ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বোতলজাত প্রতি লিটার তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এ দাম নির্ধারণ করে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে পামওয়েলের দাম।তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়শেন।বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের বর্তমান মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বাজারে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে। তবে বাড়ানো হয়নি পামওয়েলের দাম।এতদিন প্রতি লিটার বোতলজাত ভোজ্য তেলের সরকারি মূল্য ছিল ১৯৯ টাকা। গত ২৯ এপ্রিল লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।সেদিন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী আবদুল মুক্তাদির এ দাম ঘোষণা করেছিলেন। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এবার এক লাফে লিটারে বাড়ল পাঁচ টাকা।দুই দিন আগেই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ। এর দুদিন না যেতেই বাড়ল ভোজ্য তেলের দাম।
সংক্রামক রোগ হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও চারজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৯৭ জন।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯৮৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গে ৮৮৪ জন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অন্যজন ময়মনসিংহ বিভাগের।অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ৬৩ জন এবং হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে।স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানাচ্ছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪ জন এবং নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৪৭। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৭ জন।এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়। আর আক্রান্ত হয় ১ হাজার ২৩১ জন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে গোপনে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইরান। আর এই প্রকল্পে তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে এই এ তথ্য উঠে এসেছে। ফাঁস হওয়া রুশ নথি, ভ্রমণ রেকর্ড ও সামরিক পেটেন্ট বিশ্লেষণ করে তদন্ত করতে গিয়ে এ তথ্য পেয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।প্রতিবেদন বলা হয়, ২০২৩ সালে রাশিয়া-ইরানের এই গোপন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়, যার সাংকেতিক নাম- সি৪৩০এল। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি র্যামজেটচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা, যা শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে উড়তে পারবে। র্যামজেট প্রযুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডল থেকে বাতাস টেনে নিয়ে উচ্চ গতিতে দীর্ঘ সময় উড্ডয়ন করতে পারে।সামরিক বিশেষজ্ঞরা মতে, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মূলত যুদ্ধজাহাজ ও স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। উচ্চ গতি ও তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড্ডয়নের সক্ষমতার কারণে এগুলো শনাক্ত ও প্রতিহত করা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের জন্য এটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান- ‘রোসোবোরোনএক্সপোর্ট’ প্রকল্পটির সমন্বয় করছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়া।প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক চুক্তি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত হয় বলে নথিতে দেখা গেছে। এর আগে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার ইরান সফর করেন।শুধু প্রযুক্তিগত পরামর্শ নয়, রুশ বিশেষজ্ঞরা ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিনের জ্বালানি ব্যবস্থা, দহন স্থিতিশীলতা, বায়ু প্রবেশপথ ও নোজল নিয়ে ইরানের সঙ্গে কাজ করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রায় দুই ডজন রুশ বিশেষজ্ঞকে ইরানে পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীতে মোতায়েন হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইরান র্যামজেট প্রযুক্তি তৈরি ও পরীক্ষা করেছে; কিন্তু রুশ সহায়তায় তৈরি পূর্ণাঙ্গ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখনো কার্যকরভাবে মোতায়েনের পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতা রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ইরানের শাহেদ ড্রোন সরবরাহের পর এবার মস্কোর কাছ থেকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি পাওয়ার মাধ্যমে তেহরান নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়াতে চাইছে।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, দ্য প্রিন্ট
সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। সঙ্গে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও দেশে ফিরেছেন।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।পারিবারিক ও বিএনপির মিডিয়ার সেল সূত্র জানায়, এদিন কুয়ালামপুরের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মির্জা আব্বাসকে বহনকারী ফ্লাইটটি বিমানবন্দর ছেড়ে আসে।এদিকে, বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার আগমনকে ঘিরে সন্ধ্যার পর থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।তাকে স্বাগত জানাতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেন।এ সময় নেতাকর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা ও ব্যানারও দেখা গেছে।নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা মির্জা আব্বাসের আগমনে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিমানবন্দরে এসেছেন। তাকে স্বাগত জানিয়ে দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে চান নেতাকর্মীরা।প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৫ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাকে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস। তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।
জাতীয় সংসদে প্রশ্ন জমা দেওয়ার জন্য অতীতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা আগের রাতেই বিছানাপত্র নিয়ে অফিসের সামনে অবস্থান করতেন বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বিরোধী দলের সদস্যদের প্রশ্ন করার সুযোগ নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে সংসদের পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করে এ তথ্য জানান তিনি।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পর স্পিকার এ স্মৃতিচারণ করেন।স্পিকার বলেন, ‘আমার পরিষ্কার মনে আছে, অতীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বিছানাপত্র নিয়ে আগের রাতেই প্রশ্ন জমা দেওয়ার অফিসের সামনে পজিশন নিতেন। আরও দুই-একজন সদস্য আছেন, যারা আগের রাতে সেখানে শুয়ে থাকতেন। এ ছাড়া অনেক সদস্য তাদের প্রাইভেট সেক্রেটারিকে সেখানে পাঠাতেন।’তিনি বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা আগে থেকেই এসে নিজেদের অগ্রাধিকার বা সিরিয়াল নিশ্চিত করতেন। দীর্ঘদিনের এই রীতি ও নিয়ম অনুসরণ করে বিরোধী দলের সদস্যদেরও আগেভাগে প্রশ্ন জমা দেওয়ার চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি।একইসঙ্গে বিরোধী দলের প্রশ্ন করার সুযোগের বিষয়টি ভবিষ্যতে যথাযথভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন স্পিকার।এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের কম সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নই এবার সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে এসেছে।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে প্রশ্নোত্তর রাখা হয়েছে, সেখানে আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নই সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যদের। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আগে আপনি আমাদের চারটি সুযোগ দিলেও আজকে আটটির সবগুলোই ছিল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের।’সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যত বেশি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন, সংসদের জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তত বেশি শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যতে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩০০*) হাঁকিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ৪৫০ বলের এক মহাকাব্যিক ও ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নেন তিনি।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চোখধাঁধানো ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ট্রিপল সেঞ্চুরির মহাকাব্যিক ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেন এ ব্যাটার।অবশ্য যে মাঠে ত্রিশতক হাঁকিয়েছেন হৃদয়, এই মাঠ বাংলাদেশিদের কাছে এক অনন্য ভেন্যু। ২০২০ সালে এখানেই আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিল বাংলাদেশ। ছয় বছর পর এই ঐতিহাসিক মাঠেই বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৩০০ রানের অলৌকিক ইতিহাস লিখলেন বগুড়ার এ ব্যাটার।এই অবিস্মরণীয় ইনিংসের পথচলায় তিনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ২৩ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন হৃদয়। ২০০৩ সালে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটি দলের বিপক্ষে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ২১৮ রানের একটি স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন, যা এত দিন পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল। ম্যাচের প্রথম দিনে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই শাহরিয়ার বিদ্যুৎকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি।বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার ঘটনা এটি কেবল তৃতীয়। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে তামিম ইকবাল জাতীয় ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এবং ২০০৬-০৭ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রাকিবুল হাসান।তবে তামিম ও রাকিবুল— দুজনের রেকর্ডই ছিল দেশের মাটিতে ঘরোয়া প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যেখানে হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি বিদেশের মাটিতে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব (চুক্তিভিত্তিক) মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব (চুক্তিভিত্তিক) পদে পদায়ন করা হয়েছে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হককে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তিনিও চুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন।পৃথক প্রজ্ঞাপনে সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতির পর তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত অতিরিক্ত সচিব ডা. এ এন এম বজলুর রশিদকে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব করা হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজ ইয়াছমিন বেগমকে পদোন্নতি দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব করা হয়েছে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক গুম-খুনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক জানিয়েছেন, জিয়াউল আহসান মাঝরাতে বন্দি নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন চরদুয়ানি বাজারে আসতেন। বন্দিদের গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে গুলি করে হত্যা করা হতো, পরে সাংবাদিক ডেকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হতো।আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মাঝি আব্বাস মল্লিক জানান কীভাবে ২০১০ ও ২০১১ সালে র্যাবের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান বন্দিদের গুলি করে হত্যা করতেন এবং লাশ গুম করতে পেট কেটে ও সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দিতেন।মাঝরাতে বন্দি নিয়ে আসত র্যাবসাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক জানান, যেদিন এলাকায় অভিযান হতো সেদিন বিকেলে সাদা পোশাকে দুজন র্যাব সদস্য এসে স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখতে এবং বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র্যা বের ৪ থেকে ৫টি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে এসে থামত। ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের নিয়ে এসে ট্রলারে তোলা হতো। বোট ছাড়ার সময় র্যাব সদস্যরা সঙ্গে করে রশি ও সিমেন্টের বস্তা নিতেন।আব্বাস মল্লিকের জবানবন্দি অনুযায়ী, বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি বলেশ্বর নদী হয়ে গভীর পানির দিকে নিয়ে যাওয়া হতো। গভীর পানিতে যাওয়ার পর ট্রলারের গতি কমিয়ে দেওয়া হতো এবং ট্রলারের ভেতর থেকে চোখ-হাত বাঁধা বন্দিদের বের করে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্ট নামের অংশে বন্দিকে দুইজন র্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান নিজে এসে ওই বন্দির মাথায়, কানে অথবা বুকে গুলি করতেন।পেট চিরে ও বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ গুমগুলির পর মৃতদেহের গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। লাশ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য লাশ নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে ফেলা হতো। এরপর সুন্দরবনে নিয়ে অন্য বন্দিদের বোট থেকে নামিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হতো এবং সাংবাদিকদের ডেকে থানায় লাশ হস্তান্তর করা হতো।হত্যাকাণ্ড শেষে বরফ মিলে ফিরে আসার পর মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন আব্বাস মল্লিক।নিখোঁজ ছোট ভাই আলকাছপ্রত্যক্ষদর্শী এই মাঝি ট্রাইব্যুনালে তার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। কিন্তু র্যাবের এই বর্বর কর্মকাণ্ডের কথা আলকাছ বাজারে আলোচনা করায় স্থানীয় অন্য বোটের মালিকরা তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, র্যাব তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে।পরে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ। কারণ, র্যাব থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়েছিল যে, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা মানিকখালীতে ডেকেছেন। ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আজ পর্যন্ত তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।ঘটনার পর খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল এবং ঢাকার র্যাব কার্যালয়ে ঘুরেও ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাননি আব্বাস মল্লিক। পাথরঘাটা থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ সেখানে জিয়াউল আহসান ও র্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায় বলে সাক্ষ্যে উঠে আসে। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় উপস্থিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে সরাসরি শনাক্ত করে আব্বাস মল্লিক ট্রাইব্যুনালের কাছে তার ছোট ভাই নিখোঁজের বিচার দাবি করেন।
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক নাজমুজ্জামান ভুইয়া।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানা গেছে।প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, নাজমুজ্জামান ভুইয়াকে পাঁচ বছরের জন্য পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে চালু ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।একইসঙ্গে কৃষি, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন মির্জা ফখরুল।রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিয়োগসহ প্রশাসনে বড় রদবদল করেছে সরকার। এ ছাড়া তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব হিসেবে দুই মন্ত্রণালেয়ের তিন দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব পদোন্নতি ও বদলির আদেশ দেওয়া হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হককে বদলি করে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করা হয়েছে।এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম বজলুর রশীদকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সংষ্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত করা হয়েছে। আর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। সঙ্গে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও দেশে ফিরেছেন।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।পারিবারিক ও বিএনপির মিডিয়ার সেল সূত্র জানায়, এদিন কুয়ালামপুরের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মির্জা আব্বাসকে বহনকারী ফ্লাইটটি বিমানবন্দর ছেড়ে আসে।এদিকে, বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার আগমনকে ঘিরে সন্ধ্যার পর থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।তাকে স্বাগত জানাতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেন।এ সময় নেতাকর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা ও ব্যানারও দেখা গেছে।নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা মির্জা আব্বাসের আগমনে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিমানবন্দরে এসেছেন। তাকে স্বাগত জানিয়ে দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে চান নেতাকর্মীরা।প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৫ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাকে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস। তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ে আসার পর অভিভাবকেরা তাঁকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পরিস্থিতি দেখতে বিদ্যালয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ হন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদও।সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে এ পরিস্থিতি চলে। পরে পুলিশ গিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপদে বের করে আনে।স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায় ওই ছাত্রী।এরপর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। বুধবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে এলে কয়েকজন অভিভাবক তাঁকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।পরে ওই ছাত্রীর বাবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, শিক্ষকের আচরণে তারা অস্বস্তি বোধ করত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছে।কয়েকজন অভিভাবক দাবি করেন, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার সময় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়েছিল কি না বা তদন্তের ফল কী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় তাঁদের বের করে দেওয়া হয়।তিনি বলেন, আগেও দুটি বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা শুনেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই শিক্ষক যেন আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি কখনো ভাবেননি ওই শিক্ষক এমন আচরণ করতে পারেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে বের করে আনে।অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩০০*) হাঁকিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ৪৫০ বলের এক মহাকাব্যিক ও ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নেন তিনি।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চোখধাঁধানো ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ট্রিপল সেঞ্চুরির মহাকাব্যিক ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেন এ ব্যাটার।অবশ্য যে মাঠে ত্রিশতক হাঁকিয়েছেন হৃদয়, এই মাঠ বাংলাদেশিদের কাছে এক অনন্য ভেন্যু। ২০২০ সালে এখানেই আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিল বাংলাদেশ। ছয় বছর পর এই ঐতিহাসিক মাঠেই বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৩০০ রানের অলৌকিক ইতিহাস লিখলেন বগুড়ার এ ব্যাটার।এই অবিস্মরণীয় ইনিংসের পথচলায় তিনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ২৩ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন হৃদয়। ২০০৩ সালে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটি দলের বিপক্ষে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ২১৮ রানের একটি স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন, যা এত দিন পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল। ম্যাচের প্রথম দিনে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই শাহরিয়ার বিদ্যুৎকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি।বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার ঘটনা এটি কেবল তৃতীয়। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে তামিম ইকবাল জাতীয় ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এবং ২০০৬-০৭ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রাকিবুল হাসান।তবে তামিম ও রাকিবুল— দুজনের রেকর্ডই ছিল দেশের মাটিতে ঘরোয়া প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যেখানে হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি বিদেশের মাটিতে।
এ প্রজন্মের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মডেল তাসরিন ইসলাম রশনি। এবার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘ফুলের বিয়ে’। এটি নির্মাণ করেছেন রুবেল আনুশ।তিনি ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ফ্যাশন মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে ফটোশুট ও মিউজিক ভিডিওতেও নিয়মিত কাজ করছেন এই মডেল।‘ফুলের বিয়ে’ নাটকে রশনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি ও জুনায়েদ বোগদাদী। এসকে মিডিয়া পিআর প্রযোজিত নাটকটির শুটিং এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে।নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তাসরিন ইসলাম রশনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছি। কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো ছিল। কাজটি খুব সুন্দর হয়েছে। আমার ইচ্ছা মডেলিং ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করা। এছাড়াও নতুন কিছু কাজ নিয়ে কথা চলছে। মডেলিং ও অভিনয়ের সব মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাশন মডেলিং নিয়ে আমার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের পরিচিতি বাড়ানো। আমি চাই বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের মঞ্চে তুলে ধরতে। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সব মাধ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’নাটকে অভিষেকের মধ্য দিয়ে মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান তাসরিন। সামনে ভালো গল্প ও চরিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান তিনি।
নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। নিখোঁজ আছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। চরম এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে আটকে পড়েছিলেন ঢাকাই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো ইউনিট। তবে অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা। পরিস্থিতি বিবেচনা ও মানবিক দিক চিন্তা করে নেপালের শুটিং শিডিউল স্থগিত রেখে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগটি ঘটে। কাকতালীয়ভাবে তাদের পরিকল্পনা ছিল ২৭ আগস্ট একই পথ দিয়ে যাত্রা করার। ভ্রমণের সময় একদিন পর হওয়ায় অলৌকিকভাবে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং টিম।ভয়ংকর সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে অপু বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’দুর্ভোগের মাঝে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এই নায়িকা বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল। ছবিতে অপুর পাশাপাশি অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও। যখন নেপালে বন্যা, ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির কথা খবরে আসতে থাকে, তখনই তাদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে ভক্তরা। গতকাল কলকাতা বিমানবন্দরে খরাজ পা রাখতেই ভক্ত সকলকে আশ্বস্ত করেন তারা নিরাপদে ছিলেন; তার ঘণ্টা কয়েক পর অপু বিশ্বাস ঢাকায় ফিরে সেখানকার অবস্থার কথা জানালেন।
চা বাগান ও পাহাড়ি গিরিপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে সম্পন্ন হয়েছে টেলিফিল্ম ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’-এর দৃশ্যধারণের কাজ। এটি রচনা ও প্রযোজনা করেছেন নির্মাতা মো: বোরহানুল আশেকীন (পেশাগত নাম: বোরহান খান)। খুব শীঘ্রই নাটকটি একটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।নাটকটি পরিচালনা করেছেন ফরিদ আহমেদ রনি। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলিনা শাম্মী, আল মামুন রূপান্তর, বাঁধন খান, রাজিব, ফাহাদ সরদার, রোহান সরকার, সাদিয়া আমিন একা, ইকফাত শেখ মারিয়া এবং ইমরান সানি। এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন এস এম রনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিমস ইন ফ্রেম’-এর ব্যানারে এটি নির্মিত হয়েছে।টেলিফিল্মটির গল্প প্রসঙ্গে প্রযোজক মো. বোরহানুল আশেকীন জানান, ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’ মূলত একটি গভীর ভাবনামূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে, যা দর্শকদের মনে দীর্ঘ রেখাপাত করবে। এর আগে তার প্রযোজনায় ও পরিচালনায় একাধিক টিভি সিরিজ, একক নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে।পরিচালনার পাশাপাশি বোরহান খান একজন লেখক। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো কাব্যগ্রন্থ ‘সবুজ প্রেম’, থ্রিলার উপন্যাস ‘অপারেশন কার্গো নিক্স’ এবং ‘শিশুর দেখা ৭১’।
দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। দিনটি উপলক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে স্মরণ করছেন বিশ্বের মুসলিমরা। দুই বাংলায় একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী জয়া আহসানও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভাবনার কথা শেয়ার করেছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন,‘ঈদে মিলাদুন্নবী- ভালোবাসা, শান্তি আর মানবতার পথে ফিরে আসার এক পবিত্র স্মরণ।’ জয়ার এই সংক্ষিপ্ত বার্তায় ভালোবাসা, শান্তি ও মানবতার গুরুত্ব উঠে এসেছে। পবিত্র এই দিনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মিরপুরের শাহ আলী মাজার এলাকা থেকেও জশনে জুলুসের র্যালি বের হয়। এ ছাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ অংশ নেন।
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে ডনের পক্ষে তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান।গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।এদিকে গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন। ডনের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার।প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এর আগে গত ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি। অভিনয়ের দক্ষতা এবং সাবলীল উপস্থাপনায় তিনি খুব অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের বাইরেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং চিন্তাধারা নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি নতুন ছবি প্রকাশ করে পূজা চেরি এক গভীর অনুভূতির কথা জানিয়েছেন, যা তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার এক অনন্য প্রকাশ ঘটিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা চেরি। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, "নিজের অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি, যার কল্পনা আমি একসময় করতাম।"ছবিটিতে পূজা চেরিকে বেশ চমৎকার একটি লুকে দেখা গেছে। তিনি একটি সাদা রঙের শার্ট এবং নীল রঙের জিন্স পরে আছেন। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং আঙুলে রিং রয়েছে। তাঁর চোখে রয়েছে স্টাইলিশ রোদচশমা (সানগ্লাস)। তিনি হাত দিয়ে একটি মিষ্টি "ফিঙ্গার হার্ট" পোজ তৈরি করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।তার এই ছবি দেখে ভক্তরা ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই তার এই পরিণত চিন্তাধারা এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের প্রশংসা করছেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে ব্যস্ততা থাকলেও, নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা পূজার ভক্তদের জন্য সবসময়ই এক দারুণ অনুপ্রেরণা।শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে পথচলা শুরু করা পূজা চেরি পরবর্তীতে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিশেষ করে 'পোড়ামন ২' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর থেকে 'দহন' সহ বিভিন্ন ব্যবসা সফল ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বড়পর্দা কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সবখানেই পূজার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছে।
বাংলাদেশের মেনসওয়্যার ব্র্যান্ড জেন্টলম্যান’স ওয়ার্ড্রোব (GW) আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল খাতের পেশাজীবীদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সম্মান জানাতে নিয়ে এসেছে ব্যাংকার্স উইক। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ব্যাংক, নন-ব্যাংক ফিনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই), মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীরা জেন্টলম্যান’স ওয়ার্ড্রোবের মিরপুর ডিওএইচএস ও ধানমন্ডি আউটলেট থেকে রেডি-টু-ওয়্যার ও কাস্টম টেইলারিংসহ সব পণ্যে ২০% ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। “আমরা সচেতনভাবে কখনো ব্যাংকারদের একটি কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করিনি। সময়ের সঙ্গে আমরা বুঝতে পেরেছি, আমাদের অনেক ব্যাংকারের সঙ্গে কাজ করার এবং তাদের স্টাইল করার সুযোগ হয়েছে। ব্যাংকার্স উইক তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সম্মান জানানো এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় মাত্র ,” বলেছেন জেন্টলম্যান'স ওয়ার্ড্রোবের ফাউন্ডার ও সিইও শাবাব দ্বীন শারেক।ক্যাম্পেইনে আধুনিক পেশাজীবীদের পোশাকের চাহিদা মাথায় রেখে স্যুট, ব্লেজার, ফরমাল শার্ট ও ট্রাউজারসহ বিভিন্ন ক্লাসিক ও ভার্সেটাইল মেনসওয়্যার রাখা হয়েছে।
ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বোতলজাত প্রতি লিটার তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এ দাম নির্ধারণ করে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে পামওয়েলের দাম।তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়শেন।বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের বর্তমান মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বাজারে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে। তবে বাড়ানো হয়নি পামওয়েলের দাম।এতদিন প্রতি লিটার বোতলজাত ভোজ্য তেলের সরকারি মূল্য ছিল ১৯৯ টাকা। গত ২৯ এপ্রিল লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।সেদিন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী আবদুল মুক্তাদির এ দাম ঘোষণা করেছিলেন। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এবার এক লাফে লিটারে বাড়ল পাঁচ টাকা।দুই দিন আগেই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ। এর দুদিন না যেতেই বাড়ল ভোজ্য তেলের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি ফ্রাইড চিকেনের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে জানা গেছে।স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউনসভিলের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামক দোকানে এই ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্দুকধারী দোকানে প্রবেশ করে গুলি চালালে সেখানে কর্মরত দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের একজনের পায়ে গুলি লাগে এবং অপরজন রাজু বুকে গুলিবিদ্ধ হন।গুরুতর আহত উভয়কে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালের নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। আহত অপর বাংলাদেশি চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয় রকঅ্যাওয়ে এভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছাকাছি অবস্থিত রেস্তোরাঁয় দুর্বৃত্তদের হামলায় দুইজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত রাজুর দেশের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।রাজুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগে উন্নত ও নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবন শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হলো।এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
এআই-নির্ভর গ্লোবাল উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো-এর জনপ্রিয় ক্যামন সিরিজের নতুন সংযোজন টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে উন্মোচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে যাত্রা শুরু করল নতুন এই স্মার্টফোন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে এসেছে নতুন টেকনো ক্যামন এয়ার। আকর্ষণীয় স্লিম এই দুটি স্মার্টফোনে এডভান্সড ছবি তোলার টেকনোলজি, এআই-নির্ভর ফিচার, ডিউরাবেল ও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের সমন্বয় এনেছে টেকনো। “স্লিম, স্টং, আনস্টপেবল” ট্যাগলাইন সামনে রেখে তৈরি টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি -এর থিকনেস মাত্র ৬.৩৯ মিলিমিটার এবং ওজন মাত্র ১৯০ গ্রাম। লাইটওয়েটের পাশাপাশি ডিউরাবিলিটিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডিভাইসটিতে। এতে রয়েছে আইপি৬৮, আইপি৬৯ ও আইপি৬৯কে প্রোটেকশন। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য রয়েছে ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি ও ৪৫ ওয়াট সুপার চার্জ সুবিধা।টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি -তে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চি ১.৫কে ১৪৪ হার্জ অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৩০০ই ৫জি প্রসেসর। ছবি তোলার জন্য এতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল সনি এলওয়াইটি৭০০সি ওআইএস ক্যামেরা, সাথে ৮ মেগাপিক্সেল ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা, ফ্লিকার সেন্সর এবং ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। ডিভাইসটিতে আরও রয়েছে টেকনো-এর সর্বশেষ এআই-নির্ভর বিভিন্ন সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে ক্যালরি নির্ণয়ের সুবিধাসহ এআই হেলথকেয়ার, এআই নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট, এআই পেট স্ন্যাপ এবং এআই স্টারক্যাম্প সহ আরও অনেক ফিচার।টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি (৮জিবি+২৫৬জিবি)-এর মূল্য ৫৯,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)। ডিভাইসটির প্রি-বুকিং চলবে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ক্যাম্পেইন চলাকালে সফলভাবে প্রি-বুক করা গ্রাহকরা পাবেন এক্সক্লুসিভ গিফট বক্স যার মধ্যে থাকবে টেকনো স্মার্টওয়াচ নিও এবং টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচের একটি টিকিট। (অফারটি ক্যাম্পেইনের প্রযোজ্য টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস ও গিফট অ্যাভেইলেবিলিটির সাপেক্ষে কার্যকর হবে।)ক্যামন স্লিম ৫জি -এর বিশ্বব্যাপী প্রথম উন্মোচনের পাশাপাশি টেকনো ক্যামন এয়ার এখন দেশজুড়ে পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র ৬.৩৯ মিলিমিটার থিক থ্রিডি কার্ভড ডিজাইন এবং ১৬২.৮ গ্রাম ওজনের ক্যামন এয়ার -এ রয়েছে ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি ও ৬০ ওয়াটের আল্ট্রা চার্জার। এতে আরও রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চি ১.৫কে ১৪৪ছার্জ অ্যামোলেড থ্রিডি কার্ভড ডিসপ্লে, মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ আলটিমেট প্রসেসর এবং আইপি৬৮/আইপি৬৯ ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট প্রোটেকশন। ছবি তোলার জন্য টেকনো ক্যামন এয়ার -এ রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল সনি এলওয়াইটি৬০০ মেইন ক্যামেরা ও ফ্লিকার সেন্সর এবং ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। পাশাপাশি রয়েছে টেকনো-এর এআই-নির্ভর বিভিন্ন সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে ক্যালরি নির্ণয়ের সুবিধাসহ এআই হেলথকেয়ার, এআই নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট, এআই পেট স্ন্যাপ এবং এআই স্টারক্যাম্প সহ আরও অনেক ফিচার। পাশপাশি এর ব্যাকসাইডে রয়েছে এআই মুড লাইট ফিচার। ক্যামন এয়ার পাওয়া যাচ্ছে দুটি ভার্সনে, ৮জিবি+১২৮জিবি-এর প্রাইস ৪৪,৯৯৯ টাকা এবং ৮জিবি+২৫৬জিবি-এর প্রাইস ৪৯,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।বাংলাদেশে ক্যামন স্লিম ৫জি -এর বিশ্বব্যাপী প্রথম উন্মোচন দেশের বাজারে টেকনো ক্যামন সিরিজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। ক্যামন এয়ারের দেশব্যাপী অ্যাভেইলেবিলিটির পাশাপাশি নতুন এই অ্যাডিশন বাংলাদেশে টেকনোর ক্যামন সিরিজকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের গ্রাহকদের জন্য স্লিম ও আকর্ষণীয় ডিজাইন, এডভান্সড ফটোগ্রাফি টেকনোলজি, ডিউরাবিলিটি, এআই-নির্ভর ফিচার এবং শক্তিশালী ডেইলি পারফরম্যান্সের সমন্বয় নিয়ে এসেছে টেকনো। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন টেকনো মোবাইল বাংলাদেশের ওয়েবসাইট অথবা ফলো করুন টেকনো বাংলাদেশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি