ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন।এবার মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫। গণভোটে মতামত পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। জনরায়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ ভোট।’গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় কী কী পরিবর্তন আসছে, জনমনে এমন প্রশ্ন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের তৃতীয় ধাপ শুরু হবে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত। এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না; একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারবেন না এবং বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাহী ক্ষমতার প্রায় সবটিই প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত—সংস্কার প্রস্তাবনায় এমনটিই বলা আছে। সংস্কার প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ আছে, সংস্কার কার্যকর হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাও কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে। মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে দিতে পারবেন।এ ছাড়া কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। কোনো একটি দলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে তিনটি ধাপ নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি দিতে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেন। দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হলো গণভোট।তৃতীয় ধাপে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের আলোকে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না হলে কী হবে, সে বিষয়ে আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ নেই।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক্স হ্যান্ডলারে এই তথ্য জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।সেখানে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য বিজয়ের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তার প্রচেষ্টার জন্য আমি শুভকামনা ও সমর্থন জানিয়েছি।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে, আমাদের দুই দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতের অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।গতকাল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায় দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি।
মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় মো. জসিম নায়েব (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আব্দুল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জসিম নায়েব ওই এলাকার মাফিক নায়েবের ছেলে।নিহত জসিম নায়েব স্থানীয় একটি মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বোন জামাই দিদার।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকেরা ফুটবল প্রতীকের সমর্থক জসিম নায়েবের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি মারা যান।নিহতের বড় ভাই মো. মশিউর রহমান অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক সমর্থক তাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তার ভাইকে মারধর করে। হামলার পর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের (সদর-গজারিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমেন অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ফিরোজ কবির বলেন, ‘মৃত্যুর সংবাদ আমরা শুনেছি, সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কথা শুনেছে পরে সংঘর্ষের ঘটনা কেউ জানায়নি।
বেশ কয়েকটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এমন অভিযোগ করেন।জামায়াতের আমির দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামনুল হকের ফলাফল নিয়ে কথা বলেন। এসব বিষয়ে সুষ্ঠু বক্তব্য এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাসীরুদ্দীনের ওখানে যেকারণে একসেপ্ট করা হয়েছে তা মামুনুল হকের এখানে বাতিল হয়েছে। সেক্রেটারির আসনসহ বেশকিছু আসনে এমন হয়েছে। যাদের আসনে এমন হয়েছে তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট তারিখের ভেতর প্রতিকার না হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। যা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ না হলে আমরা বাধ্য হবো যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে। তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু জায়গায় হঠাৎ ফলাফল বন্ধ। এগিয়ে থাকলেও হারিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় কষ্ট করে আমাদের ফল ধরে রাখতে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ফলাফল ঘসামাঝা করা হয়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে। সেন্টার দখল করে যা করা হয়েছে তা ভিন্ন উদাহরণ।বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যা দেখেছে তা তারা তুলে ধরবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরাও তুলে ধরবো। আমরা কালো অধ্যায়ের রাজনীতি আবারও চালু হোক, তা চাই না।ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ভদ্রতা ও ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা মনে করলে ভুল করবেন। কারণ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি জানানোর পরেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে। এটা ফ্যাসিবাদী লক্ষণ। ফ্যাসিবাদ আবারও দেখা দিলে তা দুর্ভাগ্য। এ দায় তাদের ওপর আসবে। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে থাকতে হলে ঐক্য নিয়েই থাকতে হবে। সংবিধানের আলোকে সবাই সমান। সবার জন্য একই নীতি হতে হবে। যদি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে আবারও তাহলে আমরা ছাড় দেব না। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, আমরা আজকে থেকে আপনাদের সঙ্গে আরও শক্তভাবে থাকব। তরুণ সমাজ বুকের রক্ত দিয়ে যা দিয়ে গেছে, যেমন দেশ চেয়েছে, আমরা যা বলেছি আগে তা বাস্তবায়ন করতে আমরা লড়ে যাব। আমাদের অবস্থান আপামর জনগণের পক্ষে। আমাদের বাধ্য করা হলে রাজপথেও আমরা নামব।নিয়মতান্ত্রিকভাবে ১১ দলকে চলতে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। অনেকে ঋণখেলাপিদের সুযোগ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনকে বলব- আরপিও যাদের কাভার করে না, তাদের ফলাফল স্থগিত করে এর সুরাহা করুন।গণভোটে হ্যাঁ জিতেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। বাস্তবায়ন না হলে আমরা কণ্ঠ চালিয়ে যাব। অনেক নিয়মবহির্ভূত কাজ করার পরও একটা দল সন্তুষ্ট হতে পারছে না, উল্টো অভিযোগ করছে। আমাদের প্রশ্ন- তারা আর কী চায়?
ভোটে অনিয়মের অভিযোগ করে ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল স্থগিত চেয়ে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অভিযোগ জানাতে এসে তিনি জানান, তার আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। কর্মীদের মারধরসহ পোলিং এজেন্টদের বের করা হয়ছে।ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্বেই সিল দেয়া ব্যালট পাওয়ার অভিযোগও করেন সানজিদা ইসলাম তুলি।তিনি দাবি করেন, তার আসনে এখনও প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ্যে বলা হয়নি। ভোট শেষ না করেই এজেন্টদের সাক্ষর নেয়া হয়েছে।নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করে অভিযোগগুলোর তদন্তের দাবি জানান সানজিদা ইসলাম তুলি।
কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় বিএনপি।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কিমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, বিজয়ের পর তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিএনপি। বলেন, এ বিজয় গণতন্ত্রের বিজয়, সামনেও এধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি। শিষ্টাচার বজায় রেখে সংসদে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে জয় পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৯৯ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৯১ ভোট। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ২১২টি আসনে জয় পেয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৮টি আসনে জয় পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে আসনগুলোর বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়।এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে গণভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। আর ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ টি।
আইনশৃঙ্খলা-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতি সচল করাই আগামী সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরে হয়রত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের অভ্যন্তরীন টার্মিনালের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা… দিস আর দ্য চ্যালেঞ্জ।’তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে বিএনপি ২০৯ আসনে বিজয়ী হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী সরকার গঠন করব।’নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নিজের অনূভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই ফলাফল এদিকে আনন্দময়, অন্যদিকে বিষাদময়। আমাদের দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই অভূতপূর্ব বিজয় দেখে যেতে পারলেন না। এটা বিষাদময়।’তিনি বলেন, ‘অনেক শত হাজার রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে একটা চমৎকার উৎসবমুখর এবং একটা স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে.. আমি ব্যক্তিগতভাবে ডেফিনেটলি অভিভূত, মুগ্ধ। এই ধারাবাহিকতা যদি আমরা রাখতে পারি, তাহলে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা আমরা রক্ষা করতে পারব।’আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলো, এই দলটি নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে সিদ্ধান্ত উঠে আসবে।’বিমানবন্দর থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। সেখানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ (সংসদীয় আসন ১৮৯) নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল হক।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত এবং বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।আবেদনপত্রে আমিনুল হক অভিযোগ করেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২ এবং নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হয়েছে।তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের আগের রাতে অর্থ বিতরণের ভিডিও প্রমাণ রয়েছে এবং পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ৪০টিরও বেশি কেন্দ্রে এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল শিট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভোট গণনার আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান এবং নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই সীল মারা ব্যালট বই পাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আবেদনে উঠে এসেছে।আবেদনকারী আরও জানান যে, ১ থেকে ২৯ নম্বর কেন্দ্র পর্যন্ত ঘোষিত মোট ভোটের সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসারদের সরবরাহকৃত ফলাফলে এবং পোস্টাল ভোটের পরিসংখ্যানে ব্যাপক গরমিল পরিলক্ষিত হয়েছে। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কমিশনের দায়িত্ব হলেও এক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। এর আগে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি এখন আরপিও-এর ৯১এ (91A) ধারা অনুযায়ী ফলাফল স্থগিত করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিজয়ী হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এ অভিনন্দন জানান তিনি।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যতিক্রমী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাদের জীবন কেটেছে, তারা স্পষ্টভাবে তাদের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি তার প্রিয় বন্ধু ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচনি প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন শক্তি যোগ করার প্রত্যাশা রাখে। তিনি মালয়েশিয়ানদের সঙ্গে একযোগে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আসনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে এসব ফল ঘোষণা করা হচ্ছে।ঢাকা জেলার ২০টি আসনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অধিকাংশ আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা।ঢাকা-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত খোন্দকার আবু আশফাক।ঢাকা-২ থেকে জয় পেয়েছেন মো. আমানউল্লাহ আমান এবং ঢাকা-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।ঢাকা-৪ আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। একই দলের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন জয় পেয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে।ঢাকা-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ইশরাক হোসেন। ঢাকা-৭-এ হামিদুর রহমান এবং ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ জয়লাভ করেছেন।ঢাকা-৯ আসনে বিজয়ী হয়েছেন হাবিবুর রশিদ।ঢাকা-১০ আসনে জয় পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম।ঢাকা-১১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. নাহিদ ইসলাম।ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম জয়ী হয়েছেন।ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত ববি হাজ্জাজ।ঢাকা-১৪-এ জামায়াতে ইসলামীর মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং ঢাকা-১৫-এ একই দলের মো. শফিকুর রহমান জয়লাভ করেছেন। ঢাকা-১৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন। ঢাকা-১৭ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থিত তারেক রহমান। ঢাকা-১৮-এ এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা-১৯-এ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা-২০ আসনে জয় পেয়েছেন মো. তমিজ উদ্দিন।বেসরকারি ঘোষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত এই ফলাফল চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন।এবার মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫। গণভোটে মতামত পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। জনরায়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ ভোট।’গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় কী কী পরিবর্তন আসছে, জনমনে এমন প্রশ্ন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের তৃতীয় ধাপ শুরু হবে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত। এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না; একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারবেন না এবং বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাহী ক্ষমতার প্রায় সবটিই প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত—সংস্কার প্রস্তাবনায় এমনটিই বলা আছে। সংস্কার প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ আছে, সংস্কার কার্যকর হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাও কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে। মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে দিতে পারবেন।এ ছাড়া কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। কোনো একটি দলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে তিনটি ধাপ নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি দিতে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেন। দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হলো গণভোট।তৃতীয় ধাপে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের আলোকে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না হলে কী হবে, সে বিষয়ে আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ নেই।
বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন এবং ড.মোশাররফের মেয়ের জামাতা রাইসুল ইসলাম রিকো।উল্লেখ্য, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সবচেয়ে বয়োজ্যষ্ঠ সদস্য হলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় মো. জসিম নায়েব (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আব্দুল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জসিম নায়েব ওই এলাকার মাফিক নায়েবের ছেলে।নিহত জসিম নায়েব স্থানীয় একটি মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বোন জামাই দিদার।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকেরা ফুটবল প্রতীকের সমর্থক জসিম নায়েবের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি মারা যান।নিহতের বড় ভাই মো. মশিউর রহমান অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক সমর্থক তাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তার ভাইকে মারধর করে। হামলার পর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের (সদর-গজারিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমেন অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ফিরোজ কবির বলেন, ‘মৃত্যুর সংবাদ আমরা শুনেছি, সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কথা শুনেছে পরে সংঘর্ষের ঘটনা কেউ জানায়নি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইতি টেনেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ৩৬ বছর বয়সে এসে দিয়েছেন জীবনের প্রথম ভোট। নির্বিঘ্ন ও শান্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়ে খুব খুশি তিনি।১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম–৯ আসনের আঞ্চলিক লোক প্রশাসন কেন্দ্রের ১৯ নম্বর ভোটকক্ষে ভোট দেন। এ সময় তামিম বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। ভোট ভালোই হচ্ছে। পছন্দের প্রার্থীকে একটি ভোটই দিয়েছি।’ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় সেনাবাহিনীর প্রটোকল ছিল তামিমের সঙ্গে। শান্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ সুস্থ। সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন বলেও প্রত্যাশা তামিমের। ভোট কেন্দ্রে তামিমকে দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় ভোটার ও তরুণরা। অনেকেই তার সঙ্গে মোবাইলে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই এ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। কোতোয়ালী, চান্দগাঁও, ডবলমুরিং এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসন গঠিত।এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৯০৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৪৪৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৯ জন। চট্টগ্রাম-৯ আসনে নির্বাচন করছেন ৯ জন প্রার্থী। তারা হচ্ছেন– বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডা. একেএম ফজলুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আবদুল মোমেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, নাগরিক ঐক্য’র মো. নুরুল আবছার মজুমদার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মো. শফি উদ্দিন কবির, জনতার দল–এর মো. হায়দার আলী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ নির্বাচন করছেন।
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে আনন্দচিত্তে ভোট দিলেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী ও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত বেবী নাজনীন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন তিনি।ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বেবী নাজনীন। তিনি বলেন, “ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। খুব আনন্দ হচ্ছে। অবশেষে ভোট দিতে পারলাম। এটাই তো চেয়েছিলাম। ইচ্ছে করছে ১৭ বছরের সব ভোট আবার দেই।”দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তই তার কাছে চূড়ান্ত। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে সংসদে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটাও নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহ যদি চান, তবে হয়তো হবে।”ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর, সফল ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ধানের শীষের জয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ভোটে অংশ নিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোটে অংশ নিচ্ছেন বিনোদন অঙ্গনের তারকা, অভিনয় শিল্পী, নির্মাতারাও। নিজের ভোটটি দিয়ে এসে একটি ভিডিও বার্তায় কথা বললেন নির্মাতা আশফাক নিপুন।১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মহানগর খ্যাত নির্মাতা জানান, ভোট দেওয়া শেষ। সকাল ৭:৩০ মিনিটে এখানে এসেছি এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে ৮:১০ মিনিটে আমার পালা এলো। মনোরম আবহাওয়া, উৎসাহী ভোটার আর আন্তরিক কর্মকর্তাদের দেখে খুব ভালো লাগছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত- সবাই ভোট দিন। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক। সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তায় নিপুন বলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে হোক।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সারা দেশে যখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলছে, তখনই ন্যান্সি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে জানিয়ে দিলেন, তিনি না ভোটের পক্ষে। যদি নেটিজেনদের একাংশ তাকে তীব্র তোপের মুখে ফেলেছেন। তবে এসবে একেবারে নজর দিচ্ছেন না এই গায়িকা। জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন ন্যান্সি। বিগত সময় তার নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। অনেক কনসার্ট তার বাতিল হয়েছে।তবুও ভেঙে পড়েননি। নতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরনতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরশোবিজ তারকাদের সবার যখন নানা সুযোগ হাতছানি দিচ্ছিল, তখন ন্যান্সি বলেছিলেন, শিল্পীদের এত এমপি-মন্ত্রী হওয়ার শখ কেন? কী আছে সেখানে? কত টাকা বেতন পায় এমপিরা? গান অথবা অভিনয় করে কি যথেষ্ট সম্মানী আসে না যে এমপি হওয়ার জন্য লোভ করতে হবে? যারা এগুলো করে এদের ধরা উচিত। আমার মধ্যে এসব চিন্তা একেবারেই নেই। নিজে নির্বাচন করবেন কি না এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, আমি এখনই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই না। তবে যে দল আমার ভালো লাগে, আমি তো চাইবই তারা ক্ষমতায় আসুক। তবে সব কিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের জনগণ। জনগণের কাছে আমার চাওয়া এত দিন যারা কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করে গুম, দুর্নীতি এবং কিছু বললেই চরিত্র নিয়ে কথা বলত, তাদের ক্ষমতায় আনবে কি না মাথায় রাখতে। আর কোনো তারকা দেখলেই নমিনেশন দেবেন না। যদি সেই তারকা রাজনীতির লম্বা পথ পাড়ি দিতে পারে তাহলে তাকে সেই টাইমে দেওয়া উচিত। তারপর তাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন।
নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত ‘মাস্টার’ চলচ্চিত্রটি সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে ছবিটি। উৎসবের শুরু থেকেই সিনেমার নির্মাতা সুমিতসহ অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম ও নাসির উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।রটারড্যামের অভিজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে জানান অভিনেত্রী বাঁধন। পুরস্কার প্রাপ্তির মুহূর্তটিকে তিনি বর্ণনা করলেন আবেগাপ্লুত হয়ে। বাঁধন বললেন, সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা খুব সাধারণভাবে গিয়েছিলাম; ভেবেছিলাম অন্য সবাই পুরস্কার পাবে আর আমরা হাততালি দেব। সেই হাততালি যখন বাংলাদেশের জন্য হয়ে গেল, সেটা খুব আনন্দের ছিল।পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত একজন অত্যন্ত সৎ নির্মাতা। আজ তার সেই সততারই প্রতিফলন ঘটেছে এই অর্জনে।প্রবাসীদের ভালোবাসায় মুগ্ধ বাঁধন জানান, সাপ্তাহিক কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ডাচ দর্শকদের সিনেমা দেখার আগ্রহ এবং প্রশংসা অভিনেত্রীকে অভিভূত করেছে। এবারের রটারড্যাম উৎসবে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সাফল্য নিয়ে বাঁধন বলেন, বাংলাদেশের সিনেমা শক্ত একটি জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। রেহেনা থেকে শুরু করে যেসব সিনেমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেছে, সবগুলোই বাংলাদেশের সিনেমাকে সমৃদ্ধ করছে। আর এটা খুব সম্মানের বিষয়, এবার রটারড্যামে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা ছিল। মনে হয়েছে, ফেস্টিভ্যালটা আমাদের। একই সঙ্গে আমরা তিনটি টিম নেদারল্যান্ডসে এসেছি। সবার সঙ্গে সবার দেখা হচ্ছে, সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে গ্র্যামি-মনোনীত জনপ্রিয় মার্কিন রক ব্যান্ড ‘থ্রি ডোরস ডাউন’এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রধান ভোকালিস্ট ব্র্যাড আর্নল্ড মারা গেছেন। ৪৭ বছরে তার জীবনাবসান ঘটলো।৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যেই চলে গেলেন তিনি। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্টেজ–৪ কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত ব্র্যাড স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে জানান ব্র্যাড আর্নল্ড। তখন তিনি জানান, তার শরীরে স্টেজ–৪ ক্লিয়ার সেল রেনাল কার্সিনোমা শনাক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়ে। ক্যানসারের খবর জানিয়ে সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমি ভয় পাই না। সত্যিই ভয় পাচ্ছি না। সুযোগ পেলে আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। তার অসুস্থতার কারণে ওই সময় ব্যান্ডটির নির্ধারিত একাধিক ট্যুর বাতিল করা হয়।১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে গঠিত হয় ‘থ্রি ডোরস ডাউন’। ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য বেটার লাইফ’ প্রকাশের পরই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং অ্যালবামটি ছয় মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়।এখন পর্যন্ত ব্যান্ডটি মোট ছয়টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। তাদের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গ্র্যামি মনোনয়ন ও বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। ব্র্যাড আর্নল্ডের লেখা ‘ক্রিপ্টোনাইট’, ‘হেয়ার উইথাউট ইউ’, ‘হোয়েন আই’ম গন’ ও ‘লুজার’ এই গানগুলো রক সংগীতে তাকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি ও খ্যাতি।
ঈদুল আজহায় আসছে শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’। এ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে শাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তানজিয়া জামান মিথিলা। দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে পাকিস্তানের কোনো নায়িকা থাকতে পারেন-এমনটাই শোনা যাচ্ছে।সিনেমা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় নায়িকার চরিত্রের জন্য ইতোমধ্যে পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করেছেন মিথিলা। চরিত্রটি তার পছন্দও হয়েছে। তবে ছবির প্রধান নায়িকা হিসেবে কে থাকছেন, তা গোপন রাখা হয়েছে; হতে পারে পাকিস্তানের শীর্ষ কোনো অভিনেত্রীকে রাখা হবে সে স্থানে।বিষয়টি এখন পর্যন্ত গুঞ্জনে মোড়া থাকলেও কারও সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনই নাম প্রকাশ করতে চাইছে না নির্মাতা পক্ষ। এ বিষয়ে সিনেমার পরিচালক আজমান রুশো সংবাদ মাধ্যমে জানান, নায়িকা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না, আমরা দ্বিতীয় নায়িকার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব। চূড়ান্ত হওয়ার আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এ প্রসঙ্গে চুপ রয়েছেন তানজিয়া মিথিলাও। বর্তমানে ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শাকিব খান। সেই ছবির কাজ শেষ করে দুই সপ্তাহের বিরতি নেবেন তিনি। এরপরই ‘রকস্টার’-এর শুটিং শুরু করার কথা রয়েছে ঢালিউড কিংয়ের।
আমার ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, সেজন্য ক্ষমা করবেন জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আমি আগে কখনো কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলাম না। সরকার গঠনের পরপরই পেশাগত জীবনে ফিরে যাব। আবারও সেই নিরিবিলি জীবনে ফিরে যেতে চাই। তবে একটি শেষ অনুরোধ আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি সই নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তালা বরকত দিয়েছেন।তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন। কোনো বিষয়ে যখনই পরামর্শ বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তিনি আন্তরিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। যত কিছু সম্ভব হয়েছে আমি মনে করি প্রধান উপদেষ্টা তার নির্দেশনায় যে আমি, আমরা কাজ করতে পেরেছি এবং আমরা যখনই কোনো বিষয়ে উনার নির্দেশনা বা উনার গাইডেন্স কামনা করেছি উনি সকল সময়ে অসম্ভব দরদ দিয়ে এবং বুদ্ধিমত্তাকে মিলিয়ে যে ধরনের নির্দেশনা আমাদেরকে দিয়েছেন, সেগুলোকে প্রতিপালন করার চেষ্টা করেছি।শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।ছোট খামারি ও বড় উদ্যোক্তা– উভয় পক্ষকেই অন্তর্ভুক্ত রেখে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির পথে এগিয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো। ভবিষ্যতেও তার উত্তরসূরিরা একই ধারাবাহিকতায় কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মালদ্বীপের থিলাফুশিতে নিখোঁজের দুই দিন পর আবর্জনার স্তূপ থেকে আমিন মিয়া (২৪) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে, যা যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি আমিন মিয়া নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৮ জানুয়ারি থিলাফুশির একটি কর্মস্থলের আবর্জনার স্তূপের ভেতর থেকে ওই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়ক মেনিকা একটি খননকারী যন্ত্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, যন্ত্রটির আঘাত লাগার ফলেই আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে।অভিযুক্ত মেনিকাকে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ।তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক আঘাতের পর আমিন মিয়া আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে যান এবং এরপরও ঘটনাস্থলে কাজ অব্যাহত রাখা হয়। খননকারী যন্ত্রের অপারেটর ঘটনাটি ঘটার সময় বিষয়টি অবগত ছিলেন কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।পুলিশের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার আহত হওয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।এদিকে ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।এছাড়া, আমিন মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে মালদ্বীপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, স্থানীয় গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অবহেলার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের অবহেলার কারণে পুলিশকে অবহিত করতে দেরি হয়। স্থানীয় সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা গেছে, আমিন মিয়া ময়লার স্তূপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পরও দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্য করেননি। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে হয়তো তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘একলা খেলে যম নেয়, দশজনে খেলে ধর্ম রয়।’ এ প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ যমরাজ এসে ধরে নিয়ে যাওয়া না। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি অত্যন্ত গভীর। প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো, দশজনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে শরীর ও মন উভয়ই ‘ধর্ম’ অর্থাৎ সুশৃঙ্খল থাকে। আবার দশজন মানে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সংখ্যার দশ নয়, এর অর্থ অনেকে মিলে।খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষেরা একা খেতে বসার পক্ষে নন। দাদি-নানিরা সব সময়ই বলে থাকেন, একা একা বসে খাচ্ছিস কেন, সবার সঙ্গে বসে খা! এই একা খেতে বসার অভ্যাস কেবল একাকিত্ব বাড়ায় না। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তোলে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, একা খেতে বসার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে অন্তত দুবার একা বসে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সংমিশ্রণে হওয়া মেটাবলিক সিনড্রোম নামে একটি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, একা খেতে বসলে পুরুষদের স্থূলতার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ২৪টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বলছে, একা খেতে বসলে মানুষ পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন প্রক্রিয়াজাত বা রেডি মিল বেশি পছন্দ করে। এতে শরীরে প্রোটিন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয়।মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবএকা খাওয়া কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৮ হাজারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক অসুস্থতার পর একা খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসুখী করে তোলে। অনেকে মনে করেন, একা খেতে বসা মানেই স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজিস্ট ড. স্টিফানি কাসিওপ্পোর মতে, মানুষ যদি খাওয়ার সময় নিজেকে একা মনে করে, তবে তার শরীর বেশি চর্বিযুক্ত ক্যালরি শোষণ করে।বার্ধক্য ও একাকী ভোজনপ্রবীণদের জন্য একা খাওয়া এক নীরব ঘাতক। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা যখন একা খান, তখন তাঁরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা ফ্রেইল হয়ে পড়েন। একা খাওয়ার ফলে বয়স্কদের প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণ কমে যায়। তা নেমে আসে প্রায় ৫৮ গ্রাম থেকে ৫১ গ্রামে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওপোরোসিস বা হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং পুষ্টিহীনতা উভয়ই মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে, যা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কের আয়তনও সংকুচিত হতে পারে।কেন একা খেতে বসা ক্ষতিকরগবেষকেরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:উদ্দীপনার অভাব: যখন কেউ একা খান, তখন তাঁর ভালো কিছু রান্না করার আগ্রহ কমে যায়।খাওয়ার গতি: দলগতভাবে খেলে মানুষ গল্প করে ধীরে ধীরে খায়। এ বিষয়টি হজমে সাহায্য করে। একা খেলে মানুষ হয় খুব দ্রুত খায় নতুবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে।ইগো ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ওজনের মানুষ অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে অন্যদের সামনে খেতে চান না। এটা তাঁদের আরও বেশি একা খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।খাবার কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপায়। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া বা মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস ম্যাগাজিন, ডেইলি মেইল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যায়, ইনসাফ এবং সুশাসনের প্রত্যাশা করেছেন বিজয়ীদের কাছে জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ প্রত্যাশার কথা বলেন তিনি।পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, নির্বাচনে বিজয়ী এবং বিজিত— উভয় পক্ষকে অভিনন্দন। দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের শক্তি বিভাজনে নয়, ঐক্যে।তিনি লেখেন, যাদের কাঁধে ইতিমধ্যেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এসেছে, তারা ইসলামিক মূল্যবোধকে ধারণ করে— ন্যায়, ইনসাফ এবং সুশাসনের বাংলাদেশ উপহার দেবেন, সেই প্রত্যাশা রাখি।তার দেওয়া পোস্টের কমেন্টে আজহারী লেখেন, বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। বিজয়ী দলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আর যারা বিজয়ী হতে পারেননি, তাদের প্রতিও শুভকামনা।মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।তিনি আরও লেখেন, মনে রাখতে হবে— নেতৃত্ব স্রেফ কোনো সম্মান নয়; এটি একটি আমানত। বিজয় এবং সাফল্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) দায়িত্ব থেকে পালিয়ে থাকতেন জবাবদিহিতার ভয়ে। কিয়ামতের ময়দানে প্রতিটি দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই, বিজয় যেন কারো অন্তরে দাম্ভিকতা না আনে; বরং বিনয়, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বোধ জাগ্রত করে। দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এগোয় ঐক্যে, পিছিয়ে পড়ে বিভাজনে।