বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে মজুত গ্যাস ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে।রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে শুরু হয়। লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুত ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এবং বর্তমান কমবেশি দৈনিক ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হলে ওই অবশিষ্ট ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদের ভিত্তিতে আনুমানিক ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে। গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোবাংলা কর্তৃক কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনার আওতায় ৫০ ও ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার পরিকল্পনার আওতায় অদ্যাবধি ২৬টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কূপগুলো খনন এবং ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যে কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে।সাইসমেক সার্ভে অনুযায়ী বাপেক্স কর্তৃক ব্লক-৭ ও ৯ এ প্রায় ৩৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক ডাটা আহরণ করে উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলমান রয়েছে। বিজিএফসিএল কর্তৃক হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনার ১৪৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক ডাটা আহরনের কার্যক্রম আরম্ভ হবে। পাশাপাশি বাপেক্স কর্তৃক ভোলার চরফ্যাশনের ৬৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায়, জামালপুরে ৬৫০ বর্গ কিলোমিটার বিজিএফসিএল কর্তৃক তিতাস, হবিগঞ্জ এবং নরসিংদী সংলগ্ন ৬৩২ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় এবং এসজিএফএল কর্তৃক লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা সাউথ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচার এ ৮৮২ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ সম্পাদনের নিমিত্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, যা আজ সন্ধ্য থেকে কার্যকর হবে।পাশাপাশি বেড়েছে অটোগ্যাসের দামও। ভোক্তাপর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের শুরুতে নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা। এর আগে, এপ্রিল মাসের শুরুতেই এলপিজির মূল্য ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক মাসে দুইবার মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিইআরসি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য বিপদজনক জোন/সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এলপিজির জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়া, বিকল্প পথে/উৎস থেকে এলপিজি আমদানিতে সময় ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধিসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিমা ও নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলপিজি আমদানির জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম চার্জ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রতি মেট্রিক টন ২৫০ মার্কিন ডলার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।রোববার (১৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিইআরসি ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১২ টাকা বৃদ্ধি করে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে ওষ্ঠাগত করে তুলবে। এর আগে গত ২ এপ্রিল এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দামও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এলপিজি একটি অপরিহার্য জ্বালানি। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে রান্নার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে।জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এই মূল্যবৃদ্ধিকে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
মিম বা কার্টুন শেয়ার করায় এক্টিভিস্ট হাসান নাসিমকে গ্রেফতারের ঘটনায় জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একটি গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি কার্টুন শেয়ারের কারণে কাউকে গ্রেফতার করা হয়, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘কোয়েশ্চন অব প্রিভিলেজ’-এ দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, সংসদে মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের মাধ্যমে মন্ত্রীদের সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে তা টেবিলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সংসদ সদস্যরা।গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দলের চিফ হুইপ সংসদে একটি বক্তব্যে ‘তিমি ও হাঙর’ প্রসঙ্গে স্যাটায়ার করেছিলেন। সেই বক্তব্য ঘিরে তৈরি একটি কার্টুন শেয়ার করার অভিযোগে হাসান নাসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দাবি, এ ঘটনায় ২৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে, যা মূলত যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—কিন্তু আলোচিত ঘটনায় এমন কোনো উপাদান নেই।তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনে কার্টুন বা মিম শেয়ার করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ নেই। তবুও এ ধরনের মামলায় গ্রেফতার ও জামিন না দেওয়ার ঘটনা বিরোধী মত দমনের ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা আগেও দেখেছি, কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা আরও উদ্বেগজনক। যদি সংসদে প্রশ্ন করার সুযোগ না থাকে, তাহলে এটি কার্যত একপাক্ষিক অধিবেশনে পরিণত হবে।তিনি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে মৌখিক উত্তর নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান, যাতে সংসদ সদস্যরা কার্যকরভাবে মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারেন।
সংসদ অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সদস্যদের দ্বারা সৃষ্ট অঙ্গভঙ্গি ও হট্টগোলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।রোববার (১৯ এপ্রিল) অধিবেশন চলাকালে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই ঘটনাকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং এর নিন্দা জানান তিনি।সংসদকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা জনগণের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত।তিনি সকল সংসদ সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কোনো সংসদ সদস্য যখন কথা বলবেন, তখন তাকে নিয়ন্ত্রণ করার একক এখতিয়ার কেবল মাননীয় স্পিকারের।বিরোধীয় নেতা আরও বলেন, আজকে লক্ষ্য করলাম যে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তিনি যখন কথা বলছিলেন দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। আমি এটা আশা করি না।তিনি আরও বলেন, একবার দুইবার নয়, চার-পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসা কিছু সদস্যও এই কাজে লিপ্ত ছিলেন। যাদের নাম উল্লেখ করে তিনি নিজে লজ্জা পেতে চান না।সংসদে ভালো সংস্কৃতির চর্চার ওপর জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা প্রথম দিনই অনুরোধ করেছিলাম ভালো কিছু সংস্কৃতির চর্চা হোক এখানে এবং আমরা শিখতে চাই আমরা জাতিকে নিজে শিখবো জাতিকেও আমাদের সাথে উদ্বুদ্ধ করব।তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্পিকার বারবার অনুরোধ করার পরেও ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা তাদের হট্টগোল চালিয়ে গেছেন, এমনকি মাইক বন্ধ থাকার পরেও সংসদ কী হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছিল না।ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে রুমিন ফারহানার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, শেষমেষ যখন মাননীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য চলছিল বিষয়টা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য যা করা হয়েছে আমি এটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আমি এটার নিন্দা জানাতেও বাধ্য হলাম।এরআগে রুমিন ফারহানা সংসদ অধিবেসনে তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, অথচ বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাস্তায় তেলের জন্য ৩ কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। ড্রাইভাররা মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না। সরকারের যদি কোনো সংকটই না থাকে, তবে এই লম্বা লাইন কেন? কেন তেলের দাম বাড়াতে হচ্ছে?জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মার্কেটপ্লেস রাত ৮টার পরিবর্তে ৭টায় বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অদূরদর্শী। মানুষ কেনাকাটা সাধারণত সন্ধ্যার পরেই করে। এছাড়া অফিস-আদালতের কর্মঘণ্টা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।সরকারের মন্ত্রীরা গণমাধ্যমে সংকট নেই বলে যে দাবি করছেন, তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি এই সংসদের মাধ্যমে জানতে চাই, বর্তমানে দেশে অকটেন ও ডিজেলের প্রকৃত মজুত কতদিনের আছে? পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল কেন সরবরাহ করা হচ্ছে না? তেলের মজুতদারি কারা করছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা পরিষ্কার করতে হবে। এরপরই সরকার দলীয় পক্ষ থেকে হট্টগোল শুরু হলে রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আসন্ন ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও নির্বাচনকে একতরফা করার চেষ্টা করছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নীল প্যানেল, এমন অভিযোগ তুলেছে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সবুজ প্যানেল।রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে হাইকোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন এ অভিযোগ করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির।শিশির মনির অভিযোগ করেন, ভোট হওয়ার আগেই ইলেকশন সিস্টেমে একটা মেকানিজম করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি এই পরিবেশে ভোট হওয়া ও গণনাকেও অত্যন্ত রিস্কি ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, বারবার লিখিত আকারে বলার পরে তারা যেহেতু কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, এইজন্যই আমাদের দায়িত্ব হলো এগুলো মানুষকে জানানো যে এখানে অনিয়ম হচ্ছে।এছাড়া, তিনি এই নির্বাচনের প্রশাসন নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।উল্লেখ্য, আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ২০ হাজারের বেশি ভোটার অংশ নেবেন।
প্রশাসনিক বিধিমালা ও সংবিধান নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সরাসরি পরীক্ষা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।বৈঠকে আলোচনা চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক বিধিমালা ও আইন-কানুন নিয়ে উপদেষ্টাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা অনেক পড়াশোনা করেছেন, প্রশাসনিক বিধিমালা তারা ভালোভাবেই জানেন। তবে আমরাও সংবিধান, প্রশাসনিক বিধিমালা এবং দপ্তর বণ্টন নীতিমালা সম্পর্কে অবগত।তিনি আরও বলেন, এখানে উপস্থিত ৬৫ জন কর্মকর্তা আছেন, চলেন সবাই পরীক্ষা দিই। কে কতটা জানেন, তা তখনই বোঝা যাবে। এভাবে তিনি কর্মকর্তাদের দক্ষতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।বৈঠকে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন উপদেষ্টা তিতুমীর। তিনি বলেন, এখন থেকে নির্বাচনি ইশতেহারের বাইরে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ডেমরার হাজীনগর এলাকায় হেলে পড়া ছয়তলা ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। বুধবার (১৯ এপ্রিল) সকালে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।গত বছরের ২৭ জুলাই হাজি মোয়াজ্জেম আলী স্কুল ও বাইতুল কাওছার জামে মসজিদ সংলগ্ন ১০৬ নম্বর ভবনটি আরেকটি ভবনের উপর হেলে পড়েছিল।পরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি), ফায়ার সার্ভিস ও ডেমরা থানা পুলিশ পরিদর্শন করে ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করে।একই সঙ্গে ভবনের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজউক ও ডিএসসিসি ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়।ওই নির্দেশনায় ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্টরা। ভাঙার কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে বলেও জানা গেছে।ভবনের মালিক মো. শহিদ মিয়া বলেন, ‘হেলেপড়া ভবনে তো আর বসবাস করা যাবে না। তাই রাজউক, সিটি কর্পোরেশনের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলতে হচ্ছে।’
অতীতে ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দেওয়া যাবে বলে মন্তব্য করে দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল করুক, ছাত্রশিবির করুক, ছাত্রলীগ করুক—এটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আজকে থেকে যখন কেউ এনসিপিতে আসবে তিনি এনসিপির সংগঠক, এনসিপির নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করবে।রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এনসিপির দায় ও দরদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেই রাজনীতিকে ধারণ করে, তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে মাথায় রেখে সামনের দিনে এগোতে চাই।তিনি আরও বলেন, আজকে যারা আসছে আমরা মনে করি, তারা আমাদের সঙ্গেই এতদিন ছিলেন। আমরা একসঙ্গেই ছিলাম, হয়তো প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। আজকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হচ্ছি এবং সারাদেশের তরুণদের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি এনসিপির হাতকে শক্তিশালী করুন, এনসিপিতে যোগ দিন।তবে, ফ্যাসিজমে অংশগ্রহণকারী, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, চাঁদাবাজ বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কেউ কখনোই এনসিপিতে আসতে পারবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি আজ।রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) এক কর্মকর্তা। নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করেনি প্রসিকিউশন। তবে প্রথমেই চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তার জেরা সম্পন্ন করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এ মামলাটি আমলে নিয়ে জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং আটক পলককে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২১ জানুয়ারি ২০২৬-এ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ বিচার শুরু হয়। বর্তমানে দুই আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন পলক। পলাতক থাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।
আইনের ফাঁকফোঁকরে জামিনে মুক্তি পেয়ে মাদক কারবারিরা বারবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইন করে তাদের সহজে জামিন পাওয়া বন্ধ করতে হবে।রোববার (১৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।সংসদে বক্তব্যের শুরুতে স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মনজুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলা নিয়ে গঠিত তার নির্বাচনি এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, তার নির্বাচনি এলাকা একটি অবহেলিত ও কৃষিনির্ভর অঞ্চল, যেখানে ভারী শিল্প-কারখানার অভাব রয়েছে। ফলে এলাকার অর্থনীতি পুরোপুরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মত দেন।মাদক সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকায় সংঘটিত চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানির বড় অংশই মাদক সংশ্লিষ্ট। কিন্তু মাদক কারবারিরা দ্রুত জামিন পেয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরে মনজুরুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জের ৫০ শয্যা ও কাহারোলের ৩০ শয্যার হাসপাতাল দুটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ছোট। এসব হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসায় সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বীরগঞ্জ হাসপাতালকে ১৫০ শয্যা এবং কাহারোল হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।এছাড়া কাহারোল উপজেলা সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করা এবং যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানান তিনি। এলাকার একটি বড় গরুর হাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যানজট সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন।বন ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বীরগঞ্জের সিংড়া শালবন দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে আছে এবং এর জমি বেদখলের শিকার হচ্ছে। তিনি এই বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং এটিকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।বক্তব্যের শেষে তিনি তার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।রোববার (১৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিইআরসি ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১২ টাকা বৃদ্ধি করে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে ওষ্ঠাগত করে তুলবে। এর আগে গত ২ এপ্রিল এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দামও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এলপিজি একটি অপরিহার্য জ্বালানি। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে রান্নার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে।জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এই মূল্যবৃদ্ধিকে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গ্রেফতারকৃত এরফানুর রহমান (৩২) উপজেলার কুটি ইউনিয়নের মাইজখার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং খাড়েরা গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে।রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কর্মস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, ঢাকার এক নারীর সঙ্গে এরফানুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিয়ে না করে গত ১০ এপ্রিল অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ১৪ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে কসবা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে।কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা জানান, মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য বিকেলে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর মাজার রোড সংলগ্ন ঐতিহাসিক গাবতলী খেলার মাঠের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তা পুনরায় খেলার উপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার (১৯ এপ্রিল) ১০৭ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী মাঠটি পরিদর্শনে গিয়ে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।মাঠ পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, এই মাঠে কাজী সালাউদ্দীন থেকে শুরু করে আমি নিজেও ফুটবল খেলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশের গ্রামীণ জনপদসহ ঢাকা মহানগরের যেখানেই খেলার মাঠ দখলদারদের কবলে আছে, তা উদ্ধার করার কার্যক্রম গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।গাবতলী মাঠের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আদালতের একটি রায় রয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে মাঠের বৃহৎ অংশটি দখলমুক্ত করব। এখানে কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। এটি এলাকাবাসী ও স্কুলের শিশুদের খেলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।এসময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা সরেজমিনে দেখেছি মাঠের চার ভাগের দুই ভাগের বেশি অংশে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। আইন ও আদালত জনগণের কল্যাণের জন্য। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় যত অবৈধ স্থাপনা আছে, তার সব উচ্ছেদ করা হবে।তিনি আরও বলেন, আমরা স্থানীয় সুধীজনদের সাথে কথা বলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেব, এর মধ্যে দখল না ছাড়লে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মাঠ শুধু খেলাধুলা নয়, এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হবে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ থেকে ১০৭ বছর আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ১.৭ একর আয়তনের এই মাঠটি ওয়াক্ফ করে গিয়েছিলেন। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মদদে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক বাবলা নামের এক ব্যক্তি করোনা মহামারির সময় রাতের আঁধারে মাঠের জায়গা দখল করে অবৈধ ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করেন। তৎকালীন সংসদ সদস্য আসলামের ছত্রছায়ায় মাঠের জমি বিভিন্ন জনের কাছে ইজারা দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।বর্তমানে মাঠটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় আশপাশের ১০টিরও বেশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে মাঠটি তার পুরনো রূপে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। মাঠটি রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন নটিয়াল জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন সবসময় আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন এই তারকা। তাই তার বিয়ের খবরটিও সামনে এসেছে অনেকটা নিভৃতেই।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে একেবারে সাদামাটা ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন করেন তিনি। কোনো জাঁকজমক নয় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই শুভ আয়োজন। শোনা যাচ্ছে, যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন জুবিন, তিনি তার শৈশবের ভালোবাসার মানুষ। তবে কনের নাম-পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও দেননি এই গায়ক। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।দেরাদুনের এই শিল্পী ২০১১ সালে ‘এক্স ফ্যাক্টর ইন্ডিয়া’ অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর ২০১৪ সালে ‘সোনালি কেবল’ সিনেমার ‘এক মুলাকাত’ গানের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। তবে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ‘জিন্দেগি কুছ তো বাতা’ এবং ‘কাবিল’এর টাইটেল ট্র্যাক গেয়ে। পরবর্তীতে ‘লুট গায়ে’, ‘তুম হি আনা’ এবং ‘রাতা লম্বিয়া’র মতো জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ‘শেরশাহ’ সিনেমার ‘রাতান লম্বিয়াঁ’ গানটি তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রিয় গায়কের নতুন জীবনের জন্য ভক্ত-অনুরাগীদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা জুটি রণবীর সিং-দীপিকা পাড়ুকোনকে ঘিরে আবারও ছড়িয়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। দীর্ঘ প্রেম আর আট বছরের দাম্পত্য জীবন কি তবে শেষের পথে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তদের মনে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায়, রেডিটে একটি ভাইরাল পোস্ট থেকেই এই জল্পনার শুরু। সেখানে দাবি করা হয়, রণবীর ও দীপিকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নাকি আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে পারেন এই তারকা দম্পতি।এই গুঞ্জনের প্রভাব পড়েছে ভক্তদের মধ্যেও। বিশেষ করে তাদের কন্যা দুয়া’র ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে এখনও পর্যন্ত এই নতুন গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি রণবীর বা দীপিকা কেউই।এই সিনেমা সাফল্যের সময় দীপিকার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। প্রিমিয়ারেও তাকে না দেখা যাওয়ায় জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও পরে সমালোচনার জবাবে দীপিকা স্পষ্টই জানান, তিনি সিনেমাটি সবার আগেই দেখে ফেলেছেন।এদিকে তারকা দম্পতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই বিচ্ছেদের খবর পুরোপুরিই ভিত্তিহীন। এর আগেও ২০২৪ সালে একই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল, যা পরে নাকচ করেন রণবীর নিজেই। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই। সংসার জীবনে তারা ভালো আছেন।ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, গ্ল্যামার দুনিয়ায় এ ধরনের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়—বাস্তবের সঙ্গে যার মিল অনেক সময়ই থাকে না।সব মিলিয়ে, ‘বাজিরাও-মাস্তানি’ জুটির সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, সত্যিটা জানতে এখন অপেক্ষাই ভরসা।
আগামী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসবে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের দুই সিনেমা। যুবরাজ শামীমের ‘অতল’ ও আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। প্রতিযোগিতা শাখার বাইরে ‘অ্যাপক্যালিপ্স নাউ’ সেকশনে মনোনীত হয়েছে অতল আর আর্টকোর বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘প্রিন্সেস’।২০২২ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরে প্রিমিয়ার হয় যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা ‘আদিম’। জিতে নেয় ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’সহ নেটপ্যাক সম্মাননা। নির্মাতার দ্বিতীয় সিনেমার প্রিমিয়ারও মস্কোয় হচ্ছে। সিনেমায় অস্তিত্বসংকটে ভোগা এক মানুষের মনস্তত্ত্ব দৃশ্যগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। যুবরাজ শামীম বলেন, ‘একজন মানুষ, যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যুপরবর্তী জীবন পার করছে কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছে। যেখানে সময়, চারপাশের সব চরিত্র—সব থমকে আছে। সেটাই সিনেমায় পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি।’যুবরাজ শামীমের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা অতল। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম তুষার। তিনি পেশায় ফটোগ্রাফার। অভিনয়ের পাশাপাশি এ সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফিও করেছেন তুষার।আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প, যেখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকে প্রতিফলিত করাই সিনেমাটির মূল উপজীব্য। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।‘প্রিন্সেস’ চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ৯ কেজি, শিখতে হয়েছে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়। ‘“রোজি” চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি,’ বলেন তিনি।আসিফ ইসলামের আগের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে ১৬ এপ্রিল, পর্দা নামবে ২৩ এপ্রিল।
ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় গায়িকা আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে নিজস্ব গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।দাদাসাহেব ফালকে ও বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ খ্যাতনামা গায়িকা। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। তবে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্মণ পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা অভিনয় জগত থেকে বিরতি নেবেন বলে জানিয়েছিলেন বেশ কিছুদিন আগেই। এবার জানা গেল তার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছার কথা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল বলেন, বর্ষা দীর্ঘদিন ধরেই নিঃশব্দে সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছেন। জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই তাকে নেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তার মনে প্রবল দেশসেবা করার ইচ্ছা আছে। বর্ষার মানবিক কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনন্ত জলিল আরও বলেন, বর্ষা স্কুল ব্যাগে করে টাকা নিয়ে নিজ হাতে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়। তার ভেতরে দেশসেবা করার এক অদম্য ইচ্ছা আছে। আমরা কোনোদিন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু দেশসেবার স্বার্থে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল তো বেছে নিতেই হয়।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও আদর্শের জায়গা থেকে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তারকা দম্পতি। সৎ রাজনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে অনন্ত জলিল বলেন, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কথাগুলো দেখুন, তিনি একদম সরাসরি সত্য কথাগুলো বলেন। সবার সামনে স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না, অন্যায় করতে পারবে না। সৎ পথে থেকেও তো নেতৃত্ব দেওয়া যায়!প্রসঙ্গত, এর আগেও অনন্ত জলিল বর্ষাকে নেত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বর্ষাও জনসেবায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, মানুষের সেবা করতে তার ভালো লাগে এবং সরকারের সহযোগিতায় বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন পেরিয়ে এবার রাজনীতির মাঠে নামার এই ঘোষণা ভক্ত ও চলচ্চিত্র মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের ছায়া কাটেনি টলিউডে। একাধারে টলিপাড়া যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ?ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এমন আবহেই এবার টেলিভিশন জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক ও ‘টেন্ট সিনেমা’র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর অভিযোগ, “আমার নিজের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।”সুকন্যার দাবি, “আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, “ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবকিছু শুনে মনে সাহস দিয়েছে। আমি আর চুপ করে থাকব না। ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এ অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রযোজক সুশান্ত দাস।
ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, যা আজ সন্ধ্য থেকে কার্যকর হবে।পাশাপাশি বেড়েছে অটোগ্যাসের দামও। ভোক্তাপর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের শুরুতে নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা। এর আগে, এপ্রিল মাসের শুরুতেই এলপিজির মূল্য ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক মাসে দুইবার মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিইআরসি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য বিপদজনক জোন/সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এলপিজির জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়া, বিকল্প পথে/উৎস থেকে এলপিজি আমদানিতে সময় ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধিসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিমা ও নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলপিজি আমদানির জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম চার্জ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রতি মেট্রিক টন ২৫০ মার্কিন ডলার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া– এই তিন দেশ থেকে এক দিনেই ৩৪ জন প্রবাসীর মরদেহ এসে পৌঁছেছে দেশে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) পৃথক ফ্লাইটে এই ৩৪ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল।প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, এই ৩৪ জনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল।এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের দেওয়া তথ্যানুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত থেকে সবচেয়ে বেশি মরদেহ এসেছে। গতকাল সন্ধ্যায় কুয়েত এয়ারলাইনসের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে একযোগে ৩০ জন প্রবাসীর মরদেহ আসে।এছাড়া লিবিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আসা অন্য ফ্লাইটে দুটি করে মোট চারটি মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।মন্ত্রণালয় বলছে, মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে দাফন ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়ছে।এছাড়া এসব প্রবাসীদের পরিবার অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা বীমা পাওয়ার যোগ্য হলে, তা দ্রুত প্রদান করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।এদিকে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সময় বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করার লক্ষ্যে চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল ও রবি এলিট গ্রাহক ও কর্মীদের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহকরা ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং দুবাইসহ বিভিন্ন শীর্ষ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে দ্রুততর চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং ঝামেলামুক্ত করে তোলা।অনুষ্ঠানে রবির পক্ষ থেকে ম্যানিক লাল দাস, ডিরেক্টর, কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস (রবি মার্কেটিং); মো. সানজিদ হোসেন, অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ; সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি অ্যান্ড পার্টনারশিপ; এবং তানভীর আলম চৌধুরী, জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি পার্টনারশিপস, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ, রবি মার্কেটিং উপস্থিত ছিলেন। এবং চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মি. মুনতাসির মাহমুদ, চিফ অপারেটিং অফিসার এবং মি. বাদশা মোড়ল, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার।এ সময় মি. মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “চিকিৎসা সেবাকে কোনো আন্তর্জাতিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহক খুব সহজভাবে দেশের বাহিরে চিকিৎসা সেবা। রবি’র বিপুল গ্রাহকভিত্তিক এখন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যাত্রায় একটি বিশ্বস্ত সহযোগী পাবে।”মি. তানভীর আলম বলেন, “রবি সবসময় সেবার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের সীমানার বাইরে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।