জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ১০টি, দুটি সংশোধিত প্রকল্প এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প।বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। প্রকল্পটির ব্যয় ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে ব্যয় ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৫ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে।সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৬৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৪২ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ব্যয় ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৬০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন হয়েছে। এতে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯২৬ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে ব্যয় বেড়ে ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা হয়েছিল। এবার আরও ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়েছে। জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি এর আওতায় রয়েছে।
চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ফরাসি ও জাপানিজ দুই বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগন এবং জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই।বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রসায়নের ওই দুই নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স বলেছে, জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য চলতি বছর হেনরি কাগন ও কেনসো সোয়াইকে রসায়নের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো কিছু অণুর অস্তিত্ব আলাদা দুটি ভ্যারিয়েন্টে থাকে। যেগুলো একে অপরের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু জীবদেহে একটি মাত্র প্রতিচ্ছবিই থাকে। এ ধরনের রাসায়নিক অসামঞ্জস্যতা কীভাবে তৈরি হলো, তা রসায়নবিদদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একটি রহস্য ছিল। আর এই রহস্য ভেদ করার জন্যই এ বছর এ দুই বিজ্ঞানীকে রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।জীবনের রসায়নকে রসায়নবিদরা ‘হোমোকাইরাল’ বলেন, যা গ্রিক শব্দ “একই” এবং “হাত” থেকে এসেছে। হাতের মতো, সব অ্যামিনো অ্যাসিড দুটি আয়না রূপেই থাকে, কিন্তু এর মধ্যে কেবল একটি রূপই আপনার কোষের প্রোটিনে পাওয়া যায়। অন্যটি প্রকৃতিতে খুব একটা পাওয়া যায় না।হোমোকাইরাল কীভাবে তৈরি হতে পারে, তা রসায়নবিদরা দীর্ঘকাল ধরে ভেবেছিলেন। যখন তারা এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন যা দুটি আয়না অণু তৈরি করতে পারে, তখন তারা টেস্টটিউবে সবসময় দুটির সমান পরিমাণই পেতেন। তবে রসায়নবিদরা কেবল একটি আয়না প্রতিবিম্ব তৈরি করার চেষ্টা করতেন; কারণ জীবন্ত প্রাণীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া করবে এমন অণু তৈরির ক্ষেত্রে—যেমন ওষুধে—কেবল একটি প্রতিবিম্বই কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়।২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার এমন আবিষ্কারগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে যা রসায়নবিদদের এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া চালাতে সক্ষম করেছে যা হোমোকাইরাল রূপ তৈরি করে।এক্ষেত্রে ১৯৮৬ সালে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন হেননি কাগান। তিনি রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়া বদলে দেওয়ার নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এতে করে তিনি একটি প্রতিচ্ছবির ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ পান, যা আগে সম্ভব হিসেবে ধারণা করা হতো। অপরদিকে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেন। তিনি একটি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানান তিনি কীভাবে প্রথমবারের মতো এমন রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ডিজাইন করেছেন যা সম্ভাব্য হোমোকাইরাল ছিল। ২০০৩ সালে তিনি এতে চূড়ান্ত সাফল্য পান। তিনি এমন একটি প্রতিক্রিয়া দেখান যেখানে সম্ভাব্য একটি প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়েছিল। জীব ছাড়া এরআগে কেউ কখনো এই সাফল্য পাননি।এর আগে, গত বছর রসায়নে নোবেল জেতেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম ইয়াগি। ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ উদ্ভাবনের কারণে তাদের ওই বছর রসায়নে নোবেল দেওয়া হয় বলে জানায় সুইডিশ অ্যাকাডেমি।এখন পর্যন্ত রসায়নে ১১৭ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে ২০১৮ সালে ৯৭ বছর বয়সে নোবেল জেতেন জন বি গুডএনাফ। অপরদিকে ১৯৩৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে সম্মানজনক এ পদক জেতেন ফেদ্রিক জোলিয়ট। সব মিলিয়ে ১৯৮ জন এ রসায়নশাস্ত্রে সর্বোচ্চ সম্মানজনক এ পদক পেয়েছেন।১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল। এ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুসারে। ঊনবিংশ শতকের এই বিজ্ঞানী শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিলেন। তিনি উইল করে গিয়েছিলেন যে তার যাবতীয় অর্থ থেকে যেন প্রতি বছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য— এই ৫টি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের নামকরণ হবে তার নামে। ১৯৬৯ সাল থেকে এই ৫ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনীতিও।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত ও একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন।বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে পাঁচটি দলের ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। এতে মির্জা ফয়সল আমিনকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এ আসনে পাঁচটি দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন ছাড়া অন্য প্রার্থীরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।আগামীকাল ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।
দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি ও শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বুধবার (৭ অক্টোবর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঠাকরগাঁও জেলার তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আহবান’-এর আহ্বায়ক লুকমান শারীফ এবং সদস্য সচিব ডা. তাহমিদ আহমেদের নেতৃত্বে ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা না গেলে জাতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। মাদকের কারণে বহু তরুণের সম্ভাবনাময় জীবন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জনপদকে সমৃদ্ধ করতে হলে সে অঞ্চলের মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন ও মানুষের কল্যাণে দেশের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘আহবান’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ঠাকুরগাঁও স্কুলভিত্তিক সায়েন্স ফেস্ট, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ, জেন-জি কার্নিভালসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।ঠাকুরগাঁও জেলার সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়ন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরসন এবং জনগণের সরকারি সেবাপ্রাপ্তি সহজতর করতে তরুণ ও পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।রাষ্ট্রপতি তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংগঠনিক জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।সাক্ষাৎকালে ‘আহবান’-এর সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তাঁর ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তারা একটি সুন্দর, মানবিক, আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সংগঠনের কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।রাষ্ট্রপতি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সকল সদস্যের সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে জেট ফুয়েলের দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে শুল্ক ও মূসকসহ প্রতি লিটার জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। গত মাসে এই দাম ছিল ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬ পয়সা।বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বিইআরসি।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে শুল্ক ও মূসকমুক্ত প্রতি লিটার জেট এ-১-এর দাম ১ দশমিক ০৭৭০ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১-এর প্রকাশিত প্ল্যাটস দরের গড় এবং জেট এ-১ আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ঋণপত্র নিষ্পত্তির সময়কার মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।কমিশনের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের জেট এ-১-এর দরের পরিবর্তন, ডলারের বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করা হয়।বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত দাম ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। এর আগে সেখানে অবস্থান নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে পদযাত্রা শুরুর পর বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত এ কর্মসূচি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।তাদের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শহীদ ওসমান বিন হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে অবস্থান করা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।কর্মসূচির প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন বাজারে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করবেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা।কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।উদ্বোধনী বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।হাদী হত্যাকাণ্ডে ভারত, আওয়ামী লীগ ও র জড়িত বলে অভিযোগ করেন জাবের। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, তাদের আন্দোলন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে অন্য কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তারা এর বিরোধিতা করবেন বলে জানান তিনি।হাদী হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান জাবের। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।এ ছাড়া শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং গণভোটের রায় কার্যকর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক।দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জাবের বলেন, মার্চ ফর ইনসাফের মাধ্যমে এসব দাবির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করতে চান তারা। তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি বা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক অভিযানে ১৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।বুধবার (৭ অক্টোবর) সামা টিভির খবরে জানানো হয়, উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও মাস্তুং এলাকায় সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা এবং তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়।খাইবার পাখতুনখাওয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় ওয়াজিরিস্তান ও আশপাশের এলাকায় চালানো অভিযানে ১৩ সন্ত্রাসী নিহত হন।এদিকে বেলুচিস্তানের মাস্তুংয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে পাঁচজন সন্ত্রাসী নিহত হন।এ ছাড়া সিয়াপুশত ও কিল্লি গাশতারি এলাকায় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। অবশিষ্ট সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের জন্য প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন।সন্ত্রাসীদের নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতা ও পেশাদারত্বের প্রশংসা করেন জারদারি এবং তাদের কঠোর পদক্ষেপগুলোকে জাতির দৃঢ় সংকল্প ও মনোবলের প্রতিফলন আখ্যা দেন।প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, এই সফল অভিযানগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দৃঢ় সংকল্প স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সন্ত্রাসীদের বিদেশি মদদদাতা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও মাস্তুং ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন।নাকভি ভারত-সমর্থিত ১৮ জন সন্ত্রাসীকে নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই অভিযানগুলো জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।তিনি আরও বলেন, ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’র বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তাদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিনদিন ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিনের ছুটি পাবেন।বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী, ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী এবং ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। এর আগে ২০ অক্টোবর মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ২২ অক্টোবরও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।টানা ছুটির সমন্বয়ে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।এর আগে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবরের কর্মদিবসেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। আর ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।তবে ছুটির আওতার বাইরে থাকবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবা। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট এবং ডাক সেবা। এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরাও ছুটির আওতায় থাকবেন না। জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী চালু থাকবে।ছুটির সময়ে ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে সুপ্রিম কোর্ট।এ ছাড়া বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি ঘোষণার বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পুলিশ চেকপোস্টে যখন বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছিল, সে সময় পুলিশ কর্মকর্তা ফায়াজ খান ও তার সহকর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে মাথা নিচু করে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছিলেন।১৬ এপ্রিলের সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যারা মূলত ‘পাকিস্তান তালেবান’ নামে পরিচিত। আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হাঙ্গু জেলার ‘সারকি পিয়ালা’ পুলিশ চেকপোস্টে হামলার সময় টিটিপির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যোদ্ধারা চারপাশ থেকে গুলিবর্ষণ শুরু করেছিল। উল্লেখ্য, এই এলাকাটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রাণঘাতী হামলার অন্যতম কেন্দ্রস্থল।৪০ বছর বয়সী পুলিশ পরিদর্শক ফায়াজ সেই হামলার স্মৃতিচারণ করে জানান, প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে একটি সাঁজোয়া যানের চালক নিহত এবং একজন কনস্টেবল আহত হন।আল জাজিরাকে ফায়াজ খান বলেন, “আমাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক কাজ করছিল, কারণ আমরা তখন এক যুদ্ধের মধ্যে ছিলাম। সেই মুহূর্তে আমরা জানতাম না আদৌ জীবিত বাড়ি ফিরতে পারব কি না।”এ ধরনের হামলা প্রতিরোধের লক্ষ্যে হাঙ্গুর পুলিশ একটি অভিনব ও স্বল্প খরচের সমাধান বের করে—চেকপোস্টের ছাদ ও সীমানা প্রাচীরের মাঝখানে কয়েক মিটার উঁচুতে মাছ ধরার জাল টানিয়ে দেওয়া হয়, যা অনেকটা মাথার ওপর একটি আচ্ছাদন বা ছাদের মতো কাজ করে।স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, জেলেদের ব্যবহৃত জালের মতোই সাধারণ গঠনের এই জালটি প্রথম বসানো হয়েছিল দুই মাস আগে। ফায়াজ জানান, এরপর থেকে সারকি পিয়ালা চেকপোস্টে আর কোনো ড্রোন হামলা হয়নি।তিনি বলেন, “যদি কোনো ড্রোন চেকপোস্টের ওপর দিয়ে আসে, তবে সেটি জালে আটকে গিয়ে নিষ্ক্রিয় বা অকেজো হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।”ফায়াজ যখন আলজাজিরার সঙ্গে কথা বলছিলেন, সে সময় তার সহকর্মীরা বুলেট-প্রতিরোধী ভেস্ট পরে ও হাতে বন্দুক নিয়ে কালো জালের সেই আচ্ছাদনের নিচে সতর্ক প্রহরায় ছিলেন; জালটি দড়ি ও তার দিয়ে জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।“এমনকি ড্রোনটি যদি জালে আটকে না-ও পড়ে এবং জালের ওপর বিস্ফোরিত হয়, তবুও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হওয়ার কথা। কারণ, বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট অধিকাংশ স্প্লিন্টার বা ধাতব টুকরো সরাসরি মাটিতে—যেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন—না পড়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়বে” আলজাজিরাকে বলেন ফায়াজ।হাঙ্গু জেলার পুলিশ কর্মকর্তা তারিক হাবিব আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, একটি সাধারণ চেকপোস্টকে এ ধরনের জাল দিয়ে ঢেকে ফেলতে প্রায় ৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি (১ হাজার ৪৩৫ মার্কিন ডলার) খরচ হয়।হাবিব বলেন, “ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার (চার কোণে চারটি মোটর ও প্রোপেলারযুক্ত এক ধরনের চালকবিহীন ড্রোন) হামলার প্রভাব কমাতে পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ থানা ও চেকপোস্টগুলোতে এই জাল ব্যবহার চালু করেছে।” তিনি আরও জানান, জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও আরও জাল বসানো হচ্ছে।তারিক হাবিব বলেন, এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য হাঙ্গুর পুলিশ প্রাদেশিক সরকারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে এবং সেই অনুরোধটি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, কোহাট, কারাক, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত এবং ডেরা ইসমাইল খানের মতো অন্তত আরও পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলার চেকপয়েন্ট ও পুলিশ পোস্টে এই জাল বসানো হয়েছে। এমনকি প্রদেশের কিছু সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন-প্রতিরোধী এই জাল ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কৌশল পরিবর্তনের জবাবেই মূলত মাছ ধরার এই জালগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে; তারা এখন বন্দুক ও মর্টারের পাশাপাশি ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলার উল্লম্ফন ঘটেছে। এসব হামলার অনেকগুলোর দায় স্বীকার করেছে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান); সংগঠনটি পাকিস্তানে তালিবান-ধাঁচের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে বলে দাবি করে।পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বারবার কাবুলের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে টিটিপিকে নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আন্তঃসীমান্ত হামলা প্রতিরোধ করার দাবি জানিয়েছেন। তবে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং এই হামলাগুলোকে ইসলামাবাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।হাঙ্গুতে এ ধরনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি ঘটেছিল ২৯ জুলাই। সেদিন হামলাকারীরা বোমা-সজ্জিত কোয়াডকপ্টার নিয়ে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ চালায় এবং এরপর স্থলপথে অতর্কিত হামলা (অ্যামবুশ) করে। এতে অন্তত ১১ জন পুলিশ সদস্য নিহত ও ২৮ জন আহত হন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেই সংঘাতে ১৫ জন হামলাকারীও নিহত হয়; টিটিপি সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল।পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, ২০ সেপ্টেম্বর হাঙ্গুতে গোলাগুলির আরেকটি ঘটনায় ছয়জন সেনা সদস্য ও আটজন হামলাকারী নিহত হন। এই হামলার ঠিক দু’দিন আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট জেলার পুলিশের সদরপ্তরে অবিস্থত একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলার সময় ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ নামের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বিত হামলায় ১৬ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৩ জন নিহত হয়েছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, এ বছর হাঙ্গুতে অন্তত ১৬টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে হাঙ্গু প্রদেশের অন্যতম সংবেদনশীল জেলায় পরিণত হয়েছে।তবে পুলিশ কর্মকর্তা জিশান খান জানিয়েছেন, মাছ ধরার জালগুলো লাগানোর পর থেকে সারকি পিয়ালা এবং নিকটবর্তী বালিয়ামেনা চেকপোস্টগুলোতে কোনো ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার হামলা হয়নি।তিনি বলেন, এই জালগুলো পুলিশ সদস্যদের জন্য ‘নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত ও প্রয়োজনীয় স্তর’ তৈরি করেছে।“যদি কোনো হামলা হয়ও, তবে আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে পারবে”, আলজাজিরাকে বলেন তিনি। জিশানের ধারণা, এই পদক্ষেপগুলোর ফলে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।‘সাশ্রয়ী কিন্তু ভঙ্গুর কৌশল’ঘন ঘন সশস্ত্র হামলার ঘটনা হাঙ্গু এলাকার পুলিশ চেকপোস্টের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে বদলে দিয়েছে। বালিয়ামেনার ২৮ বছর বয়সী সমাজকর্মী মোহাম্মদ ওসামা জানান, এসব হামলার কারণে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিতে বাধ্য হয়।ওসামা বলেন, “সবসময়ই একটা ভয় কাজ করে যে, কোনো বিপথগামী গুলি বা অন্য কোনো কিছুর আঘাতে আমাদের সন্তানরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমরা কেবল আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ দূর করেন, যাতে আমরা আমাদের এলাকায় শান্তিতে বসবাস করতে পারি, আমাদের সন্তানরা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং মানুষ কোনো ভয় ছাড়াই কাজে যেতে পারে।”ওসামা জানান, তার এলাকায় মাছ ধরার জাল লাগানোর পর থেকে তিনি অতর্কিত হামলার সংখ্যা কমে যেতে দেখেছেন।তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কৌশলটি হয়তো ‘নিরাপত্তার এক ধরনের ভ্রান্ত ধারণা’ তৈরি করতে পারে। ইসলামাবাদ-ভিত্তিক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ গুল আলজাজিরাকে বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু স্থানে জাল বসানো একটি অপরিপক্ব ও সস্তা কৌশল; কারণ সবসময় যে পুলিশ স্টেশনই লক্ষ্যবস্তু হবে, এমন কোনো কথা নেই।”“ড্রোন ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আঘাত করা এবং নাটকীয় দৃশ্যপট তৈরি করা।”“আরও জরুরি প্রশ্ন হলো—ড্রোন আকাশে ওড়ার সাথে সাথেই তা প্রতিহত বা ভূপাতিত করার সক্ষমতা পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আছে কি না।”ইমতিয়াজ গুল বলেন, “ড্রোন আতঙ্ক ও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো জনসমাগমস্থলে আঘাত করতে পারলেই তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত নাটকীয় প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়।”পেশোয়ার-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদ-দমন ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্লেষক ফিদা আদিল জানান, মাছ ধরার জালের এই ধারণাটি নতুন কিছু নয়। সামরিক বাহিনী তাদের সরঞ্জাম আড়াল করতে যে ‘ক্যামোফ্লেজ নেট’ বা ছদ্মবেশ তৈরির জাল ব্যবহার করে, সেখান থেকেই এর উৎপত্তি। তিনি আরও জানান, অতি সম্প্রতি ইউক্রেনে রুশ ড্রোন প্রতিহত করার উপায় হিসেবেও এ ধরনের জালের ব্যবহার দেখা গেছে।আদিল সতর্ক করে বলেন, বিস্ফোরক-বহনকারী ড্রোনের বিরুদ্ধে মাছ ধরার জালের কার্যকারিতা নির্ভর করে এর নকশা ও স্থাপনের পদ্ধতির ওপর। এছাড়া, বাস্তব কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া পুলিশের দেওয়া ‘৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সুরক্ষা’র হিসাব যাচাই করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তিনি বলেন, “সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমেই কেবল সুরক্ষার প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব।”ফিদা আদিলের প্রশ্নের জবাবে খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের মুখপাত্র আব্দুল সালাম খালিদ আল-জাজিরাকে জানান যে, তারা কোহাট এলাকায় এই জাল ব্যবহারের পদ্ধতির একটি আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় একটি জালের ওপর বিস্ফোরক ফেলা হয়েছিল, কিন্তু সেটি বিস্ফোরিত হয়নি।আলজাজিরাকে হাঙ্গু এলাকার পুলিশ পরিদর্শক ফায়াজ খান বলেন, তিনি জানেন যে মাথার ওপর মাছ ধরার জাল টাঙিয়ে রাখাটা কোনো অভ্রান্ত বা নিশ্চিত সমাধান নয়। তিনি ও তার সহকর্মীদের জন্য এই জাল কিছুটা হলেও মানসিক স্বস্তি জোগায়—যদিও তা দায়িত্ব পালনকালে তাঁদের জীবনের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে পারে না।“আমরা বলতে পারি না যে এই জাল ব্যবহারের পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। আমরা যেকোনো হামলার মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকি। ... দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার প্রয়োজনে যদি আমাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগও করতে হয়, তবে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না; আর আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন থেকে এক পা-ও পিছু হটব না।”সূত্র : আলজাজিরা
প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের নেওয়া উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা জানতে ঢাকায় এসেছে নেপালের নির্বাচন কমিশনের (ইসিএন) উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘লার্নিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’।বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত থাকবেন।বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আলম, ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সালীম আহমদ খান এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক মামুনুর হোসেন অংশ নেবেন। ইউএনডিপির পক্ষ থেকেও ইলেকট্রোরাল প্রজেক্ট অ্যাসিস্ট্যান্সের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর এবং ব্যালট প্রকল্পের দুই প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেপালের দুজন নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।সফরের অংশ হিসেবে নেপালের প্রতিনিধি দলটি ৭ ও ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন (ওসিভি-এসডিআই)’ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবে। এ সময় তারা প্রকল্পটির কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও উত্তম চর্চা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার উন্নয়নই এ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ৯টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়। এর মধ্য দিয়ে বোয়িংনির্ভর বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো।চুক্তির আওতায় চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কিনবে বিমান। এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজগুলো দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ।চুক্তি অনুযায়ী, এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দিয়ে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বিমানের। আর ছয়টি এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা হবে। বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন নেই এমন রুটে তুলনামূলক কম ধারণক্ষমতার এ৩২১নিও ব্যবহার করা যাবে।বর্তমানে বিমানের জেট উড়োজাহাজের বড় অংশই বোয়িংয়ের তৈরি। এয়ারবাসের নতুন ১০টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে প্রথমবারের মতো বোয়িং ও এয়ারবাস দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বহর পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।এর আগে চলতি বছর দুই দফায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই চুক্তির মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স রয়েছে। দুই দফার চুক্তি মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের কেনা উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টি।বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সাল থেকে বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে। সব উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগতে পারে। চুক্তির সময় পুরো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। একটি করে উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।এয়ারবাসের ১০টি ও বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইড-বডি বা প্রশস্ত কাঠামোর এবং ১৬টি ন্যারো-বডি বা সরু কাঠামোর উড়োজাহাজ।বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮। তবে দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়ার কথা রয়েছে।পুরোনো উড়োজাহাজগুলো বাদ পড়ার আগে সক্ষমতার ঘাটতি মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।বর্তমানের ১৯টি উড়োজাহাজের সঙ্গে চুক্তি করা ২৫টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস যুক্ত হলে ভবিষ্যতে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়াতে পারে। তবে নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার ঘাটতি মেটাতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিমান।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। এর আগে সেখানে অবস্থান নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে পদযাত্রা শুরুর পর বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত এ কর্মসূচি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।তাদের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শহীদ ওসমান বিন হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে অবস্থান করা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।কর্মসূচির প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন বাজারে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করবেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা।কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।উদ্বোধনী বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।হাদী হত্যাকাণ্ডে ভারত, আওয়ামী লীগ ও র জড়িত বলে অভিযোগ করেন জাবের। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, তাদের আন্দোলন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে অন্য কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তারা এর বিরোধিতা করবেন বলে জানান তিনি।হাদী হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান জাবের। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।এ ছাড়া শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং গণভোটের রায় কার্যকর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক।দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জাবের বলেন, মার্চ ফর ইনসাফের মাধ্যমে এসব দাবির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করতে চান তারা। তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি বা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যারা অপরাধ করে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে তাদের দেশে আসার আর কোন সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ৭ অক্টোবর বুধবার বিকেলে সাভার উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আসন্ন শারদীয় দূর্গাপুজা উৎযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রাসঙ্গিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।প্রতিমন্ত্রী এসময় আরও বলেন,যারা অপরাধী তাদের দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে এটি আইনের প্রক্রিয়া এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন,দূর্গাপুজায় কোন হুমকি নেই সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বরী তাদের পূজা উৎযাপন করবে বলেও বলেন তিনি। এতে সাভার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীরাসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।এসময় ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা.দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু,ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একটি ইতিহাসের পথচলার পরিসমাপ্তি প্রত্যক্ষ করলো বিশ্ব। কিংবদন্তি লিওনেল মেসি খেললেন ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সতীর্থরা ছুটে এসে ঘিরে ধরলেন কেউ জড়িয়ে ধরলেন প্রিয় অধিনায়ককে, কেউ কাঁধে হাত রেখে বিদায়ের মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন। চোখেমুখে আবেগ, গ্যালারিজুড়ে করতালি আর ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি- এভাবেই শেষ হলো আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফুটবল জাদুকরের শেষ ম্যাচ।মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আর এই ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন মেসি।বিদায়ী ম্যাচটিকে নিজের মতো করেই রাঙিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। একটি গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকেই গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ৬০ মিনিটে মেসির পাস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকো পাজ।এরপর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেলে বল নিয়ে এগিয়ে আসেন মেসি। ৭১ মিনিটে স্পটকিক থেকে দুর্দান্তভাবে বল জালে পাঠিয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোলের খাতায় নাম লেখান তিনি। এটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার ১২৬তম গোল।শেষ বাঁশি বাজার পর অবশ্য আর ম্যাচের ফল নিয়ে কারও মাথাব্যথা ছিল না। পুরো মনোযোগ তখন একজনকে ঘিরে- মেসি। সতীর্থরা তাকে ঘিরে ধরে আবেগে ভেসে যান। প্রতিপক্ষ বেনিনের খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তারাও এগিয়ে এসে তাকে অভিনন্দন জানান। বিদায়ের এই মুহূর্তে মেসির মুখেও ছিল আবেগের ছাপ।স্টেডিয়ামের আবহও তখন বদলে যায়। ম্যাচ শেষে মেসিকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয় বিশেষ ড্রোন শো। আকাশে ফুটে ওঠে ‘Gracias Leo’- অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ লিও’।জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্ট- এমন পরিসংখ্যান নিয়েই আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখলেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী এই কিংবদন্তির বিদায় তাই শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়; আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়েরও শেষ।
ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি অনন্য বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে বাংলার তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। প্যারিসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মসলিন ও অপ্সরা রূপে দেখা গেল এ অভিনেত্রীকে। তিনি রিয়া কাপুরের স্টাইলিং ও পোশাকের সমন্বয়ে ফ্যাশনে নিয়ে আসেন এক বৈচিত্র্য উপস্থাপনা।প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সেই অনুষ্ঠানে দেবীতুল্য ও মোহময়ী অবতারে ধরা দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন অভিনেত্রী। ফ্যাশন দুনিয়ার বিশ্ব সেরা ৫০০ প্রভাবশালী মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বের তালিকায় এবার স্থান পেয়েছেন তিনি। আর সেই উদযাপনের মঞ্চেই ভারতীয় ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি করে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান নিজেকে। বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরেন জাহ্নবী কাপুর।অভিনেত্রীর এই রাজকীয় স্টাইলিংয়ের নেপথ্যে ছিলেন কাপুর পরিবারের আরও এক কন্যা ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘পঙ্কজ এস হেরিটেজ’-এর কাস্টম ডিজাইনে নির্মিত এই পোশাকটিতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আধুনিক রূপায়ণ ঘটানো হয়েছে।শাড়িটি তৈরি করা হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের সুতা দিয়ে, যার মধ্যে ফুটে উঠেছে মসলিনের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর ঐতিহ্যগতভাবে ‘বাফ-ই-হাওয়া’, ‘শবনমী’ বা ‘চাঁদনি’ নামে পরিচিত। আইভরি ক্যানভাসের ওপর পোখরাজ, পান্না, গার্নেট, মুক্তা ও সোনার পুঁতির চমৎকার কারুকাজ কাঁধ থেকে হাত পর্যন্ত ছড়ানো গহনার কাজ পোশাকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।২০২৬ সালের ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ তালিকায় বিশ্বজুড়ে আটটি ক্যাটাগরিতে ১০০ জন নতুন ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় জাহ্নবী কাপুরের পাশাপাশি স্থান করে নিয়েছেন আরও দুই ভারতীয় মডেল ভাবিতা মান্ডভা ও প্রীতিশা স্বরূপ।‘শানেল’-এর শো ওপেন করা প্রথম ভারতীয় নারী শানেলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ভাবিতা মান্ডভা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মডেল, অপারেশন্স স্মাইলের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর ও আয়ুর্বেদিক বিউটি ব্র্যান্ড ‘প্রাক্তি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রীতিশা স্বরূপ।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত সিনেমা ‘মাস্টার’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।নির্মাতা সুমিত খবরটি নিজেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এই অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা এবং প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।’লুক্কা উৎসবে এ বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি এবং জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। তার মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত।‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি এরকম, ‘স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য (পুরস্কারটি দেওয়া হলো)। একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে যায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে। অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।’সবশেষে নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা; সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’কিন্তু প্রশ্ন তো থেকে যায়, বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করে যাওয়া ‘মাস্টার’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে? সে প্রশ্নটা নির্মাতা সুমিতেরও। কারণ ‘মাস্টার’ এখনও দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটা মিললেই পর্দায় আসবে সিনেমাটি।‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় আছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।
হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রাক্তন বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আগে ও পরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট চিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং বাসিন্দাদের মানবিক চাহিদাকে তুলে ধরেছে। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, গাজার ‘পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।’তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।’
ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান মানেই ভক্তদের হৃদয়ে বাড়তি উন্মাদনা। বয়স বাড়লেও তার রূপের দ্যুতি আর চিরসবুজ স্টাইল যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে আবারও ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন এই নন্দিত অভিনেত্রী।প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, স্নিগ্ধ গোলাপী রঙের পোশাকে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন জয়া। একটি টেবিলের সামনে বসে থাকা অবস্থায় তার মুখে ভেসে উঠেছে এক মায়াবী ও মিষ্টি হাসি, যা তার রূপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ছবির এই বিশেষ মুহূর্তটি নিয়ে অভিনেত্রী নিজেই দিয়েছেন এক দারুণ ব্যাখ্যা। ছবিগুলোর ক্যাপশনে জয়া লিখেছেন- ‘আ স্মাইল আই ডিডন্ট প্ল্যান’ (এমন একটি হাসি, যার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না)। অর্থাৎ, হঠাৎ করেই ঠোঁটের কোণে ভর করা এই অনাবিল হাসিটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত।জয়ার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। মন্তব্য ঘরে অনুরাগীরা তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কেউ তাকে ‘মায়াবতী’ বলে সম্বোধন করেছেন, আবার কেউ তার এই ঝকঝকে হাসির পেছনের ইতিবাচক শক্তির প্রশংসা করেছেন। কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এমন সুন্দর ও সাবলীল মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এই অভিনেত্রী।
মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়েন মারা গেছেন। ‘দ্য স্টিং’ ও ‘জ্যানাডু’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের বিভিন্ন পর্বে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে গত ২২ জুলাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি জেমস স্লোয়েনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। সপ্তাহের শেষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।‘স্টার ট্রেক’ ভক্তদের কাছে জেমস স্লোয়েন পরিচিত ছিলেন ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ ও ‘ভয়েজার’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য। ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এ তিনি একজন রোমুলান অ্যাডমিরালের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ক্লিঙ্গন চরিত্র ওয়ার্কের ছেলের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাকে। ‘ডিপ স্পেস নাইন’-এ বিজ্ঞানী ড. মোরা এবং ‘ভয়েজার’-এ হাকোনিয়ান বিজ্ঞানী মা’বোর জেটরেল চরিত্রে অভিনয় করেন।১৯৭৩ সালে জর্জ রয় হিল পরিচালিত অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’-এ মোটোলা চরিত্রে অভিনয় করেন স্লোয়েন। সিনেমাটিতে তিনি অপরাধী ডয়েল লনেগানের হয়ে জুয়া পরিচালনাকারী এক কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া অলিভিয়া নিউটন-জন অভিনীত মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জ্যানাডু’তেও অভিনয় করেন তিনি।১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়েন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা জেমস ছিলেন নির্মাণ প্রকৌশলী। বিদেশে ও নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে কিছু সময় কাটানোর পর দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। পরে তিন বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেন।সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে নিউইয়র্কে ফিরে জোসেফ প্যাপের নিউইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে অভিনয়ের পাশাপাশি ফাইটিং দৃশ্যের কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৯ সালে আর্থার কপিটের ‘ইন্ডিয়ান’ নাটকের মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় তার। ১৯৭০ সালের ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি।১৯৭৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান জেমস স্লোয়েন। এরপর ‘দ্য গ্যাং দ্যাট কুডন্ট শুট স্ট্রেইট’, ‘দ্য ডক্টরস’, ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রানসিসকো’, ‘কোজাক’ ও ‘ডেলভেকিও’-সহ বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেন। ১৯৭৭ সালে এবিসির নাটক ‘ওয়েস্টসাইড মেডিকেল’-এ নিয়মিত চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন স্লোয়েন। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর টয়োটার বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনে ভয়েসওভার শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি।জেমস স্লোয়েন মৃত্যুকালে স্ত্রী অভিনেত্রী ডিআরড্রে লেনিগান, ছেলে সংগীতশিল্পী ড্যানিয়েল এবং মেয়ে অভিনেত্রী সামান্থা স্লোয়েনকে রেখে গেছেন। তার ভাই লেখক ও পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক প্যাট্রিক স্লোয়েন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান।
দুই বছর মঞ্চে ফিরছে নাট্যদল ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। তাও আবার পরপর দুই দিন দুটি প্রদর্শনী নিয়ে। শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে হবে প্রদর্শনী।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে এনএসডি আয়োজিত ‘ভারত রঙ মহোৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়েছিল নাটকটি। এরপর আর মঞ্চে ওঠেনি ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। একক চরিত্রের নাটকটিতে অভিনয় করেন আর্য মেঘদূত। বর্তমানে তিনি স্কলারশিপে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়নরত। ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছাড়ার পর নাটকটির মঞ্চায়ন স্থগিত হয়ে যায়।সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে এসেছেন। সেই সুবাদেই নাটকের দুটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করবেন।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। তখন মেঘদূত মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্রী। কনিষ্ঠ একক অভিনেত্রী হিসেবে চমকে দেন সবাইকে। এ পর্যন্ত নাটকটির ৮টি প্রদর্শনী হয়েছে।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের গল্পের শুরুটা এরকম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। হিটলারের বাহিনী একদিন দখল করে নেয় হল্যান্ড। ফ্রাঙ্ক পরিবার হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। ১৯৪২ সালের ৬ জুলাই তারা আশ্রয় নেয় সিক্রেট অ্যানেক্সে। ফ্রাঙ্ক পরিবারের ছোট মেয়ে অ্যানা ফ্রাঙ্ক। সিক্রেট অ্যানেক্সে ফ্রাঙ্ক পরিবারের সাথে যোগ দেয় অ্যানা ফ্রাঙ্কের বাবার বন্ধুর পরিবার ও একজন ডাক্তার। সব মিলেয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটজন। সিক্রেট অ্যানেক্স! ছোট্ট, স্যাঁতস্যাঁতে একটা জায়গা। এসবের মধ্যে এতগুলো মানুষ। তবু অ্যানা নিঃসঙ্গ, তার মনের কথা বলার মতো সে কাউকে পায় না। তার সব কথা সে লিখে রাখে ডায়েরিতে, ডায়েরিটাই হয়ে ওঠে তার কাছে প্রিয় বন্ধু।
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর ৮৪তম জন্মবার্ষিকী, তার দীর্ঘদিনের অবদান ও দূরদর্শী চিন্তাকে স্মরণ করে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি স্টোরে ফাউন্ডার্স ডে উদযাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে এপেক্সের সকল পণ্যে থাকছে ২৬ শতাংশ ছাড়।এই বিশেষ ছাড় উপভোগ করা যাবে এপেক্সের সবকটি রিটেইল আউটলেটের পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটাতেও। ফলে জুতা, স্যান্ডেল, লেদার ব্যাগ, বেল্ট, অ্যাকসেসরিজ ও অ্যাপারেলসহ পরিবারের সব বয়সী সদস্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পাশাপাশি, বিশেষভাবে নারীদের জন্য বৈচিত্র্যময় কালেকশন থেকে ক্রেতারা পছন্দমত পণ্যটি বিশেষ ছাড়ে কিনতে পারবেন।নতুন ডিজাইন ও বিভিন্ন কালেকশন ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহের পাশাপাশি ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে বিশেষ ছাড়কে কেন্দ্র করে স্টোরগুলোতে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর কেনাকাটার পরিবেশ। গত কয়েক বছরের ফাউন্ডার্স ডে উদযাপনের ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনেও উৎসব, বিশেষ দিন, কিংবা বিভিন্ন মৌসুমকে মাথায় রেখে বাজারে নিয়ে আসা এপেক্স পণ্য বিশেষ ছাড়ে কেনাকাটার দারুণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারছে ক্রেতারা। এপেক্সের সঙ্গে এ দেশের মানুষের দীর্ঘ পথচলাকে সামনে রেখেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর এই ক্যাম্পেইন উদযাপন করে থাকে। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী গুণগত মান ও গ্রাহকের আস্থা ভিত্তির ওপর এপেক্সেকে গড়ে তুলেছিলেন। তার সেই স্বপ্নকে স্মরণ করে এবং বিশেষ এই কেনাকাটার অভিজ্ঞতার অংশ হতে এপেক্সের নিকটস্থ আউটলেটে আসার জন্য ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এপেক্স।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ১০টি, দুটি সংশোধিত প্রকল্প এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প।বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। প্রকল্পটির ব্যয় ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে ব্যয় ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৫ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে।সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৬৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৪২ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ব্যয় ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৬০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন হয়েছে। এতে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯২৬ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে ব্যয় বেড়ে ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা হয়েছিল। এবার আরও ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়েছে। জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি এর আওতায় রয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।তাবারজাল-আলজাওফ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা দিতে আগামী ৯ ও ১০ অক্টোবর, শুক্রবার ও শনিবার একটি কনস্যুলার টিম সেখানে অবস্থান করবে।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাবারজাল আল ফাহদা, দাইরেজা রোড, দাইরেজা, তাবারজাল-আলজাওফ এলাকায় এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।কনস্যুলার টিমের মাধ্যমে প্রবাসীরা ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ডেলিভারি, শ্রম কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড তৈরি, স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রামের আওতায় আকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ বা হুরুবপ্রাপ্তদের আবেদন গ্রহণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন।এছাড়া সোনালী ব্যাংকের সেবা, ট্রাভেল পারমিট প্রদান, কনস্যুলার ডকুমেন্ট সত্যায়ন, আমমোক্তারনামা প্রদান এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হবে।দূতাবাস জানিয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনকারীদের অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি সঙ্গে আনতে হবে। পাশাপাশি ই-পাসপোর্টের ছবির জন্য গাঢ় রঙের রঙিন পোশাক পরিধান করে আসার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরা যাবে না।প্রবাসীদের সুবিধার্থে দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো রেনো১৫ এফ ফাইভজি স্মার্টফোনের সঙ্গে ১৩,৬০০ টাকা মূল্যের ১২ মাসের ফ্রি স্ক্রিন প্রোটেকশন সুবিধা দিচ্ছে। অফারটি দেশের সব অপো ব্র্যান্ড স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। এই সুবিধার আওতায় রেনো১৫ এফ ফাইভজি ব্যবহারকারীরা ১২ মাসের জন্য স্ক্রিন প্রোটেকশন সুবিধা পাবেন। ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ ও কনটেন্ট তৈরির মতো দৈনন্দিন ব্যবহারে ফোনের স্ক্রিন সুরক্ষায় এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাজারে আসা অপো রেনো১৫ এফ ফাইভজি-তে রয়েছে ‘ড্যান্সিং অরোরা’ ডিজাইন ও উন্নত ক্যামেরা ফিচার। স্মার্টফোনটিতে পোর্ট্রেট, ভিডিও এবং বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে।রেনো১৫ এফ ফাইভজি-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড সেলফি ক্যামেরা। ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্সের মাধ্যমে সাধারণ সেলফির তুলনায় বড় পরিসরের দৃশ্য ফ্রেমে ধারণ করা যায়। ফলে গ্রুপ ছবি, ভ্রমণের বিভিন্ন দৃশ্য কিংবা ওয়াইড-ফ্রেম সেলফি তোলার ক্ষেত্রে ক্যামেরাটি ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি, কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বিভিন্ন কম্পোজিশনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারবেন।ব্যবহারকারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে অপো রেনো১৫ এফ ফাইভজি-র সঙ্গে ১৩,৬০০ টাকা মূল্যের ১২ মাসের ফ্রি স্ক্রিন প্রোটেকশন সুবিধা দিচ্ছে। এর আওতায় ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এক বছরের জন্য স্ক্রিন সুরক্ষা সুবিধা পাবেন।এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের জেনারেল ম্যানেজার ডেমন ইয়াং বলেন, “অপোতে ক্রেতাদের জন্য উদ্ভাবনী স্মার্টফোনের চেয়েও বেশি কিছু নিশ্চিত করা আমাদের প্রতিশ্রুতি। আমরা বিশ্বাস করি, ডিভাইসের মালিকানার এই পুরো সময়ে আমাদের ক্রেতদের কেয়ার করাই এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। যারা নতুন কিছু তৈরি করতে চান ও নিজেদের প্রকাশ করতে চান, মূলত তাদের জন্যই অপো রেনো১৫ এফ ফাইভজি নিয়ে আসা হয়েছে। এই অফারটির মাধ্যমে আমরা আমাদের ক্রেতাদের জন্য আত্মবিশ্বাস ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে চাই।”আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সকল অপো ব্র্যান্ড স্টোরে অপো রেনো১৫ এফ ফাইভজির ১৩,৬০০ টাকা মূল্যের ১২ মাসের এই ফ্রি স্ক্রিন প্রোটেকশন অফারটি উপভোগ করা যাবে। গ্রাহকসেবাকে সবসময় প্রাধান্য দিয়ে অপো ক্রেতাদের স্মার্টফোনের সুরক্ষা যেমন বাড়াচ্ছে, তেমনই নিজেদের আরও স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার সুযোগও করে দিচ্ছে।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।