দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে বিশ্বের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়ার চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ‘খাতাম-আল আনবিয়া’ সদর দপ্তর বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি সবধরনের নৌযান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই জলপথ এড়িয়ে চলতে হবে’। এতে আরও বলা হয়, ‘শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের (লেবাননে ইসরায়েলের হামলা) জবাবে এটি প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে শত্রুকে তার বাধ্যবাধকতা পূরণে বাধ্য করার জন্য আরও পদক্ষেপ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’প্রসঙ্গত, যুদ্ধের অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর প্রতিবাদে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে গতকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানি প্রতিনিধি দল। ফলে শেষ মুহূর্তে বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে এবং আলোচনার সময়সূচী নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।পরবর্তীতে গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এদিন স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকরও হয়। তবে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে কয়েক ঘণ্টা পরই ফের হামলা শুরু করে দখলদার ইসরায়েল।লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা- ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সত্ত্বেও শনিবার ভোর থেকে দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিত মানুষ। সূত্র: আলজাজিরা
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮০ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮০৭ জন।এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট সন্দেহজনক হামে মোট ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৩ জন এবং সন্দেহজনক হামে ৫৮৪ জন মারা গেছে।শনিবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯১ হাজার ৭৮৯ জন আর নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন। চলতি বছরে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৭৩৮ জন।এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫ হাজার ৯০২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭১ হাজার ৯৭০ জন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ফলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। মালয়েশিয়া ও চীন আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমানের এটিই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। কুটনৈতিকভাবে এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরের ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু এবং চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শনিবার (২০ জুন) দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ রা.বি হাইস্কুল মাঠে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ইলিয়টগঞ্জ হাইস্কুল আল আকসা জামে মসজিদের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপ থেকে দেশকে দ্রুত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমনিভাবে 'তলাবিহীন ঝুড়ি'র দেশকে ব্যাপক উন্নয়ন ও উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়েছেন। দেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র সুসংহত এবং সর্বক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন করেছেন। তাঁদের সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর পিতা-মাতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একইভাবে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। ড. খন্দকার মারুফ বলেন, আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি,বর্তমান ও আগামীর রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কোনো বিকল্প নেই, তাঁর হাত ধরেই দেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জনগণের স্বপ্ন পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থরক্ষায় বিএনপি সরকার সর্বদাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সংস্কৃতির আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে নিরাপদে পালন করতে পারে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ধর্মীয় নেতা এবং প্রখ্যাত আলেম ওলামাদের আয়নাঘরে বন্দি রেখে অমানুষিক নির্যাতন করেছে, মিথ্যা মামলায় তাদের কারান্তরীণ রেখেছে। পবিত্র কুরআন তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠান করতে দেয়নি। তারা সকল ক্ষেত্রে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলো। দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকাতলে শামিল হতে সকলের প্রতি ড.খন্দকার মারুফ উদাত্ত আহবান জানান। ইলিয়টগঞ্জ হাইস্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা.মো.মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হাশেম, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম.এ লতিফ ভূঁইয়া, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমেদ, যূগ্ম আহবায়ক এনামুল হক সফর তালুকদার, দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহ আলম সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনন্দ, চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক এস.এম মিজান পাপ্পু, দাউদকান্দি স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মহিউদ্দিন সরকার ও সাবেক সভাপতি জি.এস কামরুজ্জামান ফকির, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আবদুল বাসেদ প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নেতিবাচক ও উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।২০ জুন শনিবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি শিল্প ২০৩০: প্রতিবন্ধকতা, সুযোগ ও কৌশলগত সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে এ অভিযোগ করেন তিনি। রিজভী বলেন, ‘একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গড়ার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই বিদেশ সফর। কিন্তু আমরা এর মধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে উসকানির ছায়া দেখতে পাচ্ছি।’তিনি বলেন, ‘এই সরকার এমন কিছু করবে না যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়। কারণ, আমাদের দলের নামের সামনেই ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি রয়েছে। ফলে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই সরকারকে নানা চক্রান্তের মধ্যদিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’সেমিনারে দেশের আইসিটি খাতের উন্নয়ন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা এবং কৌশলগত সংস্কারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা। আইসিটি খাতের অগ্রযাত্রার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রিজভী।
রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা’ পলাশ। ১৯ জুন শুক্রবার রাত ১টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পলাশের মরদেহের ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ জুন দুপুরে রামপুরার বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের বিপরীতে নিজ বাসার কাছেই একদল সন্ত্রাসী পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।এই হামলার ঘটনার পর পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পলাশের মৃত্যুর পর এটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দায়ের করা ওই মামলায় জিসান আহমেদ মন্টিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিরা হলেন—বাদশা ওরফে গুজা বাদশা, গলদা বাদশা, শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত, সোলাইমান খন্দকার, ফারুক ওরফে চাচা ফারুক, হেবেল, মোল্লা জনি, ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা, পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন ও সজীব। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পলাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই গুলি চালিয়েছিল।হত্যাকাণ্ডের পর জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন হলেন ইমাম হোসেন, যিনি হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন। পরে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফেরদৌস নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।হাতিরঝিল থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ রাজধানীর একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একটি হত্যা মামলাসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার নাকি পুরোনো কোনো শত্রুতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রর ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে।১৯ জুন শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কূটনৈতিক আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্তে পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা জানায়। এর আগে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবিরাম বিমান হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারকটি সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী লেবাননের অবরুদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের চালানো সাম্প্রতিকতম হামলায় অন্তত ৪৭ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেন। ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনাটিই মূলত লেবাননের জাতীয় পুনর্গঠন, ধসে পড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। দুই দেশের শীর্ষ নেতা আগামী ২৩ ও ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর এজেন্ডা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে এই নির্ধারিত বৈঠকগুলোতে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকার একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করবে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি সরাসরি আলোচনায় বসেছিলেন। পরবর্তীতে জুন মাসের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর উভয় পক্ষ সাময়িক সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা দিলেও ওই আলোচনাগুলোতে শক্তিশালী হিজবুল্লাহকে সম্পৃক্ত না করায় মাঠপর্যায়ে কোনো অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।বিগত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই লেবাননের বর্তমান সরকার মার্কিন-সমর্থিত একটি বিশেষ রোডম্যাপের অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে লেবানন সরকারও দেশটির দক্ষিণ সীমান্ত থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে গত জুন মাসে সম্পাদিত একটি চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চলে সরে যাওয়ার শর্ত দেওয়া হলেও সেখানে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়ে গেছে।অবশ্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত মূল যুদ্ধ অবসান চুক্তি বা এমওইউ-তে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান দুই উগ্রপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির ও স্মোট্রিচ কর্তৃক লেবাননকে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং চলমান সীমান্ত সংঘর্ষ এই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বারবার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত বিরলভাবে ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন যে ইসরায়েল মূলত ওই অঞ্চলে একটি স্থায়ী যুদ্ধের পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শহরের কাছে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে একটি ট্রেনের চালক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি যাত্রী। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।১৯ জুন শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে মিনিটে ঘটেছে এই সংঘর্ষ। যুক্তরাজ্যের ইস্ট ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রীর অবস্থা খুবেই গরুতর, ২২ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ৫৬ জন আশঙ্কামুক্ত।রেল ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর বরাতে জানা গেছে, উভয় ট্রেনই দক্ষিণ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে বেডফোর্ড শহরের বাইরে সংঘর্ষ হয় ট্রেন দু’টির। অল্প সময়ের মধ্যেই আহত যাত্রীদের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন।লন্ডন পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ট্রেন দুর্ঘটনার ব্যাপারে আমরা জানতে পেরেছি। বেশ কয়েক জন যাত্রী আহত হয়েছেন এবং চালকের মৃত্যু হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের কর্মকর্তা ও সদস্যরা বেডফোর্ড পুলিশ সহকর্মীদের সহযোগিতা করছে। পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী বাহিনীর সদসরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। আহতদের যত দ্রুত সম্ভব হাসপতালে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স সেখানে মজুত আছে।”যুক্তরাজ্য রেলের পূর্ব মিডল্যান্ড বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার ৩টা ৫০ মিনিটে নটিংহ্যাম থেকে একটি ট্রেন দক্ষিণ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। কাছাকাছি সময়ে করবি শহর থেকে একই স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল আরেকটি ট্রেন। কোনো প্রকার সংকেত, বা কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সংঘর্ষ ঘটে ট্রেন দু’টির।পিটার ন্যাপ নামের এক যাত্রী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে জানিয়েছেন, “হঠাৎ আমি আমার আসন থেকে ছিটকে পড়লাম এবং সামনে ধোঁয়া দেখতে পেলাম। মানুষজন কাঁদছিল, চিৎকার করছিল; খুব বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিল তারা।”“আমি ওঠার পর দেখলাম আশেপাশে অনেকের হাত-পা ভেঙে গেছে, অনেকে এমনকি কথা বলার অবস্থাতেও নেই।”সূত্র : এপি
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। একই সঙ্গে কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম, ইকো-ট্যুরিজম এবং টেকসই পর্যটনের প্রসারে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি শুধু প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পর্যটন সম্পদে রূপান্তরিত হবে। শুক্রবার (১৯ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা-বাগান মাঠে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শ্রীমঙ্গল শুধু চায়ের রাজধানী নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অঞ্চল। এখানে এবং এর আশপাশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও জীবনধারা জাতীয় সংস্কৃতিকে আরো সমৃদ্ধ ও বর্ণিল করেছে।তিনি বলেন, ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ একদিন আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হবে। এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; বরং সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য মিলনমেলা। এবারের উৎসবে দেশের ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য উপস্থাপনা।আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সব মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নেই। সব জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়ন এবং তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যেই নিহিত। আগামী বছর শীত মৌসুমে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ আরো বৃহৎ, নান্দনিক ও আকর্ষণীয় পরিসরে আয়োজনের আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এতে দেশ-বিদেশের আরো বেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এনডিসি মিজ ফাহমিদা আখতার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, উপপরিচালক মুহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহিবুল্লাহ আকনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং অতিথিদের সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।উল্লেখ্য, দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয়বারের মতো ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ উৎসব আগামী ২১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।
মাঠে নামার আগেই ধাক্কা খেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। চোটের কারণে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচকে থাকতে পারবেন না একাদশে ।সেই শূন্যতা অবশ্য বিশ্বকাপের সহ আয়োজকদের মাঠে ভোগায়নি।ঘরের মাঠ সিয়াটলে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে তারা। অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডও নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।এই জয়ে বিশ্বকাপে পরপর দুটি ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৩০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচ জিতল মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ‘ডি’ গ্রুপে অবশ্য শীর্ষস্থান এখনো নিশ্চিত হয়নি তাদের। তুরস্ক–প্যারাগুয়ে ম্যাচ ড্র হলেই এই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের।প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪–১ গোলের জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।দ্রুত আক্রমণের ফলও তারা পায়। ফোলারিন বালোগানের বাড়ানো পাস নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্গেস।প্রথমার্ধে আধিপত্য ধরে রাখা পচেত্তিনোর দল দ্বিতীয় গোলটি পায় বিরতির ঠিক আগে।সতীর্থের ফ্রি-কিক বক্সের বাইরে পেয়ে শট নেন সের্জিনো দেস্ত। অস্ট্রেলিয়ার এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল উঠে যায় ওপরে। ছুটে গিয়ে হেডে কাছ থেকে জালে পাঠান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান।পচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাপুটে শুরু নকআউট পর্বে তাদের নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘ডি’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া। একটি করে ম্যাচ খেলা তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে এখনো পয়েন্ট পায়নি। এই গ্রুপে আরও তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
বগুড়ার নবগঠিত দুই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা প্রশাসককে ফোন করে দুটির নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই দুটি ইউনিয়ন হলো ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’। এগুলোর নাম পরিবর্তনে নতুন করে গণশুনানি করা হবে।বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোনে তাকে দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করা হবে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।জানা গেছে, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় সম্প্রতি ‘মীরবাড়ি’ ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়। ইউনিয়ন গঠনে প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের পর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের গণশুনানি টিম গঠন করেন।টিমের প্রধান সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তিনি সঠিকভাবে গণশুনানি করেছেন। কিন্তু এলাকায় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সঠিকভাবে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে খুশি করতে তার পৈতৃক বাড়ির নামে ‘মীরবাড়ি’, দুই ছেলের নামে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ এবং লন্ডন প্রবাসী ভাতিজির নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন নামকরণের প্রস্তাব করেন।এরপর গণশুনানি কমিটির সুপারিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান গ্রহণ করেন। তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠালে তিনি (জেলা প্রশাসক) গত ১১ ও ১৪ জুন এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, নাম পরিবর্তন করলে চারটির করতে হবে। দিগন্ত ও সীমান্ত নাম পরিবর্তন করলেও মীরবাড়ি ও স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের নাম থেকেই যাচ্ছে। তারা এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপির) অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খানের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘দারোগা বা ইনস্পেক্টরকে বলার পর কোনো ইনফরমেশন যদি পাস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি আমি ইনস্পেক্টরকে ঝুলায় দেব, আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাবো।’ রাশিদুল হাসান খান বর্তমানে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স এবং ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতবিনিময় সভাটি হয়েছিল গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায়। গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের হাতে খুন হয়েছে ৮৯ জন। গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড়ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও আতঙ্কে স্থানীয় মানুষ থানায় কোনো অভিযোগ করেন না। আবার পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও কেউ ধরা পড়েনি। এজন্য ওই এলাকার বিভিন্ন মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ।মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী। কার দুটো মাথা যে পুলিশকে তথ্য দেবে? আবার পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেয়। যার কারণে এই এলাকায় পুলিশ কয়েকটি অভিযান চালালেও একজন সন্ত্রাসীও ধরা পড়েনি।’ তিনি জানান, সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করছিলেন। তখন কয়েকজন বলে ওঠেন তথ্য দিলে পুলিশই সেটা ফাঁস করে দেয়; আগে পুলিশ অফিসারদের ভালো হওয়ার পরামর্শ দেন সবাই। এর প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওই কথা বলেন।কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা উন্নত করতে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার বিকল্প নেই। জনগণ সহযোগিতা না করলে কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না। কিন্তু জনগণের বড় অভিযোগ আমাদের অফিসারদের দিকে। তাদের আশ্বস্ত করতে কিছু কথা বলেছি। সেগুলোকে কেটে অন্যভাবে প্রচার করা হয়েছে। আমি মূলত বোঝাতে চেয়েছি, তথ্য ফাঁস করলে কেউ নিস্তার পাবে না। তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ফলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। মালয়েশিয়া ও চীন আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমানের এটিই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। কুটনৈতিকভাবে এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরের ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু এবং চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শনিবার (২০ জুন) দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ রা.বি হাইস্কুল মাঠে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ইলিয়টগঞ্জ হাইস্কুল আল আকসা জামে মসজিদের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপ থেকে দেশকে দ্রুত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমনিভাবে 'তলাবিহীন ঝুড়ি'র দেশকে ব্যাপক উন্নয়ন ও উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়েছেন। দেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র সুসংহত এবং সর্বক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন করেছেন। তাঁদের সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর পিতা-মাতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একইভাবে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। ড. খন্দকার মারুফ বলেন, আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি,বর্তমান ও আগামীর রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কোনো বিকল্প নেই, তাঁর হাত ধরেই দেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জনগণের স্বপ্ন পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থরক্ষায় বিএনপি সরকার সর্বদাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সংস্কৃতির আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে নিরাপদে পালন করতে পারে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ধর্মীয় নেতা এবং প্রখ্যাত আলেম ওলামাদের আয়নাঘরে বন্দি রেখে অমানুষিক নির্যাতন করেছে, মিথ্যা মামলায় তাদের কারান্তরীণ রেখেছে। পবিত্র কুরআন তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠান করতে দেয়নি। তারা সকল ক্ষেত্রে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলো। দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকাতলে শামিল হতে সকলের প্রতি ড.খন্দকার মারুফ উদাত্ত আহবান জানান। ইলিয়টগঞ্জ হাইস্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা.মো.মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হাশেম, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম.এ লতিফ ভূঁইয়া, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমেদ, যূগ্ম আহবায়ক এনামুল হক সফর তালুকদার, দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহ আলম সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনন্দ, চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক এস.এম মিজান পাপ্পু, দাউদকান্দি স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মহিউদ্দিন সরকার ও সাবেক সভাপতি জি.এস কামরুজ্জামান ফকির, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আবদুল বাসেদ প্রমুখ।
ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বড় আকৃতির একটি ‘রাজা ইলিশ’। ২ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছটি স্থানীয় মৎস্য আড়তে নিলামে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটে আমানত উল্যাহ আলমগীরের মৎস্য আড়তে মাছটি বিক্রি করা হয়।আড়তের ম্যানেজার নাহিদ জানান, শনিবার সকালে কলাতলীচর আবাসন খালের কামাল মাঝি ও তার সঙ্গীয় জেলেরা রামনেওয়াজ সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করছিলেন। এ সময় তাদের জালে বড় আকৃতির ইলিশটি ধরা পড়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও মৎস্য আড়তদাররা এ ধরনের বড় সাইজের ইলিশকে ‘রাজা ইলিশ’ নামে অভিহিত করে থাকেন।ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আইয়ুব পাটোয়ারী জানান, অন্যান্য ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে মাছটি নিলামে তোলা হয়। পরে সর্বোচ্চ দরদাতা মৎস্য ব্যবসায়ী জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী ৯ হাজার টাকায় মাছটি ক্রয় করেন।ক্রেতা রাজিব চৌধুরী বলেন, ঢাকার পাইকারি বাজারে বড় সাইজের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজধানীর বাজারে মাছটি আরও বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে।এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বনিক বলেন, “প্রতিবছর ইলিশের প্রজনন মৌসুম সফলভাবে বাস্তবায়নের ফলে নদীতে বড় আকারের ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব এখন জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছের আকার ও উৎপাদনে দেখা যাচ্ছে।”স্থানীয় জেলেরা জানান, বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ায় তারা যেমন আনন্দিত, তেমনি ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফলও এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।
মাঠে নামার আগেই ধাক্কা খেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। চোটের কারণে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচকে থাকতে পারবেন না একাদশে ।সেই শূন্যতা অবশ্য বিশ্বকাপের সহ আয়োজকদের মাঠে ভোগায়নি।ঘরের মাঠ সিয়াটলে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে তারা। অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডও নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।এই জয়ে বিশ্বকাপে পরপর দুটি ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৩০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচ জিতল মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ‘ডি’ গ্রুপে অবশ্য শীর্ষস্থান এখনো নিশ্চিত হয়নি তাদের। তুরস্ক–প্যারাগুয়ে ম্যাচ ড্র হলেই এই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের।প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪–১ গোলের জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।দ্রুত আক্রমণের ফলও তারা পায়। ফোলারিন বালোগানের বাড়ানো পাস নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্গেস।প্রথমার্ধে আধিপত্য ধরে রাখা পচেত্তিনোর দল দ্বিতীয় গোলটি পায় বিরতির ঠিক আগে।সতীর্থের ফ্রি-কিক বক্সের বাইরে পেয়ে শট নেন সের্জিনো দেস্ত। অস্ট্রেলিয়ার এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল উঠে যায় ওপরে। ছুটে গিয়ে হেডে কাছ থেকে জালে পাঠান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান।পচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাপুটে শুরু নকআউট পর্বে তাদের নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘ডি’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া। একটি করে ম্যাচ খেলা তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে এখনো পয়েন্ট পায়নি। এই গ্রুপে আরও তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কনভেনশন হলে “সুফি নাইটস ও ডিনার” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টোয়াবের সম্মানিত সদস্যদের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পেশাগত ঐক্যের পরিবেশ।সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে টোয়াবের সদস্যবৃন্দ, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে। আগামী টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক মিলনমেলা নয়, বরং দেশের পর্যটন শিল্পের অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।অনুষ্ঠানে সুফি সংগীত পরিবেশনা, নৈশভোজ এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পর্যটন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত প্যানেল প্রধান ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ড. তাসলিম আমিন শোভন ও সদস্যরা একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং টেকসই পর্যটন খাত গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আজ এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তারা শিল্পের উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আয়োজনটি ছিল এক প্রতীকী মুহূর্ত, যেখানে ভিন্ন মতের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়।সবশেষে, টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের সদস্যবৃন্দ সকল অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের প্রতি সমর্থন ও ভোট প্রদানের জন্য বিনীত আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও গ্যালাক্সি বাংলাদেশের গ্রুপ চেয়ারম্যান তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি ও ইনোগ্লোবের চেয়ারম্যান ফরিদুল হক, বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ, ট্রাভেল ক্যানভাসের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ গোলাম কাদির এবং বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টের (বিএফটিডি) ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল একরাম (রাজু)। এছাড়াও টোয়াবের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং পর্যটন শিল্পের বিশিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ট্রাভেলবাংলা ডটকমের প্রধান সম্পাদক প্রণব সাহা। পুরো আয়োজনটি সমন্বয় করেন টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বোটফ সভাপতি চৌধুরী হাসানুজ্জামান রনি এবং উপ-সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ভ্যাকেশনের সিইও আবদুল্লাহ আল কাফি।
হাসি মুখের কারিনা কায়সার গত ১৬ মে প্রয়াত হয়েছেন। তার এ অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ শোবিজের অঙ্গনের মানুষ। সদ্যপ্রয়াত এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘চরকি কার্নিভাল’। এতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চরকিতে মুক্তি পাওয়া কনটেন্টগুলো থেকে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে।এরই মধ্যে সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগের (২০২৪) মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ’৩৬-২৪-৩৬’ ওয়েব ছবির জন্য বেস্ট অ্যাক্টরের (ফিমেল) মনোনয়ন পেয়েছিলেন কারিনা। তবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে তাকে।চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ’কারিনার অসাধারণ সব কাজ রয়ে গেলেও, তিনি আজ সকল প্রতিযোগিতার উর্ধ্বে। তাই প্রয়াত কারিনা কায়সারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে এবারের চরকি অ্যাওয়ার্ডসে আমরা তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চাই।’এদিকে ২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েছে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘তুফান’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ’৩৬-২৪-৩৬’। রয়েছে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সিরিজ, সেরা গানসহ বিভিন্ন বিভাগ। চরকির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পছন্দের কনটেন্ট বা শিল্পীকে ভোট দিতে পারবেন সাবস্ক্রাইবাররা। আজ থেকে শুরু হয়েছে ভোট। সমালোচক বিভাগ এবং ২০২৩ সালের কনটেন্টে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামও প্রকাশ করা হবে শিগগির।
নব্বই দশকের পর দেশের সংগীতাঙ্গনে ভাটিয়ালি ধারার গানকে জনপ্রিয় করে তোলা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগ। ‘লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা’ গানটির মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করা ভাটিয়ালি ব্যান্ডের এই প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী একসময় দেশের যুবসমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত একাধিক গান দেশজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয় এবং সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোড়ন। সেই জনপ্রিয় শিল্পী এবার তাঁর গানের রয়্যালটি আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ, কপিরাইট লঙ্ঘন ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার এক ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেনগণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির নোটিশ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগের পক্ষে জজ কোর্ট, সাতক্ষীরার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন গত ৮ জুন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোঃ আহসানুল হাবিব অনিকের কাছে এ নোটিশ প্রেরণ করেন।লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর শিল্পী শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দেন আহসানুল হাবিব অনিক। সে সময় তিনি শিল্পীর মৌলিক গান আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, বিপণন ও মনিটাইজেশনের প্রস্তাব দেন এবং অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ শিল্পীকে রয়্যালটি হিসেবে প্রদানের আশ্বাস দেন।পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি আজ পর্যন্ত শিল্পীকে প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হিসাব ও রয়্যালটির অর্থ প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।নোটিশে আরও বলা হয়, শিল্পীর জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ ও ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় দুই শতাধিক গান Spotify, Apple Music, YouTube Music, YouTube Content ID, TikTok, Facebook Music Library, Shazam, Beatport এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।শিল্পীর দাবি, এসব গান থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং, বিজ্ঞাপন, ডাউনলোড, লাইসেন্সিং ও কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি আয় হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য রয়্যালটির একটি টাকাও তাকে প্রদান করা হয়নি।লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৩, ৪০৬, ৪১৫ ও ৪২০ ধারাসহ কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন বিধানের লঙ্ঘনের শামিল।নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ আয়ের হিসাব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবরটি নিজেই নিশ্চিত করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলো করে এলো নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ পোস্টে এই সুখবরটি শেয়ার করেছেন বুবলী। তাদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন শারলিন খান। পোস্টে একটি কার্ড প্রকাশ করেন বুবলী, তা থেকে বোঝা যায়, গত ১১ মে তাদের এই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কার্ডে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা-মা হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে।পোস্টে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।উল্লেখ্য, বুবলী-শাকিবের ঘরে রয়েছে আরও এক সন্তান- শেহজাদ খান বীর। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন নায়ক। এর মাস ছয়েক পর গুঞ্জন ওঠে, সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বুবলী। তাদের ভক্তরাও কার্যত দিনক্ষণ গুনছেন- কবে ভূমিষ্ঠ হবে তাদের সন্তান। অবশেষে কন্যা সন্তান আসার খবরের মাঝে এলো এই সুসংবাদ।
বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।ভারতের দিল্লি শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হাসিবুর রেজা কল্লোল নির্মাতা, সংগঠক এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রযোজনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।পরিচালক হিসেবে তাঁর নির্মিত সত্তা চলচ্চিত্রটি ব্যাপক আলোচিত হয় এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি চ্যানেল নাইন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।প্রতিক্রিয়ায় হাসিবুর রেজা কল্লোল বলেন, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি ও এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এবার ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে।শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে বাজুসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ এখন থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায় বিক্রি হবে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে, সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দামে ২ হাজার ৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে। এতে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৭ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটকে জনকল্যাণমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর, আত্মনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করে বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপির জার্মানি শাখা। দলটির নেতারা বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত এই বাজেট প্রমাণ করেছে যে তিনি বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের একজন অকৃত্রিম দেশবন্ধু।শুক্রবার (১২ জুন) জার্মানির মানহাইমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির জার্মানি শাখার সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশবন্ধু তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নতুন বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি আধুনিক, উন্নত, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা। এই বাজেটে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দিকনির্দেশনা রয়েছে।”তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে দেশের মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণরা নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য এই বাজেটে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপকে তিনি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় উন্নয়নের এই যাত্রায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে অংশীদার হতে হবে। ঐক্য, উদ্ভাবন, সুশাসন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, যা হবে জনকল্যাণমূলক, প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাশীল।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা নতুন বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে, তখন শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো নিয়ে এসেছে তাদের বিশেষ বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইন ‘শ্যুট অ্যান্ড উইন – মেক ইউর ওয়ার্ল্ড কাপ মোমেন্ট উইথ অপো’। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ক্রেতারা আকর্ষণীয় উপহার জিতে নিতে পারবেন, উপভোগ করতে পারবেন বিশেষ ছাড়।এই ক্যাম্পেইনের আওতায়, ক্রেতারা একটি অপো স্মার্টফোন কিনে, মাই অপো অ্যাপ ডাউনলোড করে এবং নির্ধারিত অপো শোরুমে ভিজিট করে একটি ফুটবলভিত্তিক চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অংশগ্রহণকারীরা গোল করার জন্য চারটি সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, অপো রেনো সিরিজের যেকোনো স্মার্টফোন ক্রেতারা পাবেন দ্বিগুণ আনন্দ, তাদের জন্য থাকছে মোট আটটি কিকের সুযোগ।এতে সফল অংশগ্রহণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় উপহার রয়েছে। প্রথম কিকে গোল করতে পারলে পাওয়া যাবে হ্যান্ড ব্যান্ড, দ্বিতীয় কিকে রিস্ট ব্যান্ড, তৃতীয় কিকে কি-রিং ও চতুর্থ কিকে গোল করলে পাওয়া যাবে ক্যাপ। এছাড়াও, ফুটবলপ্রেমীরা অপোর অনলাইন কনটেস্টে অংশ নিয়ে জিতে নিতে পারবেন অপো রেনো১৫ এফ ফাইভজি, অপো প্যাড এসই ও এনকো বাডস৩ প্রো’র মতো আকর্ষণীয় পুরস্কার।ক্যাম্পেইনের উদ্দীপনা আরও বাড়াতে নির্বাচিত অপো আইওটি পণ্যে থাকছে সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়। আরও রয়েছে ও’লাইক টিডব্লিউএস টি১১৪ লাইটে ৩০০ টাকা, ও’লাইক টিডব্লিউএস টি৩০২ ও ও’লাইক এফডব্লিউ৩ অ্যামোলেড স্মার্ট ওয়াচে ৫০০ টাকা, ও’লাইক এফএম০৩ স্মার্ট ওয়াচ, অপো এনকো বাডস৩ প্রো ও অপো এনকো এয়ার৪-এ ১,০০০ টাকা, অপো প্যাড এসই-তে (১২৮ জিবি + ৬ জিবি) ১,৫০০ টাকা, অপো ওয়াচ এক্স২ মিনিতে ২,০০০ টাকা এবং অপো ওয়াচ এক্স২-তে ৩,০০০ টাকা ছাড়।এই ক্যাম্পেইন বাংলাদেশের নির্বাচিত অপো শোরুমগুলোতে চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপো পার্ক স্টোর (যমুনা ফিউচার পার্ক), মতিঝিল ফ্ল্যাগশিপ স্টোর, অপো মোবাইল মেলা বাড্ডা, বেটা কোম্পানি শপ বসুন্ধরা, নারায়ণগঞ্জ ফ্ল্যাগশিপ স্টোর, জিবি স্টোর চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ ফ্ল্যাগশিপ স্টোর। আরও বিস্তারিত জানতে অপো বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/OPPOBangladesh ভিজিট করুন ও অনলাইন কনটেস্টে অংশ নিতে অপো বাংলাদেশের অফিসিয়াল সাইট https://oppoworldcupmoment.com/ ভিজিট করুন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’