গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ ও দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে, রক্তপাতের বিনিময়ে, আমাদের সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘকাল লড়াই করে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। আমরা একটা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটা সুযোগ পেয়েছি। আজকে একটা নির্বাচন হয়েছে। অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখানে সরকার গঠন হয়েছে। এই সরকার চেষ্টা করছে অতিদ্রুততার সঙ্গে দেশকে কী করে একটা ভগ্নস্তূপ থেকে আবার জাগিয়ে তোলা যায়।তিনি বলেন, আমি প্রায়ই আপনাদের বলতাম— আমরা যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করি, তারা অনেকটা আপনার ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংস হয়ে যায়, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।গণতন্ত্র রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র পেয়েছি। গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আজকে যে বিরোধী দল আছে, সরকারি দল আছে— আমি মনে করি যে সরকারি দল, বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক অবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। প্রধান দায়িত্ব হবে যে সংসদ আছে, সেই সংসদকে ফাংশনাল করা। তাকে যেন কাজ করে ঠিকমতো, সেইভাবে কাজ করার চেষ্টা করা। অন্যান্য বিষয়গুলোতে দ্বিমত থাকতে পারে। সেই দ্বিমতগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু সমাধান করা সম্ভব।রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি মনে করি যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের যেমন আমরা অতীতে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, সামনের লড়াই হচ্ছে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করবার জন্য, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবার জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাদের জন্য একটা সত্যিকার অর্থেই একটা বাসযোগ্য আবাস যেন আমরা নির্মাণ করতে পারি। এই বিষয়গুলো আমাদেরকে সবসময় মনে রাখতে হবে। আমরা বারবার হোঁচট খেয়েছি। এই দেশের মানুষ বারবার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, কিন্তু বারবার বাধা পেয়েছে। আজকে সেই সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগ আমরা কখনো অবহেলায় একে না হারাই। এ কথাটা সবসময় আমাদেরকে মনে রাখতে হবে।সিলেটের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের কিছু সমস্যার কথা আপনারা বলেছেন। আমার মনে হয় আপনাদের মন্ত্রীবর্গ যারা আছেন, আপনাদের সদস্য যারা আছেন, তারা যথেষ্ট যোগ্য। এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা কথা বলছেন, কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে শুনলেন যে অনেকগুলো বড় বড় কাজ ইতিমধ্যে সামনে চলে এসেছে। ইনশাআল্লাহ এই কাজগুলো এগিয়ে যাবে এবং এর মধ্যে দিয়ে আপনাদের জনগণের যে অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষা, সে আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে নিশ্চয়ই।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন।আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।চলতি বছর আজ পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬৩ জন।
নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কমিশনকে নিয়ন্ত্রণের ফল কখনোই ভালো হবে না।মঙ্গলবার ( ১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম। পোস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকারের তালবাহানা ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে। সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাত ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান। প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির দেওয়া তারিখ চূড়ান্ত নয়।সাদিক কায়েমের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যেও সরকারের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে বোঝা যায়, সরকার নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ মানছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, সরকারকে সুযোগ করে দিতে নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একটি তারিখ ঘোষণা করানো হচ্ছে। ফলে জনগণের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট যে সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে।বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, সরকার একদিকে দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও জুলুমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের রায়কে ভয় পাচ্ছে।তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকারের সব স্তরে, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে সরকার কুখ্যাত স্বৈরাচার আইয়ুবশাহীর পথ অনুসরণ করছে।নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন দেশের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় না। এর উদাহরণ গত স্বৈরাচার সরকার।সাদিক কায়েম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে বিএনপিও স্বৈরাচার আমলের মতো দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণের ফল কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
ভোলার মনপুরায় মেঘনায় জেলের জালে ধরা পড়েছে ১৫ কেজি ওজনের বিশাল এক পাঙ্গাস মাছ। নিলামে মাছটি এক হাজার তিনশত চল্লিশ টাকা কেজি দরে বিশ হাজার একশত টাকায় বিক্রি করা হয়।মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে মোমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তে বিক্রি করেন জেলে আরিফ মাঝি।জেলে আরিফ মাঝি জানান, মেঘনায় পাঙ্গাস জাল পেতে মাছ শিকার করছিলাম। এই সময় ১৫ কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি রামনেওয়াজ মোমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তে বিশ হাজার একশত টাকা বিক্রি করা হয়।মৎস্য ব্যাপারি ফিরোজ ও নাহিদ জানান, ১৫ কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছটি ভ্যাটসহ প্রতি কেজি এক হাজার তিনশত চল্লিশ টাকা কেজি দরে নিলামে ক্রয় করেন মৎস্য আড়তদার মোমিন তালুকদার।এই ব্যাপারে মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়তদার মমিন তালুকদার জানান, পাঙ্গাস মাছটি লঞ্চযোগে ঢাকার যাত্রাবাড়ি পাঠানো হবে। আরও বেশি দামে মাছটি বিক্রি করা যাবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামি তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে আইনজীবীকে সতর্ক করেছেন আদালত।গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানির সময় বিষয়টি ধরা পরে। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পারেন।আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী বাচ্চু মিয়া। নিয়ম অনুযায়ী, জামিন আবেদনের শুরুতে থাকা কজ টাইটেলে আসামির বিরুদ্ধে থাকা মামলার ধারাগুলো উল্লেখ করার কথা। কিন্তু রাজুর আবেদনে তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।শুনানির শুরুতে আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবী মশিউর রহমানের কাছে জানতে চান, রাজু কোনো হত্যা মামলার আসামি কি না। এ প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী নীরব থাকেন। পরে আদালত মামলার ভুক্তভোগীর নাম জানতে চাইলে তিনি শুধু ‘ওসমান’ বলে উত্তর দেন।এতে আদালতের সন্দেহ হয়। পরে জামিন আবেদনের সঙ্গে থাকা নথি পর্যালোচনা করে আদালত জানতে পারেন, আবেদনকারী আমিনুল ইসলাম রাজু শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত তার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন এবং তথ্য গোপনের বিষয়ে আইনজীবীকে সতর্ক করেন।এর আগে হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগে আমিনুল ইসলাম রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দিনগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকা থেকে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা জানান এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।এ মামলায় এর আগে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার, মারিয়ার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির এবং ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যু হলে ওই মামলায় হত্যার ধারা ৩০২ যুক্ত করা হয়।
ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকার উন্নয়নকাজ সমন্বিতভাবে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাকে নিয়ে প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।তিনি বলেন, একটি সংস্থা কাজ করার পর একই জায়গায় আরেকটি সংস্থা যেন আবার খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সে জন্য চলমান উন্নয়নকাজগুলো সমন্বয় করা হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি নগরবাসীর ভোগান্তিও কমবে।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ঢাকা শহরের মেগা প্রজেক্টের কারণে উদ্ভূত যানজট রোধ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় এমআরটি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসকোসহ বিভিন্ন সংস্থার বড় বড় উন্নয়নকাজ চলছে। এসব কাজ যাতে সুসমন্বিতভাবে হয়, সেজন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ডিটিসিএর নেতৃত্বেও সমন্বয় সভা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের সভায় সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ ও ক্ষেত্রবিশেষে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা পর্যায়েও প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় সভা হবে। এজন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।'আমরা আবার ১৫ দিন পরে বসব, যাতে বাস্তবায়নের অগ্রগতিটা আমরা দেখতে পারি', বলেন তিনি।এক সংস্থা এক সময়ে এবং অন্য সংস্থা অন্য সময়ে কাজ করলেও রাস্তার ওপর বাস্তবে কাজ করার সময় যেন সমন্বয় করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।তিনি বলেন, কোনো বিদ্যুৎ সংস্থা একটি রাস্তা খুঁড়ে কাজ করে সেটি মেরামত করে চলে গেল। পরে গ্যাস বিভাগ এসে একই জায়গা খুঁড়ল। এ ধরনের পরিস্থিতি বন্ধ করতে একই সময়ে করা সম্ভব এমন কাজগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে করার চেষ্টা হচ্ছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমআরটি নির্মাণের ক্ষেত্রে সড়কের পাশে বেশ কিছু ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ করতে হচ্ছে। সেগুলো সুন্দরভাবে করা হচ্ছে। এসব কাজের সঙ্গে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগেরও সমন্বয় করতে হচ্ছে, কারণ সড়কের যান চলাচল ট্রাফিক বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। এতে নগরবাসী স্বস্তি পাচ্ছে এবং যান চলাচল একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আসছে।উন্নয়নকাজও এমনভাবে করতে হবে যাতে ট্রাফিক হ্যাজার্ড তৈরি না হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের ব্যয় ও সময় কমানো, জনদুর্ভোগ কমানো এবং মানুষকে স্বস্তি দেওয়াই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জন্য একই সড়ক বারবার খোঁড়ার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে সব লাইন রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজন অনুযায়ী সব বিষয় ইনভেন্টরি করবেন। এটাই সমন্বয়ের অংশ।দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে ১০ থেকে ২০ বছরের জন্য প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রাতারাতি এর মধ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।'আমরা শুরু করেছি, আশা করি একদিন আমরা এই সিস্টেমে যেতে পারবো। আমরা শুরু করেছি', বলেন তিনি।ছোট ছোট সাব কমিটির মাধ্যমে সমন্বয়সমন্বয়ের জন্য জাতীয় কোনো টিম বা কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে, বিআরটিসি, সড়ক ও জনপথ, সেতু কর্তৃপক্ষ, ডিটিসিএ, ওয়াসা, ডেসকো, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, ছোট ছোট সাব কমিটির মতো করে ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে ফোনে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে পারবে। প্রতিটি উন্নয়নকাজ করার আগে এই সমন্বয় করার কথা।'আগে এই সমন্বয়টা ছিল না বলে হয়তো রেলওয়ে একটা কাজ করে গেল, পরে রোড ডিভিশন আরেকটা কাজ একই জায়গায় করল। এই সমন্বয়টা আগে ছিল না', বলেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমন্বয়ের জন্য অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাসস্ট্যান্ডগুলো স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সময়ের গ্যাপের মধ্যে বাসগুলো কোথায় থাকবে, সে সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়েছে।মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড নিয়ে উন্নয়ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ডগুলো শহরের বাইরে নেওয়ার জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন করা হবে।তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত করা হচ্ছে।অটোরিকশাকে শৃঙ্খলায় আনার উদ্যোগরাজধানীতে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলোকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছুদিন আগে এ বিষয়ে একটি নীতিমালাও করা হয়েছে।অবৈধ বিদ্যুৎ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে নেওয়া চার্জিং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। বেশ কিছু অবৈধ সংযোগ ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।'আমরা চাই না ওভারনাইট অনেক মানুষ বেকার হয়ে যাক। সেজন্য একটা ডিসিপ্লিনে আনতে হচ্ছে। কেউ হয়তো মহানগর থেকে বাইরে যাবে, কেউ হয়তো অন্যান্য শহরে যাবে। কিন্তু আমরা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করব', বলেন তিনি।মূল সড়কে অটোরিকশা চলাচল ও এর কারণে যানবাহনে ব্যাঘাত সৃষ্টি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ছোট থ্রি হুইলার মূল সড়কে চলার কথা নয়। আগে সিএনজি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর সংখ্যা এখন কম এবং এগুলো অনেক আগের লাইসেন্স দেওয়া।তিনি বলেন, 'এখন সবচেয়ে বেশি পীড়াদায়ক হচ্ছে ব্যাটারি চালিত রিকশাগুলো। এগুলো নিয়েই আমরা ডিসিপ্লিন করার চেষ্টা করছি।'অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নীতিমালা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন বিষয়টি দেখছে।
প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ পরিবহন ও মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট নদ-নদীতে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হবে।আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, অবৈধভাবে ধরা ইলিশের বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বাড়াতে হবে। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে কোনো অবস্থাতেই মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কার্যক্রমের কোথায় দুর্বলতা বা ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে দেওয়া সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, র্যাব, কোস্টগার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে মো. ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বসিলা ব্রিজসংলগ্ন আরশিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের বন্ধু সাকিবের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে চুল কাটানোর জন্য বসিলা ব্রিজসংলগ্ন আরশিনগরের একটি সেলুনের সামনে গিয়েছিলেন ফরহাদ। এ সময় সাব্বিরের নেতৃত্বে সাগর, হাবিব, আরমানসহ আরও কয়েকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।সাকিব জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।তিনি আরও জানান, নিহত ফরহাদ মাছ ও কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তিনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় বসবাস করতেন।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ফরহাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মেট্রোরেলের লাইনের তারে কাপড় পড়ায় প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকার পর আবার স্বাভাবিক হয়েছে মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে কাপড়টি সরিয়ে লাইন ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা পরীক্ষা শেষে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।তবে এ সময় উত্তরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল চালু ছিল। এতে উত্তরা থেকে কারওয়ান বাজারগামী যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারলেও মতিঝিলমুখী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।নজরুল ইসলাম জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মেট্রোরেলের লাইনের তারে একটি কাপড় পড়ে যাওয়ার কারণে মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কাপড়টি লাইন থেকে সরানোর পর লাইনের যান্ত্রিক বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে উভয় দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি ও কলেজ তদারকিতে দ্রুত পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন এহছানুল হক মিলন। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহকে নির্দেশনা দেন তিনি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উপাচার্যের হাতে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সাত মাসে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে উদ্যোগ ও কাজের গতি দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন। উপাচার্যের নেতৃত্বে যে দল দায়িত্ব পেয়েছে, তাদের উৎপাদনশীলতা ও কাজের ফলাফল সরকার দেখতে চায়।এহছানুল হক মিলন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এত বড় শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাজারের চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি।শিক্ষামন্ত্রী জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় ২ হাজার ৩০৭টি কলেজ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। কোন কলেজে কোন শিক্ষক কীভাবে পাঠদান করছেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন—এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।এহছানুল হক মিলন বলেন, শুধু পরীক্ষার হল নয়, শ্রেণিকক্ষেও ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক যোগাযোগ কেমন—এসব বিষয় সংরক্ষণ করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে এসব তথ্য পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এমন কিছু বিষয় দেখেছেন, যা তাকে হতাশ করেছে। পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোরতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার পুনর্নিরীক্ষণে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। খাতা মূল্যায়নে ভুল হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।প্রশ্ন প্রণয়নের প্রচলিত পদ্ধতির সমালোচনা করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ১০০ জন শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করালে ৯০ জনের প্রশ্নের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। অনেক সময় গাইড ও নোটবইয়ের সঙ্গেও প্রশ্নের মিল দেখা যায়। এ ধরনের পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রশ্ন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মেধাবী, শিক্ষকেরাও মেধাবী। মূল সমস্যা ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব। তাই শিক্ষকদের উৎসাহ ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে।অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামি তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে আইনজীবীকে সতর্ক করেছেন আদালত।গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানির সময় বিষয়টি ধরা পরে। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পারেন।আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী বাচ্চু মিয়া। নিয়ম অনুযায়ী, জামিন আবেদনের শুরুতে থাকা কজ টাইটেলে আসামির বিরুদ্ধে থাকা মামলার ধারাগুলো উল্লেখ করার কথা। কিন্তু রাজুর আবেদনে তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।শুনানির শুরুতে আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবী মশিউর রহমানের কাছে জানতে চান, রাজু কোনো হত্যা মামলার আসামি কি না। এ প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী নীরব থাকেন। পরে আদালত মামলার ভুক্তভোগীর নাম জানতে চাইলে তিনি শুধু ‘ওসমান’ বলে উত্তর দেন।এতে আদালতের সন্দেহ হয়। পরে জামিন আবেদনের সঙ্গে থাকা নথি পর্যালোচনা করে আদালত জানতে পারেন, আবেদনকারী আমিনুল ইসলাম রাজু শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত তার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন এবং তথ্য গোপনের বিষয়ে আইনজীবীকে সতর্ক করেন।এর আগে হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগে আমিনুল ইসলাম রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দিনগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকা থেকে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা জানান এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।এ মামলায় এর আগে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার, মারিয়ার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির এবং ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যু হলে ওই মামলায় হত্যার ধারা ৩০২ যুক্ত করা হয়।
বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় চীনা রাষ্ট্রদূত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দুই দেশের রাজনৈতিক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন এবং দুই দেশের চলমান উন্নয়ন কাজ আরো গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন, রাজনৈতিক এটাচে লিং শুয়ান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম, এপিএস জাহেদুল আলম।
“ঘর আছে, কিন্তু থাকার নিশ্চয়তা নেই—তিস্তার ভাঙনে গঙ্গাচড়ার জয়রাম ওঝা চল্লিশ সাল চরে এখন এমনই আতঙ্ক নদীপাড়ের মানুষের।”মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার পানি প্রবাহের সঙ্গে চর ও তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন চলছে। কোথাও কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়ছে। ভাঙন থেকে বসতভিটা রক্ষায় স্থানীয়রা নিজেরাই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। পাশাপাশি নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে আবাদি জমি।স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙনের গতি অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে কখন বাড়িঘর নদীতে চলে যায় বলা যায় না। বাধ্য হয়ে ঘরসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছি। এরই মধ্যে ফসলি জমিও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’লক্ষ্মিটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী বলেন, ‘জয়রাম ওঝা চল্লিশ সাল এলাকায় তিস্তার ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, ‘তিস্তার ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি। ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’স্থানীয়রা বলছেন, তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও পাইলিংয়ের কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রথম ম্যাচেই এক অসম লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে টাইগ্রেসদের। প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া। সেই ম্যাচের শুরুর একাদশেও বড় চমক রেখেছেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় চীনের নাগাই স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। নিয়মিত একাদশ থেকে পরিবর্তন এনে একাদশ সাজিয়েছেন বাটলার।বাটলারের শুরুর একাদশের সবচেয়ে বড় চমক বাংলাদেশ নারী দলের সুপারস্টার ঋতুপর্ণা চাকমার একাদশে না থাকা। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড লাইনের ভরসার নাম ঋতুপর্ণা। তবে কোনো তাকে একাদশে রাখা হয়নি সেটি জানানো হয়নি বাফুফের পক্ষ থেকে।অন্যদিকে, সর্বশেষ প্রতিযোগীতামূলক ম্যাচে একাদশ থেকে বাদ পড়া সাবেক অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারকে আবারও শুরুর একাদশে ফিরিয়েছেন বাটলার। এ ম্যাচেও শুরুর একাদশে জায়গা হয়নি গোলরক্ষক রূপনা চাকমার।এ ম্যাচে অনেকটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে একাদশ সাজিয়েছেন বাটলার। বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছে আক্রমণভাগ মাঝ মাঠের নিয়মিত ফুটবলারদের। ঋতুপর্ণা ছাড়াও নেই ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা।তবে সবচেয়ে বড় চমকটা বোধহয় আইরিন খাতুনের একাদশে সুযোগ পাওয়া। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই শুরুর একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।একাদশে এমন পরিবর্তনের আভাস অবশ্য আগেই দিয়ে রেখেছিলেন বাটলার। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে বাটলার বলেছিলেন, ‘ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমি বেশ কিছু তরুণ মেয়েক সুযোগ দেব। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই বড় মঞ্চের সুযোগগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা, শেখা এবং নিজেদের ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো।’মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, আইরিন খাতুন, সুরভি আক্তার আরফিন, অর্পিতা বিশ্বাস, মমিতা খাতুন, কোহাতি কিসকু, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, মোসাম্মাৎ সুলতানা।
কেশকিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দুষ্টু কোকিল খ্যাত টালিউডের সুপারস্টার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের খবর বেশ চাউর হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন অভিনেত্রী। শীতের আবহে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে বসতে পারে বিয়ের আসর।তবে বিয়ের খবরের চেয়েও বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে মিমির কথিত জীবনসঙ্গীকে ঘিরে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁর নাম সিদ্ধার্থ। তিনি চলচ্চিত্রজগতের কেউ নন, নৌবাহিনীতে কর্মরত।এরই মধ্যে সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিমির একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গেছে। পূজার সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডার মধ্যেই ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। ছবিতে দুজনকে হাসিখুশি দেখা গেছে।সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হচ্ছে, পূজার আবহেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন ধাপে এগিয়েছে। এমনকি বিয়ের কেনাকাটা ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।যদিও মিমি চক্রবর্তী কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত বিয়ে বা সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে ডিসেম্বরের বিয়ের খবরটি এখনো গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে।জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে যাদবপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন মিমি।বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এখন দেখার, সত্যিই কি ডিসেম্বরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মিমি, নাকি এই খবর শুধুই জল্পনা।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র যে ভূমিকাতেই তিনি হাজির হয়েছেন নিজের অভিনয়গুণে সেটিকে করে তুলেছেন অনন্য। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি দর্শকের কাছে এটিএম শামসুজ্জামান নামেই পরিচিত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে রেখে গেছেন এমন সব চরিত্র, যেগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়।অভিনেতা শুরু কিন্তু অভিনয় দিয়ে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করে পরে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখা এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার অন্যতম বহুমাত্রিক শিল্পী।চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের পথচলা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রের নানা কাজে যুক্ত হন। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখাতেও ছিল তার দক্ষতা। ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন করে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। এটিএমকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায়। শুরুতে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরে নিজেকে নানা ধরনের চরিত্রে মেলে ধরেন। এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৭৬ সালে। আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। এই সিনেমার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন দর্শকের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু তাঁকে শুধু খলনায়কের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি।এটিএম শামসুজ্জামানের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্র বদলে ফেলার ক্ষমতা। একদিকে যেমন ভয়ংকর বা কঠিন চরিত্রে দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছেন, অন্যদিকে কৌতুক চরিত্রেও হয়েছেন সমান জনপ্রিয়। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’তে তার হাস্যরসাত্মক অভিনয় দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে কৌতুক অভিনয়ের জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বীকৃতি পেয়েছেন।এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে দারুণ সব সিনেমা আর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘গেরিলা’র মতো সিনেমায় তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো সাহিত্যনির্ভর সিনেমায় তার অভিনয় দেখিয়েছে, কমেডি বা খলচরিত্রের বাইরেও কতটা শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন তিনি। নিজেও এক সাক্ষাৎকারে সাহিত্যনির্ভর গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন।অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। ২০১৫ সালে পান একুশে পদক। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননাও দেওয়া হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখা এবং পরিচালনাতেও তাঁর অবদান ছিল। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমা পরিচালনা করেন তিনি। এ টি এম শামসুজ্জামান ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের আচরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, ডনের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কী কারণে এবং কার সহযোগিতা বা ইন্ধনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে সিআইডি।সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মজিবুর রহমানের করা ওই আবেদনে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশের পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঢালিউডের রাজপুত্র বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তা আজও অমলিন। সকলের প্রিয় এই নায়কের চলে যাওয়ার ৩০ বছর পূর্ণ হলো আজ।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। সেই হিসেবে আজ তাঁকে ছাড়া আরও একটি বছর পার হলো। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি এখনো দর্শকের মনে সমানভাবে জায়গা করে আছে।১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তাঁর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে পা রাখার পর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ নামেই পরিচিতি পান তিনি।চলচ্চিত্রে আসার আগে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি।১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের মন জয় করে নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। এই জুটিকে দেখা গেছে ১৪টি সিনেমায়। পাশাপাশি মৌসুমী, শাবনূর, শাহনাজ, সোনিয়া ও অন্যান্য নায়িকার সঙ্গেও জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা।তবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান সালমান শাহ। ওই দিন রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসভবনের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়। ময়নাতদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল এখনো শেষ হয়নি।সালমান শাহ চলে গেছেন তিন দশক আগে। কিন্তু তাঁর সিনেমা, অভিনয় আর অনন্য ফ্যাশন এখনো নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান আকর্ষণের। ‘স্বপ্নের নায়ক’ বাস্তবের পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও ভক্তদের হৃদয়ে তিনি আজও ‘অন্তরে অন্তরে’।৩০ বছর পরও তাই সালমান শাহ যেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, যেখানে সময় থেমে আছে—কিন্তু ভালোবাসা ফুরায়নি।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ মুকুট জিতেছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে ১১১ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব জেতেন তিনি।এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডোমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সুবাদে এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে সফল জোহাইরি একাধারে শিক্ষক, সাংবাদকর্মী, সমাজকর্মী। শনিবার তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি।এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
কক্সবাজারের সমুদ্রে সৈকতে মোহনীয় লুকে দেখা মিলল অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির। তিনি নিজেই সমুদ্র সৈকত থেকে নিজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এরপর থেকেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবেতিনি জানিয়েছেন অন্য কোনো কারণে নয় শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন চিত্রনায়িকা দীঘি। নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।ছবিতে সমুদ্রের পাড়ে স্বাভাবিক ও ছিমছাম সাজে দেখা গেছে তাকে। সাগরের নীল জল আর বালুচরের আবহে অভিনেত্রীর নতুন লুকও নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।ছবির ক্যাপশনে দীঘি লিখেছেন, ‘আমি এসেছি সাগর পাড়ে ‘গো প্লান’-এর সাথে।’ এরপর থেকেই তার কক্সবাজার সফরের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই অভিনেত্রীর প্রশংসা করার পাশাপাশি জানতে চেয়েছেন, সেখানে নতুন কোনো কাজের শুটিং করছেন কি না।দীঘি অবশ্য বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাইছেন না। জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন প্রজেক্টের জন্য সেখানে গেছেন, সেটি আপাতত গোপনই রাখছেন অভিনেত্রী।নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীঘি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সময় হলে জানতে পারবেন।’ ফলে তার নতুন কাজটি সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রজেক্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও শেয়ার করেন দীঘি। এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপাড় থেকে প্রকাশ করা ছবিগুলোও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। ছবির পাশাপাশি নতুন কাজের রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আগ্রহ।শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন দীঘি। ছোটবেলায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এখন নতুন এই কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে কী চমক নিয়ে হাজির হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
সংসারের খরচ মেটাতে যখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশকে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, তখন ব্যাংকিং খাতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বিত্তশালী ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে। ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি জমা রয়েছে, এমন হিসাবের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। গত তিন মাসে এ ধরনের হিসাব বেড়েছে ৫ হাজারের বেশি।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাংকে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে। অর্থনীতির এই দুই বিপরীত চিত্রই এখন আলোচনায়। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের একটি অংশ যেখানে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বড় ব্যবসা ও বিত্তশালী শ্রেণির একটি অংশের আয় ও ব্যাংক আমানত বাড়ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।এর তিন মাস আগে, অর্থাৎ মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। তখন এসব হিসাবে জমা ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি। একই সময়ে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক আমানত বাড়ছে। তবে বড় অঙ্কের আমানত বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসা ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতেরও ভূমিকা রয়েছে।ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এক কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি সংস্থারও এ ধরনের হিসাব থাকতে পারে। আবার একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে। ফলে কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা এবং কোটিপতি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক নয়।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতিদের হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।পরবর্তী সময়ে সংখ্যাটি আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয় ১ লাখ ১৯৭৬টি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি।২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি। ২০২৪-এর ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টিতে আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। সবশেষ চলতি বছরের জুনে সেই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে পৌঁছেছে।অর্থাৎ, একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অর্থনীতির এই বৈপরীত্যই এখন দেশের আয় ও সম্পদ বণ্টনের চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার এক প্রবাসী যুবক। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কাজের সময় হঠাৎ মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।নিহত মো. শরিফুল ইসলাম ফকির উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মধ্যেপাড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। স্বজনরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও শরিফুলের সঙ্গে হাসিমুখে কথা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, “আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিয়ে করব।” দেশে ফিরে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ডিসেম্বরে বিয়ের বদলে তার নিথর দেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় এখন পরিবার।শরিফুলের পরিবারে নেমে এসেছে একের পর এক নির্মম শোক। তার মেজো ভাই মাত্র সাত বছর বয়সে মারা যান। বড় ভাইও প্রতিবন্ধী। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন শরিফুল। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসে গিয়েছিলেন তিনি। পরপর দুটি সন্তান হারানোর এই পাহাড়সম শোক এখন বইতে হচ্ছে শরিফুলের বৃদ্ধ বাবা মো. নজরুল ইসলাম ফকিরকে। একদিকে ছোটবেলায় এক সন্তানকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম—এর মধ্যে পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকেও হারিয়ে যেন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।পরিবারের স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে পরিশ্রম করে একদিন শরিফুল হাসিমুখে দেশে ফিরবেন। আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন, নতুন সংসার শুরু করবেন। কিন্তু নির্মম এক দুর্ঘটনায় প্রবাসের মাটিতেই থেমে গেল তার সব স্বপ্ন।শরিফুল ইসলাম ফকিরের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেডের মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) উপায় সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন গ্রাহক ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতে ও অভিনন্দন জানাতে একটি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।উপায়-এর পেমেন্ট ক্যাম্পেইনের বিজয়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. সোহেল রানা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি রাইডো ইলেকট্রিক বাইক।অন্যদিকে, উইকেন্ড ক্যাম্পেইন (লাভ সামলাও) উইক ৪-এর বিজয়ী রাজশাহীর মো. আইনুল হক এবং ফরিদপুরের শিহাব মাহমুদ সজল প্রত্যেকে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি করে স্বর্ণের বার।পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপায়-এর প্রতিনিধিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান।এ ধরনের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের বাড়তি সুবিধা ও পুরস্কারের সুযোগ দিতে চায় উপায়।
নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কমিশনকে নিয়ন্ত্রণের ফল কখনোই ভালো হবে না।মঙ্গলবার ( ১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম। পোস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকারের তালবাহানা ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে। সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাত ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান। প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির দেওয়া তারিখ চূড়ান্ত নয়।সাদিক কায়েমের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যেও সরকারের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে বোঝা যায়, সরকার নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ মানছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, সরকারকে সুযোগ করে দিতে নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একটি তারিখ ঘোষণা করানো হচ্ছে। ফলে জনগণের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট যে সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে।বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, সরকার একদিকে দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও জুলুমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের রায়কে ভয় পাচ্ছে।তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকারের সব স্তরে, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে সরকার কুখ্যাত স্বৈরাচার আইয়ুবশাহীর পথ অনুসরণ করছে।নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন দেশের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় না। এর উদাহরণ গত স্বৈরাচার সরকার।সাদিক কায়েম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে বিএনপিও স্বৈরাচার আমলের মতো দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণের ফল কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।