রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন স্থানে ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করে ২০২৯ সালের মধ্যে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ দশমিক ৫১ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণ করা হবে। সেখানে ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনগুলোর মোট আয়তন হবে প্রায় ৩২ লাখ বর্গফুট। ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে অফিস কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওই বৈঠকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদফতর ও স্থাপত্য অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরনো মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় গড়ে তোলা হবে। স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয়ের পরিবর্তে নতুন কমপ্লেক্স থেকেই সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।এদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোক্তায় প্রস্তাবিত ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ নামকরণের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়েছে।এছাড়া আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানো এবং আগামী গ্রীষ্মের পূর্বেই ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কোম্পানির স্থাপনার ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে (OPEX Model) অথবা নিজস্ব আয়ের সুবিধায় (CAPEX Model) সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে (১৫ বছর) বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া ও সার্ভিস প্রোভাইডারের নীতিগত জটিলতা দূর করতেই বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক খসড়া অধ্যাদেশটি তৈরি করা হয়।আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিপজ্জনক কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ১৯৯৮ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি ‘Rotterdam Convention on the Prior Informed Consent Procedure for Certain Hazardous Chemicals and Pesticides in International Trade’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির (Accession) প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কেবল বাংলাদেশ ও ভুটান ব্যতীত সবাই এই ১৬৭ দেশের কনভেনশনটির সদস্য।কনভেনশনে যুক্ত হওয়ার ফলে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের ডেটাবেজ প্রণয়ন, কেমিক্যাল ট্র্যাকিং, বৈদেশিক অর্থায়ন বৃদ্ধি, ১৬৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সাথে বৈজ্ঞানিক ও আইনি তথ্য বিনিময় এবং রটারডাম সচিবালয় থেকে কারিগরি সহযোগিতা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ফ্রান্সে মূল্যস্ফিীতির বিরদ্ধে চলতে থাকা বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো ঘটনার কারণে ১,৮০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রোববার (১৮ অক্টোবর) দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ নিশ্চিত করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্সে’ দেওয়া এক পোস্টে লরেন্ট নুনেজ বলেন, ‘১,৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এসব অপকর্মের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।’প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ, বোর্দোসহ অন্যান্য প্রধান শহরে ঘটে যাওয়া এই সহিংসতা মূলত মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত গণবিক্ষোভের অংশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের হাই স্কুলগুলোতে ক্লাসরুমের নাজুক পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের টানা চার সপ্তাহের বিক্ষোভের পরপরই এই ঘটনা ঘটল, যার কয়েকটি আগেও সহিংস রূপ ধারণ করেছিল।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কয়েকটি সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুর এবং দোকানে ব্যাপক লুটপাটের জন্য কয়েক হাজার উগ্র-বামপন্থি ব্যক্তিদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘সম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে তা বেশ মারাত্মক, বিশেষ করে কয়েকশ দোকান মালিকের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতি ডেকে এনেছে।’নুনেজ জানান, বিক্ষোভের সময় প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য, দমকলকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মী আহত হয়েছেন, তবে এই সংখ্যাটি শেষ পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা চাপিয়ে দিতে চায়, তাদের কাছে ফ্রান্স কখনো নতি স্বীকার করবে না।
দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড়, আর সেই জায়গাতেই এখন সবুজের সমারোহ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান ‘রূপান্তর’।১৮ অক্টোবর রোববার সকালে আমিনবাজারে নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বাগানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রায় দুই দশক ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই সবুজায়ন প্রকল্প। বাগানে নিম, সুপারি, তালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ, উইন্ড টারবাইন ও রাতের আলোকসজ্জা।প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগকে পরিবেশ উন্নয়নের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বাগানটির সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে এলাকাবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।দীর্ঘদিনের বর্জ্য সমস্যার অবসান ঘটিয়ে গড়ে ওঠা এই বাগান এখন মহাসড়কের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং তা পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন।রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রমনা মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।রাষ্ট্রপতি সবাইকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল।তিনি বলেন, এই দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে পরাজিত করেছে।রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। পরে ১৯৭৩ সালে এটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল।রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এরপর ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এই রমনা কালী মন্দির পুনঃস্থাপিত হয় এবং তখন থেকেই এটাকে আবার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সকলকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সবসময় অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, অপপ্রচার করা হয়।তিনি বলেন, আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে, জোর গলায় বলতে পারি- বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রপতি।এ সময় তিনি পূজার সফলতা কামনা করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য।রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।
“জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার তা থেকে সরে আসছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এ মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবার যোগ্য নয়, আজ থেকে সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অপরাধ। তাঁর মতে, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়ার সঞ্চালনায় দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্যে জনাব মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, আমরা তা কল্পনাও করিনি। তিনি বলেন, বিএনপি নিজেরাই দাবি করেছে, জুলাইয়ে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন; বিএনপিরও সেই ভুল করা উচিত হবে না। জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার অনেক কিছুই বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথচ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এমন আচরণ করছে, যেন জুলাই সনদ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে, অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা। রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থতার কারণেই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে এসেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের ক্ষেত্রে দ্বৈত অবস্থান নিয়েছে,সরকার গঠনের ফলাফল মেনে নিলেও গণভোটের রায় উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর করতেই হবে; অন্যথায় সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে। তাঁর মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। তিনি বলেন, জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠা। তাঁর অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুলাই সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে; এখন প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা। সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে এবি পার্টি প্রস্তুত।আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, বরিশাল সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার,সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল,গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু ও মোহসীনুল হক চৌধুরী, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা ও আমেনা বেগম, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা,সহ প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবির, গাজীপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা এবং প্রবাসীবিষয়ক সহসম্পাদক নুরুন্নবী নয়ন, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম, নরসিংদী সমন্বয়ক কাজল মিয়া, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবির বাধায় পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই ১২ জন ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্তের কাছে অবস্থান করছেন।বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,রবিবার(আজ) ভোর ৪টার দিকে বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের ৮৩৮/১ নম্বর পিলারের ভারতীয় কোশালডাংগা এলাকা দিয়ে ২ শিশু, ২ নারী ও ৮ পুরুষকে একযোগে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। বিজিবির বাধায় বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ১২ জন বর্তমানে সীমান্তের প্রায় ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কোশালডাংগায় অবস্থান করছেন। তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ শাহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মামুন (২৫) নামে এক বাসচালকের বাম চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক আওলাদ হুসাইন তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, পলক ও আনিসুল হক বর্তমানে অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। মামলার তদন্তে তাদের জড়িত থাকার প্রাথমিক সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্যান্যরা গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্র পক্ষে আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বাদীর বন্ধু হোসেন, খোকন, আরিফসহ অনেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফ্লাইওভারের ওপর অবস্থানকালে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। এসময় বাদীর শরীরের বিভিন্ন স্থান, বাম চোখ ও মাথায় গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ইসলামিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাম চোখের অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার একপর্যায়ে তার বাম চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর রাজধানীর নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।একই বছরে ১৫ আগস্ট খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় পলককে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ। তিনি জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে পৌর শহরের মধ্যবাজারের সিনেমা হল এলাকা থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃত অপূর্ব দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমশের আলীর ছেলে। এর আগে ২০২৫ সালে জানুয়ারি মাসে দুর্গাপুরে পুলিশ সদস্য মো. শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তাকে। পরে জামিনে আসে অপূর্ব।উল্লেখ্য , গত বৃহস্পতিবার দূর্গাপুর উপজেলার তেলুনজিয়া বাজার এলাকায় রাত সাড়ে আটার দিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দূবৃর্ত্তরা ।এ ঘটনায় শুরুবার রাতে নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞত আটজনকে আসামী করে দূর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঢাকা জেলার ধামরাই বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত 'মুকুল পিভিসি ইন্ডাস্ট্রিজ'-এর একটি পরিত্যক্ত গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে গোডাউনটির আনুমানিক ১,০০,০০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও দক্ষ পদক্ষেপের কারণে প্রায় ৫,০০,০০০ টাকার সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রবিবার সকালে আনুমানিক ৯টা ১৭ মিনিটে বিসিক শিল্প নগরীর ওই কারখানার প্রায় ১০০×৩০ বর্গফুট আয়তনের একটি স্টিল স্ট্রাকচারের পরিত্যক্ত গোডাউনে হঠাৎ আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার স্টেশন থেকে স্টেশন অফিসার জনাব আল আমিন খানের নেতৃত্বে দুটি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মাত্র ৮ মিনিটের ব্যবধানে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের টিম দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রায় ২৫ মিনিটের আপ্রাণ চেষ্টায় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ড্যাম্পিং ডাউন বা শীতলীকরণ কাজ শেষে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপিত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস লিকেজ থেকেই মূলত এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল।ফায়ার সার্ভিসের সময়োচিত উপস্থিতি এবং কার্যকর পদক্ষেপের ফলে আগুন বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটাতে পারেনি এবং কারখানার আশপাশের অন্যান্য স্থাপনাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের মেয়েদের ওপর বাল্যবিবাহের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে, ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (আইএইচএফ) ও ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশ। রাজধানীর বসুন্ধরার ইসমাইলি জামাতখানা অ্যান্ড সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানটিতে দুটি প্যানেল ডিসকাশনের আয়োজন করা হয়। যেখানে আলোচনায় উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নানা সংকট কীভাবে পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়ায় এবং মেয়েদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, নারী-পুরুষের বৈষম্য এবং মেয়েদের অধিকার এই সকল বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে জড়িত। তাই এসব সমস্যা মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাল্যবিবাহকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিবারের আয় কমে যায়। ফলে মেয়েদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হয় এবং তাদের ওপর সাংসারিক দায়িত্ব এসে পড়ে। এসব পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো চাপে পড়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “একটি ঝড় একটি পরিবারের জীবন এলোমেলো করে দিতে পারে। স্কুলঘর ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু কোনো দুর্যোগই যেন একটি মেয়ের স্বপ্নপূরণ বা নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।”প্রথম প্যানেল ডিসকাশনটির সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শামীমা আক্তার। আলোচনাটিতে অংশ নেন সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর)-এর উপপরিচালক রৌফা খানুম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট অনিতা গাজী রহমান, সিটিব্যাংক এন.এ., বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স রুমানা আহমেদ এবং জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন স্পেশালিস্ট আফসানা চৌধুরী।দ্বিতীয় প্যানেল ডিসকাশনে সঞ্চালনা করেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সৈয়দ ফজলে নিয়াজ। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম ফিরোজ; বুরো বাংলাদেশের জেন্ডার অ্যান্ড ক্লাইমেট লিড এর হেড অব রিসার্চ, মাইমুনা জাহরা ফারিহ; আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইসরাত করিম ইভ এবং গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস কাউন্সিলের কান্ট্রি লিড ফারাহ আনজুম।দুটি প্যানেল ডিসকাশনেই প্যানেলিস্টরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু দুর্যোগের সময় ত্রাণ সহায়তা দিলেই হবে না। দুর্যোগের পর পরিবারগুলো যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সুযোগ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য মেয়েদের সুরক্ষার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও আয়ের সুযোগ বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উদ্যোগ ও নিজেদের জীবনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশের লিড, মুনিরা আহমেদ ফিদাই। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেয়েদের কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং তাদের নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আরও নিরাপদ ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সংস্থা, যা শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জরুরি সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে শিয়া ইসমাইলি মুসলিম কমিউনিটির আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ইসমাইলি সিভিক সমাজের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। অনুষ্ঠানটিতে পিআর পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করেছে ব্যাকপেজ পিআর এবং ডিজিটাল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য নিউজ কমপ্রেস।
বাণিজ্য, নৌপরিবহণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ প্রশাসনে সচিব পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় বদলি করেছে সরকার। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখার উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত পৃথক ১০টি প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।এ ছাড়া নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অপরদিকে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ূন কবীরকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।এদিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।তাছাড়া জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মো. কামরুজ্জামানকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়।
“জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার তা থেকে সরে আসছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এ মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবার যোগ্য নয়, আজ থেকে সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অপরাধ। তাঁর মতে, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়ার সঞ্চালনায় দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্যে জনাব মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, আমরা তা কল্পনাও করিনি। তিনি বলেন, বিএনপি নিজেরাই দাবি করেছে, জুলাইয়ে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন; বিএনপিরও সেই ভুল করা উচিত হবে না। জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার অনেক কিছুই বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথচ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এমন আচরণ করছে, যেন জুলাই সনদ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে, অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা। রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থতার কারণেই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে এসেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের ক্ষেত্রে দ্বৈত অবস্থান নিয়েছে,সরকার গঠনের ফলাফল মেনে নিলেও গণভোটের রায় উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর করতেই হবে; অন্যথায় সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে। তাঁর মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। তিনি বলেন, জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠা। তাঁর অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুলাই সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে; এখন প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা। সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে এবি পার্টি প্রস্তুত।আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, বরিশাল সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার,সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল,গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু ও মোহসীনুল হক চৌধুরী, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা ও আমেনা বেগম, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা,সহ প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবির, গাজীপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা এবং প্রবাসীবিষয়ক সহসম্পাদক নুরুন্নবী নয়ন, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম, নরসিংদী সমন্বয়ক কাজল মিয়া, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৬ উপলক্ষে বগুড়ায় ২ হাজার ৩০০ নারীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। বগুড়া সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার নারীদের মধ্যে এসব শাড়ি বিতরণ করা হয়।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নারীদের হাতে শাড়ি তুলে দেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা।বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আকতার এবং সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অতুল চন্দ্র দাস।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা. শামছুন্নাহার শিউলী, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আপেল মাহমুদ, শাহ আলম জনি ও রাজিবুল করিম রাফি, প্রচার সম্পাদক আল-আমিন পেস্তা, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্যসচিব গৌর চন্দ্র পোদ্দার (চন্দন), সদর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও মঙ্গলা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বিপুল কর্মকার এবং সাবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই উপহার বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বগুড়া সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার ২ হাজার ৩০০ নারী শাড়ি পেয়েছেন।
৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। সেই আফগানদের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ২৪০ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংস শেষে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। রোববার (১১ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন এবাদত হোসেন। দলীয় ২১৯ রানে ১০৩ বলে ৩২ রান করে বোল্ড হন ইকরাম আলিখিল।এরপর ইনিংসের ৮৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান মাহমুদ। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে উইকেট পেয়েছেন হাসান। আউট করেছেন ইসমত, কায়েস ও জিয়া–উর–রেহমানকে।বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান। পেসারদের মধ্যে প্রথম। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক ছিল অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর। তার দুজনেই ছিলে স্পিনার।এরপর ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এমন বিপর্যয়ের মাঝে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন রহমত শাহ। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়।আর শেষ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মদ সালিম আউট হলে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান ৫টি ও এবাদত নিয়েছেন ৪টি উইকেট।
বাংলা গানের ‘যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। দীর্ঘদিনের বিরতি শেষে নতুন একক গান নিয়ে ফিরেছেন নন্দিত এই কণ্ঠশিল্পী। ‘ভুলে গেছি তোমাকে’ শিরোনামের গানটি এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।‘মন থেকে উঠে গেছো তুমি, ভুলে গেছি আমি তোমাকে, নেই ভালোবাসা বলে কিছু, বুঝেছি ভালোবেসে ঠকে, তোমারই পিছে ছুটেছি মিছে, পড়েছে কালি তাই চোখের নিচে’ এমন কথায় সাজানো গানটি লিখেছেন স্নেহাশীষ ঘোষ।গানটির সুর করেছেন রাজেশ ঘোষ এবং সংগীতায়োজন করেছেন এম এম পি রনি। ইয়ামিন এলানের পরিচালনায় নির্মিত মিউজিক ভিডিওতে আসিফ আকবর নিজেই অংশ নিয়েছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর আর মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে ‘ভুলে গেছি তোমাকে’।এই গানটির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রাজেশ ঘোষের সুরে কণ্ঠ দিয়েছেন আসিফ আকবর। আসিফের সংগীতজীবনের অন্যতম জনপ্রিয় অনেক গানের সুরকার রাজেশ ঘোষ। দীর্ঘদিনের এই শিল্পী-সুরকার জুটির বোঝাপড়াও বেশ পুরোনো। নতুন গানটি নিয়ে তাই প্রত্যাশাও বেশি আসিফের।গানটি প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, “অনেক দিন পর রাজেশ ঘোষের সুরে গান গাইলাম। আমার সংগীত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু গানের সুরকার তিনি। তার সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটাও অনেক দিনের। আশা করছি, আমাদের এই পুরোনো শিল্পী-সুরকার জুটির নতুন আয়োজনটি সংগীতপ্রেমীদের ভালো লাগবে এবং প্রত্যাশা পূরণ করবে।”এদিকে, নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি বিদেশ সফরের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন আসিফ আকবর। ইনছন বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়া (আইবিসিকে)-এর আয়োজনে ‘বাংলাদেশ উৎসব ২০২৬’-এ অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন তিনি।আগামী ১০ অক্টোবর ইনচিওনের সামসান ওয়ার্ল্ড জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। সেখানে সংগীত পরিবেশন করবেন আসিফ আকবর।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার জানান, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ফেরানোর চেষ্টা) দেওয়া হলেও তাকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা পাটেকারকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চালান; তবে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। তার ছেলে মালহার পাটেকার তখন পুনেতে ছিলেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকেল-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নান পাটেকারের। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তীব্র অভিনয়, শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার জন্য ভারতীয় সিনেমায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ইয়েশবন্ত’সহ একাধিক প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানার। পরে ধীরে ধীরে নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ (২০০৬)-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন নান পাটেকার। চরিত্রটির জনপ্রিয়তার কারণে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এও তাকে একই ভূমিকায় দেখা যায়। পাশাপাশি ২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
বলিউডের অন্যতম তারকা জুটি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি। আবারও তাদের পরিবারে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। কন্যাসন্তান সারায়াহর প্রথম জন্মদিনের আনন্দ কাটতে না কাটতেই আবারও মা হওয়ার ঘোষণা দিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বিশেষ ছবি শেয়ার করে জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানান কিয়ারা। যেখানে সিদ্ধার্থ ও মেয়ে সারায়াহর পাশাপাশি তিনজনের হাতে দেখা যায় এক জোড়া ছোট্ট শিশুর বোনা জুতো। গত বছর প্রথম সন্তান আসার সময় যেভাবে খবরটি ভাগ করেছিলেন তারা, এবারও প্রায় একই ধাঁচের ছবিতে ভরিয়ে তুলেছেন আবেগ। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এমন এক অমূল্য আশীর্বাদে হৃদয় কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।’২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমেরে জমকালো আয়োজনে চার হাত এক হয়েছিল এই তারকাদম্পতির। এরপর গত বছরের নভেম্বরে প্রথম সন্তান সারায়াহকে স্বাগত জানান তারা। মা হওয়ার পর খুব বেশি দিন ক্যামেরা থেকে দূরে ছিলেন না কিয়ারা। চলতি বছরেই সাউথ তারকা যশের বিপরীতে ‘টক্সিক’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।মাতৃত্ব নিজের ভেতর কতটা রূপান্তর এনেছে, তা নিয়ে সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে কথা বলেন কিয়ারা। তার ভাষ্যমতে, মা হওয়ার পর জীবন সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় নেয়। এমনকি নিজেকে আরও স্বাধীন ও শক্ত মানসিকতার বা ‘টাইগ্রেস’ মনে হয় বলে জানান তিনি।কাজের প্রতি কিয়ারার এই একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন ‘টক্সিক’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও। তিনি জানান, সিনেমাটির একটি ভারী বৃষ্টির দৃশ্যে শুটিং করার সময় কিয়ারা ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক নানান জটিলতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এতটুকু না দমে দৃশ্যটির কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করেছিলেন তিনি।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘শেরশাহ’-র সেটে প্রথম কাছাকাছি আসেন সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা। সিনেমায় ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার চরিত্রে সিদ্ধার্থ এবং ডিম্পল চিমার চরিত্রে নজর কাড়েন কিয়ারা। পর্দার সেই প্রেম কালক্রমে বাস্তবে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন গোপন রাখার পর টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ সম্পর্কের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন তারা, যা পরবর্তীতে পরিণতি পায় ধুমধাম বিয়ের মাধ্যমে।
ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি অনন্য বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে বাংলার তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। প্যারিসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মসলিন ও অপ্সরা রূপে দেখা গেল এ অভিনেত্রীকে। তিনি রিয়া কাপুরের স্টাইলিং ও পোশাকের সমন্বয়ে ফ্যাশনে নিয়ে আসেন এক বৈচিত্র্য উপস্থাপনা।প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সেই অনুষ্ঠানে দেবীতুল্য ও মোহময়ী অবতারে ধরা দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন অভিনেত্রী। ফ্যাশন দুনিয়ার বিশ্ব সেরা ৫০০ প্রভাবশালী মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বের তালিকায় এবার স্থান পেয়েছেন তিনি। আর সেই উদযাপনের মঞ্চেই ভারতীয় ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি করে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান নিজেকে। বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরেন জাহ্নবী কাপুর।অভিনেত্রীর এই রাজকীয় স্টাইলিংয়ের নেপথ্যে ছিলেন কাপুর পরিবারের আরও এক কন্যা ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘পঙ্কজ এস হেরিটেজ’-এর কাস্টম ডিজাইনে নির্মিত এই পোশাকটিতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আধুনিক রূপায়ণ ঘটানো হয়েছে।শাড়িটি তৈরি করা হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের সুতা দিয়ে, যার মধ্যে ফুটে উঠেছে মসলিনের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর ঐতিহ্যগতভাবে ‘বাফ-ই-হাওয়া’, ‘শবনমী’ বা ‘চাঁদনি’ নামে পরিচিত। আইভরি ক্যানভাসের ওপর পোখরাজ, পান্না, গার্নেট, মুক্তা ও সোনার পুঁতির চমৎকার কারুকাজ কাঁধ থেকে হাত পর্যন্ত ছড়ানো গহনার কাজ পোশাকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।২০২৬ সালের ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ তালিকায় বিশ্বজুড়ে আটটি ক্যাটাগরিতে ১০০ জন নতুন ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় জাহ্নবী কাপুরের পাশাপাশি স্থান করে নিয়েছেন আরও দুই ভারতীয় মডেল ভাবিতা মান্ডভা ও প্রীতিশা স্বরূপ।‘শানেল’-এর শো ওপেন করা প্রথম ভারতীয় নারী শানেলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ভাবিতা মান্ডভা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মডেল, অপারেশন্স স্মাইলের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর ও আয়ুর্বেদিক বিউটি ব্র্যান্ড ‘প্রাক্তি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রীতিশা স্বরূপ।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত সিনেমা ‘মাস্টার’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।নির্মাতা সুমিত খবরটি নিজেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এই অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা এবং প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।’লুক্কা উৎসবে এ বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি এবং জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। তার মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত।‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি এরকম, ‘স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য (পুরস্কারটি দেওয়া হলো)। একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে যায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে। অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।’সবশেষে নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা; সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’কিন্তু প্রশ্ন তো থেকে যায়, বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করে যাওয়া ‘মাস্টার’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে? সে প্রশ্নটা নির্মাতা সুমিতেরও। কারণ ‘মাস্টার’ এখনও দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটা মিললেই পর্দায় আসবে সিনেমাটি।‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় আছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।
হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রাক্তন বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আগে ও পরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট চিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং বাসিন্দাদের মানবিক চাহিদাকে তুলে ধরেছে। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, গাজার ‘পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।’তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।’
সকালে বের হওয়ার আগে স্কিন কেয়ার এখন অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। ফেসওয়াশ, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও সিরামের পাশাপাশি সেই রুটিনে জায়গা করে নিয়েছে সানস্ক্রিনও। তবে সানস্ক্রিন হাতে নেওয়ার পর, পছন্দ করার ক্ষেত্রে যে সংখ্যাটির দিকে সবচেয়ে আগে চোখ যায়, সেটি হলো এসপিএফ—সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর। কত এসপিএফ ব্যবহার করা উচিত, সেটি নিয়ে তাই প্রশ্নও থাকে অনেকের। কিন্তু তার আগে জানা দরকার, এসপিএফ আসলে কী?সহজভাবে বললে, এসপিএফ হলো সানস্ক্রিনের, সূর্যের আলো থেকে নির্গত ক্ষতিকর ইউভি বি এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার একটি পরিমাপ। অন্যদিকে UVA রশ্মিও ত্বকের ক্ষতি, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু SPF-এর সংখ্যা নয়, সানস্ক্রিনটি UVA ও UVB—দুই ধরনের রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় কি না, অর্থাৎ এটি ব্রড স্পেকট্রাম কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসপিএফের সংখ্যা যত বাড়ে, UVB-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষাও বাড়ে; তবে এই বৃদ্ধি সরলরৈখিক নয়। প্রচলিত হিসাবে SPF 15 প্রায় ৯৩%, SPF 30 প্রায় ৯৭% এবং SPF 50 প্রায় ৯৮% UVB রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। SPF 100-এর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯৯%। অর্থাৎ SPF 30 থেকে SPF 50-এ সংখ্যাটি অনেকটা বাড়লেও UVB ফিল্টার করার হারে পার্থক্য তুলনামূলকভাবে ছোট। এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—SPF কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রোদে নিরাপদে থাকার অনুমতি নয়। অর্থাৎ SPF 30 ব্যবহার করলে SPF 15-এর তুলনায় দ্বিগুণ সময় রোদে থাকা যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সূর্যের তীব্রতা, কতটা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে, ঘাম, পানি এবং পুনরায় সানস্ক্রিন লাগানো হয়েছে কি না—এসবের ওপর বাস্তব সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে। তাহলে নিজের জন্য সঠিক সানস্ক্রিন বাছাই করার সময় কী দেখা উচিত?American Academy of Dermatology-এর পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য SPF 30 বা তার বেশি, broad-spectrum সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া ভালো। বাইরে থাকলে সাধারণভাবে প্রতি দুই ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়; সাঁতার কাটা বা বেশি ঘাম হলে আরও ঘন ঘন লাগাতে হতে পারে। এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—প্যাকেজে লেখা দাবিটির পেছনে পরীক্ষার প্রমাণ আছে কি না। একটি সানস্ক্রিনের বোতলে SPF 30, 50 বা 100 লেখা থাকলেই সেই সংখ্যাটি যে বাস্তব পরীক্ষায় একইভাবে পাওয়া গেছে, তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষাটি কখন ও কোথায় হয়েছে এবং কোন ল্যাব তা করেছে—এসব তথ্যও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাস্টমারদের কাছে কোম্পানিগুলো এসব তথ্য সহজভাবে তুলে ধরে না। ফলে কোনো পণ্য তার প্যাকেজে করা দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে যাচাই করা কঠিন হয়ে যায়।বাংলাদেশের বাজারে কিছু ব্র্যান্ড এখন তাদের SPF পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করছে।এই জায়গায় উদাহরণ হিসেবে Skin Cafe-এর একটি সানস্ক্রিনের পরীক্ষার তথ্য উল্লেখ করা যায়। ব্র্যান্ডটির শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, Skin Cafe Sunscreen SPF 50 PA+++ with Vitamin C পণ্যটি তাইওয়ানের বিখ্যাত Bionest Biochemical Technology Co., Ltd থেকে পরীক্ষিত। পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.73 পাওয়া যায় বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া এটি WAFFEN Research Laboratory Limited-এ পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। উক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.51 পাওয়া যায়। রিপোর্টে উল্লেখিত ফলাফলটি প্যাকেজে দেওয়া SPF 50 দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।অর্থাৎ, সানস্ক্রিন কেনার সময় শুধু “SPF” লেখা আছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। SPF-এর পাশাপাশি ব্রড স্পেক্ট্রাম সুরক্ষা, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফলের প্রমাণ এবং পণ্যটি নিজের ত্বক ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে কতটা মানানসই—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা উচিত।শেষ পর্যন্ত সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু বোতলের একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সঠিক পরিমাণে ব্যবহার, নিয়মিত পুনরায় প্রয়োগ এবং রোদ থেকে সুরক্ষার অন্যান্য ব্যবস্থা—সবকিছু মিলেই কার্যকর সান প্রোটেকশন তৈরি হয়। ইমপোর্টেড হোক কিংবা লোকাল—পণ্যের দাবি, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফল এবং এসব তথ্য প্রকাশে ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানার অধিকার ভোক্তাদের রয়েছে। আর একটি ভালো সানস্ক্রিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই তথ্য জানাটাই হতে পারে প্যাকেজের বড় একটি সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ১৯ অক্টোবর ঢাকাসহ দেশের সব সোনার (জুয়েলারি) প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।রোববার (১৮ অক্টোবর) সোনা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) এর সভাপতি এনামুল হক এর সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানা হয়েছে।এতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে অষ্টমী পূজার দিন অর্থাৎ আগামীকাল (১৯ অক্টোবর) সোমবার সারাদেশে সব জুয়েলারি দোকান পূর্ণদিবস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। ওই দিন দেশের সব জুয়েলারি দোকান বন্ধ থাকবে।
মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিতি আক্তার। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তদন্ত ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে মক্কা অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই সাজা বাস্তবায়ন করা হয়।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। প্রতিবেদন আজেল নিউজের।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধের গুরুতরতা এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের বিবেচনামূলক শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ রায় বহাল রাখে। এরপর দণ্ড কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর বুধবার মক্কা অঞ্চলে নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন কিংবা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন প্রয়োগে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে তাকেও আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।সূত্র: আজেল
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান উপায় তাদের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এজেন্ট ক্যাম্পেইনের বিজয়ী হিসেবে খুলনার মো. সাইদুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেছে। ক্যাম্পেইনের মেগা গিফট হিসেবে তিনি জিতেছেন একটি রাইডু ই-বাইক। উপায়ের প্রধান কার্যালয়ে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয় এবং তার হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়।ক্যাম্পেইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী এজেন্টদের মধ্য থেকে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের কুষ্টিয়া সদরের মো. সাইদুল ইসলামকে মেগা গিফট বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।রাইডু ই-বাইক জয়ের জন্য মো. সাইদুল ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়েছে উপায়। একই সঙ্গে দেশজুড়ে আরও বেশি মানুষের কাছে সুবিধাজনক ডিজিটাল আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে এজেন্টদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।এজেন্ট ক্যাম্পেইনের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে উপায় তার এজেন্টদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবস্থায় গ্রাহকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।