স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবিধানিকভাবে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সেখানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানান। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করবেন। স্পিকারের শপথের সময়ই সেই শপথ নিয়েছেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। যা জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরপরই সংবিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র নিয়ে জাতীয় সংসদে যান বঙ্গভবনে কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন। সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্রের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি কয়েকটি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তার পক্ষে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মহান দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এ সময় স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, মো. সাহাবুদ্দিন ফ্যাসিবাদী আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও তিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল থাকবেন। বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্থতাও কামনা করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। মেয়াদের আরও প্রায় এক বছর নয় মাস বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করলেন। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তখন বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে বিএনপি বরাবরই রাষ্ট্রপতিকে সরানোর পক্ষে ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত টিকে যান মো. সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া আসনে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ২৪ জুলাই পদত্যাগ করায় এই পদটি শূন্য হয়। ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ অনুসরণ করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকবেন। বিদ্যমান সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনের ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন। সে অনুযায়ী ইসি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা তৈরি করে তা চূড়ান্ত করবে।ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরপরই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন পরিচালনা করা হবে অনেকটা সংরক্ষিত নারী আসনের পদ্ধতির মতো। প্রার্থী একাধিক হলে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, আর একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কমিশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায়, আগামী রোববার বা তার পরবর্তী দিনগুলোতে তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক করবে ইসি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেশবাসী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল জানতে পারবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কে পেট্রল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত আরো একটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে এই পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।জানা গেছে, রাতে মেট্রো স্টেশনের নিচের সড়কে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ঘটনার পরপর পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে ছাতার ভেতরে পেঁচানো অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত আরো একটি বোমা পাওয়া যায়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতিঝিল থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, ‘মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি ছাতার মধ্যে মিটমিট করে বাতি জ্বলছিল। স্থানীয়রা তা দেখে থানায় খবর দেয়। পরে মতিঝিল থানা পুলিশ সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দিলে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে নিশ্চিত করে যে, ছাতার ভেতর বোমা ছিল।’সড়কের একপাশ দিয়ে আপাতত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) বলেছে, তাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরাতে ক্ষমতাসীন বিএনপির ১৫৮ দিন সময় লেগেছে।শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এ মন্তব্য করেন।বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজনদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাহাবুদ্দিনের অপসারণ বা পদত্যাগ হওয়া উচিত ছিল। তবে শুরু থেকেই বিএনপি এ বিষয়ে সম্মত ছিল না। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তহীনতাও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত করেছে বলে তারা দাবি করেন।এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, বিএনপি বারবার সাংবিধানিক শূন্যতা ও রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ গ্রহণের বিষয়টি সামনে এনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনে বিজয়ের পর সাহাবুদ্দিনকে দিয়ে সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ানোর ঘটনাও পুরো পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকার, মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, পুলিশ কর্মকর্তাসহ ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রধান অংশীদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্র-জনতার লেগেছিল মাত্র ৩৬ দিন। অথচ সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে সরাতে বিএনপির ১৫৮ দিন লেগেছে। এর পেছনের কারণ জনগণ বিবেচনা করবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।এবি পার্টির দুই নেতা সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ব্যাংকের অর্থ লুটপাট ও পাচারসহ যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেরিতে হলেও জাতির ওপর থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদে থাকবেন না। তিনি একসময় স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই বক্তব্য অস্বীকার করে মিথ্যাচার করেছেন, যা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেওয়া শপথের লঙ্ঘন। দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ছায়া সরে গেল।’শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি নিরপেক্ষতা, সততা ও সংবিধান সম্মতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ দায়িত্ব পালনে জামায়াতে ইসলামী তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আমরা চাই, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এমন কেউ হোন, যিনি কোনো তোষামোদকারী নন।’এ সময় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের গণহত্যায় তিনি নীরব সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন।’
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে দুপুরে স্পিকারের কাছে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারের শপথের বিধিতে উল্লেখ রয়েছে—কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে বা স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে গেলে ডেপুটি স্পিকারই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’হাফিজ উদ্দিন জানান, সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এখন থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। তিনি নিজের পদত্যাগপত্রে বিস্তারিত অসুস্থতার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অসুস্থতার দরুন তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। তাই এ বিষয়ে আলাদা কোনো চিকিৎসকের সনদের প্রয়োজন নেই।’তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এ সংক্রান্ত যাবতীয় ধোঁয়াশা কেটে গেছে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য থাকে না এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই সার্বিক দায়িত্ব বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। এছাড়া সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
শারীরিক অসুস্থতা ও দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ একাধিক রোগে ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ শনাক্ত হওয়ায় মাঝেমধ্যেই তিনি ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়।শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে পাঠানো পদত্যাগপত্রে এসব কথা উল্লেখ করেন সাহাবুদ্দিন।পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নেওয়ার পর থেকে নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হলে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চান। পরে আপিল বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সেই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন দাবি করেন, তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। বর্তমানে সরকার ও বিরোধী দল সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তবে নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে তার। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ ধরা পড়েছে, যার কারণে মাঝেমধ্যে তিনি ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে যান।সাহাবুদ্দিন বলেন, এসব রোগের কারণে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের ফলে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
মো. সাহাবুদ্দিনের গুলশানের বাসায় বসছে নতুন টেলিফোন লাইন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর তিনি সে বাসায় উঠতে পারেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে সেখানে টেলিফোনের সংযোগ দিতে আসেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্সের কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) দুইজন কর্মচারী।গুলশানের ১২৩ নম্বর রোডের ‘গ্রিন ভিলা’ নামে ওই বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সুনসান। ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে দেখা গেছে। পদত্যাগ করার পর এ বাসার পঞ্চম তলায় রাষ্ট্রপতির ওঠার কথা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন বাসার নিরাপত্তা প্রহরী মো. মাছুম।তিনি বলেন, তিন-চারদিন আগে স্যার এসেছিলেন এ বাসায়। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় শতাধিক লোকজন এসেছিল। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে উনি এসেছিলেন, এরপর রাত পৌনে ৯টা নাগাদ উনি এখান থেকে চলে গেছেন। ইতোমধ্যে তার বাসায় টুকিটাকি বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে এসবির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) কয়েকজন লোক রয়েছেন।বাসায় টেলিফোন সংযোগ দিতে আসা বিটিসিএলের টিসিএম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মূলত সরকারিভাবে আমরা এখানে নতুন টেলিফোন লাইন লাগাতে এসেছি, আমাদের অফিসের বসের নির্দেশে। আজকে যদিও বন্ধ, তবু বলা হয়েছে, উনি পদত্যাগ করলে এ বাসাতেই উঠবেন। এর আগের যে লাইন ছিল, সেটি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই এখন নতুন লাইন লাগাতে এসেছি।শুক্রবার বিকালে পদত্যাগ করে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে এ চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এ সময়ে নতুন করে ৯৫০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ১৮৭ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে (৩ জন)। এছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ১ জন করে মারা গেছেন।নতুন শনাক্ত ৯৫০ জন সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকায় ৪০৯ জন এবং চট্টগ্রামে ২২২ জন শনাক্ত হয়েছেন। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে বরিশালে ১১৯ জন, সিলেটে ৬২ জন, খুলনায় ৪৭ জন, ময়মনসিংহে ৪১ জন, রাজশাহীতে ৩২ জন এবং রংপুরে ১৮ জন সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেছে।একই ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৮৫৪ জন নতুন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৬৮ জন।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২২,১৫০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মোট ১৫,১৯৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে।জেলা ও বিভাগ বিবেচনায় সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ পর্যন্ত মোট ১০৪,৭১৭ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১০১,০৫৬ জন।উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত হাম উপসর্গে ৭১৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তীব্র লবণাক্ত অধ্যুষিত উপকূলীয় মানুষের জন্য সুপেয় পানি সংরক্ষণে পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চত্বরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্যোগে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং'র মাধ্যমে সুপেয় পানির সংকটে থাকা পরিবারের মাঝে এ ট্যাংক বিতরণ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসী,উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, রামপাল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রাজীব আল রশিদ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও রামপাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফকির আতিয়ার রহমান। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুপেয় পানির তীব্র সংকটে থাকা উপকূলের মোংলা ও রামপালের দরিদ্র মানুষের মাঝে আপাতত ৩ হাজার পানির ট্যাংক বিতরণ করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ৮২টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়। এখানে লবণ পানিতে সয়লাব, কোথাও তেমন মিষ্টি পানির উৎস নেই। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য এই ট্যাংক দেয়া হচ্ছে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় পর্যায়ক্রমে উপকূলের প্রত্যেক ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেয়া হবে। কারণ এখানে টিউবওয়েলর পানিও লবণ। তাই সুপয়ে পানির চাহিদা পূরণে এখানকার সকল সরকারী পুকুর সংস্কার করা হবে। সেগুলো সুপেয় পানির আধারে পরিণত করা হবে। এ পুকুরগুলোতে কেউ মাছ চাষ করতে পারবেনা। পরে দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ঢেউ টিন এবং নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।
পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজীবন পেনশন, মন্ত্রীর সমান চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা, সরকারের দেওয়া অফিস-স্টাফ, কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ নানা সুবিধা পাবেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেতনের ৭৫ শতাংশ হিসেবে মাসে ৯০ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির বেতন বৃদ্ধি পেলে পেনশনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইনে বলা হয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কী সুবিধা পাবেন। তবে এই সুবিধা পেতে অন্তত ছয় মাস রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাস বঙ্গভবনে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন কর্মজীবনে জেলা জজ ছিলেন। আইন অনুযায়ী, তিনি যে কোনো একটি পেনশন পাবেন। মৃত্যুর পর তাঁর দুই তৃতীয়াংশ পেনশন সুবিধা কার্যকর হবে।আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট এবং অফিস পরিচালনার খরচ পাবেন সরকারের কাছ থেকে। ব্যয় কত হবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার। একজন মন্ত্রীর সমান চিকিৎসা-সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। একজন মন্ত্রী দেশে ও বিদেশে শতভাগ সরকারি খরচে চিকিৎসা সুবিধা পান। রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও এই সুবিধা পাবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলে বিনা খরচে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। বাসায় ব্যবহারের জন্য টেলিফোন পাবেন। নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল সরকার পরিশোধ করবে।সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন। তাঁরা দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইসব সুবিধা পাবেন যদি ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হন। নৈতিক স্খলনের কারণে দণ্ডিত হলে অবসর সুবিধা বাতিল হবে।চাইলে মাসিক পেনশনের বদলে এককালীন অর্থও নিতে পারবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। তবে এ জন্য অবসরে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইচ্ছাপোষণ করতে হবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) বলেছে, তাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরাতে ক্ষমতাসীন বিএনপির ১৫৮ দিন সময় লেগেছে।শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এ মন্তব্য করেন।বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজনদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাহাবুদ্দিনের অপসারণ বা পদত্যাগ হওয়া উচিত ছিল। তবে শুরু থেকেই বিএনপি এ বিষয়ে সম্মত ছিল না। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তহীনতাও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত করেছে বলে তারা দাবি করেন।এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, বিএনপি বারবার সাংবিধানিক শূন্যতা ও রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ গ্রহণের বিষয়টি সামনে এনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনে বিজয়ের পর সাহাবুদ্দিনকে দিয়ে সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ানোর ঘটনাও পুরো পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকার, মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, পুলিশ কর্মকর্তাসহ ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রধান অংশীদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্র-জনতার লেগেছিল মাত্র ৩৬ দিন। অথচ সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে সরাতে বিএনপির ১৫৮ দিন লেগেছে। এর পেছনের কারণ জনগণ বিবেচনা করবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।এবি পার্টির দুই নেতা সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ব্যাংকের অর্থ লুটপাট ও পাচারসহ যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর মার্জিনাল ডাইকের একটি অংশে হঠাৎ ধস দেখা দিয়েছে। এতে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রায় ২০ গজ দূরে তিস্তা নদীর মার্জিনাল ডাইকে এ ধসের ঘটনা ঘটে। ধসের পর ঘটনাস্থলে ভাঙনের আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম তিস্তার গর্ভে বিলীন হতে পারে। একই সঙ্গে নদীতীর থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে থাকা শহর রক্ষা বাঁধ (ওয়াপদা বাঁধ)ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ওই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রংপুর শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হবে বলে তাদের দাবি।এ অবস্থায় দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জিও ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে তা ফেলার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করছি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধে উঠে এসেছে এক বৈচিত্র্যময় বিশ্বকাপের গল্প। সেখানের এক সাংবাদিক এই গল্প তুলে ধরে বলেছেন, 'জাতীয়তা বলে দেয় আপনি কোথা থেকে এসেছেন। সত্য বলতে, আমি চারটি দেশ থেকে এসেছি- ফ্রান্স, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া ও গ্রেট ব্রিটেন। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। কারণ আমার মধ্যে ভিন্ন চারটি সংস্কৃতি রয়েছে, যা আমাকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে।' কথাগুলো মাইকেল ওলিসির। এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড সাত গোলের অ্যাসিস্ট করে একক আসরে করা পেলের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। এই কীর্তি তিনি গড়েছেন ফ্রান্সের হয়ে, যদিও সেটি তার জন্মভূমি নয়।খোলা চোখে তাকালে, এবারের বিশ্বকাপে অভিবাসী খেলোয়াড়দের অর্জন অতীতের যে-কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে নিবন্ধিত ফুটবলারদের মধ্যে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নিজের জন্মভূমির বাইরে অর্থাৎ অন্যদেশের হয়ে খেলেন। সংখ্যাটি ২০১৮ সালের চেয়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। আর এবার বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া ৪৮টি দলের ১ হাজার ২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৩.৬%) তাদের জন্মভূমির বাইরের দেশের জার্সিতে মাঠে নামেন। ৪৮ দল ও ১০৪টি ম্যাচের এই বিশাল টুর্নামেন্টে এটি অবশ্যই লক্ষণীয় দিক।জন্মভূমির বাইরের দেশের জার্সি গায়ে চাপানো ফুটবলারদের পা থেকে এবার গোল ও অ্যাসিস্ট এসেছে ৭০টি, যার মধ্যে ১৯টি গোল ছিল এমন- যেখানে পাস দেওয়া ও গোলদাতা—উভয়ই জন্মসূত্রে অন্য দেশের। অথচ, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আটটি আসরের মধ্যে ছয়টিতে মোট গোল ছিল ৮৯টির কম। তবে সব গোলের গুরুত্ব এক নয়, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে। বিশ্বকাপের একেকটি মুহূর্ত যেন জাতীয় চেতনার গভীরে গেঁথে যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ আসরের তিন আয়োজক দেশের হয়ে অভিবাসী খেলোয়াড়রা অসামান্য অবদান রেখেছেন। কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া হুলিয়ান কিনিয়োনেস মেক্সিকোর হয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম গোল করেন। ওই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারায় মেক্সিকো। পরে নকআউট পর্বের দুটিসহ আরও তিনটি ম্যাচে জাল খুঁজে নেন এই স্ট্রাইকার।যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মালেক তিলমান করেন দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে এক গোলের কারিগর হয়ে তিলমান যখন মাঠ ছাড়েন, তখন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জিও রেইনা (গোলও করেন)। অর্থাৎ ওই ম্যাচে জার্মানিতে জন্ম নেওয়া এক খেলোয়াড়ের জায়গায় মাঠে নামেন এমন একজন, যিনি বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডে। উল্টো ঘটনাও ঘটেছে। জোনাথন ডেভিড তার জীবনের প্রথম কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রে কাটালেও পরে কানাডা ফুটবলের নায়ক হয়ে ওঠেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কানাডার প্রথম জয়ে তিনি অসাধারণ হ্যাটট্রিক উপহার দেন। সব মিলিয়ে ১২ জন ফুটবলার তিন আয়োজক দেশের কোনো একটিতে জন্ম নিলেও এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করেছেন অন্য দেশের।তবে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ে দেশমের ফরাসি স্কোয়াডে সুযোগ না পেয়ে অন্য দেশের জার্সিতে এবার বিশ্বকাপে খেলেছেন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ৭৪ ফুটবলার। কুরাসাও দলটি এক্ষেত্রে একেবারে ব্যতিক্রম, তাদের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের ২৫ জনই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণকারী। স্পেনের হয়ে ফাইনালে জয়সূচক গোলের পেছনে অবদান রেখেছেন নিকো উইলিয়ামস। বড় ভাই ইনিয়াকি উইলিয়ামসের চেয়ে এই টুর্নামেন্ট তার জন্য ছিল অনেক বেশি রঙিন। ইনিয়াকির দেশ ঘানা কেবল শেষ ৩২ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আবার ইনিয়াকির দল ঘানাকে আলো দেখান আমস্টারডামে জন্ম নেওয়া ডিফেন্ডার ডেরিক লুকাসেন, যার সৎ ভাই ব্রায়ান ব্রোবি আবার নেদারল্যান্ডসের হয়ে যৌথভাবে সর্বাধিক গোলদাতা।দুই ভাই দেসিরে দুয়ে ও গুয়েলা দুয়ের জন্ম ফ্রান্সের অঁজের শহরে। দেসিরে খেলেছেন ফ্রান্সের হয়ে, আর গুয়েলা ছিলেন আইভরি কোস্ট স্কোয়াডে। একাই কাহিনি স্কটল্যান্ডের সটার পরিবারের প্রযোজ্য। এই পরিবারের দুই ভাই- হ্যারি খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে, আর জন ছিলেন স্কটল্যান্ড টিমে। আসলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সীমানার প্রাচীর এখন একেবারে অর্থহীন।বিশ্বকাপের এই বহুমাত্রিকতাকে যদি একজন খেলোয়াড়ের মাধ্যমে সবচেয়ে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে হয়, তবে তিনি ২০ বছর বয়সী নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। তানজানিয়ায় জন্ম নেওয়া এই তরুণের বর্তমান ক্লাব ওয়াটফোর্ড। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করে কানাডার মাঠে তুরস্কের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান সিয়াটলে। তার অনবদ্য পারফরম্যান্স পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হয়ত তার পরবর্তী ঠিকানা হতে যাচ্ছে পর্তুগাল।ফুটবলে জাতীয়তার সংজ্ঞা আর কখনোই এতটা জটিল বা বৈচিত্র্যময় ছিল না। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জাতীয়তা আর কখনো এমন সহজভাবে মিলেমিশে এক হয়েও যায়নি।
দীর্ঘ ছয় দশকের সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক সংগীত পরিবেশনায় হাজির হচ্ছেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। একই অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা। তবে এবারের আয়োজনটি শুধু সম্মাননা ও সংগীত পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় দেওয়া হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘রুনা লায়লা’ শীর্ষক এই সম্মাননা ও একক সংগীত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই। রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে অনুষ্ঠানটি। এতে নিজের জনপ্রিয় কয়েকটি গান পরিবেশন করবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই শিল্পী।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের টিকিটের শুভেচ্ছা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিনটি শ্রেণিতে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির টিকিটের দাম ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের দাম ২ হাজার টাকা। টিকিট বিক্রির অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে।টিকিট সংগ্রহের জন্য আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে অর্থ, হিসাব ও পরিকল্পনা বিভাগের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায়।জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং ডা. জাহেদ উর রহমান (উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।
ছোটপর্দা ও বিজ্ঞাপন নির্মাণে সাফল্য অর্জন করে ফেলেছেন। এরপর এখন যাত্রা শুরু করলেন বড় পর্দার নির্মাণ। নির্মাতা আদনান আল রাজী কয়েক দিন আগে দিয়েছেন নিজের প্রথম সিনেমার ঘোষণা। তখন সিনেমার নাম কিংবা অভিনয়শিল্পীদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও তিনি এখন জানিয়েছেন এটি হবে একটি প্রেমের গল্প। আর সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন সিয়াম আহমেদ।সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাতা ও সিয়ামের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগেই মৌখিক কথাবার্তা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি নন আদনান আল রাজীব কিংবা সিয়াম। দুজনই এ বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন।যদিও নায়ক হিসেবে সিয়ামের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, সিনেমাটির নায়িকা কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য জানা যায়নি।এ বিষয়ে আদনান আল রাজীবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।সিয়াম আহমেদকে সর্বশেষ গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘রাক্ষস’-এ দেখা গেছে। নতুন এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও একটি রোমান্টিক চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরতে যাচ্ছেন তিনি।অন্যদিকে ‘কাছে আসার গল্প’, ‘বিকেল বেলার পাখি’ ও ‘মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট’-এর মতো আলোচিত নাটক নির্মাণের পর পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনায় অভিষেক হতে যাচ্ছে আদনান আল রাজীবের।
বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা আবারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায়। গ্রিসে অবকাশযাপনের সময় সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।নিজের ইনস্টাগ্রামে ‘গ্রিস ডায়েরি’ ক্যাপশনে একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন মালাইকা। সেখানে সমুদ্রের নীল জলে স্বল্পবসনা অবস্থায় তাকে দেখা যায়। একটি ছবিতে হাতে ওয়াইনের বোতল নিয়ে সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তবে নেটিজেনদের নজর কাড়ে তার পাশে একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক রহস্যময় পুরুষ। ওই ব্যক্তির মুখ স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে তার পরিচয় নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনেকের ধারণা ওই ব্যক্তি হতে পারেন হীরা ব্যবসায়ী হর্ষ মোহতা। যদিও এ বিষয়ে মালাইকা অরোরা বা হর্ষ মোহতার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।এর আগে অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে মালাইকার সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই ছবিগুলো প্রকাশের পর আবারও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।বর্তমানে গ্রিসের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে সময় কাটাচ্ছেন মালাইকা। সেখানে গোলাপি মনোকিনি, বিকিনি এবং সমুদ্রসৈকতে তোলা বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছেন তিনি। তবে রহস্যময় পুরুষ সঙ্গীকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য সামনে আসেনি।
বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর কট্টরপন্থী এক হিন্দু ধর্মগুরুর পক্ষ থেকে অভিনেতাকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণার দাবি সামনে এসেছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অযোধ্যার কট্টরপন্থী ধর্মগুরু জগৎগুরু পরমহংস আচার্য এক বক্তব্যে দাবি করেন, যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করবে, তাকে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ও বহনের কথাও বলেন তিনি।সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে আইনি প্রক্রিয়ায় গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। বিয়ের পর থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ এ নিয়ে সমালোচনা শুরু করে। এর আগে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেছিলেন।পরমহংস আচার্যের অভিযোগ, আমিরের তিন স্ত্রীই হিন্দু পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং এটি নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ‘লাভ জিহাদ’-কে উৎসাহিত করার অংশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে, একই বক্তব্যে অযোধ্যার রামমন্দিরের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরমহংস বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) তদন্ত করছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে আমির খান বা তার টিমের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।তবে জানা গেছে গৌরি হিন্দু নন। তিনি খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। সূত্র: সামা টিভি
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুঁটি বেঁধে অভিনয় করছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাদের। তরুণ নির্মাতা জাহিদ প্রীতম সিনেমাটি নির্মাণ করছেন। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে কামব্যাক করছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের জন্য এটিই চরকির সাথে প্রথম কাজ। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ (এমওএল) প্রজেক্টের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমাটি হতে যাচ্ছে সপ্তম চলচ্চিত্র, যা সহ-প্রযোজনা করছে খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’।নির্মাতা জাহিদ প্রীতম জানান, সমকালীন জীবনের নানা জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং আধুনিক জীবনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবকে এই সিনেমার গল্পে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি আমি তৈরি করতে পারব।’সাধারণত পর্দায় আরিফিন শুভকে অ্যাকশন হিরো কিংবা ‘আলফা মেইল’ চরিত্রে দেখে দর্শক অভ্যস্ত। তবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমায় আনিস নামের একটি চরিত্রে একদম ভিন্নরূপে হাজির হবেন তিনি। এখানে তাকে দেখা যাবে একজন ‘সিগমা মেইল’ হিসেবে।নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০-এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম-কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন না এটা।’সিনেমার গল্পটি গড়ে উঠেছে বর্তমান যুগের এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের এক প্রান্তে রয়েছেন সহজ-সরল ও সৎ যুবক আনিস (শুভ), আর অন্য প্রান্তে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকা। এই অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল, যার চরিত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে আবর্তিত।নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে উচ্ছ্বসিত কেয়া পায়েল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে, প্রথমত আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত চরকির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, তৃতীয়ত এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় যে, দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন। ‘চরকির ব্যতিক্রমী প্রজেক্ট ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ মূলত সম্পর্কের নানা রূপ নিয়ে গল্প বলে। এই প্রজেক্ট নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ প্রজেক্টটের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটা সম্পর্কের গল্প দর্শকরা দেখতে পারবেন।’গল্পের ভিন্নতার কারণেই এই প্রজেক্টের সাথে সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। সিনেমাটি নিয়ে নিজের ভালো লাগা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুইজন মানুষের যে দ্বন্দ্ব, খুনসুটি, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মেলানোর চেষ্টা– গল্পের এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে জন্যই কাজটার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আর গল্পের মতো করেই আমরা মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে পাব। সেটা দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করি।’উল্লেখ্য, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে আরিফিন শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কনটেন্ট ছিল ২০২৩ সালের ‘উনিশ২০’। অন্যদিকে, নির্মাতা জাহিদ প্রীতম ‘ঘুমপরী’র পর তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে চরকিতে ফিরছেন। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ প্রজেক্টের আওতায় এর আগে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অফ মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬-২৪-৩৬’ এবং ‘ডিমলাইট’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পেয়েছে।
রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক কর্পোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তির আওতায় অভিনয় শিল্পী সংঘের সব সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা এক্সিকিউটিভ হেলথ চেক-আপ, কার্ডিয়াক হেলথ চেক-আপসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।চুক্তিতে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী এবং অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষে সভাপতি আজাদ আবুল কালাম যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।এ সময় অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং আইনবিষয়ক সম্পাদক সূচনা সিকদারও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৬ হাজার ৪৮১ দশমিক ০৬ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪৮১ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৭৮৪ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ৭৭০ দশমিক ০৮ মিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।এদিকে চলতি জুলাইয়ের প্রথম ২০ দিনে দেশে ১৮০ কোটি ২৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এরমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। পাশাপাশি বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৪ কোটি ৫২ লাখ, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১২৬ কোটি ৬৪ লাখ এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে আরও ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য দুই দিনের বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্পের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই ২০২৬ (শুক্র ও শনিবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওয়ারদি আল-দাওয়াসির এলাকায় এ কনস্যুলার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।ক্যাম্পে নিজ উদ্যোগে ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র পূরণ করা আবেদনকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পাসপোর্ট বিতরণ, শ্রমকল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড তৈরি, বিশেষ এক্সিট প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন কনস্যুলার ও আইনি সেবা প্রদান করা হবে।এছাড়াও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হবে বলে দূতাবাস জানিয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ প্রবাসীদের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, সেবা গ্রহণের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পানি ও ছাতা সঙ্গে রাখারও পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন রাজধানীর মিরপুরে একটি নতুন গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি) উদ্বোধন করেছে। উদ্ভাবন ও ডিজিটাল-ফার্স্ট সেবার মাধ্যমে আরো মানসম্মত গ্রাহক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সংকল্পবদ্ধ কোম্পানিটি; এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের হেড অব ব্র্যান্ড মার্কেটিং নাফিস আনোয়ার চৌধুরী, হেড অব কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আব্দুল্লা আল মাহমুদ, সার্কেল বিজনেস হেড (ঢাকা) আশফাকুজ্জামান চৌধুরী এবং গ্রামীণফোন সেন্টারের পার্টনার ইফতেখার মাহমুদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, সেন্টার এজেন্ট, গ্রাহক এবং বৃহত্তর মিরপুর এলাকার স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।মিরপুরের প্রখ্যাত বেনারসি পল্লীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণায় সেন্টারটি আধুনিক ডিজাইন এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিচিতির সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। সেন্টারটি মিরপুর ১১ মেট্রো রেল স্টেশনের পাশে স্থাপন করা হয়েছে যেন পল্লবী, মিরপুর-১০, রূপনগর ও মিরপুর ডিওএইচএসসহ বৃহত্তর মিরপুর এলাকার গ্রাহকরা সহজে সেবা নিতে পারেন।পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করে নতুন উদ্বোধন হওয়া এই সেন্টারটিতে রয়েছে আধুনিক ডিজাইন ও অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধার সমন্বয়। সেন্টারটিতে আসা গ্রাহকরা গ্রামীণফোনের সব ধরণের টেলিযোগাযোগ সেবা, ডিজিটাল সল্যুশন ও অত্যাধুনিক পণ্যসহ সব কিছু এক ছাদের নিচেই পেয়ে যাবেন। নতুন এই গ্রামীণফোন সেন্টারটি সকলের জন্য সহজলভ্য, আধুনিক ও টেকসই সেবা ও অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্রামীণফোনের ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি সেবা প্রদানের পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ বজায় রাখার প্রতি কোম্পানির অঙ্গীকারকেও তুলে ধরে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’