতাল ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সেলিম খানের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেন হেমোরেজ) হয়েছে, যার ফলে শারীরিক জটিলতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে তাকে ‘ভেন্টিলেশন সাপোর্টে’ রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সব ঠিক থাকলে আজ বুধবার তার মস্তিষ্কে একটি জরুরি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।মঙ্গলবার বাবার অসুস্থতার খবর পাওয়া মাত্রই শুটিং ও ব্যস্ততা ফেলে হাসপাতালে ছুটে যান সলমন খানসহ পুরো খান পরিবার। পরিবারের অন্য সদস্য আরবাজ খান, সোহেল খান এবং আলভিরা অগ্নিহোত্রীও বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। রাতে প্রবীণ এই চিত্রনাট্যকারকে দেখতে হাসপাতালে যান বর্ষীয়ান অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত এবং সেলিম খানের দীর্ঘদিনের কাজের সঙ্গী জাভেদ আখতার।যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে পারিবারিক একটি সূত্র জানিয়েছে যে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষার পর আজ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচার শেষে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবেন বলে আশা করছেন তার স্বজনেরা।এদিকে সেলিম খানের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও সহকর্মীদের উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। বলিউডের বহু তারকা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিচ্ছেন।উল্লেখ্য, হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সেলিম খান এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশেষ করে জাভেদ আখতারের সঙ্গে তার ‘সেলিম-জাভেদ’ জুটি নব্বইয়ের দশকে বলিউডে বিপ্লব এনেছিল। তাদের কলম থেকেই বেরিয়ে এসেছে ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’, ও ‘ডন’-এর মতো কালজয়ী সব ছবি। এছাড়া এককভাবে ‘নাম’, ‘কব্জা’ ও ‘জুর্ম’-এর মতো সিনেমার চিত্রনাট্য লিখে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে রুবেল খন্দকার।বর্তমানে হারুন কিসিঞ্জারের গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই অভিনেতাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভিত্তিহীন মৃত্যুর খবর ভাইরাল হয়। রুবেল খন্দকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, কিছু অসাধু ও ভিউলোভী ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তার বাবার মৃত্যুর গুজব ছড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, মানুষের অসুস্থতা নিয়ে যারা ব্যবসা করতে চায়, তারা সমাজের আবর্জনা।এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। বাবার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রুবেল জানান, আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন হারুন কিসিঞ্জার। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকার পর তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলে আজই বাসায় ফিরতে পারেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে গুজব না ছড়াতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে রুবেল বলেন, ভিত্তিহীন খবরে বিভ্রান্ত না হতে। পাশাপাশি যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন অপপ্রচার বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন হারুন কিসিঞ্জার। কয়েকদিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থেকে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন গুজব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরাও। পরিবারের পক্ষ থেকে সঠিক তথ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগিতে মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য ও মনোযোগ বাড়াতে সারাদেশব্যাপী বিশেষ মসজিদ পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন ‘পরিচ্ছন্নতায় পবিত্রতা’ চালু করেছে জনপ্রিয় জীবাণুনাশক ফ্লোর ও সারফেস ক্লিনার লাইজল। টানা তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই উদ্যোগের আওতায় ঢাকাসহ দেশের ৮ বিভাগে শতাধিক মসজিদ পরিষ্কার করা হয়েছে।মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে। এতে লাইজলের নিজস্ব টিমের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও ধর্মীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—মুসল্লিদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন ইবাদতের পরিবেশ নিশ্চিত করা।রমজান মাসে মসজিদগুলোতে নামাজের পাশাপাশি ইফতার ও সেহরির সময় মুসল্লিদের পদচারণা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। রাজধানীর অনেক মসজিদে কার্পেট থাকলেও রাজধানীর বাইরে এখনও বহু মসজিদে খালি মেঝেতে নামাজ আদায় করা হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।শুধু রমজান মাসেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে মসজিদগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিটি মসজিদকে এক বছরের জন্য ফ্লোর ক্লিনিং সলিউশন প্রদান করছে লাইজল। পাশাপাশি রমজান উপলক্ষে বিশেষ রমজান ক্যালেন্ডার বোর্ড ও হাইজিন কিট বক্সও বিতরণ করা হচ্ছে।এ বিষয়ে রেকিট বাংলাদেশ-এর মার্কেটিং হেড সাবরিন মারুফ তিন্নি বলেন, ‘পবিত্র রমজানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদে বেশি সময় ইবাদতে কাটান। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ইবাদতে স্বস্তি ও মনোযোগ বাড়ায়। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা সারাদেশে মসজিদ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছি। ভবিষ্যতেও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে আমাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’ঘরের পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সামাজিক পরিসরেও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলাকে নিজেদের দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে দেখছে লাইজল। বাজারে বিদ্যমান পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে পরিচালিত ‘পরিচ্ছন্নতায় পবিত্রতা’ উদ্যোগটি ব্র্যান্ডটির সেই সামাজিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ ৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সৌদি আরবের আবহা শহরে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার। দুর্ঘটনা একই গাড়ির ড্রাইভার মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।একই ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুত্ব আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যার ছেলে ও নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। নিহত প্রবাসী গাড়ির ড্রাইভার একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।বাহারুল আলম জানান, মিজান সৌদি প্রবাসী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ হজ্বে যান। ৫দিন আগে ওমরাহর উদ্দেশে তারা সৌদির বাসা থেকে বের হন। ওমরাহ শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তারা। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।নিহত মিজানুর রহমানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পাশের গ্রামের সৌদি প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে তারা মিজানসহ ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এছাড়া মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদি আরবে ৫ জন মারা গেছে শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করব।
রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীর পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিতে থাকে। কারণ সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়, ফলে শরীরের তরল ক্ষতি হয় ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পেশীর কার্যক্রমে। এই অবস্থায় পানিশূন্যতা এড়াতে শুধু ইফতার বা সেহরিতে পানি খাওয়া যথেষ্ট নয়, সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুনসেহরি ও ইফতারের সময় মোটামুটি ৮-১০ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনে একবারে খুব বেশি পানি খাওয়ার চেয়ে এতে পানি ধীরে ধীরে পান করলে শরীর তার শোষণ ভালোভাবে করতে পারে। ফল ও সবজি যেমন তরমুজ, শসা, কমলা, টমেটো ইত্যাদি পানি-সমৃদ্ধ। এগুলো সেহরি ও ইফতারে থাকলে শরীর দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড থাকে।ক্যাফেইন ও চিনি-সমৃদ্ধ পানীয় সীমিত করুনচা, কফি ও কোলার মতো পানীয় শরীর থেকে পানি বের করে দেয় (ডাইউরেটিক প্রভাব), ফলে শরীর দ্রুত পানি হ্রাস পায়। জুস বা চিনিযুক্ত মিষ্টি পানীয়ও বেশি শর্করা থাকার কারণে ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে।লবণ ও মসলাযুক্ত খাবার কম খানঅতিরিক্ত লবণ শরীরের পানির চাহিদা বাড়ায়। তাই সেহরি ও ইফতারে বেশি লবণ বা তীব্র মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে লবণের বদলে লেবু, জিরা, তুলসী ইত্যাদি ব্যবহার করে স্বাদ বাড়িয়ে নিতে পারেন।হালকা ও নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুনরোজা যখন ভাঙবে (ইফতার), তখন একবারে অনেক পানি না গিলেই বরং ধীরে ধীরে এবং নিয়মিত পানি পান করুন। এইভাবে শরীরকে পর্যায়ক্রমে হাইড্রেটেড রাখা সহজ হয়।বাইরের তাপ বা গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে সতর্ক থাকুনযদি রোজা রাখার সময়ে সূর্যের তাপে বেশি সময় কাটে বা শারীরিক কাজ বেশি হয়, তাহলে ঘাম বের হয়ে শরীর থেকে আরও পানি ক্ষয় হতে পারে। চেষ্টা করুন সূর্যের তাপ থেকে দূরে থাকুন এবং হালকা কাজ বা বিশ্রাম নিন।ইফতার ও সেহরিতে স্যুপ বা দই রাখুনহালকা তরকারি স্যুপ বা দই পানি ও ইলেকট্রোলাইট সরবরাহে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়ক। বিশেষ করে দইতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের ত্বরণ ভালো রাখে।রোজা রাখার সময় শরীরের সিগন্যাল যেমন খুব বেশি পিপাসা, মাথাব্যথা, অতি ক্লান্তি বা কম প্রস্রাবের রং এসব লক্ষণ পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে রোজা ভেঙে শরীরকে রিফ্রেশ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়—এটি শরীর ও মনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার এক অনন্য সুযোগ। কিন্তু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারের টেবিলে বসে অনেকেই অজান্তেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। ফল হিসেবে রমজান শেষে দেখা দেয় ওজন বৃদ্ধি, বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা কিংবা সারাক্ষণ ক্লান্তিভাব।সারাদিন উপবাসের ফলে শরীরের শক্তির মজুত কমে আসে। এ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য বদলে যায়, ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তি পাওয়ার সংকেত পাঠায়। তখন তেলেভাজা, মিষ্টি বা ভারী খাবারের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।এছাড়া পাকস্থলী ভরে গেছে—এই তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এর আগেই অনেক খাবার খাওয়া হয়ে যায়। পারিবারিক আড্ডা, ঐতিহ্যবাহী ইফতার আর আবেগ মিলে এই প্রবণতা আরও বাড়িয়ে তোলে।ধীরে ইফতারই সুস্থতার প্রথম ধাপবিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতার শুরু করার পদ্ধতিই পুরো রাতের হজম ও ক্যালরি গ্রহণ নির্ধারণ করে।দুই থেকে তিনটি খেজুর ও এক গ্লাস পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে স্বাভাবিক হয়। এরপর ১০–১৫ মিনিট বিরতি দিয়ে হালকা কিছু খান—যেমন স্যুপ, ফল বা সালাদ।এই বিরতিতে পাকস্থলী প্রস্তুত হয়, হজমের চাপ কমে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।সুষম খাবার মানেই কম খাবার নয়, সঠিক খাবাররমজানে খাবার কমানোর চেয়ে ঠিকভাবে সাজানো প্লেট বেশি গুরুত্বপূর্ণ।খাবারের অর্ধেক অংশ রাখুন শাকসবজি ও সালাদে। এক-চতুর্থাংশে রাখুন প্রোটিন—মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা বা দই। বাকি অংশে থাকুক গোটা শস্য—রুটি, ওটস বা অল্প পরিমাণ ভাত।এই সমন্বয় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, রক্তে শর্করার ওঠানামা কমায় এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি জমতে দেয় না।মনোযোগী খাওয়া: নীরব অভ্যাস, বড় উপকারঅনেক সময় ক্ষুধার কারণে নয়, বরং অভ্যাসের কারণে আমরা বেশি খাই। টিভি দেখা, মোবাইল স্ক্রল করা বা গল্প করতে করতে খেলে মস্তিষ্ক বুঝতেই পারে না কতটা খাওয়া হয়েছে।খাওয়ার সময় মনোযোগ দিন খাবারের দিকে। ধীরে চিবিয়ে খান, স্বাদের অনুভূতি নিন। পেট অর্ধেক ভরলেই থামুন। এতে হজম সহজ হয় এবং শরীর প্রয়োজনের বেশি খাবার জমাতে পারে না।ভাজা ও মিষ্টি—পুরোপুরি নয়, সীমিত করুনরমজানের ইফতার ভাজা ও মিষ্টি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। এগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই। তবে এগুলোকে ইফতারের মূল খাবার না বানিয়ে পরিপূরক হিসেবে রাখুন।ভাজা খাবার প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে এক–দুদিন সীমিত রাখুন। সিরাপজাত মিষ্টির বদলে ফল, দই বা অল্প মধু ভালো বিকল্প হতে পারে।সেহরি: সারাদিনের নিয়ন্ত্রকসেহরি বাদ দিলে ইফতারে অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ সেহরি সারাদিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।ওটস, ডিম, দই, ফল, বাদাম ও সবজি দিয়ে হালকা কিন্তু পুষ্টিকর সেহরি হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি, যাতে দিনভর পানিশূন্যতা না হয়।বিশেষজ্ঞের মতবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন,“রমজানে অসুস্থ হওয়ার প্রধান কারণ অতিরিক্ত তেল, চিনি ও একসঙ্গে অনেক খাবার গ্রহণ। অল্প পরিমাণে, ধীরে এবং সুষমভাবে খেলে রোজা শরীরের জন্য উপকারী হয়ে ওঠে।”সংযমেই সুস্থতারমজান সংযমের শিক্ষা দেয়—খাবারেও তার ব্যতিক্রম নয়। প্লেট ছোট রাখুন, গতি কমান, প্রয়োজনের কথা ভাবুন। এতে ওজন বাড়বে না, বদহজম কমবে এবং রোজার আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য আরও গভীর হবে।সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন—রমজান হোক শরীর ও মনের জন্য প্রশান্তির মাস।
বসন্ত এসে গেছে। আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের শুরু। আজি বসন্তের আগমণে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। একই সঙ্গে আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বসন্ত আর ভালোবাসার রঙে আজ সেজে ওঠেবে মানুষ।এই দিনটিকে বাঙালিরা উদযাপন করে ভিন্ন ভাবে। সারাদেশে বিশেষ করে প্রতি বছর এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় উৎসবে মেতে ওঠে সবাই। যদিও চিরাচরিত বসন্ত উৎসবের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে এবছর। আজ এ উৎসব হচ্ছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে সাতটায়, সীমিত পরিসরে।্এই দিনটি ১৫৮৫ সালে বাংলা সনে ১৪টি উৎসব প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বসন্ত বরণ উৎসবের উন্মেষ ঘটে মুঘল সম্রাট আকবরের হাত ধরে। পরে ষাটের দশকে ফাল্গুনের প্রথম ছুটির দিনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল ছায়ানট। স্বাধীন বাংলায় প্রথম বসন্ত পালিত হয় ১৯৯৪ সালে। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদের হাত ধরে ১৪০১ বঙ্গাব্দের পহেলা ফাগুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় উদযাপন শুরু হয় এই উৎসবের। এরপর থেকে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে এই উৎসব।শীতের রিক্ততা মুছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে ফাল্গুনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। গণমানুষের কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক/ আজ বসন্ত... গোলাপের সুবাস আজ না ছড়াক/ কুসুমকলি আজ না হোক জীবন, তবু আজ বসন্ত...। কিন্তু ফুল আজ ঠিকই ফুটেছে। গাছে গাছে শিমুল, পলাশের আগমনির রঙ ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে শিমুল-পলাশের রক্তিম আভায় সেজেছে প্রকৃতি, আর সেই আভার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে মানুষের হৃদয়ের ভালোবাসা। গাছে গাছে জানান দিচ্ছে বসন্ত এসে গেছে। একই সঙ্গে আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফাল্গুনকে বলা হয় ফুলের মাস। রক্ত লালের আগুন থেকে শুরু করে শিমুলের নরম আভা সব মিলিয়ে বসন্ত অন্যরকম মাত্রা যোগ করে প্রকৃতিতে। প্রকৃতি বিভিন্ন রঙের উৎসবে মেতে ওঠে। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে বেড়ায় বাতাসে, কোকিলের কুহুতানে ভরে ওঠে চারদিক। এই মাসে বাতাসে মিশে থাকে এক মৃদু উষ্ণতা, যা শীতের মলিনতাকে নিঃশব্দে মুছে দেয়।সত্যিই বসন্ত এসে গেছে। আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের শুরু। আজি বসন্তের আগমণে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। একই সঙ্গে আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বসন্ত আর ভালোবাসার রঙে আজ সেজে ওঠেবে মানুষ।এই দিনটিকে বাঙালিরা উদযাপন করে ভিন্ন ভাবে। সারাদেশে বিশেষ করে প্রতি বছর এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় উৎসবে মেতে ওঠে সবাই। যদিও চিরাচরিত বসন্ত উৎসবের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে এবছর। আজ এ উৎসব হচ্ছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে সাতটায়, সীমিত পরিসরে।্ এই দিনটি ১৫৮৫ সালে বাংলা সনে ১৪টি উৎসব প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বসন্ত বরণ উৎসবের উন্মেষ ঘটে মুঘল সম্রাট আকবরের হাত ধরে। পরে ষাটের দশকে ফাল্গুনের প্রথম ছুটির দিনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল ছায়ানট। স্বাধীন বাংলায় প্রথম বসন্ত পালিত হয় ১৯৯৪ সালে। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদের হাত ধরে ১৪০১ বঙ্গাব্দের পহেলা ফাগুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় উদযাপন শুরু হয় এই উৎসবের। এরপর থেকে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে এই উৎসব।
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে বাধা এবং ব্যবসায়ী নেতার আস্ফালনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি একে ‘ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আপনি বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা হন বা মোঘল সম্রাট আকবর, মেমো বা রশিদ আপনাকে রাখতেই হবে। তাদের কপাল ভালো আমার হাতে পড়েনি।’ফেসবুকে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, ভোক্তার কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডলকে তার সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছে রাজধানীর চকবাজারের মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। এই সংবাদ ও ভিডিও সবাই দেখেছেন। সরকারি কাজে বাধা প্রদানের জন্য সভাপতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানা মামলা গ্রহণ করছে না মর্মে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে জানতে পারলাম।তিনি লেখেন, ভোক্তা থেকে মামলা দায়ের করার জন্য গতকাল অফিসিয়াল চিঠি দেওয়া হয়েছিল সংশ্লিষ্ট থানায়। ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে কিন্তু মামলা নেয়নি থানা। ভয়াবহ এক ব্যাপার এবং অপরাধ। আপনি বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা হন বা মোঘল সম্রাট আকবর, খাদ্য দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়, মজুদ, ব্যবহার সবকিছুর ট্রেসেবিলিটি নির্ধারণে আপনাকে মেমো বা রশিদ রাখতেই হবে। এই রশিদ না রাখা, নিরাপদ খাদ্য আইন এবং ভোক্তা আইন, উভয় আইনেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।সাবেক অতিরিক্ত সচিব লেখেন, এই রশিদ না রাখা এবং ছোলার অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা এক ব্যবসায়ীকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করলে, সেই সভাপতি এতে বাধা প্রদান করেন।‘সভাপতি ভবিষ্যতে মৌলভীবাজারে কোনো অভিযান পরিচালনা না করার জন্য ভোক্তার কর্মকর্তাকে সতর্ক করে দেন। কী দেখছি!! কী শুনছি!! তাদের কপাল ভালো আমার হাতে পড়েনি এরা।’তিনি লেখেন, ভোক্তার ডিজিকে অনুরোধ করব অতি দ্রুত যৌথ বাহিনী নিয়ে মৌলভীবাজারে অভিযান পরিচালনার জন্য। পুলিশ প্রশাসনের নিকট অনুরোধ, ভোক্তার মামলা গ্রহণ করার জন্য। নাহলে জনকল্যাণ মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে। যদি ডিজির মেরুদণ্ড বলে কিছু থেকে থাকে। যদিও তার চাকুরি আছে মাত্র কয়েকমাস।