ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে প্রথমবারের মতো রণক্ষেত্রে বড় আকারের স্থল সেনা মোতায়েন শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জাপানের ওকিনাওয়া থেকে ‘৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’-এর প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা এখন মধ্যপ্রাচ্যের পথে। বিশালাকার উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’তে করে এই সেনাদলকে পাঠানো হচ্ছে। এই পদক্ষেপকে সরাসরি স্থলযুদ্ধের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।এই যুদ্ধের শুরু থেকে আকাশ ও নৌপথে হামলা চালানো হলেও এটিই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো স্থল বাহিনীকে সরাসরি ‘ইন থিয়েটার’ বা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করছে। পেন্টাগন সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, এই মেরিন সেনারা জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনে ইরানের কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড দখল করার মতো অভিযানেও অংশ নিতে পারে।জাপানভিত্তিক উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ এই অভিযানের কেন্দ্রে। এটি কেবল মেরিন সেনাদের বহন করে না, বরং সমুদ্র থেকে স্থলভাগে দ্রুত সেনা নামানোর যাবতীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এতে রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ এবং ৫ হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর যে অনুরোধ করেছিল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তা অনুমোদন করেছেন।প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের হুমকি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে ‘চরম হতাশায়’ ভুগছে এবং তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে দেবে না আমেরিকা। হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা কোনোভাবেই বাণিজ্যিক পণ্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে দেব না।’ওয়াশিংটনের এই সামরিক প্রস্তুতি এবং ওকিনাওয়া থেকে সেনাদল নিয়ে আসার ধরন দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকা এই যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ করতে চাচ্ছে না; বরং তারা ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে ইরানকে এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছে। খারগ দ্বীপে বিমান হামলার পর এই স্থল সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এখন বড় ধরনের স্থলযুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ২৮ মার্চ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে ঐক্যবদ্ধভাবেই রাজপথের আন্দোলনে যাচ্ছে ১১ দল।শনিবার (১৪ মার্চ) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেভাবে বলা আছে সে অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আগামীকালই সরকারের জন্য শেষ দিন। অবিলম্বে যেন সরকার অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা নেন।তিনি বলেন, যদি না নেন তাহলে আমরা স্পষ্ট বলতে চাই জাতির কাছে আপনারা ক্ষমা পাবেন না। বিশেষ করে সংসদ নেতাকে এটা প্রধানত দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারকেও সে দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণকে সরকারের অবহেলা-অবজ্ঞা জনমতকে উপেক্ষা করে চলা, জনগণকে অপমানিত করার দায় নিতে হবে। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসাবে এবার আমাদের সংসদ সদস্যরা সংসদে ভূমিকা রাখবেন। আযাদ বলেন, আমরা আজকে বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামীকাল যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অধিবেশন না ডাকে, তাহলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো। শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকে কর্মসূচি দেবো।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, হাসপাতালগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষ যাতে হাসপাতালে এসে তাদের প্রাপ্য সেবাটুকু পায়—সেই লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সিংগাইর পৌরসভার আয়োজনে মশকনিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার চায় সাধারণ মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়। হাসপাতালগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ সরবরাহে দুর্নীতি, রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার ঠিকমতো না দেওয়া এবং ডাক্তার-নার্সদের সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত না থাকার মতো অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, “গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।”এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার(ভূমি) হাবেল উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাফসান রেজা,থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মাজাহারুল ইসলামসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কোথাও নেই কোন পশু জবাইখানা, সরজমিনে উপজেলার টঙ্গীবাড়ী,বালিগাও, বেতকা, দিঘীরপাড়, হাসাইল, আলদী সহ বিভিন্ন বাজারগুলোতে মাংস ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে পশুর কোন রকম স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই চলছে পশু জবাই ও মাংস বিক্রি এতে একদিকে যেমন আছে স্বাস্থ্য ঝুকি অন্যদিকে মাংস ক্রেতাওর প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলায় নিয়োজিত ভেটেরিনারি সার্জন কিংবা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সনদ নিয়ে নির্ধারিত পশু জবাইখানায় পশু জবাই করতে হবে, কিন্তু পশু জবাইখানার অভাবে তা হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্রেতারা উচ্চমূল্য দিয়েও ভেজালমুক্ত মাংস কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।উপজেলার সোনারং গ্রামের শেখ সাব্বির( ৩৫) বলেন, ভোররাতে সবার অগোচরে গরু-ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। ফলে আমরা কী সুস্থ নাকি অসুস্থ, পশুর মাংস টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছি তা কেউই আমরা জানি না।গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ছাড়পত্র চিকিৎসক দিয়েছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলার টঙ্গীবাড়ী বাজারের নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক গরুর মাংস বিক্রেতা বলেন, মাংস দেখলেতে বুঝা যায় এগুলো সুস্থ্য গরুর মাংস আমরা ভেজাল কোন কাজ করিনা। এ বিষয়ে উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি টঙ্গীবাড়ী বাজারের প্রায়সবগুলো মাংসের দোকানে গিয়েছি এবং তাদের সাথে কথা বলে জনাতে পেরেছি পশুগুলো তারা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চুরাইন গ্রামে জবাই করে টঙ্গীবাড়ী বাজারে নিয়ে এসে বিক্রয় করেন, তাদের দেয়া তথ্য মতে চুরাইন গিয়ে যেখানে তারা পশু জবাই করেন সেখানে রোগাক্রান্ত কয়েকটি গরু দেখতে পেয়েছি এবং তাদের অনুরোধ করেছি যেন তারা রোগাক্রান্ত গরুগুলো জবাই করে মাংস বিক্রয় না করেন। জানতে চাইলে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন কালী শঙ্কর পাল বলেন, আমাদের এখানে কোন পশু জবাইখানা নেই, আমি চাই পশু জবাই করার আগে একজন চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে সার্টিফিকেট দিবে, তারপর একজন ইমাম এটা জবাই করবে তারপর মানুষ সেই মাংস গ্রহণ করুক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন,বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে একটি নতুন মাল্টি-ব্র্যান্ড লাইফস্টাইল শোরুম হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ‘মিঙ্গেল ইন স্টাইল’ (Mingle in Style)। প্রতিষ্ঠানটি একটি অভিনব রিটেইল কনসেপ্ট নিয়ে এসেছে যেখানে একই ছাদের নিচে চারটি ভিন্ন ব্র্যান্ডের সমাহার ঘটানো হয়েছে—যা লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি এবং দৈনন্দিন ফ্যাশনের এক অনন্য মিলনস্থল।প্রথাগত শোরুমের ধারণা ছাড়িয়ে ‘মিঙ্গেল ইন স্টাইল’ আধুনিক জীবনযাত্রার এক প্রতিফলন, যেখানে স্টাইল সরাসরি আরাম, সুস্থতা এবং আত্মপ্রকাশের সঙ্গে যুক্ত। এই প্ল্যাটফর্মটি আভাসা (Avasaa), পিওর নর্থ (Pure North), বিদজার (Vidjar) এবং মিঙ্গেল (Mingle)-কে একত্রিত করেছে, যাদের প্রতিটি দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক একটি অনন্য দিককে উপস্থাপন করে।এই নতুন যাত্রা সম্পর্কে মিঙ্গেল ইন স্টাইলের কো-ফাউন্ডার অ্যান্ড হেড অব অপারেশন্স নাসরিন করিম বলেন, “মিঙ্গেল আসলে আমার কাছে একটা প্যাশন প্রজেক্ট। আমাদের মূল ভিশন হচ্ছে মডার্ন ফ্যাশনকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংস্কৃতির সঙ্গে মিঙ্গেল করা। আমরা চাই মিঙ্গেল একটা ওয়ান স্টপ ওয়ার্ডরোব সলিউশন হোক যেখানে একজন মানুষ তার আইডেন্টিটি, কালচার এবং পার্সোনাল স্টাইল একসাথে খুঁজে পায়।”তিনি আরও যোগ করেন, “মিঙ্গেল ব্র্যান্ডে আমরা সবার কথা চিন্তা করে চারটা সাব-ব্র্যান্ড তৈরি করেছি যাতে সবাই একই ছাদের নিচে সব কালেকশন খুঁজে পায়। এর মধ্যে আভাসাতে থাকছে লাউঞ্জ অ্যান্ড কমফোর্ট ওয়্যার, পিওর নর্থে পাওয়া যাবে জিম অ্যান্ড স্পোর্টস ওয়্যার, ভিদজার-এ থাকছে ক্যাজুয়াল অ্যান্ড ক্লাসিক ওয়্যার এবং মিঙ্গেল নিজে একটি এথনিক ওয়্যার ব্র্যান্ড হিসেবে কাজ করছে।”শোরুমটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর আরামদায়ক এবং বিলাসবহুল পরিবেশ দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্যে ব্র্যান্ডগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ করে দেয়। উত্তরা বেলি কমপ্লেক্সে অবস্থিত এই ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি বর্তমানে ফ্যাশন প্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।উত্তরাবাসীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নাসরিন করিম বলেন, “আমাদের উত্তরার ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি উত্তরার খুব প্রাইম লোকেশনে করা হয়েছে। উত্তরার ফ্যাশন লাভারদের আমি ইনভাইট করব তারা এসে আমাদের স্টোরটি ঘুরে যাওয়ার জন্য। বিশেষ করে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে আমাদের পুরো কালেকশনের ওপর আমরা ফ্ল্যাট ৩০% অফ দিচ্ছি। আমরা সবাইকে এই অফারটি উপভোগ করার জন্য মিঙ্গেলে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”এই কিউরেটেড মাল্টি-ব্র্যান্ড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশে লাইফস্টাইল রিটেইল খাতের নতুন সংজ্ঞা দিতে চায় ‘মিঙ্গেল ইন স্টাইল’। যেখানে আরাম, সংস্কৃতি, সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত স্বকীয়তা নিরবচ্ছিন্নভাবে একই সুতোয় গাঁথা।
সাভারের আশুলিয়ায় কবরস্থানের জায়গা দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে আশুলিয়ার দুর্গাপুর আলতাফ নগর এলাকায় এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।মানববন্ধনে এ সময় বক্তারা বলেন, কবরস্থানের জন্য এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে আলতাফ নগরে দুই শতাংশ জমি ক্রয় করা হয় । হঠাৎ করে সেই জমি জোরপূর্বক দখল করেন স্থানীয় ভূমি দস্যু আজাদ বাহিনী। দখলে বাঁধা দিতে গেলে বেশ কয়েকজনকে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে । অনতিবিলম্বে নিরীহ মানুষের নামে হয়রাণীমূলকভাবে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও কবরস্থানের জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তারা।মানববন্ধন শেষে ভূমিদস্যু আজাদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী । এসময় মানববন্ধনের খবর পেয়ে অভিযুক্ত আজাদ ঘটনাস্থলে এলে এলাকাবাসীর তুপের মুখে পালিয়ে যায়।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি,র নির্দেশনায় ময়মনসিংহের নান্দাইলে হতদরিদ্র এতিম শিশু ও মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে সৌদি আরবের উপহারের খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত।জানা গেছে, সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে আসা উপহারের ৩৪ কার্টুন খেজুর উপজেলার বিভিন্ন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র, এতিম শিশু, অসহায় পথচারী এবং হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই পুষ্টিকর ফল প্রকৃত প্রাপ্যদের হাতে পৌঁছে দিতে সরাসরি মাঠে নামেন ইউএনও।বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, “মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি,র সদয় নির্দেশনায় আমরা আজ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের অসহায় মানুষ ও শিশুদের মাঝে সৌদি আরবের এই উপহার পৌঁছে দিয়েছি। এতিম শিশু ও অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা আনন্দিত। সরকারের এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।ছুটির দিনেও প্রশাসনের এমন তৎপরতা এবং প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সুবিধাভোগীরা। খেজুর হাতে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র ও নিম্নআয়ের মানুষেরা।
দেশের এক নম্বর টেলিকম নেটওয়ার্ক গ্রামীণফোন ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল আউট-অফ-হোম প্ল্যাটফর্ম 'চাটনিঅ্যাডস' (ChutneyAds) এর মধ্যে সম্প্রতি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রায় ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সমাগমে ১৫০টিরও বেশি মুদি দোকানে চাটনিঅ্যাডস-এর ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হবে। এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের উধ্বর্তন কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।মুদি দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসা অসংখ্য মানুষ কেনাকাটার পাশাপাশি এখন চাটনিঅ্যাডস-এর ডিজিটাল স্ক্রিনে সরাসরি গ্রামীণফোনসহ সব শীর্ষ কোম্পানির বিজ্ঞাপনগুলো দেখতে পাবেন। এর ফলে গ্রামীণফোনসহ সব তথ্য এখন পৌঁছে যাবে হাজার হাজার গ্রাহকদের কাছে নিমিষেই চাটনিঅ্যাডসের মাধ্যমে।গ্রামীণফোন ছাড়াও চাটনিঅ্যাডস বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এসএমসির সাথে কাজ করছে, যার মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ফুডি, ওয়াটার এইড, এসিআই সল্ট, লিওনা, ইজি ট্র্যাক ও স্বপ্ননিবাসসহ দেশের আরও অনেক নামী ব্র্যান্ডগুলোও চাটনি অ্যাডস-এর এই ডিজিটাল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত।দেশের ইনক্লুসিভ বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম 'প্রিয়শপ'-এর একটি আধুনিক উদ্যোগ চাটনিঅ্যাডস। প্রিয়শপ দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি (MSME) উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাটনিঅ্যাডসের মাধ্যমে এখন মুদি দোকানগুলো একেকটি ডিজিটাল মিডিয়া টাচপয়েন্টে রূপান্তর হয়েছে।এই পার্টনারশিপ সম্পর্কে চাটনিঅ্যাডস-এর কো-ফাউন্ডার দীপ্তি মন্ডল বলেন, “বাংলাদেশের রিটেইল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রতিদিন লাখো মানুষ এই দোকানগুলোতে পণ্য কিনতে আসেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে ব্র্যান্ডগুলো আরও কার্যকরভাবে তাদের টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে পারবে। গ্রামীণফোন ও অন্যান্য শীর্ষ ব্র্যান্ডেগুলোর সাথে আমাদের এই পথচলা সেই লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফারুক আহমদ নামে এক ব্যক্তি। সংবাদ সম্মেলনে ফারুখ আহমদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফারুখ আহমদের ভাতিজা মো: জিল্লুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২৩/০৮/১৯৯৮ সালের ২৩ আগষ্ট শ্রীমঙ্গল উত্তরসুর মৌজার হবিগঞ্জ রোডস্থ ভটের মিল এলাকায় আর,এস ৭৭৫ খতিয়ানের আওতায় ৫৮২৩ দাগ ও এস এ খতিয়ান-১৫৯৪ যার দাগ নং ৪২২২ এ ১০ শতক ভূমি আমরা ক্রয় করি। পরবর্তীতে উক্ত ভূমি নিজ নামে নামজারী করিয়া সন সন খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছি। বিগত গত বছরের ১১ অক্টোবর আমার ভূমিতে দেয়াল নির্মাণ করতে চাইলে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক দোলন মিয়া আমার ভূমিতে দেয়াল দিতে নিষেধ করেন এবং এই জমি তার বলে দাবী করেন। আমি তাকে উভয়পক্ষের জমির কাগজ নিয়ে একসাথে বসে যাচাই-বাছাই করে দেখার অনুরোধ করি। কিন্তু নানা তালবাহানা করে দীর্ঘদিন যাবত উনি আমাকে কোন তারিখ দেননি। পরবর্তীতে আমি স্থানীয় লোকজন নিয়ে সার্ভেয়ার আলী হোসেন সহ আমাদের ভুমি পরিমাপের জন্য উপস্থিত হই। কিন্তু দোলন মিয়া পুনরায় আমার কাজে বাধাঁ সৃষ্টি করেন। এ সময় শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সাবেক ইউ/পি সদস্য আনোয়ার উদ্দিনকে ফোন করে জানান, দোলন মিয়া তাঁর আত্মীয়, বিষয়টি তিনি মিমাংশা করে দিবেন। পরবর্তীতে দোলন মিয়ার সম্মতিতে কামাল হোসেন বিচারের সময় নির্ধারণ করে দেন। তারিখ অনুযায়ী ৪জন সার্ভেয়ার খোরশেদ আলম, আলী হোসেন, মোস্তফা মিয়া ও নেছার আহমদ কে নিয়ে কাগজ যাচাই বাছাইয়ে বসা হয়। এ সময় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা মুকসুদ আলী, মশিউর রহমান রিপন, ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হাফিজ আহমদ, আক্তার হোসেন, জেলা ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসেন লুপ্পা সহ ৪০/৫০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।পর পর কয়েকদফা যাচাই-বাছাই শেষে সার্ভেয়ার ও মধ্যস্থতাকারীগণ ফারুখ আহমদ ও রৌউফ উদ্দিনের কাগজপত্র সঠিক বলে জানান। এ সময় সামাজিক বিচারকগণের পক্ষে শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল আমাদের ভূগদখলের অনুমতি দেন।যথারীতি গত ৯ মার্চ সকালে আমরা আমাদের জমিতে টিন দিয়ে সীমানা প্রাচীর দেই। ওই দিন বিকেলেই দোলন মিয়া দলবলসহ এই সীমানা প্রাচীরটি ভেঙে ফেলেন। এ বিষয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে আমি শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।পরবর্তীতে ফেইসবুকের মাধ্যমে আমি দেখতে পাই যারা বিচারে ছিলেন তাদের নিয়ে দোলন মিয়া ও তার ভাই মিথ্যা প্রপাগান্ডা করছেন। দোলন মিয়ার ভাই তার ফেইসবুক আইডি: Ruhul Amin Shuvo. থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মশিউর রহমান রিপন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মহিউদ্দিন ঝারু ও জসিম আহমদসহ আরো কয়েকজনের নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর অপপ্রচার করেন। মুলত তারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সত্যতার আলোকে সালিশ করে দেন। সত্যের পক্ষে থাকায় এই সামাজিক বিচারিকদের বিরোদ্ধে মানহানীকর ও মিথ্যা অপপ্রচার করছেন তারা। আমরা এর নিন্দা জানাই।তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।এ ব্যাপারে দোলন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই জমি আমার। উনাদের দাগ নাম্বার ভূল।
গত ৩৮ বছরে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের খাল সংস্কার না হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে ফসল উৎপাদন কমেছে ৩০ হাজার মেট্রিক টন। ফলে কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে অধিক মুনাফা থেকে। চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প ১৯৮৭–৮৮ অর্থবছরে নির্মাণ সম্পন্ন হলেও প্রকল্পের অভ্যন্তরে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫২.৬৪ কিলোমিটার খাল এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে খনন হয়নি।স্থানীয় কৃষকদের দাবি, মতলব উত্তর উপজেলার জলাবদ্ধতা প্রধানত তিন ধরনের—স্থায়ী, অস্থায়ী এবং মাঝারি। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে প্রায় ২,০০০ হেক্টর জমি, যেখানে সারা বছর পানি জমে থাকে। মাঝারি জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৩,০০০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট প্রায় ১২,০০০ হেক্টর জমি ক্ষতির মুখে পড়ে। যা কৃষকদের মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলছে।মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প সূত্রে, ৩৮ বছরে ১৫২.৬৪ কিলোমিটার খালের মধ্যে শুধুমাত্র ১২ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। ১৪০.৬৪ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়নি সেচ প্রকল্পের প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছরেও । খালগুলোর অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখলের কারণে এসব এলাকার পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশিত হয় না, ফলে ফসল রোপণের মৌসুম গড়িয়ে যায় এবং প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল নদী ও খালের দখল বন্ধ করে অধিক ফসল ঘরে তোলা। কিন্তু খাল দখল ও খনন না হওয়ায় সেচ কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে এবং আবাদি জমি ধ্বংসের পথে। এছাড়া প্রকল্পের অভ্যন্তরে যত্রতত্র বাড়িঘর নির্মাণের কারণে প্রতিবছর ফসলি জমির পরিমাণ কমছে। মতলব উত্তরের ৬৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ ১৭,৫৮৪ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা ও ১৩,৬০২ হেক্টর জমিতে সেচের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মিত হলেও এখনও সেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হয়নি।প্রকল্পের দুইটি পাম্প হাউস—উদমদী, কালিপুর ও দুইটি বুস্টার পাম্প এখলাসপুর ও ডুবগী দুইটি পাম্প হাউসের পাম্পের ধারন ক্ষমতা ২৫৫ কিউসেক করে পানি প্রবাহের সক্ষমতা রাখলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বোরো মৌসুমে প্রায় ৭,০০০ হেক্টর জমির মধ্যে ৫,৬১৯.৭৪ হেক্টর গ্র্যাভিটি সিস্টেমের মাধ্যমে সেচ পায়,প্রায় ৮৮৬.৮৬ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করেন এবং প্রায় ৪৯৩.৪০ হেক্টর জমিতে লো-লিফট পাম্পের মাধ্যমে সেচ প্রদান করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছু সেচ খাল ফেরোসিমেন্টের আওতায় আনা হয়েছে, যা জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল; অধিকাংশ মূল সেচ ও নিষ্কাশন খাল এখনও এর আওতার বাইরে।পানি উন্নয়ন বোর্ড, মেঘনা ধনাগোদা পওর বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী তন্ময় পাল বলেন, কালিপুর ও উদমদীর দুটি পাম্প হাউসের মোট ১০ টি মেশিন একসঙ্গে প্রায় ২৫৫ কিউসেক পানি সেচ দিতে সক্ষম। ইতিমধ্যে ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ১১৮.৪৪ কিলোমিটার খাল খনন প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে উল্লেখিত সক্ষমতা বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। খাল দখল ও অবৈধ ভরাটের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি অপসারণ করা যায় না এবং বোরো মৌসুমে কৃষকের জমিতে সময়মতো পানি পৌঁছাতে সমস্যা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে খালগুলো বেদখল হয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী মহল অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালুব্যবসা পরিচালনা করছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের কমিটিগুলো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গঠিত হওয়ায় প্রকৃত কৃষকেরা সঠিকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। কৃষকদের অভিযোগ, ৩০টি পানি ব্যবস্থাপনা দল, ৬টি অ্যাসোসিয়েশন ও একটি ফেডারেশন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা উপেক্ষিত। দায়িত্ব পালন করছে কৃষক নামধারী কিছু ঠিকাদার, যারা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কৃষকের স্বার্থের পরিবর্তে নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত।স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, মাঝে মাঝে বরাদ্দ এলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়না। কাগজে-কলমে কাজ দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে জলাবদ্ধতার কারণে ফসলের ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে এবং পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও খাল খননের অভাবে মতলব উত্তর তথা মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের সম্ভাবনাময় কৃষি ক্ষেত্র পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।মতলব উত্তর উপজেলা’র কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন, সঠিক তত্ত্বাবধান ও নিষ্কাশন খাল পুনঃখনন করা গেলে এই প্রকল্প এলাকায় সারা বছর ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে স্থানীয় চাহিদা পূরণ না হয়ে বাইরে থেকে কোটি টাকার সবজি আমদানি করতে হচ্ছে। খাল পুনঃখনন ও সেচনালা সম্পন্ন করা গেলে বছরে চার মৌসুম ফসল উৎপাদন সম্ভব; অন্যথায় কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে বনায়নের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ফসলের ক্ষতি অব্যাহত থাকবে এবং কৃষকেরা আরও বড় আর্থিক সংকটে পড়বেন।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বর্তমান সরকারের খাল খনন একটি মেগা প্রজেক্ট,আশা করছি অতি দ্রুতই মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের খাল গুলো খনন হবে, আমরা ইতিমধ্যে দুটি খাল খননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।
রোববার (১৫ মার্চ) সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ২৮ মার্চ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে ঐক্যবদ্ধভাবেই রাজপথের আন্দোলনে যাচ্ছে ১১ দল।শনিবার (১৪ মার্চ) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেভাবে বলা আছে সে অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আগামীকালই সরকারের জন্য শেষ দিন। অবিলম্বে যেন সরকার অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা নেন।তিনি বলেন, যদি না নেন তাহলে আমরা স্পষ্ট বলতে চাই জাতির কাছে আপনারা ক্ষমা পাবেন না। বিশেষ করে সংসদ নেতাকে এটা প্রধানত দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারকেও সে দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণকে সরকারের অবহেলা-অবজ্ঞা জনমতকে উপেক্ষা করে চলা, জনগণকে অপমানিত করার দায় নিতে হবে। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসাবে এবার আমাদের সংসদ সদস্যরা সংসদে ভূমিকা রাখবেন। আযাদ বলেন, আমরা আজকে বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামীকাল যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অধিবেশন না ডাকে, তাহলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো। শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকে কর্মসূচি দেবো।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ছেলেকে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ‘ত্যাজ্যপুত্র’ ঘোষণা করেছেন বাবা। সম্প্রতি নেত্রকোনায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা শহরের সাতপাই এলাকার বাসিন্দা মীর মো. আব্দুল মালেক গত ৬ মার্চ নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে অ্যাফিডেভিট (নং–৩১০) করে তার ছেলে মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটনকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন। নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. আজিজুল হকের মাধ্যমে এই অ্যাফিডেভিট সম্পন্ন করা হয়।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছোটন কৈশোর থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সর্বশেষ তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ কারণে রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে বেশ কিছুদিন ধরে পরিবারে সাথে তিক্ত সম্পর্ক চলছিল।অ্যাফিডেভিটে আব্দুল মালেক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তার ছেলে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সংগঠনটির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সেইসাথে ভবিষ্যতে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার দায়ভার তিনি নেবেন না বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে আব্দুল মালেক বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ছেলেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে ফেরাতে পারিনি। তাই তার মঙ্গলের কথা ভেবেই তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছি।অন্যদিকে সাজেদুর রহমান ছোটন জানান, পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে প্রায় তিন বছর ধরেই তিনি পরিবার থেকে আলাদা। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ করার কারণে গত আগস্ট মাসে তার বাবা তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। তবে পরিবার সম্পর্ক ছিন্ন করলেও তিনি তার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলেও জানান।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কোথাও নেই কোন পশু জবাইখানা, সরজমিনে উপজেলার টঙ্গীবাড়ী,বালিগাও, বেতকা, দিঘীরপাড়, হাসাইল, আলদী সহ বিভিন্ন বাজারগুলোতে মাংস ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে পশুর কোন রকম স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই চলছে পশু জবাই ও মাংস বিক্রি এতে একদিকে যেমন আছে স্বাস্থ্য ঝুকি অন্যদিকে মাংস ক্রেতাওর প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলায় নিয়োজিত ভেটেরিনারি সার্জন কিংবা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সনদ নিয়ে নির্ধারিত পশু জবাইখানায় পশু জবাই করতে হবে, কিন্তু পশু জবাইখানার অভাবে তা হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্রেতারা উচ্চমূল্য দিয়েও ভেজালমুক্ত মাংস কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।উপজেলার সোনারং গ্রামের শেখ সাব্বির( ৩৫) বলেন, ভোররাতে সবার অগোচরে গরু-ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। ফলে আমরা কী সুস্থ নাকি অসুস্থ, পশুর মাংস টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছি তা কেউই আমরা জানি না।গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ছাড়পত্র চিকিৎসক দিয়েছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলার টঙ্গীবাড়ী বাজারের নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক গরুর মাংস বিক্রেতা বলেন, মাংস দেখলেতে বুঝা যায় এগুলো সুস্থ্য গরুর মাংস আমরা ভেজাল কোন কাজ করিনা। এ বিষয়ে উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি টঙ্গীবাড়ী বাজারের প্রায়সবগুলো মাংসের দোকানে গিয়েছি এবং তাদের সাথে কথা বলে জনাতে পেরেছি পশুগুলো তারা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চুরাইন গ্রামে জবাই করে টঙ্গীবাড়ী বাজারে নিয়ে এসে বিক্রয় করেন, তাদের দেয়া তথ্য মতে চুরাইন গিয়ে যেখানে তারা পশু জবাই করেন সেখানে রোগাক্রান্ত কয়েকটি গরু দেখতে পেয়েছি এবং তাদের অনুরোধ করেছি যেন তারা রোগাক্রান্ত গরুগুলো জবাই করে মাংস বিক্রয় না করেন। জানতে চাইলে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন কালী শঙ্কর পাল বলেন, আমাদের এখানে কোন পশু জবাইখানা নেই, আমি চাই পশু জবাই করার আগে একজন চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে সার্টিফিকেট দিবে, তারপর একজন ইমাম এটা জবাই করবে তারপর মানুষ সেই মাংস গ্রহণ করুক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন,বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাকিস্তান ইনিংসের শেষ দিকে বাংলাদেশি বোলাররা মেলে ধরেছিলেন নিজেদের। যেখানে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩০০ ছাড়ানোর কথা ছিল, বাংলাদেশ তাদের আটকে রাখে ৩০০-র বেশ আগে। কিন্তু, ব্যাটাররা প্রতিদান দিতে পারেননি। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে আত্মসমর্পন করেছেন পাকিস্তানি বোলারদের সামনে। যার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচ হেরে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান। জবাবে ২৩.৩ ওভারে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১১৪ রানে।রান তাড়ায় শুরু থেকেই আসা-যাওয়ার মিছিলে শামিল হয় স্বাগতিক ব্যাটাররা। ১৫ রান তুলতেই সাজঘরে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার। ওপেনার সাইফ হাসান (১২ বলে ১২), তানজিদ হাসান তামিম (৭ বলে ১) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (২ বলে ০)—দাঁড়াতে পারেননি কেউই।এরপর হঠাৎ বন্ধ হয় ম্যাচ। প্রথমে বজ্রপাত, পরে শিলাবৃষ্টির কারণে ২ ঘণ্টার বেশি সময় পর শুরু হয় খেলা। বন্ধ হওয়ার আগে ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তোলে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হলে নতুন করে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। খেলতে হতো টি-টোয়েন্টি মেজাজে।বৃষ্টি শেষে অনেকটা টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলছিলেন লিটন। ১৮ বলে করেছিলেন ৩৮ রান। তবে বেশি সময় স্থায়ী হয়নি তার ঝড়। মাজ সাদাকতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। ফেরার আগে করেছেন ৩৩ বলে ৪১ রান।এরপর উইকেটে এসে আফিফ হোসেনও রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তাকেও স্থায়ী হতে দেননি সাদাকাত। ১৫ বলে ৪১ রান করা আফিফকে ফিরিয়েছেন আলীর ক্যাচ বানিয়ে।দায়িত্ব নিতে পারেননি অধিনায়ক মেহেদী হাসনা মিরাজও। তিনি ফিরেছেন ফাহিশ আশরাফের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে করেছেন ৫ বলে মোটে ১ রান। রিশাদ হোসেনকেও (৫ বলে ২) ফিরিয়ে দিয়েছেন সাদাকাত। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত নেন তিনটি করে উইকেট। দুই উইকেট পান শাহিন শাহ আফ্রিদি।দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের হয়ে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে বাংলাদেশি বোলারদের রীতিমতো শাসন করেছেন মাজ সাদাকাত। পুরো সময় টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেন তিনি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে, সেটি করতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩তম ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন তাকে। ফেরার আগে সাদাকাত করেন ৪৬ বলে ৭৫ রান। ১০৩ রানে ভাঙে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ফারহান করেন ৪৬ বলে ৩১।শামিল আহমেদকে নাহিদ রানা ফেরালে হঠাৎ চাপে পড়ে পাকিস্তান। ১৯ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই জুটিতে আসে ১০৯ রান।চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙে মিরাজের বদ্যানতায়। বিতর্কিত এক রান আউটে বিদায় নেন সালমান। এর আগে ৬২ বলে ৬৪ রান করেন সালমান। ৫৯ বলে ৪৪ রান রিজওয়ান ফেরেন এক বল পরেই। রিজওয়ান আউট হলে পাকিস্তান শিবির ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। শেষ ৫ উইকেট হারায় ২২ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডারকে শেষ করেন তিনি। ৩৪ রান খরচায় ২ উইকেট নেন মিরাজ। তার একটি রান আউটে বদলে যায় ম্যাচের মোমেন্টাম।সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে মাঠে গড়াবে আগামী ১৫ মার্চ।সংক্ষিপ্ত স্কোরপাকিস্তান : ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪/১০ (শাহিবজাদা ৩১, মাজ ৭৫, শামিল ৬, রিজওয়ান ৪৪, সালমান ৬৪, হুসাইন ৯, সামাদ ১১, ফাহিম ১৪, আফ্রিদি ৩, ওয়াসিম ১, রউফ ২*; তাসকিন ৮-০-৫৯-১, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৩-১, নাহিদ ১০-০-৫৯-১, মিরাজ ১০-২-৩৪-২, রিশাদ ৯.৩-০-৫৬-৩, আফিফ ১-০-৮-০)বাংলাদেশ : ২৩.৩ ওভারে ১১৪/১০ (সাইফ ১২, তামিম ১, শান্ত ০, লিটন ৪১, হৃদয় ২৮, আফিফ ১৪, মিরাজ ১, রিশাদ ২, মুস্তাফিজ ৪, তাসকিন ৫, নাহিদ ৩*; আফ্রিদি ৫-০-২২-২, ওয়াসিম জুনিয়র ৫-০-২৫-১, রউফ ৪.৩-০-২৬-৩, মাজ ৫-০-২৩-৩, ফাহিম ৪-০-১৮-১)ফলাফল : পাকিস্তান বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে জয়ী।
ঐতিহ্যবাহী জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ এর ২০২৬ সেশনের জন্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এইচ এম আবু মুসা এবং সহকারী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জাকির হোসাইন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা, মূল্যবোধভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা রেখে আসছে।আজ (শনিবার) রাজধানীর মগবাজারে সসাসের অফিসে সসাসের নির্বাহী কমিটিদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ২০২৬ সেশনের জন্য নির্বাহী পরিচালক এবং সহাকারী নির্বাহী পরিচালক মনোনীত করা হয়। নতুন এই কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।নবগঠিত কমিটি আগামী এক বছর সংগঠনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সৃজনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করবে।
দেশের শোবিজ অঙ্গনের চর্চিত খবর দ্বিতীয়বারের মতো মা হচ্ছে অভিনেত্রী শবনম বুবলী। কিন্তু তিনি বারবার অস্বীকার করেছেন। চিত্রনায়িকা নিজে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তার হাটা চলাফেরা সন্দেহ জাগিয়েছে ভক্তদের মনে। এবার এক দাফ এগিয়ে তার মা হওয়ার গুঞ্জন। দেশের একটি গণমাধ্যমে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, সন্তান জন্ম দিতে চলতি মাসেই আমেরিকায় উড়াল দিয়েছেন বুবলী। বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন তিনি। বেশকিছু দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন বুবলী। সেখানে নৃত্যপরিবেশন করেন এই নায়িকা। পরনে ছিল ঘাগরা। এ সময় উৎসুক ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায় তাকে। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। নেট নাগরিকদের একটা বড় অংশের দাবি, বুবলী অন্তঃসত্ত্বা। ‘বসগিরি’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখা বুবলী। দুই ডজনের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শাকিব খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী। ২০২০ সালে প্রথমবার মা হন অভিনেত্রী। যদিও ছেলের জন্মের খবর প্রকাশ্যে এনেছিলেন প্রায় দুই বছর পরে। সেই সময়ে এই খবরে প্রায় ঝড় ওঠে। বুবলী জানিয়েছিলেন, শাকিব খানের সঙ্গে ধর্মীয় আচার মেনে বিয়ে হয়েছে তার। তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয় আমেরিকায়। তার নাম শেহজাদ খান বীর।
একসময় সংগীতশিল্পী দম্পতি হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন রবি চৌধুরী ও ডলি সায়ন্তনী। কিন্তু ভালোবেসে গড়া সংসার হঠাৎ করেই ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় এ নিয়ে দুই তারকাই নীরব থেকেছেন। তবে সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ নিয়ে কথাও বলেছেন রবি চৌধুরী। সেখানে তিনি ডলি সায়ন্তনীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন।এবার সেই অভিযোগের বিপরীতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ডলি সায়ন্তনী। মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্কে যেতে চাই না।’বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা না করার অনুরোধ জানিয়ে এই গায়িকা বলেন, ‘সম্মান ও আইনের প্রতি আস্থা রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা আলোচনার বিষয় বানাবেন না। আমাদের নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের মতো আছি, বাকিটা সময়ের হাতে।’বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দিয়ে ডলি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ডিভোর্স প্রসঙ্গে নানা কথা বলা হচ্ছে; স্পষ্ট করে বলতে চাই, ডিভোর্স আমিই দিয়েছিলাম। কেন দিয়েছিলাম সেটি এই মুহূর্তে আর বলতে চাই না। ডিভোর্স দেওয়ার পর সেই সময়েই প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত বলে দিয়েছিলাম।’ ‘অতএব এত বছর পর এসব নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই।’ সবশেষে পবিত্র মাসের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে ডলি সায়ন্তনী বলেন, ‘মাহে রমজানে আল্লাহ সবাইকে পবিত্রতা রক্ষার তৌফিক দান করুক।’
শাহরুখকন্যা সুহানা খান দক্ষিণ কোরিয়ান কে-পপ তারকা কিম জুন মিয়নের প্রেমে পড়েছিলেন। ডেটেও যেতে চেয়েছিলেন কিম জুন মিয়নের সঙ্গে। সুহানা সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে সরাসরি তা স্বীকারও করেছেন।শাহরুখ খানের মতো মেগাস্টারের ঘরে জন্মগ্রহণ করায় বলিউড নেপোকিড সুহানাকে সুবিধা-অসুবিধা সবকিছুর মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু সুহানা তার পারিবারিক প্রভাব না খাটিয়ে সব সময় নিজের পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আর সে চর্চা এখনও তিনি করে যাচ্ছেন। এ কারণে তিনি নিজের দক্ষতা বাড়াতে তায়কোয়ান্দো শেখা এবং অভিনেত্রী হিসেবে যোগ্যতা বৃদ্ধি করার জন্য নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন।সামাজিকমাধ্যমে বরাবর সরব শাহরুখকন্যা বিভিন্ন সময় লাইভে ভক্তদের সামনে আসেন এবং তাদের অনেক প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন। ইনস্টাগ্রামে এরকমই এক সেশন ‘আস্ক মি এনিথিং’য়ে এক ভক্ত প্রশ্ন করেন, তিনি কোন অভিনেতার সঙ্গে ডেট করতে চান। সবাইকে অবাক করে দিয়ে, সুহানা কোরিয়ান গায়ক, গীতিকার এবং অভিনেতা কিম জুন-মিয়নের নাম বলেন। এ সময় সুহানা কে-পপ তারকার একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন—‘তাকে’। সূত্র: পিঙ্কভিলাশাহরুখ খান ও গৌরী খানের ঘরে জন্ম নেওয়া সুহানা খান গ্ল্যামার জগতের বাইরে খেলাধুলাও আগ্রহী। সৃজনশীলতা তার শিরায় প্রবাহিত হয়। তাই গান-নৃত্য এবং লেখালেখি সবকিছুই তাকে আকর্ষণ করে।এ বছরের একদম শেষ দিকে সুহানা খান তার বাবা শাহরুখ খানের সঙ্গে বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় দেখা যাবে বাবা-মেয়ের অ্যাকশন। এতে বলিউডের দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চনের মতো বড় তারকারাও অভিনয় করেবেন।
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ দিনে নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সব ধরনের অর্জন উদ্যাপন করা হয়। দিনটি তাই গানে গানে পালন করতে চান দেশের তিনজন নারী সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল, অন্তরা রহমান ও মাশা ইসলাম। তারা তাই নারী দিবস উপলক্ষে নতুন গান তৈরি করেছেন। গানটির শিরোনাম ‘নারী যায় বাড়ি’।অসংখ্য জনপ্রিয় গানের নেপথ্যের দুই কারিগর শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ও পিলু খান রয়েছেন এই গানের পেছনে। শহীদ মাহমুদ জঙ্গীর লেখা গানটিতে সুর দিয়েছেন পিলু খান। সংগীতায়োজন করেছেন মীর মাসুম। ৮ মার্চ নারী দিবসে গানটি প্রকাশ করবে আজব রেকর্ডস। গানটির অ্যানিমেশন ভিডিও বানিয়েছেন মীর হিশাম ও সারাফ চিশতী।নারী যায় বাড়ি গান প্রসঙ্গে শহীদ মাহমুদ জঙ্গী বলেন, ‘নারীরা আজীবন তাঁদের নিজের ঘর খুঁজে বেড়ান। কখনো বাবার ঘর, কখনো স্বামীর ঘর, কখনো ছেলেন ঘর। তাঁর নিজের ঘর কি তিনি কখনো খুঁজে পান? চিরন্তন এই প্রশ্ন নিয়ে লেখা হয়েছে গানটি।’পিলু খান বলেন, ‘জঙ্গী ভাইয়ের সঙ্গে চার দশকে নানা বিষয়ভিত্তিক গান করেছি। এবার সে তালিকায় আরেকটি বিষয় যুক্ত হলো। আশা করি, শ্রোতাদের ভালো লাগবে এ গান।’গানটি নিয়ে কোনাল বলেন, ‘কিংবদন্তি দুজন মানুষের গান করতে পেরে আমি আনন্দিত। জঙ্গী ভাই ও পিলু ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার সংগীতজীবনের অনন্য অর্জন।’একই ধরনের অনুভূতি ফুটে উঠেছে অন্তরার কথায়, ‘একজন নারী হিসেবে এমন কথার গানে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। জঙ্গী ভাই ও পিলু ভাইয়ের মতো বরেণ্য মানুষের সান্নিধ্য আমার জন্য পরম পাওয়া।’অন্যদিকে মাশা ইসলাম বলেন, ‘শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ও পিলু খান আমাদের গানের জগতে দুই মহিরুহ। তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে পারা দারুণ ব্যাপার। সবার সঙ্গে গানটি করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। আশা করি, যাঁরা শুনবেন তাঁদেরও ভালো লাগবে।’ ৮ মার্চ নারী যায় বাড়ি গানের ভিডিও আজব রেকর্ডসের ইউটিউব চ্যানেলসহ শিল্পীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পাবে। শোনা যাবে একাধিক আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও।
বোকা প্রেমিকের সরল ও চনমনে প্রেমকে ঘিরে নির্মিত নাটক ‘গুডলাক’। ঈদের বিশেষ আয়োজনে ফারহান আহমেদ জোভান ও নাজনীন নীহা অভিনীত নাটকটি নির্মাণ করেছেন ইমরোজ শাওন। রায়হান মাহমুদের চিত্রনাট্যে নির্মিত নাটকের চিত্রগ্রহণ করেছেন নাঈম ফুয়াদ। বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী দিলারা জামান।গল্প নিয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চাইছেন না নির্মাতা কিংবা অভিনয়শিল্পীরা। তবে নির্মাতার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, এক সরলমনা প্রেমিকের আবেগ, ভুলভাল সিদ্ধান্ত আর ভালোবাসার চেষ্টাকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে কাহিনি। ক্যাম্পাসের হালকা আবহ থেকে পারিবারিক টানাপোড়েন—দুটো জায়গাতেই গল্পের বিস্তার রয়েছে।এদিকে জোভানের চরিত্রে থাকছে ভিন্নমাত্রা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার উপস্থিতি ও মোড় ঘোরানো মুহূর্ত দর্শকদের চমকে দেবে।প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু জানান, ‘গুডলাক’সহ এবারের ঈদে প্রস্তুত হয়েছে ২০টি বিশেষ নাটক। চাঁদরাত থেকে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো মুক্তি পাবে ইউটিউব চ্যানেলে।
মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১৬টি জাহাজ। যা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আগামী কয়েক দিনে আরও তিনটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে।বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম দশ দিনে কাতার থেকে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ—‘আল জুর’, ‘আল জাসাসিয়া’ ও ‘লুসাইল’—প্রায় ৬২ হাজার টন করে এলএনজি নিয়ে খালাস সম্পন্ন করেছে। ১২ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছানো ‘আল গালায়েল’ জাহাজ থেকে ২৬,১৬৫ টন এলএনজি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে খালাস করা হচ্ছে।অন্যদিকে, এলপিজিবাহী জাহাজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে আসা জাহাজগুলো ইতিমধ্যেই মোট ১৯,৩১৬ টন এলপিজি খালাস করেছে। আরও কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কারে খালাস প্রক্রিয়া চলছে, যা মার্চের মাঝামাঝি শেষ হবে।এলএনজি ও এলপিজি ছাড়াও পরিশোধিত জ্বালানি, ফার্নেস অয়েল, গ্যাস অয়েল, ডিজেল এবং বেজ অয়েলসহ শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বন্দরে এসেছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং চার হাজার টন বেজ অয়েল দেশে এসেছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা জাহাজ চলাচল ও বিমা খরচকে প্রভাবিত করছে। তবে বন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মাসে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং গৃহস্থালির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের বিঘ্নের আশঙ্কা নেই।
মালদ্বীপের দিগুড়া আইল্যান্ডে একটি নির্মাণকাজের (কনস্ট্রাকশন) সাইটের গেস্টহাউসে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন আরও দুজন।শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, হঠাৎ বিস্ফোরণের পর গেস্টহাউসের ভেতর থেকে সাত বাংলাদেশিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ জানান, আহত দুজনের মধ্যে একজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং অপরজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিতে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে এবং নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঈদের ছুটিতে সমুদ্রের টানে অনেকেই ছুটে যান দক্ষিণের পর্যটন শহর কুয়াকাটায়। তবে এই সমুদ্রকন্যার পাশেই রয়েছে আরেক অপার বিস্ময়- নিঃশব্দ, নির্জন ও স্বপ্নময় চর হেয়ার। বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল বুকে স্বপ্নের মতো জেগে ওঠা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার।দূর থেকে দেখলে মনে হয়, দিগন্তজোড়া জলরাশির মাঝখানে সৃষ্টিকর্তা যেন নিভৃতে গড়ে তুলেছেন এক টুকরো স্বর্গভূমি। কাছে গেলে সেই অনুভূতি আরও গভীর হয়। অসীম আকাশ আর অনন্ত সাগরের মিলনরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক নিঃশব্দ কবিতা। সোনালি বালুকাবেলা, ঢেউয়ের ছন্দময় আছড়ে পড়া আর বাতাসের স্নিগ্ধ স্পর্শ সব মিলিয়ে চর হেয়ার এক অনাবিল প্রশান্তির ঠিকানা।দ্বীপের ভেতরে পা রাখলেই মেলে আরেক ভিন্ন জগতের দেখা। গহীন বনের ছায়াঘেরা পথ, পাখিদের নিরন্তর কলকাকলি আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ সব মিলিয়ে এখানে বিরাজ করে এক অপার্থিব নির্জনতা। মনে হবে, কোলাহলমুখর পৃথিবী থেকে আপনি অনেক দূরে, যেখানে সময়ও যেন ধীর হয়ে যায়। এখানে শত শত পাখির কলরবে ভোরের নীরবতা ভাঙে, বিস্তীর্ণ বালুচরে লাল কাঁকড়ার দল ছুটে বেড়িয়ে আঁকে জীবনের চঞ্চল রেখাচিত্র। ঢেউয়ের ফেনায় ভেজা তটরেখা, দূরে ভাসমান মাছধরা নৌকা আর আকাশজুড়ে সাদা মেঘ সব মিলিয়ে চর হেয়ার স্বপ্নীল জগৎ।সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে কুয়াকাটা ভ্রমণের সঙ্গে চর হেয়ার হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য। এই ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে দক্ষিণের এই নিভৃত দ্বীপে কাটাতে পারেন এক ভিন্ন রকম সময়। যেখানে প্রকৃতি নিজেই আপনার ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।ভৌগোলিক অবস্থান পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর হেয়ার। কেউ কেউ একে ‘হেয়ার চর’ নামেও ডাকেন। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কলা গাছিয়ার চর’ নামেও পরিচিত। চরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘সোনার চর’, যেখানে হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। পূর্বে চর আন্ডা, পশ্চিমে চর তুফানিয়া, উত্তরে টাইগার দ্বীপ ও তার পাশেই চর কাশেম। এসব চরের নান্দনিক দৃশ্যও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। কুয়াকাটা থেকে সাগরপথে এই চরের দূরত্ব ৩৫.১৯ কিলোমিটার। আর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে চরটির দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।ভ্রমণের আদর্শ সময়বঙ্গোপসাগর তুলনামূলক শান্ত থাকায় এখানে ভ্রমণের আদর্শ সময় শীতকাল। এ সময় অতিথি পাখির দেখা মেলে বেশি। তবে এই সময়েও চরটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো।যেসব সুবিধা রয়েছেচর হেয়ারে রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে ছোট ছোট তাবু ও কটেজ। তাবু প্রতি ভাড়া এক রাতের জন্য ৪০০ টাকা। সমুদ্রের ঢেউয়ের কলকল ধ্বনি শুনতে শুনতে নির্জন রাতে তাবুতে কাটানো সময় হয়ে উঠতে পারে অনন্য অভিজ্ঞতা। এছাড়া সৈকতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে ছাতাসহ আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। বনভূমির ভেতরে গাছের সঙ্গে বাঁধা দোলনা শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সব বয়সীদের জন্য আনন্দদায়ক।খাবারের জন্য রয়েছে সাগরের তাজা মাছ, মুরগি, ভাতসহ বিভিন্ন প্যাকেজ। থাকা, খাওয়া, ট্রলার সার্ভিস, তাবু ও কটেজসহ ভ্রমণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘সোনার চর ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেলস’। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও চর হেয়ার ট্যুরিস্ট নিরাপত্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান। তার সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ০১৭১৯৩৬৮১৭৮।তবে এখানে পর্যাপ্ত দোকান বা ফার্মেসি না থাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেওয়া ভালো। মোবাইল চার্জিংয়ের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাও রাখলে সুবিধা হবে।যেভাবে যাবেননৌপথে: ঢাকার সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চে রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায়। ডেকের ভাড়া ৬৫০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা। সেখান থেকে ১৫০০ টাকায় ট্রলার (রিজার্ভ) বা ২০০০ টাকায় স্পিডবোটে চর হেয়ারে যাওয়া যায়। কয়েকজন মিলে গেলে ভাড়া ভাগাভাগি করা সম্ভব।সড়কপথে: ঢাকার সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে পটুয়াখালী চৌরাস্তা পর্যন্ত বাসভাড়া প্রায় ৬৫০ টাকা। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ২৫০ টাকায় ৪০ মিনিটে হরিদেবপুর ফেরিঘাট। ট্রলারে ১০ টাকায় গলাচিপা শহরে উঠে মোটরসাইকেলে ১৫০ টাকায় পানপট্টি লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায় (সময় প্রায় ২৫ মিনিট)। পানপট্টি থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা ও বিকেল ৩টায় লঞ্চ চরমোন্তাজের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা। প্রায় ৩ ঘণ্টার নদীপথে আগুনমুখা ও তেতুলিয়া নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। চরমোন্তাজ থেকে ট্রলারে আধাঘণ্টা এবং স্পিডবোটে ১৫ মিনিটে পৌঁছে যাবেন চর হেয়ারে।বিকল্প পথ: গলাচিপার বোয়ালিয়া স্পিডবোট ঘাট থেকে ১০ হাজার টাকায় স্পিডবোট ভাড়া করা যায়। এছাড়া কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকেও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসা যায়। মাত্র ৩০০০-৩৫০০ টাকায় আপনি চলে আসতে পারবেন চর হেয়ারে।যা যা দেখবেনচর হেয়ারে রয়েছে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত,যেখানে আচড়ে পড়ে সমুদ্রের নীল জলরাশি। দ্বীপের বুকে আছে ঝাউগাছ আর পেয়ারাগাছের বন। এছাড়া আছে নানা আকারের ছইলা, কেওড়া, গেওয়া, বাইন, গোলপাতা, হারগুজি, তাম্বুরা কাঁটার ঝোপঝাড়। সবুজ বনভূমির গাছগুলোতে বিচরণ করে হাজারো দেশীয় ও বিদেশী অতিথি পাখি যার মধুর কণ্ঠে কিচিরমিচির গানে ভুলে যাবেন শহুরে কোলাহলের অবসাদ।দোলনায় শুয়ে দুলতে দুলতে পাখিদের গানে মুগ্ধ হবেন আপনি। সারস, বক, শামুকখোল, মদনটাকেরা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে আশ্রয় নেয় এখানকার গাছের মগডালে। আর ঝোপগুলো ডাহুক, কোড়াসহ নাম না জানা পাখিদের অভয়ারণ্য সৈকতে বসে সাগরের গর্জন আন্দোলিত করে তোলে মন। এখান থেকে দেখা যায় জেলেদের মাছ ধরা। সূর্যোদয়ের সময় লাল আভায় রাঙা দিগন্ত আর সূর্যাস্তের ক্ষণে সোনালি-কমলা রঙে ঢেকে যাওয়া জলরাশি হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় এক অনির্বচনীয় মায়া। বালুকাময় সৈকত এর চারদিকে দেখা যাবে লাল কাঁকড়া। এছাড়া এই চরটি চমৎকার এক পিকনিক স্পট। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা ব্যবস্থা। চর হেয়ার শুধু একটি দ্বীপ নয় এ এক অনুভূতি, বিস্ময়, নিঃশব্দ সৌন্দর্যের ঘোষণা। ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতি, নির্জনতা ও সমুদ্রের মিলিত রূপ উপভোগ করতে চাইলে দক্ষিণের এই স্বর্গভূমি হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও আজ (৮ মার্চ) উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা নানান কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক ‘অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রাসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অন্যতম।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অদম্য নারী পুরস্কারের আওতায় বিশেষ অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি প্রদান, দেশজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন। এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ (দিয়ে অর্জন) প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে তাদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।উল্লিখিত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে মহিলা অধিদফতর। এ ছাড়া, বিভিন্ন অফিস ও সংগঠন দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।সারা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ এ দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধরা প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে পৃথিবীজুড়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এবারও সারা বিশ্বের সব দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি পালনে প্রতিবছরই একটি প্রতিপাদ্য সুনির্দিষ্ট করা হয়।
আধুনিক ইতিহাসের পাতায় যে কয়েকজন নেতা একক সিদ্ধান্তে একটি অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি কেবল একটি দেশের শাসক নন, বরং পুরো শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও শৈশব: অভাবের মাঝেও শিক্ষার আলো১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে আলী খামেনেইর জন্ম। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা সৈয়দ জাভাদ খামেনেই ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ আলেম, যিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। খামেনেই পরবর্তীকালে তার শৈশব সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে আমাদের রাতের খাবারে শুধু রুটি আর কিশমিশ জুটত।’ অভাব থাকলেও পড়াশোনায় খামেনেই ছিলেন মেধাবী। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি পবিত্র কোরআন শিক্ষা শুরু করেন এবং ১১ বছর বয়সে ধর্মীয় লেবাস (পাগড়ি ও জাব্বা) ধারণ করে মাদ্রাসায় ভর্তি হন।বিপ্লবের আগুন ও কারাবরণ১৯৬০-এর দশকে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে আসেন এবং শাহ শাসিত রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। এই অপরাধে তাকে অন্তত ছয়বার গ্রেপ্তার করা হয়। সাভাক (তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা) তাকে নির্মম নির্যাতন করেছিল এবং তিনি তিন বছরের জন্য নির্বাসিতও হয়েছিলেন। কিন্তু এই কারাবাসই তাকে একজন আপসহীন নেতায় পরিণত করে।প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ও হত্যাচেষ্টা১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর খামেনেই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সব পদে আসীন হন। ১৯৮১ সালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে সেই বছরই একটি বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন, যার ফলে তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে সম্মান দিতে শুরু করে। তার আট বছরের প্রেসিডেন্সি ছিল মূলত ‘ইরান-ইরাক যুদ্ধ’-এর কঠিন সময় পার করার গল্প।সুপ্রিম লিডার: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ৩৭ বছর১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনেইকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার দীর্ঘ শাসনামলের প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:* আইআরজিসি (IRGC)-এর উত্থান: তিনি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন।* প্রতিরোধের অক্ষ: লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথিদের সমর্থন দিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশাল প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যাকে তিনি ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বলেন।* পারমাণবিক কর্মসূচি: পশ্চিমা বিশ্বের প্রচণ্ড নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সত্ত্বেও তিনি ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছেন।দর্শনের দর্পণ: খামেনেইর অবিনশ্বর কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত তার আদর্শিক অবস্থানের প্রতিফলন। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:* পশ্চিম প্রসঙ্গে: “আমেরিকা হলো ‘বড় শয়তান’। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই হলো নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।”* আঞ্চলিক সংঘাত ও ইসরায়েল: ‘ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।’* পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ফতোয়া: ‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, আমাদের জনগণের ঈমানের মধ্যে।’* তরুণ প্রজন্মের প্রতি: ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’ব্যক্তিগত জীবন ও বিচিত্র পছন্দখামেনেইর জীবনযাপন অত্যন্ত সাদামাটা। তিনি নিয়মিত কবিতা পড়েন এবং ফারসি সাহিত্যের গভীর অনুরাগী। এমনকি ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ তার অন্যতম প্রিয় বই। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর জীবন, আদর্শ এবং তার প্রভাবশালী বক্তব্যগুলোকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত ফিচার নিউজ নিচে দেওয়া হলো:আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই: পারস্যের ক্ষমতার ধ্রুবতারা ও তিন দশকের আপসহীন নেতৃত্বতেহরান, ইরান — আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে যদি কোনো একজন ব্যক্তির ছায়া সবচেয়ে দীর্ঘ হয়, তবে তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই। ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনির প্রয়াণের পর, যখন দেশটি এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন খামেনেই হাল ধরেন। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কেবল ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা নন, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে এক অটল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও বৈপ্লবিক উত্থান১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদ শহরের এক অতি সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে খামেনেইর জন্ম। শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া খামেনেইর প্রধান সম্পদ ছিল তার মেধা ও ধর্মীয় নিষ্ঠা। মাত্র ১১ বছর বয়সে মাদ্রাসায় শিক্ষা শুরু করা এই তরুণ ১৯৬০-এর দশকে আয়াতুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে এসে রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।বিপ্লবের আগে শাহের শাসনামলে তাকে অন্তত ছয়বার কারাবরণ করতে হয়। নির্বাসন ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত রাজনৈতিক নেতৃত্বের শিখরে আরোহণ করেন এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।‘জীবন্ত শহীদ’ ও অদম্য মনোবল১৯৮১ সালে একটি সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় খামেনেই এক ভয়াবহ বোমা হামলার শিকার হন। এই হামলায় তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জানবাজ’ বা ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা তাকে ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসায়।আদর্শিক স্তম্ভ: খামেনেইর বিখ্যাত কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:আমেরিকা ও পশ্চিম প্রসঙ্গে: তিনি সবসময়ই আমেরিকার আধিপত্যবাদের কট্টর বিরোধী। তার বিখ্যাত উক্তি:"আমেরিকা হলো 'বড় শয়তান'। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।"ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অস্তিত্বকে তিনি কখনোই মেনে নেননি। তার ভাষায়:"ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।"পারমাণবিক অস্ত্র ও ইসলাম: আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তিনি তার ধর্মীয় ফতোয়ায় অটল ছিলেন: "আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, জনগণের ঈমানের মধ্যে।"ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ও আঞ্চলিক প্রভাবখামেনেইর শাসনামলে ইরান কেবল টিকে থাকেনি, বরং আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার নেতৃত্বে গঠিত ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধের অক্ষ আজ লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (IRGC) তিনি এমন এক সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছেন যা সরাসরি তার কাছে দায়বদ্ধ।ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাহিত্যের অনুরাগী এক রাষ্ট্রনায়ককঠোর প্রশাসক এবং ধর্মীয় নেতার বাইরেও খামেনেইর একটি ভিন্ন সত্তা রয়েছে। তিনি ফারসি সাহিত্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী এবং শৌখিন কবি। ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত ধ্রুপদী সাহিত্য তার নখদর্পণে। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিলো। তিনি প্রায়ই তরুণদের বলতেন, ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তিদীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের নাটাই শক্ত হাতে ধরে রাখার পর, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ হামলায় তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। তার এই দীর্ঘ সফর কেবল ইরানের ইতিহাস নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করে গেছে। তিনি যেমন একদিকে আধ্যাত্মিক গুরু, অন্যদিকে তেমনই ছিলেন এক অকুতোভয় রণকৌশলী। তেহরানের এই লৌহমানবের শাহাদাৎ বরণের মাধ্যমে এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তি ঘটলো।
বাংলাদেশে একটি নতুন মাল্টি-ব্র্যান্ড লাইফস্টাইল শোরুম হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ‘মিঙ্গেল ইন স্টাইল’ (Mingle in Style)। প্রতিষ্ঠানটি একটি অভিনব রিটেইল কনসেপ্ট নিয়ে এসেছে যেখানে একই ছাদের নিচে চারটি ভিন্ন ব্র্যান্ডের সমাহার ঘটানো হয়েছে—যা লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি এবং দৈনন্দিন ফ্যাশনের এক অনন্য মিলনস্থল।প্রথাগত শোরুমের ধারণা ছাড়িয়ে ‘মিঙ্গেল ইন স্টাইল’ আধুনিক জীবনযাত্রার এক প্রতিফলন, যেখানে স্টাইল সরাসরি আরাম, সুস্থতা এবং আত্মপ্রকাশের সঙ্গে যুক্ত। এই প্ল্যাটফর্মটি আভাসা (Avasaa), পিওর নর্থ (Pure North), বিদজার (Vidjar) এবং মিঙ্গেল (Mingle)-কে একত্রিত করেছে, যাদের প্রতিটি দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক একটি অনন্য দিককে উপস্থাপন করে।এই নতুন যাত্রা সম্পর্কে মিঙ্গেল ইন স্টাইলের কো-ফাউন্ডার অ্যান্ড হেড অব অপারেশন্স নাসরিন করিম বলেন, “মিঙ্গেল আসলে আমার কাছে একটা প্যাশন প্রজেক্ট। আমাদের মূল ভিশন হচ্ছে মডার্ন ফ্যাশনকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংস্কৃতির সঙ্গে মিঙ্গেল করা। আমরা চাই মিঙ্গেল একটা ওয়ান স্টপ ওয়ার্ডরোব সলিউশন হোক যেখানে একজন মানুষ তার আইডেন্টিটি, কালচার এবং পার্সোনাল স্টাইল একসাথে খুঁজে পায়।”তিনি আরও যোগ করেন, “মিঙ্গেল ব্র্যান্ডে আমরা সবার কথা চিন্তা করে চারটা সাব-ব্র্যান্ড তৈরি করেছি যাতে সবাই একই ছাদের নিচে সব কালেকশন খুঁজে পায়। এর মধ্যে আভাসাতে থাকছে লাউঞ্জ অ্যান্ড কমফোর্ট ওয়্যার, পিওর নর্থে পাওয়া যাবে জিম অ্যান্ড স্পোর্টস ওয়্যার, ভিদজার-এ থাকছে ক্যাজুয়াল অ্যান্ড ক্লাসিক ওয়্যার এবং মিঙ্গেল নিজে একটি এথনিক ওয়্যার ব্র্যান্ড হিসেবে কাজ করছে।”শোরুমটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর আরামদায়ক এবং বিলাসবহুল পরিবেশ দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্যে ব্র্যান্ডগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ করে দেয়। উত্তরা বেলি কমপ্লেক্সে অবস্থিত এই ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি বর্তমানে ফ্যাশন প্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।উত্তরাবাসীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নাসরিন করিম বলেন, “আমাদের উত্তরার ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি উত্তরার খুব প্রাইম লোকেশনে করা হয়েছে। উত্তরার ফ্যাশন লাভারদের আমি ইনভাইট করব তারা এসে আমাদের স্টোরটি ঘুরে যাওয়ার জন্য। বিশেষ করে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে আমাদের পুরো কালেকশনের ওপর আমরা ফ্ল্যাট ৩০% অফ দিচ্ছি। আমরা সবাইকে এই অফারটি উপভোগ করার জন্য মিঙ্গেলে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”এই কিউরেটেড মাল্টি-ব্র্যান্ড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশে লাইফস্টাইল রিটেইল খাতের নতুন সংজ্ঞা দিতে চায় ‘মিঙ্গেল ইন স্টাইল’। যেখানে আরাম, সংস্কৃতি, সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত স্বকীয়তা নিরবচ্ছিন্নভাবে একই সুতোয় গাঁথা।
সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এই আহ্বান জানান তিনি।ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরে দিনগুলোতে বিশ্ব পরিস্থিতি অনুরূপ থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারকে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে তার বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণ করতে হবে।’সিন্ডিকেট নির্মূলের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পাশাপাশি এই সময়ে যেন নতুন কোনো সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে, সে লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ এই মুহূর্তে দেশের কোথাও যেন জ্বালানি পাচার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’