ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে আবারো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।টেলিগ্রামে পোষ্ট করা এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, তারা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিও খবর দিয়েছে যে, নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রোবাবার ইরান থেকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, ‘ইরানের এই প্রকাশ্য আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর’ থেকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ পর্যন্ত মোট ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৭৭৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।এরআগে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে তেহরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ৯২ শতাংশই প্রতিহত করেছে ইসরায়েল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।তিনি বলেন, ‘ইরান ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার হারও চমৎকার। আমাদের সফলতার হার প্রায় ৯২ শতাংশ।’এদিকে শনিবার রাতে ইসরায়েলে পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী দুটি শহরে- আরাদ ও দিমোনায় হামলা চালায় ইরান। এসব হামলায় অন্তত ১৬০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার ঘটনায় আরাদে ৮৪ জন এবং দিমোনায় আরও ৭৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতি ইরানোর ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, শনিবার ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে ওই হামলা চালানো হয়েছে।সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
সারাদেশে গত ১৮ ঘণ্টায় সড়ক ও রেলপথে ঘটে যাওয়া আলাদা দুর্ঘটনায় অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৯টার মধ্যে কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ফেনী, নাটোর, নড়াইল এবং ঝিনাইদহে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার রেলক্রসিংয়ে, যেখানে ট্রেনের ধাক্কায় একটি বাসের ১২ যাত্রী নিহত হয়েছেন। ঈদের আনন্দের মাঝে এসব দুর্ঘটনায় সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় বাস দুমড়ে-মুচড়ে নিহত ১২শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে নোয়াখালীগামী ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস রেলক্রসিংয়ে উঠলে চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকামুখী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময় উদ্ধারকাজ চালান। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, রেলক্রসিংয়ে বাসের চালকের অসতর্কতার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হবিগঞ্জে খাদে পিকআপ ভ্যান, নারী-শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যুরোববার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে ৪ জন নিহত হন। ঢাকাগামী আসবাবপত্রবোঝাই পিকআপটি অন্য একটি যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ দীর্ঘ চেষ্টার পর পিকআপটি উদ্ধার করে ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ বের করে। নিহতরা হলেন: পিকআপ চালক সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ইব্রাহীম (৩৫), কিশোরগঞ্জের আছমা (৪০) ও শিশু সজিব (১২)। নিহত অপর এক পুরুষের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩রোববার ভোর পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, ব্রিজের সংস্কার কাজ চলার কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে স্পিড ব্রেকার পার হচ্ছিল। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সড়কে জটলা তৈরি হয়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের আরেকটি বাস ওই জটলার মধ্যে ঢুকে পড়লে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষ হয়। এতে একজন মোটরসাইকেল আরোহী, একটি বাসের সুপারভাইজার ও একজন যাত্রী প্রাণ হারান। বিয়ের আগের দিন নাটোরে হবু বরের মৃত্যুরোববার সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি এলাকায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় জুলফিকার নামের এক প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার তার বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। বোন ও দুলাভাইকে আনতে তিনি নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে পাবনার দাশুড়িয়া থেকে নাটোরের বনপাড়ায় যাচ্ছিলেন। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়। বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলেই ওই হবু বরের মৃত্যু হয়। নড়াইল, ঝিনাইদহ ও নাটোরে নিহত ৩ নড়াইল: শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার ধোন্দা কাজীপাড়া এলাকায় মাগুরা-নড়াইল সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাব্বী মোল্যা (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ঈদের নামাজ শেষে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় তার বন্ধু রোমান গুরুতর আহত হয়ে খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন। ঝিনাইদহ: শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার কুমড়াবড়িয়া ইউনিয়নের রাওতাইল এলাকায় চলন্ত আলমসাধু (নসিমন) থেকে ছিটকে পড়ে গফুর (১৬) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সেও বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের ঘোরাঘুরিতে বেরিয়েছিল। নাটোর (হরিশপুর): শনিবার বিকেলে নাটোর-ঢাকা মহাসড়কের বড় হরিশপুর এলাকায় চলন্ত ট্রাকের বাম্পার থেকে ছিটকে পড়ে মো. লাম (১৫) নামের এক ট্রাক হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। একটি বিকল ট্রাককে অন্য ট্রাকটি টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় সে দুই ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
হরমুজ প্রণালি চালু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়ার পর, তেহরান জানিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট গালফ দেশের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করবে ইরান।দেশটির পার্লামেন্টের স্পীকার বলেছেন, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যদি হামলা করে, তাহলে গালফ অঞ্চলের দেশগুলোর জরুরি অবকাঠামোতে ‘অপূরণীয় ধ্বংসযজ্ঞ’ চালানো হবে।সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ মোহাম্মদ-বাঘের ঘালিবাফ লিখেছেন, সেক্ষেত্রে জরুরি অবকাঠামো, জ্বালানি এবং তেলক্ষেত্র – সবই হবে ইরানের ‘বৈধ টার্গেট’।এছাড়া বিশ্বজুড়ে তেলের দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন ইরানের স্পিকার।এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন।তিনি বলেছেন, এই সময় পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো 'ধ্বংস' বা 'নিশ্চিহ্ন' করে দেবে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের অপতৎপরতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় তাদের আকস্মিক মহড়ার প্রতিবাদে শাহবাগ থানায় অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।রোববার (২২ মার্চ) ঈদের ছুটির মধ্যে রাজু ভাস্কর্য এলাকায় ছাত্রলীগের ব্যানারসহ মিছিলের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় খুনি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়া হয়।রোববার রাতে শাহবাগ থানা পুলিশের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান।জাহিদ আহসান বলেন, ‘পবিত্র ঈদের আমেজ ও আনন্দের মধ্যেও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে। অথচ আট-নয় ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও পুলিশ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা পুলিশকে স্পষ্ট জানিয়েছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অপতৎপরতায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে।’জাহিদ আহসান অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগের খুনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতারা বর্তমানে বিভিন্ন আইনি ফাঁকফোকরে জামিন পাচ্ছে। তিনি একে ‘সিস্টেমের বড় সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, ‘ঢাবি প্রক্টর আমাদের জানিয়েছেন যারা মিছিলে ছিল তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, বরং মহানগরের ছাত্রলীগ। যদি তারা বহিরাগত হয়, তবে কেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হলো? ঢাবি প্রশাসন ও ডাকসুর নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে।’হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ছাত্রশক্তি সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগের ৫৪ বছরের ইতিহাস কেবলই নির্যাতন ও নিপীড়নের। শেখ মুজিব ও হাসিনার উত্তরসূরিদের বাংলাদেশে আর কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে দেয়া হবে হবে না।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মবসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রলীগকে নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কঠোর বার্তা দেননি। তাদের গ্রেফতার করা পুলিশের দায়িত্ব, আমাদের নয়। তবে জুলাই আন্দোলনে আমরা যেভাবে পুলিশের গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি, প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামব।’জাহিদ আহসান জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রমজান মাসে ইফতারসহ বিভিন্ন অজুহাতে একত্রিত হয়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে। তারা ফিরে এলে ছাত্র-জনতার ওপর আবারও হত্যাকাণ্ড চালাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শাহবাগ থানার ওসির বরাত দিয়ে তিনি জানান, পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেয়া হবে না এবং রাজপথে যে কোনো ফ্যাসিবাদী তৎপরতা প্রতিহত করা হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।রোববার (২২ মার্চ) সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।জামায়াত আমির বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই জনগণের কাজ হওয়া উচিত, যাতে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।তিনি আরও বলেন, সিলেটের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বিরোধী দল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে দাবি তুলবেন, তবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের।মতবিনিময় সভায় দেশের রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান।
হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত না করলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার যে ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সব মার্কিন অবকাঠামোতে হামলা চালাবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণের মুখে আজ রোববার (২২ মার্চ) করা ইরানের এই অনমনীয় প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এল, যখন তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে একটি শহরে পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে। এই হামলা তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতাকে আবারও জানান দিল।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য পথে তেহরানের অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেছেন।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে (তাঁর পোস্টের সময় অনুযায়ী সোমবার ২৩:৪৪ জিএমটি) ইরান যদি প্রণালিটি সম্পূর্ণ খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত করবে এবং তা নিশ্চিহ্ন করে দেবে, যার শুরুটা হবে সবচেয়ে বড় কেন্দ্রটি দিয়ে।’তবে ইরানের সামরিক কমান্ড পাল্টা জবাবে জানিয়েছে, যদি তাদের স্থাপনায় আঘাত করা হয়, তবে ওই অঞ্চলে থাকা ‘যুক্তরাষ্ট্রের সব জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পানি শোধন অবকাঠামোকে’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।আজ রোববার ভোরে ইরান ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ শুরু করলে জেরুজালেমে অবস্থানরত এএফপি সাংবাদিকরা বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার সাইরেনের শব্দ শুনতে পান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলে চালানো অন্যতম ধ্বংসাত্মক হামলায় আরাদ ও ডিমোনা শহরে সরাসরি আঘাতে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন এই সতর্কবার্তা এল।আরাদের ১৭ বছর বয়সী বাসিন্দা ইদো ফ্রাঙ্কি এএফপি-কে বলেন, ‘প্রচণ্ড শব্দে পর পর বিস্ফোরণ হচ্ছিল, আমার মা চিৎকার করছিলেন। এটি ছিল ভয়াবহ... এই শহর আগে কখনো এমন কিছু দেখেনি।’পারমাণবিক অবকাঠামোইসরায়েল এর জবাবে আজ রোববার ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তদন্ত করছে কেন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আটকাতে ব্যর্থ হলো।ইসরায়েলে ইরানের এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তেহরানের বাহিনীকে ধ্বংস করার দাবি করলেও তাদের অস্ত্রভাণ্ডার এখনো এই অঞ্চলের জন্য হুমকি।ডিমোনা শহরে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও ইসরায়েল কখনোই তা স্বীকার করেনি এবং এটিকে কেবল একটি গবেষণা কেন্দ্র বলে দাবি করে। উদ্ধারকারীদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক স্থাপনার প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে আঘাত করে। ইরান জানিয়েছে, ডিমোনায় এই হামলা ছিল তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে চালানো হামলার প্রতিশোধ।হরমুজ প্রণালি অবরোধযুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজর এখন অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালির দিকে, যেখান দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থার কারণে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং উত্তর সাগরের ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও আরব আমিরাতসহ মোট ২২টি দেশ গতকাল শনিবার জানিয়েছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবদান রাখতে প্রস্তুত। এদিকে, কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই সপ্তাহে ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ উপকূলীয় স্থাপনায় বাঙ্কার-বাস্টিং বোমা ফেলা হয়েছে।
ভারতে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে আনা হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।ফেরত আসারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। সাজাভোগ শেষে বিভিন্ন সেফ হোমের হেফাজতে ছিল তারা। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হল।কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে উদ্ধার এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করেন।এছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিল।যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, দালালের মাধ্যমে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে ভারত বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেখান থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ট্রাভেল পারমিটে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুদের কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ক্লাব চেলসি। ইংলিশ এই ক্লাবের নারী দলের গোলকিপার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান সুযোগ পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। সাক্ষাৎকারে আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডাক্তার জুবাইদা রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা জাইমা রহমান খেলাধুলাকে অসম্ভব পছন্দ করেন। আমি যখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লন্ডন গিয়েছিলাম তখন সামনাসামনি ডাক্তার জুবাইদা রহমান, জাইমা রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছিল।’প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও তার স্ত্রী-কন্যা খেলাধুলা বেশি পছন্দ করেন উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তিনিও আমাকে বারবার বলেছেন, ‘আমিনুল আমি যতটুকু না স্পোর্টস পছন্দ করি তার চেয়ে থাউজেন্ড টাইম বেশি পছন্দ করে তোমাদের ভাবি এবং আমার মেয়ে জাইমা রহমান।’আমিনুল হক আরও বলেন, ‘সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে যে, আমাদের জাইমা রহমান কিন্তু চেলসির মেয়েদের ফুটবল টিমেও সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি একজন গোলকিপার হিসেবে ছিলেন। তিনি বেশ ভালো লম্বা এবং সেই সুযোগটা পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো বা তাকে খেলার সেই সুযোগটি তৈরি করে দেননি।’জাইমা রহমানও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফ্যান, এ তথ্য জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘বেসিক্যালি আমি যতটুকু জানি যে তিনি আমার মত একজন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্ত।’
দেশের সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং সড়ক-রেলপথে বাড়তে থাকা দুর্ঘটনার জন্য সরকারকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যু এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক দুর্ঘটনার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, রাত ৩টায় কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা জবাবদিহিতা দেখা যাচ্ছে না। একটি সভ্য রাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, দেশের পরিবহন খাতে চরম নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার দায় সরাসরি বর্তমান বিএনপি সরকারের ওপর বর্তায়। বিশেষ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের চরম অবহেলা, অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই সাধারণ মানুষ নিরাপদ যাতায়াতের ন্যূনতম নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।জামায়াত নেতা বলেন, নিয়মিত তদারকির অভাব, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা ঘাটতি—সব মিলিয়ে দেশের রেল ও সড়কপথে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।মিয়া গোলাম পরওয়ার কুমিল্লার দুর্ঘটনাসহ সাম্প্রতিক সব দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত, কঠোর তদারকি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানান।জনগণের জীবন রক্ষা করতে ব্যর্থ এই সরকারকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় দেশের মানুষই এর জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন গোলাম পরওয়ার। জামায়াত সেক্রেটারি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।সম্প্রতি বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ অবিলম্বে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।ইতোমধ্যে তিনি দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। আহতদের সুচিকিৎসার নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ট্রেন-বাস সংঘর্ষে তদন্ত করে প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার জন্য দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রোববার (২২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ কথা জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, কুমিল্লায় রেল দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, অপর কমিটি গঠন করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি তদন্ত কমিটিকে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ইতোমধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনী, হবিগঞ্জ এবং জামালপুর সেতু দুর্ঘটনাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।আজ এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পবিত্র ঈদ উদযাপনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং উদ্বেগজনক। প্রতিটি জীবন মূল্যবান। প্রতিটি মৃত্যুই অপূরণীয় ক্ষতি। প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে কোনো শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ করতে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।সম্প্রতি বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ অবিলম্বে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।ইতোমধ্যে তিনি দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। আহতদের সুচিকিৎসার নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ট্রেন-বাস সংঘর্ষে তদন্ত করে প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার জন্য দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ কথা জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, কুমিল্লায় রেল দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, অপর কমিটি গঠন করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি তদন্ত কমিটিকে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ইতোমধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আরো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনী, হবিগঞ্জ এবং জামালপুর সেতু দুর্ঘটনাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।আজ রোববার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পবিত্র ঈদ উদযাপনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং উদ্বেগজনক। প্রতিটি জীবন মূল্যবান। প্রতিটি মৃত্যুই অপূরণীয় ক্ষতি। প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।তারেক রহমান বলেন, জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে কোনো শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ করতে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভারতে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে আনা হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।ফেরত আসারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। সাজাভোগ শেষে বিভিন্ন সেফ হোমের হেফাজতে ছিল তারা। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হল।কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে উদ্ধার এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করেন।এছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিল।যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, দালালের মাধ্যমে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে ভারত বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেখান থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ট্রাভেল পারমিটে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুদের কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।রোববার (২২ মার্চ) সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।জামায়াত আমির বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই জনগণের কাজ হওয়া উচিত, যাতে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।তিনি আরও বলেন, সিলেটের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বিরোধী দল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে দাবি তুলবেন, তবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের।মতবিনিময় সভায় দেশের রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান।
সুনামগঞ্জে ঘুরতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সাফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাগলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত সাফিকুল ইসলাম শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের মুক্তাখাই গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাফিকুল ইসলাম তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্র শিমুল বাগানে যাচ্ছিলেন। পথে গাগলী এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।আহতদের মধ্যে সাইদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত গুলজার আহমদ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আমজাদ হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সাফিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলি উল্যাহ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ক্লাব চেলসি। ইংলিশ এই ক্লাবের নারী দলের গোলকিপার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান সুযোগ পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। সাক্ষাৎকারে আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডাক্তার জুবাইদা রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা জাইমা রহমান খেলাধুলাকে অসম্ভব পছন্দ করেন। আমি যখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লন্ডন গিয়েছিলাম তখন সামনাসামনি ডাক্তার জুবাইদা রহমান, জাইমা রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছিল।’প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও তার স্ত্রী-কন্যা খেলাধুলা বেশি পছন্দ করেন উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তিনিও আমাকে বারবার বলেছেন, ‘আমিনুল আমি যতটুকু না স্পোর্টস পছন্দ করি তার চেয়ে থাউজেন্ড টাইম বেশি পছন্দ করে তোমাদের ভাবি এবং আমার মেয়ে জাইমা রহমান।’আমিনুল হক আরও বলেন, ‘সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে যে, আমাদের জাইমা রহমান কিন্তু চেলসির মেয়েদের ফুটবল টিমেও সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি একজন গোলকিপার হিসেবে ছিলেন। তিনি বেশ ভালো লম্বা এবং সেই সুযোগটা পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো বা তাকে খেলার সেই সুযোগটি তৈরি করে দেননি।’জাইমা রহমানও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফ্যান, এ তথ্য জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘বেসিক্যালি আমি যতটুকু জানি যে তিনি আমার মত একজন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্ত।’
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কার্টুন ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা মারা গেছেন। গত ৬ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বুধবার (১৮ মার্চ) তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘এশিয়া দো’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক সংবাদটি প্রকাশ করেছে। সুতোমুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে অ্যানিমেশন জগতে।মিন্ট নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন সুতোমু। এ পরিচালককে জাপানের অ্যানিমেশন শিল্পে অন্যতম পথপ্রদর্শক মনে করা হয়। ক্যারিয়ারে ‘ডোরেমন’-এর পরিচালনা ছাড়াও সিরিয়াল ও সিনেমা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।সুতোমু শিবায়ামা ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ‘ডোরেমন’ টিভি সিরিজের প্রধান পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, ডোরেমনের জনপ্রিয় ২২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও তার হাত ধরে তৈরি হয়েছে। নোবিতা, শিজুকা ও ডোরেমন চরিত্রগুলোকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে প্রিয় করে তোলার পেছনে তার অবদান অনবদ্য।সুতোমু ১৯৬৩ সালে একটি খ্যাতনামা আনিমেশন প্রতিষ্ঠানে তার কর্মজীবন শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বহু জনপ্রিয় অ্যানিমেশন উপহার দেন এবং একপর্যায়ে নিজেই স্টুডিও গড়ে তোলেন।অ্যানিমেশন শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা পান এ নির্মাতা। তার মৃত্যুতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল, ভক্ত ও শুভাকাঙক্ষীরা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রিয় ছোটবেলার কারিগরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। জাপানি অ্যানিমেশন জগতের এই নক্ষত্রের প্রয়াণকে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেকড়ের টানে ঘরমুখো মানুষের অনুভূতি তুলে ধরেই নিজের নতুন মৌলিক গান ‘ফেরা’ নিয়ে হাজির হয়েছেন সংগীতশিল্পী নাবিলা নূর কুহু। গানটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ মার্চ তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, স্পটিফাই ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে।গানের কথা লিখেছেন কুহু নিজেই। সংগীতায়োজন করেছেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক অটমনাল মুন, যিনি ব্লুজ ও জ্যাজের অনুপ্রেরণা দিয়ে গানটিতে স্বতন্ত্র একটি আবহ তৈরি করেছেন।ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন মীর হিশাম। সাধারণ ভিডিওর বাইরে গিয়ে স্কেচ অ্যানিমেশনের মাধ্যমে গানটির আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।কুহু বলেন, ‘‘‘ফেরা’-তে ঘর ছেড়ে দূরে থাকা মানুষের নস্টালজিয়া ও দীর্ঘদিন পর নিজের ঘরে ফেরার অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে সেই আবেগ দোলাবে।’’শিল্পী হিসেবে কুহু শৈশব থেকেই সংগীতচর্চায় যুক্ত। তিনি ছায়ানট থেকে নজরুলগীতিতে পুরস্কার অর্জন করেছেন, শুদ্ধসংগীত তালিম নিয়েছেন অনুপ বডুয়ার কাছে, এবং দীর্ঘদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন।শিল্পীর উল্লেখযোগ্য মৌলিক কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বেহাগের এই রাত’, ‘দ্য সং অফ এ রোডট্রিপ’, ‘শহুরে মায়া’, ‘ছায়াহরিণের ডাক’ ও ‘শূন্যতায় জীবন’। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের গান দিয়ে শ্রোতাদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের জন্য এই নতুন গানটি দোলা এবং আনন্দ ছড়াবে—তাই প্রত্যাশা কুহুর।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব আয়োজন করেছে ২ দিনব্যাপী প্রথম ‘কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব’। ১টি প্রামাণ্যচিত্র এবং ৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এই উৎসবে।উৎসবের পর্দা উঠবে ২৭ মার্চ বিকাল ৫টায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। পরে প্রদর্শিত হবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’, অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘জলরঙ’ এবং বড়ুয়া সুনন্দা কাঁকন পরিচালিত ‘ডট’।২৮ মার্চ উৎসবের সমাপনী দিনে দর্শকরা দেখতে পাবেন সবুজ খান পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বেহুলা দরদী’, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘ময়নার চর’ এবং তানভীর হাসান পরিচালিত ‘মধ্যবিত্ত’ প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্দা নামবে ১ম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবের।কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম জানান, ‘মুঠোফোনের ক্ষুদ্র স্ক্রিনে সিনেমা দেখার এই যুগে বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্রুপদী ও আধুনিক গল্পগুলোকে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’আয়োজকরা জানান, কক্সবাজার লাবণী বিচ পয়েন্টে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেখানো হবে ৩টি ছবি, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬-এর মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল এস। সহযোগিতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজন করেছে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা “সেরাদের সেরা সিজন–৬”। বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।গান, অভিনয় ও আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায় অতিক্রম করে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগী বাছাই করা হয়।নির্বাচিত প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে রমজান মাসজুড়ে দেশের স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ৯–এ বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। প্রতিদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত প্রচারিত এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় আরজে টুটুল এবং টেলিভিশন পর্ব পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহিল কাফী।‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এইচ এম আবু মুসা এবং সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। এছাড়া আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেন আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, হাদিউজ্জামান বুলবুল, মিনার উদ্দিন, তানভির আহমেদ শিবলী, আহমদ শরীফ, হুজ্জাতুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহাদিউজ্জামান, ইব্রাহিম আলী ও আবু বকরসহ সংশ্লিষ্টরা।প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়—ক গ্রুপ: ১ম থেকে ৮ম শ্রেণিখ গ্রুপ: ৯ম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে সসাস-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবারের আসরে বিজয়ীদের মাঝে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন পান ১ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাস-এর মতে, “সংস্কৃতি কোনো বিলাস নয়—সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।” ‘সেরাদের সেরা’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিভা, নৈতিকতা ও শুদ্ধ শিল্পচর্চার সমন্বয় ঘটছে। আয়োজকদের আশা, এই মঞ্চ থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের সেই প্রতিভাবান মুখগুলো, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এবারের ঈদে মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সিনেমাটিকে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনের অনুমতি দেয়। মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এখন মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছে। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমাটির স্থিতিকাল ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানা। সোমবার রাতে সামাজিক আমধ্যমে সার্টিফিকেট প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোর্তিময়ীসহ আরও অনেকে।এদিকে প্রিন্স ছাড়াও মুক্তি মিছিলে থাকা আরও চার সিনেমা ছাড়পত্র পেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মঈনউদ্দীন গত সোমবার সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেগুলো হচ্ছে- ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও প্রেশার কুকার। প্রতিটি সিনেমাই ভিন্ন ভিন্ন ধারার হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্সর সার্টিফিকেশন পাওয়ার মাধ্যমে সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
‘সাহস আর সমর্থন নিয়ে সময় এখন এগিয়ে যাবার’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নারীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন মন জানালা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মন জানালার আয়োজনে নারীর আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও নিজেকে যত্ন নেওয়ার গুরুত্বের কথা তুলে ধরের তারা।অতিথিরা বলেন, হতাশ হওয়া যাবে না। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে হবে। সমালোচনা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জবাব দিতে হবে কাজের মাধ্যমে। জীবনের চলার পথে ট্রমা থাকবে, নানা রকম বাধা আসবে; এগুলো মোকাবিলা করে নিজেকে শক্তভাবে দাঁড় করাতে হবে।গত ৭ মার্চ রাজধানীর ধানমন্ডির প্যারাগন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর, রেজুভা ওয়েলনেসের ওয়েলনেস অ্যান্ড বিউটি কনটেস্ট কনসালট্যান্ট ডক্টর তাওহিদা রহমান ইরিন, মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ , চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী মন জানালার প্রতিষ্ঠাতা উপস্থাপক মৌসুমী মৌ, মন জানালার সহ–প্রতিষ্ঠাতা হাসিবুল করিমমূলত ৪০ উর্ধ্ব নারীদের নিয়ে কাজ করে এই সংগঠন। ‘গিইভ টু গেইন’ প্রতিপাদ্যে এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের দেড় শতাধিক নারী উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, শিক্ষক ও কমিউনিটি নেত্রী অংশগ্রহণ করেন। বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর বলেন, ‘আমি হতাশায় বিশ্বাসী না। আমাদের নারীরা যে হতাশায় বিশ্বাসী এটা আমি মানি না। কারণ, আমি আমার ভাগ্য নিয়েই এসেছি। আমরা কেউ জানি না কার ভাগ্যে কী আছে। তাই আমাকে এগিয়ে যেতেই হবে আমার নিজের জন্য, আমার বাচ্চাদের জন্য, আমার পরিবারের জন্য, আমার সমাজের জন্য, আমার দেশের জন্য।’রেজুভা ওয়েলনেসের ওয়েলনেস অ্যান্ড বিউটি কনটেস্ট কনসালট্যান্ট ডক্টর তাওহিদা রহমান ইরিন কথা বলেন নারী স্বাস্থ্য নিয়ে। আমরা অনেক সময় শরীরকে খুব শক্ত মনে করি।ভাবি — একটু কম ঘুমালে কিছু হবে না,সমস্যা নেই, পানি কম খেলেও শরীর তো চলছে!কিন্তু সত্যিটা হলো—শরীরকে শাস্তি দিলে সে চুপ থাকে না। আজ না হোক, একদিন সে হিসাব নেবে। যখন নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া হয়, তখন তারা শুধু নিজেরাই উন্নতি করে না—বরং তাদের পরিবার, অর্থনীতি এবং পুরো দেশও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়! ৪০ উর্ধ্ব নারীদের একে অন্যের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘নারীরাই নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বী। সব জায়গায় নারীদের সাথেই আমার লড়তে হয়েছে। আমি কখনো সেটা মুখে উত্তর দিইনি, আমি আমার কাজে প্রমাণ করেছি। আমার কাছে মনে হয় যে “ইগনোর” একটা বিষয় আছে, যেটা অনেক বড় শাস্তি। আপনাকে একজন অনেক কথা বলে গেল, আপনি চুপ করে থাকলেন, একটা টাইমের পরে কিন্তু সে আর কথা বলবে না।’চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী এসেছিলেন তাঁর মাকে নিয়ে। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের বয়সে পৌঁছাইনি; কিন্তু আপনারা প্রত্যেকে এক একটা জার্নি কমপ্লিট করে এখানে বসে আছেন। আপনারা সে সময়ে কথা বলেছেন যখন মেয়েদের কথা বলা অতটা সহজ ছিল না। আপনারা সে সময়ে অনেকে কাজ করেছেন যখন মেয়েদের পড়াশোনা করার অনুমতি খুব একটা ছিল না। আমাদের প্রত্যেকের কোনো না কোনো ট্রমা আছে। তার মানে এটাও না যে আপনার ট্রমা আপনি নিজের মধ্যে চেপে রেখে নিজেকে শেষ করে দেবেন।’মন জানালার প্রতিষ্ঠাতা উপস্থাপক মৌসুমী মৌ বলেন, নারীর মানসিক মুক্তি সবার আগে দরকার। মানসিক মুক্তি মিললেই নারী স্বাবলম্বী হবে, তার অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে।’ নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য এই অনুষ্ঠানে ৫ জন নারীকে ‘সিটি ব্যাংক মন জানালা আলোকিত নারী সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন— নাবেগাহ্ দোরদানা, জাহেদা খানম, বদরুন্নেছা সরকার, লায়ন ইয়াসমিন শাহাদাত ও কানিজ ফাতেমা।তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডলি জহুর, সাদিয়া ইসলাম মৌ, ডক্টর তাওহিদা রহমান ইরিন ,জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশি ও মন জানালার সহ–প্রতিষ্ঠাতা হাসিবুল করিম। অনুষ্ঠান সহযোগিতায় সিটি ব্যাংক পিএলসি এবং ইস্পাহানি। শেষে সবাই ইফতার ও ডিনারে অংশগ্রহণ করেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের হাতে নেই উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে। সামনে নতুর বাজেট ও আসছে। ভবিষ্যত চ্যালেজ্ঞ মোকাবেলায় সবাইকে সংযমী হওয়ার আহবান আহবান জানিয়েছেন তিনি।রোববার সকালে নগরীর মেহেদীবাগ নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী।এ সময় তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও সরকার দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখা, ভাড়া বৃদ্ধি না করা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হলেও সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে।এর ফলে ঈদযাত্রায় কোথাও জ্বালানির সংকটে পরিবহন বন্ধ হয়নি এবং ভাড়াও বাড়েনি। চেষ্টা করছি এটা ধরে রাখার।’তিনি আরও জানান, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে গার্মেন্টস খাতে বেতন-ভাতা আগাম নিশ্চিত করায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়নি, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বড় পরিবর্তন। সরকার জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে—ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড চালু, কৃষকদের হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ এবং ইমাম-মোয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।পাশাপাশি তিনি দেশের মানুষকে সংযম, সহযোগিতা ও সহানুভূতির মাধ্যমে চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের হাতে নেই, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে৷ এখনও পর্যন্ত সরকার যুদ্ধের চাপ জনগনের উপর পড়তে দেয়নি, তবে ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবাইকে সংযমী হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ভিন্ন ভিন্ন উৎস বের করেছে। আলাদা উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ কার্যক্রম এখনও চলমান আছে। ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়। এবারের ঈদে জ্বালানি নিয়ে সাধারণের উপর কোন চাপ পড়েনি। সবাই মুক্ত ভাবে ঈদ উদযাপন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জার্মানিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল (শুক্রবার)। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম এই উৎসবকে ঘিরে দেশটির প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।রাজধানী বার্লিনসহ জার্মানির প্রায় সব বড় শহরেই প্রবাসীদের উদ্যোগে বড় বড় ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের তিনটি স্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মাবিন মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে– সকাল সাড়ে ৭টায় জার্মান খুতবা ও বাংলা খুতবাসহ প্রথম জামাত, দ্বিতীয় ও তৃতীয় জামাত যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৮টা এবং সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।এই শহরের প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে সেন্ট্রাল ট্রেন স্টেশন সংলগ্ন মুনশেনার স্রাসেতে একটি স্থায়ী মসজিদ ক্রয়ের চেষ্টা চলমান রয়েছে; সেখানে সকাল ৭টায় জার্মান এবং সাড়ে ৮টায় বাংলা খুতবাসহ দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রবাসীদের উদ্যোগে সালবাও বরনহাইম অডিটোরিয়ামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়।পার্শ্ববর্তী ওফেনবাখ শহরের ‘আইনহাইট ডেস ইসলামে’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। মাইঞ্জ শহরের তাকওয়া মসজিদে ঈদের জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টা এবং সকাল সাড়ে ৮টায়।রাজধানী বার্লিনসহ জার্মানির সব বড় শহরেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে ঈদুল ফিতরের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলার আকাশে সেদিন উৎসবের রং নয়, ছড়িয়ে ছিল বারুদের ধোঁয়া। শহরের বাতাসে সেমাইয়ের গন্ধের চেয়ে বেশি ভেসে বেড়াচ্ছিল লাশের গন্ধ। ঢাকার রাস্তায় ছিলনা ঈদের নামাজের ঢল, ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। এই শহর যেন সেদিন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। কোথাও কোথাও ঈদের নামাজের জন্য মানুষ জড়ো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই ভিড়ে ছিল না উৎসবের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস। অনেকের চোখে ছিল ক্লান্তি, অনেকের মুখে ছিল গভীর চিন্তার ছাপ। সেবার ঈদে বহু ঘরের পুরুষ মানুষ ঘরেই ছিলনা। কেউ যুদ্ধের ময়দানে, কেউ বন্দী, কেউ বা নিখোঁজ। কত পরিবার জানেই না তাদের প্রিয়জন বেঁচে আছেন কি না। ঈদের সকালে তাই অনেক মায়েরা দরজার দিকে তাকিয়ে ছিলেন, হয়তো আজই হঠাৎ ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া ছেলে। এদিকে দেশের ভেতরে যুদ্ধ চললেও দেশের বাইরে তখন ছিল আরেক ভিন্ন বাস্তবতা। লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিল ভারতের সীমান্তবর্তী শরণার্থী।অনেক শরণার্থী শিবিরে মানুষ খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ পড়েছিল। কারও গায়ে পুরোনো কাপড়, কারও পায়ে জুতা নেই। কিন্তু নামাজ শেষে যখন দোয়ার সময় এলো, হাজারো হাত একসাথে উঠেছিল, একটি মাত্র প্রার্থনায়। তা হল ‘বাংলাদেশের জন্ম।‘‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইতে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ২০ নভেম্বর ১৯৭১ তারিখে ডায়েরিতে বেদনামাখা কথাগুলো লিখেছেন।তিনি আরও লেখেন, ঈদের দিনেও যুদ্ধ থেমে থাকেনি। দেশের বিভিন্ন সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধারা তখনও লড়াই করে যাচ্ছেন। উত্তরের সীমান্ত অঞ্চলে পাটগ্রাম সাব-সেক্টরে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান-এর নেতৃত্বে সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা বোরখাতা এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর একটি শক্ত ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালান। কুমিল্লার রাজনগর এলাকাতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে দুই সৈন্যকে হত্যা করে এবং কয়েকজন রাজাকারকে বন্দী করে। ঈদের দিন রাতে যশোরে গরীবপুর গ্রাম দখল করে নেওয়া হয়, এবং পরদিন পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালায়। এই সংঘর্ষ পরে ইতিহাসে পরিচিত হয় ‘ব্যাটেল অব গরীবপুর’ নামে। ইতিহাসও যেন সেই প্রতিজ্ঞার জবাব দিতে দেরি করেনি। ঈদের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সূর্যোদয় দেখেছিল।১৯৭১ সালের নভেম্বরে মানুষ কেঁদেছে, কিন্তু বিজয়ের স্বপ্নও দেখেছে। এরকম এক মিশ্র অনুভূতির সময় হাজির হয়েছে ঈদ। কেমন ছিলো আমাদের সে সময়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মুসলিমদের ঈদ? অজানা অধ্যায় নিয়ে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখি- “আজ ঈদ। ঈদের কোন আয়োজন নেই আমাদের বাসায়। কারো জামাকাপড় কেনা হয়নি। দরজা-জানালার পর্দা কাচা হয়নি। ঘরের ঝুল ঝাড়া হয়নি। বাসায় ঘরের টেবিলে রাখা হয়নি আতরদান। শরীফ, জামী ঈদের নামাজও পড়তে যায়নি। কিন্তু, আমি ভোরে উঠে ঈদের সেমাই, জর্দা রেঁধেছি। যদি রুমীর সহযোদ্ধা কেউ আজ আসে এ বাড়িতে? বাবা-মা-ভাই-বোন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন কোন গেরিলা যদি রাতের অন্ধকারে আসে এ বাড়িতে? তাদেরকে খাওয়ানোর জন্য আমি রেঁধেছি পোলাও কোর্মা, কোপ্তা কাবাব। তারা কেউ এলে আমি চুপিচুপি নিজের হাতে বেড়ে খাওয়াবো। তাদের জামায় লাগিয়ে দেবার জন্য একশিশি আতরও আমি কিনে লুকিয়ে রেখেছি।”মুক্তিযুদ্ধে ঈদ পালন করেননি মুক্তিযোদ্ধারা বরং দেশ স্বাধীন করে ‘বিজয়ের ঈদ-উৎসব’ পালনের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ১৯৭১ সালে ঈদুল ফিতর ছিলো ২০ নভেম্বর। দিনটি ছিলো শনিবার। সারাদেশে চলছে সশস্ত্র যুদ্ধ। সমগ্র জাতিই তখন যুদ্ধে শামিল। এরকম ঈদ মনে হয় জাতির জীবনে আর কখনো আসেনি। আতঙ্ক, দেশ স্বাধীন করার সংকল্প, শরণার্থী শিবিরে অনিশ্চিত জীবন– এসব কিছু ঘিরেছিলো প্রতিটি মানুষের মন। রণাঙ্গনে ঈদের দিনেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধ সশস্ত্র সংগ্রাম চলছিলো। সারাদেশে খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ এবং শহীদ হওয়ার ঘটনা ঘটছিলো। ভুরুঙ্গামারীতে শহীদ হয়েছিলেন বীর উত্তম আশফাকুস সামাদ।ঈদের আগের দিন কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘জয়বাংলা’র ২৮তম সংখ্যা। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বাণী বক্স আইটেমে। বাণীতে উল্লেখ করেন, “আমাদের দেশে এবার ঈদ এসেছে অত্যন্ত মর্মান্তিক পরিবেশে। ঈদের যে আনন্দ আজ আমরা হারিয়েছি, তা আমাদের জীবনে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে সেদিনই যেদিন আমরা দেশকে শত্রুমুক্ত করব। যথাসর্বস্ব পণ করে যে স্বাধীনতা সংগ্রামে আমরা লিপ্ত, তার চূড়ান্ত সাফল্যের দিনটি নিকটতর হয়ে এসেছে। সেই মুহূর্তটিকে এগিয়ে আনার সংগ্রামে আমরা সকলে যেন নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের নিয়োগ করতে পারি এই ঈদে তাই হোক আমাদের প্রার্থনা।”তবে কলকাতায় ঈদের নামাজ হয়েছিলো। প্রবাসী সরকারের উদ্যোগে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতার থিয়েটার রোডে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় প্রাঙ্গণে ঈদ নামাজের আয়োজন করা হয়েছিলো। নামাজে অংশ নিয়েছিলেন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এম কামরুজ্জামান, প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, বিমানবাহিনী প্রধান এ কে খন্দকার, অধ্যাপক ইউসুফ আলী প্রমুখ।ঈদের দিনে রাতে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশে প্রবেশ করার অভিজ্ঞতাও হয়েছিলো। সেসময়ে রণাঙ্গনের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের ‘একাত্তরের রণাঙ্গন: অকথিত কিছু কথা’ গ্রন্থে মুজিবনগর সরকারের ঈদ উদযাপনের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। সে গ্রন্থে রয়েছে-ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতির উদ্দেশ্যে বাণী দেন। এটি প্রচার করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। ‘জয়বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২৬ নভেম্বরে। বাণীতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বলেন- “পবিত্র রমজান মাসেও হানাদার বাহিনীর বর্বরতায় বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু নির্বিশেষে অসংখ্য নরনারী নিহত হচ্ছে। গত বছর আমরা বারোই নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে নিহত দশ লাখ মানুষের শোকে মুহ্যমান অবস্থায় ঈদ পালন করতে পারিনি। এবারও আমরা ইয়াহিয়ার সৈন্যদের বর্বরতায় নিহত দশ লাখ ভাইবোনের বিয়োগ বেদনা বুকে নিয়ে ঈদের জামাতে শামিল হয়েছি। কিন্তু দুঃখ-কষ্ট যাই হোক, ত্যাগের মন্ত্রে আমরা উদ্বুদ্ধ এবং যেকোনো ত্যাগের মূল্যে স্বাধীনতার ঘোষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে বদ্ধপরিকর। দেশকে শত্রুর কবল থেকে মুক্তি করার পর মাত্রই ঈদুল ফতেহ বা বিজয়ের ঈদ উৎসব পালন করবো এবং সেদিন খুব দূরে নয়, এই প্রতিশ্রুতি আমি আপনাদের দিতে পারি।”ঈদের আগের দিন ১৯ নভেম্বর ‘এই ঈদে আমাদের প্রার্থনা হোক’ শিরোনামে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের বাণী প্রকাশ করে ‘জয়বাংলা’ পত্রিকা। প্রধানমন্ত্রী বলেন- “আমাদের দেশে এবার ঈদ এসেছে অত্যন্ত মর্মান্তিক পরিবেশে। দখলীকৃত এলাকায় শত্রুসৈন্যের তাণ্ডব চলছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে বিচ্যুত হয়ে শরণার্থী হয়েছেন, মুক্ত এলাকায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য, রক্তের বিনিময়ে মানুষ মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম করছে। এবার ঈদে আনন্দ মুছে গেছে আমাদের জীবন থেকে, আছে শুধু স্বজন হারানোর শোক, দুর্জয় সংগ্রামের প্রতিজ্ঞা ও আত্মত্যাগের প্রবল সংকল্প।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের জনসাধারণকে ঈদ উপলক্ষে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ঈদের যে আনন্দ আজ আমরা হারিয়েছি, তা আমাদের জীবনে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে সেদিনই, যেদিন আমরা দেশকে সম্পূর্ণরূপে শত্রুমুক্ত করব। আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, যথাসর্বস্ব পণ করে যে স্বাধীনতা সংগ্রামে আমরা লিপ্ত, তার চূড়ান্ত সাফল্যের দিনটি নিকটতর হয়ে এসেছে। সেই মুহূর্তটিকে এগিয়ে আনার সংগ্রামে আমরা সকলে যেন নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের নিয়োগ করতে পারি, এই ঈদে তাই হোক আমাদের প্রার্থনা।”অবরুদ্ধ ঢাকায় ঈদের সময় অবস্থান করছিলেন শিল্পী হাশেম খান। ‘২০ নভেম্বর ১৯৭১’ শিরোনামে একটি লেখায় সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আজ ঈদ। আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। কিন্তু, কী আনন্দ করবো এবার আমরা? নতুন জামা কাপড় বা পোশাক কেনা-কাটার আগ্রহ নেই! শিশু-কিশোরদের কোনো আবদার নেই, চাওয়া-পাওয়া নেই। বাড়িতে বাড়িতে কি পোলাও কোরমা ফিরনী সেমাই রান্না হবে? আমার বাড়িতে তো এসবের কোনো আয়োজন হয়নি। প্রতিটি বাঙালির বাড়িতে এরকমই তো অবস্থা।”জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার ‘আমার একাত্তর’ গ্রন্থে লিখেন: ‘‘ঈদের কদিন আগে তাজউদ্দীন আমাকে ডেকে পাঠালেন। স্বভাবতই বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলো। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ-সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি কিছুটা ধারণা দিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, বঙ্গবন্ধুর বিচারের ফল যাই হোক, বিশ্বজনমতের কারণেই, পাকিস্তানিরা তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধ যে চূড়ান্ত লক্ষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে সে-বিষয়ে তাঁর সন্দেহ ছিল না।কথাবার্তার শেষে উঠে গিয়ে ঘরের মধ্যে রাখা আয়রন শেলফ থেকে একটা খাম বের করে তিনি আমার হাতে দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘কী এটা?’ তিনি বললেন ‘সামনে ঈদ, তাই।’ খামে পাঁচশ টাকা ছিল- তখন আমার এক মাসের মাইনের সমান। আমি নিতে চাইলাম না। তিনি বললেন: ‘ঈদে আপনার বাচ্চাদের তো আমি উপহার দিতে পারি, নাকি।’ কথাটা বলতে গিয়ে তিনি নিজেই ভাবাবেগপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন, আমিও খুব অভিভূত হয়ে কিছু আর বলতে পারিনি।’’‘চরমপত্র’ খ্যাত সাংবাদিক এমআর আখতার মুকুল, তার স্মৃতিচারণে বলেন, “আমরা যখন থিয়েটার রোডে পৌঁছালাম তখন কেবলমাত্র নামাজ শেষ হয়েছে। তাই প্রায় সবার সঙ্গে কোলাকুলি করলাম। এরপর সবার অশ্রুভেজা কণ্ঠে কেবল রণাঙ্গন ও ঢাকার আলাপ। প্রতি মুহূর্তে উপলব্ধি করলাম, দৈহিকভাবে আমরা মুজিবনগরে থাকলেও আমাদের মন-প্রাণ সবই পড়ে রয়েছে দখলীকৃত বাংলাদেশে। আর সেখানকার সব মানুষ তাকিয়ে আছে আমাদের সাফল্যের দিকে। বাঙালি জাতির এ রকম একাত্মতাবোধ আর দেখিনি।”সাহিত্যিক আবু জাফর সামসুদ্দীন, ৭১ এর ঢাকায় ঈদের বর্ণনায় লিখেন, “ঈদের দিন শনিবার। যুদ্ধকালে কোন জামাত জায়েজ নয়। নামাজে যাইনি। কনিষ্ঠ পুত্র কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে সকাল ৯টায় ছিদ্দিক বাজারের উদ্দেশ্যে বেরোলাম। রিকশায় চড়ে দেখি সড়ক জনমানবশূন্য। টেলিভিশন অফিসে যেতে রিকশা ফিরিয়ে দিল। ট্রাকে ট্রাকে টহল ও পাহারায়ও মিলিটারি — যাওয়ার সময় দেখলাম বায়তুল মোকাররম মসজিদে মিলিটারি পাহারায় ঈদ জামাত হচ্ছে– আমার জীবনে এই প্রথম ঈদের জামাতে শরিক হইনি।”জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ মহিলা সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠন। ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির একটি আবেদনপত্রে প্রবাসীদের ফেতরা টাকা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়। আবেদনপত্রটি ছিলো নিম্নরূপ-BANGLADESH WOMEN’S ASSICIATION IN GREAT BRATAIN103, Ledbury Road, London, W. IITelephone: 01 727 6578Ref: 2/R.Date: 16 November, 1971সুধী,পবিত্র ঈদ সমাগমে প্রতিটি দেশপ্রাণ বাঙালির মন স্বভাবতই ভারাক্রান্ত। দেশ ও জাতি আজ ঘোরতর দুর্যোগের সম্মুখীন। ইয়াহিয়ার নীতি ও ধর্মজ্ঞান বিবর্জিত নৃশংস সেনাবাহিনীর অত্যাচারে জর্জরিত। অত্যাচারী এজিদ বাহিনী বাঙালি জাতির নাম পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর। দেশের এই সংকটে আমাদের একমাত্র ভরসাস্থল মরণজয়ী জেহাদেরত মুক্তিবাহিনী ভাইরা। বাংলা ও বাঙালিকে তারা বাঁচাবেই- প্রয়োজন হলে তাঁদের জীবনের বিনিময়ে। আমাদের ঈদ ব্যর্থ হবে যদি এই পবিত্র দিনে তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য ভুলে যাই।তাই যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ মহিলা সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের ফেতরার পয়সা সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীর কাপড়-চোপড় ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস খরিদ করার জন্য পাঠিয়ে দেবে। এ ব্যাপারে আমরা অনুরোধ করছি আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা।আসুন ভাই ও বোনেরা, এবারের ফেতরার পয়সা মুক্তিবাহিনীর নামে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির কাছে পাঠিয়ে দিয়ে জিহাদে শরিক হই। দানের দ্বারা দেশের প্রতি আপনার গুরুদায়িত্বের ভার কিছুটা লাঘব করুন। আপনার ঈদ সার্থক ও পবিত্রতর হোক।জয় বাংলা।নিবেদিকামিসেস বখশরণাঙ্গনের যোদ্ধাদের প্রেরণা যোগানোর জন্য স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০ নভেম্বর ঈদে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এতে আলোচিত ও আলোড়িত ছিল ‘চাঁদ তুমি ফিরে যাও/ দেখো মানুষের খুনে খুনে রক্তিম বাংলা/ রূপসী আঁচল কোথায় রাখবো বলো” শীর্ষক গানটি। গানটির কথা লিখেছেন শহীদুল ইসলাম, সুর করেছেন অজিত রায়, শিল্পী রূপা ফরহাদসহ আরও অনেকেই গানটি কোরাসে গেয়েছিলেন।
পাহাড় আর সমুদ্রঘেরা পেরুর রাজধানী লিমা। যেখানে রমজানের প্রকাশ্য ঘোষণা, মাইকে আজানের সুমধুর ধ্বনি কিছুই নেই। তবে ১১ কোটি মানুষের এই কর্মব্যস্ত শহরে ট্রাফিক আর ব্যবসার চিরচেনা ছন্দে রমজান যেন এক শান্ত নীরবতা বয়ে যায়। এই খ্রিষ্টানপ্রধান দেশটিতে কয়েক দশক ধরে টিকে আছে একনিষ্ঠ এক মুসলিম জনপদ, যাদের কাছে প্রতিটি রমজান হলো ধৈর্যের এক কঠিন পরীক্ষা।পেরুর মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে মুসলিমরা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। সরকারি হিসব অনুযায়ী মাত্র ২ হাজার ৬০০ জন মুসলিম বসবাস করেন এখানে। এই ছোট্ট জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার মানুষের বাস রাজধানী লিমায়। বাকি ৬০০ জন থাকেন চিলির সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে।লিমার ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন’ মসজিদের ইমাম আহমেদ মোহাম্মদ (৩৬) বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বা মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে রমজানে চারপাশ থেকে যে মানসিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন পাওয়া যায়, এখানে তা নেই। এখানে মানুষ নিজের মতো জীবন চালায়, অফিস-আদালত সব স্বাভাবিক থাকে। তাই আমাদের জন্য এটি ঈমানের এক বড় পরীক্ষা।প্রশান্ত মহাসাগরের কোলঘেঁষা একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদে ইফতারের সময় নেমে আসে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি। শুধু মুসলিম নন, মসজিদে ভিড় করেন কৌতূহলী প্রতিবেশীরাও। ইমামের মতে, ইসলামের অন্যতম শিক্ষা হলো মানুষের সেবা করা এবং খাবার ভাগ করে নেওয়া।ইফতারের দস্তরখানে খেজুর ও শরবতের পাশাপাশি থাকে পেরুর ঐতিহ্যবাহী ‘এসকাবেচে’ (সিরকা ও পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করা মুরগির ঝাল পদ)। এখানে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিসর, ভেনেজুয়েলা এবং পেরুর স্থানীয় মুসলিমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইফতার করেন। শুধু তাই নয়, রমজান মাসে লিমা ও এর আশপাশের প্রায় ২ হাজার দরিদ্র মুসলিম ও অমুসলিম পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করে এই মসজিদ কর্তৃপক্ষ।১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি এক সময় এক ফিলিস্তিনি পরিবারের মালিকানাধীন ছিল। মজার তথ্য হলো, পেরুতে ১৯ শতকের শেষের দিকে আরব অভিবাসীদের মাধ্যমে ইসলাম এলেও বর্তমানের মুসলিমদের প্রায় ৯৯ শতাংশই জন্মসূত্রে পেরুভিয়ান। তারা নিজেদের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন।তেমনই একজন আবু বকর। আমাজন অঞ্চলের উকায়ালি থেকে আসা এই যুবক ১৫ বছর আগে একদল পাকিস্তানি মুসলিমের সংস্পর্শে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, বিশাল ক্যাথলিক জনসমুদ্রের মাঝে আমাদের অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখা হয়। কিন্তু ইসলাম আমাদের জীবনে যে পরিবর্তন এনেছে, তা আমাদের শান্তি দেয়।পাকিস্তানের ফরিদ নাসিম ১৯৮০-এর দশকে ইনকা সভ্যতার টানে পেরুতে এসেছিলেন। তার মতে, পেরুর মানুষ মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে খুব একটা জানে না, তাই রমজান নিয়ে তাদের প্রচুর কৌতূহল। ইমাম আহমেদ মোহাম্মদের ভাষায়, ইসলামে বর্ণ, ভাষা বা সীমান্ত কোনো বাধা নয়। এখানে সবাই সমান এবং আমরা সবাই মিলে এই দেশের মঙ্গল কামনায় ঐক্যবদ্ধ।সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ঈদের ছুটিতে সমুদ্রের টানে অনেকেই ছুটে যান দক্ষিণের পর্যটন শহর কুয়াকাটায়। তবে এই সমুদ্রকন্যার পাশেই রয়েছে আরেক অপার বিস্ময়- নিঃশব্দ, নির্জন ও স্বপ্নময় চর হেয়ার। বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল বুকে স্বপ্নের মতো জেগে ওঠা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার।দূর থেকে দেখলে মনে হয়, দিগন্তজোড়া জলরাশির মাঝখানে সৃষ্টিকর্তা যেন নিভৃতে গড়ে তুলেছেন এক টুকরো স্বর্গভূমি। কাছে গেলে সেই অনুভূতি আরও গভীর হয়। অসীম আকাশ আর অনন্ত সাগরের মিলনরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক নিঃশব্দ কবিতা। সোনালি বালুকাবেলা, ঢেউয়ের ছন্দময় আছড়ে পড়া আর বাতাসের স্নিগ্ধ স্পর্শ সব মিলিয়ে চর হেয়ার এক অনাবিল প্রশান্তির ঠিকানা।দ্বীপের ভেতরে পা রাখলেই মেলে আরেক ভিন্ন জগতের দেখা। গহীন বনের ছায়াঘেরা পথ, পাখিদের নিরন্তর কলকাকলি আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ সব মিলিয়ে এখানে বিরাজ করে এক অপার্থিব নির্জনতা। মনে হবে, কোলাহলমুখর পৃথিবী থেকে আপনি অনেক দূরে, যেখানে সময়ও যেন ধীর হয়ে যায়। এখানে শত শত পাখির কলরবে ভোরের নীরবতা ভাঙে, বিস্তীর্ণ বালুচরে লাল কাঁকড়ার দল ছুটে বেড়িয়ে আঁকে জীবনের চঞ্চল রেখাচিত্র। ঢেউয়ের ফেনায় ভেজা তটরেখা, দূরে ভাসমান মাছধরা নৌকা আর আকাশজুড়ে সাদা মেঘ সব মিলিয়ে চর হেয়ার স্বপ্নীল জগৎ।সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে কুয়াকাটা ভ্রমণের সঙ্গে চর হেয়ার হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য। এই ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে দক্ষিণের এই নিভৃত দ্বীপে কাটাতে পারেন এক ভিন্ন রকম সময়। যেখানে প্রকৃতি নিজেই আপনার ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।ভৌগোলিক অবস্থান পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর হেয়ার। কেউ কেউ একে ‘হেয়ার চর’ নামেও ডাকেন। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কলা গাছিয়ার চর’ নামেও পরিচিত। চরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘সোনার চর’, যেখানে হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। পূর্বে চর আন্ডা, পশ্চিমে চর তুফানিয়া, উত্তরে টাইগার দ্বীপ ও তার পাশেই চর কাশেম। এসব চরের নান্দনিক দৃশ্যও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। কুয়াকাটা থেকে সাগরপথে এই চরের দূরত্ব ৩৫.১৯ কিলোমিটার। আর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে চরটির দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।ভ্রমণের আদর্শ সময়বঙ্গোপসাগর তুলনামূলক শান্ত থাকায় এখানে ভ্রমণের আদর্শ সময় শীতকাল। এ সময় অতিথি পাখির দেখা মেলে বেশি। তবে এই সময়েও চরটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো।যেসব সুবিধা রয়েছেচর হেয়ারে রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে ছোট ছোট তাবু ও কটেজ। তাবু প্রতি ভাড়া এক রাতের জন্য ৪০০ টাকা। সমুদ্রের ঢেউয়ের কলকল ধ্বনি শুনতে শুনতে নির্জন রাতে তাবুতে কাটানো সময় হয়ে উঠতে পারে অনন্য অভিজ্ঞতা। এছাড়া সৈকতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে ছাতাসহ আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। বনভূমির ভেতরে গাছের সঙ্গে বাঁধা দোলনা শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সব বয়সীদের জন্য আনন্দদায়ক।খাবারের জন্য রয়েছে সাগরের তাজা মাছ, মুরগি, ভাতসহ বিভিন্ন প্যাকেজ। থাকা, খাওয়া, ট্রলার সার্ভিস, তাবু ও কটেজসহ ভ্রমণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘সোনার চর ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেলস’। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও চর হেয়ার ট্যুরিস্ট নিরাপত্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান। তার সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ০১৭১৯৩৬৮১৭৮।তবে এখানে পর্যাপ্ত দোকান বা ফার্মেসি না থাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেওয়া ভালো। মোবাইল চার্জিংয়ের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাও রাখলে সুবিধা হবে।যেভাবে যাবেননৌপথে: ঢাকার সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চে রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায়। ডেকের ভাড়া ৬৫০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা। সেখান থেকে ১৫০০ টাকায় ট্রলার (রিজার্ভ) বা ২০০০ টাকায় স্পিডবোটে চর হেয়ারে যাওয়া যায়। কয়েকজন মিলে গেলে ভাড়া ভাগাভাগি করা সম্ভব।সড়কপথে: ঢাকার সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে পটুয়াখালী চৌরাস্তা পর্যন্ত বাসভাড়া প্রায় ৬৫০ টাকা। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ২৫০ টাকায় ৪০ মিনিটে হরিদেবপুর ফেরিঘাট। ট্রলারে ১০ টাকায় গলাচিপা শহরে উঠে মোটরসাইকেলে ১৫০ টাকায় পানপট্টি লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায় (সময় প্রায় ২৫ মিনিট)। পানপট্টি থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা ও বিকেল ৩টায় লঞ্চ চরমোন্তাজের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা। প্রায় ৩ ঘণ্টার নদীপথে আগুনমুখা ও তেতুলিয়া নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। চরমোন্তাজ থেকে ট্রলারে আধাঘণ্টা এবং স্পিডবোটে ১৫ মিনিটে পৌঁছে যাবেন চর হেয়ারে।বিকল্প পথ: গলাচিপার বোয়ালিয়া স্পিডবোট ঘাট থেকে ১০ হাজার টাকায় স্পিডবোট ভাড়া করা যায়। এছাড়া কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকেও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসা যায়। মাত্র ৩০০০-৩৫০০ টাকায় আপনি চলে আসতে পারবেন চর হেয়ারে।যা যা দেখবেনচর হেয়ারে রয়েছে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত,যেখানে আচড়ে পড়ে সমুদ্রের নীল জলরাশি। দ্বীপের বুকে আছে ঝাউগাছ আর পেয়ারাগাছের বন। এছাড়া আছে নানা আকারের ছইলা, কেওড়া, গেওয়া, বাইন, গোলপাতা, হারগুজি, তাম্বুরা কাঁটার ঝোপঝাড়। সবুজ বনভূমির গাছগুলোতে বিচরণ করে হাজারো দেশীয় ও বিদেশী অতিথি পাখি যার মধুর কণ্ঠে কিচিরমিচির গানে ভুলে যাবেন শহুরে কোলাহলের অবসাদ।দোলনায় শুয়ে দুলতে দুলতে পাখিদের গানে মুগ্ধ হবেন আপনি। সারস, বক, শামুকখোল, মদনটাকেরা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে আশ্রয় নেয় এখানকার গাছের মগডালে। আর ঝোপগুলো ডাহুক, কোড়াসহ নাম না জানা পাখিদের অভয়ারণ্য সৈকতে বসে সাগরের গর্জন আন্দোলিত করে তোলে মন। এখান থেকে দেখা যায় জেলেদের মাছ ধরা। সূর্যোদয়ের সময় লাল আভায় রাঙা দিগন্ত আর সূর্যাস্তের ক্ষণে সোনালি-কমলা রঙে ঢেকে যাওয়া জলরাশি হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় এক অনির্বচনীয় মায়া। বালুকাময় সৈকত এর চারদিকে দেখা যাবে লাল কাঁকড়া। এছাড়া এই চরটি চমৎকার এক পিকনিক স্পট। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা ব্যবস্থা। চর হেয়ার শুধু একটি দ্বীপ নয় এ এক অনুভূতি, বিস্ময়, নিঃশব্দ সৌন্দর্যের ঘোষণা। ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতি, নির্জনতা ও সমুদ্রের মিলিত রূপ উপভোগ করতে চাইলে দক্ষিণের এই স্বর্গভূমি হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সারা দেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফারের ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো, যাতে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গ্রাহকরা অপো স্মার্টফোন ক্রয়ের সময় এক্সক্লুসিভ অফার উপভোগ করতে পারবেন, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একেবারে নতুন অপো এ৬এস প্রো।উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে অপো গ্রাহকরা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক পার্টনারদের মাধ্যমে বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। নির্ধারিত অপো স্মার্টফোন কিনলে গ্রাহকরা ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) কার্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পেতে পারবেন। অন্যদিকে এনআরবি ব্যাংক কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং কমিউনিটি ব্যাংক কার্ডধারীরা ফ্ল্যাট ১,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও, অপো রেনো১৫ এফ ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূবালী ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করলে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন, যা ঈদ উপলক্ষে স্মার্টফোন আপগ্রেড করতে আগ্রহীদের জন্য বাড়তি সুবিধা যোগ করবে।এই ক্যাম্পেইনের মূল আকর্ষণ অপো এ৬এস প্রো, যা শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি নিয়ে তৈরি। এই ডিভাইসে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম এআই অটো জুম ৫০মেগাপিক্সেল আল্ট্রা ওয়াইড সেলফি ক্যামেরা, যা স্মার্ট ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে বড় গ্রুপ সেলফি সহজে ধারণ করতে পারে—ঈদের পারিবারিক আড্ডা ও আনন্দময় মুহূর্ত ধারণের জন্য একেবারে উপযুক্ত।ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “ঈদ আনন্দ, একসাথে থাকার মুহূর্ত এবং স্মরণীয় সময়ের উৎসব। এই বিশেষ অফারগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে চাই এবং একই সঙ্গে অপো এ৬এস প্রো -এর মতো উদ্ভাবনী ডিভাইস তুলে ধরতে চাই।”
কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দেন তিনি।ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না। সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে মাশাআল্লাহ’। তার এই পোস্টের নিচে কয়েক হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।এদিকে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে যানজট ও চাঁদামুক্ত এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে ঢাকা মহানগরীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক মনিটারিং করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে কোনো জনসচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার বা সংগঠনের নেতাদের কোথাও কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। এটা একটা কাগজে-কলমে ভুঁইফোঁড় সংগঠন।যদিও এর আগে ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ে ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গের পথে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।