ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন অবরোধে তেল সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭০ ডলার বা ১ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৬৬ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৯৭ ডলার বা ৩ শতাংশ কমে ৯৬ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।এরআগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করার পর দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে ফের আলোচনার শুরুর সম্ভাবনায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো বেশ জটিল। তবে সংঘাত আবার শুরু হলে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক টমাস ভার্গা বলেছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার গুঞ্জন তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে, তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতাটি তেলের প্রকৃত সরবরাহ ঘাটতির বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং ইরানের কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ বিঘ্ন ঘটেছে। এতে গত মার্চ মাসে দৈনিক ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে।আইইএ বলেছে, ‘জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবাহ পুনরায় চালু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল এই সপ্তাহের শেষের দিকে আবারো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে পারে। যদিও এখনো কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি বলে মঙ্গলবার নির্ভরযোগ্য পাঁচটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি, তবে প্রতিনিধিদলগুলো শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত দিনগুলো মধ্যেই বিবেচনা করছে।’ গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়কেই তাদের প্রতিনিধিদল পুনরায় পাঠানোর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে প্রথম সূত্রটি জানিয়েছে।সূত্র: রয়টার্স
জ্বালানি তেল উৎপাদনের কাঁচামাল অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল মজুত না থাকায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে দেশে জ্বালানি তেল সংকটের শঙ্কা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চলতি মাসের শুরু থেকেই ক্রুড অয়েলের সংকটে ভুগছিল পতেঙ্গার এই শোধনাগারটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার দুপুরের পর পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনকারী ১ ও ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারি আজ থেকে বন্ধ হয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন ইত্যাদি তৈরি হয়, ওই ইউনিটটা এখন বন্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বিটুমিন প্রোডাকশনটা চালু আছে। দেশের চাহিদা হচ্ছে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল এই জিনিসগুলা। এই প্রোডাক্টগুলার যে শর্টেজ হবে, এটার কারণে বাড়তি ফিনিশড প্রোডাক্ট বিপিসি বাইর থেকে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে এনে এটা মেকআপ দেয়ার চেষ্টা করতেছে।’ জানা গেছে, বর্তমানে শোধনাগারটির ৩ নম্বর ইউনিটে বিটুমিন উৎপাদনের পাশাপাশি নামমাত্র পরিমাণে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদিত হচ্ছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় নগণ্য। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার টন অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলসহ মোট ১৩ ধরনের জ্বালানি পরিশোধন করা হয়। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দেয় এই প্রতিষ্ঠানটি। সংকটের কারণ হিসেবে জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন একটি চালান আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৮ এপ্রিল সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে জাহাজে লোড হওয়ার কথা রয়েছে। জাহাজটি আগামী ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালে পুনরায় পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে ইস্টার্ন রিফাইনারি। ইস্টার্ন রিফাইনারির তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল মজুত রাখার ক্ষমতা দেড় লাখ টন এবং পরিশোধিত তেল রাখার ক্ষমতা আড়াই লাখ টন। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প দেশগুলো থেকে ক্রুড অয়েল আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে উত্তেজনার জেরে হামলা ও পাল্টা হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহত দিয়া আক্তার (২০) শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহতরা হলেন মৌসুমী আক্তার (৩৫), মুয়াজ (১৫) ও জয়া (১২)।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবু মুসা নামের এক ঠিকাদার নবীউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে টাকা পেতেন। পাওনা টাকা চাইতে তিনি ভোরে নবীউল্লাহর বাসায় যান। এ সময় তাদের মধ্যে টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নবীউল্লাহ আবু মুসাকে কুপিয়ে জখম করেন।এরপর আবু মুসা উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবীউল্লাহর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে কোপ দেন। এতে তার হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখে দৌড়ে আসেন তাদের মেয়ে দিয়া আক্তার। পরে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এরপর পরিবারের আরও দুই সন্তান—মুয়াজ ও জয়া—এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে জখম করা হয়।আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।যাত্রাবাড়ী থানার ওসি রাজু আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় আবু মুসাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
সিঙ্গাপুর থেকে ১২ হাজার টন উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলবাহী জাহাজ ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে নোঙর করেছে। যা সরবরাহ করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড। এছাড়া প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আজ রাতে আরও দু’টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুরের সরবরাহ করা ‘এমটি টর্ম দামিনি’ ৩৩ হাজার টন এবং ভিটল এশিয়ার ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ জাহাজটি ৩৫ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।আজ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল আনুমানিক ২২ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব। নতুন এই চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত কিছুটা বেড়েছে। যদিও জেট ফুয়েলের ব্যবহার তুলনামূলক কম; মাসের প্রথম ১২ দিনে বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার টন, দৈনিক গড় ১ হাজার ৭৫৮ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য বেশি।এদিকে, আজ রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ডিজেলবাহী আরও দু’টি জাহাজের। ‘এমটি টর্ম দামিনি’তে আসছে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল (সরবরাহকারী ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড) এবং ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ আনছে প্রায় ৩৫ হাজার টন (সরবরাহকারী ভিটল এশিয়া)।দেশের জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেল নির্ভর, মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। পরিবহন থেকে কৃষি, শিল্প থেকে বিদ্যুৎ, সবখানেই এর চাহিদা প্রবল। বিপিসির হিসাবে, এপ্রিল মাসে মোট চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। সে হিসাব মাথায় রেখে মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এর আগে মাসের শুরুতেই ৩ এপ্রিল দু’টি জাহাজে করে আসে মোট ৬১ হাজার টন ডিজেল। তবু চাহিদার চাপ পুরোপুরি কমেনি। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন, দৈনিক গড় ১১ হাজার ১৩৮ টন।১২ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে ১০ দিনের মতো চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন দু’টি চালান যুক্ত হলে এই সক্ষমতা আরও কয়েক দিন বাড়তে পারে, যদিও তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্বস্তি দেবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী আমদানির ধারাবাহিকতার ওপর।বিপিসি’র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ১১ হাজার টনের বেশি ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত আরও ৪/৫ দিন বাড়বে।বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, নির্ধারিত সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আনার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, সামনে আরও আসবে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাসস
রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে (সিকেডিইউ) চাঁদা দাবির ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনসহ তিনজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।অপর দুই আসামি হলেন- এমবি স্বপন কাজী ও শাওন হোসেন।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য, তাদেরকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জমসেদ আলম প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।মামলায় মঈন উদ্দিনকে (মঈন) প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩৮৫/৩৪ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভেরোনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই জরুরি ঘোষণা দেন। খবর বিবিসির।মেলোনি বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা নিরসনে ও জলপথটি পুনরায় চালু করতে ‘সব ধরনের সম্ভাব্য প্রচেষ্টা’ চালানো জরুরি। এই লক্ষ্যপূরণ ও বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইতালি সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা চুক্তির ‘স্বয়ংক্রিয় নবায়ন’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। গত কয়েক দশক ধরে ইতালির সব রাজনৈতিক দলের সরকারই প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এটি নবায়ন করে আসছিল। এই চুক্তির মূল ভিত্তি ছিল- সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন।ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতালির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সদস্য দেশের এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধ নিয়ে যখন বিশ্বশক্তিগুলো বিভক্ত, তখন ইতালির এই কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোর নীতি পরিবর্তনের একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেরিবাঁধ এলাকায় মাইক্রোবাসের এসির গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লেগে আবুল হোসেন ও মো. বাশার নামে দুজন দগ্ধ হয়েছেন।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। জানা গেছে, দগ্ধ আবুল হোসেনের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ধলপা গ্রামে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে শ্যামলীর আদাবর এলাকায় বসবাস করেন তিনি। তার বাবার নাম মৃত তারা মিয়া। অপর আহত বাশারের বাড়ি হবিগঞ্জে; বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার পল্লবীতে বসবাস করেন। আহত আবুল হোসেন পেশায় গাড়িচালক এবং বাশার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। আহত আবুল হোসেনের স্ত্রী জেসমিন জানান, মাইক্রোবাস নিয়ে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ পার হওয়ার সময় এসির গ্যাস লিকেজ ছিল যা তারা বুঝতে পারেননি। পরে সিগারেট ধরানোর সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্বজনরা খবর পেয়ে দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. হারুনুর রশিদ। তিনি জানান, আবুল হোসেনের শরীরের ১২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং অপরজন সামান্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করেছেন।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইল সদরের সন্তোষে অবস্থিত মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন।প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন একথা জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করেছেন। তিনি এসময় ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।’এই সময় উপস্থিত ছিলেন— মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু প্রমুখ।পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্তোষে মওলানা ভাসানী যে ঘরটিতে থাকতেন সেই ঘরটি ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে রাখা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।এর আগে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা শহরের পৌর উদ্যোনে বৈশাখী কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন। তিনি মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যহ্ন ভোজ করতে সার্কিট হাউজে যান।সকালে ঢাকা থেকে সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১১টা ২০ মিনিটে টাঙ্গাইলে পৌঁছান এবং শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
বিএনপিকর্মী মকবুল মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক ইউনাইটেড গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (অ্যাডমিন) ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আফজাল নাছের ভূঁইয়াকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের স্পেশাল অপারেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তোফাজ্জল হোসেন আসামিকে হাজির করে এই রিমান্ডের আবেদন করেন।আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যে এই মামলার রিমান্ড শুনানি হবে।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশের গুলিতে বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন নিহত হন।এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আফজাল নাছের ভূঁইয়া ওই ঘটনার সময় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে বিরোধীপক্ষকে দমনে নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে পাঁচটি কারণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনায় জড়িত নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্তকরণ, ঘটনার সময় কার কী ভূমিকা ছিল তা নির্ধারণ, ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং অর্থের যোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।নথি থেকে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ তার ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয় এই আসামিকে। এরপরে গত ৮ এপ্রিল বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় চার দিন রিমান্ডে পাঠানো হয়। একই মামলায় গত ১২ এপ্রিল ২ দিনের রিমান্ডে পাঠায় সিএমএম আদালত। আজ আবার পুনরায় রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নয়াপল্টনে পুলিশের অভিযানের সময় কয়েকশ নেতাকর্মী আহত হন এবং মকবুল হোসেন নিহত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আফজাল নাসের ভূঁইয়া ১৪৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে তেহরান। তবে এই পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত নয় এবং ভবিষ্যতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির এক মুখপাত্র। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ খবর জানিয়েছে।রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হিসাব তুলে ধরেন ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির এই বিশাল অঙ্ক পুনরুদ্ধারকে ইরান এখন কূটনৈতিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে।মোহাজেরানি বলেন, আমাদের আলোচনাকারী দল বর্তমানে যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে এবং যা ইসলামাবাদ আলোচনাতেও গুরুত্ব পেয়েছে, তা হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়। সাধারণত ক্ষয়ক্ষতি কয়েকটি স্তরে মূল্যায়ন করতে হয়।তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে উত্তেজনার জেরে হামলা ও পাল্টা হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহত দিয়া আক্তার (২০) শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহতরা হলেন মৌসুমী আক্তার (৩৫), মুয়াজ (১৫) ও জয়া (১২)।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবু মুসা নামের এক ঠিকাদার নবীউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে টাকা পেতেন। পাওনা টাকা চাইতে তিনি ভোরে নবীউল্লাহর বাসায় যান। এ সময় তাদের মধ্যে টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নবীউল্লাহ আবু মুসাকে কুপিয়ে জখম করেন।এরপর আবু মুসা উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবীউল্লাহর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে কোপ দেন। এতে তার হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখে দৌড়ে আসেন তাদের মেয়ে দিয়া আক্তার। পরে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এরপর পরিবারের আরও দুই সন্তান—মুয়াজ ও জয়া—এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে জখম করা হয়।আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।যাত্রাবাড়ী থানার ওসি রাজু আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় আবু মুসাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রচিত ‘আগামী বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বইটি পাঠকদের চিন্তা-চেতনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশ গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।অনুষ্ঠানে লেখক মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বইটি লেখার প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি উন্নত ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা থেকেই বইটি রচিত হয়েছে।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা আ ন ম সামছুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বইটি পাঠকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে এবং এর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক চিন্তা-ভাবনার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, পাঠকরা বইটি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে প্রায় দুই শত বছরের প্রাচীন চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ উৎসবকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল তান্ত্রিক রীতিনীতিভিত্তিক নানা আচার-অনুষ্ঠান। দীর্ঘ ১০-১২ দিন ব্রত পালন শেষে প্রায় ৪০-৫০ জন সন্ন্যাসী এদিন কৃচ্ছ্রসাধনের সমাপ্তি ঘটান। চড়ক গাছে ভক্তদের ঘোরানো, জ্বলন্ত আগুনের ওপর ‘কালীনাচ’ এবং ধারালো দায়ের ওপর ‘শিব শয্যা’—এ ধরনের রোমাঞ্চকর আচার উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থীকে বিমোহিত করে।দিঘীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে স্থাপিত চারটি চড়ক গাছে সন্ন্যাসীদের পিঠে বড়শি গেঁথে ঘোরানোর দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ভক্তরা ফুল, দুধ ও চিনি দিয়ে ভক্তিভরে পূজা নিবেদন করেন।পূজাকে ঘিরে দিঘীর চারপাশে বসেছে জমজমাট গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের তৈরি সামগ্রী এবং খৈ-বাতাসার দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় ছিল।চড়ক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী বলেন, “এই উৎসব এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল। মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মেলা পরিদর্শন করে পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। একইসঙ্গে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগান এলাকাতেও চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
মাস দুয়েকেরও কম সময় বাকি আছে ফুটবল বিশ্বকাপের। আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। এর আগে একের পর এক দুঃসংবাদ পাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজের পর নতুন করে আরও এক ডিফেন্ডার চোটের কারণে ছিটকে গেছেন অন্তত পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের জন্য।সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন আর্জেন্টিনা জানিয়েছে, হাঁটুর লিগামেন্টের চোটের কারণে চলতি মৌসুমে আর টটেনহ্যাম হটস্পায়ারের হয়ে মাঠে নামা হবে না দলটির আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর। অন্তত পাঁচ থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।গত রোববার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন রোমেরো। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন সান্ডারল্যান্ড স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি। এরপর সতীর্থ গোলকিপার আন্তোনিন কিনস্কির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় হাঁটুতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন রোমেরো।যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে, সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই রোমেরোর চোটের বিষয় জানিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে। যেখানে জানানো হবে আগামী পাঁচ থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।এদিকে, আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এর আগে রোমেরোর চোট দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আর্জেন্টিনার কপালে। যদিও আর্জেন্টিনার আশা বিশ্বকাপের আগেই পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাবেন রোমেরো।
ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় গায়িকা আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে নিজস্ব গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।দাদাসাহেব ফালকে ও বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ খ্যাতনামা গায়িকা। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। তবে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্মণ পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা অভিনয় জগত থেকে বিরতি নেবেন বলে জানিয়েছিলেন বেশ কিছুদিন আগেই। এবার জানা গেল তার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছার কথা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল বলেন, বর্ষা দীর্ঘদিন ধরেই নিঃশব্দে সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছেন। জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই তাকে নেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তার মনে প্রবল দেশসেবা করার ইচ্ছা আছে। বর্ষার মানবিক কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনন্ত জলিল আরও বলেন, বর্ষা স্কুল ব্যাগে করে টাকা নিয়ে নিজ হাতে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়। তার ভেতরে দেশসেবা করার এক অদম্য ইচ্ছা আছে। আমরা কোনোদিন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু দেশসেবার স্বার্থে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল তো বেছে নিতেই হয়।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও আদর্শের জায়গা থেকে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তারকা দম্পতি। সৎ রাজনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে অনন্ত জলিল বলেন, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কথাগুলো দেখুন, তিনি একদম সরাসরি সত্য কথাগুলো বলেন। সবার সামনে স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না, অন্যায় করতে পারবে না। সৎ পথে থেকেও তো নেতৃত্ব দেওয়া যায়!প্রসঙ্গত, এর আগেও অনন্ত জলিল বর্ষাকে নেত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বর্ষাও জনসেবায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, মানুষের সেবা করতে তার ভালো লাগে এবং সরকারের সহযোগিতায় বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন পেরিয়ে এবার রাজনীতির মাঠে নামার এই ঘোষণা ভক্ত ও চলচ্চিত্র মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের ছায়া কাটেনি টলিউডে। একাধারে টলিপাড়া যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ?ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এমন আবহেই এবার টেলিভিশন জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক ও ‘টেন্ট সিনেমা’র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর অভিযোগ, “আমার নিজের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।”সুকন্যার দাবি, “আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, “ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবকিছু শুনে মনে সাহস দিয়েছে। আমি আর চুপ করে থাকব না। ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এ অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রযোজক সুশান্ত দাস।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে শোকের ছায়া এখনও সর্বত্র বিরাজমান। এই শোকের আবহেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে রাহুলের জীবনের শেষ সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে বিনামূল্যে প্রদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানালেন পরিচালক শুভ্রজিৎ বাপ্পা।তিনি বলেন, এই ছবিটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মুক্তি দিচ্ছেন। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সহযোগিতা পেলে ছবিটি দর্শকদের বিনামূল্যে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।ছবিটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ‘বিশ্বকর্মা’ নামের একজন চিত্রগ্রাহককে ঘিরে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহুল। সংসারের অভাব আর অবহেলার মাঝেও বিশ্বকর্মা মৃত মানুষের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করে। তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত।প্রথমে সিনেমাটির নাম ‘নেগেটিভ’ থাকলেও রাহুলের মৃত্যুর পর আবেগঘন সম্মানে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ছবিওয়ালা’। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্র ও রানা বসু ঠাকুর। রূপম ইসলাম ও সোমলতার কণ্ঠে গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন সৌম্য ঋত। সব মিলিয়ে, ‘ছবিওয়ালা’ এখন কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং প্রিয় অভিনেতার প্রতি টলিউডের এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
বলিউড অভিনেত্রী জারিন খানের মা পারভীন খান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে মুম্বাইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। আজ সকাল ১০টায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাশুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাউল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন পারভীন খান। গত বছর অক্টোবর মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এ বছরের শুরু থেকেই ফের অসুস্থ হয়ে আইসিউতে ছিলেন তিনি।
প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) বক্স অফিস টপচার্টে সেরা ২০-এ জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়ল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তির প্রথম তিন দিনেই ৪৮টি থিয়েটার থেকে ছবিটি আয় করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা)। পরিবেশনা সংস্থা ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো বাংলাদেশ’ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। উত্তর আমেরিকায় তিন দিনের আয়ের হিসাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখন সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি সিনেমা। এর আগে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ ৮৬টি থিয়েটারে তিন দিনে আয় করেছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রথম সপ্তাহ শেষে আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এরই মধ্যেই এটি রায়হান রাফীর ‘তুফান’ (১ দশমিক ৫ লাখ ডলার), হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’ (১ দশমিক ৩২ লাখ ডলার) এবং অনম বিশ্বাসের ‘দেবী’র (১ দশমিক ২৫ লাখ ডলার) লাইফটাইম কালেকশনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণা১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণাপরিবেশনা সংস্থা স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর সভাপতি মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব জানান, উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে গত তিন দিনে যা ঘটেছে, তা অবিশ্বাস্য। ‘উৎসব’র পর তানিম নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র মাধ্যমে উপহার দিলেন আরেকটি দারুণ কাজ। আশা করছি এটি ব্যবসায়িক অনেক রেকর্ড ভাঙবে। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ২ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটের সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দেশের বাজারেও। বুড়িগঙ্গা টকিজ, হইচই স্টুডিওস ও ডোপ প্রোডাকশন্স প্রযোজিত সিনেমার টিকিট দুই সপ্তাহে দেশে বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ২ লাখ টাকার। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকেই এসেছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসেও ভালো ব্যবসা করছে সিনেমাটি। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটনন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমার মূল প্রতিপাদ্য ‘১০০% খাঁটি বাংলাদেশি ছায়াছবি’। গল্পের প্রেক্ষাপট একটি রাতের ট্রেনযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী চিত্রা (সাবিলা নূর) ও তরুণ চিকিৎসক আশহাবের (শরিফুল রাজ) পরিচয়ের পাশাপাশি ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের বিচিত্র ও মজার সব গল্প নিয়ে এগিয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।
দেশে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে জ্বালানী সংকট। নববর্ষের দিনে ও রাজধানীজুড়ে দেখা গেছে পেট্রোল পাম্প গুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। বিমানবন্দর এলাকার ডি এল ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে সকাল থেকেই তেল নিতে ভিড় করছেন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। কোথাও কোথাও তেল নেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখায় ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন চালকদের।ফিলিং স্টেশনগুলোতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ায় ক্ষুভ প্রকাশ করছে চালকরা।এদিকে পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় আশেপাশের এলাকায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।তেল সংকটে ব্যক্তিগত যানবাহন বন্ধ রেখে অনেকেই গণপরিবহনে চলাচল করছেন, এতে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বাড়ছে যাত্রীর চাপ। সব মিলিয়ে নববর্ষের দিনে ও জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকেপড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র তিনি। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ শ্রম সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।এছাড়াও, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে শিক্ষক বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাসহ শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।এর আগে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে দুই দেশ যৌথ সংবাদ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উভয় সরকার অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, যা বিদ্যমান নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে।উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকে পড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।যৌথ সংবাদ বিবৃতি আরও বলা হয়, বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সকল উৎস দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি প্রযুক্তি-চালিত, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো- মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন খরচ হ্রাস করা এবং নিয়োগকর্তারা যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন তা নিশ্চিত করা, যার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের জন্য খরচ শূন্য হবে।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্যান্য সকল প্রেরণকারী দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।এতে আরও বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলা সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে-এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকা- মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।উভয়পক্ষ অনিয়মিত কর্মীদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সাথে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করতে ও উৎপাদনশীলতা উন্নত করার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গঠনমূলক আলোচনায় উভয় পক্ষের সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত হয়।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করার লক্ষ্যে চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল ও রবি এলিট গ্রাহক ও কর্মীদের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহকরা ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং দুবাইসহ বিভিন্ন শীর্ষ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে দ্রুততর চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং ঝামেলামুক্ত করে তোলা।অনুষ্ঠানে রবির পক্ষ থেকে ম্যানিক লাল দাস, ডিরেক্টর, কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস (রবি মার্কেটিং); মো. সানজিদ হোসেন, অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ; সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি অ্যান্ড পার্টনারশিপ; এবং তানভীর আলম চৌধুরী, জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি পার্টনারশিপস, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ, রবি মার্কেটিং উপস্থিত ছিলেন। এবং চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মি. মুনতাসির মাহমুদ, চিফ অপারেটিং অফিসার এবং মি. বাদশা মোড়ল, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার।এ সময় মি. মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “চিকিৎসা সেবাকে কোনো আন্তর্জাতিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহক খুব সহজভাবে দেশের বাহিরে চিকিৎসা সেবা। রবি’র বিপুল গ্রাহকভিত্তিক এখন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যাত্রায় একটি বিশ্বস্ত সহযোগী পাবে।”মি. তানভীর আলম বলেন, “রবি সবসময় সেবার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের সীমানার বাইরে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের ভাড়া বাসা থেকে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।নিহত সীমান্তের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন। তিনি হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করতেন।নিহতের চাচা রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত ওই বাসায় সাবলেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার রুমমেটের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত রাত নয়টার পর থেকে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন সীমান্ত। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, সীমান্ত আর বেঁচে নেই।রুহুল আমিন আরও জানান, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ আসছিল। এতে তাদের ধারণা, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন তিনি এই কাজটি করেছেন, সে বিষয়ে স্বজনরা কিছু জানেন না।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।