তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ালো সরকার। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন খুচরা মূল্য ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। অর্থাৎ দাম বাড়ানো হয়েছে ৭০ টাকা।রোববার (২ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চলতি আগস্ট মাসের জন্য এই মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।ঘোষণা অনুযায়ী, গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৯৮ টাকা, যা আগে ছিল ১৫২৮ টাকা।নতুন এই দাম রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি নদীর নাব্যতা স্বাভাবিক রাখতে নির্দেশ দেন।২ জুলাই রবিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানায়, সভায় রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগ্রহী বেসরকারি কম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।পাশাপাশি নদীদূষণ প্রতিরোধ, ড্রেনেজ-ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।বৈঠক শেষে সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঢাকার চারপাশের চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে আবারও ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক বিনোদন ও পর্যটনের বিকাশে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা ধরে)।রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।এর আগে গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়।এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২ আগষ্ট) দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ মানুষ এমনিতেই দিশেহারা। এর মধ্যে গৃহস্থালি ও যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজি এবং অটোগ্যাসের দাম বাড়ানোয় ভোক্তাদের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘জনবিরোধী’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান।তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানোর ফলে নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয় না বাড়লেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা।গোলাম পরওয়ার বলেন, গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের উৎপাদন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি দেশের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির অনলাইনে আবেদন শুরু হবে আগামী ১১ নভেম্বর। এদিন দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এ প্রক্রিয়া শেষ হবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে। ৫ ডিসেম্বর আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্যদিয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে।রোববার (২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।কোন ইউনিটের পরীক্ষা কবে২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হলো—‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।সভায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী ৫ ডিসেম্বর আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্যদিয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়।কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া চারুকলা ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২২ ডিসেম্বর এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।কখন, কোথায় ভর্তি পরীক্ষা হবেআইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। বাকি সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় কেন্দ্রসমূহ হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।কোন ইউনিটের নম্বর বণ্টন কীভাবেসভায় চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।আইবিএ ইউনিটের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য ইউনিটের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফলের উপর থাকবে ২০ নম্বর।ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।কোন ইউনিটের আবেদন যোগ্যতা কীপরীক্ষায় (চতুর্থ বিষয়সহ) বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য মাধ্যমিক বা সমমান এবং উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে।তবে উচ্চমাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চমাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (চতুর্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএর যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের জন্য জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে। চারুকলা ইউনিটের জন্য জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।ভর্তি কমিটির সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় বা একদিনে দেশে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রোগটি নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪২৩ জন।এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৬ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ১০৪ জন।রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে একজন খুলনা বিভাগের এবং অন্যজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা।অন্যদিকে একই সময়ে নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৫৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৪৯ জন, খুলনা বিভাগের ৮১ জন, রাজশাহী বিভাগের ২৯ জন, রংপুর বিভাগের ১৬ জন, বরিশাল বিভাগের ৫৪ জন এবং সিলেট বিভাগের ৪ জন রোগী রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন আরও বলছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৬ হাজার ৭৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৬৮৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২ হাজার ৭৮৯ জন, খুলনা বিভাগের ২ হাজার ৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগের ৬১২ জন, রংপুর বিভাগের ৩৪৮ জন, বরিশাল বিভাগের ৩ হাজার ৪২৫ জন এবং সিলেট বিভাগের ১০৩ জন।এছাড়া চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৩০ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি আছেন ১ হাজার ১১৮ জন রোগী।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অবস্থান জানতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এরপর থেকে তিনি প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা দিয়েছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, নিরাপত্তার কারণে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ডিজিটাল যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন এবং কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কোনো স্থানে অবস্থান করছেন।দ্য টাইমসের তথ্যমতে, মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্তে প্রচলিত সাইবার নজরদারির পাশাপাশি এখন মানবসূত্রভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স বা হিউমিন্ট) সংগ্রহে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ তিনি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রতিবেদনে মোসাদের সাবেক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিক বার্তাবাহক বা কুরিয়ার ব্যবহৃত হতে পারে। এসব কুরিয়ারকে শনাক্ত করতে পারলে তার অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।এদিকে কিছু পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তার মধ্যে এমনও ধারণা রয়েছে যে, মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অভাব রয়েছে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এ দাবিরও স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির বদলে নির্ভরযোগ্য মানবসূত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা। কারণ ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে অনুপ্রবেশ অত্যন্ত কঠিন এবং উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের অবস্থান সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুবই সীমিত।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলোর মধ্যে অপরাধের হারের দিক থেকে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। একই সঙ্গে এই শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক সংস্থা 'নাম্বিও' (Numbeo) প্রকাশিত ২০২৬ সালের অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচকে এ চিত্র ফুটে উঠেছে।নাম্বিওর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার অপরাধ সূচক বর্তমানে ৬২ দশমিক ২, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সব শহরের তুলনায় সর্বোচ্চ। বিপরীতে নিরাপত্তার দিক থেকে ঢাকা তলানিতে অবস্থান করছে; শহরটির নিরাপত্তা সূচক মাত্র ৩৭ দশমিক ৮। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বড় শহরগুলোর পরিস্থিতিও ঢাকার চেয়ে ভালো।বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি। শহরটির অপরাধ সূচক মাত্র ১১ দশমিক ১ এবং নিরাপত্তা সূচক ৮৮ দশমিক ৯। এর তুলনায় ঢাকার নিরাপত্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সূচক বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, ঢাকার বাসিন্দারা রাতে বাইরে চলাফেরায় অনিরাপদ বোধ করেন এবং বেশিরভাগ সময় অপরাধের আতঙ্কে থাকেন।শহর অপরাধ সূচক নিরাপত্তা সূচকঢাকা, বাংলাদেশ ৬২.২ ৩৭.৮করাচি, পাকিস্তান ৫৯.১ ৪০.৯দিল্লি, ভারত ৫৯.১ ৪০.৯গাজিয়াবাদ, ভারত ৫৮.৪ ৪১.৬নয়ডা, ভারত ৫৫.১ ৪৪.৯গুরগাঁও, ভারত ৫৪.১ ৪৫.৯ব্যাঙ্গালোর, ভারত ৫৪.০ ৪৬.০রাওয়ালপিন্ডি, পাকিস্তান ৫১.৬ ৪৮.৪কলম্বো, শ্রীলঙ্কা ৪২.৬ ৫৭.৪কাঠমান্ডু, নেপাল ৩৬.৭ ৬৩.৩ইসলামাবাদ, পাকিস্তান ৩১.৪ ৬৮.৬ম্যাঙ্গালোর, ভারত ২৫.৬ ৭৪.৪নাম্বিওর বৈশ্বিক তালিকায় অপরাধপ্রবণতার দিক থেকে বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ৫৯তম। অর্থাৎ অপরাধ ও নিরাপত্তার অভাবের দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ ১৫ শতাংশ শহরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে ভারতের ম্যাঙ্গালোর (নিরাপত্তা ৭৪.৪) ও পাকিস্তানের ইসলামাবাদ (নিরাপত্তা ৬৮.৬) উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত বা রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত করাচি বা লাহোরও নিরাপত্তার সূচকে ঢাকার চেয়ে এগিয়ে আছে।নাম্বিও মূলত বিশ্বজুড়ে শহর ও দেশগুলোর জীবনযাত্রার মান, আবাসন, অপরাধের হার, স্বাস্থ্যসেবা ও ট্রাফিকসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত সূচক প্রকাশ করে থাকে। তাদের ২০২৬ সালের এই সূচকটি ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজধানীতে স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান আল-আমিন মসজিদের পাশের পাঁচতলা ভবনের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফারজানা আক্তার রাত্রি (২১) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৩৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বটগাঁও এলাকায়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত হৃদয় ওরফে শিপনের বাড়ি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। নিহত ফারজানার বাবা মো. ফারুক হোসেন জানান, কিছুদিন ধরেই মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী ও মেয়ে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শিপনও যান, তবে বিয়ের দিন সকালে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাধে এবং শিপন না খেয়েই ঢাকায় ফিরে আসেন। শনিবার রাতে স্ত্রী ও মেয়ে গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরলে রোববার সকালে পুরোনো বিরোধের জের ধরে ফের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।তিনি আরও জানান, হামলার পর শিপন তাদের এক বছর বয়সী ছেলে রায়হানকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং শিপনকে গ্রেপ্তার করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল ৯টার দিকে কলাবাগান থানার আল-আমিন মসজিদের ৫২ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় জামাই শিপনের। পরবর্তী সময়ে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাশুড়ি এবং স্ত্রীকে আঘাত করেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে রাত্রি মারা যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানা-পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী এসটিএস এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে।এঘটনায় ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজাবাড়ী এসটিএস এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছিল ডিএনসিসির একটি দল। এ সময় একদল স্থানীয় ব্যক্তি ওই কার্যক্রমে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে আগে থেকেই কিছু বিরোধ ও অসন্তোষ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।এ বিষয়ে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি তবে হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দুবাই আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছে বেনজীর আহমেদ, এটি আমরা শুনেছি। দুবাই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সার্টিফাই কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে ল ফার্ম (আইনি পরামর্শক) নিয়োগ করেছে।রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে রাজশাহী রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরত আনা যাবে বলে এ সময় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বাংলাদেশের সাবেক এ আইজিপি আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুবাইয়ের কারাগার থেকে মুক্ত হন বলে জানা গেছে। যা গণমাধ্যমের মাধ্যমে আজ রোববার প্রকাশ্যে এসেছে।বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হন। দুবাই পুলিশ ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।এর আগে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে একাধিক মামলা করে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।বেনজীর আহমদের প্রত্যর্পণে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শর্তসাপেক্ষে জামিন মিলে বেনজীর আহমেদের। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২ আগষ্ট) দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ মানুষ এমনিতেই দিশেহারা। এর মধ্যে গৃহস্থালি ও যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজি এবং অটোগ্যাসের দাম বাড়ানোয় ভোক্তাদের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘জনবিরোধী’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান।তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানোর ফলে নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয় না বাড়লেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা।গোলাম পরওয়ার বলেন, গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের উৎপাদন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি দেশের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি রিভলভার, তিন রাউন্ড গুলি, দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র, ইয়াবা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় সংঘবদ্ধ চক্রটির আরও ৬-৭ সদস্য অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার বাঘোপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর বাঁধসংলগ্ন টিএমএসএসের মেহগনি বাগানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ (পিপিএম)-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মো. ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে একাধিক দল অভিযান চালায়।গ্রেপ্তাররা হলেন— সদর উপজেলার মহিষবাথান তালুকদারপাড়ার রবিউল ইসলাম রকি (৩৩), চাঁদমুহাহাট এলাকার রাকিব রহমান (২৬) এবং ঠেঙ্গামারা দহপাড়ার রাফি আহমেদ (১৯)।ডিবি জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, তিন রাউন্ড গুলি, একটি বার্মিজ টিপ চাকু, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি ইলেকট্রিক শকার, দুটি চাপাতি, দুটি ছোরা, একটি স্টিলের পাইপ, ২৮৫ পিস ইয়াবা, ৪০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ২০ হাজার ৩০০ টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।পুলিশের দাবি, রবিউল ইসলাম রকির নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক কারবার এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলাসহ গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেই ডাকাতি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উইকেট কঠিন ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররাও দারুণ বোলিং করেছেন। কিন্তু সেটার কোনো উত্তর খুঁজে পাননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। গুটিয়ে গেছে স্রেফ ৮৯ রানে। এরপর বোলাররাও অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারেননি। ফলে বড় ব্যবধানে হেরেই ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।আজ শনিবার (১ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রনক্লুফ ওভালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩০.২ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে মোটে ৮৯ রান করে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। জবাব দিতে নেমে ১৮.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল।টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রোটিয়া বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরু থেকেই হাত খুলে খেলতে পারেননি লাল-সবুজের ব্যাটাররা। ইনিংসের প্রথম ৪ ওভারে মোটে ৩ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক জাকির হাসান।নয় বল খেলে মাত্র ১ রান করে জাকির ফেরার পর আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন বাকিরা। শাহাদাৎ হোসেন ৮, ইফতেখার হোসেন ২ আর মাহিদুল ইসলাম করেন মাত্র ২ রান। শুরুর সেই ধাক্কা আর সামাল দিতে পারেনি বাংলাদেশ।নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর খেসারত দিতে হয়েছে ইনিংসের শেষভাগে। দলের স্কোর বড় করার বদলে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০ ওভার ২ বলে স্রেফ ৮৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ৭৩ বল খেলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন। এছাড়া বাকিদের মধ্যে দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছেন কেবল দুজন—আমিনুল ইসলাম ১১ ও সামিউন বাসীর করেন ১০ রান।দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একাই ৫ উইকেট শিকার করেন দাইয়ান গালিম।৯০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলও অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল। ইনিংসের প্রথম ওভারেই পেসার ইকবাল হোসেন ইমনের শিকার হয়ে শূন্য রানে ফেরেন জর্ডান কিং।পরে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান আরও দুটি উইকেট তুলে নিলেও জয় আটকানো যায়নি। রিচার্ড সেলেটসওয়ানের ৩৫ এবং মিচেল ভ্যান ব্যুরেনের ১৮ রানের সুবাদে ১৮ ওভার ৪ বলেই সহজ জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।
বহু প্রতীক্ষিত ‘জুমানজি: ওপেন ওয়ার্ল্ড’ সিনেমার প্রথম ট্রেইলার প্রকাশ করেছে সনি। জনপ্রিয় এই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ পর্বে আবারও একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন ডোয়েন জনসন, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক ও কারেন গিলান।২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া জুমানজি: ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল এবং ২০১৯ সালের জুমানজি: দ্য নেক্সট লেভেলের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নির্মিত হচ্ছে নতুন এই সিনেমা। আগের দুই পর্ব বিশ্বজুড়ে ১৭০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার আয় করে।নতুন সিনেমাতেও আগের মতোই থাকছে রোমাঞ্চ, হাস্যরস, অ্যাকশন এবং চরিত্র বদলের মজার সব ঘটনা। ভিডিও গেমের ভেতরের চরিত্রগুলোতে আবারও অভিনয় করেছেন ডোয়েন জনসন, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক ও কারেন গিলান।প্রধান চার তারকার পাশাপাশি এবারও অভিনয় করেছেন ড্যানি ডিভিটো, নিক জোনাস, অকওয়াফিনা, মারিন হিঙ্কল, বেবে নিউওয়ার্থ, লামর্ন মরিস ও রিস ডার্বি। নতুন মুখ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ড্যান হিলডেব্র্যান্ড ও জ্যাক জুকস।সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জেক কাসদান। চিত্রনাট্য লিখেছেন জেক কাসদান, জেফ পিঙ্কনার ও স্কট রোজেনবার্গ। প্রযোজনায় রয়েছেন ম্যাট টলম্যাচ, ডোয়েন জনসন, ড্যানি গার্সিয়া, হিরাম গার্সিয়া এবং জেক কাসদান।প্রথমে আগামী ১১ ডিসেম্বর সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও পরে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বড়দিন উপলক্ষে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।উল্লেখ্য, নতুন এই সিনেমাটি ১৯৯৫ সালের জনপ্রিয় জুমানজি চলচ্চিত্রের আধুনিক সংস্করণের ধারাবাহিকতা। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত রবিন উইলিয়ামস ও কিরস্টেন ডানস্ট। নতুন সিরিজে বোর্ড গেমের পরিবর্তে ভিডিও গেমকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বড়দিনে মুক্তি পাওয়ায় এটি ডিউন: পার্ট থ্রি এবং অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবে।
সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অনুপম রায়ের ঢাকা কনসার্ট। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ‘ওয়ান ট্রু সাউন্ড উইথ অনুপম রায়’ আয়োজন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন জানিয়েছে, কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করে অনুষ্ঠানটি আয়োজন না করার নির্দেশনা দেয়।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আয়োজকরা বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি ও অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কনসার্টটি আপাতত স্থগিত করতে হয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে শুধু দর্শকই নন, শিল্পী, স্পন্সর, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই হতাশ হয়েছেন।টিকিট ক্রয়কারী দর্শকদের আশ্বস্ত করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, কনসার্টের জন্য কেনা সব টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। অফিসিয়াল টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জানানো হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনিবার্য কারণ উল্লেখ করলেও কনসার্ট স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
শাকিব খানের ব্যক্তিজীবন অনেকটা খোলা বইয়ের মতো। অনেক পাতা-ই পড়া নেটিজেনদের। একটি পৃষ্ঠা যেন উল্টানো বাকি ছিল। যেটি কিং খান নিজেই উল্টালেন। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে জানালেন অপু-বুবলী না, ইংলিশ মিডিয়ামের এক তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন অভিনেতা।বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন শাকিব খান। উপস্থাপনার কাজটি সামলাচ্ছিলেন পূর্ণিমা। দীর্ঘদিনের সহকর্মীর কাছেই মনের গোপন জানিয়েছেন মেগাস্টার।জানান একসময় গুলশানের ইংরেজি মাধ্যমের এক তরুণীর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। দুজনের সম্পর্কটি খুব বেশি দূর এগোয়নি। তবে সেই অসমাপ্ত ভালোবাসার স্মৃতি এখনও তাকে নাড়া দেয়।শাকিব বলেন, ‘আমার বাসার কাছাকাছি ছিল ওর বাড়ি। দেখতেও ভীষণ সুন্দর ছিল। আমি কিন্তু তার সঙ্গেই সেটেলড হতে চেয়েছিলাম। আমি মনে মনে সিরিয়াসলি তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। আমাকে মেয়েটি খুব ভালোবাসত। আমি সত্যিই তার সঙ্গেই সংসার করতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে একা বসে ভাবি— আমি চাইলাম কাকে, ভালোবাসলাম কাকে, আর কোথায় গেলাম!’সেই তরুণীকে এখনও মিস করেন বলে পূর্ণিমাকে জানান শাকিব। বলেন, ‘আমি এখনও তাকে মিস করি। মাঝেমাঝেই যখন একা থাকি তখন ভাবি যে, কেন এরকম হলো! সম্পর্কে যখন ভালোবাসাবাসি বেশি হয়ে যায় তখন মনে হয় এরকম হয়ে যায়।’ উপস্থাপকের আসনে পূর্ণিমা বরাবরই দক্ষ। শাকিবের বেলায়ও একই রকম ছিলেন। নায়কের পেট থেকে কথা বের করতে মোক্ষম প্রশ্ন ছোড়েন। প্রশ্ন করেন, সেই তরুণী যদি আবার জীবনে ফিরে আসেন, তাহলে তাকে গ্রহণ করবেন কি না। উত্তরে শাকিব বলেন, ‘সে অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করে। আমি চাই, সে অনেক ভালো থাকুক।’
ভারতের মুম্বাইয়ের ২৭ বছর বয়সী মডেল ও থিয়েটারশিল্পী রিয়া আহির বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করলে, তাদের মুক্তির দাবিতে তিনি নিদ্বির্ধায় পুলিশের ভ্যানের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।সেই সাহসী অবস্থানের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তাকে ‘সাহসী’ ও অকুতোভয় আখ্যা দিয়ে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সম্পর্কে রিয়া জানান, তার বাবা-মা মেয়ের এই সাহসিকতায় ভীষণ খুশি হয়েছেন এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে জাতীয় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে তোলে, যার মধ্যে নারী আন্দোলনকারীও ছিলেন।রিয়া আহির জানান, আটক হওয়া সেই ব্যক্তিদের কাউকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না। তবে যেভাবে গাদাগাদি করে মানুষকে ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তা দেখে নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি চুপ থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, ভ্যানে অনেককে তুলে দেওয়া দেখে তিনি এক নারীকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে তিনি চলন্ত ভ্যানের ঠিক সামনে গিয়ে দাঁড়ান এবং আটকে থাকা সবাইকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রিয়া অবিচলভাবে পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সেখান থেকে সরে যেতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। রিয়ার অভিযোগ, তাকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভ্যানচালক বেশ কয়েকবার জোরে ইঞ্জিন চালিয়ে গাড়ি সামনে নেওয়ার ভয় দেখান, কিন্তু তিনি একচুলও নড়েননি।রিয়ার এই অদম্য অবস্থান দেখে অন্য আন্দোলনকারীরাও তার পাশে এসে কাঁধ মেলান। তীব্র প্রতিবাদ ও তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশ আটক ব্যক্তিদের শিবাজি পার্কেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।রিয়া জানান, এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ। ২১ জুলাই তিনি প্রথমবার শিবাজি পার্কে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ অনেককে আটক করায় তিনি পরদিন ২২ জুলাই আবার সেখানে যান। আর সেদিনই ঘটে যায় সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, যা তাকে এক লহমায় পরিচিত মুখ বানিয়ে তোলে। রিয়া বলেন, আন্দোলনটির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না; পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়ে সে মুহূর্তে নিজের বিবেকের তাড়না থেকেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন।এমন বিপদের মুখেও সাহসের পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে রিয়া জানান, তার পরিবারের সঙ্গে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘ ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশে (ITBP) দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রতিরক্ষাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। রিয়া মুচকি হেসে বলেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস হয়তো তাঁর রক্তেই প্রবাহিত হচ্ছিল।রিয়া মনে করেন, এই সংগ্রাম কেবল প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে নয়, বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পক্ষে। মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও পেশাগত ব্যাস্ততায় গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি রিয়া। বর্তমানে তিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করছেন।নিজের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা থেকে অভিযোগ তুলে রিয়া বলেন, নিয়মিত কোর্স ফি পরিশোধ করা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যায় না এবং সরকারি যোগাযোগের নম্বরগুলোতেও কেউ সাড়া দেয় না। তার ভাষায়, এটি শুধু বিশেষ একটি পরীক্ষার বিষয় নয়, পুরো ব্যবস্থার যে গলদ রয়েছে—এ আন্দোলন তারই এক সম্মিলিত প্রতিবাদ।প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠার পাশাপাশি পেশাগত জীবনে রিয়া আহির প্রায় ১৩ বছর ধরে নিয়মিত হিন্দি থিয়েটারে যুক্ত রয়েছেন এবং দাপটের সাথে মডেলিং করছেন। এর বাইরে গত বছর তিনি ‘রিয়াসত’ নামে নিজস্ব একটি উদ্যোগ চালু করেন, যার মূল কাজ হলো স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাডার কোলহাপুরি চপ্পলের নকশা বিতর্কের পর দেশের প্রান্তিক কারিগরদের কাজকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার ভাবনা থেকেই এই সামাজিক উদ্যোগের জন্ম দেন তিনি।
অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী মো. খুরশীদ আলমকে নিয়ে এবার একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন টিভি ব্যাক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। দেশের বরেণ্য এই সংগীতশিল্পীর জীবন, সংগীতচর্চা ও শিল্পীসত্তাকে তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’ শিরোনামের প্রামাণ্য চিত্রটিতে খুরশীদ আলমের দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, স্মৃতি, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্য চিত্রটিতে খুরশীদ আলমের সংগীতজীবনের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি তার ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা গল্প, স্মৃতিচারণ এবং বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তার অসামান্য অবদান উঠে এসেছে।দেশের সংগীতপ্রেমী দর্শকদের জন্য প্রামাণ্য চিত্রটি হবে একজন বরেণ্য শিল্পীকে নতুনভাবে জানার ও তার বর্ণাঢ্য জীবন-সংগীতের পথচলা উপভোগ করার একটি বিশেষ আয়োজন। আগামী ১লা আগস্ট খুরশীদ আলম ৮১ বছরে পা রাখবেন। তার এই জন্মদিন উপলক্ষে সেদিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে চ্যানেল আইতে প্রচার হবে প্রামাণ্য চিত্র ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’।
দীর্ঘ ছয় দশকের সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক সংগীত পরিবেশনায় হাজির হচ্ছেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। একই অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা। তবে এবারের আয়োজনটি শুধু সম্মাননা ও সংগীত পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় দেওয়া হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘রুনা লায়লা’ শীর্ষক এই সম্মাননা ও একক সংগীত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই। রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে অনুষ্ঠানটি। এতে নিজের জনপ্রিয় কয়েকটি গান পরিবেশন করবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই শিল্পী।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের টিকিটের শুভেচ্ছা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিনটি শ্রেণিতে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির টিকিটের দাম ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের দাম ২ হাজার টাকা। টিকিট বিক্রির অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে।টিকিট সংগ্রহের জন্য আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে অর্থ, হিসাব ও পরিকল্পনা বিভাগের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায়।জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং ডা. জাহেদ উর রহমান (উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারের হটস্পট, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মানুষ স্কিন ক্যান্সার এবং মেলানোমায় মারা যায় এবং প্রতি ৩ জন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় ২ জনের জীবনে অন্তত একবার স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে ধারণা করা হয়। এমন একটি দেশে যেখানে সানস্ক্রিন একটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে।ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘চয়েস’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লিখিত এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ছিল এসপিএফ ৫০+ (SPF 50+) হিসেবে বাজারজাত করা একটি পণ্যকে ঘিরে, যা পরীক্ষায় প্রায় এসপিএফ ৪ (SPF 4) এর মতো কাজ করেছে বলে জানা যায়। ব্র্যান্ডটি এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালেও পণ্যটি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে কেন এত বড় অমিল দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে যে আমদানি করা পণ্য ত্বকের যত্নের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই সংবাদটি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের নামই এখন আর যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোক বা কোনো স্থানীয় কোম্পানির, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি তার লেবেলে লেখা সুরক্ষা সত্যিই প্রদান করে কি না । এই বিষয়টি ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আরও বেশি মানুষকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না। তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়। কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা। বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে। এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে। শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে। তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা ধরে)।রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।এর আগে গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়।এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
সাবেক মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া ফাইনালিস্ট কিশোওয়ার চৌধুরীকে নিয়ে ‘ফ্লেভারস অব হোম’ আয়োজনের মাধ্যমে ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) শুধু বাঙালি ঐতিহ্যকেই উদযাপন করেনি, পাশাপাশি বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিয়েছে।যুগের পর যুগ ধরে নারীদের কাছে খাবার কখনোই শুধু স্বাদ গ্রহণের বিষয় না । এর প্রতিটি পদে পদে লুকিয়ে থাকে নানা রকম স্মৃতি, প্রতিটি রন্ধনপ্রণালীতে থাকে একেকটি গল্প, আর প্রতিটি পরিবেশনে ফিরে আসে নিজের শিকড়ের টান। সেই টান উপলব্ধি করে বিশ্ব দরবারের বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পান্তাভাত, আলুভর্তা আর খিচুড়ির মতো সাধারণ বাঙালি খাবারকে পৌঁছে দিয়েছিলেন যে নারী, সে হল কিশোওয়ার চৌধুরী। মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া সিজন ১৩ এর দ্বিতীয় রানার-আপ, যার পথচলা আজ রান্নাঘরের গণ্ডি পেরিয়ে তরুন সমাজের অনুপ্রেরণা ও সামাজিক উদ্যোগের এক অনন্য উদাহরণ। গত ২৬ জুলাই, ভিএএইউএস আয়োজিত ‘ফ্লেভারস অব হোম’ অনুষ্ঠানে তিনি শৈশবের স্মৃতি, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পৌঁছানোর যাত্রা এবং ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট (কেসিসি) উইংস’-এর মাধ্যমে করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য রন্ধন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।২০১৬ সালের অক্টোবরে সিডনিতে একটি পুনর্মিলনী আয়োজনের পরিকল্পনা থেকেই যাত্রা শুরু হয় ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) এর। পুরোনো শিক্ষার্থী বন্ধনকে আবারও জাগিয়ে তুলতে এবং সেই বন্ধনকে কীভাবে সমাজের জন্য অর্থবহ কিছুতে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবা থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ভিএঅস। এরপর থেকে সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও অঞ্চলের প্রায় ১২টি সংস্থাকে সহায়তা করেছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল নারী, শিশু ও পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মর্যাদা উন্নয়নে কাজ করা। অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া এই মানবিক উদ্যোগের প্রভাব বাংলাদেশেও পৌঁছে দিতে ভিএঅস এবার ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট - কেসিসি উইংস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আয়োজন করেছে ‘ফ্লেভারস অব হোম: অ্যান আরভো উইথ কিশোওয়ার চৌধুরী’।আশি ও নব্বইয়ের দশকে, যখন ক্যাটারিং সেবা এতটা প্রচলিত ছিল না, তখন পারিবারিক আয়োজন মানেই ছিল সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ। এমন এক প্রাণবন্ত পরিবেশেই কিশোওয়ারের রান্নার হাতেখড়ি, যেখানে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের আসতে আলাদা নিমন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে, খাবার শুধু পুষ্টি নয়, মানুষকে একত্রে আনারও শক্তি। আর এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল তার ছেলের একটি কথাই, "মা, তুমিও করো।"এই অনুপ্রেরণা তাঁর মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় যাত্রায় শুধু বিশ্বজুড়ে বাঙালি ঘরোয়া রান্নার পরিচয়ই দেয়নি, বরং একটি সাধারণ স্বপ্নকে বৃহত্তর উদ্দেশ্যে রূপান্তরিত করার মঞ্চও জুগিয়েছিল এবং অন্যদেরও বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল যে রান্নাও একটি পেশা হতে পারে। সাথে দিয়েছিল এক গভীর উপলব্ধি, , রেসিপি, পারিবারিক স্মৃতি আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা গল্পগুলো যদি লিপিবদ্ধ না করা হয়, তবে সেগুলো খুব সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। আর সেই উপলব্ধিই জন্ম দেয় তাঁর বই ‘স্মোক, রাইস, ওয়াটার’-কে। বইটির ১৬০টিরও বেশি কপি অনুষ্ঠানের দিন নতুন ঠিকানা খুঁজে পায়। বইটির মাধ্যমে ঐতিহ্য রক্ষা ছিল কিশোওয়ারএর লক্ষ্যের একটি অংশ মাত্র। তিনি চেয়েছিলেন, খাদ্য যেন অন্যদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয়। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কেসিসি উইংস’ উদ্যোগের সূচনা করেন। এই প্রোগ্রামটির মূল উদ্দেশ্য হলো, করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, পেশাদার রান্নাঘরে কাজের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ, ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ, পারিবারিক সহায়তা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনের সঙ্গে মেন্টরশিপের সুযোগ করে দেয়া। কিশোওয়ারের এই স্বপ্নের উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে ভিএঅস কেসিসি উইংসের জন্য ৫,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি অনুদান চেক প্রদান করে। এই অনুদানটি ভিএঅসের "কানেক্ট টু কেয়ার" দর্শন অর্থাৎ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক থেকে অর্থবহ সামাজিক প্রভাব সৃষ্টির বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে। কিশোওয়ারের কাছে এই অনুদান শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এর তাৎপর্য ছিল আরও অনেক গভীর। তিনি বলেন, “ভিএঅসকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ, কারণ তারা শুধু আমার যাত্রাকেই উদযাপন করেনি, বরং অন্য কারও ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ” কিশোওয়ারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ভিএঅসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও অ্যাডভাইসর ড. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান বলেন, “ভিএএইউএস বিশ্বাস করে, শিক্ষা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।” ভিএঅসের জন্য ‘ফ্লেভারস অফ হোম’ কেবল একজন প্রখ্যাত শেফকে আমন্ত্রণ জানানো বা প্রবাসীদের একত্রিত করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল না বরং ঐতিহ্যকে অর্থবহ কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করা।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের দলবিন্যাস চূড়ান্ত হয়েছে। ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক ড্র অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করল। সাফ অর্ডিনারি কংগ্রেস ২০২৬-এর পর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ), ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সাফের সাতটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।আনুষ্ঠানিক ড্র পরিচালনা করেন দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল, ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি দাশো উগেন সেচুপ এবং টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পনসর টেকনো মোবাইল বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও আইস্মার্টু টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক। তাঁদের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের আয়োজক, ড্র অনুষ্ঠানের স্বাগতিক ফেডারেশন এবং টাইটেল স্পনসরের মধ্যকার সমন্বিত সহযোগিতার প্রতিফলন ঘটায়।আনুষ্ঠানিক ড্রয়ের ফল অনুযায়ী, স্বাগতিক বাংলাদেশ গ্রুপ ‘এ’-তে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সঙ্গে খেলবে। গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। তবে নেপালের অংশগ্রহণ ফিফার অনুমোদনসাপেক্ষ।আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬। আনুষ্ঠানিক ড্র সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল আসরের মঞ্চ এখন প্রস্তুত।এ উপলক্ষে বাংলাদেশে টেকনো মোবাইলের কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘আই স্মার্ট ইউ’ টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক বলেন: “টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর যাত্রায় আনুষ্ঠানিক ড্র একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। গ্রুপ চূড়ান্ত হওয়ায় প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দল এখন আরও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে পারবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীরাও প্রতিযোগিতাটি ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা শুরু করতে পারবেন। টাইটেল স্পনসর হিসেবে টেকনো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সাফকে সহযোগিতা করতে পেরে গর্বিত, যা ক্রীড়া নৈপুণ্য উদ্যাপন করবে, আঞ্চলিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ফুটবলের শক্তিতে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।” গ্রুপ চূড়ান্ত হওয়ার পর অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এখন টুর্নামেন্টের জন্য তাদের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করবে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে আগ্রহ ও উত্তেজনা আরও বাড়বে।টাইটেল স্পনসর হিসেবে টেকনো দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবলের ধারাবাহিক বিকাশে সহযোগিতা এবং খেলোয়াড়, সমর্থক ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য স্মরণীয় চ্যাম্পিয়নশিপ অভিজ্ঞতা তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’