প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের কারণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেল।রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের। সরকারিভাবে বৈঠক স্থগিতের কারণ হিসেবে ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করা হলেও পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছে, মূলত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে কেন্দ্র করেই গত রাতে বৈঠকটি স্থগিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।পরিকল্পনা কমিশন জানায়, আজ সন্ধ্যার ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর জাপানের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। সফরের আগে তাকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের দাপ্তরিক কাজ শেষ করতে হচ্ছে। একনেকের বৈঠক শুরু হলে তা দুপুরের খাবারের আগে শেষ করা সম্ভব হতো না। সব দিক বিবেচনা করেই বৈঠকটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।আজকের একনেক বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মোট ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গ্যাসকূপ— তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ খনন। এছাড়া ‘ইনোভেশন ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ এবং নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।তালিকায় থাকা অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্প। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত যানবাহন ও অপারেশনাল যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প এবং দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার স্থাপন প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।এসআর/এমএন
১৬ ঘন্টা আগে
কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি বৈঠকেই বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে উল্লেখ করে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিরোধী দলের মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা বিবেচনা করা হবে।’শনিবার (২৪ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।তিনি বলেন, ‘আজকের বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমন্ত্রিত প্রায় ৬০ জনের মধ্যে ৪৪ জন উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মৌখিক ও লিখিতভাবে তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন। যারা লিখিত বক্তব্য দিতে পারেননি, তাঁদের আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে তা জমা দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।’আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব, সরকারি ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিচার বিভাগের পর্যালোচনার ক্ষমতা এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে আলোচিত প্রস্তাব অনুযায়ী চারটি বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, সরকারের প্রতি অনাস্থা বা আস্থার প্রশ্ন এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বা জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়। এসব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না- এমন প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে কমিটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।’রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের লিখিত মতামত দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংসদে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেটি ভেঙে না দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় উচ্চকক্ষকে যুক্ত করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও এসেছে। বিকল্প হিসেবে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচন এবং তাদের সম্মতিতে উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।’তবে এসব প্রস্তাবের কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সব মতামত পর্যালোচনা করে কমিটির প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরা হবে।’উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের যে প্রস্তাব রয়েছে, তা কীভাবে কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন তবে বাংলাদেশে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনা করা উচিত। ফলে এ বিষয়ে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।’সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি বৈঠকেই বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তাঁদের মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা বিবেচনা করা হবে।’অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পরে বা পরামর্শের ভিত্তিতে জুলাই সনদে বিএনপির নোট অব ডিসেন্টে ছাড় দেবেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিরোধী দল চাইলে কোন কোন বিষয়ে ভিন্নমত পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, তা কমিটির কাছে তুলে ধরতে পারে।’২০১১ সালের সংবিধান সংশোধনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা করা ঠিক হবে না। বর্তমান কমিটি বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে।’সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে আগের সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় সেটিকে আইনে পরিণত করা হয়নি। পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কমিটির আলোচনায় রয়েছে।’সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে যেভাবে ঐকমত্য হয়েছে, সে অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনয়নের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।’সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিরোধী দলের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটি হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশের সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো পরিষদের বিধান নেই। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তারা শপথ নিয়েছেন।’গণভোটের রায় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটকে তারা সম্মান করেন। তবে গণভোটসংক্রান্ত অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা বাধ্যতামূলক ছিল না বলে তারা মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে বিদ্যমান আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’এসময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তাঁর প্রত্যাশা, বর্তমান সংবিধানের চেয়ে আরও উন্নত ও কার্যকর সংবিধান পাওয়া যাবে। এ জন্য সংবিধানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা আশা করব, সংবিধান যে পর্যায়ে আছে, এখন তার চেয়ে অনেক উন্নত একটি সংবিধান পাব। যতটুকু অর্জন হবে, সেটাই আমাদের লাভ। তবে আমরা চাই, সর্বোচ্চ অর্জন যেন হয়।’সংবিধান সংশোধন কমিটি নাকি সংবিধান সংস্কার পরিষদ—কোন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে যেতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, এ ব্যবস্থা কীভাবে গঠন করা হবে, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে একাধিক পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নয়টি পদ্ধতির মধ্যে আটটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য রয়েছে, আর একটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। একটি বিষয়ে মতভেদের কারণে পুরো প্রক্রিয়া আটকে না রেখে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন সাবেক এই আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসেবে বিরোধী দলের সদস্যদের রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বৈঠকে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি।সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদের আওতায় স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যক্রম কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন বাদ দেওয়ার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিএনপির নিজস্ব অঙ্গীকারেও এসব উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান ছিল বলে বৈঠকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। জবাবে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়গুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি; পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকেও তিনি আমন্ত্রণ পেয়ে মতামত দিয়েছিলেন। তখন অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা পূরণ হয়নি। পরে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।এবারও যেন একই ধরনের হতাশার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে তার প্রতিফলন থাকা জরুরি।শনিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শুরু হয়। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইনজীবী শাহদীন মালিক, মাহবুব উদ্দিন খোকন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানসহ প্রায় ৪০ জন আইন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন।
১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের আশা করছে টোকিও। বিশেষ করে বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জাপান।জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর দেশটিতে সরকারি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২০ অক্টোবর দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়।সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জাপান সফরকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ বাসসের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছে, এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে বলে তারা আশা করছে।জাপান মনে করে, এ সফর আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো পুনর্ব্যক্ত করতে পারবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করতে পারবে।অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ বলেছে, নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উন্নতি হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকেও জাপান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। এছাড়া তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্পখাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করবেন ।প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক রয়েছে।এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, সফরটি বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক আস্থা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর জন্য শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।জাপান একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকারের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। দেশটির মতে, আলোচনায় অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে জাপান বলেছে, বিদ্যমান উদ্যোগগুলোতে বাস্তব উন্নতি ব্যবসায়িক আস্থা বাড়াতে এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান অংশীদার জাপান। দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়ন দুই দেশের অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে থাকবে। সূত্র: বাসস
১ দিন আগে