এক নারীর সঙ্গে ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে জামায়াতের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।এর আগে বিষয়টি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়ে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে আজ বুধবার (২২ জুলাই) দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ ২২ জুলাই (বুধবার) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মিন্ট রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে যখনই তেহরান কোনো জাহাজে গুলি চালাবে, তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে বোমা হামলা চালাবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।বুধবার (২২ জুলাই) ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে লিখেন, ‘এখন থেকে যখনই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো ডিভাইস বা অস্ত্র দিয়ে গুলি চালাবে, তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বোমা মেরে ধ্বংস করবে।’ট্রাম্প বলেন, এর মধ্যে রাজধানী তেহরানের পাশে বা ভেতরে অবস্থিত ইরানি স্থাপনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।উপসাগরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনার দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার জন্য একটি বিমান ঘাঁটিতে যাওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্পের এই হুমকি এলো।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আমাদের বীরদের সম্মান জানাতে যাচ্ছি, তারা সত্যিই মহান বীর।’ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সবাই খুব দৃঢ়ভাবে বলেছিল যে, আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিতে পারি না, তাই আমরা তাদের সম্মান জানাতে যাচ্ছি... প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি করা আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি, তবে এটি করতেই হবে।’এদিকে, নভেম্বরে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের কাছে তিনি জনপ্রিয় নন এবং তেলের দাম বৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে ইন্ধন জোগাচ্ছে—এমন জনমত জরিপগুলো প্রত্যাখান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।ইরান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ইতিমধ্যে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকানরা গ্যাসের উচ্চ মূল্য চায় না তবে তারা যুদ্ধের বিরুদ্ধে নয়, এটি বেশ স্পষ্টভাবেই প্রকাশ পেয়েছে।’হরমুজ প্রণালি নিয়ে লড়াইয়ের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ওপর টানা ১১ দিন ধরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জবাবে ইরান উপসাগরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ডেলাওয়্যারের ডোভার বিমান ঘাঁটিতে বুধবারের মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানটি ছিল জর্ডানের ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত দুই সেনা সদস্য এবং ইরাকে ড্রোন নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে নিহত এক সেনা সদস্যের জন্য। তাছাড়া, জর্ডান হামলায় তৃতীয় এক সেনাসদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ বহুগুণে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি জোরদার করেছেন। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৮তে পৌঁছেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন (ইরানিরা একে কোলাং পর্বত বলে ডেকে থাকে) নামে ইরানের একটি গোপন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে হামলা চালানোর হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইরান এই স্থানে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ী নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাৎকালে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের কর্মজীবনের সাফল্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।একই সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পরে বিদায়ী নৌ প্রধানকে নিয়ে মধ্যহ্নভোজ করেন প্রধানমন্ত্রী।২০২৩ সালের ২৪ জুলাই নৌ বাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এম নাজমুল হাসান।নাজমুল হাসান ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই কমিশন লাভ করেন। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন স্টাফ, ইস্ট্রাকশনাল এবং কমান্ড দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া তিনি নৌ সদরে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স), সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (পার্সোনেল), পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও নৌ গোয়েন্দা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অসামরিক-সামরিক সংযোগ পরিদফতরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধজাহাজ বানৌজা ওমর ফারুকসহ চারটি যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাভার পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ও বিএনপি নেতা লায়ন খোরশেদ আলম বলেছেন, কারও কাছে মাথা নত করার জন্য সাভারে রাজনীতি করি না। একজন মানুষ যদি প্রমাণ করতে পারে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার সঙ্গে আমার ছবি আছে, তাদের সঙ্গে আমি লিয়াজোঁ করে চলেছি কিংবা কোনো কর্মীর বিপদের সময় আমি পাশে দাঁড়াইনি, তাহলে সেদিনই রাজনীতি ছেড়ে দেব।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভারের ছায়াবীথি এলাকায় সাভার হোটেল কর্মচারী ফাউন্ডেশনের কার্যালয় উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।খোরশেদ আলম বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাঁর পরিবার দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিএনপির জন্য ত্যাগ স্বীকার ও রক্ত ঝরিয়েছে।তিনি আরও বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সাভারে বিএনপির অস্তিত্ব ধরে রেখেছিল আমার পরিবার। তখন মজনু, মিজান ও মোহাম্মদ আলী এই তিনজনের বাইরে বিএনপি করার মতো খুব কম মানুষই ছিলেন। দলের সিনিয়র নেতারা তখন কারাগারে ছিলেন। এই তিনজনই দলকে সংগঠিত রেখেছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে এসব নিজের চোখে দেখেছি। সেই ভালোবাসা থেকেই রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগ সরকার আমাকে অনেক নির্যাতন করেছে, কিন্তু আমাকে মাথা নত করাতে পারেনি। কারও কাছে মাথা নত করার জন্য আমি সাভারে রাজনীতি করি না।এ সময় তিনি সাভার হোটেল কর্মচারী ফাউন্ডেশনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংগঠনটির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী।উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি হানিফ শেখ, সাধারণ সম্পাদক কাজল দেওয়ানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাভার পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজ খান নাইম।এ সময় সাভারের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টের কর্মচারী, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। শুরুতে একমাত্র টেস্ট হার, এরপর ওয়ানডে সিরিজেও ভরাডুবি। চারদিকে সমালোচনার মধ্যেই সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও হেরে বসেছিল টাইগাররা। অবশ্য পরের দুই টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ বাঁচিয়েছে টাইগাররা। জিম্বাবুয়েতে ব্যর্থ মিশন শেষে আজ সকালে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে টাইগাররা। বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। জানিয়েছেন জিম্বাবুয়েতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ। কন্ডিশনের কথা জানিয়ে আশরাফুল বলছিলেন, 'ওখানে প্র্যাকটিস ম্যাচ ছিলো না। জিম্বাবুয়ের পিচের বাউন্স সামলানো কঠিন হয়ে গেছে। তবে এই অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে কাজে দেবে।'এদিকে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। সেখানে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। যা আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। সেই সিরিজে ভালো করবে দল প্রত্যাশা আশরাফুলের, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমরা প্রায় ১০ দিন আগে যাচ্ছি। ওখানে ৩ দিনের প্র্যাকটিস ম্যাচ আছে। আশাকরি খেলোয়াড়রা ভালো করবে।’আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্টের মাধ্যমে সিরিজটি শুরু হবে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ হতে যাচ্ছে এটি।
বাংলাদেশে বর্ষাকাল মানেই গ্রীষ্মের তীব্র গরম থেকে স্বস্তি। তবে গরমের থেকে স্বস্তি পেলেও, বৃষ্টির দিনে কাপড় ধোয়া অনেক পরিবারের জন্য বড় এক সমস্যায় পরিণত হয়।বৃষ্টির দিনগুলোতে বারান্দা সবসময় ভেজা থাকে। অন্যদিকে, বসার ঘর পরিণত হয় কাপড় শুকানোর জায়গায়। টানা কয়েক দিন রোদ না উঠলে বিপদ আরও বাড়ে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ধোয়া কাপড় সহজে শুকাতে চায় না। এক-দুই দিনেও কাপড় পুরোপুরি শুকাতে না পারলে তাতে স্যাঁতসেঁতে গন্ধও ধরে যায়।এমন অবস্থায় যারা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অফিসে থাকেন, তাদের জন্য এই ঝামেলা আরও বেশি। দিনভর কাজের পর কাপড় ধুয়ে ফেললেও সেগুলো ঠিকমতো শুকানোর চিন্তা থেকেই যায়। আবার, কাপড়ে একবার স্যাঁতসেঁতে গন্ধ ধরে গেলে তা নতুন করে ধোয়া ছাড়া উপায় থাকে না। যেসব পরিবারে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়ে আছে তাদের চিন্তা আরও বেশি। বর্ষার দিনগুলোতে প্রতিদিন স্কুল ইউনিফর্ম ধুয়ে, তা শুকিয়ে, সময়মতো প্রস্তুত রাখা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে।এমন পরিস্থিতিতে স্মার্ট হোম অ্যাপ্লায়েন্স মানুষের জীবনে অনেকটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে। বিশেষ করে, এআইচালিত ওয়াশিং মেশিন কাপড় ধোয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিকেই আরও সহজ করে তুলছে। উদাহরণ হিসেবে স্যামসাংয়ের এআই-সমৃদ্ধ ওয়াশিং মেশিনের কথা ধরা যায়। এই ওয়াশিং মেশিন কাপড়ের ধরণ অনুযায়ী সাবানের ফেনার, কাপড় ধোয়ার সময় এবং স্পিনের গতি নিজেই ঠিক করে নিতে পারে। এআই প্রযুক্তি ভালোভাবে কাপড় পরিষ্কার করার বিষয়টি নিশ্চিত করে। আর দ্রুতগতির স্পিন সাইকেল কাপড় শুকানোর জন্য প্রয়োজোনীয় সময় অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তাছাড়া, এসব ওয়াশিং মেশিন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও করতে পারে। ফলে বর্ষার সময় বেশি কাপড় ধুলেও বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার চিন্তা অনেকটাই কমে যায়।বর্ষার আবহাওয়া যখন দিন দিন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, তখন এ ধরনের প্রযুক্তি কাপড় পরিষ্কার করার পাশাপাশি সময় সাশ্রয় করে, মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং বছরের সবচেয়ে আর্দ্র সময়েও পরিবারের দৈনন্দিন কাজ সহজভাবে চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
ইরানে ১১তম দিনে মার্কিন হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।২২ জুলাই বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।সূত্র: আল জাজিরা
বিদেশে ডেনিশ কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করা ডেনমার্ক দূতাবাসের অন্যতম প্রধান কাজ। কৌশলগত সংলাপ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানি পরিদর্শন করা, তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং তাদের কাজকর্ম কাছ থেকে দেখা পাশাপাশি কাজের ধরণ, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জগুলো ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করাও এই কার্যক্রমের অংশ।তারই ধারাবাহিকতায় আজ ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার ঢাকায় অবস্থিত 'ডিএসবি'-এর কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ম্যানেজার ধানুশকা গুণবর্ধনে এবং 'ডিএসবি' বাংলাদেশ টিম।পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত পুরো অফিস ঘুরে দেখেন, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং যেসব সহকর্মী বাংলাদেশে 'ডিএবি'-তে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেবা দিয়ে আসছেন, তাদের বিশেষ স্বীকৃতি জানান—যা বাংলাদেশ ও এখানকার মানুষের প্রতি এই কোম্পানির দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ প্রতিশ্রুতিরই এক উজ্জ্বল নিদর্শন।ডেনমার্কে মাত্র ১০ জন পরিবহনকারীকে (হাউলিয়ার) সাথে নিয়ে যাত্রা শুরু করা 'ডিএসভি' আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ লজিস্টিকস কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে, যা ডেনমার্কের এক অনন্য সাফল্যের গল্প। বর্তমানে বাংলাদেশে এর কার্যক্রম দেশকে বিশ্ববাজারের সাথে যুক্ত করতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।ডেনিশ ব্যবসাগুলোর সাথে এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে 'ট্রেড কাউন্সিল' ডেনমার্ক ও বাংলাদেশ—উভয় দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করে যাচ্ছে।
এবার পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমরান খান। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে এমরান খান বলেন ‘বাংলাদেশের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট নিয়োগপ্রাপ্ত হই। আমি আমার ব্যক্তিগত কারণে উক্ত পদ হতে আজ পদত্যাগ করলাম।’পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার ব্যক্তিগত ল চেম্বারের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এখন আমি ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসে সময় দিতে চাই। এ কারণে পদত্যাগ করেছি।’
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে বিবৃতি প্রদান করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।২১ জুলাই (মঙ্গলবার) প্রদত্ত ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।’এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এবিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে এখন ৯৭তম স্থানে বাংলাদেশ। গত বছর এই তালিকায় বাংলাদেশ ছিল ১০০ তম স্থানে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।তবে র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগোলেও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একই কাতারে রয়েছে বাংলাদেশ। এ তালিকায় উত্তর কোরিয়ার অবস্থানও ৯৭তম।প্রকাশিত সূচকে বরাবরের মতো এবারও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এশিয়ার আরও তিন দেশ— জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ১৮৮টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন এ তিন দেশের পাসপোর্টধারীরা।সূচকে তৃতীয় অবস্থানে আছে ইউরোপের দেশ সুইডেন। দেশটির পাসপোর্টধারীরা ১৮৭টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন।চতুর্থ অবস্থানে আছে মোট ১১টি দেশ। সব কয়টিই ইউরোপের। দেশগুলো হলো- বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন।এবারের সূচকে পঞ্চম অবস্থানে আছে পাঁচটি দেশ। অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড—এ পাঁচ দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৫টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন।হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য—এ তিন দেশ আছে ষষ্ঠ অবস্থানে। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৪টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন।সূচকে সপ্তম অবস্থানে থাকা আটটি দেশ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়ার পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন ১৮৩টি দেশে।অষ্টম অবস্থানে থাকা ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়ার পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ১৮২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। সূচকে নবম অবস্থানে আছে দুটি দেশ—লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া। দেশ দুটির পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন ১৮১টি দেশে।সূচকে দশম অবস্থানে থাকা আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন ১৮০টি দেশে। অন্যদিকে তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে কতটি দেশে যাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী পাসপোর্টের এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য।সূচকে প্রকাশিত তথ্য বলছে, এখন বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। গত বছর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল ৩৭।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ৫ মে’র নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে মরেছে। মা-বোনেরা ঘরে বসে কেঁদেছে, দোয়া করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের বীভৎসতার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাস্তায় নেমেছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে; এটাই হলো বাস্তবতা এবং গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য। বুধবার (২২ জুলাই) এবি পার্টির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় সকালে দলের বিজয়নগরস্থ দলীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ, মো. আলিফ প্রমুখ।মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ৭১-এ পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মা রাজাকার আলবদরেরা আবার সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। তালিকা অনুযায়ী তাদের বড় অংশ ছিল আওয়ামী লীগের। এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা এ দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন ইনিয়ে-বিনিয়ে ফ্যাসিবাদকে প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সাধারণত আলেম সমাজ সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও জাতির সংকটময় মুহূর্তে তারা বারবার নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৪৭, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আলেম সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।তিনি বলেন, আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা আপসহীন। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে আলেম সমাজের পাশে সমাজের বৃহত্তর অংশ দাঁড়াতে পারেনি। এমনকি কিছু রাজনৈতিক দলও শেষ পর্যন্ত তাদের পাশে থাকেনি। এরপর সরকারবিরোধী সব কণ্ঠ দমন করে, যা দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পথকে আরও সুগম করে।তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হয়। এরপর নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নামলে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং আলেম-ওলামারা জাতির শ্রেষ্ঠ বীর। তিনি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে যারা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আলেম-ওলামারা সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফলেই শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে। দেশপ্রেমিক সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ সম্ভব নয় এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গিবাদের অভিযোগ ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করেছে।ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোনো প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও তারা আবাবিল পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী।
জামালপুরে বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। (২২ জুলাই) বুধবার সন্ধ্যায় জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের রানাগাছা মুদিরমোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজিব সার্ভিসের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালকসহ সব যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য চারজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার আমড়ীতলা গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে বিল্লাল হোসেন। অপর নিহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।জামালপুর সদর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। শুরুতে একমাত্র টেস্ট হার, এরপর ওয়ানডে সিরিজেও ভরাডুবি। চারদিকে সমালোচনার মধ্যেই সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও হেরে বসেছিল টাইগাররা। অবশ্য পরের দুই টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ বাঁচিয়েছে টাইগাররা। জিম্বাবুয়েতে ব্যর্থ মিশন শেষে আজ সকালে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে টাইগাররা। বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। জানিয়েছেন জিম্বাবুয়েতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ। কন্ডিশনের কথা জানিয়ে আশরাফুল বলছিলেন, 'ওখানে প্র্যাকটিস ম্যাচ ছিলো না। জিম্বাবুয়ের পিচের বাউন্স সামলানো কঠিন হয়ে গেছে। তবে এই অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে কাজে দেবে।'এদিকে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। সেখানে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। যা আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। সেই সিরিজে ভালো করবে দল প্রত্যাশা আশরাফুলের, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমরা প্রায় ১০ দিন আগে যাচ্ছি। ওখানে ৩ দিনের প্র্যাকটিস ম্যাচ আছে। আশাকরি খেলোয়াড়রা ভালো করবে।’আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্টের মাধ্যমে সিরিজটি শুরু হবে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ হতে যাচ্ছে এটি।
ছোটপর্দা ও বিজ্ঞাপন নির্মাণে সাফল্য অর্জন করে ফেলেছেন। এরপর এখন যাত্রা শুরু করলেন বড় পর্দার নির্মাণ। নির্মাতা আদনান আল রাজী কয়েক দিন আগে দিয়েছেন নিজের প্রথম সিনেমার ঘোষণা। তখন সিনেমার নাম কিংবা অভিনয়শিল্পীদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও তিনি এখন জানিয়েছেন এটি হবে একটি প্রেমের গল্প। আর সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন সিয়াম আহমেদ।সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাতা ও সিয়ামের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগেই মৌখিক কথাবার্তা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি নন আদনান আল রাজীব কিংবা সিয়াম। দুজনই এ বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন।যদিও নায়ক হিসেবে সিয়ামের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, সিনেমাটির নায়িকা কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য জানা যায়নি।এ বিষয়ে আদনান আল রাজীবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।সিয়াম আহমেদকে সর্বশেষ গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘রাক্ষস’-এ দেখা গেছে। নতুন এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও একটি রোমান্টিক চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরতে যাচ্ছেন তিনি।অন্যদিকে ‘কাছে আসার গল্প’, ‘বিকেল বেলার পাখি’ ও ‘মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট’-এর মতো আলোচিত নাটক নির্মাণের পর পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনায় অভিষেক হতে যাচ্ছে আদনান আল রাজীবের।
বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা আবারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায়। গ্রিসে অবকাশযাপনের সময় সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।নিজের ইনস্টাগ্রামে ‘গ্রিস ডায়েরি’ ক্যাপশনে একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন মালাইকা। সেখানে সমুদ্রের নীল জলে স্বল্পবসনা অবস্থায় তাকে দেখা যায়। একটি ছবিতে হাতে ওয়াইনের বোতল নিয়ে সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তবে নেটিজেনদের নজর কাড়ে তার পাশে একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক রহস্যময় পুরুষ। ওই ব্যক্তির মুখ স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে তার পরিচয় নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনেকের ধারণা ওই ব্যক্তি হতে পারেন হীরা ব্যবসায়ী হর্ষ মোহতা। যদিও এ বিষয়ে মালাইকা অরোরা বা হর্ষ মোহতার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।এর আগে অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে মালাইকার সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই ছবিগুলো প্রকাশের পর আবারও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।বর্তমানে গ্রিসের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে সময় কাটাচ্ছেন মালাইকা। সেখানে গোলাপি মনোকিনি, বিকিনি এবং সমুদ্রসৈকতে তোলা বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছেন তিনি। তবে রহস্যময় পুরুষ সঙ্গীকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য সামনে আসেনি।
বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর কট্টরপন্থী এক হিন্দু ধর্মগুরুর পক্ষ থেকে অভিনেতাকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণার দাবি সামনে এসেছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অযোধ্যার কট্টরপন্থী ধর্মগুরু জগৎগুরু পরমহংস আচার্য এক বক্তব্যে দাবি করেন, যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করবে, তাকে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ও বহনের কথাও বলেন তিনি।সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে আইনি প্রক্রিয়ায় গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। বিয়ের পর থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ এ নিয়ে সমালোচনা শুরু করে। এর আগে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেছিলেন।পরমহংস আচার্যের অভিযোগ, আমিরের তিন স্ত্রীই হিন্দু পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং এটি নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ‘লাভ জিহাদ’-কে উৎসাহিত করার অংশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে, একই বক্তব্যে অযোধ্যার রামমন্দিরের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরমহংস বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) তদন্ত করছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে আমির খান বা তার টিমের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।তবে জানা গেছে গৌরি হিন্দু নন। তিনি খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। সূত্র: সামা টিভি
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুঁটি বেঁধে অভিনয় করছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাদের। তরুণ নির্মাতা জাহিদ প্রীতম সিনেমাটি নির্মাণ করছেন। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে কামব্যাক করছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের জন্য এটিই চরকির সাথে প্রথম কাজ। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ (এমওএল) প্রজেক্টের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমাটি হতে যাচ্ছে সপ্তম চলচ্চিত্র, যা সহ-প্রযোজনা করছে খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’।নির্মাতা জাহিদ প্রীতম জানান, সমকালীন জীবনের নানা জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং আধুনিক জীবনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবকে এই সিনেমার গল্পে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি আমি তৈরি করতে পারব।’সাধারণত পর্দায় আরিফিন শুভকে অ্যাকশন হিরো কিংবা ‘আলফা মেইল’ চরিত্রে দেখে দর্শক অভ্যস্ত। তবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমায় আনিস নামের একটি চরিত্রে একদম ভিন্নরূপে হাজির হবেন তিনি। এখানে তাকে দেখা যাবে একজন ‘সিগমা মেইল’ হিসেবে।নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০-এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম-কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন না এটা।’সিনেমার গল্পটি গড়ে উঠেছে বর্তমান যুগের এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের এক প্রান্তে রয়েছেন সহজ-সরল ও সৎ যুবক আনিস (শুভ), আর অন্য প্রান্তে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকা। এই অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল, যার চরিত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে আবর্তিত।নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে উচ্ছ্বসিত কেয়া পায়েল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে, প্রথমত আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত চরকির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, তৃতীয়ত এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় যে, দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন। ‘চরকির ব্যতিক্রমী প্রজেক্ট ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ মূলত সম্পর্কের নানা রূপ নিয়ে গল্প বলে। এই প্রজেক্ট নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ প্রজেক্টটের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটা সম্পর্কের গল্প দর্শকরা দেখতে পারবেন।’গল্পের ভিন্নতার কারণেই এই প্রজেক্টের সাথে সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। সিনেমাটি নিয়ে নিজের ভালো লাগা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুইজন মানুষের যে দ্বন্দ্ব, খুনসুটি, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মেলানোর চেষ্টা– গল্পের এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে জন্যই কাজটার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আর গল্পের মতো করেই আমরা মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে পাব। সেটা দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করি।’উল্লেখ্য, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে আরিফিন শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কনটেন্ট ছিল ২০২৩ সালের ‘উনিশ২০’। অন্যদিকে, নির্মাতা জাহিদ প্রীতম ‘ঘুমপরী’র পর তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে চরকিতে ফিরছেন। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ প্রজেক্টের আওতায় এর আগে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অফ মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬-২৪-৩৬’ এবং ‘ডিমলাইট’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পেয়েছে।
রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক কর্পোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তির আওতায় অভিনয় শিল্পী সংঘের সব সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা এক্সিকিউটিভ হেলথ চেক-আপ, কার্ডিয়াক হেলথ চেক-আপসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।চুক্তিতে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী এবং অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষে সভাপতি আজাদ আবুল কালাম যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।এ সময় অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং আইনবিষয়ক সম্পাদক সূচনা সিকদারও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ব্রডওয়ে ও টেলিভিশন অঙ্গনের জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা জশ গ্রিসেত্তি আর নেই। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানায়, গত ১০ জুলাই আত্মহত্যা করেন এই অভিনেতা। পরে তার সহ-অভিনেতা রব ম্যাকব্লুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বিষয়টি জানান।রব ম্যাকব্লুর লিখেছেন, এই মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তিনি জশের স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের একসঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবিও প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, জশ গ্রিসেত্তিকে ছাড়া অভিনয়জগত আর আগের মতো থাকবে না। তাকে সবাই গভীরভাবে মিস করবেন।মৃত্যুর আগে নিজের শেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জশ জানান, ব্যক্তিগত কারণে একটি নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।তার মৃত্যুর পর উৎসব কর্তৃপক্ষও শোক প্রকাশ করে জানায়, জশ গ্রিসেত্তি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, স্নেহশীল ও নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন খুবই প্রিয়।ব্রডওয়েতে নাইজেল বটম চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান জশ গ্রিসেত্তি। এছাড়া ইট শুডা বিন ইউ, ব্রডওয়ে বাউন্ড, রেন্ট, পিটার অ্যান্ড দ্য স্টারক্যাচার ও এন্টার লাফিং-সহ একাধিক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।টেলিভিশনেও সফল ছিলেন জশ। তিনি দ্য মার্ভেলাস মিসেস মেজেল, দ্য নাইটস অব প্রসপারিটি, নার্স জ্যাকি এবং দ্য গুড ফাইট-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্র ও সংগীতনির্ভর নাটকের পরিচালনাও করেছেন।১৯৮১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় জন্ম নেওয়া জশ গ্রিসেত্তি ছোটবেলা থেকেই মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে হলিউড ও ব্রডওয়ের অভিনয় অঙ্গনে।
দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে ফের স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার এক লাফে ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।এর আগে, সবশেষ গত ২১ জুলাই সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪৫ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৭ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য দুই দিনের বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্পের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই ২০২৬ (শুক্র ও শনিবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওয়ারদি আল-দাওয়াসির এলাকায় এ কনস্যুলার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।ক্যাম্পে নিজ উদ্যোগে ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র পূরণ করা আবেদনকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পাসপোর্ট বিতরণ, শ্রমকল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড তৈরি, বিশেষ এক্সিট প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন কনস্যুলার ও আইনি সেবা প্রদান করা হবে।এছাড়াও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হবে বলে দূতাবাস জানিয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ প্রবাসীদের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, সেবা গ্রহণের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পানি ও ছাতা সঙ্গে রাখারও পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
স্মার্টফোন কেনার সময় বেশিরভাগ মানুষ ক্যামেরা, পারফরম্যান্স আর ব্যাটারির দিকেই বেশি নজর দেন। তবে শুধু ভালো ফিচার থাকলেই হয় না, প্রতিদিনের ব্যবহারে ফোনটি কতটা টেকসই, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হঠাৎ বৃষ্টি, অসাবধানতাবশত হাত থেকে ফোন পড়ে যাওয়া বা ধুলাবালির সংস্পর্শে আসা, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি প্রায় সব স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকেই হতে হয়। এসব বাস্তব বিষয় মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো, যা প্রতিদিনের ব্যবহারে নিশ্চিত সুরক্ষা এবং নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।ফোনটির অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর আইপি৬৮ ও আইপি৬৯ ডাস্ট এবং ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স প্রযুক্তি। টেকনোর দাবি, ফোনটি সর্বোচ্চ ছয় মিটার গভীর পানিতে ডুবে গেলেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। তাই শুধু বৃষ্টি বা হঠাৎ পানির ছিটাই নয়, বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিতেও ফোনটি নিরাপদ থাকে। এছাড়া এতে রয়েছে এসজিএস ফাইভ-স্টার ড্রপ রেজিস্ট্যান্স এবং ৩৬০ ডিগ্রি ড্রপ প্রোটেকশন, যা অসাবধানতাবশত হাত থেকে পড়ে গেলেও ফোনকে ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। ফলে যারা নিয়মিত বাইরে থাকেন বা ব্যস্ত জীবনযাপন করেন, তাদের জন্য টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো হতে পারে একটি নির্ভরযোগ্য স্মার্টফোন।টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো তে নিশ্চিত সুরক্ষার পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক ও আকর্ষণীয় ডিজাইন। বড় ডিসপ্লে থাকাতে ফোনটি হাতে ধরে ব্যবহার করতে বেশ আরামদায়ক। এতে রয়েছে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ৬.৭৮ ইঞ্চির বড় স্ক্রিন, যা ব্যবহারকে আরও সহজ করে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা বা এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে যাওয়ার সময় সবকিছুই দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ মনে হয়। যারা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, বিশেষ করে ভিডিও দেখেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটান, তারা এই ডিসপ্লের সুবিধা সহজেই অনুভব করতে পারবেন।টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রোর আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি। এতে রয়েছে ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, যা একবার চার্জে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করার সুযোগ দেয়। তাই বারবার চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার চিন্তা করতে হয় না। কল করা, ভিডিও দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, ছবি তোলা বা হালকা গেম খেলা, সবই দীর্ঘ সময় ধরে সহজে করা যায়। আর ব্যাটারি কমে গেলেও ৬০ ওয়াট সুপার চার্জিং সুবিধার কারণে খুব অল্প সময়েই ফোনটিকে আবার রিচার্জ করা যায়।টেকনো শুধু দীর্ঘ সময় ব্যাটারি ব্যাকআপই নয়, ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি কাজ করার ক্ষমতার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, ১,৯০০ বারের বেশি চার্জ দেওয়ার পরও ব্যাটারি তার মূল ক্ষমতার ৮০ শতাংশের বেশি ধরে রাখতে পারে। ফলে ফোনটি শুধু একদিনের ব্যবহারের জন্য নয়, দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহারেও ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রোতে রয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ আল্টিমেট প্রসেসর। এটি ৪জি প্রসেসর হলেও প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজ, একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য ভালো পারফরম্যান্স দেয়। ফোনটি ৬জিবি ও ৮জিবি র্যামের দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়। এক্সটেন্ডেড র্যাম সুবিধার মাধ্যমে ৬জিবি মডেলে মোট ১৮জিবি পর্যন্ত এবং ৮জিবি মডেলে ২৪জিবি পর্যন্ত র্যাম ব্যবহার করা যায়। এছাড়া দুটি মডেলেই রয়েছে ১২৮জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, যেখানে সহজেই অ্যাপ, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণ করা যায়। টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রোতে ছবি তোলার জন্য রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি লাইটিয়া ৬০০ ফ্ল্যাশস্ন্যাপ ক্যামেরা। এটি বিভিন্ন ধরনের আলোতে পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত ছবি তুলতে সক্ষম। তাই পোর্ট্রেট, খাবারের ছবি, ভ্রমণের স্মৃতি, পারিবারিক মুহূর্ত কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ছবি তোলায় ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। ফাস্ট মুভিং কোনো বিষয়ের ছবি তুলতেও ফ্ল্যাশস্ন্যাপ ফিচারটি বেশ কার্যকর। এছাড়া সেলফি, ভিডিও কল এবং অনলাইন মিটিংয়ের জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের একটি ক্যামেরা। যারা বেশি দামি ফোন না কিনেও প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য ভালো ও নির্ভরযোগ্য ক্যামেরা চান, তাদের জন্য টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো একটি ভালো পছন্দ হতে পারে।ডিটিএস সাউন্ড সমর্থিত ডুয়াল স্পিকারের কারণে ফোনটিতে গান শোনা, ভিডিও দেখা এবং গেম খেলার সময় পরিষ্কার শব্দ শোনা যায়। এছাড়া অল-সিনারিও নয়েজ ক্যান্সেলেশন সুবিধা থাকায় কল বা অনলাইন মিটিংয়ের সময় আশপাশের শব্দ কম শোনা যায়, ফলে কথা বলা আরও সহজ হয়।অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমে চলা টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রোতে রয়েছে টেকনোর বিভিন্ন এআই সুবিধা। ওয়ান-ট্যাপ সামারাইজেশন, এআই ফ্ল্যাশমেমো, এআই রাইটিং, এআই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাসিস্ট্যান্ট, এআই প্রবলেম সলভিং, এআই হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এআই স্মার্ট শিডিউলিং, যা দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করে তোলে। এই এআই সুবিধাগুলো শুধু নতুন ফিচার যোগ করার জন্য নয়, বরং প্রতিদিনের কাজকে আরও সহজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, যোগাযোগ, ব্যক্তিগত কাজ গুছিয়ে রাখা এবং কাজের গতি বাড়াতে এসব ফিচার বেশ কাজে আসে।ফোনটিতে ফ্রিলিঙ্ক ২.০ সুবিধা রয়েছে, যা নেটওয়ার্ক দুর্বল হলেও কাছাকাছি থাকা সমর্থিত ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে সাহায্য করে। এছাড়া টাচ ট্রান্সফার সুবিধার কারণে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের মধ্যে দ্রুত ও সহজে ফাইল শেয়ার করা যায়।বাংলাদেশে টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো ৬জিবি মডেলের দাম ২৬,৯৯৯ টাকা এবং ৮জিবি মডেলের দাম ৩০,৯৯৯ টাকা, ভ্যাট প্রযোজ্য । সব মিলিয়ে, টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো শুধু বড় ব্যাটারি বা বেশি র্যামের একটি স্মার্টফোন নয়। এতে রয়েছে শক্তপোক্ত সুরক্ষা, দ্রুত চার্জিং, বড় ও মসৃণ ডিসপ্লে, ভালো ক্যামেরা, দরকারি এআই ফিচার এবং প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স। তাই যারা দীর্ঘদিন ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় এমন একটি স্মার্টফোন খুঁজছেন এবং পারফরম্যান্সের পাশাপাশি টেকসই হওয়াকেও গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো হতে পারে একটি ভালো ও নির্ভরযোগ্য পছন্দ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’