বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সার্বিক সহযোগিতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর।আজ রোববার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসহায়তা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় তাদের মোতায়েন করা হয়েছে।শরীফুল ইসলাম আরও জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উল্লিখিত জেলাগুলোয় ৯০টি পয়েন্টে বিজিবির সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।ইতিমধ্যে বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ছয় শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে উপড়ে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।এ ছাড়া নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য বিজিবি কাজ করছে।
অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।এ সময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।
বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে তরুণ সমাজের অবদানকে বিশেষভাবে উদযাপন করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি পরিবর্তন, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের কারিগর হিসেবে তরুণদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সাথে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক ও টেকসই সমাজ গঠনে তরুণরা যেভাবে সচেষ্ট ভূমিকা রাখছে, তা উল্লেখ করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ।বর্তমান বিশ্ব ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অসমতার কারণে নাটকীয়ভাবে পুনর্গঠিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য 'নমনীয় ভবিষ্যৎ ও সবার জন্য দক্ষতা' আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন কিছু দক্ষতার প্রয়োজন। যার মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার (ক্রিটিক্যাল থিংকিং) মতো বিষয়গুলো অন্যতম ।নতুন প্রজন্মের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে উন্মোচন করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। যুবকদের মাঝে দক্ষতার এই ব্যবধান বা ঘাটতি দূর করা সম্ভব হলে তা বড় পরিসরে শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। তাই এই বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবসে পরিবর্তিত বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা সকলের জন্য একটি সুন্দর আগামী বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারে ।
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকে আগামী দিনের কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।তিনি বলেছেন, শুধু খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, সেই খাদ্য যেন নিরাপদ, গুণগত মানসম্পন্ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে, তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি কীটনাশক আমদানি, নিবন্ধন, মান যাচাই এবং বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুর রহমান।আমিন উর রশিদ বলেন, নিরাপদ খাদ্যই আগামী দিনের কৃষির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে হলে উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে শুধু খাদ্যের পরিমাণ নয়, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্যের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের উর্বর মাটি, অনুকূল জলবায়ু, পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং বৃষ্টিপাতের মতো প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু কৃষকদের সচেতন করলেই হবে না। কীটনাশক আমদানি, নিবন্ধন, মান যাচাই এবং দেশের প্রবেশপথ বা ল্যান্ডিং পয়েন্ট থেকেই কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। কারণ উৎস পর্যায়ে মান নিশ্চিত করা না গেলে পরবর্তী ধাপে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষক ফসল সংগ্রহের অল্প সময় আগে কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এতে খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের সমস্যা শুধু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব নয়। বরং কীটনাশকের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন এবং ব্যবহার পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।কৃষিপণ্য রফতানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে আম রফতানির ক্ষেত্রে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে কাঁঠাল, মাংস এবং অন্যান্য কৃষিপণ্যেরও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে ক্রেতারা এখন নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী। তাই রপ্তানি বাড়াতে হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে।মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে কৃষি গবেষক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কার্যকর সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষির টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।কর্মশালায় বক্তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণা, নীতি সহায়তা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটাতে হবে। এতে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামের এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে।শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইমাম মো. আমিনুল ইসলাম ওই গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকার মৃত. শামসুল আলমের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম ও বর্তমান ইউপি সদস্য আবু জাহের জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার নামাজের আজান দিচ্ছিলেন।আজানের এক পর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী, ধর্মপ্রাণ ও সবার প্রিয় একজন আলেম।তার ইমামতি, দ্বিনি শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শ এলাকার মানুষের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে মুসল্লি, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।রবিবার (১২ জুলাই) বাদ জোহর কণ্ঠনগর গ্রামে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহতের স্ত্রীর ভাই ও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির।আজানরত অবস্থায় একজন ইমামের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মানুষ তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল নরওয়ে। ম্যাচটিতে এক গোল করা আর্লিং হালান্ড ১২ জুলাই রোববার কোয়ার্টারে একেবারে নিষ্প্রভ ছিলেন। উল্টো তার অপ্রয়োজনীয় এক ফাউলের কারণে গোল বাতিল হয় নরওয়ের। বিপরীতে জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ২-১ গোলে জিতে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠেছে।মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই ইংলিশরা নরওয়েকে চেপে ধরলেও, প্রথমে গোলের খাতা খোলে হালান্ডের দল। তবে তাদের লিড টিকেছে কেবল ১১ মিনিট। বিরতির আগমুহূর্তে ইংলিশরা সমতায় ফেরার পর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও স্কোরলাইন ১-১ অক্ষুণ্ন ছিল। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ৯৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য বল দখলে বেশ পিছিয়েই ছিল নরওয়ে। তবে বিরতির পর তার ধীরে ধীরে পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৫২ শতাংশ পজেশন রেখে ১৩টি শট নেয় প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে ওঠা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। বিপরীতে ১৪ শটের ৮টিই লক্ষ্যে ছিল ইংলিশদের।রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ তারকা বেলিংহ্যাম এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ছয় গোল নিয়ে জাতীয় দল সতীর্থ হ্যারি কেইনের সঙ্গে যৌথভাবে তিনে অবস্থান করছেন। আসরের সেরা গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে (৮) এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (৮)। আর সাত গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড। এর আগে শেষ ষোলোতে সহ-আয়োজক মেক্সিকোকে হারানোর ম্যাচেও বেলিংহ্যাম জোড়া গোল করেছিলেন।ম্যাচে নরওয়ের হয়ে ৩৬তম মিনিটে গোল করেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন এবং ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের দাপুটে পারফরম্যান্সের কারণে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা চলতি সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকলেও বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আজ কোনো ম্যাচে গোল করতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনকে।এর আগে ৫৬তম মিনিটে নরওয়ে প্রায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল। কর্নার থেকে আসা বলে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের প্রতিহত করা বল ফিরতি শটে জালে জড়ান টরবিয়র্ন হেগেম। তবে ভিডিও রিভিউ শেষে বক্সের ভেতরে হালান্ডের ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। তিনি অপ্রয়োজনেই ধাক্কা মেরে ফেলে দেন ইলিয়ট অ্যান্ডারসনকে। প্রথমার্ধেও পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক হেডে হালান্ডকে অনায়াসী সেভে গোলবঞ্চিত করেন পিকফোর্ড।টুর্নামেন্টে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া শেলদেরুপের শট ডান দিকের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ততক্ষণ পর্যন্ত বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করছিল ইংল্যান্ড। বিরতির আগমুহূর্তে ইনজুরি সময়ে কয়েকজনকে কাটিয়ে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে সমতাসূচক গোল করেছেন বেলিংহ্যাম। বেলিংহামের সমতাসূচক গোলের ঠিক আগে নরওয়ের একটি গোল কিক থেকে আসা বলটি মাঠে পড়ার আগে আকাশে ঝুলন্ত ক্যামেরার তারে স্পর্শ করেছে বলে মনে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বলটি তারে লেগেছে বলে শনাক্ত হলে খেলা থামিয়ে ড্রপ বলের মাধ্যমে পুনরায় খেলা শুরু করে বলের দখল নির্ধারণ করা হতো।৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে বেলিংহ্যাম দলের এবং ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন। মরগান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড সহজেই ধরে ফেলবেন বলেই মনে হচ্ছিল । কিন্তু বলটি বেরিয়ে যায় তার হাত ফসকে। সেখানেই প্রতিপক্ষের সুযোগের অপেক্ষায় থাকা বেলিংহ্যাম ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গিয়ে ফিরতি বলে পা ছুঁয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। শেষদিকে নরওয়ে মরিয়া হয়ে উঠলেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হলো বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। ১১ জুলাই শনিবার রাত ৮টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শুরু হওয়া বৈঠক প্রায় দুই ঘণ্টা চলে এবং রাত ১০টার দিকে শেষ হয়।বৈঠক-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসন এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই মূল আলোচনা হয়। পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু করা যেতে পারে, এ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর পক্ষে মত দেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট মাস বা সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। আলোচনার একপর্যায়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের ‘সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়া’ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়েও আলোচনার টেবিলে কথা ওঠে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত সদস্যরা বিষয়টি নাকচ করে দেন। বেশির ভাগ সদস্য মত দেন, দলীয় প্রতীকবিহীন এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ অধিকাংশ জায়গায় দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেখানে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।আরেকটি সূত্র জানায়, বৈঠকে কোনো কোনো সদস্য বলেন, দলের নেতাকর্মীরা বিগত ১৭ বছর নানাভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন; ঠিকমতো বাসা-বাড়িতেও থাকতে পারেন নাই। এখন তাদের কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। তখন বিএনপি চেয়ারম্যানসহ বেশিরভাগ সদস্য মতামত দেন যে, যাদের যোগ্যতা আছে, তাদের মূল্যায়ন করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়। তবে বিগত আওয়ামী লীগের মতো শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস দেখে চাকরি দেবে না বিএনপি।স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, বৈঠকের মূল আলোচনার আরেকটি বিষয় ছিল দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে কীভাবে আরও গতিশীল করা যায় সেটি। এই ক্ষেত্রে দলের অঙ্গ-সংগঠনের যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে মতামত উঠে আসে বৈঠকে। এরপর দুজন সদস্য দলের জাতীয় কাউন্সিল করার বিষয়টি আলোচনায় তোলেন। এর প্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দলের কাউন্সিল হবে। এই ক্ষেত্রে চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল করার পরামর্শ আসলেও মাস কিংবা তারিখ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।এছাড়া বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি বৈঠকে দেশে কীভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যায়, বেকারত্ব কমিয়ে আনাসহ ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সারাদেশে খাল পুনঃখননসহ যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী দিনে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, বৈঠকে দলের সাংগঠনিক অবস্থা, বন্যা পরিস্থিতি ও দেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, অনেক দিন পর স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত বৈঠক হবে। আজকের বৈঠকে দেশের সমসাময়িক রাজনীতির পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পর এটি দলটির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় সভা। এর আগে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ও ১৭ মে কমিটির দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান প্রমুখ। এছাড়া বিদেশে চিকিৎসাধীন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩৬ হাজার ৯০০ অবৈধ অভিবাসী আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। একই সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় এক হাজার নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে পরিচালিত ৬ হাজার ২৩৭টি অভিযানে মোট ৮৪ হাজার ৪৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৯০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৯৭৮ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।তিনি বলেন, শুধু জুন মাসেই দেশব্যাপী ১ হাজার ১৫৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৩ হাজার ৭৮ জনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১৩৩ জন নিয়োগকর্তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে।জাকারিয়া জানান, আটক বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস না থাকার অপরাধ। এছাড়া ইমিগ্রেশনের দেওয়া পাসের অপব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে শনাক্ত হয়েছে।রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার আইনগত অবস্থান ও নথিপত্রের ভিত্তিতে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অধিকাংশ রোহিঙ্গার কাছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পরিচয়পত্র রয়েছে। তাই শুধু বৈধ পাস না থাকা বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার মতো অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।তবে রোহিঙ্গারা দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইন থেকে অব্যাহতি পান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হন বা অন্য কোনো আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।এছাড়া কেউ অবৈধভাবে সড়কের পাশে ব্যবসা পরিচালনা করলে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ (পিবিটি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইমিগ্রেশন বিভাগ যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে বলেও জানান মহাপরিচালক।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডা. পাভেলকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে ডা. পাভেলের চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রধানমন্ত্রী এ সময় অধ্যাপক পাভেলের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।উল্লেখ্য, হৃদযন্ত্রে রক্ত সঞ্চালনে আকস্মিক জটিলতা জনিত কারণে অধ্যাপক ডা. পাভেল বর্তমানে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও অধ্যক্ষ। দেশের চিকিৎসা অঙ্গনের অন্যতম বিশিষ্ট এই সার্জন দেশে-বিদেশে তার অসামান্য অবদানের জন্য সুপরিচিত এবং ‘সার্ক আইকন অব সার্জন’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, যদি সত্যিই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়; বরং এখনই দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত।শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে।এর মধ্যেই শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।এ প্রেক্ষাপটে আসিফ নজরুল লিখেছেন, “যদি সেটিই সত্য হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।”তার ভাষ্য, “বাংলাদেশের জনগণ এবং আদালতের সামনে শেখ হাসিনার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির দায়, তার শাসনামলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, ‘আয়নাঘর’, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, ভোটাধিকার থেকে জনগণের বঞ্চিত হওয়া এবং ভারতের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান—এসব বিষয়ে তার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।”পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্যদের আগেই বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতি বহন করতে হয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা-কর্মীদের। তাদের অনেকেই এখনও বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি কিংবা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সবশেষে আসিফ নজরুল লেখেন, যদি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বাস্তব পরিকল্পনা থাকে, তাহলে বিলম্ব না করে ফিরে এসে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরা উচিত। আর যদি ফেরার পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে বারবার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে না ফেলাই ভালো।প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন।
টানা ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এবং দ্রুত নগরায়ণের চাপে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থাপনা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে প্রকৌশলীদের আরও কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদেরা।রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে আইইবির পুরকৌশল বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত Annual Paper Meet of Civil Engineering (APMCE 2026)-এর সমাপনী অনুষ্ঠান এবং "Engineering a Sustainable Future: The Role of Civil Engineers in Achieving the UN Sustainable Development Goals" শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী প্রকৌশলীরা অংশ নেন। দুই দিনব্যাপী এপিএমসিই-তে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।নদী-খাল বাঁচিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনার আহ্বানঅনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় কেবল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনা।তিনি বলেন, নদী, খাল, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক বন্যাপ্রবাহের পথ অক্ষুণ্ন রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলে জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পরিবেশগত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান বাস্তবতায় সেই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ড. ইকবাল বলেন, উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পলি দেশের নদীগুলোর নাব্যতা কমিয়ে দিচ্ছে। তাই নিয়মিত ড্রেজিং, আধুনিক নদী ব্যবস্থাপনা এবং বৈজ্ঞানিক পলি ব্যবস্থাপনা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।গবেষণা যেন নীতিনির্ধারণে কাজে লাগেডুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. আবু তায়েব বলেন, এপিএমসিই কেবল একটি গবেষণা সম্মেলন নয়; এটি জ্ঞান বিনিময় ও উদ্ভাবনী ধারণাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণাপত্রে উপস্থাপিত সুপারিশগুলো শুধু একাডেমিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থার কাছে পাঠিয়ে বাস্তব নীতিনির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা প্রয়োজন।ঢাকা-চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যাসেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন।তিনি বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীর যান চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম ও নগরজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রামেও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।তিনি বলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব। অন্যদিকে ঢাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও তা নগরীর প্রয়োজনের তুলনায় এখনও অপর্যাপ্ত।তিনি ব্যাখ্যা করেন, রাজধানীর অনেক ড্রেন ও খাল পাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর কম থাকলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হলেও বর্ষায় নদীর পানি বেড়ে গেলে সেই সক্ষমতা কমে যায়। পাশাপাশি খাল দখল, জলাভূমি ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়াও জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।টেকসই উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর ওপর জোরসেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. এস এম আতিকুল ইসলাম।তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট করা যাবে না—এটাই টেকসই উন্নয়নের মূল দর্শন।তার মতে, উন্নয়ন হতে হবে অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর, পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল এবং সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। এজন্য প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি ও সম্পদের অপচয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের নগর উন্নয়নে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শক্তি-সাশ্রয়ী ভবন, প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে গণপরিবহন, বৈদ্যুতিক যানবাহন, সাইকেল লেন, হাঁটার উপযোগী অবকাঠামো এবং কম-কার্বন প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে পারলে কার্বন নিঃসরণ কমবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে সেতুবন্ধনের আহ্বানঅনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (খোকা)। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আয়নুল কবির এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী নেসার উদ্দিন।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ.টি.এম. তানবীর-উল হসান (তমাল), সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এইচআরডি) প্রকৌশলী মো. নূর আমিন, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য, বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের নেতা, চ্যাপ্টার প্রতিনিধিসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ এবং অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৌশল গবেষণা ও বাস্তব নীতিনির্ধারণের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে পারলেই বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাবেক স্পিকার। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম নেতা এবং দীর্ঘদিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী আলী বক্স এবং মাতা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর এলএলবি সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন এবং ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় তার নিরপেক্ষতা, সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজ জন্মভূমি পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তার দুই ছেলেই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যারিস্টার হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আইন চর্চা করছেন।বাংলাদেশের আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বগুড়ার ধুনটে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজার রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) বগুড়ার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন ধুনট উপজেলার জোড়শিমুল গ্রামের এক নারী তাঁর ছেলেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগ এনে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দালাল চুক্তি অনুযায়ী বিদেশে কাজের ব্যবস্থা করে দেননি। অভিযোগটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল এসআই মোস্তাফিজার রহমানের ওপর।পরবর্তীতে অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে এসআই মোস্তাফিজার রহমানের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল নরওয়ে। ম্যাচটিতে এক গোল করা আর্লিং হালান্ড ১২ জুলাই রোববার কোয়ার্টারে একেবারে নিষ্প্রভ ছিলেন। উল্টো তার অপ্রয়োজনীয় এক ফাউলের কারণে গোল বাতিল হয় নরওয়ের। বিপরীতে জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ২-১ গোলে জিতে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠেছে।মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই ইংলিশরা নরওয়েকে চেপে ধরলেও, প্রথমে গোলের খাতা খোলে হালান্ডের দল। তবে তাদের লিড টিকেছে কেবল ১১ মিনিট। বিরতির আগমুহূর্তে ইংলিশরা সমতায় ফেরার পর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও স্কোরলাইন ১-১ অক্ষুণ্ন ছিল। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ৯৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য বল দখলে বেশ পিছিয়েই ছিল নরওয়ে। তবে বিরতির পর তার ধীরে ধীরে পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৫২ শতাংশ পজেশন রেখে ১৩টি শট নেয় প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে ওঠা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। বিপরীতে ১৪ শটের ৮টিই লক্ষ্যে ছিল ইংলিশদের।রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ তারকা বেলিংহ্যাম এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ছয় গোল নিয়ে জাতীয় দল সতীর্থ হ্যারি কেইনের সঙ্গে যৌথভাবে তিনে অবস্থান করছেন। আসরের সেরা গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে (৮) এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (৮)। আর সাত গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড। এর আগে শেষ ষোলোতে সহ-আয়োজক মেক্সিকোকে হারানোর ম্যাচেও বেলিংহ্যাম জোড়া গোল করেছিলেন।ম্যাচে নরওয়ের হয়ে ৩৬তম মিনিটে গোল করেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন এবং ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের দাপুটে পারফরম্যান্সের কারণে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা চলতি সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকলেও বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আজ কোনো ম্যাচে গোল করতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনকে।এর আগে ৫৬তম মিনিটে নরওয়ে প্রায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল। কর্নার থেকে আসা বলে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের প্রতিহত করা বল ফিরতি শটে জালে জড়ান টরবিয়র্ন হেগেম। তবে ভিডিও রিভিউ শেষে বক্সের ভেতরে হালান্ডের ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। তিনি অপ্রয়োজনেই ধাক্কা মেরে ফেলে দেন ইলিয়ট অ্যান্ডারসনকে। প্রথমার্ধেও পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক হেডে হালান্ডকে অনায়াসী সেভে গোলবঞ্চিত করেন পিকফোর্ড।টুর্নামেন্টে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া শেলদেরুপের শট ডান দিকের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ততক্ষণ পর্যন্ত বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করছিল ইংল্যান্ড। বিরতির আগমুহূর্তে ইনজুরি সময়ে কয়েকজনকে কাটিয়ে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে সমতাসূচক গোল করেছেন বেলিংহ্যাম। বেলিংহামের সমতাসূচক গোলের ঠিক আগে নরওয়ের একটি গোল কিক থেকে আসা বলটি মাঠে পড়ার আগে আকাশে ঝুলন্ত ক্যামেরার তারে স্পর্শ করেছে বলে মনে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বলটি তারে লেগেছে বলে শনাক্ত হলে খেলা থামিয়ে ড্রপ বলের মাধ্যমে পুনরায় খেলা শুরু করে বলের দখল নির্ধারণ করা হতো।৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে বেলিংহ্যাম দলের এবং ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন। মরগান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড সহজেই ধরে ফেলবেন বলেই মনে হচ্ছিল । কিন্তু বলটি বেরিয়ে যায় তার হাত ফসকে। সেখানেই প্রতিপক্ষের সুযোগের অপেক্ষায় থাকা বেলিংহ্যাম ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গিয়ে ফিরতি বলে পা ছুঁয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। শেষদিকে নরওয়ে মরিয়া হয়ে উঠলেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দর্শকদের জন্য থাকছে তারকাখচিত আয়োজনও। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে সুপার বোলের আদলে আয়োজিত হবে বিশেষ হাফটাইম শো। সেখানে এক মঞ্চে পারফর্ম করবেন বিশ্বের জনপ্রিয় পপ তারকা শাকিরা, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য এই বর্ণাঢ্য পরিবেশনায় আরও অংশ নেবেন তাদের মধ্যে অন্যতম নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল, কোল্ডপ্লের অংশগ্রহণে পিএস২২ কোরাস এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসেমি স্ট্রিট’-এর মাপেট চরিত্রগুলো। অনুষ্ঠানটি ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশে আয়োজিত হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে জাস্টিন বিবার বলেন, ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটি আসর, যা পৃথিবীর মানুষকে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি একত্রিত করে।’স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে ‘জাস্টিস’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর বাতিলের চার বছর পর চলতি বছরের বসন্তে ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা উৎসবে মঞ্চে ফিরেছিলেন বিবার। সেখানে তিনি ‘বেবি’, ‘নেভার সে নেভার’, ‘ওয়ান টাইম’ এবং ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিট’-সহ তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন। ফিফার এই ঐতিহাসিক হাফ-টাইম শোর কিউরেশন করেছেন কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষায় ব্যয় করা হবে।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করা কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ও আবারও একসঙ্গে মঞ্চে উঠবেন। তাদের যৌথ গান ‘দাই দাই’ টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সংগীত চার্টে শীর্ষে রয়েছে এবং বিভিন্ন ম্যাচেও ব্যাপকভাবে বাজানো হচ্ছে।এদিকে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই আসরের আয়োজক তিন দেশের দলই এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে।বৃহস্পতিবার বোস্টনে ফ্রান্স ও মরক্কোর ম্যাচ দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব আবার শুরু হচ্ছে। শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে মুখোমুখি হবে স্পেন ও বেলজিয়াম। শনিবার মিয়ামিতে খেলবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড, আর একই দিনে কানসাস সিটিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড।গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন পর্যন্ত আট গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তার ঠিক পেছনেই সাত গোল করে অবস্থান করছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের এরলিং হালান্ড। এছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের গোলসংখ্যা ছয়।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিজের প্রতি প্রতারণার অভিযোগ দেশের জনপ্রিয় ও বরেণ্য চিত্রনায়িকা রোজিনার। অভিমানের সুরে তিনি জানিয়েছেন মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে না নেওয়া হয়।রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন, চলচ্চিত্রাঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে এ সব কথা জানান তিনি।অভিমানী কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘জীবনে আর কখনো শিল্পী সমিতিতে যাবো কি না, আমার জানা নেই। তবে এফডিসি থেকে যেহেতু আমার পরিচয়, সে কারণে এফডিসিকে তো ভুলতে পারবো না। যদি পরিচালক কিংবা প্রযোজক সমিতিতে কোনো অনুষ্ঠান হয় কিংবা কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে আমার ডাক পড়ে; তবে অবশ্যই যাবো। তা ছাড়া কখনোই আমি এফডিসিতে পা রাখব না।’অভিমানের পারদ এতটাই আকাশচুম্বী যে মৃত্যুর পর তার মরদেহ যেন কোনো অবস্থাতেই এফডিসিতে নিয়ে যাওয়া না হয়—পরিবারের সদস্যদের এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন রোজিনা। এর কারণ হিসেবে এফডিসির বর্তমান পরিবেশ ও শ্রদ্ধাবোধের অভাবকে দায়ী করেছেন তিনি।ৎরোজিনা বলেন, ‘আমার পরিবারকে অনেক আগেই বলে রেখেছি যে মৃত্যুর পর আমাকে তোমরা এফডিসিতে নেবে না। এ সিদ্ধান্ত কোনো আক্ষেপ বা কষ্ট থেকে নয়। সেখানে এখন আর সেসব মানুষ নেই, যারা শিল্পীদের ন্যূনতম শ্রদ্ধা করবে। এখন সেখানে সেই সম্মান, মূল্যবোধ কিংবা শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ খুঁজে পাওয়া যায় না।’রোজিনা জানান, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তার ছিল না। জয় চৌধুরীর অনুরোধ ও পীড়াপীড়িতেই তিনি প্রার্থী হতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু যাদের ওপর ভরসা করেছিলেন, সেই প্যানেলই তাঁর সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করেছে।ক্ষোভ উগরে দিয়ে এই গুণী অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আসলেই খুব মর্মাহত। এভাবে প্ল্যানিং করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হবে, এটা ভাবতেও পারিনি। আমার প্যানেলেও যারা ছিল, তাদের অনেকে আমাকে ভোট দেয়নি। কাকে কাকে ভোট দিয়ে জেতাতে হবে, ওরা আগে থেকেই তা সিলেক্ট করে রেখেছিল। নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধার জন্য আমাকে কেবল একটা ট্রাম্পকার্ড বানিয়ে এভাবে হেয় করাটা তাদের মোটেও উচিত হয়নি।’
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান আজ জীবনের তৃতীয় ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করছেন তিনি।তবে আলোঝলমলে তারকাদের ভিড় নয়, বরং পরিবারের মানুষ, কাছের বন্ধু আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা নিয়েই শুরু হচ্ছে অভিনেতার জীবনের নতুন অধ্যায়।বলিউডের তারকাখচিত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, বরং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে একেবারেই ব্যক্তিগত পরিসরে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা জুটি। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) মুম্বাইয়ে আমির খানের নিজ বাসভবনেই অনুষ্ঠিত হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। উপস্থিত থাকবেন মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ জন অতিথি। তাদের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের অল্প কয়েকজন সহকর্মী থাকবেন।অতিথির তালিকা থেকে শুরু করে বিয়ের মধ্যাহ্নভোজের মেনু—সবকিছুই নিজেরা ঠিক করেছেন আমির ও গৌরী। এমনকি অতিথিদের জন্য পরিবেশিত খাবারের প্রস্তুতিও তারা নিজেরা তদারকি করেছেন।একটি সূত্রের ভাষ্য, ‘এটি কোনো তারকাসুলভ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়। আমির ও গৌরী চেয়েছেন, দিনটি যেন শুধুই পরিবারের মানুষ ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সঙ্গে কাটে।’বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর অতিথিদের জন্য থাকবে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ। সূত্রের দাবি, মেনু তৈরিতে দুজনের ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমির ও গৌরী দুজনই তাদের প্রিয় খাবারগুলো রাখতে বলেছেন। অনুষ্ঠানটি যতটা সম্ভব আন্তরিক ও পারিবারিক আবহে আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছে।বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আমির খানের তিন সন্তান—জুনায়েদ খান, ইরা খান ও আজাদ রাও খান। এ ছাড়া আমন্ত্রণ পেয়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মীদের কয়েকজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর ও রাজকুমার হিরানি। বলিউডের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে নতুন সিরিজ ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’র প্রচারণায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রথমবারের মতো বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন আমির খান। তিনি বলেন, ‘৫ জুলাই আমাদের বিয়ে। একেবারেই ছোট পরিসরে, নিজের বাড়িতেই আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি আমাদের জন্য খুবই বিশেষ। দুই পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত থাকবেন। আমরা খুব সীমিত পরিসরে উদ্যাপন করতে চাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে থাকতে পারি এবং জীবনের নতুন পথচলা সুন্দর হয়।’কয়েক মাস ধরেই আমির ও গৌরীর বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ ঘরোয়া আয়োজনে নতুন জীবনের পথে হাঁটছেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা। গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আমির খানের পরিচয় প্রায় ২৫ বছরের। তবে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও কয়েক বছর আগে আবারও তাদের দেখা হয়। পুরোনো বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়।২০২৫ সালের মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো গৌরীকে সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন আমির। তখনই তিনি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে গৌরীর মধ্যে তিনি এমন এক ধরনের শান্তি ও স্থিরতা খুঁজে পেয়েছেন, যা আগে কখনো অনুভব করেননি।একাধিক সাক্ষাৎকারে আমির বলেছেন, ‘আমি এমন একজন মানুষকে খুঁজছিলাম, যার সঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারব। গৌরীর মধ্যে আমি সেই মানুষটিকেই খুঁজে পেয়েছি।’আরেক সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘আমি খুব সৌভাগ্যবান যে গৌরী আমার জীবনে এসেছে। মনে হয়, জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি যেন পূর্ণতা পেয়েছি।’বেঙ্গালুরুতে বেড়ে ওঠা গৌরী স্প্র্যাট পেশায় একজন উদ্যোক্তা ও লাইফস্টাইল–সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী। দীর্ঘদিন একটি পরিচিত স্যালন ও বিউটি চেইনের সঙ্গে কাজ করার পর বর্তমানে তিনি আমির খান প্রোডাকশনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন। আগের সংসারে তার সাত বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।গৌরী বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি এমন একজন জীবনসঙ্গী চেয়েছিলেন, যিনি ভদ্র, যত্নশীল ও মানবিক। আমিরকে তিনি কখনো সুপারস্টার হিসেবে দেখেননি, বরং একজন নির্ভরযোগ্য মানুষ ও সঙ্গী হিসেবে দেখেছেন।এটি হবে আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—জুনায়েদ খান ও ইরা খান। ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।পরে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। তাদের ছেলে আজাদ রাও খান। ২০২১ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও আজও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তারা। সন্তানের সহ-অভিভাবক হিসেবে একসঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী।শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।নির্বাচন কমিশন জানায়, মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু হয়।ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পান ১৭৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিশ্বখ্যাত গায়িকা টেইলর সুইফট ও মার্কিন ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির সম্ভাব্য বিয়ে ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা। বিয়ের দিনক্ষণ কিংবা আয়োজন সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অতিথিদের পোশাক।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেইলর সুইফট তার ব্যক্তিগত বিষয় সবসময় গোপন রাখতেই পছন্দ করেন। তাই সম্ভাব্য বিয়ের আয়োজন নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।জল্পনা রয়েছে, নিউইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে শুক্রবার (৩ জুলাই) এই আয়োজন হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। প্রায় এক হাজার ১০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অতিথিদের পোশাকে থাকবে মার্জিত, পরিচ্ছন্ন ও রোমান্টিক ধাঁচ। অনেকেই বিখ্যাত নকশাকারদের তৈরি পোশাক বেছে নিতে পারেন। গ্রীষ্মকালীন আয়োজন হওয়ায় হালকা রঙ, ঢিলেঢালা পোশাক ও সূক্ষ্ম নকশার পোশাক বেশি দেখা যেতে পারে।সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তবে কী বিয়ে করছেন টেইলর ও ট্র্যাভিস? টেইলরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যেও রয়েছেন অনেক তারকা। তাদের মধ্যে সেলেনা গোমেজ, সুকি ওয়াটারহাউস, সাবরিনা কার্পেন্টার, কারা ডেলিভিনসহ আরও অনেকে আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র ফ্যাশনধারা বজায় রাখলেও কনের চেয়ে বেশি নজর কাড়ার চেষ্টা করবেন না।বিয়ের পোশাক নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। ফ্যাশন বিশ্লেষকদের ধারণা, টেইলর সুইফট নিজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পোশাক পরতে পারেন। রাজকীয় নকশার করসেট ও ছড়ানো ঘেরের পোশাক তার পছন্দ হতে পারে। পরে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে তিনি আরও হালকা ও আরামদায়ক পোশাকেও দেখা যেতে পারেন।অন্যদিকে, ট্রাভিস কেলসি বরাবরই ব্যতিক্রমী পোশাকের জন্য পরিচিত। তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর তাকে রঙিন ও আকর্ষণীয় পোশাকে দেখা যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে বিয়ের আয়োজন, অতিথি তালিকা কিংবা পোশাক—সবকিছুই এখনো জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে টেইলর সুইফট বা ট্রাভিস কেলসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।সূত্র: বিবিসি
বিশ্ব সংগীত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আর্টিস্ট ক্লাবের আয়োজনে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল ফাউন্ডেশন (ডিইউসিএফ) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’-এ সংগীত পরিবেশন করে। কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সংগীতপ্রেমী দর্শক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সের-শারলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব সংগীত দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সংগীত এমন একটি সর্বজনীন ভাষা, যা সংস্কৃতি, জাতি ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর্টিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুজিত মুস্তাফা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে আর্টিস্ট ক্লাব সবসময়ই সৃজনশীল উদ্যোগের পাশে রয়েছে। বিশ্ব সংগীত দিবসে ডিইউসিএফ-এর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে ডিইউসিএফ-এর শিল্পীরা দর্শকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পরিবেশন করেন একটি প্রাণবন্ত ও ইন্টার্যাকটিভ ‘মিউজিক্যাল মেহফিল’। দলীয় ও একক পরিবেশনার মাধ্যমে তারা বাংলা আধুনিক, লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক এবং জনপ্রিয় বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। শিল্পীদের পরিবেশনা, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ পুরো সন্ধ্যাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।অনুষ্ঠান শুরু হয় ব্যতিক্রম ধর্মী পুথি পাঠ এর মাধ্যমে। ডিইউসিএ’কে উপস্থাপন করা হয়। প্রথম গান শুরু হয় একটি কোরাস ‘মোরো ঝনঝার মত’ দিয়ে। পর্যায়ক্রমে জনপ্রিয় আধুনিক গান করেন নির্ঝর চৌধুরী, ইরবতি মন্ডল, আনিকা শারমিলা কৃপা ও ফরহাদ মিল্টন। নজরুল ইসলামের গান করেন নন্দিত শিল্পী নন্দিনী দও ধরা। পল্লী গীতি ও উকিল মুন্সীর গান করেন মাহফুজার রহমান মহব্বত। রবি ঠাকুরের গান করেন নাঈমা ইসলাম নাজ এবং অনুষ্ঠান শেষ হয় আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে সমেবেত সংগীত পরিবেশন মাধ্যমে। সভাপতি সুজিত মোস্তফা ডিইউসিএ’কে তাদের পরিবেশনার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা শিল্পী ও দর্শকদের এক সুরের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং উপস্থিত সকলের কাছে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা ও ২৯২ টাকা কমেছিলো সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এবার সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা । বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩৬ হাজার ৯০০ অবৈধ অভিবাসী আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। একই সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় এক হাজার নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে পরিচালিত ৬ হাজার ২৩৭টি অভিযানে মোট ৮৪ হাজার ৪৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৯০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৯৭৮ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।তিনি বলেন, শুধু জুন মাসেই দেশব্যাপী ১ হাজার ১৫৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৩ হাজার ৭৮ জনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১৩৩ জন নিয়োগকর্তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে।জাকারিয়া জানান, আটক বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস না থাকার অপরাধ। এছাড়া ইমিগ্রেশনের দেওয়া পাসের অপব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে শনাক্ত হয়েছে।রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার আইনগত অবস্থান ও নথিপত্রের ভিত্তিতে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অধিকাংশ রোহিঙ্গার কাছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পরিচয়পত্র রয়েছে। তাই শুধু বৈধ পাস না থাকা বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার মতো অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।তবে রোহিঙ্গারা দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইন থেকে অব্যাহতি পান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হন বা অন্য কোনো আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।এছাড়া কেউ অবৈধভাবে সড়কের পাশে ব্যবসা পরিচালনা করলে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ (পিবিটি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইমিগ্রেশন বিভাগ যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে বলেও জানান মহাপরিচালক।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
প্রতিটি ফুটবলপ্রেমী দেশের এমন একজন খেলোয়াড় থাকেন, যাকে সে দেশের মানুষ নিজেদের গর্ব হিসেবে দেখে। আর্জেন্টিনার আছে মেসি, পর্তুগালের রোনালদো, ব্রাজিলের নেইমার। আর বাংলাদেশের আছে নিজেদের ফুটবল নায়ক, জামাল ভূঁইয়া। ফিফা বিশ্বকাপ এলে কোটি কোটি বাংলাদেশি যেমন বিশ্বের সেরা ফুটবল তারকাদের সমর্থন করেন, তেমনি লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া নিজেদের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার প্রতিও সমান গর্ব অনুভব করেন। দেশের ফুটবলপ্রেম ও এই গর্বকে উদযাপন করতেই বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সাথে অংশীদারিত্ব করেছে অপো।বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি মেসি, রোনালদো কিংবা নেইমারের মতো তারকারা যেমন কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে জামাল ভূঁইয়া নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার অসংখ্য তরুণ ফুটবলারের মনে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন জাগিয়েছে।এ বছরের বিশ্বকাপ উদযাপনকে আরও অনন্য করে তুলতে অপো দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফিফা ম্যাচ স্ক্রিনিং ক্যাম্পেইন ‘কোন বিশ্ববিদ্যালয় পাবে জামাল ভূঁইয়ার সাথে সেমিফাইনাল দেখার সুযোগ?’-এর আয়োজন করেছে। এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ক্যাম্পাসের পক্ষে ভোট ও সমর্থন জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করা ও সমর্থন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে বিশেষ স্ক্রিনিং আয়োজনের সুযোগ পাবে, যেখানে বাংলাদেশের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সাথে একসাথে খেলা উপভোগ করবেন শিক্ষার্থীরা এবং উদযাপন করবেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব। এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের জেনারেল ম্যানেজার ডেমন ইয়াং বলেন, “ফুটবল এমন একটি খেলা, যা সীমান্ত পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করে। প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব ফুটবল নায়ক রয়েছে, আর্জেন্টিনার মেসি, পর্তুগালের রোনালদো, ব্রাজিলের নেইমার আর বাংলাদেশের জামাল ভূঁইয়া। অপোর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের ফুটবলকে সমর্থন করতে পেরে এবং কোটি বাংলাদেশির ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে উদযাপন করতে পেরে।”এ বিষয়ে জামাল ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই অসাধারণ। এই আবেগ উদযাপনে অপোর সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করার ও বিজয়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল উপভোগ করার অপেক্ষায় আছি।” এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে অপো বাংলাদেশের ওয়েবসাইট https://www.oppo.com/bd/ ভিজিট করুন বা অপো বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/OPPOBangladesh ফলো করুন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’