রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্যে আগামীকাল রোববার ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের একটি সভাও আহ্বান করা হয়েছে।আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত জানিয়েছে, ‘নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে আগামীকাল ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের উক্ত বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।’বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বৈঠকে দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।’
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবেন।শনিবার (৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। আবার কারও আপনজন এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাদের নিজেদের বা আপনজনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশের মানুষ একটি মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন।তিনি বলেন, দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।১০ শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্য পেলেন নিয়োগপত্রঅনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী।এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তারও চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন।সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্না। অনুষ্ঠানে এসে তারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
সরকার কর্তৃক পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগকে ‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, ‘রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া অধিকার ভেঙে প্রতিযোগিতা তৈরির নামে শেষ পর্যন্ত কয়েকটি প্রভাবশালী বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে জ্বালানির বাজার তুলে দেওয়া হতে পারে।’আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রতিক্রিয়া জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।রাষ্ট্রীয় একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং সীমিত মজুত সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি। তিনি বলেন, যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় বেসরকারি কোম্পানিকে রাষ্ট্র কীভাবে নির্দেশ দেবে। অলাভজনক দুর্গম এলাকায় জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্বও বেসরকারি কোম্পানি নেবে কি?গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাত সংস্কারের বদলে এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার খরচ শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে। তাঁর মতে, ‘এটি সংস্কার নয়, এটি হস্তান্তর। এটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স।’বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাম কমবে—সরকারের এমন যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তাঁর যুক্তি, ‘এ ব্যবসায় গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন ও বিপুল ব্যাংকিং সক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে বাস্তবে হাতেগোনা কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীই এ বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা রাখে। এতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে বেসরকারি একচেটিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি যথাক্রমে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা লোকসান করেছিল।’জামায়াতে ইসলামীর এ নেতার দাবি, বর্তমান জ্বালানিসংকটও বিপিসির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা নয়। এটি মূলত বিশ্ববাজার ও ভূরাজনৈতিক সংকটের ফল।বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে দাম না বাড়ানোর কারণে বিপিসি প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বলে জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন বলে পরওয়ার উল্লেখ করেন।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরকার তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে, ‘এতে বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ কমে গিয়ে দরদাতা সংকট, বেশি দাম ও সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’পরওয়ার বলেন, দ্রুততা আর স্বচ্ছতা পরস্পরবিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার নামে স্বচ্ছতাই বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বাজার কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে গেলে প্রতি লিটারে সামান্য বাড়তি মুনাফাও বছরে হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আয়ে পরিণত হতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে ৬টি দাবি পেশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করা, খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে জনমত গ্রহণে ৬০ দিনের সুযোগ দেওয়া, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানি, বেসরকারিকরণের বদলে বিপিসির সংস্কার—স্বাধীন নিরীক্ষা; বোর্ডে পেশাদার নিয়োগ; ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে আমদানি মূল্য ও পরিমাণ প্রকাশ করা, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট ও কৌশলগত মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা খর্বের সব সুপারিশ প্রত্যাহার।
পানিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে চব্বিশের জুলাইয়ে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো তেমনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।৮ আগস্ট শনিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ(আইইবি) মিলনায়তনে আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আলোচনা সভা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক বিজয়। নিরপেক্ষ নির্বাচন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জন্য বিএনপি ধারাবাহিকভাবে ১৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছিলো।আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৩৬ জুলাই ছাত্র- জনতার ঐতিহাসিক বিজয় আসে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পাশ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন জুলাই কোনো দলের একক কৃতিত্ব নয়, জুলাই হচ্ছে এদেশের জনগণের। জুলাইয়ের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার মনে করিয়ে দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, জুলাই প্রশ্নে কোনো আপোষ নয়। বাংলাদেশে আর কখনোই ফাসিবাদ কায়েম হবে না, কাউকে গণতন্ত্র হত্যা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার ব্যাপারে গণতন্ত্রকামী জনগণকে সতর্ক থাকারও আহ্বান করেন মন্ত্রী। এসময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ। এছাড়াও জুলাই সংগঠক হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড়. মোঃ গোলাম রব্বানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবিদুল ইসলাম আবিদকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ উদ্দিন বকুল।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ হেলাল উদ্দিন তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন, রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু, আইইবি সাধারণ সম্পাদক ও ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. সাব্বির মোস্তফা খান প্রমুখ।
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চায়না-বাংলাদেশ সিরামিকস অ্যানুয়াল কনফারেন্স ২০২৬’।বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন -বিসিএমইএ ও চীনের ফোশান ইউনিসেরামিকস এক্সপোর যৌথ আয়োজনে শনিবার ঢাকার লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘এমপাওয়ারিং টেকনোলজি, উইনিং টুমরো টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সিরামিক শিল্পের উদ্যোক্তারা অংশ নেন।অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিসিএমইএর মহাসচিব ও ফার সিরামিকস লিমিটেডের পরিচালক ইরফান উদ্দিন বলেন, আধুনিক যুগে শিল্পের অগ্রগতি অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সিরামিক শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ইউনিসিরামিকস চীনের ওভারসিজ বিজনেস ডিপার্টমেন্টের ব্যবস্থাপক ইভা চ্যান বাংলাদেশের সিরামিক বাজারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু সিরামিক পণ্যের ব্যবহার প্রায় এক বর্গমিটার, যেখানে চীনে সর্বোচ্চ ব্যবহার ছিল ৬ দশমিক ৯ বর্গমিটার। এ ব্যবধান বাংলাদেশের বাজারে বড় প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে মূল্যনির্ভর প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মান, নকশা ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, চীনা ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিসিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও এক্স সিরামিকস গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ এফসিএমএ বলেন, সিরামিক শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও দ্রুত বিকাশমান উৎপাদন খাত। বাংলাদেশে বিশ্বমানের টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার উৎপাদিত হচ্ছে, যা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিএমইএর সভাপতি ও মন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনটি শুধু একটি সম্মেলন নয়, বরং দুই দেশের শিল্প খাতের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম। শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য চীনের উৎপাদন দক্ষতা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বৈদ্যুতিক কিলন ও হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ হিটিং সিস্টেমের মতো বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিসিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও এক্সিলেন্ট সিরামিকস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হাকিম সুমন সমাপনী বক্তব্যে শিল্পে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তিসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে শিল্পের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানান।উদ্বোধনী পর্ব শেষে চীনা প্রতিনিধি ও সম্মেলনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।পরে ‘টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ইন ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড বাংলাদেশ মার্কেট পটেনশিয়াল’ শীর্ষক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিএমইএর সহ-সভাপতি ও মন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রশীদ মায়মুনুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আকিজ সিরামিকস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।কারিগরি অধিবেশনে আলোচক হিসেবে ছিলেন আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, গুয়াংডং ডিংহে সুপারহার্ড টুলসের এক্সপোর্ট ম্যানেজার জর্জ ইয়াং, ঝাওকিং জিনমা লিডিং ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সেলস ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ জুবায়ের এবং রেনচিউ কাংজি স্যানিটারি ওয়্যারের সেলস ম্যানেজার জ্যাক মা।অধিবেশনে মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফোশান পারপেচুয়াল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড এবং জিবো ভ্যানট্রন কেমিক্যাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের বিশেষায়িত উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। নেটওয়ার্কিং সেশন ও বিসিএমইএর পরিচালক এবং হুয়া থাই সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক (জিকো)-এর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন; সরকারি দলের নেতারা বার বার বলছেন তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনাদের ঘোষিত ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করাই কি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালনের নমুনা? তিনি সভায় বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখার ১ম দফা পাঠ করে শোনান, যাতে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পথ পরিহার করার বলা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আলোচনা সভায় মঞ্জু হবিগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় কিশোর ছাত্র আলিফের চোখ উৎপাটন এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসায় হামলা করতে গিয়ে জানালার কাঁচ ভাংচুরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সামান্য রাজনৈতিক সমলোচনার বিরুদ্ধে যারা এত আগ্রাসী মনোভাব পোষন করেন তাদের কোন কথারই বিশ্বাস যোগ্যতা নাই। সরকারী দলের নেতাদের নিজেদের প্রতিশ্রুত ৩১ দফা বার বার পড়ার এবং সপ্তাহে অন্ততঃ একবার জুলাই স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় যেই বসে সেই অতীত প্রতিশ্রুতি ভুলে যায় এজন্যই আমরা সবাই মিলে একটা সনদ তৈরি করতে চেয়েছিলাম যাতে ক্ষমতায় যেই যাবে সে এটা রক্ষা করতে বাধ্য হয়, কিন্তু বিএনপি মৌলিক বিষয় গুলোতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে জটিলতা তৈরি করে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ শাসনের দুঃসহ স্মৃতি স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, তারা জুলুম নিপীড়ন করে সকল রাজনৈতিক দলকে দূর্বল করে দিয়েছিল। যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হতো তাহলে দুই মাসের মধ্যে বিএনপিকে নিষিদ্ধ করা হতো বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জাতির প্রত্যাশা শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইউম সোবহানী। সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমদ বীরবিক্রম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা ইজহার প্রমুখ।
রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার অষ্টম গ্রেডের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান সরকার দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে চাকরি করে স্ত্রী ও নিজের নামে ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে গড়ে তুলেছেন একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, গাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চারটি ব্যাংকে মিলেছে কোটি কোটি টাকা লেনদেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কারও আয়ের সাথে যদি অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ থাকে, এ বিষয়গুলো দুদক বা এ ধরণের এজেন্সি খতিয়ে দেখে। তদন্তেই বেরিয়ে আসবে সম্পদ কিভাবে অর্জন করলেন।জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি মায়ার সুপারিশে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন মনিরুজ্জামান। এরপর তৎকালীন ডিজির সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে তার। ডিজির মাধ্যমে পিআইওদের বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং সারা দেশের পিআইওদের বদলি বাণিজ্য করে ওই সময়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন মনিরুজ্জামান সরকার। ২০১১ সালের ৭ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বোদাগঞ্জ উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে অ্যাডহক ভিত্তিতে যোগদান করেন মনিরুজ্জামান সরকার। যোগদানের ছয় মাস পর স্থায়ীভাবে পিআইও পদে নিয়োগ পেয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বদলি হন। কাহারোলে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র ১৫ বছরের চাকরি জীবনে তার বৈধ আয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা হলেও, এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও জেলার ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেনের সঙ্গে মিলেমিশে ভাগবাঁটোয়ারা করে খেতেন প্রকল্পের বিভিন্ন অর্থ, মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে অধিকাংশ অভিযোগ সামাল দিতেন মোতাহার হোসেন।২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স করপোরেশন লিমিটেডের কাছ থেকে মিরপুর রুপনগর মিল্কভিটা রোডে ২৮ (এবিসি হোমস ) ৬ষ্ঠ তলার উত্তর পূর্ব দিকের ১৪৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট ও নিচতলার ১২০ বর্গফুটের একটি কারপার্কিংসহ ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার দলিল নম্বর- ১১৬১২ ও বাজারমূল্য ২ কোটি টাকা।রংপুর নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় ৭ নাম্বার রোডে ‘জান্নাত’ নামে ৫২ নম্বর তিনতলা আলিশান বাড়ি করেছেন, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকা। রংপুর সদরের কলেজ রোডে মুনিবা ছাত্রাবাস নামে ৩তলা একটি আবাসিক হোস্টেল রয়েছে, যার বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা। রংপুর মহানগর সার্কেল বিনোদপুর মৌজায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ জমি রয়েছে, যার খতিয়ান নম্বর ৯০১, দলিল নং ৩৭১১, বাজারমূল্য ৬০ লাখ টাকা। রংপুর মহানগর সার্কেল আলমনগর মৌজায় ৬ শতাংশ একটি প্লট রয়েছে, যার খতিয়ান নম্বর- ১৬১০০, দলিল নং ৩৭১২/২০১৮। এ সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা।কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মাচাবান্দ মৌজায় ১৮ ও ৪৬ সর্বমোট ৬২ শতাংশ জমি রয়েছে, যার খতিয়ান নম্বর-২২৪৩ দলিল নং-৫৩০,৫৪৫,১১৮২ । এ জমির বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা। কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলায় উলিপুর মৌজায় ৩ শতাংশ জমি রয়েছে, যার খতিয়ান নম্বর-১২৩৮ দলিল নং-১৬০১,২৬৫৩, বাজার মূল্য ১০ লাখ টাকা। স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামে কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলায় সিদ্ধান্ত মালতী বাড়ির মৌজায় ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে, খতিয়ান নাম্বার-২০২৬-১০০০০৭ দলিল নং-৪০৮১/২৫। যার বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা।স্ত্রী আরফাতুন নাহার এর নামে রংপুর বিনোদপুর মৌজায় ৭ শতাংশ একটি প্লট রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর- ১০৭১ । যার বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকা। নিজ এলাকায় আদর্শ গ্রাম ৩ নং থানাহাট ইউনিয়ন,মাচাবান্দা, চিলমারী কুড়িগ্রামে দোতলা বাড়ি করেছেন।এছাড়াও কুড়িগ্রাম শাপলা চত্বরে বাবর টাওয়ারের নিচ তলায় মনিরুজ্জামান কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিশাল ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর বাইরেও কিনেছেন ৬টি মাইক্রোবাস যেগুলো বিভিন্ন রেন্ট-এ-কারের মাধ্যমে ভাড়ায় চলে। নিজে ব্যবহার করেন অর্ধকোটি টাকার গাড়ি।সূত্র মতে, সম্প্রতি তেলের পাম্প ব্যবসায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন মনিরুজ্জামান। এছাড়াও স্ত্রী আরফাতুন নাহারের বড় ভাই রায়হানের নামে বাড়ি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরেও নামে, বেনামে ঢাকা,রংপুর ও কুড়িগ্রামে আরো বেশ কিছু সম্পদের রয়েছে তারা। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান।অনুসন্ধানে জানা যায়, মনিরুজ্জামান সরকার কাহারোল উপজেলায় যোগদানের পর বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পরেন। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিগত সরকারের এমপি মনোরঞ্জনশীল গোপালের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ওই এমপি নিজের সুপারিশের মাধ্যমে তাকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় বদলি করেন।নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২০১৪-১৬ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১০ কোটি টাকার টিআর ও কাবিখার বিশেষ প্রকল্প নিয়ে আসেন। যার অধিকাংশ অর্থই তিনি আত্মসাৎ করেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রকল্পের কিছু কাজ তিনি সম্পন্ন করেন। সেই সময়ে এসব দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বগুড়ার দুদকের এক কর্মকর্তাকে। দুদকের সেই কর্মকর্তাকেও ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেন মনিরুজ্জামান।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুকুরেরহাট ডিগ্রি কলেজের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল টিআরের ৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের চেয়ারম্যান ছিলেন সহকারী অধ্যাপক শওকত হোসেন। তাকে দুই দফায় ৩ লাখ টাকার কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছিলেন শওকত হোসেন।শুকুরেরহাট ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায়ও উন্নয়নের জন্য টিআরের ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পেও দুই দফায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সেটিও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ওই প্রকল্পের চেয়ারম্যান সহকারী শিক্ষক আবদুল কাইয়ূম।ঠাকুরবাড়ি বাজার হতে পূর্ব জামে মসজিদের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা, দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে মাটি ভরাট ও উন্নয়নের জন্য কাবিখা ও কাবিটার তিন দফায় ২০ টন ১৭৪ কেজি গম এবং ২ লাখ টাকা, বড়বালা ইউনিয়নের তাজুলের বাড়ি হতে খালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ৫ হাজার, রানীপুকুরের বুজরুক নূরপুর বাড়ি হতে মনজুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ভরাটের জন্য ৩ লাখ, ইমাদপুর ইউনিয়নে মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, উপজেলা পরিষদ রাস্তা নির্মাণের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ১৩ টন গম বরাদ্দসহ অন্তত আরও ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ হরিলুট করেছিলেন।আরও জানা যায়, মনিরুজ্জামান তৎকালীন নিজ অফিস খরচের কথা বলে সাবেক এমপির কাছ থেকে টিআর ও কাবিটার ১৪ লাখ টাকা এবং কাবিখার ১৩ টন গম বরাদ্দ নেন। যার কাজ দেখানো হয়েছে উপজেলা পরিষদের সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণ ৪ লাখ টাকা, ইমাদপুর ইউনিয়নের মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কার ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৫ লাখ এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাট ১৩ টন গম।এসব প্রকল্পের চেয়ারম্যান করা হয় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের। তবে এসব কাজ না করে চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছিলেন পিআইও। যদিও জনপ্রতিনিধিদের দাবি ছিল, তারা প্রকল্পের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার বিষয়ে কিছুই জানতেন না।২০২২-২৩ অর্থবছরে পিআইওর কার্যালয়ে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ২২ হাজার এবং গেল অর্থবছরে একই কাজের জন্য তিন দফায় বরাদ্দ বাড়িয়ে হয় ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তৎকালীন সময়ে অফিসের একজন স্টাফ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছিলেন, অফিসে পিআইও তিন দফায় প্রায় ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েও কোনো কাজেই করেননি। ওই স্টাফ আরও জানিয়েছিল, পিআইও টিআর প্রকল্প থেকে দুই দফায় কমপিউটার সেট কেনার জন্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯৭ টাকা বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন মনিরুজ্জামান। তবে এর এক মাস আগে মন্ত্রণালয় থেকে কমপিউটার সেট কেনার জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছিলেন, তবে সেটাও ছিল অদৃশ্য।এছাড়াও অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণ, টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ দেখিয়ে বিল পাস করে ট্রেজারি অফিসের মাধ্যমে পিআইও মনিরুজ্জামান সরকার নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এন আরবিসি ব্যাংকের মিঠাপুকুর শাখায় প্রায় ৩ কোটি টাকা রেখেছিলেন। সেই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে রংপুরসহ সারা দেশের তোলপাড় সৃষ্টি হয়, তুমুল বিতর্কের পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে চেয়ারম্যানদের দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রকল্পের ১০ থেকে ২০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন না করে টাকা ছাড় দিয়েছিলেন কোন এক অজানা কারণে।এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, পিআইও মনিরুজ্জামান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের এপিডি’র দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন।আর এই সব অবৈধ সম্পদ বৈধ করার জন্য নামমাত্র লোন নিয়েছে ব্যাংক থেকে, মনিরুজ্জামান সরকার ও স্ত্রীর আরফাতুন নাহার নামে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য - এনআরবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক।এছাড়াও মনিরুজ্জামান এসব বিপুল অবৈধ অর্থের বিনিময়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন ক্লাবের মেম্বার হয়েছেন।এসব বিষয়ে জানতে ফোনকল করা হলে মনিরুজ্জামান বলেন, এ অভিযোগের সত্যতা নেই।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে দেশে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই চারজন শিশুরই মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৬৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৮ জন শিশু।শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরের পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গের নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৭৬ জন। এরমধ্যে সন্দেহজনক ৬৭৭ জন ও নিশ্চিত হাম রোগী ৯৯ জন।স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন বলছে, নতুন রোগীসহ এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন এবং নতুন রোগীসহ নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪০ জনে। এসব রোগীর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন এবং এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন।
৯ আগস্ট রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। হেফাজত আমিরের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত দাবি-দাওয়াও পেশ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন আমাদের জন্য আনন্দের। হুজুরের (হেফাজত আমির) পক্ষ থেকে লিখিত দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করার কথা রয়েছে।আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর দৌহিত্র মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর হুজুর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরদিন থেকে রমজান মাস শুরু হওয়ায় এবং বাবুনগর মাদরাসায় খতমে তারাবির দায়িত্বে থাকায় ঢাকায় অবস্থান করা সম্ভব নয় বলে হুজুর প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই ফটিকছড়িতে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি সফর।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল শাখা থেকে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টায় তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ মহেশখালীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।কক্সবাজারের কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে পেলাগাজী দিঘির মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।সেখান থেকে তিনি ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের কথা রয়েছে।এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ফটিকছড়ির সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিশেষ করে বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমন উপলক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হেলিপ্যাড নির্মাণ, অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুত, সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।সাক্ষাৎ শেষে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হাটহাজারীর উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা পরিদর্শন ও মোনাজাতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।এরপর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের একটি হোটেলে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
নাটোরের গুরুদাসপুরে যাত্রীবাহী বাস ও গরুবোঝাই নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর উপজেলার হাজিরহাট তালবাড়িয়া গ্যাসপাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন—বড়াইগ্রাম পৌরসভার লক্ষীকোল এলাকার আব্দুর রহমান (৭০), ধামানিয়াপাড়া এলাকার আক্কাস আলী (৫৮) এবং তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম (৪৮)।বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতরা নছিমনে গরু নিয়ে সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনা হাটে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরআর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে নছিমনটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।এতে বাসটির সামনের কাচ ভেঙে দুমড়েমুচড়ে গেলেও বাসের কোনো যাত্রী হতাহত হননি। তবে নছিমনে থাকা তিন গরু ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন।ওসি জানান, আব্দুর রহমান বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আক্কাস আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় বড়াইগ্রাম হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। অপরজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ ও দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি মনিরুজ্জামান।
দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।’মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়; কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।”তিনি বলেন, ‘আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলা তো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়তো আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। ছোট একটা দেশ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন দূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।তিনি বলেন, “উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে আপনারা পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখতে পারেন।” একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয়ভাবে ভালো যেকোন বিষয় নিয়ে এমনকী স্থানীয় কোনো মানুষের জন্মদিন উপলক্ষ্যেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে, এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে, সমাজ ধ্বংস হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে আপনাদের উদ্যোগ নিতে হবে।‘সৃষ্টির সেরা জীব যদি আমরা হয়ে থাকি, তাহলে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ভাবতে হবে’- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মানুষের প্রতি নয়, আশপাশের পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশুদের এসব বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার থেকে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো তাদের পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একসময় পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া হতো। বর্তমানে এসব মূল্যবোধ অনেকটাই অনুপস্থিত। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছেসরকারের কাজে কোনো গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীসভায় বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকার এবং জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাতে আমার বিশ্বাস, আপনারা জনগণের জন্য অনেক ভালো কিছুই করতে পারবেন বলেন, আপনারা নিজেদের যোগ্যতায় এ পর্যায়ে এসেছেন। আল্লাহ আপনাদের মানুষের জন্য এবং রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষের কল্যাণে তা কাজে লাগাতে হবে। সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন, সেচব্যবস্থা ও কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন তারা। উপকারভোগীদের কৃতজ্ঞতার বার্তা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এর মাধ্যমে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, ‘দিন দিন আমাদের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয় কিন্তু এক। লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও এক।’ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বন্য প্রাণী ও পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুর না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ জায়গা।’সভায় খাল খনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩ টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, ড. নাসিমুল গণি , প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্যে আগামীকাল রোববার ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের একটি সভাও আহ্বান করা হয়েছে।আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত জানিয়েছে, ‘নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে আগামীকাল ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের উক্ত বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।’বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বৈঠকে দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেছেন, নবীনগরের প্রতিটি এলাকার সঙ্গে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলে পুরো উপজেলাকে একটি কার্যকর সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, যে দলেরই হোক অপরাধী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে উরখুলিয়া, মনিপুর ও ভৈরবনগর এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি চাই এই উপজেলার এক এলাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে অন্য এলাকা দিয়ে বের হবো। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন। উরখুলিয়া-গোসাইপুর সংযোগ সেতু নির্মাণ করে দেওয়া হবে।’তিনি বলেন, শুধু উরখুলিয়া নয়, উপজেলার প্রতিটি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথায় কী প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। উরখুলিয়া-গোসাইপুর সংযোগ সেতুর প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, সেতুটি নির্মাণ হলে দুই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি নবীনগরের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে।মাদকবিরোধী বক্তব্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এমপি আব্দুল মান্নান আরো বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী যে-ই হোক না কেন, তাদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। কে কে মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান কিংবা সন্ত্রাস দমনের নামে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উরখুলিয়া এলাকায় একটি বিদ্যালয় নির্মাণের আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘আমি এই উপজেলার প্রতিটি জায়গা চিনি। কোথায় কী লাগবে, আমি সব জানি। এই এলাকায় একটি স্কুল প্রয়োজন। খুব শিগগিরই স্কুল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’সমাবেশে বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান মেম্বারের সভাপতিত্বে ও এডভোকেট আলাউদ্দিনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল।বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসরাফ হোসেন রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক-২ দেলোয়ার হোসেন সোহেল, উপজেলা বিএনপির যুগ্মসম্পাদক ডাক্তার মহীউদ্দিন আহামেদ ময়ীন, পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.কে হেলাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হাদিছ শাহীন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শুক্কুর খাঁনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিশ্বকাপ চলাকালীন ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার হুমকি ছিলো। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের একটি ফাঁস হওয়া নিরাপত্তা নথি থেকে জানা গেছে বিশ্বকাপ চলাকালে তারকা ফুটবলার ও রেফারিদের ওপর একাধিক মৃত্যুঝুঁকি ও আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনার কথা।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ ও স্প্যানিশ ওয়েবসাইট ‘ইনফরমাসিওন ডট ইএস’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, টুর্নামেন্ট চলাকালে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিলেন লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দল। জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দেন যে, তিনি আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেলসহ স্টেডিয়ামে হামলা চালাবেন। ওই ব্যক্তি সরাসরি মেসিকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।অনুরূপ ঘটনা ঘটে মিশর বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক সন্দেহভাজন পোস্ট করেন যে, তিনি শরীরের চারদিকে বোমা বেঁধে আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসির ওপর আত্মঘাতী হামলা চালাবেন। ওই ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনগুলোতে তিনটি বোমা রাখা আছে বলে পুলিশের কাছে একটি ফোন আসে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও ছিলেন লক্ষ্যবস্তুর তালিকায়। ফিফার এক কর্মী জানান, এক রহস্যময় ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছিলেন। এমনকি এক ভক্ত পুলিশের চোখ এড়িয়ে রোনালদোর হোটেলের লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি কেবল একটি সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন।খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ম্যাচ রেফারিরাও উগ্র সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের সিদ্ধান্তের জেরে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ারকে হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারেরও বেশি হুমকিবার্তা পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ভিডিও রেফারি (ভিএআর) উইলি দেলাজোদকেও খুনের হুমকি দেন ক্ষুব্ধ মিশরীয় সমর্থকরা।নথিতে আরও উঠে এসেছে যে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণে খেলোয়াড়দের ওপরও নেমে আসে মৃত্যুঝুঁকি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ নষ্ট করায় নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ ও কলম্বিয়ার ঝন জামিনতন কাম্পাজকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কলম্বিয়ান ফুটবলার কাম্পাজ ভয়ে নিজ দেশের জাতীয় দলের সঙ্গে ফিরে যেতেও অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনাটি ১৯৯৪ সালে আত্মঘাতী গোল করার অপরাধে কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।নিরাপত্তার এই নাজুক পরিস্থিতির কারণে ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী, স্নাইপার-প্রতিরোধী পর্দা এবং ড্রোন হামলা ঠেকাতে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছিল। এসব হুমকির কারণে ওই আসরটিকে ইতিহাসের অন্যতম সুরক্ষিত বিশ্বকাপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তী হাতে মারাত্মক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চোটের গভীরতা বেশি থাকায় জরুরি ভিত্তিতে তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাতের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং মিঠুন চক্রবর্তী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।আপাতত তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। তবে ঠিক কীভাবে অভিনেতা হাতে চোট পেয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুটিং সেটে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।প্রিয় ‘মহাগুরু’র অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তার অজস্র ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। তবে তিনি বর্তমানে ভালো আছেন জেনে স্বস্তি মিলেছে সবার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করেছে। গত ২৯ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নবগঠিত বোর্ডে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র গবেষক আবদুর রহমান। এছাড়া সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা, গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ এবং সংগীতশিল্পী দিঠি আনোয়ার।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন অনুযায়ী এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব। আর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।এ ছাড়া বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা শানু।মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে নতুন করে এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।
'কিং' সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার সম্ভাব্য নতুন লুক সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ছুটি কাটানোর সময় এক ভক্তের ক্যামেরায় ধরা পড়েন কিং খান। এরপর সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা। ভাইরাল হওয়া সেই ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদশাহ কালো রঙের হুডি ও ‘VR-46’ লেখা একটি কালো ক্যাপ পরে ছিলেন। মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করলেও ক্যাপের ফাঁক দিয়ে তার ব্লিচ করা চুল দেখা যায়। এ থেকেই নেটিজেনদের ধারণা— পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘কিং’ সিনেমার নতুন লুক আড়াল করতেই এমন সতর্ক ছিলেন শাহরুখ খান।‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানকে সম্পূর্ণ ধূসর চুলের ভিন্নধর্মী লুকে দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতা বা অভিনেতার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ঘুরতে বের হওয়ার সময় শাহরুখ খানের পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট। সাধারণ পোশাকে থাকলেও ভক্তদের আগ্রহ এড়াতে পারেননি তিনি। কয়েকজন ভক্ত-অনুরাগীর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন এ অভিনেতা।এ ছাড়া লন্ডনে শাহরুখ খানের বাড়িও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, তার বাড়ির সামনে ভিড় করছেন অসংখ্য ভক্ত। অনেকেই সেখানে ছবি ও সেলফি ভিডিও ধারণ করছেন। দৃশ্যটি মুম্বাইয়ে শাহরুখের বাসভবন ‘মান্নাত’-এর সামনে ভক্তদের ভিড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।ঢাকার বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি দেশে এসেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি সব সময় সবার জন্য দোয়া করি।এর আগে সোমবার সকালে তার দেশে ফেরার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে ইলিয়াস কাঞ্চন আবারও লন্ডনে ফেরত যাবেন। আগামী ১৫ আগস্ট অভিনেতার শারীরিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।গত বছরের প্রথম দিকে অভিনেতার শরীরে টিউমার ধরা পড়লেও পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৬ এপ্রিল ইলিয়াস কাঞ্চনকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসা শুরু হয়। তিন মাসের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তার ব্রেনে অস্ত্রোপচার করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক ঘটলো। 'গুলশানের চামেলী' সিনেমার মাধ্যমে তিনি যাত্রা শুরু করছেন ঢালিউডে।১ আগস্ট শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।মধুমিতা বলেন, 'আমি এখানকার সবার এতটা ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত। এত এত ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে, এত গুণী মানুষদের নিয়ে আমার অভিষেক হচ্ছে ঢাকাই সিনেমায়। এর চেয়ে ভালো অভিষেক আর হতে পারে না।'তিনি আরও বলেন, 'আমরা যে এনার্জি ও স্পিড নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি, আশা করি সিনেমাটি খুব ভালো হবে। আমাকে এই সিনেমায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই।' মহরতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে এমডি ইকবাল পরিচালিত 'গুলশানের চামেলী'।সিনেমাটির মাধ্যমে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে মধুমিতা সরকারকে, যা নিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। জানা গেছে, সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন এ অভিনেত্রী। এর আগে স্বামী দেবমাল্য চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান মধুমিতা সরকার।‘গুলশানের চামেলী’ নির্মিত হচ্ছে এক যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দেশের জনপ্রিয় একঝাঁক শিল্পী অভিনয় করবেন। ইতোমধ্যে সিনেমাটির শিল্পী তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ওমর সানী, আমিন খান, আশীষ খন্দকার ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনা। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে আজমেরী হক বাঁধনকে।
বহু প্রতীক্ষিত ‘জুমানজি: ওপেন ওয়ার্ল্ড’ সিনেমার প্রথম ট্রেইলার প্রকাশ করেছে সনি। জনপ্রিয় এই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ পর্বে আবারও একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন ডোয়েন জনসন, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক ও কারেন গিলান।২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া জুমানজি: ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল এবং ২০১৯ সালের জুমানজি: দ্য নেক্সট লেভেলের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নির্মিত হচ্ছে নতুন এই সিনেমা। আগের দুই পর্ব বিশ্বজুড়ে ১৭০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার আয় করে।নতুন সিনেমাতেও আগের মতোই থাকছে রোমাঞ্চ, হাস্যরস, অ্যাকশন এবং চরিত্র বদলের মজার সব ঘটনা। ভিডিও গেমের ভেতরের চরিত্রগুলোতে আবারও অভিনয় করেছেন ডোয়েন জনসন, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক ও কারেন গিলান।প্রধান চার তারকার পাশাপাশি এবারও অভিনয় করেছেন ড্যানি ডিভিটো, নিক জোনাস, অকওয়াফিনা, মারিন হিঙ্কল, বেবে নিউওয়ার্থ, লামর্ন মরিস ও রিস ডার্বি। নতুন মুখ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ড্যান হিলডেব্র্যান্ড ও জ্যাক জুকস।সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জেক কাসদান। চিত্রনাট্য লিখেছেন জেক কাসদান, জেফ পিঙ্কনার ও স্কট রোজেনবার্গ। প্রযোজনায় রয়েছেন ম্যাট টলম্যাচ, ডোয়েন জনসন, ড্যানি গার্সিয়া, হিরাম গার্সিয়া এবং জেক কাসদান।প্রথমে আগামী ১১ ডিসেম্বর সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও পরে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বড়দিন উপলক্ষে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।উল্লেখ্য, নতুন এই সিনেমাটি ১৯৯৫ সালের জনপ্রিয় জুমানজি চলচ্চিত্রের আধুনিক সংস্করণের ধারাবাহিকতা। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত রবিন উইলিয়ামস ও কিরস্টেন ডানস্ট। নতুন সিরিজে বোর্ড গেমের পরিবর্তে ভিডিও গেমকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বড়দিনে মুক্তি পাওয়ায় এটি ডিউন: পার্ট থ্রি এবং অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবে।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারের হটস্পট, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মানুষ স্কিন ক্যান্সার এবং মেলানোমায় মারা যায় এবং প্রতি ৩ জন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় ২ জনের জীবনে অন্তত একবার স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে ধারণা করা হয়। এমন একটি দেশে যেখানে সানস্ক্রিন একটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে।ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘চয়েস’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লিখিত এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ছিল এসপিএফ ৫০+ (SPF 50+) হিসেবে বাজারজাত করা একটি পণ্যকে ঘিরে, যা পরীক্ষায় প্রায় এসপিএফ ৪ (SPF 4) এর মতো কাজ করেছে বলে জানা যায়। ব্র্যান্ডটি এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালেও পণ্যটি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে কেন এত বড় অমিল দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে যে আমদানি করা পণ্য ত্বকের যত্নের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই সংবাদটি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের নামই এখন আর যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোক বা কোনো স্থানীয় কোম্পানির, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি তার লেবেলে লেখা সুরক্ষা সত্যিই প্রদান করে কি না । এই বিষয়টি ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আরও বেশি মানুষকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না। তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়। কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা। বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে। এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে। শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে। তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চায়না-বাংলাদেশ সিরামিকস অ্যানুয়াল কনফারেন্স ২০২৬’।বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন -বিসিএমইএ ও চীনের ফোশান ইউনিসেরামিকস এক্সপোর যৌথ আয়োজনে শনিবার ঢাকার লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘এমপাওয়ারিং টেকনোলজি, উইনিং টুমরো টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সিরামিক শিল্পের উদ্যোক্তারা অংশ নেন।অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিসিএমইএর মহাসচিব ও ফার সিরামিকস লিমিটেডের পরিচালক ইরফান উদ্দিন বলেন, আধুনিক যুগে শিল্পের অগ্রগতি অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সিরামিক শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ইউনিসিরামিকস চীনের ওভারসিজ বিজনেস ডিপার্টমেন্টের ব্যবস্থাপক ইভা চ্যান বাংলাদেশের সিরামিক বাজারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু সিরামিক পণ্যের ব্যবহার প্রায় এক বর্গমিটার, যেখানে চীনে সর্বোচ্চ ব্যবহার ছিল ৬ দশমিক ৯ বর্গমিটার। এ ব্যবধান বাংলাদেশের বাজারে বড় প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে মূল্যনির্ভর প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মান, নকশা ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, চীনা ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিসিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও এক্স সিরামিকস গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ এফসিএমএ বলেন, সিরামিক শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও দ্রুত বিকাশমান উৎপাদন খাত। বাংলাদেশে বিশ্বমানের টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার উৎপাদিত হচ্ছে, যা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিএমইএর সভাপতি ও মন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনটি শুধু একটি সম্মেলন নয়, বরং দুই দেশের শিল্প খাতের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম। শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য চীনের উৎপাদন দক্ষতা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বৈদ্যুতিক কিলন ও হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ হিটিং সিস্টেমের মতো বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিসিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও এক্সিলেন্ট সিরামিকস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হাকিম সুমন সমাপনী বক্তব্যে শিল্পে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তিসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে শিল্পের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানান।উদ্বোধনী পর্ব শেষে চীনা প্রতিনিধি ও সম্মেলনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।পরে ‘টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ইন ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড বাংলাদেশ মার্কেট পটেনশিয়াল’ শীর্ষক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিএমইএর সহ-সভাপতি ও মন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রশীদ মায়মুনুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আকিজ সিরামিকস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।কারিগরি অধিবেশনে আলোচক হিসেবে ছিলেন আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, গুয়াংডং ডিংহে সুপারহার্ড টুলসের এক্সপোর্ট ম্যানেজার জর্জ ইয়াং, ঝাওকিং জিনমা লিডিং ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সেলস ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ জুবায়ের এবং রেনচিউ কাংজি স্যানিটারি ওয়্যারের সেলস ম্যানেজার জ্যাক মা।অধিবেশনে মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফোশান পারপেচুয়াল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড এবং জিবো ভ্যানট্রন কেমিক্যাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের বিশেষায়িত উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। নেটওয়ার্কিং সেশন ও বিসিএমইএর পরিচালক এবং হুয়া থাই সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক (জিকো)-এর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়।
মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট ডিকসন জেলার তামান লিঙ্গি এলাকায় সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে পুলিশ।নেগেরি সেম্বিলান পুলিশের প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমাদ জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল প্রায় ৪টা ১৫ মিনিটে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে একটি বাড়িতে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে লিঙ্গি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পরে লিঙ্গির সুয়া মাঙ্গিস এস্টেট এলাকা থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, নিহত তিন বাংলাদেশির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া আহত আরেক বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে রেমবাউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত, আহত ও আটক ব্যক্তি সবাই একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং একই বাসায় একসঙ্গে বসবাস করতেন।পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি একাধিক স্থানে ঘটেছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।দাতুক আলজাফনি আহমাদ বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাঁকে রিমান্ডের আবেদন জানাতে মঙ্গলবার পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য বা সংঘর্ষের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড ও বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড শাওমি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন স্মার্টফোন রেডমি ১৭ উন্মোচন করেছে। ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে। ডিভাইসে ৭,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সুবিশাল ব্যাটারি ও কর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যাটারি সহনশীলতা ও স্থায়িত্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এছাড়াও, স্মার্টফোনে প্রিমিয়াম লুক দেওয়ার জন্য ডায়নামিক আরজিবি লাইট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের সাথে তালমিলিয়ে চলতে, রেডমি ১৭-এ ৭,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সুবিশাল ও এই সেগমেন্টের শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের নির্বিঘ্নে ভিডিও স্ট্রিম, অনলাইন ক্লাস ও গেমিংয়ের সুবিধা নিশ্চিত করবে। একইসাথে, ডিভাইসটি একবার ফুল চার্জে ব্যবহারকারীদের দুই দিনেরও বেশি সময় পর্যন্ত কানেক্টেড রাখতে সক্ষম হবে। এছাড়াও, স্মার্টফোনটিতে ৪৫ ওয়াট টার্বো চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে, যা ৪৫ মিনিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সম্পন্ন করে। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সময় বাঁচার পাশাপাশি, তারা ঘন ঘন চার্জিংয়ের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। রেডমি ১৭-এ ৬.৯ ইঞ্চির ডিসপ্লের পাশাপাশি, ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্ক্রলিং, ব্রাউজিং ও বিনোদনের ক্ষেত্রে অনবদ্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। প্রতিদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত স্ক্র্যাচ ও ড্রপ থেকে ফোনকে সুরক্ষিত রাখতে এর ডিসপ্লেতে শক্তিশালী কর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই ব্যবহার করা হয়েছে। স্মার্টফোনে শক্তিশালী মিডিয়াটেক হেলিও জি৯১-আলট্রা প্রসেসর ও শাওমি হাইপারওএস ৩ ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিদিনের ব্যবহার, বিনোদন ও মাল্টিটাস্কিংয়ে চার বছর পর্যন্ত স্মুথ ও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, রেডমি ১৭-এ ৫০ মেগাপিক্সেল এআই ডুয়েল ক্যামেরা সিস্টেম রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রতিদিনের অর্থবহ মুহূর্তগুলো ধারণ করতে পারবেন। এছাড়াও, ডিভাইসকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে এতে আইপি৬৪ ডাস্ট অ্যান্ড স্প্ল্যাশ রেজিজট্যান্স রেটিং ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের ব্যবহারকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য স্মার্টফোন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে রেডমি ১৭ তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ, কর্নিং গরিলা গ্লাস প্রোটেকশন, ফাস্ট চার্জিং, টেকসই ফিচার, নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের সমন্বয়ে এই ডিভাইস তৈরি করা হয়েছে; যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এখনকার দ্রুততম লাইফস্টাইলের সাথে তালমিলিয়ে চলতে পারবেন; এবং একইসাথে, কোনোপ্রকার ছাড় না দিয়েও প্রতিদিনের কাজ আত্মবিশ্বাসের সাথে সম্পন্ন করতে পারবেন।” ওক গ্রিন, ডিপ ব্লু, ও ব্ল্যাক, এই তিনটি অনন্য রঙে পাওয়া যাচ্ছে রেডমি ১৭। ডিভাইসটি ৪ জিবি + ১২৮ জিবি ও ৬ জিবি + ১২৮ জিবি, দুইটি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম ২২, ৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য) ও ২৪,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য) টাকা মাত্র। অনবদ্য ব্যাটারি সক্ষমতা, ফাস্ট চার্জিং, নির্ভরযোগ্য স্থায়িত্ব ও প্রতিদিনের স্মুথ পারফরম্যান্সের নিশ্চিত করতে তৈরি রেডমি ১৭ এখন দেশজুড়ে সকল শাওমি অথোরাইজড স্টোর ও রিটেইল পার্টনারদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি