বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রার্থী তারেক রহমান বলেছেন, চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে জয়ী হলে সামনে তার জন্য ‘বড়’ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত আগের সরকারের আমলে লুটপাট হওয়া দেশকে মেরামতের অঙ্গীকার রয়েছে তার। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা; যাতে ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন উৎখাতের পর দেশকে গ্রাস করা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটে।তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘আমাদের দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকেন।’’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় এই দেশের সামনের কাজ হবে অত্যন্ত কঠিন।ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদেরকে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শাসনামলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, জ্বালানি খাত ধ্বংস হয়েছে।’’ভোটে এগিয়ে থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে তারেক রহমানের বিএনপি। নিজ কার্যালয়ে তার প্রয়াত বাবা-মা, বাংলাদেশের সাবেক নেতা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো প্রতিকৃতি ঝুলছে। সেখানে বসে মৃদুভাষী বিএনপির এই নেতা এএফপিকে বলেছেন, তিনি নিরঙ্কুশ বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব—একটি বড় ম্যান্ডেট।’’ বর্তমান তার দলের জোটের বাইরে কোনও জোটের প্রয়োজন দেখছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, ‘‘নিজেদের সরকার গঠনের মতো আমরা পর্যাপ্ত আসন পাবো।’’• বাবা-মায়ের চেয়েও ভালো করতে চানশেখ হাসিনার শাসনামলে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই ৮০ বছর বয়সে মারা যান বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী তার মা বেগম খালেদা জিয়া। এরপর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তিনি।খ্যাতিমান বাবা-মায়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘তারা ছিলেন তারা। আর আমি আমিই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তিনিও আজীবন রাজনীতিতে কাটিয়েছেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি তাদের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করব।নির্বাচিত হলে তার সামনে থাকা শীর্ষ কাজগুলোর একটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক উৎপাদনকারী দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা। তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে; অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার রয়েছেন। আমাদের এই তরুণদের চাকরির জন্য ব্যবসা সৃষ্টি করতে হবে।’’ বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন।• প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কবাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকায় পররাষ্ট্র সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমার জনগণের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থই সবার আগে। তবে বাংলাদেশ আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত ‘‘প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক’’ চায়।৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের দেখভালের জন্য একসময় প্রশংসিত হলেও শেখ হাসিনা এমন এক সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন; যে সরকার ভিন্নমত দমন করেছে এবং বিশেষ করে বৃহৎ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ব্যাপক লুটপাটে অভিযুক্ত।তারেক রহমান বলেন, আমরা যা দেখছি, তা হলো মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কয়েকজন মানুষকে অত্যন্ত ধনী করা হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি অংশ; পুরো জনগণ কিছুই পায়নি।’’তবে আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেন তারেক রহমান। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবারের নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে।তারেক রহমান বলেন, নিশ্চয়ই, কেউ যদি কোনও ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত। সূত্র: এএফপি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আড়ালে থাকা একজন ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু এই মুহূর্তে সাদা দাঁড়ির শফিকুর রহমানের ছবিসমৃদ্ধ বিলবোর্ড ও পোস্টার ঢাকার সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে। যেগুলোতে বাংলাদেশের প্রথম ইসলামপন্থি সরকার গঠনের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাওয়া হচ্ছে।৬৭ বছর বয়সী চিকিৎসক ও জামায়াতের প্রধান নেতা প্রায় ‘অখ্যাত’ অবস্থান থেকে এখন প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এর আগে তিনি কেবল ইসলামপন্থি মানুষদের কাছে পরিচিত ছিলেন।জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট তাদের সাবেক মিত্র বিএনপির বিরুদ্ধে আসন্ন নির্বাচনে শক্তিশালী লড়াই করবে। এই জামায়াতই এক সময় বিএনপির সহযোগী ছিল। জেন-জি বিপ্লবে ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রথম জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে।মতামত জরিপে দেখা যাচ্ছে, এক সময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াত তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো পারফরমেন্স করতে যাচ্ছে। যা মধ্যপন্থি ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অনেক দমন নিপীড়ন চলেছে। তাদের শীর্ষ নেতাদের জেলে পাঠিয়েছিল। ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কিছু নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ফলে তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালে ডা. শফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার এবং তাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।কিন্তু ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান জামায়াত এবং ডা. শফিকুর রহমানের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এতে জামায়াত আবারও সামনে আসার সুযোগ পায়।জামায়াত এরপর দ্রুত নিজেদের সক্রিয় করে। তারা দাতব্য ও বন্যা দুর্গতদের জন্য কাজ শুরু করে। এর মধ্যে জামায়াত আমিরের সাদা দাঁড়ি ও সাদা পোশাক তাকে সবার মধ্যে সবচেয়ে দৃশ্যমান করে তোলে।গত ডিসেম্বরে ডা. শফিকুর রহমান রয়টার্সকে বলেছিলেন, “আমরা আওয়াজ তোলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর আমরা আবারও সামনে আসার সুযোগ পেয়েছি।”• চিকিৎসক পরিবার১৯৫৮ সালে সিলেটের মৌলভীবাজারে ডা. শফিকুর রহমানের জন্ম। তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বাম ছাত্র সংগঠনের হয়ে। এরপর যোগ দেন ইসলামি ছাত্রশিবিরে।তিনি ১৯৮৪ সালে জামায়াতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচন করেন। কিন্তু একবারও সফল হননি। এরপর ২০২০ সালে জামায়াতের আমির হন।তার স্ত্রী আমিনা বেগম ২০১৮ সালে নারী সংসদ সদস্য হন। আমিনাও একজন চিকিৎসক। এমনকি তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলেও চিকিৎসক। তিনি সিলেটে একটি পারিবারিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন।জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানকে একজন নম্র ও আন্তরিক ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করে থাকে। যিনি সরল, বিনয়ী ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করেন।• রাজনৈতিক শূন্যতার সঠিক ব্যবহার করেছেনবিশ্লেষকদের মতে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দিয়েছিল, সেটির সঠিক ব্যবহার করেছেন ডা. শফিকুর রহমান।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শফি মোস্তফা বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর, বাংলাদেশে দৃশ্যমান কোনও নেতা ছিল না। তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন। শফিকুর রহমান পুরো দেশ সফর করেছেন। মিডিয়ার অ্যাটেনশন পেয়েছেন এবং মাত্র দুই বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছেন।”ডা. শফিকুরের বক্তব্য অনেক ভোটারের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। তিনি জামায়াতকে পরিচ্ছন্ন, ইসলামি মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত এক নৈতিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। গত ডিসেম্বরে জামায়াত জেন-জি এনসিপির সঙ্গে জোট করে। এর মাধ্যমে তরুণ ও কম রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে নিজেদের বিস্তৃত করেছে তারা।গেম অব থ্রোনসের আদলে তৈরি ডা. শফিকুর রহমানের পোস্টার দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে। যেগুলোতে ‘দাদু ইজ কামিং’, ‘দাদু’ এমন লেখা দেখা গেছে।অনেকে ডা. শফিকুর রহমানকে জামায়াতের অধিক মধ্যপন্থি চেহারার হিসেবে দেখেন। তিনি সরকার পরিচালনা, দুর্নীতি-বিরোধী কাজ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া তিনি সব ধর্মের নাগরিকদের জন্য সমান অধিকারের কথা বলেছেন।তবে নারীদের বিষয়ে বিভিন্ন নীতি নিয়ে তিনি আবার সমালোচিতও হয়েছেন। তার দল নির্বাচনে একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি। এছাড়া তিনি পরিবারকে বেশি সময় দেওয়ার জন্য নারীদের জন্য পাঁচ কর্মঘণ্টার কথা বলেছেন।কিন্তু ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “জামায়াত হলো মধ্যপন্থি, আমরা নমনীয়, আমরা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু আমাদের মূলনীতি কোরআনভিত্তিক, ইসলামভিত্তিক। আর কোরআন শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য নয়। এটি সৃষ্টির সবার জন্য।”
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামীকাল (বুধবার) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।বার্তায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামীকাল (বুধবার) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আজ সন্ধ্যা ৬টায় এই ভাষণ রেকর্ড করা হবে। বুধবার বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটি সম্প্রচার করা হবে।ধারণা করা হচ্ছে, ভাষণে সিইসি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি দেশবাসীকে জানাবেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জি. মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থী বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ‘বিএনপি বাদে অন্য দলকে ভোট দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দেন কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে প্রার্থিতা হারানো মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। ওই আসনের গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত উঠান বৈঠকে দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। যদিও বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, ওসব ছিল ‘কথার কথা’। তার কথায়, ‘বিষয়টি ছিল মূলত কথার কথা। আসলে যখন ওই উঠান বৈঠক হয়, তখন প্রায় রাত দুইটা বাজে। আমি খুবই টায়ার্ড ছিলাম। কারণ, সকাল ৯টায় বের হয়েছি। সারাদিন ট্রাক প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনি সভা ও উঠান বৈঠক করেছি। আমি অনেক ক্লান্ত ছিলাম। এমন সময়ে কথার কথা বলতে গিয়ে আমার নেতাকর্মীদের কথাটি বলেছি। এর বাইরে কিছু নয়।’এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী বলেন, ‘ওনার (মুঞ্জুরুল আহসান) এমন মন্তব্যে আমরা বিব্রত। এই বক্তব্য বা মন্তব্য একান্তই তার ব্যক্তিগত। এটির দায়ভার দল বহন করবে না। তার এই মন্তব্য দলীয় কোনো বক্তব্য নয়।’আসন্ন নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে মঞ্জুরুল আহসান আটকে যান নির্বাচন কমিশনে। তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপনের অভিযোগ করেন একই আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। শুনানিতে প্রার্থিতা হারান মুন্সী। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপির এই নেতা। সুফল মেলেনি। সর্বশেষ প্রার্থিতা ফিরে পেতে লিভ টু আপিলও করেন। কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি তার আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ভোটের মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে ছিটকে পড়েন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ এবং নারী ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তাতে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ভোটার তরুণ। এই বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটারকে কেন্দ্রমুখী করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভোট দেওয়ার স্পৃহা এবার অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যদি এই ৪ কোটি তরুণের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়, তবে ভোট কাস্টিংয়ের হারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এছাড়া মোট ১৩ কোটি ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী। বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নারী ভোটারদের প্রচার-প্রচারণা এবং উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি নারী ভোটারদের এই উদ্দীপনা ভোটের দিনও বজায় থাকে, তবে তা মোট পার্সেন্টেজে বড় প্রভাব ফেলবে।ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে সংখ্যা বলা কঠিন হলেও অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি ব্যক্তিগত ধারণা করেছি আমি। অতীতের উল্লেখযোগ্য নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার উপস্থিতির হার কম হবে না, বরং বেশি হতে পারে। পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। মূলত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচার-প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে মানসিকতা তৈরি হয়েছে, তাকেই এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিএনপি বাদে অন্য দলকে ভোট দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিলেন কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে প্রার্থিতা হারানো মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন এই বিএনপি নেতা।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ওই আসনের গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। ওই মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রীতিমতো তা ভাইরাল। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা।ভাইরাল ভিডিওতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বলতে শোনা যায়, ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’ যদিও বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, ওসব ছিল ‘কথার কথা’।তার কথায়, ‘বিষয়টি ছিল মূলত কথার কথা। আসলে যখন ওই উঠান বৈঠক হয়, তখন প্রায় রাত দুইটা বাজে। আমি খুবই টায়ার্ড ছিলাম। কারণ, সকাল ৯টায় বের হয়েছি। সারাদিন ট্রাক প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনি সভা ও উঠান বৈঠক করেছি। আমি অনেক ক্লান্ত ছিলাম। এমন সময়ে কথার কথা বলতে গিয়ে আমার নেতাকর্মীদের কথাটি বলেছি। এর বাইরে কিছু নয়।’এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী বলেন, ‘ওনার (মুঞ্জুরুল আহসান) এমন মন্তব্যে আমরা বিব্রত। এই বক্তব্য বা মন্তব্য একান্তই তার ব্যক্তিগত। এটির দায়ভার দল বহন করবে না। তার এই মন্তব্য দলীয় কোনো বক্তব্য নয়।’আসন্ন নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে মঞ্জুরুল আহসান আটকে যান নির্বাচন কমিশনে। তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপনের অভিযোগ করেন একই আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। শুনানিতে প্রার্থিতা হারান মুন্সী। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপির এই নেতা। সুফল মেলেনি। সর্বশেষ প্রার্থিতা ফিরে পেতে লিভ টু আপিলও করেন। কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি তার আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ভোটের মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে ঠিটকে পড়েন তিনি।
আমার ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, সেজন্য ক্ষমা করবেন জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আমি আগে কখনো কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলাম না। সরকার গঠনের পরপরই পেশাগত জীবনে ফিরে যাব। আবারও সেই নিরিবিলি জীবনে ফিরে যেতে চাই। তবে একটি শেষ অনুরোধ আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি সই নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তালা বরকত দিয়েছেন।তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন। কোনো বিষয়ে যখনই পরামর্শ বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তিনি আন্তরিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। যত কিছু সম্ভব হয়েছে আমি মনে করি প্রধান উপদেষ্টা তার নির্দেশনায় যে আমি, আমরা কাজ করতে পেরেছি এবং আমরা যখনই কোনো বিষয়ে উনার নির্দেশনা বা উনার গাইডেন্স কামনা করেছি উনি সকল সময়ে অসম্ভব দরদ দিয়ে এবং বুদ্ধিমত্তাকে মিলিয়ে যে ধরনের নির্দেশনা আমাদেরকে দিয়েছেন, সেগুলোকে প্রতিপালন করার চেষ্টা করেছি।শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।ছোট খামারি ও বড় উদ্যোক্তা– উভয় পক্ষকেই অন্তর্ভুক্ত রেখে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির পথে এগিয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো। ভবিষ্যতেও তার উত্তরসূরিরা একই ধারাবাহিকতায় কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, আগের দিন আটোয়ারীতে তার শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিএনপির জনসভার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল। এরপরই তার সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।সারজিস আলম বলেন, ধামোর ও মির্জাপুর ইউনিয়নে তার নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার সময় ভ্যান ও পিকআপ আটকে তাদের ওপর হামলা করা হয়। একটি ছোট ব্যানারকে কেন্দ্র করে অযথা সংঘর্ষ সৃষ্টি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এনসিপি বা জোটের কেউ কখনও ব্যানার ছেঁড়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো রিং ব্যবহার করে হামলা চালান। এতে এক কর্মীর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং সেলাই দিতে হয়। বর্তমানে চারজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং আরও চারজন চিকিৎসা নিয়েছেন।সারজিস আলমের দাবি, ঘটনার পর বিএনপির কিছু নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘নাটক’ শুরু করেন এবং কেউ আহত না হলেও অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ভাষ্য, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র বিমুখ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, হামলার খবর পেয়ে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে যান। এ সময় বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ৩০-৫০ জন করে নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় এবং তার গাড়িতেও হামলার চেষ্টা করা হয়। গাড়িতে ক্যামেরা থাকায় পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, হামলায় মানুষ রক্তাক্ত হলেও প্রশাসন কেবল ‘হাত মেলানোর’ মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের প্রার্থীর ব্যানার ছেঁড়ার প্রতিবাদ করতে গেলে জামায়াত-এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট ব্যারিস্টার নওফল জমির বলেন, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল শ্রীলঙ্কা। হ্যামস্ট্রিং চোটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।রবিবার কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রথম ম্যাচেই চোট পান তিনি। চার ওভারে ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের ১৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়া ভেঙে দিলেও ম্যাচ শেষে অস্বস্তি বাড়ে। সোমবার করা এমআরআই স্ক্যানে তার বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গুরুতর ছিঁড়ে যাওয়ার চিহ্ন ধরা পড়ে।রিপোর্টটি যুক্তরাজ্যের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও পর্যালোচনা করেন। এরপরই নিশ্চিত করা হয়, টুর্নামেন্টের বাকি অংশে আর খেলা হবে না হাসারাঙ্গার।দলে তার জায়গায় লেগস্পিন অলরাউন্ডার দুশান হেমন্তকে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার পরের ম্যাচ ১২ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে ওমানের বিপক্ষে। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়া এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে তারা।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির পরিবারকে একটি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরীফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় এই রেডি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করা হয়।এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, তা সব দলের প্রার্থীদের মেনে নেওয়ার আহ্বান জানালেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন।’মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না, একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাবো—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।’'আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা।ড. ইউনূস তার ভাষণে জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যাপকভাবে দায়িত্বে রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা যায়। অনেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাস ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়েছে। এই সনদের মাধ্যমে আমরা সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছি।’তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজে সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ-এসবের সফল বাস্তবায়ন এককভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব নয় বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত।’প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রার্থী তারেক রহমান বলেছেন, চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে জয়ী হলে সামনে তার জন্য ‘বড়’ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত আগের সরকারের আমলে লুটপাট হওয়া দেশকে মেরামতের অঙ্গীকার রয়েছে তার। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা; যাতে ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন উৎখাতের পর দেশকে গ্রাস করা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটে।তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘আমাদের দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকেন।’’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় এই দেশের সামনের কাজ হবে অত্যন্ত কঠিন।ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদেরকে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শাসনামলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, জ্বালানি খাত ধ্বংস হয়েছে।’’ভোটে এগিয়ে থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে তারেক রহমানের বিএনপি। নিজ কার্যালয়ে তার প্রয়াত বাবা-মা, বাংলাদেশের সাবেক নেতা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো প্রতিকৃতি ঝুলছে। সেখানে বসে মৃদুভাষী বিএনপির এই নেতা এএফপিকে বলেছেন, তিনি নিরঙ্কুশ বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব—একটি বড় ম্যান্ডেট।’’ বর্তমান তার দলের জোটের বাইরে কোনও জোটের প্রয়োজন দেখছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, ‘‘নিজেদের সরকার গঠনের মতো আমরা পর্যাপ্ত আসন পাবো।’’• বাবা-মায়ের চেয়েও ভালো করতে চানশেখ হাসিনার শাসনামলে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই ৮০ বছর বয়সে মারা যান বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী তার মা বেগম খালেদা জিয়া। এরপর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তিনি।খ্যাতিমান বাবা-মায়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘তারা ছিলেন তারা। আর আমি আমিই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তিনিও আজীবন রাজনীতিতে কাটিয়েছেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি তাদের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করব।নির্বাচিত হলে তার সামনে থাকা শীর্ষ কাজগুলোর একটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক উৎপাদনকারী দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা। তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে; অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার রয়েছেন। আমাদের এই তরুণদের চাকরির জন্য ব্যবসা সৃষ্টি করতে হবে।’’ বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন।• প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কবাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকায় পররাষ্ট্র সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমার জনগণের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থই সবার আগে। তবে বাংলাদেশ আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত ‘‘প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক’’ চায়।৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের দেখভালের জন্য একসময় প্রশংসিত হলেও শেখ হাসিনা এমন এক সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন; যে সরকার ভিন্নমত দমন করেছে এবং বিশেষ করে বৃহৎ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ব্যাপক লুটপাটে অভিযুক্ত।তারেক রহমান বলেন, আমরা যা দেখছি, তা হলো মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কয়েকজন মানুষকে অত্যন্ত ধনী করা হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি অংশ; পুরো জনগণ কিছুই পায়নি।’’তবে আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেন তারেক রহমান। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবারের নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে।তারেক রহমান বলেন, নিশ্চয়ই, কেউ যদি কোনও ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত। সূত্র: এএফপি।
বিএনপি বাদে অন্য দলকে ভোট দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিলেন কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে প্রার্থিতা হারানো মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন এই বিএনপি নেতা।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ওই আসনের গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। ওই মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রীতিমতো তা ভাইরাল। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা।ভাইরাল ভিডিওতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বলতে শোনা যায়, ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’ যদিও বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, ওসব ছিল ‘কথার কথা’।তার কথায়, ‘বিষয়টি ছিল মূলত কথার কথা। আসলে যখন ওই উঠান বৈঠক হয়, তখন প্রায় রাত দুইটা বাজে। আমি খুবই টায়ার্ড ছিলাম। কারণ, সকাল ৯টায় বের হয়েছি। সারাদিন ট্রাক প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনি সভা ও উঠান বৈঠক করেছি। আমি অনেক ক্লান্ত ছিলাম। এমন সময়ে কথার কথা বলতে গিয়ে আমার নেতাকর্মীদের কথাটি বলেছি। এর বাইরে কিছু নয়।’এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী বলেন, ‘ওনার (মুঞ্জুরুল আহসান) এমন মন্তব্যে আমরা বিব্রত। এই বক্তব্য বা মন্তব্য একান্তই তার ব্যক্তিগত। এটির দায়ভার দল বহন করবে না। তার এই মন্তব্য দলীয় কোনো বক্তব্য নয়।’আসন্ন নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে মঞ্জুরুল আহসান আটকে যান নির্বাচন কমিশনে। তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপনের অভিযোগ করেন একই আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। শুনানিতে প্রার্থিতা হারান মুন্সী। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপির এই নেতা। সুফল মেলেনি। সর্বশেষ প্রার্থিতা ফিরে পেতে লিভ টু আপিলও করেন। কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি তার আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ভোটের মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে ঠিটকে পড়েন তিনি।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল শ্রীলঙ্কা। হ্যামস্ট্রিং চোটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।রবিবার কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রথম ম্যাচেই চোট পান তিনি। চার ওভারে ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের ১৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়া ভেঙে দিলেও ম্যাচ শেষে অস্বস্তি বাড়ে। সোমবার করা এমআরআই স্ক্যানে তার বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গুরুতর ছিঁড়ে যাওয়ার চিহ্ন ধরা পড়ে।রিপোর্টটি যুক্তরাজ্যের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও পর্যালোচনা করেন। এরপরই নিশ্চিত করা হয়, টুর্নামেন্টের বাকি অংশে আর খেলা হবে না হাসারাঙ্গার।দলে তার জায়গায় লেগস্পিন অলরাউন্ডার দুশান হেমন্তকে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার পরের ম্যাচ ১২ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে ওমানের বিপক্ষে। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়া এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে তারা।
দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে গ্র্যামি-মনোনীত জনপ্রিয় মার্কিন রক ব্যান্ড ‘থ্রি ডোরস ডাউন’এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রধান ভোকালিস্ট ব্র্যাড আর্নল্ড মারা গেছেন। ৪৭ বছরে তার জীবনাবসান ঘটলো।৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যেই চলে গেলেন তিনি। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্টেজ–৪ কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত ব্র্যাড স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে জানান ব্র্যাড আর্নল্ড। তখন তিনি জানান, তার শরীরে স্টেজ–৪ ক্লিয়ার সেল রেনাল কার্সিনোমা শনাক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়ে। ক্যানসারের খবর জানিয়ে সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমি ভয় পাই না। সত্যিই ভয় পাচ্ছি না। সুযোগ পেলে আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। তার অসুস্থতার কারণে ওই সময় ব্যান্ডটির নির্ধারিত একাধিক ট্যুর বাতিল করা হয়।১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে গঠিত হয় ‘থ্রি ডোরস ডাউন’। ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য বেটার লাইফ’ প্রকাশের পরই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং অ্যালবামটি ছয় মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়।এখন পর্যন্ত ব্যান্ডটি মোট ছয়টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। তাদের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গ্র্যামি মনোনয়ন ও বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। ব্র্যাড আর্নল্ডের লেখা ‘ক্রিপ্টোনাইট’, ‘হেয়ার উইথাউট ইউ’, ‘হোয়েন আই’ম গন’ ও ‘লুজার’ এই গানগুলো রক সংগীতে তাকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি ও খ্যাতি।
ঈদুল আজহায় আসছে শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’। এ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে শাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তানজিয়া জামান মিথিলা। দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে পাকিস্তানের কোনো নায়িকা থাকতে পারেন-এমনটাই শোনা যাচ্ছে।সিনেমা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় নায়িকার চরিত্রের জন্য ইতোমধ্যে পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করেছেন মিথিলা। চরিত্রটি তার পছন্দও হয়েছে। তবে ছবির প্রধান নায়িকা হিসেবে কে থাকছেন, তা গোপন রাখা হয়েছে; হতে পারে পাকিস্তানের শীর্ষ কোনো অভিনেত্রীকে রাখা হবে সে স্থানে।বিষয়টি এখন পর্যন্ত গুঞ্জনে মোড়া থাকলেও কারও সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনই নাম প্রকাশ করতে চাইছে না নির্মাতা পক্ষ। এ বিষয়ে সিনেমার পরিচালক আজমান রুশো সংবাদ মাধ্যমে জানান, নায়িকা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না, আমরা দ্বিতীয় নায়িকার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব। চূড়ান্ত হওয়ার আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এ প্রসঙ্গে চুপ রয়েছেন তানজিয়া মিথিলাও। বর্তমানে ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শাকিব খান। সেই ছবির কাজ শেষ করে দুই সপ্তাহের বিরতি নেবেন তিনি। এরপরই ‘রকস্টার’-এর শুটিং শুরু করার কথা রয়েছে ঢালিউড কিংয়ের।
চিত্রনায়িকা হুমায়রা সুবহা ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার। এখান থেকেই নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সুবহা তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করছেন। বিএনপির এখানকার প্রচারণা কমিটিতেও রয়েছেন বলে জানালেন আলোচিত অভিনেত্রী। এরই মধ্যে সুবহাকে ধানের শীষের বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে দেখা যাচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে সুবহা বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন আমি জুলাই আন্দোলনে সোচ্চার ছিলাম। আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন যেসব আমার কাছে আন ইথিকাল মনে হতো সেটা নিয়ে লিখতাম, ভিডিও বানাতাম। একটা সময় আমার মনে হলো আমি যেহেতু এত বড় একটা আন্দোলনে অংশ নিয়েছি, এবার আমার অফিশিয়ালি রাজনীতিতে নামা দরকার।’ এই নায়িকা বলেন, ‘আমার বাবা-চাচা যেহেতু বিএনপি করতেন। আমার মনে হলো— আমিও এই দলটাই করব।
নীল ও বেগুনি রঙের একটি জমকালো শাড়ি, ম্যাচিং স্লিভলেস সিকুইন ব্লাউজ, গলায় কয়েক লহরের সাদা মুক্তার মালা ও হাতে মুক্তার ব্রেসলেট পড়েছেন। মনোমুগ্ধকর লুকে হাজির হয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই অনন্য রুপের ঝলকে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। তিনি আর কেউ নন, সবার প্রিয়ভাজন, সুঅভিনেত্রী রুনা খান।রুনা খান একদিকে পর্দায় সাবলীল অভিনয় করেন, অন্যদিকে তার সাহসী ও গ্ল্যামারাস উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রে থাকে সবসময়। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে রুনার এই স্টানিং অবতার দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন সহকর্মী ও অনুরাগী থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তরা। সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলার পাশাপাশি পর্দার কাজেও এখন ব্যস্ত সময় তার। সম্প্রতি নির্মাতা আলী জুলফিকার জাহেদীর স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘রক্তছায়া’-তে প্রথমবারের মতো পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুনা খান।
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান আবার ফিরছেন বড় পর্দায়। দেখা যাবে ‘কিং’ মুক্তির পর তিনি দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরছেন ‘ম্যায় হু না-২’ নিয়ে। প্রায় দুই দশক আগে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায় হু না’র সিক্যুয়াল নিয়ে। বলিউডে গুঞ্জন পরিচালক ফারাহ খানের সঙ্গেই আবার জুটি বাঁধতে পারেন তিনি। আর এটি ‘ম্যায় হু না’–এর সিক্যুয়াল।শাহরুখ-ফারাহ জুটির আগের কাজগুলোও ছিল দারুণ সফল। ‘ম্যায় হু না’র পর ২০০৭ সালে আসে ‘ওম শান্তি ওম’, আর ২০১৪ সালে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’—সবকটিই বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করে। তাই এই জুটি ফের এক হলে প্রত্যাশা যে আকাশছোঁয়া, তা বলাই বাহুল্য।‘ম্যায় হু না ২’-এ শাহরুখ খানকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একেবারে ভিন্নধর্মী দুটি চরিত্রে তাঁকে হাজির করার পরিকল্পনা করেছেন ফারাহ খান। এই ডাবল-রোল ভাবনাই নাকি অভিনেতাকে বেশ আগ্রহী করে তুলেছে। ছবির গল্পে থাকছে দেশাত্মবোধের ছোঁয়া, সঙ্গে অ্যাকশন ও হালকা কমেডি। ভারতের বিরুদ্ধে নতুন এক হুমকিকে কেন্দ্র করেই এগোবে কাহিনি। মূল ছবির আবহ বজায় রেখেই গল্পকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। জানা গেছে, ছবির গল্পের ধারণা দিয়েছেন শাহরুখ খান নিজেই, আর চিত্রনাট্য লিখছেন আকাশ কৌশিক। তবে সবকিছু এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায় হু না’ পরিচালনা করেছিলেন ফারাহ খান। ছবিটিতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন সুস্মিতা সেন, সুনীল শেঠি, অমৃতা রাও ও জায়েদ খান। কলেজ ছাত্র সেজে গোপন মিশনে নামা মেজর রাম প্রসাদ শর্মার চরিত্র আজও দর্শকদের কাছে স্মরণীয়।
ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীকে নিয়ে নতুন করে শোবিজে গুঞ্জন- বুবলী অন্তঃসত্ত্বা। এ গুঞ্জনের ব্যপারে মুখ খুলেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু এগুলো খুব ব্যক্তিগত বিষয়, তাই এগুলো নিয়ে যখন কথা বলব তখন সবাইকে সম্মান জানিয়ে কথা বলব। আমি একটি শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি চাই। আমরা চাই প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে বাংলাদেশটাকে নিরাপদ রাখুক। আমি একটি সুষ্ঠু পরিবেশ আশা করছি।’সম্প্রতি একটি ব্র্যান্ডের গ্র্যান্ড লঞ্চিং অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এভাবে কথা বলেন বুবলী। আসন্ন ভালোবাসা দিবসে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বুবলী বলেন, ‘ভ্যালেন্টাইন মানেই আমার কাছে আমার প্রিয় মানুষগুলো। সবার ভালোবাসা নিয়ে প্রতিদিনকেই আমি ভালোবাসা দিবসের মতো করে কাটাতে চাই। স্পেশাল প্ল্যান তো অবশ্যই থাকবে। আর আমার দর্শক, পরিবার ও ভক্তদের ভালোবাসা তো সবসময়ই পাশে আছে।’সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খানের নাম জড়িয়ে বুবলীর বিদেশ যাত্রা নিয়ে বুবলী বলেন, ‘আপনারা যারা সাংবাদিক আছেন, আপনাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি সবকিছুর একটা সময় আছে। আজকে আমরা একটা প্রোগ্রামের গ্র্যান্ড লঞ্চিংয়ে এসেছি, এখানে এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।’তার কথায়, ‘আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনেরা ওনারা অনেক কিছু নিয়েই নিউজ করবেন, দর্শকদের অনেক কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা থাকবে। সো এটা হবেই, হয়ে আসছে আজীবন সবার ক্ষেত্রেই। এটা নতুন কিছু না। তবে আমি বলব যে আপনারা একটু সবাই সবার জায়গা থেকে যথাযথ রেসপেক্ট দিয়ে আসলে একজন শিল্পী বা শিল্পীদের প্রেজেন্ট করা যায় সেটাই করবেন, যেটা বরাবরই করে আসছেন।’
আমার ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, সেজন্য ক্ষমা করবেন জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আমি আগে কখনো কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলাম না। সরকার গঠনের পরপরই পেশাগত জীবনে ফিরে যাব। আবারও সেই নিরিবিলি জীবনে ফিরে যেতে চাই। তবে একটি শেষ অনুরোধ আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি সই নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তালা বরকত দিয়েছেন।তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন। কোনো বিষয়ে যখনই পরামর্শ বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তিনি আন্তরিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। যত কিছু সম্ভব হয়েছে আমি মনে করি প্রধান উপদেষ্টা তার নির্দেশনায় যে আমি, আমরা কাজ করতে পেরেছি এবং আমরা যখনই কোনো বিষয়ে উনার নির্দেশনা বা উনার গাইডেন্স কামনা করেছি উনি সকল সময়ে অসম্ভব দরদ দিয়ে এবং বুদ্ধিমত্তাকে মিলিয়ে যে ধরনের নির্দেশনা আমাদেরকে দিয়েছেন, সেগুলোকে প্রতিপালন করার চেষ্টা করেছি।শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।ছোট খামারি ও বড় উদ্যোক্তা– উভয় পক্ষকেই অন্তর্ভুক্ত রেখে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির পথে এগিয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো। ভবিষ্যতেও তার উত্তরসূরিরা একই ধারাবাহিকতায় কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মালদ্বীপের থিলাফুশিতে নিখোঁজের দুই দিন পর আবর্জনার স্তূপ থেকে আমিন মিয়া (২৪) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে, যা যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি আমিন মিয়া নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৮ জানুয়ারি থিলাফুশির একটি কর্মস্থলের আবর্জনার স্তূপের ভেতর থেকে ওই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়ক মেনিকা একটি খননকারী যন্ত্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, যন্ত্রটির আঘাত লাগার ফলেই আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে।অভিযুক্ত মেনিকাকে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ।তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক আঘাতের পর আমিন মিয়া আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে যান এবং এরপরও ঘটনাস্থলে কাজ অব্যাহত রাখা হয়। খননকারী যন্ত্রের অপারেটর ঘটনাটি ঘটার সময় বিষয়টি অবগত ছিলেন কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।পুলিশের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার আহত হওয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।এদিকে ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।এছাড়া, আমিন মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে মালদ্বীপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, স্থানীয় গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অবহেলার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের অবহেলার কারণে পুলিশকে অবহিত করতে দেরি হয়। স্থানীয় সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা গেছে, আমিন মিয়া ময়লার স্তূপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পরও দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্য করেননি। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে হয়তো তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘একলা খেলে যম নেয়, দশজনে খেলে ধর্ম রয়।’ এ প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ যমরাজ এসে ধরে নিয়ে যাওয়া না। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি অত্যন্ত গভীর। প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো, দশজনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে শরীর ও মন উভয়ই ‘ধর্ম’ অর্থাৎ সুশৃঙ্খল থাকে। আবার দশজন মানে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সংখ্যার দশ নয়, এর অর্থ অনেকে মিলে।খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষেরা একা খেতে বসার পক্ষে নন। দাদি-নানিরা সব সময়ই বলে থাকেন, একা একা বসে খাচ্ছিস কেন, সবার সঙ্গে বসে খা! এই একা খেতে বসার অভ্যাস কেবল একাকিত্ব বাড়ায় না। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তোলে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, একা খেতে বসার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে অন্তত দুবার একা বসে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সংমিশ্রণে হওয়া মেটাবলিক সিনড্রোম নামে একটি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, একা খেতে বসলে পুরুষদের স্থূলতার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ২৪টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বলছে, একা খেতে বসলে মানুষ পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন প্রক্রিয়াজাত বা রেডি মিল বেশি পছন্দ করে। এতে শরীরে প্রোটিন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয়।মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবএকা খাওয়া কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৮ হাজারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক অসুস্থতার পর একা খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসুখী করে তোলে। অনেকে মনে করেন, একা খেতে বসা মানেই স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজিস্ট ড. স্টিফানি কাসিওপ্পোর মতে, মানুষ যদি খাওয়ার সময় নিজেকে একা মনে করে, তবে তার শরীর বেশি চর্বিযুক্ত ক্যালরি শোষণ করে।বার্ধক্য ও একাকী ভোজনপ্রবীণদের জন্য একা খাওয়া এক নীরব ঘাতক। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা যখন একা খান, তখন তাঁরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা ফ্রেইল হয়ে পড়েন। একা খাওয়ার ফলে বয়স্কদের প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণ কমে যায়। তা নেমে আসে প্রায় ৫৮ গ্রাম থেকে ৫১ গ্রামে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওপোরোসিস বা হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং পুষ্টিহীনতা উভয়ই মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে, যা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কের আয়তনও সংকুচিত হতে পারে।কেন একা খেতে বসা ক্ষতিকরগবেষকেরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:উদ্দীপনার অভাব: যখন কেউ একা খান, তখন তাঁর ভালো কিছু রান্না করার আগ্রহ কমে যায়।খাওয়ার গতি: দলগতভাবে খেলে মানুষ গল্প করে ধীরে ধীরে খায়। এ বিষয়টি হজমে সাহায্য করে। একা খেলে মানুষ হয় খুব দ্রুত খায় নতুবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে।ইগো ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ওজনের মানুষ অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে অন্যদের সামনে খেতে চান না। এটা তাঁদের আরও বেশি একা খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।খাবার কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপায়। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া বা মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস ম্যাগাজিন, ডেইলি মেইল
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। পরিকল্পিতভাবেই এবারের বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে দূরে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, প্রিয় ক্রিকেটপ্রেমী বন্ধুরা, আজ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হলো। এমন দিনে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের চোখ থাকত টিভি স্ক্রিনে। সবাই অপেক্ষা করতাম টাইগারদের মাঠের লড়াই আর বিজয়ের আনন্দ দেখতে।‘দুঃখের বিষয়, এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আজ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও আমরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের ক্রিকেটারদের সাথে জাতিকেও অপমান করা হয়েছে। লাল-সবুজের হয়ে উল্লাস করার মুহূর্ত থেকে আমাদের পরিকল্পিতভাবে দূরে রাখা হলো।’ক্রিকেটারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রিয় ক্রিকেটার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের সাথে সমব্যথী। দেশের মর্যাদা, দেশের স্বপ্নের সাথে কোনো আপস নয়। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে আমরা হার মানতে পারি না। দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশকে আমরা আন্তর্জাতিক ইভেন্টে মর্যাদার আসনে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।এ সময় বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ইভেন্টে মাথা উঁচু করে, গর্ব, শক্তি ও সম্মান নিয়ে ফিরবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।