ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ২৯৬ জন এমপির শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই শুরু হবে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রস্তুতি।বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংসদ অধিবেশন ডাকবেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ ডাকলে প্রথম বৈঠক কখন ও কোথায় হবে সেটাও তিনিই ঠিক করেন।তবে তিনি নিজের ইচ্ছায় করেন না, প্রধানমন্ত্রী লিখিতভাবে যা পরামর্শ দেবেন, সেটি অনুযায়ী করতে হয়।কতদিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে সেক্ষেত্রে অবশ্য সময় বেধে দেয়া আছে সংবিধানেই।৭২ ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা আছে, জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের বৈঠক ডাকতেই হবে।ত্রয়োদশ নির্বাচনের সরকারি ফলাফল ঘোষণা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ১৬ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম বৈঠক হতেই হবে।এদিকে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজান শুরু হতে পারে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে। ফলে রোজার মধ্যেই সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের শপথ।একই সঙ্গে তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নেয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিতদের দুটি শপথের বিষয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সব মিলিয়ে কাল সংসদ ও এর দক্ষিণ প্লাজায় মোট তিনটি আলাদা শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। একবার সংসদ সদস্য হিসেবে আরেকবার সংস্কারের জন্য। তিনি বলেন, সকালে একবার তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তারপর সংস্কারের জন্য শপথ নেবেন এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ হবে।আজকে কোনো তালিকা পাওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন; নতুন মন্ত্রীদের নামের তালিকা তার ওপর নির্ভর করছে।জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মতি ক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নামের প্রস্তাব গৃহীত হবে।বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে।
প্রায় দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বিদায় নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে এই সময়ে তিনি কতটা সফল এবং কতটা ব্যর্থ তা বিচারের ভার দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন খাতে তার সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। যারা দেশকে লুটেপুটে খেত তারাই দেশের এই যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কেউ নানাজনের সুপারিশ নিয়ে আসছে তারা অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক ইত্যাদি। সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না- এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সেই থেকে ১৮ মাস চলে গেছে। অবশেষে ১২ই ফেব্রুয়ারি আসলো। দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল, যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বিএনপি পরিবার-এর আহ্বায়ক এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন দেশের প্রখ্যাত পত্রিকা দৈনিক দিনকাল-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রুমনের এই যোগদানকে সংশ্লিষ্ট মহল ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, তার নেতৃত্বে পত্রিকাটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আরও গতিশীল হয়ে উঠবে।নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, জনস্বার্থ রক্ষা এবং গণমাধ্যমের নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখাই হবে তার প্রধান অঙ্গীকার। তিনি পাঠক, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন।মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, তার এই পদায়ন দেশের প্রিন্ট মিডিয়া খাতে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রিয় দেশবাসী,শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ—আপনাদের সকলের প্রতি আমার আন্তরিক সালাম ও গভীর শ্রদ্ধা।আসসালামু আলাইকুম!শুরুতেই আমি বাংলাদেশের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ, ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত—এই নির্বাচন তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।প্রিয় দেশবাসী,বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।আজ বিদায়ের দিনে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে আপনাদের কিছু কথা বলব। কী মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিনটি! সে কী আনন্দের দিন! বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল। দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তুদেশ সম্পূর্ণ অচল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে সেটা ছিল সবার মনে।অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা ঠিক করলো দেশকে সচল করার জন্য একটি সরকার লাগবে। সরকার গঠন ও চালাবার জন্য তারা আমাকে খবর দিলো। আমি তখন বিদেশে। আমি দায়িত্ব নিতে রাজি না। তারা জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের কথা বলে আমাকে রাজি করালো। ১৮ মাস পর এখন আমারযাওয়ার পালা।আমি আজ আমার কাজ হতে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি। আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। যারা দেশকে লুটেপুটে খেত তারাই দেশের এই যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে।কেউ নানাজনের সুপারিশ নিয়ে আসছে তারা অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক ইত্যাদি। সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না- এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল।সেই থেকে ১৮ মাস চলে গেছে। অবশেষে ১২ই ফেব্রুয়ারি আসলো। দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা পরাজিত হয়েছেনতাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারাও মোট ভোটের অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারা এই জেনে আশ্বস্ত হবেন যে প্রায় অর্ধেক ভোটার আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী দিন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে- এর মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে।চব্বিশের জুলাই মাসে বাংলাদেশের মানুষ এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের মুক্তি, আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদার দাবি উচ্চারণ করেছিল। সেই সময় দেশ একটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক সংকটে নিপতিত ছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল, গণতন্ত্র হয়েছিল ধুলিস্যাৎ, ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত।ঠিক সেই সংকটময় সময়ে আমাকে আহ্বান জানানো হয়েছিল—একটি লক্ষ্য সামনে রেখে। বাংলাদেশকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য তিনটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সংস্কার। বিচার। এবং নির্বাচন।আমি ও আমার সহকর্মীরা—সবাই আমরা সেই অঙ্গীকার রক্ষার চেষ্টা করে গেছি। কোথায় কতটুকু সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি, কোথায় ব্যর্থ হয়েছি সে বিচারের ভার আপনাদের ওপর থাকলো।আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না। আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রেখেছি। আমরা ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, আর্থিক সংস্কারে হাত দিয়েছি—যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে স্থাপন করতে না পারে। আর সর্বোপরি, আমরা একটি উৎসবমুখর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছি, যার মাধ্যমে জনগণ আবার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়—এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা; নতুন বাংলাদেশের জন্ম।এই অর্জনের পেছনে যাঁরা ছিলেন—জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে আসা প্রতিবাদকারী তরুণ-তরুণীরা,সেই সাহসী মানুষগুলো,শহীদ ও আহতরা—তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।তাঁদের অভূতপূর্ব ত্যাগ ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব হতো না।এই প্রক্রিয়া সফল করতে দেশের আবালবৃদ্ধবণিতা সকলেইসহযোগিতা করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে দেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, নির্বাচন কমিশন, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সদস্যরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইল। আপনাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও আস্থার ওপর ভর করেই এই পথচলা সম্ভব হয়েছে।প্রিয় দেশবাসী,চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে তরুণরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল—তার কেন্দ্র ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।এই সংস্কারসমূহ নাগরিক অধিকারকে সংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে সেটা নিশ্চিত করেছে।আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর। থানাগুলো ছিল পুলিশশূন্য, জনগণের মধ্যে আস্থার বদলে ভয় ও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ধাপে ধাপে আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছি।আজ পুলিশ আর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে না, বেআইনিভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যায় না, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করে না, পুলিশ ও গোয়েন্দাবাহিনীর ভয়ে কাউকে ডিলিট বাটন চাপতে হয় না। জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে যুগান্তকারী সংস্কার করা হয়েছে।সেপারেশন অব জুডিশিয়ারির জন্য মাজদার হোসেন মামলার রায় আমরা বাস্তবায়ন করে গেলাম।গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে রায় সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ এবং অন্তর্বর্তী আপিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।বাংলাদেশ যেন আর কখনো মানবাধিকারহীন রাষ্ট্রে পরিণত না হয়—সে লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে এবং কমিশন গঠন করা হয়েছে।প্রিয় দেশবাসী,একটি সমাজ তখনই উন্নত হয়, যখন তার নারীরা নিরাপদ, সম্মানিত ও সমান অধিকারপ্রাপ্ত হন। উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে, অর্থনীতিতে, শিক্ষায় ও নেতৃত্বে সমানভাবে অংশ নিতে পারেন। যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখছি নারীদের অগ্রযাত্রা ছাড়া তা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।নারী ও শিশুর সুরক্ষায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করা হয়েছে। নতুন এসব আইনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথ সুগম করা হয়েছে।প্রিয় দেশবাসী,অভ্যুত্থান–পরবর্তী এক উত্তাল সময়ে দেশকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সৈন্যরা যে ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমি তাঁদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।একইসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই—যখনই কোনো সংকটময় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তখনই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আমাদের আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সংযমই দেশকে অস্থিরতার পথ থেকে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে।স্বৈরাচারের ১৬ বছরে এদেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা যে ভয়াবহ নিপীড়ন, মামলা–হামলা, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, তা আমাদের জাতির জন্য এক গভীর ও বেদনাদায়ক শিক্ষা। এই অভিজ্ঞতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো জালেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত না হয়, শত শত আয়নাঘর সৃষ্টি না হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যা ফিরে না আসে—সেজন্য কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকারই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক ও গভীর সংস্কার। এই উপলব্ধি থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার তার সংস্কার কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।প্রিয় দেশবাসী,ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছরের নিপীড়ন ও জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনো আমাদের মাঝে তাজা হয়ে আছে। যারা ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েছে তাদের বিচার করা এবং যেন আর কেউ এ ধরনের দুঃশাসন কায়েম করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা আমাদের গুরুদায়িত্ব।বিচার একটা চলমান প্রক্রিয়া। একাধিক ট্রাইবুনাল বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যেই একাধিক মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিবাদের সময়ে দেশে যে গুমের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল সেই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারও শুরু হয়েছে। বেশকিছু মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন শেষের পথে। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে।প্রিয় দেশবাসী,অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন জুলাই সনদ, যার ভিত্তিতে গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের মানুষ। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আশা করব এটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন হবে।অন্তর্বর্তী সরকারের ছোটবড় ভালোমন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না। এই সনদ রচনা এবং গণভোটে পাশ করানোর জন্য আমি সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, অধিকার রক্ষা প্রতিষ্ঠান যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের সবাইকে আজ অভিনন্দন জানাচ্ছি।এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোট দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন একজন ভোটার গর্বভরে এই নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে তখন একজন নাগরিক হিসেবে আমি আনন্দ ধরে রাখতে পারি না। আমি আশা করি, এই প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি প্রবাসীরা নিশ্চিন্তে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।প্রিয় দেশবাসী,আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, অর্থপাচার ছিল লাগামহীন। আমরা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, করনীতি, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতে কাঠামোগত সংস্কার এনেছি।তলাবিহীন অর্থনীতি আমাদের জন্য রেখে গেছিল আগের ফ্যাসিবাদী সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংককে ফতুর করে দিয়ে গেছে। ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করে নিয়ে গেছে। বিশাল ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এসব আমাদের জানা কথা। আমরা যারা এই অর্থনীতি আবার চালু করারদায়িত্ব পেয়েছিলাম তারা দিশা খুঁজে পাচ্ছিলাম না।এখন যাবার সময় স্বস্তি পাচ্ছি যে আমরা অবস্থার মোকাবিলা করতে পেরেছি। এবং নতুন অর্থনীতির বুনিয়াদ রচনা করে রেখে যেতে পারছি। এখন আর পাওনাদাররা আমাদের তাড়া করতেও আসবে না। আন্তর্জাতিক লেনদেনে আমরা চোখে অন্ধকার দেখব না। আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার। আমাদের দেশপ্রেমিক প্রবাসী ভাই-বোনদের রেমিট্যান্সের টাকায় এই রিজার্ভ ক্রমেই বাড়ছে।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে। টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। বাজার তদারকি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।শ্রমিক অধিকারকে মানবাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনসমূহ অনুসমর্থন করা হয়েছে—যা কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে। যুগান্তকারী নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণে আইন সংশোধন, বিদেশে আইনি সহায়তা, নতুন শ্রমচুক্তি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।বন্দর ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কাঠামোতে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে ইউরোপীয় সর্ববৃহৎ বিনিয়োগসহ একাধিক কৌশলগত প্রকল্প এগিয়েছে। ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গভীর সমুদ্রবন্দর, মৎস্য ও আধুনিক টাউনশিপ উন্নয়নে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।প্রিয় দেশবাসী,পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা—এই তিনটি মূল ভিত্তি আমরা দৃঢ়ভাবে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি কিংবা অপর দেশের নির্দেশনা ও পরামর্শনির্ভর বাংলাদেশ এখন আর নয়—আজকের বাংলাদেশ নিজের স্বাধীন স্বার্থ রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল। বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।রোহিঙ্গা সংকট আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির ওপর একটি গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে। দুঃখজনকভাবে, দীর্ঘ সময় ধরে এই সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ দৃশ্যমান ছিল না। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মৃতপ্রায় এই ইস্যুটিকে পুনরায় বিশ্ব মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।এই সংকটের গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতিসংঘ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব নিজে বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং সমস্যার টেকসই সমাধানে সহায়তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আমার অনুরোধে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা বিষয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রিয় দেশবাসী,দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও আধুনিকীকরণের বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষিত ছিল। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই সেই অবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পেরেছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসন কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে উপযোগী করে গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হলেও বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বহির্বিশ্বের সম্ভাব্য হুমকি ও আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার সীমিত মেয়াদের মধ্যে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—এই উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারসমূহও অব্যাহত রাখবে। যাতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত করা যায়।প্রিয় দেশবাসী,বাংলাদেশ এখন আর কেবল সংকট থেকে উত্তরণের গল্প নয়। বাংলাদেশ আজ অমিত সম্ভাবনার দেশ।আমাদের ছেলে-মেয়েরা অসীম সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়। এটি সাহসী, সৃজনশীল, উদ্যমী তরুণদের দেশ। তাদের দরকার উপযুক্ত শিক্ষা, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ এবং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা—যেখানে মেধা ও পরিশ্রম ও সততার মূল্য আছে।সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক দক্ষ, কর্মঠ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। আর বাংলাদেশে আছে কর্মক্ষম বিপুল তরুণ সম্প্রদায়।আমরা যদি এই বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করি, তাহলে জাপান, কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ সবাই চাইবে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের শ্রম, মেধা ও সৃজনশীলতা ব্যবহার করতে। আমরা হয়ে উঠতে পারি তাদের জন্য পছন্দের একটি নির্ভরযোগ্য দক্ষ জনশক্তি সরবরাহকারী দেশ।আমাদের খোলা সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়— এটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উন্মুক্ত দরজা। নেপাল, ভূটান ও সেভেন সিস্টার্সকে নিয়ে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাণিজ্যিক চুক্তি ও শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের সুযোগের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার শক্তিশালী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। আমাদের বন্দরগুলোর দক্ষতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেবার জন্য সেরা আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির কাজে অনেক এগিয়ে এসেছি। এর দক্ষতা বাড়াতে না পারলে আমরা অর্থনৈতিক অর্জনে পিছিয়ে যাবো।প্রিয় দেশবাসী,সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক সুবিধা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার জন্য একটি কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কভার রেসিপরোকাল ট্যারিফ ৩৭% থেকে ১৯%-এ কমে এসেছে।এই চুক্তির একটি বিশেষ দিক হলো—যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পণ্যে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা। এটা একটা মস্ত বড় সুবিধা। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশি পোশাক আরও কম দামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে; যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারের ফলে আমাদের সরবরাহ চেইন আরও বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিশীল হবে; এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে উচ্চমূল্যের ও উন্নতমানের পণ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দেবে।প্রিয় দেশবাসী,বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত টেকসই, বৈচিত্র্যময় ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি একটি ঐতিহাসিক ও কৌশলগত অগ্রগতি। এই অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুফল হলো উৎপাদন ও রপ্তানির বহুমুখীকরণ।জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার ফলে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, রেলওয়ে সরঞ্জাম, গ্রিন টেকনোলজি এবং উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্যে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে যুক্ত হতে পারবে। এতে আমাদের ঝুঁকি কমবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। পৃথিবীর শিল্পোন্নত দেশগুলো আমাদের দেশে বিনিয়োগ করবে শুধু জাপানে শুল্কমুক্ত রফতানির সুবিধা গ্রহণ করার জন্য।প্রিয় দেশবাসী,আমরা চীনের সাথে আমাদের উন্নয়ন সহযোগিতা গভীরতর করেছি। গত বছর মার্চে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে আমরা দুদেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি। ইতোমধ্যে তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুর্নবাসন প্রকল্পের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নীলফামারিতে এক হাজার শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরিতে দুদেশ একমত হয়েছে, এ কাজটি আমরা এগিয়ে নিতে পেরেছি।আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশ শুধু স্বল্পমূল্যের শ্রমনির্ভর অর্থনীতি নয়—বরং দক্ষতা ও প্রযুক্তি ও মূল্য সংযোজনভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে।তবে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে হলে তিনটি বিষয়ের কোনো বিকল্প নেই:শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং সততা।অতীতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সীমাহীন দুর্নীতি, অসততা, অনিয়ম ও জালিয়াতিকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। সেই সংস্কৃতি আমাদের পেছনে টেনে রেখেছিল, আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছিল।নতুন বাংলাদেশকে সেই পথ থেকে সরে আসতে হবে। আমাদেরকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে নিয়ম মানায়, প্রতিশ্রুতি রক্ষায়, মান বজায় রাখায়, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করায়, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করায়।প্রিয় দেশবাসী,আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি—শুরু করেছি মাইনাস থেকে। ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে তারপর সংস্কারের পথ ধরেছি। আজ অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও অধিকার চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে—তা যেন কখনো থেমে না যায়।আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। আমাদের সকলের দায়িত্ব দেশকে সত্যিকারের গণতন্ত্র হিসেবে পরিস্ফুটিত করা।জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জন্য এই দরজা খুলে দিয়েছে, আমরা যদি স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি, তবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছে, শরীরের অঙ্গ হারিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছে, যাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যাদের লাশ এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যারা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে তাদের সকলের আত্মত্যাগকে এ জাতি যেন কোনোদিন ভুলে না যায়। প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমরা যেন তাদের ছবি মনে রেখে সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ক্ষমতাবানদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় সে শিক্ষাটি যেন দিয়ে যেতে পারি।ক্ষমতাবানদের ক্ষমতা মানুষকে কীরকম মনুষ্যত্বহীন করে তুলতে পারে সেটা জাতির ইতিহাসে ধরে রাখার জন্য আমরা পলাতক প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান গণভবনকে জাতীয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে রেখে যাচ্ছি।এখানে আপনাদের স্মৃতির বাস্তব নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। জাদুঘর যখন জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে তখন আপনি যেখানেই থাকুন দেশে থাকুন, বিদেশে থাকুন-আমি অনুরোধ করব আপনি সপরিবারে একবার এসে কিছুক্ষণ জাদুঘরে কাটিয়ে যাবেন।প্রিয় দেশবাসী,আসুন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ি—যেখানে সম্ভাবনা সীমাহীন, আর স্বপ্নের কোনো সীমানা নেই।গত ১৮ মাসে ক্রমান্বয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে গণতন্ত্র, একটি কল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থা, বাক-স্বাধীনতা, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে পারা-সমালোচনা করতে পারা, জবাবদিহিতায় আনতে পারার যে চর্চা শুরু হলো, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের অধিকার নিশ্চিত হলো।এই ধারা যেন কোনোরকমেই হাতছাড়া হয়ে না যায়। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের আপামর জনগণ এবং সকল রাজনৈতিক পক্ষ ইস্পাত কঠিন ঐক্যের মাধ্যমে এই ধারাকে আগামী দিনগুলিতে রক্ষা করবে, সমৃদ্ধ করবে।অধিকারের বিষয়ে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিষয়ে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দৃঢ় থাকতে হবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাই—একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে।এই আহ্বান জানিয়েই আমি অত্যন্ত আশাবাদের সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি। দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ— আমার দায়িত্ব থেকে বিদায় নেবার এই প্রাক্কালে আপনাদের সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।আল্লাহ হাফেজ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদে যে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে- আমরা মনে করি নোট অব ডিসেন্ট কোনো সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে না। ফলে নোট অব ডিসেন্টে স্পষ্ট বক্তব্য থাকা প্রয়োজন। আমরা কিন্তু সই করিনি এবং পরবর্তীতে আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই জাতীয় সনদ আদেশ দেওয়া হয়। যে আদেশের ভিত্তিতে এবারের নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে জনগণের রায় সংস্কারের পক্ষে এসেছে, ন্যায়ের পক্ষে এসেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) জুলাই সনদে স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাক্ষরের কমেন্টে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাদ রেখে আমরা সই করেছি এবং গণভোটের গণরায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে এই সাপেক্ষে সই করেছি। ফলে আমাদের আজকের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের সম্পূর্ণতা পেলো এবং আমাদের আগামীকাল থেকে এটার কাজ হচ্ছে যেই সংস্কার সভা হবে, সংস্কার পরিষদ হবে- সেই সংস্কার পরিষদে এটা জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের যে আদেশ সে আদেশ অনুযায়ী সংস্কারগুলোকে বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, এখন আমাদের আগামীকাল থেকে দায়িত্ব হচ্ছে এই রায় বাস্তবায়ন করা। এনসিপি সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণ করেছে। আমরা সংসদে যাচ্ছি, এই জুলাই জাতীয় সনদ এবং সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা আমাদের ম্যান্ডেট। জনগণ আমাদের এই ম্যান্ডেট দিয়েছে। ফলে সেটার জন্য আমরা মনে করছি যে আগামীকাল শপথের আগে এবং এই অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে এই দলিলের সম্পূর্ণতার লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের স্বার্থে আমাদের সই করা প্রয়োজন।এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আজ অন্তর্বর্তী সরকারের শেষদিন। আমরা সরকারের আমন্ত্রণে যমুনায় এসেছিলাম জুলাই জাতীয় সনদ যে ঐকমত্যের দলিল সেটাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে স্বাক্ষর সম্পন্ন করার জন্য।তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বা এই সংস্কারের দাবি আমাদের একদম জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকেই ছিল। আমরা যে নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেছি, রাষ্ট্রের সংস্কারের কথা বলেছি- পরে সংস্কার কমিশনের উদ্যোগে সবকিছুই সেই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং পরে জাতীয় নাগরিক কমিটি হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি আমরা সংস্কারের পক্ষে সবচেয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ যেদিন সই হয়েছিল এনসিপি সেদিন সে অনুষ্ঠানে আসেনি এবং সই করেনি। কারণ, আমরা তখন বলেছিলাম যে এই জুলাই জাতীয় সনদের যে আইনি ভিত্তি সেই আইনি ভিত্তি নিরূপণ না হলে, আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে আমাদের আসলে এই ডকুমেন্টে সাইন করার কোনো মানে থাকবে না। এসময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন, মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে আবারও ভূকম্পন। এবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। কক্সবাজার থেকে ২২২ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, এটি ছিল অগভীর ভূমিকম্প এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এই কম্পন অনুভব করেছেন— এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের মেঘালয় রাজ্যসংলগ্ন অঞ্চলে ৪ দশমিক ০ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের কেন্দ্র ছিল ভারতের গুয়াহাটি শহর থেকে প্রায় ১২৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং বাংলাদেশের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার উত্তরে। ওই সময় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশের সিলেট ও আশপাশের এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছিল। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল (১৭ ফেব্রুয়ারি)। সবার সামনের দিনগুলো শুভ হোক।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই জাতীয় সনদে সই অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এ দলিল যেন নতুন বাংলাদেশকে মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে প্রতিটি পদে পদক্ষেপ রাখে তার জন্য প্রতি মুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে। আগামীকাল নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সবার সামনের দিনগুলো শুভ হোক।তিনি বলেন, এনসিপি জুলাই সনদে সই করবে বলেই জাতির বিশ্বাস ছিল, আজকে সেই বিশ্বাস পূর্ণতা পেলো। জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণতা পেলো। এ মহতি কাজে অংশ নেওয়ার জন্য এনসিপিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এনসিপির পক্ষে জুলাই জাতীয় সনদে সই করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কবলে থাকা জনগণকে ভোগান্তিহীন একটি দেশ উপহার দিতে সরকারি দলকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মগবাজার আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের বিজয়ী এমপিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।জামায়াত আমির বলেন, জনগণ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে অতিষ্ঠ। এ অবস্থা থেকে আমরা জনগণকে উদ্ধার করতে পারব, যদি সরকারি দল আন্তরিকতার সঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আমরা সেইক্ষেত্রে সহযোগিতা করব বলে আশ্বাস দিচ্ছি। এই সার্বিক বিশৃঙ্খলা থেকে জাতিকে বের করে আনা এবং জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা, সেই প্রেক্ষাপটে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব। জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পুরো জাতি কার্যত জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছে এবং জাতির এই অবদানকে স্মরণ রেখে যদি সংসদ পরিচালিত হয়, তবে এই সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যদি আমরা জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে ভুলে যাই, তবে এই জাতির ভাগ্যে বারবার জুলাই ফিরে আসতে পারে। আমরা চাই, যে কারণে জুলাই ফিরে এসেছে, সেই কারণটা যেন আর দ্বিতীয়বার তৈরি না হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা অতীতেও বারবার জুলাই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছি। আগামীকাল থেকে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা, তাই আমরা আরেকবার তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। বৈষম্য সৃষ্টি এবং ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়ার কারণেই মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সেই যুদ্ধে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তাদের সকলের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসী, বিশেষ করে যারা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন এবং ভোট দিয়ে কৃতজ্ঞ করেছেন, তাদের সকলকে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনের ফলাফলে জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন হোক বা না হোক, আমরা দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, যে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটুকু বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে এদেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়নি, তবে আমরা আশা করি সরকারি ও বিরোধী দল মিলে দায়িত্বশীল আচরণ করলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। এটি অর্জনে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও আন্তরিকতা থাকলে আমরা তা পারব ইনশাআল্লাহ।
সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অথবা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)। এটি নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। সাধারণত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেদিন রোজা শুরু হয়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে হয় তার পরের দিন। সেই হিসাবে, বাংলাদেশে রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অথবা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি)।ইসলামী চন্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, রমজানের সূচনা নির্ধারিত হয় হিলাল বা অর্ধচন্দ্র দেখার মাধ্যমে। সৌদি আরবসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বহু দেশ চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, কিছু দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ওপর নির্ভর করে চাঁদের অবস্থান নির্ধারণ করে থাকে।কীভাবে দেখা হয় রমজানের চাঁদ?সৌদি আরবে হিজরি বর্ষপঞ্জিতে শাবান মাসের ২৯তম দিন পড়বে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (বাংলাদেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি)। ওইদিন সূর্যাস্তের পর চাঁদ অনুসন্ধানকারীরা পশ্চিম দিগন্তের দিকে তাকাবেন। সেখানে সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আকাশ কিছুটা অন্ধকার হলে নতুন চাঁদের ক্ষীণ রেখা দেখা যেতে পারে।যদি ওই রাতে চাঁদ দেখা যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই রোজা শুরু হবে হবে। আর যদি চাঁদ দেখা না যায়, তবে সেখানে শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে এবং রোজা শুরু হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে।সৌদি আরবে যারা চাঁদ দেখার দাবি করেন, তাদের সাক্ষ্য নথিভুক্ত করা হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে রমজান কবে থেকে শুরু হবে।চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিদদের বিবেচ্য তিন বিষয়জ্যোতির্বিদরা সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দৃশ্যমান হবে কি না, তা নির্ধারণে তিনটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করেন—১. এলংগেশন:চাঁদকে সূর্য থেকে যথেষ্ট দূরে থাকতে হয়, যাতে সূর্যের আলোতে তা ঢেকে না যায়। খালি চোখে নির্ভরযোগ্যভাবে দেখতে হলে চাঁদের অবস্থান সূর্য থেকে অন্তত ১০–১২ ডিগ্রি দূরে হওয়া প্রয়োজন। যদি দূরত্ব ৭ ডিগ্রির কম হয়, তবে চাঁদের অর্ধচন্দ্রাংশ এতটাই ক্ষীণ হয় যে মানুষের চোখে দেখা কঠিন।২. উচ্চতা :সূর্যাস্তের সময় আকাশে চাঁদের উচ্চতা যত বেশি হয়, দিগন্তের কুয়াশা ও আলোছটার প্রভাব তত কম পড়ে। সাধারণত ১০ ডিগ্রি উচ্চতা খালি চোখে স্পষ্ট দেখার জন্য যথেষ্ট। তবে ৩–৫ ডিগ্রি উচ্চতায় অপটিক্যাল যন্ত্রের সহায়তায় চাঁদ দেখা যেতে পারে।৩. ল্যাগ টাইম:এটি সূর্যাস্ত ও চাঁদাস্তের মধ্যবর্তী সময়। নির্ভরযোগ্যভাবে খালি চোখে চাঁদ দেখতে সাধারণত অন্তত ৪৫ মিনিট সময় প্রয়োজন, যাতে আকাশ যথেষ্ট অন্ধকার হয়। সময় যত বেশি হয়, চাঁদ দেখার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।সব মিলিয়ে, রমজান শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ নির্ভর করছে ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর। মুসলিম বিশ্বজুড়ে তাই ওই সন্ধ্যায় থাকবে বিশেষ নজর।
জাতীয় সংসদ ভবনে আগামীকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিপুল সংখ্যক লোকের সমাগম হবে।শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন খেজুর বাগান ক্রসিং হতে মানিক মিয়া এভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) হতে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেকরোডে যান চলাচল সীমিত করা হবে।যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ফলে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধা নিরসনকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ডাইভারশনের মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে যানবাহনের প্রবাহ সচল রাখা হবে।ডাইভারশন পয়েন্ট এবং বিকল্প সড়ক১. মিরপুর রোড টু ফার্মগেট ভায়া মানিক মিয়া এভিনিউমিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন প্রতিরক্ষা গ্যাপ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট এর দিকে গমন করবে।২ ধানমন্ডি হতে ফার্মগেটধানমন্ডি ২৭ হতে আগত যানবাহন আসাদগেট-প্রতিরক্ষা গ্যাপ দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিং এর দিকে গমনাগমন করবে।৩. আসাদগেট হতে ফার্মগেট ক্রসিংআসাদগেট-বামে মোড় নিয়ে গণভবন ক্রসিং (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-প্রতিরক্ষা গ্যাপ-ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র -উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিং এর দিকে গমন করবে।৪. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ ইন্দিরা রোড হতে ধানমন্ডিএলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ইন্দিরা রোড হতে আগত যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বামে মোড় নিয়ে প্রতিরক্ষা গ্যাপ-বামে মোড় নিয়ে আসাদগেট হয়ে ধানমন্ডির দিকে গমন করবে।৫. মিরপুর রোড হতে ধানমন্ডিমানিক মিয়া এভিনিউ হতে ব্লকেড সরিয়ে ফেলা হবে বিধায় মিরপুর রোড হতে দক্ষিণ অভিমুখী যানবাহন শ্যামলী-শিশুমেলা-গণভবন (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-আসাদগেট হতে সোজা ধানমন্ডি ২৭ এর দিকে গমনাগমন করবে।৬. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েশপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন যানজট/দূর্ভোগ এড়াতে ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প সচল থাকবে।সকল প্রকার যানবাহন চালকদের আগামী মঙ্গলবার ০৮ টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে মানিক মিয়া এভিনিউ ও লেকরোড এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ২৯৬ জন এমপির শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই শুরু হবে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রস্তুতি।বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংসদ অধিবেশন ডাকবেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ ডাকলে প্রথম বৈঠক কখন ও কোথায় হবে সেটাও তিনিই ঠিক করেন।তবে তিনি নিজের ইচ্ছায় করেন না, প্রধানমন্ত্রী লিখিতভাবে যা পরামর্শ দেবেন, সেটি অনুযায়ী করতে হয়।কতদিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে সেক্ষেত্রে অবশ্য সময় বেধে দেয়া আছে সংবিধানেই।৭২ ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা আছে, জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের বৈঠক ডাকতেই হবে।ত্রয়োদশ নির্বাচনের সরকারি ফলাফল ঘোষণা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ১৬ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম বৈঠক হতেই হবে।এদিকে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজান শুরু হতে পারে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে। ফলে রোজার মধ্যেই সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের শপথ।একই সঙ্গে তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নেয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিতদের দুটি শপথের বিষয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সব মিলিয়ে কাল সংসদ ও এর দক্ষিণ প্লাজায় মোট তিনটি আলাদা শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। একবার সংসদ সদস্য হিসেবে আরেকবার সংস্কারের জন্য। তিনি বলেন, সকালে একবার তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তারপর সংস্কারের জন্য শপথ নেবেন এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ হবে।আজকে কোনো তালিকা পাওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন; নতুন মন্ত্রীদের নামের তালিকা তার ওপর নির্ভর করছে।জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মতি ক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নামের প্রস্তাব গৃহীত হবে।বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদে যে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে- আমরা মনে করি নোট অব ডিসেন্ট কোনো সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে না। ফলে নোট অব ডিসেন্টে স্পষ্ট বক্তব্য থাকা প্রয়োজন। আমরা কিন্তু সই করিনি এবং পরবর্তীতে আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই জাতীয় সনদ আদেশ দেওয়া হয়। যে আদেশের ভিত্তিতে এবারের নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে জনগণের রায় সংস্কারের পক্ষে এসেছে, ন্যায়ের পক্ষে এসেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) জুলাই সনদে স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাক্ষরের কমেন্টে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাদ রেখে আমরা সই করেছি এবং গণভোটের গণরায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে এই সাপেক্ষে সই করেছি। ফলে আমাদের আজকের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের সম্পূর্ণতা পেলো এবং আমাদের আগামীকাল থেকে এটার কাজ হচ্ছে যেই সংস্কার সভা হবে, সংস্কার পরিষদ হবে- সেই সংস্কার পরিষদে এটা জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের যে আদেশ সে আদেশ অনুযায়ী সংস্কারগুলোকে বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, এখন আমাদের আগামীকাল থেকে দায়িত্ব হচ্ছে এই রায় বাস্তবায়ন করা। এনসিপি সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণ করেছে। আমরা সংসদে যাচ্ছি, এই জুলাই জাতীয় সনদ এবং সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা আমাদের ম্যান্ডেট। জনগণ আমাদের এই ম্যান্ডেট দিয়েছে। ফলে সেটার জন্য আমরা মনে করছি যে আগামীকাল শপথের আগে এবং এই অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে এই দলিলের সম্পূর্ণতার লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের স্বার্থে আমাদের সই করা প্রয়োজন।এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আজ অন্তর্বর্তী সরকারের শেষদিন। আমরা সরকারের আমন্ত্রণে যমুনায় এসেছিলাম জুলাই জাতীয় সনদ যে ঐকমত্যের দলিল সেটাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে স্বাক্ষর সম্পন্ন করার জন্য।তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বা এই সংস্কারের দাবি আমাদের একদম জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকেই ছিল। আমরা যে নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেছি, রাষ্ট্রের সংস্কারের কথা বলেছি- পরে সংস্কার কমিশনের উদ্যোগে সবকিছুই সেই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং পরে জাতীয় নাগরিক কমিটি হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি আমরা সংস্কারের পক্ষে সবচেয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ যেদিন সই হয়েছিল এনসিপি সেদিন সে অনুষ্ঠানে আসেনি এবং সই করেনি। কারণ, আমরা তখন বলেছিলাম যে এই জুলাই জাতীয় সনদের যে আইনি ভিত্তি সেই আইনি ভিত্তি নিরূপণ না হলে, আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে আমাদের আসলে এই ডকুমেন্টে সাইন করার কোনো মানে থাকবে না। এসময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন, মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে আবারও ভূকম্পন। এবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। কক্সবাজার থেকে ২২২ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, এটি ছিল অগভীর ভূমিকম্প এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এই কম্পন অনুভব করেছেন— এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের মেঘালয় রাজ্যসংলগ্ন অঞ্চলে ৪ দশমিক ০ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের কেন্দ্র ছিল ভারতের গুয়াহাটি শহর থেকে প্রায় ১২৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং বাংলাদেশের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার উত্তরে। ওই সময় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশের সিলেট ও আশপাশের এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছিল। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের জন্য বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সামনে লক্ষ্যটা ছিল হাতের নাগালেই–১০৪ রানের। এই রান তাড়া করতে নেমে জয়ের পথটা কঠিন করে তুলেছিল ফাহিমা খাতুনের দল। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় মেয়েদের এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ম্যাচটিতে ৩ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে তারা।এই জয়ের সেমিফাইনালের আরও কাছে পৌঁছে গেল বাংলাদেশের মেয়েরা। দুটি ম্যাচ শেষে শতভাগ জয়ে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে হারায় তারা। শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে সমান ২ পয়েন্ট; টেবিলের দুই ও তিনে আছে তারা। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি নিজেদের শেষ ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।ব্যাংককের তারথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বেশ চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। দলীয় ১১ রানেই ইসমা তানজিম, শারমিন সুলতানা ও রুবাইয়া হায়দার ঝিলিকের উইকেট হারায় তারা। তখন ৩.৫ ওভারের খেলা চলছিল। এই ধাক্কা সামলে লতা মণ্ডলকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন সারমিন সুলতানা। ২৬ রান করে ফেরেন তিনি। ৫৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লতা আউট হন ব্যক্তিগত ৩০ রানে। তাদের দায়িত্বশীল ইনিংসের পরও জয় হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ফারজানা ইয়াসমিনের ঝড়ে টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।শেষ ওভারে ১২ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। মায়ার করা সে ওভারের প্রথম বলে ১ রান নিয়ে ফারজানাকে স্ট্রাইক দেন শরিফা খাতুন। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারির পর তৃতীয় বলে ছক্কা মারেন ফারজানা। শেষ তিন বলে সমীকরণ নেমে আসে ১ রানে। চতুর্থ বলে সোয়ানচনরাতির হাতে ধরা পড়েন ফারজানা। তার আগে ১৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পঞ্চম বলে ১ রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ফারজানা।আগে ব্যাট করতে নামা থাইল্যান্ডের মেয়েরা ফাহিমা, শরিফা, ফারিহা তৃষাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করাতে পারেনি। ৩৪ রান করতে ৩৮ বল খেলেন নানাপাত। ৭০ স্ট্রাইকরেটে ২৪ রান করেন নানথাকান চানথাম। এ ছাড়া ওনিচা কামচোমফু করেন ১৭ রান। বাংলাদেশের হয়ে ফাহিমা ও শরিফা দুটি করে উইকেট নেনে। তাঁদের খরচ ১৬ ও ১৪ রান। তৃষার শিকার এক উইকেট। তবে রান খরচায় সবচেয়ে হিসেবি ছিলেন এই বাঁ হাতি পেসার। ৩ ওভারে মাত্র ৫ রান দেন তৃষা। ৪ ওভারে ১৩ রানের বিনিময়ে এক ব্যাটারকে ফেরান সানজিদা আক্তার মেঘলা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনীতির মাঠের পাশাপাশি সরগরম শোবিজ অঙ্গনও। ভোট দিয়েছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা মাহফুজ এনাম জেমস।ঢাকা ১৭-এর ভোটার জেমস। বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানী বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বারিধারা স্কলার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দেন তিনি।ভোট দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জেমস বলেন, ‘সুন্দর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই দেশ। সামনে যে আসবে, এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে। দেশে যেন শান্তি আসে, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে।’ভোটের পরিবেশ নিয়ে গায়কের ভাষ্য, ‘খুবই স্মুথ সব। এলাম, স্লিপ নিলাম, ভোট দিলাম, সুন্দর। কোনো ঝামেলা নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে এর জন্য ধন্যবাদ।’জেমস ছাড়াও ভোট দিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন কনকচাঁপা, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, রবি চৌধুরী, কুদ্দুস বয়াতি, নাজমুন মুনিরা ন্যান্সিসহ তারাকাদের অনেকে। আজ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সারা দেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলেছে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে আনন্দচিত্তে ভোট দিলেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী ও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত বেবী নাজনীন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন তিনি।ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বেবী নাজনীন। তিনি বলেন, “ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। খুব আনন্দ হচ্ছে। অবশেষে ভোট দিতে পারলাম। এটাই তো চেয়েছিলাম। ইচ্ছে করছে ১৭ বছরের সব ভোট আবার দেই।”দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তই তার কাছে চূড়ান্ত। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে সংসদে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটাও নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহ যদি চান, তবে হয়তো হবে।”ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর, সফল ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ধানের শীষের জয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ভোটে অংশ নিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোটে অংশ নিচ্ছেন বিনোদন অঙ্গনের তারকা, অভিনয় শিল্পী, নির্মাতারাও। নিজের ভোটটি দিয়ে এসে একটি ভিডিও বার্তায় কথা বললেন নির্মাতা আশফাক নিপুন।১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মহানগর খ্যাত নির্মাতা জানান, ভোট দেওয়া শেষ। সকাল ৭:৩০ মিনিটে এখানে এসেছি এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে ৮:১০ মিনিটে আমার পালা এলো। মনোরম আবহাওয়া, উৎসাহী ভোটার আর আন্তরিক কর্মকর্তাদের দেখে খুব ভালো লাগছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত- সবাই ভোট দিন। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক। সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তায় নিপুন বলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে হোক।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সারা দেশে যখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলছে, তখনই ন্যান্সি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে জানিয়ে দিলেন, তিনি না ভোটের পক্ষে। যদি নেটিজেনদের একাংশ তাকে তীব্র তোপের মুখে ফেলেছেন। তবে এসবে একেবারে নজর দিচ্ছেন না এই গায়িকা। জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন ন্যান্সি। বিগত সময় তার নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। অনেক কনসার্ট তার বাতিল হয়েছে।তবুও ভেঙে পড়েননি। নতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরনতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরশোবিজ তারকাদের সবার যখন নানা সুযোগ হাতছানি দিচ্ছিল, তখন ন্যান্সি বলেছিলেন, শিল্পীদের এত এমপি-মন্ত্রী হওয়ার শখ কেন? কী আছে সেখানে? কত টাকা বেতন পায় এমপিরা? গান অথবা অভিনয় করে কি যথেষ্ট সম্মানী আসে না যে এমপি হওয়ার জন্য লোভ করতে হবে? যারা এগুলো করে এদের ধরা উচিত। আমার মধ্যে এসব চিন্তা একেবারেই নেই। নিজে নির্বাচন করবেন কি না এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, আমি এখনই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই না। তবে যে দল আমার ভালো লাগে, আমি তো চাইবই তারা ক্ষমতায় আসুক। তবে সব কিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের জনগণ। জনগণের কাছে আমার চাওয়া এত দিন যারা কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করে গুম, দুর্নীতি এবং কিছু বললেই চরিত্র নিয়ে কথা বলত, তাদের ক্ষমতায় আনবে কি না মাথায় রাখতে। আর কোনো তারকা দেখলেই নমিনেশন দেবেন না। যদি সেই তারকা রাজনীতির লম্বা পথ পাড়ি দিতে পারে তাহলে তাকে সেই টাইমে দেওয়া উচিত। তারপর তাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন।
নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত ‘মাস্টার’ চলচ্চিত্রটি সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে ছবিটি। উৎসবের শুরু থেকেই সিনেমার নির্মাতা সুমিতসহ অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম ও নাসির উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।রটারড্যামের অভিজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে জানান অভিনেত্রী বাঁধন। পুরস্কার প্রাপ্তির মুহূর্তটিকে তিনি বর্ণনা করলেন আবেগাপ্লুত হয়ে। বাঁধন বললেন, সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা খুব সাধারণভাবে গিয়েছিলাম; ভেবেছিলাম অন্য সবাই পুরস্কার পাবে আর আমরা হাততালি দেব। সেই হাততালি যখন বাংলাদেশের জন্য হয়ে গেল, সেটা খুব আনন্দের ছিল।পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত একজন অত্যন্ত সৎ নির্মাতা। আজ তার সেই সততারই প্রতিফলন ঘটেছে এই অর্জনে।প্রবাসীদের ভালোবাসায় মুগ্ধ বাঁধন জানান, সাপ্তাহিক কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ডাচ দর্শকদের সিনেমা দেখার আগ্রহ এবং প্রশংসা অভিনেত্রীকে অভিভূত করেছে। এবারের রটারড্যাম উৎসবে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সাফল্য নিয়ে বাঁধন বলেন, বাংলাদেশের সিনেমা শক্ত একটি জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। রেহেনা থেকে শুরু করে যেসব সিনেমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেছে, সবগুলোই বাংলাদেশের সিনেমাকে সমৃদ্ধ করছে। আর এটা খুব সম্মানের বিষয়, এবার রটারড্যামে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা ছিল। মনে হয়েছে, ফেস্টিভ্যালটা আমাদের। একই সঙ্গে আমরা তিনটি টিম নেদারল্যান্ডসে এসেছি। সবার সঙ্গে সবার দেখা হচ্ছে, সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে গ্র্যামি-মনোনীত জনপ্রিয় মার্কিন রক ব্যান্ড ‘থ্রি ডোরস ডাউন’এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রধান ভোকালিস্ট ব্র্যাড আর্নল্ড মারা গেছেন। ৪৭ বছরে তার জীবনাবসান ঘটলো।৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যেই চলে গেলেন তিনি। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্টেজ–৪ কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত ব্র্যাড স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে জানান ব্র্যাড আর্নল্ড। তখন তিনি জানান, তার শরীরে স্টেজ–৪ ক্লিয়ার সেল রেনাল কার্সিনোমা শনাক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়ে। ক্যানসারের খবর জানিয়ে সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমি ভয় পাই না। সত্যিই ভয় পাচ্ছি না। সুযোগ পেলে আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। তার অসুস্থতার কারণে ওই সময় ব্যান্ডটির নির্ধারিত একাধিক ট্যুর বাতিল করা হয়।১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে গঠিত হয় ‘থ্রি ডোরস ডাউন’। ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য বেটার লাইফ’ প্রকাশের পরই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং অ্যালবামটি ছয় মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়।এখন পর্যন্ত ব্যান্ডটি মোট ছয়টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। তাদের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গ্র্যামি মনোনয়ন ও বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। ব্র্যাড আর্নল্ডের লেখা ‘ক্রিপ্টোনাইট’, ‘হেয়ার উইথাউট ইউ’, ‘হোয়েন আই’ম গন’ ও ‘লুজার’ এই গানগুলো রক সংগীতে তাকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি ও খ্যাতি।
বাংলাদেশে চেরি গাড়ির একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর এশিয়ান মোটরস্পেক্স লিমিটেড সম্প্রতি চেরি শোরুমে ‘ডেলিভারিংলাভস’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করেছে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার পাশাপাশি চেরি ব্র্যান্ডের উদ্ভাবন, ও গ্রাহক সেবার প্রতি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান মোটরস্পেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান সাজেদুর রহমান। তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বৃদ্ধি করে এবং বাংলাদেশে চেরি ব্র্যান্ডের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে এশিয়ান মোটরস্পেক্স-এর একাগ্রতা পুনর্ব্যক্ত করে।অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্যে দেওয়ান সাজেদুর রহমান বলেন, “আমরা শুধু গাড়ি বিক্রি করতে চাই না; আমরা আপনাদের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোর অংশ হতে চাই।” তার এই বক্তব্য চেরি ব্র্যান্ডের লক্ষ্য—অর্থাৎ কেবল যানবাহন বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশেষ দিনগুলোতে গ্রাহকদের জন্য অর্থবহ অভিজ্ঞতা ও আবেগীয় মূল্য তৈরির বিষয়টিকেই ফুটিয়ে তোলে।অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজ যোগ করতে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার ইফতেখার রাফসান, রাকিন আবসার এবং শৌমিক। তারা আগত অতিথি ও গ্রাহকদের সাথে আলাপচারিতায় অংশ নেন এবং চেরি ব্র্যান্ডের আধুনিক ও তরুণ-প্রজন্মের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরেন।ভালোবাসা দিবসের থিমে সাজানো চেরি শোরুমে দর্শনার্থীদের জন্য ছিল এক উষ্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ। আগত অতিথিরা শোরুমে চেরি গাড়ির আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রিমিয়াম ফিচারগুলো পরখ করে দেখেন এবং বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও একটি সুসজ্জিত চেরি টিগো ৮ প্রো (Chery Tiggo 8 Pro) গাড়ি ঢাকার বিভিন্ন এলাকা যেমন— বনানী, গুলশান, তেজগাঁও এবং ধানমন্ডির রাস্তায় প্রদর্শিত হবে।এই সফল উদযাপনের মাধ্যমে চেরি বাংলাদেশ কেবল রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং একটি নিবিড় গ্রাহক কমিউনিটি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। প্রযুক্তি ও আভিজাত্যের সাথে আন্তরিক সম্পর্কের মেলবন্ধন ঘটিয়ে চেরি তার গ্রাহকদের সাথে বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।
ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ ৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সৌদি আরবের আবহা শহরে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার। দুর্ঘটনা একই গাড়ির ড্রাইভার মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।একই ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুত্ব আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যার ছেলে ও নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। নিহত প্রবাসী গাড়ির ড্রাইভার একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।বাহারুল আলম জানান, মিজান সৌদি প্রবাসী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ হজ্বে যান। ৫দিন আগে ওমরাহর উদ্দেশে তারা সৌদির বাসা থেকে বের হন। ওমরাহ শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তারা। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।নিহত মিজানুর রহমানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পাশের গ্রামের সৌদি প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে তারা মিজানসহ ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এছাড়া মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদি আরবে ৫ জন মারা গেছে শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করব।
বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘একলা খেলে যম নেয়, দশজনে খেলে ধর্ম রয়।’ এ প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ যমরাজ এসে ধরে নিয়ে যাওয়া না। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি অত্যন্ত গভীর। প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো, দশজনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে শরীর ও মন উভয়ই ‘ধর্ম’ অর্থাৎ সুশৃঙ্খল থাকে। আবার দশজন মানে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সংখ্যার দশ নয়, এর অর্থ অনেকে মিলে।খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষেরা একা খেতে বসার পক্ষে নন। দাদি-নানিরা সব সময়ই বলে থাকেন, একা একা বসে খাচ্ছিস কেন, সবার সঙ্গে বসে খা! এই একা খেতে বসার অভ্যাস কেবল একাকিত্ব বাড়ায় না। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তোলে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, একা খেতে বসার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে অন্তত দুবার একা বসে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সংমিশ্রণে হওয়া মেটাবলিক সিনড্রোম নামে একটি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, একা খেতে বসলে পুরুষদের স্থূলতার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ২৪টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বলছে, একা খেতে বসলে মানুষ পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন প্রক্রিয়াজাত বা রেডি মিল বেশি পছন্দ করে। এতে শরীরে প্রোটিন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয়।মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবএকা খাওয়া কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৮ হাজারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক অসুস্থতার পর একা খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসুখী করে তোলে। অনেকে মনে করেন, একা খেতে বসা মানেই স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজিস্ট ড. স্টিফানি কাসিওপ্পোর মতে, মানুষ যদি খাওয়ার সময় নিজেকে একা মনে করে, তবে তার শরীর বেশি চর্বিযুক্ত ক্যালরি শোষণ করে।বার্ধক্য ও একাকী ভোজনপ্রবীণদের জন্য একা খাওয়া এক নীরব ঘাতক। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা যখন একা খান, তখন তাঁরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা ফ্রেইল হয়ে পড়েন। একা খাওয়ার ফলে বয়স্কদের প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণ কমে যায়। তা নেমে আসে প্রায় ৫৮ গ্রাম থেকে ৫১ গ্রামে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওপোরোসিস বা হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং পুষ্টিহীনতা উভয়ই মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে, যা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কের আয়তনও সংকুচিত হতে পারে।কেন একা খেতে বসা ক্ষতিকরগবেষকেরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:উদ্দীপনার অভাব: যখন কেউ একা খান, তখন তাঁর ভালো কিছু রান্না করার আগ্রহ কমে যায়।খাওয়ার গতি: দলগতভাবে খেলে মানুষ গল্প করে ধীরে ধীরে খায়। এ বিষয়টি হজমে সাহায্য করে। একা খেলে মানুষ হয় খুব দ্রুত খায় নতুবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে।ইগো ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ওজনের মানুষ অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে অন্যদের সামনে খেতে চান না। এটা তাঁদের আরও বেশি একা খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।খাবার কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপায়। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া বা মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস ম্যাগাজিন, ডেইলি মেইল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যায়, ইনসাফ এবং সুশাসনের প্রত্যাশা করেছেন বিজয়ীদের কাছে জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ প্রত্যাশার কথা বলেন তিনি।পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, নির্বাচনে বিজয়ী এবং বিজিত— উভয় পক্ষকে অভিনন্দন। দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের শক্তি বিভাজনে নয়, ঐক্যে।তিনি লেখেন, যাদের কাঁধে ইতিমধ্যেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এসেছে, তারা ইসলামিক মূল্যবোধকে ধারণ করে— ন্যায়, ইনসাফ এবং সুশাসনের বাংলাদেশ উপহার দেবেন, সেই প্রত্যাশা রাখি।তার দেওয়া পোস্টের কমেন্টে আজহারী লেখেন, বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। বিজয়ী দলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আর যারা বিজয়ী হতে পারেননি, তাদের প্রতিও শুভকামনা।মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।তিনি আরও লেখেন, মনে রাখতে হবে— নেতৃত্ব স্রেফ কোনো সম্মান নয়; এটি একটি আমানত। বিজয় এবং সাফল্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) দায়িত্ব থেকে পালিয়ে থাকতেন জবাবদিহিতার ভয়ে। কিয়ামতের ময়দানে প্রতিটি দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই, বিজয় যেন কারো অন্তরে দাম্ভিকতা না আনে; বরং বিনয়, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বোধ জাগ্রত করে। দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এগোয় ঐক্যে, পিছিয়ে পড়ে বিভাজনে।