মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৯০২ জন।এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭১ জনে। অন্যদিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৮৮ হাজার ৩৬০ জন।সোমবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগে রোববার (৩ অক্টোরব) ডেঙ্গুতে সারাদেশে ছয়জনের মৃত্যু হয়। এদিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৯ জন।
দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার। এ জন্য শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শতাধিক শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশা কখনোই উপায়হীন বিকল্প কিংবা একটি সাধারণ চাকরির মতো হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতা পেশাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হন, সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে সেভাবেই গড়ে তুলতে চায়।’শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদাও জড়িত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র ও সমাজে শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিও জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে অবশ্যই রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও বাড়ে।’বিশেষ করে স্কুল-মাদরাসার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ-সুবিধা ও সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পার হওয়ার পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে প্রথমেই আসেন শিক্ষক। শিক্ষকরাই তাদের আদর্শ ও রোল মডেল। শিক্ষকরা যাতে নিজেদের শিক্ষার্থীদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন, সরকার সে ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।’শিক্ষকদের শুধু পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের প্রিয়জন হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও প্রিয়জন হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।’শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পরিবারের পর শিক্ষক-শিক্ষিকারাই শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মানের মতো মূল্যবোধকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে।’বিশ্ব শিক্ষক দিবসে দেশের শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শিক্ষকরা হচ্ছেন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান আত্মা।’অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সারাদেশ থেকে আগত শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এ সাধারণ ছুটি থাকবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে এটি পালন করা হবে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি, তাঁদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পেশাগত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।সম্মাননার অংশ হিসেবে প্রত্যেক গুণী শিক্ষককে দুই লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন, কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ২০ জন, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনজন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনজন এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চারজন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত সাতজন শিক্ষককেও সম্মাননা দেওয়া হয়।শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
চলতি বছরের নভেম্বরে যুব এশিয়া কাপের আসর বসতে যাচ্ছে ওমানে। তার আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।এই সিরিজ উপলক্ষ্যে গেল সপ্তাহ দুয়েক ধরে অনুশীলন ক্যাম্প করেছে হান্নান সরকারের দল। আগামী ১০ অক্টোবর ওমান পৌঁছাবে যুবা টাইগাররা। এরপর সিরিজের প্রথম ওয়ানডে শুরু হবে ১৩ অক্টোবর, শেষ ম্যাচ ২৩ অক্টোবর। ওমান ক্রিকেট একাডেমি গ্রাউন্ডে হবে সিরিজের সব ম্যাচ। ১৩ ও ১৫ অক্টোবর প্রথম দুই ম্যাচের পর ১৮, ২০ ও ২৩ অক্টোবর হবে বাকি তিন ম্যাচ। অর্থাৎ প্রায় ১০ দিনের মধ্যে আফগানদের বিপক্ষে পাঁচটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশের যুবারা।বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওমানের মাটিতেই নভেম্বরে হবে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের এবারের আসর। ফলে এই সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা ম্যাচগুলো এশিয়া কাপের আগে প্রস্তুতি সারতে পারবে যুব টাইগাররা।
রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের ইরকুটস্কের শেলিখেভ নামক স্থানে অবস্থিত একটি ল্যাবরেটরিতে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে এক ল্যাব টেকনিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নমুনা সংগ্রহের সময় দুর্ঘটনাবশত জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াযুক্ত একটি টেস্টটিউব ভেঙে গেলে মারাত্মক সংক্রামক নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হন টেকনিশিয়ান শিপিলোভা। নিউমোনিয়ার তীব্র লক্ষণ নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ভেন্টিলেটরে রাখার পর ১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পরপরই ইরকুটস্কে জনসমাবেশ ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ইরকুটস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ একটি ‘বিপজ্জনক সংক্রমণ’ ছড়িয়ে পড়ার কথা জানালেও রোববার টেলিগ্রাম বার্তায় তিনি দাবি করেন, এটি অজ্ঞাত কারণের নিউমোনিয়া এবং মৃত মহিলার নমুনায় প্রফেশনাল জীবাণুর সন্ধান মেলেনি। তবে ২ অক্টোবর বুড়িয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সি সিদেনোভ জানান, প্রতিবেশী অঞ্চলের ওই নারী ‘সম্ভবত প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন’।জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভোক্তা নিরাপত্তা সংস্থা রসবোত্রেবনাদজোর সম্পূর্ণ মহামারি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মতে, নিউমোনিক প্লেগ অত্যন্ত সংক্রামক ও মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যা বাতাসের কণার মাধ্যমে ছড়ায় এবং লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।সূত্র: এনডিটিভি
চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী গ্রেফতারের চেষ্টাকালে বাস ধাক্কায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের পুলিশ লাইন্স এস এ এফ শাখায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার ইস্পাহানি চেকপোস্টে কর্মরত থাকা অবস্থায় ছিনতাইকারী গ্রেফতারের চেষ্টাকালে একটি বাস এসে তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।আল আমিন ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার নিজ জেলা মাদারীপুর। ব্যক্তিগত জীবনে সে বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক।সিএমপি পুলিশ কমিশনার হাসান মো: শওকত আলী তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ২০২৪ সালে রাখাইনের রাজ্যের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পর আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের গ্রাম ধ্বংস করে, তাদের জমির ওপর বন্দিশিবির, সামরিক ঘাঁটি ও বসতি গড়ে তুলেছে।সম্প্রতি এসব তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে।স্যাটেলাইট ছবি, জাতিসংঘের গবেষণা এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে করা এই অনুসন্ধানে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন বুথিডং টাউনশিপের হ্নগেট থায় এলাকায় একটি ধানখেতের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওই জমিতে রোহিঙ্গারা চাষাবাদ করতেন। কিন্তু ২০২৬ সালে সেখানে ১২০টি ধূসর রঙের ভবন দেখা যায়। এগুলো আরাকান আর্মি পরিচালিত বন্দিশিবিরের স্থাপনা। সেখানে আশপাশের এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে রাখা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া তারা ওই শিবিরে ঢুকতে বা বের হতে পারেন না।আরাকান আর্মি উত্তর রাখাইন রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এ ধরনের অন্তত ১০টি শিবির তৈরি করেছে।রাখাইনে মিয়ানমার শাসনকারী জান্তাবাহিনী এবং বৌদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের পর থেকে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশ বসবাস করছেন। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে থাকা ১৮ বছর বয়সি মুহাম্মদ আরেস বলেন, ‘আরাকান আর্মি প্রথম যখন আসে, তখন আমাদের এলাকায় তীব্র লড়াই শুরু হয়। এসব সংঘর্ষের সময় অনেক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান।’তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আরাকান আর্মি আমাদের পুরো গ্রাম পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়...তারা সব বাস্তুচ্যুত মানুষকে একত্র করে জোর করে শিবিরে নিয়ে যায়।’ আরেস বলেন, ‘তারা মূলত আমাদের মাতৃভূমিকে জোরপূর্বক শ্রমের শিবির ও সামরিক ঘাঁটির একটি নেটওয়ার্কে পরিণত করেছে। তারা আমাদের জমিতে বাড়ি বানিয়েছে’।মায়ু নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর একটি সারি রয়েছে ওয়েত নিয়ো তাউং এলাকায়। বন্দিশিবিরটি সেখান থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ওই এলাকা পুড়িয়ে দেওয়ার সময় রোহিঙ্গা কৃষক ও নৌকার মাঝিরা তাদের বাড়ি, কৃষিজমি ও ফলের বাগান হারান। ২৬ বছর বয়সি মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘তারা সব বড় গাছ ও ফলের বাগান কেটে ফেলেছে এবং পুরো জমি পরিষ্কার করে দিয়েছে। তারা গ্রামের ভৌত কাঠামো পুরোপুরি মুছে দিয়েছে। তারা আমাদের জমিতে বাড়ি বানিয়েছে।’বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানান, তাদের নিজেদের বাড়ি ভেঙে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং সেই বাড়ির উপকরণ ব্যবহার করে বিদ্রোহীদের জন্য নতুন স্থাপনা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ওয়েত নিয়ো তাউং এলাকায় ‘এপি ব্যাটালিয়ন’ নামে পরিচিত সামরিক ব্যারাকও ছিল। তরুণ রোহিঙ্গারা জানান, সেখানে তাদের জোর করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।সাদিক বলেন, ‘তারা আমাদের রাস্তা পরিষ্কার করতে, পরিখা খুঁড়তে এবং তাদের শিবিরের ভেতরে কায়িক শ্রম করতে বাধ্য করত। কেউ ক্লান্তিতে পড়ে গেলে তাকে রোদের মধ্যে ফেলে রাখা হতো।’জাতিসংঘের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২৩টি রোহিঙ্গা গ্রামের অন্তত ৮০০ হেক্টর জমি দখল করে সেখানে শিবির, অন্য সম্প্রদায়ের জন্য বসতি অথবা সামরিক অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। জাতিসংঘের গবেষণায় ওই সময়ে আরাকান আর্মির রোহিঙ্গাদের জমি দখল বা রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করার অন্তত ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।২০২৪ সাল থেকে এক লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর মিয়ানমারে থেকে যাওয়া আনুমানিক ৬ লাখ রোহিঙ্গার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই সময়ে দেশ ছেড়েছে। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বর্তমানে ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ দ্য গার্ডিয়ানকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির শেষ এখানেই, এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।’ তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যতদিন এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সহ্য করতে পারবে, ততদিন কারাগারের মতো শিবিরগুলোতে থাকতে পারে। কিন্তু তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।’দ্য গার্ডিয়ানের সংগ্রহ করা সাক্ষ্য এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রতিফলিত তথ্য অনুযায়ী, আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, নির্বিচারে গ্রেফতার, জোরপূর্বক শ্রম, জোর করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ এবং ‘কর’ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব কৌশল এর আগে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করেছে।৩২ বছর বয়সি একজন জানান, তাকে জোর করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং এক মাস আটক থাকার সময় বারবার মারধর করা হয়। আরেকজন জানান, আরাকান আর্মির সদস্যরা তার ২২ বছর বয়সি মেয়েকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয় এবং সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা হয়। হ্নগেট থায় বন্দিশিবিরে থাকা অনেকেই ২০২৪ সালের ২ মে হোইয়ার সিরিতে সংঘটিত গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তালিকায় সেখানে নিহত বা নিখোঁজ হওয়া ১৭০ জনের বেশি গ্রামবাসীর তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শিশু। আরাকান আর্মি যুদ্ধাপরাধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা শুধু সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমারের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার পরিকল্পনাকারীদের লক্ষ্য ছিল ‘মাঠপর্যায়ে বাস্তবতা তৈরি করা’। তবে রোহিঙ্গাদের জমি ধ্বংসের জন্য আরাকান আর্মিই দায়ী, এমন কোনো তথ্য জাতিসংঘের ওই তদন্ত ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত করেনি বলে জানান তিনি।কুমজিয়ান বলেন, ‘মিয়ানমারের ভেতরে এখনো থাকা রোহিঙ্গাদের চলমান সংঘাতের সব পক্ষই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক টম ড্যানেনবাম বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর জবরদস্তি এবং তাদের নিজ এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার এই সমন্বিত কর্মকাণ্ড ‘জনসংখ্যা স্থানান্তর’-এর যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।মিয়ানমারের নির্বাসিত জাতীয় ঐক্য সরকারের সম্প্রতি পর্যন্ত একমাত্র রোহিঙ্গা সদস্য অং কিয়াও মো বলেন, ‘মূল বিষয়টি এখন আর এটা নয় যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে টিকে থাকতে পারবে কিনা। বরং প্রশ্ন হলো, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে কিনা, যা তাদের স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত করা এবং তাদের ভৌত, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উপস্থিতি মুছে ফেলার বিষয়টিকে অপরিবর্তনীয় করে দেবে।’জানুয়ারিতে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার শুনানি শুরু করা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এর আগে ‘পরিকল্পিতভাবে মানুষকে উচ্ছেদ করা এবং তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করাকে’ গণহত্যার একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেছে। চলতি মাসেই আইসিজে রায় দেওয়ার কথা রয়েছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হয়েছিল কিনা।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন সাঁইয়ের মাজার প্রাঙ্গণে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাজার প্রাঙ্গণে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে লালন শাহ মাজার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে নিরাপদে মাজার প্রাঙ্গণ এলাকা ত্যাগ করেন।কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক শোভন আহমেদ জানান, ব্যক্তিগত সফরে উনি কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া লালন মাজারে এসেছিলেন। তিনি এখানে স্থানীয় বাউল শিল্পীদের পরিবেশন গান শোনেন। বাইরে বের হয়ে মূল গেটের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ করেই কিছু লোকজন তার উপরে হামলা করে ও ধাওয়া দেয়। পরে তাকে নিয়ে লালন মাজারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।শোভন আরও বলেন, কারা হামলা করেছে, কী জন্য হামলা করেছে এ বিষয়ে এখন কিছু বলা যাবে না। এখানে বলার মত অবস্থাতেও নেই। তবে এই মুহূর্তে আমরা এলাকা ত্যাগ করছি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লালন মাজারে এসেছিলেন। ঘটনা শুনে মাজার এলাকায় এসে তাকে বাইরে বের করে নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করি। তিনি আরও বলেন, এলাকার বাইরে যাওয়ার পরে তারা পুলিশি প্রটোকল না নিয়ে চলে যান। তবে এই ঘটনায় মামলা করবেন কিনা কোথায় গেছেন এ বিষয়ে তৎক্ষণাৎ তিনি জানাতে পারেননি।এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হামলার কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে যে চারটি আসনে ছাড় দেয় এর মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনও। তবে এই আসনে বিএনপির সাবেক নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার কাছে পরাজিত হন জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। নির্বাচনের প্রায় আট মাস পর তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে ‘মুনাফিকির’ অভিযোগ তুলেছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনে জমিয়তের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিএনপি প্রত্যাশিত আন্তরিকতা দেখায়নি। বরং দলটির একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে ও আড়ালে কাজ করেছে।সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের যে রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল, নির্বাচনের মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তার ভাষ্য, বিএনপি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আন্তরিকভাবে জমিয়তের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে এ আসনে বিজয় সম্ভব ছিল। কিন্তু নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বিএনপির একটি অংশ প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালন করেনি।সরাইল-আশুগঞ্জ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে এ এলাকায় ইসলামপন্থীদের একটা প্রভাব রয়েছে। ফলে বিএনপি-জমিয়তের সমঝোতার ক্ষেত্রে আসনটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জুনায়েদ আল হাবীবের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ জমিয়তের প্রার্থীর পরিবর্তে রুমিন ফারহানার পক্ষে সক্রিয় ছিল। অন্য একটি অংশ ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালনে আগ্রহ দেখায়নি।নির্বাচনি মাঠের নানা অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন জমিয়তের এই সহসভাপতি। তার দাবি, আওয়ামী লীগপন্থি প্রায় ৩০ শতাংশ নেতা-কর্মীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন আশ্বাসের মাধ্যমে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করেন রুমিন ফারহানা। এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন, জীবন্ত হাঁস নিয়ে মিছিল এবং প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচনি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেন তিনি।ভোটের দিনও জমিয়তের প্রার্থীর পক্ষে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন জুনায়েদ আল হাবীব। তার অভিযোগ, যেসব কেন্দ্রে জমিয়তের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল, সেসব কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। এতে ভোটের মাঠে তার প্রার্থিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আলেম সমাজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে কাজ করেছে। বিভিন্ন আসনে আলেম-উলামাদের সমর্থনের কারণে বিএনপির প্রার্থীরা উপকৃত ও বিজয়ী হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার প্রশ্ন, যেখানে জমিয়তসহ ইসলামপন্থি দলগুলো জোটের স্বার্থে বিএনপির প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়তের প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন একই ধরনের ভূমিকা রাখলেন না।শুধু বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক নয়, ইসলামি দলগুলোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন জমিয়তের এই নেতা। তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি বর্তমানে কাজ করছে। বৃহত্তর ইসলামি রাজনৈতিক ঐক্যের সম্ভাবনা নিয়ে সেখানে আলোচনা চলছে।জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, বৃহত্তর ইসলামি প্ল্যাটফর্ম যদি কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির সঙ্গে থাকা জোট থেকেও বেরিয়ে আসতে প্রস্তুত রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।
আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এ সাধারণ ছুটি থাকবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে এটি পালন করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে এই লংমার্চ শুরু হবে। যাত্রাপথে শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেবেন ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।নেতা-কর্মীদের কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একের পর এক তেল-গ্যাসসহ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের ওপর প্রভাব পড়েছে। নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বিরোধীদলের নেতাদের প্রতি আক্রোশ থেকে সরকারদলীয় ক্যাডাররা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলায় ঘটনায় ১১ দলের নিন্দা জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বগুড়া জেলা কারাগারের হাজতি আসামি আব্দুল মালেক (৫২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।মৃত আব্দুল মালেক বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি ওই মামলার বিচারাধীন আসামি ছিলেন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রক্ত বমি করেন মালেক। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় দ্রুত তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।বগুড়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আসাদুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন জেল সুপার।
চলতি বছরের নভেম্বরে যুব এশিয়া কাপের আসর বসতে যাচ্ছে ওমানে। তার আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।এই সিরিজ উপলক্ষ্যে গেল সপ্তাহ দুয়েক ধরে অনুশীলন ক্যাম্প করেছে হান্নান সরকারের দল। আগামী ১০ অক্টোবর ওমান পৌঁছাবে যুবা টাইগাররা। এরপর সিরিজের প্রথম ওয়ানডে শুরু হবে ১৩ অক্টোবর, শেষ ম্যাচ ২৩ অক্টোবর। ওমান ক্রিকেট একাডেমি গ্রাউন্ডে হবে সিরিজের সব ম্যাচ। ১৩ ও ১৫ অক্টোবর প্রথম দুই ম্যাচের পর ১৮, ২০ ও ২৩ অক্টোবর হবে বাকি তিন ম্যাচ। অর্থাৎ প্রায় ১০ দিনের মধ্যে আফগানদের বিপক্ষে পাঁচটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশের যুবারা।বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওমানের মাটিতেই নভেম্বরে হবে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের এবারের আসর। ফলে এই সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা ম্যাচগুলো এশিয়া কাপের আগে প্রস্তুতি সারতে পারবে যুব টাইগাররা।
হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রাক্তন বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আগে ও পরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট চিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং বাসিন্দাদের মানবিক চাহিদাকে তুলে ধরেছে। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, গাজার ‘পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।’তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।’
ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান মানেই ভক্তদের হৃদয়ে বাড়তি উন্মাদনা। বয়স বাড়লেও তার রূপের দ্যুতি আর চিরসবুজ স্টাইল যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে আবারও ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন এই নন্দিত অভিনেত্রী।প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, স্নিগ্ধ গোলাপী রঙের পোশাকে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন জয়া। একটি টেবিলের সামনে বসে থাকা অবস্থায় তার মুখে ভেসে উঠেছে এক মায়াবী ও মিষ্টি হাসি, যা তার রূপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ছবির এই বিশেষ মুহূর্তটি নিয়ে অভিনেত্রী নিজেই দিয়েছেন এক দারুণ ব্যাখ্যা। ছবিগুলোর ক্যাপশনে জয়া লিখেছেন- ‘আ স্মাইল আই ডিডন্ট প্ল্যান’ (এমন একটি হাসি, যার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না)। অর্থাৎ, হঠাৎ করেই ঠোঁটের কোণে ভর করা এই অনাবিল হাসিটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত।জয়ার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। মন্তব্য ঘরে অনুরাগীরা তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কেউ তাকে ‘মায়াবতী’ বলে সম্বোধন করেছেন, আবার কেউ তার এই ঝকঝকে হাসির পেছনের ইতিবাচক শক্তির প্রশংসা করেছেন। কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এমন সুন্দর ও সাবলীল মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এই অভিনেত্রী।
মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়েন মারা গেছেন। ‘দ্য স্টিং’ ও ‘জ্যানাডু’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের বিভিন্ন পর্বে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে গত ২২ জুলাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি জেমস স্লোয়েনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। সপ্তাহের শেষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।‘স্টার ট্রেক’ ভক্তদের কাছে জেমস স্লোয়েন পরিচিত ছিলেন ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ ও ‘ভয়েজার’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য। ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এ তিনি একজন রোমুলান অ্যাডমিরালের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ক্লিঙ্গন চরিত্র ওয়ার্কের ছেলের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাকে। ‘ডিপ স্পেস নাইন’-এ বিজ্ঞানী ড. মোরা এবং ‘ভয়েজার’-এ হাকোনিয়ান বিজ্ঞানী মা’বোর জেটরেল চরিত্রে অভিনয় করেন।১৯৭৩ সালে জর্জ রয় হিল পরিচালিত অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’-এ মোটোলা চরিত্রে অভিনয় করেন স্লোয়েন। সিনেমাটিতে তিনি অপরাধী ডয়েল লনেগানের হয়ে জুয়া পরিচালনাকারী এক কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া অলিভিয়া নিউটন-জন অভিনীত মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জ্যানাডু’তেও অভিনয় করেন তিনি।১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়েন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা জেমস ছিলেন নির্মাণ প্রকৌশলী। বিদেশে ও নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে কিছু সময় কাটানোর পর দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। পরে তিন বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেন।সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে নিউইয়র্কে ফিরে জোসেফ প্যাপের নিউইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে অভিনয়ের পাশাপাশি ফাইটিং দৃশ্যের কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৯ সালে আর্থার কপিটের ‘ইন্ডিয়ান’ নাটকের মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় তার। ১৯৭০ সালের ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি।১৯৭৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান জেমস স্লোয়েন। এরপর ‘দ্য গ্যাং দ্যাট কুডন্ট শুট স্ট্রেইট’, ‘দ্য ডক্টরস’, ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রানসিসকো’, ‘কোজাক’ ও ‘ডেলভেকিও’-সহ বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেন। ১৯৭৭ সালে এবিসির নাটক ‘ওয়েস্টসাইড মেডিকেল’-এ নিয়মিত চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন স্লোয়েন। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর টয়োটার বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনে ভয়েসওভার শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি।জেমস স্লোয়েন মৃত্যুকালে স্ত্রী অভিনেত্রী ডিআরড্রে লেনিগান, ছেলে সংগীতশিল্পী ড্যানিয়েল এবং মেয়ে অভিনেত্রী সামান্থা স্লোয়েনকে রেখে গেছেন। তার ভাই লেখক ও পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক প্যাট্রিক স্লোয়েন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান।
দুই বছর মঞ্চে ফিরছে নাট্যদল ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। তাও আবার পরপর দুই দিন দুটি প্রদর্শনী নিয়ে। শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে হবে প্রদর্শনী।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে এনএসডি আয়োজিত ‘ভারত রঙ মহোৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়েছিল নাটকটি। এরপর আর মঞ্চে ওঠেনি ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। একক চরিত্রের নাটকটিতে অভিনয় করেন আর্য মেঘদূত। বর্তমানে তিনি স্কলারশিপে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়নরত। ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছাড়ার পর নাটকটির মঞ্চায়ন স্থগিত হয়ে যায়।সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে এসেছেন। সেই সুবাদেই নাটকের দুটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করবেন।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। তখন মেঘদূত মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্রী। কনিষ্ঠ একক অভিনেত্রী হিসেবে চমকে দেন সবাইকে। এ পর্যন্ত নাটকটির ৮টি প্রদর্শনী হয়েছে।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের গল্পের শুরুটা এরকম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। হিটলারের বাহিনী একদিন দখল করে নেয় হল্যান্ড। ফ্রাঙ্ক পরিবার হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। ১৯৪২ সালের ৬ জুলাই তারা আশ্রয় নেয় সিক্রেট অ্যানেক্সে। ফ্রাঙ্ক পরিবারের ছোট মেয়ে অ্যানা ফ্রাঙ্ক। সিক্রেট অ্যানেক্সে ফ্রাঙ্ক পরিবারের সাথে যোগ দেয় অ্যানা ফ্রাঙ্কের বাবার বন্ধুর পরিবার ও একজন ডাক্তার। সব মিলেয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটজন। সিক্রেট অ্যানেক্স! ছোট্ট, স্যাঁতস্যাঁতে একটা জায়গা। এসবের মধ্যে এতগুলো মানুষ। তবু অ্যানা নিঃসঙ্গ, তার মনের কথা বলার মতো সে কাউকে পায় না। তার সব কথা সে লিখে রাখে ডায়েরিতে, ডায়েরিটাই হয়ে ওঠে তার কাছে প্রিয় বন্ধু।
সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতার কলম, তারপর ক্যামেরার সামনে অভিনয়—হাসান মাসুদের পেশাজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তিনি। পরে অভিনয়ে এসে ছোট পর্দায় পরিচিতি পান। এবার তার কর্মজীবনে যুক্ত হলো কর্পোরেট দুনিয়া।অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও পরিচালনাতেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। তবে কয়েক বছর ধরে অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবার সেই পথচলায় যুক্ত হলো নতুন পরিচয় কর্পোরেট পেশাজীবী হাসান মাসুদ।যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান জেইন গ্লোবাল -এ হেড অব স্টুডেন্ট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ব্র্যান্ড হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেতা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তিনি।একসময় নাটক, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন টেলিভিশন আয়োজনে নিয়মিত দেখা যেত হাসান মাসুদকে। অভিনয়ের নিজস্ব ধরন ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার ব্যস্ততা। নাটক কিংবা সিনেমায় এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বেছে বেছে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও অভিনয়কে আগের মতো পেশাগত জীবনের কেন্দ্রে রাখেননি।অভিনয় থেকে দূরে থাকার সেই সময়েই পেশাগত জীবনে নতুন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।জেইন গ্লোবালে নতুন দায়িত্বে হাসান মাসুদের কাজের পরিধি হবে শিক্ষার্থীসেবা, ব্র্যান্ডিং ও যোগাযোগ কার্যক্রম ঘিরে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।জেইন গ্লোবালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৪ বছর ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসান মাসুদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগ এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে চায় তারা।হাসান মাসুদের ক্যারিয়ার বরাবরই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে। সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতা। তারপর অভিনয়ের জগতে প্রবেশ। ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।অভিনয়ের ব্যস্ত দিনগুলো থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাওয়া হাসান মাসুদের সামনে এখন নতুন ধরনের দায়িত্ব। ক্যামেরার সামনে চরিত্র হয়ে ওঠার বদলে এবার তাকে কাজ করতে হবে ব্র্যান্ড, শিক্ষার্থী ও যোগাযোগ নিয়ে।পেশাজীবনে একাধিকবার পথ বদলেছেন হাসান মাসুদ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়েছেন তিনি। এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রেখেছেন। নতুন এই অধ্যায়ে তার দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরাধীন মাতৃভূমিকে মুক্ত করার লড়াইয়ে চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মহান আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষ্যে মঞ্চনাটক 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনী, সংগীতানুষ্ঠান ও শিশুদের অঙ্কিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা পদাতিক।ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় তপোবন-এর সহযোগিতায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হবে।রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যদল ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম প্রযোজনা 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'। এবার ঐতিহাসিক এই নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের বিয়োগান্তক বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে নাটকটি মঞ্চে আনে ঢাকা পদাতিক।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুননাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর মৃত্যুর পর নাটকটির নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী। প্রয়োজন অনুযায়ী, নাটকটির কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ-পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি।নাটকটি মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের আলোচিত প্রযোজনাগুলোর অন্যতম। এরই মধ্যে ভারতের দিল্লিতে নাটকটির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদের চৌধুরী বলেন, "ট্রায়াল অব সূর্যসেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মাসুম আজিজ ভাই। তাঁর প্রয়াণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ করে নবনির্দেশনার কাজটি করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।"প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অপর্ণা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিল। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, আক্তার হোসেন, রবিউল ইসলাম মিলটন, শাহনাজ পারভীন জয়া, তারেক আলী মিলন, কাজী সম্রাট, আতিকুর রহমান, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, নূর, খাজা ফরিদউল্লাহ, জাহিদ প্রমুখ। নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন শ্যামল হাসান।২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটি ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।এবারের 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনীর শুরুতে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবন-এর শিল্পীরা জাগরণমূলক দলীয় সংগীত পরিবেশন করবেন।মিলনায়তনের প্রবেশপথেই প্রদর্শিত হবে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আঁকা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, চট্টগ্রাম যুবিবদ্রোহ, জালালাবাদ পাহাড় ও ধলঘাট যুদ্ধের ছবি। এছাড়া সেইসব যুদ্ধে শহীদ চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবীদের ছবি এবং ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর বিভিন্ন প্রদর্শনীর প্রামাণ্যচিত্রও এতে প্রদর্শিত হবে। অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরপরই শুরু হবে ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর মঞ্চায়ন। বিশেষ এই প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত।
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর ৮৪তম জন্মবার্ষিকী, তার দীর্ঘদিনের অবদান ও দূরদর্শী চিন্তাকে স্মরণ করে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি স্টোরে ফাউন্ডার্স ডে উদযাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে এপেক্সের সকল পণ্যে থাকছে ২৬ শতাংশ ছাড়।এই বিশেষ ছাড় উপভোগ করা যাবে এপেক্সের সবকটি রিটেইল আউটলেটের পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটাতেও। ফলে জুতা, স্যান্ডেল, লেদার ব্যাগ, বেল্ট, অ্যাকসেসরিজ ও অ্যাপারেলসহ পরিবারের সব বয়সী সদস্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পাশাপাশি, বিশেষভাবে নারীদের জন্য বৈচিত্র্যময় কালেকশন থেকে ক্রেতারা পছন্দমত পণ্যটি বিশেষ ছাড়ে কিনতে পারবেন।নতুন ডিজাইন ও বিভিন্ন কালেকশন ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহের পাশাপাশি ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে বিশেষ ছাড়কে কেন্দ্র করে স্টোরগুলোতে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর কেনাকাটার পরিবেশ। গত কয়েক বছরের ফাউন্ডার্স ডে উদযাপনের ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনেও উৎসব, বিশেষ দিন, কিংবা বিভিন্ন মৌসুমকে মাথায় রেখে বাজারে নিয়ে আসা এপেক্স পণ্য বিশেষ ছাড়ে কেনাকাটার দারুণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারছে ক্রেতারা। এপেক্সের সঙ্গে এ দেশের মানুষের দীর্ঘ পথচলাকে সামনে রেখেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর এই ক্যাম্পেইন উদযাপন করে থাকে। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী গুণগত মান ও গ্রাহকের আস্থা ভিত্তির ওপর এপেক্সেকে গড়ে তুলেছিলেন। তার সেই স্বপ্নকে স্মরণ করে এবং বিশেষ এই কেনাকাটার অভিজ্ঞতার অংশ হতে এপেক্সের নিকটস্থ আউটলেটে আসার জন্য ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এপেক্স।
দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৬৯১ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এ নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান চলছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশজুড়ে ১০ হাজার ৩৭৪টি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৩৭ হাজার ৩১৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সময়ে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০৩ জনকে যাচাই করা হয়েছে। তবে এসব অভিযানে কতজন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।শুধু অবৈধ অভিবাসীদের আটকের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখেনি মালয়েশিয়া। তাদের নিয়োগ, আশ্রয় ও অবৈধভাবে অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে ১ হাজার ৮০৯ জন নিয়োগকর্তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জনই মালয়েশিয়ার নাগরিক।শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শুধু অবৈধ অভিবাসীদের টার্গেট করা হচ্ছে না। যারা তাদের নিয়োগ দেয়, আশ্রয় দেয় কিংবা অবৈধভাবে দেশে অবস্থানের সুযোগ করে দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ ও আশ্রয়দাতা নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে ৩৪৬ জন নিয়োগকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৫৯ জনে। ২০২৫ সালে গ্রেপ্তার করা হয় ২ হাজার ২০২ জনকে। আর চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ হাজার ৮০৯ জন।সাইফুদ্দিন বলেন, অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুধু বিদেশিদের আটক করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। যারা তাদের নিয়োগ, আশ্রয় ও অবৈধ অবস্থানকে উৎসাহিত করে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।তার ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর উপস্থিতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। অতীতের প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অনিয়মকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন চক্র এবং দায়িত্বহীন নিয়োগকর্তারা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন বিভাগ সারা দেশে প্রতিদিন আইন প্রয়োগকারী অভিযান চালিয়ে যাবে। এসব অভিযান কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা কিংবা সাময়িক জনমতের চাপের ওপর নির্ভর করবে না।সাইফুদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি মৌসুমি অভিযান নয়।’ কোনো ঘটনা জনসমক্ষে আলোচনায় এলেই শুধু অভিযান পরিচালনা করা হবে—এমন নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় অবৈধ অভিবাসনকে ঘিরে অপব্যবহারের পুরো চক্র ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বিদেশি নাগরিকদের বৈধ পথে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ এবং দেশটির অভিবাসন আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। অবৈধভাবে প্রবেশ, জাল কাগজপত্র ব্যবহার কিংবা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।একই সঙ্গে আর্থিক লাভের আশায় অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ কিংবা আশ্রয় না দিতে নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করেছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
গ্রাহকদের কাছে আরও সুবিধাজনক ও উন্নত সেবার অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে কুমিল্লায় একটি নতুন গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি) চালু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান সম্প্রতি কুমিল্লা শহরের ঝাউতলায় নতুন হাইব্রিড সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। এ সময় গ্রামীণফোনের হেড অব কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, হেড অব সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন মোহাম্মদ শরীফ মাহমুদ খান, চট্টগ্রাম সার্কেল বিজনেস হেড ইমন কল্যাণ দত্ত এবং কুমিল্লা গ্রামীণফোন সেন্টারের পার্টনার সাইফুল মাহমুদ সুমন উপস্থিত ছিলেন।গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই নতুন সেন্টারটি চালু করেছে গ্রামীণফোন। কুমিল্লার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরতে সেন্টারের ভেতরের নকশায় টেরাকোটা দেয়াল ব্যবহার করা হয়েছে, যা কুমিল্লার ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানগুলোর আদলে তৈরি। ফলে সেবা গ্রহণের সময় স্থানীয় সংস্কৃতির আবহ খুঁজে পাবেন গ্রাহকরা। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সেবা প্রদানকারীদের দিয়ে পরিচালিত এই সেন্টারটি গ্রাহকদের নানা রকম চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমাধান প্রদান করবে।নতুন গ্রামীণফোন সেন্টারে আসা গ্রাহকরা একই ছাদের নিচে গ্রামীণফোনের সব ধরণের টেলিযোগাযোগ সেবা, ডিজিটাল সল্যুশন, ডিভাইস এবং আধুনিক পণ্যগুলো পেয়ে যাবেন। প্রয়োজনীয় সেবা ও সল্যুশনলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে সেন্টারটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন গ্রাহকদের কাছে সবকিছু সহজলভ্য হয়।গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান বলেন, “গ্রামীণফোনে আমরা আমাদের সেবাগুলোকে আরও সহজলভ্য, সুবিধাজনক এবং গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে আমাদের '১ বাংলাদেশ ১ ইন্টারনেট'র আওতায় দেশজুড়ে গ্রাহকদের ডিজিটাল জীবনকে আরো উপভোগ্য করার দিকে মনোযোগ দিয়েছি আমরা; পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টিতেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কুমিল্লায় নতুন গ্রামীণফোন সেন্টারটি সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন- গ্রাহকদের জন্য একই ছাদের নিচে আমাদের সেবা, ডিজিটাল সল্যুশন ও কাস্টমার সাপোর্ট নিয়ে এসেছি আমরা। আমাদের প্রত্যাশা এই সেন্টারটি একটি আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠবে যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সল্যুশন সহজেই পাবেন গ্রাহকরা। একটি নিরাপদ ও আরো স্মার্ট ভবিষ্যত গড়ে তোলায় অবদান রাখতে সংযোগ ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যাবে গ্রামীণফোন।”নতুন এই সেন্টারটি কুমিল্লায় গ্রামীণফোনের কাস্টমার সার্ভিস নেটওয়ার্ককে আরও সংহত করেছে। কোম্পানির নিত্যনতুন সংযোগ এবং ডিজিটাল সেবাসমূহের সাথে সহজে গ্রাহকদের পরিচয় করিয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে সেন্টারটি।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।