মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এ সহযোগিতা চান তিনি। এসময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্যাস সংকট নিরসনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত জানান, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়ি বহরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন।তিনি বলেন, এ হামলায় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত হয়েছেন। এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাসটিকে হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজের ভেতরে নিয়ে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতর ঢুকিয়ে ন্যাক্করজনক এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। কেবল মাইক্রোবাস ভেঙেই ক্ষান্ত হয়নি তারা; মোবাইল এবং ক্যামেরাও নিয়ে গেছে। গাড়ি ভাংচুরের একটা ভিডিও আমাদের কাছে এসেছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসানের ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে স্থানীয় নাগরিকদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি বহাল রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগসহ বিদেশি শ্রমিক সংকট দ্রুত কাটাতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের এক মাসের আলটিমেটামের পর মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০ দিনের মধ্যেই বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নেগেরি সেম্বিলানের এসজেকেটি লাদাং সেনাওয়াংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রামানান বলেন, মালয়েশিয়ার নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। তাই প্রতিটি চাকরির সুযোগ আগে স্থানীয়দের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। উপযুক্ত স্থানীয় কর্মী না পাওয়া গেলে এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই কেবল বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে।মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে স্বীকৃত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—স্থানীয়দের সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার পরই বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।মানবসম্পদমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ করে সেবা ও রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ৩০ দিনের সময়সীমা দিলেও তিনি ২০ দিনের মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তবে নিরাপত্তা যাচাই, মানবসম্পদ মূল্যায়ন ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর তা নির্ভর করবে।গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিশেষ করে রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সরকারের ভাষ্য, শ্রমিক সংকট নিরসন জরুরি হলেও বিদেশি কর্মী নিয়োগ অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যেই হবে।এদিকে মঙ্গলবার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রামানান জানান, দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। কর্মী নিয়োগের সময়সীমা, কার্যপ্রণালি এবং বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে।তিনি বলেন, সম্ভবত আগামীকাল অথবা পরশুর মধ্যেই আমরা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব। এরপর মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।রামানান জানান, বর্তমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বছরের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও আপাতত নতুন চুক্তি নয়, বরং শ্রমবাজারের তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণই দুই দেশের মূল লক্ষ্য।তার ভাষায়, বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় জনশক্তি পাঠাতে প্রস্তুত, আর মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে খাদ্য ও পানীয় (এফঅ্যান্ডবি) শিল্পে তীব্র শ্রমিক সংকট রয়েছে। তাই কারিগরি বিষয়গুলো পরে হলেও, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শ্রমিক সংকট দ্রুত নিরসন।বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর কোটা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। দ্বাদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১২এমপি) অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বিদেশি কর্মী হতে পারবেন। ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনায় (১৩এমপি) ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পথও উন্মুক্ত করতে পারে।
দেশের অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বিএসটিআই।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত গবেষণায় টুথপেস্টের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।বিএসটিআই জানিয়েছে, তারা নিজ উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে কোনো পণ্য বাংলাদেশ মান পূরণ করেনি অথবা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানায় বিএসটিআই। সংস্থাটি বলেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা, যা খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে, এমনটি মনে করে বিএসটিআই।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে প্রথম মাইক্রোবিড-ফ্রি ওয়াটার অ্যাক্ট ২০১৫-তে টুথপেস্টসহ ধৌতযোগ্য কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় আইন মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদনকারীদের ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোজিত প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ।বিএসটিআই বলেছে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশের স্ট্যান্ডার্ডে বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মান সংস্থা প্রণীত মানে টুথপেস্ট পণ্যের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো মাত্রা বা ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয় উল্লেখ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক পরীক্ষার পদ্ধতি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।বিএসটিআই বলেছে, টুথপেস্ট পণ্যের জন্য বাংলাদেশ নির্ধারিত মান (স্ট্যান্ডার্ড) রয়েছে। সেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারসংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও উক্ত স্ট্যান্ডার্ডে টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক উল্লেখ নেই। বিএসটিআই থেকে সনদ দেওয়ার আগে টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়। ফলে টুথপেস্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই।সংস্থাটি আরও বলেছে, শুধু কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেছে বলেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা সেটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এ জন্য আরও বিস্তারিত পরীক্ষা, কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন প্রয়োজন।বিএসটিআই ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, পণ্যের উপাদান ও সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।বিএসটিআই ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্তচিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি সংযোজনসহ বাংলাদেশ মান হালনাগাদ করা হবে বলে জানায় সংস্থাটি।
পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নামে মেসেজ দিয়ে অর্থ দাবি ও বিভিন্ন ধরনের তদবির প্রতারণার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। প্রতারক চক্র এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে একদিকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার মর্যাদাহানি করছে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় সতর্ক থাকার এই আহ্বান জানানো হয়েছে।ওই বার্তায় বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যেকোনো আইডিতে কোনো সরকারি কর্মকর্তার ছবি থাকা মানে মোবাইল নম্বরটি ওই ব্যক্তির বলে নিশ্চিত হওয়ার কারণ নেই। প্রতারকদের এ ধরনের মেসেজে (বার্তা) সাড়া না দিতে সকলের প্রতি অনুরোধ । কেউ প্রতারক চক্রের এ ধরনের বার্তা পেলে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে এবং সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডি ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), ডিএমপি কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।বাংলাদেশ পুলিশ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে। কেউ এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মানব পাচারের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল রূপ হচ্ছে বাধ্যতামূলক অনলাইন প্রতারণা। পুরো বিশ্বে মানুষ আজ সম্মানজনক কাজের মিথ্যা আশ্বাসে প্রলুব্ধ হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তারা অপরাধী চক্রের জালে বন্দি হয়ে অন্যদের সাথেও প্রতারণা করতে বাধ্য হচ্ছে।বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় মহাসচিব বলেন, অপরাধী চক্রগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে প্রতারণা করছে এবং অবৈধ পন্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় একটি ঐক্যবদ্ধ বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোকে চিহ্নিত করতে এবং অপরাধীদের অর্থায়ন বন্ধ করতে গোয়েন্দা সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রকদের একত্রিত করবে। ২০২৪ সালে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো 'সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কনভেনশন' গ্রহণ করেছে, যা আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার করার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি।বিশ্বের সকল রাষ্ট্রকে এই কনভেনশনটি অনুস্বাক্ষর করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সাইবার প্লাটফর্মের অপব্যবহার বন্ধের আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, স্ক্যাম সেন্টারগুলোর হাত থেকে বেঁচে ফেরাদের ঘুরে দাঁড়াতে এবং নতুন করে জীবন পুনর্গঠনে সহায়তা করতে হবে। মানব পাচার মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। পুরো বিশ্ব একসাথে কাজ করার মাধ্যমে চিরতরে এই অপরাধের অবসান ঘটানো সম্ভব।
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও জোকালো পাবলিক স্কয়ারের পাশে গুলির ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।সোমবারের এই ঘটনাকে দেশটির নিরাপত্তা–বিষয়ক সচিবালয়‘সরাসরি হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বলা হয়েছে, গুলিতে ৪২ বছর বয়সী এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। আহত দুজনও পুরুষ। দুজনেরই বয়স ৩৯ বছর। সন্দেহভাজন হামলাকারী গুলি করার পরপরই মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনাটি মেক্সিকো সিটির সান্তো ডোমিঙ্গো চত্বরে ঘটেছে। ঔপনিবেশিক আমলের ভবনে ঘেরা এ জায়গাটি জাল নথিপত্র তৈরি ও বিক্রির কারণে বেশ পরিচিত।
নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপককে পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামান।কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবীবুর রহমানকে।এছাড়া হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যদের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।তারা নিজ নিজ বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাদের সার্বক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এসব নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী পরিচালিত ৭ হাজার ১০৫টি অভিযানে ৪১ হাজার ৫৯৬ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। একই সময়ে ৯৬ হাজার ৯৯৪ জনের কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই করা হয়েছে।সোমবার হারিয়ান মেট্রোর"র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ক্লাংয়ের কাপার বেস্টারি শিল্পাঞ্চলে সমন্বিত আইন প্রয়োগ অভিযান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান।তিনি বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপসম) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (এএমএলএ)-এর আওতায় আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে, যাতে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়।জাকারিয়া বলেন, আইনে প্রদত্ত সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এখনও আইনের বাইরে থেকে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য এটি একটি কঠোর বার্তা।তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধকে দেশের জন্য একটি 'ক্যানসার' বা মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখতে চাই না। তাই কোনো ধরনের আপস ছাড়াই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।এদিকে, ক্লাংয়ের কাপার বেস্টারি শিল্পাঞ্চলের দুটি ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৫৮ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।জাকারিয়া জানান, স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি শ্রম বিভাগ এবং পরিবেশ বিভাগ-এর মোট ৭৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিরা বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কাগজপত্র নিয়োগকর্তার কাছে রাখা হয়েছে। এ কারণে তাদের আপাতত আটক রেখে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রত্যেকের বৈধ অবস্থান যাচাই করা হবে।ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জানান, অভিযানে দেখা গেছে কারখানাগুলোতে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হতো। কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেলেই শ্রমিকদের লুকিয়ে পড়া বা পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া ছিল তাদের সাধারণ কৌশল (মোডাস অপারেন্ডি)।তিনি বলেন, এ ধরনের কৌশল ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানে প্রায়ই দেখা যায় এবং এ বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
২০২৭ সালের হজে যেতে আগ্রহীদের জন্য সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সময়সূচি নির্ধারণ করেছে।আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে।হজে যেতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে।প্রাথমিক নিবন্ধনকারীদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত হজ প্যাকেজের বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।যেভাবে করবেন নিবন্ধনসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ই-হজ সিস্টেমে ইউজার তৈরি করে নিজেরাই নিবন্ধন করতে পারবেন। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে।অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তহজে যেতে আগ্রহীদের এমন পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন এবং হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।তবে ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবেন না। একইভাবে গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, স্নায়ুবিক বা মানসিক রোগী এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজ পালনের জন্য অনুমোদিত হবেন না।এ ছাড়া কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি গ্রহণরত ক্যানসার রোগীরাও হজে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না।জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সক্রিয় সংক্রামক রোগ, যেমন যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হজে যেতে পারবেন না।পাশাপাশি গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা কোনো নারী পাবেন না হজযাত্রী ফিটনেস সনদ।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসানের ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে স্থানীয় নাগরিকদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি বহাল রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগসহ বিদেশি শ্রমিক সংকট দ্রুত কাটাতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের এক মাসের আলটিমেটামের পর মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০ দিনের মধ্যেই বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নেগেরি সেম্বিলানের এসজেকেটি লাদাং সেনাওয়াংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রামানান বলেন, মালয়েশিয়ার নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। তাই প্রতিটি চাকরির সুযোগ আগে স্থানীয়দের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। উপযুক্ত স্থানীয় কর্মী না পাওয়া গেলে এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই কেবল বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে।মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে স্বীকৃত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—স্থানীয়দের সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার পরই বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।মানবসম্পদমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ করে সেবা ও রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ৩০ দিনের সময়সীমা দিলেও তিনি ২০ দিনের মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তবে নিরাপত্তা যাচাই, মানবসম্পদ মূল্যায়ন ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর তা নির্ভর করবে।গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিশেষ করে রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সরকারের ভাষ্য, শ্রমিক সংকট নিরসন জরুরি হলেও বিদেশি কর্মী নিয়োগ অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যেই হবে।এদিকে মঙ্গলবার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রামানান জানান, দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। কর্মী নিয়োগের সময়সীমা, কার্যপ্রণালি এবং বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে।তিনি বলেন, সম্ভবত আগামীকাল অথবা পরশুর মধ্যেই আমরা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব। এরপর মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।রামানান জানান, বর্তমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বছরের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও আপাতত নতুন চুক্তি নয়, বরং শ্রমবাজারের তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণই দুই দেশের মূল লক্ষ্য।তার ভাষায়, বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় জনশক্তি পাঠাতে প্রস্তুত, আর মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে খাদ্য ও পানীয় (এফঅ্যান্ডবি) শিল্পে তীব্র শ্রমিক সংকট রয়েছে। তাই কারিগরি বিষয়গুলো পরে হলেও, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শ্রমিক সংকট দ্রুত নিরসন।বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর কোটা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। দ্বাদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১২এমপি) অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বিদেশি কর্মী হতে পারবেন। ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনায় (১৩এমপি) ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পথও উন্মুক্ত করতে পারে।
দেশে চলমান গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পাঁয়তারা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে চলমান সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।রোববার (২৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।বিবৃতিতে জুবায়ের বলেন, দেশের নাগরিকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় এলপিজি ও সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছেন। এর ফলে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না, সিএনজিচালিত যানবাহনের চলাচল এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।জামায়াতের এ নেতা বলেন, দেশবাসীর ধারণা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, সরকারের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম গ্যাস সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো অপচেষ্টা চলছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও খনন, বিদ্যমান গ্যাসকূপ থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করতে হবে।অ্যাডভোকেট জুবায়ের অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের পরিবর্তে অসাধু চক্রকে সুবিধা দিতে ব্যস্ত। এর ফলেই সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে।চলমান সংকট দ্রুত নিরসন করে জনগণকে স্বস্তি দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত জানান, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়ি বহরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন।তিনি বলেন, এ হামলায় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত হয়েছেন। এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাসটিকে হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজের ভেতরে নিয়ে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতর ঢুকিয়ে ন্যাক্করজনক এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। কেবল মাইক্রোবাস ভেঙেই ক্ষান্ত হয়নি তারা; মোবাইল এবং ক্যামেরাও নিয়ে গেছে। গাড়ি ভাংচুরের একটা ভিডিও আমাদের কাছে এসেছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন অনেক সমর্থক। তাদের দাবি করছেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আলবিসেলেস্তেরা একাধিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে আর্জেন্টিনার টেলিভিশন অনুষ্ঠান তোদো নতিসিয়াস। অনুষ্ঠানটি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ‘প্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ১০ জন পরিচিত ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে সবার উপরে আছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান।শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় মিশর। ওই ম্যাচে মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে ‘বেইন স্পোর্টস’-কে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা তাদের বিপক্ষে অনেক ভালো দল ছিলাম, কিন্তু যা হলো সেটা অন্যায় হয়েছে। আমাদের একটি পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল এবং একটি গোল বাতিল হলো। এটা কি শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য? তারা কি চায় মেসি খেলা চালিয়ে যাক?’ব্রিটিশ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানও আছেন এই তালিকায়। তিনি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে এক্স-এ লিখেছিলেন, ‘তাদের আচরণ ছিল জঘন্য, বিশেষ করে পারেদেসের। তারা একটি সহিংস দল এবং ফুটবলের জন্য কলঙ্ক।’ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক জোনাথান ফিয়ালি জবাব দেন, ‘আমরা কি একজন ইংরেজ সাংবাদিকের মুখে এসব আজেবাজে কথা শুনছি?’এই তালিকায় আছেন হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনও। অনুষ্ঠানের দাবি, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় তাকে ‘আর্জেন্টিনা বিরোধী’ অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রাখা হয়েছে।এ ছাড়া তালিকায় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্প্যানিশ সংগীতশিল্পী রোসালিয়া এবং চিলির অভিনেতা পেদ্রো পাসকালের নামও রয়েছে। যদিও তাদের প্রত্যেকের মন্তব্য বা অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠানে পৃথকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা আইশো স্পিডও এই তালিকায় রয়েছেন। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ এবং আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে অনলাইনে ও সরাসরি বাকবিতণ্ডার ঘটনাকে অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনাবিরোধী আচরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।তোদো নতিসিয়াস-এর এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে একটি বৈধ আত্মপক্ষ সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যরা এটিকে অতিরঞ্জন হিসেবে দেখেন এবং তাদের মতে, সাধারণ সমালোচনাকে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ভারতের মুম্বাইয়ের ২৭ বছর বয়সী মডেল ও থিয়েটারশিল্পী রিয়া আহির বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করলে, তাদের মুক্তির দাবিতে তিনি নিদ্বির্ধায় পুলিশের ভ্যানের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।সেই সাহসী অবস্থানের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তাকে ‘সাহসী’ ও অকুতোভয় আখ্যা দিয়ে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সম্পর্কে রিয়া জানান, তার বাবা-মা মেয়ের এই সাহসিকতায় ভীষণ খুশি হয়েছেন এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে জাতীয় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে তোলে, যার মধ্যে নারী আন্দোলনকারীও ছিলেন।রিয়া আহির জানান, আটক হওয়া সেই ব্যক্তিদের কাউকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না। তবে যেভাবে গাদাগাদি করে মানুষকে ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তা দেখে নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি চুপ থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, ভ্যানে অনেককে তুলে দেওয়া দেখে তিনি এক নারীকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে তিনি চলন্ত ভ্যানের ঠিক সামনে গিয়ে দাঁড়ান এবং আটকে থাকা সবাইকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রিয়া অবিচলভাবে পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সেখান থেকে সরে যেতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। রিয়ার অভিযোগ, তাকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভ্যানচালক বেশ কয়েকবার জোরে ইঞ্জিন চালিয়ে গাড়ি সামনে নেওয়ার ভয় দেখান, কিন্তু তিনি একচুলও নড়েননি।রিয়ার এই অদম্য অবস্থান দেখে অন্য আন্দোলনকারীরাও তার পাশে এসে কাঁধ মেলান। তীব্র প্রতিবাদ ও তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশ আটক ব্যক্তিদের শিবাজি পার্কেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।রিয়া জানান, এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ। ২১ জুলাই তিনি প্রথমবার শিবাজি পার্কে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ অনেককে আটক করায় তিনি পরদিন ২২ জুলাই আবার সেখানে যান। আর সেদিনই ঘটে যায় সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, যা তাকে এক লহমায় পরিচিত মুখ বানিয়ে তোলে। রিয়া বলেন, আন্দোলনটির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না; পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়ে সে মুহূর্তে নিজের বিবেকের তাড়না থেকেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন।এমন বিপদের মুখেও সাহসের পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে রিয়া জানান, তার পরিবারের সঙ্গে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘ ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশে (ITBP) দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রতিরক্ষাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। রিয়া মুচকি হেসে বলেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস হয়তো তাঁর রক্তেই প্রবাহিত হচ্ছিল।রিয়া মনে করেন, এই সংগ্রাম কেবল প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে নয়, বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পক্ষে। মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও পেশাগত ব্যাস্ততায় গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি রিয়া। বর্তমানে তিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করছেন।নিজের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা থেকে অভিযোগ তুলে রিয়া বলেন, নিয়মিত কোর্স ফি পরিশোধ করা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যায় না এবং সরকারি যোগাযোগের নম্বরগুলোতেও কেউ সাড়া দেয় না। তার ভাষায়, এটি শুধু বিশেষ একটি পরীক্ষার বিষয় নয়, পুরো ব্যবস্থার যে গলদ রয়েছে—এ আন্দোলন তারই এক সম্মিলিত প্রতিবাদ।প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠার পাশাপাশি পেশাগত জীবনে রিয়া আহির প্রায় ১৩ বছর ধরে নিয়মিত হিন্দি থিয়েটারে যুক্ত রয়েছেন এবং দাপটের সাথে মডেলিং করছেন। এর বাইরে গত বছর তিনি ‘রিয়াসত’ নামে নিজস্ব একটি উদ্যোগ চালু করেন, যার মূল কাজ হলো স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাডার কোলহাপুরি চপ্পলের নকশা বিতর্কের পর দেশের প্রান্তিক কারিগরদের কাজকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার ভাবনা থেকেই এই সামাজিক উদ্যোগের জন্ম দেন তিনি।
অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী মো. খুরশীদ আলমকে নিয়ে এবার একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন টিভি ব্যাক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। দেশের বরেণ্য এই সংগীতশিল্পীর জীবন, সংগীতচর্চা ও শিল্পীসত্তাকে তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’ শিরোনামের প্রামাণ্য চিত্রটিতে খুরশীদ আলমের দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, স্মৃতি, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্য চিত্রটিতে খুরশীদ আলমের সংগীতজীবনের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি তার ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা গল্প, স্মৃতিচারণ এবং বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তার অসামান্য অবদান উঠে এসেছে।দেশের সংগীতপ্রেমী দর্শকদের জন্য প্রামাণ্য চিত্রটি হবে একজন বরেণ্য শিল্পীকে নতুনভাবে জানার ও তার বর্ণাঢ্য জীবন-সংগীতের পথচলা উপভোগ করার একটি বিশেষ আয়োজন। আগামী ১লা আগস্ট খুরশীদ আলম ৮১ বছরে পা রাখবেন। তার এই জন্মদিন উপলক্ষে সেদিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে চ্যানেল আইতে প্রচার হবে প্রামাণ্য চিত্র ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’।
দীর্ঘ ছয় দশকের সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক সংগীত পরিবেশনায় হাজির হচ্ছেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। একই অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা। তবে এবারের আয়োজনটি শুধু সম্মাননা ও সংগীত পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় দেওয়া হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘রুনা লায়লা’ শীর্ষক এই সম্মাননা ও একক সংগীত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই। রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে অনুষ্ঠানটি। এতে নিজের জনপ্রিয় কয়েকটি গান পরিবেশন করবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই শিল্পী।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের টিকিটের শুভেচ্ছা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিনটি শ্রেণিতে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির টিকিটের দাম ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের দাম ২ হাজার টাকা। টিকিট বিক্রির অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে।টিকিট সংগ্রহের জন্য আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে অর্থ, হিসাব ও পরিকল্পনা বিভাগের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায়।জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং ডা. জাহেদ উর রহমান (উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।
ছোটপর্দা ও বিজ্ঞাপন নির্মাণে সাফল্য অর্জন করে ফেলেছেন। এরপর এখন যাত্রা শুরু করলেন বড় পর্দার নির্মাণ। নির্মাতা আদনান আল রাজী কয়েক দিন আগে দিয়েছেন নিজের প্রথম সিনেমার ঘোষণা। তখন সিনেমার নাম কিংবা অভিনয়শিল্পীদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও তিনি এখন জানিয়েছেন এটি হবে একটি প্রেমের গল্প। আর সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন সিয়াম আহমেদ।সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাতা ও সিয়ামের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগেই মৌখিক কথাবার্তা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি নন আদনান আল রাজীব কিংবা সিয়াম। দুজনই এ বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন।যদিও নায়ক হিসেবে সিয়ামের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, সিনেমাটির নায়িকা কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য জানা যায়নি।এ বিষয়ে আদনান আল রাজীবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।সিয়াম আহমেদকে সর্বশেষ গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘রাক্ষস’-এ দেখা গেছে। নতুন এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও একটি রোমান্টিক চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরতে যাচ্ছেন তিনি।অন্যদিকে ‘কাছে আসার গল্প’, ‘বিকেল বেলার পাখি’ ও ‘মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট’-এর মতো আলোচিত নাটক নির্মাণের পর পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনায় অভিষেক হতে যাচ্ছে আদনান আল রাজীবের।
বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা আবারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায়। গ্রিসে অবকাশযাপনের সময় সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।নিজের ইনস্টাগ্রামে ‘গ্রিস ডায়েরি’ ক্যাপশনে একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন মালাইকা। সেখানে সমুদ্রের নীল জলে স্বল্পবসনা অবস্থায় তাকে দেখা যায়। একটি ছবিতে হাতে ওয়াইনের বোতল নিয়ে সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তবে নেটিজেনদের নজর কাড়ে তার পাশে একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক রহস্যময় পুরুষ। ওই ব্যক্তির মুখ স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে তার পরিচয় নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনেকের ধারণা ওই ব্যক্তি হতে পারেন হীরা ব্যবসায়ী হর্ষ মোহতা। যদিও এ বিষয়ে মালাইকা অরোরা বা হর্ষ মোহতার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।এর আগে অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে মালাইকার সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই ছবিগুলো প্রকাশের পর আবারও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।বর্তমানে গ্রিসের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে সময় কাটাচ্ছেন মালাইকা। সেখানে গোলাপি মনোকিনি, বিকিনি এবং সমুদ্রসৈকতে তোলা বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছেন তিনি। তবে রহস্যময় পুরুষ সঙ্গীকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য সামনে আসেনি।
বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর কট্টরপন্থী এক হিন্দু ধর্মগুরুর পক্ষ থেকে অভিনেতাকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণার দাবি সামনে এসেছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অযোধ্যার কট্টরপন্থী ধর্মগুরু জগৎগুরু পরমহংস আচার্য এক বক্তব্যে দাবি করেন, যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করবে, তাকে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ও বহনের কথাও বলেন তিনি।সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে আইনি প্রক্রিয়ায় গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। বিয়ের পর থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ এ নিয়ে সমালোচনা শুরু করে। এর আগে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেছিলেন।পরমহংস আচার্যের অভিযোগ, আমিরের তিন স্ত্রীই হিন্দু পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং এটি নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ‘লাভ জিহাদ’-কে উৎসাহিত করার অংশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে, একই বক্তব্যে অযোধ্যার রামমন্দিরের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরমহংস বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) তদন্ত করছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে আমির খান বা তার টিমের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।তবে জানা গেছে গৌরি হিন্দু নন। তিনি খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। সূত্র: সামা টিভি
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারের হটস্পট, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মানুষ স্কিন ক্যান্সার এবং মেলানোমায় মারা যায় এবং প্রতি ৩ জন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় ২ জনের জীবনে অন্তত একবার স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে ধারণা করা হয়। এমন একটি দেশে যেখানে সানস্ক্রিন একটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে।ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘চয়েস’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লিখিত এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ছিল এসপিএফ ৫০+ (SPF 50+) হিসেবে বাজারজাত করা একটি পণ্যকে ঘিরে, যা পরীক্ষায় প্রায় এসপিএফ ৪ (SPF 4) এর মতো কাজ করেছে বলে জানা যায়। ব্র্যান্ডটি এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালেও পণ্যটি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে কেন এত বড় অমিল দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে যে আমদানি করা পণ্য ত্বকের যত্নের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই সংবাদটি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের নামই এখন আর যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোক বা কোনো স্থানীয় কোম্পানির, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি তার লেবেলে লেখা সুরক্ষা সত্যিই প্রদান করে কি না । এই বিষয়টি ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আরও বেশি মানুষকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না। তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়। কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা। বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে। এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে। শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে। তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
দেশের বাজারে ফের সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর) সোনার দাম কমে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার গহনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিত বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার মূল্য হ্রাস পাওয়ায় দেশের বাজারেও সোনার গহনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে তৃতীয়বারের মতো মালয়েশিয়া সফরে আসছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাত ১১টায় মন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ঢাকায় থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ মোট চারজন থাকবেন।আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারেন। যদিও সফর নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরেরও সম্ভাবনা রয়েছে।পুত্রজায়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।এদিকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর। তিনি নির্বাচিত কয়েকটি খাতে, বিশেষ করে রেস্তোরাঁ শিল্পে বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত আবেদন ও জটিলতা আগামী এক মাসের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।গত শুক্রবার রাতে পেনাংয়ের বাটারওর্থে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান মুসলিম ট্রান্সফরমেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক (আইএমটিএফ) ২০৩০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি খাতে শ্রমিকের তীব্র সংকট রয়েছে। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতে হবে।তিনি বলেন, শুধু শূন্যপদ পূরণের জন্য সরকার বিদেশি, বিশেষ করে অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য পুরোপুরি দরজা খুলে দিতে চায় না। তবে যেসব খাতে জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক প্রয়োজন, সেসব খাতের সংকট সমাধানে সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে।এর আগে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও মাদানি সরকারের মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেস্তোরাঁ ও নির্মাণ খাতসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা সরকার পুনর্বিবেচনা করছে।বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। দ্বাদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১২এমপি) অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দেশের মোট শ্রমশক্তির ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। আর ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমিক সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর এই সফর এবং আগামী ৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা শ্রমবাজারে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে এমওইউ স্বাক্ষর হলে বাংলাদেশ থেকে পুনরায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের ব্যবহার শুধু ফোনকল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নেই। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও দেখা, গেমিং, ছবি তোলা কিংবা ডিজিটাল লেনদেন—সবকিছুর জন্যই এখন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তাই ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ব্যবহারকারীদের অন্যতম বড় উদ্বেগ। এ কারণেই দীর্ঘক্ষণ চার্জ ধরে রাখতে সক্ষম ব্যাটারির চাহিদা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।এই চাহিদা পূরণে স্মার্টফোন নির্মাতারা ব্যাটারির ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারেও জোর দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আলোচনায় এসেছে টাইটান ব্যাটারি। এতে প্রথাগত গ্রাফাইট এনোডের পরিবর্তে সিলিকন-কার্বন ব্যবহৃত এনোড রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একই জায়গায় তুলনামূলক বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। ফলে, স্মার্টফোনের আকার খুব বেশি বড় না করেও দীর্ঘ সময়ের ব্যাটারি ব্যাকআপ নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি, এফিশিয়েন্ট পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ব্যাটারির স্থায়িত্বও বাড়ায়।এই প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে রিয়েলমি তাদের নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে টাইটান ব্যাটারি সংযুক্ত করছে। বড় ব্যাটারি সক্ষমতার সাথে উন্নত পাওয়ার ম্যানেজমেন্টের সমন্বয়ে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ, বিনোদন কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে নতুন প্রযুক্তির এই প্রয়োগ স্মার্টফোন বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সম্প্রতি রিয়েলমি ‘ব্যাটারি চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে পরিচিত রিয়েলমি সি১০০আই স্মার্টফোন বাংলাদেশের বাজারে উন্মোচন করেছে। ৭,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সুবিশাল টাইটান ব্যাটারির স্মার্টফোনটি একবার পূর্ণ চার্জে তিনদিন পর্যন্ত চলতে সক্ষম। সারাদিনের কাজ ও নিরবচ্ছিন্ন বিনোদনের জন্য তৈরি এই ডিভাইসে ২১ ঘণ্টা পর্যন্ত ইউটিউব স্ট্রিমিং ও ৯৬.৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মিউজিক প্লেব্যাক করা যায়। বড় ব্যাটারি হওয়ার পরও স্মার্টফোনটি মাত্র ৮.৩৮ মিলিমিটার স্লিম, যা এই সেগমেন্টের সবচেয়ে পাতলা ৭,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ডিভাইস।এছাড়াও, ফ্লুইড স্ক্রলিং, গেমিং ও ভিডিও ভিউইংয়ের জন্য রিয়েলমি সি১০০আইয়ে ৬.৮ ইঞ্চি ১২০ হার্জ আলট্রা স্মুথ ডিসপ্লে রয়েছে। ডিভাইসটিতে ৩০০% পর্যন্ত ভলিউম ও আলট্রা-ক্লিয়ার স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে, যেন ব্যবহারকারী যেকোনো পরিবেশে লাউড ও ক্লিয়ার অডিও শুনতে সক্ষম হন। দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতে ডিভাইসটিতে ৪৮ মাসের ফ্লুয়েন্সি প্রোটেকশন, আইপি৬৪ ডাস্ট অ্যান্ড ওয়াটার রেজিজট্যান্স, ডিউরেবল আর্মরশেল প্রোটেকশন ও ১,৬০০-এরও বেশি চার্জ সাইকেল সহ ৬ বছর পর্যন্ত ব্যাটারি লাইফস্প্যান রয়েছে।রিয়েলমি সি১০০আই ডন পার্পল ও ডাস্ক গ্রে, এই দুইটি আকর্ষণীয় রঙে পাওয়া যাচ্ছে। ৪ জিবি + ৬৪ জিবি ভ্যারিয়েন্টের ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৬,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য) ও ৪ জিবি + ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম মাত্র ১৮,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।সুবিশাল টাইটান ব্যাটারির স্মার্টফোনটি ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে। এই প্রযুক্তি শুধু দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখাই নিশ্চিত করে না, বরং স্মার্টফোন ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’