সাত সহকারী পুলিশ কমিশনার ও ৪৯ পুলিশ পরিদর্শকসহ ৫৬ জনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত নির্ধারিত ৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।অবসরপ্রাপ্ত ৪৯ পুলিশ পরিদর্শক বিভিন্ন জেলা, ডিএমপি, সিআইডি, পিবিআই, এসবি, রেলওয়ে পুলিশসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন।অন্যদিকে আরেক প্রজ্ঞাপনে সহকারী পুলিশ সুপার সমপর্যায়ের সাত কর্মকর্তাকেও একই আইনের আওতায় অবসর দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—ঢাকা র্যাব হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকী, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) মো. নুরুল মোত্তাকিন, খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা সার্কেলর সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সৈয়দুজ্জামান, ঢাকা মোহাম্মদপুর র্যাব-২ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম কিবরীয়া, ঢাকা আরআরএফের এএসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সুবিধা পাবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৯ জন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, ১৩ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ১৪ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম রোগে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯৭২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময় নিশ্চিতভাবে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৮৭ জন। একই সময়ে ৮৮৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৮৫০ জন হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন।১৫ মার্চ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৮ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৭৩০ জন। এ সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন চিকিৎসা শেষে ছাড় পেয়েছেন।বিভাগভিত্তিক হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় হাম উপসর্গে একজন এবং চট্টগ্রামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তির জেলাভিত্তিক অংশে মৃত্যুর হিসাবে সুনামগঞ্জ ও ঢাকার তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।এদিকে, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে সারা দেশে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জনের। এর বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৯৪ জনকে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় মন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দেখতে যান। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকবে সরকার। ইতিমধ্যে মালিক পক্ষ ১০ লাখ টাকা করে প্রতিটি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।তিনি জানান, সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে মালিক পক্ষের কোনো গাফিলতি পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।ঘটনাস্থলে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সেনাবাহিনীও কাজ করছে।এ সময় চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।এর আগে সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে একে একে আটজন মারা যান। আহতদের চমেক হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাতজনের পরিচয় জানা গেছে।তারা হলেন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর সানী জলদাশ (২২), পলাশ জলদাশ (২৭), মুনছুর আলী (৪০), নাসির উদ্দিন (৩৮) এবং জামালপুরের হাবীবুর রহমান, গাইবান্ধার খোকন এবং আব্দুল আমীল রানা।এদিকে এ ঘটনায় জাহাজভাঙা শিল্পের সংগঠন বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে তারা পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট টিম করেছে।ইয়ার্ড মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, আহত ক্ষতিগ্রস্তদের উন্নত চিকিৎসা ও নিহতের পরিবারকে সরকারি বিধি ছাড়াও সার্বিক সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের পদ্ধতিতে ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের’ আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সমাজকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত ও ‘সম্মানজনক রাষ্ট্রে’ পরিণত করতে মৌলিক পরিবর্তন জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ আহ্বান জানান। এ জন্য দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ নারী-পুরুষকে খুঁজে বের করে মনোনীত করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।ওয়াংচুক জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি অসুস্থ ছিলেন। ওই সময়টিকে তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কাজে ব্যবহার করেছেন। এশিয়ার কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের অগ্রগতির তুলনা করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান গতিপথ অব্যাহত থাকলে উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত পিছিয়ে পড়তে পারে।তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মাথাপিছু জিডিপির কথা বলি এবং এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০৪৭ সালে আমরা উন্নত দেশ তো হতেই পারব না, এমনকি বিশ্ববাজারে মুখ দেখানোর মতো অবস্থাতেও থাকব না।’তিনি ভারতের ভবিষ্যৎকে-এর শিক্ষা ব্যবস্থার শক্তির সাথেও যুক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে জাতীয় অগ্রগতি শিক্ষাগত উন্নতির চেয়ে দ্রুত হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘যতদিন শিক্ষা পিছিয়ে থাকবে, ততদিন দেশের ভবিষ্যৎও পিছিয়ে থাকবে।’ওয়াংচুক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রতিবাদের মাধ্যমে পরিবর্তনের জন্য যারা আন্দোলন করেছেন তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশার পক্ষে এখনো খুব বেশি কারণ দেখছেন না বলে জানান।দেশ পরিচালনার বৃহত্তর প্রশ্নে ওয়াংচুক বলেন, ভারতের সমস্যার জন্য কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা যায় না। বিভিন্ন দলের সরকারও বিভিন্ন সময়ে ভিন্নমতের প্রতি একই ধরনের আচরণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, ‘তাই বিষয়টি শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যাপার নয়।’ তার উদ্বেগ মূলত ভারত কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নকে ঘিরে বলেও জানান তিনি।২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতার কথাও উল্লেখ করেন ওয়াংচুক। তার মতে, ওই আন্দোলনের ফলে সরকার পরিবর্তন হলেও দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান হয়নি।তিনি বলেন, ‘কিন্তু আজ, ১২ বছর পর দুর্নীতি ও অবিচার নতুন রূপ নিয়েছে।’ আগের তুলনায় সমস্যাটি আরও বড় ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ওয়াংচুকের মতে, সমস্যার মূল দুর্বলতা রয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের পদ্ধতিতে।তিনি বলেন, ‘দেশে আমাদের বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার, বিপ্লব দরকার—একটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব, যাতে আমরা সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারি। কারণ সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে। নেতৃত্ব সঠিক না হওয়া পর্যন্ত পুরো দেশই ভুল পথে থাকবে।’নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওয়াংচুক। গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে তার এই সমালোচনা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা বিরোধীদের লক্ষ্য করে নয় বলেও স্পষ্ট করেন।তিনি বলেন, ‘আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা বিরোধীদের কথা বলছি না, আমি দেশের কথা বলছি।’এবার এই উদ্বেগকে আরও বিস্তৃত জাতীয় আলোচনায় পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছেন ওয়াংচুক। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করে ‘সেরা মেধাবীদের’ একত্রিত করে দেশের কী পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা করতে চান তিনি।তবে তার আহ্বান শুধু শিক্ষাবিদ বা বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ নারী-পুরুষদের খুঁজে বের করে প্রতিটি অঞ্চল থেকে অন্তত একজনের নাম প্রস্তাব করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।ওয়াংচুক বলেন, ‘দূরবর্তী লাদাখে বসে আমি জানি না তারা কারা বা কোথায় আছেন। তাই দেশের এবং আপনার অঞ্চলের এমন অন্তত একজনের নাম প্রস্তাব করে আপনারা সাহায্য করতে পারেন।’তিনি জানান, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও শহর সফর করে মানুষের পরামর্শ সংগ্রহ করতে চান। পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের একটি নতুন ‘মানচিত্র’ তৈরিতে সহায়তা করতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি।ভিডিও বার্তার শেষদিকে ওয়াংচুক ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করার’ আহ্বান জানান। তার এই বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদ করে প্রচারের জন্যও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।ওয়াংচুকের এই বার্তা তার সাম্প্রতিক শিক্ষা ও সুশাসনকেন্দ্রিক প্রচারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে। এবার তিনি শিক্ষা ও প্রশাসনের নির্দিষ্ট সমস্যার বাইরে গিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় বৃহত্তর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।সূত্র: ন্যাশনাল হেরাল্ড ইন্ডিয়া
দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং সার্বিক আর্থ-সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিরসনে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়।চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে বলে জামায়াতের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। লাগামহীন লোডশেডিংয়ের ফলে একদিকে সাধারণ মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে শিল্প-উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যা জনগণকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।চিঠিতে আরও বলা হয়, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এই সংকটকালে আমরা নীরব থাকতে পারি না। দেশের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদে অর্থবহ আলোচনা ও আশু সমাধান খোঁজা অত্যন্ত জরুরি।দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে অবিলম্বে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম ১ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১২২.৭০ টাকা দরে ডলার কিনেছে। এর আগের সপ্তাহে রেমিট্যান্সের ডলারের দর ছিল ১২৩.৬০ থেকে ১২৩.৭০ টাকা।রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় আমদানিকারকদের ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তির খরচও হ্রাস পাওয়ায় গতি এসেছে বাণিজ্যে।বাজারে ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আগামী সপ্তাহে এলসি নিষ্পত্তির ব্যয় আরও কমতে পারে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ডলারের দাম কমার পেছনে মূল কারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নিট ওপেন পজিশন (এনওপি) দীর্ঘমেয়াদে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি থাকা। সহজ কথায়, ব্যাংকগুলোর কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত ডলার রয়েছে।ফলে ব্যাংকগুলো যেমন চড়া দামে রেমিট্যান্স কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না, তেমনি তাদের কাছে থাকা ডলার দ্রুত বিক্রি করতে ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোকে তুলনামূলক কম দামে এলসি নিষ্পত্তির সুবিধা দিচ্ছে। এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭.০৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ (BPM6) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২.২৬০ বিলিয়ন ডলারে।
ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ফ্রান্স’-এর কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি হলেন রুপালী বাংলাদেশের ফ্রান্স প্রতিনিধি ও বাংলা টেলিগ্রামের সম্পাদক শাহ সুহেল আহমদ ও দৈনিক আমাদের সময়ের ফ্রান্স প্রতিনিধি আশিক আহমেদ উল্লাসকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে প্যারিসের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আত্মপ্রকাশ ও সাধারণ সভায় ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন।১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্য নেতৃবৃন্দ হলেন- সহ সভাপতি অবিরাম বাংলা ডটকমের উপসম্পাদক বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক জান-ই-আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকরা বাংলা টিভি ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি আবু বাকার আল আমীন, কোষাধ্যক্ষ এশিয়া পোস্টের ফ্রান্স প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রনি, প্রচার সম্পাদক বাংলা টেলিগ্রামের সিনিয়র রিপোর্টার তানভীর তালুকদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাংলাদেশ টুডে ও সংবাদ প্রতিদিনের ফ্রান্স প্রতিনিধি নিপু বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক ইউরো বাংলা টোয়েন্টিফোরের সম্পাদক মোহাম্মদ কায়সার আহমেদ। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাই টিভি ও দৈনিক মুক্তখবরের ফ্রান্স প্রতিনিধি বাদল পাল, ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর এবং দৈনিক যুগভেরীর ফ্রান্স প্রতিনিধি সাহাদ উদ্দিন।সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।নবগঠিত কমিটির নেতারা বলেন, ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সংগঠনটি কাজ করবে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সাফল্যের সংবাদ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) থেকে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা বিতরণ শুরু হচ্ছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পাবেন। এর মধ্যে কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এবং অবসর সুবিধা বোর্ডের আওতায় ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণের টাকা বিতরণের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। এর পরই পাওনা পরিশোধের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়।জানা গেছে, কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনার পুরো অর্থই পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে অবসর সুবিধা বোর্ডের আওতাভুক্তদের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তিদের ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।এ বিষয়ে আগামীকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা রয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবসরের অপেক্ষায় থাকা ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৪ শিক্ষকের পাওনা পরিশোধে প্রায় ৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে গত এপ্রিল পর্যন্ত অবসর সুবিধা বোর্ডে জমা হওয়া ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদনের বিপরীতে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টে গত মার্চ পর্যন্ত জমা হওয়া ৪৫ হাজার ৮২৪টি আবেদনের বিপরীতে প্রয়োজন প্রায় ২ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুরুতে অর্থ বিভাগ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হলেও পরে তা বাড়ানো হয়।এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে শিক্ষকদের অবসর সুবিধার অর্থের ঘাটতি পূরণে অর্থ বিভাগে ডিও লেটার পাঠান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেখানে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।বিশাল এই অর্থ বরাদ্দের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বড় অংশের পাওনা পরিশোধের পথ তৈরি হয়েছে। এখন শনিবারের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই অর্থ বিতরণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অলি আহমদের পক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করে। এসময় জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এই প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এবং সমর্থক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন।এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৩ আগস্ট। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।এরপর দুপুর ১টা নাগাদ রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ইসিতে দাখিল করার কথা রয়েছে।দলটির প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুলের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বুধবার বিএনপি সূত্রে বলা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে বির্তক এড়াতে বৈঠকটিকে স্থায়ী কমিটির বৈঠক বলতে চাচ্ছে না দলটি।গত ১০ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানকে দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের সেই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণে নতুন সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় সপ্তাহে যাত্রীবাহী ফ্লাইটের অনুমোদিত সংখ্যা ৪৯ থেকে বাড়িয়ে ৮৪টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন সমঝোতায় পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকার, কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন এবং উড়োজাহাজ লিজিংয়ের সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এসব তথ্য জানান।বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারকের আওতায় সপ্তাহে যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৯ থেকে বাড়িয়ে ৮৪টি করা হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত এবং দুই দেশের এয়ারলাইনগুলো এ সুবিধার আওতায় আসবে। বিষয়টি জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ বেবিচক সদর দপ্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নতুন সমঝোতার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার আকাশপথে এ সুবিধা কার্যকর হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো, হজ-ওমরাহযাত্রী ও সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের যাতায়াত সহজ করা, আসনসংকট কমানো এবং বিমানভাড়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিবহন সম্প্রসারণও এর অন্যতম লক্ষ্য।নতুন সমঝোতার মাধ্যমে আগের ৪৯টির সঙ্গে আরও ৩৫টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট যোগ করে সপ্তাহে মোট ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২১টি কার্গো ফ্লাইট এবং পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকার, কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন ও উড়োজাহাজ লিজিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, অতিরিক্ত ৩৫টি যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সুযোগ তৈরি হওয়ায় হজ ও ওমরাহযাত্রী এবং সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উপকৃত হবেন। ফ্লাইট ও আসনের সংখ্যা বাড়লে যাত্রীদের টিকিটপ্রাপ্তি সহজ হওয়ার পাশাপাশি বিমানভাড়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিকে সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেশের রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিপণ্য দ্রুত সৌদি আরব ও সংশ্লিষ্ট বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে।বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এই সমঝোতা দুই দেশের যাত্রী ও কার্গো যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এয়ারলাইনগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক এভিয়েশন ও কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় মন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দেখতে যান। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকবে সরকার। ইতিমধ্যে মালিক পক্ষ ১০ লাখ টাকা করে প্রতিটি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।তিনি জানান, সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে মালিক পক্ষের কোনো গাফিলতি পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।ঘটনাস্থলে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সেনাবাহিনীও কাজ করছে।এ সময় চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।এর আগে সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে একে একে আটজন মারা যান। আহতদের চমেক হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাতজনের পরিচয় জানা গেছে।তারা হলেন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর সানী জলদাশ (২২), পলাশ জলদাশ (২৭), মুনছুর আলী (৪০), নাসির উদ্দিন (৩৮) এবং জামালপুরের হাবীবুর রহমান, গাইবান্ধার খোকন এবং আব্দুল আমীল রানা।এদিকে এ ঘটনায় জাহাজভাঙা শিল্পের সংগঠন বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে তারা পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট টিম করেছে।ইয়ার্ড মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, আহত ক্ষতিগ্রস্তদের উন্নত চিকিৎসা ও নিহতের পরিবারকে সরকারি বিধি ছাড়াও সার্বিক সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং সার্বিক আর্থ-সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিরসনে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়।চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে বলে জামায়াতের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। লাগামহীন লোডশেডিংয়ের ফলে একদিকে সাধারণ মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে শিল্প-উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যা জনগণকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।চিঠিতে আরও বলা হয়, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এই সংকটকালে আমরা নীরব থাকতে পারি না। দেশের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদে অর্থবহ আলোচনা ও আশু সমাধান খোঁজা অত্যন্ত জরুরি।দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে অবিলম্বে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ৪ জন আহত সহ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার (১৪ আগস্ট ) দুপুরে আদালতপাড়া এলাকায় হেলাল মিয়ার বাড়িতে ওবাইদুল ইসলাম মুন্না ও ইমন মিয়ার নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনায় নারীসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে হেলাল মিয়ার ছেলে নাবিলের এক বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ জানা যায়। তবে যে বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, সেই পরিবারের সদস্যরা ওই ঝগড়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।অভিযোগ রয়েছে- হামলাকারীরা হেলাল মিয়ার বাড়িতে ঢুকে জান্নাতুল মাওয়া (রানা) , বিশাল মিয়া, নাবিল মিয়া ও তার চাচা জালালকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে হামলাকারীরা বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত বিশাল মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। তবে হামলার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় নবীনগর থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।
দলীয় স্কোর তিনশ পার হওয়ার পরপর ছোট্ট একটা ধস। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের শক্ত জবাব যেন ম্লান হতে বসেছিল। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেন। ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর দুজন মিলেই দিন শেষ করেছেন। অবশ্য দিনের শেষটা হয়েছে মিরাজের জীবন পেয়ে। নয়তো ছয় নয়, সাত উইকেট থাকত বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে!দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৩৫১/৬ (মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮)অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ (স্মিথ ৭১, হাসান ৬/৫৫); বাংলাদেশের লিড ১৫৩ রানের।বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৮০ ওভার শেষে নতুন বল হাতে পেয়ে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ফেলেছিল। ১১ রানে বাংলাদেশ তিন উইকেট হারায়। তবে হাসান মাহমুদ একমাত্র অবশিষ্ট স্বীকৃত ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে লিড দেড়শ ছাড়িয়েছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তাদের লিড ১৫৩ রানের।Pat Cummins leads his team off after a long day, Australia vs Bangladesh, 1st Test, Darwin, 2nd day, August 14, 2026দিনের শুরুতে তানজিদ ও মুমিনুল হকের ১০২ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। মুমিনুল ৪৯ রানে আউট হওয়ার পর শান্ত ও তানজিদ দলকে এগিয়ে দেন। ১৮৮ বলে চমৎকার সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ মাঠ ছাড়লেও বাংলাদেশ বড় লিড নেওয়ার আভাস দিচ্ছিল। শান্ত ছিলেন সেঞ্চুরির কাছে। কিন্তু ৮৪-তে অধিনায়কের আউটের পর বিস্ময়করভাবে বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা।৩ উইকেটে ২৯৭ রান করা বাংলাদেশ ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারায়। নতুন বলে ১১ রানে তাদের তিন ব্যাটারের পতন হয়। ক্রিজে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার মিরাজ ও হাসান ১৪৭ বলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে লিড বাড়াচ্ছেন।এই জুটির আগে নতুন বল হাতে নেওয়ার দ্বিতীয় ওভারে জশ হ্যাজলউড শান্তকে স্টিভ স্মিথের ক্যাচ বানান। অজি পেসারের এক্সট্রা বাউন্সে বল তার ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়ে। ১২৬ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ইনিংস সাজানো ছিল অধিনায়কের ১৬ রানের আক্ষেপে ভাসানো ইনিংস। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দলে জায়গা পাওয়া লিটন দাস ডাক মারেন। দলীয় স্কোর তিনশ পার হওয়ার পর মুশফিকের সঙ্গ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে এই উইকেটকিপার ব্যাটার। স্টার্কের বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু বল থিক এজ হয়ে ফের স্মিথের হাতে পড়ে। মুশফিক সেট হওয়ার আভাস দিলেও ফিরতে হয়। ৫৫ বলে ৩৬ রান করে প্যাট কামিন্সের শিকার হন তিনি। এবারও স্মিথের হাতে পড়ে বল।৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর ক্রিজে একজোট হন হাসান ও মিরাজ। দাঁত কামড়ে ক্রিজে থাকার পণ করেছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত সফল তারা। প্রায় ২৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করলেন দুজনে। ৭৩ বলে ৩২ রানে মিরাজ ও ৭৬ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন হাসান। তার এমন প্রাচীর গড়া ইনিংসে বাংলাদেশ আরও বড় লিড নেওয়ার আশা করছে।Najmul Hossain Shanto brought up a steady half-century, Australia vs Bangladesh, 1st Test, Darwin, 2nd day, August 14, 2026মার্নাস লাবুশেনের বলে ক্যামেরন গ্রিন নিচু ক্যাচ ধরতে পারেননি। বল মাটিতে না পড়লে মিরাজ তৃতীয় দিন নামতে পারতেন না। ৩২ রানে পাওয়া জীবনের সদ্ব্যবহার তিনি শেষ পর্যন্ত করতে পারবেন কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা। আপাতত গ্রিনের হাত ফসকে মিরাজের উইকেট বেঁচে যাওয়ার সঙ্গেই দিনের শেষ ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার চ্যানেল এসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে সিআইডির একটি দল এসে তাকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং তারাই বিষয়টি তদন্ত করছে।’সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ সংক্রান্ত আদেশ দেন।পুরোনো নথি অনুযায়ী, সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ করেছে। একপর্যায়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তার পরিবার ও ভক্তদের একটি অংশ ওই তদন্তের ফল মেনে নেয়নি।এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। ডন হককে গ্রেফতারের পর মামলার তদন্তে নতুন করে অগ্রগতি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র কয়েক বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছে।
কাঁধখোলা কালো গাউনে নজরকাড়া এক ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করলেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। এর সঙ্গে পুরুষদের নিয়ে ক্যাপশনে দিলেন খোঁচা। ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার দেওয়া এই পোস্টে দখো গেলো গ্ল্যামারাস লুকে হাজির হয়েছেন তিনি। তার পোস্ট করা একগুচ্ছ ছবিতে দেখা যায়- স্নিগ্ধ ও খানিকটা বোল্ড লুকে। টিউব কাটের বডি ফিটেড কালো মেরমেড গাউনে ফুটে উঠেছে ফারিয়ার শার্প লুক। সাজসজ্জায় বেছে নিয়েছেন ডায়মন্ড ও পান্নার মিশেলে তৈরি নেকলেস, মানানসই দুল এবং ব্রেসলেট।ছবিগুলোতে ফারিয়ার অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে আভিজাত্য আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কখনো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, আবার কখনো বিলাসবহুল সোফায় হেলান দিয়ে ক্যামেরায় পোজ দিয়েছেন তিনি। তবে শুধু ছবিই নয়, ভক্তদের নজর কেড়েছে তার পোস্টের ক্যাপশনটি। ফারিয়া লিখেছেন, ‘বেশিরভাগ পুরুষের চেয়ে হীরাই মেয়েদের মন বেশি বোঝে।’ ছবিগুলো পোস্ট করার পরপরই মন্তব্যের ঘরে অনুরাগী ও নেটিজেনদের ভিড় জমেছে। ফারিয়ার রূপের প্রশংসা করে এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘একদম কুইন লুক!’ অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সত্যিই দারুণ লাগছে ফারিয়া আপু!’ অনেকেই আবার এই বোল্ড লুকের প্রশংসা করেছেন মুক্তকণ্ঠে।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তী হাতে মারাত্মক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চোটের গভীরতা বেশি থাকায় জরুরি ভিত্তিতে তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাতের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং মিঠুন চক্রবর্তী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।আপাতত তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। তবে ঠিক কীভাবে অভিনেতা হাতে চোট পেয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুটিং সেটে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।প্রিয় ‘মহাগুরু’র অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তার অজস্র ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। তবে তিনি বর্তমানে ভালো আছেন জেনে স্বস্তি মিলেছে সবার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করেছে। গত ২৯ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নবগঠিত বোর্ডে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র গবেষক আবদুর রহমান। এছাড়া সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা, গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ এবং সংগীতশিল্পী দিঠি আনোয়ার।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন অনুযায়ী এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব। আর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।এ ছাড়া বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা শানু।মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে নতুন করে এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।
'কিং' সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার সম্ভাব্য নতুন লুক সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ছুটি কাটানোর সময় এক ভক্তের ক্যামেরায় ধরা পড়েন কিং খান। এরপর সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা। ভাইরাল হওয়া সেই ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদশাহ কালো রঙের হুডি ও ‘VR-46’ লেখা একটি কালো ক্যাপ পরে ছিলেন। মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করলেও ক্যাপের ফাঁক দিয়ে তার ব্লিচ করা চুল দেখা যায়। এ থেকেই নেটিজেনদের ধারণা— পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘কিং’ সিনেমার নতুন লুক আড়াল করতেই এমন সতর্ক ছিলেন শাহরুখ খান।‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানকে সম্পূর্ণ ধূসর চুলের ভিন্নধর্মী লুকে দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতা বা অভিনেতার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ঘুরতে বের হওয়ার সময় শাহরুখ খানের পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট। সাধারণ পোশাকে থাকলেও ভক্তদের আগ্রহ এড়াতে পারেননি তিনি। কয়েকজন ভক্ত-অনুরাগীর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন এ অভিনেতা।এ ছাড়া লন্ডনে শাহরুখ খানের বাড়িও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, তার বাড়ির সামনে ভিড় করছেন অসংখ্য ভক্ত। অনেকেই সেখানে ছবি ও সেলফি ভিডিও ধারণ করছেন। দৃশ্যটি মুম্বাইয়ে শাহরুখের বাসভবন ‘মান্নাত’-এর সামনে ভক্তদের ভিড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।ঢাকার বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি দেশে এসেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি সব সময় সবার জন্য দোয়া করি।এর আগে সোমবার সকালে তার দেশে ফেরার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে ইলিয়াস কাঞ্চন আবারও লন্ডনে ফেরত যাবেন। আগামী ১৫ আগস্ট অভিনেতার শারীরিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।গত বছরের প্রথম দিকে অভিনেতার শরীরে টিউমার ধরা পড়লেও পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৬ এপ্রিল ইলিয়াস কাঞ্চনকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসা শুরু হয়। তিন মাসের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তার ব্রেনে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারের হটস্পট, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মানুষ স্কিন ক্যান্সার এবং মেলানোমায় মারা যায় এবং প্রতি ৩ জন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় ২ জনের জীবনে অন্তত একবার স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে ধারণা করা হয়। এমন একটি দেশে যেখানে সানস্ক্রিন একটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে।ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘চয়েস’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লিখিত এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ছিল এসপিএফ ৫০+ (SPF 50+) হিসেবে বাজারজাত করা একটি পণ্যকে ঘিরে, যা পরীক্ষায় প্রায় এসপিএফ ৪ (SPF 4) এর মতো কাজ করেছে বলে জানা যায়। ব্র্যান্ডটি এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালেও পণ্যটি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে কেন এত বড় অমিল দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে যে আমদানি করা পণ্য ত্বকের যত্নের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই সংবাদটি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের নামই এখন আর যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোক বা কোনো স্থানীয় কোম্পানির, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি তার লেবেলে লেখা সুরক্ষা সত্যিই প্রদান করে কি না । এই বিষয়টি ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আরও বেশি মানুষকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না। তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়। কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা। বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে। এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে। শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে। তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম ১ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১২২.৭০ টাকা দরে ডলার কিনেছে। এর আগের সপ্তাহে রেমিট্যান্সের ডলারের দর ছিল ১২৩.৬০ থেকে ১২৩.৭০ টাকা।রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় আমদানিকারকদের ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তির খরচও হ্রাস পাওয়ায় গতি এসেছে বাণিজ্যে।বাজারে ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আগামী সপ্তাহে এলসি নিষ্পত্তির ব্যয় আরও কমতে পারে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ডলারের দাম কমার পেছনে মূল কারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নিট ওপেন পজিশন (এনওপি) দীর্ঘমেয়াদে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি থাকা। সহজ কথায়, ব্যাংকগুলোর কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত ডলার রয়েছে।ফলে ব্যাংকগুলো যেমন চড়া দামে রেমিট্যান্স কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না, তেমনি তাদের কাছে থাকা ডলার দ্রুত বিক্রি করতে ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোকে তুলনামূলক কম দামে এলসি নিষ্পত্তির সুবিধা দিচ্ছে। এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭.০৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ (BPM6) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২.২৬০ বিলিয়ন ডলারে।
ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ফ্রান্স’-এর কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি হলেন রুপালী বাংলাদেশের ফ্রান্স প্রতিনিধি ও বাংলা টেলিগ্রামের সম্পাদক শাহ সুহেল আহমদ ও দৈনিক আমাদের সময়ের ফ্রান্স প্রতিনিধি আশিক আহমেদ উল্লাসকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে প্যারিসের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আত্মপ্রকাশ ও সাধারণ সভায় ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন।১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্য নেতৃবৃন্দ হলেন- সহ সভাপতি অবিরাম বাংলা ডটকমের উপসম্পাদক বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক জান-ই-আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকরা বাংলা টিভি ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি আবু বাকার আল আমীন, কোষাধ্যক্ষ এশিয়া পোস্টের ফ্রান্স প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রনি, প্রচার সম্পাদক বাংলা টেলিগ্রামের সিনিয়র রিপোর্টার তানভীর তালুকদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাংলাদেশ টুডে ও সংবাদ প্রতিদিনের ফ্রান্স প্রতিনিধি নিপু বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক ইউরো বাংলা টোয়েন্টিফোরের সম্পাদক মোহাম্মদ কায়সার আহমেদ। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাই টিভি ও দৈনিক মুক্তখবরের ফ্রান্স প্রতিনিধি বাদল পাল, ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর এবং দৈনিক যুগভেরীর ফ্রান্স প্রতিনিধি সাহাদ উদ্দিন।সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।নবগঠিত কমিটির নেতারা বলেন, ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সংগঠনটি কাজ করবে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সাফল্যের সংবাদ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহজ কিস্তি বা অর্থায়ন সুবিধায় স্মার্টফোন সহজলভ্য করার একটি পাইলট প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের অধীনে এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেড’-কে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দিয়েছে।উদ্যোক্তাদের দাবি, এককালীন অর্থ পরিশোধ করে স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য না থাকায় গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের অনেক মানুষ এখনো ডিজিটাল সেবা থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। এ বাধা কমানোই পাইলট প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।প্রকল্পের মাধ্যমে স্মার্টফোনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেন, মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি ডিজিটাল সেবা, কৃষি ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নায়েম ফয়েজ বলেন, বর্তমানে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; আর্থিক সেবা, শিক্ষা, তথ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ যেন এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবু আল মোতালিব বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে হলে শহরের বাইরের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যদেরও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট নীতি ও শর্ত মেনে পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর কার্যক্রম পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি প্রকল্পের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নিয়মিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।উদ্যোক্তারা আশা করছেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দায়িত্বশীল স্মার্টফোন অর্থায়ন এবং ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি