ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, গ্রিস এবং সাইপ্রাস থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকায় ফেরেন। ফেরত পাঠানোদের মধ্যে- ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছে।ঢাকার ইতালি দূতাবাস এক বার্তায় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের (ফ্রন্টেক্স) ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার একটি প্রত্যাবাসন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।এর মাধ্যমে ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সৌদির রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।মরদেহ বহনকারী বিমানটি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১২মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।এর আগে, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদ। তিনি বগুড়ার শাহজাহানপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে।২২ অক্টোবর রিয়াদ সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি নিয়ে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট রওনা হয়। পরে ফ্লাইটটি ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের একজন সৌদি প্রবাসী শাহেদ।এদিকে গত ৬ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত এখন পর্যন্ত ১১ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরত এসেছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চার শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা মে ২০২৬ এর পর সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার নতুন উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।ট্রেডিং ডটকমের অস্ট্রেলিয়া সিইও এবং এক্সএম ডটকমের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান কৌশলবিদ পিটার ম্যাকগুয়ার জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ডেটা সেন্টার ও সমুদ্রতলদেশের ক্যাবলগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার ভয়ে শক্তি বাজারগুলো রাতারাতি ৪ শতাংশ অস্থির হয়ে উঠেছে।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে নতুন বিমান হামলার পরিকল্পনার খবরের পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেন। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে এবং যুদ্ধের সমাপ্তিতে জ্বালানি তেল সস্তা হবে।আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় মূল্য ৪.২৭ ডলার এবং ডিজেলের মূল্য ৬.৩১ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি। আসন্ন নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই চরম মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরে চিনাবাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে শুরু হয়েছে জমি প্রস্তুত ও বীজ বপনের কাজ। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও লাভের আশায় কৃষকেরা বেছে নিচ্ছেন চিনাবাদাম চাষ। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে অনাবাদি পড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ চরজমি।সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলে কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ সারি করে বীজ বপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন অনেক কৃষক। বালুময় জমিতে অন্য ফসল চাষ কঠিন হলেও চিনাবাদাম চাষের মাধ্যমে জীবিকার নতুন পথ খুঁজছেন তাঁরা।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চরের ওপরের স্তরে বালুর আধিক্য থাকায় সব ধরনের ফসল ভালো হয় না। এ কারণে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে এসব জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়। কাঁচা বাদামের খোসা থেকে বীজ সংগ্রহ করে লাঙল দিয়ে তৈরি করা সারিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করা হয়। এরপর বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তুলনামূলক কম পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে বাদামগাছ।কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ মণ। গত বছর প্রতি মণ বাদাম পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে বিঘাপ্রতি পাঁচ মণ ফলন হলে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার আগে সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ২২ হাজার টাকা। তবে ফলন ও বাজারদরের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করে।এদিকে ধুনটের বৈশাখি, রাধানগর, নিউসারিয়াকান্দি, বতুয়ারভিটা ও পুকুরিয়া চরে বালুর আস্তরণ পড়া শত শত বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে চিনাবাদাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হতে পারে কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা চরাঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ, উন্নত বীজ সরবরাহ, চাষাবাদবিষয়ক পরামর্শ এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, বেলে-দোআঁশ মাটি চিনাবাদাম চাষের জন্য উপযোগী। চরাঞ্চলের মাটিও এ ফসল চাষের উপযুক্ত। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং সার ও সেচের প্রয়োজনও কম হওয়ায় কৃষকেরা চিনাবাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।যমুনার বালুচরে চিনাবাদাম চাষের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে অনাবাদি জমি উৎপাদনের আওতায় আসবে, বাড়বে কৃষকের আয়। যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে চরাঞ্চলের বালুময় জমিই হয়ে উঠতে পারে কৃষকের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন ভিত্তি।
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে আজ শুক্রবার গান শোনাবেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের জনপ্রিয় তারকা মাহফুজ আনাম জেমস। এই শপিং কমপ্লেক্সের কার্নিভাল অ্যারেনায় বসছে ‘রক এন রিদম ৫.০ : নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ শীর্ষক কনসার্ট। এতে নিজ দল নগরবাউল নিয়ে পারফর্ম করবেন জেমস। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশে অনেকদিন পর টিকিট কনসার্ট করছি। আশা করি শ্রোতা-দর্শক নতুন কিছু শুনতে ও দেখতে পাবেন।’আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশন’ এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, বিশেষ এই আয়োজনে নগরবাউল ও আর্ক ছাড়াও দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ, অর্থহীন ও শূন্য পারফর্ম করবে। পাশাপাশি, গিটারিস্ট ওনি হাসান ওয়ারফেজের সঙ্গে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সঙ্গে একক পরিবেশনাতেও থাকবেন তিনি। একে রাহুলও ওই কনসার্টে পারফর্ম করবেন বলে জানা গেছে।
এবার বাংলাদেশের মিঠাপানির মাছ চাষের পুকুরের পলি এবং মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এই গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পুকুরের তলদেশের পলিতে মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার দূষণ রয়েছে। এর আগে নদী, সমুদ্র এবং এমনকি ইলিশ মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, তবে চাষের পুকুরে এ ধরনের সমন্বিত গবেষণা এবারই প্রথম।গবেষকদের মতে, এই তথ্যগুলো জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় এই গবেষণাটিতে দেখা যায়— নির্বাচিত ২৫টি পুকুরের প্রতিটি পলির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। মাছের নমুনায়ও এই ক্ষুদ্র কণাগুলোর উপস্থিতি মিলেছে, যা মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।গবেষণাটির শিরোনাম ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার: এভিডেন্স অব সেডিমেন্ট–ফিশ ট্রান্সফার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড ইকোলজিক্যাল রিস্ক ইন বাংলাদেশ’। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন-এ এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।গবেষকদের দাবি, মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম, যা দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।মিঠাপানির মাছ চাষের অন্যতম প্রধান অঞ্চল ময়মনসিংহের ত্রিশাল। এখানে নিবিড় ও আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদন করা হয়। শীতকালে ২৫টি খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন।তিনি বলেন, মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম। এটি দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।অধ্যাপক বদিউজ্জামান জানান, গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল পুকুরের তলদেশের পলি ও মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা। সেই সঙ্গে মাছের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্পর্ক, প্লাস্টিকের রাসায়নিক গঠন এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন করা ছিল এর লক্ষ্য।সাধারণত পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। প্লাস্টিক ব্যাগ, মোড়ক, দড়ি, মাছ ধরার জাল এবং বিভিন্ন বর্জ্য সামগ্রী ভেঙে এই ক্ষুদ্র কণা তৈরি হয় এবং পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।ত্রিশালের ২৫টি পুকুরের গবেষণায় দেখা গেছে, তলদেশের পলিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ১১ দশমিক ০৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। পলিউশন লোড ইনডেক্স বা দূষণভার সূচকের মান ১ থেকে ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতে অধিকাংশ স্থানকে মাঝারি থেকে উচ্চ দূষণযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রবহমান নদীর তুলনায় পুকুরে পানির বিনিময় সীমিত হওয়ায় তলদেশে এই কণাগুলো দীর্ঘ সময় জমে থাকার সুযোগ পায়। ফলে তলদেশে খাবার খোঁজা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর এই কণা গ্রহণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে প্রজাতি, খাদ্য অভ্যাস এবং পুকুরের পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে কণা গ্রহণের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।গবেষকেরা ছয় প্রজাতির মোট ১৫০টি মাছ পরীক্ষা করে মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি মাছে গড় কণার সংখ্যা ছিল শূন্য দশমিক ৬০। প্রজাতিভেদে এই পার্থক্য ছিল লক্ষণীয়; সরপুঁটি মাছে প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ২০টি কণা পাওয়া গেছে, আর রুই ও মৃগেলের ক্ষেত্রে এই গড় ছিল শূন্য দশমিক ৬৮। অন্যদিকে কাতলা, কমন কার্প ও পাঙাশ মাছে তুলনামূলক কম কণা পাওয়া গেছে।বসবাসের স্তর অনুযায়ী, তলদেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যে মোট শনাক্ত কণার ৫২ শতাংশ পাওয়া গেছে। মধ্যবর্তী স্তরের মাছের ক্ষেত্রে এই হার ৩৫ শতাংশ এবং উপরিভাগের মাছের ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ। অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান বলেন, মাছকে প্রচুর ফিড খাওয়ানো হয়। সব ফিড যে খারাপ, তা বলছি না। তবে কিছু ফিডে এসব থাকে। অনেক সময় বন্যার পানিতে অন্য স্থানের মাইক্রোপ্লাস্টিক পুকুরে চলে আসে। মাছের পরিপাকতন্ত্রে আমরা মূলত এর উপস্থিতি দেখেছি।গবেষণায় প্রধানত পলিথিন (পিই) ও পলিপ্রপিলিন (পিপি) পলিমার শনাক্ত হয়েছে। পলিথিন সাধারণত ব্যাগ ও প্যাকেজিংয়ে এবং পলিপ্রপিলিন পাত্র, দড়ি ও প্লাস্টিক পণ্যে ব্যবহৃত হয়। গবেষকদের মতে, মাছের খাদ্য, বস্তা, মোড়ক, মাছ ধরার সরঞ্জাম, পানির পাইপ এবং গৃহস্থালি বর্জ্য এর সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট উৎস নিশ্চিত করতে আরও পৃথক নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।ত্রিশাল উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার পুকুরে মাছ চাষ হয় এবং বছরে উৎপাদিত হয় ৭২ হাজার মেট্রিক টন মাছ। জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন জানান, পুকুরের পাড়ে পোল্ট্রি খামারের কারণে দূষণ ঘটতে পারে। তিনি বলেন, মাছের পুকুরের পাড়ে পোলট্রির জন্য মাছ চাষে দূষণের ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। ইতিমধ্যে একটি পুকুরের পাশ থেকে মুরগির খামার তুলে দেওয়া হয়েছে।গবেষকরা বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। এটা কোথায় ফেলা হবে, এর কোনো সঠিক জায়গা নেই। প্রক্রিয়াজাত প্রায় হচ্ছেই না। মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আমরা দেখেছি। মাছ থেকে তাই এটি মানুষের শরীরে পৌঁছাবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।তারা জানান, পলিথিন অসংখ্য অণুর সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় রান্নার তাপে এটি সহজে নষ্ট হয় না। ফলে মাছের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে যকৃত ও কিডনির কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে কওমিভিত্তিক সাতটি দলের নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলূম মাদরাসায় দলগুলোর বৈঠক শেষে এ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।নতুন এই জোটে থাকা ৭টি দল হলো- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান সময় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখন থেকে এই ৭টি ইসলামি দল একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।অন্য জোটে থাকা দলগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে যেসব দল অন্য জোটে আছে, তারা সেই জোট ছেড়ে ‘সমমনা ইসলামী দল’ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে আসার ব্যাপারে একমত হয়েছে।’আগামী ৫ ডিসেম্বর সাত দলের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান হেফাজতে ইসলামের এই মহাসচিব।মূলত আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়ার লক্ষ্যেই গেল কয়েক মাস ধরে এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে কওমি ধারার দলগুলো বিএনপি ও জামায়াত জোটে যুক্ত হলেও, এবার দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত একক প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দেয়। এরপরই স্থানীয় নির্বাচনে একসঙ্গে লড়তে হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় নতুন এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করল কওমিপন্থি দলগুলো।
রাজধানীর যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে চারটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব উদ্যোগের বিষয়ে জানা গেছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহনের চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা, বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদক্ষেপ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। পুরোনো বাস অপসারণ, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ—সব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।রাজধানীর যানজট এখন শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ নয়; এটি নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ব্যয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে কাটাতে হয়। এতে উৎপাদনশীলতা কমে ও নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করে ঢাকার যানজটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যমান সড়কের কার্যকর ব্যবহার, বাসের রুট ও চলাচল ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি।রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের একটি অংশ যান্ত্রিক ত্রুটি, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনের কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গণপরিবহনের মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ হতে পারে।পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ফলে গণপরিবহনের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। এ কারণে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলে সেগুলোর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় ও পরিবেশগত সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।এদিকে সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং আন্তঃজেলা বাসের প্রবেশ ও বহির্গমন নগর চলাচলে প্রভাব ফেলে। এসব এলাকার টার্মিনাল স্থানান্তর বা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হলে কেন্দ্রীয় সড়কে বাসের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।তবে টার্মিনাল স্থানান্তর শুধু বাস রাখার স্থান পরিবর্তনের বিষয় নয়। নতুন টার্মিনালের অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, যাত্রীদের যাতায়াতের সময়, ভাড়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিতে হবে। শহরের প্রান্তে টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলেও সেখান থেকে গন্তব্যে যাওয়ার পর্যাপ্ত বাস, মেট্রোরেল বা অন্যান্য পরিবহন সংযোগ না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।আন্তঃজেলা বাসের যাত্রা শুরু ও শেষের স্থান এবং মহানগরীর অভ্যন্তরীণ বাস চলাচলের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হওয়ার নির্দিষ্ট পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, বাসের অপেক্ষমাণ জায়গা এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা গেলে আশপাশের সড়কে চাপ কমানো সম্ভব।রাজধানীর পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের উদ্যোগ গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংস্কারের আওতায় কোন কোন রুট রয়েছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।রুট সংস্কার বলতে শুধু সড়কের উপরিতল মেরামত নয়। বাস চলাচলের পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, স্টপেজের অবস্থান, সংযোগকারী সড়ক এবং যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।ঢাকার বিভিন্ন সড়কে একই পথে একাধিক বাস কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানো এবং যাত্রী তোলার জন্য হঠাৎ লেন পরিবর্তনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আবার কিছু এলাকায় যাত্রীর তুলনায় বাসের সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। রুট সংস্কারের পরিকল্পনায় এসব সমস্যা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।যাত্রী চলাচলের তথ্য, কর্মব্যস্ত সময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অবস্থান এবং মেট্রোরেলসহ অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে রুট পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বাসের সময়সূচি, যাত্রীর অপেক্ষার সময় এবং রুটভিত্তিক পরিবহন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।রুট পরিবর্তনের ফলে কোনো এলাকার যাত্রী যেন সরাসরি পরিবহণসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প রুট ও সংযোগকারী বাস চালু করা গেলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চলাচল, যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে।নতুন নীতিমালায় যানবাহনের নিবন্ধন ও পরিচিতি, চালকের যোগ্যতা, নিরাপত্তার মান, অনুমোদিত চলাচল এলাকা, পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোন সড়কে কোন ধরনের যান চলাচল করবে, তা সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা, নির্ধারিত স্ট্যান্ড এবং বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা না থাকলে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সুফল সীমিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট চালক, মালিক, যাত্রী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন জরুরি। পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা, টার্মিনাল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নতুন স্থানের সঙ্গে নগর পরিবহনের সংযোগ, রুট সংস্কারের সঙ্গে বাস পরিচালনার সমন্বয় এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিকল্প যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।এ জন্য সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ট্র্যাফিক পুলিশ এবং পরিবহণমালিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কোন সংস্থা কী কাজ করবে, কত সময়ের মধ্যে করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।পরিবহন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, বাসের ফিটনেস পরীক্ষা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্টপেজ কার্যকর করা এবং ট্র্যাফিক আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বাসের গড় যাত্রাসময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, যানজটের স্থায়িত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার হার, গণপরিবহণে যাত্রীর সংখ্যা এবং পরিবহনের নিয়মিত চলাচলকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা সুফল দিচ্ছে, তা পরিমাপ করা সহজ হবে।রাজধানীর সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নীতিমালা বা অবকাঠামোগত পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক তদারকি, আইন প্রয়োগ, জনসম্পৃক্ততা এবং গণপরিবহণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা। চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার যানজট কমানো ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টগণ।
দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কোনো বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হবে না মর্মে আদালতে মুচলেকা দিয়ে সাত দিন পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।নতুন দিল্লির একটি বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে দুই নেতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনশান্তি বজায় রাখা এবং যন্তর মন্তরের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল বাতিল থাকা পর্যন্ত সেখানে কোনো আন্দোলন না করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিননামার শর্তে আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দিলেও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং মামলার পরবর্তী শুনানি শুক্রবার ধার্য করা হয়েছে।গত ১৪ অক্টোবর থেকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকা এই দুই নেতা এর আগে ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরের তালাবন্ধ গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। প্রতিবাদস্থল হিসেবে স্থানটির স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। ১০ অক্টোবর নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক দিয়ে আটক হওয়ার পর তারা শান্তি বজায় রাখার যে মুচলেকা দিয়েছিলেন, এই ঘটনায় তার লঙ্ঘন ঘটে বলে জানায় প্রসিকিউশন।এদিকে দিল্লি হাইকোর্টে তাদের রিমান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আপিল করা হলে আদালত শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই পুরো প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাবাস দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়ম ও একতরফা কার্যক্রমের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে এই রাজনৈতিক দল।সূত্র: এনডিটিভি
রাজধানীর উত্তরায় আলোচিত ‘দে লাড়া’ কিশোরগ্যাং গ্রুপের মূলহোতা ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা সাকিব হাসান সানি ওরফে পিচ্চি সানিকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদক কারবার, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে রাজধানীর একাধিক থানায় অন্তত সাতটি মামলার তথ্য রয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৭ নম্বর সেক্টরের বিএনএস সেন্টার এলাকা থেকে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্র জানায়, রাতে উত্তরায় পশ্চিম থানাধীন বিএনএস সেন্টার এলাকায় অভিযান চালানো হলে একটি গোপণ আস্তানা থেকে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার গ্রুপের অন্যান্য সঙ্গীরা পালিয়ে গেলেও সানিকে ধরে ফেলে পুলিশ। গ্রেপ্তার পিচ্চি সানি ঢাকা মহানগর উত্তরের উত্তরা পূর্ব থানা ছাত্রলীগের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব-১। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলায় পিচ্চি সানির সরাসরি সম্পৃক্ততাও রয়েছে। সে সময় আন্দোলন দমনে স্থানীয় কিশোরগ্যাং সদস্যদের সংগঠিত করে লাঠিসোঁটা হাতে সানিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অংশ নিতেও দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাজুড়ে বিস্তৃত কিশোরগ্যাং নেটওয়ার্কের আড়ালে পিচ্চি সানি সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছে। সে ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খসরু চৌধুরীর পিএস নূর মোহাম্মদের অন্যতম সঙ্গী। এছাড়াও পিচ্চি সানি স্থানীয়ভাবে আলোচিত ‘দে লাড়া’ গ্রুপের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। উত্তরার বিভিন্ন সেক্টর ছাড়াও উত্তরখান, দক্ষিণখান ও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপটির তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টর থেকে টঙ্গী রেলস্টেশন পর্যন্ত রেলপথসংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার সঙ্গে গ্রুপটির সম্পৃক্ততার প্রমাণ একাধিক গণমাধ্যমের রিপোর্টে উঠে আসে।পুলিশ সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট চার সহযোগীসহ উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় সানি। ওই সময় সানির কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা ও একটি হোন্ডা সিভিক গাড়ি উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি অনুযায়ী, পিচ্চি সানির বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় চারটি, উত্তরা পূর্ব থানায় একটি এবং উত্তরা পশ্চিম থানায় দুটি মামলার তথ্য রয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে এসব মামলা দায়ের করা হয়।এদিকে, পিচ্চি সানিকে সর্বশেষ গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদ মনসুর প্রতিবেদনকে বলেন, কিশোর গ্যাং নেতা পিচ্চি সানিকে গতকাল রাতে উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উত্তরায় কিশোর গ্যাং দমনে আমরা সবসময় তৎপর রয়েছি।
সৌদির রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।মরদেহ বহনকারী বিমানটি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১২মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।এর আগে, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদ। তিনি বগুড়ার শাহজাহানপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে।২২ অক্টোবর রিয়াদ সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি নিয়ে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট রওনা হয়। পরে ফ্লাইটটি ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের একজন সৌদি প্রবাসী শাহেদ।এদিকে গত ৬ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত এখন পর্যন্ত ১১ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরত এসেছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রাঙামাটির সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে- তা জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।তিনি এই ইস্যুতে সরকারকে ‘ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের’ পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতেও বলেন।সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরে চিনাবাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে শুরু হয়েছে জমি প্রস্তুত ও বীজ বপনের কাজ। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও লাভের আশায় কৃষকেরা বেছে নিচ্ছেন চিনাবাদাম চাষ। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে অনাবাদি পড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ চরজমি।সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলে কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ সারি করে বীজ বপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন অনেক কৃষক। বালুময় জমিতে অন্য ফসল চাষ কঠিন হলেও চিনাবাদাম চাষের মাধ্যমে জীবিকার নতুন পথ খুঁজছেন তাঁরা।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চরের ওপরের স্তরে বালুর আধিক্য থাকায় সব ধরনের ফসল ভালো হয় না। এ কারণে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে এসব জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়। কাঁচা বাদামের খোসা থেকে বীজ সংগ্রহ করে লাঙল দিয়ে তৈরি করা সারিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করা হয়। এরপর বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তুলনামূলক কম পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে বাদামগাছ।কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ মণ। গত বছর প্রতি মণ বাদাম পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে বিঘাপ্রতি পাঁচ মণ ফলন হলে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার আগে সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ২২ হাজার টাকা। তবে ফলন ও বাজারদরের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করে।এদিকে ধুনটের বৈশাখি, রাধানগর, নিউসারিয়াকান্দি, বতুয়ারভিটা ও পুকুরিয়া চরে বালুর আস্তরণ পড়া শত শত বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে চিনাবাদাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হতে পারে কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা চরাঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ, উন্নত বীজ সরবরাহ, চাষাবাদবিষয়ক পরামর্শ এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, বেলে-দোআঁশ মাটি চিনাবাদাম চাষের জন্য উপযোগী। চরাঞ্চলের মাটিও এ ফসল চাষের উপযুক্ত। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং সার ও সেচের প্রয়োজনও কম হওয়ায় কৃষকেরা চিনাবাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।যমুনার বালুচরে চিনাবাদাম চাষের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে অনাবাদি জমি উৎপাদনের আওতায় আসবে, বাড়বে কৃষকের আয়। যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে চরাঞ্চলের বালুময় জমিই হয়ে উঠতে পারে কৃষকের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন ভিত্তি।
ল্যাঙ্কাশায়ারের সঙ্গে ২৬ বছরের সম্পর্ক শেষ হচ্ছে জেমস অ্যান্ডারসনের। আগামী মৌসুমের জন্য ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসারের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্টি ক্লাবটি। তবে ৪৪ বছর বয়সী অ্যান্ডারসনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্য কোনো কাউন্টি বা বিদেশি দলের প্রস্তাব এলে তিনি খেলা চালিয়ে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। অ্যান্ডারসনের চুক্তি না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে হতাশ সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তাঁর মতে, ল্যাঙ্কাশায়ারের সাম্প্রতিক সমস্যাগুলোর মধ্যে অ্যান্ডারসন কোনোভাবেই অন্যতম সমস্যা নন। বরং গত মৌসুমে ৫০ উইকেট নিয়েছেন তিনি, গড় ছিল মাত্র ১৭। চোটের কারণে কয়েকটি ম্যাচ মিস করলেও যখনই খেলেছেন, ভালো পারফরম্যান্স করেছেন।হুসেইন বলেন, অ্যান্ডারসন এখনো ভালো বোলিং করছেন এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণ, বলের গতিপথ বদলানোর দক্ষতা, ফিটনেস ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার অসাধারণ। তাঁর মতে, ৪৪ বছর বয়স হলেও ইংল্যান্ডের প্রায় সব কাউন্টিই অ্যান্ডারসনকে দলে নিতে চাইবে। হুসেইনের ধারণা, ল্যাঙ্কাশায়ারের পুনর্গঠনের যাত্রায় অ্যান্ডারসনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব বরং সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানো যেত।ল্যাঙ্কাশায়ারের নতুন ক্রিকেট পরিচালক পল ফারব্রেস অবশ্য ক্লাবকে নতুন পথে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। চলতি মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয়-সর্বশেষ স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে ল্যাঙ্কাশায়ার। সাদা বলের দুই প্রতিযোগিতাতেও দলটি গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নতুন খেলোয়াড় নেওয়া ও দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে ক্লাবটি।ইংল্যান্ডের হয়ে ২০০২ সালে অভিষেক হওয়া অ্যান্ডারসন ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। টেস্টে ৭০৪ উইকেট নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এবং টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে তাঁর প্রথম দলের অভিষেক হয়েছিল ২০০১ সালে। এখন পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর উইকেট ১ হাজার ১৯৩টি, আর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ৪০০-এর বেশি।অ্যান্ডারসনকে নিয়ে অবসরের গুঞ্জন থাকলেও নাসের হুসেইন তাঁর বিদায়ের সম্ভাবনার চেয়ে বরং ২৬ বছরের অসাধারণ ক্যারিয়ারকে স্মরণ করতে চান। তাঁর মতে, ইংল্যান্ড ও ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে এত দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্ডারসনের অবদানই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।
শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনের উৎসব ঘিরে সাধারণ মানুষের মতো আনন্দে মেতেছেন শোবিজ তারকারাও। কেউ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরেছেন মণ্ডপে মণ্ডপে, কেউ ব্যস্ত ছিলেন গানের অনুষ্ঠান ও শুটিংয়ে। আবার কারও উৎসব কেটেছে প্রিয়জনকে স্মরণ করে।অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন। দুর্গাপূজাতেও পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটিয়েছেন তিনি। শারদীয় সাজে তোলা নিজের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।একসময় দুর্গাপূজায় মায়ের সঙ্গে মণ্ডপে যেতেন অভিনেত্রী পূজা চেরী। মা মারা যাওয়ার পর থেকে একাই পূজামণ্ডপে যান তিনি। এবারও পূজার প্রথম দিন থেকেই নিয়ম করে মণ্ডপে ঘুরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতেও তাকে একা দেখা গেছে।মা দুর্গার কাছে পূজা চেরীর প্রার্থনা, সবার দুঃখের অবসান হোক, অন্ধকার দূর হয়ে আলো ছড়িয়ে পড়ুক এবং প্রতিটি হৃদয়ে জেগে উঠুক নতুন আশার আলো। ব্যস্ততায় কেটেছে বাঁধন সরকার পূজার উৎসবসংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজার এবারের দুর্গোৎসব কেটেছে ব্যস্ততায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পূজামণ্ডপেও গেছেন তিনি।বিয়ের পর এটিই তার প্রথম দুর্গাপূজা। পূজার ইচ্ছা ছিল উৎসবের অন্তত এক দিন শ্বশুরবাড়ির এলাকা মুন্সিগঞ্জে যাওয়ার। তবে শাশুড়ির অসুস্থতার কারণে পুরো পূজার সময় তাকে ঢাকাতেই কাটাতে হয়েছে।চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরীর কাছে দুর্গাপূজা মানেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। উৎসবের প্রথম দিকে ঢাকায় থাকলেও শেষ দুই দিন নিজের শহর নারায়ণগঞ্জে কাটিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, দুর্গাপূজার নবমী ও দশমীর সেরা আয়োজন হয় নারায়ণগঞ্জে।তবে এবারের পূজায় মাকে খুব মনে পড়ছে বাপ্পীর। দুই বছর আগে তার মা মারা যান। গত বছর পূজার সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় মায়ের অভাব তেমন অনুভব করেননি। কিন্তু এবার নিজ শহরে, নিজের বাড়িতে প্রতিটি মুহূর্তেই মায়ের কথা মনে পড়েছে তার।সারা বছর নাচ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দুর্গোৎসবের সময় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ছুটি কাটিয়েছেন নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত। তার মতে, শৈশব হোক কিংবা বড়বেলা—উৎসবের আনন্দ কখনো ফিকে হয়ে যায় না।দুর্গাপূজার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে বিসর্জনই তার বেশি পছন্দ। পূজা সেনগুপ্ত মনে করেন, কোনো কিছুর সমাপ্তি মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং সেখান থেকেই নতুন কিছু শুরু হওয়ার বা নতুনভাবে কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।গত বছর দুর্গাপূজার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ছিলেন অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। এবার তার ইচ্ছা ছিল গ্রামের বাড়িতে গিয়ে উৎসব কাটানোর। তবে একটি বাস্তবধর্মী অনুষ্ঠানমালার শুটিং থাকায় ঢাকাতেই থাকতে হয়েছে তাকে। দিনের বেলা শুটিং করেছেন, আর সন্ধ্যায় সময় বের করে গেছেন পূজামণ্ডপে।শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পূজামণ্ডপে গেছেন অভিনেত্রী সুষমা সরকার। সন্ধ্যা ও রাতে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত আরতি তার বিশেষ পছন্দের। আর বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলাও উপভোগ করেন তিনি।দুর্গাপূজার আনন্দে মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়, তা মুগ্ধ করে সুষমাকে।সব মিলিয়ে এবারের দুর্গোৎসব তারকাদের জীবনে বয়ে এনেছে নানা রকম অভিজ্ঞতা। কারও উৎসব কেটেছে ঘোরাঘুরি ও আনন্দে, কারও ব্যস্ততায়, আবার কারও মনে ছিল প্রিয়জন হারানোর বেদনা। আনন্দ, স্মৃতি আর আবেগের মধ্য দিয়েই বিদায় নিচ্ছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, ও সংস্কৃতিরও অন্তর্গত। পূজার সময় মণ্ডপ, প্রতিমা, সাজসজ্জা, অঞ্জলি, প্রসাদ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন; এই সবকিছুতেই থাকে আলাদা আবেগ। এখন সেই উৎসবের আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে। তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা দুর্গাপূজার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে তুলে ধরছেন।দুর্গাপূজাকে ঘিরে তৈরি ভিডিওগুলোতে দেখা যায় সাজসজ্জা, ফ্যাশন, এবং পূজার আনন্দ। #Durgapuja হ্যাশট্যাগে ইতোমধ্যে ৫ লাখেরও বেশি ভিডিও টিকটকে পোস্ট করেছেন ইউজাররা। ইজা, প্রত্যাশা এবং শার্লি রহমানের মতো কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এখন তুলে পূজার ফ্যাশন নিয়ে তুলে ধরছেন বিশেষ কনটেন্ট।ইজা (@itss.eza) মূলত মেকআপ, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন। টিকটকে তিনি বিভিন্ন উৎসব ও মৌসুমকে কেন্দ্র করে টিউটোরিয়াল দেন। কোন পোশাকের সঙ্গে কেমন গয়না মানাবে, কিংবা কেমন মেকআপ কখন করতে হবে, সেটি তার ভিডিওতে উঠে আসছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি নানা ধরনের ফ্যাশন ও মেকআপ লুকের ভিডিও বানিয়েছেন। শাড়ি পরার ধরন, নানান স্টাইলে চুলে ফুল গোঁজা, আর নতুন চুড়িতে পূজার সাজপোশাক তুলে ধরছেন ইজা। এছাড়া, পূজার ছুটিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়, কিংবা বন্ধুদের সাথে কোথায় সময় কাটানো যায়, এসবও তিনি তুলে ধরছেন।প্রত্যাশার (@protyasha_zh) কনটেন্টে সাজগোজ ও ফ্যাশনের বিষয়বস্তু বেশি দেখা যায়। বেশ কিছু ভিডিও তিনি স্কিনকেয়ার নিয়ে বানিয়েছেন। এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ লুক, ফ্যাশন ও ট্রেন্ড নিয়ে তিনি ভিডিও দিয়েছেন। সেসব ভিডিওতে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, পূজার প্রাণকেন্দ্র পুরান ঢাকা আর বিভিন্ন ধাঁচের ফ্যাশনও উঠে এসেছে। গয়না, সাজ আর পোশাকের ফিউশন তাঁর ভিডিওগুলোকে সবার থেকে আলাদা করে তোলে। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী লাল-সাদা শাড়ি, কপালের টিপের সাথে শাঁখা-পলা, ফুলের গয়না ও চুলের সাজ দেখা যায় তার ফ্যাশন কনটেন্টে। পাশাপাশি আবহাওয়া অনুযায়ী আরামদায়ক ও মানানসই সাজের পরামর্শও মিলবে তার কনটেন্টে।শার্লি রহমান (@iamthedemig0d) একজন মেক আপ এবং ফ্যাশন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। কেনাকাটার ভিডিওসহ প্রতিদিনের জন্য "গেট রেডি উইথ মি", কিংবা কম খরচে বেস্ট লুকের জন্য "অ্যাফোর্ডেবল গ্ল্যাম" এর মতো কনটেন্ট তুলে ধরেন শার্লি। দূর্গাপুজাকে মাথায় রেখেও তিনি বেশ কিছু ফ্যাশন এবং মেক আপ কনটেন্ট বানিয়েছেন। শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ দুই ধরনের পোশাকের সাথে কেমন সাজ, হেয়ারস্টাইল, গয়না এবং অন্যান্য এক্সেসরিজ পরতে হবে সেটিও তিনি তুলে ধরেন। ইজা, প্রত্যাশা এবং শার্লি রহমান-এর মতো বর্তমানের কনটেন্ট ক্রিয়েটররা উৎসবের গল্প বলার ধরন বদলে দিয়েছেন। তাদের কনটেন্টের মাঝে ধর্মীয় উৎসব ঘিরে সৃজনশীলতা ও অংশগ্রহণের বিষয়টি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পূজার রঙ ও আনন্দ নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস ২০২৬ উপলক্ষে ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে এক সেমিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সোসাইটির চেয়ারম্যান সরদার এ রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ সরদার এ নাঈম, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চিফ কার্ডিওলজি কনসাল্টেন্ট প্রফেসর ডাঃ এম. এ. বাকি, ভিজুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদুজ্জামান চৌধুরী, সুইড বাংলাদেশ এর মহাসচিব মাহবুবুল মুনির, তরি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশফাক উল কবির, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করীম সিদ্দিকী, জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার বশির আল হোসাইন, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মুরাদ হোসেন খান, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ কাজী খলিলুর রহমান, টিম গ্রুপ বিডি’র উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহিল নাকিব, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অমিতাভ বড়ুয়া এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিগণ ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দৃশ্যমান কার্যক্রম ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। তারা বলেন, সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে তাদের উপযোগী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতি জোর দেন বক্তারা।অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ঢাকার আটটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বিদ্যালয়ের শতাধিক ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত ড্যান্স সেলিব্রিটি গ্রুপ পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা মোঃ শাহদাত হোসেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সোসাইটির প্রোগ্রাম অফিসার ও সেলফ অ্যাডভোকেসি লিড আহমাদ ইবনে সালেহ।
বাংলা গানের ‘যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। দীর্ঘদিনের বিরতি শেষে নতুন একক গান নিয়ে ফিরেছেন নন্দিত এই কণ্ঠশিল্পী। ‘ভুলে গেছি তোমাকে’ শিরোনামের গানটি এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।‘মন থেকে উঠে গেছো তুমি, ভুলে গেছি আমি তোমাকে, নেই ভালোবাসা বলে কিছু, বুঝেছি ভালোবেসে ঠকে, তোমারই পিছে ছুটেছি মিছে, পড়েছে কালি তাই চোখের নিচে’ এমন কথায় সাজানো গানটি লিখেছেন স্নেহাশীষ ঘোষ।গানটির সুর করেছেন রাজেশ ঘোষ এবং সংগীতায়োজন করেছেন এম এম পি রনি। ইয়ামিন এলানের পরিচালনায় নির্মিত মিউজিক ভিডিওতে আসিফ আকবর নিজেই অংশ নিয়েছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর আর মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে ‘ভুলে গেছি তোমাকে’।এই গানটির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রাজেশ ঘোষের সুরে কণ্ঠ দিয়েছেন আসিফ আকবর। আসিফের সংগীতজীবনের অন্যতম জনপ্রিয় অনেক গানের সুরকার রাজেশ ঘোষ। দীর্ঘদিনের এই শিল্পী-সুরকার জুটির বোঝাপড়াও বেশ পুরোনো। নতুন গানটি নিয়ে তাই প্রত্যাশাও বেশি আসিফের।গানটি প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, “অনেক দিন পর রাজেশ ঘোষের সুরে গান গাইলাম। আমার সংগীত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু গানের সুরকার তিনি। তার সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটাও অনেক দিনের। আশা করছি, আমাদের এই পুরোনো শিল্পী-সুরকার জুটির নতুন আয়োজনটি সংগীতপ্রেমীদের ভালো লাগবে এবং প্রত্যাশা পূরণ করবে।”এদিকে, নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি বিদেশ সফরের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন আসিফ আকবর। ইনছন বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়া (আইবিসিকে)-এর আয়োজনে ‘বাংলাদেশ উৎসব ২০২৬’-এ অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন তিনি।আগামী ১০ অক্টোবর ইনচিওনের সামসান ওয়ার্ল্ড জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। সেখানে সংগীত পরিবেশন করবেন আসিফ আকবর।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার জানান, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ফেরানোর চেষ্টা) দেওয়া হলেও তাকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা পাটেকারকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চালান; তবে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। তার ছেলে মালহার পাটেকার তখন পুনেতে ছিলেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকেল-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নান পাটেকারের। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তীব্র অভিনয়, শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার জন্য ভারতীয় সিনেমায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ইয়েশবন্ত’সহ একাধিক প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানার। পরে ধীরে ধীরে নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ (২০০৬)-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন নান পাটেকার। চরিত্রটির জনপ্রিয়তার কারণে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এও তাকে একই ভূমিকায় দেখা যায়। পাশাপাশি ২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
বলিউডের অন্যতম তারকা জুটি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি। আবারও তাদের পরিবারে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। কন্যাসন্তান সারায়াহর প্রথম জন্মদিনের আনন্দ কাটতে না কাটতেই আবারও মা হওয়ার ঘোষণা দিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বিশেষ ছবি শেয়ার করে জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানান কিয়ারা। যেখানে সিদ্ধার্থ ও মেয়ে সারায়াহর পাশাপাশি তিনজনের হাতে দেখা যায় এক জোড়া ছোট্ট শিশুর বোনা জুতো। গত বছর প্রথম সন্তান আসার সময় যেভাবে খবরটি ভাগ করেছিলেন তারা, এবারও প্রায় একই ধাঁচের ছবিতে ভরিয়ে তুলেছেন আবেগ। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এমন এক অমূল্য আশীর্বাদে হৃদয় কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।’২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমেরে জমকালো আয়োজনে চার হাত এক হয়েছিল এই তারকাদম্পতির। এরপর গত বছরের নভেম্বরে প্রথম সন্তান সারায়াহকে স্বাগত জানান তারা। মা হওয়ার পর খুব বেশি দিন ক্যামেরা থেকে দূরে ছিলেন না কিয়ারা। চলতি বছরেই সাউথ তারকা যশের বিপরীতে ‘টক্সিক’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।মাতৃত্ব নিজের ভেতর কতটা রূপান্তর এনেছে, তা নিয়ে সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে কথা বলেন কিয়ারা। তার ভাষ্যমতে, মা হওয়ার পর জীবন সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় নেয়। এমনকি নিজেকে আরও স্বাধীন ও শক্ত মানসিকতার বা ‘টাইগ্রেস’ মনে হয় বলে জানান তিনি।কাজের প্রতি কিয়ারার এই একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন ‘টক্সিক’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও। তিনি জানান, সিনেমাটির একটি ভারী বৃষ্টির দৃশ্যে শুটিং করার সময় কিয়ারা ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক নানান জটিলতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এতটুকু না দমে দৃশ্যটির কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করেছিলেন তিনি।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘শেরশাহ’-র সেটে প্রথম কাছাকাছি আসেন সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা। সিনেমায় ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার চরিত্রে সিদ্ধার্থ এবং ডিম্পল চিমার চরিত্রে নজর কাড়েন কিয়ারা। পর্দার সেই প্রেম কালক্রমে বাস্তবে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন গোপন রাখার পর টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ সম্পর্কের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন তারা, যা পরবর্তীতে পরিণতি পায় ধুমধাম বিয়ের মাধ্যমে।
টানা কাজ করা, শারীরিক ও মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা, শুষ্ক ত্বক, বয়স বাড়া ইত্যাদি কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। আর এটি সৌন্দর্য কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে উপকারী। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার দুই উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।১. শশাশশার মধ্যে রয়েছে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান এবং হালকা অ্যাসট্রিসজেন্ট উপাদান। এগুলো চোখের নিচের কালো দাগ দ্রুত দূর করতে কাজ করে।একটি শশাকে গোল করে কেটে ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে দিন। আক্রান্ত ত্বকে ১০ মিনিট এটি রাখুন। এবার জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে দুই বার এ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।এ ছাড়া সমপরিমাণ শশা ও লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে মাখুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে অন্তত একবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।২. কাঁচা আলুআলুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং অ্যাজেন্ট। এটি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে উপকারী। পাশাপাশি এটি ত্বকের ফোলাভাব কমায়।একটা বা দুইটা আলুর খোসা ছিলে, কুচি করে এর রস বের করুন। একটি তুলার বলের মধ্যে ভেজান এবং বলটি চোখের ওপর দিন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখের পাতা ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহের জন্য দিনে এক থেকে দুই বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
দেশের বাজারে আরও কমেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এ দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়েছে, ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ৩৪১ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম কমানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এই দাম বাড়ানোর ৯ দিন পর ফের দাম কমানো হলো। এতে দুই দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম কমলো ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা।গত ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮২ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সোনার গহনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার গহনার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারে সহযোগিতা জোরদারে দেশটির সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, এমপি।সিউলে ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন—এনইএসএ এবং কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া—সিএকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদ্যমান শ্রমবাজার আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কোরীয় ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি।এ সময় বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কোরিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে দেশটিতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অবৈধ ও ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করার পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য রয়েছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়নে বলা হয়েছে, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রেও এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মৌলিক কার্যক্রম চালু করা হবে। তবে এ পর্যায়ে কোনো হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা সব হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রীত ফোনের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে যুক্ত করা হবে।এ ধাপে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত ও বন্ধ করার ব্যবস্থাও থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক কমিশন সভায় এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থাটি চালু করা হলেও তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে এনইআইআর চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন পেতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ, টেলিযোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় এনবিআর। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব মোবাইল নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হ্যান্ডসেট বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।এরপর ২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধের পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।