গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে যাত্রী মিনিবাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের ওপরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহত কারও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার সন্ধ্যায় গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে তাকওয়া পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি মিনিবাস কালিয়াকৈরের চন্দ্রায় যাচ্ছিল। এ সময় কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি এলাকায় বিকল হওয়া একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে মিনিবাসের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারীসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত ২০ জন। পুলিশ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি ফ্লাইওভার থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।জিএমপি কোনাবাড়ি থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করীম জানান, মরদেহ সনাক্তের কাজ চলছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের হাম সংক্রমণ পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয় এই বিজ্ঞপ্তিতে। অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগী ঢাকা বিভাগে এবং অন্য একজন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫৪ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ ৫ এপ্রিল (সকাল ৮টা) পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৯ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।এ ছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে অশালীন শব্দে ভরা একটি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমের পোস্টটিতে তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য ইরানকে হুমকি দিয়েছেন।সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার কথা উল্লেখ করে পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি (হরমুজ প্রণালী) খুলে না দিলে তারা ‘নরকে বাস করবে’। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া ট্রাম্পের পোস্ট।গেল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালীটি সোমবারের (৬ এপ্রিল) মধ্যে পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য তেহরানকে দেয়া স্ব-আরোপিত সময়সীমার আগেই এই পোস্ট দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বড় হামলার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, মঙ্গলবার ইরানে একই সাথে বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস পালিত হবে। এর মতো আর কিছুই হবে না!!!হরমুজ প্রণালী না খুললে ‘নরকে বাস করতে হবে’ বলেও হুমকি দেন ট্রাম্প। সঙ্গে বেশ কিছু অশালীন শব্দও ব্যবহার করেন তিনি, যা সংবাদে প্রকাশযোগ্য নয়। সূত্র: বিবিসি
জাতীয় সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল। সেই কমিটির পেশ করা রিপোর্ট আপনি (স্পিকার) অনুমোদন করেছেন। সেখানে কিছু অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ (বিলুপ্ত) করার প্রস্তাব আছে। আমরা আগের নোটিশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলাম, যে অধ্যাদেশগুলো ল্যাপস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘জুলাই স্পিরিটের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত।আজ রোববার (৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনের দ্বিতীয় কার্যসূচি শুরুর আগে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর রহমান এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াত আমির বলেন, আজকের কার্যসূচিতে ‘সম্পূরক কার্যসূচি’ নামে একটি পাতা পেয়েছি। সেখানে কিছু বিল সামনে আনা হয়েছে এবং আমার ধারণা, সেগুলো অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করেই আনা হয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে যে অধ্যাদেশগুলো ল্যাপসের তালিকায় রয়েছে সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হোক।বিরোধীদলীয় প্রধানের এমন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্পিকার আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী শুরুতে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যে দুটি বিলের ব্যাপারে কথা বলেছেন, সেগুলো কোনো অধ্যাদেশ থেকে উৎসারিত নয়। এগুলো মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একদম নতুন (ফ্রেশ) বিল, যা ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। উনারা যেটা বলছেন, আমরা ল্যাপস করেছি, কোনো কোনোটা হেফাজত করা হচ্ছে। আমরা পরবর্তীতে বিল আকারে অধিকতর যাচাই বাছাই করে আপনাদের সামনে সেগুলো আনবো। সেটা যথাসময় উত্তর দেব।১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আইনমন্ত্রী পরবর্তীতে বিল আকারে যাচাই-বাছাই করে সংসদে উত্থাপন করার কথা জানান।এরপর স্পিকার সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমাদের ৯ তারিখের মধ্যে প্রায় ৯৩টি বিল পাস করতে হবে। আপনাদের অনেক বক্তব্য সেখানে থাকবে, আমরা বিষয়টি পরবর্তীতে দেখব।আছরের নামাজের বিরতির পর আইনমন্ত্রী স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার আগের বক্তব্যের সংশোধনী দেন। তিনি বলেন, একটি ছোট সংশোধন আছে। বিরোধীদলীয় নেতা যে দুটি আইনের কথা বলছেন, সেগুলো ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যেই ছিল।এরপর বিরোধীদলীয় নেতা পুনরায় আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যে অধ্যাদেশগুলো ল্যাপস করার কথা বলা হয়েছে, আমাদের মতে তার প্রতিটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের অধিকার সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আমার সুস্পষ্ট প্রস্তাব হচ্ছে, এগুলো সংসদে উত্থাপন করা হোক এবং আমরা এতে আলোচনা করতে চাই।বিরোধীদলীয় নেতার এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি অধ্যাদেশই সংসদে উত্থাপিত হবে। ফার্স্ট রিডিং ও সেকেন্ড রিডিংয়ের সময় আলোচনার সুযোগ থাকবে। বর্তমানে যে দুটি অধ্যাদেশ বিল আকারে এসেছে, সেগুলোর বিষয়ে বিশেষ কমিটি নিঃশর্তভাবে পাস করার পক্ষে মত দিয়েছিল।
লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতের জিন্নাহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রোববার (০৫ এপ্রিল) সরকারি সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, এই হামলায় আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন।ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের রাজধানীতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, দক্ষিণ বৈরুতে কালো ধোঁয়া উড়ছে।এর আগে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কাফরাহতি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় এক শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলো ভুলে গিয়ে ‘স্মৃতি বিস্মৃত’ হয়ে গেছেন—বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।রোববার (০৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।আখতার বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের যে ধারণা নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি কোনো নতুন বিষয় নয়; বরং ঐকমত্য কমিশনে সব রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতেই এই প্রস্তাব এসেছে।তিনি বলেন, আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সরকার দলীয় পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সংসদের মাধ্যমে তা করতে হবে। পরে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম যে, গণপরিষদ বা সংসদ নয়—একটি গাঠনিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের সমালোচনা করে আখতার বলেন, আজকে যারা সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন, তারা সেই আলোচনার বিষয়গুলো ভুলে গেছেন। এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক।তিনি আরও বলেন, ৩১ জুলাই ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু এখন সেই সিদ্ধান্ত বিএনপি মানতে চাইছে না।তিনি অভিযোগ করেন, আজকে বিএনপি ব্যাকস্পেস চেপে পেছনে ফিরে যেতে চায়। তার মতে, সংস্কার প্রক্রিয়ার পাঁচটি ধাপ—জুলাই সনদ, আদেশ, অধ্যাদেশ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ—সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। কিন্তু সরকার দলীয় সদস্যরা এসবের মধ্যে কেবল জুলাই সনদের একটি অংশ নিয়ে কথা বলছেন।আখতার বলেন, তারা আদেশের কথা বলেন না, অধ্যাদেশের কথা বলেন না, গণভোটের কথা বলেন না। শুধু জুলাই সনদের কথা বলেন—সেটাও ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ।তিনি দাবি করেন, ঐকমত্য কমিশনের খসড়া সনদে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল না। পরে জাতীয় সংসদের বাইরে স্বাক্ষরের সময় এটি যুক্ত করা হয়েছে, যা তিনি ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং সত্য উদঘাটন করা।জুলাই সনদের আইনগত বৈধতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আখতার বলেন, সনদের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে আদেশ জারির কথা উল্লেখ রয়েছে।তিনি বলেন, জনগণকে অজ্ঞ মনে করা ঠিক নয়। যারা এখন গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তারা নিজেরাই জনগণের রায়কে অস্বীকার করছেন।তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে এখন বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বিএনপির দলগত অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং তাদের রাজনৈতিক অসঙ্গতিকে সামনে নিয়ে আসে।
গণভোটের রায়কে না মানলে সরকারকে অবৈধ আখ্যায়িত করে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হঁশিয়ারি দেন।গণভোটের গণরায় উপেক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশ বাতিল এবং সমসাময়িক বিষয়ে এ জরুরি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। আসিফ বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় কিংস পার্টি গঠনের লক্ষ্যেই গণভোট করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের গণভোট সে জন্য হয়নি। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, গণভোটের রায়কে না মানলে, সেদিন থেকেই এই সরকারকে অবৈধ সরকার বলবো এবং রাজপথে নামতে সময় নেবো না। এ সময় প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে বিএনপি সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেন আসিফ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী)।রোববার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ২৮(৪) অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক তথ্য প্রেস, মিডিয়া অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার ও প্রদানের ক্ষেত্রে মাহদী আমিন ও আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মাহদী আমিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন। নির্বাচনের সময় তিনি গুলশানের দলের নির্বাচনী কার্যালয়ে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।মাহদী আমিন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, যুব ও নারী ক্ষমতায়ন এবং ৩১ দফার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে দেশে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, কর্মশালা, সমাবেশ ও নীতি প্রণয়নে অবদান রেখেছেন। ২০১৪ সালে তিনি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হন। ২০২৪ সালে মাহদী আমিন বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে বহুমুখী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দক্ষিণ এশিয়ার আর্থসামাজিক উন্নয়ন নীতিমালার সঙ্গে যুক্ত মাহদী আমিন দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করছেন।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলী কর্মজীবনে বার্তা সংস্থা ইউএনবি, দৈনিক মানবজমিন, বাংলাবাজার পত্রিকা, চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন।তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালীনও তার প্রেস সচিব ছিলেন ছালেহ শিবলী। চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে কলকাতা উপ-হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ছালেহ শিবলীও কয়েক দশক ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।
বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি অপরাধ দমন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতে চারজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারা মাঠপর্যায়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।রোববার (০৫ এপ্রিল) ইসির আইন শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।নির্বাচন কমিশনের আইন শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ দিদার হোসাইন ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করেছেন।এতে বলা হয়েছে, বগুড়ার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান ও মো. কামাল হোসেন এবং শেরপুরের সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান মাহমুদ মিলন ও মো. হাসান ভূইয়াকে ভোটের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও দি কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের ১৯০ সেকশন অনুযায়ী অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে দ্রুত বিচার করবেন। একই সঙ্গে প্রতিবেদন কমিশনের পাঠাবেন। তারা ৭ থেকে ১১ এপ্রিল দায়িত্ব পালন করবেন।এদিকে দুই আসনের ভোটে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারকরাও একই পদ্ধতিতে বিচার করতে পারবেন। তারা মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনি আচরণ প্রতিপালন নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে ২০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও। তারা বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করতে পারবেন।
এই পহেলা বৈশাখে আনন্দ শুধু রঙিন শাড়ি, নতুন জামা কিংবা মণ্ডা-মিঠাইয়ে সীমাবদ্ধ না থাকুক। সৌন্দর্যের সঠিক সংজ্ঞায় বিশেষ কিছু সেলফ কেয়ার ডিলকে সঙ্গে নিয়ে নিজস্ব স্টাইলে উদযাপনকে ঘিরেও জমুক বৈশাখী উদযাপন। বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিউটি অ্যান্ড পার্সোনাল কেয়ার প্ল্যাটফর্ম সাজগোজের পহেলা বৈশাখ সেলে এবারের নববর্ষ হতে যাচ্ছে আরো উপভোগ্য, আরো আনন্দময়। এই ক্যাম্পেইনে রয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার, আর তাই নিয়ে চলছে সকলের মাতামাতি। সাজগোজের সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন ধরনের পণ্যে ৭২% পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করুন। এই সবগুলো পণ্যই আপনার নববর্ষকে আরো উৎসবমুখর করে তুলতে খুব যত্নের সাথে বাছাই করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের সেই চিরচেনা আমেজের সঙ্গে মানানসই মেকআপ কিট থেকে শুরু করে বৈশাখী সাজের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণই পাওয়া যাচ্ছে এক জায়গায়। ক্রেতারা চাইলে জনপ্রিয় বিউটি অ্যান্ড পার্সোনাল কেয়ার এই ব্র্যান্ডটি থেকে ‘১টি কিনলে ১টি ফ্রি’ অফার এবং বিশেষ কম্বো ডিলগুলোও লুফে নিতে পারবেন খুব সহজেই। মানসম্পন্ন পণ্য কেনাকাটার মাধ্যমে ক্রেতাদের শপিং অভিজ্ঞতাকে আরো উপভোগ্য করে তুলতে সাজগোজ নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন কার্যকর বিউটি টিপস এবং সাশ্রয়ী দামের ক্ষেত্রে বাজারের অন্যতম জায়গা ধরে রেখেছে তারা। বাড়তি সুবিধায় ক্রেতারা এই ক্যাম্পেইন চলাকালীন নির্দিষ্ট দিনগুলোতে পণ্যের ফ্রি ডেলিভারিও পাবেন। সাজগোজের পহেলা বৈশাখ সেল শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের পহেলা এপ্রিল থেকেই। এর সর্বশেষ ডিলগুলো সম্পর্কে জানতে অনুগ্রহপূর্বক ভিজিট করুন www.shop.shajgoj.com, সাজগোজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ অথবা সাজগোজের যেকোনো দোকান থেকে ঘুরে আসুন।
সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা ‘সংশোধন’ হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে আমরা সম্মান জানাতে চাই। ২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাসকে আমরা সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করেছি। এটি চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ৭১-এর স্বাধীনতার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।এসময় তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন। এটিই প্রকৃত ইতিহাস যা আমরা সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চাই।আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি পুনর্বহাল করতে চাই। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মূল করেছে। জুলাই সনদে এটি থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো দলের আপত্তির কারণে রাখা হয়নি। তবে আমরা এটি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় এই সংসদের মাধ্যমে। আমরা ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পেয়েছি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করি। সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে নয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলো ভুলে গিয়ে ‘স্মৃতি বিস্মৃত’ হয়ে গেছেন—বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।রোববার (০৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।আখতার বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের যে ধারণা নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি কোনো নতুন বিষয় নয়; বরং ঐকমত্য কমিশনে সব রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতেই এই প্রস্তাব এসেছে।তিনি বলেন, আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সরকার দলীয় পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সংসদের মাধ্যমে তা করতে হবে। পরে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম যে, গণপরিষদ বা সংসদ নয়—একটি গাঠনিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের সমালোচনা করে আখতার বলেন, আজকে যারা সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন, তারা সেই আলোচনার বিষয়গুলো ভুলে গেছেন। এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক।তিনি আরও বলেন, ৩১ জুলাই ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু এখন সেই সিদ্ধান্ত বিএনপি মানতে চাইছে না।তিনি অভিযোগ করেন, আজকে বিএনপি ব্যাকস্পেস চেপে পেছনে ফিরে যেতে চায়। তার মতে, সংস্কার প্রক্রিয়ার পাঁচটি ধাপ—জুলাই সনদ, আদেশ, অধ্যাদেশ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ—সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। কিন্তু সরকার দলীয় সদস্যরা এসবের মধ্যে কেবল জুলাই সনদের একটি অংশ নিয়ে কথা বলছেন।আখতার বলেন, তারা আদেশের কথা বলেন না, অধ্যাদেশের কথা বলেন না, গণভোটের কথা বলেন না। শুধু জুলাই সনদের কথা বলেন—সেটাও ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ।তিনি দাবি করেন, ঐকমত্য কমিশনের খসড়া সনদে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল না। পরে জাতীয় সংসদের বাইরে স্বাক্ষরের সময় এটি যুক্ত করা হয়েছে, যা তিনি ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং সত্য উদঘাটন করা।জুলাই সনদের আইনগত বৈধতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আখতার বলেন, সনদের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে আদেশ জারির কথা উল্লেখ রয়েছে।তিনি বলেন, জনগণকে অজ্ঞ মনে করা ঠিক নয়। যারা এখন গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তারা নিজেরাই জনগণের রায়কে অস্বীকার করছেন।তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে এখন বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বিএনপির দলগত অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং তাদের রাজনৈতিক অসঙ্গতিকে সামনে নিয়ে আসে।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বিভিন্ন মাছের আড়ৎ ও বাজারে অভিযান চালিয়ে ৮০০ কেজি জাটকা ও পাঙ্গাসের পোনা মাছ জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত মাছ এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস।মৎস্য বিভাগ জানায়, “জাটকা রক্ষা অভিযান-২০২৬”-এর আওতায় ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বাবুরবাজার আড়ৎ, এখলাশপুর আড়ৎ ও ছেংগারচর বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১ জনকে আটক করা হয় এবং ৮০০ কেজি জাটকা ও পাঙ্গাসের পোনা মাছ জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রহমত উল্লাহ, উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস এবং মতলব উত্তর থানার এএসআই মো. আনোয়ার হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। জাটকা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সাফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে দেশের পথে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে মালদ্বীপ থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে দল। সব ঠিক থাকলে সন্ধ্যায় ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবে দল। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিমানবন্দরে বরণ করে নেবেন ফুটবলারদের। পরে ছাদখোলা বাসে তাদের আনা হবে।সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করে অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এই গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ে বাংলাদেশ দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন।’মালদ্বীপ জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়। টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফের বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।শিরোপা জেতায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে তাদেরকে আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন তিনি।
কলকাতার বিনোদন জগতে একের পর এক গেরো লাগছে। আসছে দুঃসংবাদ। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রি। এরপর মাকে হারান সুদীপ্তা, বিদিশা। এবার প্রখ্যাত পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের নিখোঁজের খবর পাওয়া গেল। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ব্যাংকের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উৎসবের স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় একথা জানিয়েছেন।বাড়ি থেকে দুপুরে ব্যাংকের কাজে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন চিত্রনাট্যকার-পরিচালক উৎসব মুখার্জি। ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’ সিনেমার গল্পকার উৎসবের খোঁজ এর পর থেকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।দুপুরে শেষবার যখন উৎসবের সঙ্গে কথা হয় তখন তিনি ব্যাংকের ভেতরেই ছিলেন বলে সামাজিকমাধ্যমকে জানান পরিচালকের স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই পরিচালকের ফোন বন্ধ হয়ে যায়৷ সেটি এখনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানা গিয়েছে৷
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টাসহ প্রতারণা করে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এই আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান (প্রিন্স) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামি বাদীর সঙ্গে জামিনের আপসের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। বিয়ে করার কথা থাকলেও, আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে আর বিয়ে করেননি। টাকাও ফেরত দেয়নি। এজন্য আমরা তার জামিন বাতিলের প্রার্থনা করি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত আপসের শর্তে নোবেলকে জামিনের আদেশ দেন।গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরেরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে মামলার ধার্য তারিখ ২ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেন আদালত।গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা)। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।মামলার অভিযোগে বলা হয়, নোবেল বাদীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ অগস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে আত্মসাৎ করে। বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা করেন। আর এতে অপর আসামিরা তাকে সহযোগিতা করে।
আসছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেতা দানিশ তাইমুর এবং অভিনেত্রী ও মডেল আনমোল বালোচের নতুন সিরিয়াল। সাহসী অন-স্ক্রিন রোমান্স এবং আলোড়ন তোলা নাটকের জন্য আলাদাভাবে পরিচিতি রয়েছে দানিশ তাইমুরের। দানিশ তাইমুর নিজেই একটি ভিডিওর মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে তার আসন্ন নাটকের বিস্তারিত শেয়ার করে তাইমুর জানিয়েছেন, প্রথমে সিরিয়ালটির নাম ‘নিস্তার’ জানা গেলেও এখনো নাম চূড়ান্ত হয়নি। ভক্তদের নতুন সিরিয়ালের সুখবর দিয়ে ভিডিওতে দানিশ তাইমুর বলেন, ‘আমাদের নতুন সিরিয়াল শিগগির শুরু হচ্ছে। আমার সঙ্গে অনমোল বালোচ ও নাইমা বাট থাকছেন পর্দায়। অসাধারণ এ গল্পটিকে প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য রয়েছেন বেশ কিছু তারকা।’ নাটকটিতে তাইমুরের সঙ্গে পর্দা ভাগ করবেন 'এক সিতাম অউর', 'সিফ তুম' এবং 'মান আংগান' খ্যাত পাকিস্তানি অভিনেত্রী-মডেল আনমোল বালোচ। অসাধারণ অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে এরই মধ্যে ভক্তদের ক্র্যাশে পরিণত হয়েছেন তিনি।সিরিয়ালটির নাম কী হবে—দর্শকদের এই কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তরে তাইমুর বলেন, ‘এর নাম কিন্তু ‘নিস্তার’ নয়, যে নামটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। আমরা এখনও নাম প্রকাশ করিনি। আমি শিগগিরই নামটি প্রকাশ করব।’ পাশাপাশি পাকিস্তানি ছোট পর্দার তারকা ভক্তদের তার নাটকের নাম ঠিক করার জন্য মতামত চান। সূত্র: রিভিউইটইনস্টাগ্রামে তুমুল জনপ্রিয় দানিশ তাইমুরের প্রায় ৮.৯ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। তার জনপ্রিয় নাটকগুলো হলো দিওয়াঙ্গি, ক্যায়সি তেরি খুদগারজি, জান নিসার, আব দেখ খুদা কেয়া করতা হ্যায়, তেরি ছাওঁ মেঁ এবং ইশক হ্যায়। শের এবং মন মাস্ত মালাং-এর মতো সাম্প্রতিক হিট নাটকগুলোয় ভক্তরা তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। ২০১৫ সালে ইয়াসির জাসওয়ালের থ্রিলার জালাইবি দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।
লাক্স সুপার স্টারের ট্রফিটি গালার অনুষ্ঠানের ঠিক আগমুহূর্তে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।স্বরোভস্কি ক্রিস্টালে তৈরি এই ট্রফিটি এবারের বিজয়ীর প্রতীক হিসেবে সম্প্রতি উন্মোচন করা হয়েছিল। এটি একটি সুরক্ষিত স্থানে রাখা ছিল। নিয়মিত পরিদর্শনের সময় বিষয়টি সামনে আসে, যখন ট্রফিটি আর সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে লাক্স বাংলাদেশ জানিয়েছে, ওসি হারুন এবং আরেফিন শুভ বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছেন। ট্রফিটি গালার আগেই উদ্ধারের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন, সময়ের মধ্যে কি ট্রফিটি উদ্ধার হবে? চোখ রাখুন ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে চ্যানেল আই-এর পর্দায়, রহস্যের পর্দা উঠবে সেদিনই।
এ প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রী সানজিদা তাসনিম। র্যাম্প মডেলিং থেকে অভিনয়ে এসে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন। চরকিতে আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘ক্যাকটাস’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। সিরিজটি নির্মাণ করেছেন শিহাব শাহীন। এছাড়াও তিনি একটি অনুদানের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।তার মিডিয়া যাত্রা শুরু হয়েছিল একেবারেই শখের বশে। ছোটবেলায় ক্লাস নাইনে এনটিভিতে নাচ পরিবেশনের মাধ্যমে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। পরে দীপ্ত টিভি-এর রিয়েলিটি শো ‘স্টার হান্ট’-এ অংশ নিয়ে ফাইনালের তিন বিজয়ীর একজন হন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখায়।এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী সানজিদা তাসনিম বলেন, ‘র্যাম্প মডেলিং আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু অভিনয়ে চরিত্রের আবেগ ধরে রাখা, সংলাপ বলা—সবই আলাদা চ্যালেঞ্জ।’ তিনি মানসম্মত কাজের দিকেই বেশি মনোযোগী এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বড় পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।গত ঈদে সালাউদ্দিন লাভলু পরিচালিত চ্যানেল আইতে সাত পর্বের ধারাবাহিক ‘কুলিন সমাচার’ প্রচারিত হয়েছে, যেখানে তার উপস্থিতিও দর্শকদের নজরে এসেছে।পড়াশোনা করেছেন সিলেটে, পরে ঢাকায় এসে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি-তে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়েন। মিডিয়ায় না এলে হয়তো দেশের বাইরে থাকতেন, পরে দেশে ফিরে নিজের ক্লথিং ব্র্যান্ড গড়ে তুলতেন—এমনটাই ভাবনা ছিল তার।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশের পাড়ি জমিয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। সংবাদমাধ্যমে শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার খালাতো বোন ও খ্যাতিমান নজরুলসংগীতশিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ডালিয়া নওশীন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৭ মার্চ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ দুপুরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সাদিয়া আফরিন মল্লিক জানান, বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে। ডালিয়া নওশীনের দুই ছেলে, একজন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে, আরেকজন স্পেনে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। তিনি দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কন্যা ছিলেন।
যৌক্তিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।রোববার (০৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর লিখিত উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৫৬ সালের ‘দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট’ আধুনিকায়নের উদ্যোগ। আইনটিকে সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ পণ্যের মূল্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তা সমন্বয় করা হচ্ছে। চলতি বছরে ইতোমধ্যে তিন দফা মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া গত বছর অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।পেঁয়াজের বাজার নিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, কিছু সময় মূল্য অস্থিরতা দেখা দিলেও কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আমদানি উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।মন্ত্রী আরও বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী একটি কাঠামো নির্ধারণে গবেষণা চালাচ্ছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শুল্ক নীতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করায় এসব পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।বাজার তদারকির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঢাকায় প্রতিদিন একাধিক বাজার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অনিয়ম পেলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করার পাশাপাশি জরিমানাও করা হচ্ছে। বিশেষ করে রমজানসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসব অভিযানের পরিধি বাড়ানো হয়।তিনি আরও বলেন, উৎপাদক, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে আকস্মিক বাজার পরিদর্শন এবং চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ বড় পাইকারি বাজারে সরেজমিন তদারকি করা হয়েছে।এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, আমদানিকারকদের ব্যাংকিং জটিলতা নিরসন এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে আড়ৎ, গুদাম, কোল্ড স্টোরেজসহ সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দামের ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে টিসিবির মাধ্যমে প্রায় এক কোটি পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে চাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও মশুর ডাল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে।এছাড়া সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে কৃষি মার্কেট চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নিলুফার ইয়াসমিন পারভীন (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী। গত বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সকালে নিজ কর্মস্থল একটি গ্যাস স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে এক কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীর হাতুড়ির আঘাতে তিনি প্রাণ হারান।স্থানীয় প্রবাসী সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ফোর্ট মায়ার্সের ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ড ও হাইল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ের শেভরন (Chevron) গ্যাস স্টেশনে ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইয়াসমিন। প্রতিদিনের মতো সেদিন ভোরেও তিনি স্টোর খোলেন এবং ভিতরে নামাজে দাঁড়ান। সকাল আনুমানিক ৭টা ১৪ মিনিটে হামলাকারী স্টোরের দরজা খোলার চেষ্টা করে।ঠিক সেই সময় ঘাতক যুবক স্টোরে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে সে বাইরে পার্ক করা ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। গাড়িতে হামলার শব্দ পেয়ে ইয়াসমিন নামাজ শেষ করে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং ভাঙচুরের কারণ জানতে চান। এতেই ঘাতক যুবক হিংস্র হয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘাতক যুবক অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তার হাতে থাকা বড় হাতুড়ি দিয়ে ইয়াসমিনকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। মাথায় অন্তত সাতবার হাতুড়ির প্রচণ্ড আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে ঘাতক স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম রোলবার্ট জোয়াকিন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ২৪ নম্বর জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। তবে এই হামলার পেছনে ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নাকি এটি কেবলই একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।নিহত ইয়াসমিন পারভীন দুই মেয়েকে নিয়ে ফ্লোরিডায় বসবাস করতেন। তার স্বামী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তার দেশের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ১৮ নম্বর কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের ছোট বোন।স্বজনরা জানান, ইয়াসমিন অত্যন্ত পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ নারী ছিলেন।প্রবাসে সন্তানদের সচ্ছল ভবিষ্যতের জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করতেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী এবং ফ্লোরিডার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশি কনস্যুলেট এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
ইরান থেকে বাংলাদেশে কার্পেট আমদানি নেই। বাজার খুঁজে কোনো কার্পেট পাওয়া না গেলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিক্রি হচ্ছে পার্সিয়ান বা ইরানি কার্পেট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যবর্তী দেশ হয়ে আসা এই পণ্য বিলাসবহুল ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।বাংলাদেশের কার্পেট বাজারের বার্ষিক বিক্রয় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা। এই বাজার প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর, যেখানে ইরানি কার্পেটের অংশ খুবই ছোট। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর জানুয়ারি ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে বাংলাদেশের আমদানি অত্যন্ত সীমিত। ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি ছিল শূন্য। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাত্র ৩৬ লাখ টাকা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যে সামান্য আমদানি হয়েছে, তা ছিল যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল পণ্যের জন্য। কার্পেট এই তালিকায় ছিল না।জাতিসংঘের কমট্রেড তথ্য বলছে, ২০১১ সালে ইরান থেকে বাংলাদেশে কার্পেট রপ্তানির সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৫১০ ডলার, যা ফেল্ট ফ্লোর কভারিংসের জন্য। ২০১৪ সালে নটেড কার্পেট রপ্তানি ছিল মাত্র ২ হাজার ৮২০ ডলার। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে তা-ও বন্ধ হয়ে যায়।রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, বায়তুল মোকাররম, গুলশান ডিসিসি মার্কেট ও বাড্ডা লিংকরোড এলাকায় কার্পেটের বিভিন্ন দোকানে সরেজমিনে গিয়ে ইরানি কার্পেট বিক্রি হতে দেখা যায়নি। কার্পেট ব্যবসায়ীরা জানান, তারা এখন আর ইরানের কার্পেট আমদানি বা বিক্রি করেন না।এলিফ্যান্ট রোডের মিঠু কার্পেটসের ম্যানেজার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইরান থেকে কোনো কার্পেট আমদানি করা যায় ন। আর তা ছাড়া ইরানি কার্পেট অনেক দামি। সারা বছরে বা ছয় মাসে একটা দুটো বিক্রি হয়। তাই আমরা ইরানি কার্পেট বিক্রি করি না।’মিশু কার্পেটসের ব্যবস্থাপকও জানান, তারা ইরানি কার্পেট আমদানি বা বিক্রি করেন না। এ ছাড়া আরাফাত কার্পেটস, সারমানস কার্পেটস, পনির কার্পেটস, মোরেশদ কার্পেটস ও নিউ রুপসী কার্পেটসের শোরুমের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, তারাও ইরানি কার্পেট বিক্রি করেন না।গুলশানের ডিসিসি মার্কেটে গিয়েও জানা যায় সেখানকার কার্পেট ব্যবসায়ীরা ইরান থেকে কোনো কার্পেট আমদানি করেন না। শুধু একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী জানান, তাদের কাছে মাত্র একটি ইরানি কার্পেট আছে।তবে অনলাইনে কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে ইরানি কার্পেট বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম আলাদিন কার্পেটসবিডি। ফেসবুকে তাদের ৫৩ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। তারা পার্সিয়ান ও তুর্কি হ্যান্ডমেড কার্পেট বিক্রি করে। ইসফাহান, কাশান এবং তাবরিজ অঞ্চলের কার্পেট তাদের প্রধান পণ্য। তারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বিক্রি পরিচালনা করে।প্রতিষ্ঠানটির হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, তাদের শোরুম মূলত দুবাই থেকে পরিচালিত হয়। সেখান থেকে তারা অর্ডার নিয়ে বাংলাদেশে কার্পেট সরবরাহ করে। বাংলাদেশের মধ্যে ফ্রি ডেলিভারির সুবিধাও রয়েছে।বেডিং বিডি নামের আরেকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ‘ইরানি কার্পেট’ নামে একটি আলাদা ক্যাটাগরি রয়েছে। তারা দাবি করে যে এসব কার্পেট শতাব্দী প্রাচীন পার্সিয়ান ঐতিহ্যের অংশ। গ্রাহকদের কাছে এগুলোকে সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রিমিয়াম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আলমেইডা রাগসও বাংলাদেশে অনলাইনে কার্পেট বিক্রি করে। পার্সিয়ান ১২০০ রিড কালেকশন তাদের বিশেষ পণ্য।ইউবাই বাংলাদেশ ও দারাজ এই দুটি ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আন্তর্জাতিক বিক্রেতাদের মাধ্যমে পার্সিয়ান কার্পেট সরবরাহ করে। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য পাওয়া যায়।বাংলাদেশে কার্পেট ক্রেতাদের ধরন সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অতীতে প্রধানত ধনী ও উচ্চবিত্ত মানুষরাই পার্সিয়ান কার্পেট কিনতেন। তবে গত এক দশকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কার্পেট ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন গৃহসজ্জার অংশ হিসেবে কার্পেট কিনছেন।বৈশ্বিক পর্যায়েও ইরানের কার্পেট শিল্প ভয়াবহ পতনের মুখে পড়েছে। তিন দশক আগে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, সেখানে তা বর্তমানে ৪০ মিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।ইরানের চেম্বার অব কমার্সের কার্পেট ও হস্তশিল্প কমিশনের চেয়ারম্যান মরতেজা হাজি আগামিরি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইরান ফোকাসকে বলেন, গত ছয় বছর ধরে রপ্তানি ১০০ মিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। তিনি এটিকে কার্যত শূন্যের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি তাদের আন্তর্জাতিক বাজার হারিয়েছে।বাজারে প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত, তুরস্ক এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশ ইরানি নকশার কার্পেট উৎপাদন করছে।ইরানি কার্পেট ব্যবসায়ী হামেদ নবিজাদেহ জানান, ইরান এখন নিজ দেশেও বিদেশি কার্পেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়েছে। ভারত, তুরস্ক এবং চীন থেকে আমদানি করা কার্পেট স্থানীয় বাজারেও বিক্রি কমিয়ে দিচ্ছে।চীন, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান কম খরচে ইরানি ডিজাইনের কার্পেট তৈরি করছে। তারা বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে বাংলাদেশে, দামের প্রতি সংবেদনশীল ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
তথ্যের ভিড়ে সত্য খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস মানুষকে একটু থেমে ভাবতে, দেখে-শুনে যাচাই করতে ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে প্রমাণ দিয়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে।আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস ২ এপ্রিল। এই দিনের মূল বার্তা-ফ্যাক্ট-চেকিং খুবই জরুরি। যদিও এই দিনটি বছরে একদিন পালিত হয়, কিন্তু আসলে এটি সারা বছর প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত।পাড়ার গল্প থেকে ভাইরাল ভিডিও—এখন তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই কিছু শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবসের ইতিহাসআন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস প্রথম শুরু হয় ২০১৬ সালে। এর লক্ষ্য ছিল সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। সাংবাদিক, শিক্ষক, সরকার, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সাধারণ মানুষ সবাই এই দায়িত্বের অংশ। এই উদ্যোগটি একটি বৈশ্বিক ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শুরু হয়, যা তথ্য যাচাইয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করে। এই দিবসটি ২ এপ্রিল পালন করা হয়, যা ১ এপ্রিলের পরের দিন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়, এপ্রিল ফুলের মজা শেষ হলে এখন সময় তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করার।বর্তমানে তথ্য খুব দ্রুত ছড়ায়। আগে গুজব সীমিত থাকলেও এখন তা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক সময় দ্রুততা ও আবেগকে গুরুত্ব দেয়, যা সঠিক যাচাইয়ের পথে বাধা হতে পারে। এই কারণে এখন অনেক সাংবাদিক, গবেষক ও সংস্থা ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের কাজে যুক্ত।এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাক্ট-চেকিং শুধু বিশেষজ্ঞদের কাজ নয়। আমরা সবাই এতে ভূমিকা রাখতে পারি। একজন মানুষ যদি ভুল তথ্য শেয়ার না করে, তাতেই অনেক ক্ষতি কমানো সম্ভব। আবার কেউ ভদ্রভাবে ভুল ধরিয়ে দিলে অন্যরা নতুন করে ভাবতে পারে।ফ্যাক্ট-চেকিং মানে সন্দেহপ্রবণ হওয়া নয়। এটি সত্যকে সমর্থন করা, ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সচেতন আলোচনা গড়ে তোলার একটি উপায়।নতুন প্রযুক্তির কারণে এখন ভুয়া ছবি, অডিও বা ভিডিও তৈরি করা সহজ হয়ে গেছে। তাই তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।লক্ষ্য সবারকে বিশেষজ্ঞ বানানো নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে একটি সহজ অভ্যাস তৈরি করা। যেমন প্রশ্ন করা, আপনি কীভাবে জানেন। এতে সত্য শুধু দেখানোর বিষয় না হয়ে বাস্তবভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটি কাটাতে রাজধানী থেকে গ্রামে আসা ও চরফ্যাশন উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নেমেছে মেঘনা নদীর কোলঘেঁষা প্রশান্তি পার্কে। ঈদের চতুর্থ দিনেও সেখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে ছুটে এসেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজতে।বিশেষ করে দুপুরের পর ভিড় বেড়ে যায়। পার্কের ভেতরে আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নদীর তীরে বসে অনেকেই উপভোগ করেছেন শীতল বাতাস আর মেঘনার শান্ত জলরাশি।কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। পার্কিং সংকট, খাবারের দোকানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং টয়লেট ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ঈদের চতুর্থ দিনে মেঘনার তীরে অবস্থিত প্রশান্তি পার্ক পরিণত হয়েছে আনন্দ-উৎসবের এক মিলনমেলায়। প্রকৃতি আর অবকাশের টানে মানুষের এই আগমন প্রমাণ করে, নগর জীবনের কোলাহল থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এমন খোলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।দর্শনার্থীরা বলেন, 'ঈদের ব্যস্ততার পর একটু খোলা জায়গায় সময় কাটাতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো লাগছে। বাচ্চারাও খুব আনন্দ করছে।
দেশের বৃহত্তম অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘৪.৪ সামার সেল’। গ্রীষ্মের এই মৌসুমে গ্রাহকদের জন্য সেরা ডিল এবং সাশ্রয়ী কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতেই এই বিশেষ ক্যাম্পেইন। আগামী ৩ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে এই সেল চলবে ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত। সীমিত সময়ের এই ক্যাম্পেইনে থাকছে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট, নামী ব্র্যান্ডের সাথে কোলাবরেশন এবং দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন অনলাইন শপিংয়ের সুযোগ।গ্রীষ্মকালীন কেনাকাটার চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো এই ক্যাম্পেইনে থাকছে ফ্ল্যাশ সেল এবং মেগা ডিল, যেখানে গ্রাহকরা পাবেন ৮০% পর্যন্ত বিশাল ছাড়। এছাড়াও থাকছে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়ের ‘হট ডিলস’। কেনাকাটাকে আরও সহজ করতে নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর থাকছে ফ্রি ডেলিভারি এবং ডেলিভারি ডিসকাউন্ট। ফ্যাশন, ইলেকট্রনিক্স, এফএমসিজি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড বিউটি এবং লাইফস্টাইলসহ সব ক্যাটাগরিতেই থাকছে সাশ্রয়ী মূল্যের চমৎকার সমন্বয়।ক্যাম্পেইনের শুরুতেই গ্রাহকদের জন্য থাকছে বিশেষ ‘ফ্ল্যাশ ভাউচার’। ৩ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কেনাকাটায় গ্রাহকরা ৫০০ টাকা পর্যন্ত ৯% ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও ঐদিন রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকছে একটি বিশেষ উইন্ডো, যেখানে ৯% ছাড়ে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ক্যাম্পেইনের শুরুতেই গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সঞ্চয় নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে দারাজ তার ‘এভরিডে লো প্রাইস’ (ইডিএলপি) বা ‘দারাজ চয়েস’ চ্যানেলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। দারাজ চয়েস থেকে গ্রাহকরা ‘৩টি পণ্য কিনলে ডেলিভারি ডিসকাউন্ট’ এবং ‘৫টি পণ্য কিনলে ১টি ফ্রি গিফটসহ ডেলিভারি ডিসকাউন্ট’ অফারটি উপভোগ করতে পারবেন। এর ফলে পরিবারগুলো কোনো বড় সেলের অপেক্ষা না করেই সাশ্রয়ী মূল্যে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে।ক্যাম্পেইন চলাকালীন প্রতিদিনের কেনাকাটাকে আরও আনন্দদায়ক করতে দারাজে থাকছে থিম-ভিত্তিক শপিং ডে। এর মধ্যে রয়েছে চয়েস ডে (শনিবার), ফ্যাশন ফরোয়ার্ড ডে (রবিবার ও সোমবার), ইলেকট্রিক্যাল ডে (মঙ্গলবার), বুধবারের বাজার, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস ডে (বৃহস্পতিবার) এবং লাইফস্টাইল কোজি ডে (শুক্রবার)। প্রতিটি দিন নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পণ্যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে এক্সক্লুসিভ ‘ব্র্যান্ড ডে’। ৫ এপ্রিল থাকছে বাটা সুপার ব্র্যান্ড ডে, যেখানে জুতা ও ফ্যাশন পণ্যে থাকবে বিশেষ ছাড়। এছাড়া ৬, ৭ এবং ৮ এপ্রিল যথাক্রমে ইমামি, সার্ফ এক্সেল এবং হেমাস ব্র্যান্ড ডে পালিত হবে, যেখানে ব্র্যান্ডগুলোর জনপ্রিয় পণ্যে থাকবে আকর্ষণীয় অফার।এবারের ৪.৪ সামার সেলের সাথে যুক্ত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো। এক্সক্লুসিভ প্ল্যাটিনাম পার্টনার হিসেবে থাকছে ডেটল এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে থাকছে প্যারাসুট ন্যাচারাল এবং হিমালয়া। সিলভার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইমামি এবং গোদরেজ, যা গ্রাহকদের বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের পণ্য বেছে নেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে।পেমেন্ট পার্টনারদের মাধ্যমে কেনাকাটাকে আরও সাশ্রয়ী করতে দারাজ দিচ্ছে বিশেষ সুবিধা। ইবিএল-দারাজ কো-ব্র্যান্ড কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকরা ১৫% পর্যন্ত সেভিংস উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও নগদ, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি-র পেমেন্ট পার্টনারদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় অফার। নির্দিষ্ট ব্যাংকের কার্ডে ৬ মাস পর্যন্ত ০% ইএমআই সুবিধা এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য ১২ মাস পর্যন্ত ০% ইএমআই সুবিধা থাকছে।দারাজ বাংলাদেশ দেশের সকল গ্রাহককে এই সীমিত সময়ের ৪.৪ সামার সেলে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন দারাজ ৪.৪ ক্যাম্পেইন পেজ অথবা ডাউনলোড করুন দারাজ অ্যাপ। রিয়েল-টাইম আপডেটের জন্য দারাজ বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোতে চোখ রাখুন।
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের ভাড়া বাসা থেকে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।নিহত সীমান্তের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন। তিনি হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করতেন।নিহতের চাচা রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত ওই বাসায় সাবলেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার রুমমেটের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত রাত নয়টার পর থেকে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন সীমান্ত। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, সীমান্ত আর বেঁচে নেই।রুহুল আমিন আরও জানান, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ আসছিল। এতে তাদের ধারণা, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন তিনি এই কাজটি করেছেন, সে বিষয়ে স্বজনরা কিছু জানেন না।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।