বিএনপি নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। নাউজুবিল্লাহ। একজনের গায়ে কোনো কাপড় নেই, আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় আছে। তো যার গায়ে কাপড় নেই, সে বলছে, ওই দেখো, ওর গায়ে কোনো জামা নেই।তিনি আরও বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি। আপনাদের দলের নাটোরের এমপি বলেছেন, তাদের সফলতার পেছনে আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা রয়েছেন, আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ দেবেন। নিজের দল বিএনপিকে ধন্যবাদ দিতে পারছেন না।শফিকুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এবং আপনাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিচ্ছেন। তারপর বলছেন, সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে। এখানে ইঙ্গিত করে বলছেন, আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, তাহলে আপনারা সরকারে এসেছেন কেন? এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? ঠেকাতে পারেন না কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।জামায়াতের আমির বলেন, জনগণকে কার্ড দেবেন, দিচ্ছেন, দিন। কিন্তু কয়জনকে কার্ড দিয়েছেন? কয়জনকে দেবেন? কখন দেবেন? এর আগে গরিব-ধনী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন, একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ।তিনি বলেন, প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেশে ফিরে আসছেন। তাদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে। দুই দিন আগে গণমাধ্যমে দেখলাম, পঞ্চগড়ে চারটি লাউ নাকি এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা মনের জ্বালায় এগুলো খাল-বিলে ফেলে দিচ্ছেন, উপযুক্ত দাম না পেয়ে। রাজধানীতে আপনারা এক টাকায় কি একটি লাউ কিনতে পারেন? ৪০, ৫০, ৬০ টাকা লাগে। ওই চাঁদাবাজদের কারণে এই কর আপনাদের ওপর বসেছে।তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি, দখলদারি বন্ধ করতে পারেননি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার জনগণকে উন্মুক্ত সেবা দিয়ে আসছিল বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। সেটার ওপর আপনারা লুটের ঝাঁপটা দিয়েছেন। রাতের অন্ধকারে সেখানে হামলে পড়েছেন, ভাঙচুর করেছেন, লুটপাট করেছেন। অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছেন। কেন? আপনাদের আইন নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেই? যিনি অপরাধ করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি কেন? হোয়াইটওয়াশ দিয়ে সবকিছু উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। জনগণকে বোকা ভাববেন না। সবকিছু জনগণ বোঝে।জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, চাঁদা ও দখলদারি আপনাদের কাছে এতটাই মারাত্মক যে নিজেদের লোকেরাও পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে কুণ্ঠিত হন না। বহু জায়গায় বিএনপির লোকেরা বলেন, ‘হায়রে আমার দল! দশকের পর দশক এই দল করলাম। এখন স্বয়ং আমার কাছেও চাঁদা চায়।’ আল্লাহই জানেন, সর্বোচ্চ ব্যক্তির কাছেও কোনো পাগল কোনো দিন গিয়ে তার দলের চাঁদা চেয়ে বসে কি না।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ চলতে পারে না। এসব পাহাড়সম ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে। কিন্তু আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এত তাড়াতাড়ি অগ্রাহ্য করলেন কেন? সমাজের সব জায়গা এত তাড়াতাড়ি দখলে নিলেন কেন? দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক বানিয়ে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিলেন কেন? এত তাড়াতাড়ি লোভ সামলাতে না পেরে জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুললেন কেন? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত মারাত্মক অবনতি কেন?তিনি বলেন, আমাদের সালাউদ্দিন সাহেব খুবই পারদর্শী লোক, সব মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়, শেষ পর্যন্ত দেখলাম ধর্ম মন্ত্রণালয়ও। কিন্তু শুধু নিজের মন্ত্রণালয় দেখার সুযোগ পান না। সংসদে দাঁড়িয়ে তার দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য বলেছেন, মাদক বন্ধ হবে কীভাবে? মাদকের সবচেয়ে বড় চালান তো আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা দিয়ে।তিনি বলেন, দিনের বেলা ৫০টা ট্রাকে ডাকাতি হয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট। জনগণকে সংবিধান সংশোধনের নামে ধোঁকা দেওয়ার পথ পরিহার করে আপনার ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে, সেদিকে মনোযোগ দিন। তা না হলে সরে দাঁড়ান।জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে। প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দাবি বাস্তবায়নে আমাদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমরা কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করি।তিনি বলেন, জন্ম যখন নিয়েছি, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের সঙ্গেই। কিন্তু অপমানের মৃত্যুবরণ করতে চাই না। জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে সেই মৃত্যু কবুল করতে চাই। সেটি হবে গর্বের। আমাদের নেতারা দেখিয়ে দিয়েছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তারা মাথা নত করেননি। আমরাও করব না, ইনশাআল্লাহ।তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, প্রিয় জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। প্রথম লংমার্চ হয়েছে। এর আগে ভারত নিয়ে অনেক হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই। যে লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই, সেটি নিয়ে এত পেরেশানি কেন? সাড়া আছে কি না, জনগণই তার সাক্ষী। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। বিশৃঙ্খলায় আমরা বিশ্বাস করি না। কেউ যেন আমাদের ওপর বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করেন।তিনি আরও বলেন, আজনগণের অধিকারের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমাদের প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চান না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চান।
১৩ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার নজিরবিহীন তাণ্ডব ও নৃসংশতা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও কালো অধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেদিনের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়েই দেশে দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা ও নাগরিক অধিকার হরণের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল।রবিবার (২৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এ সব কথা বলেন।তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই ঘটনার দুই দশক পূর্তি হতে চলছে। আজও হত্যাকারীদের বিচার হয়নি যা খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এই পৈশাচিক ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সংগঠন এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দুই দিনের নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীতে আলোচনা সভা। এতে সম্মানিত আমীরে জামায়াত প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। ২৮ অক্টোবর সারাদেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া। জামায়াতের সকল শাখাকে এ দিবস উপলক্ষে উক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য আহবান জানানো হয়েছে এবং ঘোষিত কর্মসূচি সার্বিকভাবে সফল করতে আমরা দেশের কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি।
১৩ ঘন্টা আগে
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, রাজধানীর বুকে একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।যে দেশে একজন শিল্পীর গাড়িও গুলির লক্ষ্যবস্তু হয়, সে দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় থাকবে।এবি পার্টির নেতৃদ্বয় আরও বলেন, অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা, জবাবদিহি এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পর কেবল আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে গুলিবর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।নেতৃদ্বয় বলেন, রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভয়ের হাতিয়ার হতে পারে না। বাংলাদেশ হবে এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে, অপরাধী জবাবদিহির আওতায় আসবে এবং প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার ভোগ করবেন। নাগরিকের নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
১ দিন আগে
সরকারের কর্মকাণ্ডে ভুল-ত্রুটি থাকলে তার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেছেন, সংসদে তারা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চান। সরকার জনকল্যাণমূলক কোনও উদ্যোগ নিলে তাতে সহযোগিতা করবেন, কিন্তু অনিয়ম ও ভুলের ক্ষেত্রে সমালোচনা করতেও দ্বিধা করবেন না।শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, সংবাদমাধ্যম, প্রবাসীদের সমস্যা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন জামায়াত আমির।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও বিরোধী দল নীরব থাকবে এমনটা হতে পারে না। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সমর্থন দেওয়া কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা কোনোটিই তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নয় বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, অতীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে ক্ষমতাসীনদের সব কাজকে ইতিবাচক এবং বিরোধীদের সব কর্মকাণ্ডকে নেতিবাচকভাবে দেখা হতো। তিনি এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন।দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, পুলিশের মধ্যে দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতির আরও উন্নতি প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।জেলা পরিষদে দায়িত্ব বণ্টন এবং সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) ঘিরে দলীয়করণের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিবর্তে সাময়িকভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া যেত কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিদুর্নীতি ও চাঁদাবাজিকে রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি নষ্টের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার বক্তব্য, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ান। তাই তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি কিংবা মন্ত্রী যেই হোন না কেন, গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত। অপরাধ প্রমাণিত হলে পদমর্যাদা বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, তবে অপরাধের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নীতি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।নিজ দলের এক সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত নিতে তাদের বেশি সময় লাগেনি। বহিষ্কারের পর তার সঙ্গে দলের আর কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।দেশের বিভিন্ন ঘটনা ও অনিয়ম জনসমক্ষে তুলে ধরতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে গণমাধ্যমেরও কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।সাংবাদিকদের আরও সাহসী, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সংবাদমাধ্যমকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। দেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।বাংলাদেশকে সব নাগরিকের দেশ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহমর্মিতা বজায় রাখা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।সম্প্রতি দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে থাকলে সবাই উপকৃত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ক্ষমতা স্থায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতা অর্জনই তাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং দেশবাসীর ভালো থাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দী থাকার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশটির আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। তবে বন্দীদের অবস্থা ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন। তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবগত থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে আগের তুলনায় সময় কম লাগার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রবাসীদের আন্দোলনের সফলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে জানান জামায়াত আমির।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান জানান, তাদের দল জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। অতীতেও তারা এভাবে নির্বাচনে অংশ নেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান জামায়াতের আমির।মতবিনিময় সভায় তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি এবং জনগণের অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১ দিন আগে