প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।প্রশ্নে আবুল কালাম জানতে চান, সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তাসহ জনস্বার্থে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনাগুলো কী?জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’মাঠ প্রশাসনের জন্য দেওয়া অন্যান্য নির্দেশনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ছাড়া নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে।’প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেবা প্রদানব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে হবে। আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’সরকারি সেবা প্রদানব্যবস্থা যেন হয়রানিমুক্ত, বিলম্বমুক্ত ও স্বচ্ছ থাকে, সে জন্য কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি মৌসুমের গত ৮৭ দিনে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৬৩৯ শিশুর প্রাণহানি ঘটল।বুধবার (১০ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮৭ দিনে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৭ জনে এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯২ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৮ শিশু মারা গেছে তাদের মধ্যে ঢাকায় ৬ জন এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা) সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৪৫ জন, যাদের মধ্যে ৮২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৯৪ জন। সব মিলিয়ে গত ৮৭ দিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে। এদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৯৯০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৯২৭ জন। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ৮৫৩ জনসহ এখন পর্যন্ত মোট ৬৩ হাজার ১৪৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব কেন সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় নারী সংসদ সদস্যদের দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের সংবিধান বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনি এলাকা নেই। ফলে দলীয় ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে তাদের জন্য দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।প্রশ্নকারী সংসদ সদস্য বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে—সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় নারী সংসদ সদস্যদের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ডিও লেটার ইস্যুর সুযোগও তাদের দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এতে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা ও অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তাই দলীয় কাঠামোর আওতায় তাদের কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।তিনি বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে প্রত্যেকেরই নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার অধিকার রয়েছে। একইভাবে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।সরকার প্রধান আরও বলেন, সরকার প্রচলিত নিয়ম ও কাঠামোর মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।বিরোধীদলীয় সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উন্নয়ন সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতা প্রয়োজন হলে সরকার তা বিবেচনা করবে।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে চলতি বছরের জুন-আগস্ট সময়ের জন্য প্রায় ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসোলিন।বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করবে।অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্যাকেজ নং-পি জি-০১-এর আওতায় গ্যাস অয়েল (০.০০৫ শতাংশ সালফার) ও জেট এ-১ আমদানি করা হবে।এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। একই ধরনের গ্যাস অয়েল ও জেট এ-১ আমদানির জন্য প্যাকেজ নং-পি জি-০২-এর আওতায় আনুমানিক ৬ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্যাকেজের দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।এ ছাড়া প্যাকেজ নং-পি জি-০৩-এর আওতায় ফার্নেস অয়েল (১৮০ সিএসটি) আমদানির জন্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এই তেল সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরের আরেক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড।বৈঠকে প্যাকেজ নং-পি জি-০৪-এর আওতায় গ্যাসোলিন-৯৫ আনলেডেড আমদানির জন্য ৭৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ চালানের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও হচ্ছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।সব মিলিয়ে চারটি প্যাকেজের আওতায় মোট ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির পথ খুলে গেল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বড় ক্রয় আদেশ পাচ্ছে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর, যার মূল্য প্রায় ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা।
বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খানকে সভাপতি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কাজী রফিকুল ইসলাম, মাইনুল ইসলাম খান, ফখরুল ইসলাম, শওকতুল ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম ও রাশেদুল ইসলাম।সংসদ নেতা তারেক রহমানের অনুমতিক্রমে তার পক্ষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। পরে এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী ও টেকসই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ আর্থিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাবমুক্ত রেখে পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনায় রাজনীতির পরিবর্তে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।বুধবার (১০ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম শর্ত হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা। কিন্তু অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংক রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থাকতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হবে। কিন্তু পরবর্তীতে গভর্নর নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কও অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাজনৈতিক রূপ পেয়েছে। কোনো ব্যাংকে আর্থিক অনিয়ম বা সুশাসনের ঘাটতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। কিন্তু বিষয়টিকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ দেওয়া হচ্ছে।তার মতে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি ব্যাংককে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আলোচনা হলেও দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে।মাওলানা গাজী বলেন, ইসলামী ব্যাংককে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচালিত হতে দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষা বা নির্বাচনি অর্থায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাংক ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের আর্থিক খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সীমান্তে পুশইনের মতো বহুমাত্রিক সমস্যা দেশের সামনে বিদ্যমান।এমন বাস্তবতায় একটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে সময় ব্যয় না করে জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা।
জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া রামরামপুর ১০৮২ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় ভারতীয় এক নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।এদিকে সীমান্তে পুশ-ইনের ঘটনা ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ জনগণও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তবাসীর দাবি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের পুশ-ইনের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরিতে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ মাঠে নামাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।বুধবার (১০ জুন) থেকে রাজধানী মতিঝিল এলাকায় (৯নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।ডিএসসিসি বলছে, আছি বাংলাদেশ (American Affordable Community Healthcare Initiative)-এর অর্থায়নে আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদী এই প্রকল্পে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন। পরবর্তীতে পুরো শহরে এই প্রকল্প একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এদিন নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।উদ্বোধনকালে প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ।তিনি বলেন, শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। আজ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সমগ্র নগরের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।আবদুস সালাম বলেন, সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা।তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। রোগব্যাধি প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নগরবাসীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলাবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধিবৃন্দ, সিটি ইন্সপেক্টরবৃন্দ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।সিটি ইন্সপেক্টররা যা করবেনসিটি করপোরেশন জানায়, পাইলট প্রকল্পের আওতায় মতিঝিল এলাকাকে ১০টি জোনে বিভক্ত করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।তারা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।পাশাপাশি তারা নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলাসহ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিক চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচার করা হবে।ডিএসসিসি জানায়, মতিঝিল ৯নং ওয়ার্ড একটি আদর্শ ওয়ার্ড পরিণত হলে পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পেয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৩-০ গোলে আইসল্যান্ডকে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তারা।আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ এক ভলি শট নেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বারকো। মাটি ঘেঁষে নেওয়া তার শটটি আইসল্যান্ডের গোলপোস্টের ভেতরের কোণ দিয়ে সরাসরি জালে জড়ায়। পুরো ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক। চমৎকার এই গোলটিতেই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। গোলটি দেখে, উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনার সাইডবেঞ্চ। এই এক গোলের লিডে থেকেই বিরতিতে যায় স্কালোনির দল। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে মাঠে নামেন মহাতারকা লিও। মাঠে নামার ৫ মিনিট পরই সফল স্পট কিকে দলকে ২-০ গোলের লিড এনে দেন লিও। তবে, স্পট কিকের পূর্বে লাউতারোকে দারুণ এক পাস দিয়েছিলেন মেসি। সেই পাসে গোলও হতেই যেতো, তবে, আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক ফাউল করে গোলটি থামিয়ে দেন।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে মোসাদ্দেক হোসেনের ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ গড়েছিল টাইগাররা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লাল-সবুজের দলের বোলারদের সামনে সুবিধা করে ওঠতে পারেননি অজি ব্যাটাররা। ৪৭ রান করে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা আশা দেখালেও নাহিদ রানা-মোসাদ্দেকদের বোলিং নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত অল আউটের দিকেই ঝুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকরা যখন জয় থেকে মাত্র ১ উইকেট দূরে তখনই বাগড়া দেয় বৃষ্টি। এরপর খেলা এক ঘন্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশকে ৮৬ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছে ২০০৫ সালে। ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ।স ২০০৫ সালের সেই জয়টি এসেছিল কার্ডিফে।সেরপর এবারই প্রথম আবার এই সংস্করণে জয়ের মুখ দেখল টাইগাররা। তাই দেশের মাটিতেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়। ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে অজিরা। তাসকিন আহমেদের ফুল লেন্থে করা বল বুঝে ওঠতে পারেনি অজি ওপেনার শর্ট। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন। উইকেট হারানোর ধারা অব্যাহত থাকে দ্বিতীয় ওভারেও। এবার নায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। অজিদের অভিজ্ঞ ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। কাটার মাস্টারের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন তিনি। দ্বিতীয় ওভারেই ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অজিরা। এরপর দলের হাল ধরেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। দুজনে মিলে টাইগার বোলারদের বিপক্ষে দেখেশুনে খেলে দলকে এগিয়ে নেন সামনের দিকে। এ জুটিতে ৪৯ রান তুলে আশার আলো দেখছিল অজিরা। তবে জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে আবার ব্রেক থ্রু এনে দেন নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন অজি অধিনায়ক ইংলিস। ফেরার আগে তিনি করেন ২৫ বলে ১৯ রান। এদিকে ইংলিস ফেরার পর অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে দলের হাল ধরেন কনোলি। এ জুটিতেও স্কোরবোর্ডে ওঠে ৪০ রান। তবে ৫০ বলে ৩৫ রান করে কনোলি মোসাদ্দেকের বলে বোল্ড হলে ভাঙে জুটি। এরপর ক্যারি জুটি গড়েন ক্যামেরনের গ্রিনের সঙ্গে। দুজনের ৩৭ রানের জুটিতে ম্যাচের ফেরার চেষ্টায় ছিল অজিরা। কিন্তু নাহিদ রানার বলে ক্যারি ফিরলে ফের উইকেট হারায় অজিরা। ১২৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় সফরকারীরা। এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। গ্রিন একপ্রান্তে টিকলেও অপরপ্রান্তে মোসাদ্দেক ম্যাট রেনশো এবং পরে রানা জাভিয়ের বার্টলেট ও লিয়াম স্কটকে সাজঘরের পথ দেখান। এদিকে অজিদের শেষ ভরসা হয়ে ক্রিজে টিকে ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। ৬৬ বলে ৫২ রান করে ক্রিজে ছিলেন তিনি, এমন সময়ই বজ্রপাতের কারণে বন্ধ হয় খেলা। এরপর মিরপুরে বৃষ্টি নামলে এক ঘন্টা পর ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে ৮৬ রানে।
বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খানকে সভাপতি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কাজী রফিকুল ইসলাম, মাইনুল ইসলাম খান, ফখরুল ইসলাম, শওকতুল ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম ও রাশেদুল ইসলাম।সংসদ নেতা তারেক রহমানের অনুমতিক্রমে তার পক্ষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। পরে এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী ও টেকসই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ আর্থিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাবমুক্ত রেখে পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনায় রাজনীতির পরিবর্তে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।বুধবার (১০ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম শর্ত হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা। কিন্তু অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংক রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থাকতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হবে। কিন্তু পরবর্তীতে গভর্নর নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কও অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাজনৈতিক রূপ পেয়েছে। কোনো ব্যাংকে আর্থিক অনিয়ম বা সুশাসনের ঘাটতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। কিন্তু বিষয়টিকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ দেওয়া হচ্ছে।তার মতে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি ব্যাংককে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আলোচনা হলেও দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে।মাওলানা গাজী বলেন, ইসলামী ব্যাংককে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচালিত হতে দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষা বা নির্বাচনি অর্থায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাংক ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের আর্থিক খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সীমান্তে পুশইনের মতো বহুমাত্রিক সমস্যা দেশের সামনে বিদ্যমান।এমন বাস্তবতায় একটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে সময় ব্যয় না করে জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি-চৌমুহনী এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ড্রাইভার ভিউ ফিলিং স্টেশন-এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কুমিল্লা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. সামস তাবরেজের প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে।অভিযান চলাকালে ফিলিং স্টেশনের অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল—এই তিনটি পাম্পের পরিমাপ পরীক্ষা করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, ডিজেল পাম্পের মেশিন রিডিং অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলে নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার (টলারেবল লেভেল) চেয়ে কম জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছিল।এ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইনে মেসার্স ড্রাইভার ভিউ ফিলিং স্টেশন-কে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পরে আরোপিত জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পেয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৩-০ গোলে আইসল্যান্ডকে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তারা।আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ এক ভলি শট নেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বারকো। মাটি ঘেঁষে নেওয়া তার শটটি আইসল্যান্ডের গোলপোস্টের ভেতরের কোণ দিয়ে সরাসরি জালে জড়ায়। পুরো ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক। চমৎকার এই গোলটিতেই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। গোলটি দেখে, উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনার সাইডবেঞ্চ। এই এক গোলের লিডে থেকেই বিরতিতে যায় স্কালোনির দল। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে মাঠে নামেন মহাতারকা লিও। মাঠে নামার ৫ মিনিট পরই সফল স্পট কিকে দলকে ২-০ গোলের লিড এনে দেন লিও। তবে, স্পট কিকের পূর্বে লাউতারোকে দারুণ এক পাস দিয়েছিলেন মেসি। সেই পাসে গোলও হতেই যেতো, তবে, আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক ফাউল করে গোলটি থামিয়ে দেন।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবরটি নিজেই নিশ্চিত করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলো করে এলো নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ পোস্টে এই সুখবরটি শেয়ার করেছেন বুবলী। তাদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন শারলিন খান। পোস্টে একটি কার্ড প্রকাশ করেন বুবলী, তা থেকে বোঝা যায়, গত ১১ মে তাদের এই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কার্ডে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা-মা হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে।পোস্টে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।উল্লেখ্য, বুবলী-শাকিবের ঘরে রয়েছে আরও এক সন্তান- শেহজাদ খান বীর। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন নায়ক। এর মাস ছয়েক পর গুঞ্জন ওঠে, সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বুবলী। তাদের ভক্তরাও কার্যত দিনক্ষণ গুনছেন- কবে ভূমিষ্ঠ হবে তাদের সন্তান। অবশেষে কন্যা সন্তান আসার খবরের মাঝে এলো এই সুসংবাদ।
বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।ভারতের দিল্লি শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হাসিবুর রেজা কল্লোল নির্মাতা, সংগঠক এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রযোজনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।পরিচালক হিসেবে তাঁর নির্মিত সত্তা চলচ্চিত্রটি ব্যাপক আলোচিত হয় এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি চ্যানেল নাইন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।প্রতিক্রিয়ায় হাসিবুর রেজা কল্লোল বলেন, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবার (১ জুন) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায়। এর প্রেক্ষিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করায় প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হয়।একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দুটি ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, আল মাহমুদসহ অসংখ্য গুণীজনের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি। বছরের পর বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সাংস্কৃতিক চর্চায় অনবদ্য অবদান রেখে আসছেন এ জেলার কৃতিসন্তানরা। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদর্শনের অনুমতিপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে এর প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান। নিজ জন্মভূমিতে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।আমরা চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমরা সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল চলচ্চিত্রধারার পক্ষে। চলচ্চিত্র দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা, দেশপ্রেম, বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জনগণের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের অনুমতি নিয়েই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রটি জনসমক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর কন্যাসহ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন, যা চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। এমন বাস্তবতায় চলচ্চিত্রের প্রতি কারও বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।আমরা সকলের মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো মহলবিশেষের অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”বিবৃতিদাতারা হলেন--১. সাংবাদিক আবদুন নূর, আহ্বায়ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র; অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া, সদস্যসচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।২. নীহাররঞ্জন সরকার, সাধারণ সম্পাদক, খেলাঘর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৩. জহিরুল ইসলাম, সভাপতি, উদীচী জেলা সংসদ; ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী জেলা সংসদ।৪. অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, সভাপতি, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি; অধ্যাপক মাসুদ-উর-রহমান, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি।৫. শোভা সেন, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা; সাথী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৬. হাবিবুর রহমান পারভেজ, জেলা পরিচালক, আবরণী; শারমিন সুলতানা, সহকারী পরিচালক, আবরণী।৭. হুমায়ুন কবির, সভাপতি, কবির কলম; আব্দুল মতিন শিপন, সাধারণ সম্পাদক, কবির কলম।৮. ডা. প্রেমানন্দ দাস, সংগঠক, চারণ।৯. ফাহিম মুনতাসির, সভাপতি, সোনালি সকাল; সানিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, সোনালি সকাল।১০. মুস্তাফা জাফরি হামিম, জেলা সভাপতি, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন; সর্পা মিত্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন।
স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসহ দেশজুড়ে ১০৩ প্রেক্ষাগৃহে একযোগে চলছে মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত সিনেমা‘রকস্টার’। আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মেগাস্টার শাকিব খানের ‘রকস্টার’। ঈদের দিন থেকেই দেশজুড়ে ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এই সিনেমা। মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলা শহরের সিংগেল স্ক্রিন- সব মিলিয়ে বড় পরিসরেই দর্শকের সামনে আসছে ছবিটি। আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’-এ এক রকস্টারের উত্থান, খ্যাতি, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও পতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েক। মুক্তির আগে গান, পোস্টার ও প্রচারণায় আলোচনায় আসে সিনেমাটি। ঈদের হাফ ডজন ছবির ভিড়েও ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দেশজুড়ে সিনেমাটির হল বণ্টনের তালিকায় চোখে পড়ছে বড় পরিসরের উপস্থিতি। রাজধানী ঢাকায় ‘রকস্টার’ চলছে স্টার সিনেপ্লেক্সের সবকটি শাখায়— বসুন্ধরা সিটি, এসকেএস টাওয়ার (মহাখালী), সীমান্ত সম্ভার, সনি স্কয়ার (মিরপুর), মিলিটারি মিউজিয়াম ও উত্তরা সেন্টার পয়েন্টে। এছাড়া যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাস, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, টঙ্গীর সাবা সোহানা সিনেপ্লেক্স এবং নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
এবার ঈদে বেশ কয়েকটি চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন নন্দিত মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ। ওয়েব ফিল্ম সারার সংসারে অভিনয় এবং ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ঈদ আনন্দমেলার নাচ পরিবেশনের পর এবার নতুন খবর,মিউজিক ভিডিওতেও দেখা মিলবে তার। ‘পেনসিল হিল’ শিরোনামের এই গানচিত্রটি পরিচালনা করেছেন শোয়েব আহমেদ। গানটি গেয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আলতাফ। একই সঙ্গে তিনি গানটির কথা লিখেছেন এবং সুরও করেছেন। মিউজিক ভিডিওতে মৌয়ের সঙ্গে মডেল হিসেবে দেখা যাবে গায়ককেও। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ আশ্রয়ের দিন শেষ: খামেনিমধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ আশ্রয়ের দিন শেষ: খামেনিনতুন কাজটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মৌ বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ‘আমার গরুর গাড়িতে’ গানের মিউজিক ভিডিওতে জাহিদ হাসানের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলাম। এখন মিউজিক ভিডিওর ধরন পাল্টেছে। প্রচুর মিউজিক ভিডিও হচ্ছে। অনেক প্রস্তাব পাই; কিন্তু করা হয়ে ওঠে না। আসিফ আলতাফ যখন জানালেন ‘পেনসিল হিল’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে আমাকেই লাগবে। নাম শুনে বেশ আগ্রহ হলো। গানটা শুনলাম। খুব ব্যতিক্রমী একটা গান। আধুনিক জীবনের বিষাদ ফুটে উঠেছে গানে। রাজি হয়ে গেলাম। স্বজনদের টানে ঈদের ছুটিতে শহর ছাড়ার হিড়িকস্বজনদের টানে ঈদের ছুটিতে শহর ছাড়ার হিড়িকজানা গেছে, আগামীকাল বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় গানচিত্রটি আসিফের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে চলতি বছরের জুন-আগস্ট সময়ের জন্য প্রায় ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসোলিন।বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করবে।অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্যাকেজ নং-পি জি-০১-এর আওতায় গ্যাস অয়েল (০.০০৫ শতাংশ সালফার) ও জেট এ-১ আমদানি করা হবে।এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। একই ধরনের গ্যাস অয়েল ও জেট এ-১ আমদানির জন্য প্যাকেজ নং-পি জি-০২-এর আওতায় আনুমানিক ৬ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্যাকেজের দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।এ ছাড়া প্যাকেজ নং-পি জি-০৩-এর আওতায় ফার্নেস অয়েল (১৮০ সিএসটি) আমদানির জন্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এই তেল সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরের আরেক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড।বৈঠকে প্যাকেজ নং-পি জি-০৪-এর আওতায় গ্যাসোলিন-৯৫ আনলেডেড আমদানির জন্য ৭৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ চালানের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও হচ্ছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।সব মিলিয়ে চারটি প্যাকেজের আওতায় মোট ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির পথ খুলে গেল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বড় ক্রয় আদেশ পাচ্ছে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর, যার মূল্য প্রায় ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ হামলায় অন্তত ৪ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এ সময় নিহত হয়েছে ভারতীয় এক নাগরিক।বুধবার রাতে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাদের খোঁজ নিচ্ছে।বিবৃতিতে কুয়েতে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে দুর্ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রকেট বা ড্রোন হামলা এবং সেগুলো প্রতিহত করার দৃশ্য ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।একইসঙ্গে ওইসব ভিডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করতেও বলা হয়েছে। কুয়েতের আইন অনুযায়ী, এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।এ পরিস্থিতিতে কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা রক্তদানে সক্ষম, তাদের জরুরি ভিত্তিতে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্ত দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
দেশের দ্রুত বিকাশমান এফোর্টেবল রিটেইল ক্লথিং ব্র্যান্ড লাইভ শপিং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আইএসও ৯০০১: কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (কিউএমএস) সনদ অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালন ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আশিক খান এ অর্জনের বিষয়ে বলেন, “আমরা এখন একটি আইএসও সার্টিফাইড কোম্পানি। যখন অনেকেই শুধু ব্যবসা পরিচালনা করে, তখন আমরা ব্যবসাকে একটি সুসংগঠিত সিস্টেমে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করি। আমাদের বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদি সফলতার জন্য মানসম্পন্ন প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির কোনো বিকল্প নেই।”আইএসও ৯০০১ হলো বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (কিউএমএস) মানদণ্ড, যা কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রাহককেন্দ্রিক করে তুলতে সহায়তা করে। এই সনদ অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালন কাঠামো, নীতিমালা, প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনা এবং ক্রমাগত উন্নয়নের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়।লাইভ শপিং কর্তৃপক্ষ জানায়, আইএসও ৯০০১ সনদ অর্জনের ফলে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে এবং গ্রাহকদের জন্য সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি অংশীদার, বিনিয়োগকারী এবং গ্রাহকদের কাছে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে লাইভ শপিংয়ের এই অর্জন প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও গ্রাহক সন্তুষ্টি, সেবার উৎকর্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যবসায়িক চর্চা নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’