চলতি আমন মৌসুমে ধান ও চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গত আমন মৌসুমের তুলনায় এক টাকা কমে সিদ্ধ চাল ও আতপ চাল এবং এক টাকা বেশিতে আমন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।রোববার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।তিনি বলেন, আমন ধান সংগ্রহ শুরু হবে ১৪ নভেম্বর থেকে। এ সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এছাড়া আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হবে, এই কার্যক্রমও চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।এ মৌসুমে প্রতি কেজি ৪৯ টাকা দরে ৫ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৪৮ টাকা দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল এবং ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন বিভক্তি ও নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া। নিজেদের প্রশাসনিক পরিচয় ও ভৌগোলিক সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখার দাবিতে এবার রেললাইন ও সড়কে নেমে এসেছেন বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাঁদের অবরোধে টানা পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের ট্রেন চলাচল। থমকে যায় আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের যান চলাচলও।রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে উপজেলার কোড্ডা এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধকারীরা রেললাইনে স্লিপার ফেলে ট্রেন চলাচলে বাধা দেন। অন্যদিকে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ট্রেনযাত্রী ও সড়কপথের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।আন্দোলনকারীদের দাবি, বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম নিয়ে বরিশল নামে পৃথক ইউনিয়ন গঠন এবং একই নামে উপজেলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। নতুন প্রশাসনিক কাঠামোয় যেতে অনিচ্ছুক বাসিন্দারা আগের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অধীনেই থাকতে চান।অবরোধের খবর পেয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম রোমা। তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।বাসুদেব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন শের শাহ অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার ভাই প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সানির প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের না জানিয়ে ইউনিয়ন বিভক্ত করে বরিশল ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। তাঁরা এ সিদ্ধান্ত মানতে চান না। পাশাপাশি বরিশল নামে উপজেলা গঠনের উদ্যোগও বন্ধের দাবি জানান তিনি।বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নয়ন বলেন, বরিশল গ্রামটি তাঁদের এলাকার অনেক দূরে। সেখানে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হবে। এতে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক সেবা নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।পাঁচ ঘণ্টার অবরোধ শেষে রেল ও সড়কপথে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে তিন দিনের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান না হলে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন।
ইরানের ওপর কয়েক মাস ধরে নৌ অবরোধ চালানোর পর এবার আরও বড় ব্লকেডের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্যের চলাচল বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন।বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ লক্ষ্যে ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামে একটি বিশেষ দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহের পথ সংকুচিত করার পাশাপাশি দেশটির অর্থের প্রবাহেও বাধা সৃষ্টি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের উন্নত অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সামগ্রীর চলাচল বন্ধে কাজ করবে এই টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন যেসব অর্থের প্রবাহকে অবৈধ বলে মনে করে, সেগুলো বন্ধ করাও দলটির অন্যতম লক্ষ্য।রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডার টাম্পায় হবে টাস্কফোর্স আয়রন গেটের সদর দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে দলটি।ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরানের জন্য এই উদ্যোগ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে সাতটি দেশের। পশ্চিম ও উত্তরে ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং পূর্বে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান। সব মিলিয়ে এসব দেশের সঙ্গে ইরানের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার।এ ছাড়া উত্তরে কাস্পিয়ান সাগরের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূল রয়েছে। ফলে স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে পণ্য ও প্রযুক্তি পরিবহনের পথগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের আওতায় আসতে পারে।এর আগে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে দেশটির সমুদ্রপথের বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্র। এবার স্থলপথ ও কাস্পিয়ান সাগরকেও লক্ষ্যবস্তু করায় তেহরানের ওপর মার্কিন চাপ আরও বিস্তৃত হতে যাচ্ছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক হিসেবে আজ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ।আজ রোববার (০৮ নভেম্বর) এসআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ ১৯৯৮ সালে বিসিএস ১৭তম ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে এক বছর মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ চাকুরি জীবনে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এছাড়াও তিনি অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর এবং হাইওয়ে পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া ও সুদানে দায়িত্ব পালন করেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফারুক আহমেদ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রি লাভ করেন।
নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, সঠিক তথ্যের অভাবে দেশ কোন অবস্থানে রয়েছে, কোথায় যেতে চায় এবং সেই লক্ষ্যে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা জরুরি।রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সাকি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নযোগ্য পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক ও পাঁচটি স্তম্ভকে ভিত্তি করে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথমেই প্রয়োজন প্রকৃত পরিস্থিতির নির্ভরযোগ্য তথ্য।তিনি আরও বলেন, অতীতে পরিসংখ্যান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে মানুষের মধ্যে সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগের বছরগুলোতে নিরূপণ করা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবের যথার্থতা যাচাইয়ে ফরেনসিক অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সহযোগিতায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে গবেষণা করেছে।পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় জিডিপি নিরূপণের পদ্ধতিতে বেশ কিছু দুর্বলতা পাওয়া গেছে। এসব দুর্বলতার জায়গা জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। কোনো ধরনের তথ্য বিকৃতি করতে চায় না সরকার। কারণ, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। বরং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সরকারের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) নিরূপণে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কম্পিউটার সহায়তায় তথ্য সংগ্রহ করে তা সরাসরি ডেটাবেজে যুক্ত হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগে এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া রাখা হয়নি। ফলে তথ্য প্রকাশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা পরিবর্তনের সুযোগ কমবে।তিনি আরও বলেন, পরিসংখ্যানকে সহজলভ্য করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শুধু সরকার নয়, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষেরও তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত কাজ শেষ হলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করা যাবে।সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন সাকি। তার মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণের সঙ্গে সমাজের অন্যান্য অংশের বিশ্লেষণের তুলনামূলক আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ থাকতে হবে। এতে তথ্যের যথার্থতা এবং নীতিনির্ধারণের কার্যকারিতা যাচাই করা সহজ হবে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য আলাদা পরিচিতি নম্বর ও ওয়ালেটভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরতে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি আরও উন্নত করতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে মিজানুর রহমান রাজকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে শরিফুল ইসলাম মিলনকে।রোববার (৮ নভেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ কমিটির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে।বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নাম উল্লেখ করা হয়।
বছরের শুরুর দিকে সামাজিক মাধ্যমে বিয়ের গুঞ্জন উঠেছিল অভিনেত্রী নাজনীন নীহার। সে সময় খবরটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এবার যেন নীহা নিজেই প্রকাশ্যে আনলেন বিয়ের খবর। আজ সামাজিক মাধ্যমে দুটি ছবি প্রকাশ করে নিজের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে নেটিজেনদের কৌতূহল উসকে দিয়েছেন নীহা। এরপর থেকেই নেটাগরিকদের ধারণা তিনি বিয়ে করেছেন। কেননা ছবি দুটিতে কাবা শরীফের সম্মুখে অভিনেত্রীকে বাহুবন্দি করে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি। অন্য ছবিতে একে অন্যের হাতে হাত ধরে। ক্যাপশনে বিয়ের ইঙ্গিত দিয়ে নীহা লিখেছেন, ‘একটি অধ্যায় আমরা এত দিন ব্যক্তিগতই রাখতে চেয়েছিলাম; এবার সেই সুন্দর যাত্রার গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইছি। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমাদের যে সুন্দর বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন এবং তার পবিত্র ঘরে একসঙ্গে আসার সৌভাগ্য দান করেছেন, তার জন্য অশেষ শুকরিয়া।’নীহার পোস্টের পর থেকেই আলোচনা শুরু। নেটজেনদের ধারণা বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী। কেননা গেল জুনে তিনি জানিয়েছিলেন সম্পর্কে আছেন। তবে কি সেই প্রণয়ই পরিণয় পেল— কৌতূহল সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের। যদিও এরচেয়ে বেশি জানাননি অভিনেত্রী। পাত্রের নাম-পরিচয়ও রয়েছে আড়ালে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবিনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।আজ রোববার (৮ নভেম্বর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।চার সদস্যের পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আ ন ম সাইফুল ইসলামকে।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর ১০ মাসে প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায়।রোববার (৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।এই প্রতিবেদন তৈরি করতে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজেদের সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করেছে সংস্থাটি।প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি এবং পিতা-সন্তান নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। ১৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন ৩৮৬ জন। আর ১৫৯টি দুর্ঘটনায় পিতা-সন্তান নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহতের ঘটনাও উদ্বেগজনক। এসব দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ১১৮টি, চারজন নিহতের ঘটনা ৯২টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা ৫৩টি, ছয়জন নিহতের ঘটনা ৩৮টি এবং সাতজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। সব মিলিয়ে ৫২৫টি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন।মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ৪৬টি, চারজন নিহতের ঘটনা ৩৯টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা ২৮টি, ছয়জন নিহতের ঘটনা ২০টি, ১১ জন নিহতের ঘটনা চারটি এবং ১৪ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে একটি। মোট ১৮৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০৮ জন।প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ৩১টি, চারজন নিহতের ঘটনা ২৪টি এবং পাঁচজন নিহতের ঘটনা ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৫২ জন।অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ১৫টি, চারজন নিহতের ঘটনা ৯টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা সাতটি এবং আটজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে তিনটি। এসব ঘটনায় মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৬২ জনের।এছাড়া, বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিনজন নিহতের ঘটনা নয়টি এবং চারজন নিহতের ঘটনা ছয়টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। অন্যদিকে, পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে পরিবারভিত্তিক প্রাণহানির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সবাই একসঙ্গে কাজে বা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, অধিকাংশ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা এবং এসব যানবাহনের চালকদের অদক্ষতা। সেইসঙ্গে চালকদের বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।পরিবারভিত্তিক এমন প্রাণহানি কমাতে প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সুপারিশও করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। মোটরসাইকেল আরোহীদের ভালো মানের হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে নিরাপদ সড়ক নকশা তৈরি এবং সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নজরদারির সুপারিশ করা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) বিজিবির তরফে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর; নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইল এবং গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনা এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।বিজিবি সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল থেকে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও সরাসরি ভিডিও চিত্র সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা।শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা, জনসাধারণের জানমালের সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবির মোতায়েন ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, সঠিক তথ্যের অভাবে দেশ কোন অবস্থানে রয়েছে, কোথায় যেতে চায় এবং সেই লক্ষ্যে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা জরুরি।রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সাকি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নযোগ্য পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক ও পাঁচটি স্তম্ভকে ভিত্তি করে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথমেই প্রয়োজন প্রকৃত পরিস্থিতির নির্ভরযোগ্য তথ্য।তিনি আরও বলেন, অতীতে পরিসংখ্যান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে মানুষের মধ্যে সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগের বছরগুলোতে নিরূপণ করা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবের যথার্থতা যাচাইয়ে ফরেনসিক অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সহযোগিতায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে গবেষণা করেছে।পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় জিডিপি নিরূপণের পদ্ধতিতে বেশ কিছু দুর্বলতা পাওয়া গেছে। এসব দুর্বলতার জায়গা জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। কোনো ধরনের তথ্য বিকৃতি করতে চায় না সরকার। কারণ, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। বরং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সরকারের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) নিরূপণে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কম্পিউটার সহায়তায় তথ্য সংগ্রহ করে তা সরাসরি ডেটাবেজে যুক্ত হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগে এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া রাখা হয়নি। ফলে তথ্য প্রকাশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা পরিবর্তনের সুযোগ কমবে।তিনি আরও বলেন, পরিসংখ্যানকে সহজলভ্য করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শুধু সরকার নয়, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষেরও তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত কাজ শেষ হলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করা যাবে।সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন সাকি। তার মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণের সঙ্গে সমাজের অন্যান্য অংশের বিশ্লেষণের তুলনামূলক আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ থাকতে হবে। এতে তথ্যের যথার্থতা এবং নীতিনির্ধারণের কার্যকারিতা যাচাই করা সহজ হবে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য আলাদা পরিচিতি নম্বর ও ওয়ালেটভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরতে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি আরও উন্নত করতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে মিজানুর রহমান রাজকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে শরিফুল ইসলাম মিলনকে।রোববার (৮ নভেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ কমিটির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে।বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নাম উল্লেখ করা হয়।
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিমতলীতে দেখা মিলতে শুরু করেছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখির। শীতের শুরুতেই জলাভূমি, খাল-বিল ও প্রাকৃতিক পরিবেশে অতিথি পাখির আনাগোনা প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে সৃষ্টি করেছে বাড়তি আনন্দ ও উৎসাহ।প্রতিবছর শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জলাভূমির পাশাপাশি হাতিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশেও ছুটে আসে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। দূরদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা এসব অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে নিমতলীর চারপাশ।সকাল ও বিকেলের মনোরম সময়ে পাখিদের বিচরণ দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। অতিথি পাখির এমন উপস্থিতি হাতিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।তবে অতিথি পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে শিকার ও বিরক্ত করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি পাখিদের আবাসস্থল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা প্রয়োজন।প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য ধরে রাখতে অতিথি পাখি সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ সচেতনরা।
মাত্র দুই ম্যাচ আগেই টেস্টে অভিশেষ করেছেন তাওহীদ হৃদয়। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরপুরে মাঠে নেমেই ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে দলে বিপদে ফেলেছিলেন তিনি। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। তবে তৃতীয় ম্যাচেই অসাধ্য সাধন করে সমালোচকদের কঠিন জবাব দিয়েছেন তিনি।বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এতদিন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংস ছিল মুশফিকুর রহিমের, অপরাজিত ২১৯ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। হৃদয় আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে মুশফিককে ছাড়িয়ে গেছেন। ২৪২ রানের অপরাজিত থেকে দলকে লিড এনে দেন তিনি।সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় হৃদয়ের নামের পাশে ১৯০ রান। সঙ্গে লোয়ার অর্ডার ব্যাটার তাসকিন আহমেদ। সাদমান ইসলাম ইনজুরিতে পড়ায় তাসকিনই কার্যত বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ ব্যাটার। আউট হলেই শেষ।সেই তাসকিনকে নিয়েই মহাকাব্যিক এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। এক প্রান্ত ধরে ধরে ৩০৪ বলে এই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটার। ২০০ রান ছোঁয়ার পথে খেলার পথে ১৯টি চার আর ৭টি ছক্কা হাঁকান হৃদয়।হৃদয়ের ইনিংসে বিরাট অবদান রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। দুজনের ১১৭ রানের জুটিতেই ৩০০ পার করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই জুটির ইতি টানেন জোমেল ওয়ারিকেন। এরপর তাসকিন ১২ রান করে আউট হলে ৩৮৬ রানের থামে বাংলাদেশ। ৩২ রানের লিড পায় টাইগাররা।দিনের চতুর্থ শিকারে তাইজুলকে ব্যক্তিগত ২২ রানে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন ওয়ারিকেন। ৩০১ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।তৃতীয় দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৪ রান করে মুশফিক জোমেল ওয়ারিকেনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়েছেন। এরপর লিটনও ফিরেছেন মাত্র ৮ রান করে। মুশফিকের মতো ওয়ারিকেনের বলে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।হৃদয়কে সঙ্গ দেওয়ার প্রচেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যক্তিগত ১৬ রানে। তাতে ভাঙে ৪১ রানের জুটি। তার বিদায়ে ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। ১ রানের বেশি করতে পারেননি হাসান মাহমুদ। ওয়ারিকেনের তৃতীয় শিকার হন লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার দিওয়ালি পার্টিতে হাতে হাত রেখে হাজির হলেন তারকা দম্পতি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চন। লাল গালিতে সোনালি পাড়ের উজ্জ্বল লাল শাড়িতে সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া এবং কালো শেরওয়ানিতে অভিষেক বচ্চন যেন পুরো অনুষ্ঠানের আলো কেড়ে নেন। তাদের এই জাদুকরী রসায়নের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ঝড়ের গতিতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে বলিউডে দীপাবলির উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো । মনীশ মালহোত্রা তার বাড়িতে একটি জমকালো দীপাবলি পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে বলিউডের অনেক বড় বড় তারকার উপস্থিতি ছিল। তবে সেই পার্টির সবচেয়ে আলোচিত তারকা ছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চন। এ তারকা দম্পতি হাতে হাত ধরে প্রবেশ করেন ৷ মুহূর্তের মধ্যে তাদের রসায়ন সবার নজর কেড়ে নেন। উজ্জ্বল লাল শাড়িতে সজ্জিত ঐশ্বরিয়া তার স্বামী অভিষেকের হাত ধরে ভালোবাসার ভঙ্গিতে পোজ দেন। এতদিন পর এ জুটিকে একসঙ্গে দেখে ভক্ত-অনুরাগীরা উচ্ছ্বসিত। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে তাদের দুজনের ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ঐশ্বরিয়াকে কখনো অভিষেকের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে, আবার কখনো তার বাহুডোরে থেকে হাসতে দেখা গেছে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য সাবেক বিশ্বসুন্দরী সোনালি সুতায় সূক্ষ্ম কারুকার্য করা একটি উজ্জ্বল লাল শাড়ি বেছে নিয়েছিলেন। লাল লিপস্টিক ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অভিনেত্রীকে অসাধারণ লাগছিল। অন্যদিকে অভিষেক বচ্চনকে কালো শেরওয়ানিতে সুন্দর দেখাচ্ছিল।এ তারকা দম্পতির ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসামাত্রই নেটিজেনসহ ভক্ত-অনুরাগীদের মন্তব্যে ভরে যায়। তাদের একসঙ্গে হাত ধরে হাসতে দেখে ভক্ত-অনুরাগীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। তাদের দেখে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, তাদের ওপর যেন কুদৃষ্টি না পড়ে। আরেক নেটিজেন প্রশংসা করে লিখেছেন, বহু বছর পর এমন দৃশ্য দেখলাম।অনেকেই ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের লাল শাড়ির সাজও পছন্দ করেছেন। এতদিন পর এ তারকা জুটির এমন ছবি দেখে ভক্ত-অনুরাগীরা বলছেন, তাদের এভাবেই একসঙ্গে সুখী থাকা উচিত।এর আগে বেশি কিছু দিন ধরেই তাদের বিবাহিত জীবন নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনার গুঞ্জন ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে তাদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনাও ওঠে। তবে কেউ-ই আনুষ্ঠানিকভাবে এ খবর নিশ্চিত করেননি।
আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হওয়ার সময় মেজাজ হারিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর চড়াও হয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বর ত্যাগ করার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পরীমণি ওই সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমার গায়ে হাত দিলি কেন?’ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে সাংবাদিকদের ভিড়ের মধ্যে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর বেজায় চটে যান অভিনেত্রী এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তবে যাকে উদ্দেশ্য করে পরীমণি এই অভিযোগ করেন, সেই সাংবাদিক তাৎক্ষণিকভাবে তা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কেন আপনার গায়ে হাত দেব? আমার ট্রাইপড ভেঙে দিলেন কেন?’ এ সময় অভিনেত্রীর সঙ্গে থাকা অন্য এক ব্যক্তির কণ্ঠেও প্রতিবাদ করতে শোনা যায়, যিনি বলেন, ‘আপনি টেনে হাত ছিলে ফেলছেন।’ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হেনস্তার শিকার ওই জাতীয় দৈনিকের ডিজিটাল বিভাগের সাংবাদিক বলেন, ‘তিনি মূলত একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করতেই আদালতে এসেছিলেন। তিনি গাড়ি থেকে নামার সময় অন্য সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি আমিও তাঁর ফুটেজ ধারণ করছিলাম। ঠিক যে মুহূর্তে তিনি লিফটে উঠছিলেন, তাঁর বডিগার্ডরা আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এর পরও আমি ফুটেজ নেওয়া চালিয়ে গেলে, তিনি হঠাৎ আমার ফোনে হাত দেন এবং খামচে ধরে ফোনটি কেড়ে নেন। পরে আমি তাঁর হাত থেকেই ফোনটি উদ্ধার করি।’তিনি আরও যোগ করেন, ‘মামলার শুনানি শেষ করে নিচে নামার পর আমাকে দেখে তিনি আবারও তেড়ে আসেন। এ সময় তিনি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এলোপাতাড়ি অকথ্য ও গালিগালাজপূর্ণ ভাষায় কথা বলতে থাকেন।’এর আগে আজ সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন পরীমণি। শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন দেন আদালত।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এতথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বুধবার পরীমণির মনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। এই মামলায় পরীমনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন। এজন্য সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীমনি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন। আশা করি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার এ মামলায় সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আসামি পরীমণির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। সেখানে বলা হয় এলার্জি জনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন আদালত। একইসঙ্গে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে পরীমণি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন। নাসির এবং আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, পরীমণি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।
উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন।মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন তারা। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ছাড়ার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তার মাথা ও বুকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের এপ্রিলে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি পরীমনির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনারও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিত্রনায়িকা মৌসুমী ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় ও প্রিয় মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে রুপালি পর্দায় পা রাখার পর থেকেই নিজের অসাধারণ অভিনয়, অনবদ্য সৌন্দর্য আর সাবলীল অঙ্গভঙ্গিতে কোটি দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। আজ এ নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন।দীর্ঘ অভিনয়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক ব্লকবাস্টার ও জনপ্রিয় সিনেমা। বর্তমানে এ অভিনেত্রী অবস্থান করছেন আমেরিকায়। পেয়েছেন দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি। মৌসুমী বলেন, মানুষ চলার পথে অনেক ভুল করে। সেই ভুলগুলোই একসময় জীবনে অনুশোচনা হয়ে ফিরে আসে। আবার ভুলও মানুষের জীবনে প্রয়োজন আছে। ভুল করলে মানুষ একসময় বুঝতে পারে যে তার ভুল হয়েছে, সেই ভুল থেকে শেখারও চেষ্টা করে একসময়। আমি নিজেও হয়তো চলার পথে ভুল করেছিলাম, সেসব ভুল শুধরে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছি বলেই আমি আজ এত দূর আসতে পেরেছি। এটাও সত্যি, ভুল একজন মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করে উপলব্ধি থেকে।এই অভিনেত্রী বলেন, ভুল করলে ঝামেলায় পড়তে হয়, তবে ভুল ফেস করাটাও জীবনের অংশ। ভুল-ভ্রান্তি, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না এই নিয়েই তো আসলে জীবন। যে জীবনের যোদ্ধা আমি, আমরা সবাই।তিনি বলেন, আমরা যখন একসঙ্গে কাজ করতাম, তখন সিনিয়র জুনিয়ররা একটা টিম হয়ে কাজ করতাম। যে কারণে আমরা খুব বেশি যে নিরাপত্তহীনতায় ভুগতাম এমনটা নয়। তবে হ্যাঁ ইন্ডাস্ট্রির মধ্য থেকে আমাকে, আমাদের শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেনি। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেদেরই করে নিতে হয়েছে সবসময়।অভিনেত্রী বলেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটা রাজনীতির জায়গা। ছোট ছোট বিষয় নিয়েও রাজনীতি হয় এখানে। সেসব নোংরা রাজনীতির মধ্যে পড়ে যেতাম আমি, আমরা। যে কারণে এসব ঝামেলা এড়ানোর জন্য নিজেরাই গ্রুপ মেইনটেইন করতাম, যাতে বিপদে পড়লেও তা থেকে উত্তরণ হওয়া যায়। আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করতাম আমাদের মধ্যে কোনো জেলাসি ছিল না। আর ইন্ডাস্ট্রি নারী শিল্পীদের যে খুব বেশি সম্মান দিয়েছে তা বলব না, নারী শিল্পীরা যতটুকুই পেয়েছে তাদের যোগ্যতার কারণেই পেয়েছে। হোক সেটা শ্রদ্ধেয় শাবানা, ববিতা ম্যাডাম কিংবা আমিসহ অন্যদের ক্ষেত্রে। আমি মনে করি তারা নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই সম্মান আদায় করে নিয়েছেন।
মস্তিষ্কে টিউমার, অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, এমনকি লাইফ সাপোর্টেও থাকতে হয়েছে তাকে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ভারতের চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা একপর্যায়ে জানিয়েছিলেন, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন পূর্বাভাসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি অভিনেত্রী। দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। প্রায় ১০ মাসের বিরতি কাটিয়ে সম্প্রতি ফিরেছেন শুটিংয়েও। তার ভাষায়, নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো যেন দ্বিতীয় জন্মের মতো।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও কাজে ফেরার অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন তানিয়া বৃষ্টি। জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছেন। দীর্ঘ ১০ মাস পর আবার স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও হাসিখুশি সময় কাটাতে পারছেন।অস্ত্রোপচারের পর নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে হয়েছে তাকে। মাথার ডান পাশের সমস্যার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়েও ঘুমাতে পারতেন না। ছিল প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যা। রেডিওথেরাপির কঠিন সময় পার করে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া।এতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের টানাপড়েন নিয়ে নির্মিত নাটকটির গল্পে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তার চরিত্রটি।দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে থাকায় কাজের পরিবেশকে ভীষণ মিস করছিলেন তানিয়া। সহকর্মীদের নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। তাই শুটিংয়ে ফেরাটা তার কাছে শুধু পেশাগত প্রত্যাবর্তন নয়, মানসিকভাবেও স্বস্তির। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কাজে ফেরার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। চিকিৎসকরা প্রথমে তাকে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে চাননি। কারণ, এখনো কেমোথেরাপির চিকিৎসা চলছে। এ অবস্থায় কাজের চাপ থেকে শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তানিয়া। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করে একটি নাটকে কাজ করার অনুমতি নেন। এখনো তার দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করে টিউমারের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা।তানিয়ার অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয় তার। টানা চার দিন অসুস্থতা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে শুরু হয় প্রচণ্ড বমি। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরদিনই জানা যায়, মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে।শুরুতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা থাকলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ে। ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক অনকোলজিস্টের কাছ থেকে আয়ু নিয়ে ভয়াবহ পূর্বাভাস শুনতে হয় তাকে। চিকিৎসক জানান, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন কথা শোনার পর মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খান অভিনেত্রী।প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে ঢাকায় থাকতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তানিয়া। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তাতেও ছিল বিদায়ের সুর। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে পাশে মা ও বোনকে দেখে কিছুটা সাহস পান।অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তানিয়া। বাবা না থাকায় রাত জেগে মেয়ের সেবা করেছেন মা। পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা ও ভালোবাসা তাকে কঠিন সময় পার করার শক্তি জুগিয়েছে। এ ছাড়া সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় আলমগীর এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছেন।অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল তার মৃত্যুর গুজবও। তবে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে এখন নতুন করে জীবন ও কাজের স্বপ্ন দেখছেন তানিয়া। ২০১২ সালে ভালোবাসা থেকেই অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এবারও সেই ভালোবাসা আর আগের উদ্দীপনা নিয়েই ক্যারিয়ারকে নতুন করে এগিয়ে নিতে চান।জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের উদ্দেশেও দিয়েছেন সাহসী বার্তা। তার মতে, রোগের নাম শুনেই মনোবল হারালে চলবে না। মানসিক দৃঢ়তা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো জরুরি। কঠিন সময়েও আশা না হারিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
টানা কাজ করা, শারীরিক ও মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা, শুষ্ক ত্বক, বয়স বাড়া ইত্যাদি কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। আর এটি সৌন্দর্য কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে উপকারী। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার দুই উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।১. শশাশশার মধ্যে রয়েছে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান এবং হালকা অ্যাসট্রিসজেন্ট উপাদান। এগুলো চোখের নিচের কালো দাগ দ্রুত দূর করতে কাজ করে।একটি শশাকে গোল করে কেটে ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে দিন। আক্রান্ত ত্বকে ১০ মিনিট এটি রাখুন। এবার জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে দুই বার এ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।এ ছাড়া সমপরিমাণ শশা ও লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে মাখুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে অন্তত একবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।২. কাঁচা আলুআলুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং অ্যাজেন্ট। এটি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে উপকারী। পাশাপাশি এটি ত্বকের ফোলাভাব কমায়।একটা বা দুইটা আলুর খোসা ছিলে, কুচি করে এর রস বের করুন। একটি তুলার বলের মধ্যে ভেজান এবং বলটি চোখের ওপর দিন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখের পাতা ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহের জন্য দিনে এক থেকে দুই বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
চলতি আমন মৌসুমে ধান ও চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গত আমন মৌসুমের তুলনায় এক টাকা কমে সিদ্ধ চাল ও আতপ চাল এবং এক টাকা বেশিতে আমন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।রোববার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।তিনি বলেন, আমন ধান সংগ্রহ শুরু হবে ১৪ নভেম্বর থেকে। এ সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এছাড়া আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হবে, এই কার্যক্রমও চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।এ মৌসুমে প্রতি কেজি ৪৯ টাকা দরে ৫ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৪৮ টাকা দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল এবং ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা মদিনা থেকে একটি যানবাহনে করে জেদ্দার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ সাতজন প্রাণ হারান।তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে এবং স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে তিনজন জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীকে নিয়োগ দিয়েছে জেকে লাইফস্টাইল। তাঁরা হলেন মো. আব্দুল জলিল খান, আসাদুজ্জামান নূর ও মো. শাহা রিয়ার রহমান সাগীর।প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, মো. আব্দুল জলিল খান গ্রুপ চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে যোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচালন ব্যবস্থাপনায় তাঁর ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস অ্যান্ড হসপিটালিটি) এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া প্রাভা হেলথ, স্কয়ার হাসপাতাল ও আজগর আলী হাসপাতালেও কাজ করেছেন তিনি।আসাদুজ্জামান নূর যোগ দিয়েছেন আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট গভর্ন্যান্সের দায়িত্বে। এ খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা ১৮ বছরের বেশি। তিনি ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ থেকে ফাইন্যান্সে বিবিএ ও এমবিএ করেছেন। এর আগে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স, লায়লা গ্রুপ, সিনড্রেলা ফ্যাশনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।অন্যদিকে, প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন মো. শাহা রিয়ার রহমান সাগীর। প্রযুক্তি খাতে তাঁর ১২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেছেন। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ক্লাউড অবকাঠামো ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।নতুন নিয়োগ প্রসঙ্গে জেকে লাইফস্টাইলের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে।
মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ‘শিশু সুরক্ষা নীতিমালা’ বা চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী। এ ছাড়া শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি ও অনুপযুক্ত স্পর্শের কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষকদের নিয়মিত মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ এবং অপরাধে জড়িতদের ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের আহ্বান জানান তিনি।আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী।ফেসবুক পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী উল্লেখ করেন, এ দেশে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে হাজারো আলিম, আলিমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তোলার নেপথ্যে মাদ্রাসাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এমন বাস্তবতায় প্রভাবশালী আলিম, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত খোলামেলা ও আত্মসমালোচনামূলক আলোচনা করা। ভুলগুলো নিজেরা সংশোধন না করলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষ সেই সুযোগ নেবে, যার ফলে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাই অযাচিত চাপ ও সংকটের মুখে পড়তে পারে।মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা অসংখ্য সিসি ক্যামেরাহীন, অনিবন্ধিত ও তদারকিহীন প্রতিষ্ঠানের অপ্রীতিকর ঘটনার চিত্র উঠে আসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার অর্থ এই নয় যে তা জবাবদিহিতা, সুশাসন ও মানোন্নয়নের ঊর্ধ্বে থাকবে। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অনুমোদন, মানসম্মত পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক, নিরাপদ অবকাঠামো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ নিয়োগ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।শিক্ষকদের আচরণ ও পাঠদান পদ্ধতির বিষয়ে আজহারী বলেন, শিশুদের বয়স, মানসিক বিকাশ ও আবেগের ধরণ বুঝে শিক্ষকদের বয়সোপযোগী ও মানবিক আচরণ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, বেত্রাঘাত বা ভয় দেখানোর ঘটনা শিশুর মনে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা সৃষ্টি করে, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা নয়, শিক্ষা হলো সন্তানের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মবিকাশ।বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালার তাগিদ দিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, প্রতিটি মাদ্রাসায় চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমারেখা, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির নিরাপদ ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীর গোপনীয়তা রক্ষার স্পষ্ট নির্দেশ থাকতে হবে। শারীরিক শাস্তি বা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা অভ্যন্তরীণভাবে ধামাচাপা না দিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আজহারী জানান, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা যাতে পুনরায় অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না পান, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের পার্থক্য বজায় রেখে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।পরিশেষে মিজানুর রহমান আজহারী স্পষ্ট করেন, এই পর্যালোচনা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়; বরং ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে দ্বীনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই। আলেম-ওলামা, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।