• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩১ সকাল ০৯:৪৩:২৬ (24-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:

পীরের ছদ্মবেশে জঙ্গিদের সংগঠিত করছিল ইমাম মাহমুদের কাফেলা


সোমবার ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ সকাল ১০:১০



পীরের ছদ্মবেশে জঙ্গিদের সংগঠিত করছিল ইমাম মাহমুদের কাফেলা

ছবি: সংগৃহীত

চ্যানেল এস ডেস্কঃ 

পীরের ছদ্মবেশে জঙ্গিদের সংগঠিত করছিল ইমাম মাহমুদের কাফেলা। সদস্য সংগ্রহ হতো ইউটিউব ও ফেসবুকে। দেশি-বিদেশি ভক্তের দানের টাকায় কেনা হয় সিলেটের আস্তানা। সংগঠনটির ৪২ জন শীর্ষ সংগঠককে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি বলছে, আপাতত বড় কোনো হামলার সক্ষমতা নেই তাদের। 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের নির্জন পাহাড়ে আস্তানা গেড়েছিল জঙ্গি সংগঠন, ইমাম মাহমুদের কাফেলা। ‘অপারেশন হিলসাইড’ নামের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। সংগঠনটির নেতা ৩০ বছর বয়সী জুয়েল মাহমুদের বাড়ি নাটোরে। তবে কর্মীরা তাকে চেনে ‘ইমাম মাহমুদ’ ও ‘হাবিবুল্লাহ  নামে। 

সম্প্রতি বিভিন্ন জেলা থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমে এ সংগঠনের কথা জানা যায়। এর মধ্যে আছে সিরাজগঞ্জের একজন চিকিৎসক, তার স্ত্রীও নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীও। 

গোয়েন্দারা বলছেন, ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ করতো জঙ্গিরা।  আর সংগঠন চলতো সদস্যদের টাকায়। 

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম-সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কথিত ইমাম মাহমুদ নামে জঙ্গি দলটি সংগঠিত হতে শুরু করে। এর অনুসারীরা মনে করেন, ইমাম মাহাদীর অগ্রবর্তী হিসাবে ইমাম মাহমুদ অবতীর্ণ হয়েছেন। বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, ইমাম মাহাদীর আগে ইমাম মাহমুদ নামে দুর্বল প্রকৃতির একজন ব্যক্তির আবির্ভাব হবে। 

এই কথিত ইমাম মাহমুদের দলকে বলা হতো কাফেলা। তাদের বিশ্বাস, ইমাম মাহমুদের নেতৃত্বে ভারতীয় উপমহাদেশে জিহাদের নেতৃত্ব দেওয়া হবে। তাতে অংশ নেওয়ার প্রথম ধাপ হলো হিজরত বা গৃহত্যাগ করে দলে যোগ দেওয়া। যারা এভাবে জিহাদে অংশ নেবে, তারা পরকালে পুরস্কারপ্রাপ্ত হবে- বলেন সিটিটিসি প্রধান। 

সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের পর প্রথমে তাদের নেওয়া হতো পাবনা সদর ও আতাইকুলায়। সেখান থেকে সিরাজগঞ্জের কড্ডায় নিয়ে জব্দ করা হতো সবার মোবাইল। পরে নেওয়া হতো সিলেটের প্রশিক্ষণ শিবিরে।

জঙ্গিদের অনলাইন কার্যক্রম বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার তাগিদ অপরাধ বিশেষজ্ঞদের। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ সহকারী অধ্যাপক এ বি এম নাজমুস সাকিব বলেন, দেখতে হবে তাদের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা চালানোর মতো সক্ষমতা আছে কিনা। অনলাইন কার্যক্রম বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে। 

জঙ্গিবাদে জড়ানোর অভিযোগে ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কথিত ইমাম মাহমুদ। 

মন্তব্য করুনঃ


সর্বশেষ সংবাদ