সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে জনগণের ম্যান্ডেটকে ‘অপমান’ করার অভিযোগ তুলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।সংবিধান ‘সংস্কার’-এর পক্ষে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করে সরকার ‘সংশোধন’-এর প্রস্তাব দিয়েছে অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জনমত নিয়ে ফের রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণ গণভোটে রায় দিয়েছে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে, সংশোধনের জন্য নয়। কিন্তু সরকার জনগণের সেই চূড়ান্ত রায়কে বেমালুম অগ্রাহ্য করে অপমান করেছে। এর প্রতিবাদেই আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।”তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের রায় অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে সংসদ সদস্য এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী তাদের দুটি শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকারি দলের সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গ্যাজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করার কথা থাকলেও সরকার তা করেনি। বাধ্য হয়ে আমরা স্পিকারের কাছে নোটিশ দিই। শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আলোচনার সুযোগ দেওয়া হলে আইনমন্ত্রী জনগণের সংস্কারের দাবিকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। আমরা তখনই বলেছি, সংস্কার আর সংশোধন এক জিনিস নয়। সরকার জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে প্রতারণা করছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে জনগণের ওপর যে ফ্যাসিবাদ চাপানো হয়েছিল, তার ছাঁদাকলে বিনা বিচারে ২ হাজার ৬৬৩ জন মানুষকে খুন করা হয়েছে। গুম হয়েছেন ২৫০ জনের বেশি মানুষ, যাদের খোঁজ আজও মেলেনি। আয়নাঘরের মতো ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করে মানুষকে ৮-৯ বছর বন্দি রাখা হয়েছে। সেই অমানবিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান এবং সংবিধান সংস্কারের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আমরা ওয়াকআউট করেছি। তবে আমরা সংসদ ছেড়ে দিইনি। আমরা এখন আবার জনগণের কাছেই ফিরে যাবো। আমাদের ১১টি দলের জোট দ্রুতই বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই।সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই রাজধানীর আকাশ কালো হয়ে ওঠে। ৭টার দিকে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ধুলিঝড় বয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায়। এরপর রাত ৮টার দিকে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভিজেছে বাংলামোটর, শাহবাগ, মগবাজার, কারওয়ান বাজার. ফার্মগেট, তেজগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিলা পড়তেও দেখা গেছে। এছাড়া বৃষ্টির পাশাপাশি বিদ্যুৎ চমকানোসহ বিকট শব্দে বজ্রপাতও হয়। ভারি বৃষ্টির কারণে পথচারী ও ফুটপাতের খুচরা দোকানিরা পড়েন ভোগান্তিতে।এদিকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলে ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। আর মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন।বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এসব তথ্য জানান। জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলেন, “৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটাটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্ট ২০২৪ মোতাবেক সকল মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোতে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এক লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন। প্রথম শ্রেণিতে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি।”তিনি বলেন, “দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন। এই শ্রেণিতে শূন্য পদ এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত রয়েছেন ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন। তৃতীয় শ্রেণিতে এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ শূন্য। চতুর্থ শ্রেণিতে চার লাখ চার হাজার ৫৫৭ এবং অন্যান্য শ্রেণিতে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা সাত হাজার ৯৮০। চতুর্থ শ্রেণিতে এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য শ্রেণিতে শূন্য পদ আট হাজার ১৩৬টি।”
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরান অনুরোধ জানিয়েছে বলে দাবি করলেন ক্ষ্যাপাটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের নতুন ‘ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থার প্রেসিডেন্ট’ তার কাছে এ অনুরোধ করেছেন।ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও তিনি ইরানের ওই শীর্ষ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেননি। তবে তাকে বর্ণনা করেছেন ‘তার পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক কম উগ্র এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান’ হিসেবে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী যখন খোলা, অবাধ ও নিরাপদ হবে, তখন আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব। তার আগে পর্যন্ত আমরা ইরানকে ভুলিয়ে দেওয়ার মতো করে ধ্বংস করে দিচ্ছি, অথবা যেমন বলা হয়, পাথর যুগে ফিরিয়ে দিচ্ছি!!’এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, চলমান ইরান যুদ্ধ ঘিরে ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইতোমধ্যেই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলেও বলা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘ হলে শুধু জ্বালানি সংকটই নয়, বড় অর্থনীতির দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতিসহ মন্দার মুখে পড়তে পারে। এমনকি যুদ্ধ শেষ হলেও প্রভাব কাটতে লাগতে পারে অনেক সময়। এছাড়া ‘ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে’— এমন আশঙ্কার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক পিল হান্ট।অন্যদিকে দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয় চিন্তা-ভাবনা করছেন। সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা ওই সামরিক জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখন পুনর্বিবেচনায় রয়েছে।হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর যে দাবি ট্রাম্প করেছিলেন, তা মিত্র দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করার পর ইউরোপকে আর নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে না যুক্তরাষ্ট্র- এমনটাই জানান ট্রাম্প।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে একযোগে হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে তারা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ অনেক কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। প্রাণ হারিয়েছে অনেক বেসামরিক মানুষও। ধ্বংস হয়ে গেছে বহু স্থাপনা। তবে পাল্টা জবাব দিয়ে চলেছে ইরানও। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে তারা, যেখান দিয়ে একটা উল্লেখযোগ্য হারে জ্বালানি তেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রফতারি করা হয়। ফলে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে চলছে চরম অস্থিরতা।এছাড়া ইসরায়েলে স্মরণকালের ভয়াবহ হামলা করেছে ইরান। ধ্বংস করে দিয়েছে দেশটির অসংখ্য স্থাপনা। ভেঙে দিয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইরান হামলা চলমান রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কির সামরিক ঘাঁটিতেও। সর্বোপরি চলমান এই যুদ্ধে খুব একটা স্বস্তিতে নেই ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। তারই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপসারণ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছেন হাজার হাজার মার্কিনি। এই ঘটনা আরও বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টকে।
সাভারের আশুলিয়ায় দু্টি তৈরি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা। করেছে মালিকপক্ষ। সকালে কারখানা দুটির সামনে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেন মালিকপক্ষ। যার ফলে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করতে পারেনি।শ্রমিকরা জানায়,সম্প্রতি আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ফ্যাশান ফোরাম লিমিটেড ও কুটুরিয়া এলাকার জে এ এ্যাপারেলন্স কারখানা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করেন মালিকপক্ষ। আজ সকালে কারখানা দুটির মুল ফটকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেন মালিকপক্ষ। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করতে এসে বন্ধের নোটিশ দেখে বিক্ষোভ করতে চাইলে কারখানার সামনে থেকে শ্রমিকদের সড়িয়ে দেয় পুলিশ। পরে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে যায়। বেতন ভাতা না দিয়ে কারখানা দুটি বন্ধ ঘোষনা করায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। এদিকে শ্রমিকরা কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে দুপুরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছে।যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা দুটির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এর আগে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মোট তিন দিনের ছুটি মিলছে।সাপ্তাহিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী রোববার ইস্টার সানডের আগের দুদিন যথাক্রমে শুক্র (৩ এপ্রিল) ও শনিবার (৪ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটি। পরের দিন বড়দিনের ছুটি। ফলে টানা তিন দিনের ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের মহানগরী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) আবারও অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে এবার পুরোপুরি অনলাইন নির্ভরতা নয়, বরং অনলাইন ও সশরীরে পাঠদানের সমন্বয়ে ‘ব্লেন্ডেড’ বা মিশ্র শিক্ষা পদ্ধতি চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।ব্লেন্ডেড লার্নিং বলতে প্রথাগত শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পাঠদান এবং ডিজিটাল বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার সমন্বয়কে বোঝায়। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা আংশিক সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকবে এবং বাকি সময় অনলাইনের মাধ্যমে পাঠ গ্রহণ করবে।সভায় প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জোড়-বিজোড় দিনের ভিত্তিতে ক্লাস ভাগ করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই অনলাইন ক্লাস নেবেন এবং ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) ক্লাসগুলো সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশের পাড়ি জমিয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। সংবাদমাধ্যমে শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার খালাতো বোন ও খ্যাতিমান নজরুলসংগীতশিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ডালিয়া নওশীন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৭ মার্চ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ দুপুরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সাদিয়া আফরিন মল্লিক জানান, বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে। ডালিয়া নওশীনের দুই ছেলে, একজন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে, আরেকজন স্পেনে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। তিনি দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কন্যা ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় একাধিক ইসলামিক সম্মেলন করতে যাওয়া মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এতে তাকে সফরের মাঝপথেই ফেরত চলে আসতে হচ্ছে। বুধবার (১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।সংবাদমাধ্যটি বলেছে, ইহুদিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো জার্মানির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নাৎসি বাহিনীর প্রধান অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা করেছেন মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেছিলেন, হিটলার ছিলেন ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’।ডেইলি মেইলই প্রথমে তার এ বক্তব্যের বিষয়টি প্রকাশ করে। তারা জানায় আজহারী অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন এবং সিডনিতে ইসলামিক সম্মেলন করতে এসেছিলেন।সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার আজহারীর ভিসা বাতিল করা হয় এবং তিনি এখন ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথান দুনলাম আজ বুধবার জানিয়েছেন, তাকে এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যদের আজহারীর অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যাপারে সতর্ক করেছিল কমিউনিটি গ্রুপ।তিনি বলেছেন, “আমার জানামতে আজহারীর সফরের ব্যাপারে মন্ত্রীসহ একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে ‘অস্ট্রেলিয়াস্থ বাংলাদেশ জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ফেডারেশন’ যোগাযোগ করেছে।”সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, ২০২৩ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আজহারী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, হলোকাস্টের প্রশংসা করেন এবং তার শ্রোতাদের ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেন।তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ ছিলেন হিটলার। এছাড়া ইহুদিদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী এবং তাদের বিষাক্ত কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।এর পাশাপাশি ইহুদিরা বিশ্বে এইডস ছড়িয়েছে এবং বিশ্বের অনেক অশান্তির জন্য তারা দায়ী বলে বক্তব্য দেন তিনি।আজহারীর ৩ এপ্রিল মেলবোর্নে, ৪ এপ্রিল সিডনিতে এবং ৬ এপ্রিল ক্যানবেরায় সম্মেলন করার কথা ছিল। কিন্তু সম্মেলনগুলো করার আগেই অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হচ্ছে তাকে।সূত্র: ডেইলি মেইল
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট যদি ইরানে কোনো ধরনের স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে চেচেন যোদ্ধারা দেশটিতে মোতায়েন হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। ৩০ মার্চ সোমবার চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত এই দুর্ধর্ষ যোদ্ধা বাহিনী প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে তাদের এই প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। তারা চলমান এই সংঘাতকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে ‘জিহাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু আলোচনার মাঝপথে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর থেকে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যা এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকটের রূপ নিয়েছে।কাদিরভপন্থি এই যোদ্ধারা—যারা ‘কাদিরভতসি’ নামেও পরিচিত—জানিয়েছে, তারা এই লড়াইকে ‘শুভ ও অশুভের’ মধ্যকার এক লড়াই হিসেবে দেখছে এবং ইরানকে রক্ষা করাকে তাদের আদর্শিক দায়িত্ব বলে মনে করে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলার পর এখন ওয়াশিংটন একটি স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চেচেন যোদ্ধাদের এই আগাম ঘোষণা যুদ্ধের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর আগে এই যোদ্ধা বাহিনী ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সম্মুখ সমরে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা তাদের সামরিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।অন্যদিকে, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের সম্পৃক্ততা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা এক চিঠিতে দাবি করেছেন যে, কিয়েভ এই অঞ্চলে ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ পাঠিয়েছে। প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাভানি অভিযোগ করেছেন যে ইউক্রেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন সামরিক আগ্রাসনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের এই ধরনের হস্তক্ষেপ যুদ্ধের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং এতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইরানও বসে নেই এবং তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কয়েক ডজন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত এক মাসে মিনাবে ১৭০ জনেরও বেশি স্কুলছাত্রসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় ইরানি জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। চেচেন যোদ্ধাদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির খবর মূলত এই যুদ্ধকে কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি বৈশ্বিক প্রক্সি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আপাতত বিশ্ব সম্প্রদায় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে যে, শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী স্থল অভিযানে নামে কি না এবং চেচেন যোদ্ধারা সরাসরি রণাঙ্গনে যোগ দেয় কি না।সূত্র: প্যালেস্টাইন করনিকলস
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দেশের গ্রাহকদের মধ্যে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদের প্রবণতা বেড়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুদ করে দেশে জ্বালানিসংকটের সৃষ্টি করছে। অবৈধ জ্বালানি মজুদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদের তথ্য দিলে এক লাখ টাকা দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অবৈধ জ্বালানি মজুদ রোধে ও তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতে চলতি এপ্রিল থেকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে সরকার।জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলে জ্বালানি বিতরণ করা হবে। কয়েকটি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে দ্রুত এই পদ্ধতি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিবন্ধিত যানবাহন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি ক্রয় করতে পারবে।নিবন্ধিত প্রতিটি যানবাহনকে একটি করে কিউআর কোড প্রদান করা হবে। এটি একটি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। গ্রাহককে অ্যাপের মাধ্যমে নিজের পরিচয় এবং যানবাহনের নিবন্ধন তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করে নিতে হবে।এর পর ওই যানবাহনের জন্য একটি কিউআর কোড তৈরি হবে। ফুয়েল পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়ার সময় পাম্পকর্মী মোবাইল ফোন দিয়ে সেই কোডটি স্ক্যান করবেন। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই যানবাহনের জ্বালানি নেওয়ার তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে।কর্মকর্তারা জানান, এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতটুকু জ্বালানি কেনা যাবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে অন্য কিছু দেশে চালু থাকা এ রকম ব্যবস্থায় সাধারণত মোটরসাইকেল সপ্তাহে প্রায় পাঁচ লিটার এবং গাড়ি প্রায় ১৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি কিনতে পারে।নির্ধারিত সীমা শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ের আগে সেই যানবাহনকে আর জ্বালানি দেওয়া যাবে না। সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি আটকে দেবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বাড়তিও নেওয়া যায়।আমরা ইতিমধ্যে একটি অ্যাপস ডেভেলপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে দুই-একটি জায়গায় টেস্ট হিসেবে এটি চালু করতে পারব। একসঙ্গে সারা দেশে এই ব্যবস্থা চালু করা সহজ নয়। তাই প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন লক্ষ্য করে দ্রুত একটি কার্যকর পর্যায়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।এদিকে, দেশের কয়েকটি জেলায় জ্বালানি বিক্রি নিয়ন্ত্রণে ম্যানুয়াল ফুয়েল কার্ড চালু করেছে জেলা প্রশাসন। সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জে পেট্রল ও অকটেন কেনার ক্ষেত্রে এই কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।এছাড়া জ্বালানি মজুদ রোধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অসাধ্য ব্যবসায়ীদের মজুদ করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর বংশাল থানাধীন একটি ফ্ল্যাট বাসায় সাবলেটের সুযোগ নিয়ে অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন শেখ জালামিন (৩৪) ও মাধব চন্দ্র ধর (৬০)।বংশাল থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি মালিটোলা রোডের মক্কা দুলারী টাওয়ারের সপ্তম তলায় একটি ফ্ল্যাটে শেখ জালামিন ও তার স্ত্রী সাবলেট হিসেবে ওঠেন। গত ২৫ মার্চ ফ্ল্যাটের মালিক পরিবারসহ চাঁদপুরে একটি অনুষ্ঠানে গেলে বাসায় তাদের রেখে যান। পরে ২৭ মার্চ বিকেল আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে ফিরে এসে কক্ষের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান এবং চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল নগদ ৩০ হাজার টাকা, তিনটি স্বর্ণের চেইন, চারটি রুলি, চারটি আংটি, চারটি নাকফুল, দুটি ছোট চেইন, দুই জোড়া কানের দুলসহ মোট ১১ ভরি ২ আনা স্বর্ণালংকার। এছাড়া একটি স্মার্টফোন, ফ্ল্যাটের দলিল, ইসলামী ব্যাংকের চেক বই ও ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সাইফুল ইসলাম সোহান বংশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফুলবাড়িয়া মোড়ে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি শেখ জালামিনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, চেক বই ও জমির দলিল উদ্ধার করা হয়।পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাতীবাজার এলাকার শরীফ জুয়েলার্সের ম্যানেজার মাধব চন্দ্র ধরকে ৮ দশমিক ৪ রতি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনসহ গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে জনগণের ম্যান্ডেটকে ‘অপমান’ করার অভিযোগ তুলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।সংবিধান ‘সংস্কার’-এর পক্ষে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করে সরকার ‘সংশোধন’-এর প্রস্তাব দিয়েছে অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জনমত নিয়ে ফের রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণ গণভোটে রায় দিয়েছে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে, সংশোধনের জন্য নয়। কিন্তু সরকার জনগণের সেই চূড়ান্ত রায়কে বেমালুম অগ্রাহ্য করে অপমান করেছে। এর প্রতিবাদেই আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।”তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের রায় অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে সংসদ সদস্য এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী তাদের দুটি শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকারি দলের সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গ্যাজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করার কথা থাকলেও সরকার তা করেনি। বাধ্য হয়ে আমরা স্পিকারের কাছে নোটিশ দিই। শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আলোচনার সুযোগ দেওয়া হলে আইনমন্ত্রী জনগণের সংস্কারের দাবিকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। আমরা তখনই বলেছি, সংস্কার আর সংশোধন এক জিনিস নয়। সরকার জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে প্রতারণা করছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে জনগণের ওপর যে ফ্যাসিবাদ চাপানো হয়েছিল, তার ছাঁদাকলে বিনা বিচারে ২ হাজার ৬৬৩ জন মানুষকে খুন করা হয়েছে। গুম হয়েছেন ২৫০ জনের বেশি মানুষ, যাদের খোঁজ আজও মেলেনি। আয়নাঘরের মতো ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করে মানুষকে ৮-৯ বছর বন্দি রাখা হয়েছে। সেই অমানবিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান এবং সংবিধান সংস্কারের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আমরা ওয়াকআউট করেছি। তবে আমরা সংসদ ছেড়ে দিইনি। আমরা এখন আবার জনগণের কাছেই ফিরে যাবো। আমাদের ১১টি দলের জোট দ্রুতই বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই।সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারের উখিয়ায় তেল মজুদ ও সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগে তিনটি পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ঘোষিত মজুদের বাইরে অতিরিক্ত তেল সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরেজমিনে যাচাই করে পালংখালীর ইউসুফ অ্যান্ড ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পে অনিয়মের প্রমাণ পায়। প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসনকে ১০ হাজার লিটার তেল মজুদের তথ্য দিলেও বাস্তবে আরও প্রায় ৭ হাজার লিটার তেল অতিরিক্তভাবে গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। এ অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি বা তথ্য গোপনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”অভিযানের অংশ হিসেবে কুতুপালং পেট্রোল পাম্পকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি মরিচ্যা পেট্রোল পাম্পে তদারকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৯৭৪ সাল—বিশ্ব রাজনীতিতে তখন রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগ আর বক্সিং রিংয়ে মোহাম্মদ আলীর ‘রাম্বল ইন দ্য জঙ্গল’ লড়াইয়ের উত্তাপ। সেই বছরই শেষবার ‘জাইর’ নামে বিশ্বমঞ্চে দেখা গিয়েছিল ডিআর কঙ্গোকে। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর আবারও সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কড়া নাড়ছে দেশটির ১১ কোটি মানুষের দরজায়। জ্যামাইকাকে হারাতে পারলেই ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার দশম প্রতিনিধি হিসেবে নাম লেখাবে তারা।১৯৭৪ সালের সেই বিশ্বকাপ অভিযান কঙ্গোর জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ গোলে হার এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে ডিফেন্ডার মুয়েপু ইলুঙ্গার সেই অদ্ভুত ফ্রি-কিক কিক করার ঘটনা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম 'বিচিত্র' মুহূর্ত হয়ে আছে। বোনাস না পাওয়া এবং তৎকালীন স্বৈরশাসক মবুতু সেসে সেকোর হুমকির মুখে সেই দলের পারফরম্যান্স ভেঙে পড়েছিল। বর্তমান প্রজন্ম সেই কালো অধ্যায় মুছে নতুন ইতিহাস লিখতে চায়।বার্নলির ডিফেন্ডার অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে এবং ওয়েস্ট হ্যামের অ্যারন ওয়ান-বিসাকার মতো ইউরোপে জন্ম নেওয়া ও খেলা ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করা কঙ্গোর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। দলের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৮ জনই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জন্মেছেন। কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে এই বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে কঙ্গোকে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছেন।দেশটির পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩-এর সাথে চলমান সংঘাতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। কঙ্গোর খেলোয়াড়রা গত আফকন-এ জাতীয় সংগীতের সময় মুখে হাত দিয়ে এবং মাথায় বন্দুকের নিশানা করে শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। বুকুভুর এক সমর্থক ফ্রেডি জানান, "এখানে রাতে বের হওয়া মানেই মৃত্যু। তবুও মানুষ ঘরে বসে ফুটবলে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করে। এই জয় আমাদের জীবনে একটু হলেও স্বস্তি আনবে।"বাছাইপর্বে সেনেগালের পেছনে থেকে দ্বিতীয় হওয়ার পর ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়ার মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে এই প্লে-অফ ফাইনালে উঠেছে ডিআর কঙ্গো। জ্যামাইকাকে হারাতে পারলে তারা সরাসরি পা রাখবে পর্তুগাল, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার গ্রুপে।সাবেক অধিনায়ক গ্যাব্রিয়েল জাকুয়ানির ভাষায়, "এটি আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। আমরা কেবল অংশগ্রহণ করতে চাই না, আমরা ইতিহাস গড়তে চাই।"
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশের পাড়ি জমিয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। সংবাদমাধ্যমে শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার খালাতো বোন ও খ্যাতিমান নজরুলসংগীতশিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ডালিয়া নওশীন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৭ মার্চ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ দুপুরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সাদিয়া আফরিন মল্লিক জানান, বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে। ডালিয়া নওশীনের দুই ছেলে, একজন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে, আরেকজন স্পেনে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। তিনি দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কন্যা ছিলেন।
টালিউডের আলোচিত জুটি অঙ্কুশ হাজরা-ঐন্দ্রিলা সেন। দীর্ঘ ১৫ বছর থেকে বেশ জানান দিয়েই প্রেম করছেন। তবে ‘বিয়ে’ কবে করছেন সে প্রশ্ন থেকেই যায় ভক্তদের মনে। তবে এবার হয়তো সত্যিই বিয়ে করতে যাচ্ছেন তারা। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঐন্দ্রিলার জন্মদিনে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে অঙ্কুশ যেন প্রথমবার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন এবার আর দেরি করতে চান না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রেমিকার জন্মদিন উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেন তিনি। ছবিগুলোতে ধরা পড়ে তাদের সম্পর্কের নানা মুহূর্ত বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর সময়ের সঙ্গে একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠার গল্প।ক্যাপশনে অঙ্কুশ লেখেন, ১৫ বছর হয়ে গেল। প্রায় একসঙ্গেই বড় হয়েছি আমার দেখা সবচেয়ে সৎ, সুন্দর আর খাঁটি মানুষটার জন্য অনেক ভালোবাসা… শুভ জন্মদিন। তবে এই মিষ্টি শুভেচ্ছার মধ্যেই ছিল বড় চমক। তিনি আরও যোগ করেন, আর হ্যাঁ, ভবিষ্যতে আমাদের বাচ্চারা জন্মেই যেন আমাদের দাদু-দিদা বলে না ডাকে তার জন্য আর বেশি দেরি করা যাবে না কিন্তু।এই এক লাইনে যেন স্পষ্ট হয়ে যায় বিয়ের পরিকল্পনার কথা। অঙ্কুশের এই পোস্টে দেরি না করে জবাব দেন ঐন্দ্রিলা। তিনি লেখেন, আমি বাকরুদ্ধ সবসময় ভালোবাসি তোমাকে আমার প্রিয় বন্ধু, আমার সব দুষ্টুমির সঙ্গী, আমার সবকিছু।দুজনের এই আদান-প্রদান দেখে ভক্তরাও আর চুপ থাকতে পারেননি। কমেন্ট বক্সে বিয়ের দাবি যেন নতুন করে জোরালো হয়েছে। কেউ লিখেছেন, এবার তো বিয়েটা করে ফেলুন!” আবার কেউ মজা করে বলেছেন, আর দেরি করলে সত্যিই কিন্তু বাচ্চারা দাদু-ঠাম্মা বলবে। অনেকেই আবার দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ককে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেছেন এই জুটির বিয়ে এখন সময়ের দাবি।
বিয়ে করেছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সিমরিন লুবাবা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফেসবুকে বিয়ের কথা নিয়েই জানান তিনি।পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এই পোস্ট প্রকাশের পরই ভক্ত ও নেটিজেনরা তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।বিয়ের খবর জানানো পোস্টে একটি ছবি প্রকাশ করলেও বর-কনের চেহারা দেখা যাচ্ছে না তাতে। পাত্রের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। ফলে তার বিয়ে নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে। অনেকেই পাত্রের পরিচয় জানার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। লুবাবার পরিবারের একটি সূত্র সময় সংবাদকে জানিয়েছে, পাত্র আলেম ও দেশের বাইরে থাকেন। ১৬ বছর বয়সে ইসলামি বিধান অনুযায়ী পারিবারিকভাবে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। সিমরিন লুবাবা বেড়ে উঠেছেন মিডিয়াবান্ধব পরিবারে। তার দাদা প্রয়াত আব্দুল কাদের ছিলেন মঞ্চ ও টেলিভিশনের খ্যাতিমান অভিনেতা। দাদার অনুপ্রেরণাতেই খুব অল্প বয়সে মিডিয়া জগতে পা রাখে লুবাবা। শিশুশিল্পী হিসেবে দর্শকদের মাঝে পরিচিত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে অভিনয় ও মডেলিং— দুটিতেই নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছিল। তবে গত বছরের শেষ দিকে তিনি বিনোদন জগত পুরোপুরি ছাড়ার ঘোষণা দেন।জানান যে, ভবিষ্যতে আর প্রকাশ্যে আসবে না। এরই মধ্যে নেকাব পরা শুরু করেছে। ওই সময় লুবাবার মা জাহিদা ইসলাম জেমি জানান, মিডিয়া থেকে পুরোপুর নিজেকে গুটিয়ে নিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমিত কিছু প্রচারণামূলক কাজে যুক্ত থাকবে লুবাব, সেগুলোও নেকাব পরেই করা হবে।গত ডিসেম্বরে লুবাবার মা বলেন, “লুবাবার নিজেরই উপলব্ধি হয়েছে সে আর মিডিয়ায় কাজ করবে না। মুখ দেখাবে না, তাই নেকাব পরা শুরু করেছে। এ অবস্থায় তো মিডিয়ায় কাজ করা যায় না। লুবাবা ধর্মীয় বই পড়ে পড়ে নিজে নিজে মনে করেছে সে জীবনধারায় পরিবর্তন আনবে। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
কলকাতার পরিচিত অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় (৪২) রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ–ওড়িশা সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেছেন।রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুতে টালিউডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহশিল্পী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠছে।ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ধ্যায় যখন সবাই আইপিএলের ম্যাচ দেখার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই আসে অভিনেতার মৃত্যুসংবাদ।সেদিন ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল তালসারি সৈকতে। হঠাৎ করেই সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যান রাহুল।কেউ কেউ জানিয়েছেন, শুটিং প্রায় শেষের দিকেই এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং ইউনিটের সদস্যদের সামনেই তিনি পানিতে ডুবে যান।ধারাবাহিকটির পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানান, আগের দিনও সেখানে শুটিং হয়েছিল। সেদিন একটি দৃশ্যে অল্প পানিতে দাঁড়িয়ে অভিনয় করছিলেন রাহুল ও সহঅভিনেত্রী শ্বেতা। তারা পানিতে খেলছিলেন, আর পেছন থেকে ক্যামেরা ধারণ করা হচ্ছিল। একসময় রাহুল শ্বেতার হাত ধরে ধীরে ধীরে সমুদ্রের ভেতরে এগিয়ে গেলে হাঁটুসমান পানিতে পৌঁছানোর পর রাহুল ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ইউনিট থেকে চিৎকার করে তাকে এগোতে নিষেধ করা হলেও ততক্ষণে পানির স্তর গলা পর্যন্ত উঠে যায়। তিনি হাবুডুবু খেতে শুরু করেন। সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটের ১০–১২ জন সদস্য তাকে বাঁচাতে ছুটে যান, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তিনি পানিতে তলিয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি প্রচুর পানি গিলে ফেলেছিলেন।তিনি আরও জানান, আশপাশের নৌকা থেকে দড়ি ফেলে এবং ইউনিটের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করা হয়। তখনও তার জ্ঞান ছিল। পরে দ্রুত তাঁকে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে টালিউডে সক্রিয় ছিলেন রাহুল। ছোটপর্দা, বড়পর্দা ও ওয়েব প্ল্যাটফর্ম— সব ক্ষেত্রেই ছিল তার বিচরণ। সম্প্রতি তিনি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছিলেন, যেখানে তার ও শ্বেতার রসায়ন দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এছাড়া ‘ঠাকুমার ঝুলি’ সিরিজেও তাকে দেখা গেছে।১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন রাহুল। থিয়েটার দিয়েই তার অভিনয়জীবনের শুরু, এবং তিনি প্রায় ৪৫০টির বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন।বড়পর্দায় তার অভিষেক হয় ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যা মুক্তির পর ব্যাপক সাফল্য পায়। এরপর ‘জ্যাকপট’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’, ‘কাগজের বউ’ ও ‘আকাশ অংশত মেঘলা’সহ নানা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা শক্ত করেন এই অভিনেতা।
আবারও মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর। রবিবার (২৯ মার্চ) পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী। সোনম নিজেই ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে ভক্তদের এই সুখবরটি জানিয়েছেন। হাদি হত্যা নিয়ে সংসদে কথা না বলায় পাটওয়ারীর ক্ষোভহাদি হত্যা নিয়ে সংসদে কথা না বলায় পাটওয়ারীর ক্ষোভসোনম তার পোস্টে লেখেন, অসীম কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় পূর্ণ হৃদয়ে আমরা জানাচ্ছি যে, আমাদের পুত্রসন্তানের আগমন ঘটেছে। আমাদের পরিবার এখন আরো বড় হলো। বড় ছেলে বায়ু তার ছোট ভাইকে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আরো জানান, চারজনের পরিবার হিসেবে জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু করতে পেরে তারা গভীরভাবে ধন্য।
শুটিংয়ে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে মারা গেলেন অভিনেতাশুটিং করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন ভারতীয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়। খবরটি আনন্দবাজার পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন রাহুলের সহশিল্পী ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।জানা গেছে, মাত্র ৪৩ বছর বয়সী টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও সঞ্চালক রাহুল রবিবার (২৯ মার্চ) ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন দিঘার তালসারি সৈকতে।দৃশ্যের দরকারে সৈকত থেকে পানিতে নামেন তিনি। সেখানেই তলিয়ে গেলে ইউনিট টেকনিশিয়ানরা উদ্ধার করেন। চোরাবালিতে ডুবে মৃত্যু বলেই প্রাথমিক ধারণা। দিঘা হাসপাতালে অভিনেতাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবরে জানানো হয়।ধারাবাহিকে রাহুলের জেঠুর চরিত্রে অভিনয় করেন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, রবিবার সকালে ধারাবাহিকের সবাই দিঘার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়েছিলেন। ভাস্করের কথায়, ‘জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ওর। মর্মান্তিক ঘটনা। ঘটনাটি প্যাকআপের পরে ঘটেছে। তবে ঠিক কীভাবে ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।’ভাস্কর আরও জানান, তারা শুটিং করে মধ্যাহ্নভোজ করতে গিয়েছিলেন। রাহুল আরও কয়েকটি শট দিয়ে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। ‘কিন্তু এমন কিছু ঘটে যাবে ভাবতেও পারছি না। অবাক লাগছে। সুস্থ তরতাজা মানুষ এভাবে চলে গেল। ভাবা যাচ্ছে না’- যোগ করলেন রাহুলের সহশিল্পী।টলিউড আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে অভিনেতা দিগন্ত বাগচী জানিয়েছেন, শুটিং শেষ হওয়ার পরে রাহুল সৈকত থেকে সমুদ্রে নামেন। তিনি বলেন, ‘‘হয় ও সাঁতার জানতো না, বা কোনোভাবে আটকে পড়েছিল। হঠাৎ টেকনিশিয়নরা চিৎকার করতে করতে বলেন, ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’। যখন উদ্ধার করা হয়, তখনও বেঁচে ছিল। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে ওকে মৃত ঘোষণা করা হয়।”
দেশে সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা পৌনে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যা একক মাস হিসেবে এযাবতকালে সর্বোচ্চ।বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।তথ্য বলছে, মার্চের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার। যা তার আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। আর গত বছরের একই সময়ের চেয়ে (মার্চ ২০২৫) ৪৬ কোটি ডলার বেশি এসেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০২ কোটি ডলার আর গত বছরের মার্চে এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। সে সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার (৩.২৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত ডিসেম্বরে। ওই মাসে দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার (প্রায় ৩.২৩ বিলিয়ন)। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত জানুয়ারিতে, যার পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চ মাসে ঈদ থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এটা স্বাভাবিক একটি প্রবণতা। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে এখনো কাজের সুযোগ বজায় আছে এবং বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও খুব বেশি না বাড়ায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।তথ্য বলছে, সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স। বিশষায়ীত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার। আর বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ২০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়।
অস্ট্রেলিয়া সফররত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. মিজানুর রহমান আজহারী তার ভিসা বাতিলের বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) এক অডিও বার্তায় তিনি এই পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ তুলে ধরেন এবং মানবিক মর্যাদা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।ড. আজহারী গত ২৮ মার্চ অস্ট্রেলিয়া পৌঁছান এবং গত পাঁচ দিন ধরে সেখানেই অবস্থান করছেন। কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সফরে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার কারণে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এই তথ্যের বিপরীতে তিনি জানান, এই সফরে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো জনসভায় বা প্রোগ্রামে বক্তব্যই দেননি।আজহারী বলেন, ‘আমি তো এখনও কোনো বক্তব্যই দেইনি। গতকাল প্রথম ইভেন্ট হওয়ার কথা ছিল, যা পরে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এরপর একটি পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করা হলে তারা ভিসাটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।’ তিনি আরও বলেন, সংবাদগুলোতে এমনভাবে তথ্য দেওয়া হয়েছে যেন তিনি এই সফরে এসে কোনো বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা আসলে তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।ভিসা বাতিলের কারণ সম্পর্কে আজহারী জানান, মূলত দীর্ঘ সময় আগের একটি বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ, যা মূল প্রসঙ্গের বাইরে ছিল, সেটিকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই একই ভিডিওর সূত্র ধরে কয়েক বছর আগে যুক্তরাজ্যেও তার প্রবেশে সীমাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ সেই পুরানো রেফারেন্স ব্যবহার করেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মতে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।অস্ট্রেলিয়ার ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার প্রেক্ষাপটে ড. আজহারী জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মের প্রতি মুসলিম হিসেবে আমাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। তিনি বলেন, ‘ইহুদি বা খ্রিস্টানদের প্রতি আমাদের কেন বিদ্বেষ থাকবে? মানবতার দিক থেকে তারা আমাদের ভাই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর আমার অনেক আলোচনা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন।ড. আজহারী স্পষ্ট করেন যে, তার প্রতিবাদ মূলত কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিপীড়নের বিরুদ্ধে। নিজেকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ হিসেবে প্রচার করার প্রচেষ্টাকে ভুল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, যদি ইহুদিদের ওপর কিংবা খোদ অস্ট্রেলিয়ার ওপরও কোনো অন্যায় আক্রমণ চালানো হয়, তিনি সেটির বিরুদ্ধেও কথা বলবেন। তার লড়াই মূলত আগ্রাসন ও জুলুমের বিরুদ্ধে।ড. আজহারী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সাংবাদিকদের প্রকৃত তথ্য অনুধাবন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভিসা বাতিল হওয়া একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু বর্তমানে কোনো বক্তব্য দিয়ে এটি ঘটেছে—এমন তথ্য প্রচার করা সঠিক নয়।’ তিনি বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটি কাটাতে রাজধানী থেকে গ্রামে আসা ও চরফ্যাশন উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নেমেছে মেঘনা নদীর কোলঘেঁষা প্রশান্তি পার্কে। ঈদের চতুর্থ দিনেও সেখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে ছুটে এসেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজতে।বিশেষ করে দুপুরের পর ভিড় বেড়ে যায়। পার্কের ভেতরে আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নদীর তীরে বসে অনেকেই উপভোগ করেছেন শীতল বাতাস আর মেঘনার শান্ত জলরাশি।কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। পার্কিং সংকট, খাবারের দোকানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং টয়লেট ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ঈদের চতুর্থ দিনে মেঘনার তীরে অবস্থিত প্রশান্তি পার্ক পরিণত হয়েছে আনন্দ-উৎসবের এক মিলনমেলায়। প্রকৃতি আর অবকাশের টানে মানুষের এই আগমন প্রমাণ করে, নগর জীবনের কোলাহল থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এমন খোলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।দর্শনার্থীরা বলেন, 'ঈদের ব্যস্ততার পর একটু খোলা জায়গায় সময় কাটাতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো লাগছে। বাচ্চারাও খুব আনন্দ করছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার-এর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ঈদের দিন থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে প্রায় লাখো পর্যটকের আগমনে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি।জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত এবং শ্রীমঙ্গল চা-বাগান এলাকাগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও গাইডসহ সংশ্লিষ্ট খাতের লোকজন এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।মৌলভীবাজারে প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয়সহ লাখো পর্যটক আসেন। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকরা ঘুরতে বের হয়েছেন। কেউ ঝর্ণার পানিতে গোসল করছেন, কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সেলফিতে বন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। স্থানীয় আলোকচিত্রীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।খাসিয়া পল্লি আর চা-বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। অনেকে প্রাইভেট কার নিয়ে আবার অনেকে দল বেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকবাহী ও সাধারণ পরিবহন, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ির কারণে শহরের মূল পর্যটন এলাকা ও সড়কগুলোতে যানজট তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বধ্যভূমি, হামহাম জলপ্রপাত, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, উঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগান, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, হাকালুকি হাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, খাসিয়া পল্লি, পাত্রখোলা েেলকসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাসস্থলসহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কমলগঞ্জ ও বড়লেখা রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হয়েছে। এর মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঈদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকসহ মোট ৪ হাজার ৭২৪ জন পর্যটক টিকিট কেটে প্রবেশ করেছেন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মোট ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০৯ টাকা।ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এখানে এসে মুগ্ধ হয়েছি। পাহাড় বেয়ে নামা ঝর্ণাধারা সত্যিই অসাধারণ। মৌলভীবাজারে অনেক সুন্দর পর্যটন স্পট রয়েছে, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে।’পরিবার নিয়ে মৌলভীবাজারে ঘুরতে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজ পাহাড়-জঙ্গল সত্যিই মনোমুগ্ধকর। সময়টা খুব আনন্দে কাটছে।”ঢাকা থেকে আসা মাহবুবুর রহমান নামে এক পর্যটক বলেন, ‘শহরের যানজট আর কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি।লাউয়াছড়া টিকেট কালেক্টর শাহিন আহমদ জানান, ‘এ বনে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় ছিল। পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিনি জানান প্রায় ২ হাজার ৮ শ ৮৪ জন পর্যটক বনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। যা সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা।’অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন,পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘোরাফের করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারে আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় থানা-পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার, সদস্যরা কাজ করছেন।
চাঁদপুর জেলায় প্রায় সাতাশ লাখ মানুষের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় বিভিন্ন উৎসব ও অবসর সময়ে লোকজন ছুটে আসে তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। এখানে এসে সময় কাটাতে পেরে আনন্দিত সব বয়সী লোকজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জেলার বাহির এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ গণপরিবহনে, আবার অনেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে এসেছেন ঘুরতে।নদীর মোহনায় প্রাকৃতিক পরিবেশে এই স্থানটির দৃশ্য সকালে একরকম, দুপুরে আরেকরকম। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। তবে রাতে বেশি সময় থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও জোস্না রাতে আরেক সৌন্দর্য অবতরণ হয়। প্রিয়জনদের নিয়ে নৌকা করে রাতের বেলায় ডাকাতিয়া নদীতে ঘুরতে পারলে ভালো সময় কাটানো যেতে পারে। মোহনার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট বড় ট্রলার ও স্পিড বোট।এসব ট্রলার আর স্পিড বোট দিয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশে মিনি কক্সবাজার নামক স্থানে ঘুরে আসা যায়। তবে বিকেল ৫টার মধ্যে আবার মোহনায় চলে আসতে হয়। আসা-যাওয়া ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ১শ টাকা। স্পিডবোটে জনপ্রতি ভাড়া কমপক্ষে ৩শ টাকা। এখানে এলে মাইকে ঘোষণা শোনা যাবে ট্রলারে যাওয়ার জন্য।
পহেলা বৈশাখের উৎসবকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ নতুন অপো এ৬কে উন্মোচন করেছে অপো। বাংলাদেশজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য ‘স্মুথনেস উইদাউট লিমিট’-এর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এটি নিয়ে আসা হয়েছে।অপো এ৬কের মূলে রয়েছে এর ৫০ মেগাপিক্সেল আলট্রা-ক্লিয়ার ক্যামেরা। এআই পোর্ট্রেইট রিটাচিং, ডুয়েল-ভিউ ভিডিও ও নাইট মোডের মতো ফিচার যুক্ত রয়েছে। স্মুথনেস নিশ্চিত করতে অপো এ৬কেতে স্ন্যাপড্রাগন ৬৮৫ মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। মাল্টিটাস্কিং, গেমিং ও প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য অপ্টিমাইজড এই প্রসেসরটি ল্যাগ-ফ্রি পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিক দক্ষতা নিশ্চিত করে, যা স্মুথনেসকে এই ডিভাইসের একটি অন্যতম ফিচারে পরিণত করে।অপো এ৬কেতে সুবিশাল ৬৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৫ বছর পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, এটিকে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী করে তুলতে রিভার্স চার্জিং সুবিধা নিয়ে আসা হয়েছে।এতে ১২০ হার্জ আলট্রা ব্রাইট ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলট্রা-স্মুথ স্ক্রলিং ও অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। এছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্স ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতে এতে ৪ বছরের ফ্লুয়েন্সি গ্যারান্টির পাশাপাশি, এআই এডিটর ২.০, এআই গেমবুস্ট ২.০, এআই লিঙ্কবুস্ট ৩.০, থেফট প্রোটেকশন ও জেমিনির মতো সর্বাধুনিক এআই-চালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “অপো এ৬কের মাধ্যমে আমরা এমন একটি অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে চাই যা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের প্রতিদিনের প্রয়োজনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স, শক্তিশালী ব্যাটারি, স্মুথ ডিসপ্লে ও সর্বাধুনিক ক্যামেরার সমন্বয়ে এ ডিভাইসটি কাজ, বিনোদন ও কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ডিভাইসটি কিনলেই ক্রেতারা ৯০ দিনের নিশ্চিত রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি ও ২ বছরের ওয়ারেন্টি সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এছাড়াও, একটি বিশেষ লটারি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ও’লাইক এয়ারবাডস, এলিট ব্যাকপ্যাক, অপো টিশার্ট ও অপো ক্যাপ জিতে নেওয়ার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা। একইসাথে, টপপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০% ডাউন পেমেন্টে কার্ডলেস ইএমআই সুবিধাও পাবেন তারা।ক্রিস্টাল ব্লু ও ক্রিস্টাল ভায়োলেটের মতো আকর্ষণীয় রঙে ৪ জিবি + ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের এই ডিভাইসটি এখন সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৯,৯৯৯ টাকায়।
কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দেন তিনি।ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না। সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে মাশাআল্লাহ’। তার এই পোস্টের নিচে কয়েক হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।এদিকে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে যানজট ও চাঁদামুক্ত এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে ঢাকা মহানগরীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক মনিটারিং করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে কোনো জনসচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার বা সংগঠনের নেতাদের কোথাও কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। এটা একটা কাগজে-কলমে ভুঁইফোঁড় সংগঠন।যদিও এর আগে ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ে ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গের পথে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।