ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৭২৫ ভোটার ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেসরকারি ফলাফলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।মোট ১২৭টি কেন্দ্রের ফলাফলের হিসেবে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জামায়াত আমির পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট এবং ধানের শীষ নিয়ে মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট। ফলে ২০ হাজার ৭২৫ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।এদিন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর পরপরই শুরু হয় ভোট গণনা।এবার ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আট প্রার্থী। তারা হলেন – প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আমির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুর রহমান ও বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মো. সামসুল হক, কাস্তে প্রতিকের আহাম্মদ সাজেদুল হক, নীলাভ পারভেজসহ আরও তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।উল্লেখ্য, ঢাকা ১৫ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার হলো ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন এবং নারী ভোটার হলো ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৩৮ জন।
একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক দল ভোটের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভোটারদের মনে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। সেই সঙ্গে কালোটাকা মহাৎসব, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই সিল মারা ব্যালট পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসবের পরও নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় পেতে চলেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দিনভর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।মাহদী আমিন বলেন, চিহ্নিত রাজনৈতিক দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এমনভাবে ব্যবহার করেছে, যাতে ভোটারদের মনে ভোট বিষয়ে একধরনের ভীতি তৈরি হয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির বিজয় অনিবার্য ও নিরঙ্কুশ। সেটিকে স্তিমিত করার কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না বলেই বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট গ্রহণ শেষে বিএনপির আনুষ্ঠানিক এই ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় যাঁরা আহত ও নানা কারণে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।এখন ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান মাহদী আমিন। বিএনপির নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভোটের ফলাফল নিশ্চিত করার আগে কেউ যাতে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ না করেন।’গতকাল রাত থেকেই বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা, কারচুপি ও কালোটাকার মহোৎসব হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তবে যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং দেশের মানুষও এই ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।মাহদী আমিন আরও অভিযোগ করেন, চিহ্নিত রাজনৈতিক দলটি অনেক জায়গায় ভুয়া পর্যবেক্ষক তৈরির মাধ্যমে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক আগেই আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছিলাম। নির্বাচন কমিশন ক্ষেত্রবিশেষে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেটি আরও আন্তরিক ও সামগ্রিক হলে আরও যথাযথভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ রোধ করা যেত।’দেশের বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই সিল মারা ব্যালট পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। এ ছাড়া অনেক জায়গায় জাল ভোট দেওয়া হয়েছে, মৃত মানুষের ভোট দেওয়ার অভিযোগও এসেছে। অনেকে নিজেদের ভোট দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ পেয়েছে বিএনপি। মাহদী আমিন বলেন, ‘এসব ঘটনা প্রমাণ করে, ফ্যাসিবাদী আমলের মতোই একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ার অপসংস্কৃতি এখনো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।'মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ধানের শীষে জোয়ারে বিএনপির বিজয় হবে। গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত হবে।’ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর ও সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগণনা চলাকালীন প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ৫টি আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীরা জয় নিশ্চিত করেছেন।বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান আসিফ মাহমুদ।আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ইতোমধ্যে ৫টি আসনে শাপলা কলির বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। অনেকগুলো আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক দল এবং তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে শাপলা কলি ভোটারদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে এখন চলছে চূড়ান্ত ফলাফল গণনার কাজ। রাত বাড়ার সাথে সাথে অন্যান্য আসনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মোট ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমান ৯ হাজার ৪৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২১ হাজার।কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি এবার ভোটারদের উপস্থিতির দিক থেকে বেশ প্রাণবন্ত ছিল। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৫ জন।লিঙ্গভিত্তিক ভোটার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখানে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা সামান্য বেশি। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৩৬২ জন। নির্বাচনের দিন চরাঞ্চলের নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে পরাজয় মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রার্থী শিশির মনির।বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানান। স্ট্যাটাসে শিশির মনির লেখেন, “আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী জনাব নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।”এদিকে, সব কেন্দ্রের ফলাফল এখনও প্রকাশিত না হলেও ৫১টি কেন্দ্রের ফলে নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রায় দ্বিগুণ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫২ হাজার ৭১৩ ভোট। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শিশির মনির পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪০৮ ভোট।শিশির মনিরের অভিনন্দনবার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সর্বোচ্চ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।আসিফ নজরুল বলেন, ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই, অর্থাৎ রমজানের আগেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। ফলাফলের গেজেট নোটিফিকেশনের পর যত দ্রুত সম্ভব সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে।উপদেষ্টা আরও বলেন, গেজেট নোটিফিকেশন সর্বোচ্চ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করা হবে এবং ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন সম্পন্ন হবে।নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। আসতে শুরু করেছে ফলাফল। এতে প্রথম বেসরকারিভাবে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঝিনাইদহ-১ আসনে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে।মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে আসাদুজ্জামানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে আসাদুজ্জামান পেয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট।বেসরকারিভাবে ধানের শীষের প্রার্থী আসাদুজ্জামান ১ লাখ ১৬ হাজার ২১ ভোটে জয়লাভ করেছেন।প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বা অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন আসাদুজ্জামান। তবে তিনি সেই পদ ছেড়ে এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদীয় নির্বাচনে ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীমউদ্দীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ভোট।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ফলাফল জানা যায়। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসীম উদ্দিন। তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।জসীম উদ্দিন ট্রাক প্রতীক নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।ফেসবুক লাইভে জসীম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, দেবিদ্বারের মানুষের কথা চিন্তা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমি বর্জন করলাম। প্রশাসন আমাদেরকে হেল্প করেনি। বারবার ফোন দেওয়ার পরও বিভিন্ন কেন্দ্রে যায়নি।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কিছু কর্মী ও সমর্থকরা মিলে মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শাখায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তার ভোটার ও সমর্থকদের শারীরিকভাবেও নাজেহাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলের আমির ও ঢাকা ১৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী শফিকুর রহমান।তিনি বলেছেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, ভোট শেষ হওয়ার পরে ভোট গণনার সময়ও এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পার। যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়, তাহলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে না।’বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে নির্বাচনী ক্যাম্পে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সকালে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকে এই নির্বাচনের প্রথম ভাগেই আমার ভোটটি মণিপুর বালক উচ্চবিদ্যালয়ে প্রদান করেছি। আমি তখন স্বাভাবিক অবস্থা সেখানে বিরাজমান দেখেছি এবং ভোটার উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। এরপরে আমি ক্রমান্বয়ে অনেকগুলো সেন্টার দেখার চেষ্টা করেছি। আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি, দুই-একটা সেন্টার ছাড়া বাকি সেন্টারগুলোতে ভোটার টার্নওভার ছিল খুবই সন্তোষজনক।’তবে মণিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বালিকা শাখা কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই কেন্দ্রের একটি ভবনেই ২৬ হাজার ভোট রয়েছে। সেখানে হঠাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কিছু লোক বেপরোয়াভাবে ঢুকে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হস্তক্ষেপ করেন। এমনকি জামায়াতের ভোটার ও সমর্থকদের শারীরিকভাবে নাজেহাল করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়ে দেখলাম সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে বিষয়টি হ্যান্ডেল করছেন। আমি তাকে বলেছি, ভোট আওয়ার শেষ হওয়ার পরে যেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারে। বাইরেও যাতে অহেতুক জটলা বা টেনশন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’দেশের অন্যান্য স্থানের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপিদলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা কুমিল্লার বরুড়া, লাকসাম ও ভোলার লালমোহনসহ বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা তৈরি করেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।দুপুর পর্যন্ত ভোট পড়ার হার (৩৩ শতাংশ) নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ভালো ভোট পড়বে। জয়ের ব্যাপারে তিনি ভোটারদের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন।বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই আজকে বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা আশা রাখি। এই জাতি জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা সেটাকে সম্মান করে। যারা শহীদ, যারা বেঁচে আছে– তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আমরা সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার সাজিয়েছি।”
ঢাকা-৯ আসনে ৫৫ কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে অনেক এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিব। তার ধারেকাছেও নেই আসনটির স্বতন্ত্র প্রার্থী তরুণ চিকিৎসক তাসনিম জারা। তিনি রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। এই আসনের ১৬৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৫৬৯ ভোট। অন্যদিকে শাপলা কলি পেয়েছে ১৬ হাজার ২৮৩ ভোট। আর ফুটবল পেয়েছে ১২ হাজার ৩১১ ভোট।এবারের নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচনায় ছিলেন তাসনিম জারা। প্রথমে এনসিপির হয়ে লড়ার কথা থাকলেও পরে দলটি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। অন্যান্য আসনের মতো এখানেও দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। এই্ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৭২৫ ভোটার ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেসরকারি ফলাফলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।মোট ১২৭টি কেন্দ্রের ফলাফলের হিসেবে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জামায়াত আমির পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট এবং ধানের শীষ নিয়ে মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট। ফলে ২০ হাজার ৭২৫ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।এদিন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর পরপরই শুরু হয় ভোট গণনা।এবার ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আট প্রার্থী। তারা হলেন – প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আমির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুর রহমান ও বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মো. সামসুল হক, কাস্তে প্রতিকের আহাম্মদ সাজেদুল হক, নীলাভ পারভেজসহ আরও তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।উল্লেখ্য, ঢাকা ১৫ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার হলো ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন এবং নারী ভোটার হলো ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৩৮ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরে পাঁচটি আসনের ৪টিতে বিএনপি প্রার্থী এবং ১টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী বিএনপি) বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে রাতে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে এমনই তথ্য জানা গেছে। বেসরকারিভাবে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা হলেন-চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ড.আ ন ম এহসানুল হক মিলন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ভোট- ১,৩৩,১৬২ । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মো. মকবুল আহমেদ পেয়েছেন- ৬৭,০৭৭ ভোট। জয়ের ব্যবধান- ৬৬,০৮৫ ভোট।চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর- মতলব দক্ষিণ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো.জালাল উদ্দিন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ভোট- ১,৭০,৫৮৩। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এলডিপির প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেয়েছেন ৫৪,৭৩৩ ভোট। জয়ের ব্যবধান ১,১৫,৮৫০ ভোট।চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ভোট-১,৬৪,০১০ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ্যাড.শাহাজাহান মিয়া পেয়েছেন- ৯৬,৮১১ ভোট। জয়ের ব্যবধান- ৬৭,১৯৯ ভোট।চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী বিএনপি) মো. আব্দুল হান্নান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ভোট-৭৩,৮৪২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী লায়ন মো. হারুনর রশীদ পেয়েছেন- ৬৯,২১৫ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজি পেয়েছেন- ৬৬,৫০৫ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৪,৬২৭ ভোট।চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ভোট- ১,৮১,৯১১ । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এলডিপির প্রার্থী ড.নিয়ামুল বশির পেয়েছেন- ৭১,৮৫০ ভোট। জয়ের ব্যবধান- ১,১০,০৬১ ভোট।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইতি টেনেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ৩৬ বছর বয়সে এসে দিয়েছেন জীবনের প্রথম ভোট। নির্বিঘ্ন ও শান্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়ে খুব খুশি তিনি।১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম–৯ আসনের আঞ্চলিক লোক প্রশাসন কেন্দ্রের ১৯ নম্বর ভোটকক্ষে ভোট দেন। এ সময় তামিম বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। ভোট ভালোই হচ্ছে। পছন্দের প্রার্থীকে একটি ভোটই দিয়েছি।’ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় সেনাবাহিনীর প্রটোকল ছিল তামিমের সঙ্গে। শান্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ সুস্থ। সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন বলেও প্রত্যাশা তামিমের। ভোট কেন্দ্রে তামিমকে দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় ভোটার ও তরুণরা। অনেকেই তার সঙ্গে মোবাইলে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই এ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। কোতোয়ালী, চান্দগাঁও, ডবলমুরিং এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসন গঠিত।এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৯০৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৪৪৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৯ জন। চট্টগ্রাম-৯ আসনে নির্বাচন করছেন ৯ জন প্রার্থী। তারা হচ্ছেন– বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডা. একেএম ফজলুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আবদুল মোমেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, নাগরিক ঐক্য’র মো. নুরুল আবছার মজুমদার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মো. শফি উদ্দিন কবির, জনতার দল–এর মো. হায়দার আলী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ নির্বাচন করছেন।
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে আনন্দচিত্তে ভোট দিলেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী ও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত বেবী নাজনীন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন তিনি।ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বেবী নাজনীন। তিনি বলেন, “ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। খুব আনন্দ হচ্ছে। অবশেষে ভোট দিতে পারলাম। এটাই তো চেয়েছিলাম। ইচ্ছে করছে ১৭ বছরের সব ভোট আবার দেই।”দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তই তার কাছে চূড়ান্ত। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে সংসদে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটাও নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহ যদি চান, তবে হয়তো হবে।”ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর, সফল ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ধানের শীষের জয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ভোটে অংশ নিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোটে অংশ নিচ্ছেন বিনোদন অঙ্গনের তারকা, অভিনয় শিল্পী, নির্মাতারাও। নিজের ভোটটি দিয়ে এসে একটি ভিডিও বার্তায় কথা বললেন নির্মাতা আশফাক নিপুন।১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মহানগর খ্যাত নির্মাতা জানান, ভোট দেওয়া শেষ। সকাল ৭:৩০ মিনিটে এখানে এসেছি এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে ৮:১০ মিনিটে আমার পালা এলো। মনোরম আবহাওয়া, উৎসাহী ভোটার আর আন্তরিক কর্মকর্তাদের দেখে খুব ভালো লাগছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত- সবাই ভোট দিন। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক। সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তায় নিপুন বলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে হোক।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সারা দেশে যখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলছে, তখনই ন্যান্সি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে জানিয়ে দিলেন, তিনি না ভোটের পক্ষে। যদি নেটিজেনদের একাংশ তাকে তীব্র তোপের মুখে ফেলেছেন। তবে এসবে একেবারে নজর দিচ্ছেন না এই গায়িকা। জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন ন্যান্সি। বিগত সময় তার নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। অনেক কনসার্ট তার বাতিল হয়েছে।তবুও ভেঙে পড়েননি। নতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরনতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরশোবিজ তারকাদের সবার যখন নানা সুযোগ হাতছানি দিচ্ছিল, তখন ন্যান্সি বলেছিলেন, শিল্পীদের এত এমপি-মন্ত্রী হওয়ার শখ কেন? কী আছে সেখানে? কত টাকা বেতন পায় এমপিরা? গান অথবা অভিনয় করে কি যথেষ্ট সম্মানী আসে না যে এমপি হওয়ার জন্য লোভ করতে হবে? যারা এগুলো করে এদের ধরা উচিত। আমার মধ্যে এসব চিন্তা একেবারেই নেই। নিজে নির্বাচন করবেন কি না এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, আমি এখনই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই না। তবে যে দল আমার ভালো লাগে, আমি তো চাইবই তারা ক্ষমতায় আসুক। তবে সব কিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের জনগণ। জনগণের কাছে আমার চাওয়া এত দিন যারা কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করে গুম, দুর্নীতি এবং কিছু বললেই চরিত্র নিয়ে কথা বলত, তাদের ক্ষমতায় আনবে কি না মাথায় রাখতে। আর কোনো তারকা দেখলেই নমিনেশন দেবেন না। যদি সেই তারকা রাজনীতির লম্বা পথ পাড়ি দিতে পারে তাহলে তাকে সেই টাইমে দেওয়া উচিত। তারপর তাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন।
নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত ‘মাস্টার’ চলচ্চিত্রটি সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে ছবিটি। উৎসবের শুরু থেকেই সিনেমার নির্মাতা সুমিতসহ অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম ও নাসির উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।রটারড্যামের অভিজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে জানান অভিনেত্রী বাঁধন। পুরস্কার প্রাপ্তির মুহূর্তটিকে তিনি বর্ণনা করলেন আবেগাপ্লুত হয়ে। বাঁধন বললেন, সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা খুব সাধারণভাবে গিয়েছিলাম; ভেবেছিলাম অন্য সবাই পুরস্কার পাবে আর আমরা হাততালি দেব। সেই হাততালি যখন বাংলাদেশের জন্য হয়ে গেল, সেটা খুব আনন্দের ছিল।পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত একজন অত্যন্ত সৎ নির্মাতা। আজ তার সেই সততারই প্রতিফলন ঘটেছে এই অর্জনে।প্রবাসীদের ভালোবাসায় মুগ্ধ বাঁধন জানান, সাপ্তাহিক কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ডাচ দর্শকদের সিনেমা দেখার আগ্রহ এবং প্রশংসা অভিনেত্রীকে অভিভূত করেছে। এবারের রটারড্যাম উৎসবে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সাফল্য নিয়ে বাঁধন বলেন, বাংলাদেশের সিনেমা শক্ত একটি জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। রেহেনা থেকে শুরু করে যেসব সিনেমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেছে, সবগুলোই বাংলাদেশের সিনেমাকে সমৃদ্ধ করছে। আর এটা খুব সম্মানের বিষয়, এবার রটারড্যামে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা ছিল। মনে হয়েছে, ফেস্টিভ্যালটা আমাদের। একই সঙ্গে আমরা তিনটি টিম নেদারল্যান্ডসে এসেছি। সবার সঙ্গে সবার দেখা হচ্ছে, সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে গ্র্যামি-মনোনীত জনপ্রিয় মার্কিন রক ব্যান্ড ‘থ্রি ডোরস ডাউন’এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রধান ভোকালিস্ট ব্র্যাড আর্নল্ড মারা গেছেন। ৪৭ বছরে তার জীবনাবসান ঘটলো।৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যেই চলে গেলেন তিনি। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্টেজ–৪ কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত ব্র্যাড স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে জানান ব্র্যাড আর্নল্ড। তখন তিনি জানান, তার শরীরে স্টেজ–৪ ক্লিয়ার সেল রেনাল কার্সিনোমা শনাক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়ে। ক্যানসারের খবর জানিয়ে সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমি ভয় পাই না। সত্যিই ভয় পাচ্ছি না। সুযোগ পেলে আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। তার অসুস্থতার কারণে ওই সময় ব্যান্ডটির নির্ধারিত একাধিক ট্যুর বাতিল করা হয়।১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে গঠিত হয় ‘থ্রি ডোরস ডাউন’। ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য বেটার লাইফ’ প্রকাশের পরই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং অ্যালবামটি ছয় মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়।এখন পর্যন্ত ব্যান্ডটি মোট ছয়টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। তাদের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গ্র্যামি মনোনয়ন ও বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। ব্র্যাড আর্নল্ডের লেখা ‘ক্রিপ্টোনাইট’, ‘হেয়ার উইথাউট ইউ’, ‘হোয়েন আই’ম গন’ ও ‘লুজার’ এই গানগুলো রক সংগীতে তাকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি ও খ্যাতি।
ঈদুল আজহায় আসছে শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’। এ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে শাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তানজিয়া জামান মিথিলা। দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে পাকিস্তানের কোনো নায়িকা থাকতে পারেন-এমনটাই শোনা যাচ্ছে।সিনেমা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় নায়িকার চরিত্রের জন্য ইতোমধ্যে পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করেছেন মিথিলা। চরিত্রটি তার পছন্দও হয়েছে। তবে ছবির প্রধান নায়িকা হিসেবে কে থাকছেন, তা গোপন রাখা হয়েছে; হতে পারে পাকিস্তানের শীর্ষ কোনো অভিনেত্রীকে রাখা হবে সে স্থানে।বিষয়টি এখন পর্যন্ত গুঞ্জনে মোড়া থাকলেও কারও সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনই নাম প্রকাশ করতে চাইছে না নির্মাতা পক্ষ। এ বিষয়ে সিনেমার পরিচালক আজমান রুশো সংবাদ মাধ্যমে জানান, নায়িকা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না, আমরা দ্বিতীয় নায়িকার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব। চূড়ান্ত হওয়ার আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এ প্রসঙ্গে চুপ রয়েছেন তানজিয়া মিথিলাও। বর্তমানে ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শাকিব খান। সেই ছবির কাজ শেষ করে দুই সপ্তাহের বিরতি নেবেন তিনি। এরপরই ‘রকস্টার’-এর শুটিং শুরু করার কথা রয়েছে ঢালিউড কিংয়ের।
আমার ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, সেজন্য ক্ষমা করবেন জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আমি আগে কখনো কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলাম না। সরকার গঠনের পরপরই পেশাগত জীবনে ফিরে যাব। আবারও সেই নিরিবিলি জীবনে ফিরে যেতে চাই। তবে একটি শেষ অনুরোধ আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি সই নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তালা বরকত দিয়েছেন।তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন। কোনো বিষয়ে যখনই পরামর্শ বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তিনি আন্তরিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। যত কিছু সম্ভব হয়েছে আমি মনে করি প্রধান উপদেষ্টা তার নির্দেশনায় যে আমি, আমরা কাজ করতে পেরেছি এবং আমরা যখনই কোনো বিষয়ে উনার নির্দেশনা বা উনার গাইডেন্স কামনা করেছি উনি সকল সময়ে অসম্ভব দরদ দিয়ে এবং বুদ্ধিমত্তাকে মিলিয়ে যে ধরনের নির্দেশনা আমাদেরকে দিয়েছেন, সেগুলোকে প্রতিপালন করার চেষ্টা করেছি।শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।ছোট খামারি ও বড় উদ্যোক্তা– উভয় পক্ষকেই অন্তর্ভুক্ত রেখে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির পথে এগিয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো। ভবিষ্যতেও তার উত্তরসূরিরা একই ধারাবাহিকতায় কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মালদ্বীপের থিলাফুশিতে নিখোঁজের দুই দিন পর আবর্জনার স্তূপ থেকে আমিন মিয়া (২৪) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে, যা যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি আমিন মিয়া নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৮ জানুয়ারি থিলাফুশির একটি কর্মস্থলের আবর্জনার স্তূপের ভেতর থেকে ওই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়ক মেনিকা একটি খননকারী যন্ত্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, যন্ত্রটির আঘাত লাগার ফলেই আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে।অভিযুক্ত মেনিকাকে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ।তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক আঘাতের পর আমিন মিয়া আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে যান এবং এরপরও ঘটনাস্থলে কাজ অব্যাহত রাখা হয়। খননকারী যন্ত্রের অপারেটর ঘটনাটি ঘটার সময় বিষয়টি অবগত ছিলেন কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।পুলিশের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার আহত হওয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।এদিকে ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।এছাড়া, আমিন মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে মালদ্বীপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, স্থানীয় গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অবহেলার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের অবহেলার কারণে পুলিশকে অবহিত করতে দেরি হয়। স্থানীয় সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা গেছে, আমিন মিয়া ময়লার স্তূপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পরও দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্য করেননি। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে হয়তো তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘একলা খেলে যম নেয়, দশজনে খেলে ধর্ম রয়।’ এ প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ যমরাজ এসে ধরে নিয়ে যাওয়া না। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি অত্যন্ত গভীর। প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো, দশজনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে শরীর ও মন উভয়ই ‘ধর্ম’ অর্থাৎ সুশৃঙ্খল থাকে। আবার দশজন মানে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সংখ্যার দশ নয়, এর অর্থ অনেকে মিলে।খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষেরা একা খেতে বসার পক্ষে নন। দাদি-নানিরা সব সময়ই বলে থাকেন, একা একা বসে খাচ্ছিস কেন, সবার সঙ্গে বসে খা! এই একা খেতে বসার অভ্যাস কেবল একাকিত্ব বাড়ায় না। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তোলে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, একা খেতে বসার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে অন্তত দুবার একা বসে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সংমিশ্রণে হওয়া মেটাবলিক সিনড্রোম নামে একটি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, একা খেতে বসলে পুরুষদের স্থূলতার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ২৪টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বলছে, একা খেতে বসলে মানুষ পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন প্রক্রিয়াজাত বা রেডি মিল বেশি পছন্দ করে। এতে শরীরে প্রোটিন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয়।মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবএকা খাওয়া কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৮ হাজারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক অসুস্থতার পর একা খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসুখী করে তোলে। অনেকে মনে করেন, একা খেতে বসা মানেই স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজিস্ট ড. স্টিফানি কাসিওপ্পোর মতে, মানুষ যদি খাওয়ার সময় নিজেকে একা মনে করে, তবে তার শরীর বেশি চর্বিযুক্ত ক্যালরি শোষণ করে।বার্ধক্য ও একাকী ভোজনপ্রবীণদের জন্য একা খাওয়া এক নীরব ঘাতক। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা যখন একা খান, তখন তাঁরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা ফ্রেইল হয়ে পড়েন। একা খাওয়ার ফলে বয়স্কদের প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণ কমে যায়। তা নেমে আসে প্রায় ৫৮ গ্রাম থেকে ৫১ গ্রামে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওপোরোসিস বা হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং পুষ্টিহীনতা উভয়ই মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে, যা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কের আয়তনও সংকুচিত হতে পারে।কেন একা খেতে বসা ক্ষতিকরগবেষকেরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:উদ্দীপনার অভাব: যখন কেউ একা খান, তখন তাঁর ভালো কিছু রান্না করার আগ্রহ কমে যায়।খাওয়ার গতি: দলগতভাবে খেলে মানুষ গল্প করে ধীরে ধীরে খায়। এ বিষয়টি হজমে সাহায্য করে। একা খেলে মানুষ হয় খুব দ্রুত খায় নতুবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে।ইগো ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ওজনের মানুষ অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে অন্যদের সামনে খেতে চান না। এটা তাঁদের আরও বেশি একা খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।খাবার কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপায়। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া বা মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস ম্যাগাজিন, ডেইলি মেইল
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘নতুন ভোরের অপেক্ষায় বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ।’বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।একই সময়ে একটি ভিডিও পোস্ট করে সাদেক কায়েম লেখেন, ‘নোয়াখালী–৫ আসনের কবিরহাট সরকারি কলেজের ৭১নং ভোটকেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী ফখরুল ইসলামের পক্ষে বিএনপির কর্মীরা ধানের শীষে জাল ভোট দিচ্ছে। প্রশাসনকে অতিদ্রুত ঐ কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ অপর আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এখনো যারা ভোট দেননি, ভোটকেন্দ্রে আসুন এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন; ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিন। ইনসাফের জয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’এর আগে লাইভে আসেন সাদেক কায়েম। লাইভ পোস্টের শিরোনাম ছিল- ‘সজাগ থাকো বাংলাদেশ’। এদিন সকালে খাগড়াছড়ির শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান ভিপি সাদিক কায়েম। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন ভোট উৎসবের জন্য বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিল। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। মানুষ ভোটের আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিল। জুলাই আন্দোলনে মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশে মানুষ তাদের হারানো অধিকার ফিরে পেয়েছে। আজকে আমি নিজের জেলায় ভোট দিয়েছি।’উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে এয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শুরু হয়।বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, দুপুর ২ টা পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ৬শ ৫১ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১ কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং ৪৭.৯১ শতাংশ।