মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ অঙ্গরাজ্যের উপকূলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.১। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়।মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সাবাহ অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবলু থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও (৬২ মাইল) কম উত্তর-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৬১৯.৮ কিলোমিটার। ভূমিকম্পটির গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস। এছাড়া মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র কোনো ধরনের সতর্কতা জারি করেনি। তারা স্পষ্ট করেছে যে, গভীর সমুদ্রতলে এই কম্পন হওয়ায় সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.৮ বলে রেকর্ড করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাবাহ-এর পশ্চিম উপকূল ছাড়াও সারাওয়াক রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভূত হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। প্রণয় ভার্মা বলেন, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে জনগণ কেন্দ্রিক আলোচনা হয়েছে। এরমধ্যে ভিসা চালুর বিষয়টিও রয়েছে বলে জানান প্রণয় ভার্মা। বিকেলে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আসেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারও। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বৈঠক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পার্শ্বে দুর্বৃত্তের গুলিতে শফিকুর রহমান (৫৫) নামে ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতা আহত হয়েছেন। আহত শফিকুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পার্শ্বে জুতার মার্কেটের সামনে এই গুলির ঘটনা ঘটে।আহত শফিকুর রহমান ও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জুতার দোকানদার মনির হোসেন জানান, শফিকুর রহমান কলাবাগান থানা ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি ওই এলাকার ফুটপাতে জুতার দোকানে জুতা সরবরাহ করেন।তাঁরা দাবি করেন, কয়েক দিন ধরেই স্থানীয় কয়েকজন চাঁদাবাজ শফিকুরের কাছে চাঁদা দাবি করছিল। সেই চাঁদাবাজেরাই তাঁকে হাতেনাতে পেয়ে তাঁর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করে এবং তাদের ফোন না ধরার কারণ জানতে চায়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা শফিকুরকে গুলি করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।ঘটনার পর আহত শফিকুরকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর বাম হাতের তালুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, শফিকুর রহমানকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বাম হাতে তালুতে জখম রয়েছে। ঘটনাটি কলাবাগান থানা-পুলিশ তদন্ত করছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইব্রাহিম নামে এক সমন্বয়ককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে (নিটোর) ভর্তি করা হয়েছে। আহত ইব্রাহিমের বন্ধুদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তারাবির নামাজের পর ইব্রাহিম ও তার বন্ধুরা মিলে স্থানীয় একটি দোকানে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়ে আসা ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে ইব্রাহিমকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। উপস্থিত লোকজন তাদের ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।গুরুতর আহত অবস্থায় ইব্রাহিমকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। তার শরীরে একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে বলে জানা গেছে।
সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে কোনো পাত্তাই পেলো না স্বাগতিক ভারত। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও ডেভিড মিলারের ফিফটি ও ত্রিস্তান স্টাবসের দুর্দান্ত ক্যামিওতে ১৮৭ রানের সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা। জবাব দিতে নেমে নিজেদের ঘরের মাঠে ভালো শুরু করতে পারেনি ভারতও। স্কোরবোর্ডে ৫১ রান জমা করতেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। শেষ পর্যন্ত জেনসেন-মহারাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। আর তাতেই ৭৬ রানের বড় জয়ে সুপার এইট পর্ব শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা।আহমেদাবাদে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। স্কোরবোর্ডে মাত্র ২০ রান জমা করতেই টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বসে প্রোটিয়ারা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। একাই কচুকাটা করতে থাকেন ভারতীয় বোলারদের। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে নিয়ে গড়লেন ৯৭ রানের জুটি। ২৯ বলে ৪৫ রান করে ব্রেভিস ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। আর মিলার ফেরেন ৩৫ বলে ৬৩ রান করে। শেষ দিকে ২৪ বলে ৪৪ রানের ক্যামিও খেলেন ত্রিস্তান স্টাবস। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইশান কিশানের উইকেট হারায় ভারত। পরের ওভারের প্রথম বলে তিলক ভার্মাকেও হারায় তারা। পাওয়ার প্লেতে ৩১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। ওয়াশিংটন সুন্দর ও সূর্যকুমার যাদবও এদিন থিতু হতে পারেননি উইকেটে। সুন্দর আউট হন ১১ বলে ১১ রান করে। আর অধিনায়ক সূর্যকুমার ফেরেন ২২ বলে ১৮ রান করে। হার্দিক পান্ডিয়া, রিঙ্কু সিংও হাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলীয় ৮৬ রানে হার্দিক পান্ডিয়াকে ফেরান কেশভ মহারাজ। তার এক বল পরেই রিঙ্কু সিংয়ের উইকেটও তুলে নেন এই স্পিনার। একশ’র আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। এক প্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই চালান শিভম দুবে। শেষ পর্যন্ত তিনি আউট হন ৩৭ বলে ৪২ রান করে। পরের বলেই জসপ্রীত বুমরাহ আউট হলে ১১১ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। প্রোটিয়াদের হয়ে মার্কো জেনসেন শিকার করেন ৪ উইকেট। এছাড়া কেশভ মহারাজ ৩টি, কর্বিন বোশ ২টি ও এইডেন মার্করাম নেন ১টি উইকেট। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি প্রোটিয়ারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জসপ্রীত বুমরাহকে মারতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন কুইন্টন ডি কক। দলীয় ১০ রানের মাথায় ডি কক ফেরেন বোল্ড হয়ে। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ৬ রান। পরের ওভারেই এইডেন মার্করামকে ফেরান আর্শদীপ সিং। ৭ বলে ৪ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। এর পরের ওভারে রায়ান রিকেলটনের উইকেট তুলে নেন বুমরাহ। ৭ বলে ৭ রান করে শিভম দুবের হাতে ক্যাচ তুলে দেন রিকেলটন। দলীয় ২০ রানেই তারা হারায় ৩ উইকেট। বিপদের সময় দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দুজনে মিলে যোগ করলেন ৫০ বলে ৯৭ রান। ১৩তম ওভারে শিভম দুবের বলে অভিষেক শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্রেভিস ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। ফেরার আগে ২৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। এরপর মিলারও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ভরুন চক্রবর্তীর বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন তিলক ভার্মার হাতে। ফেরার আগে অবশ্য ৩৫ বলে ৬৩ রানের দারুণ একটা ইনিংস খেলেছেন তিনি। এরপর মার্কো জেনসেন ও কর্বিন বোশ দ্রুত ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন ত্রিস্তান স্টাবস। ৩ ছক্কা ও ১ চারে ২৪ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। আর তাতেই ১৮৭ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় আফ্রিকা। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ নেন ৩ উইকেট। এছাড়া আর্শদীপ সিং নেন ২ উইকেট। ভরুন চক্রবর্তী ও শিভম দুবে নেন ১টি করে উইকেট।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোড সড়কে লেগুনা চালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দলের পক্ষে এমন প্রতিক্রিয়া দেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’।‘গণপরিবহন চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংস্থার নাম ভাঙিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভাবমর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি অথবা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি জুমার দিন বিকেল ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোড এলাকায় লেগুনা চালক খায়রুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।’জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘জনপ্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানান তিনি।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নিহত খায়রুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে নির্ভরশীল পরিবার, ছোট্ট শিশু কন্যা ও স্বজনরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নির্মম পরিসমাপ্তি।’নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ‘উপযুক্ত’ আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।তিনি দেশব্যাপী পরিবহনসহ সব খাতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
দেশের নিত্যপণ্যের বাজার পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।এসময় বাজারে বিভিন্ন মার্কিন পণ্য দেখে খুশি হন তিনি।বিষয়টি জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে রাষ্ট্রদূতের বাজার পরিদর্শনের ছবিও প্রকাশ করা হয়।ছবিতে দেখা যায়, বাংলাদেশের বাজারের মার্কিন পণ্য হাতে নিয়ে হাসছেন ক্রিস্টেনসেন।দূতাবাস ওই পোস্টে বাজার নিয়ে করা ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যও প্রকাশ করে।ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাজারে আজ আমেরিকান খেজুর, বাদাম, শুকনো ফল, ট্যাং এবং ফলের জুস দেখতে পেরে ভালো লাগছে।‘রমজানের ইফতার আয়োজনে সময়মতো এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের ভোক্তা ও আমেরিকার কৃষক উভয়ের জন্যই উপকারী।’এদিকে রমজানকে সামনে রেখে দেশে বিভিন্ন আমদানিকৃত পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা খেজুর, বাদাম ও বিভিন্ন পানীয়ও রয়েছে।
নিলামের মাধ্যমে আরও ১২৩ মিলিয়ন বা ১২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কাটঅফ মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। এর আগেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েক দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ৫৩৮ কোটি ১৫ লাখ বা ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি পদে রদবদল আনা হয়েছে।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেনাসদর থেকে এই সংক্রান্ত আদেশ জারি হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এরআগে তিনি আর্টডকের জিওসি ছিলেন।পাশাপাশি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রধান হচ্ছেন কায়সার রশিদ চৌধুরী। বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে সেনাসদর দফতরে রয়েছেন তিনি।এদিকে, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। এরআগে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন তিনি।এছাড়া বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্কে কোনো তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ মানবে না চীন। নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে পাশে থাকবে চীন। এ সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন চীনের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, তিস্তা প্রজেক্ট সম্পর্কে কথা হয়েছে। প্রজেক্টটি এখন বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করছে। চীন প্রস্তুত আছে। তিস্তা প্রজেক্ট নিয়ে চীন আশাবাদী। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে চীন স্থিতিশীল সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কাজ করতে চায়। তারেক রহমানকে সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন, দ্রুতই এ সফর হবে বলে আশাবাদ জানান রাষ্ট্রদূত। ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। সেটি উন্নত করেছেন খালেদা জিয়া, এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন তারেক রহমান, এমনটাই প্রত্যাশা চীনের।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না বলে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা, তাদের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন তৎপরতার প্রেক্ষাপটে পুলিশপ্রধানের এই নির্দেশনা এলো।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পুলিশের সব ইউনিট প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় আইজিপি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।বাহারুল আলম চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ করলে দলমত নির্বিশেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।পুলিশপ্রধান মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে হাইওয়ে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে।তিনি হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোড সড়কে লেগুনা চালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দলের পক্ষে এমন প্রতিক্রিয়া দেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’।‘গণপরিবহন চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংস্থার নাম ভাঙিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভাবমর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি অথবা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি জুমার দিন বিকেল ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোড এলাকায় লেগুনা চালক খায়রুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।’জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘জনপ্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানান তিনি।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নিহত খায়রুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে নির্ভরশীল পরিবার, ছোট্ট শিশু কন্যা ও স্বজনরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নির্মম পরিসমাপ্তি।’নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ‘উপযুক্ত’ আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।তিনি দেশব্যাপী পরিবহনসহ সব খাতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে বিকাশ এজেন্ট কর্মীর কাছে থাকা দুই লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দরের লক্ষণখোলা এলাকার পাতাকাটা স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ছিনতাইয়ের শিকার বিকাশ এজেন্ট কর্মী রনি (৩৪) বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে।তিনি বলেন, সকালে বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে লক্ষণখোলা পাতাকাটা স্ট্যান্ড এলাকায় আসা মাত্র দুজন পথরোধ করে। একজন আমার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে সঙ্গে থাকা সবকিছু দিয়ে দিতে বলে। এসময় কাছে থাকা দুই লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিযে নেয়। পরে তারা একটি মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পরে বিস্তারিত বলা যাবে। এ বিষয়ে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি।
সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে কোনো পাত্তাই পেলো না স্বাগতিক ভারত। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও ডেভিড মিলারের ফিফটি ও ত্রিস্তান স্টাবসের দুর্দান্ত ক্যামিওতে ১৮৭ রানের সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা। জবাব দিতে নেমে নিজেদের ঘরের মাঠে ভালো শুরু করতে পারেনি ভারতও। স্কোরবোর্ডে ৫১ রান জমা করতেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। শেষ পর্যন্ত জেনসেন-মহারাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। আর তাতেই ৭৬ রানের বড় জয়ে সুপার এইট পর্ব শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা।আহমেদাবাদে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। স্কোরবোর্ডে মাত্র ২০ রান জমা করতেই টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বসে প্রোটিয়ারা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। একাই কচুকাটা করতে থাকেন ভারতীয় বোলারদের। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে নিয়ে গড়লেন ৯৭ রানের জুটি। ২৯ বলে ৪৫ রান করে ব্রেভিস ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। আর মিলার ফেরেন ৩৫ বলে ৬৩ রান করে। শেষ দিকে ২৪ বলে ৪৪ রানের ক্যামিও খেলেন ত্রিস্তান স্টাবস। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইশান কিশানের উইকেট হারায় ভারত। পরের ওভারের প্রথম বলে তিলক ভার্মাকেও হারায় তারা। পাওয়ার প্লেতে ৩১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। ওয়াশিংটন সুন্দর ও সূর্যকুমার যাদবও এদিন থিতু হতে পারেননি উইকেটে। সুন্দর আউট হন ১১ বলে ১১ রান করে। আর অধিনায়ক সূর্যকুমার ফেরেন ২২ বলে ১৮ রান করে। হার্দিক পান্ডিয়া, রিঙ্কু সিংও হাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলীয় ৮৬ রানে হার্দিক পান্ডিয়াকে ফেরান কেশভ মহারাজ। তার এক বল পরেই রিঙ্কু সিংয়ের উইকেটও তুলে নেন এই স্পিনার। একশ’র আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। এক প্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই চালান শিভম দুবে। শেষ পর্যন্ত তিনি আউট হন ৩৭ বলে ৪২ রান করে। পরের বলেই জসপ্রীত বুমরাহ আউট হলে ১১১ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। প্রোটিয়াদের হয়ে মার্কো জেনসেন শিকার করেন ৪ উইকেট। এছাড়া কেশভ মহারাজ ৩টি, কর্বিন বোশ ২টি ও এইডেন মার্করাম নেন ১টি উইকেট। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি প্রোটিয়ারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জসপ্রীত বুমরাহকে মারতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন কুইন্টন ডি কক। দলীয় ১০ রানের মাথায় ডি কক ফেরেন বোল্ড হয়ে। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ৬ রান। পরের ওভারেই এইডেন মার্করামকে ফেরান আর্শদীপ সিং। ৭ বলে ৪ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। এর পরের ওভারে রায়ান রিকেলটনের উইকেট তুলে নেন বুমরাহ। ৭ বলে ৭ রান করে শিভম দুবের হাতে ক্যাচ তুলে দেন রিকেলটন। দলীয় ২০ রানেই তারা হারায় ৩ উইকেট। বিপদের সময় দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দুজনে মিলে যোগ করলেন ৫০ বলে ৯৭ রান। ১৩তম ওভারে শিভম দুবের বলে অভিষেক শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্রেভিস ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। ফেরার আগে ২৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। এরপর মিলারও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ভরুন চক্রবর্তীর বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন তিলক ভার্মার হাতে। ফেরার আগে অবশ্য ৩৫ বলে ৬৩ রানের দারুণ একটা ইনিংস খেলেছেন তিনি। এরপর মার্কো জেনসেন ও কর্বিন বোশ দ্রুত ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন ত্রিস্তান স্টাবস। ৩ ছক্কা ও ১ চারে ২৪ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। আর তাতেই ১৮৭ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় আফ্রিকা। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ নেন ৩ উইকেট। এছাড়া আর্শদীপ সিং নেন ২ উইকেট। ভরুন চক্রবর্তী ও শিভম দুবে নেন ১টি করে উইকেট।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের প্রশংসায় ভাসলেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জাইমা রহমানকে নিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।জাইমা রহমানকে মাটির মানুষ আখ্যা দিয়ে তিশা লেখেন, ‘বিদেশে বেড়ে উঠলেও তিনি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অত্যন্ত সৌন্দর্য, মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে ধারণ করেন।’তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যেখানে বেড়ে উঠুক না কেন, নিজের শিকড়কে এভাবে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রোজায় রাজধানীর ভাসানটেক এলাকায় নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে এক ইফতার মাহফিলে অংশ নেন জাইমা রহমান।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের স্মরণ করলেন ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান।নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নায়ক। শাকিব খানের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এসকে ফিল্মস’ -এর পেজ থেকেও একই ছবি ও বার্তা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।শাকিব খানের শেয়ার করা পোস্টটির কার্ডে ভাষা দিবসের অর্থবহ গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে।ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চলচ্চিত্রের তিনটি ফিল্ম রোল লম্বালম্বিভাবে দাঁড় করিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদল তৈরি করা হয়েছে এবং পাশে একটি ফিল্ম রিল রাখা হয়েছে। নিজের পেশা অর্থাৎ চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ফিল্ম রোলের সাথে জাতীয় শোক, অহংকার ও গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনারকে এক সুতোয় গেঁথেছেন এই শীর্ষ নায়ক।এই ছবিটির ভেতরে এবং পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন দেওয়া সকল বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’
একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি)। ২০২১ সালের আজকের এই দিনে তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুদিনে তাকে নানাভাবে স্মরণ করছে বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীতে নানাবাড়ি দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। চলচ্চিত্রে তার পথচলা শুরু হয় ১৯৬১ সালে। উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৬৫ সাল থেকে অভিনয়ে নিয়মিত হন তিনি। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমনি’ তাঁকে খল চরিত্রে এনে দেয় অসামান্য খ্যাতি।তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি লিখেছেন চিত্রনাট্যও। নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘জলছবি’ ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে কাহিনিকার হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তার। এরপর শতাধিক ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি।এটিএম শামসুজ্জামান প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৮৭ সালে। কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০১২ সালে রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এ নন্দিত অভিনেতা। ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই অভিনেতা।শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ নামের প্রথম ছবি পরিচালনা করেন তিনি।এটিএম শামসুজ্জামানের উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে- ওরা এগারোজন, সূর্য দীঘল বাড়ি, লাঠিয়াল, অনন্ত প্রেম, যাদুর বাশি, রামের সুমতি, অশিক্ষিত, গোলাপি এখন ট্রেনে, ছুটির ঘন্টা, পুরস্কার, চাপা ডাঙ্গার বউ, দায়ী কে, ম্যাডাম ফুলি, দোলনা, ভন্ড, চোরাবালি, মোল্লা বাড়ির বউ, শ্বশুর বাড়ি জিন্দাবাদ, খায়রুন সুন্দরী, নাচনেওয়ালি, বাংলার বউ, হাজার বছর ধরে, গেরিলা, ডাক্তার বাড়ি, দাদীমা ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশেষ নাটক ‘চিঠিওয়ালা’ নির্মাণ করা হয়েছে। নাটকের চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে শহরের একটি পরিবারকে ঘিরে। স্ত্রী শৈলী ও ছেলে অনিন্দ্যকে নিয়ে শহরে থাকেন অনিক। নাগরিক আধুনিকতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নানা চেষ্টা তার। ছেলেকেও পড়ান ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। একদিন হঠাৎ তাদের বাড়ি বেড়াতে আসেন গ্রামের হাশেম চাচা। একটি চিঠি নিয়ে এসেছেন তিনি। নানা ব্যস্ততায় সেই চিঠি আর পড়া হয় না অনিকের। কিন্তু হাশেম চাচা বাড়িতে আসার পর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা।এরপর একদিন হাশেম চাচার আনা চিঠিটা পড়েন অনিক। চিঠিটি অনিকের প্রয়াত বাবার বন্ধু একজন ভাষাসৈনিকের লেখা। আবেগমাখা সেই চিঠি পড়ে অনিক বুঝতে পারেন, যে স্বপ্ন নিয়ে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে দেশের মানুষ, যে স্বপ্ন নিয়ে প্রাণের বিনিময়ে তারা স্বাধীন করেছে দেশ, সেই স্বপ্ন আজ ভুলতে বসেছে অনেকে। চিঠিটি বদলে দেয় পুরো পরিবারের বোধ।নাটকে হাশেম চাচার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ; অনিক চরিত্রে আহসান হাবিব নাসিম এবং শৈলীর চরিত্রে কাজ করেছেন সুষমা সরকার।‘চিঠিওয়ালা’ নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন রশীদ হারুন।নির্মাতা রশিদ হারুন জানান, “গল্পটা একটু ভিন্ন ধরনের। বিদেশি সংস্কৃতির জোয়ারে গা ভাসিয়ে আধুনিক হওয়ার চেষ্টা আমাদের সকলের মধ্যে আছে, কিন্তু এতে নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে ভুলতে বসেছে। দর্শককে সেই দিকটা দেখিয়ে দিবে এই নাটকটি, আশা করছি নাটকটি সবার পছন্দ হবে।” আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি চ্যানেল আইয়ে প্রচার করা হবে নাটকটি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। সংবাদমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার সকালে হিরো আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নামে একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। সেই মামলাতেই তাকে গ্রেফতার করা হলো।’গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আনোয়ারুল হক মামলাটির শুনানি শেষে হিরো আলমের বিরুদ্ধে ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ‘নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে’ সাদিয়া রহমান মিথিলাকে একাধিকবার ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেন হিরো আলম। পাশাপাশি তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাতেও বাধ্য করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী মিথিলা গত বছরের ২১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বগুড়ার আদালতে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।মামলাটি নিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যমকে হিরো আলম বলেছিলেন, ‘আমি এলাকার দিকে রওনা হয়েছি। রাতের মধ্যে এলাকায় চলে যাবো। মামলা তো ভুয়া। নির্বাচনের পর আমি আদালত যাব। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েও আমি ভোট দিতে যাব। কারণ ভোট দেয়া আমার নাগরিক অধিকার।’এদিকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন থেকে নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন হিরো আলম। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আমজনতার দলের হয়ে মনোনয়ন চাইলেও এবার আলম এনসিপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।
বলিউডের প্রভাবশালী চিত্রনাট্যকার এবং সুপারস্টার সালমান খানের বাবা সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি বর্তমানে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। ৯০ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।হাসপাতাল ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সেলিম খানের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেন হেমোরেজ) হয়েছে, যার ফলে শারীরিক জটিলতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে তাকে ‘ভেন্টিলেশন সাপোর্টে’ রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সব ঠিক থাকলে আজ বুধবার তার মস্তিষ্কে একটি জরুরি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।মঙ্গলবার বাবার অসুস্থতার খবর পাওয়া মাত্রই শুটিং ও ব্যস্ততা ফেলে হাসপাতালে ছুটে যান সলমন খানসহ পুরো খান পরিবার। পরিবারের অন্য সদস্য আরবাজ খান, সোহেল খান এবং আলভিরা অগ্নিহোত্রীও বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। রাতে প্রবীণ এই চিত্রনাট্যকারকে দেখতে হাসপাতালে যান বর্ষীয়ান অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত এবং সেলিম খানের দীর্ঘদিনের কাজের সঙ্গী জাভেদ আখতার।যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে পারিবারিক একটি সূত্র জানিয়েছে যে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষার পর আজ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচার শেষে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবেন বলে আশা করছেন তার স্বজনেরা।এদিকে সেলিম খানের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও সহকর্মীদের উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। বলিউডের বহু তারকা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিচ্ছেন।উল্লেখ্য, হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সেলিম খান এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশেষ করে জাভেদ আখতারের সঙ্গে তার ‘সেলিম-জাভেদ’ জুটি নব্বইয়ের দশকে বলিউডে বিপ্লব এনেছিল। তাদের কলম থেকেই বেরিয়ে এসেছে ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’, ও ‘ডন’-এর মতো কালজয়ী সব ছবি। এছাড়া এককভাবে ‘নাম’, ‘কব্জা’ ও ‘জুর্ম’-এর মতো সিনেমার চিত্রনাট্য লিখে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
নিলামের মাধ্যমে আরও ১২৩ মিলিয়ন বা ১২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কাটঅফ মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। এর আগেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েক দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ৫৩৮ কোটি ১৫ লাখ বা ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার।
ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ ৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সৌদি আরবের আবহা শহরে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার। দুর্ঘটনা একই গাড়ির ড্রাইভার মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।একই ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুত্ব আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যার ছেলে ও নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। নিহত প্রবাসী গাড়ির ড্রাইভার একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।বাহারুল আলম জানান, মিজান সৌদি প্রবাসী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ হজ্বে যান। ৫দিন আগে ওমরাহর উদ্দেশে তারা সৌদির বাসা থেকে বের হন। ওমরাহ শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তারা। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।নিহত মিজানুর রহমানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পাশের গ্রামের সৌদি প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে তারা মিজানসহ ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এছাড়া মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদি আরবে ৫ জন মারা গেছে শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করব।
রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীর পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিতে থাকে। কারণ সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়, ফলে শরীরের তরল ক্ষতি হয় ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পেশীর কার্যক্রমে। এই অবস্থায় পানিশূন্যতা এড়াতে শুধু ইফতার বা সেহরিতে পানি খাওয়া যথেষ্ট নয়, সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুনসেহরি ও ইফতারের সময় মোটামুটি ৮-১০ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনে একবারে খুব বেশি পানি খাওয়ার চেয়ে এতে পানি ধীরে ধীরে পান করলে শরীর তার শোষণ ভালোভাবে করতে পারে। ফল ও সবজি যেমন তরমুজ, শসা, কমলা, টমেটো ইত্যাদি পানি-সমৃদ্ধ। এগুলো সেহরি ও ইফতারে থাকলে শরীর দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড থাকে।ক্যাফেইন ও চিনি-সমৃদ্ধ পানীয় সীমিত করুনচা, কফি ও কোলার মতো পানীয় শরীর থেকে পানি বের করে দেয় (ডাইউরেটিক প্রভাব), ফলে শরীর দ্রুত পানি হ্রাস পায়। জুস বা চিনিযুক্ত মিষ্টি পানীয়ও বেশি শর্করা থাকার কারণে ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে।লবণ ও মসলাযুক্ত খাবার কম খানঅতিরিক্ত লবণ শরীরের পানির চাহিদা বাড়ায়। তাই সেহরি ও ইফতারে বেশি লবণ বা তীব্র মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে লবণের বদলে লেবু, জিরা, তুলসী ইত্যাদি ব্যবহার করে স্বাদ বাড়িয়ে নিতে পারেন।হালকা ও নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুনরোজা যখন ভাঙবে (ইফতার), তখন একবারে অনেক পানি না গিলেই বরং ধীরে ধীরে এবং নিয়মিত পানি পান করুন। এইভাবে শরীরকে পর্যায়ক্রমে হাইড্রেটেড রাখা সহজ হয়।বাইরের তাপ বা গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে সতর্ক থাকুনযদি রোজা রাখার সময়ে সূর্যের তাপে বেশি সময় কাটে বা শারীরিক কাজ বেশি হয়, তাহলে ঘাম বের হয়ে শরীর থেকে আরও পানি ক্ষয় হতে পারে। চেষ্টা করুন সূর্যের তাপ থেকে দূরে থাকুন এবং হালকা কাজ বা বিশ্রাম নিন।ইফতার ও সেহরিতে স্যুপ বা দই রাখুনহালকা তরকারি স্যুপ বা দই পানি ও ইলেকট্রোলাইট সরবরাহে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়ক। বিশেষ করে দইতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের ত্বরণ ভালো রাখে।রোজা রাখার সময় শরীরের সিগন্যাল যেমন খুব বেশি পিপাসা, মাথাব্যথা, অতি ক্লান্তি বা কম প্রস্রাবের রং এসব লক্ষণ পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে রোজা ভেঙে শরীরকে রিফ্রেশ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়—এটি শরীর ও মনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার এক অনন্য সুযোগ। কিন্তু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারের টেবিলে বসে অনেকেই অজান্তেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। ফল হিসেবে রমজান শেষে দেখা দেয় ওজন বৃদ্ধি, বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা কিংবা সারাক্ষণ ক্লান্তিভাব।সারাদিন উপবাসের ফলে শরীরের শক্তির মজুত কমে আসে। এ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য বদলে যায়, ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তি পাওয়ার সংকেত পাঠায়। তখন তেলেভাজা, মিষ্টি বা ভারী খাবারের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।এছাড়া পাকস্থলী ভরে গেছে—এই তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এর আগেই অনেক খাবার খাওয়া হয়ে যায়। পারিবারিক আড্ডা, ঐতিহ্যবাহী ইফতার আর আবেগ মিলে এই প্রবণতা আরও বাড়িয়ে তোলে।ধীরে ইফতারই সুস্থতার প্রথম ধাপবিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতার শুরু করার পদ্ধতিই পুরো রাতের হজম ও ক্যালরি গ্রহণ নির্ধারণ করে।দুই থেকে তিনটি খেজুর ও এক গ্লাস পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে স্বাভাবিক হয়। এরপর ১০–১৫ মিনিট বিরতি দিয়ে হালকা কিছু খান—যেমন স্যুপ, ফল বা সালাদ।এই বিরতিতে পাকস্থলী প্রস্তুত হয়, হজমের চাপ কমে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।সুষম খাবার মানেই কম খাবার নয়, সঠিক খাবাররমজানে খাবার কমানোর চেয়ে ঠিকভাবে সাজানো প্লেট বেশি গুরুত্বপূর্ণ।খাবারের অর্ধেক অংশ রাখুন শাকসবজি ও সালাদে। এক-চতুর্থাংশে রাখুন প্রোটিন—মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা বা দই। বাকি অংশে থাকুক গোটা শস্য—রুটি, ওটস বা অল্প পরিমাণ ভাত।এই সমন্বয় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, রক্তে শর্করার ওঠানামা কমায় এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি জমতে দেয় না।মনোযোগী খাওয়া: নীরব অভ্যাস, বড় উপকারঅনেক সময় ক্ষুধার কারণে নয়, বরং অভ্যাসের কারণে আমরা বেশি খাই। টিভি দেখা, মোবাইল স্ক্রল করা বা গল্প করতে করতে খেলে মস্তিষ্ক বুঝতেই পারে না কতটা খাওয়া হয়েছে।খাওয়ার সময় মনোযোগ দিন খাবারের দিকে। ধীরে চিবিয়ে খান, স্বাদের অনুভূতি নিন। পেট অর্ধেক ভরলেই থামুন। এতে হজম সহজ হয় এবং শরীর প্রয়োজনের বেশি খাবার জমাতে পারে না।ভাজা ও মিষ্টি—পুরোপুরি নয়, সীমিত করুনরমজানের ইফতার ভাজা ও মিষ্টি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। এগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই। তবে এগুলোকে ইফতারের মূল খাবার না বানিয়ে পরিপূরক হিসেবে রাখুন।ভাজা খাবার প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে এক–দুদিন সীমিত রাখুন। সিরাপজাত মিষ্টির বদলে ফল, দই বা অল্প মধু ভালো বিকল্প হতে পারে।সেহরি: সারাদিনের নিয়ন্ত্রকসেহরি বাদ দিলে ইফতারে অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ সেহরি সারাদিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।ওটস, ডিম, দই, ফল, বাদাম ও সবজি দিয়ে হালকা কিন্তু পুষ্টিকর সেহরি হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি, যাতে দিনভর পানিশূন্যতা না হয়।বিশেষজ্ঞের মতবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন,“রমজানে অসুস্থ হওয়ার প্রধান কারণ অতিরিক্ত তেল, চিনি ও একসঙ্গে অনেক খাবার গ্রহণ। অল্প পরিমাণে, ধীরে এবং সুষমভাবে খেলে রোজা শরীরের জন্য উপকারী হয়ে ওঠে।”সংযমেই সুস্থতারমজান সংযমের শিক্ষা দেয়—খাবারেও তার ব্যতিক্রম নয়। প্লেট ছোট রাখুন, গতি কমান, প্রয়োজনের কথা ভাবুন। এতে ওজন বাড়বে না, বদহজম কমবে এবং রোজার আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য আরও গভীর হবে।সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন—রমজান হোক শরীর ও মনের জন্য প্রশান্তির মাস।
বসন্ত এসে গেছে। আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের শুরু। আজি বসন্তের আগমণে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। একই সঙ্গে আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বসন্ত আর ভালোবাসার রঙে আজ সেজে ওঠেবে মানুষ।এই দিনটিকে বাঙালিরা উদযাপন করে ভিন্ন ভাবে। সারাদেশে বিশেষ করে প্রতি বছর এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় উৎসবে মেতে ওঠে সবাই। যদিও চিরাচরিত বসন্ত উৎসবের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে এবছর। আজ এ উৎসব হচ্ছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে সাতটায়, সীমিত পরিসরে।্এই দিনটি ১৫৮৫ সালে বাংলা সনে ১৪টি উৎসব প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বসন্ত বরণ উৎসবের উন্মেষ ঘটে মুঘল সম্রাট আকবরের হাত ধরে। পরে ষাটের দশকে ফাল্গুনের প্রথম ছুটির দিনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল ছায়ানট। স্বাধীন বাংলায় প্রথম বসন্ত পালিত হয় ১৯৯৪ সালে। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদের হাত ধরে ১৪০১ বঙ্গাব্দের পহেলা ফাগুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় উদযাপন শুরু হয় এই উৎসবের। এরপর থেকে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে এই উৎসব।শীতের রিক্ততা মুছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে ফাল্গুনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। গণমানুষের কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক/ আজ বসন্ত... গোলাপের সুবাস আজ না ছড়াক/ কুসুমকলি আজ না হোক জীবন, তবু আজ বসন্ত...। কিন্তু ফুল আজ ঠিকই ফুটেছে। গাছে গাছে শিমুল, পলাশের আগমনির রঙ ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে শিমুল-পলাশের রক্তিম আভায় সেজেছে প্রকৃতি, আর সেই আভার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে মানুষের হৃদয়ের ভালোবাসা। গাছে গাছে জানান দিচ্ছে বসন্ত এসে গেছে। একই সঙ্গে আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফাল্গুনকে বলা হয় ফুলের মাস। রক্ত লালের আগুন থেকে শুরু করে শিমুলের নরম আভা সব মিলিয়ে বসন্ত অন্যরকম মাত্রা যোগ করে প্রকৃতিতে। প্রকৃতি বিভিন্ন রঙের উৎসবে মেতে ওঠে। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে বেড়ায় বাতাসে, কোকিলের কুহুতানে ভরে ওঠে চারদিক। এই মাসে বাতাসে মিশে থাকে এক মৃদু উষ্ণতা, যা শীতের মলিনতাকে নিঃশব্দে মুছে দেয়।সত্যিই বসন্ত এসে গেছে। আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের শুরু। আজি বসন্তের আগমণে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। একই সঙ্গে আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বসন্ত আর ভালোবাসার রঙে আজ সেজে ওঠেবে মানুষ।এই দিনটিকে বাঙালিরা উদযাপন করে ভিন্ন ভাবে। সারাদেশে বিশেষ করে প্রতি বছর এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় উৎসবে মেতে ওঠে সবাই। যদিও চিরাচরিত বসন্ত উৎসবের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে এবছর। আজ এ উৎসব হচ্ছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে সাতটায়, সীমিত পরিসরে।্ এই দিনটি ১৫৮৫ সালে বাংলা সনে ১৪টি উৎসব প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বসন্ত বরণ উৎসবের উন্মেষ ঘটে মুঘল সম্রাট আকবরের হাত ধরে। পরে ষাটের দশকে ফাল্গুনের প্রথম ছুটির দিনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল ছায়ানট। স্বাধীন বাংলায় প্রথম বসন্ত পালিত হয় ১৯৯৪ সালে। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদের হাত ধরে ১৪০১ বঙ্গাব্দের পহেলা ফাগুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় উদযাপন শুরু হয় এই উৎসবের। এরপর থেকে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে এই উৎসব।
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে বাধা এবং ব্যবসায়ী নেতার আস্ফালনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি একে ‘ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আপনি বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা হন বা মোঘল সম্রাট আকবর, মেমো বা রশিদ আপনাকে রাখতেই হবে। তাদের কপাল ভালো আমার হাতে পড়েনি।’ফেসবুকে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, ভোক্তার কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডলকে তার সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছে রাজধানীর চকবাজারের মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। এই সংবাদ ও ভিডিও সবাই দেখেছেন। সরকারি কাজে বাধা প্রদানের জন্য সভাপতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানা মামলা গ্রহণ করছে না মর্মে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে জানতে পারলাম।তিনি লেখেন, ভোক্তা থেকে মামলা দায়ের করার জন্য গতকাল অফিসিয়াল চিঠি দেওয়া হয়েছিল সংশ্লিষ্ট থানায়। ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে কিন্তু মামলা নেয়নি থানা। ভয়াবহ এক ব্যাপার এবং অপরাধ। আপনি বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা হন বা মোঘল সম্রাট আকবর, খাদ্য দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়, মজুদ, ব্যবহার সবকিছুর ট্রেসেবিলিটি নির্ধারণে আপনাকে মেমো বা রশিদ রাখতেই হবে। এই রশিদ না রাখা, নিরাপদ খাদ্য আইন এবং ভোক্তা আইন, উভয় আইনেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।সাবেক অতিরিক্ত সচিব লেখেন, এই রশিদ না রাখা এবং ছোলার অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা এক ব্যবসায়ীকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করলে, সেই সভাপতি এতে বাধা প্রদান করেন।‘সভাপতি ভবিষ্যতে মৌলভীবাজারে কোনো অভিযান পরিচালনা না করার জন্য ভোক্তার কর্মকর্তাকে সতর্ক করে দেন। কী দেখছি!! কী শুনছি!! তাদের কপাল ভালো আমার হাতে পড়েনি এরা।’তিনি লেখেন, ভোক্তার ডিজিকে অনুরোধ করব অতি দ্রুত যৌথ বাহিনী নিয়ে মৌলভীবাজারে অভিযান পরিচালনার জন্য। পুলিশ প্রশাসনের নিকট অনুরোধ, ভোক্তার মামলা গ্রহণ করার জন্য। নাহলে জনকল্যাণ মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে। যদি ডিজির মেরুদণ্ড বলে কিছু থেকে থাকে। যদিও তার চাকুরি আছে মাত্র কয়েকমাস।