জ্বালানি তেল নিয়ে সুসংবাদ দিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানালেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে প্যানিক না হওয়ার আহ্বানও জানান মন্ত্রী।সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন টুকু। ঈদের কারণে গত দুই দিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।গ্রাহকদের প্যানিক না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, ‘ভর্তুকি দিয়েও গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে। সবাই তেল পাবে। তাই জনগণকে প্যানিক বা আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সবাই তেল পাবে।’এদিকে প্রয়োজনে পাম্পকেন্দ্রিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।তিনি বলেন, তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর যে পাঁয়তারা ছিল, সেটিও সরকার সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। ঈদের আগে যে শঙ্কা ছিল, সেখান থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পেরেছি।’অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানও বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, ‘পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে আমরা প্রশ্রয় দেব না।’এছাড়া যারা যানবাহন চালাচ্ছেন, তাদের তেল নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরের রানওয়েতে এয়ার কানাডার একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে দমকল বাহিনীর একটি গাড়ির সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটিতে থাকা দুজন আহত হয়েছেন।স্থানীয় সময় রোববার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় প্লেনের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে।প্লেনটি মন্ট্রিয়াল থেকে আসছিল। এতে ৭২ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। প্লেনটি মন্ট্রিয়ালের মন্ট্রিয়াল-ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত সাড়ে ১০টার কিছু পর উড্ডয়ন করে প্রায় এক ঘণ্টা পরে নিউইয়র্কে পৌঁছায়। সংঘর্ষের ঠিক আগে বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ মাইল বলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গেছে।ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরে ‘গ্রাউন্ড স্টপ’ জারি করে এবং সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।দুর্ঘটনার আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অডিওতে দেখা যায়, একটি অপারেশন ট্রাককে রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কয়েক সেকেন্ড পরই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ট্রাকটিকে থামেতে জরুরি নির্দেশ দেওয়া। এরপরই সংঘর্ষের কথা জানা যায়।যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেইফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, তারা এ ঘটনায় তদন্ত দল পাঠাচ্ছে। দুর্ঘটনার আগেই খারাপ আবহাওয়া, হালকা বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে ফ্লাইট বিঘ্নের সতর্কতা দিয়েছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।সূত্র: সিএনএন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থায় স্বাধীনতা দিবস ঘিরে সব ধরনের আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহে কোনো অবস্থাতেই ২৫ মার্চ রাতে আলোকসজ্জা করা যাবে না।এছাড়া এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।তিনি গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালালে পারস্য উপসাগরজুড়ে নৌ-মাইন স্থাপনের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ কার্যকরভাবে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো বন্ধ করে দিতে পারে।ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ বলেছে, ‘শত্রুপক্ষ’ যদি ইরানের উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো চেষ্টা করে, তবে তার জবাবে পুরো উপসাগর জুড়ে প্রবেশপথ ও যোগাযোগ লাইনে মাইন পাতা হবে।এতে বলা হয়, এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নৌ-মাইন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার মধ্যে উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ভাসমান মাইনও রয়েছে।বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, এমন পরিস্থিতিতে সমগ্র পারস্য উপসাগর দীর্ঘ সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালীর মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে, যার ফলে সামুদ্রিক পথগুলো কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এমন পরিণতির দায় হামলাকারী পক্ষের ওপর বর্তাবে বলে এতে বলা হয়। পরিষদ আরও বলেছে যে, ‘সংঘাতে অংশগ্রহণকারী নয় এমন’ দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী নিরাপদে অতিক্রম করার একমাত্র উপায় হবে ‘ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে।’ এদিকে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুসারে, এর পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা পরিষদ সতর্ক করেছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে যেকোনো হামলার জবাবে সমুদ্রে মাইন পাতা হবে, যা উপসাগরীয় নৌপথ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালানোর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যাতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনকারী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু
‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আজ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সেখানে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।সোমবার (২৩ মার্চ) এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে আরও বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ প্রত্যুষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ স্মৃতিসৌধ ত্যাগ না করা পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধের পবিত্রতা ও সার্বিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে তথ্যবিবরণীতে।
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের ৩০-৩৫ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগান দিয়ে ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়েছে।সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঈশ্বরদীর রেলগেট থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গোটা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে যান ব্যবসায়ীরা। শহরে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।দুপক্ষের উত্তেজিত কর্মীরা দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। বিএনপির এক পক্ষের কার্যালয়ে থাকা চেয়ার ও আসবাবও ভাঙচুর করা হয়েছে। আহতরা হলেন, সদ্য সমাপ্ত হওয়া সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের নিবার্চন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, ছাত্রনেতা নুরে আলম শ্যামল, লিটন, জাকারিয়া, আলমগীর, নাজমুল, নাসির, চঞ্চল, নান্টু, সেন্টু, আশরাফুজ্জামান, কামরুল ইসলাম প্রমুখ। এরা সবাই হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মী।আর জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের মনোয়ার, রাজিব, অন্তর, কবির, পলাশ, আক্তার, শরিফ, শিহাব, ফজলু, জুয়েলসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। এরা সবাই স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল ও ছাত্রদল কর্মী।ঈশ্বরদী উপজেলা ও পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত নুরে আলম শ্যামলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।থানা ও স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে চাঁদরাতে হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষের পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কায়েস সুমন ও নুরে আলম শ্যামলের সঙ্গে চলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একদলকর্মী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুলের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারীদের কয়েকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কায়েস সুমন লোকজন দিয়ে নিজের কার্যালয় ভাঙচুর করান। এই বিষয়ে জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানকে দোষারোপ করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।একই সঙ্গে হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষের যুবদল নেতা জোবায়ের হোসেন ওরফে বাপ্পি বিভিন্ন লোকজনকে ম্যানেজ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাকারিয়া পিন্টু, তার ছোট ভাই জুয়েল, সোনা মনি ও মেহেদী হাসানকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে বিষোদগার করে আসছেন। এর প্রতিবাদে আজ সকালে জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে শহরের রেলগেট থেকে একটি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে তারা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের বিরুদ্ধে করা অপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। সূত্রগুলোর মতে, জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল এবং সংবাদ সম্মেলন করায় হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মীরা পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। হাবিবের পক্ষে জোবায়ের হোসেন বাপ্পির আর্থিক সহযোগিতায় বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলের ব্যানারে জাকারিয়া পিন্টু, তার ভাই জুয়েল, সোনা মনি ও মেহেদীকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করা হয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলন শেষ করে মেহেদী হাসান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন। পথে উভয় গ্রুপ রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি হয়ে যায়। এ সময় হাবিব গ্রুপের পক্ষ থেকে জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মেহেদী হাসানকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, স্থানীয় বিএনপির বিবদমান দুটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল হওয়ায় সংঘর্ষ এড়াতে হাবিব গ্রুপের মিছিলটিকে থানার সামনের ইউটান ঘুরে পোস্ট অফিস মোড়ে চলে যেতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে এবং তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে রেলগেটে গেলে পিন্টু গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। উভয় গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অন্তত ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের নিবার্চন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ অভিযোগ করে বলেন, পুলিশি পাহারায় জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে তাদের মিছিলে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, ঈদের আগে চাঁদরাতে তাদের পক্ষের আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে হাবিব গ্রুপ। সে এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এ কারণে আব্দুলের পক্ষের লোকজন হামলাকারীদের কয়েকজনের বাড়ি ভাঙচুর করেছেন। মেহেদীর দাবি, ঘটনার সময় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বাড়ি ফেরার পথে হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের লোকজন বিক্ষোভ মিছিল থেকে তাকে লক্ষ্য করে হত্যার উদ্দেশে গুলি বর্ষণ করে। এতে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাক্তার তাসনিম তামান্না স্বর্ণা জানান, ইট ও পাথরের আঘাতে আহত হয়ে অন্তত ১৮-২০ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। এদের মধ্যে নুরে আলম শ্যামল নামে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে শহরের বিশেষ বিশেষ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শহরে সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যদেরও টহলে রাখা হয়েছে।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোসহ তিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৩ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২৫ ও ২৬ মার্চ দুই দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ২৫ মার্চ বিকাল ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেবেন।এছাড়া ২৬ মার্চ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সর্বস্তরে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।একই দিন সকালে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করবেন।
কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দুই গেইটম্যানকে আসামি করে মামলা হয়েছে।সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে লাকসাম রেলওয়ে থানায় গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে আসামি করে মামলা করেন আহত বাস যাত্রী শেফালী আক্তার।মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীমউদ্দীন।তিনি জানান, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ‘দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু, ৩০৪ ধারার (ক)’ আইনে মামলা হয়েছে।এর আগে, গত রোববার রাতে কুমিল্লা পদুয়ার বাজারে বাস-ট্রেন মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ হারান ১২ জন। আহত হন ১০ জন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রেলক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করায় দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন।
জুলাই যোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও জাতীয় বীর; তাই এসব বীরদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েই আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি ২৩ মার্চ সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নায়েবে আমীর ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য জামাল উদ্দিন, উত্তরা পশ্চিম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, তুরাগ মধ্য থানা নায়েবে আমীর কামরুল হাসান, উত্তরা পশ্চিম থানা সেক্রেটারি ফিরোজ আলম, উত্তরা পশ্চিম থানার কর্মপরিষদ সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সাবেক সভাপতি তারিক হাসান প্রমূখ।মতবিনিময়কালে মহানগরী আমীর শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের সাথে একান্তে কথা বলেন। তিনি তাদের সমস্যার কথা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সেসব সমস্যা সাধ্যমত সমাধানের আশ^াস দেন। পরি তিনি আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন। সেলিম উদ্দিন বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা দীর্ঘ পরিসরে দেশ ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছিলো। ২০০৮ সালে মাফিয়াতন্ত্রীরা সাজানো ও সমঝোতার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করার জন্য জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল দেশকে ভয়াবহ নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছিলো। রাষ্ট্রের সকল সেক্টরকে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণ করে প্রায় ১৬ বছর চালানো হয়েছিলো অপশাসন-দুঃশাসন। তবে জুলাই যোদ্ধারা সে অবস্থা থেকে জাতিকে উদ্ধার করে দ্বিতীয়বারের মত স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু এতে ঝরে গিয়েছিলো প্রায় ২ হাজার তরতাজা প্রাণ। হাজার হাজার তরুণরা আহত হয়ে পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করেছিলেন। তিনি জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সাথে আহতদের প্রতিও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জামায়াত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে এসেছে। আমরা প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে কমপক্ষে ২ লাখ টাকা আর্থিক দিয়েছি। ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশীও দেওয়া হয়েছে। আহতদের সুচিকিৎসার জন্য সাধ্যমত সহযোগিতা করা হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। আমরাই প্রথম শহীদদের তালিকা তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী সহ গ্রন্থাকারে বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করে তাদের আত্মত্যাগ ও বীরত্মগাঁথার কথা বিশে^র নানা ভাষাভাষীর কাছে তুলে ধরেছি। জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি আমাদের এমন ইতিবাচক পদক্ষেপ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে-ইনশাআল্লাহ। তিনি জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে জুলাই সনদের পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকার সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।
চাঁদপুর জেলায় প্রায় সাতাশ লাখ মানুষের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় বিভিন্ন উৎসব ও অবসর সময়ে লোকজন ছুটে আসে তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। এখানে এসে সময় কাটাতে পেরে আনন্দিত সব বয়সী লোকজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জেলার বাহির এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ গণপরিবহনে, আবার অনেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে এসেছেন ঘুরতে।নদীর মোহনায় প্রাকৃতিক পরিবেশে এই স্থানটির দৃশ্য সকালে একরকম, দুপুরে আরেকরকম। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। তবে রাতে বেশি সময় থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও জোস্না রাতে আরেক সৌন্দর্য অবতরণ হয়। প্রিয়জনদের নিয়ে নৌকা করে রাতের বেলায় ডাকাতিয়া নদীতে ঘুরতে পারলে ভালো সময় কাটানো যেতে পারে। মোহনার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট বড় ট্রলার ও স্পিড বোট।এসব ট্রলার আর স্পিড বোট দিয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশে মিনি কক্সবাজার নামক স্থানে ঘুরে আসা যায়। তবে বিকেল ৫টার মধ্যে আবার মোহনায় চলে আসতে হয়। আসা-যাওয়া ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ১শ টাকা। স্পিডবোটে জনপ্রতি ভাড়া কমপক্ষে ৩শ টাকা। এখানে এলে মাইকে ঘোষণা শোনা যাবে ট্রলারে যাওয়ার জন্য।
‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আজ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সেখানে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।সোমবার (২৩ মার্চ) এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে আরও বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ প্রত্যুষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ স্মৃতিসৌধ ত্যাগ না করা পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধের পবিত্রতা ও সার্বিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে তথ্যবিবরণীতে।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোসহ তিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৩ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২৫ ও ২৬ মার্চ দুই দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ২৫ মার্চ বিকাল ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেবেন।এছাড়া ২৬ মার্চ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সর্বস্তরে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।একই দিন সকালে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করবেন।
সাভারের আলোচিত ও কুখ্যাত ‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট ওরফে সবুজ শেখ মারা গেছেন।সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হার্ট স্ট্রোকজনিত কারণে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়।সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দুপুর দুইটার দিকে সাভার থানা রোডের পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে নতুন করে সামনে আসে সম্রাটের নির্মম অপরাধের চিত্র। এর আগে একই ভবন থেকে আরও তিনটি মরদেহ এবং সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ দেখতে পায়, সম্রাট নিজ কাঁধে করে মরদেহ নিচতলা থেকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাচ্ছে, যা পুরো ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।এর আগে একটি ভিডিওতে তাকে এক নারীর সঙ্গে ওই পরিত্যক্ত ভবনে দেখা যায়; পরে নিশ্চিত হয়, সেই নারীকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট। তদন্তে নেমে পুলিশ তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে গ্রেপ্তার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে সিরিয়াল অনুযায়ী ছয়টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। পরদিন ১৯ জানুয়ারি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আদালত তা গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠান। সে-ই থেকে সে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিল। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মোছামান্দা গ্রাম। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তার মৃত্যুর খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সর্বশেষ হত্যার পর পুড়িয়ে দেয়া লাশ তানিয়ার পরিবার।২০১৪ সালে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নে প্রথম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে অপরাধজগতে তার প্রবেশ করা এই সাইকো সম্রাটের বিরুদ্ধে সাতটি হত্যা মামলা ও দুইটি মাদক মামলা বিচারাধীন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটির আবহ চলছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) এসেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন হয়েছে। বোর্ডের মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হলেন মোখছেদুল কামাল বাবু।তিনি একই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে বিসিবির ওয়েলফেয়ার কমিটির দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির নেতৃত্বে আসলেন তিনি।অন্যদিকে, গত বছরের অক্টোবর থেকে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আমজাদ হোসেন। রোববার সন্ধ্যায় তাকে সরিয়ে মোখছেদুল কামাল বাবুকে এই পদে বসানো হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আমজাদ হোসেনকে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।এদিকে, এতদিন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্বে থাকা হাবিবুল বাশার সুমন নতুন করে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে সহকারী নির্বাচক হিসেবে যুক্ত হতে পারেন নাঈম ইসলাম।উল্লেখ্য, ঈদের আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় পায় বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচের পর বিদায় নেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপু, যদিও চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। একই সময়ে নতুন নির্বাচক নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে বোর্ড।
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুটি হয়ে আসছেন চিত্রনায়ক এবিএম সুমন ও চিত্রনায়িকা সাদিয়া জাহান প্রভা। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ঝুমুর আসমা জুঁই পরিচালিত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা "দুই পয়সার মানুষ"-এ দেখা যাবে তাদের। দ্রোহ আর প্রেমকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে এ সিনেমা।সিনেমায় দেখা যায়, বাবার মৃত্যুর পর এলাকার প্রভাবশালী এক বড় ভাইয়ের নজরে পরে যায় সুমন। বিল্লাহ, যার অপর নাম ত্রাস। কি করে না সে? মেয়ে পাচার, টেন্ডারবাজি, চোরাকারবারি, মার্ডার। সুমন এক সময় জড়িয়ে যায় অপরাধ জগতের সাথে। বিল্লাহর ছোটো ভাইয়ের রক্ত অনেক পছন্দ, লাল লাল রক্ত। সুমন তার চোখের কা়ঁটা। দুজনের মধ্যে চলে নিরব লড়াই। সব কিছুই বাইরে সুমনের জীবনে এক টুকরো শান্তির তার প্রেমিকা। মিষ্টি মেয়ে যার চোখে দুষ্ট হাসি। দুজনে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। হঠাৎ আসে কালবৈশাখী মতো এক ঝড়। সব কিছু তছনছ করে দিয়ে যায়। কি করবে সুমন? পালিয়ে যাবে নাকি লড়বে। এভাবে উত্তেজনা নিয়ে ঝড়ের বেগে ছুটে চলে সিনেমাটি। ইতোমধ্যে সিনেমার শুটিং শেষ পযায়ে আছে বলে জানিয়েছেন সিনেমার পরিচালক ঝুমুর আসমা জুঁই। চলতি বছরে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার আশা করছেন নির্মাতা। প্রভা ও সুমন জুটির অ্যাকশন আর প্রেমের রসায়ন দর্শক খুব উপভোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন পরিচালক। তিনি আশা করেন দর্শক একটা ভালো সিনেমা হলে গিয়ে দেখবে। প্রভা ও সুমন ছাড়াও এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, সমু চৌধুরী, রামিজ রাজু, মিলি বাশার, আনোয়ার শাহী, সুমন পারভেজসহ অনেকে।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কার্টুন ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা মারা গেছেন। গত ৬ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বুধবার (১৮ মার্চ) তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘এশিয়া দো’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক সংবাদটি প্রকাশ করেছে। সুতোমুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে অ্যানিমেশন জগতে।মিন্ট নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন সুতোমু। এ পরিচালককে জাপানের অ্যানিমেশন শিল্পে অন্যতম পথপ্রদর্শক মনে করা হয়। ক্যারিয়ারে ‘ডোরেমন’-এর পরিচালনা ছাড়াও সিরিয়াল ও সিনেমা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।সুতোমু শিবায়ামা ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ‘ডোরেমন’ টিভি সিরিজের প্রধান পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, ডোরেমনের জনপ্রিয় ২২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও তার হাত ধরে তৈরি হয়েছে। নোবিতা, শিজুকা ও ডোরেমন চরিত্রগুলোকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে প্রিয় করে তোলার পেছনে তার অবদান অনবদ্য।সুতোমু ১৯৬৩ সালে একটি খ্যাতনামা আনিমেশন প্রতিষ্ঠানে তার কর্মজীবন শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বহু জনপ্রিয় অ্যানিমেশন উপহার দেন এবং একপর্যায়ে নিজেই স্টুডিও গড়ে তোলেন।অ্যানিমেশন শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা পান এ নির্মাতা। তার মৃত্যুতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল, ভক্ত ও শুভাকাঙক্ষীরা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রিয় ছোটবেলার কারিগরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। জাপানি অ্যানিমেশন জগতের এই নক্ষত্রের প্রয়াণকে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেকড়ের টানে ঘরমুখো মানুষের অনুভূতি তুলে ধরেই নিজের নতুন মৌলিক গান ‘ফেরা’ নিয়ে হাজির হয়েছেন সংগীতশিল্পী নাবিলা নূর কুহু। গানটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ মার্চ তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, স্পটিফাই ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে।গানের কথা লিখেছেন কুহু নিজেই। সংগীতায়োজন করেছেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক অটমনাল মুন, যিনি ব্লুজ ও জ্যাজের অনুপ্রেরণা দিয়ে গানটিতে স্বতন্ত্র একটি আবহ তৈরি করেছেন।ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন মীর হিশাম। সাধারণ ভিডিওর বাইরে গিয়ে স্কেচ অ্যানিমেশনের মাধ্যমে গানটির আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।কুহু বলেন, ‘‘‘ফেরা’-তে ঘর ছেড়ে দূরে থাকা মানুষের নস্টালজিয়া ও দীর্ঘদিন পর নিজের ঘরে ফেরার অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে সেই আবেগ দোলাবে।’’শিল্পী হিসেবে কুহু শৈশব থেকেই সংগীতচর্চায় যুক্ত। তিনি ছায়ানট থেকে নজরুলগীতিতে পুরস্কার অর্জন করেছেন, শুদ্ধসংগীত তালিম নিয়েছেন অনুপ বডুয়ার কাছে, এবং দীর্ঘদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন।শিল্পীর উল্লেখযোগ্য মৌলিক কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বেহাগের এই রাত’, ‘দ্য সং অফ এ রোডট্রিপ’, ‘শহুরে মায়া’, ‘ছায়াহরিণের ডাক’ ও ‘শূন্যতায় জীবন’। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের গান দিয়ে শ্রোতাদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের জন্য এই নতুন গানটি দোলা এবং আনন্দ ছড়াবে—তাই প্রত্যাশা কুহুর।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব আয়োজন করেছে ২ দিনব্যাপী প্রথম ‘কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব’। ১টি প্রামাণ্যচিত্র এবং ৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এই উৎসবে।উৎসবের পর্দা উঠবে ২৭ মার্চ বিকাল ৫টায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। পরে প্রদর্শিত হবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’, অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘জলরঙ’ এবং বড়ুয়া সুনন্দা কাঁকন পরিচালিত ‘ডট’।২৮ মার্চ উৎসবের সমাপনী দিনে দর্শকরা দেখতে পাবেন সবুজ খান পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বেহুলা দরদী’, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘ময়নার চর’ এবং তানভীর হাসান পরিচালিত ‘মধ্যবিত্ত’ প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্দা নামবে ১ম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবের।কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম জানান, ‘মুঠোফোনের ক্ষুদ্র স্ক্রিনে সিনেমা দেখার এই যুগে বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্রুপদী ও আধুনিক গল্পগুলোকে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’আয়োজকরা জানান, কক্সবাজার লাবণী বিচ পয়েন্টে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেখানো হবে ৩টি ছবি, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬-এর মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল এস। সহযোগিতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজন করেছে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা “সেরাদের সেরা সিজন–৬”। বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।গান, অভিনয় ও আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায় অতিক্রম করে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগী বাছাই করা হয়।নির্বাচিত প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে রমজান মাসজুড়ে দেশের স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ৯–এ বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। প্রতিদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত প্রচারিত এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় আরজে টুটুল এবং টেলিভিশন পর্ব পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহিল কাফী।‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এইচ এম আবু মুসা এবং সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। এছাড়া আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেন আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, হাদিউজ্জামান বুলবুল, মিনার উদ্দিন, তানভির আহমেদ শিবলী, আহমদ শরীফ, হুজ্জাতুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহাদিউজ্জামান, ইব্রাহিম আলী ও আবু বকরসহ সংশ্লিষ্টরা।প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়—ক গ্রুপ: ১ম থেকে ৮ম শ্রেণিখ গ্রুপ: ৯ম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে সসাস-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবারের আসরে বিজয়ীদের মাঝে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন পান ১ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাস-এর মতে, “সংস্কৃতি কোনো বিলাস নয়—সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।” ‘সেরাদের সেরা’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিভা, নৈতিকতা ও শুদ্ধ শিল্পচর্চার সমন্বয় ঘটছে। আয়োজকদের আশা, এই মঞ্চ থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের সেই প্রতিভাবান মুখগুলো, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এবারের ঈদে মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সিনেমাটিকে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনের অনুমতি দেয়। মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এখন মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছে। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমাটির স্থিতিকাল ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানা। সোমবার রাতে সামাজিক আমধ্যমে সার্টিফিকেট প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোর্তিময়ীসহ আরও অনেকে।এদিকে প্রিন্স ছাড়াও মুক্তি মিছিলে থাকা আরও চার সিনেমা ছাড়পত্র পেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মঈনউদ্দীন গত সোমবার সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেগুলো হচ্ছে- ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও প্রেশার কুকার। প্রতিটি সিনেমাই ভিন্ন ভিন্ন ধারার হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্সর সার্টিফিকেশন পাওয়ার মাধ্যমে সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের হাতে নেই উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে। সামনে নতুর বাজেট ও আসছে। ভবিষ্যত চ্যালেজ্ঞ মোকাবেলায় সবাইকে সংযমী হওয়ার আহবান আহবান জানিয়েছেন তিনি।রোববার সকালে নগরীর মেহেদীবাগ নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী।এ সময় তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও সরকার দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখা, ভাড়া বৃদ্ধি না করা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হলেও সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে।এর ফলে ঈদযাত্রায় কোথাও জ্বালানির সংকটে পরিবহন বন্ধ হয়নি এবং ভাড়াও বাড়েনি। চেষ্টা করছি এটা ধরে রাখার।’তিনি আরও জানান, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে গার্মেন্টস খাতে বেতন-ভাতা আগাম নিশ্চিত করায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়নি, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বড় পরিবর্তন। সরকার জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে—ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড চালু, কৃষকদের হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ এবং ইমাম-মোয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।পাশাপাশি তিনি দেশের মানুষকে সংযম, সহযোগিতা ও সহানুভূতির মাধ্যমে চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের হাতে নেই, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে৷ এখনও পর্যন্ত সরকার যুদ্ধের চাপ জনগনের উপর পড়তে দেয়নি, তবে ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবাইকে সংযমী হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ভিন্ন ভিন্ন উৎস বের করেছে। আলাদা উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ কার্যক্রম এখনও চলমান আছে। ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়। এবারের ঈদে জ্বালানি নিয়ে সাধারণের উপর কোন চাপ পড়েনি। সবাই মুক্ত ভাবে ঈদ উদযাপন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জার্মানিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল (শুক্রবার)। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম এই উৎসবকে ঘিরে দেশটির প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।রাজধানী বার্লিনসহ জার্মানির প্রায় সব বড় শহরেই প্রবাসীদের উদ্যোগে বড় বড় ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের তিনটি স্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মাবিন মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে– সকাল সাড়ে ৭টায় জার্মান খুতবা ও বাংলা খুতবাসহ প্রথম জামাত, দ্বিতীয় ও তৃতীয় জামাত যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৮টা এবং সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।এই শহরের প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে সেন্ট্রাল ট্রেন স্টেশন সংলগ্ন মুনশেনার স্রাসেতে একটি স্থায়ী মসজিদ ক্রয়ের চেষ্টা চলমান রয়েছে; সেখানে সকাল ৭টায় জার্মান এবং সাড়ে ৮টায় বাংলা খুতবাসহ দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রবাসীদের উদ্যোগে সালবাও বরনহাইম অডিটোরিয়ামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়।পার্শ্ববর্তী ওফেনবাখ শহরের ‘আইনহাইট ডেস ইসলামে’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। মাইঞ্জ শহরের তাকওয়া মসজিদে ঈদের জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টা এবং সকাল সাড়ে ৮টায়।রাজধানী বার্লিনসহ জার্মানির সব বড় শহরেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে ঈদুল ফিতরের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলায় প্রায় সাতাশ লাখ মানুষের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় বিভিন্ন উৎসব ও অবসর সময়ে লোকজন ছুটে আসে তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। এখানে এসে সময় কাটাতে পেরে আনন্দিত সব বয়সী লোকজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জেলার বাহির এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ গণপরিবহনে, আবার অনেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে এসেছেন ঘুরতে।নদীর মোহনায় প্রাকৃতিক পরিবেশে এই স্থানটির দৃশ্য সকালে একরকম, দুপুরে আরেকরকম। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। তবে রাতে বেশি সময় থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও জোস্না রাতে আরেক সৌন্দর্য অবতরণ হয়। প্রিয়জনদের নিয়ে নৌকা করে রাতের বেলায় ডাকাতিয়া নদীতে ঘুরতে পারলে ভালো সময় কাটানো যেতে পারে। মোহনার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট বড় ট্রলার ও স্পিড বোট।এসব ট্রলার আর স্পিড বোট দিয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশে মিনি কক্সবাজার নামক স্থানে ঘুরে আসা যায়। তবে বিকেল ৫টার মধ্যে আবার মোহনায় চলে আসতে হয়। আসা-যাওয়া ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ১শ টাকা। স্পিডবোটে জনপ্রতি ভাড়া কমপক্ষে ৩শ টাকা। এখানে এলে মাইকে ঘোষণা শোনা যাবে ট্রলারে যাওয়ার জন্য।
বাংলার আকাশে সেদিন উৎসবের রং নয়, ছড়িয়ে ছিল বারুদের ধোঁয়া। শহরের বাতাসে সেমাইয়ের গন্ধের চেয়ে বেশি ভেসে বেড়াচ্ছিল লাশের গন্ধ। ঢাকার রাস্তায় ছিলনা ঈদের নামাজের ঢল, ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। এই শহর যেন সেদিন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। কোথাও কোথাও ঈদের নামাজের জন্য মানুষ জড়ো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই ভিড়ে ছিল না উৎসবের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস। অনেকের চোখে ছিল ক্লান্তি, অনেকের মুখে ছিল গভীর চিন্তার ছাপ। সেবার ঈদে বহু ঘরের পুরুষ মানুষ ঘরেই ছিলনা। কেউ যুদ্ধের ময়দানে, কেউ বন্দী, কেউ বা নিখোঁজ। কত পরিবার জানেই না তাদের প্রিয়জন বেঁচে আছেন কি না। ঈদের সকালে তাই অনেক মায়েরা দরজার দিকে তাকিয়ে ছিলেন, হয়তো আজই হঠাৎ ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া ছেলে। এদিকে দেশের ভেতরে যুদ্ধ চললেও দেশের বাইরে তখন ছিল আরেক ভিন্ন বাস্তবতা। লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিল ভারতের সীমান্তবর্তী শরণার্থী।অনেক শরণার্থী শিবিরে মানুষ খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ পড়েছিল। কারও গায়ে পুরোনো কাপড়, কারও পায়ে জুতা নেই। কিন্তু নামাজ শেষে যখন দোয়ার সময় এলো, হাজারো হাত একসাথে উঠেছিল, একটি মাত্র প্রার্থনায়। তা হল ‘বাংলাদেশের জন্ম।‘‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইতে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ২০ নভেম্বর ১৯৭১ তারিখে ডায়েরিতে বেদনামাখা কথাগুলো লিখেছেন।তিনি আরও লেখেন, ঈদের দিনেও যুদ্ধ থেমে থাকেনি। দেশের বিভিন্ন সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধারা তখনও লড়াই করে যাচ্ছেন। উত্তরের সীমান্ত অঞ্চলে পাটগ্রাম সাব-সেক্টরে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান-এর নেতৃত্বে সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা বোরখাতা এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর একটি শক্ত ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালান। কুমিল্লার রাজনগর এলাকাতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে দুই সৈন্যকে হত্যা করে এবং কয়েকজন রাজাকারকে বন্দী করে। ঈদের দিন রাতে যশোরে গরীবপুর গ্রাম দখল করে নেওয়া হয়, এবং পরদিন পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালায়। এই সংঘর্ষ পরে ইতিহাসে পরিচিত হয় ‘ব্যাটেল অব গরীবপুর’ নামে। ইতিহাসও যেন সেই প্রতিজ্ঞার জবাব দিতে দেরি করেনি। ঈদের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সূর্যোদয় দেখেছিল।১৯৭১ সালের নভেম্বরে মানুষ কেঁদেছে, কিন্তু বিজয়ের স্বপ্নও দেখেছে। এরকম এক মিশ্র অনুভূতির সময় হাজির হয়েছে ঈদ। কেমন ছিলো আমাদের সে সময়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মুসলিমদের ঈদ? অজানা অধ্যায় নিয়ে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখি- “আজ ঈদ। ঈদের কোন আয়োজন নেই আমাদের বাসায়। কারো জামাকাপড় কেনা হয়নি। দরজা-জানালার পর্দা কাচা হয়নি। ঘরের ঝুল ঝাড়া হয়নি। বাসায় ঘরের টেবিলে রাখা হয়নি আতরদান। শরীফ, জামী ঈদের নামাজও পড়তে যায়নি। কিন্তু, আমি ভোরে উঠে ঈদের সেমাই, জর্দা রেঁধেছি। যদি রুমীর সহযোদ্ধা কেউ আজ আসে এ বাড়িতে? বাবা-মা-ভাই-বোন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন কোন গেরিলা যদি রাতের অন্ধকারে আসে এ বাড়িতে? তাদেরকে খাওয়ানোর জন্য আমি রেঁধেছি পোলাও কোর্মা, কোপ্তা কাবাব। তারা কেউ এলে আমি চুপিচুপি নিজের হাতে বেড়ে খাওয়াবো। তাদের জামায় লাগিয়ে দেবার জন্য একশিশি আতরও আমি কিনে লুকিয়ে রেখেছি।”মুক্তিযুদ্ধে ঈদ পালন করেননি মুক্তিযোদ্ধারা বরং দেশ স্বাধীন করে ‘বিজয়ের ঈদ-উৎসব’ পালনের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ১৯৭১ সালে ঈদুল ফিতর ছিলো ২০ নভেম্বর। দিনটি ছিলো শনিবার। সারাদেশে চলছে সশস্ত্র যুদ্ধ। সমগ্র জাতিই তখন যুদ্ধে শামিল। এরকম ঈদ মনে হয় জাতির জীবনে আর কখনো আসেনি। আতঙ্ক, দেশ স্বাধীন করার সংকল্প, শরণার্থী শিবিরে অনিশ্চিত জীবন– এসব কিছু ঘিরেছিলো প্রতিটি মানুষের মন। রণাঙ্গনে ঈদের দিনেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধ সশস্ত্র সংগ্রাম চলছিলো। সারাদেশে খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ এবং শহীদ হওয়ার ঘটনা ঘটছিলো। ভুরুঙ্গামারীতে শহীদ হয়েছিলেন বীর উত্তম আশফাকুস সামাদ।ঈদের আগের দিন কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘জয়বাংলা’র ২৮তম সংখ্যা। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বাণী বক্স আইটেমে। বাণীতে উল্লেখ করেন, “আমাদের দেশে এবার ঈদ এসেছে অত্যন্ত মর্মান্তিক পরিবেশে। ঈদের যে আনন্দ আজ আমরা হারিয়েছি, তা আমাদের জীবনে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে সেদিনই যেদিন আমরা দেশকে শত্রুমুক্ত করব। যথাসর্বস্ব পণ করে যে স্বাধীনতা সংগ্রামে আমরা লিপ্ত, তার চূড়ান্ত সাফল্যের দিনটি নিকটতর হয়ে এসেছে। সেই মুহূর্তটিকে এগিয়ে আনার সংগ্রামে আমরা সকলে যেন নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের নিয়োগ করতে পারি এই ঈদে তাই হোক আমাদের প্রার্থনা।”তবে কলকাতায় ঈদের নামাজ হয়েছিলো। প্রবাসী সরকারের উদ্যোগে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতার থিয়েটার রোডে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় প্রাঙ্গণে ঈদ নামাজের আয়োজন করা হয়েছিলো। নামাজে অংশ নিয়েছিলেন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এম কামরুজ্জামান, প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, বিমানবাহিনী প্রধান এ কে খন্দকার, অধ্যাপক ইউসুফ আলী প্রমুখ।ঈদের দিনে রাতে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশে প্রবেশ করার অভিজ্ঞতাও হয়েছিলো। সেসময়ে রণাঙ্গনের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের ‘একাত্তরের রণাঙ্গন: অকথিত কিছু কথা’ গ্রন্থে মুজিবনগর সরকারের ঈদ উদযাপনের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। সে গ্রন্থে রয়েছে-ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতির উদ্দেশ্যে বাণী দেন। এটি প্রচার করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। ‘জয়বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২৬ নভেম্বরে। বাণীতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বলেন- “পবিত্র রমজান মাসেও হানাদার বাহিনীর বর্বরতায় বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু নির্বিশেষে অসংখ্য নরনারী নিহত হচ্ছে। গত বছর আমরা বারোই নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে নিহত দশ লাখ মানুষের শোকে মুহ্যমান অবস্থায় ঈদ পালন করতে পারিনি। এবারও আমরা ইয়াহিয়ার সৈন্যদের বর্বরতায় নিহত দশ লাখ ভাইবোনের বিয়োগ বেদনা বুকে নিয়ে ঈদের জামাতে শামিল হয়েছি। কিন্তু দুঃখ-কষ্ট যাই হোক, ত্যাগের মন্ত্রে আমরা উদ্বুদ্ধ এবং যেকোনো ত্যাগের মূল্যে স্বাধীনতার ঘোষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে বদ্ধপরিকর। দেশকে শত্রুর কবল থেকে মুক্তি করার পর মাত্রই ঈদুল ফতেহ বা বিজয়ের ঈদ উৎসব পালন করবো এবং সেদিন খুব দূরে নয়, এই প্রতিশ্রুতি আমি আপনাদের দিতে পারি।”ঈদের আগের দিন ১৯ নভেম্বর ‘এই ঈদে আমাদের প্রার্থনা হোক’ শিরোনামে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের বাণী প্রকাশ করে ‘জয়বাংলা’ পত্রিকা। প্রধানমন্ত্রী বলেন- “আমাদের দেশে এবার ঈদ এসেছে অত্যন্ত মর্মান্তিক পরিবেশে। দখলীকৃত এলাকায় শত্রুসৈন্যের তাণ্ডব চলছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে বিচ্যুত হয়ে শরণার্থী হয়েছেন, মুক্ত এলাকায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য, রক্তের বিনিময়ে মানুষ মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম করছে। এবার ঈদে আনন্দ মুছে গেছে আমাদের জীবন থেকে, আছে শুধু স্বজন হারানোর শোক, দুর্জয় সংগ্রামের প্রতিজ্ঞা ও আত্মত্যাগের প্রবল সংকল্প।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের জনসাধারণকে ঈদ উপলক্ষে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ঈদের যে আনন্দ আজ আমরা হারিয়েছি, তা আমাদের জীবনে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে সেদিনই, যেদিন আমরা দেশকে সম্পূর্ণরূপে শত্রুমুক্ত করব। আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, যথাসর্বস্ব পণ করে যে স্বাধীনতা সংগ্রামে আমরা লিপ্ত, তার চূড়ান্ত সাফল্যের দিনটি নিকটতর হয়ে এসেছে। সেই মুহূর্তটিকে এগিয়ে আনার সংগ্রামে আমরা সকলে যেন নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের নিয়োগ করতে পারি, এই ঈদে তাই হোক আমাদের প্রার্থনা।”অবরুদ্ধ ঢাকায় ঈদের সময় অবস্থান করছিলেন শিল্পী হাশেম খান। ‘২০ নভেম্বর ১৯৭১’ শিরোনামে একটি লেখায় সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আজ ঈদ। আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। কিন্তু, কী আনন্দ করবো এবার আমরা? নতুন জামা কাপড় বা পোশাক কেনা-কাটার আগ্রহ নেই! শিশু-কিশোরদের কোনো আবদার নেই, চাওয়া-পাওয়া নেই। বাড়িতে বাড়িতে কি পোলাও কোরমা ফিরনী সেমাই রান্না হবে? আমার বাড়িতে তো এসবের কোনো আয়োজন হয়নি। প্রতিটি বাঙালির বাড়িতে এরকমই তো অবস্থা।”জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার ‘আমার একাত্তর’ গ্রন্থে লিখেন: ‘‘ঈদের কদিন আগে তাজউদ্দীন আমাকে ডেকে পাঠালেন। স্বভাবতই বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলো। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ-সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি কিছুটা ধারণা দিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, বঙ্গবন্ধুর বিচারের ফল যাই হোক, বিশ্বজনমতের কারণেই, পাকিস্তানিরা তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধ যে চূড়ান্ত লক্ষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে সে-বিষয়ে তাঁর সন্দেহ ছিল না।কথাবার্তার শেষে উঠে গিয়ে ঘরের মধ্যে রাখা আয়রন শেলফ থেকে একটা খাম বের করে তিনি আমার হাতে দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘কী এটা?’ তিনি বললেন ‘সামনে ঈদ, তাই।’ খামে পাঁচশ টাকা ছিল- তখন আমার এক মাসের মাইনের সমান। আমি নিতে চাইলাম না। তিনি বললেন: ‘ঈদে আপনার বাচ্চাদের তো আমি উপহার দিতে পারি, নাকি।’ কথাটা বলতে গিয়ে তিনি নিজেই ভাবাবেগপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন, আমিও খুব অভিভূত হয়ে কিছু আর বলতে পারিনি।’’‘চরমপত্র’ খ্যাত সাংবাদিক এমআর আখতার মুকুল, তার স্মৃতিচারণে বলেন, “আমরা যখন থিয়েটার রোডে পৌঁছালাম তখন কেবলমাত্র নামাজ শেষ হয়েছে। তাই প্রায় সবার সঙ্গে কোলাকুলি করলাম। এরপর সবার অশ্রুভেজা কণ্ঠে কেবল রণাঙ্গন ও ঢাকার আলাপ। প্রতি মুহূর্তে উপলব্ধি করলাম, দৈহিকভাবে আমরা মুজিবনগরে থাকলেও আমাদের মন-প্রাণ সবই পড়ে রয়েছে দখলীকৃত বাংলাদেশে। আর সেখানকার সব মানুষ তাকিয়ে আছে আমাদের সাফল্যের দিকে। বাঙালি জাতির এ রকম একাত্মতাবোধ আর দেখিনি।”সাহিত্যিক আবু জাফর সামসুদ্দীন, ৭১ এর ঢাকায় ঈদের বর্ণনায় লিখেন, “ঈদের দিন শনিবার। যুদ্ধকালে কোন জামাত জায়েজ নয়। নামাজে যাইনি। কনিষ্ঠ পুত্র কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে সকাল ৯টায় ছিদ্দিক বাজারের উদ্দেশ্যে বেরোলাম। রিকশায় চড়ে দেখি সড়ক জনমানবশূন্য। টেলিভিশন অফিসে যেতে রিকশা ফিরিয়ে দিল। ট্রাকে ট্রাকে টহল ও পাহারায়ও মিলিটারি — যাওয়ার সময় দেখলাম বায়তুল মোকাররম মসজিদে মিলিটারি পাহারায় ঈদ জামাত হচ্ছে– আমার জীবনে এই প্রথম ঈদের জামাতে শরিক হইনি।”জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ মহিলা সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠন। ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির একটি আবেদনপত্রে প্রবাসীদের ফেতরা টাকা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়। আবেদনপত্রটি ছিলো নিম্নরূপ-BANGLADESH WOMEN’S ASSICIATION IN GREAT BRATAIN103, Ledbury Road, London, W. IITelephone: 01 727 6578Ref: 2/R.Date: 16 November, 1971সুধী,পবিত্র ঈদ সমাগমে প্রতিটি দেশপ্রাণ বাঙালির মন স্বভাবতই ভারাক্রান্ত। দেশ ও জাতি আজ ঘোরতর দুর্যোগের সম্মুখীন। ইয়াহিয়ার নীতি ও ধর্মজ্ঞান বিবর্জিত নৃশংস সেনাবাহিনীর অত্যাচারে জর্জরিত। অত্যাচারী এজিদ বাহিনী বাঙালি জাতির নাম পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর। দেশের এই সংকটে আমাদের একমাত্র ভরসাস্থল মরণজয়ী জেহাদেরত মুক্তিবাহিনী ভাইরা। বাংলা ও বাঙালিকে তারা বাঁচাবেই- প্রয়োজন হলে তাঁদের জীবনের বিনিময়ে। আমাদের ঈদ ব্যর্থ হবে যদি এই পবিত্র দিনে তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য ভুলে যাই।তাই যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ মহিলা সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের ফেতরার পয়সা সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীর কাপড়-চোপড় ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস খরিদ করার জন্য পাঠিয়ে দেবে। এ ব্যাপারে আমরা অনুরোধ করছি আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা।আসুন ভাই ও বোনেরা, এবারের ফেতরার পয়সা মুক্তিবাহিনীর নামে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির কাছে পাঠিয়ে দিয়ে জিহাদে শরিক হই। দানের দ্বারা দেশের প্রতি আপনার গুরুদায়িত্বের ভার কিছুটা লাঘব করুন। আপনার ঈদ সার্থক ও পবিত্রতর হোক।জয় বাংলা।নিবেদিকামিসেস বখশরণাঙ্গনের যোদ্ধাদের প্রেরণা যোগানোর জন্য স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০ নভেম্বর ঈদে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এতে আলোচিত ও আলোড়িত ছিল ‘চাঁদ তুমি ফিরে যাও/ দেখো মানুষের খুনে খুনে রক্তিম বাংলা/ রূপসী আঁচল কোথায় রাখবো বলো” শীর্ষক গানটি। গানটির কথা লিখেছেন শহীদুল ইসলাম, সুর করেছেন অজিত রায়, শিল্পী রূপা ফরহাদসহ আরও অনেকেই গানটি কোরাসে গেয়েছিলেন।
পাহাড় আর সমুদ্রঘেরা পেরুর রাজধানী লিমা। যেখানে রমজানের প্রকাশ্য ঘোষণা, মাইকে আজানের সুমধুর ধ্বনি কিছুই নেই। তবে ১১ কোটি মানুষের এই কর্মব্যস্ত শহরে ট্রাফিক আর ব্যবসার চিরচেনা ছন্দে রমজান যেন এক শান্ত নীরবতা বয়ে যায়। এই খ্রিষ্টানপ্রধান দেশটিতে কয়েক দশক ধরে টিকে আছে একনিষ্ঠ এক মুসলিম জনপদ, যাদের কাছে প্রতিটি রমজান হলো ধৈর্যের এক কঠিন পরীক্ষা।পেরুর মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে মুসলিমরা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। সরকারি হিসব অনুযায়ী মাত্র ২ হাজার ৬০০ জন মুসলিম বসবাস করেন এখানে। এই ছোট্ট জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার মানুষের বাস রাজধানী লিমায়। বাকি ৬০০ জন থাকেন চিলির সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে।লিমার ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন’ মসজিদের ইমাম আহমেদ মোহাম্মদ (৩৬) বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বা মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে রমজানে চারপাশ থেকে যে মানসিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন পাওয়া যায়, এখানে তা নেই। এখানে মানুষ নিজের মতো জীবন চালায়, অফিস-আদালত সব স্বাভাবিক থাকে। তাই আমাদের জন্য এটি ঈমানের এক বড় পরীক্ষা।প্রশান্ত মহাসাগরের কোলঘেঁষা একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদে ইফতারের সময় নেমে আসে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি। শুধু মুসলিম নন, মসজিদে ভিড় করেন কৌতূহলী প্রতিবেশীরাও। ইমামের মতে, ইসলামের অন্যতম শিক্ষা হলো মানুষের সেবা করা এবং খাবার ভাগ করে নেওয়া।ইফতারের দস্তরখানে খেজুর ও শরবতের পাশাপাশি থাকে পেরুর ঐতিহ্যবাহী ‘এসকাবেচে’ (সিরকা ও পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করা মুরগির ঝাল পদ)। এখানে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিসর, ভেনেজুয়েলা এবং পেরুর স্থানীয় মুসলিমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইফতার করেন। শুধু তাই নয়, রমজান মাসে লিমা ও এর আশপাশের প্রায় ২ হাজার দরিদ্র মুসলিম ও অমুসলিম পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করে এই মসজিদ কর্তৃপক্ষ।১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি এক সময় এক ফিলিস্তিনি পরিবারের মালিকানাধীন ছিল। মজার তথ্য হলো, পেরুতে ১৯ শতকের শেষের দিকে আরব অভিবাসীদের মাধ্যমে ইসলাম এলেও বর্তমানের মুসলিমদের প্রায় ৯৯ শতাংশই জন্মসূত্রে পেরুভিয়ান। তারা নিজেদের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন।তেমনই একজন আবু বকর। আমাজন অঞ্চলের উকায়ালি থেকে আসা এই যুবক ১৫ বছর আগে একদল পাকিস্তানি মুসলিমের সংস্পর্শে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, বিশাল ক্যাথলিক জনসমুদ্রের মাঝে আমাদের অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখা হয়। কিন্তু ইসলাম আমাদের জীবনে যে পরিবর্তন এনেছে, তা আমাদের শান্তি দেয়।পাকিস্তানের ফরিদ নাসিম ১৯৮০-এর দশকে ইনকা সভ্যতার টানে পেরুতে এসেছিলেন। তার মতে, পেরুর মানুষ মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে খুব একটা জানে না, তাই রমজান নিয়ে তাদের প্রচুর কৌতূহল। ইমাম আহমেদ মোহাম্মদের ভাষায়, ইসলামে বর্ণ, ভাষা বা সীমান্ত কোনো বাধা নয়। এখানে সবাই সমান এবং আমরা সবাই মিলে এই দেশের মঙ্গল কামনায় ঐক্যবদ্ধ।সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সারা দেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফারের ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো, যাতে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গ্রাহকরা অপো স্মার্টফোন ক্রয়ের সময় এক্সক্লুসিভ অফার উপভোগ করতে পারবেন, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একেবারে নতুন অপো এ৬এস প্রো।উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে অপো গ্রাহকরা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক পার্টনারদের মাধ্যমে বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। নির্ধারিত অপো স্মার্টফোন কিনলে গ্রাহকরা ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) কার্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পেতে পারবেন। অন্যদিকে এনআরবি ব্যাংক কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং কমিউনিটি ব্যাংক কার্ডধারীরা ফ্ল্যাট ১,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও, অপো রেনো১৫ এফ ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূবালী ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করলে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন, যা ঈদ উপলক্ষে স্মার্টফোন আপগ্রেড করতে আগ্রহীদের জন্য বাড়তি সুবিধা যোগ করবে।এই ক্যাম্পেইনের মূল আকর্ষণ অপো এ৬এস প্রো, যা শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি নিয়ে তৈরি। এই ডিভাইসে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম এআই অটো জুম ৫০মেগাপিক্সেল আল্ট্রা ওয়াইড সেলফি ক্যামেরা, যা স্মার্ট ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে বড় গ্রুপ সেলফি সহজে ধারণ করতে পারে—ঈদের পারিবারিক আড্ডা ও আনন্দময় মুহূর্ত ধারণের জন্য একেবারে উপযুক্ত।ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “ঈদ আনন্দ, একসাথে থাকার মুহূর্ত এবং স্মরণীয় সময়ের উৎসব। এই বিশেষ অফারগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে চাই এবং একই সঙ্গে অপো এ৬এস প্রো -এর মতো উদ্ভাবনী ডিভাইস তুলে ধরতে চাই।”
কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দেন তিনি।ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না। সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে মাশাআল্লাহ’। তার এই পোস্টের নিচে কয়েক হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।এদিকে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে যানজট ও চাঁদামুক্ত এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে ঢাকা মহানগরীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক মনিটারিং করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে কোনো জনসচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার বা সংগঠনের নেতাদের কোথাও কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। এটা একটা কাগজে-কলমে ভুঁইফোঁড় সংগঠন।যদিও এর আগে ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ে ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গের পথে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।