• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩১ সকাল ০৮:৪৮:০৩ (24-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:

বিশ্বকাপ কি বদলাতে পারবে ওয়ানডের ভবিষ্যৎ

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ১৩ দলের ওয়ানডে সুপার লিগও শেষ হলো। পরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলগুলো নিশ্চিত করতে আইসিসি ফিরে যাবে নিজেদের র‌্যাঙ্কিং সিস্টেমে। তবে এ নিয়ে আপত্তি আছে দুটি বোর্ডের। আহমেদাবাদে আজ আইসিসির বোর্ড মিটিং সামনে রেখে ক্রিকইনফো এর আগে জানিয়েছিল, এই বৈঠকে ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হবে। সেখানে ওয়ানডে সুপার লিগ সিস্টেম ফিরিয়ে আনার দাবি জানাতে পারে অন্তত দুটি বোর্ড। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা পরের ব্যাপার; তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক কিন্তু ওয়ানডের পক্ষেই ব্যাট ধরেছেন। ওয়ানডের ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত, এ প্রশ্ন নিয়েই শুরু হয়েছিল এবারের বিশ্বকাপ। ফাইনাল শেষেও প্রশ্নটি থাকছে। বিশ্বকাপের বাইরে এ সংস্করণের আবেদন কতখানি, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের। বিশ্বকাপ ফাইনালের চিত্র অবশ্য ভিন্ন ছিল। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফাইনালে দর্শকসংখ্যা ছিল ৯২ হাজার। ম্যাচটা তেমন না জমলেও বিশ্বকাপ কিন্তু স্মরণীয় কিছু ম্যাচ উপহার দিয়েছে। ২০১৯–এর চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ৬৯ রানের জয় কিংবা সেমিফাইনাল খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ‘নন–টেস্ট প্লেয়িং’ নেদারল্যান্ডসের জয় উপভোগ করেছেন দর্শক। আর ওয়ানডে সংস্করণের একটি সুবিধাও আছে। ওয়ানডেতে ম্যাচে ফেরার সুযোগ থাকে দলগুলোর। দেখা যায়, শুরুতে প্রতিপক্ষ চেপে বসলেও পরে ভালো করে ম্যাচে ফেরার পথ তৈরি করে নিচ্ছে দলগুলো। এ ব্যাপারে টেস্ট ক্রিকেটের আবহ থাকে, যা টি-টোয়েন্টিতে নেই। ওয়ানডে ধরেই একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। এবার বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তান ম্যাচ। ২৯১ তাড়া করতে নেমে ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসেছিল অস্ট্রেলিয়া। ছয়ে নেমে অবিশ্বাস্য দ্বিশতকে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচটা জিতিয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। সে ম্যাচের পরতে পরতে যত রোমাঞ্চ ভর করেছিল, তা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সামান্যই দেখা যায়। ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সেই ম্যাচে ২০২* রানের জুটিতে অন্য প্রান্তে ছিলেন কামিন্স। গতকাল বিশ্বকাপ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ওয়ানডের ভবিষ্যৎ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানালেন, ‘এটা বলা কঠিন। হয়তো আমরা জিতেছি, তাই। তবে এই বিশ্বকাপে আমি আবারও ওয়ানডের প্রেমে পড়েছি।’ ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে কামিন্স বলেছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলে সেটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের চেয়ে জমজমাট হয়।’ বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর কথা, ‘বিশ্বকাপের ইতিহাস সমৃদ্ধ। আমি নিশ্চিত, এটা আরও অনেক দিন থাকবে। অনেক ভালো কিছু ম্যাচ হয়েছে, দারুণ কিছু গল্পও তৈরি হয়েছে গত কয়েক মাসে। তাই আমার মনে হয়, অবশ্যই এর (বিশ্বকাপ) জায়গা আছে।’ তবে বিশ্বকাপের মাঝে চার বছরে ওয়ানডের কী হবে, সেটা নিয়েই আলোচনা চলছে। বিশ্বকাপের আগে এমসিসির নবনির্বাচিত সভাপতি মার্ক নিকোলাস বলেছিলেন, ওয়ানডে শুধু বিশ্বকাপেই খেলা হোক। ক্রিকইনফো তাঁর মন্তব্য প্রকাশ করেছিল, ‘ওয়ানডে শুধু বিশ্বকাপেই খেলার ব্যাপারে আমরা শক্তভাবে বিশ্বাস করি। অনেক দেশেই (ওয়ানডেতে) গ্যালারি ভরছে না। আর টি-টোয়েন্টির ক্ষমতাটা অতিপ্রাকৃত পর্যায়ে চলে গেছে। এই মুক্তবাজারে বেশি টাকাই জেতে।’ নিকোলাস এই বিশ্বকাপে সম্প্রচারক চ্যানেলের হয়ে ধারাভাষ্য দিয়েছেন। আফগানিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের খেলার প্রশংসাও করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, আইসিসির টুর্নামেন্টের মাঝে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না খেললে এই সংস্করণে দলগুলো কীভাবে ভালো করবে?