ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে, যা পেন্টাগনের শীর্ষ কমান্ডারদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দূরপাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এছাড়াও ইরানি ড্রোন এবং মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ও মিত্রদের ঘাঁটি রক্ষায় নিয়োজিত প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ৫০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনী।সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়টের মজুত কমে এখন ১ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। আর থাড ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল ৪৫২টি, কমে ১০০টিরও নিচে নেমে এসেছে। এর আগের এক প্রতিবেদনে সিএনএন বলেছিল, যুদ্ধের শুরুর দিকে গত এপ্রিলে মার্কিন সামরিক বাহিনী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এদিকে রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রই নয়, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের অতি নির্ভুল দূরপাল্লার ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপ যোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র—এটিএসিএমএস এবং পিআএসএম- এর বৈশ্বিক মজুতের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করে ফেলেছে।সিএনএন আরও জানিয়েছে, সামরিক উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে অস্ত্রাগার ‘বিপজ্জনকভাবে খালি’ হওয়ার এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই গত সপ্তাহে ইরানের বড় ধরনের হামলা থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে ইরানে বড় হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে সূত্র বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় উপসাগরীয় মিত্ররা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা বলেন, এই ঘাটতি ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব মধ্যপ্রাচ্যের দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তারা স্বীকার করেছেন, মজুতের এই সংকট ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকানোর ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সক্ষমতা ব্যাহত করবে; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপের জবাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে।এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর- পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই সংকটকে বড় কোনো হুমকি হিসেবে মানতে নারাজ। তার দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগার অত্যন্ত গভীর এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো সময় সফল অভিযান চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র কারখানাগুলো যুদ্ধের গতির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারছে না, যা ভবিষ্যতে চীনের মতো বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে কোনোভাবেই পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। বরং আত্মমর্যাদা, সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই হবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।বুধবার (৫ আগস্ট) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্ট ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস সময়। সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের স্মৃতি ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।
ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা, ডলারের দুর্বলতা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার বিষয়ে অগ্রগতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারির পর এটি সবচেয়ে বড় একদিনের মূল্যবৃদ্ধির দিকেও এগিয়েছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৫ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৫৬ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের একপর্যায়ে দাম ৪ হাজার ২৫৮ দশমিক ৯৯ ডলারে ওঠে, যা ১৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। এ সময় স্বর্ণের দাম ৫০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ৪ হাজার ১৬০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা এখন বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৭ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, যারা আগে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন তারা আবার মূল্যবান ধাতুর বাজারে ফিরছেন। কারণ গত সপ্তাহ থেকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কমেছে। পাশাপাশি ডলারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক। ইরান ইস্যুতে সাময়িক বিরতিও বাজারকে সহায়তা করছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। এ ঘোষণার পর প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের দর ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্নের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ডও এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।তবে জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকে স্বর্ণের দাম এখনও প্রায় ২৪ শতাংশ কম রয়েছে। এছাড়া ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দাম কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। ওই সংঘাত জ্বালানির মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাও জোরালো করেছিল।ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন ছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) থেকে মোট ৪৫ টন স্বর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই সময় স্বর্ণের দাম ১৪ শতাংশ কমে যায়, যা ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন।জেপি মরগ্যান এক নোটে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় কমে যাওয়া, খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অন্য খাতে চলে যাওয়া এবং এশিয়ায় প্রকৃত স্বর্ণের চাহিদা দুর্বল থাকায় এখন সুদের হারের প্রতি সংবেদনশীল ইটিএফের বিনিয়োগই স্বর্ণের দামের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।তাই ওংয়ের মতে, মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্থায়ী গতি ফিরতে হলে সুদের হার কমার বিষয়টি বাজারে প্রতিফলিত হতে হবে। তবে সেটি অন্তত ২০২৭ সালের আগে হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে, ৬ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে স্পট রুপার দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।প্ল্যাটিনামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৩৫ দশমিক ২৮ ডলারে রয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। ইরানকে ঘিরে শান্তি আলোচনার অগ্রগতির আশায় প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ১৭ জুন ও ২ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষক সুকি কুপার বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারে বিভিন্ন ঝুঁকির প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি উৎপাদনের ধীরগতি, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ এবং পুনর্ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি।তিনি আরও বলেন, চলতি বছর প্ল্যাটিনামের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকতে পারে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে প্যালাডিয়ামের বাজারে সরবরাহ উদ্বৃত্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ, জামায়াত নেতা কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।জামায়াত আমীর বলেন, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।তিনি দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ভিপি, জিএসসহ অনেক শিক্ষার্থীকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে হেলমেট ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটত, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হামলা ঠেকাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষও আহত হয়েছেন এবং তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।তিনি বলেন, "বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি আমাদের আহ্বান—শুধু নেতাকর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিলেই হবে না, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান দলীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ মনে করবে, এসব কর্মকাণ্ডে দলের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।"হাসপাতালে আহতদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আহতদের স্বজনরাও হামলার শিকার হয়েছেন। একজন আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যাওয়া তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হামলার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে।আলিফ নামে এক আহত তরুণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে দেখতে গেলেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ না নেওয়া বিস্ময়কর। তিনি বলেন, সরকার সব নাগরিকের সরকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা।দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, তবে জনগণ তা বুঝতে পারছে।তিনি বলেন, জনগণের দাবি আদায়ে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
জুলাইযোদ্ধা আয়াসসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শান্তা ফারজানা ও তার স্বামী মমিন মেহেদীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার অন্যরা হলেন সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার।তারা নতুনধারা বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন পরিচালনা করেন। ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান শান্তার স্বামী এবং শান্তা ভাইস চেয়ারম্যান।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের মঙ্গলবার রাতেই গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার বাদী বাবুল সরকার নামে এক ব্যক্তি।জানা গেছে, এই মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহারে যা উল্লেখ করা হয়েছে:এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। গতকাল ৪ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানাধীন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।আরও বলা হয়, বাদী ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদ জানালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালান। এতে আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। হামলায় আয়াস গুরুতর আহত হন এবং তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এর আগে মঙ্গলবার রাতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুনধারা বাংলাদেশের শান্তা ও তার স্বামী মিলে একটি প্রোগ্রাম করার চেষ্টা করলে সেখানে বাধা দেন আয়াসসহ তার সহযোদ্ধারা। এ সময় সংখ্যায় কম থাকায় তাদের ওপর হামলা চালায় শান্তার লোকজন। এ সময় আয়াসকে মাটিতে ফেলে শান্তা ফারজানা একটি স্টিলের লাঠি দিয়ে মারছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।অন্যদিকে, আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শান্তার লোকজন আয়াসসহ অন্যদের বেধড়ক মারধর করছে। পরে আয়াসকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সেখানে গিয়ে আবারও হামলা চালায় শান্তা ও তার স্বামীর লোকজন। সেখানে হামলা চালানোর সময় হাসপাতালের লোকজন তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এরপর রাতে মামলা হলে শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক মো. নূর মোহাম্মদের ওপর ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। সহপাঠীদের সঙ্গে থাকা অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় সরকারি সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নূর মোহাম্মদ নিজে ও তার সহপাঠীরা।তাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নূর মোহাম্মদকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদলজকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ছাত্রদল কি এখন গুন্ডা পোষা শুরু করেছে? সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কর্মীরা জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। প্রসাশনকে বলব, হামলাকারীদের এখনই বিচারের আওতায় আনুন। নইলে আজ যারা অন্যের ওপর হামলা করছে, কার সাহসে।আহত নূর মোহাম্মদ বলেন, আমরা গতকালে হামলায় আহত এক শিক্ষার্থী দেখতে যাচ্ছিলাম আমরা ৫ জন। এমন সময় সোহরাওয়ার্দী ছাত্রদল কাঠের টুকরা ও লাঠি দিয়ে হামলা করেছে। আমরা মাটিতে পড়ে না যাওয়া পর্যন্ত মেরেছে।অপর আহত শিক্ষার্থী রাকিব শিকদান ফেসবুক লিখেন, আজ সন্ধ্যায় সাড়ে ছয়টার দিকে আমরা সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে অপেক্ষা করছিলাম ইনকিলাব মঞ্চ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ৫ সদস্য এবং জবির দুই শিক্ষার্থী। গতকাল ছাত্রদলের হামলায় আমাদের সদস্য বোন মীম আহত হয়, ওর বাসায় যাচ্ছিলাম আমরা। সোহরাওয়ার্দীর সামনে আমরা অপেক্ষা করছিলাম আরেকজন সদস্যের জন্য। হঠাৎ আমাদেরকে ঘিরে ধরে ২০-২৫ জন। এরপর সোহরাওয়ার্দী ছাত্রদল সভাপতি জসিম কাকে ভিডিও কল দেয়। নূর মোহাম্মদকে দেখিয়ে বলে, "এরা দেখতো শিবির কিনা? দেখতো, এটা জবির স্বাস্থ্য সম্পাদক না?" ফোনে ওপাশ থেকে বলল, "হ্যাঁ।" জসিম বলল, "শুরু কর। মার ওদের।" এভাবেই আমাদের উপর হামলা হয় আজ। আমাদের সাথে জবির দুজন শিক্ষার্থীর দেখা হয় সোহরাওয়ার্দী মোড়ে। ওদের উপরও হামলা হয়। কাঠ দিয়ে ওদের মাথায় সজোরে আঘাত করতে দেখি। এরপরে কী হয় জানিনা। ওদের নাম, পরিচয় এখনও জানা যায়নি।এ বিষয় জানতে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিম উদ্দিনকে ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, গতকালের ঘটনার পর থেকে আমি অসুস্থ। বিকালে কলেজে কেউ থাকার কথা না। তবে আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি৷জবি প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জগন্নাথের শিক্ষার্থী যেই আইডেন্টিটির হোক না কেন, কারও ওপর এভাবে হামলা মেনে নেয়া যায় না। আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপাচার্যের সাথে কথা পদক্ষেপ নিবো
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট ও নাৎসিরা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকলেও শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।৫ আগস্ট বুধবার রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, নাৎসি হিটলার ও মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। তবে তারা নিজেদের জাতিকে পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, হিটলার বা মুসোলিনি শেখ হাসিনার মতো টাকা পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুট, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন কিংবা সরকারি জমি দখল করেনি। তার ভাষায়, ‘তারা (হিটলার বা মুসোলিনি) ভয়ংকর খুনি ও ফ্যাসিস্ট হলেও নিজ দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল। অন্যদিকে শেখ হাসিনার মূল এজেন্ডা ছিল গোটা জাতিকে লুণ্ঠন করে নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এ কারণেই শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এক বিশেষ চোরাপথে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে এবং বাংলাদেশেও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ জনগণের রক্ত ঝরাতে দ্বিধা করেনি।তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। রিজভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কোলের শিশুও নিহত হয়েছে। এছাড়া রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত হয়েছেন।তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল এক বিশাল জাগরণ এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের ভেতরে সুপ্ত শক্তির পারমাণবিক বিস্ফোরণ। জনগণের এই শক্তি শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পারেননি বলেই বারবার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছেন। বিশ্বের দু-একটি দেশ ছাড়া কেউ সেই সরকারকে সমর্থন করেনি। তবুও তারা জোর করে ক্ষমতায় ছিল।রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার যে গণতান্ত্রিক প্রত্যয় রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে লড়াই করেছেন, সেই লড়াইয়ে তারা ভবিষ্যতেও শামিল হতে দ্বিধা করবেন না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় বহিষ্কৃত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বগুড়া সদর থানায় দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বগুড়ায় আনা হচ্ছে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সিলেটে এনসিপির একটি পথসভায় হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে তিনি তা মুছে ফেলেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এর আগেই পোস্টটির স্ক্রিনশট বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়।এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জুলাই গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি পোস্টটি মুছে ফেলেন।এজাহারে আরও বলা হয়, ওই পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মানহানি করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি দলের একাধিক নেতা-কর্মীর নজরে এলে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিরাগতদের নিয়ে র্যালি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক একটি র্যালি বের করলে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, র্যালিতে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আপত্তি জানালে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে কয়েক দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিক আহমেদ অভিযোগ করেন, শিবির বহিরাগতদের নিয়ে লাঠির সঙ্গে পতাকা বেঁধে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। তারা বহিরাগতদের ছাড়া কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করলে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের পাঁচ থেকে ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ভিসি গেটের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে পাঁচজনের মতো নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটে এবং প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলা থামেনি। এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি বেলাল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা শুনে আমরা এখানে এসেছি। ঘটনার পরপর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা দুপক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান করেছি।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় মধ্যরাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৪৪ জন আহত হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চলতি বছরে কিয়েভে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।বুধবার (৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হামলা শুরু করে মস্কো। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, রাশিয়া আবারও ব্যাপক আকারে কিয়েভ অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে।হামলার সময় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভ ও এর আশপাশে আঘাত হানে। এতে আবাসিক ভবন, গুদামঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।কর্তৃপক্ষ জানায়, বোরিসপিল জেলায় ৯ জন, বুচা জেলায় ৪ জন এবং ফাস্তিভ জেলায় ১ জন নিহত হয়েছেন।এরইমধ্যে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইউক্রেন আবারও মিত্র দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে।অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ ও আশপাশে ইউক্রেনের অস্ত্র সরবরাহ কেন্দ্র, লজিস্টিক হাব এবং ড্রোন উৎপাদন ও বিতরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরের ওডেসা বন্দরের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী তিনটি কার্গো জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে মস্কো।কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর।কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের অভিযোগ, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে রাশিয়ার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুদামঘরসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে।গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মস্কো অঞ্চলে একটি গুদামে ইউক্রেনের হামলায় ৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। এর আগের দিন রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলায় ৭ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হওয়ার দাবি করে মস্কো।তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হুট করে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটেনি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘নিউটনের আপেলের মতো গণ-অভ্যুত্থান অটোমেটিক পড়েনি। নাহিদ ইসলামদের মতো তরুণেরাই এই গণ-অভ্যুত্থান সফল করেছে। আমি তরুণ নাহিদের মধ্যে আমার নিজের দুরন্ত তরুণ বয়সের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।’বুধবার (৫ আগস্ট) সংসদ সচিবালয় আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক মেরামত ও সংস্কারের কথা বিরোধী দলও বলছে। তবে এসব পরিবর্তন ও সংস্কার সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই আসতে হবে। আসুন, সংবিধানের ভেতরে থেকেই কীভাবে রাষ্ট্রকাঠামোর মেরামত করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করি। একই সঙ্গে জুলাইয়ের অর্জিত কৃতিত্ব যাতে কেউ কেড়ে নিয়ে না যায় এবং গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’একই অনুষ্ঠানে সরকারের সংস্কার ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যমান সংসদ এখনও জনগণের মধ্যে আশার আলো ছড়াতে পারেনি। পুরোনো শাসন ও রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আঁকড়ে ধরেই সমাজকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন না আনলে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না।জাতীয় অনুষ্ঠানের সর্বজনীনতা রক্ষা ও বিভিন্ন স্থানে অনভিপ্রেত ঘটনার বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের ছবি না থাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও বিদেশি অতিথিদের চলে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ জাতীয় অনুষ্ঠানে বেশ কিছু বিব্রতকর ঘটনা ঘটেছে, এতে আমরা সবাই বিব্রত। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের বিভিন্ন জেলাতেই আমরা এ ধরনের বিভাজন লক্ষ করেছি, যা কারো জন্যই কাম্য নয়।’নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো দলমত নির্বিশেষে সর্বজনীন হওয়া প্রয়োজন। বক্তব্য ও ইতিহাসে যদি সর্বজনীনতা থাকে, তবেই সবাই এর অংশীদারিত্ব অনুভব করতে পারবে। কিন্তু জাতীয় অনুষ্ঠানে দলীয় ইতিহাস বা একক ন্যারেটিভ প্রচার করা হলে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অংশগ্রহণের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থান মূলত জনগণের, তাই এর কৃতিত্ব জনগণকেই ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা এমন পরিবেশ চাই, যেন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় দিবসগুলো উদ্যাপন করতে পারি।’
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ, জামায়াত নেতা কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।জামায়াত আমীর বলেন, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।তিনি দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ভিপি, জিএসসহ অনেক শিক্ষার্থীকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে হেলমেট ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটত, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হামলা ঠেকাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষও আহত হয়েছেন এবং তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।তিনি বলেন, "বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি আমাদের আহ্বান—শুধু নেতাকর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিলেই হবে না, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান দলীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ মনে করবে, এসব কর্মকাণ্ডে দলের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।"হাসপাতালে আহতদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আহতদের স্বজনরাও হামলার শিকার হয়েছেন। একজন আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যাওয়া তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হামলার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে।আলিফ নামে এক আহত তরুণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে দেখতে গেলেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ না নেওয়া বিস্ময়কর। তিনি বলেন, সরকার সব নাগরিকের সরকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা।দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, তবে জনগণ তা বুঝতে পারছে।তিনি বলেন, জনগণের দাবি আদায়ে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটের মোংলায় বাংলাদেশ ট্রাস্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে মোংলা উপজেলার দিগরাজ বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, প্রতিষ্ঠান ও শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণে কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও অধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন।বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখনও অনেক শ্রমিক ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, চাকরির নিশ্চয়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তারা শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সংগঠিত হয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এফ এম আবু সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং মোংলা উপজেলা শাখার সভাপতি ফরিদ হাওলাদার। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা ইপিজেডের কিউএসএল গার্মেন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধি মো. ইয়ামিন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রমিক নেতা বাবুল হোসেন। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।সমাবেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শ্রমিক, সংগঠনের নেতাকর্মী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।
বিশ্ব ফুটবলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই সংকটের মধ্যে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফার নির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। ফুটবল অঙ্গনে জোর গুঞ্জন, সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব সামনে আসার পর থেকেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং ফিফার ভেতরেও তার নেতৃত্ব নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।জানা গেছে, ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার, সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এবং ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রিন্স আলীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ওই বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে বা অভ্যন্তরীণ আলোচনায় আপত্তি তুলেছেন। একই সঙ্গে উয়েফা, কনকাকাফসহ একাধিক মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।এমন পরিস্থিতিতে গত এক সপ্তাহ ধরে রাবাতে অবস্থান করছেন ফিফা সভাপতি। বুধবার সেখানেই নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসবেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, বৈঠকে সাম্প্রতিক সংকট, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ফিফার ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন ইনফান্তিনো।তবে অনেকের মতে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য শুধু সংকট নিরসন নয়। আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার কৌশলও হতে পারে এটি। এমনকি নির্বাহী কমিটির আস্থা ও সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এ ছাড়া বৈঠকে ৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব, ফিফার ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক নীতি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট সম্পর্কেও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্ব ফুটবলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, রাবাতের এই বৈঠক সেটি প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
'কিং' সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার সম্ভাব্য নতুন লুক সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ছুটি কাটানোর সময় এক ভক্তের ক্যামেরায় ধরা পড়েন কিং খান। এরপর সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা। ভাইরাল হওয়া সেই ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদশাহ কালো রঙের হুডি ও ‘VR-46’ লেখা একটি কালো ক্যাপ পরে ছিলেন। মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করলেও ক্যাপের ফাঁক দিয়ে তার ব্লিচ করা চুল দেখা যায়। এ থেকেই নেটিজেনদের ধারণা— পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘কিং’ সিনেমার নতুন লুক আড়াল করতেই এমন সতর্ক ছিলেন শাহরুখ খান।‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানকে সম্পূর্ণ ধূসর চুলের ভিন্নধর্মী লুকে দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতা বা অভিনেতার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ঘুরতে বের হওয়ার সময় শাহরুখ খানের পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট। সাধারণ পোশাকে থাকলেও ভক্তদের আগ্রহ এড়াতে পারেননি তিনি। কয়েকজন ভক্ত-অনুরাগীর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন এ অভিনেতা।এ ছাড়া লন্ডনে শাহরুখ খানের বাড়িও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, তার বাড়ির সামনে ভিড় করছেন অসংখ্য ভক্ত। অনেকেই সেখানে ছবি ও সেলফি ভিডিও ধারণ করছেন। দৃশ্যটি মুম্বাইয়ে শাহরুখের বাসভবন ‘মান্নাত’-এর সামনে ভক্তদের ভিড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।ঢাকার বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি দেশে এসেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি সব সময় সবার জন্য দোয়া করি।এর আগে সোমবার সকালে তার দেশে ফেরার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে ইলিয়াস কাঞ্চন আবারও লন্ডনে ফেরত যাবেন। আগামী ১৫ আগস্ট অভিনেতার শারীরিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।গত বছরের প্রথম দিকে অভিনেতার শরীরে টিউমার ধরা পড়লেও পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৬ এপ্রিল ইলিয়াস কাঞ্চনকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসা শুরু হয়। তিন মাসের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তার ব্রেনে অস্ত্রোপচার করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক ঘটলো। 'গুলশানের চামেলী' সিনেমার মাধ্যমে তিনি যাত্রা শুরু করছেন ঢালিউডে।১ আগস্ট শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।মধুমিতা বলেন, 'আমি এখানকার সবার এতটা ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত। এত এত ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে, এত গুণী মানুষদের নিয়ে আমার অভিষেক হচ্ছে ঢাকাই সিনেমায়। এর চেয়ে ভালো অভিষেক আর হতে পারে না।'তিনি আরও বলেন, 'আমরা যে এনার্জি ও স্পিড নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি, আশা করি সিনেমাটি খুব ভালো হবে। আমাকে এই সিনেমায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই।' মহরতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে এমডি ইকবাল পরিচালিত 'গুলশানের চামেলী'।সিনেমাটির মাধ্যমে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে মধুমিতা সরকারকে, যা নিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। জানা গেছে, সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন এ অভিনেত্রী। এর আগে স্বামী দেবমাল্য চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান মধুমিতা সরকার।‘গুলশানের চামেলী’ নির্মিত হচ্ছে এক যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দেশের জনপ্রিয় একঝাঁক শিল্পী অভিনয় করবেন। ইতোমধ্যে সিনেমাটির শিল্পী তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ওমর সানী, আমিন খান, আশীষ খন্দকার ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনা। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে আজমেরী হক বাঁধনকে।
বহু প্রতীক্ষিত ‘জুমানজি: ওপেন ওয়ার্ল্ড’ সিনেমার প্রথম ট্রেইলার প্রকাশ করেছে সনি। জনপ্রিয় এই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ পর্বে আবারও একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন ডোয়েন জনসন, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক ও কারেন গিলান।২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া জুমানজি: ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল এবং ২০১৯ সালের জুমানজি: দ্য নেক্সট লেভেলের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নির্মিত হচ্ছে নতুন এই সিনেমা। আগের দুই পর্ব বিশ্বজুড়ে ১৭০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার আয় করে।নতুন সিনেমাতেও আগের মতোই থাকছে রোমাঞ্চ, হাস্যরস, অ্যাকশন এবং চরিত্র বদলের মজার সব ঘটনা। ভিডিও গেমের ভেতরের চরিত্রগুলোতে আবারও অভিনয় করেছেন ডোয়েন জনসন, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক ও কারেন গিলান।প্রধান চার তারকার পাশাপাশি এবারও অভিনয় করেছেন ড্যানি ডিভিটো, নিক জোনাস, অকওয়াফিনা, মারিন হিঙ্কল, বেবে নিউওয়ার্থ, লামর্ন মরিস ও রিস ডার্বি। নতুন মুখ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ড্যান হিলডেব্র্যান্ড ও জ্যাক জুকস।সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জেক কাসদান। চিত্রনাট্য লিখেছেন জেক কাসদান, জেফ পিঙ্কনার ও স্কট রোজেনবার্গ। প্রযোজনায় রয়েছেন ম্যাট টলম্যাচ, ডোয়েন জনসন, ড্যানি গার্সিয়া, হিরাম গার্সিয়া এবং জেক কাসদান।প্রথমে আগামী ১১ ডিসেম্বর সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও পরে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বড়দিন উপলক্ষে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।উল্লেখ্য, নতুন এই সিনেমাটি ১৯৯৫ সালের জনপ্রিয় জুমানজি চলচ্চিত্রের আধুনিক সংস্করণের ধারাবাহিকতা। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত রবিন উইলিয়ামস ও কিরস্টেন ডানস্ট। নতুন সিরিজে বোর্ড গেমের পরিবর্তে ভিডিও গেমকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বড়দিনে মুক্তি পাওয়ায় এটি ডিউন: পার্ট থ্রি এবং অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবে।
সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অনুপম রায়ের ঢাকা কনসার্ট। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ‘ওয়ান ট্রু সাউন্ড উইথ অনুপম রায়’ আয়োজন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন জানিয়েছে, কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করে অনুষ্ঠানটি আয়োজন না করার নির্দেশনা দেয়।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আয়োজকরা বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি ও অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কনসার্টটি আপাতত স্থগিত করতে হয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে শুধু দর্শকই নন, শিল্পী, স্পন্সর, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই হতাশ হয়েছেন।টিকিট ক্রয়কারী দর্শকদের আশ্বস্ত করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, কনসার্টের জন্য কেনা সব টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। অফিসিয়াল টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জানানো হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনিবার্য কারণ উল্লেখ করলেও কনসার্ট স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
শাকিব খানের ব্যক্তিজীবন অনেকটা খোলা বইয়ের মতো। অনেক পাতা-ই পড়া নেটিজেনদের। একটি পৃষ্ঠা যেন উল্টানো বাকি ছিল। যেটি কিং খান নিজেই উল্টালেন। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে জানালেন অপু-বুবলী না, ইংলিশ মিডিয়ামের এক তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন অভিনেতা।বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন শাকিব খান। উপস্থাপনার কাজটি সামলাচ্ছিলেন পূর্ণিমা। দীর্ঘদিনের সহকর্মীর কাছেই মনের গোপন জানিয়েছেন মেগাস্টার।জানান একসময় গুলশানের ইংরেজি মাধ্যমের এক তরুণীর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। দুজনের সম্পর্কটি খুব বেশি দূর এগোয়নি। তবে সেই অসমাপ্ত ভালোবাসার স্মৃতি এখনও তাকে নাড়া দেয়।শাকিব বলেন, ‘আমার বাসার কাছাকাছি ছিল ওর বাড়ি। দেখতেও ভীষণ সুন্দর ছিল। আমি কিন্তু তার সঙ্গেই সেটেলড হতে চেয়েছিলাম। আমি মনে মনে সিরিয়াসলি তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। আমাকে মেয়েটি খুব ভালোবাসত। আমি সত্যিই তার সঙ্গেই সংসার করতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে একা বসে ভাবি— আমি চাইলাম কাকে, ভালোবাসলাম কাকে, আর কোথায় গেলাম!’সেই তরুণীকে এখনও মিস করেন বলে পূর্ণিমাকে জানান শাকিব। বলেন, ‘আমি এখনও তাকে মিস করি। মাঝেমাঝেই যখন একা থাকি তখন ভাবি যে, কেন এরকম হলো! সম্পর্কে যখন ভালোবাসাবাসি বেশি হয়ে যায় তখন মনে হয় এরকম হয়ে যায়।’ উপস্থাপকের আসনে পূর্ণিমা বরাবরই দক্ষ। শাকিবের বেলায়ও একই রকম ছিলেন। নায়কের পেট থেকে কথা বের করতে মোক্ষম প্রশ্ন ছোড়েন। প্রশ্ন করেন, সেই তরুণী যদি আবার জীবনে ফিরে আসেন, তাহলে তাকে গ্রহণ করবেন কি না। উত্তরে শাকিব বলেন, ‘সে অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করে। আমি চাই, সে অনেক ভালো থাকুক।’
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারের হটস্পট, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মানুষ স্কিন ক্যান্সার এবং মেলানোমায় মারা যায় এবং প্রতি ৩ জন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় ২ জনের জীবনে অন্তত একবার স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে ধারণা করা হয়। এমন একটি দেশে যেখানে সানস্ক্রিন একটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে।ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘চয়েস’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লিখিত এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ছিল এসপিএফ ৫০+ (SPF 50+) হিসেবে বাজারজাত করা একটি পণ্যকে ঘিরে, যা পরীক্ষায় প্রায় এসপিএফ ৪ (SPF 4) এর মতো কাজ করেছে বলে জানা যায়। ব্র্যান্ডটি এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালেও পণ্যটি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে কেন এত বড় অমিল দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে যে আমদানি করা পণ্য ত্বকের যত্নের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই সংবাদটি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের নামই এখন আর যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোক বা কোনো স্থানীয় কোম্পানির, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি তার লেবেলে লেখা সুরক্ষা সত্যিই প্রদান করে কি না । এই বিষয়টি ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আরও বেশি মানুষকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না। তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়। কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা। বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে। এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে। শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে। তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থার মধ্যে ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। ৪ আগস্ট মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ওই কারণে বেড়েছে স্বর্ণের দাম।এদিন সকাল ৯টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি আউন্স ৪,০৫৯.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার দুর্বল হলে ডলারের ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তেহরানের জন্য এটি একটি শেষ সুযোগ। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। এ অবস্থায় বাজারে সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে প্রয়োজন হলে সুদের হার বাড়াতে ফেড পিছপা হবে না।বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি পূর্বাভাস দিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম স্থির থাকতে পারে বা কিছুটা কমতে পারে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা ৪,৫০০ ডলার এবং আগামী বছরের প্রথমার্ধে ৫,০০০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছাতে পারে।স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৫৮.৭৪ ডলার, প্লাটিনাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১,৬৪৬.৫৯ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১,২৭৯.৫৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট ডিকসন জেলার তামান লিঙ্গি এলাকায় সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে পুলিশ।নেগেরি সেম্বিলান পুলিশের প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমাদ জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল প্রায় ৪টা ১৫ মিনিটে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে একটি বাড়িতে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে লিঙ্গি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পরে লিঙ্গির সুয়া মাঙ্গিস এস্টেট এলাকা থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, নিহত তিন বাংলাদেশির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া আহত আরেক বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে রেমবাউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত, আহত ও আটক ব্যক্তি সবাই একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং একই বাসায় একসঙ্গে বসবাস করতেন।পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি একাধিক স্থানে ঘটেছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।দাতুক আলজাফনি আহমাদ বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাঁকে রিমান্ডের আবেদন জানাতে মঙ্গলবার পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য বা সংঘর্ষের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
গেমার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য দেশের বাজারে নতুন গিগাবাইট জিও২৭কিউ২৪এ গেমিং মনিটর এনেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গিগাবাইট। ২৭ ইঞ্চির এই কিউডি-ওএলইডি মনিটরের দাম রাখা হয়েছে ৬৩ হাজার টাকা। এতে রয়েছে কিউএইচডি (২,৫৬০×১,৪৪০) রেজল্যুশন, ২৪০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং ০.০৩ মিলিসেকেন্ড রেসপন্স টাইম।মনিটরটিতে ব্যবহৃত হয়েছে স্যামসাংয়ের কিউডি-ওএলইডি প্যানেল, যা ৯৯ শতাংশ ডিসিআই-পি৩ রঙের পরিসর সাপোর্ট করে এবং ১.০৭ বিলিয়ন রঙ প্রদর্শনে সক্ষম। ফলে ছবি ও ভিডিওতে আরও বাস্তবসম্মত রঙ, গভীর কনট্রাস্ট এবং উন্নত ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এতে রয়েছে এইচডিআর১০ সমর্থন এবং প্রায় ১৫ লাখ:১ কনট্রাস্ট রেশিও।গেমিংয়ের জন্য মনিটরটিতে যুক্ত করা হয়েছে এআই ব্ল্যাক ইকুয়ালাইজার, আল্ট্রা ক্লিয়ার মোশন, ওএলইডি ভিআরআর অ্যান্টি-ফ্লিকার এবং ট্যাকটিক্যাল সুইচ ২.০ প্রযুক্তি। এসব ফিচার দ্রুতগতির গেমে আরও মসৃণ অভিজ্ঞতা এবং প্রতিযোগিতামূলক খেলায় ভালো ভিজিবিলিটি নিশ্চিত করবে।সংযোগ সুবিধার জন্য রয়েছে দুটি এইচডিএমআই ২.১, একটি ডিসপ্লেপোর্ট ১.৪ এবং একটি হেডফোন জ্যাক। ফলে গেমিং পিসি, প্লেস্টেশন ৫ কিংবা এক্সবক্স সিরিজ এক্সের মতো ডিভাইস সহজেই সংযুক্ত করা যাবে।গিগাবাইট বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, মনিটরটির স্ট্যান্ডে সামনে-পেছনে কাত করা, ডান-বামে ঘোরানো এবং ৯০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে খাড়াভাবে ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ভেসা (VESA) ১০০×১০০ মাউন্ট সমর্থন থাকায় এটি দেয়ালেও স্থাপন করা যাবে।গিগাবাইট বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান বলেন, ‘জিও২৭কিউ২৪এ মনিটরটি এমন ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি, যারা ই-স্পোর্টস গেমিং, ভিডিও সম্পাদনা, গ্রাফিক্স ডিজাইন কিংবা প্রিমিয়াম ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা চান। কিউডি-ওএলইডি ডিসপ্লে, ২৪০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং দ্রুত রেসপন্স টাইমের সমন্বয়ে এটি প্রিমিয়াম গেমিং মনিটরের বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।’তিনি আরও জানান, স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড গিগাবাইটের একমাত্র অনুমোদিত পরিবেশক হিসেবে বাংলাদেশে মনিটরটি বাজারজাত করছে।প্রসঙ্গত-২৪০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকায় প্রতি সেকেন্ডে ২৪০ বার স্ক্রিনের ছবি হালনাগাদ হয়। ফলে দ্রুতগতির গেম, ভিডিও বা চলমান দৃশ্যে ছবির মসৃণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, মোশন ব্লার ও স্ক্রিন টিয়ারিং কমে এবং প্রতিক্রিয়ার সময়ও দ্রুত হয়। বিশেষ করে ই-স্পোর্টস গেমারদের জন্য এটি প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ে বাড়তি সুবিধা দেয়। একই সঙ্গে ভিডিও সম্পাদনা ও উচ্চ ফ্রেমরেটের কনটেন্ট দেখার ক্ষেত্রেও আরও স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি