মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি রিয়াদ পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখবে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আমেরিকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার বিষয়েও সৌদি পক্ষকে অবহিত করা হয়।ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফোনালাপে জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সদিচ্ছা নিয়ে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে। তবে তার দাবি অনুযায়ী, আলোচনায় মার্কিন পক্ষের মাত্রাতিরিক্ত ও অন্যায্য আবদার এবং অনড় অবস্থানের কারণে বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিনীদের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আস্থার অভাবই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হবে এবং এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, গত ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইরান সফলভাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্রুত বিজয়ের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে এবং প্রতিপক্ষের সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে।সংঘাত নিরসনে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার সূত্র ধরে ইসলামাবাদে দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছিল। সেখানে ইরান সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি সম্বলিত ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করলেও ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই প্রতিনিধি দল তেহরানে ফিরে আসে।বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং আলোচনার ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার এই ফোনালাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আঞ্চলিক প্রধান শক্তি হিসেবে সৌদি আরব সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত নিরসনের ওপর জোর দিচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা শান্তি চায় কিন্তু সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নজর রাখছে, সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই গভীর সংকট দূর করতে পারে কি না।সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে যেকোনো ইরানি 'ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট' ধ্বংস করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই এই অবরোধ কার্যত শুরু হয়েছে।অন্যদিকে ইরান এই অবরোধকে 'অবৈধ' ও 'জলদস্যুতা' আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছে, তাদের বন্দর নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। নির্ধারিত সময়সীমা শেষে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ কার্যকর করলেও এর বিস্তারিত জানানো হয়নি।ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বড় যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী।বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। পরিস্থিতির প্রভাবে তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই অবরোধ সমর্থন না করার কথা জানিয়ে বলেছেন, তারা এ সংঘাতে জড়াতে চান না। জার্মানি ও স্পেনও এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।এদিকে ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। উভয় পক্ষই ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দোষারোপ করলেও তেহরান বলছে, তারা সমঝোতার খুব কাছাকাছি ছিল। এ অঞ্চলে চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপিকর্মী মকবুল মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক ইউনাইটেড গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (অ্যাডমিন) ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আফজাল নাছের ভূঁইয়াকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের স্পেশাল অপারেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তোফাজ্জল হোসেন আসামিকে হাজির করে এই রিমান্ডের আবেদন করেন।আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যে এই মামলার রিমান্ড শুনানি হবে।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশের গুলিতে বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন নিহত হন।এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আফজাল নাছের ভূঁইয়া ওই ঘটনার সময় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে বিরোধীপক্ষকে দমনে নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে পাঁচটি কারণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনায় জড়িত নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্তকরণ, ঘটনার সময় কার কী ভূমিকা ছিল তা নির্ধারণ, ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং অর্থের যোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।নথি থেকে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ তার ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয় এই আসামিকে। এরপরে গত ৮ এপ্রিল বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় চার দিন রিমান্ডে পাঠানো হয়। একই মামলায় গত ১২ এপ্রিল ২ দিনের রিমান্ডে পাঠায় সিএমএম আদালত। আজ আবার পুনরায় রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নয়াপল্টনে পুলিশের অভিযানের সময় কয়েকশ নেতাকর্মী আহত হন এবং মকবুল হোসেন নিহত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আফজাল নাসের ভূঁইয়া ১৪৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চার দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ অনুযায়ী, আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। এতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে আন্তরিকভাবে সম্মান জানানো উচিত। তিনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে অটল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি অভিন্ন এবং টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল সোমবার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পুতিনের মুখপাত্র ও ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ।ব্রিফিংয়ে পেসকভ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই এই প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। আগেও আমরা এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”সোমবারের ব্রিফিংয়ে পেসকভ আরও জানান, আগের দিন রোববার টেলিফোনে কথা হয়েছে পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে। পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য পুতিনকে জানিয়েছেন।“প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগে সহযোগিতা করার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”, বলেছেন পেসকভ।ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে। এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ বা পরিশুদ্ধ। জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী এই বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হলেই পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে ইরান।ইরান অবশ্য বরাবরই পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে বোমা তৈরির প্রচেষ্টার কথা অস্বীকার করে আসছে, তবে দেশটির পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে বিরোধ চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই বিরোধের জেরেই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ।মার্চের প্রথম সপ্তাহে ইরানকে ১৫টি পয়েন্টের একটি শান্তি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রস্তাবনার একটি পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে— ইরানের এই ইউরেনিয়াম হয় ধ্বংস করতে হবে, নয়তো অপসারণ করতে হবে।সূত্র : এএফপি, ফার্স্টনিউজ
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অংশ নেবেন। ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। খবর আনাদোলুর। সরকারি সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় রুবিও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বহু দশকের মধ্যে অন্যতম উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা শুরু হচ্ছে। বৈঠকে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্চের শুরু থেকে সংঘাতে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনাকে ‘অকার্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি লেবানন সরকারকে ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
পহেলা বৈশাখে রাজধানীতে দেশীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিজাতীয় প্রভাব প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে শোভাযাত্রা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে আয়োজিত শোভাযাত্রায় নারী, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল ও কুলসহ নানা লোকজ উপকরণ নিয়ে অংশ নেন অংশগ্রহণকারীরা। বাঙালিয়ানার সাজে শিশুদের উপস্থিতি উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।শোভাযাত্রাজুড়ে দেশাত্মবোধক, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গানের পরিবেশনায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। অংশগ্রহণকারীরা গান ও আনন্দের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করেন।শোভাযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, পশ্চিমা ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান।এ সময় বক্তারা এমন সংস্কৃতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান, যা ইসলামী মূল্যবোধ ও শরিয়াহর পরিপন্থী বলে তারা উল্লেখ করেন।
দেশে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে জ্বালানী সংকট। নববর্ষের দিনে ও রাজধানীজুড়ে দেখা গেছে পেট্রোল পাম্প গুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। বিমানবন্দর এলাকার ডি এল ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে সকাল থেকেই তেল নিতে ভিড় করছেন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। কোথাও কোথাও তেল নেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখায় ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন চালকদের।ফিলিং স্টেশনগুলোতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ায় ক্ষুভ প্রকাশ করছে চালকরা।এদিকে পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় আশেপাশের এলাকায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।তেল সংকটে ব্যক্তিগত যানবাহন বন্ধ রেখে অনেকেই গণপরিবহনে চলাচল করছেন, এতে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বাড়ছে যাত্রীর চাপ। সব মিলিয়ে নববর্ষের দিনে ও জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী।
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের ভার্চুয়াল প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৭ লাক্ষ কৃষক কার্ড পাবে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকরা।জুড়ী উপজেলায় ৮১০ জন কৃষক এই কার্ড বিতরণ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।কার্ড বিতরণের উপস্থিত আছেন নাসিরুদ্দিন মিটু এমপি, শওকতুল ইসলাম এমপি,মুজিবুর রহমান এমপি ,সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান রেজাউন নবী ,মুশফিকুর রহমান সিলেট বিভাগীয় ডিআইজি জেলা প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম পাবেল, জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি মিজানুর রহমান ,জেলা পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জেলা বিএনপির আহবায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি সদস্য মতিন বকশ মাহমুদুর রহমান ,মুহিতুর রহমান হেলাল এবং আনিছুজ্জামান বায়েছ সরকারি কর্মকর্তা বৃন্দ। এছাড়া স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং কার্ড গ্রহণ কারী প্রান্তিক কৃষক।শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড বিতরণ করার ঘোষণা দিয়েছিল আজ তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। অনেকই মনে করেছিল বিএনপি নির্বাচনী বিতরণী পার হয়ার জন্যে আশার বাণী শুনিয়েছে কিন্তু না বিএনপি তার কথায় মিল রেখেছে আজ কার্ড বিতরণের মাধ্যমে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি ব্যবস্থায় বিপ্লবী পরিবর্তন করেছিলেন আজ তার যোগ্য উত্তর সুরী তারেক রহমান সেই পথে রওনা দিচ্ছেন। আজ মনে পড়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কে আপোষহীন নেতৃত্ব দিয়ে জালিমের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়ে ছিলেন। তিনি জীবত থাকলে আজ কতই না আনন্দিত হতেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। শোভাযাত্রার এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার পর চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ রয়েছেন। এবারের শোভাযাত্রায় মোট পাঁচটি প্রধান প্রতীক বা মোটিফ রাখা হয়েছে। এগুলো হলো মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। প্রতিটি মোটিফ পৃথক বার্তা বহন করছে। এর পাশাপাশি রয়েছে মাছ, বাঘ, হরিণশাবক, ছাগল, ছাগলছানা, কাকাতুয়া ও ময়ূর।মোরগ নতুন সূচনা, জাগরণ এবং আলোর আগমনের প্রতীক হয়ে অন্ধকার দূর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দোতারা বাঙালির লোকসংগীতের প্রাণ হিসেবে বাঙালির সাংস্কৃতিক শিকড়কে তুলে ধরে, পাশাপাশি বাউলশিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে সংগীতের মর্যাদার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। কাঠের হাতি লোকজ ঐতিহ্য, শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক। টেপা আকৃতির ঘোড়া গ্রামবাংলার সরল জীবন ও শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে এবং পায়রা সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও বৈশ্বিক শান্তির বার্তা বহন করে।হাজার বছরের ঐতিহ্য আর বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিয়ে এসেছে পহেলা বৈশাখ। এ উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর শিকড়ের দিকে ফিরে তাকানোর এক মহতী লগ্ন। ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা পথ পেরিয়ে বাংলা নববর্ষ আজ যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা যেমন গৌরবের, তেমনি সংগ্রামের।সকাল ৮টা থেকেই চারুকলা অনুষদের প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করে উৎসবপ্রিয় মানুষ। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বর্ণিল পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। চারদিকে ঢাক-ঢোল আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন ২০০ জন শিক্ষার্থী, যারা বহন করছেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনাও রয়েছে।লাল ঝুঁটির বিশাল মোরগ, নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে কাঠের হাতি, শান্তির প্রতীক পায়রা, বড় দোতারা ও টেপা আকৃতির ঘোড়া শোভাযাত্রার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ছোট ছোট প্রতীকী উপকরণও যুক্ত হয়েছে শোভাযাত্রায়। এদিকে শোভাযাত্রা ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুখোশ পরে প্রবেশ, ব্যাগ বহন, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। শোভাযাত্রা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে।নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। দোয়েল চত্বর, কার্জন হলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ পাবলিক টয়লেট।নববর্ষ উপলক্ষ্যে চারুকলা অনুষদে সাংস্কৃতিক আয়োজনও রাখা হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তির দিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বকুলতলায় লোকসংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।
পহেলা বৈশাখে রাজধানীতে দেশীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিজাতীয় প্রভাব প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে শোভাযাত্রা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে আয়োজিত শোভাযাত্রায় নারী, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল ও কুলসহ নানা লোকজ উপকরণ নিয়ে অংশ নেন অংশগ্রহণকারীরা। বাঙালিয়ানার সাজে শিশুদের উপস্থিতি উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।শোভাযাত্রাজুড়ে দেশাত্মবোধক, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গানের পরিবেশনায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। অংশগ্রহণকারীরা গান ও আনন্দের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করেন।শোভাযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, পশ্চিমা ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান।এ সময় বক্তারা এমন সংস্কৃতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান, যা ইসলামী মূল্যবোধ ও শরিয়াহর পরিপন্থী বলে তারা উল্লেখ করেন।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাত দলের ছোড়া গুলিতে আরেক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।সোমবার ১৩ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাউরভাগ গ্রামের মাজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়া এক ডাকাতের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।আটক ডাকাত দলের সদস্যের নাম সৈয়দ শামসুর রহমান ওরফে আতিক। তাঁর গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া এলাকায় হলেও পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বর্তমান অবস্থান হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে আরও তিনটি মামলা রয়েছে।তবে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বৃষ্টি ও বৈশাখী ঝড়ের আভাস পেয়ে বাউরভাগ গ্রামের লোকজন মাছ ধরতে টর্চলাইট নিয়ে বের হয়। এ সময় সাজ্জাদ মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি কবরস্থানের পাশে অন্ধকারে ৪ থেকে ৫ জন অচেনা লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।তিনি বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালে কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চান। এ সময় তারা দৌড়ে পালাতে শুরু করে। পরে গ্রামবাসীর চিৎকারে আরও লোকজন জড়ো হলে পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে কাদামাটির মধ্যে ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা।এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়ে। তবে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক ডাকাতের শরীরেই লাগে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দা গাজী আবেদ বলেন,“রাতে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় অচেনা কয়েকজনকে দেখে আমরা সন্দেহ করি। পরে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা দৌড়ে পালায়। তখন একজনকে ধরে ফেলি। অন্যরা পালানোর সময় গুলি ছুড়তে থাকে, কিন্তু সেই গুলিই গিয়ে আটক ব্যক্তির শরীরে লাগে।”খবর পেয়ে শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশ ও মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীর হাতে আটক ওই ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ প্রহরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের জানান, “পালিয়ে যাওয়া ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর সময় একজনকে গ্রামবাসী ধরে ফেলেছে।”
মাস দুয়েকেরও কম সময় বাকি আছে ফুটবল বিশ্বকাপের। আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। এর আগে একের পর এক দুঃসংবাদ পাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজের পর নতুন করে আরও এক ডিফেন্ডার চোটের কারণে ছিটকে গেছেন অন্তত পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের জন্য।সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন আর্জেন্টিনা জানিয়েছে, হাঁটুর লিগামেন্টের চোটের কারণে চলতি মৌসুমে আর টটেনহ্যাম হটস্পায়ারের হয়ে মাঠে নামা হবে না দলটির আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর। অন্তত পাঁচ থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।গত রোববার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন রোমেরো। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন সান্ডারল্যান্ড স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি। এরপর সতীর্থ গোলকিপার আন্তোনিন কিনস্কির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় হাঁটুতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন রোমেরো।যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে, সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই রোমেরোর চোটের বিষয় জানিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে। যেখানে জানানো হবে আগামী পাঁচ থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।এদিকে, আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এর আগে রোমেরোর চোট দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আর্জেন্টিনার কপালে। যদিও আর্জেন্টিনার আশা বিশ্বকাপের আগেই পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাবেন রোমেরো।
ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় গায়িকা আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে নিজস্ব গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।দাদাসাহেব ফালকে ও বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ খ্যাতনামা গায়িকা। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। তবে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্মণ পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা অভিনয় জগত থেকে বিরতি নেবেন বলে জানিয়েছিলেন বেশ কিছুদিন আগেই। এবার জানা গেল তার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছার কথা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল বলেন, বর্ষা দীর্ঘদিন ধরেই নিঃশব্দে সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছেন। জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই তাকে নেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তার মনে প্রবল দেশসেবা করার ইচ্ছা আছে। বর্ষার মানবিক কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনন্ত জলিল আরও বলেন, বর্ষা স্কুল ব্যাগে করে টাকা নিয়ে নিজ হাতে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়। তার ভেতরে দেশসেবা করার এক অদম্য ইচ্ছা আছে। আমরা কোনোদিন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু দেশসেবার স্বার্থে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল তো বেছে নিতেই হয়।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও আদর্শের জায়গা থেকে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তারকা দম্পতি। সৎ রাজনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে অনন্ত জলিল বলেন, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কথাগুলো দেখুন, তিনি একদম সরাসরি সত্য কথাগুলো বলেন। সবার সামনে স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না, অন্যায় করতে পারবে না। সৎ পথে থেকেও তো নেতৃত্ব দেওয়া যায়!প্রসঙ্গত, এর আগেও অনন্ত জলিল বর্ষাকে নেত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বর্ষাও জনসেবায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, মানুষের সেবা করতে তার ভালো লাগে এবং সরকারের সহযোগিতায় বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন পেরিয়ে এবার রাজনীতির মাঠে নামার এই ঘোষণা ভক্ত ও চলচ্চিত্র মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের ছায়া কাটেনি টলিউডে। একাধারে টলিপাড়া যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ?ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এমন আবহেই এবার টেলিভিশন জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক ও ‘টেন্ট সিনেমা’র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর অভিযোগ, “আমার নিজের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।”সুকন্যার দাবি, “আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, “ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবকিছু শুনে মনে সাহস দিয়েছে। আমি আর চুপ করে থাকব না। ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এ অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রযোজক সুশান্ত দাস।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে শোকের ছায়া এখনও সর্বত্র বিরাজমান। এই শোকের আবহেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে রাহুলের জীবনের শেষ সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে বিনামূল্যে প্রদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানালেন পরিচালক শুভ্রজিৎ বাপ্পা।তিনি বলেন, এই ছবিটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মুক্তি দিচ্ছেন। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সহযোগিতা পেলে ছবিটি দর্শকদের বিনামূল্যে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।ছবিটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ‘বিশ্বকর্মা’ নামের একজন চিত্রগ্রাহককে ঘিরে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহুল। সংসারের অভাব আর অবহেলার মাঝেও বিশ্বকর্মা মৃত মানুষের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করে। তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত।প্রথমে সিনেমাটির নাম ‘নেগেটিভ’ থাকলেও রাহুলের মৃত্যুর পর আবেগঘন সম্মানে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ছবিওয়ালা’। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্র ও রানা বসু ঠাকুর। রূপম ইসলাম ও সোমলতার কণ্ঠে গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন সৌম্য ঋত। সব মিলিয়ে, ‘ছবিওয়ালা’ এখন কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং প্রিয় অভিনেতার প্রতি টলিউডের এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
বলিউড অভিনেত্রী জারিন খানের মা পারভীন খান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে মুম্বাইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। আজ সকাল ১০টায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাশুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাউল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন পারভীন খান। গত বছর অক্টোবর মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এ বছরের শুরু থেকেই ফের অসুস্থ হয়ে আইসিউতে ছিলেন তিনি।
প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) বক্স অফিস টপচার্টে সেরা ২০-এ জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়ল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তির প্রথম তিন দিনেই ৪৮টি থিয়েটার থেকে ছবিটি আয় করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা)। পরিবেশনা সংস্থা ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো বাংলাদেশ’ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। উত্তর আমেরিকায় তিন দিনের আয়ের হিসাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখন সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি সিনেমা। এর আগে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ ৮৬টি থিয়েটারে তিন দিনে আয় করেছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রথম সপ্তাহ শেষে আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এরই মধ্যেই এটি রায়হান রাফীর ‘তুফান’ (১ দশমিক ৫ লাখ ডলার), হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’ (১ দশমিক ৩২ লাখ ডলার) এবং অনম বিশ্বাসের ‘দেবী’র (১ দশমিক ২৫ লাখ ডলার) লাইফটাইম কালেকশনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণা১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণাপরিবেশনা সংস্থা স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর সভাপতি মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব জানান, উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে গত তিন দিনে যা ঘটেছে, তা অবিশ্বাস্য। ‘উৎসব’র পর তানিম নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র মাধ্যমে উপহার দিলেন আরেকটি দারুণ কাজ। আশা করছি এটি ব্যবসায়িক অনেক রেকর্ড ভাঙবে। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ২ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটের সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দেশের বাজারেও। বুড়িগঙ্গা টকিজ, হইচই স্টুডিওস ও ডোপ প্রোডাকশন্স প্রযোজিত সিনেমার টিকিট দুই সপ্তাহে দেশে বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ২ লাখ টাকার। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকেই এসেছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসেও ভালো ব্যবসা করছে সিনেমাটি। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটনন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমার মূল প্রতিপাদ্য ‘১০০% খাঁটি বাংলাদেশি ছায়াছবি’। গল্পের প্রেক্ষাপট একটি রাতের ট্রেনযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী চিত্রা (সাবিলা নূর) ও তরুণ চিকিৎসক আশহাবের (শরিফুল রাজ) পরিচয়ের পাশাপাশি ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের বিচিত্র ও মজার সব গল্প নিয়ে এগিয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।
দেশে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে জ্বালানী সংকট। নববর্ষের দিনে ও রাজধানীজুড়ে দেখা গেছে পেট্রোল পাম্প গুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। বিমানবন্দর এলাকার ডি এল ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে সকাল থেকেই তেল নিতে ভিড় করছেন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। কোথাও কোথাও তেল নেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখায় ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন চালকদের।ফিলিং স্টেশনগুলোতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ায় ক্ষুভ প্রকাশ করছে চালকরা।এদিকে পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় আশেপাশের এলাকায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।তেল সংকটে ব্যক্তিগত যানবাহন বন্ধ রেখে অনেকেই গণপরিবহনে চলাচল করছেন, এতে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বাড়ছে যাত্রীর চাপ। সব মিলিয়ে নববর্ষের দিনে ও জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকেপড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র তিনি। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ শ্রম সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।এছাড়াও, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে শিক্ষক বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাসহ শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।এর আগে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে দুই দেশ যৌথ সংবাদ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উভয় সরকার অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, যা বিদ্যমান নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে।উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকে পড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।যৌথ সংবাদ বিবৃতি আরও বলা হয়, বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সকল উৎস দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি প্রযুক্তি-চালিত, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো- মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন খরচ হ্রাস করা এবং নিয়োগকর্তারা যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন তা নিশ্চিত করা, যার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের জন্য খরচ শূন্য হবে।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্যান্য সকল প্রেরণকারী দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।এতে আরও বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলা সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে-এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকা- মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।উভয়পক্ষ অনিয়মিত কর্মীদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সাথে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করতে ও উৎপাদনশীলতা উন্নত করার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গঠনমূলক আলোচনায় উভয় পক্ষের সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত হয়।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করার লক্ষ্যে চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল ও রবি এলিট গ্রাহক ও কর্মীদের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহকরা ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং দুবাইসহ বিভিন্ন শীর্ষ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে দ্রুততর চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং ঝামেলামুক্ত করে তোলা।অনুষ্ঠানে রবির পক্ষ থেকে ম্যানিক লাল দাস, ডিরেক্টর, কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস (রবি মার্কেটিং); মো. সানজিদ হোসেন, অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ; সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি অ্যান্ড পার্টনারশিপ; এবং তানভীর আলম চৌধুরী, জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি পার্টনারশিপস, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ, রবি মার্কেটিং উপস্থিত ছিলেন। এবং চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মি. মুনতাসির মাহমুদ, চিফ অপারেটিং অফিসার এবং মি. বাদশা মোড়ল, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার।এ সময় মি. মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “চিকিৎসা সেবাকে কোনো আন্তর্জাতিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহক খুব সহজভাবে দেশের বাহিরে চিকিৎসা সেবা। রবি’র বিপুল গ্রাহকভিত্তিক এখন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যাত্রায় একটি বিশ্বস্ত সহযোগী পাবে।”মি. তানভীর আলম বলেন, “রবি সবসময় সেবার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের সীমানার বাইরে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের ভাড়া বাসা থেকে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।নিহত সীমান্তের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন। তিনি হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করতেন।নিহতের চাচা রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত ওই বাসায় সাবলেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার রুমমেটের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত রাত নয়টার পর থেকে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন সীমান্ত। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, সীমান্ত আর বেঁচে নেই।রুহুল আমিন আরও জানান, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ আসছিল। এতে তাদের ধারণা, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন তিনি এই কাজটি করেছেন, সে বিষয়ে স্বজনরা কিছু জানেন না।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।