• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩১ সকাল ০৮:৪২:৩৮ (24-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:

ভোলায় পাঁচ দিনে মিলল ১১ রাসেলস ভাইপার

চ্যানেল এস ডেস্ক:  দ্বীপজেলা ভোলার বিভিন্ন স্থান থেকে গত ৫ দিনে ১১টি রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ সাপ স্থানীয়রা মেরে ফেললেও একটি সাপ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সদর উপজেলা, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল, মানুষের বাসাবাড়ি ও খেলার মাঠে একের পর এক বিষাক্ত এই সাপ উদ্ধারে খবরে জেলার সর্বত্র জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২০ জুন সকালে সদর উপজেলার শিবপুরের চায়না ইপিজেড বালুর মাঠে স্থানীয় ছেলেরা খেলতে গিয়ে দেখতে পায় বিষাক্ত রাসেল ভাইপার। মুহূর্তের মধ্যে তারা সাপটি পিটিয়ে মেরে ফেললেও পুরো এলাকায় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এর আগে তজুমউদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের একটি বসতবাড়ির সামনে ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের জসিম হাওলাদারের বাড়িতে একটি রাসেলস ভাইপার পাওয়া যায়। এছাড়া গত ১৯ জুন বিকেলে তজুমউদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় খেলার মাঠে দেখা মেলে এই সাপের। এর আগে ১৮ জুন সকালে সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশায় ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকায় বসতবাড়ির পাশে জালের সঙ্গে পেঁচানো অবস্থায় একটি রাসেল ভাইপার পাওয়া যায়। এর আগের রাতে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জালু মাঝির বসতঘর থেকেও একটি রাসেলস ভাইপার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত ১৬ জুন লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ এলাকায় একটি বাড়ির শৌচাগারে এই সাপ দেখা যায়।এছাড়া বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা ও সাগর উপকূল উপজেলা চরফ্যাশনের বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও ৫টি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে সাপগুলো পিটিয়ে মেরে ফেলে। তবে তজুমউদ্দিন উপজেলায় পাওয়া একটি সাপ এখনো বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এসব ঘটনার পর থেকে জেলাজুড়ে রাসেল ভাইপার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সকলের মাঝে। স্থানীয় জেলে হাবিব মাঝি বলেন, নদীতে মাছ শিকার করে ঘাটের দিকে যাওয়ার সময় বালুর মধ্যে এই সাপটি দেখতে পাই। পরে আরও লোকজন এসে সাপটিকে রাসেলস ভাইপার বলে নাম দেয়। এই সাপ এর আগে কখনো দেখিনি। সাপটি দেখতেও অনেক ভয়ানক। অন্য সাপের থেকে দেখতে অনেকটাই আলাদা মনে হলো। সাপটি দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে মেরে ফেললো। তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মেঘনার পাড়ের মোদী ব্যাবসায়ী জয়নাল মিয়া জানান, তিনি তার বসতঘরে খাটের নিচে তিনটি বিড়াল মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে লোকজন খোঁজা-খুঁজির এক পর্যায়ে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপারকে ঘর থেকে বের হতে দেখেন। তখন সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে সাপটিকে খুঁজে পিটিয়ে মেরে ফেলে উপস্থিত লোকজন। সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিশু বলেন, এর আগে আমার ইউনিয়নে এই বিষধর সাপের দেখা পাইনি। পরপর দুইদিন এই সাপের সন্ধান মেলায় আমার ইউনিয়নবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আমি ও বন বিভাগের লোকজন আসার আগেই সাপটি স্থানীয়রা মেরে ফেলে। শুধু ইউনিয়ন কিংবা গ্রামেই নয়, শহরের মানুষের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাসেল ভাইপার সাপের খবরে। এরই মধ্যে জেলা শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার ছিটাচ্ছেন বাড়ির মালিকরা। ভোলা পৌর ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুজাহিদুর রহমান বলেন, বাড়ির নিচতলায় বসবাস করি। ইদানিং মনের মধ্যে সারাক্ষণ শুধু সাপের আতঙ্ক কাজ করছে। তাই বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে চতুর্দিকে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে রেখেছি। সেবশেষ শুক্রবার (২১ জুন) বিকেলে চরফ্যাশন পৌর এলাকার কালিবাড়ীর পেছনের রাস্তায় বাচ্চাসহ রাসেলস ভাইপার দেখে স্থানিয়রা বাচ্চাসহ সাপটিকে পিটিয়ে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, রাসেলস ভাইপার সাপ লোকালয়ে সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। বাচ্চা দেওয়ার কারণে হয়তো ওই সাপটি লোকালয়ে চলে এসেছে। তবে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শফিকুজ্জামান বলেন, চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার সাপ সবচেয়ে বিষাক্ত। এর অসহিষ্ণু ব্যবহার ও লম্বা বহির্গামী বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিত হন। বিষক্রিয়ায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ফলে অত্যধিক রক্তক্ষরণে দীর্ঘ যন্ত্রণার পর মৃত্যু হয়।