একদিনের সরকারি সফরে সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে তিনি শার্শা উপজেলার উলশী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন।রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া সফরসূচি থেকে এতথ্য জানা গেছে।সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তার গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন।এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি আকাশপথে যশোরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি শার্শা উপজেলার উলশী খাল খনন অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা হবেন।সেখানে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে উপস্থিত হয়ে খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় উলশী এলাকায় আয়োজিত একটি পথসভা ও সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি।শার্শার কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সড়কপথে যশোর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সোয়া ১টায় সার্কিট হাউসে পৌঁছে তিনি বিশ্রাম ও বিরতি নেবেন।এরপর বিকেল ৩টায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহুল প্রতীক্ষিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি।জনসভা শেষে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তিনি যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে যশোর জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফর ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও টানা দুই মাস যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটন পাঁচটি মৌলিক শর্তের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানাচ্ছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজির।সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের আলোচনার টেবিলে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫টি শর্ত। সেগুলো হলো- ১.যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিধিনিষেধ কেবল নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, কোনোভাবেই তা স্থায়ী হবে না। ২.বর্তমানে ইরানের হাতে থাকা ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই মজুত পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রাখতে হবে। ইরান এই প্রস্তাবকে শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে।৩.অবরোধ প্রত্যাহার ইস্যুতে দুই পক্ষই নিজ অবস্থানে অনড়। ইরানের দাবি, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—চূড়ান্ত চুক্তির আগে কোনো অবরোধ তোলা হবে না।৪. একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান বিদেশে তাদের আটকে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্ত দিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তারা।৫.সবচেয়ে বড় চমক এসেছে ক্ষতিপূরণের দাবিতে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পাঁচ শর্তের মারপ্যাঁচে শান্তি আলোচনা এখন কার্যত অচলাবস্থায়। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে রহস্যজনকভাবে তিনি জনসমক্ষে আসছেন না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং তার ঘিরে থাকা নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনির কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। তার সব নির্দেশনা কেবল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করে শোনানো হচ্ছে।সূত্রের দাবি, নিজেকে কোনোভাবেই ‘দুর্বল’ হিসেবে তুলে ধরতে চান না বলেই তিনি সচেতনভাবে জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন।ইসরায়েলি গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় মোজতবা খামেনির নিরাপত্তা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এমনকি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার বা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও দেখা করছেন না তার সঙ্গে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা ট্র্যাকিং এড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে আদিম পদ্ধতি। হাতে লিখে খামে সিলগালা করে বিশ্বস্ত বাহকের মাধ্যমে পাঠানো হয়। মোটরসাইকেল বা সাধারণ গাড়িতে করে বাহকরা গোপন পথে তার গোপন আস্তানায় পৌঁছান।নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তার মুখে আঘাত লাগায় প্লাস্টিক সার্জারির করতে হয়েছে এবং ঠোঁটে আঘাতের কারণে কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে।এছাড়া তার একটি পায়ে তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কৃত্রিম পা লাগানোর অপেক্ষায় আছেন। তবে তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ ও সক্রিয় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।মোজতবা খামেনির চিকিৎসার বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দেখা হচ্ছে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরাসরি তার সেবাশুশ্রুষায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের একটি বড় দলের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।এদিকে মোজতবা খামেনির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এসব দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতেই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
পাকিস্তান ছাড়ার প্রায় দুইদিন পর আজ আবারও দেশটিতে আসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে এসে পৌঁছাতে পারেন। তিনি পাকিস্তানিদের সঙ্গে আরও আলোচনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার সরাসরি বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই বলে উল্লেখ করেছে আলজাজিরা। কারণ ইরানিরা মনে করে মার্কিনিদের দাবিদাওয়া মাত্রাতিরিক্ত। অপরদিকে ইরানিরা যেসব দাবি করেছে সেগুলো অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।এদিকে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় কোনো ব্রেকথ্রু না আসলেও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কূটনীতির দরজা এখনো খোলা রয়েছে।গত শুক্রবার রাতে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এসে পৌঁছান তিনি। এরপর শনিবার নিজের দলবল নিয়ে চলে যান। তিনি ইসলামাবাদে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু আলোচনায় কোনো ব্রেকথ্রু না আসায় ওমানে চলে যান আরাগচি।এর আগে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।সূত্র: মেহের নিউজ, আলজাজিরা, গ্লোবাল টাইমস
কলম্বিয়ায় বোমা হামলায় ১৪ জন নিহত ও অপ্রাপ্তবয়স্কসহ আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ কাউকা অঞ্চলের রাস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এ হামলার জন্য লাতিন আমেরিকার দীর্ঘদিনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্ক এর ভিন্নমতাবলম্বী উপদলগুলোর সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহীদের দায়ী করেছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ‘সর্বাত্মক শান্তি’ কৌশল নিয়েছেন, তবু ২০১৬ সালে ফার্ক ও সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।পেত্রো এক্স পোস্টে বলেন, “যারা এই হামলা চালিয়েছে... তারা সন্ত্রাসী, ফ্যাসিবাদী এবং মাদক পাচারকারী।” তিনি এও বলেন, “আমি চাই, আমাদের সেরা সেনারা তাদের মোকাবেলা করুক।” কাউকার স্থানীয় গভর্নর ওক্টাভিও গুজমান এক্স পোস্টে মহাসড়কের উপর উল্টে থাকা যানবাহন এবং বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট গর্তের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। গুজমান লিখেছেন, “কাউকা একা এই বর্বরতা মোকাবিলা করতে পারবে না।”প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি এতই শক্তিশালী ছিল যে তারা কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, মাদক পাচারকারী একটি চক্রের সদস্যরা ওই হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে চলতি এপ্রিলের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে আরও ১ হাজার ৯৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে। চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে বিদ্যমান বিদ্যুৎ রেশনিং পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে এতে আশা করা হচ্ছে।বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমরা চলতি মাসের মধ্যেই আদানি পাওয়ার, চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার এবং পটুয়াখালীভিত্তিক আরএনপিএল যৌথ উদ্যোগ থেকে ১ হাজার ৯৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছি।রেজাউল করিম বলেন, এসব ইউনিট কয়লাভিত্তিক এবং বাংলাদেশের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও রোববার কয়লাবাহী জাহাজ পায়রা সমুদ্রবন্দরে পৌঁছার সম্ভাবনা থাকায় সেগুলোর উৎপাদন আবার শুরু হবে।বিপিডিবির প্রধান বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের দুটি ইউনিটের একটি বন্ধ রেখেছিল। তবে সেটি আজ থেকে আবার চালু হওয়ার কথা রয়েছে।বিপিডিবি কর্মকর্তারা বলেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ এপ্রিল থেকে জাতীয় গ্রিডে আদানি থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। অন্যদিকে এসএস পাওয়ার ও আরএনপিএল ২৮ এপ্রিল থেকে ৬০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।আরএনপিএল হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত নরিনকো’র যৌথ উদ্যোগ। কেন্দ্রটি ২৮ এপ্রিল থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।এদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অনেক মানুষ ঘরের ভেতরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যা চাপের মধ্যে থাকা জ্বালানি ব্যবস্থার পাশাপাশি নগরাঞ্চলের নাজুকতাও স্পষ্ট করে তুলছে। একই সময়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজধানী ঢাকায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যশোর-খুলনা অঞ্চলে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানায়, বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) এবং কয়লা আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষকে বিদ্যুৎ রেশনিং করতে হচ্ছে।বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা বলেন, আমরা ঢাকাকে লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখার চেষ্টা করছি।বিপিডিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট। শনিবার সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা ১৭ হাজার থেকে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে গত শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদানের ঘোষণা দিয়ে চমকে দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তার এই দলবদল নিয়ে যখন পুরো ভারতজুড়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে, তখনই আগুনে ঘি ঢাললেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ। একটি বিতর্কিত মিম শেয়ার করে এবার বড়সড় বিপাকে পড়েছেন এই প্যান ইন্ডিয়া তারকা। নিজের সোজাসাপ্টা মন্তব্যের জন্য প্রকাশ রাজ সবসময়ই পরিচিত। রাঘব চাড্ডার দলবদল প্রসঙ্গে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মিম শেয়ার করেন যেখানে লেখা ছিল, ‘আমি পুলিশ বাহিনী ছাড়ছি কারণ তারা অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার মূল নীতি থেকে সরে গিয়েছে। আর এই কারণেই আমি এখন দাউদ ইব্রাহিমকে আমন্ত্রণ করতে চলেছি।’ মিমটির ক্যাপশনে অভিনেতা শুধু লিখেছেন, ‘শুধু জিজ্ঞাসা করছি’। প্রকাশের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টিকে কুরুচিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘স্যার, আপনার ভাষার দিকে খেয়াল রাখা উচিত।’ অন্যজন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এটা কি একজন প্যান ইন্ডিয়া অভিনেতার ভাষা হতে পারে?’ অনেকেই দাবি করেছেন, অভিনেতার রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এই ধরনের মন্তব্যের জন্ম।তবে শুধু প্রকাশ রাজ নন, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও রাঘব চাড্ডার এই সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একটি ভিডিও বার্তায় ধ্রুব রাজনীতিকে ‘সবচেয়ে বড় প্রতারক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ইডি ও সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতেই ভয়ে আপ ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন রাঘব।
গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও বিকাশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীতে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পত্রিকাটির কার্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।মন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই দেশের মানুষ একটি স্বাধীন, নির্ভীক ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রত্যাশা করে।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে যেভাবে গণমাধ্যম আক্রমণের শিকার হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটুক, তা আমরা কখনোই চাই না।’আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধার সম্মুখীন হতে হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ ধরে এগিয়ে যাক এবং এ ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর হোক।’
বাংলাদেশের দিকে বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ ধেয়ে আসছে। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে ৭ মে পর্যন্ত এই শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় কার্যকর থাকতে পারে। এই সময় দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।মশিউর রহমান বলেন, আজ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ ধেয়ে আসছে। আজ থেকে শুরু হয়ে ৭ মে পর্যন্ত এই শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় কার্যকর থাকতে পারে। এই সময় দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।মশিউর রহমান আরও বলেন, ‘আজ থেকেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা গেছে এবং সকালে কিছু এলাকায় বৃষ্টিও হয়েছে। আজ রাত থেকে বৃষ্টিপাত আরও সক্রিয় হতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে একটি অনুকূল আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে, যা আগামী প্রায় ৭ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’এই আবহাওয়াবিদ জানান, উজানের এলাকাগুলো, যেমন মেঘালয়, আসাম ও চেরাপুঞ্জি অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়কালে এসব এলাকায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে, যা বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে।মশিউর রহমান বলেন, প্রথমদিকে বৃষ্টিপাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে এটি ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সময়ে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। যদিও মাঝেমধ্যে এক-দুই দিনের জন্য বিরতি দেখা যেতে পারে, তবুও এই সময়ে বৃষ্টিপাতের আধিক্য থাকার সম্ভাবনা বেশি।ঝড়ের বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, এই সময়ে অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়া বা ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। কিছু কিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে এর চেয়ে কম বা বেশি গতিবেগও হতে পারে।এই বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টানা বৃষ্টি হলে কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে পারবেন না, ফলে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ।মশিউর রহমান জানান, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রার আধিক্য ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে।সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে গুজব ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে মশিউর রহমান বলেন, বাস্তবে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে তাপমাত্রা কমে আসার সম্ভাবনাই বেশি।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দেওয়ায় বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, গত বুধবার আদালত হাফিজুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার পর তাকে ঢাকায় নিয়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনা পেলেও দীর্ঘ সময় তা কোনো সন্দেহভাজনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। এই প্রথম মামলার কোনো সন্দেহভাজন আসামির ডিএনএ ক্রস-ম্যাচ করার প্রক্রিয়া শুরু হলো।তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হাফিজুর রহমান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যা বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া এই মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহিনুল আলমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে,। তাদের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে পিবিআই’র ।তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল জানান, তদন্ত কর্মকর্তার ফোন পেয়ে তনুর বাবা (মামলার বাদী) কুমিল্লা কারাগারের গেটে গেলেও আসামিকে আগেই ভেতরে নিয়ে যাওয়ায় তারা তাকে দেখতে পারেননি।২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। থানা-পুলিশ, ডিবি এবং সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করলেও রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। এমনকি দুই দফা ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি হাইকোর্টকে এ কথা জানান।২৬ এপ্রি রোববার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি এ তথ্য জানান।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। তদন্ত সম্পন্ন করতে আরো কিছুদিন সময় প্রয়োজন। পরে আদালত তদন্ত শেষ করতে আরও ৬ মাস সময় দেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে ৬ মাসের সময় দেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শেষ বারের মত সময় দেওয়া হলো। এই ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতেই হবে।বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ৬ মাস সময় দেন হাইকোর্ট।২৪ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদমর্যাদার নিচে নয় পুলিশের একজন প্রতিনিধি, সিআইডির একজন প্রতিনিধি ও র্যাবের একজন প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে।গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তাদের ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়।রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।এর আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দিতে সম্পূরক আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়।২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নতুন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশিষ্ট ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরকে আলোচিত এ মামলার আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে, এটা গনতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা এটা সবসময় নেগেটিভভাবে নেই না।শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জে ‘বিএনপি পতিত ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটছে’ জামায়াতের আমিরের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।মীর শাহে আলম বলেন, বিরোধীদল সবসময় গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য কিছু সঠিক বা বেঠিক কথা দিয়ে সরকারের বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। বিরোধীদল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে সরকারকে সহযোগিতা করবেন, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেবেন।তিনি বলেন, সেদিন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা সুন্দর কথা বলেছেন। সম্প্রতি জ্বালানি তেল নিতে একটি মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে যা ঘটছে সেখানে সরকারি দল ও বিরোধীদল থেকে সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা অনুসন্ধান করে দেখবে তেলের সমস্যা কোথায়।এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে চাই। তৃণমূলের মানুষের কাছে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে চাই। আমরা এমন উন্নয়ন করতে চাই, যাতে দেশের মানুষ আবারো ধানের শীষে ভোট দেয়।এ সময় শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড আব্দুল ওহাব, শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ শাহীনুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নিয়ন্ত্রণহীন ইটভাটার বিস্তারে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্য। বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে জেলায় ১৪৭টি ইটভাটা থাকলেও এর মধ্যে ৮৬টিরই নেই নবায়ন, পরিবেশ ছাড়পত্র বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন। অনেক ভাটার নেই বিএসটিআই সনদ, কৃষি ও পরিবেশগত ছাড়পত্র; আবার অনেকেই মানছেন না প্রচলিত আইন ও শর্তাবলী।জেলার বিভিন্ন এলাকায় চোখ মেললেই দেখা যায় ইটভাটা। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, হাট-বাজার এবং জনবসতিপূর্ণ গ্রামের ভেতর কৃষিজমির মাঝেই গড়ে তোলা হয়েছে এসব ভাটা, যা স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর কণার কারণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখ জ্বালাপোড়া এবং চর্মরোগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পার্টিকুলেট ম্যাটার শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ভাটার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।পরিবেশ ও কৃষিক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। ধান, নারিকেল, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফলগাছ ঠিকমতো বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অন্যদিকে অবৈধভাবে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়ায় আবাদি জমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের কারণে মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে।জেলায় মোট ১৪৭টি ইটভাটার মধ্যে ৬১টি বৈধ এবং ৮৬টি অবৈধ। সদর উপজেলায় ৪টি বৈধ ও ৮টি অবৈধ, সরাইলে ১৯টি বৈধ ও ১৮টি অবৈধ, আখাউড়ায় ৩টি বৈধ ও ২টি অবৈধ, আশুগঞ্জে ৭টি বৈধ ও ২টি অবৈধ, কসবায় ১টি বৈধ ও ৫টি অবৈধ, নবীনগরে ১০টি বৈধ ও ১৮টি অবৈধ, নাসিরনগরে ৮টি বৈধ ও ১৪টি অবৈধ, বাঞ্ছারামপুরে ৩টি বৈধ ও ৩টি অবৈধ এবং বিজয়নগরে ৬টি বৈধ ও ১৬টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে।ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইভাবে কৃষিজমি, বনভূমি, আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ভাটা স্থাপন করা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করলে জেল ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাইদ বলেন, “যাদের লাইসেন্স নেই, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে। একসঙ্গে সবগুলোতে অভিযান চালানো সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে সব ভাটায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজিম হোসেন শেখ জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।স্থানীয়দের মতে, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
শুরুতেই ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে খেললেন ৪২ ওভার পর্যন্ত। বিপর্যয় সামলে মাঝে তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। এরপর অবশ্য তার পথচলা আর বেশি দূর যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডেতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ।শুরুতে দেখেশুনে খেলতে থাকা শান্ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রান বাড়িয়ে নিয়েছেন। ম্যাচের ৪১তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি।এরপর অবশ্য আর বেশি সময় উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি শান্ত। ৪৩তম ওভারের শেষে বলে লিনক্সের শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ধরা পড়েন বাউন্ডারির কাছে। ফেরা আগে ১১৯ বলে করেন ১০৫ রান। ৯ চার আর ২ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস।হাফসেঞ্চুরি করে ফিরলেন লিটন, দুইশর পথে বাংলাদেশলিটনকে দাসকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে ছুটছেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দিতে এসে লিটনও খেলেছেন দায়িত্বশীল ইনিংস। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে ছুটছিলেন তিনিও। কিন্তু আর আগেই কাটা পড়লেন লিটন।৩৩তম ওভারের প্রথম বলে এক রান নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ১৩তম ফিফটি তুলে নেন লিটন। দুটি চারে ৭১ বলে ফিফটি করেছেন তিনি। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ৩৯তম ওভারে প্রথম বলে জেডেন লিনক্সের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ফেরা আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৯১ বলে ৭৬ রান।শান্ত-লিটনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশশুরুতেই নিউজিল্যান্ডের পেসার উইল ও’রোর্ক ভয় ধরে দিয়েছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে। পাওয়ার-প্লেতেই তিন উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। এরপর অবশ্য নিউজিল্যান্ডের কোনো বোলারকেই সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশের দুই ব্যাটার লিটন দাস আর নাজমুল হোসেন শান্ত। স্বাগতিকদের পথ দেখাচ্ছেন তারা।তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন লিটন আর শান্ত। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের সুযোগ না দিয়ে এগিয়ে চলছেন তারা। শতরান ছাড়িয়েছে তাদের জুটি। ইতোমধ্যে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন শান্ত। লিটনও ছুটছেন সেই পথেই।বিপর্যয় সামলে এগোচ্ছে বাংলাদেশদুই ওপেনার সাইফ হাসান আর তানজিদ হাসান তামিম ফেরার পর ভালোই খেলছিলেন সৌম্য সরকার। শুরুটাও ভালো পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইনিংস আর বড় করতে পারলেন কোথায়! পাওযার প্লেতেই আরও এক উইকেট হারাল বাংলাদেশ।নবম ওভারে ও’রোর্কের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য। ফেরার আগে ২৬ বলে ১৮ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম তিন উইকেটই শিকার করেন এই কিউই পেসার।শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশব্যাটিংয়ে নেমে চোখে যেন সর্ষেফুল দেখলেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। দলকে বিপদে ফেলে বিদায় নিলেন দুজনই।ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট বিলিয়ে দিলেন সাইফ। উইল ও’রোর্কের ডেলিভারিতে উইকটের পেছনে টম লাথামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ। স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা হওয়ার আগেই উইকেট নেই। তৃতীয় ওভারে আবার রোর্কের আঘাত। ৫ বলে ১ রান করে বোল্ড হলেন তামিম। ৯ রানে ঘটে দ্বিতীয় উইকেটের পতন।টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তনঅলিখিত ফাইনালে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে নিউজিল্যান্ড।শেষ ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্পিনার তানভীর ইসলাম। দুজনকে জায়গা করে দিতে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনকে।বাংলাদেশ একাদশমেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, সাইফ হাসান, তানভীর ইসলাম, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রি মাতিয়েছেন ‘সিমরান’ আর ‘অঞ্জলি’সগ অসংখ্য দর্শক নন্দিত সিনেমা দিয়ে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ কিংবা ‘কভি খুশি কভি গম’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে নিজেকে এতোটা বোল্ড হননি কাজল। পর্দায় চুম্বন দৃশ্য নিয়ে আপোষ করেননি কখনো। তবে ২০২৩ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই ঘটেছে সেই দীর্ঘদিনের নিয়মের ব্যত্যয়। ‘দ্য ট্রায়াল: লাভ, কানুন, ধোকা’ সিরিজে সহ-অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের সঙ্গে তার একটি চুম্বন দৃশ্য শোরগোল ফেলে দেয় নেটদুনিয়ায়। ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে, ক্যারিয়ারের এত বছর পর কেন নিজের নীতি ভাঙলেন এই অভিনেত্রী?সম্প্রতি এক পডকাস্টে কাজল বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা চরিত্রের দাবিতেই করা। সিরিজে আমার অভিনীত ‘নয়নিকা সেনগুপ্ত’ যা হতে চায়, যা ভাবে কিংবা যা পায় না সেই লড়াইয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ওই মুহূর্তটি। এটা কেবল একটি চুমুর দৃশ্য ছিল না; বরং সে কাকে বিশ্বাস করত আর কাকে বিশ্বাস করতে পারত না, এটি ছিল তার প্রতিফলন।’চিত্রনাট্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজল আরও বলেন, ‘দৃশ্যটি চিত্রনাট্যের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে আমি বাদ দিতে পারিনি। ওটা বাদ দিলে চরিত্রটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অপূর্ণ থেকে যেত।’তবে দৃশ্যটি করার আগে মনে বেশ দ্বিধা ছিল কাজলের। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘আমার একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। সেটে দাঁড়ানোর আগে পর্যন্ত ধারণাটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগছিল। নিশ্চিত ছিলাম না যে আদৌ কাজটা করতে পারব কি না, নাকি ‘কাট’ বলে বেরিয়ে আসব। তবে শেষ পর্যন্ত সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি পেশাগত সিদ্ধান্ত।’উল্লেখ্য, ‘দ্য ট্রায়াল’ একটি কোর্টরুম ড্রামা যেখানে স্বামীর স্ক্যান্ডালের পর একজন নারীর পুনরায় আইনি পেশায় ফিরে আসার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে। সিরিজটিতে কাজলের স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন টলিউড সুপারস্টার যিশু সেনগুপ্ত। এর দ্বিতীয় সিজনটি ২০২৫ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিও হটস্টারে মুক্তি পেয়েছে।
রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার টালিউড অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ নুসরাত জাহানকে তলব করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আগামী ২২ এপ্রিল কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই অভিনেত্রীকে।ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশে গম পাঠানোকে কেন্দ্র করে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন নুসরাত।ধারণা করা হচ্ছে, এই পাচারচক্রের কিছু আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে অভিনেত্রীর যোগসূত্র থাকতে পারে।তবে সূত্রের খবর, ২২ এপ্রিল কলকাতায় ইডির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তদন্তকারীদের কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন নুসরাত জাহান। তিনি কলকাতায় নয়, বরং দিল্লিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদর দপ্তরে হাজিরা দিতে চান। উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে পাঁচ বছরের জন্য বসিরহাট লোকসভা আসনের সাংসদ ছিলেন নুসরাত জাহান। সেই সময় দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হলেও পরবর্তী নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।তবে দলটির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এখনও রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ইডির এই তলবের পর নুসরাত কী পদক্ষেপ নেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। একইসঙ্গে তার আইনজীবীরা কী অবস্থান নেন, সেদিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তানজিন তিশা অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ফ্যাশন সেন্স নিয়েও বেশ সচেতন। সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই নিজেকে মেলে ধরেন নানা রূপে ও সাজে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একগুচ্ছ নতুন ছবি প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। সেখানে তার সাজ ও আভিজাত্য ভক্ত-অনুরাগীদের বেশ নজর কেড়েছে। বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা মাঝেমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকেন। কখনো অভিনয়ের প্রশংসা, আবার কখনো ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা কর্মকাণ্ডের জেরে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনায় থাকেন এ তারকা। বর্তমানে তানজিন তিশা বিভিন্ন ইভেন্ট ও ফটোশুটে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর আগে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। যদিও এ নাটকটি ঘিরে তিশার বিরুদ্ধে একটি বিতর্কও দানা বেঁধেছিল। এদিকে ছবিতে দেখা গেছে, অভিনেত্রীকে একটি প্যাস্টেল শেডের কারুকাজ করা শাড়িতে। হালকা গোলাপি রঙের এ শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ফুল স্লিভ ব্লাউজ ও গলায় ভারি চকার তার লুকে এনেছে রাজকীয় আভা। কানের দুল আর খোঁপা করা চুল তার এই বিশেষ সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মেকআপেও ছিল তানজিন তিশার স্নিগ্ধতার ছাপ। গোলাপি আইশ্যাডো ও লিপস্টিকে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।পোস্ট করা ছবিতে আরও দেখা গেছে, অভিনেত্রীর নানা ঢঙে পোজ ছিল বেশ নজরকাড়া। কখনো বসে, আবার কখনো দাঁড়িয়ে মিষ্টি হেসে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন তিনি। কোনো ছবিতে তার চোখের মায়াবী চাহনি দিতেও দেখা যাচ্ছে। নিজের এই লুক তানজিন তিশার কতটা পছন্দ হয়েছে তা বোঝা যায় তার দেওয়া ক্যাপশনেও। অভিনেত্রী ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন— এই সাজকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি। একই ফটোশুটের ছবি আরও একটি পোস্টে শেয়ার করে তিনি লিখেছেন— কথায় নয়, কাজেই পরিচয়।তানজিন তিশার এ ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতেই মুহূর্তেই নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। অসংখ্য লাইক ও কমেন্ট করেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসায় মেতে উঠেন নেটিজেনরা। বেশ কয়েকজনের মন্তব্য এমন— দেখে সুন্দর, অনন্য লাগছে, শাড়িতে মানিয়েছে।
উত্তর আমেরিকার (কানাডা ও আমেরিকা) বক্স অফিসে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সেখানে মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় ছবিটি ছাড়িয়ে গেছে এ যাবৎকালে আয়ের শীর্ষে থাকা সিনেমা ‘হাওয়া’-র লাইফটাইম গ্রস কালেকশনকে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’ ও বক্স অফিস ট্র্যাকার ‘কমস্কোর’। জানিয়েছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহেই ৩ লাখ ৬১ হাজার ডলার আয় করে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে ৫৪টি থিয়েটারে প্রদর্শিত হওয়া সিনেমাটি ইতোমধ্যেই বক্স অফিসে শীর্ষস্থান দখল করেছে।এর আগে উত্তর আমেরিকার বাজারে ‘হাওয়া’ সিনেমাটি মোট ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার আয় করেছিল; এবার তার রেকর্ড ভেঙেছে বনলতা এক্সপ্রেস।সিনেমাটির অভাবনীয় এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সিনেমার অন্যতম অভিনেত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টও দিয়েছেন। অন্যদিকে সিনেমার পরিচালক তানিম নূর দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, এই অর্জন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। উল্লেখ্য, তানিম নূর পরিচালিত ও বুড়িগঙ্গা টকিজ প্রযোজিত এই সিনেমাটি গেল শুক্রবার থেকে উত্তর আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে মোট ২২টি থিয়েটারে তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর ও শরীফুল রাজসহ আরও অনেকে। সিনেমাটির সহ-প্রযোজনায় রয়েছে হইচই প্রোডাকশন।
জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন নটিয়াল জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন সবসময় আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন এই তারকা। তাই তার বিয়ের খবরটিও সামনে এসেছে অনেকটা নিভৃতেই।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে একেবারে সাদামাটা ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন করেন তিনি। কোনো জাঁকজমক নয় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই শুভ আয়োজন। শোনা যাচ্ছে, যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন জুবিন, তিনি তার শৈশবের ভালোবাসার মানুষ। তবে কনের নাম-পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও দেননি এই গায়ক। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।দেরাদুনের এই শিল্পী ২০১১ সালে ‘এক্স ফ্যাক্টর ইন্ডিয়া’ অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর ২০১৪ সালে ‘সোনালি কেবল’ সিনেমার ‘এক মুলাকাত’ গানের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। তবে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ‘জিন্দেগি কুছ তো বাতা’ এবং ‘কাবিল’এর টাইটেল ট্র্যাক গেয়ে। পরবর্তীতে ‘লুট গায়ে’, ‘তুম হি আনা’ এবং ‘রাতা লম্বিয়া’র মতো জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ‘শেরশাহ’ সিনেমার ‘রাতান লম্বিয়াঁ’ গানটি তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রিয় গায়কের নতুন জীবনের জন্য ভক্ত-অনুরাগীদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা জুটি রণবীর সিং-দীপিকা পাড়ুকোনকে ঘিরে আবারও ছড়িয়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। দীর্ঘ প্রেম আর আট বছরের দাম্পত্য জীবন কি তবে শেষের পথে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তদের মনে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায়, রেডিটে একটি ভাইরাল পোস্ট থেকেই এই জল্পনার শুরু। সেখানে দাবি করা হয়, রণবীর ও দীপিকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নাকি আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে পারেন এই তারকা দম্পতি।এই গুঞ্জনের প্রভাব পড়েছে ভক্তদের মধ্যেও। বিশেষ করে তাদের কন্যা দুয়া’র ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে এখনও পর্যন্ত এই নতুন গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি রণবীর বা দীপিকা কেউই।এই সিনেমা সাফল্যের সময় দীপিকার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। প্রিমিয়ারেও তাকে না দেখা যাওয়ায় জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও পরে সমালোচনার জবাবে দীপিকা স্পষ্টই জানান, তিনি সিনেমাটি সবার আগেই দেখে ফেলেছেন।এদিকে তারকা দম্পতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই বিচ্ছেদের খবর পুরোপুরিই ভিত্তিহীন। এর আগেও ২০২৪ সালে একই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল, যা পরে নাকচ করেন রণবীর নিজেই। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই। সংসার জীবনে তারা ভালো আছেন।ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, গ্ল্যামার দুনিয়ায় এ ধরনের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়—বাস্তবের সঙ্গে যার মিল অনেক সময়ই থাকে না।সব মিলিয়ে, ‘বাজিরাও-মাস্তানি’ জুটির সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, সত্যিটা জানতে এখন অপেক্ষাই ভরসা।
চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে তেল বিক্রি থেকে ইরানের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এপ্রিল ২০২৬-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটির দৈনিক তেল আয় ও মোট রাজস্বে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।মার্চ ২০২৬-এ ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা ফেব্রুয়ারির ১১৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। কিছু বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ প্রবৃদ্ধি এক মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর কথাও বলা হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়ের পেছনে প্রধান কারণ বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরান বেশি দামে তেল বিক্রির সুযোগ পেয়েছে। ইউএস-ইসরায়েল ও ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা এ মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।এছাড়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে যে বড় অঙ্কের ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি করতে হতো, বর্তমানে সরবরাহ সংকটের কারণে সেই ডিসকাউন্ট কমে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারদরের কাছাকাছি মূল্যে তেল বিক্রি করতে পারছে তেহরান।রপ্তানি ক্ষেত্রেও ইরান কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে এবং ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করে তারা তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। এ ক্ষেত্রে চীনের শোধনাগারগুলো ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে ভূমিকা রাখছে। অন্যদের জন্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে ইরানের নিজস্ব তেল রপ্তানি আয়ের হার অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের চাপ সত্ত্বেও বিকল্প পথ ব্যবহার করে তেল বিক্রি সচল রেখেছে ইরান, যার ফলে দেশটির জ্বালানি খাতের আয় বাড়তে থাকছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।তবে তার সঙ্গে একই দিন নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির সন্ধান এখনো পায়নি পুলিশ।জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডার ট্যাম্পা শহরের হাওয়ার্ড ফ্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয়।তবে নিখোঁজ হওয়া আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি এবং তার খোঁজ পাওয়ার জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কার্যালয়।নাহিদা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল। সেদিন জামিলকে সর্বশেষ দেখা যায় সকাল ৯টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার ছাত্রাবাসে। অন্যদিকে নাহিদাকে সর্বশেষ দেখা যায় সেদিন সকাল ১০টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে।জামিল ও নাহিদার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাদের এক পারিবারিক বন্ধু পরদিন ১৭ এপ্রিল বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজাও জামিলের লাশ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছেন। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক সংবাদটি জানাতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাহিদা এস বৃষ্টির বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
বাংলার উৎসবের রঙ, আনন্দ ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে আবারও শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ‘বাংলার প্রেমে উইকি ২০২৬’ (Wiki Loves Bangla)। অংশ নিয়ে জিতে নেয়ার সুগোগ থেকছে মোট $১,১০০ নগদ পুরস্কার। উইকিমিডিয়া আন্দোলনের এই উদ্যোগটি বাংলা সংস্কৃতিকে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম।২০২৪ সাল থেকে প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসর শুরু হয়েছে গত ১৪ আগস্ট এবং চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ কার্যক্রম’-এর অংশ হিসেবে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করছে ‘বাংলা উইকিমৈত্রী’। প্রতিবছর বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বাংলা বৈশাখ মাস জুড়ে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ‘বাংলার উৎসব’—পহেলা বৈশাখ থেকে দুর্গাপূজা, ঈদ, নবান্ন কিংবা গ্রামীণ মেলা—বাংলার প্রাণের প্রতিটি উৎসবই হতে পারে আপনার ক্যামেরার গল্প। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ছবি ও ভিডিও জমা দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে, এবং একজন অংশগ্রহণকারী একাধিক কাজ জমা দিতে পারবেন।আয়োজকদের মতে, বাংলার উৎসবের চিত্র কেবল সৌন্দর্যের মুহূর্ত নয়—এগুলো আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ডিজিটাল মাধ্যমে এসব আলোকচিত্র সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ গবেষণা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্য ও জীবনাচার দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।প্রতিযোগিতায় সেরা ১০টি আলোকচিত্র আন্তর্জাতিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে ১ম স্থান অর্জনকারী পাবেন $৪০০, ২য় স্থান অর্জনকারী $৩০০ এবং ৩য় স্থান অর্জনকারী $২০০ নগদ পুরস্কার। এছাড়াও শীর্ষ ১০ জন বিজয়ীর জন্য থাকবে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র। এছাড়াও সেরা ভিডিওর জন্য থাকছে $১৫০ নগদ পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র।প্রতিযোগিতার আয়োজক ‘বাংলা উইকিমৈত্রী’ একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, যা বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বাংলাভাষী উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। ২০২৩ সালে মার্কিন অলাভজন প্রতিষ্ঠান উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের স্থানীয় চ্যাপ্টার উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ উইকিমিডিয়া ব্যবহারকারী দলের যৌথ উদ্যোগে এই উইকিমিডিয়া হাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আরও জানতে ও অংশগ্রহণ করতে দেখুন: https://w.wiki/KLbd
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।