বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে— যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পরবর্তীতে সরকার গঠিত রিফর্ম কমিশনের সঙ্গে অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে, কিন্তু এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপি দিয়েছিল। এটি নথিবদ্ধ (ডকুমেন্টেড)। কাজেই এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করতে চাই।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে অবশ্যই দেশের আইনের মধ্যে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন। তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের অনেক বিষয় আছে। আমাদের অনেক কিছু হয়তো করা প্রয়োজন। একটি বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনা ছিল— সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিতর্ক ছিল। ৩১ দফা যেদিন আমরা উপস্থাপন করি, সেখানে আমরা বলেছিলাম যে, অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা উন্মুক্ত করে দিতে চাই।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে যদি গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক চর্চা অর্থাৎ ভোটাধিকার বা ভোটের বিষয়টি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। অবশ্যই তা হতে হবে নিরপেক্ষ ভোট— যে ব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকবে।তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে করার কারণ আছে যে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে পারে। সেজন্যই আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছি যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। পরবর্তীতে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এটি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতেই চাইব যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমরাই এই কথাটি বলেছি। অর্থাৎ, স্বৈরাচারের সময়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি— বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি থাকলে আমরা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব।
আসন্ন নির্বাচন ইস্যুতে পাবলিক প্ল্যাটফর্মে সরাসরি আলোচনায় বসতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।ওই পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রিয় মাননীয় তারেক রহমান, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই বৈধতা আসে। ন্যায্যতা ও জনসাধারণের আস্থা ছাড়া কোনো ফলাফলই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না। জুলাই বিপ্লবের পর তরুণদের প্রতি আমাদের কর্তব্য হলো—রাজনীতি যে সুশীল এবং অ-সংঘাতমূলক হতে পারে, তা দেখানো। আসুন আমরা গণমাধ্যম ও জনসাধারণের সামনে দাঁড়াই এবং ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থার মান নির্ধারণ করি—যা সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ।’জামায়াত আমির লিখেছেন, যেহেতু আপনি আপনার পরিকল্পনার কথা সবাইকে জানিয়েছেন, তাই একটি পাবলিক প্ল্যাটফর্মে আমার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি—যেখানে আমরা জাতির সামনে আমাদের নিজ নিজ ইশতেহার উপস্থাপন করতে পারব এবং জনগণকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে পারব।তিনি লিখেছেন, আসুন, আমরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু করি, যেখানে আমরা সবাই জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন মেট্রো ট্রেন আপাতত শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে থামছে না।শুক্রবার (৬ ফ্রেব্রুয়ারি) পৌনে ৯টার দিকে বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন এমআরটি লাইন-৬ এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।তারা বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের স্টিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ৫৮ মিনিট থেকে শাহবাগ ও রাত ৮টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন ট্রেন থামানো বন্ধ করতে। আরও জানান, আজ ট্রেন চলাকালীন সময়ের আগে যদি আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে আজ আর এই ২টি স্টেশনে ট্রেন থামবে না।আজ শুক্রবার মেট্রো ট্রেনের সর্বশেষ ট্রিপ উত্তরা থেকে রাত ৯টায় এবং মতিঝিল থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাবে।জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের যাত্রা ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসুর জিএস সহ আহত অন্তত ৩১। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আবারও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের দিক থেকে সাউন্ডগ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করতে করতে শাহবাগ মোড়ের দিকে এগিয়ে যায় পুলিশ।পুলিশের সাউন্ডগ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাসের মুখে মুহূর্তের মধ্যে শাহবাগ থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
সংগঠনের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে কর্মসূচি পালন করবেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণায় জানানো হয়, যমুনা এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব জাবেরসহ কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিপ্লব উদ্যানের ২ নম্বর গেটে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শেষে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন নেতাকর্মীরা। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা যাত্রা করলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় সদস্যসচিব জাবের গুলিবিদ্ধ হন বলে দাবি করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এছাড়া ডাকসু নেত্রী জুমা এবং রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন আহত হন।এ বিষয়ে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ গুলিবিদ্ধ নয় বলে তিনি দাবি করেন।
৪৪তম বিসিএসে ১৪৯০ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের সাত মাস পর এ নিয়োগ দেওয়া হলো।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ অধিশাখা থেকে এ নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করা হয়। পরে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তা প্রকাশ করা হয়।এতে প্রশাসন ক্যাডারে ২৪৪ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৪৮ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ৯ জন, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে ২৯ জনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে এ কর্মকর্তারা নিয়োগ পেয়েছেন।নিয়োগ আদেশে নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের পদায়ন করা কার্যালয়ে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশ না পেলে ওই তারিখেই তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগদান করবেন। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।নিয়োগ পরবর্তী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো রকম বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেনছেন, কেউ যদি ভোট চুরি কিংবা জালিয়াতির চেষ্টা করে, তাহলে তার পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতো হবে।আসন্ন নির্বাচন হবে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন, সংস্কারের নির্বাচন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে জনগণের রায়ের নির্বাচন। মা-বোনদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রায়ের নির্বাচন।দেশকে আধিপত্যবাদী ও ফ্যাসিবাদি থেকে মুক্ত হওয়ার নির্বাচন। ইনসাফের পক্ষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। দেশের মানুষ এখন নতুনদের সূযোগ দিতে চায়।তিনি বলেন, একটি পক্ষ আমাদের মা-বোনদের ভয় পাচ্ছে। তাই তারা মা-বোনদের প্রচারে বাধা দিচ্ছে। তারা ভয় পেয়ে শেরপুরে আমাদের এক ভাইকে হত্যা করেছে। যারা হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের রাজনীতি রুখে দিতে হবে। হত্যার রাজনীতি বন্ধ করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। তাদের রুখে দেওয়ার দিন ১২ ফেব্রুয়ারি।শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের এখনো ধরতে পারেনি সরকার। বিচারের দাবিতে তার পরিবার যমুনার সামনে অবস্থান করেছে। হত্যাকারীদের ধরতে না পারা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা।ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এখনো দেশবাসী ও তার পরিবার রাজপথে রয়েছে। ওসমান হাদির নীতি, আদর্শ ও জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শে নির্বাচনে রায় আসবে।তিনি বলেন, ‘আমরা আজাদি ও আধিপাত্যবাদ বিষয়ে এক বিন্দুও ছাড় দেব না।’আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসবেন। আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও আসবেন। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। গোলামির বিরুদ্ধে রায় দিতে ভোটকেন্দ্রে যাবেন।তিনি বলেন, দেশের মানুষ দাবি প্রতিষ্ঠায় জালেমের বিরুদ্ধে রায় দেবেন। বর্তমান সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়। আসন্ন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে আধিপত্য দূর করতে পারব। দিল্লীর তাঁবেদারি দূর করতে হবে।তিনি বলেন, আমরা কোনো রক্ত চক্ষুকে ভয় পাই না। একটি দলের নেতা বিদেশ থেকে এসে বলেছেন, আমার একটি প্ল্যান আছে। আমরা সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। সম্প্রীতির রাজনীতি করতে চেয়েছিলাম। তাই বলেছিলাম শেয়ার করেন।কিন্তু এখন দেখছি তিনি দেশের কোথায় চিনি কল আছে, কোথায় ইপিজেড আছে, কোথায় সোয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্রা চাষ বেশি হয়, তা তিনি কিছুই জানেন না। তিনি দেশ ও জনগণ সম্পর্কে জানেন না।তিনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। এমন কোনো প্ল্যান আমরা কাউকে বাস্তবায়ন করতে দেব না, যাতে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে। দুর্নীতির রাজনীতি আবার ফিরে আসবে। দেশ পিছিয়ে যাবে- এমন প্ল্যান বাস্তবায় হতে দেব না।এ জন্য সবাইকে তিনি প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের রাজনীতিতে ফেরত না আসে। এ দেশের মানুষ আর কোনো বেঈমান প্রতারকের হাতে ক্ষমতা দিতে চায় না।১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দক্ষ লোকের অভাব হবে না। দেশের ও বিদেশের অভিজ্ঞ লোকদের সংযুক্ত করা হবে।তিনি বলেন ঢাকা ১৯ আসনে ১১দলীয় প্রার্থী দিলশানা পারুল দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে বিদেশ থেকে দেশবাসীর সেবা করার জন্য ফিরে এসেছেন। তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে আহবান জানান নাহিদ ইসলাম।তিনি আজ শুক্রবার সাভারে ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদসদস্য প্রার্থী দিলশানা পারুলের শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন। সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগে মাতৃবাগান মসজিদ সংলগ্ন মাঠে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি সাভার উপজেলা আহ্বায়ক জুলকারনাইন।সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেত্রী দিলশানা পারুল, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শহীদুল ইসলাম, সাভার জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি হাসান মাহবুব মাস্টার প্রমুখ।
শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল সংলগ্ন সড়কে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে দ্বিতীয় দিন চলেছে অবস্থান কর্মসূচি। কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মী ও হাদির পরিবারের সদস্যরা।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনার সামনে উভয় পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়েও পুলিশ ব্যারিকেড দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে ১০–১২ জন এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অনেক আন্দোলনকারী অবস্থান করছেন।এর পাশাপাশি নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান ঘিরে যমুনার সামনে সকাল থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর দুপুর ১টার দিকে পুলিশ তাদের যমুনার সামনে থেকে সরিয়ে দেয়।গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা ও ছেলে ফিরনাস বিন ওসমানও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।উল্লেখ্য, গেল বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ফেরার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল ও অবশেষে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ভিপি আবদুর রশিদ জিতুসহ হল সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত নেতারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর উপস্থিতিতে তারা দলটির অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রদলে যোগ দেন।জিতু ছাড়াও জাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন শহিদ সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান, জিএস মাসুদ রানা মিন্টু, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের এজিএস রিপন মন্ডল। যোগদান অনুষ্ঠানে তারাও অনুপস্থিত ছিলেন।এছাড়া ছাত্রদলে যোগদান করেছেন নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের ভিপি জিএম এম রায়হান কবীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বনিক, নওয়াব ফয়জুননেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা বিথি, মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়ার নাজিম রিয়াদ এবং শহীদ রফিক জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলাম।এ সময় রুহুল কবির রিজভী আব্দুর রশিদ জিতু ও তার সহকর্মীদের বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনে যোগদানকে স্বাগত জানান।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক ব্যাংকে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা পরবর্তী কার্যদিবসে নিজ নিজ ব্যাংক থেকে জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন।৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য। উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক আজ অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে রাজধানীর রমনা এলাকায় যমুনা অভিমুখে যাত্রার সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের অন্তত ৯৬ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে। আহতদের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরও রয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংঘর্ষের পর থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আহত অবস্থায় এসব নেতাকর্মী চিকিৎসা নেন। প্রথম ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় থেকে পুলিশের লাঠিপেটায় অনেকে আহত হয়। পরে এ সংঘর্ষ শাহবাগ মোড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ছড়িয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছেন, জাবেরের শরীরে স্প্লিন্টার জাতীয় কিছু একটা থাকতে পারে। তবে সেটি গুলি কি না নিশ্চিত না। এদিকে জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পুলিশের লাঠিপেটায় আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ছবি: ঢাকা মেইলএ ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল ইনকিলাব মঞ্চ। কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ আগে থেকেই ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ব্যারিকেড বসায়।
আসন্ন নির্বাচন ইস্যুতে পাবলিক প্ল্যাটফর্মে সরাসরি আলোচনায় বসতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।ওই পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রিয় মাননীয় তারেক রহমান, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই বৈধতা আসে। ন্যায্যতা ও জনসাধারণের আস্থা ছাড়া কোনো ফলাফলই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না। জুলাই বিপ্লবের পর তরুণদের প্রতি আমাদের কর্তব্য হলো—রাজনীতি যে সুশীল এবং অ-সংঘাতমূলক হতে পারে, তা দেখানো। আসুন আমরা গণমাধ্যম ও জনসাধারণের সামনে দাঁড়াই এবং ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থার মান নির্ধারণ করি—যা সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ।’জামায়াত আমির লিখেছেন, যেহেতু আপনি আপনার পরিকল্পনার কথা সবাইকে জানিয়েছেন, তাই একটি পাবলিক প্ল্যাটফর্মে আমার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি—যেখানে আমরা জাতির সামনে আমাদের নিজ নিজ ইশতেহার উপস্থাপন করতে পারব এবং জনগণকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে পারব।তিনি লিখেছেন, আসুন, আমরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু করি, যেখানে আমরা সবাই জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো গতানুগতিক নির্বাচন নয়। এটি মা-বোনের সম্মান রক্ষার নির্বাচন, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের নির্বাচন, পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার নির্বাচন এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের নির্বাচন।শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পিরোজপুর সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা একসময় ১০ টাকায় চাল দেওয়ার কথা বলেছিল। এখন আরেক দল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে। এই ফ্যামিলি কার্ডও ১০ টাকার চাল দেওয়ার মতোই ধাপ্পাবাজি।”তিনি আরও বলেন, “দেশে যেসব নারীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইছেন, একটি দল তাদের কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। অথচ ওই দলের নেতারা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “হাদি, আবু সাঈদ, মুগ্ধরা উচ্চারণ করেছিল—এই দেশে আর কোনো বৈষম্য থাকবে না। সেই কারণেই তাদের হত্যা করা হয়েছে।”তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “এই হত্যার বদলা নিতে আপনাদের কাছে আমরা দুটি ভোট চাই—একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট, আরেকটি ইনসাফের রাষ্ট্র গঠনের ভোট। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি, আর ‘না’ ভোট মানে গোলামি। আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো গোলাম হতে চাই না।”ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েম করে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচারকারীদের মুখে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা উদ্ধার করে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা ভোট চুরির চিন্তা করবে, তারা যত বড় শক্তিই হোক, আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। এখন থেকেই সবাই পাহারা দেবেন, যেন কেউ ভোট কিনতে বা চুরি করতে না পারে।”বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা বেকার যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেবো, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যাত-পাত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ কোনো বৈষম্য করা হবে না। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে কাজ দেওয়া হবে। যার কাজ যত ঝুঁকিপূর্ণ, তার মর্যাদাও তত বেশি হবে।”মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “নিরপরাধ শহীদ মাওলানা সাঈদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার অপরাধ ছিল—তিনি কোরআনের বাণী প্রচার করতেন।” তিনি বলেন, “সাঈদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে আপনাদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজদের কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইনসাফের সরকারের সুযোগ পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হয়ে দেশ পরিচালনা করবো। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ ১৩ ফেব্রুয়ারি হবে ইনসাফের বাংলাদেশের নতুন সূর্যোদয়। দেশ কোনো দলের নয়—দেশ ১৮ কোটি মানুষের।”জনসভায় পিরোজপুরের তিনটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চান ডা. শফিকুর রহমান।জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আসনের প্রার্থী শামীম সাঈদী এবং পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী-পুরুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও বড় আকারের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে জড়ো হন। দুপুরের মধ্যেই সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। “ন্যায়ের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন”—এই স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে অনুরোধ করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)।শ্রীলঙ্কা সতর্ক করে বলেছে, ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বয়কট হলে বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও পর্যটন ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) চিঠি পাঠিয়ে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়। চিঠিতে বলা হয়, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে হোটেল বুকিং বাতিল, ফ্লাইট রিজার্ভেশন কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন লজিস্টিক সেবায় বিঘ্নসহ পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। নিরাপত্তা ইস্যু তুলে ধরে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিল।শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড জানায়, প্রয়োজনে তারা কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এত বড় ম্যাচে অংশগ্রহণ না করলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি, প্রত্যাশিত পর্যটন আয় হ্রাস এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অতীতে কঠিন নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেও শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানে একাধিকবার সফর করেছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর যখন অনেক দেশ পাকিস্তান সফরে অনিচ্ছা দেখিয়েছিল, তখন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। চিঠিতে এ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এসএলসি।
ঢালিউডের কিং অভিনেতা শাকিব খান ও তাঁর দুই স্ত্রীর সঙ্গে সমীকরণ নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। শাকিবের প্রথম স্ত্রী অপু বিশ্বাস। দ্বিতীয় স্ত্রী শবনম বুবলী। একটা সময়ে তারকা নিজেই দুই স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এবার শোনা যাচ্ছে বুবলীর সঙ্গে দ্বিতীয় সন্তান পরিকল্পনা করেছেন অভিনেতা। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অভিনেত্রী। সেই হিসাবে তৃতীয়বার বাবা হতে চলেছেন অভিনেতা।গত বছরের শেষের দিকে বুবলী ও শাকিব, তাঁদের ছেলে শেহজাদ বীরকে নিয়ে আমেরিকায় ঘুরতে যান। সেই সময়েই নাকি তাঁরা ফের ঘনিষ্ঠ হন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই অভিনেত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ছড়ায়। তবে এরপরে এমনও শোনা যায়, গর্ভপাত করিয়েছেন বুবলী। অবশেষে এখন শোনা যাচ্ছে, গর্ভপাত করাননি অভিনেত্রী। রমজানের প্রথম সপ্তাহেই নাকি আমেরিকায় উড়ে যাবেন বুবলী। সেখানেই সন্তানের জন্ম দেবেন তিনি।বুবলী ও শাকিবের সন্তান বীরের জন্মও হয় আমেরিকাতেই। যদিও, বুবলী জানিয়েছিলেন সেই সময়েও শাকিব নাকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁর খেয়াল রাখেননি একদমই। শাকিব নাকি সেই দেশে বুবলীকে একা ফেলে চলে আসেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।যদিও সেই সব অভিযোগ এখন অতীত। ফের শাকিবের সন্তানের মা হতে চলেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে বুবলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও উত্তর মেলেনি। ফোনে উত্তর মেলেনি শাকিব খানেরও।
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। ফ্যাশন সচেতনতার জন্য তিনি আলোচনায় থাকেন। এবার তিনি ধরা দিলেন আবেদনময়ী এক লুকে। তার লুক যেনো বলিউড অভিনেত্রীদেরও হার মানায়।অভিনেত্রীর ছবিতে তার এই বোল্ড রূপ দেখে মুগ্ধ ভক্ত-অনুরাগীরা। কেউ কেউ মিমের এ লুককে সরাসরি ‘বলিউড স্টাইল’ বলে আখ্যা দেন। তার ব্যক্তিত্ব ও শারীরিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন কেউ কেউ। ২০০৭ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বিনোদন জগতে পা রাখেন মিম। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত ‘আমার আছে জল' সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন তিনি।
বলিউডের পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। সোজাসাপটা বক্তব্য আর কর্মকাণ্ডে নানা সময়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তবে এবার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে উঠে এসেছে তার নাম।এ নিয়ে চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন আলোচনা। ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ করে। প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনকে পাঠানো একাধিক ই–মেইলে অনুরাগ কাশ্যপের নাম পাওয়া গেছে। এসব ই–মেইল তিন ব্যক্তির মধ্যে আদান–প্রদান হয়েছিল, যেখানে আলোচনায় জেফরি এপস্টেইনও ছিলেন বলে জানা গেছে। মেইলে এপস্টেইনের কিউবা সফরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বৌদ্ধধর্ম, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিষয়ক কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকায় অনুরাগ কাশ্যপের নাম উল্লেখ করা হয়।অনুরাগ কাশ্যপের নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি সত্যিই ওই অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটাই করা হয়নি। তাকে কেবল জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বা সম্ভাব্য মূল বক্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রকাশিত নথিতে বিভিন্ন তারকার নামও উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাইকেল জ্যাকসন, অভিনেত্রী ও গায়িকা ডায়ানা রস, মার্কিন অভিনেতা ক্রিস ট্যাকার, সংগীতশিল্পী মিক জ্যাগারসহ আরও কয়েকজন।তবে ই–মেইলে কারও নাম থাকলেই তিনি কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বা এপস্টেইনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন-এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে এপস্টেইন ও অনুরাগ কাশ্যপের একই সময়ে একই স্থানে উপস্থিত থাকার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরাগ কাশ্যপকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সূত্র: আনন্দবাজার
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন গ্ল্যামার, ক্ষমতা আর অগাধ সম্পদের আড়ালে গড়ে তুলেছিলেন নারকীয় এক সাম্রাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসের নথি প্রকাশ হওয়ার পরে পুরো বিশ্বে শুরু হয়েছে এটি নিয়ে তোলপাড়। যে তালিকায় রথী-মহারথী রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, লেখক থেকে শুরু করে অভিনেতারাও রয়েছেন। যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।এবার দেখা গেছে কিছু নথিতে জড়িয়েছে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন এবং রক কিংবদন্তি মিক জ্যাগারের নাম। মঙ্গলবার পাম বন্ডি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এপস্টাইন ফাইলের একটি বড় অংশ প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিনোদন ও রাজনৈতিক জগতের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে।প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, জেফ্রি এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিজলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে বিভিন্ন প্রমোদ ভ্রমণে অংশ নিয়েছিলেন অনেক তারকা। এর মধ্যে একটি ছবিতে মাইকেল জ্যাকসনকে ডায়ানা রস ও বিল ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা গেছে। অন্য একটি ছবিতে পপসম্রাটকে এপস্টাইনের পাম বিচ হাউসেও দেখা গেছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব ছবিতে বা নথিতে মাইকেল জ্যাকসনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।২০১৬ সালের একটি জবানবন্দিতে এপস্টাইনের এক অভিযোগকারী জানিয়েছিলেন, তিনি এপস্টাইনের বাড়িতে মাইকেল জ্যাকসনকে দেখেছিলেন। তবে সেই জবানবন্দিতেও জ্যাকসনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়নি।অন্যদিকে, রোলিং স্টোনসের তারকা মিক জ্যাগারের একটি ছবি পাওয়া গেছে বিল ক্লিনটন ও এপস্টাইনের সঙ্গে একটি ডিনারে। সেখানেও জ্যাগারের কোনো বেআইনি কাজের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বিনোদন জগতের বাইরে রাজনীতিকদের মধ্যে বিল ক্লিনটন এবং অভিনেতা ক্রিস টাকারের নাম ও ছবি রয়েছে এ তালিকায় । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও কনস্পিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলতে শুরু করেছে এ নিয়ে।
ভারতীয় গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ গিয়ে হাজির হয়েছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। প্লেব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জে অরিজিতের পৈতৃক নিবাসে আমিরের এই আকস্মিক সফর। এ নিয়ে বিনোদন জগতে নতুন গুঞ্জন।জানা গেছে, জিয়াগঞ্জের নিহালিয়া পাড়ায় গত রোববার রাতে অরিজিতের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন আমির খান। এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আজিমগঞ্জ-জিয়াগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ ।তিনি জানিয়েছেন, রোববার রাত অরিজিতের আমির বাড়িতেই কাটিয়েছেন। আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে অরিজিতের বাড়ির চারপাশে জোরদার হয়েছিলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, আমির খান কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অরিজিতের বাড়ির ছাদে হাসি মুখে ঘুড়ি ওড়াচ্ছেন । প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে ভিড় জমান স্থানীয়রা। আমির হাত নেড়ে ভক্তদের অভিবাদন জানান। তবে হঠাৎ করেই কয়েক দিন আগে অরিজিৎ সিং চলচ্চিত্র বা প্লেব্যাক সংগীত থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তে হতাশা বিরাজ করছে ভক্তদের মধ্যে। অরিজিৎকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার অনুরোধ হিসেবে আমির খানের এই ঝটিকা সফর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোনার বাজারে আবারও বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। দুই দিনের ব্যবধানে বড় ধরনের পতনে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরি প্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমেছে।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বাজুস) এ দর কমিয়ে নির্ধারণ করে। সকাল ১০টার দিকে নতুন করে সোনার দাম সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। নতুন করে সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে এখন ভরি প্রতি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা পড়বে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন ও আশ্রয়নীতি আরও কঠোর হচ্ছে। এ নিয়ে ডাবলিন রেগুলেশনের নতুন সংস্করণ অনুমোদন করেছেন ইইউ নেতারা। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বিশেষ ইইউ লিডারদের বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো আশ্রয়প্রার্থী যদি একটি ইইউ দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান করেন বা ইউরোড্যাকসহ ইইউর কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে নিবন্ধিত হন, তাহলে তিনি আর অন্য কোনো ইইউ দেশে গিয়ে নতুন করে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন না। পরবর্তীতে অন্য দেশে আশ্রয়ের আবেদন করলে তাকে সরাসরি প্রথম নিবন্ধিত দেশেই ফেরত পাঠানো হবে। ইইউ নেতারা বলছেন, নতুন ডাবলিন রেগুলেশনের মূল উদ্দেশ্য হলো তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি মুভমেন্ট’ বা এক দেশ থেকে অন্য দেশে অভিবাসীদের অবৈধ স্থানান্তর বন্ধ করা। একইসঙ্গে আশ্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করাও এই সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।একই ব্যক্তি একাধিক দেশে আবেদন করে আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে দায়িত্ব বণ্টন আরও পরিষ্কার হবে বলে জানান ইইউ কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডাবলিন রেগুলেশনের এই নতুন সংস্করণ কার্যকর হলে ভূমধ্যসাগরীয় সীমান্তবর্তী দেশগুলো যেমন ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টা আরও বেশি চাপের মুখে পড়বে। কারণ অধিকাংশ অভিবাসী প্রথমে এসব দেশেই প্রবেশ করেন এবং সেখানেই তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়। ইইউ নেতারা দাবি করছেন, সীমান্তবর্তী দেশগুলোর ওপর চাপ কমাতে আর্থিক সহায়তা ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। নতুন নীতিকে ঘিরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের মানবিক ও আইনি অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মুখপাত্র বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রথম প্রবেশকারী দেশগুলোতে আশ্রয় ব্যবস্থা দুর্বল। সেখানে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।নতুন সিদ্ধান্তের খবরে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এখন থেকে ভুলবশত এক দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলেই ভবিষ্যতের সব সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপে আশ্রয় প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও কঠোর করে তুলবে।ইইউ সূত্র জানায়, নতুন ডাবলিন রেগুলেশন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘একলা খেলে যম নেয়, দশজনে খেলে ধর্ম রয়।’ এ প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ যমরাজ এসে ধরে নিয়ে যাওয়া না। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি অত্যন্ত গভীর। প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো, দশজনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে শরীর ও মন উভয়ই ‘ধর্ম’ অর্থাৎ সুশৃঙ্খল থাকে। আবার দশজন মানে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সংখ্যার দশ নয়, এর অর্থ অনেকে মিলে।খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষেরা একা খেতে বসার পক্ষে নন। দাদি-নানিরা সব সময়ই বলে থাকেন, একা একা বসে খাচ্ছিস কেন, সবার সঙ্গে বসে খা! এই একা খেতে বসার অভ্যাস কেবল একাকিত্ব বাড়ায় না। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তোলে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, একা খেতে বসার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে অন্তত দুবার একা বসে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সংমিশ্রণে হওয়া মেটাবলিক সিনড্রোম নামে একটি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, একা খেতে বসলে পুরুষদের স্থূলতার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ২৪টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বলছে, একা খেতে বসলে মানুষ পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন প্রক্রিয়াজাত বা রেডি মিল বেশি পছন্দ করে। এতে শরীরে প্রোটিন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয়।মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবএকা খাওয়া কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৮ হাজারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক অসুস্থতার পর একা খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসুখী করে তোলে। অনেকে মনে করেন, একা খেতে বসা মানেই স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজিস্ট ড. স্টিফানি কাসিওপ্পোর মতে, মানুষ যদি খাওয়ার সময় নিজেকে একা মনে করে, তবে তার শরীর বেশি চর্বিযুক্ত ক্যালরি শোষণ করে।বার্ধক্য ও একাকী ভোজনপ্রবীণদের জন্য একা খাওয়া এক নীরব ঘাতক। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা যখন একা খান, তখন তাঁরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা ফ্রেইল হয়ে পড়েন। একা খাওয়ার ফলে বয়স্কদের প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণ কমে যায়। তা নেমে আসে প্রায় ৫৮ গ্রাম থেকে ৫১ গ্রামে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওপোরোসিস বা হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং পুষ্টিহীনতা উভয়ই মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে, যা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কের আয়তনও সংকুচিত হতে পারে।কেন একা খেতে বসা ক্ষতিকরগবেষকেরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:উদ্দীপনার অভাব: যখন কেউ একা খান, তখন তাঁর ভালো কিছু রান্না করার আগ্রহ কমে যায়।খাওয়ার গতি: দলগতভাবে খেলে মানুষ গল্প করে ধীরে ধীরে খায়। এ বিষয়টি হজমে সাহায্য করে। একা খেলে মানুষ হয় খুব দ্রুত খায় নতুবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে।ইগো ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ওজনের মানুষ অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে অন্যদের সামনে খেতে চান না। এটা তাঁদের আরও বেশি একা খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।খাবার কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপায়। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া বা মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস ম্যাগাজিন, ডেইলি মেইল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে তাদের গঠিত সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের সরকার হবে জনগণের নিকট দায়বদ্ধ। যুগ যুগ ধরে এ দেশে জবাবদিহিতা ছাড়াই দেশ শাসন করা হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে পর্দার আড়াল থেকে। ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির পাহাড়কে গোপন করা হয়েছে চুপিসারে।’তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় আমরা যদি সেবা করার সুযোগ পাই, আমাদের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সম্পদের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবেন। তাদেরকে নিয়মিত জনগণের মুখোমুখি হতে হবে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’দায়িত্বের স্বচ্ছতার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের সরকার চলবে স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি কাজ, ব্যয় এবং সেবা প্রদানের প্রতিটি ধাপ নাগরিকরা সরাসরি (রিয়েল-টাইম) পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। জনগণের থেকে লুকিয়ে রাখার এই সংস্কৃতির চিরস্থায়ী অবসান ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।’