এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে সংশোধন করা হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক জানিয়েছেন, সম্ভব হলে ২০২৭ সাল থেকেই নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।বর্তমান অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হয়। তবে বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই পরীক্ষাগুলো প্রায়ই পিছিয়ে যায়। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিরতি তৈরি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সরকার অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে।নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা যদি ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারি, তাহলে সিলেবাস, কারিকুলাম, ক্লাস টেস্ট এবং বোর্ড পরীক্ষা—সবই শেষ হবে। এরপর তারা জানুয়ারিতে সঙ্গে সঙ্গেই উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হবে। এতে দুই বছরের মধ্যেই তাদের কারিকুলাম ও সিলেবাস সম্পন্ন হবে।'তিনি আরও জানান, ডিসেম্বর হবে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের শেষ মাস, যা পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা নিতে হবে এবং দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।নতুন কারিকুলাম কবে থেকে কার্যকর হবে— এ প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি পাস করবে, ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করবে এবং কোনো সেশন জট ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। আমরা কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছি। যদি সম্ভব হয়, ২০২৭ সাল থেকেই এটি কার্যকর করা হবে।'তবে নতুন সময়সূচি ২০২৭ সালের এসএসসি থেকে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করার ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। এহছানুল হক বলেন, 'এখন ২০২৬, ২০২৭, ২০২৮ কিংবা ২০২৯—এসব পরের বিষয়। আগে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে আমরা কী চাই। ডিসেম্বরেই অ্যাকাডেমিক বছর শেষ হবে, এবং আমরা ডিসেম্বরেই সব সম্পন্ন করব।'দেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে একটি নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের বয়স আড়াই মাসের মতো। তবে এরই মধ্যে আমরা দেশের মানুষের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করেছিলাম এবং দেশের মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।২ মে শনিবার সিলেটের চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সুধী সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, আমরা সারাদেশে নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক ভাইদের সহযোগিতা করার জন্য কৃষক কার্ডের কথা বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম যে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভেতর থেকে যারা বিভিন্ন খেলাধুলায় দক্ষ বা যাদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিভা রয়েছে, সেগুলোকে আমরা বিকশিত করতে চাই। সারাদেশ থেকে দক্ষ খেলোয়াড় বের করে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে যারা আমাদের বয়সী আছেন, কমবেশি অনেকেরই ধারণা আছে যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্য থেকে প্রতিভাবানদের বের করে আনার জন্য নতুন কুঁড়ি নামক একটি অনুষ্ঠান চালু করা হয়েছিল। আপনাদের অনেকেরই সে সম্পর্কে ধারণা আছে যারা সে সময় শহীদ জিয়াকে দেখেছেন। সেটিরই একটি বর্ধিত অংশ হিসেবে আমরা এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ভেতর থেকে ভবিষ্যতে ভালো খেলোয়াড় বের করে আনতে চাই। তারই অংশ হিসেবে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' আমরা আজ সিলেটের মাটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করব ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী জানান, গত পরশু পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু নাম নিবন্ধন করেছে। এর মধ্য থেকে সাত-আটি খেলা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এর ভেতর থেকে এমন কিছু খেলোয়াড় বের করে নিয়ে আসতে পারব যারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দেশের জন্য স্বর্ণপদক ছিনিয়ে আনবে এবং দেশের সুনাম বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। ক্রিকেট যেভাবে আজ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছে এবং সম্মান নিয়ে এসেছে, কিংবা মেয়েদের ফুটবল টিম যেভাবে দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে এনেছে, তেমনিভাবে আমাদের ছেলেমেয়েরাও ভবিষ্যতে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারবে।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সংগ্রাম, লড়াই, ত্যাগ-তিতিক্ষা, কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে, আমাদের ছাত্র-শিশুদের রক্তের মধ্য দিয়ে আমরা একটা পরিবর্তন পেয়েছি। একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে যে আমরা নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ব।শনিবার (২ মে) শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই সনদ, সংবিধান সংশোধন– এগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে। তর্ক-বিতর্ক অবশ্যই ভালো কিন্তু অপপ্রচার, মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা, এটা কখনোই ভালো হতে পারে না।তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথাটা হলো জুলাই সনদের প্রত্যেকটা জায়গায় আমরা ছিলাম। আমাদের যে স্বাক্ষর করেছেন- আমি আর সালাউদ্দিন সাহেব সব স্বাক্ষর করলাম। তার আগে জুলাই সনদ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটাও আমরা একসঙ্গে ড্রাফট দিয়েছি। আমরা তো পরিষ্কার করে বলেছিলাম যে আলোচনার মধ্যে যেগুলোতে আমরা একমত হব না সেগুলোতে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দেব। জুলাই সনদের মধ্যে তা আছে। তখনই কিন্তু আমরা প্রেস কনফারেন্স করে বলেছিলাম এ বিষয়ে।মন্ত্রী বলেন, সে সময় সেখানে কতগুলো বিষয় থাকল যেগুলোতে আমরা একমত হইনি। কিন্তু তারা বলে দিল যে এগুলো হবে আর এই নির্বাচনের পরেই যারা নির্বাচিত হবেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবেন। আমরা এটার সঙ্গে একমত একেবারেই হইনি। কারণ এটার কোনো নজির নেই। আমরা বলেছিলাম নির্বাচন হবে, নির্বাচিত সদস্যরা সংসদ গঠন করবে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। যা যা পরিবর্তন আনার বা সংশোধন করার প্রয়োজন তারাই সেটা করবে। তো সেইসব বিষয় নিয়ে এখন একেবারেই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্য আগামীকাল রোববার (৩ মে) শপথ নেবেন।সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, রোববার রাত ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১-এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।শনিবার (২ মে) সংসদ সচিবালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি থেকে ৩৬ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে ১৩ জন মনোনীত হন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল হলেও আজ শনিবার বৈধ ঘোষণা করা হয়।বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন যারাবিএনপি থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন–সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।জামায়াত ও জোট থেকে শপথ নেবেন যারাজামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীরা হলেন–নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, মারজিয়া বেগম, অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন্নাহার নিলু, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, মেরিনা সুলতানা, মাহফুজা খানম, সাজেদা সামাদ এবং জুলাই শহীদ জারিফ আব্দুল্লাহর মা রোকেয়া বেগম।এ ছাড়া জামায়াতের ছেড়ে দেয়া তিনটি আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে শপথ নেবেন–ডা. মাহমুদা মিতু (এনসিপি), তাসমিয়া প্রধান (জাগপা) এবং ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা করিম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।এনসিপি থেকে মনোনীত প্রার্থীজাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সরাসরি মনোনীত হয়ে শপথ নেবেন নুসরাত তাবাসসুম।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এই ৫০ জন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকালের শপথের মধ্যদিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও চারজন মারা গেছেন।শনিবার (২ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে গত ২৪ ঘণ্টার হিসাব দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৩৫ জন। ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ২১৮ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৩২৫ জন।এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬ হাজার ৯১১ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৩ হাজার ২২৫ জন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেশের আলোচিত অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি দাবি করেন, ফারুকীর কারণে কিছু শিল্পীর জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।কান্নাজড়িত কণ্ঠে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের কিছু শিল্পীর জীবন ফারুকী শেষ করে দিয়েছে। সে মনে করছে সে জিতে গেছে, কিন্তু সে জীবনেও জিততে পারবে না।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের ভেতরে কাজের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। ‘আমি আমার দেশটাকে মিস করি। কোথাও কাজ করতে পারতাম না, কোথাও ঢুকতে পারতাম না। যেখানেই গেছি, সেখানেই ফারুকী। টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করে রাখতো’- বলেন এই অভিনেত্রী।একটি অনুষ্ঠানে ফারুকীর স্ত্রীর আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন অরুণা বিশ্বাস। তার ভাষায়, ‘প্রত্যেক শিল্পীর দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে অনেক অধিকার আছে। কিন্তু আমাদের সেই অধিকারগুলো কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’লাইভে তিনি আরও বলেন, দেশের পরিস্থিতির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। ‘আমি হয়তো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভুলব না, কীভাবে আমাকে নিজের দেশ ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে’- যোগ করেন তিনি।তবে দেশ ছাড়ার পেছনে সরাসরি কোনো চাপ ছিল না বলেও জানান এই অভিনেত্রী। তার কথায়, ‘আমাকে কেউ কিছু বলেনি। কিন্তু কেন জানি মনে হয়েছে, আমার চলে যাওয়া উচিত।’ এয়ারপোর্টে এক ব্যক্তির আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, ‘একজন লোক আমাকে বারবার বিরক্ত করছিল। আমি জানতে চাই, কেন সে এমন করছিল। আশা করি, একদিন তার সঙ্গে দেখা হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারব।’অরুণা বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কানাডায় বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ৩০ বছর ধরে কানাডায় আছি। আমার পাসপোর্ট না থাকলে আমি আসতাম না। আমি পালিয়ে আসিনি’। এই বিষয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজধানীতে অপরাধ দমনে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার।তিনি বলেন, বর্তমানে আগের মতো বড় ধরনের শীর্ষ সন্ত্রাসী নেই, তবে তাদের সহযোগী বা নতুনভাবে অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আমাদের মনিটরিং ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। কেউ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই তাদের দমন করা হবে।শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মো. সরওয়ার বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নতুন স্থাপিত পুলিশ ক্যাম্পটি মূলত এ এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।ক্যাম্পে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গোপন বা প্রকাশ্যে তথ্য দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ফোর্স বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে ইতোমধ্যে চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গোপন নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ঢাকায় অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোনো থানায় মামলা না নিলে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট জোনাল সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি), ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) কিংবা ডিএমপির ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কারওয়ান বাজার এলাকায় অপরাধীদের গ্রেফতার এবং অপরাধ শূন্যে নামিয়ে আনতেই এই ক্যাম্প চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরজুড়ে চাঁদাবাজসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান আরো জোরদার করা হবে।
বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমাতে চীনের মাইলফলক। নিজস্ব মুদ্রা ইউয়ানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রচেষ্টায় দেশটি। দীর্ঘ সাত মাসের টানাপড়েন শেষে বিশ্বের বৃহত্তম তেল-গ্যাস উত্তোলন কোম্পানি বিএইচপি গ্রুপের সঙ্গে আকরিক লোহা বাণিজ্যের একটি বড় অংশ ইউয়ানে সম্পন্ন করার চুক্তি নিশ্চিত করেছে তারা। ফোর্বসের এক খবরে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিএইচপি থেকে চীনে আসা সব আকরিক লোহা এতদিন ডলারে মূল্যায়িত হলেও নতুন চুক্তিতে এর একটি অংশ ইউয়ানে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত চীনা সরকারের নতুন প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ’ (সিএমআরজি) এই সাফল্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে। বিএইচপি সরাসরি ইস্পাত কারখানাগুলোর সঙ্গে চুক্তি বজায় রাখতে অনড় থাকায় সিএমআরজি তাদের কিছু পণ্য নিষিদ্ধ করে চাপ সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।গত এপ্রিলের শুরুতে বেইজিংয়ে বিএইচপির বিদায়ী প্রধান নির্বাহী মাইক হেনরি ও উত্তরসূরি ব্র্যান্ডন ক্রেইগের সঙ্গে চীনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। নতুন চুক্তিতে বিএইচপি চীনের নিজস্ব ‘বেইজিং আয়রন অর পোর্ট স্পট প্রাইস ইনডেক্স’ বা মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া সরবরাহকৃত আকরিকে ১ দশমিক ৮ শতাংশ ছাড় দিতেও রাজি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা চীনা ইস্পাত কারখানাগুলোর জন্য বড় বাড়তি সুবিধা।চীনের এই অগ্রগতি পণ্য আমদানিতে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ। শুধু লোহা নয়, তেল বাণিজ্যেও ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে চীনা মুদ্রায় ঋণ গ্রহণের প্রবণতা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্প সুদের কারণে গোল্ডম্যান স্যাক্সসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক চীনের অফশোর ঋণ বাজারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন মূলত বিনিয়োগকারী ও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কমানোর একটি বড় প্রচেষ্টা।
সিলেট মহানগরীকে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এর আগে সকালে বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম সিলেট সফর।সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি ঘটবে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। ভৌগলিক কারণে টিলা ও নদীবেষ্টিত সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়া সরাসরি সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে এসব ছড়া দিয়ে নদীর পানি উল্টো নগরীতে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা এবং পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাতের পরামর্শে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।প্রকল্পের আওতায় নগরীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কাজীরবাজারের বৈঠাখাল, ছড়ারপাড়ের গোয়ালীছড়া এবং বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়ায় আধুনিক স্লুইস গেট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হবে। এতে নদীর পানি নগরীতে প্রবেশ রোধের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।এছাড়া শাহপরাণ সেতু থেকে বাদাঘাট সেতু পর্যন্ত সুরমা নদীর দুই তীরের প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করা সম্ভব নয়, সেখানে নির্মাণ করা হবে ফ্লাড ওয়াল বা বন্যা প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল।সিসিক সূত্র জানায়, প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে সরকার। প্রকল্পটি বিদেশি সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রকল্প উদ্বোধনের আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায় বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। বিকেল ৩টায় তিনি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন করবেন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন।
ইরান এবং তার মিত্রদের ধারাবাহিক হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত অধিকাংশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সিএনএন-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলের অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে বেশ কিছু ঘাঁটি বর্তমানে কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একজন মার্কিন কংগ্রেসনাল এইড, যিনি এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ সম্পর্কে অবগত, তিনি জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে কৌশলগত অবস্থান ছিল, এই হামলার ফলে তার একটি বড় অংশই এখন অচল। ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এই পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সিএনএন-এর এই তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েক ডজন স্যাটেলাইট ছবি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে কিছু সামরিক কর্মকর্তা মনে করছেন, কৌশলগত সুবিধার কথা চিন্তা করে বিপুল অর্থ ব্যয় করে হলেও এগুলো মেরামত করা প্রয়োজন। পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে অপর এক মার্কিন সূত্র মন্তব্য করেছে, এর আগে কখনো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন নাজুক অবস্থা দেখা যায়নি।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং দুষ্প্রাপ্য সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মূলত উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে আঘাত করেছে।কংগ্রেসনাল এইডের মতে, রাডার ব্যবস্থাগুলো ওই অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে দামি এবং সীমিত সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও ইরান সেগুলোকে সবচেয়ে লাভজনক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে ধ্বংস করেছে। এই সম্পদগুলো প্রতিস্থাপন করা যেমন ব্যয়সাধ্য, তেমনি অনেক সময়সাপেক্ষ কাজ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।পেন্টাগনের কমপট্রোলার জুলস জে হার্স্ট থ্রি গত বুধবার আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে সিএনএন-এর নিজস্ব সূত্র দাবি করেছে, অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী এই ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। যুদ্ধের এই বিশাল আর্থিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। একজন সৌদি কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা কোনোভাবেই অভেদ্য নয়। উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ওপর হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহার করায় তারা কেবল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করেছে।সূত্র: সিএনএন
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সংগ্রাম, লড়াই, ত্যাগ-তিতিক্ষা, কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে, আমাদের ছাত্র-শিশুদের রক্তের মধ্য দিয়ে আমরা একটা পরিবর্তন পেয়েছি। একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে যে আমরা নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ব।শনিবার (২ মে) শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই সনদ, সংবিধান সংশোধন– এগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে। তর্ক-বিতর্ক অবশ্যই ভালো কিন্তু অপপ্রচার, মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা, এটা কখনোই ভালো হতে পারে না।তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথাটা হলো জুলাই সনদের প্রত্যেকটা জায়গায় আমরা ছিলাম। আমাদের যে স্বাক্ষর করেছেন- আমি আর সালাউদ্দিন সাহেব সব স্বাক্ষর করলাম। তার আগে জুলাই সনদ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটাও আমরা একসঙ্গে ড্রাফট দিয়েছি। আমরা তো পরিষ্কার করে বলেছিলাম যে আলোচনার মধ্যে যেগুলোতে আমরা একমত হব না সেগুলোতে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দেব। জুলাই সনদের মধ্যে তা আছে। তখনই কিন্তু আমরা প্রেস কনফারেন্স করে বলেছিলাম এ বিষয়ে।মন্ত্রী বলেন, সে সময় সেখানে কতগুলো বিষয় থাকল যেগুলোতে আমরা একমত হইনি। কিন্তু তারা বলে দিল যে এগুলো হবে আর এই নির্বাচনের পরেই যারা নির্বাচিত হবেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবেন। আমরা এটার সঙ্গে একমত একেবারেই হইনি। কারণ এটার কোনো নজির নেই। আমরা বলেছিলাম নির্বাচন হবে, নির্বাচিত সদস্যরা সংসদ গঠন করবে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। যা যা পরিবর্তন আনার বা সংশোধন করার প্রয়োজন তারাই সেটা করবে। তো সেইসব বিষয় নিয়ে এখন একেবারেই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২ মে শনিবার দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সেলের সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তা আমাদের জানিয়েছেন যে, কিছুক্ষণের মধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান জানান, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ। দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় বিকেল ৪টার পর নুসরাত মনোনয়নপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। ফলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অপহরণের পর রাজিব (১৮) নামে এক তরুণ অটোচালককে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত রাজিব উপজেলার দক্ষিণ গাইয়ার চর ফজু মোল্লা স্টেশন এলাকার অটোচালক মোস্তফার ছেলে। শনিবার (২ মে) দুপুর আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ক্যাম্পের হাট স্কুলের পশ্চিম পাশের একটি সুপারি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে রাজিব নিখোঁজ হন। রাত বাড়লেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের বাসায় খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।এদিকে রাত প্রায় ৩টার দিকে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা রাজিবের বাবার মোবাইল ফোনে কল করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলে পরিবার দাবি করেছে। এতে পরিবারের মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। তারা বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।শনিবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ক্যাম্পের হাট স্কুলের পাশের একটি বাগানের ভেতরে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন, যা নিখোঁজ রাজিবের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত রাজিবের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শিমুলতলা এলাকার এক ব্যক্তি রাজিবের অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। ঘটনার পর ওই ব্যক্তি এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে তার পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করছে পুলিশ।রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশে কিউ স্পোর্টসের প্রসার ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ৩৯তম জাতীয় স্নুকার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বিলিয়ার্ড অ্যান্ড স্নুকার ফেডারেশন-এর আয়োজনে এবং ঢাকা বোট ক্লাব-এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার বোট ক্লাব প্রাঙ্গণে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনের আগে একই ভেন্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুবেল আজিজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকার মো. শামসুদ্দিন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নির্বাহী সদস্যরা।আয়োজকরা জানান, এবারের আসরে দেশের ৩২টি ক্লাবের মোট ১৮৩ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। অ্যাম্বার গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতা এবং এমিনেন্স সোর্সিং ও রশিদ গ্রুপের সহ-পৃষ্ঠপোষকতায় টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বেভারেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে আরসি কোলা ও মিনারেল ওয়াটার ব্র্যান্ড মাম, আর মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকছে ইমপ্যাক্ট পিআর।পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন পাবেন নগদ ১ লাখ টাকা এবং রানার্স আপ ৫০ হাজার টাকা। সেমিফাইনালে ওঠা প্রতিযোগীরা পাবেন ২০ হাজার টাকা করে। এছাড়া ৫০ বা তার বেশি ব্রেক করা খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে বিশেষ পুরস্কার।সংবাদ সম্মেলনে রুবেল আজিজ বলেন, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন কিউ স্পোর্টসকে দেশে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে এবং নতুন প্রতিভাদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে। তবে স্নুকার টেবিল আমদানিতে উচ্চ ভ্যাটের বিষয়টি খেলাটির বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অন্যদিকে সরকার মো. শামসুদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরিই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এবারের প্রতিযোগিতায় ব্যাপক অংশগ্রহণ দেশের স্নুকারের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রতিফলন এবং এটি নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ক্লাব ও স্নুকার একাডেমির অংশগ্রহণে জমজমাট এই প্রতিযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের পঞ্চম সিজনের শুটিং চলছে নেপালে। সেখানে ব্যাচেলর পয়েন্ট টিমের সঙ্গে যুক্ত হলেন নেপালের অভিনেত্রী রাজেশ্রী থাপা। বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্মাতা জানান, ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ফাইভের চ্যাপটার ১২-তে সারপ্রাইজ তাঁকে দেখা যাবে।ফেসবুকে রাজেশ্রী থাপার ছবি পোস্ট করে পরিচালক ক্যাপশনে লেখেন, চরিত্রটি কে হতে পারে অনুমান করুন। এরপর তাঁর কমেন্ট বক্সে হাজার হাজার ফানি মন্তব্য পড়তে দেখা যায়।গত বছর কোরবানির ঈদের সময় থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে শুরু হয়েছে ব্যাচেলর পয়েন্ট ফাইভের প্রচার। নতুন সিজনে শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে চমক। পাঁচ বছর পর এই সিজনে ফিরে এসেছেন নেহাল ও আরিফিন চরিত্রে অভিনয় করা তৌসিফ মাহবুব ও শামীম হাসান সরকার। যুক্ত হয়েছে নতুন চরিত্রও। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন মারজুক রাসেল, জিয়াউল হক পলাশ, চাষী আলম, মনিরা মিঠু প্রমুখ।ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ব্যাচেলর পয়েন্টের নতুন এই সিজন প্রচার হচ্ছে চ্যানেল আই এবং বুম ফিল্মস ইউটিউব চ্যানেলে।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। তিনি নিজেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। সিদ্দিক জানান, গত ১৮ মার্চ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।সিদ্দিক আরও বলেন, ‘আমার নামে দুটি মামলা রয়েছে। তবে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর ভিন্ন এক অনুভূতি কাজ করছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি প্রায় ১০ মাস কারাগারে ছিলাম। জীবনের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তির পর গত কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়েছি। এতদিন এক ধরনের পরিবেশে ছিলাম, এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে এসেছি। নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্যই এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করিনি।’উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশান থানা এলাকায় একটি হত্যা মামলায় সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার এসআই সামিউল ইসলাম গত বছর ১২ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ফার্নিচারকর্মী পারভেজ বেপারী। জুমার নামাজের পর আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পারভেজের বাবা মো. সবুজ গত বছরের ২ জুলাই গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন এক মাস হয়ে গেছে। গত ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে কলকাতার তালসারির সমুদ্রে ডুবে মারা যান এই অভিনেতা। রাহুলের মৃত্যুর পর নেটপাড়ার একটা অংশের ট্রলের মুখে পড়েন তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।স্বামীর শেষকৃত্যে একটি কুর্তা আর ডেনিম জিন্স পরে দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে শুধু পোশাক নিয়ে নয়, কিছু মানুষ তো প্রশ্ন তোলেন, কেন একবারও চোখের পানি ফেলতে দেখা গেল না প্রিয়াঙ্কাকে! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের যখন প্রিয়াঙ্কার মাথায় স্নেহের হাত রাখেন, তখন কেন এক চিলতে হাসি ফুটেছিল প্রিয়াঙ্কার মুখে! এরকমই আজব আর কুরুচিকর কমেন্টে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া।আপাতত নিজের পরবর্তী ওয়েব সিরিজ ‘কুহেলি’র প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত আছেন প্রিয়াঙ্কা। অবশ্য এই নিয়েও কম কটাক্ষ হয়নি, একদল নিন্দুকেরা প্রশ্ন তোলে, ‘স্বামী হারা একজন কীভাবে এত তাড়াতাড়ি কাজে ফিরল!’ তবে এবার সব ট্রলের জবাব দিলেন অভিনেত্রী। ভারতীয় গণমাধ্যম টিভি নাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে স্পষ্ট করলেন, শত নেতিবাচকতার মধ্যেও ভালোটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন তিনি।প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি সব পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই ভালোটা খুঁজে নেওয়ার। আমার মনে হয় যে, যখনই এরকম কোনো পরিস্থিতি এসছে, পাঁচজন হয়তো নেগেটিভ কথা বলেছে, কিন্তু ৫০ জন পাশে থেকেছেন এবং ভালো কথা বলেছেন। সেই পাঁচজনকে আমার গুরুত্ব না দিলেও চলবে। যে ৫০ জন পাশে থেকেছে, তারাই কিন্তু আমাদের হয়ে লড়াইগুলো করে। আসলে অনেকেই বাজে কথা বলে, কারণ তারা মনোযোগ চায়। আর এদেরকে গুরুত্ব না দেওয়া সবচেয়ে ভালো রেসপন্স হতে পারে।’প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘যেমন তোমার চারপাশে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে তুমি তোমার কষ্টের কথা ভাগ করে নাও, মন হালকা করো। তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় পজিটিভিটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এরা তোমার মনোযোগ ডিজার্ভ করে। যারা তোমার জন্য লড়াই করছে। কেন আমি নেতিবাচক কথাকে আমার জীবনে প্রভাব ফেলতে দেব!’ প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা সরকার— টলিউডের এক সময়ের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমা দিয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি যে ইতিহাস তৈরি করেছিল, তা আজীবন ভক্তদের মনে থাকবে।
সরকে চুনর তেরি- গান ঘিরে তৈরি বিতর্কের প্রেক্ষিতে মহিলা কমিশনে হাজির হয়ে বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। কমিশনের সামনে দেওয়া বক্তব্যে সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য কখনোই সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা ছিল না। একই সঙ্গে তিনি একটি সামাজিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন—৫০ জন আদিবাসী কন্যাশিশুর সম্পূর্ণ শিক্ষার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।এই বিতর্কে নাম জড়ালেও এদিন উপস্থিত ছিলেন না অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। বিদেশে অবস্থানের কারণে তিনি আগেই সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তার জন্য নতুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।মূলত কে ডি: দ্য ডেভিল ছবির হিন্দি সংস্করণের একটি গানকে ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। গান প্রকাশের পর এর ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়ে একাংশ আপত্তি তোলে। বিশেষ করে গানের কিছু অংশকে অশালীন বলে অভিযোগ করা হয় এবং নোরা ফাতেহির নৃত্যভঙ্গিমা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।সবশেষে কমিশনের সামনে সঞ্জয় দত্ত আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে তার সঙ্গে যুক্ত যেকোনো কাজে নারী ও শিশুদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন উপস্থাপনা যেন না থাকে, সে বিষয়ে তিনি আরও সতর্ক থাকবেন।সম্প্রতি ২৫ এপ্রিল নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। ৩৩ বছর পর ‘খলনায়ক’-এর সিকুয়েল ‘খলনায়ক রিটার্নস’ নিয়ে তিনি আবারও দর্শকের সামনে আসছেন।
ভারতের আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে গত শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদানের ঘোষণা দিয়ে চমকে দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তার এই দলবদল নিয়ে যখন পুরো ভারতজুড়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে, তখনই আগুনে ঘি ঢাললেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ। একটি বিতর্কিত মিম শেয়ার করে এবার বড়সড় বিপাকে পড়েছেন এই প্যান ইন্ডিয়া তারকা। নিজের সোজাসাপ্টা মন্তব্যের জন্য প্রকাশ রাজ সবসময়ই পরিচিত। রাঘব চাড্ডার দলবদল প্রসঙ্গে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মিম শেয়ার করেন যেখানে লেখা ছিল, ‘আমি পুলিশ বাহিনী ছাড়ছি কারণ তারা অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার মূল নীতি থেকে সরে গিয়েছে। আর এই কারণেই আমি এখন দাউদ ইব্রাহিমকে আমন্ত্রণ করতে চলেছি।’ মিমটির ক্যাপশনে অভিনেতা শুধু লিখেছেন, ‘শুধু জিজ্ঞাসা করছি’। প্রকাশের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টিকে কুরুচিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘স্যার, আপনার ভাষার দিকে খেয়াল রাখা উচিত।’ অন্যজন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এটা কি একজন প্যান ইন্ডিয়া অভিনেতার ভাষা হতে পারে?’ অনেকেই দাবি করেছেন, অভিনেতার রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এই ধরনের মন্তব্যের জন্ম।তবে শুধু প্রকাশ রাজ নন, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও রাঘব চাড্ডার এই সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একটি ভিডিও বার্তায় ধ্রুব রাজনীতিকে ‘সবচেয়ে বড় প্রতারক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ইডি ও সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতেই ভয়ে আপ ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন রাঘব।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রি মাতিয়েছেন ‘সিমরান’ আর ‘অঞ্জলি’সগ অসংখ্য দর্শক নন্দিত সিনেমা দিয়ে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ কিংবা ‘কভি খুশি কভি গম’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে নিজেকে এতোটা বোল্ড হননি কাজল। পর্দায় চুম্বন দৃশ্য নিয়ে আপোষ করেননি কখনো। তবে ২০২৩ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই ঘটেছে সেই দীর্ঘদিনের নিয়মের ব্যত্যয়। ‘দ্য ট্রায়াল: লাভ, কানুন, ধোকা’ সিরিজে সহ-অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের সঙ্গে তার একটি চুম্বন দৃশ্য শোরগোল ফেলে দেয় নেটদুনিয়ায়। ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে, ক্যারিয়ারের এত বছর পর কেন নিজের নীতি ভাঙলেন এই অভিনেত্রী?সম্প্রতি এক পডকাস্টে কাজল বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা চরিত্রের দাবিতেই করা। সিরিজে আমার অভিনীত ‘নয়নিকা সেনগুপ্ত’ যা হতে চায়, যা ভাবে কিংবা যা পায় না সেই লড়াইয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ওই মুহূর্তটি। এটা কেবল একটি চুমুর দৃশ্য ছিল না; বরং সে কাকে বিশ্বাস করত আর কাকে বিশ্বাস করতে পারত না, এটি ছিল তার প্রতিফলন।’চিত্রনাট্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজল আরও বলেন, ‘দৃশ্যটি চিত্রনাট্যের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে আমি বাদ দিতে পারিনি। ওটা বাদ দিলে চরিত্রটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অপূর্ণ থেকে যেত।’তবে দৃশ্যটি করার আগে মনে বেশ দ্বিধা ছিল কাজলের। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘আমার একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। সেটে দাঁড়ানোর আগে পর্যন্ত ধারণাটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগছিল। নিশ্চিত ছিলাম না যে আদৌ কাজটা করতে পারব কি না, নাকি ‘কাট’ বলে বেরিয়ে আসব। তবে শেষ পর্যন্ত সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি পেশাগত সিদ্ধান্ত।’উল্লেখ্য, ‘দ্য ট্রায়াল’ একটি কোর্টরুম ড্রামা যেখানে স্বামীর স্ক্যান্ডালের পর একজন নারীর পুনরায় আইনি পেশায় ফিরে আসার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে। সিরিজটিতে কাজলের স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন টলিউড সুপারস্টার যিশু সেনগুপ্ত। এর দ্বিতীয় সিজনটি ২০২৫ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিও হটস্টারে মুক্তি পেয়েছে।
তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।এর আগে, গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার। এদিকে কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য সুপারিশ জমা দিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।জানা যায়, এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন এলে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হতে পারে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে হবে।উল্লেখ্য, সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সুপারিশ জমা দেয় তারা।সেই সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে অনুপাত হবে ১:৮। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪, আর ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে তা কমে দাঁড়ায় ১:৯.৪। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় এই অনুপাত আরও কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা হয়েছে।প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা ভাতাসহ মোট দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন স্কেলে একই গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হলে ভাতাসহ মোট আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে, তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হতে পারে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও পেয়ে থাকেন এবং এসব ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা (৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। ফলে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখা যেতে পারে।এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী ইঞ্জি. ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।রিয়াদে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে হুমায়ুন কবির সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংহতির বার্তা হস্তান্তর করেন।বৈঠকে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমুখী করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরেন।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।সৌদি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জন্য উন্নত এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম সিরিজ নিয়ে এসেছে হুয়াওয়ে। সিরিজটির উন্মোচন উপলক্ষে আজ ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিল্পখাতের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, শিল্পপতি, শিল্পকারখানার স্বত্বাধিকারী এবং ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট ও কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শীর্ষ শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।বর্তমানে শিল্পখাত পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানি ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে হুয়াওয়ের নতুন LUNA2000 সিরিজ একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। দেশীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করা এই সিস্টেমটি স্থানীয় শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় একটি শক্তিশালী, উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন এবং নিরাপদ সমাধান প্রদান করবে।হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট ও হুয়াওয়ে বাংলাদেশের সিইও জেসন উ; হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ার বিভাগের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের কমার্শিয়াল, ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড রেসিডেনশিয়াল বিজনেস ডিপার্টমেন্ট-এর প্রেসিডেন্ট হে লেই; হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া ডিজিটাল পাওয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইউ জিয়ানলং এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চ-এর পরিচালক মো. শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী সিরিজটি উদ্বোধন করেন।হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট ও হুয়াওয়ে বাংলাদেশের সিইও জেসন উ বলেন, “বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা, টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সৌরশক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করছে। এখন পর্যন্ত আমাদের ডিজিটাল পাওয়ার সল্যুশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৪৩০ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এর পাশাপাশি আমাদের প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এ পর্যন্ত দেশে দুই লাখ টনেরও বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে যেমন আমরা এই খাতে উন্নত সমাধান দিয়ে সহায়তা করে আসছি, ভবিষ্যতেও তেমনি সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চাই।”হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া ডিজিটাল পাওয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইউ জিয়ানলং বলেন, “হুয়াওয়ের পিভি ও ইএসএস সমাধান ইতোমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আরও উন্নত এনার্জি স্টোরেজ এনেছি। আমাদের নতুন সল্যুশনে উন্নত নিরাপত্তার জন্য সেল-টু-কনজাম্পশন ডুয়াল-লিংক সেফটি আর্কিটেকচার ব্যবহার করা হয়েছে এবং আধুনিক হাইব্রিড কুলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ৯১.৩% রাউন্ড-ট্রিপ দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং শিল্প সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”এই নতুন বিইএসএস (ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম)-এ একটি বিশেষ ‘প্যাক অপ্টিমাইজার’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যাটারির শতভাগ শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করে। এর ফলে ব্যাটারির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব। পাশাপাশি, একটি 'অ্যাক্টিভ ব্যালেন্সিং মডিউল' ব্যাটারির সক্ষমতা বাড়িয়ে স্টেট অব হেলথ (SOH) উন্নত রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া এর স্মার্ট ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাটারির চার্জের মাত্রা (SOC) নিয়ন্ত্রণ করে।এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করা হয়। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চ (CER)-এর পরিচালক মো. শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী এবং হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ারের হে লেই বর্তমানে শিল্পখাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।শাহরিয়ার আহমেদ “বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ: চ্যালেঞ্জ, প্রবণতা ও উদ্ভাবন” নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। হে লেই “মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কীভাবে এপ্যাক অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও শিল্প ফোটোভোলটাইক (C&I PV) এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS)-এর সুযোগ ও চ্যালেঞ্জকে প্রভাবিত করছে” তা তুলে ধরেন।এছাড়া হুয়াওয়ে ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও গ্রাহক পর্যায়ের বেশ কিছু বাস্তব উদাহরণ উপস্থাপন করেন।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।