রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুতই শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রামিসা হত্যাকাণ্ড ও সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রো-অ্যাকটিভ কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকার গঠনের পর এ জাতীয় ক্রাইম (ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ড) যা হয়েছে, সবগুলোতেই পুলিশ কাজ করেছে। দ্রুত সময়ের আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করা হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়াও শেষ হবে।’ বিচারহীনতার কথা সবসময় সঠিক নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় বিলম্ব হয়, বিচার আদালতের বিষয়। তনু হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংক্ষিপ্ত সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হবে। আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার জন্য যা যা করার, সবই চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক কিছুই করার বাকি রয়েছে, মানি। কিন্তু সরকারের সময় মাত্র তিন মাস। সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগবে। আইন সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। কিছু কিছু সংশোধন আনতে হবে। খুব সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে অবিচার করা হচ্ছে কিনা, তাও দেখতে হবে। জনগণের ক্ষোভ মেটাতে সাময়িকভাবে আইন প্রণয়ন সবসময় ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাগুরার আছিয়া, ঢাকার রামিসা- সবকিছুই আমাদের মানুষত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন অপরাধ কোনোভাবেই আনচ্যালেঞ্জড হতে দেবো না।’ পুলিশ কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়াকে অতিদ্রুত করতে পারলে রামিসার বাবার প্রশ্নের জবাব দিতে পারব। কার্যকর করা সুপ্রিম কোর্টের হাতে। বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’ গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার (৭) মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সোহেল রানা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভালো হবে। ২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।জাতীয় নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ দেখছেন এ এম এম নাসির উদ্দিন।তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে যাতে সহিংসতা না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। সরকার দেশের মঙ্গল চাইবে—আমাদের বিশ্বাস, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সহায়তা করবে। চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই থাকবে।এদিকে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের চেয়ারম্যান রোহানা হেতিয়ারাসসি বলেন, কোনো নির্বাচনই পারফেক্ট হয় না। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসের তুলনায় এটি তাৎপর্যপূর্ণ ভোট ছিল। এটি ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন, কারণ ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পেরেছেন। গণতন্ত্র উন্নত হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, পবিত্র হজ উপলক্ষে পরিচালিত প্রি-হজ কার্যক্রম ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ২১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সর্বশেষ হজ ফ্লাইট বিজি ৩৩৫-এর মাধ্যমে এ বছরের প্রি-হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়।চলতি হজ মৌসুমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট ৯৮টি প্রি-হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে ৩৮ হাজার ৬৮০ জন হজযাত্রীকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আরামদায়কভাবে সৌদি আরবে পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি সৌদিয়া ও ফ্লাইনাসের যাত্রীসহ মোট ৭৬ হাজার ১৯৭ জন যাত্রীর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ অন্যান্য সেবাও দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি।এছাড়া, এয়ারলাইনসটি বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ হজ কেয়ার প্যাক বিতরণ করেছে।এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাদের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সংস্থাটি আবারও সক্ষমতা ও অঙ্গীকারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনদের প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
বর্তমানে দেশ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় তারা ধীরে ধীরে নিজ নিজ ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশের প্রয়োজনে সেনাসদস্যরা মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। । তিনি বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সেনাপ্রধান বলেন, দীর্ঘ সময় মাঠে দায়িত্ব পালনের পরও সেনাসদস্যরা শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণ দক্ষতা ধরে রেখেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, “১৮ মাস মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের পরও ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় যে দক্ষতা দেখা গেছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।”তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময়ই যুদ্ধ প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং পেশাগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনগণের পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জরুরি অবস্থায় সেনাবাহিনীকে মাঠপর্যায়ে সহায়তা ও দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শুরু হওয়া এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শেষ হয় বৃহস্পতিবারের সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করে।প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ধাপে লক্ষ্যভেদ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, সমন্বিত ফায়ারিং এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সিমুলেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যাচাই করা হয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার শেষে ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।বিজয়ীদের হাতে সেনাপ্রধান পুরস্কার তুলে দেন এবং অংশগ্রহণকারী সব দলকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পারফরম্যান্সের জন্য উৎসাহ দেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডন্যান্স (এমজিও), বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার সিলেটসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ফরমেশনের সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।সেনাবাহিনী সূত্র আরও জানায়, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু দক্ষতা যাচাই নয়, বরং ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আধুনিক যুদ্ধ কৌশল চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিয়মিত আয়োজন করা হয়।
গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীতে গত দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া নীট কম্পোজিট লিঃ কারখানার শ্রমিকরা এ কর্মবিরতি শুরু করেন। পুলিশ ও শ্রমিকরা জানান,কেয়া নীট কম্পোজিট লিঃ কারখানায় গত দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গেল রোববার সন্ধ্যা থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ২০ মে বেতনের দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধ না করলে কাজে যোগ দিবেননা বলে জানায়। আজ সকাল থেকে সুয়িং সেকশনের শ্রমিকরাও কর্মবিরতি শুরু করে। এর আগে ডাইং নীটিং সেকশনের শ্রমিকরা ১৭ মে সন্ধ্যা থেকে কাজ বন্ধ করে ভিতরে অবস্থান করে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডাইং অপারেটর বলেন, আমাদের গত দুই মাসের বেতন এবং চলতি মাসের বেতন পাবো। কয়েকদিন পরে কোরবানি ঈদ। সবাই যখন ঈদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত আমরা বেতনের জন্য আন্দোলন করি। ওই শ্রমিক আরও বলেন,বেতন না দেওয়া পর্যন্ত কাজ করবনা। একাধিক সূত্রে জানা যায় কেয়া নীট কম্পোজিট লিঃ কারখানার স্টাফদের বেতনও ঠিক মতো পরিশোধ করছেনা কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন,দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ মাসের বকেয়া বেতন পাবেন। কেয়া নীট কম্পোজিট লিঃ কারখানার স্টাফরা অত্যান্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানান তারা।এ বিষয়ে জানতে কেয়া নীট কম্পোজিট লিঃ কারখানার মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিনের কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলে কথা না বলে ফোন কেটে দেন। এছাড়াও বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত তমিজউদদীন টেক্সটাইল মিলস্ পিএলসির শ্রমিকরা বাৎসরিক ছুটির টাকা, ইনক্রিমেন্ট ও মে মাসের অর্ধেক বেতন ঈদের আগে পরিশোধের দাবিতে কাজ বন্ধ করে মুল ফটকের সামনে অবস্থান করছে। বিপ্লব নামের রিং অপারেটর বলেন,আমরা অসুস্থ হলে ছুটিও দেয়না কর্তৃপক্ষ। কোন নিয়মে আছে অসুস্থ হলে ছুটি দেওয়া যাবেনা। তমিজউদদীন টেক্সটাইল মিলস্ পিএলসি কারখানা কর্তৃপক্ষ ২৪ মে পবিত্র ঈদুল আজহার বোনাস এবং বিটিএমএ কর্তৃক ঘোষিত প্রঞাপন অনুযায়ী মে মাসের বেতন দেওয়া হবে মর্মে কারখানার মূল ফটকে নোটিশ সাটিয়ে দেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইফতেখার হোসেন বলেন, কেয়া নীট কম্পোজিট লিঃ বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে শ্রমিকরা এমন একটি ম্যাসেজ পেয়েছি। তিনি বলেন,শিল্প পুলিশ ও কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছেন।এছাড়াও বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত তমিজউদদীন টেক্সটাইল মিলস্ এর শ্রমিকরা বাৎসরিক ছুটির টাকা, ইনক্রিমেন্ট ও মে মাসের অর্ধেক বেতন ঈদের আগে পরিশোধের দাবিতে মুল ফটকের সামনে অবস্থান করছে।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে একটি নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালুর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। অর্থ্যাৎ একই ব্যক্তি বা পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন ভাতা পাওয়ার দ্বৈততা (ডাবল বুকিং) বন্ধ হবে। পাশাপাশি প্রকৃত অভাবি ব্যক্তির কাছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে যাবে।প্রস্তাবিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নাম—‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার। এটি চালু হলে মাত্র একটি কার্ড ও কিউআর কোডের মাধ্যমেই প্রান্তিক মানুষেরা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সেবা পাবেন।সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। আগামী জুনের মধ্যে ৮০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মূলত ফেজ বাই ফেজ বা পর্যায়ক্রমে গ্রাজুয়ালি অগ্রসর হচ্ছি। এই কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রম আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে। পাইলটিং মূলত করাই হয় ট্রায়াল অ্যান্ড এরর-এর জন্য। যেন মাঠ পর্যায়ের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো আইডেন্টিফাই করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধান করা যায়।’কার্ড বিতরণে প্রান্তিক মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত যারা বেনিফিশিয়ারি, তারা এই কার্ড পেয়ে খুবই খুশি হয়েছেন। তবে যেহেতু আমরা একটি একটি ওয়ার্ড করে দিচ্ছি, তাই পার্শ্ববর্তী অনান্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা উপজেলার মানুষের মধ্যেও তীব্র আকাঙক্ষা তৈরি হয়েছে। তাদেরও মনে হচ্ছে, এ সুবিধা কখন পাবেন! এই ব্যাপক চাহিদাই বলে দিচ্ছে, আমরা যে উদ্দেশ্যে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামটি নিয়েছি, তা সফলভাবে লক্ষ্য পূরণ করছে। সরকার গঠনের শুরুতেই এটি হাতে নেওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক ও দায়বদ্ধ।’তিনি আরও জানান, এ কর্মসূচির প্রধান কাজ হচ্ছে উপকারভোগীদের কাছে ঠিকমতো টাকা পৌঁছানো। অর্থাৎ যার টাকা সে যেন সরাসরি পায়। এটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডেটা ফাইন্ডিং করা হচ্ছে। গত ১৬ মে চাঁদপুর থেকে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আরও ২০টি ওয়ার্ডে এই কার্ড চালু করা হয়। ফারজানা শারমিন আরও জানান, আগামী জুনে তৃতীয় ধাপে আরও ১৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু করা হবে। এসব এলাকায় মাঠ পর্যায় থেকে সুবিধাভোগী নির্বাচন করে কার্ড বিতরণ করা হবে।ইউরোপ বা আমেরিকার আদলে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামের একটি পারিবারিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। ফলে একটি একক ডিজিটাল আইডির অধীনেই জানা যাবে কোন কোন পরিবার রাষ্ট্র থেকে কী কী সুবিধা পাচ্ছে। এতে করে এক ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি ভাতা নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় কার্ড বা প্রতিবন্ধী ভাতা সচল থাকবে।তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাসিক ভাতা ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে যারা বর্তমানে ৫০০ বা ১০০০ টাকার বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তারা নতুন এই কার্ড নিতে চাইলে আগের ভাতাটি সারেন্ডার বা ত্যাগ করতে হবে।ভবিষ্যতে কৃষক ও হেলথ কার্ডসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড একীভূত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এজন্য একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সামাজিক বাস্তবতায় একই পরিবারে কৃষক, গর্ভবতী মা কিংবা বিধবা থাকতে পারেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সময় যদি দেখা যায়, উপযুক্ত নারীটি ইতোমধ্যে বিধবা বা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, তবে ডাবল বুকিং বন্ধের নিয়ম অনুযায়ী তাকে আগের কম অঙ্কের কার্ডটি সারেন্ডার করতে হবে। তবে তার স্বামী যদি কৃষক কার্ড নেন বা অন্য কেউ প্রতিবন্ধী ভাতা পান, তাহলে তা সচল থাকবে।তিনি আরও বলেন, আমরা সব মন্ত্রণালয় মিলে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাই, যাতে এক ক্লিকে বা একটি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে উপকারভোগীর সমস্ত তথ্য চলে আসে এবং ডেটাবেজটি সরাসরি এনআইডি যুক্ত থাকে। এটি করতে পারলে ভাতা নিয়ে যেসব বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়—বিশেষ করে একজনের নামের কার্ডের টাকা অন্যজনের অ্যাকাউন্টে চলে যায়, সেই অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা পিএমটি মেথডে করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর জীবনযাত্রার মান, ঘরে টেলিভিশন বা ফ্রিজ আছে কিনা কিংবা বাড়ির ছাদের অবস্থা কেমন—এমন নানা সূচকে স্কোরিং করা হয়। স্কোর ৮১৪-এর নিচে থাকা ‘অতি দরিদ্র’ পরিবারগুলোই কেবল এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত হবে।ফারজানা শারমিন বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার হল প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্যই গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো।ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাইলটিংয়ের উদ্দেশ্যই হল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা। যেখানেই অনিয়ম বা কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত সেখানে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সরকার ও উপকারভোগীর মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছি।
দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ২১ মে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। বিজ্ঞপ্তিতে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঝড়ের সময় নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোতে চলাচলকারী সব ধরণের ছোট-বড় নৌযানকে সাবধানে ও সতর্কতার সাথে চলাচল করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভেকু দিয়ে অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে ওসমান গনি (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে নিহতের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও যানবাহন ভাঙচুর চালায়।নিহত ওসমান গনি উপজেলার বড় বিনাইরচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার মেয়ের ঘরের নাতিন জামাই এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব জুবায়ের হোসেন জিকুর ছোট চাচা ছিলেন।জানা গেছে, বুধবার (২০ মে) রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান আলীর সঙ্গে ভেকু দিয়ে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন ওসমান গণির ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আড়াইহাজার জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।ওসমান গণির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বড় বিনাইরচরসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নারী কর্মচারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এরই মধ্যে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ভিডিও ঘিরে সামনে এসেছে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ে অবস্থিত যমুনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত শনিবার(১৬ মে)সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে সোমবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট তাসলিমা আক্তারের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি একটি কক্ষে আশ্রয় নেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।এ ঘটনায় তিনি সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে লিপি বেগম, জামাল মিয়া, আতিক, কাউছার, জাকির ও খায়েরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।তাসলিমা আক্তারের দাবি, হাসপাতালের বাইরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোয় অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এমনকি ঘটনার সময় হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় ফার্মেসি মালিক জামাল মিয়া। তার দাবি, প্রথমে তার ভাগিনাকে মারধর করেন তাসলিমা আক্তার এবং পরে তাকেও আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় তিনিও থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন।হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার মিয়া দাবি করেন, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। সম্পাদিত ভিডিও ব্যবহার করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে তাসলিমা আক্তারকে ফার্মেসি মালিককে মারধর করতে দেখা গেছে।এদিকে হাসপাতালের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভিআর যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত এবং সরিয়ে নেওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।জুলফিকার আলীর দাবি, ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায়। এ ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ঘিরে পুরো ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবার নতুন মোড় নিয়েছে। ওয়াশিংটন যদি তেহরানের ওপর পুনরায় সামরিক হামলা চালায়, তবে এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আবার সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে’— এমন মন্তব্যের জবাবে বুধবার ইরানের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ইরানের প্রকাশ্য বক্তব্যে আবারও এমন কিছু শর্তের পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই নাকচ করে দিয়েছিলেন। তেহরানের এসব শর্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, পূর্ববর্তী যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন ব্যাংকে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।এর আগে, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান যে, তিনি ইরানের ওপর নতুন করে বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে কূটনীতিকে আরও একটি সুযোগ দিতে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখতে শেষ মুহূর্তে তিনি সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। পরবর্তীকালে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প আবারও বলেন, ‘আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্ত থেকে আমি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম।’ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি কড়া বিবৃতি প্রকাশ করে। ইরান এর আগে হুমকি দিয়েছিল যে, কোনো হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। তবে বুধবারের বিবৃতিতে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এবার হামলার পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে যাবে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে, প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হতে পারে।এদিকে, এই যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে এই চাপ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত এপ্রিলের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্পের বক্তব্যে এক ধরনের দ্বিমুখী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। তিনি কখনো নতুন করে বোমা হামলার হুমকি দিচ্ছেন, আবার কখনো খুব শিগগিরই শান্তিচুক্তি হতে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন।তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হয়ে যাবে। গত মাসে অনুষ্ঠিত একমাত্র শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা বর্তমানে আলোচনার ক্ষেত্রে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছি।’ওয়াশিংটনের এই নীতিগত ওঠানামা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। মে মাসের শুরু থেকেই তেলের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও, বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে এক মাস মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রায় ১.৫% হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কিছুটা নিচে নেমে আসে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম কিছুটা কমলেও তা গত সপ্তাহের তুলনায় এখনও অনেক বেশি উচ্চমূল্যে অবস্থান করছে।
দেশের শিল্প ও অবকাঠামো খাতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও বাড়ছে।আইন ও নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগে ঘাটতি, নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতার অভাব এবং দক্ষতার সংকটের কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি রয়ে গেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, টেকসই উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হলে নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই।রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে বৃহস্পতিবার আয়োজিত ‘Strengthening Occupational Safety and Workforce Excellence in Bangladesh’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। আইইবির অকুপেশনাল সেফটি বোর্ড অব বাংলাদেশ (ওএসবিবি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। তিনি বলেন, দেশে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত অনেক আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ খুব কম দেখা যায়। সড়ক নিরাপত্তার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এখনো অনেক মোটরসাইকেল চালক হেলমেট ব্যবহার করেন না, আবার চালক হেলমেট পরলেও যাত্রীরা অনেক সময় তা ব্যবহার করেন না। অনেক গাড়িচালকও সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালান, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বহু ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ফায়ার এক্সিট থাকলেও সেখানে মালামাল রেখে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ ব্যাহত হয়। “শুধু আইন করলেই হবে না, তার বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার, পেশাজীবী সংগঠন ও গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে,” বলেন তিনি।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান। তিনি বলেন, বিশেষ করে শিপবিল্ডিং শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। অনেক শ্রমিক পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন, ফলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যায়।তিনি বলেন, দেশে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবহার, ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর হতে পারে বলে মত দেন তিনি।অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, চেয়ারম্যান, ওএসবিবি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তৈরি পোশাক, নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি ও উৎপাদনমুখী শিল্পে শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দক্ষতার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।তিনি বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ, নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, মহড়া ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানান তিনি। হেলমেট, গ্লাভস, মাস্ক ও সেফটি ড্রেস ব্যবহারে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া আরও বলেন, দক্ষতার অভাব কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাই প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পখাতভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়াতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল দক্ষতায় শ্রমশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর জোর দেন তিনি।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন, সদস্যসচিব, ওএসবিবি। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে আইইবির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ, কাউন্সিল সদস্য, প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ট্রাক চালক হোসেন হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৫ জুন ধার্য করেছেন আদালত।২১ মে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন। এদিন মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ছিল। কারাগারে থাকা সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানকে আদালতে হাজির করা হয়।এদিন সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে আসামি সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে আনা হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নেমে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতাল থেকে আসছি, দোয়া করবেন।এ মামলায় বদিউল আলম নামে এক আসামি জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অন্য এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাকে এ মামলায় হাজির করতে হাজতি পরোয়ানার (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাতেও আবেদন করেন। পরে আদালত নতুন দিন ধার্য করেন।মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন । তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু রয়েছেন পলাতক আসামির মধ্যে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন এ মামলায় কারাগারে আছেন। এছাড়া জামিনে রয়েছেন ১০ জন।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে মৌলভীবাজার শহরের কামারশিল্পে স্বাভাবিক ব্যস্ততা থাকার কথা থাকলেও এ বছর কাজের চাপ তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কামার কারিগররা।কারিগরদের অভিযোগ, বাজারে কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ক্রেতা না থাকায় তারা লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।সরেজমিনে মৌলভীবাজারের বেরীরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কামারশালাগুলোতে শ্রমিকরা দা, ছুরি ও চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও ভাঁটিতে বাতাস দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে। টুং টাং শব্দে মুখর পুরো এলাকা।বর্তমানে ছোট ছুরি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, মাঝারি ছুরি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় এবং বড় ছুরি বা সেট ১ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে ক্রেতা কম থাকায় কামারশালা মালিকরা শ্রমিক মজুরি ও দোকান পরিচালনার খরচ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।তারা বলছেন, লোহা ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, ফলে বাধ্য হয়েই দাম বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু সেই দাম অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।ক্রেতারা জানান, সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা হিসাব করে কেনাকাটা করছেন। আগে যে পণ্য কম দামে পাওয়া যেত, এখন তা অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।কামাররা আরও জানান, আগে ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগ থেকেই ভালো বেচাকেনা হতো। এবার মানুষ আসছে, দেখছে, দাম জিজ্ঞেস করছে—কিন্তু কিনে কমই নিচ্ছে।ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাজারে কিছুটা গতি ফেরার আশায় দিন পার করছেন ব্যবসায়ীরা।
ঢাকা টেস্টেই ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে প্রথমবার পাকিস্তানকে টেস্টে হারিয়েছিল। দ্বিতীয় টেস্টে এবার নতুন ইতিহাস লিখল নাজমুল হোসেন শান্তরা। সিলেট টেস্টে জিতে পাকিস্তানকে ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তিও গড়ল টাইগাররা।পঞ্চম দিনের সকালে পাকিস্তান যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করছিল, দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছিল টাইগার শিবিরে। প্রথম ঘণ্টা প্রায় পারই করে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সাজিদ খান। ব্যাটিংও করছিলেন টি-টোয়েন্টি স্ট্রাইলে। অবশেষে তাদের ৫৪ জুটিটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। স্লিপে ক্যাচ হন ২৮ রান করা সাজিদ।পরের ওভারে শরিফুল ইসলাম আউট করেন সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা রিজওয়ানকে। গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে ক্যাচ দেন ৯৪ রান করা রিজওয়ান। ১৬৬ বলের প্রতিরোধ গড়া ইনিংসে ১০টি বাউন্ডারি হাঁকান রিজওয়ান। তার আউটের পরই কার্যত জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন খুররম শেহজাদ। তাকে আউট করে ইনিংসে ৬ উইকেট পূরণ করেছেন তাইজুল। পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৫৮ রানে।৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। দিনের শুরু থেকেই মারকুটে ব্যাটিং করতে থাকে সফরকারীরা। রান তুলছিল ওভারপ্রতি ছয়ের ওপর করে।এর আগে চতুর্থ দিন দলীয় ২৭ রানে নাহিদ রানার বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। আউট হওয়ার আগে করেন ৬ রান। দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তার বিদায়েই শুরু পাকিস্তানের উইকেটের পতন। অন্য ওপেনার আজান আওয়াইসও পারেননি ইনিংস বড় করতে। ৪৯ বলে দুই চারে ২১ রান করার পর লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন মিরাজের বলে। দলীয় ৪১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান।লাঞ্চের আগে দুই উইকেট হারালেও হাল ধরেছিলেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ। দুজন মিলে ৯০ রানের জুটিও পার করেন। অস্বস্তি শুরু হয় স্বাগতিকদের। তবে সেই অস্বস্তি দূর করেছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম বাবর আজমকে ফিরিয়ে।৪৭ রান করা বাবর তাইজুলের বলে সাজঘরে ফেরেন। যদিও ভালো বলে আউট হননি তিনি। লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বের হওয়ার পথে তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটনের গ্লাভসে। ১৩৩ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন হয় সফরকারীদের। ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। বাবরের বিদায়ে ভাঙে শান মাসুদের সঙ্গে ৯২ রানের জুটি।নাহিদ রানা যেন ত্রাসের নাম পাকিস্তানের ব্যাটারদের কাছে। দিনের শুরুতে উইকেট নেওয়ার পর তিনি ফেরান ৬ রান করা সৌদ শাকিলকেও। তাতে চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ওয়াইডিশ ইয়র্কারে ব্যাট ছুঁইয়ে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দেন শাকিল। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নেন তিনি। যদিও তাতে কোনো লাভ হয়নি। তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। ১৫৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় সফরকারীরা।এর পরপরই ৭১ রান করা পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন তাইজুল। শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৭১ রান করা শান। ১৬২ রানে ৫ উইকেটের পতন হয় পাকিস্তানের।চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আলি আগা যেভাবে মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন, হারের ভয় পেয়ে বসেছিল বাংলাদেশকে। অবশেষে শেষ বিকেলে ২২৪ বলে ১৩৪ রানের প্রতিরোধগড়া জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে জয়ের সুবাস দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সালমান আগাকে বোল্ড করেন তাইজুল। ৭১ রানে সাজঘরে ফেরেন আগা। এরপর হাসান আলিকে (০) স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর দারুণ ক্যাচ বানান তাইজুল।এর আগে, মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে শাসন করে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ করে ৩৯০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ লিড নেয় ৪৩৬ রান। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য আসে ৪৩৭ রানের।
বিবাহিতা নারীদের উপর হওয়া নারকীয় অত্যাচারের বর্ণনা শুনলে যে কাউকে শিউরে উঠতে হয়! ধর্ম-বর্ণ কিংবা শ্রেণি নির্বিশেষে এই ব্যাধি যেন ক্রমেই জেঁকে বসছে সমাজে। এই ইস্যুতে এবার নারীদের পরামর্শ দিলেন ভারতের সংসদ সদস্য ও বলিউড নায়িকা কঙ্গনা রানাউত।কঙ্গনা বরাবরই পিতৃতন্ত্রে ছক ভাঙার উদাহরণ গড়েছেন। বলিউডের খান-কাপুর হোক কিংবা রাজনীতির ময়দানে ডাকসাইটে ব্যক্তিত্ব, স্পষ্ট কথায় কাউকে ধরাশায়ী করতে কোনো সময়ই পিছপা হন না তিনি।এবার বিবাহিত নারীদের উপর বাড়তে থাকা নির্যাতনের হার নিয়ে সরব কঙ্গনা। গতকাল মঙ্গলবার উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিবিবাহিত নারীদের নিয়ে নিত্যদিন কত খবর প্রকাশ্যে আসে। শিক্ষিত মেয়েরা অনেকেই হয়তো দমবন্ধ হয়ে আসা পরিবেশ থেকে উদ্ধার পেতে বাবা-মায়ের কাছে আকুতি করে। কিন্তু এই অসভ্য ভারতীয় সমাজের ইতিহাস রয়েছে বিবাহিত মেয়েদের পরিত্যক্ত করে দেওয়ার।’এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নারীরা কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন, তার জন্য একটি জরুরি পরামর্শও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। কঙ্গনার কথায়, ‘নারীদের আমি যে পরামর্শ দিচ্ছি, সেটা কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ডেটিং অ্যাপ দেবে না। আপনারা নিজেদের পেশা বা ক্যারিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দিন। আপনাদের জীবনের যে কোনো মানুষ গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে। তবে সেটা যেন পেশাকে ছাপিয়ে না যায়।’এরপরেই মেয়েদের বিয়ে ও স্বাবলম্বী হওয়া প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেন, ‘পুরোপুরি স্বাবলম্বী হওয়ার পরেই বিয়ের কথা ভাবুন। মনে রাখবেন, নিজেদের ‘হিরো’ বা রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাইরে থেকে কেউ আপনাদের উদ্ধার করতে আসবে না। আর স্বাবলম্বী হওয়াটা আপনার নিজস্ব পরিচয়। যেভাবে জীবনে বাঁচতে চান, নিজেদের জন্য ঠিক তেমন জীবনই গড়ে তুলুন।’
কারিনার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ বলেছেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’১৭ মে রবিবার ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে পৌঁছে। বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। এরপর বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস মাঠে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কায়সার হামিদ।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে কারিনাকে জনপ্রিয় করে তোলে। মেয়ের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে কায়সার হামিদ বলেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কারিনাকে যে এতো মানুষ ভালোবাসে এটা আমার জানা ছিল না। তার প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে আমার গর্ব হচ্ছে।’এরপর মেয়ের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন কায়সার হামিদ। তিনি বলেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’এর আগে রোববার রাতে ঢাকা শহীদ মিনারে তার তৃতীয় জানাজা শেষ হয়। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় কারিনার নানা বাড়ির আঙ্গিনায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।প্রসঙ্গত, লিভারজনিত জটিলতায় কয়েক দিন ধরেই সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয় তাঁকে। পরে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। চিকিৎসকেরা শুরুতে তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা চালিয়ে যান। একই সঙ্গে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নাটক ও ওটিটির জগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
দেশে পৌঁছেছে কারিনার মরদেহ। লাশ গ্রহণ করেছেন তার বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।আজ রোববার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লাশবাহী গাড়ি বনানীর বাড়ির পথে রওনা হয়েছে।লিভার সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে মারা যান জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মৃত্যু হয় তার।বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএসে কেন্দ্রীয় মসজিদে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।এরপর বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে হবে দ্বিতীয় জানাজা। একই দিন রাত ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সোমবার বাদ ফজর মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে কারিনার মায়ের দেয়া মসজিদের জায়গার পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে কারিনা কায়সারকে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত, পরে শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন এই তরুণ প্রতিভা।কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’, ‘৩৬-২৪-৩৬’।
বছরটা যেন নিজের করে নিচ্ছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুলার। চলতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার ‘ফাদারল্যান্ড’ সিনেমাটি কুড়াচ্ছে দারুণ প্রশংসা। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি গড়তে পারেন অস্কারের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সান্দ্রা এবার কেবল একটি নয়, বরং চারটি অস্কার ক্লিপের দাবিদার। জার্মানির এই গুণী অভিনেত্রী ‘অ্যানাটমি অব আ ফল’ দিয়ে আগেই নাম লিখিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এবার তিনি পা রেখেছেন হলিউডের বিশাল দুনিয়ায়। একাডেমি তাদের নিয়মে কিছু বদল আনায় এখন থেকে একজন শিল্পী একই বিভাগে একাধিক মনোনয়ন পেতে পারেন। আর সেই সুযোগেই সান্দ্রা এবার সেরা অভিনেত্রী এবং সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী— উভয় বিভাগেই দুটি করে মোট চারটি মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রায়ান গোসলিংয়ের সঙ্গে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমায় দাপুটে অভিনয়ের জন্য তিনি এখন পার্শ্ব অভিনেত্রীর দৌড়ে সবার আগে আছেন। বিশেষ করে হ্যারি স্টাইলসের গান গেয়ে সেই কারাওকে দৃশ্যে তিনি যা দেখিয়েছেন, তা সবাই মনে রাখবে অনেক দিন। আগামী অক্টোবরে তাকে দেখা যাবে টম ক্রুজের সঙ্গে ‘ডিগার’ সিনেমায়। যদিও এই সিনেমা নিয়ে এখনই খুব বেশি কিছু জানা যায়নি, তবে পরিচালক ইনারিতুর আগের রেকর্ড বলছে এটি অস্কারের ঝুলিতে অনেক মনোনয়ন ভরবে। সেখান থেকে সান্দ্রার দ্বিতীয় পার্শ্ব অভিনেত্রীর মনোনয়ন আসা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মরদেহ আগামীকাল ভারত থেকে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।তিনি জানান, আগামীকাল দুপুরে কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এরপর বাদ আসর বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।কায়সার হামিদ আরও বলেন, সোমবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় তাকে দাফন করা হবে। লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ ও ৩৬-২৪-৩৬।কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করছেন।
ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জানা নায়গান’ প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই পাইরেসি হওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিনেমার সহকারী সম্পাদক প্রশান্তসহ সেলভাম ও বালাকৃষ্ণান নামের দুই ব্যক্তি। সাইবার ক্রাইম বিভাগের দায়ের করা মামলায় তাদের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটির শুটিং অনেক আগে শেষ হলেও এখনও সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে গত ৩ এপ্রিল অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এটি অবৈধভাবে ফাঁস হয়ে যায়।এইচ. বিনোথ পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০২৬ সালের পোঙ্গল উৎসবকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে সিনেমাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বার্তা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় সেন্সর বোর্ড সিনেমাটি আটকে দেয়। পরবর্তীতে মার্চ মাসে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর কথা থাকলেও সেন্সর কমিটির এক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় তা বাতিল করা হয়। ফলে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।সিনেমাটির প্রযোজক কে. ভেঙ্কট নারায়ণ বলেন, আমরা বর্তমানে সেন্সর সার্টিফিকেটের (সিবিএফসি) অপেক্ষায় আছি। ছাড়পত্র পাওয়া মাত্রই আমরা সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেব। বিজয় স্যার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।উল্লেখ্য, ‘জানা নায়গান’ সিনেমাটি বিজয়ের অভিনয় জীবনের শেষ সিনেমা হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজনীতিতে পূর্ণকালীন সময় দেওয়ার লক্ষ্যে বিনোদন জগত থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই ছবিতে বিজয় ছাড়াও অভিনয় করেছেন ববি দেওল, পূজা হেগড়ে, প্রকাশ রাজ ও গৌতম বাসুদেব মেননের মতো তারকারা।
দেশের বাজারে সোনার দাম টানা তিন দফা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ 2 হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকায় এসেছে। গতকাল ছিল দুই লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা।বুধবার (২০ মে) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমানো হয়েছে।বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৯৩ হাজার ৩৯টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা।ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধেরশেুরুর পর থেকে বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখি। এরপর মূল্য সমন্বয় দর উঠানামা করতে থাকে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৪ হাজার ৪৬৫ ডলারে এসেছে।এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।এদিকে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায় বাজুস। এতে করে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সেই সঙ্গে একধাপে সোনার দাম আর কখনোই এতটা বাড়ানো হয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন “প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস)”–এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।নতুন কমিটিতে ডিবিসি নিউজ ও ডেইলি অবজারভারের আরব আমিরাত প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম তালুকদার পুনরায় সভাপতি এবং বাংলা টিভি ও সিপ্লাস টিভির প্রতিনিধি এম. আব্দুল মান্নান পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি নাসিম উদ্দিন আকাশ (দৈনিক সূর্যোদয়), সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ছালাহউদ্দিন (দৈনিক ইনকিলাব), সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সিকদার (বিবিসি একাত্তর), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন মান্না (প্রবাসের প্রহর), দপ্তর সম্পাদক মইনুল ইসলাম তালুকদার (ডিবিসি নিউজ, আবুধাবি), প্রচার সম্পাদক ওবায়দুল হক মানিক (৫২ টিভি), সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম (বঙ্গ টিভি), অর্থ সম্পাদক ওবায়দুল হক (দৈনিক দেশকাল), সহ-অর্থ সম্পাদক নুরুল্লাহ শাহজাহান খান (কে টিভি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুব সরকার (বিশ্ব বাংলা টিভি), তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সাহেদ ছরোয়ার (কলম টিভি, কলম বিডি নিউজ)।এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী রেজা (ঢাকা গেজেট), আব্দুল মান্নান (চট্টগ্রাম মঞ্চ), আলী রশিদ (নিউজ ২৪ চট্টগ্রাম), মো. আরমান চৌধুরী (দৈনিক আমার সময়) এবং আরশাদুল হক (দৈনিক সূর্যোদয় দুবাই)।সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে অসহায় ও সমস্যাগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে থেকে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকল (এনইভি) উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, আরও তিনটি অত্যাধুনিক এনইভি, বিওয়াইডি সিল ৫, বিওয়াইডি সিল ৬ ও বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি নিয়ে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ উপলক্ষে ১৭ মে সোমবার ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে (আইসিসিবি) এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের সড়কে আরও স্মার্ট, টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর মোবিলিটি সল্যুশন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এ আয়োজন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং। এছাড়াও, আরও উপস্থিত ছিলেন সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আমিদ সাকিফ খান, বিওয়াইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার চার্লস রেন ও চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রেতাবৃন্দ, ব্যবসায়িক অংশীদার, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।আয়োজনে মনোমুগ্ধকর রিভিল শো, প্রোডাক্ট প্রেজেন্টেশন, কীনোট স্পিচ, গাড়ি উন্মোচন, মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনের পাশাপাশি, ৬০টি প্রি-অর্ডারকৃত বিওয়াইডি গাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিওয়াইডি বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য বিশ্বমানের এনইভি প্রযুক্তি ও ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।নতুন নিয়ে আসা বিওয়াইডি সিল ৫ একটি সুপার প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল (পিএইচইভি) সেডান, যা বিওয়াইডির অত্যাধুনিক ডিএম-আই প্রযুক্তি ও ব্লেড ব্যাটারি দিয়ে চালিত। ১৫০০ সিসির শাওয়ুন হাই-এফিশিয়েন্সি ইঞ্জিনসমৃদ্ধ এই গাড়িটি ১৫৪ কিলোওয়াট কমবাইন্ড ম্যাক্সিমাম পাওয়ার ও ৩০০ নিউটন মিটার টর্ক প্রদান করে, যেখানে এর কমবাইন্ড ড্রাইভিং রেঞ্জ সর্বোচ্চ ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এছাড়াও, সেডানটিতে এডিএএস (অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম) সেফটি প্রযুক্তি, ৩৬০ ডিগ্রি এইচডি ক্যামেরা, ৬টি এয়ারব্যাগ, ভেহিকল-টু-লোড (ভিটুএল) সুবিধা, রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ও ১২.৮ ইঞ্চির ইন্টেলিজেন্ট ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম রয়েছে।সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (ইভি) সেডান বিওয়াইডি সিল ৬ একবার চার্জে সর্বোচ্চ ৪১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ড্রাইভিং রেঞ্জ প্রদান করে। রেয়ার-হুইল ড্রাইভ সহ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট সিনক্রোনাস মোটর দিয়ে চালিত এই গাড়িটি ৯৫ কিলোওয়াট শক্তি ও ২২০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। মডেলটিতে আরও রয়েছে ডিসি ফাস্ট চার্জিং, এডিএএস, অ্যাপল কারপ্লে, অ্যান্ড্রয়েড অটো, লেদার সিট, পিএম২.৫ এয়ার ফিল্ট্রেশন ও বিওয়াইডির নিজস্ব ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি।বিওয়াইডির প্রিমিয়াম এসইউভি পোর্টফোলিওকে আরও সম্প্রসারিত করতে নিয়ে আসা নতুন বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি নিয়ে এসেছে অল-হুইল-ড্রাইভ সুপার প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভি অভিজ্ঞতা, যা সর্বোচ্চ ১২৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পিউর ইলেকট্রিক রেঞ্জ প্রদান করে। এর পাশাপাশি, এতে ১৫০০ সিসির টার্বোচার্জড ইঞ্জিন রয়েছে, যা দীর্ঘ ভ্রমণে অতিরিক্ত সক্ষমতা নিশ্চিত করে। গাড়িটিতে ১৫.৬ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে, ইনফিনিটি প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম, প্যানোরামিক সানরুফ, ভেন্টিলেটেড ও হিটেড সিট, ভেহিকল-টু-লোড (ভিটুএল) সাপোর্ট, ৭টি এয়ারব্যাগ ও এডিএএসের মতো উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি রয়েছে, যা পরিবার ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রিমিয়াম ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং বলেন, “বাংলাদেশ বিওয়াইডির বৈশ্বিক এনইভি ভিশনের জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হচ্ছে। সিল ৫, সিল ৬ ও সিলায়ন ৬ এডব্লিউডির মাধ্যমে আমরা এমন উন্নত প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সেফটি ও টেকসই মোবিলিটি সল্যুশন নিয়ে এসেছি, যা ভবিষ্যতের পরিবহনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, এই গাড়িগুলো বাংলাদেশের ক্রেতাদের নিউ এনার্জি মোবিলিটি অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”এ বিষয়ে বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের বলেন, “আজকের এই উদ্বোধন বাংলাদেশের এনইভি ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণে বিওয়াইডি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ভিন্নধর্মী লাইফস্টাইল ও ড্রাইভিং চাহিদার জন্য আমরা বৈচিত্র্যময় গাড়ির অপশন নিয়ে এসেছি। হাইব্রিড এফিশিয়েন্সি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক ইনোভেশন ও প্রিমিয়াম এসইউভি পারফরম্যান্স, নতুন এই লাইনআপ বাংলাদেশের স্মার্ট মোবিলিটির পরবর্তী বিবর্তনকে তুলে ধরছে।”নতুন নিয়ে আসা বিওয়াইডি সিল ৫-এর প্রথম ৫০০ ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা মাত্র। সম্পূর্ণ ইভি বিওয়াইডি সিল ৬ পাওয়া যাবে মাত্র ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম এসইউভি সেগমেন্টে বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মাত্র; বিভিন্ন সেগমেন্টে ক্রেতাদের জন্য সর্বাধুনিক নিউ এনার্জি মোবিলিটি সল্যুশন নিশ্চিতে এ গাড়িগুলো নিয়ে আসা হয়েছে। তিনটি মডেলেই এই খাতের শীর্ষস্থানীয় বিওয়াইডির ওয়ারেন্টি সুবিধা ও সর্বাধুনিক ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এনইভি বাজারে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রতি ক্রেতাদের আস্থা আরও জোরদার করবে।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ নিয়ে কথা বলেছেন আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।আজ বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আসিফ নজরুলের তিন বাক্যের এই পোস্টে ৫৫ মিনিটে রিয়েক্ট পড়ে ১৩ হাজারের মতো। একই সময়ে পোস্টটি শেয়ার দেখাচ্ছিল ৩৫৮ বার।