১১ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার এক লাফে ভরিতে বেড়েছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম রোববার (১ মার্চ) থেকেই কার্যকর হবে।নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা।এর আগে শনিবার সকালেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ওই সময় ভরিতে এক লাফে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৪ টাকা।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। যেখানে ২১ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১২ বার।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। কিছুদিন আগে দেশে নির্বাচন হয়েছে, তার মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষ গত এক যুগের বেশি সময় ধরে অকাতারে জীবন দিয়েছে। অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুনের শিকার হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, এত ত্যাগের বিনিময়ে আজকে যে গণতন্ত্রের যাত্রা নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে, তার সুযোগ পেয়েছি। হাজারও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা বাক ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা অধিকার চর্চার সুযোগ পেয়েছি। তার জন্য প্রথমে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে। তাই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে জনগণ। তাই তাদের কথা মাথায় রাখতে হবে সবার আগে।সরকারপ্রধান বলেন, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে মানুষ তাকিয়ে আছে। আসুন আল্লাহর নামে শপথ করি আমাদের কাজগুলো হবে মানুষের জন্য। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতা, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, ওলামা-মাশায়েখ, কবি সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের নির্বাচিত নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবগত দুজন এবং একজন আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।এদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। তারা সবাই শিক্ষার্থী।স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হামলাটি ঘটে। এতে হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারে তায়্যিবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তু হয়।ঘটনার সময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৭০ ছাত্রী উপস্থিত ছিল। হামলার পর অনেক শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে বলে জানানো হয়েছে। নিহতদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পরিবহন সেক্টরকে বলে দিয়েছি ঈদে ভাড়া বাড়বে না। যারা ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল ও নির্মাণাধীন খানপুর আইসিটি অ্যান্ড বাল্ক টার্মিনাল, ড্রেজার বেইড এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জের নদীবন্দরের মাছঘাট এলাকায় নির্মিতব্য টার্মিনাল ভবন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ হবে। যেসব জায়গায় ব্যত্যয় ঘটতে পারে, যেখানে যানজট তৈরি হয়, সড়কে শৃঙ্খলা থাকে না-সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত করতে চাই এবার সবকিছু সুন্দরভাবে হবে। ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সব সংস্থা স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিতে তৎপর থাকবে।শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের বিষয়ে তিনি বলেন, নদী দূষণের ব্যাপারে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অবগত করব।আমাদের জায়গা থেকেও কিছু করণীয় আছে। সেগুলো চিহ্নিত করে আমাদের পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেব।তিনি আরও বলেন, লাইটার জাহাজে ভোগ্যপণ্য রাখা হয়, বাজারে সংকট করর জন্য। এটা দেখার জন্য এসেছি।লাইটার জাহাজে গম পেয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য খালাস না করে রেখে দেয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হুসাইন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। এ সময় মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার ও হাইমচরের চরভেরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি এ অঞ্চলের বরফ কল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে চাঁদপুরের নিবদ্ধনকৃত ৩৯ হাজার ৪০০ জেলের প্রত্যেককে চার কিস্তিতে ১৬০ কেজি চাল দেবে সরকার। তবে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ধরা পড়লে কমপক্ষে এক বছর থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, জাটকা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরার দুই মাস নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হযেছে। এই দুই মাস জেলেদের ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ সময়ে অসাধু জেলেরা যাতে কোনোভাবেই নদীতে নামতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়। জাটকা রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল দুই মাস জাটকা রক্ষায় আমাদের টহল অব্যাহত থাকবে। সচেতন আছি। আমাদের নৌ সীমানার মধ্যে যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে জাটকা নিধন করে, তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারি বাসভবন 'যমুনা' ছেড়ে গুলশানে নিজের বাড়িতে উঠেছেন।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনি যমুনা ত্যাগ করেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার গাড়িবহরে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিক গাড়ি ছিল। তার গাড়িবহরটি যমুনা থেকে বের হয়ে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের অভিমুখে যাত্রা করে।২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গুলশানের বাসা ছেড়ে সরকারি বাসভবন যমুনায় উঠেন। দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে আবার তিনি গুলশানের নিজের বাসায় উঠছেন।রাজধানীর হেয়ার রোডের ৩০ নম্বরে অবস্থিত যমুনা প্রায় ৩.২৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বাসভবনে ওঠার কথা রয়েছে।
বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মধ্যে নির্বাচনকালীন সম্পর্ক ছিল দা-কুমড়োর মতো। ঢাকা-৮ আসনে দুজনেই প্রচারণার সময় যেমন ছিলেন সরব ও সতর্ক, তেমনি তাদের বাকযুদ্ধ ছিল সারাদেশে আলোচিত। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মির্জা আব্বাসকে প্রায়ই নাকানি চুবানি খাইয়েছেন।আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলেও মির্জা আব্বাসকে খানিকক্ষণ উদ্বিগ্ন করে তোলেন পাটওয়ারী। ইফতারের কিছুক্ষণ আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এগিয়ে যান। কিছুক্ষণ কথা বলেন। অনতিদূরে বসেছিলেন মির্জা আব্বাস। তিনি বারবার লক্ষ্য রাখছিলেন পাটওয়ারী আবার তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো অভিযোগ করেন কি না।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এগিয়ে যান মির্জা আব্বাসের দিকে। মোলাকাত করে বলেন, ‘আব্বাস ভাই! ভয় পাইয়েন না। কিছু বলি নাই।’এরপর সহাস্যে করমর্দন শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজ আসনে বসেন। এ সময় সমবেতদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে।
আসন্ন বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে লাভজনক পদে থেকে কোনো ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সংক্রান্ত নির্দেশনা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে সংস্থাটি।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারি সচিব মো. শহিদুল ইসলামের জারি করা এ সংক্রান্ত পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।এতে বলা হয়েছে, লাভজনক পদ অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ বা সরকারের শতকরা ৫০ ভাগের অধিক শেয়ার রহিয়াছে এরূপ কোনো কোম্পানির কোনো অফিসে সার্বক্ষণিক কোনো পদ বা পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত থাকা ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য হবেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি/স্বায়ত্বশাসিত/আধা-স্বায়ত্বশাসিত ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত অফিস/প্রতিষ্ঠানের বা করপোরেশন অথবা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, কৰ্তৃপক্ষ এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনসমূহে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য পদ্ধতিগতভাবে পদত্যাগ করতে হবে।তফসিল অনুযায়ী, দুই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২ মার্চ। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাছাই ৫ মার্চ। আপিল দায়ের করা যাবে ৬ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১১ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৪ মার্চ। প্রতীক বরাদ্দ ১৫ মার্চ এবং ভোটগ্রহণ ৯ এপ্রিল।
ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্থাপনা ও সামরিক বাহিনী লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত বা বাতিল করেছে বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। ঢাকা থেকেও আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে।এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে আরো বেশ কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফ্লাইট চলাচলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।বিমান বাংলাদেশের জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলাম জানান, চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আর দুবাইতে থাকা একটি ফ্লাইট সেখানে নিরাপদে অবস্থান করছে।এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাউসার মাহমুদ জানিয়েছেন, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, আপাতত ফ্লাইট চলাচল হোল্ড রাখা হয়েছে।এদিকে, বিমানের বিজি৩৪৯ নাম্বার ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে দাম্মাম যাচ্ছিল। সেটি মাঝপথ থেকে ফিরে আসছে বলে জানা গেছে।
তেহরানসহ কয়েকটি শহরে হামলার পর ইসরাইলকে লক্ষ্য করে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান এবং সেগুলো রুখে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরাইলের বিমানবাহিনী।ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের দিক থেকে আসা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তারা চিহ্নিত করেছে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অল্প কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে। সাধারণ জনগণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইসরাইলি বিমানবাহিনী হুমকি প্রতিহত ও প্রয়োজন হলে আঘাত হানার মাধ্যমে হুমকি নিষ্ক্রিয় করার জন্য কাজ করছে।’এতে বলা হয়, ‘প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি নির্ভুল বা অপ্রবেশযোগ্য নয়, তাই জনগণের জন্য হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অব্যাহতভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইরানের বিভিন্ন স্থানে এ হামলা চালানো হয়। শনিবার সকালে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেই সঙ্গে ধোঁয়া উড়তে দেখে গেছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহৌরি এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় বন্ধ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো। এতে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।অনিশ্চয়তায় অনেক যাত্রী ফিরে যাচ্ছেন বিমানবন্দর থেকে। আবার যাদের ফ্লাইট গভীর রাতে, তাদের বিমানবন্দরে যেতে নিষেধ করছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। এই অচলাবস্থা কবে কাটবে তা নিয়ে মিলছে না স্পষ্ট কোনো তথ্য।শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, প্রতিদিন এখান থেকে দেড় শতাধিক ফ্লাইট ওঠানামা করে। এর অধিকাংশের চলাচল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সূচিতে থাকা অন্তত ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রাত ১২টা থেকে আগামীকাল সকাল বা রাত ১২টা পর্যন্ত আরও শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার তালিকায় আছে।এমন অবস্থায় আজ দুপুরের পর থেকে যারা বিমানবন্দরে আসছিলেন তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিশেষ করে যারা বোর্ডিং এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেছেন তাদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করছে। এছাড়া বিমানবন্দরের ক্যানোপিতে হাজারো যাত্রী অপেক্ষা করছেন।আজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ইসরায়েলের পর বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণের পর মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে যাত্রী পরিবহন স্থগিত করেছে বিমান। কিন্তু ঠিক কয়টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে, কখন আবার ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে, যাত্রীদের কোথায় রাখা হয়েছে, তার বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।পরে বিকেলে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরানে ইসরায়েলের হামলার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই, কাতারসহ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে নির্ধারিত কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব অথবা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া, শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব সংক্রান্ত তথ্য যাত্রীদের এসএমএস, ইমেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে অগ্রিমভাবে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের স্টাফদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া ও দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে। পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইট সংক্রান্ত স্পষ্ট ও সমন্বিত তথ্য দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি পরিহার করা যায়।সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্স অফিস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানানো হয়। সেই সঙ্গে বলা হয়, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রী নিরাপত্তা ও অপারেশনাল স্বাভাবিকতা নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করে বেবিচক।এদিকে, শনিবার এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে লন্ডনে গেছেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন। তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আজকের জন্য ভীষণ ভাগ্যবান। এক ঘণ্টা দেরি হলেই দুবাইতে আটকে পড়তাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশ তাদের আাকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি এমিরেটসের যে ফ্লাইটে ছিলাম সেটি দুবাই ছেড়ে আসার কিছুক্ষণ পরই এ ঘটনা। এদিকে ঢাকা এয়ারপোর্টে মধ্যপ্রাচ্যগামী শতশত মানুষ আটকা পড়েছেন। মানুষগুলো কী করবেন সেটাও বুঝতে পারছেন না। যুদ্ধের দামামা যে বেজেছে সেটি তারা জানেন না। জানলেও কিছু করার নেই।’
জামায়াত আমির ও সংসদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা গতানুগতিক কোনো বিরোধীদল হিসেবে সংসদে ফাংশন করতে চান না৷ তিনি বলছেন, জাতীয় সংসদে সরকারি দল যদি সামনের চাকা হিসেবে ভূমিকা রাখে, তবে বিরোধীদল হবে পেছনের চাকা।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব কালো আইন রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।’জনগণের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধীদল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখতে চাই না। আমরা চাই এ সংসদ হোক অর্থবহ এবং জনগণের সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু।’ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদ কখনো এক চাকায় চলে না, এটি সচল রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল, উভয় চাকারই প্রয়োজন। সরকারি দল সামনের চাকা হলে বিরোধী দল হবে পেছনের চাকা। আমরা অতীতের মতো ‘ডামি’ বিরোধী দল হতে চাই না। সরকারের সঠিক পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে, তবে কোনো অসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিলে আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেবো।’তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না সংসদের একটি সেকেন্ডও কারো চরিত্র হননের পেছনে নষ্ট হোক। বরং এটি হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব ‘কালো আইন’ রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।’রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রমজান আমাদের তাকওয়া বা খোদাভীতির শিক্ষা দেয়। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে, তার হাতে কখনো জনগণের আমানতের খেয়ানত হতে পারে না। আমরা যেন এই শিক্ষা ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ধারণ করতে পারি।জামায়াত আমির দলের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
তরুণদের রাজনৈতিক সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কসবা তফাজ্জল আলী কলেজ মাঠে উপজেলা এনসিপির উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। ‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পাওয়া দলটির প্রতীক ‘শাপলা কলি’। নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যুক্ত হয়ে ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলটি কয়েকটি আসনে জয়লাভ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা এনসিপির নেতৃবৃন্দ এবং সঞ্চালনা করেন দলটির ১নং যুগ্ম সমন্বয়কারী তানভীর ইসলাম শাহিন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী এম এ মামুন।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বক্তব্য দেন কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা শিবলী নোমানি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কসবা উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, যুবদল নেতা শহিদুল খাঁ, ছাত্রদল নেতা রাজু আহম্মেদ, কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল হান্নান, উপজেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মো. সবুজ খান জয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা ছাহাব ও হাসান মাহমুদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।বক্তারা বলেন, এনসিপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সাংবাদিক, শিক্ষক, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার, পেশাজীবী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলন ও সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা ছাড়াও গত এক বছরে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ইফতার মাহফিলে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ডিফেন্স ফোর্স এফসির বিপক্ষে ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স করলেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ১৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কাভান সুলিভান। তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফুটবলার।২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুবারু পার্কে রাউন্ড ওয়ান ফাইনালে ৭-০ গোলের জয়ে প্রথমবার সিনিয়র দলের হয়ে জোড়া গোল করলেন এবং দুটি অ্যাসিস্টও রয়েছে তার। দুই লেগে ১২-০ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ফিলাডেলফিয়া। প্রথম গোলে একটি ইতিহাসও গড়েছেন সুলিভান। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান গোলদাতা হয়েছেন তিনি।১২তম মিনিটে স্টাস কোরজেনিওভস্কিকে দিয়ে গোল করান সুলিভান। তারপর বেন বেন্ডারকে দিয়ে ৫৩তম মিনিটে গোল করিয়েছেন। নিজেও দুটি গোল করেছেন ১২ মিনিটের ব্যবধানে। ৭৬ ও ৮৮ মিনিটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন।সুলিভান মায়ের সূত্রে জার্মান-বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত। তার মায়ের নাম হেইকে। সুলিভানের নানী সুলতানা আলম বাংলাদেশি। ১৪ বছর বয়সে ঘরের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির পর থেকে সুলিভানের রেকর্ড গড়া শুরু। গত ১৭ জুলাই ইউনিয়নের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে আমেরিকান ফুটবলে ইতিহাস গড়েন তিনি। এবার ১৬ বছর, চার মাস ও ২৯ দিন বয়সে গোল করে বৃহস্পতিবার আরেকটি ইতিহাসের রচনা করলেন।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে এ অভিযোগ করেন বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যা।রোজের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জামিন পেয়েই তাকে ‘মারধর’ করেন নোবেল। কেন গায়কের বিরুদ্ধে মামলা করলেন বাদী, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নোবেল বাদীকে বাসায় নিয়ে মারধর করতে শুরু করেন।শরীরে মারধরের আঘাত দেখিয়ে রোজ বলেন, ‘মিডিয়ার সামনে মানুষটা যেরকম, মিডিয়ার বাইরে সম্পূর্ণ আলাদা। আমি ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। ও নেশাখোর, কিন্তু নিজেকে ভিকটিম দাবি করে। পরিস্থিতির শিকার দাবি করে।’বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রোজকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা ও প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেফতার হন কণ্ঠশিল্পী নোবেল। ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বটতলা এলাকা থেকে ডেমরা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রেম, অভিমান, নাটকীয়তা আর নৃশংসতার সংমিশ্রণে বিশেষ নাটক ‘প্রেমাতাল’ নির্মাণ করেছেন হাসিব হোসাইন রাখি। এবারের ঈদে সিএমভি’র বিশেষ এই নির্মাণ শুধু প্রেমের নয়, বরং এক অনন্ত অপেক্ষার।গল্পের মূল চরিত্র নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা এবং সদ্যবিবাহিত স্ত্রী এক অনিশ্চিত সময়ের মুখোমুখি হন। প্রিয় মানুষটি বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, সেটিও তাদের জানা নেই। এমন এক হৃদয়স্পর্শী প্রেক্ষাপটে সাজানো হয়েছে । নাটকটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব ও নাজনীন নীহা। নির্মাতা হাসিব হোসাইন রাখি পরিচালিত এই নাটকটির শুটিং সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এর চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন সুমন হোসাইন।নাটকটির গল্প নিয়ে নির্মাতা রাখি জানিয়েছেন, এটি একই সাথে এক মায়ের ছেলের জন্য এবং এক স্ত্রীর স্বামীর জন্য অপেক্ষার গল্প। এই অপেক্ষার আবহে মিশে আছে অনেক গভীর আবেগ ও নাটকীয়তা। প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু নাটকটি নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জানান, বর্তমান সময়ে এমন গভীর গল্পের চিত্রনাট্য পাওয়া বেশ কঠিন। তাই ‘প্রেমাতাল’ হতে যাচ্ছে এই ঈদে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আসন্ন ঈদে সিএমভি’র অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি মুক্তি পাবে।
দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের পর অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন দক্ষিণী তারকা রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। রাজস্থানের উদয়পুরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় শুরু হয় দুই তারকার বিয়ের রজকীয় আয়োজন।ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো খবররে বলা হয়েছে, তেলুগু রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা বিয়েতে বসেন রাশমিকা ও বিজয়। এই বিশেষ আয়োজনে রাশমিকার পরেন ঐতিহ্যবাহী কোডাভা স্টাইলের শাড়ি।জানা গেছে, কোডাভা প্রথা অনুযায়ী শাড়ির ভাঁজ থাকে পেছনের দিকে, যা কুর্গ অঞ্চলের নারীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। এই পোশাক নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নিজের শেকড় ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অভিনেত্রী।এর আগে সকালে তেলুগু রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা দম্পতি। তেলুগু বিয়েতে রাশমিকার পোশাক ছিল অত্যন্ত নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী।শোনা যাচ্ছে, তার বিবাহের পোশাকে ছিল মহরৎ ও দামী সিল্ক শাড়ির বিশেষ সমাহার, যা পুরো বিয়ের আয়োজনকে দিয়েছে রাজকীয় আবহ।বিকেল ৫টার শুরু হওয়া কোডাভা বিবাহানুষ্ঠানটি এক থেকে দুই ঘণ্টা ধরে চলে বলে জানা গেছে। সকালে তেলুগু রীতি এবং সন্ধ্যায় কোডাভা প্রথা—দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনে উদয়পুরে সম্পন্ন হলো রাশমিকা ও বিজয়ের বহুল আলোচিত বিয়ে। সূত্র: এনডিটিভি
বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি অসুস্থ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল এই নন্দিত পরিচালকের ৬৩তম জন্মদিন। কিন্তু আনন্দের সেই ক্ষণ কাটতে না কাটতেই ভক্তদের জন্য এলো দুঃসংবাদ। জন্মদিনের পার্টি চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাকে।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে নিজের জন্মদিনের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে থাকাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন বনশালি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত তাকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার খবর ছড়িয়ে পড়লে বলিপাড়াসহ ভক্তমহলে উদ্বেগ দেখা দেয়।এদিকে বনশালির অসুস্থতা নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেললে মুখ খোলে তার পরিবার। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সঞ্জয় লীলা বনশালি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাকে রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ জন্মদিনের পার্টিতে বনশালি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে পরিচালকের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, হাসপাতালে ভর্তির খবরটি একেবারেই ভিত্তিহীন এবং বনশালি এখন নিজের বাড়িতেই বিশ্রাম নিচ্ছেন।
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সম্প্রতি লাগেজে মদের বোতল পাওয়ার অভিযোগে বেশ আলোচনায় এসেছেন । তবে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান নানা বিষয়ে তাকে টার্গেট করে ইচ্ছে করে মানহানির চেষ্টা চলছে। মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ এবং তার মানহানির চেষ্টা করায় আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ফেসবুকে মেহজাবীন লেখেন, ‘সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।' তার দাবি, উল্লিখিত কোনো ঘটনায় তাকে কখনোই বিমানবন্দরে আটকানো হয়নি। এমনকি তার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও জব্দ করা হয়নি। তার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।মেহজাবীন বলেন, যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা তার লাগেজ থেকে অবৈধ কিছু উদ্ধার হয়েছে—এমন কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে কিনা।পোস্টে তিনি লেখেন, বর্তমানে মানহানি যেন খুব স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার অভিযোগ, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ক্লিকবেইট তৈরির উদ্দেশ্যে তার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের আগস্টে বিদেশ থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার সময় মেহজাবীন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছিল। সেখানে তার লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে নির্মাতা ও প্রযোজক স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সে ভিডিও। অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা গেছে পুলিশকে। যা নেটিজেনরা ভালোভাবে নেননি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়াও। অভিযান চলাকালে এক কিশোরকে সপাটে চড় মারেন এক পুলিশ সদস্য। ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। তার-ই এক স্ক্রিনশট শেয়ার দিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শবনম ফারিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলার যে অবস্থা, অবশ্যই সার্চ করবেন, জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এইটা আপনাদের কাজ। কিন্তু গায়ে হাত তুলবেন কেন? এইযে হুদাই ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে আপনাদের ওপর মানুষের বিশ্বাস কিংবা সম্মান নষ্ট হয়ে যায়!’ অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমরা আপনাদের সন্মান করতে চাই, বিশ্বাস করতে চাই আপনারা সত্যিই আমাদের সেবায় নিয়োজিত। আমরা চাই আপনারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কিন্তু দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি সন্মান ও করতে হবে।’
১১ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার এক লাফে ভরিতে বেড়েছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম রোববার (১ মার্চ) থেকেই কার্যকর হবে।নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা।এর আগে শনিবার সকালেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ওই সময় ভরিতে এক লাফে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৪ টাকা।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। যেখানে ২১ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১২ বার।
সৌদি আরবে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে সিকদার (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দিবাগত রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।হারুন সিকদার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি রহমত আলী সিকদারের নতুন বাড়ির মো. নাগু মিয়ার ছেলে। ছয় ভাই ও সাত বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝ। তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু রয়েছে।পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২ ডিসেম্বর ছুটিতে দেশে আসেন হারুন। এক মাস পাঁচ দিনের ছুটি শেষে ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরেন। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।স্বজনেরা জানান, ভবনের একটি চতুর্মুখী সিঁড়িতে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান হারুন। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি মেডিকেল কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।হারুনের ছোট ভাই মো. সিফাত বলেন, আমার বোনের জামাই সেখানে তার সঙ্গে আছেন। কবে নাগাদ মরদেহ দেশে আনা যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নই। মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মালেক বলেন, ঘটনাটি শুনে খুব মর্মাহত হয়েছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহ দেশে আনা ও দাফন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান মসজিদ। এখানে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ আদায়-ই করেন না। বরং অনেক জায়গায় এই মসজিদ ধর্মীয় ও আধ্যাত্নিকতার জ্ঞান অর্জনের চর্চা কেন্দ্র। দেশে দেশ পবিত্র মসজিদগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী নানা স্থাপত্যের হয়ে থাকে। যার অপূর্ব স্থাপত্যে আর শৈল্পিকরুপ বিশ্বের পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। মসজিদের আকর্ষণীয় সিলিং, দেয়ালের মার্বেল পাথর, অসধারণ কারুকাজ করা মিনার ইসলামিক কারুশিল্প এবং শৈল্পিকতাকে উপস্থাপন করে। এরকম কিছু সুন্দর মসজিদের বর্ণনা দেওয়া হলো-আল-হারাম মসজিদ, সৌদি আরবআল-হারাম মসজিদ সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত। আল হারাম শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদই নয়, এটিকে পবিত্রতম স্থান হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ৪,০০,৮০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মসজিদ। লক্ষ লক্ষ লোক হজ এবং ওমরাহ পালনের জন্য আল-হারাম মসজিদ পরিদর্শন করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ হিসাবে স্থান পেয়েছে। মোট ৪ মিলিয়ন মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে এই মসজিদে।শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আবুধাবিসংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই মসজিদ অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম হস্তনির্মিত কার্পেট এই মসজিদে রয়েছে। একটি ১২ টন ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে যা দেখতে অনেক পর্যটক চলে আসে। ৮২টি সাদা মার্বেল গম্বুজ, ১,০৬৯ টি বাহ্যিক কলাম, ৯৬ টি অর্ধমূল্য রত্ন-ঢাকা অভ্যন্তরীণ কলাম, সাতটি ২৪ ক্যারেট সোনার ধাতুপট্টাবৃত স্বরোভস্কি ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে। মসজিদের দেয়ালে ক্যালিগ্রাফিক লেখা রয়েছে যা মুসলমানদের ধৈর্য বজায় রাখতে এবং শান্তি ছড়িয়ে দিতে উত্সাহিত করে।হাগিয়া সোফিয়া মসজিদ, তুরস্ক হাগিয়া সোফিয়া মসজিদটি শুধুমাত্র অতুলনীয় সৌন্দর্যের জন্যই নয় বরং এর তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাসের জন্য বিশ্বের সকল মুসলমানদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় স্থান। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদগুলির মধ্যে একটি এই মসজিদ। এই পবিত্র স্থানটি বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের একটি জীবন্ত উদাহরণ। এটি মূলত একটি খ্রিস্টান গির্জা হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। তবে অটোমান শাসনামলে এটি একটি মসজিদে রূপান্তরিত হয়। হাগিয়া সোফিয়া মসজিদে মুসলিম সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত আরবি ভাষায় দীর্ঘ মিনার এবং শিলালিপি রয়েছে। যেখানে সুন্দর মোজাইকগুলি খ্রিস্টানদের অতীতের কথা বলে।নাসির-আল-মুলক মসজিদ, ইরাননাসির আল-মুলক মসজিদ তার অসম্ভাব্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য বিখ্যাত। মসজিদটি প্রচুর গোলাপী টাইলস দিয়ে সজ্জিত। তাই এটি ‘গোলাপী মসজিদ’ নামেও পরিচিত। ১৯ শতকে এটি কাজার রাজবংশের মির্জা হাসান আলী নাসিরের আদেশে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটির চত্বরে একটি সুন্দর আয়তাকার পুল রয়েছে। যার চারপাশে ফুলের গাছপালা ঘেরা। মসজিদটি রঙিন কাচ দিয়ে ঘেরা। যার ফলে ভোরবেলা সূর্য ওঠার সাথে সাথে এক ধরনের আলোর খেলা শুরু হয়।ইসলামিক সেন্টার মসজিদ, ক্রোয়েশিয়াএই মসজিদটি সমসাময়িক ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পকলার একটি সুন্দর সমন্বয়। বাঁকা জ্যামিতিক আকৃতি এবং নিদর্শন সমন্বিত নকশায় গড়ে তোলা হয়েছে মসজিদটি। মসজিদটিতে একটি অনন্য শৈলীযুক্ত গম্বুজ রয়েছে। যা পাঁচটি পৃথক অংশে বিভক্ত। ইসলামিক সেন্টার মসজিদটি সুপরিচিত ক্রোয়েশিয়ান ভাস্কর, দুসান জামোনজা দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।লিড মসজিদ : আলবেনিয়ার সাকোদার নগরীতে এই মসজিদটি অবস্থিত। হুই মসজিদ : চীনের নিংজিয়ায় এই মসজিদটি রয়েছে। চীনের বিভিন্ন প্রদেশের মুসলমানরা এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন।সেন্ট পিটার্সবুগ মসজিদ : রাশিয়ার পিটার্সবুর্গে এই মসজিদটি রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম সৌন্দর্য মণ্ডিত মসজিদ।আল নিদা মসজিদ : এই মসজিদটি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত।সানসাইন মসজিদ : অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদটির গায়ে সূর্যের আলো পরলে চকচক করে।কুলশারিফ মসজিদ : রাশিয়ার কাজানে এই মসজিদটি রয়েছে। রাশিয়া ভ্রমণে গেলে প্রতিটি মুসলমানই চেষ্টা করেন এই মসজিদটি ঘুরে আসতে।বাদশাহী মসজিদ : পাকিস্থানের সবচেয়ে ঐতিহ্য মণ্ডিত এই মসজিদটি সে দেশের গর্বের প্রতীক। গ্রিন লেন মসজিদ : ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রতিটি মুসলমান এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন।
মিসিং ডে। এটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপন নয়, এটি হারানো বন্ধুত্ব ও ফেলে আসা সোনালি দিন। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও এটি। ফেব্রুয়ারি মাস মানে কেবলই গোলাপ, চকলেট আর ভালোবাসার দিন নয়; এর ঠিক উল্টো পিঠে থাকে ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’। এ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মিসিং ডে। দিনটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপনের জন্য নয়; বরং হারানো বন্ধুত্ব, ফেলে আসা সোনালি দিন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও বটে।আমাদের জীবনের যান্ত্রিকতায় আমরা অনেক সময়ই ছোটবেলার বন্ধু, স্কুল-কলেজের সহপাঠী বা আত্মীয়দের থেকে অনেক দূরে সরে যাই। জীবনের প্রয়োজনে ব্যস্ততা বাড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যস্ততার কারণে যখন প্রিয় মানুষগুলো থেকে আমরা দূরে সরে যাই, তখন আমাদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জনের অভাব অনুভব করে তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করলে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমে। বিশেষ করে যাঁরা কোনো টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন বা কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই দিন হতে পারে নতুন করে পুরোনো সম্পর্কগুলো ফিরে পাওয়ার সুযোগ।হারানো বন্ধুদের খুঁজে বের করা, স্কুল বা কলেজের যে প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, তাকে অন্তত একবার এদিনে কল করা। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে পুরোনো সেই আড্ডার কথা ভাগ করলে মনের জমানো অস্থিরতাগুলো নিমেষেই মুছে যায়। এটি মনে করিয়ে দেয় এখনো এমন মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে।শৈশব মানেই নির্ভেজাল আনন্দ। সেই দিনগুলোর কথা একা একা ভাবার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। শৈশবের সেই হারানো হাসিগুলোই হতে পারে আপনার আজকের ক্লান্তি দূর করার টনিক। যদি সম্ভব হয়, বন্ধুদের নিয়ে আবার এক ছাদের নিচে আড্ডা দিন। এতে আবেগ ও অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বিনিময় ঘটবে। এক কাপ চা বা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে করলে দিনটি আপনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহুরে একঘেয়েমি দূর করতে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো পিকনিক বা প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। খোলা আকাশ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে। এটি কেবল আনন্দই দেয় না, বরং হারানো সম্পর্কগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করে।আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে থাকলে সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে না থেকে বরং তাদের কথা ভাবুন, যারা অতীতে নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে ছিল। মিসিং ডেতে সেসব মানুষদের গুরুত্ব দিন, যারা সত্যিই আপনার ভালো চায়। অতীতের ভুল মানুষকে ভুলে যাওয়ার সেরা উপায় হলো বর্তমানের সঠিক মানুষদের আঁকড়ে ধরা।দূরত্বের কারণে দেখা করা সম্ভব না হলে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিন। একটি সুন্দর দীর্ঘ মেসেজ বা পুরোনো কোনো ছবি পাঠিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে জানান, আপনি তাকে এখনো মনে করছেন। আপনার একটি ছোট মেসেজ হয়তো হারানো কোনো সম্পর্কের দরজা আবারও খুলে দিতে পারে।স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া কিংবা ক্লাস পালানোর দিনগুলোর কথা মনে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের কোনো গ্রুপে বা নির্দিষ্ট বন্ধুকে ট্যাগ করে সেই সময়ের কোনো মজার ঘটনা শেয়ার করুন। দেখবেন, অনেক ভালো লাগবে।যারা জীবনের কঠিন সময়ে আপনার হাত ধরেছিল, আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আমাদের জীবনে এমন অনেকেই থাকে, যাদের অবদান আমরা মুখ ফুটে বলতে পারি না। আজ তাদের একটি ধন্যবাদসূচক বার্তা পাঠিয়ে দিন। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার ও আপনার বন্ধুদের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: মিডিয়াম, উইকিহাউ ও অন্যান্য
বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে বরকতময় মাস রমজান। এটি শুধু উপবাসের মাস নয়; আত্মিক পরিশুদ্ধি, ত্যাগের মহিমা ও সহমর্মিতার অনন্য শিক্ষায় ভরা এক মহিমান্বিত সময়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এই সাধনা মুমিনের জীবনে আনে প্রশান্তি, সংযম ও আত্মশুদ্ধির বার্তা।আত্মিক পরিশুদ্ধির আহ্বানরমজান মানেই এক পবিত্র আবহ। ভোরের সেহরি থেকে রাতের তারাবিহ—প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের সৌরভে ভরপুর। এ মাসে মানুষ কুপ্রবৃত্তি দমন করে ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার চর্চা করে। রোজা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা নয়; এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক বিশেষ অনুশীলন। এই এক মাসের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক শিক্ষাই যেন বছরের বাকি সময়ের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে।ইফতারের আমেজ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনদিনভর সিয়াম সাধনার পর সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, ঘরে ঘরে শুরু হয় ইফতারের প্রস্তুতি। মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, খেজুর ও শরবতের সুগন্ধে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তবে ইফতারের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের চর্চা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষারমজান আমাদের শেখায় ক্ষুধার প্রকৃত অর্থ। যারা সারা বছর অভাব-অনটনের সঙ্গে সংগ্রাম করে, তাদের কষ্ট উপলব্ধির সুযোগ এনে দেয় এই মাস। তাই রমজানে দান-সদকা ও জাকাত প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মুখে হাসি ফোটানো—এসবের মধ্য দিয়েই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য প্রতিফলিত হয়।বদলে যাওয়া নাগরিক জীবনরমজানে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দেও আসে পরিবর্তন। অফিস-আদালতের সময়সূচি সামঞ্জস্য করা হয়, বাজারে বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা। বিশেষ করে শেষ দশকে ঈদের আনন্দঘন আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের হৃদয়ে থাকে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা।রমজান ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত। শান্তি, রহমত ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের কাছে ফিরে আসে এই মহিমান্বিত মাস। রমজানের সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হয়, তবে গড়ে উঠবে কলুষমুক্ত, সুন্দর এক সমাজ। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমাদের জীবন—এই হোক মাহে রমজানের অঙ্গীকার।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব প্রতিক্রিয়া জানান।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশু তাহিয়াকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারীবাগে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও প্রশাসনের শৈথিল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিশু তাহিয়া হত্যাকাণ্ডকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা কারা করছে এবং মামলা তুলে নিতে পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমন এবং অপরাধীদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংস্কৃতি হতে পারে না। ইনসাফের প্রশ্নে আপসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দেশের সকল মজলুম মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।