যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন দ্রুত ঘনিয়ে আসছে এবং এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার (এপ্রুভাল রেটিং) তার হোয়াইট হাউসের দুটি মেয়াদকালের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। খবর নিউজ উইকের।১৬ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের ওপর ‘আমেরিকান রিসার্চ গ্রুপ’ (এআরজি) পরিচালিত নতুন জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের সার্বিক জনপ্রিয়তার হার এসে দাঁড়িয়েছে ২৯ শতাংশে এবং তার অর্থনীতি পরিচালনা সম্পর্কিত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেমে এসেছে ২৬ শতাংশে।ট্রাম্প প্রশাসন নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্য ও পেট্রোলের দাম বাড়ার দায় আগের প্রশাসনের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটছে।এর বিপরীতে, সম্প্রতিক অন্যান্য জরিপগুলোতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন সাধারণত ৩০-এর কোঠার মাঝখান থেকে ওপরের দিকে দেখা গেছে। যদিও ট্রাম্পের নীতির ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে সেটির পরিবর্তন হয়েছে।গ্যালপ-এর ট্র্যাকার অনুযায়ী, এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মেয়াদে কোনো প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ২০-এর ঘরে নেমে এসেছিল।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে মন্তব্যের জন্য নিউজউইকের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল।ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার নতুন রেটিংসোমবার প্রকাশিত এআরজি জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের কাজের ধরন অপছন্দ করেন, যা আগস্টের জরিপের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।জরিপে অর্থনীতির ক্ষেত্রে মতামতের চিত্র আরও নেতিবাচক ছিল; ৭১ শতাংশ মানুষ প্রেসিডেন্টের অর্থনীতি পরিচালনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা আগের মাসে ছিল ৬৯ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী এক বছরে অর্থনীতির উন্নতি হবে, অন্যদিকে ৭০ শতাংশ মানুষ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন।এমন একজন প্রেসিডেন্টের জন্য এই পরিসংখ্যানগুলো বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হতে পারে, যিনি প্রায়শই তার অর্থনৈতিক নীতির প্রশংসা করতেন এবং মার্কিন নাগরিকদের একটি ‘স্বর্ণযুগ’ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।জরিপে অংশ নেওয়া মানুষদের জন্য বিশেষ করে ব্যক্তিগত অর্থসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। মাত্র ২০ শতাংশেরও কম মানুষ নিজেদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, যার বিপরীতে ৭৫ শতাংশ মানুষই বিষয়টিকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে পুনরায় ফিরে আসার পরপরই, তার সমর্থকদের প্রায় অর্ধেক বিশ্বাস করেছিলেন, অর্থনীতির উন্নতি হবে; তবে সেই আশাবাদ এখন অনেকটাই মিলিয়ে গেছে।অন্যান্য প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তুলনাকয়েক দশক পেছনের গ্যালপের ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এর আগে কোনো প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ৩০ শতাংশের নিচে নেমেছিল ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সময়। সে বছর নির্বাচনের প্রাক্কালে জর্জ ডব্লিউ বুশ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।গড়ে পুরো মেয়াদে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা ছিল ৪৮ শতাংশ এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষেত্রে তা ছিল প্রায় ৪২.২ শতাংশ।ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদ মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৪১ শতাংশ স্কোর ধরে রেখেছেন। প্রথম দফায় হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় তার জনপ্রিয়তার হার ছিল প্রায় ৩৪ শতাংশ।
মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায়ও (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রোগটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৫৫ জন।এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯০ জনে। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৬৩ হাজার ৬২৭ জন।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু বিষয়ক বিশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৩৩৩ জন, ঢাকা বিভাগে (মহানগরের বাহিরে) ২৮১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৪ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৭১ জন, রাজশাহী বিভাগে১৪৬ জন, সিলেট বিভাগে ৯ জন, রংপুর বিভাগে ৪১ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৩ জন রয়েছেন।চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজার ৮৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩৭৩৭ জন।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৬৩ হাজার ৬২৭ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে চলতি মাসে, এই মাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৮১ জন।আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী আর মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ মহিলা। এর আগে রোববারও (২০ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুতে সারাদেশে ছয়জনের মৃত্যু হয়। এদিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৯৩ জন।প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন।তার আগে ২০২৪ সালে আক্রান্ত ছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন।
মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সময়ে সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়েছে।মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, আটক হওয়া ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে জেআইএমের নিজস্ব অভিযান থেকে আটক করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজারের বেশি বিদেশিকে দেশের প্রবেশপথগুলোতে আটক করা হয়েছে অথবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে হস্তান্তরের পর আটক করা হয়েছে।লোকমান এফেন্দি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি অভিযান চালানো হয়েছে।সোমবার ভোরে স্থানীয় একটি আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট শ্রী কলামে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। অভিযানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এমকেএন), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং মালয়েশিয়া সিভিল ডিফেন্স ফোর্স (এপিএম)-এর সদস্যরাও অংশ নেন।ফ্ল্যাট শ্রী কলামের অভিযানে মোট ১৩৩ জন বিদেশি নাগরিককে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে প্রধানত নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে পাস বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করার মতো অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে।লোকমান এফেন্দি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু বিদেশি নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বাড়ি বা আবাসিক স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, কোনো নিয়োগকর্তা বৈধ কর্মসংস্থান পাস ছাড়া অবৈধ অভিবাসীকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। একইভাবে অবৈধ অভিবাসীদের কাছে বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।জেআইএমের এই কর্মকর্তা জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২৬০ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন নিয়োগকর্তা বা স্থাপনার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা নজরে এলে সাধারণ মানুষকে নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকমান এফেন্দি।তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সম্ভব হলে ছবি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।লোকমান এফেন্দি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মালয়েশিয়ার জনগণের সচেতনতা ও উদ্বেগকে তারা গুরুত্ব দেন। তবে কোনো ব্যক্তি নিজে আইন প্রয়োগ করতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।তিনি বলেন, “কোনো অনিয়ম দেখলে নিজেরা ব্যবস্থা নেবেন না। বরং পূর্ণাঙ্গ তথ্য, সম্ভব হলে ছবি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করুন। এতে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান দেশটিতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকার চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগকর্তা ও আবাসনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার বিষয়টি জোরদার করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, একের পর এক চাঞ্চল্যকর মামলার জট খোলানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পেলেন নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক। পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার এই স্বীকৃতি নরসিংদী জেলা পুলিশের কার্যক্রমে নতুন এক গতি এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নরসিংদীতে যোগদানের পর থেকেই জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা কৌশলগত পদক্ষেপ নেন এসপি আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফেরাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তাঁর সরাসরি দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পুলিশ টিম একাধিক চাঞ্চল্যকর এবং ক্লুলেস (রহস্যঘেরা) অপরাধের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বলছে, কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন নয়; বরং প্রতিটি অপরাধের শেকড় পর্যন্ত পৌঁছানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর আপসহীন মনোভাবই তাঁকে এই জাতীয় পদকের সুবাদে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।এদিকে, এসপি মহোদয়ের এই অর্জনে কেবল পুলিশ বিভাগ নয়, সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষও। জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এই সম্মাননা শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি পুরো নরসিংদী জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের জন্য কাজের স্পৃহা ও মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি আর জনবান্ধব পুলিশিংয়ের এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা নরসিংদীবাসীর।
বর্তমান সরকারকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যা ইচ্ছা বলা এবং জনগণের রায় উপেক্ষা করে আইন পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এভাবে জনগণের মতামতকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অতীতের অনেক সরকারের মতো সেটিও ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে।’আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগের আয়োজনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিরোধী দলকে ভূতে ধরেছে’ বলা হলেও এখন মনে হচ্ছে সরকারকেই ভূতে ধরেছে। সরকারে এক ধরনের অস্থিরতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।সাইবার আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি সাইবার অপরাধও বেড়েছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আইন করা বা সংশোধন করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে ২০২৫ সালে জারি করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশকে ২০২৬ সালে আইনে পরিণত করার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার সংশোধনের উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে আগের অনেক বিতর্কিত বিধান বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন করে সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন কী ঘটল যে আবার সংশোধনের প্রয়োজন হলো—সরকারকে তা ব্যাখ্যা করতে হবে।প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিভিন্ন ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানহানি, গুজব, অসত্য তথ্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায় অস্পষ্টতা থাকলে সেগুলোর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব বিধান সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাতিল করা উচিত।তিনি আরও বলেন, ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’ ও ‘ভুল তথ্য’ এসবের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা থাকতে হবে। তা না হলে আইনের অপব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আটক করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রাখা উচিত এবং আপাতত প্রস্তাবিত সব সংশোধনী প্রত্যাহার করা উচিত। আইনের খুঁটিনাটি নিয়ে সময় নষ্ট না করে সরকারকে জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। রাজপথের মিছিলের স্লোগান, পোস্টার ও দেয়ালের লেখার মধ্য দিয়েও জনগণের মনোভাব প্রকাশ পায়।তিনি বলেন, জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করে যদি ‘কালাকানুন’ রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা সরকারের জন্য আরও একটি অনিবার্য পরিণতির নতুন মাত্রা তৈরি করতে পারে।আইন প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, আইনটি কে প্রয়োগ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজিতে একটি কথা আছে, ‘ম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন’। কোনো শাসকের চরিত্র যদি কর্তৃত্ববাদী হয়, তাহলে আইনকে অপব্যাখ্যা, অপব্যবহার ও ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষকেও শাস্তি দেওয়া সম্ভব।সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান। তিনি সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারা, সম্ভাব্য প্রভাব এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে এর সম্পর্ক তুলে ধরেন।প্রবন্ধে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে ১৬টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এসব সুপারিশের মধ্যে প্রকৃত সাইবার অপরাধকে আইনের মূল কেন্দ্রবিন্দু করা, মতপ্রকাশ ও সাইবার অপরাধকে পৃথকভাবে দেখা, অস্পষ্ট ও ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের ব্যবহার কমানো, মানহানিকে সাইবার অপরাধ হিসেবে যুক্ত না করা এবং গুজব ও অপতথ্যের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়।এ ছাড়া গুজব শনাক্তে স্বাধীন ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া, ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান পুনর্বিবেচনা, কনটেন্ট ব্লকের কারণ প্রকাশ, গ্রেপ্তার ও তল্লাশির ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির গুরুত্ব বাড়ানো, জামিনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের বিশেষ সুরক্ষার সুপারিশ করা হয়েছে।প্রস্তাবে কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের বিধান সীমিত করা, ডিজিটাল কনটেন্ট অপসারণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বন্ধ এবং সাইবার সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার নিলু।এ ছাড়া দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আযম মীর সাহেদুল আহসান, গ্রীনওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকায় কারখানার সামনে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন কয়েকশ শ্রমিক। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। এসময় তারা বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবী জানান তারা।পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানাযায়,গত দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে আজ সকাল থেকে শ্রমিকরা ফিডার রোড অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় রাস্তার উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের দাবি নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বেতন পরিশোধ না করায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকরা বেতন পরিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানে কারখানা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন,চলতি মাসের ১০ তারিখে বেতন দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মালিকপক্ষ বেতন না দিয়ে কারখানার সামনে সাধারণ ছুটির নোটিশ দেয়।সুমনা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, প্রতিমাসে মালিক আমাদের বেতন নিয়া তালবাহানা করে। আমরা রুম ভাড়া, দোকান বাকী ও ছেলে মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারছিনা। বাড়ীওয়ালা আমাদের রুম থেকে বের করে দিতে চায়। তিনি বলেন,মালিকের অন্য কারখানায় বেতন ঠিক মতো দিচ্ছে আমাদের বেলায় এতো সমস্যা কেন?এ বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান করছেন।গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান,গত দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা ফিডার রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। মালিকের পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার সামনে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জিএমপি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা, ভাবি ও দুই বছর বয়সী ভাতিজিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে যুবক ইমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বরে) সকালে উপজেলার বড় শালঘর এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ইমন ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা পেয়ারা বেগম, ভাবি রাবেয়া বেগম এবং তার দুই বছর বয়সী শিশুকন্যাকে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনাস্থলেই মা ও ভাতিজির মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভাবি রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, মা পেয়ারা বেগম ও শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে দেবিদ্বার থানায় রাখা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ভাবির মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।তবে কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের পর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা করে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, অবিলম্বে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নামে জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানোর হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের আয় কমছে, ক্রয়ক্ষমতা কমছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, এর মধ্যেই সরকার রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক আঘাত হেনেছে।তিনি বলেন, জ্বালানি তেল কোনো বিলাসপণ্য নয় এটি দেশের অর্থনীতি, কৃষি, পরিবহন, শিল্প ও জনজীবনের চালিকাশক্তি। জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ির ভাড়া বাড়ে না, বাড়ে কৃষকের সেচ ও উৎপাদন ব্যয়, বাড়ে পণ্য পরিবহন ব্যয়, শিল্পের উৎপাদন খরচ এবং শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। অর্থাৎ এই সিদ্ধান্তের বোঝা সরাসরি জনগণের ঘাড়ে চাপবে।ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, সরকারের নীতির ব্যর্থতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের লোকসানের দায় জনগণ কেন বহন করবে? জনগণের পকেট কেটে কোনো অর্থনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা যায় না। রাষ্ট্রকে আগে অপচয়, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেওয়া হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নআয়ের পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী। মানুষের আয় না বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানো কোনো জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না। সরকারকে মনে রাখতে হবে, জনগণ রাষ্ট্রের বোঝা বহন করার জন্য নয়; রাষ্ট্র জনগণের জীবন ও অধিকার সুরক্ষার জন্য। তাই জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে সরকারকে জনবান্ধব অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে।জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনা, গণপরিবহনের ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ এবং কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
আফগানিস্তানে রাতভর পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সীমান্তে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির এক খবর জানিয়েছেন খামা প্রেস।তালেবান কর্মকর্তারা জানান, কুনার প্রদেশের নূরগাল জেলার পাতান গ্রামের বসতবাড়িতে রাত আড়াইটার দিকে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান প্রথম হামলা চালায়। এতে তিনজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। এরপর ভোর চারটার দিকে পাক্তিকা প্রদেশের বারমাল জেলার টোর কান্দি ও রাখা এলাকায় দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলায় খালি দোকান ও পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হয়, তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।পাকিস্তান সামরিক বাহিনী সোমবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিমান হামলার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বালুচিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তান সেনা অভিযান জোরদার করেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা আস্তানা থেকে তৎপরতা চালাচ্ছে, যা কাবুল প্রশাসন শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।হামলার আগের দিন খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাংগু জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই কর্মকর্তাসহ ছয় পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। একই সঙ্গে কোহাটের সাম্প্রতিক হামলার নেপথ্যে আফগানিস্তান থেকে আসা সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত ছিল বলে দাবি করে ইসলামাবাদ।২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্ত পারের এই হামলাগুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটিয়েছে। আফগান তালেবান এসব হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করছে তারা নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।সূত্র: খামা প্রেস
ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে। এর ফলে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২ টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, এর আগেও কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ এর আগে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। গত মার্চেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছিলেন।তারা বলেন, জনগণের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতির বোঝা চাপাবে এবং যা জনগণকেই বহন করতে হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।এবি পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে সরকারের উচিত ছিল এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অভিঘাতের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পুরো দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে জ্বালানি খাতে অপচয়, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।তারা আরও বলেন, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত কমাতে সরকারকে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।তারা বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। জনগণের ওপর একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে কোনো টেকসই অর্থনৈতিক সমাধান তৈরি করা সম্ভব নয়।
জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের পর প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে এক বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকন জানান, বাস মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং নগর বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা হবে।তিনি বলেন, ‘জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে ১ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। সে হিসাবে লিটারে ২০ টাকা বাড়লে কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়বে।’আজ সোমবার বা আগামীকাল মঙ্গলবার সরকার ভাড়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে জানিয়ে আহমেদ খোকন বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে দিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিআরটিএ এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।’ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) চার ধরনের প্রধান জ্বালানি পণ্যের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। ফলে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। গত রাত থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি'র সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কানাডা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও কানাডা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ.কে আজাদ।ভোলা-৪ আসনের সংসদ সংসদ নুরুল ইসলাম নয়নের ন্যাম ভবনের কার্যালয়ে যুবদলের এই দুই নেতার মধ্যে আন্তরিক আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় এ.কে আজাদ কেন্দ্রীয় নেতার সাথে কথা বলতে গিয়ে কানাডা যুবদলের কমিটি গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তার দিক নির্দেশনা গ্রহণ করেন। এ.কে আজাদ সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি সানন্দে সম্মতি প্রকাশ করে দলের প্রবাসী কার্যক্রম বেগবান করার লক্ষে সুবিধাজনক সময়ে কানাডা সফরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বাবা আমাকে রেখে ওপারে চলে গেল, বাবা আমাকে এখন আর বলবে না স্কুলে যাওনা কেনো। শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলায় কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে লাঠির আঘাতে নিহত আনোয়ার ভূঁইয়া (৪২) এর ১৪ বছরের কিশোর সন্তান স্কুল পড়ুয়া মারুফ, বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে, গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন। মারুফ গণমাধ্যমকে বলে, আমার বাবাকে মেরে ফেলল কিন্তু যারা মারল তাদেরকে পুলিশ ধরল না (গ্রেফতার করল না) । যারা আমার বাবাকে মেরেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের মানাখান এলাকায় একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে আনোয়ার ভূঁইয়া (৪২) সহ ২ জন আহত হন । পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুরুতর আহত আনোয়ার ভূঁইয়াকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে আনোয়ারের বোন খালেদা আক্তার (৩২) বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে, হত্যার অভিযোগে স্থানীয় জয়দুল ঢালী (৪৫) সহ ৭ জনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আনোয়ারের স্ত্রী সায়মা বেগমকে গ্রেফতার করে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনোয়ার হোসেন চ্যানেল এস কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, নিহত আনোয়ার ভূঁইয়া ওই এলাকার সেকেন্দার ভূঁইয়ার ছেলে। তার জান্নাত (৯) ও মারুফ ভূইয়া (১৪) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। আনোয়ার কে হত্যার ঘটনায় জয়দুলের স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করা যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আনোয়ারের পরিবার ও স্থানীয়রা আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে থানা সম্মুখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়নি। তবে ঘটনার সময় আসামি জয়দুল ঢালীর লাঠির আঘাতে আনোয়ার গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুলফতগঞ্জে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে স্থানীয় জনতা ক্ষোপের বসে অভিযুক্ত জয়দুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। নিহত আনোয়ারের বোন মামলার বাদী খালেদা আক্তার বিক্ষোভ শেষে চ্যানেল এস কে বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে জয়দুল ঢালী আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করলো। আমার স্বামী রুবেল এই ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায়। জানিনা সে বাচবে কিনা। আমি শুধু হত্যাকারীদের শাস্তি চাই। তিনি জানান, আজ ঘটনার ৫ দিন হতে চলল পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ আসামির পরিবার আমাদেরকে প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। উল্লেখ্য, নিহত আনোয়ারের পরিবার এবং স্থানীয়রা থানা সম্মুখে অন্তত ৩০ মিনিট বিক্ষোভ করেন, বিক্ষোভ শেষে তারা থানার সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন।
প্রচলিত ও অপ্রচলিত বিভিন্ন খেলায় মেয়েদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। এর আওতায় অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সী মেয়েদের রাগবি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে শহীদ রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই সংগঠনের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সহসভাপতি মৌসুম আলী নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে দুই সংগঠনের অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এর মেয়াদ হবে তিন বছর। তৃণমূল ও রাজধানী থেকে আগ্রহী মেয়েদের বিভিন্ন মেয়াদে রাগবি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করবে রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়ন। ফেডারেশন থেকে প্রশিক্ষক, খেলার উপকরণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে এবং ফেডারেশনের হয়ে খেলার জন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করা হবে।বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, সারা বিশ্বে রাগবি একটি জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশেও খেলাটির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নারীদের খেলাধুলায় গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে মেয়েদের জনপ্রিয় ও অপ্রচলিত বিভিন্ন খেলা শেখার সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।
আবারও বাবা হলেন বলিউড তারকা অভিনয়শিল্পী রণবীর সিং আর মা হলেন তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ) তাদের ঘর আলো করে এসেছে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।দীপিকা ও রণবীর যৌথভাবে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায় নবজাতকের পায়ের ছাপ। ছবির সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘ওয়েলকাম বেবি গার্ল! ১৯/৯/২০২৬। দোয়া, দীপিকা অ্যান্ড রণবীর।’এর মধ্য দিয়ে তাদের দুই বছরের মেয়ে দোয়া পেল ছোট বোন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের আগে বেশ কিছুদিন ধরেই দীপিকা ও রণবীরের পরিবারে নতুন অতিথি আসার খবর নিয়ে আলোচনা চলছিল।চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয়বার বাবা-মা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনেন দীপিকা ও রণবীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে দেখা যায়, তাদের মেয়ে দোয়ার হাতে একটি ইতিবাচক গর্ভধারণ পরীক্ষার কিট। তখনই জানানো হয়েছিল, সেপ্টেম্বরেই আসছে তাদের দ্বিতীয় সন্তান। সন্তান জন্মের কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে একসঙ্গে দেখা যায় দীপিকা ও রণবীরকে। ২০২৪ সালে প্রথম সন্তান দোয়ার জন্মের আগেও একই মন্দিরে গিয়েছিলেন তারা। সেবার ৬ সেপ্টেম্বর মন্দিরে যাওয়ার দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছিল দোয়ার।এবারও সেই ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেল। তবে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের খবরটি এবার আর কোনো জল্পনা নয়; দীপিকা ও রণবীর নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন।২০১৮ সালে বিয়ে করেন দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান দোয়ার জন্ম হয়। এবার পরিবারে যুক্ত হলো আরও এক কন্যাসন্তান।দীপিকা পাড়ুকোন
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে রুপালি পর্দার সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে। ছবিটিতে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর খুব শিগগিরই তিনি হয়ে ওঠেন কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
এ প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি। সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের বিপরীতে ‘এই নিয়ে সংসার’ নামের একটি নতুন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ফেরারি ফরহাদের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন শাহ মোহাম্মদ রাকিব।ইতোমধ্যে রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নাটকটিতে প্রথমবারের মতো মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি।নতুন নিয়ে অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি বলেন, 'ফারহান ভাইয়ের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করা। প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ ছিল। তিনি খুবই আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী। নাটকটির গল্পও বেশ চমৎকার, যেখানে সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। চরিত্রটিও আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে কাজটি করে আমি খুবই আনন্দিত। আশা করছি, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে এবং আমাদের কাজটি তাদের মনে জায়গা করে নেবে।'জানা গেছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৬০ প্লাসের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রচারিত হবে।
'জুলাই যোদ্ধাদের ভয় দেখিয়ে বা হামলা করে নিরাপদ হওয়া যাবে না; বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হামলাকারীরাই নিজেদের আরও অনিরাপদ করে তুলছেন ' বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও জুলাই যোদ্ধা আজমেরী হক বাঁধন।সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালি থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ইতালিতে তাকে হেনস্থার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন বাংলাদেশির দ্বারা হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি।ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাঁধনের দাবি, তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।এ সময় বাঁধন বলেন, বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনায় শুধু তিনি নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দলকানা না হয়ে পরিবারের কথা ভাবার আহ্বান জানান।বাঁধন আরও জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে এ ঘটনায় মামলা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কেশকিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দুষ্টু কোকিল খ্যাত টালিউডের সুপারস্টার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের খবর বেশ চাউর হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন অভিনেত্রী। শীতের আবহে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে বসতে পারে বিয়ের আসর।তবে বিয়ের খবরের চেয়েও বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে মিমির কথিত জীবনসঙ্গীকে ঘিরে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁর নাম সিদ্ধার্থ। তিনি চলচ্চিত্রজগতের কেউ নন, নৌবাহিনীতে কর্মরত।এরই মধ্যে সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিমির একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গেছে। পূজার সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডার মধ্যেই ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। ছবিতে দুজনকে হাসিখুশি দেখা গেছে।সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হচ্ছে, পূজার আবহেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন ধাপে এগিয়েছে। এমনকি বিয়ের কেনাকাটা ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।যদিও মিমি চক্রবর্তী কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত বিয়ে বা সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে ডিসেম্বরের বিয়ের খবরটি এখনো গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে।জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে যাদবপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন মিমি।বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এখন দেখার, সত্যিই কি ডিসেম্বরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মিমি, নাকি এই খবর শুধুই জল্পনা।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র যে ভূমিকাতেই তিনি হাজির হয়েছেন নিজের অভিনয়গুণে সেটিকে করে তুলেছেন অনন্য। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি দর্শকের কাছে এটিএম শামসুজ্জামান নামেই পরিচিত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে রেখে গেছেন এমন সব চরিত্র, যেগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়।অভিনেতা শুরু কিন্তু অভিনয় দিয়ে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করে পরে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখা এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার অন্যতম বহুমাত্রিক শিল্পী।চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের পথচলা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রের নানা কাজে যুক্ত হন। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখাতেও ছিল তার দক্ষতা। ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন করে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। এটিএমকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায়। শুরুতে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরে নিজেকে নানা ধরনের চরিত্রে মেলে ধরেন। এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৭৬ সালে। আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। এই সিনেমার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন দর্শকের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু তাঁকে শুধু খলনায়কের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি।এটিএম শামসুজ্জামানের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্র বদলে ফেলার ক্ষমতা। একদিকে যেমন ভয়ংকর বা কঠিন চরিত্রে দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছেন, অন্যদিকে কৌতুক চরিত্রেও হয়েছেন সমান জনপ্রিয়। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’তে তার হাস্যরসাত্মক অভিনয় দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে কৌতুক অভিনয়ের জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বীকৃতি পেয়েছেন।এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে দারুণ সব সিনেমা আর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘গেরিলা’র মতো সিনেমায় তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো সাহিত্যনির্ভর সিনেমায় তার অভিনয় দেখিয়েছে, কমেডি বা খলচরিত্রের বাইরেও কতটা শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন তিনি। নিজেও এক সাক্ষাৎকারে সাহিত্যনির্ভর গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন।অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। ২০১৫ সালে পান একুশে পদক। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননাও দেওয়া হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখা এবং পরিচালনাতেও তাঁর অবদান ছিল। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমা পরিচালনা করেন তিনি। এ টি এম শামসুজ্জামান ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও তাপপ্রবাহসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের পরিবেশ পুনরুদ্ধার, সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে গত ৪৬ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি খাত-সমর্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ চারা বিতরণ কর্মসূচি বনায়ন।১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করা বনায়ন গত সাড়ে চার দশকে সারা দেশে ১৩ কোটিরও বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। এই দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চলতি বছর দেশব্যাপী ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে বনায়নের। দেশের বৃক্ষ ও ভূমির অনুপাত বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের সহনশীলতা ও জলবায়ু মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।বর্তমানে সারা দেশে ১৯টি নার্সারির মাধ্যমে বনায়নের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব নার্সারিতে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়। বনায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ৭০:৩০ প্রজাতি বিন্যাস কৌশল, যেখানে দ্রুতবর্ধনশীল বনজ প্রজাতির পাশাপাশি দেশীয় ও ঔষধি গাছকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। গত ৪৬ বছরে বনায়ন সারা দেশের কৃষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছে। একই সঙ্গে ১১৯টি ঔষধি উদ্ভিদবাগান প্রতিষ্ঠা করেছে কর্মসূচিটি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ঔষধি উদ্ভিদের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিচিতি বাড়ানোর সহায়তা করা হচ্ছে।পরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশে, বিভিন্ন সামাজিক ও জনসমাগমস্থলে এবং পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের সবুজ আচ্ছাদন বাড়িয়ে চলেছে বনায়ন। পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও কাজ করছে কর্মসূচিটি।পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বনায়ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছে। এর মধ্যে পাঁচবার বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার অর্জন অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।বনায়নের মুখপাত্র আহমেদ রায়হান আহসানউল্লাহ বলেন, “বনায়নের ৪৬ বছরের পথচলা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তেমনি এটি আমাদের জন্য একটি চলমান দায়িত্বও। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হওয়ায় বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব এখন সবচেয়ে বেশি। গত ৪৬ বছর ধরে বনায়ন সারা দেশে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করে আসছে। চলতি বছর আমরা দেশব্যাপী ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা করেছি, যা দেশের বৃক্ষ ও ভূমির অনুপাত বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আরও সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে অবদান রাখবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।”
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, ন্যায্য ও ঝুঁকি-সংবেদনশীল অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত ‘লিডিং এসডিজি অ্যাকশন’— শীর্ষক লিডার্স ডায়ালগে তিনি এ আহ্বান জানান।এ সময় ড. তিতুমীর বলেন, ‘আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সম্মিলিত ও ভবিষ্যৎমুখী। আমাদের এমন একটি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা শুধু উন্নয়নে অর্থায়নই করবে না, বরং উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও সৃষ্টি করবে।’বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন তিনি।অগ্রাধিকারগুলো হলো — সংকট মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়াশীল পদ্ধতির পরিবর্তে ঝুঁকি আগাম শনাক্ত ও প্রশমনে সক্ষম আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করা, দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পব্যয়ী ও ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সমন্বয় বাড়ানো এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে নমনীয় সহায়তা ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অব্যাহত রাখা।তিনি বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল সেবা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।সংলাপে আরও অংশ নেন— ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা, বেনিনের অর্থমন্ত্রী আরিস্তিদ মেদেনু ও পানামার সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী বিয়াত্রিস কার্লেস দে আরাঙ্গো।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের শেরউইন ব্রাইস-পিস।
মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সময়ে সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়েছে।মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, আটক হওয়া ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে জেআইএমের নিজস্ব অভিযান থেকে আটক করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজারের বেশি বিদেশিকে দেশের প্রবেশপথগুলোতে আটক করা হয়েছে অথবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে হস্তান্তরের পর আটক করা হয়েছে।লোকমান এফেন্দি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি অভিযান চালানো হয়েছে।সোমবার ভোরে স্থানীয় একটি আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট শ্রী কলামে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। অভিযানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এমকেএন), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং মালয়েশিয়া সিভিল ডিফেন্স ফোর্স (এপিএম)-এর সদস্যরাও অংশ নেন।ফ্ল্যাট শ্রী কলামের অভিযানে মোট ১৩৩ জন বিদেশি নাগরিককে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে প্রধানত নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে পাস বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করার মতো অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে।লোকমান এফেন্দি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু বিদেশি নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বাড়ি বা আবাসিক স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, কোনো নিয়োগকর্তা বৈধ কর্মসংস্থান পাস ছাড়া অবৈধ অভিবাসীকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। একইভাবে অবৈধ অভিবাসীদের কাছে বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।জেআইএমের এই কর্মকর্তা জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২৬০ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন নিয়োগকর্তা বা স্থাপনার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা নজরে এলে সাধারণ মানুষকে নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকমান এফেন্দি।তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সম্ভব হলে ছবি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।লোকমান এফেন্দি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মালয়েশিয়ার জনগণের সচেতনতা ও উদ্বেগকে তারা গুরুত্ব দেন। তবে কোনো ব্যক্তি নিজে আইন প্রয়োগ করতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।তিনি বলেন, “কোনো অনিয়ম দেখলে নিজেরা ব্যবস্থা নেবেন না। বরং পূর্ণাঙ্গ তথ্য, সম্ভব হলে ছবি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করুন। এতে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান দেশটিতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকার চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগকর্তা ও আবাসনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার বিষয়টি জোরদার করা হচ্ছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
গ্লোবাল টেক জায়ান্ট ও বাংলাদেশের এক নম্বর হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড শাওমি, রেডমি নোট ১৭ সিরিজ প্রেজেন্টস ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’-এর মাধ্যমে ঢাকায় মিউজিক্যাল নাইট নিয়ে আসতে যাচ্ছে। শাওমির স্পনসরশিপে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন সঙ্গীত ও বিনোদনকে একত্রিত করে শাওমি ফ্যান ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।রেডমি লাইনআপে তিনটি শক্তিশালী স্মার্টফোন নিয়ে এসেছে রেডমি নোট ১৭ সিরিজ; রেডমি নোট ১৭ প্রো ম্যাক্স ফাইভজি, রেডমি নোট ১৭ প্রো ফাইভজি ও রেডমি নোট ১৭ ফোরজি। এই লাইনআপকে আরও এগিয়ে নিতে, শাওমি ফ্যানদের লাইভ পারফরম্যান্সে ভরপুর এক অবিস্মরণীয় মিউজিক্যাল নাইট উপভোগের সুযোগ করে দিচ্ছে ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’, যা রেডমি নোট ১৭ সিরিজের অদম্য স্পিরিট এবং পারফরম্যান্সকেই তুলে ধরে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে বহুল প্রতীক্ষিত এই মিউজিক্যাল নাইট অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের গেট দুপুর ২টায় খুলবে এবং এই মিউজিক্যাল নাইটে দর্শকরা বাংলাদেশ ও উপমহাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীদের পারফরম্যান্স উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। এ আয়োজনে অংশ নিবেন নগরবাউলের জেমস, রক্সেন ফিচারিং মুস্তাফা জাহিদ, জাল দ্য ব্যান্ড, জুনুন-এর ভয়েস আলী আজমত, নেমেসিস, লেভেল ফাইভ ও শিরোনামহীন; যা দর্শকদের জন্য সঙ্গীতের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।কনসার্টের টিকিট ‘টিকিফাই’ ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাচ্ছে। আয়োজনের অংশ হিসেবে, যে সকল ক্রেতা রেডমি নোট ১৭ সিরিজের যেকোনো ডিভাইস কিনবেন, তারা কনসার্টের ফ্রি টিকিটসহ আরও অনেক আকর্ষণীয় সুবিধা পাবেন; যা শাওমি ফ্যানদের জন্য এই মিউজিক্যাল নাইটকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে। কেবল স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তি, সঙ্গীত ও বিনোদনকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে শাওমি কমিউনিটির জন্য আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’ এর মূল উদ্দেশ্য। ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’-এর মাধ্যমে শাওমি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে প্রযুক্তি, সঙ্গীত ও শাওমি ফ্যান কমিউনিটি একত্রিত হবে এবং রেডমি নোট ১৭ সিরিজের এই যাত্রাকে ডিভাইসের বাইরেও এক অনন্য অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করবে।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।