আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হওয়ায় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪)-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যের উদ্বেগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রামিসা মামলা থেকে শুরু করে রংপুরে সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বল্পতম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের বিচার করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো- অপরাধ তদন্ত করা, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে- এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্ট ঘটনা ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে করতে হবে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় ব্যর্থ হয়েছে- এমন কোনো ঘটনা আপনারা উল্লেখ করতে পারলে ওই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জবাব দিতে পারি।সংসদ সদস্যের উদ্ধৃত অপরাধ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদে কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এর উৎস ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিও উল্লেখ করা উচিত।তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সরকার এর আগে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংসদে উপস্থাপন করেছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া বিবৃতির মাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের পরিসংখ্যান সংসদকে জানানো হয়েছে।পুলিশ সদস্যদের নৈতিক প্রশিক্ষণ বিষয়ে অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে নৈতিক প্রশিক্ষণের জন্য পৃথক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।একজন সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, কয়েকজন বিপথগামী পুলিশ সদস্যের অসদাচরণের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়। কারণ, বাহিনীতে অনেক দক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ একাডেমিগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই নৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অনেক বিস্তৃত। পুলিশ বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণে নৈতিক প্রশিক্ষণ, শারীরিক প্রশিক্ষণ এবং একাডেমিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে নৈতিক প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।’বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা এবং এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিতভাবে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে সেগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লুট হওয়া কিছু আগ্নেয়াস্ত্রসহ নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার করছি। উদ্ধার করা অস্ত্রের নম্বর মিলিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হলে গণমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে।’কারাগারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বা দলীয় বিবেচনায় পুলিশে নিয়োগের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তদন্তে বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার পুলিশ কনস্টেবল ও অন্যান্য পদমর্যাদার সদস্য নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জেলার নিয়োগে যোগ্যতা অর্জনের জন্য আবেদনকারীরা ঠিকানা পরিবর্তন করেছিলেন বলেও জানান তিনি। এমনকি কেউ কেউ ছোট জমি কিনে সেই ঠিকানাকে স্থায়ী বা গ্রামের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।মন্ত্রী বলেন, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তদন্ত আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি। তদন্ত শেষ হলে এর ফলাফল জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে।’
নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে (হড়পা বানে) মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে পৌঁছেছে। সময় যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে লাশের সারি। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।গতকাল বুধবার সকালে উজান থেকে নেমে আসে বিশাল এই পানি ও কাদামাটির ঢল। যতটুকু পথ পাড়ি দিয়েছে এই দানবাকৃতির বান ততটুকু জায়গাজুড়ে সবই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।নেপাল পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তাদের সর্বশেষ আপডেটে বলেছে দুপুর ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ৩৩২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো পাওয়া গেছে আলাদা আটটি জেলায়।পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে নিহতের সংখ্যাটি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের কাছে নিশ্চিত করেছেন।এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে ২৮৯টি মরদেহ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি ৩৩২ জনে পৌঁছেছে। যেহেতু এখন পুরোদমে উদ্ধার অভিযান চলছে তাই এ সংখ্যা বাড়বে।পুলিশ জানিয়েছে, বন্যায় আক্রান্ত পরিবারগুলোকে এখন অন্যত্র সরানো হচ্ছে। এছাড়া আরেকবার বন্যা হলে যেসব মানুষ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন তাদেরও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।গতকাল সকালে হঠাৎ করে রাসুয়ার দিকে ধেয়ে আসে আকস্মিক ঢল। এ সময় সেখানে ত্রিশূলি এবং নারায়নি নদীর পানি বেড়ে যায়। আর ভোটকোশি নদীর পানি ফুলেফেঁপে ওঠে। পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা পানিতে যুক্ত হয় ভূমিধসের কাদামাটি, পাথর।এই বানের শক্তি এতই বেশি ছিল যে এটি তার পথে থাকা সবধরনের অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি- সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এটি।নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন মানুষ নিখোঁজ আছেন। গতকাল চীন তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল।সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেছেন, উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তিদের উচ্চপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়াই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু বাংলাদেশে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের মেধা, যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রকৌশলীদের চাকরির সুযোগও দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ‘প্রকৌশলী অধিকার দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘জাতীয় প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সার্বিক সহযোগিতায় প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন এ সম্মেলনের আয়োজন করে।রিজভী বলেন, ‘একটি দেশকে উন্নত করতে হলে সেই দেশের প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের গুরুত্ব বাড়াতে হবে।’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, চীন একটি উন্নয়নশীল দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এর পেছনে দেশটির প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণায় প্রকৌশলীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এসব ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের কাজে লাগানো ছাড়া একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়।‘মেরিটোক্রেসি, মবোক্রেসি নয়’বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকেও এগিয়ে নিতে হলে মেরিটোক্রেসি বা মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মেধার পরিবর্তে মবোক্রেসি বা জনতার চাপ ও প্রভাবনির্ভর ব্যবস্থা বাড়তে দেওয়া যাবে না।’তাঁর মতে, একজন প্রকৌশলীকে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে দায়িত্ব ও পদ দিতে হবে। যোগ্যতার পরিবর্তে অন্য কোনো বিবেচনায় দায়িত্ব বণ্টন করা হলে তা শুধু প্রকৌশলীদের জন্য বৈষম্য তৈরি করবে না, দেশের উন্নয়ন ব্যবস্থাকেও দুর্বল করবে।দেশের বড় প্রকল্পগুলোতে প্রকৌশলীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের সক্ষমতার বড় প্রমাণ তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এটি প্রমাণ করে যে দেশের প্রকৌশলীরা বড় ও জটিল জাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম।‘তাই তাঁদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে’—বলেন তিনি।গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোরদেশের প্রতিটি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে প্রকৌশলীদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।রিজভী বলেন, ‘মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, প্রকৌশলীদের সুযোগ বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক উন্নয়ন—এই তিনটির সমন্বয়েই বাংলাদেশকে টেকসইভাবে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’প্রকৌশলীদের অধিকার নিয়ে যা বললেন অন্যরাসম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও বৈষম্য দূর করার দাবির প্রতি সমর্থন জানান।তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে শুধু আলোচনা নয়, সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই সমাধান বের করতে হবে। বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত পদ দিন দিন কমে যাওয়া উদ্বেগজনক। প্রশাসন ও উন্নয়ন ব্যবস্থায় প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও জ্ঞান কাজে লাগাতে তাঁদের উপযুক্ত পদ ও সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) বলেন, গত এক বছরে প্রকৌশলীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও দাবি উত্থাপন করা হলেও তাঁদের প্রত্যাশিত অধিকার ও মর্যাদা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবটিক্স, বিগ ডাটা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের মধ্য দিয়ে উচ্চপ্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এসব প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা, নকশা, বাস্তবায়ন ও তদারকিতে যোগ্য প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এতে প্রকল্পের মান, সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।তিনি আরও বলেন, যথাযথ মূল্যায়ন, কর্মসংস্থান, গবেষণা ও নেতৃত্বের সুযোগ না থাকায় মেধাবী প্রকৌশলীদের অনেকে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এ মেধা পাচার বন্ধে দেশে প্রকৌশলীদের জন্য মেধা ও যোগ্যতাভিত্তিক সুযোগ তৈরি করতে হবে।সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি প্রকৌশলী এম ওয়ালি উল্লাহ। তিনি দাবি করেন, সহকারী প্রকৌশলী পদে ৬৭ শতাংশ নিয়োগের বিধান থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৩৩ শতাংশ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বাকি পদগুলো পদোন্নতি কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন না, অথচ অন্যান্য পদে আবেদন করতে পারছেন। এ ধরনের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা প্রকৌশলীদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।বিসিএসে প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত পদ কমে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।সম্মেলনে আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ টি এম তানবীর-উল হাসান (তমাল), সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান, সম্মানী সম্পাদক (ঢাকা কেন্দ্র) প্রকৌশলী কে এম আসাদুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান (একাডেমিক ও এইচআরডি) প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী রবিউল আলম উজ্জ্বলসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল। এতে আইইবির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে ‘শিক্ষকের ভূমিকা পালন করার’ বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা করতে হলে সংসদে নয়, একটি ইউনিভার্সিটি খুলুন। সেখানে যার পছন্দ হবে, ভর্তি হবে এবং তার লেকচার শুনবে। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য সংসদে আসিনি।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন সবাইকে।‘উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজেকে কী মনে করেন, আমি বুঝতে পারি না। এমনকি তিনি এখানে দাঁড়িয়ে সেই দুঃসাহস দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসিনি। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটি ইউনিভার্সিটি খুলুন। সেখানে যার পছন্দ হয়, ভর্তি হবে এবং তার লেকচার শুনবে।’ জামায়াত আমির এমন বক্তব্যের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেসে ওঠেন।জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আজ একই বক্তব্যে তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) দুইবার আক্রমণ করে ফেললেন। আমিসহ আমার সঙ্গীরা মনে করি, এটা কালচারাল নয়, এটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত নয়।’শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি আজ নতুন করে এসব বলেননি। আমি আজ সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য তাকে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে এবং তার বক্তব্য সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে। এটুকু করলে আমরা বসব। না হলে অপমান নিয়ে আমাদের এখানে বসার প্রশ্নই ওঠে না।’
যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশ পাঠান।মন্ত্রিপরিষদসচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এ নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাটকে মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক ও প্রেমভিত্তিক বিষয়ের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।নোটিশে আরো বলা হয়, এসব নাটকে পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করায় পারিবারিক ও সামাজিক নৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।গণমাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শনী সমাজে নৈরাজ্য ও অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে এ ধরনের অনৈতিক কনটেন্টের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে উল্লেখ করেন, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন মেনে চলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা নাগরিকের কর্তব্য। ৩৯ অনুচ্ছেদে বাকস্বাতন্ত্র্যের কথা বলা হলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে তা যুক্তিসংগত বিধি-নিষেধের অধীন।এ ছাড়া ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।নোটিশে কিছু দাবি পেশ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে—কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে অবিলম্বে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে এবং তরুণ সমাজকে নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা প্রদান।নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করা হবে বলে জানান নোটিশকারী আইনজীবী।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক নেতা মুহাম্মদ কাদের গনি। তাকে এক বছরের জন্য এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন, ২০১৮ এর ধারা ১০(১) অনুযায়ী মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হলো।এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৪৩০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।রিয়াদের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী, দেশে আসা মরদেহগুলোর মধ্যে সাতজন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন—উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, মোহন আলী, সুমন আলী ও কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং মার্কাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরদার।সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।গত ৯ আগস্ট রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৪৩০ ফ্লাইটে দেশে পৌঁছায়।সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া ও মুসা সানাইয়া এলাকার একটি সোফা কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটে। মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ভেতরে থাকা শ্রমিকেরা বের হওয়ার সুযোগ পাননি। এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ঘটনার রাতে কাজ শেষে শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় আগুন ছড়িয়ে পড়লে তারা আটকা পড়েন। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে পরিচয় শনাক্তসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ৯ জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরার খবরে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, আমি সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত, আজকে যেভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা প্রচেষ্টা লক্ষ করেছি এটি সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে হট্টগোল সৃষ্টি হলে তিনি এসব কথা বলেন।স্পিকার বলেন, অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এই সংসদ যেন বহাল থাকে সেজন্য প্রতিটি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব রয়েছে।এর আগে বিরোধী দলীয় এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমেদ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটা শাহবাগ নয় মহান জাতীয় সংসদ।’ এ বক্তব্যের পরপরই কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে উঠে তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের শুরুর দিন থেকেই এমন আচরণ করে যাচ্ছেন। আমি জানি না তিনি নিজেকে কী মনে করেন। তার সাম্প্রতিক তার বক্তব্য গুলোতে তিনি নিজেকে জাতীয় সংসদের শিক্ষক বলে পরিচয় করিয়েছেন। মাননীয় স্পিকার আমরা মহান জাতীয় সংসদের কাউকে শিক্ষক হিসেবে দেখতে চাই না।একপর্যায়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মাইক মিউট করে সবাই থামান।
রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নির্দেশনা অমান্য করে ফুটপাত বা সড়ক দখল করে ব্যবসা করলে মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থাসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।অভিযানে সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা।ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল করে কোনো অবৈধ দোকান পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। একইভাবে সড়ক দখল করে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’তিনি বলেন, এই অভিযান কাউকে হয়রানি করা বা শুধুমাত্র জরিমানা করার জন্য নয়। নগরের শৃঙ্খলা, জনস্বার্থ এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য। যারা আইন ও সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অমান্য করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে মামলা দায়েরসহ প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, গত ছয় মাস ধরে তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং গণবিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা নির্দেশনা অমান্য করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালিকা অনুযায়ী হকারদের নির্ধারিত স্থানে বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হকারি করার সুযোগ থাকবে না।‘হকার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ থাকবে, কিন্তু রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না’ যোগ করেন তিনি।একই সঙ্গে রিকশা ও ভাসমান মানুষের সমস্যাও ধারাবাহিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রশাসক।আগামী কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি। এসব অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল, ট্রেড লাইসেন্সের বৈধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধ স্থাপনা ও বিদ্যুতের অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে।অভিযানকালে প্রশাসক বিভিন্ন ফুটপাত, স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয় এবং ফুটপাত দখল করে স্থাপিত অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য সামগ্রী অপসারণ ও বাজেয়াপ্ত করা হয়।ডিএসসিসি জানিয়েছে, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট কমানো, ফুটপাতের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ৮৬৮ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে (উত্তর ও দক্ষিণ) ১৬৬ জন, ঢাকা বিভাগে (মহানগরে বাহিরে) ১৫০ জন, বরিশাল বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৯ জন, খুলনা বিভাগে ২০৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন রয়েছেন।চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৩০ হাজার ৭৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দুই হাজার ৮৩ জন।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৩২ হাজার ২৪৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি মাসে আক্রান্ত ১৬ হাজার ৯৩৮ জন।আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী আর মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ মহিলা। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর আগে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত ছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।এছাড়া ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক নেতা মুহাম্মদ কাদের গনি। তাকে এক বছরের জন্য এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন, ২০১৮ এর ধারা ১০(১) অনুযায়ী মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হলো।এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেছেন, উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তিদের উচ্চপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়াই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু বাংলাদেশে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের মেধা, যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রকৌশলীদের চাকরির সুযোগও দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ‘প্রকৌশলী অধিকার দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘জাতীয় প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সার্বিক সহযোগিতায় প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন এ সম্মেলনের আয়োজন করে।রিজভী বলেন, ‘একটি দেশকে উন্নত করতে হলে সেই দেশের প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের গুরুত্ব বাড়াতে হবে।’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, চীন একটি উন্নয়নশীল দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এর পেছনে দেশটির প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণায় প্রকৌশলীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এসব ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের কাজে লাগানো ছাড়া একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়।‘মেরিটোক্রেসি, মবোক্রেসি নয়’বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকেও এগিয়ে নিতে হলে মেরিটোক্রেসি বা মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মেধার পরিবর্তে মবোক্রেসি বা জনতার চাপ ও প্রভাবনির্ভর ব্যবস্থা বাড়তে দেওয়া যাবে না।’তাঁর মতে, একজন প্রকৌশলীকে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে দায়িত্ব ও পদ দিতে হবে। যোগ্যতার পরিবর্তে অন্য কোনো বিবেচনায় দায়িত্ব বণ্টন করা হলে তা শুধু প্রকৌশলীদের জন্য বৈষম্য তৈরি করবে না, দেশের উন্নয়ন ব্যবস্থাকেও দুর্বল করবে।দেশের বড় প্রকল্পগুলোতে প্রকৌশলীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের সক্ষমতার বড় প্রমাণ তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এটি প্রমাণ করে যে দেশের প্রকৌশলীরা বড় ও জটিল জাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম।‘তাই তাঁদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে’—বলেন তিনি।গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোরদেশের প্রতিটি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে প্রকৌশলীদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।রিজভী বলেন, ‘মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, প্রকৌশলীদের সুযোগ বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক উন্নয়ন—এই তিনটির সমন্বয়েই বাংলাদেশকে টেকসইভাবে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’প্রকৌশলীদের অধিকার নিয়ে যা বললেন অন্যরাসম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও বৈষম্য দূর করার দাবির প্রতি সমর্থন জানান।তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে শুধু আলোচনা নয়, সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই সমাধান বের করতে হবে। বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত পদ দিন দিন কমে যাওয়া উদ্বেগজনক। প্রশাসন ও উন্নয়ন ব্যবস্থায় প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও জ্ঞান কাজে লাগাতে তাঁদের উপযুক্ত পদ ও সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) বলেন, গত এক বছরে প্রকৌশলীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও দাবি উত্থাপন করা হলেও তাঁদের প্রত্যাশিত অধিকার ও মর্যাদা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবটিক্স, বিগ ডাটা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের মধ্য দিয়ে উচ্চপ্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এসব প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা, নকশা, বাস্তবায়ন ও তদারকিতে যোগ্য প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এতে প্রকল্পের মান, সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।তিনি আরও বলেন, যথাযথ মূল্যায়ন, কর্মসংস্থান, গবেষণা ও নেতৃত্বের সুযোগ না থাকায় মেধাবী প্রকৌশলীদের অনেকে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এ মেধা পাচার বন্ধে দেশে প্রকৌশলীদের জন্য মেধা ও যোগ্যতাভিত্তিক সুযোগ তৈরি করতে হবে।সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি প্রকৌশলী এম ওয়ালি উল্লাহ। তিনি দাবি করেন, সহকারী প্রকৌশলী পদে ৬৭ শতাংশ নিয়োগের বিধান থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৩৩ শতাংশ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বাকি পদগুলো পদোন্নতি কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন না, অথচ অন্যান্য পদে আবেদন করতে পারছেন। এ ধরনের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা প্রকৌশলীদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।বিসিএসে প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত পদ কমে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।সম্মেলনে আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ টি এম তানবীর-উল হাসান (তমাল), সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান, সম্মানী সম্পাদক (ঢাকা কেন্দ্র) প্রকৌশলী কে এম আসাদুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান (একাডেমিক ও এইচআরডি) প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী রবিউল আলম উজ্জ্বলসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল। এতে আইইবির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
একদিকে বাজারে আলুর দাম কম, অন্যদিকে হিমাগারে সংরক্ষণে বাড়তি খরচ—দুই দিকের চাপে বিপাকে পড়েছেন বগুড়ার আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হলেও বর্তমানে বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।কৃষকদের অভিযোগ, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য কতিপয় হিমাগার কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিকভাবে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি সংরক্ষণ ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসান আরও বাড়ছে।এ অবস্থায় যৌক্তিক হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ ও ভাড়া কমানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় বগুড়া শহরের মাটিডালি বিমান মোড় এলাকায় মানববন্ধন, সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা।কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারদর ও সংরক্ষণ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ করা না হলে আলু উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাবে। তাই কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত ভাড়া পুনর্নির্ধারণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।তবে সংশ্লিষ্ট হিমাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাড়া কমানো হলে হিমাগার মালিকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কৃষক ও ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সান্তিয়াগো বার্নাবুতে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, ভিনিসিয়ুসের গোল আর অ্যাসিস্টে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এর মধ্য দিয়ে নতুন মৌসুম ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে ক্লাবটি।২৬ আগস্ট বুধবার রাতে লা লিগায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এই দাপুটে জয় নিশ্চিত করে টেবিলের শীর্ষ স্থানেই থাকল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণের ঝড় তোলে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস আক্রমণ সাজালেও সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরোর দৃঢ়তায় গোলের মুখ দেখতে পায়নি এই জুটি। পাল্টা আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণভাগে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন রিয়াল সোসিয়েদাদের স্প্যানিশ খেলোয়াড় মিকেল ওয়ারজাবাল, যদিও বেলজিয়ামের থিবো কুর্তোয়ার দুর্দান্ত সেভে সে যাত্রা রক্ষা পায় স্বাগতিকরা।ম্যাচের ৪০তম মিনিটে মাদ্রিদ অধিনায়ক ফেদে ভার্লভার্দের বানানো পাস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটান এমবাপ্পে। এরপর জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে লা-লিগার এবারের মৌসুমে প্রথম গোল পূর্ণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।তবে রিয়ালের উদযাপনের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র চার মিনিট। ৪৪তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে থিবো কুর্তোয়াকে পরাস্ত করে স্কোরবোর্ড ১-১ সমতায় আনেন সুচিচ। ১-১ সমতায় নিয়ে বিরতিতে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ৬০ মিনিটে জুড বেলিংহামের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে।আক্রমণের ধারা বজায় রেখে ৬৮তম মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মধ্যমাঠে বেলিংহাম প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বক্সের ভেতর পাস বাড়ালে সেখান থেকে সহজেই লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।ম্যাচের ৮০তম মিনিটে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন এমবাপ্পে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাটমেগ পাস থেকে বল পেয়ে সোসিয়েদাদ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ চিপে গোল করে দলকে ৪-১ গোলের জয় এনে দেন এই তারকা।
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে ডনের পক্ষে তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান।গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।এদিকে গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন। ডনের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার।প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এর আগে গত ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি। অভিনয়ের দক্ষতা এবং সাবলীল উপস্থাপনায় তিনি খুব অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের বাইরেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং চিন্তাধারা নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি নতুন ছবি প্রকাশ করে পূজা চেরি এক গভীর অনুভূতির কথা জানিয়েছেন, যা তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার এক অনন্য প্রকাশ ঘটিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা চেরি। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, "নিজের অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি, যার কল্পনা আমি একসময় করতাম।"ছবিটিতে পূজা চেরিকে বেশ চমৎকার একটি লুকে দেখা গেছে। তিনি একটি সাদা রঙের শার্ট এবং নীল রঙের জিন্স পরে আছেন। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং আঙুলে রিং রয়েছে। তাঁর চোখে রয়েছে স্টাইলিশ রোদচশমা (সানগ্লাস)। তিনি হাত দিয়ে একটি মিষ্টি "ফিঙ্গার হার্ট" পোজ তৈরি করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।তার এই ছবি দেখে ভক্তরা ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই তার এই পরিণত চিন্তাধারা এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের প্রশংসা করছেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে ব্যস্ততা থাকলেও, নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা পূজার ভক্তদের জন্য সবসময়ই এক দারুণ অনুপ্রেরণা।শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে পথচলা শুরু করা পূজা চেরি পরবর্তীতে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিশেষ করে 'পোড়ামন ২' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর থেকে 'দহন' সহ বিভিন্ন ব্যবসা সফল ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বড়পর্দা কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সবখানেই পূজার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছে।
চলচ্চিত্র নির্মাণের পর পোস্ট-প্রডাকশন থেকে শুরু করে দর্শকের কাছে সিনেমা পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্মাতা, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখি-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী ‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালা।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে আয়োজিত এ কর্মশালায় মেন্টর হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তপু খান, শাকিব খান অভিনীত আমিই বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের পরিচালক। বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্র শিল্পে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে চলচ্চিত্রের নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, দর্শক সম্পৃক্ততা, চলচ্চিত্র বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও বাণিজ্যিক কৌশল নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।কর্মশালায় চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রডাকশন পরবর্তী ধাপ, ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরের ভূমিকা, ডিস্ট্রিবিউশন স্ট্র্যাটেজি, হল নির্বাচন ও বুকিং, প্রযোজক-পরিবেশক-প্রদর্শকের সম্পর্ক, চলচ্চিত্রের বিপণন ও দর্শক তৈরি, রেভিনিউ শেয়ারিং এবং কমার্শিয়াল পজিশনিংসহ চলচ্চিত্র বিতরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।কর্মশালার একটি বিশেষ সেশনে ‘সিনেমা পরিবেশনা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক’ বিষয়ে আলোচনা করেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা। চলচ্চিত্রের নির্মাণ থেকে দর্শকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাদার যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।কর্মশালায় বিশেষ গুরুত্ব পায় সারা বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের বিস্তৃত ডিস্ট্রিবিউশনের প্রয়োজনীয়তা। আলোচনায় বলা হয়, চলচ্চিত্রের দর্শক শুধু ঢাকা বা বড় শহরকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলেও রয়েছে সম্ভাবনাময় দর্শক। তাই একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য শুধু নির্মাণের মানের ওপর নির্ভর করে না—সঠিক ডিস্ট্রিবিউশন পরিকল্পনার মাধ্যমে কত বিস্তৃত দর্শকের কাছে চলচ্চিত্রটি পৌঁছাতে পারছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।আলোচনায় ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের নৈতিকতা বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। স্বচ্ছ রাজস্ব বণ্টন, সঠিক বক্স অফিস রিপোর্টিং, ন্যায্য স্ক্রিন বরাদ্দ, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা, কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষা এবং চলচ্চিত্রের অনুমোদিত সংস্করণ প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জনাব ম. জাভেদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আলী সরকার।এছাড়া কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি (BUFT) এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে হলে শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণ নয়; পোস্ট-প্রডাকশন, বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রদর্শন—পুরো চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেমকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ কর্মশালার মাধ্যমে নতুন ও সম্ভাবনাময় নির্মাতা, প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের চলচ্চিত্রের নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, বাজার ও ডিস্ট্রিবিউশন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও পেশাগত ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য কুমিল্লায় বসছে দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব। ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে দেশীয় চলচ্চিত্রকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব আয়োজন করেছে ‘১ম কুমিল্লা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’। আগামী ২৮ ও ২৯ আগস্ট কুমিল্লা কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব।দুই দিনের আয়োজনে থাকছে মোট ছয়টি চলচ্চিত্র। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনটি করে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। সাধারণ দর্শকদের কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিদিনের টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। একটি টিকিটেই ওই দিনের তিনটি চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ থাকছে। অনলাইন ও উৎসবের ভেন্যু—দুই জায়গা থেকেই টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।উৎসবের প্রথম দিন ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় আকাশ হক পরিচালিত ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আয়োজন। এরপর সন্ধ্যা ৫-৩০ মিনিটে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জীবন শাহাদাৎ পরিচালিত ‘নেমপ্লেট’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘গলুই’ প্রদর্শিত হবে।দ্বিতীয় দিন ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় পর্দায় উঠবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘লাল শাড়ি’। বিকেল সাড়ে ৫-৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে সুপিন বর্মন পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এ লেটার অব পোস্টমাস্টার’। উৎসবের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দেখানো হবে খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাতাও’।আয়োজনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য। বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র থাকায় দর্শক দুই দিনে ভিন্ন স্বাদের বেশ কিছু কাজ দেখার সুযোগ পাবেন। ফলে এটি শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, দেশীয় চলচ্চিত্রের নানা ধরনের নির্মাণ ও গল্প বলার ধরন সম্পর্কে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতাও দিতে পারে।ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বড়ুয়া মনোজিত ধীমন জানান, রাজধানীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পরিসর তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সেই জায়গা থেকে কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো এ উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব। স্থানীয় দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহমুখী করার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা ও আগ্রহ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের জন্য উৎসবটি হয়ে উঠতে পারে দেশীয় চলচ্চিত্রকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ। এক টিকিটে তিনটি চলচ্চিত্র দেখার সুবিধা এবং তুলনামূলক কম টিকিটমূল্য তরুণদের উৎসবে টানতে পারে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা, সংগঠক ও দর্শকদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিরও একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে।কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স নিবেদিত এ উৎসব আয়োজন করছে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব। সহযোগী সংগঠন হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ, কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কল্যাণ সোসাইটি ও বেঙ্গল ফিল্ম সোসাইটি। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দুই দিনের এ আয়োজন কুমিল্লায় চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করবে।শুধু কুমিল্লায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের অন্যান্য শহরেও এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে পড়লে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিকল্প পরিসর আরও সমৃদ্ধ হবে। প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শনীর পাশাপাশি উৎসবভিত্তিক আয়োজন দর্শকদের ভিন্নধারার চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ তৈরি করে। সেই বিবেচনায় ‘১ম কুমিল্লা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’ দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক তৈরির ধারায় একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘুরতে বেশ ভালোবাসেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে কখনো পাহাড়, কখনো সমুদ্র কিংবা ঝরনার সৌন্দর্যে সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। সেই মুহূর্তগুলো ভিডিও কিংবা ছবি- ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নেন এই নায়িকা।বর্তমানে সিনেমার শুটিংয়ের কাজে নেপালে রয়েছেন অপু বিশ্বাস। কাজের ফাঁকে সেখানকার পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে তাকে। তবে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালেই হঠাৎ সমুদ্রতটের আবহে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি।ছবিগুলোর পটভূমি কোথাকার, তা অবশ্য জানাননি অপু। বলে রাখা ভালো, নেপালে কোনো সমুদ্র সৈকতও নেই। তবে ছবিতে তার সাজপোশাকই যেন কেড়ে নিয়েছে সবার নজর। মাথায় ক্যাপ, চোখে রোদচশমা আর পরনে স্লিভলেস কালো ক্যাজুয়াল টপ—পুরো সাজেই ছিল ওয়েস্টার্ন ও স্টাইলিশ ছাপ।খোলামেলা চুল, মুখে হালকা হাসি আর কালো পোশাকে অপুর উপস্থিতি ছবিগুলোকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। নান্দনিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে তোলা এসব ছবিতে বেশ সাবলীলভাবেই ধরা দিয়েছেন তিনি।সকাল সকাল অপুর এমন স্টাইলিশ লুক প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভিড় করেছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। নানা প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন প্রিয় নায়িকাকে।
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ কলকাতার পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে। আগামী ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার নন্দনে অনুষ্ঠিতব্য এ উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত নয়টি প্রামাণ্যচিত্রের একটি। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরী ৬৬ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রটি ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়া—ইস্টার্ন রিজিয়ন আয়োজিত এ উৎসবে সেরা ও দ্বিতীয় সেরা প্রামাণ্যচিত্রের জন্য হরিসাধন দাশগুপ্ত গোল্ডেন ও সিলভার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। কলকাতায় প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ছবিটির ভারতীয় প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে।পরিচালক মকবুল চৌধুরী পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন। এ সময়ে তিনি ঢাকা, কলকাতা, প্যারিস ও নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে নাসির আলী মামুনের শিল্পীজীবন ও সৃজনযাত্রা অনুসরণ করেছেন। তাঁর শিল্পকর্মের পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মামুনের সম্পর্ক ও যোগাযোগও উঠে এসেছে প্রামাণ্যচিত্রটিতে।ছবিতে কলকাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিশেষভাবে উপস্থিত হয়েছে। কলকাতাকে ঘিরে প্রামাণ্যচিত্রটিতে সাক্ষাৎকার রয়েছে প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ, প্রয়াত চিত্রশিল্পী রবীন মণ্ডল, চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী এবং গণেশ হালই-এর।প্রামাণ্যচিত্রটিতে নাসির আলী মামুনের সৃজনযাত্রার একটি চিন্তাশীল ও শিল্পসম্মত দলিল তুলে ধরা হয়েছে। আলো ও ছায়ার অনন্য আন্তঃসম্পর্কে গড়ে ওঠা তাঁর শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে কীভাবে মানবমুখের ভেতর ইতিহাসের গভীর সত্যকে ধারণ করা যায়, চলচ্চিত্রটি সেই শিল্পভাষার অনুসন্ধান করেছে।‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ ২০২৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ২৮তম টাঙ্গস অন ফায়ার, ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার লাভ করে।
বাংলাদেশের মেনসওয়্যার ব্র্যান্ড জেন্টলম্যান’স ওয়ার্ড্রোব (GW) আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল খাতের পেশাজীবীদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সম্মান জানাতে নিয়ে এসেছে ব্যাংকার্স উইক। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ব্যাংক, নন-ব্যাংক ফিনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই), মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীরা জেন্টলম্যান’স ওয়ার্ড্রোবের মিরপুর ডিওএইচএস ও ধানমন্ডি আউটলেট থেকে রেডি-টু-ওয়্যার ও কাস্টম টেইলারিংসহ সব পণ্যে ২০% ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। “আমরা সচেতনভাবে কখনো ব্যাংকারদের একটি কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করিনি। সময়ের সঙ্গে আমরা বুঝতে পেরেছি, আমাদের অনেক ব্যাংকারের সঙ্গে কাজ করার এবং তাদের স্টাইল করার সুযোগ হয়েছে। ব্যাংকার্স উইক তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সম্মান জানানো এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় মাত্র ,” বলেছেন জেন্টলম্যান'স ওয়ার্ড্রোবের ফাউন্ডার ও সিইও শাবাব দ্বীন শারেক।ক্যাম্পেইনে আধুনিক পেশাজীবীদের পোশাকের চাহিদা মাথায় রেখে স্যুট, ব্লেজার, ফরমাল শার্ট ও ট্রাউজারসহ বিভিন্ন ক্লাসিক ও ভার্সেটাইল মেনসওয়্যার রাখা হয়েছে।
সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার নামে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে ঋণ আদায়ের সময় হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।বিএফআইইউ জানিয়েছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা বৈধ নয়। মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার জন্য এসব অননুমোদিত মাধ্যমকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।সংস্থাটি বলেছে, অননুমোদিত ঋণ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ঋণের অর্থ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, অননুমোদিত আর্থিক লেনদেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির ঝুঁকি বাড়ছে।বিএফআইইউর মতে, এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ এবং অর্থপাচারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ অর্থপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য।এ অবস্থায় অপরিচিত কোনো মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ। ঋণের প্রলোভনে কোনো অপরিচিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা মোবাইল ফোনে থাকা সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।এ ছাড়া ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং ফি বা অন্য কোনো অর্থ দাবি করা হলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। বিএফআইইউর নজরে এখন পর্যন্ত ৩১টি অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপের তথ্য এসেছে। এসব অ্যাপের মধ্যে রয়েছে—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈয্য লোন, ফিন ডট ডু, টাকা ক্যাশ লোন, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও অ্যাপ।বিএফআইইউ জানিয়েছে, অননুমোদিত কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নিয়ে প্রতারণার শিকার হলে বা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য থাকলে তা সংস্থাটিকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্টদের এসব অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি ফ্রাইড চিকেনের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে জানা গেছে।স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউনসভিলের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামক দোকানে এই ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্দুকধারী দোকানে প্রবেশ করে গুলি চালালে সেখানে কর্মরত দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের একজনের পায়ে গুলি লাগে এবং অপরজন রাজু বুকে গুলিবিদ্ধ হন।গুরুতর আহত উভয়কে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালের নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। আহত অপর বাংলাদেশি চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয় রকঅ্যাওয়ে এভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছাকাছি অবস্থিত রেস্তোরাঁয় দুর্বৃত্তদের হামলায় দুইজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত রাজুর দেশের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।রাজুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগে উন্নত ও নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবন শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হলো।এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
গ্লোবাল ইনোভেটিভ টেকনোলজি ব্র্যান্ড টেকনো বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা হামজা চৌধুরীকে, টেকনো বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফুটবল ও প্রযুক্তিকে একসঙ্গে নিয়ে তরুণদের আরও কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই টেকনোর সঙ্গে যুক্ত হলেন হামজা। এই পার্টনারশিপের সঙ্গে মিল রয়েছে টেকনোর ‘স্টপ অ্যাট নাথিং’ স্লোগান যা কোনো বাধায় থেমে না গিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাকে ধারণ করে। পেশাদার ফুটবলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্তের পর দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে হামজা এখন অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় নাম। মাঠে তার দৃঢ়তা, পারফরম্যান্স এবং লড়াকু মানসিকতা বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক আগ্রহ। দেশের ফুটবল ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এই পার্টনারশিপের ঘোষণা দিল টেকনো। ব্র্যান্ডটি ‘টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬’ -এর টাইটেল স্পন্সর। হামজাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল ও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে টেকনোর সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হবে। টেকনো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইস্মার্ট ইউ টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের সিইও রেজওয়ানুল হক বলেন, “হামজার মধ্যে আমরা যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দৃঢ়তা এবং প্রতিনিয়ত সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা দেখি, তা টেকনোর ‘স্টপ অ্যাট নাথিং’ স্লোগানের সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যায়। হামজা এখন টেকনো পরিবারের অংশ। সামনে ‘টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬’ -ও রয়েছে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে প্রযুক্তি ও ফুটবলকে আরও কাছাকাছি এনে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নতুন ও আকর্ষণীয় কিছু অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চাই আমরা।” এই পার্টনারশিপের আওতায় টেকনোর বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও প্রোডাক্ট ক্যাম্পেইনে দেখা যাবে হামজাকে। আপকামিং ক্যামন সিরিজের পাশাপাশি ফুটবলভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্ট, বিভিন্ন ফ্যান অ্যাক্টিভেশন ও কনজ্যুমার ক্যাম্পেইনেও যুক্ত থাকবেন তিনি। একই সঙ্গে এ আই-নির্ভর স্মার্টফোন প্রযুক্তি ও উন্নত ইমেজিং নিয়ে কাজ করছে টেকনো। হামজার সঙ্গে এই পথচলায় স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফুটবলের বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ এবং ভক্তদের জন্য নতুন ধরনের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেবে ব্র্যান্ডটি। টেকনোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে হামজা চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ আমার কাছে খুবই বিশেষ। এখানকার মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তা সত্যিই অসাধারণ। টেকনো বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। সব সময় সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার যে বিশ্বাস, সেটির সঙ্গে আমি নিজেকে মেলাতে পারি। সামনে ভক্তদের জন্য একসঙ্গে দারুণ কিছু করার অপেক্ষায় আছি।” আগামী মাসগুলোতে হামজাকে নিয়ে বেশ কিছু ক্যাম্পেইন, ফুটবলভিত্তিক কনটেন্ট ও ফ্যান অ্যাক্টিভেশন নিয়ে আসবে টেকনো। মাঠের খেলা থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে টেকনো ও হামজার এই নতুন পথচলা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি