দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে এখন ৩৭ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২ জুলাই পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ১৩ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৯০০ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
দেশে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১১৯ শিশু।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৩১ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭২৪ শিশু মারা গেছে।এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৬৫। এই সময়ে ৯০২ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৭ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ২৮৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮৬ হাজার ৪১১ রোগী, যাদের মধ্যে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিত্সকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং চিকিত্সাসেবার মানোন্নয়নে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে দেশের সব সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।মঙ্গলবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রম্নমী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে, শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিত্সক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জন্য বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিকেল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাত্ প্রতি ১০ শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসার নিশ্চিত করতে হবে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় সিভিল সার্জনদের পাঁচটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। যথা-১. জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিত্সকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে।২. প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিত্সকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নিশ্চিত করতে হবে।৩. ডিউটি রোস্টার ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে।৪. প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিত্সক উপস্থিত না থাকলে বা ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবহিত করতে হবে।৫. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে।স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর আদাবরে সালিশ বৈঠক শেষে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম গুরুতর আহত হয়েছেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।পুলিশ জানায়, বিকেলে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের নাম- শোয়েব, আরমান ও নয়ন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে আদাবর থানা পুলিশ। মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবরের নবোদয় কাচাবাজার হাউজিং চার রাস্তার মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, একটি সালিশ বৈঠক শেষে ফেরার পথে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে বাশার ও সাদ্দামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাদের স্থানীয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বাশারের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। আহত সাদ্দাম বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা জানান, পরশু দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার উভয় পক্ষ নিজেরাই সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশের সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষের মনমতো না হওয়ায় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।নিহতের ভাই সবুজ জানান, মো. আবুল বাশার বাদশা পেশায় প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন। তিনি টাউন হল এলাকার রনি নামের এক ব্যক্তির গাড়ি চালাতেন। পাশাপাশি তিনি আদাবর থানার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।তিনি আরও জানান, যতটুকু শুনেছেন, বাশার একটি বিচারে (সালিশে) গিয়েছিলেন। সেখানে খেলা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মীমাংসা করা হয়। কিন্তু সালিশ শেষে ফেরার পথে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।নিহত মো. আবুল বাশারের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গফুরের বাড়িতে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর আদাবর বি-ব্লকের ১ নম্বর রোডে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বাশারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকার বৈধভাবে কাজের অনুমতি দিলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ৩ডি (নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন) খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে প্রস্তুত দেশটির নিয়োগকর্তারা।মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (এমইএফ) সভাপতি দাতুক ড. সৈয়দ হুসেইন সৈয়দ হুসমান বলেন, শ্রমিক সংকটে থাকা খাতে ইউএনএইচসিআর-নিবন্ধিত শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের সুযোগ দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে তারা সমর্থন করেন।তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বিদ্যমান শ্রমশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে উচ্চ ব্যয় ও দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনও কমে আসবে।দেশটির উতুসান মালয়েশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের ভেতরে যে শ্রমশক্তি ইতোমধ্যে রয়েছে, তাদের কাজে লাগানো গেলে নতুন বিদেশি কর্মী আনতে যে বিপুল নিয়োগ ব্যয় ও দীর্ঘ সময় লাগে, তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।তার মতে, বর্তমানে মালয়েশিয়ার বাগান, নির্মাণ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩ডি খাতে উল্লেখযোগ্য শ্রমিক সংকট রয়েছে। স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে এসব পেশায় কাজ করার আগ্রহ ক্রমেই কমে যাচ্ছে।তিনি বলেন, দেশের উৎপাদন ও সেবা খাত সচল রাখতে এসব খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে?তিনি আরও বলেন, জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পরিচ্ছন্নতা বা শারীরিকভাবে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে এসব খাতে বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়ে গেছে।রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ দিলে সরকার তাদের নিবন্ধন, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকরভাবে করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন এমইএফ সভাপতি।তার ভাষায়, তারা অবৈধভাবে কাজ করার চেয়ে বৈধভাবে কাজ করাই উত্তম। এতে দেশের শ্রম আইন ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইন তাদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে কার্যকর হবে, যেমনটি অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে হয়।অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ড. ইধাম এমডি রাজাক সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হলে তা সবসময় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে নাও আনতে পারে।তার মতে, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট কিছু খাতে স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি নিবন্ধন, প্রশাসনিক তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়বে।তিনি বলেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে অর্থনৈতিক সুবিধার তুলনায় সামাজিক ও আর্থিক ব্যয় বেশি হয়ে যেতে পারে।ড. ইধাম আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে কম মজুরির শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি হলে নিয়োগকর্তারা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ কিংবা স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের পরিবর্তে সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করতে পারেন। এতে উচ্চ মূল্যসংযোজনভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের গতি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা, দায়িত্বের ওভারল্যাপ এবং অস্পষ্ট প্রক্রিয়া দূর করতে বড় ধরনের সংস্কারে যাচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় ওয়ান-স্টপ সেন্টার (ওএসসি) পুরোপুরি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (এমওএইচআর) অধীনে পরিচালিত হবে।মঙ্গলবার (৩০ জুন) পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত বিদেশি কর্মী বিষয়ক বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমদ জাহিদ হামিদি।বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আহমদ জাহিদ বলেন, বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।তিনি বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সুশাসনভিত্তিক করা। একই সঙ্গে শিল্পখাতের প্রকৃত চাহিদা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।সরকারি এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিদেশি কর্মী তদারকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যসংখ্যা ও কার্যপরিধিও (টার্মস অফ রেফারেন্স) পুনর্নির্ধারণ করা হবে।উপপ্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের বাস্তব ও যাচাইকৃত শ্রমশক্তির চাহিদার ভিত্তিতে জাতীয় জনশক্তি প্রয়োজনীয়তা নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ, প্রতিটি খাতের প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতি নির্ধারণ করা হবে।একই সঙ্গে সরকার দীর্ঘমেয়াদে স্বল্পদক্ষ বিদেশি শ্রমিকের ওপর মালয়েশিয়ার অতিনির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।আহমদ জাহিদ বলেন, ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় যেসব নতুন নীতি ও সংস্কার আনা হবে, সেগুলো জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকার কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণা মামলায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত-১৫-এর বিচারক নাজনীন আক্তার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ২১ দিনের জন্য জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে সোহেল উদ্দিনকে কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে এসএমপির সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি সার্কেল) সোহেল উদ্দিন সিআর-২৩৪১/২০২২ নম্বর মামলায় দীর্ঘদিন জামিনে ছিলেন। গত ৯ জুন দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রিফাত জাহান স্নিগ্ধার সঙ্গে সোহেল উদ্দিনের পরিচয় হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ এবং ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়।পরে স্নিগ্ধা জানতে পারেন, সোহেল উদ্দিন এর আগেই আমিনা কিবরিয়া মিশু নামে এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। এরপর দাম্পত্য বিরোধের জেরে যৌতুক দাবি, নির্যাতন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেন। এ ছাড়া ঢাকার শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ও সহকারী কর কমিশনার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) মোসা. তানজিনা সাথীও তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিআর-২৩৪১/২০২২ নম্বর মামলা এবং শাহজাহানপুর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন।আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, সিআর-২৩৪১/২০২২ মামলার বিচার গত মাসে শুরু হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর দিনও ছিল বুধবার। অন্যদিকে রিফাত জাহান স্নিগ্ধার করা দুটি মামলার বিচারও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।জানা গেছে, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সোহেল উদ্দিন ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৭ সালে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এসএমপির কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে করা সব মামলাই বর্তমানে বিচারাধীন এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন জসিম বলেন, একই বিসিএস ব্যাচের এক নারী সহকারী কর কমিশনারকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণা মামলায় আদালত সোহেল উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।তিনি বলেন, আপস-মীমাংসার শর্তে জামিন পেলেও সোহেল উদ্দিন সেই শর্ত পালন করেননি এবং বিভিন্নভাবে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন। এমনকি মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের আবেদনও খারিজ হয়। আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের শর্ত ভঙ্গ, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং মামলার অগ্রগতি বিবেচনায় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীসহ দুই নারীর করা একাধিক প্রতারণার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।ক্লোজড করার বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, প্রেমিকার মামলায় কারাগারে যাওয়ায় কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার থেকে কমিশনার স্যারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসি সোহেল উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। তাকে এসএমপির হেডকোয়ার্টারে সংযুক্তি করা হয়েছে।এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রীর করা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একটি সিআর মামলা বিচারাধীন। মামলায় অভিযোগ রয়েছে, সাবেক স্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত চার্জ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।তিনি বলেন, মামলাটি দায়েরের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহার হওয়ায় কয়েক মাস আগে তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়। সম্প্রতি ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে ২১ দিনের জন্য জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি ব্যক্তিগত মামলা, সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে হারবে আর্জেন্টিনা। এই বাজি ধরার লোক খুব একটা পাওয়া যাবে না। কেননা শক্তি-সামর্থ্য প্রতিপক্ষের থেকে ঢের এগিয়ে আলবিসেলেস্তারা। ফিফা র্যাংকিংয়ে তার প্রমাণ মিলছে। ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের বিপরীতে আর্জেন্টিনা শীর্ষে। বর্তমানে অবিশ্বাস্য ছন্দেও আছে ৩ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।এবারের বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচ জিতে অপরাজিত তারা। ম্যাচের চিত্র একাই বদলে দিতে যিনি অভ্যস্ত সেই লিওনেল মেসিও আছেন দুর্দান্ত ছন্দে। ৬ গোল নিয়ে বর্তমানে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে। এমন দুরন্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনাকে নাকি হারাবে কেপ ভার্দে।সেটিও আবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে। অনেকে না করলেও বিশ্বাস করেন ঘানার ওঝা নানা কোয়াকু বনসাম। তার মতে, শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে।’ওঝার সুরে কথা বলেছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্টও। বিবিসিকে জোসে মারিয়া নেভেস বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে।আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। যখন কোনো দলের ওপর প্রত্যাশা কম থাকে; কিন্তু জয়ের ক্ষুধা থাকে প্রবল, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’এবার আর্জেন্টিনার হার নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টও। জোসে ম্যানুয়েল রামোস-হোর্তা বলেছেন, ‘মেসি তার প্রথম হার দেখবে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা কেপ ভার্দের ফুটবলারদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারবে না।’ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ম্যানুয়েল। তিনি বলেছেন, ‘কেপ ভার্দের মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তি অতুলনীয়। তাদের কঠোর খাদ্যাভ্যাসের মূল কারণ। তারা ‘কাচুপা’ খায়, যা ভুট্টা, শিম, বিভিন্ন ধরনের মাংস ও উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ অন্যান্য উপাদানের মিশ্রণে তৈরি। কঠিন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে অসাধারণ সহনশীলতা গড়ে তুলেছে তারা।’অন্যরা বিশ্বাস না করলেও কেপ ভার্দের জয় দেখছেন ম্যানুয়েল। তিনি বলেছেন, ‘কেপ ভার্দের ওপর কে আস্থা রাখেনি? অথবা বলা ভালো, কে-ই বা আসলে তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল? তবে আমি বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং এখনো রাখি। আমার মতে, কেপ ভার্দে ইতিমধ্যেই জিতে গেছে।’শেষ ৩২-এর ম্যাচে আগামী ৪ জুলাই ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে। ম্যাচটি হবে মায়ামি স্টেডিয়ামে।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে যৌথ অভিযানে বিপুলপরিমাণ সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন প্রায় ১৯ কেজি। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে এসব সোনা জব্দ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগিব সামাদ।তিনি জানান, বিমানটির কার্গো হোলে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৬০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযানটি পরিচালনা করে গোয়েন্দা সংস্থা, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল।তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। উদ্ধার হওয়া সোনার উৎস, কার্গো হোলে কীভাবে এগুলো রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলেও জানা গেছে।
ইউক্রেন সংঘাতে জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে সমুদ্রপথে পেট্রল আমদানি করছে রাশিয়া। শিল্পসংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে ১ জুলাই বুধবার এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।জ্বালানির ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল সরবরাহে সীমাবদ্ধতা, ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট এবং জ্বালানির দামে রেকর্ড বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ১১টি অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে এ সংকট হচ্ছে বলে জানা গেছে।ক্রেমলিন মঙ্গলবার জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্রহণযোগ্য দামে জ্বালানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।এদিকে, রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও ভারতের তেল মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।শিল্প খাতের একটি সূত্রের দাবি, ভারত থেকে অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রল রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন পেট্রল বহনকারী দুটি ট্যাংকার ইতোমধ্যেই যাত্রা করেছে।এ ছাড়াও প্রতিবেশী বেলারুশসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ টন পেট্রল আমদানির পরিকল্পনা করছে মস্কো। এরই মধ্যে বেলারুশ থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।তবে ভারতের কোন রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান এই পেট্রল রপ্তানি করছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন চাহিদার সময় রাশিয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টন পেট্রল ব্যবহৃত হয়। ফলে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।সূত্র: রয়টার্স
চলতি জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা, যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে বিইআরসি জানায়, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা।বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, জুলাই মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির দাম খুচরা পর্যায়ে ভ্যাটসহ প্রতি কেজি ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।জুলাইয়ের সমন্বয়ে ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭০০ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজির ১ হাজার ৫৯১ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৯১০ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৭ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ২৯১ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৫৪৬ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৮০১ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ১৮৩ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৮১৯ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ২০১ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৪৫৬ টাকা এবং ৪৫ কেজির ৫ হাজার ৭২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়, সৌদি আরবের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী ভিত্তিমূল্য প্রতি মাসে সমন্বয় করা হবে। আর কমিশন, জাহাজভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশনে পরিবর্তন আনতে হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই ঘোষণার পর থেকেই প্রতি মাসে এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।সবশেষ গত ২ জুন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। সেই সঙ্গে ওইদিন যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি।
জামায়াতে ইসলামীর ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে। উপযুক্ত সময়ে এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি দায়িত্বশীল সংসদ দেখতে চান, যেখানে ব্যক্তিপূজা বা তোষামোদের পরিবর্তে জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল সংসদ গঠনে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বিএনপি সেই জনরায়কে অগ্রাহ্য করেছে। সংবিধানে বিধান না থাকার অজুহাতে তারা সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। অথচ সংবিধানে উল্লেখ না থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বর্তমান সংসদেও বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় বাজেট দেওয়া সমস্যা নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে রাষ্ট্রের অর্থ আবারও বিদেশে পাচার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ও প্লট গ্রহণ করেননি। তবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে সরকারি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে নেওয়া ব্যবস্থা।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা হতাশাজনক।সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থে অতীতেও জামায়াত বিভিন্ন সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। অন্যথায় দেশ নতুন সংকটে পড়তে পারে।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফিনের নেতৃত্বে উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের কানুরগাঁও খাসেরহাট, সূর্যমনি চ্যানেল ও কাচিকাটা চ্যানেল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছিল।এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের খবর পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাঁচটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়।পরে জব্দ করা ড্রেজারগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নূর ইসলামের জিম্মায় রাখা হয়।এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলমকে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন বলেন, “নদী, খাল ও লোকালয় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেপ ভার্দের বিপক্ষে হারবে আর্জেন্টিনা। এই বাজি ধরার লোক খুব একটা পাওয়া যাবে না। কেননা শক্তি-সামর্থ্য প্রতিপক্ষের থেকে ঢের এগিয়ে আলবিসেলেস্তারা। ফিফা র্যাংকিংয়ে তার প্রমাণ মিলছে। ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের বিপরীতে আর্জেন্টিনা শীর্ষে। বর্তমানে অবিশ্বাস্য ছন্দেও আছে ৩ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।এবারের বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচ জিতে অপরাজিত তারা। ম্যাচের চিত্র একাই বদলে দিতে যিনি অভ্যস্ত সেই লিওনেল মেসিও আছেন দুর্দান্ত ছন্দে। ৬ গোল নিয়ে বর্তমানে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে। এমন দুরন্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনাকে নাকি হারাবে কেপ ভার্দে।সেটিও আবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে। অনেকে না করলেও বিশ্বাস করেন ঘানার ওঝা নানা কোয়াকু বনসাম। তার মতে, শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে।’ওঝার সুরে কথা বলেছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্টও। বিবিসিকে জোসে মারিয়া নেভেস বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে।আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। যখন কোনো দলের ওপর প্রত্যাশা কম থাকে; কিন্তু জয়ের ক্ষুধা থাকে প্রবল, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’এবার আর্জেন্টিনার হার নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টও। জোসে ম্যানুয়েল রামোস-হোর্তা বলেছেন, ‘মেসি তার প্রথম হার দেখবে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা কেপ ভার্দের ফুটবলারদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারবে না।’ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ম্যানুয়েল। তিনি বলেছেন, ‘কেপ ভার্দের মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তি অতুলনীয়। তাদের কঠোর খাদ্যাভ্যাসের মূল কারণ। তারা ‘কাচুপা’ খায়, যা ভুট্টা, শিম, বিভিন্ন ধরনের মাংস ও উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ অন্যান্য উপাদানের মিশ্রণে তৈরি। কঠিন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে অসাধারণ সহনশীলতা গড়ে তুলেছে তারা।’অন্যরা বিশ্বাস না করলেও কেপ ভার্দের জয় দেখছেন ম্যানুয়েল। তিনি বলেছেন, ‘কেপ ভার্দের ওপর কে আস্থা রাখেনি? অথবা বলা ভালো, কে-ই বা আসলে তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল? তবে আমি বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং এখনো রাখি। আমার মতে, কেপ ভার্দে ইতিমধ্যেই জিতে গেছে।’শেষ ৩২-এর ম্যাচে আগামী ৪ জুলাই ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে। ম্যাচটি হবে মায়ামি স্টেডিয়ামে।
অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমান সময়ে অনেক তরুনেরই ক্রাশ। তার ব্যক্তিগত জীবন তথা প্রেম-বিয়ে নিয়ে ভক্তদের যেন চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান অকপটে জানালেন এ অভিনেত্রী।এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তটিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে নেই; আর সঠিক মানুষের সন্ধান পেলেই তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। এর আগে অভিনেতা ইয়াশ রোহানের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বারবার বলেছেন, শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্কই তাদের। উঠে আসা নানা গুঞ্জনের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, হি ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড অফ মাইন। এইটা আমি আসলে এতবার বলেছি! আর আমার মনে হয় যে, প্রেম যদি থাকত তাহলে জিনিসটা আমি আরও প্রাইভেটলি হ্যান্ডেল করতাম। আসলে এইটা নিয়ে আমি কথা বলার সুযোগই দিতাম না। সো, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, কোনো প্রেম নেই।ভবিষ্যতে বিয়ে করার পরিকল্পনা এবং কেমন জীবনসঙ্গী তার পছন্দ—এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি একজন সঠিক মানুষের অপেক্ষায় আছেন।এ প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে তটিনী বলেন, বিয়ে করব যখন সঠিক মানুষ পাব। যে মানুষ আমাকে প্রপার সম্মান দিবে, আমাকে, আমার... আমার প্রফেশনকে, আমার ফ্যামিলিকে ভালোবাসবে—অবশ্যই। আমার কাছে একটা কথা সবসময় মনে হয়, জীবনে ভালোবাসার মানুষের থেকেও ভালো রাখার মানুষ খুব দরকার; যে আমাকে ভালো রাখতে পারবে। আল্লাহ যদি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষ দেয়, তাহলে করব। একটি সম্পর্কে শুধু অন্ধ ভালোবাসা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান এবং দিনশেষে ভালো রাখার মানসিকতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন পর্দার এই সুন্দরী। নিজের সেই জীবনবোধের কথা উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ভালোবাসা একটা পয়েন্ট পর্যন্ত তো অবশ্যই দরকার। বাট আমার কাছে মনে হয় মেইন প্রায়োরিটি—আপনাকে ভালো রাখতে পারছে কি না। অনেকে অনেক... আপনি অনেক ভালোবাসলেন, বাট সে আপনাকে প্রপার সম্মান দিল না; দিনশেষে সেখানে তো শান্তি নেই।তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত নাটকগুলো দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। এদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি পরিচালিত এবং খাইরুল বাশারের সঙ্গে জুটি বাঁধা তটিনীর ‘সুতরাং’ নাটকটিও বেশ সাড়া ফেলছে।
টেলিভিশন মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের নীতিনির্ধারক, উপদেষ্টা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত হোটেল সুপারস্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসলাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ব্রডকাস্ট কমিউনিটি (এবিসি)-এর প্রেসিডেন্ট চৌধুরী দৌলত মোহাম্মদ জাফরি, এনবিএ-এর সেক্রেটারি রাইসুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক তমাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এছাড়াও সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, টেলিভিশন মেকআপ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বক্তারা বলেন, দেশের টেলিভিশন মেকআপ শিল্পকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি পেশাজীবীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সংগঠনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। একই সঙ্গে তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে পারিবারিক-সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা ঘরানার ওয়েবফিল্ম ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’–এর শুটিং। গভীর আবেগ, পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক বাস্তবতা এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ওয়েবফিল্মটি দর্শকদের সামনে এক সংবেদনশীল গল্প তুলে ধরবে বলে আশা করছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা।ওয়েবফিল্মটি পরিচালনা করেছেন মো: আকতার হোসেন। চিত্রগ্রহণে ছিলেন ইসমাইল হোসেন লিটন। জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ওয়েবফিল্মটি।প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান রেজা, তৃণা ইসলাম ও তাহসান বিন রফিক। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেবেকা সুলতানা, ফারজানা ছবি, মৌরি, বড়দা মিঠু, আজম খান, শশী রহমান, সিফাত ও আভাসহ আরও অনেকে।নির্মাতা জানান, ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শুধু একটি গল্প নয়; এটি সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা, নীরব কষ্ট এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক মানবিক উপস্থাপন। পাশাপাশি এই ওয়েবফিল্মে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শুটিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন চলছে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। খুব শিগগিরই ওয়েবফিল্মটির ট্রেলার প্রকাশ করা হবে।জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শিগগিরই একটি স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ কর্মশালা “Call Sheet to Final Cut: সিনেমার সহকারী পরিচালকের কর্মযাত্রা”।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্পে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার এবং Runout Films-এর পরিচালক সাবরিনা আইরিন।চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালকের যাত্রা, কাজ, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে এটিই দেশের প্রথম দিককার বিশেষায়িত কর্মশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।কর্মশালায় সহকারী পরিচালকের বাস্তব দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট ব্রেকডাউন, কলশিট ও শুটিং শিডিউল প্রস্তুতকরণ, প্রি-প্রোডাকশন পরিকল্পনা, সেট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন সমন্বয়, সময় ব্যবস্থাপনা, সংকট মোকাবিলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান। তারা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।কর্মশালার প্রশিক্ষক সাবরিনা আইরিন বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকই মূলত একটি চলচ্চিত্রের কর্মপ্রবাহকে সচল রাখেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি নিয়ে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি।”উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম লেখালিখি ২০১৮ সাল থেকে কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গল্প থেকে চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, মাস্টারক্লাস এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।লেখালিখির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। সহকারী পরিচালনা নিয়ে এই কর্মশালার ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্রের নেপথ্যের পেশাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা চলচ্চিত্রশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নে আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চাই।”আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেইন স্টেজ শো ফিচারিং আতিফ আসলাম’। গত বছরের স্থগিত হওয়া কনসার্টটি পুনরায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’।আয়োজনটি প্রসঙ্গে ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’-এর পরিচালক কাজী রাফসান বলেন, ‘গত বছর কনসার্টটি স্থগিত হওয়ার পর আমরা দর্শকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সুযোগ পেলেই এই আয়োজন আবারও ফিরিয়ে আনব। গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২৪ জুলাই আমরা গত বছরের অসমাপ্ত অধ্যায়টি পূর্ণতা দিতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট নয়; এটি আমাদের দর্শকদের প্রতি দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। যারা গত বছর টিকিট কিনেছিলেন, তাদের আস্থা ও ধৈর্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে।’আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্টের ভেন্যু শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Apply’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে আটক থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামির দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন রাখেন।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করতো। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সে অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, শনাক্তকরণ ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।গত ১ মার্চ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অপর আসামি হলেন- আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে এখন ৩৭ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২ জুলাই পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ১৩ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৯০০ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।নিহতরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।জানা গেছে, গত ২১ জুন রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ দূতাবাস।শ্রম কল্যাণ উইং জানায়, সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসীদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কানাইঘাটসহ সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দর এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
একটি উদ্ভাবনী রিটেল ডিসট্রিবিউশন মডেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি-পোশাক শিল্পের (আরএমজি) কর্মীদের জন্য ডিজিটাল সংযোগ ও টেলিযোগাযোগ সেবার পরিধি বাড়াতে একটি কৌশলগত পার্টনারশিপ করেছে দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন এবং গামের্ট-কেন্দ্রিক রিটেল নেটওয়ার্ক আপন বাজার। এই চুক্তির আওতায়, এখন থেকে আপন বাজার গ্রামীণফোনের একটি ডিসট্রিবিউশন পার্টনার; আপন বাজারের আউটলেটগুলোতে একটি শপ-ইন-শপ রিটেল মডেল চালু করেছে গ্রামীণফোন। এই সহযোগিতার ফলে তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীদের কাছে গ্রামীণফোনের পণ্য ও সেবা আরো সহজলভ্য হবে। এই বিশালসংখ্যক কর্মীদের মধ্যে ক্রমশ ডিজিটাল চাহিদা বাড়লেও তারা সুবিধাবঞ্চিত ছিল।আপন বাজারের আউটলেটগুলোতে সিম অ্যাক্টিভেশন, সিম রিপ্লেসমেন্ট, স্ক্র্যাচ কার্ডস, ডাটা প্যাকস, ভয়েস বান্ডেলস ও কম্বো প্যাকসহ গ্রামীণফোনের বেশ কিছু অফার উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা। গ্রামীণফোনের হেড অব সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন মোহাম্মদ শরীফ মাহমুদ খান এবং আপন বাজারের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শেখ সাইফ আল রশিদ সম্প্রতি জিপি হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) ফারহা নাজ জামান, হেড অব ডিস্ট্রিবিউশন এসকে. ইফতেখার আহমেদ এবং হেড অব সেলস প্ল্যানিং মো. নাসিরুজ্জামান চৌধুরী; আপন বাজারের ডিরেক্টর (বিজনেস) ইয়াসির আরাফাত, অপারেশনস লিড রেজওয়ানুল আহসান রূপম, ম্যানেজার (এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) কানিজ আহমেদ এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জিনিয়া ইবনাত উপস্থিত ছিলেন। গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান বলেন, ”গ্রামীণফোনে আমরা চাই যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য ডিজিটাল সংযোগ আরো সহজলভ্য ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে। আপন বাজারের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমাদের পণ্য ও সেবাগুলো তৈরি-পোশাক শিল্পের কর্মীদের আরো কাছাকাছি নিয়ে এসেছি। এখন তারা যেখান থেকে নিত্যপণ্য কেনাকাটা করেন সেখানেই টেলিযোগাযোগের সেবাগুলো পেয়ে যাবেন। আমাদের পণ্য ও সেবাগুলো আরো সহজলভ্য করতে, সংযোগের মাধ্যমে সমাজের ক্ষমতায়ন ঘটাতে এবং বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরে সহযোগী হতে প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি; এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।” আপন বাজারের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শেখ সাইফ আল রশিদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তিকরণ এখন আর কোন বাড়তি সুবিধা নয়, বরং আর্থিক ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত। শিল্পখাতের কর্মীদের কাছে সাশ্রয়ী সংযোগ, ডিজিটাল সেবা এবং প্রয়োজনীয় টেলিযোগাযোগ পণ্যগুলো আরো সহজলভ্য করে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে, গ্রামীণফোনের সাথে আমাদের এই পার্টনারশিপটি করা হয়েছে। কারখানা ও কর্মীদের মধ্যে আপনের প্রতি আস্থাকে কাজে লাগিয়ে আমরা তাদের জীবিকাকে আরো উন্নত এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে চাই।”গ্রামীণফোনের পণ্য ও সেবা আরও সহজলভ্য করতে, গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে এবং দেশজুড়ে ডিজিটাল অর্ন্তভূক্তিতে অবদান রাখতে উদ্ভাবনী ও গ্রাহক-কেন্দ্রিক ডিসট্রিবিউশন চ্যানেল গড়ে তুলতে সংকল্পবদ্ধ গ্রামীণফোন। এই পদক্ষেপটি সেই অগ্রযাত্রারই অংশ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’