দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে এখন ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫৫২ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যাকে সন্তোষজনক নয় বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজ বাসসকে বলেন, এ ঘটনায় ভারতীয় পক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়।তিনি বলেন, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল যে ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোট (আইওআরএ)-এর বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে পূর্বেই অবহিত করার পরও দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।চলতি মাসের শুরুতে আইওআরএ-এর একটি বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। তবে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে যাত্রা অব্যাহত রাখতে বাধা দেওয়া হয়।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে করা মন্তব্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে প্রত্যেক রাষ্ট্রের নিজ নিজ ভূখণ্ডে বসবাসরত সব নাগরিকের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে।তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চারজনকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বুধবার (২৪ জুন) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বহিষ্কৃতরা হলেন শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম ও মামুন হোসেন।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমনের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।ঘটনার পরপরই জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতারা আহত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশিরের বাসায় গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও মহানগরীর পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়া হয়।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল এবং চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে আপ ও ডাউন উভয় রেললাইন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের চৌদ্দগ্রামের গুণবতী ও নাঙ্গলকোটের মধ্যবর্তী হাসানপুর স্টেশন এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনা দুটি ঘটেছে।নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার জামাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস চৌদ্দগ্রামের গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে নাঙ্গলকোটের হাসানপুর স্টেশনের অদূরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে আপলাইনে আটকা পড়ে। সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকলের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ডাউন লাইন দিয়ে চৌদ্দগ্রামের গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে হাসানপুরের দিকে যাওয়ার সময় মাঝপথে চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে দুই লাইনেই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।আজ রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের বিকল ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে সূত্র।
নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য লাইসেন্স গ্রহণ থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ৩৫৫ দিন সময় লাগে। বর্তমান সরকার এ দীর্ঘ সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনে নামিয়ে আনবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।বুধবার (২৪ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।নতুন বিজনেস শুরু করতে যেসব লাইসেন্স ও পারমিশন লাগে, সেগুলো পাওয়া ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে সময়সীমা ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে জানিয়ে এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স যাতে কম সময়ে পাওয়া যায়, তাও নিশ্চিত করা হবে।বিনিয়োগে গতিসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরানোসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন এনার্জি দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও করেছে। এছাড়াও বাজার স্থিতিশীল রাখা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি তেল এবং সয়াবিন তেলসহ আমদানিনির্ভর বিভিন্ন পণ্যের কৌশলগত রিজার্ভ নিশ্চিত করবে।
লন্ডনে আয়োজিত জলবায়ু অ্যাকশন সপ্তাহে জাতিসংঘ মহাসচিব এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে জলবায়ু সংকট ও জ্বালানি সংকটকে মানবজাতির ‘দুইটি আন্তঃসম্পর্কিত সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এই দুই সংকটের মূল উৎস এবং এর দ্রুত পরিবর্তন ছাড়া ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।মহাসচিব তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়—এটি বর্তমানে বাস্তবতা। গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বজুড়ে জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রমের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এর প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি ও অপরিবর্তনীয়।জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার আহ্বানবক্তৃতায় জাতিসংঘ মহাসচিব জীবাশ্ম জ্বালানিকে বর্তমান সংকটের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরের আহ্বান জানান। তার মতে, সৌর ও বায়ু শক্তির খরচ কমে আসায় এটি এখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও দ্রুত সম্প্রসারণযোগ্য জ্বালানি উৎসে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনের একমাত্র টেকসই পথ হলো নবায়নযোগ্য শক্তি।বৈশ্বিক নির্গমন হ্রাসে জরুরি পদক্ষেপমহাসচিব জানান, বর্তমান জাতীয় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে নির্গমন মাত্র ১০ শতাংশ কমবে, কিন্তু ১.৫ ডিগ্রি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজন ৬০ শতাংশ হ্রাস। তিনি উন্নত ও বড় অর্থনীতিগুলোর প্রতি দ্রুত নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।তিনি কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার দ্রুত কমানো এবং মিথেন নির্গমন হ্রাসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।ন্যায্য রূপান্তরের প্রয়োজনবক্তৃতায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু রূপান্তর অবশ্যই ন্যায্য হতে হবে। শ্রমজীবী মানুষ, ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও কম আয়ের জনগোষ্ঠীকে এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রাখতে হবে।তিনি সতর্ক করেন, যদি ন্যায্যতা নিশ্চিত না করা হয়, তবে জলবায়ু পদক্ষেপ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে।উন্নয়নশীল দেশ ও অর্থায়নমহাসচিব উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ঝুঁকির তুলনায় সহায়তা বণ্টনে পিছিয়ে আছে। তিনি ধনী দেশগুলোকে প্রতিশ্রুত অর্থ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।প্রযুক্তি, এআই ও স্বচ্ছতাতিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি জলবায়ু সমাধানে সহায়ক হতে পারে, তবে একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও সম্পদ ব্যবহার করছে। এ কারণে তিনি ‘AI Environmental Transparency Initiative’ চালুর প্রস্তাব দেন, যাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরিবেশগত প্রভাব প্রকাশ করে।জলবায়ু ঝুঁকি ও অভিযোজনমহাসচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে বাস্তব—খরা, বন্যা, ঝড় ও খাদ্য সংকট ক্রমাগত বাড়ছে। তাই অভিযোজন (adaptation) এখন বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য। তিনি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।বিজ্ঞান ও তথ্যের গুরুত্ববক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিজ্ঞান ও সত্যের প্রতি আস্থা অপরিহার্য। বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার রোধ করতে হবে এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।মহাসচিব তার বক্তব্য শেষ করেন এই আহ্বান জানিয়ে যে, বর্তমান সময়ই জলবায়ু পদক্ষেপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি বলেন, এটাই আমাদের সিদ্ধান্তের সময়, আমাদের সুযোগের সময়। এখনই আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানির যুগ শেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তির ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।
যুদ্ধ অবসানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণার সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।বুধবার (২৪ জুন) আজারবাইজানে আয়োজিত এক সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা কোনো চাপ বা জবরদস্তির ফল নয়; বরং এটি সাহসী ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও শক্তিমত্তার ফলাফল।’ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।’ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোরই হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার। গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ ও উত্তেজনা কমানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসদু পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে সমঝোতা স্মরকে সই করেন।স্বাক্ষরিত চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। প্রায় ১৮ ঘণ্টার টানা আলোচনার পর মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান ও কাতারের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনা একটি ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদল গঠন করা হয়েছে। এসব দল সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে কাজ করবে। এরপর সোমবার (২২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, ৬০ দিনের জন্য জ্বালানি তেল রফতানিতে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, অবৈধ মাদক পাচার কোনো ভুক্তভোগীহীন অপরাধ নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে মানুষ ও সম্প্রদায়ের গভীর ক্ষতি সাধন করছে এবং একই সাথে সহিংসতা, অপরাধ ও অস্থিরতাকে উসকে দিচ্ছে। ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদক অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কৃত্রিম বা সিন্থেটিক মাদকের প্রসার এবং অনলাইন পাচার নেটওয়ার্কের বৃদ্ধি বর্তমান এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সাথে ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, চিকিৎসার ক্ষেত্রে ক্রমাগত ঘাটতি এবং সহায়তার সীমিত সুযোগের কারণে মাদকের কুপ্রভাব দূর করার এবং মাদক ব্যবহারজনিত ব্যাধির সমাধানের প্রচেষ্টাগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।আন্তোনিও গুতেরেস জানান, এবারের প্রতিপাদ্য বিশ্বকে দূরদর্শিতা, উদ্ভাবন এবং সংহতির ওপর ভিত্তি করে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানায়। সাইবার-পাচার বন্ধে প্রযুক্তির ব্যবহার, সিন্থেটিক মাদকের উৎপাদন ও অপরাধী চক্রগুলোকে শনাক্ত ও প্রতিহত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যৌথভাবে কাজ করা এবং প্রতিরোধ, ক্ষতি হ্রাস ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।এই আন্তর্জাতিক মাদক অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী দিবসে এই ভয়াবহ অভিশাপ দূর করতে প্রয়োজনীয় সাহসী, উদ্ভাবনী এবং প্রমাণ-ভিত্তিক সমাধানের প্রতি পুনরায় অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি নির্মূলে দেশের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা জরুরি। ২৩ জুন (মঙ্গলবার) বিকেলে দুর্নীতি নির্মূলে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।বেসরকারি নিরাপত্তা খাতে কার্যরত এলিট ফোর্সের ১৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের মহতী উদ্যোগে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের বেকারত্ব দূর হবে বলে দাবি জানান সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী। বারিধারা এলিট ফোর্সের কার্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান বীর বিক্রম, অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন আলফাজ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ আব্দুল হক তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত লেঃ কর্নেল জাহাঙ্গীর আক্তার চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত লেঃ কর্নেল সৈয়দ মঞ্জুরুল আলম, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের সহোদর ডা. এ এম নুরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার মীর আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত লালবাগ বিভাগের কিছু সড়ক সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত ও বন্ধ রাখা হবে।নির্দেশনা অনুযায়ী, হোসেনি দালান ইমামবাড়ার উত্তর গেট, হোসেনি দালান মোড়, বকশী বাজার মোড়, বকশি বাজার (কল পাড়) মোড়, নল উমেশ দত্ত রোড, কারা সদর দফতর নতুন রাস্তা, চক বাজার থানার সামনে শাহী মসজিদ মোড়, চক বাজার মডেল থানা মোড়, চক-সার্কুলার রোড, চক বাজার শাহী মসজিদ, নূরাণী কোল্ড ড্রিংক্স, বেগম বাজার রোড, নাজিমুদ্দিন রোড, চাঁনখারপুল বা নিমতলী ক্রসিং, হোসেনি দালান রোড হয়ে পুনরায় হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় ফিরতে হবে।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত ২টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত লালবাগ বিভাগের কিছু সড়ক সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত ও বন্ধ রাখা হবে।নির্দেশনা অনুযায়ী হোসেনি দালান ইমামবাড়া, চাঁনখারপুল বা নিমতলী ক্রসিং, নাজিমুদ্দিন রোড, জেল রোড, হাজী সেলিম টাওয়ার রোড, চক-সার্কুলার রোড, চক বাজার মডেল থানা মোড়, চক বাজার, থানার সামনে শাহী মসজিদ মোড়, কারা সদর দফতর নতুন রাস্তা, উমেশ দত্ত রোড, বকশি বাজার (কল পাড়) মোড়, বকশি বাজার লেন, হোসেনি দালান রোড হয়ে হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় ফিরতে হবে।শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত লালবাগ বিভাগের নিম্নলিখিত সড়কগুলোতে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত ও বন্ধ রাখা হবে।এর মধ্যে রয়েছে, হোসেনি দালান ইমামবাড়া, হোসেনি দালান রোড, বকশি বাজার লেন, আলিয়া মাদ্রাস মোড়, বকশি বাজার (কল পাড়) মোড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড মোড়, হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ চৌরাস্তা মোড়, গোর-এ-শহীদ মাজার মোড়, এতিমখানা মোড়, আজিমপুর চৌরাস্তা মোড়, ইডেন কলেজ, নিউমার্কেট মোড়, মিরপুর রোড, ঢাকা কলেজ, সাইন্স ল্যাব মোড়, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোড, বিজিবি ৪ নম্বর গেট, সাত মসজিদ রোড, ঝিগাতলা ধানমন্ডি লেক (কারবালা) বাসস্ট্যান্ড।এ সময় নগরবাসী ও মোটরযান চালকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করছে ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আগামী মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ফলাফল দৃশ্যমান হবে এবং জুলাইয়ের মধ্যেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসতে পারে। বুধবার (২৪ জুন) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সফরটি অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার ফলে শ্রমবাজার ও জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন এবং চলমান বিভিন্ন বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণ দেখতে পাবেন।ওসমানী বিমানবন্দরের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়নে বিমানবন্দরে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ এবং বিশেষ সহায়তাপ্রার্থী যাত্রীদের জন্য লাগেজ ব্যবস্থাপনা, সহায়ক সেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রবাসীরা যাতে বিমানবন্দরে কোনো ধরনের হয়রানি বা অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, রাতের ফ্লাইটে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণ এবং বিমানবন্দরে শিশুদের জন্য ‘কিডস জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।মাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সুযোগ দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।কাতারে নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চারজনকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বুধবার (২৪ জুন) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বহিষ্কৃতরা হলেন শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম ও মামুন হোসেন।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমনের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।ঘটনার পরপরই জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতারা আহত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশিরের বাসায় গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও মহানগরীর পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়া হয়।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল এবং চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে আপ ও ডাউন উভয় রেললাইন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের চৌদ্দগ্রামের গুণবতী ও নাঙ্গলকোটের মধ্যবর্তী হাসানপুর স্টেশন এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনা দুটি ঘটেছে।নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার জামাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস চৌদ্দগ্রামের গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে নাঙ্গলকোটের হাসানপুর স্টেশনের অদূরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে আপলাইনে আটকা পড়ে। সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকলের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ডাউন লাইন দিয়ে চৌদ্দগ্রামের গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে হাসানপুরের দিকে যাওয়ার সময় মাঝপথে চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে দুই লাইনেই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।আজ রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের বিকল ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে সূত্র।
আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণে ম্যাচ ছড়ালো রোমাঞ্চ। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিলেন আর্লিং হলান্ড। তারকা এই স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে সেনেগালকে খাঁদের কীনারে ঠেলে প্রথমবার বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে নরওয়ে।বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি। প্রথমার্ধে মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেনের গোলে এগিয়ে ছিল তারা।ম্যাচের জোড়া গোল করে সেনেগালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন ইসরাইলা সারে। বিশেষ করে যোগ করা সময়ের গোলে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগিয়েছিলেন তিনি। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি।ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে পেদারসেনের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। বিরতি থেকে ফিরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হলান্ড। দশ মিনিটের মাথায় ব্যবধান করাম সারে। পাঁচ মিনিট বাদে আবারও ব্যবধান বাড়ান হলান্ড।বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে হলান্ডের গোল এখন ৪টি। আসরে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তার সমান ৪ গোল কিলিয়ান এমবাপেরও। ৫ গোল নিয়ে শীর্ষে লিওনেল মেসি।জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে হলান্ডের গোল হলো ৫৯টি। ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবার ব্যবধান কমান সারে। ম্যাচে বল দখলে এমনকি আক্রমণেও এগিয়ে ছিল সেনেগাল। কিন্তু শেষটা ভালো হলো না সাদিও মানের দলের। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ফ্রান্স। গ্রুপে ফ্রান্স ও নরওয়ের পয়েন্ট সমান ৬ করে। এখনও পয়েন্ট পায়নি সেনেগাল ও ইরাক। গোল ব্যবধান তুলনামূলক কম হওয়ায় সেনেগালের আশা আছে সেরা তৃতীয় দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেলেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন। ২৩ জুন মঙ্গলবার সকালে রাজধানির মহাখালীর ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ঢালিউডের এই পরিচিতজন। তার মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ভাগ্নে মনির।এছাড়া প্রবাস থেকে অভিনেতা জায়েদ খানও খবরটি জানিয়েছেন। তার সঙ্গে জাকির হোসেনের যোগাযোগ ছিল, একসঙ্গে কাজও করেছেন তারা। জায়েদ বলেন, ‘জাকির হোসেন ভাই চলচ্চিত্রের একজন গুণী নৃত্য পরিচালক ছিলেন। তিনি দুইবার আমার সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কমিটিতে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আমার বেশ কয়েকটি সিনেমার গানে নৃত্য পরিচালনাও করেছেন।’অনেক দিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন জাকির হোসেন। মে মাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতেও নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে দেশে ফেরেন, চিকিৎসকের পরামর্শমতে চলছিল চিকিৎসা। ভালো চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তাও চেয়েছিলেন শিল্পীর পরিবার। কিন্তু আর ফেরা হয়নি।ঢাকাই ছবির পরিচিত নৃত্য পরিচালকদের একজন জাকির হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে বহু ছবির নৃত্য পরিচালনা করেছেন। এছাড়া কিছু ছবিতে তাকে অভিনয় করতেও দেখা গেছে।
পরিবেশ ও সামাজিক সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সংগঠক’ ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক ‘বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ (সিজন-২) অর্জন করেছেন তরুণ সাংবাদিক ও সংগঠক মো. ইসমাইল হোসেন।শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতিতে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।মো. ইসমাইল হোসেন সাবেক এসএ টেলিভিশনের সাংবাদিক এবং ‘দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সুরক্ষা, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।এছাড়া নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘আমরা দুর্বার’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দেশের সাংবাদিকদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)-এর প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে ইসমাইল হোসেন বলেন, “বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আমি এবং আমার সংগঠন সবসময় নদী, পরিবেশ ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছি। সাধ্যের মধ্যে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”এই অর্জন নিজের মায়ের প্রতি উৎসর্গ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আজকের এই সম্মাননা আমি আমার মায়ের চরণে উৎসর্গ করছি। আমি আজ যে অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের।”সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রশাসন ও সরকার যদি আমাদের সামাজিক ও পরিবেশবাদী উদ্যোগগুলোর প্রতি আরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে আমরা দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারব।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, ইসমাইল হোসেনের এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এ সম্মাননা দেশের যুবসমাজকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কনভেনশন হলে “সুফি নাইটস ও ডিনার” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টোয়াবের সম্মানিত সদস্যদের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পেশাগত ঐক্যের পরিবেশ।সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে টোয়াবের সদস্যবৃন্দ, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে। আগামী টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক মিলনমেলা নয়, বরং দেশের পর্যটন শিল্পের অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।অনুষ্ঠানে সুফি সংগীত পরিবেশনা, নৈশভোজ এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পর্যটন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত প্যানেল প্রধান ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ড. তাসলিম আমিন শোভন ও সদস্যরা একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং টেকসই পর্যটন খাত গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আজ এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তারা শিল্পের উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আয়োজনটি ছিল এক প্রতীকী মুহূর্ত, যেখানে ভিন্ন মতের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়।সবশেষে, টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের সদস্যবৃন্দ সকল অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের প্রতি সমর্থন ও ভোট প্রদানের জন্য বিনীত আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও গ্যালাক্সি বাংলাদেশের গ্রুপ চেয়ারম্যান তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি ও ইনোগ্লোবের চেয়ারম্যান ফরিদুল হক, বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ, ট্রাভেল ক্যানভাসের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ গোলাম কাদির এবং বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টের (বিএফটিডি) ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল একরাম (রাজু)। এছাড়াও টোয়াবের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং পর্যটন শিল্পের বিশিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ট্রাভেলবাংলা ডটকমের প্রধান সম্পাদক প্রণব সাহা। পুরো আয়োজনটি সমন্বয় করেন টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বোটফ সভাপতি চৌধুরী হাসানুজ্জামান রনি এবং উপ-সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ভ্যাকেশনের সিইও আবদুল্লাহ আল কাফি।
হাসি মুখের কারিনা কায়সার গত ১৬ মে প্রয়াত হয়েছেন। তার এ অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ শোবিজের অঙ্গনের মানুষ। সদ্যপ্রয়াত এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘চরকি কার্নিভাল’। এতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চরকিতে মুক্তি পাওয়া কনটেন্টগুলো থেকে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে।এরই মধ্যে সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগের (২০২৪) মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ’৩৬-২৪-৩৬’ ওয়েব ছবির জন্য বেস্ট অ্যাক্টরের (ফিমেল) মনোনয়ন পেয়েছিলেন কারিনা। তবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে তাকে।চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ’কারিনার অসাধারণ সব কাজ রয়ে গেলেও, তিনি আজ সকল প্রতিযোগিতার উর্ধ্বে। তাই প্রয়াত কারিনা কায়সারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে এবারের চরকি অ্যাওয়ার্ডসে আমরা তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চাই।’এদিকে ২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েছে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘তুফান’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ’৩৬-২৪-৩৬’। রয়েছে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সিরিজ, সেরা গানসহ বিভিন্ন বিভাগ। চরকির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পছন্দের কনটেন্ট বা শিল্পীকে ভোট দিতে পারবেন সাবস্ক্রাইবাররা। আজ থেকে শুরু হয়েছে ভোট। সমালোচক বিভাগ এবং ২০২৩ সালের কনটেন্টে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামও প্রকাশ করা হবে শিগগির।
নব্বই দশকের পর দেশের সংগীতাঙ্গনে ভাটিয়ালি ধারার গানকে জনপ্রিয় করে তোলা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগ। ‘লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা’ গানটির মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করা ভাটিয়ালি ব্যান্ডের এই প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী একসময় দেশের যুবসমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত একাধিক গান দেশজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয় এবং সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোড়ন। সেই জনপ্রিয় শিল্পী এবার তাঁর গানের রয়্যালটি আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ, কপিরাইট লঙ্ঘন ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার এক ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেনগণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির নোটিশ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগের পক্ষে জজ কোর্ট, সাতক্ষীরার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন গত ৮ জুন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোঃ আহসানুল হাবিব অনিকের কাছে এ নোটিশ প্রেরণ করেন।লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর শিল্পী শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দেন আহসানুল হাবিব অনিক। সে সময় তিনি শিল্পীর মৌলিক গান আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, বিপণন ও মনিটাইজেশনের প্রস্তাব দেন এবং অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ শিল্পীকে রয়্যালটি হিসেবে প্রদানের আশ্বাস দেন।পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি আজ পর্যন্ত শিল্পীকে প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হিসাব ও রয়্যালটির অর্থ প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।নোটিশে আরও বলা হয়, শিল্পীর জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ ও ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় দুই শতাধিক গান Spotify, Apple Music, YouTube Music, YouTube Content ID, TikTok, Facebook Music Library, Shazam, Beatport এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।শিল্পীর দাবি, এসব গান থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং, বিজ্ঞাপন, ডাউনলোড, লাইসেন্সিং ও কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি আয় হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য রয়্যালটির একটি টাকাও তাকে প্রদান করা হয়নি।লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৩, ৪০৬, ৪১৫ ও ৪২০ ধারাসহ কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন বিধানের লঙ্ঘনের শামিল।নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ আয়ের হিসাব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে এখন ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫৫২ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি।স্থানীয় সময় শনিবার সকালে দেশটির শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত বাংলাদেশিরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।তারা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়লে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহত অপর ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক।নিহতদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক বলেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ইকোসিস্টেমকে জোরদার করতে টেকনিক্যাল ওয়ার্কশপ সিরিজের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’। মূলত জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা ও ডিজিটাল রিজাইলেন্স জোরদার করতেই আগামী ২৩-২৫ জুন পর্যন্ত এই বিশেষায়িত সেশনগুলোর আয়োজন করা হয়েছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ সাইবার সিকিউরিটি কনভারজেন্স প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ (টিটিপিজি)’, পাওয়ার্ড বাই ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, পাঁচ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।‘ক্লোজিং দ্য সাইবার গ্যাপ ইন ইমার্জিং ইকোনোমিস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সামিটে সরকারি নীতিনির্ধারক, ইন্ডাস্ট্রি লিডার, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান, সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী, গবেষক, শিক্ষার্থী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা একত্রিত হচ্ছেন। সামিটের মূল কনফারেন্স আগামী ২৬ ও ২৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর আগের তিনদিনের কর্মশালায় ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এসব সেশনে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব-উপযোগী সাইবার প্রতিরক্ষা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এই সামিটের অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির (এনসিএসএ) সহযোগিতায় আয়োজিত বিশেষ কর্মশালা ‘প্র্যাক্টিক্যাল সাইবার ইনভেস্টিগেশন’। অস্ট্রেলিয়ার এপনিকের সিনিয়র ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট আদলি ওয়াহিদ এই সেশনটি পরিচালনা করবেন। এই সেশনে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিআইআই) সংস্থাগুলোর আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরাই অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।এ বিষয়ে দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের ফাউন্ডার ও চিফ অব রিসার্চ এএসএম শামীম রেজা বলেন, “সাইবার সিকিউরিটি বর্তমানে একটি জাতীয় অগ্রাধিকার; যা আমাদের জাতীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ফিনিক্স সামিট ২০২৬ একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে দশ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত।”কর্মশালা শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) দুই দিনব্যাপী কনফারেন্সে সামিটের পরবর্তী আয়োজন করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা সাইবার প্রতিরক্ষা, অফেনসিভ সিকিউরিটি ও উদীয়মান প্রযুক্তির ট্রেন্ড নিয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ, টিম এক্সারসাইজ, ফেলোশিপ প্রোগ্রাম, বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা ও টেকনোলজি এক্সিবিশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’