রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে নির্মিত বাণিজ্য মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটক ভেঙে কর্মসূচি শেষ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে ফটক ভাঙার কাজ শেষ করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিরে যান।এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মাঠে প্রবেশ করে মেলার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে আসা দুটি ট্র্যাক্টর ব্যবহার করে স্থাপনাগুলো ভাঙা হয়। এক পর্যায়ে মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটকটিও ভেঙে ফেলেন তারা।বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিজেদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠে বাণিজ্য মেলা বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন করা যাবে না। মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে।শিক্ষার্থীরা বলেন, মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি গবেষণার জন্য মাঠটি ব্যবহার উপযোগী করতে হবে এবং সেখানে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।এর আগে গত ২৭ অক্টোবর মাঠে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ সময় পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা। পরদিন ২৮ অক্টোবর বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশ গেটসহ বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা।এ ছাড়া মাঠ উদ্ধারের দাবিতে কয়েক দফায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। সর্বশেষ গত ১ নভেম্বর চীন মৈত্রী সিগন্যাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
২ দিন আগে
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল আহমেদ চৌধুরীসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৩তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য।নিয়োগ বাতিল হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন- রেজিস্ট্রার সৈয়দ সেলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস।রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদগুলো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদিরকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা জয়নাল ইসলাম চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমদ চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পুর ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শাহিদুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও অভ্যন্তরীণ সড়ক মেরামতের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলামকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদ চৌধুরী এবং সিন্ডিকেট সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শাহিদুর রহমান।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেটের সব সদস্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান প্রকৌশলীসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা সবার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।রাস্তা সংস্কারের কাজের তদন্তের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, এই কাজে ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ এর চেয়ে বেশি কাজ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায় করা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে তদন্তের চাপ ছিল। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
২ সপ্তাহ আগে
ইংলিশ-মিডিয়ামের নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গ্রেড ফোরের মধ্যেই সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন হিফজ করেছে রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালে হিফজ সম্পন্ন করা পাঁচ শিক্ষার্থী হলো হাফেজ সাইয়েদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, হাফেজ এস কে তানজিম আলম জাকি, হাফেজ মাহদি হাসান, মো. রবিউল হাসান এবং হাফেজ ফাহমিদ শাহরিয়ার তাম্মাম। তাদের প্রত্যেকেই স্কুলের মূলধারার ইংলিশ-মিডিয়াম একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেই হিফজ সম্পন্ন করেছে। স্কুলটিতে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলা, আইসিটি ও ইসলামিক স্টাডিজসহ নিয়মিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে কায়দা, নাজেরা ও হিফজুল কুরআনের শিক্ষা দেওয়া হয়। স্কুলের প্রকাশিত একাডেমিক কাঠামোতেও গ্রেড ১ থেকে ৫ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি Nazera ও Hifzul Qur’an Programme অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে মো. রবিউল হাসান ইতোমধ্যে মিশরে গিয়েছে এবং বর্তমানে আল-আযহারের Pre-Azhar Programme-এ অধ্যয়ন করছে। এর আগে ভর্তি পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে রবিউল হাসানসহ রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তিন শিক্ষার্থী এ প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ পায়। রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষা-পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, হিফজকে আলাদা কোনো আফটার-স্কুল কার্যক্রম হিসেবে পরিচালনা না করে নিয়মিত শিক্ষাজীবনের অংশ হিসেবে রাখা। শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী নতুন সবক, নিয়মিত মুরাজাআহ এবং একাডেমিক পাঠের মধ্যে একটি নির্ধারিত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।বাংলাদেশের প্রথম ফুল-টাইম হিফজভিত্তিক ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুল হিসেবে পরিচিত রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংলিশ-মিডিয়াম শিক্ষার সঙ্গে পূর্ণকালীন হিফজুল কুরআন, আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বিত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে এ পরিচয়ে আগেও সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিফজ কার্যক্রমের ফলও গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রথম, ২০২৪ সালে দ্বিতীয় এবং ২০২৫ সালে তৃতীয় হিফজ কনভোকেশন আয়োজন করে রূহ। স্কুলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে মাহদি হাসান হিফজ সম্পন্ন করার সময় তাকে প্রতিষ্ঠানটির ২১তম হাফেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মুনাইম বিল্লাহ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু কম বয়সে একটি শিশুর হিফজ সম্পন্ন করানো নয়। আমরা চাই, সে কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক শিক্ষা, ভাষাগত দক্ষতা, উত্তম চরিত্র এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করুক। গ্রেড ফোরের মধ্যেই পাঁচজন শিক্ষার্থীর হিফজ সম্পন্ন করা এবং তাদের একজনের আল-আযহারের Pre-Azhar Programme-এ মিশরে অধ্যয়ন শুরু করা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এর পেছনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও উস্তাদদের দীর্ঘদিনের শ্রম রয়েছে।”তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যেন দেশের প্রচলিত একাডেমিক ধারা এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা—দুই পথেই এগিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যেই স্কুলটির একাডেমিক কাঠামো আরও উন্নত করা হচ্ছে।ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান হিসেবেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নিবন্ধন পেয়েছে। ২০২৫ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠানটিকে বিদেশি কারিকুলামের অধীনে সাময়িক নিবন্ধনের অনুমতি দেয়। রূহ কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের লক্ষ্য হিফজ এবং সাধারণ শিক্ষাকে দুটি পৃথক শিক্ষাধারা হিসেবে না দেখে এমন একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী কুরআনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেখেই পরবর্তী পর্যায়ের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
২ সপ্তাহ আগে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের ৩ নেতা-কর্মী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।তিনি বলেন, গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সংগঠিত ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং দোষীদের শাস্তির বিষয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে লিখিত একটি প্রতিবেদন গতকাল মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়েছে।তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ সম্পর্কে তিনি বলেন, সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় আহসান হাবীব (সহসভাপতি, রাবি ছাত্রদল), বিশাল চক্রবর্তী (রাবি ছাত্রদল কর্মী), হাসিবুল হাসান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রাবি ছাত্রদল), আরিফুল ইসলাম (জিএস, জিয়া হল সংসদ)-এর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হলো।তিনি আরও বলেন, রাকসুর সহসাংকৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বিভিন্ন ধরনের প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।এ ছাড়া শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার জন্য সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।উল্লেখ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
৩ সপ্তাহ আগে