মেট্রোরেলসহ দেশের সব ধরনের রেলসেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে এই সুবিধা কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।ভাড়া ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে বিশেষ অপশন রাখা হবে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেখালে এই ছাড় পাবেন। এছাড়া ভ্রমণের সময় (অনবোর্ড) এবং টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধীদেরও সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া কার্ডটি কার্যকর হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন কি না, সে বিষয়ে আজ কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান মন্ত্রী।রেলের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আমরা রেলের সেবার মান ও গতি বৃদ্ধি করতে চাই। বর্তমানে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রেল আরও শক্তিশালী, জনবান্ধব ও মানসম্মত হবে।’আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে যাত্রীচাপ সামলাতে ৮৫ থেকে ৮৬টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ব্যবহারের চেষ্টার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সম্ভব হলে কোনো শিডিউল বিপর্যয় হবে না এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা সহজ হবে।ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করছে। বাস মালিকদের পক্ষ থেকে যাতায়াতের সময় সেতুর টোল মওকুফের একটি দাবি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের চাপ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য কোথাও দুই দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি লোক শহর ছাড়ে না। এর ফলে একটি বিশাল চাপের সৃষ্টি হয়। ইনশাআল্লাহ, যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তাতে একটি স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক ঈদযাত্রা হবে বলে আমরা আশা করছি।’ঈদযাত্রা আরও সহজ করতে একদিনের ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। বিষয়টি এখনো বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ হয়নি, তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে এখন জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বিভিন্ন বিমান পরিবহন সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন এনেছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি রুটে সবধরনের ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিমানের পক্ষ থেকে দেয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দাম্মাম, দোহা, দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও কুয়েতসহ ৬টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পরবর্তী যাত্রার জন্য সাধারণ যাত্রীদের বাংলাদেশ বিমান ও এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এদিকে ইরানে হামলার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ১৪৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আজও মধ্যপ্রাচ্যগামী ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন (২৬ লাখ) মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে জাপান। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন জিউসেপ্পে লোপ্রেতে এই সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেন।প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যরা উপকৃত হবেন। জাপানের এই অনুদানের মাধ্যমে তাদের জন্য আশ্রয়স্থল, প্রয়োজনীয় অ-খাদ্য সামগ্রী, এলপিজি বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া সাইট ম্যানেজমেন্ট ও সাইট ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি কক্সবাজারের দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘জাপান সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইওএমের সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারিত্ব মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবং দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।’আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান জিউসেপ্পে লোপ্রেতে বলেন, ২০২৬ সালেও কক্সবাজারে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ক্রমবর্ধমান। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হওয়ায় শরণার্থীদের চাহিদা বেড়েই চলেছে। জাপান সরকারের এই উদার সহায়তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই অবদান আইওএম ও এর অংশীদারদের জীবন রক্ষাকারী সেবা প্রদান এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।আইওএম জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় তারা কাজ করে যাচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে তেহরানের পাল্টা হামলার জবাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে কাতার। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে ওই হামলা চালিয়েছে কাতারের সামরিক বাহিনী। কাতারের হামলার বিষয়ে অবগত অজ্ঞাতনামা পশ্চিমা সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল-১২ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।ইরানে কাতারের হামলার পর শিগগিরই দেশটিতে সৌদি আরও হামলা শুরু করতে যাচ্ছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেছেন, গতকাল ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরবও শিগগিরই দেশটিতে পাল্টা হামলা শুরু করবে বলে ধারণা করছে ইসরায়েল।ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে।এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬৮ জন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আব্দুল নাসের আল হুমাইদি।তিনি বলেছেন, গত কয়েক দিনে ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১৮৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮১২টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। ইরান থেকে ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বেশিরভাগই লক্ষ্যে আঘাত হানার আগে আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, ১৩টি সমুদ্রে পড়েছে এবং মাত্র একটি আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে।ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে গত চারদিন ধরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এই হামলায় দেশগুলোতে অনেকে হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশিও রয়েছেন।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।
চার মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ পেয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাদের নিয়োগ দিয়ে পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই চার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে— কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন রফিকুল আই মোহাম্মদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগে মো. শহীদুল হাসান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে আবদুল খালেক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী উক্ত কর্মকর্তাদের অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে ১ (এক) বছর মেয়াদে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।
রাজধানীতে বাস চলাচলের সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা যেন প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য ট্রাফিক পুলিশ বিশেষভাবে তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মাহে রমজানে ঢাকা মহানগর এলাকার ব্যাংক, শপিং মলগুলোর নিরাপত্তা, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় কমিশনার এ কথা জানান। ডিএমপি সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সমন্বয় সভায় কমিশনার সভাপতিত্ব করেন। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, রমজান মাসে ইফতারের সময় রাজধানীতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। নগরবাসী যাতে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছে ইফতার করতে পারেন সেজন্য ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ট্রাফিক বিভাগ ও ক্রাইম বিভাগের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ইফতারের সময় তারা সড়কেই ইফতার করছেন যাতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।মো. সরওয়ার বলেন, ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বাস চলাচলের সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা যেন প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ তৎপর রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট ইউনিট কাজ করছে। সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় রমজান মাস সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মোঃ নজরুল ইসলাম, বলেন, আজ ১৩তম রোজা পার করছি। এখন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাকি রোজাগুলো যদি এভাবেই শান্তিপূর্ণভাবে পার করতে পারি তাহলে ঈদ উৎসব সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পারবো।ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, আপনাদের দোকান, মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসুন। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আপনারা নিজেরাও বেশি নিরাপদ থাকবেন এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের কাজ সহজ হবে। যেকোনো প্রয়োজনে নিকটস্থ থানা এবং জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করতে অনুরোধ করেন কমিশনার। রমজানে নগদ অর্থ ও মূল্যবান দ্রব্য পরিবহনে ডিএমপির এস্কর্ট সেবা নেওয়ারও আহ্বান জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।সমন্বয় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনাররা, উপ-পুলিশ কমিশনাররা, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রটোকল ছাড়া চলাচল এবং ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলায় রাজধানীর সড়কে যানবাহনের গতি বেড়েছে।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেয়া এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সড়কে যানবাহন চলাচলের গতি প্রকৃতি কেমন এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আজকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিআইপি প্রটোকল ছাড়া চলাচলের কারণেই যানবাহনের গতি বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে আগে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ছিল ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার যা কিনা পায়ে হাঁটা গতির সমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর ভিভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন। প্রতিবেদনে গত ১৪ দিনের একটি পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে যে, ভিভিআইপি প্রটোকলে যানচলাচল বাধাগ্রস্থ না হওয়ায় যানবাহনের গতি ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর পর রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ট্রাফিক সিগন্যাল অনুসরণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনটি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন।
আগামী ঈদুল ফিতরে ৫ দিন ছুটি নির্ধারিত আছে। এই ছুটি আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। মূলত ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ছুটি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।চলতি বছর রমজান মাস ৩০ দিন ধরে ঈদুল ফিতরের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদুল ফিতর হবে ২১ মার্চ।চলতি বছরের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ২২ ও ২৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের আগে দুই ও পরে দুইদিনসহ মোট চারদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। সেই হিসেবে ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।গত বছর ঈদের সময় দীর্ঘ ছুটি থাকায় ঈদযাত্রা ছিল অনেকটাই নির্বিঘ্ন। এরই মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি আমরা বিবেচনা করবো।ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করে গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে ছুটি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ছুটি দীর্ঘ হলে মানুষ পর্যায়ক্রমে বাড়ি যেতে পারে। এতে একবারে চাপ পড়ে না। তবে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। আরও কতদিন ছুটি বাড়ানো হয়ে এ বিষয়ে তিনি কোনো কিছু জানাতে রাজি হননি। তবে জানা গেছে, ২৪ এবং ২৫ মার্চ (মঙ্গল ও বুধবার) চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। নতুন করে এ দুদিন ছুটি দিলে ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার), এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ (শুক্র ও শনিবার) দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ১০ দিনের ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
বাংলাদেশ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা এবং এক অতিরিক্ত ডিআইজিকে বদলি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।বদলি করা কর্মকর্তারা হলেন- ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম ও মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ঈদযাত্রা সহজ এবং আরামদায়ক করতে এবার সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, ঈদের সড়কে কোনো ধরনের পার্কিং ও দোকান থাকবে না। এছাড়া বাড়তি ভাড়া আদায়ের জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা কথা দিয়েছেন কোনো বাড়তি ভাড়া আদায় হবে না। আমরা নির্ধারিত ভাড়ায় মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে চাই, এটা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। তবে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কিছুটা ছাড় চাওয়া হয়েছে বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি যে এবার তাদেরকে ভাড়া নির্দিষ্ট হারে নিতেই হবে। যে ভাড়া আছে, সেটা অঙ্গীকার না শুধু, বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তারা একটা দাবি করেছে, যে ঈদযাত্রায় বাসটা যখন খালি আসে তখন যেন সেতুর টোলটা ফ্রি করে দেয়া হয়। বাকিটা তারা অঙ্গীকার করেছে যে, ভাড়া বাড়াবে না, যাত্রীসেবার মানও ঠিক রাখবে। যানজট যাতে না হয়, টিকিট যেটা আছে সেটাও তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে সেল করবে। এসব বিষয়ে আমাদের মনিটরিং আছে, ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, আরেকটা বিষয় হলো ঈদের আগমুহূর্তে রাস্তাঘাটে যে যানজট হয় এবং সেই সঙ্গে লঞ্চেরও এক ধরনের চাপ থাকে। এক্ষেত্রে গত প্রায় ১০ দিন ধরে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যারা এখানে যুক্ত আছেন এবং যারা মাঠে কাজ করবেন—র্যাব, মোবাইল টিম, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সড়কের ওপর যত্রতত্র প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বাজার ও দোকানপাট বসানো এবং সড়ক দখল যাতে না হয়, যত্রতত্র পার্কিং যেন না থাকে তা নিশ্চিত করা হবে। সার্বিকভাবে স্বস্তির একটি ঈদযাত্রা হবে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, আমাদের মনিটরিং আছে। আমি নিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ যে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে এতে স্বস্তি এবং আরামদায়ক ঈদযাত্রা হবে।
কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন (২৬ লাখ) মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে জাপান। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন জিউসেপ্পে লোপ্রেতে এই সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেন।প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যরা উপকৃত হবেন। জাপানের এই অনুদানের মাধ্যমে তাদের জন্য আশ্রয়স্থল, প্রয়োজনীয় অ-খাদ্য সামগ্রী, এলপিজি বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া সাইট ম্যানেজমেন্ট ও সাইট ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি কক্সবাজারের দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘জাপান সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইওএমের সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারিত্ব মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবং দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।’আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান জিউসেপ্পে লোপ্রেতে বলেন, ২০২৬ সালেও কক্সবাজারে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ক্রমবর্ধমান। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হওয়ায় শরণার্থীদের চাহিদা বেড়েই চলেছে। জাপান সরকারের এই উদার সহায়তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই অবদান আইওএম ও এর অংশীদারদের জীবন রক্ষাকারী সেবা প্রদান এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।আইওএম জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় তারা কাজ করে যাচ্ছে।
সদ্য বিদায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।সোমবার (২ মার্চ) সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও অন্যান্য নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের নামে পরিচালিত সব ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য নথিভুক্ত করে বিএফআইইউতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ছিলেন আসিফ মাহমুদ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে তিনি আলোচনায় আসেন। জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সমন্বয়কদের অন্যতম ছিলেন তিনি।আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সে সময় ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দলটির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পাঞ্চলে এক অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনকে।মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এক ইফতার অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান।তিনি বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়ও বিসিকের এক নম্বর গেইটে একটি পোশাক কারখানার ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। বাইরে হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অবস্থান নিয়েছেন।ঘটনাস্থলে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাসেল মাহমুদ ও তার অনুসারীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।অবস্থান নেওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিসিক মালিক সমিতির পরিচালক কবির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমরা জামায়াতের দাওয়াতে এসেছি। অনুষ্ঠানে এমপি কাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলেছেন, তা আমরা জানতে চাই। আমরা সে কারণে অবস্থান নিয়ে আছি।তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের রাসেল সংবাদমাধ্যমে কোনও কথা বলতে রাজি হননি।পরিস্থিতি মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে ফতুল্লা থানা পুলিশ বিসিকে অবস্থান নিয়েছেন।সংসদ সদস্য অবরুদ্ধ থাকা ভবনটিতে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে মোবাইল ফোনে আব্দুল্লাহ আল আমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, তারা পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায়, যেখানে অনুষ্ঠানটি চলছিল, সেখানেই আছেন। তারা বের হতে পারছেন না।“শুধু হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা নন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাসেল তার লোকজন নিয়ে নিচে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি নিরাপত্তা শঙ্কা বোধ করছি না। পুলিশ আছে, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও জানিয়েছে, তারা আসছেন”, বলেন তিনি।খবর পেয়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিসিকে আসলে হাতেমের অনুসারীরা কয়েকজনকে মারধর করে বলেও অভিযোগ করেন আল আমিন।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লামের্দে একটি স্পোর্টস হলে রকেট হামলায় অন্তত ২০ জন ভলিবল খেলোয়াড় নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এসএনএন টেলিভিশন। খবরটি প্রকাশ করেছে মডার্ন ডট এজেড।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ফার্স প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট চারটি রকেট আঘাত হানে। এর মধ্যে লামের্দ শহরের একটি স্পোর্টস হল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় সেখানে ভলিবল খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।হামলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলও আনুষ্ঠানিক কোনো দায় স্বীকার করেনি।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার উৎস ও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযুক্ত অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর (নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া) খোঁজ মিলছে না। রোববার রাতে দেশে ফিরেছেন—এমনটা শোনা গেলেও তাঁর দেখা মেলেনি। কেউ বলতে পারছেন না এখন তিনি কোথায়।আলভী ও ইকরাদের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গতকাল রোববার বিকেলে জাহের আলভী নেপাল থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এরপর বেশ কিছুক্ষণ বিমানবন্দরের ভেতরেই অবস্থান করেন। ঢাকায় ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর একজনের মধ্যস্থতায় তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন। এদিকে আলভীর ফোন, ফেসবুকসহ সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ থাকায় দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী কয়েক দিন আগে শুটিংয়ে যান নেপালে, একই নাটকের শুটিংয়ে আলভীর প্রেমিকা সেই অভিনয়শিল্পীও ছিলেন, যাঁকে নিয়ে আলভীর স্ত্রী ইকরার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল।আলভী গণমাধ্যমকে গতকাল দুপুর ১২টায় জানান, তিনি সন্ধ্যার মধ্যে নেপাল থেকে ঢাকায় ফিরবেন। ফিরে এসেই পুরো ব্যাপার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলবেন। আলভী তাঁর কথামতো দেশে ফিরে থাকলেও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো কথা সংবাদমাধ্যমকে কিছু বলেননি। এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে আলভী তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডি বন্ধ করে রেখেছেন। ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না হোয়াটসঅ্যপেও।বিনোদন অঙ্গনে আলভীর ঘনিষ্ঠজনদের কেউ কেউ বলছেন, এভাবে গা ঢাকা দিয়ে থাকলে সামনে আলভীর বিপদই বাড়বে। তাঁর উচিত বিষয়টি নিয়ে কথা বলা। সেদিন কী এমন ঘটনা ঘটেছিল যে ইকরাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে!আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার পল্লবী থানায় এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ।মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানার আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং দুই বছর ধরে অবহেলা ও নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন তানভীর আহমেদ।গতকাল পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।অন্যদিকে মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এজাহারের একটি কপি বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, যাতে দেশে আসার পর দ্রুত গ্রেপ্তার করা যায়।আজ সোমবার সকালে এস এম আলমগীর জাহান জানান, আলভীর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। তদন্ত চলমান।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজিম আহমেদ বলেন, ‘একবার শুনি আলভী দেশে আসছে, একবার শুনি আসেনি। ধোঁয়াশা, ধোঁয়াশা। আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলছে।’
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মধ্যেই মুক্তি পাচ্ছে সিনেমা ‘হোটেল তেহরান’। সিআইএর অভিযান নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি চলতি বছরে মুক্তি দেওয়া হবে। যদিও সিনেমাটির মুক্তির তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’ জানিয়েছে এই বছরেই ছবিটি মুক্তি পাবে।‘হোটেল তেহরান’ পরিচালনার পাশাপাশি গাই মোশে মার্ক বাক্কির সঙ্গে মিলে ছবিটির চিত্রনাট্য করেছেন। ছবিটির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে আছেন হলিউডের দুই হেভিওয়েট লিয়াম নিসন ও জ্যাকারি লেভি।আফগানিস্তানে এক মিশনে ব্যর্থ হন তেহরানে দুই সিআইএ এজেন্ট ল্যারি ও টাকার। তাদের ও তাদের দলের একটি উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এই সিনেমার কাহিনী।ল্যারি চরিত্রে আছেন নিসন আর টাকার চরিত্রে অভিনয় করছে লেভি। এছাড়া আরও অভিনয় করছেন কুইন্সি আইসেয়া, জেইক চোই ও অগুস্তো আগিলেরা ও এলনাজ নোরুজি। ‘হোটেল তেহরান’ নিয়ে নির্মাতা মোশে বলেন, “হোটেল তেহরান একটি রোমাঞ্চকর যাত্রা যেখানে আনুগত্য, দায়মুক্তি ও যুদ্ধে মানবজীবনের ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।” সিআইএর সাবেক গোয়েন্দা ব্যাজেল বাজের কাছ থেকে এই সিনেমার গল্পের কাহিনীসূত্র পেয়েছেন মোশে। মার্ক বাক্কির সঙ্গে মিলে মোশে চিত্রনাট্য লিখেছেন এই সিনেমার জন্য।
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা রাশমিকা মান্দানা ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আলোচনায় এসেছে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।সম্প্রতি রাজস্থানের উদয়পুরে জমকালো আয়োজনে সাতপাক ঘোরার পর মা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। রাশমিকা জানিয়েছেন, সংসার ও সন্তান নিয়ে তিনি এখন থেকেই স্বপ্ন দেখছেন এবং মাতৃত্বকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন। বিয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাশমিকা তার এই অনুভূতির কথা ভাগ করে নেন। জানান, শুধু একটি নয়, একাধিক সন্তানের মা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। রাশমিকার মতে, সন্তান স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী করে তোলে। মা হওয়ার পর সন্তানের নিরাপত্তাই হবে তার কাছে সবথেকে বড় অগ্রাধিকার।ক্যারিয়ার না কি সন্তান- এমন প্রশ্নের জবাবে রাশমিকা বেশ স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন। বিনোদন জগতে কাজের কোনো ধরাবাঁধা সময় না থাকলেও তিনি সাফ জানিয়েছেন, মা হওয়ার পর তার কাছে সন্তানই হবে সবার আগে। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি প্রস্তুত। এমনকি প্রয়োজনে পেশাগত জীবনে ছাড় দিতেও পিছপা হবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।দীর্ঘদিন প্রেমের পর সম্প্রতি বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে বাগদান ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন রাশমিকা মান্দানা। বর্তমানে এই তারকা দম্পতির ব্যক্তিজীবন ও ক্যারিয়ারের ভারসাম্য নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েল ও আমেরিকার আকস্মিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঢাকাই চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে দুবাই যাওয়ার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সেখানে আটকা পড়েন তিনি। পরে, দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগজনক সময় পার করে অবশেষে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এই অভিনেত্রী। সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ভক্তদের নিজের এই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ফারিয়া।গত শনিবার রাতে দেওয়া সেই পোস্টে নুসরাত ফারিয়া দিনটিকে ‘দুঃস্বপ্নের মতো’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, ঘুম থেকে উঠে শুনলাম যুদ্ধ, ইউএই(আরব আমিরাতের)-এর আকাশপথ বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু থেমে গেল। ইস্তানবুল থেকে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল চারপাশের পৃথিবীটা বদলে যাচ্ছে, এত অনিশ্চয়তা, এত চাপ, এত ভয়।তবে এই সংকটের মুহূর্তে ইস্তাম্বুলে অবস্থানরত বন্ধু ও তাদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফারিয়া। চরম বিশৃঙ্খলার মাঝেও তারা যেভাবে ফারিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এবং বারবার খোঁজ নিয়েছেন, তা তাকে ভেঙে পড়তে দেয়নি বলে জানান অভিনেত্রী। বর্তমানে তিনি প্লেনে চড়ে ঢাকার পথে রয়েছেন। পোস্টে বিশ্বজুড়ে শান্তি কামনার পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন এই নায়িকা।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা আত্মহত্যা করেছেন।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।অভিনেতা জাহের আলভী বর্তমানে ঈদের একটি বিশেষ নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে প্রিয়মায়া নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে এ অভিযোগ করেন বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যা।রোজের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জামিন পেয়েই তাকে ‘মারধর’ করেন নোবেল। কেন গায়কের বিরুদ্ধে মামলা করলেন বাদী, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নোবেল বাদীকে বাসায় নিয়ে মারধর করতে শুরু করেন।শরীরে মারধরের আঘাত দেখিয়ে রোজ বলেন, ‘মিডিয়ার সামনে মানুষটা যেরকম, মিডিয়ার বাইরে সম্পূর্ণ আলাদা। আমি ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। ও নেশাখোর, কিন্তু নিজেকে ভিকটিম দাবি করে। পরিস্থিতির শিকার দাবি করে।’বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রোজকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা ও প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেফতার হন কণ্ঠশিল্পী নোবেল। ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বটতলা এলাকা থেকে ডেমরা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়ে গেছে তেলের দাম। এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ মার্চ মঙ্গলবার ভোরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৭০ ডলার বা প্রায় ২.২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯.৪৪ ডলারে। এর আগের দিন সোমবার (২ মার্চ) তেলের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ৮২.৩৭ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। পরে কিছুটা কমলেও দিন শেষে প্রায় ৬.৭ শতাংশ বেশি দামে লেনদেন শেষ হয়। খবর আল জাজিরার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১.১৭ ডলার বা প্রায় ১.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। আগের সেশনে এই তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬.৩ শতাংশ ঊর্ধ্বগতিতে বন্ধ হয়।বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সংঘাত দ্রুত প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে হরমুজ প্রণালি কার্যত ঝুঁকির মুখে এবং সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপ ততই বাড়বে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশের মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সোমবার (২ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে একটি সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের উপর পড়লে একজন বাংলাদেশি নিহত ও দুইজন আহন হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী মানামার কাছে সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যে আগুন লেগেছিল তা নেভানো হয়েছে। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ তারেক (৪৮) নিহত ও দুইজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। মো. তারেকের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে। সোমবার ভোরে বাহরাইনের একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিকালীন সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত মো. তারেক দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতেন। নিহতের ফুফাতো ভাই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টেও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
আধুনিক ইতিহাসের পাতায় যে কয়েকজন নেতা একক সিদ্ধান্তে একটি অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি কেবল একটি দেশের শাসক নন, বরং পুরো শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও শৈশব: অভাবের মাঝেও শিক্ষার আলো১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে আলী খামেনেইর জন্ম। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা সৈয়দ জাভাদ খামেনেই ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ আলেম, যিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। খামেনেই পরবর্তীকালে তার শৈশব সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে আমাদের রাতের খাবারে শুধু রুটি আর কিশমিশ জুটত।’ অভাব থাকলেও পড়াশোনায় খামেনেই ছিলেন মেধাবী। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি পবিত্র কোরআন শিক্ষা শুরু করেন এবং ১১ বছর বয়সে ধর্মীয় লেবাস (পাগড়ি ও জাব্বা) ধারণ করে মাদ্রাসায় ভর্তি হন।বিপ্লবের আগুন ও কারাবরণ১৯৬০-এর দশকে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে আসেন এবং শাহ শাসিত রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। এই অপরাধে তাকে অন্তত ছয়বার গ্রেপ্তার করা হয়। সাভাক (তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা) তাকে নির্মম নির্যাতন করেছিল এবং তিনি তিন বছরের জন্য নির্বাসিতও হয়েছিলেন। কিন্তু এই কারাবাসই তাকে একজন আপসহীন নেতায় পরিণত করে।প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ও হত্যাচেষ্টা১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর খামেনেই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সব পদে আসীন হন। ১৯৮১ সালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে সেই বছরই একটি বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন, যার ফলে তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে সম্মান দিতে শুরু করে। তার আট বছরের প্রেসিডেন্সি ছিল মূলত ‘ইরান-ইরাক যুদ্ধ’-এর কঠিন সময় পার করার গল্প।সুপ্রিম লিডার: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ৩৭ বছর১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনেইকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার দীর্ঘ শাসনামলের প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:* আইআরজিসি (IRGC)-এর উত্থান: তিনি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন।* প্রতিরোধের অক্ষ: লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথিদের সমর্থন দিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশাল প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যাকে তিনি ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বলেন।* পারমাণবিক কর্মসূচি: পশ্চিমা বিশ্বের প্রচণ্ড নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সত্ত্বেও তিনি ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছেন।দর্শনের দর্পণ: খামেনেইর অবিনশ্বর কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত তার আদর্শিক অবস্থানের প্রতিফলন। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:* পশ্চিম প্রসঙ্গে: “আমেরিকা হলো ‘বড় শয়তান’। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই হলো নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।”* আঞ্চলিক সংঘাত ও ইসরায়েল: ‘ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।’* পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ফতোয়া: ‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, আমাদের জনগণের ঈমানের মধ্যে।’* তরুণ প্রজন্মের প্রতি: ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’ব্যক্তিগত জীবন ও বিচিত্র পছন্দখামেনেইর জীবনযাপন অত্যন্ত সাদামাটা। তিনি নিয়মিত কবিতা পড়েন এবং ফারসি সাহিত্যের গভীর অনুরাগী। এমনকি ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ তার অন্যতম প্রিয় বই। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর জীবন, আদর্শ এবং তার প্রভাবশালী বক্তব্যগুলোকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত ফিচার নিউজ নিচে দেওয়া হলো:আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই: পারস্যের ক্ষমতার ধ্রুবতারা ও তিন দশকের আপসহীন নেতৃত্বতেহরান, ইরান — আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে যদি কোনো একজন ব্যক্তির ছায়া সবচেয়ে দীর্ঘ হয়, তবে তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই। ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনির প্রয়াণের পর, যখন দেশটি এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন খামেনেই হাল ধরেন। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কেবল ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা নন, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে এক অটল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও বৈপ্লবিক উত্থান১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদ শহরের এক অতি সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে খামেনেইর জন্ম। শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া খামেনেইর প্রধান সম্পদ ছিল তার মেধা ও ধর্মীয় নিষ্ঠা। মাত্র ১১ বছর বয়সে মাদ্রাসায় শিক্ষা শুরু করা এই তরুণ ১৯৬০-এর দশকে আয়াতুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে এসে রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।বিপ্লবের আগে শাহের শাসনামলে তাকে অন্তত ছয়বার কারাবরণ করতে হয়। নির্বাসন ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত রাজনৈতিক নেতৃত্বের শিখরে আরোহণ করেন এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।‘জীবন্ত শহীদ’ ও অদম্য মনোবল১৯৮১ সালে একটি সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় খামেনেই এক ভয়াবহ বোমা হামলার শিকার হন। এই হামলায় তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জানবাজ’ বা ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা তাকে ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসায়।আদর্শিক স্তম্ভ: খামেনেইর বিখ্যাত কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:আমেরিকা ও পশ্চিম প্রসঙ্গে: তিনি সবসময়ই আমেরিকার আধিপত্যবাদের কট্টর বিরোধী। তার বিখ্যাত উক্তি:"আমেরিকা হলো 'বড় শয়তান'। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।"ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অস্তিত্বকে তিনি কখনোই মেনে নেননি। তার ভাষায়:"ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।"পারমাণবিক অস্ত্র ও ইসলাম: আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তিনি তার ধর্মীয় ফতোয়ায় অটল ছিলেন: "আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, জনগণের ঈমানের মধ্যে।"ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ও আঞ্চলিক প্রভাবখামেনেইর শাসনামলে ইরান কেবল টিকে থাকেনি, বরং আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার নেতৃত্বে গঠিত ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধের অক্ষ আজ লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (IRGC) তিনি এমন এক সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছেন যা সরাসরি তার কাছে দায়বদ্ধ।ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাহিত্যের অনুরাগী এক রাষ্ট্রনায়ককঠোর প্রশাসক এবং ধর্মীয় নেতার বাইরেও খামেনেইর একটি ভিন্ন সত্তা রয়েছে। তিনি ফারসি সাহিত্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী এবং শৌখিন কবি। ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত ধ্রুপদী সাহিত্য তার নখদর্পণে। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিলো। তিনি প্রায়ই তরুণদের বলতেন, ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তিদীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের নাটাই শক্ত হাতে ধরে রাখার পর, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ হামলায় তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। তার এই দীর্ঘ সফর কেবল ইরানের ইতিহাস নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করে গেছে। তিনি যেমন একদিকে আধ্যাত্মিক গুরু, অন্যদিকে তেমনই ছিলেন এক অকুতোভয় রণকৌশলী। তেহরানের এই লৌহমানবের শাহাদাৎ বরণের মাধ্যমে এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তি ঘটলো।
মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান মসজিদ। এখানে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ আদায়-ই করেন না। বরং অনেক জায়গায় এই মসজিদ ধর্মীয় ও আধ্যাত্নিকতার জ্ঞান অর্জনের চর্চা কেন্দ্র। দেশে দেশ পবিত্র মসজিদগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী নানা স্থাপত্যের হয়ে থাকে। যার অপূর্ব স্থাপত্যে আর শৈল্পিকরুপ বিশ্বের পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। মসজিদের আকর্ষণীয় সিলিং, দেয়ালের মার্বেল পাথর, অসধারণ কারুকাজ করা মিনার ইসলামিক কারুশিল্প এবং শৈল্পিকতাকে উপস্থাপন করে। এরকম কিছু সুন্দর মসজিদের বর্ণনা দেওয়া হলো-আল-হারাম মসজিদ, সৌদি আরবআল-হারাম মসজিদ সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত। আল হারাম শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদই নয়, এটিকে পবিত্রতম স্থান হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ৪,০০,৮০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মসজিদ। লক্ষ লক্ষ লোক হজ এবং ওমরাহ পালনের জন্য আল-হারাম মসজিদ পরিদর্শন করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ হিসাবে স্থান পেয়েছে। মোট ৪ মিলিয়ন মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে এই মসজিদে।শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আবুধাবিসংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই মসজিদ অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম হস্তনির্মিত কার্পেট এই মসজিদে রয়েছে। একটি ১২ টন ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে যা দেখতে অনেক পর্যটক চলে আসে। ৮২টি সাদা মার্বেল গম্বুজ, ১,০৬৯ টি বাহ্যিক কলাম, ৯৬ টি অর্ধমূল্য রত্ন-ঢাকা অভ্যন্তরীণ কলাম, সাতটি ২৪ ক্যারেট সোনার ধাতুপট্টাবৃত স্বরোভস্কি ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে। মসজিদের দেয়ালে ক্যালিগ্রাফিক লেখা রয়েছে যা মুসলমানদের ধৈর্য বজায় রাখতে এবং শান্তি ছড়িয়ে দিতে উত্সাহিত করে।হাগিয়া সোফিয়া মসজিদ, তুরস্ক হাগিয়া সোফিয়া মসজিদটি শুধুমাত্র অতুলনীয় সৌন্দর্যের জন্যই নয় বরং এর তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাসের জন্য বিশ্বের সকল মুসলমানদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় স্থান। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদগুলির মধ্যে একটি এই মসজিদ। এই পবিত্র স্থানটি বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের একটি জীবন্ত উদাহরণ। এটি মূলত একটি খ্রিস্টান গির্জা হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। তবে অটোমান শাসনামলে এটি একটি মসজিদে রূপান্তরিত হয়। হাগিয়া সোফিয়া মসজিদে মুসলিম সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত আরবি ভাষায় দীর্ঘ মিনার এবং শিলালিপি রয়েছে। যেখানে সুন্দর মোজাইকগুলি খ্রিস্টানদের অতীতের কথা বলে।নাসির-আল-মুলক মসজিদ, ইরাননাসির আল-মুলক মসজিদ তার অসম্ভাব্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য বিখ্যাত। মসজিদটি প্রচুর গোলাপী টাইলস দিয়ে সজ্জিত। তাই এটি ‘গোলাপী মসজিদ’ নামেও পরিচিত। ১৯ শতকে এটি কাজার রাজবংশের মির্জা হাসান আলী নাসিরের আদেশে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটির চত্বরে একটি সুন্দর আয়তাকার পুল রয়েছে। যার চারপাশে ফুলের গাছপালা ঘেরা। মসজিদটি রঙিন কাচ দিয়ে ঘেরা। যার ফলে ভোরবেলা সূর্য ওঠার সাথে সাথে এক ধরনের আলোর খেলা শুরু হয়।ইসলামিক সেন্টার মসজিদ, ক্রোয়েশিয়াএই মসজিদটি সমসাময়িক ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পকলার একটি সুন্দর সমন্বয়। বাঁকা জ্যামিতিক আকৃতি এবং নিদর্শন সমন্বিত নকশায় গড়ে তোলা হয়েছে মসজিদটি। মসজিদটিতে একটি অনন্য শৈলীযুক্ত গম্বুজ রয়েছে। যা পাঁচটি পৃথক অংশে বিভক্ত। ইসলামিক সেন্টার মসজিদটি সুপরিচিত ক্রোয়েশিয়ান ভাস্কর, দুসান জামোনজা দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।লিড মসজিদ : আলবেনিয়ার সাকোদার নগরীতে এই মসজিদটি অবস্থিত। হুই মসজিদ : চীনের নিংজিয়ায় এই মসজিদটি রয়েছে। চীনের বিভিন্ন প্রদেশের মুসলমানরা এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন।সেন্ট পিটার্সবুগ মসজিদ : রাশিয়ার পিটার্সবুর্গে এই মসজিদটি রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম সৌন্দর্য মণ্ডিত মসজিদ।আল নিদা মসজিদ : এই মসজিদটি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত।সানসাইন মসজিদ : অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদটির গায়ে সূর্যের আলো পরলে চকচক করে।কুলশারিফ মসজিদ : রাশিয়ার কাজানে এই মসজিদটি রয়েছে। রাশিয়া ভ্রমণে গেলে প্রতিটি মুসলমানই চেষ্টা করেন এই মসজিদটি ঘুরে আসতে।বাদশাহী মসজিদ : পাকিস্থানের সবচেয়ে ঐতিহ্য মণ্ডিত এই মসজিদটি সে দেশের গর্বের প্রতীক। গ্রিন লেন মসজিদ : ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রতিটি মুসলমান এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন।
মিসিং ডে। এটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপন নয়, এটি হারানো বন্ধুত্ব ও ফেলে আসা সোনালি দিন। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও এটি। ফেব্রুয়ারি মাস মানে কেবলই গোলাপ, চকলেট আর ভালোবাসার দিন নয়; এর ঠিক উল্টো পিঠে থাকে ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’। এ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মিসিং ডে। দিনটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপনের জন্য নয়; বরং হারানো বন্ধুত্ব, ফেলে আসা সোনালি দিন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও বটে।আমাদের জীবনের যান্ত্রিকতায় আমরা অনেক সময়ই ছোটবেলার বন্ধু, স্কুল-কলেজের সহপাঠী বা আত্মীয়দের থেকে অনেক দূরে সরে যাই। জীবনের প্রয়োজনে ব্যস্ততা বাড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যস্ততার কারণে যখন প্রিয় মানুষগুলো থেকে আমরা দূরে সরে যাই, তখন আমাদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জনের অভাব অনুভব করে তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করলে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমে। বিশেষ করে যাঁরা কোনো টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন বা কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই দিন হতে পারে নতুন করে পুরোনো সম্পর্কগুলো ফিরে পাওয়ার সুযোগ।হারানো বন্ধুদের খুঁজে বের করা, স্কুল বা কলেজের যে প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, তাকে অন্তত একবার এদিনে কল করা। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে পুরোনো সেই আড্ডার কথা ভাগ করলে মনের জমানো অস্থিরতাগুলো নিমেষেই মুছে যায়। এটি মনে করিয়ে দেয় এখনো এমন মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে।শৈশব মানেই নির্ভেজাল আনন্দ। সেই দিনগুলোর কথা একা একা ভাবার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। শৈশবের সেই হারানো হাসিগুলোই হতে পারে আপনার আজকের ক্লান্তি দূর করার টনিক। যদি সম্ভব হয়, বন্ধুদের নিয়ে আবার এক ছাদের নিচে আড্ডা দিন। এতে আবেগ ও অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বিনিময় ঘটবে। এক কাপ চা বা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে করলে দিনটি আপনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহুরে একঘেয়েমি দূর করতে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো পিকনিক বা প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। খোলা আকাশ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে। এটি কেবল আনন্দই দেয় না, বরং হারানো সম্পর্কগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করে।আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে থাকলে সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে না থেকে বরং তাদের কথা ভাবুন, যারা অতীতে নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে ছিল। মিসিং ডেতে সেসব মানুষদের গুরুত্ব দিন, যারা সত্যিই আপনার ভালো চায়। অতীতের ভুল মানুষকে ভুলে যাওয়ার সেরা উপায় হলো বর্তমানের সঠিক মানুষদের আঁকড়ে ধরা।দূরত্বের কারণে দেখা করা সম্ভব না হলে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিন। একটি সুন্দর দীর্ঘ মেসেজ বা পুরোনো কোনো ছবি পাঠিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে জানান, আপনি তাকে এখনো মনে করছেন। আপনার একটি ছোট মেসেজ হয়তো হারানো কোনো সম্পর্কের দরজা আবারও খুলে দিতে পারে।স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া কিংবা ক্লাস পালানোর দিনগুলোর কথা মনে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের কোনো গ্রুপে বা নির্দিষ্ট বন্ধুকে ট্যাগ করে সেই সময়ের কোনো মজার ঘটনা শেয়ার করুন। দেখবেন, অনেক ভালো লাগবে।যারা জীবনের কঠিন সময়ে আপনার হাত ধরেছিল, আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আমাদের জীবনে এমন অনেকেই থাকে, যাদের অবদান আমরা মুখ ফুটে বলতে পারি না। আজ তাদের একটি ধন্যবাদসূচক বার্তা পাঠিয়ে দিন। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার ও আপনার বন্ধুদের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: মিডিয়াম, উইকিহাউ ও অন্যান্য
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব প্রতিক্রিয়া জানান।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশু তাহিয়াকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারীবাগে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও প্রশাসনের শৈথিল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিশু তাহিয়া হত্যাকাণ্ডকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা কারা করছে এবং মামলা তুলে নিতে পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমন এবং অপরাধীদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংস্কৃতি হতে পারে না। ইনসাফের প্রশ্নে আপসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দেশের সকল মজলুম মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।