বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরে চিনাবাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে শুরু হয়েছে জমি প্রস্তুত ও বীজ বপনের কাজ। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও লাভের আশায় কৃষকেরা বেছে নিচ্ছেন চিনাবাদাম চাষ। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে অনাবাদি পড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ চরজমি।সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলে কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ সারি করে বীজ বপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন অনেক কৃষক। বালুময় জমিতে অন্য ফসল চাষ কঠিন হলেও চিনাবাদাম চাষের মাধ্যমে জীবিকার নতুন পথ খুঁজছেন তাঁরা।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চরের ওপরের স্তরে বালুর আধিক্য থাকায় সব ধরনের ফসল ভালো হয় না। এ কারণে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে এসব জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়। কাঁচা বাদামের খোসা থেকে বীজ সংগ্রহ করে লাঙল দিয়ে তৈরি করা সারিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করা হয়। এরপর বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তুলনামূলক কম পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে বাদামগাছ।কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ মণ। গত বছর প্রতি মণ বাদাম পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে বিঘাপ্রতি পাঁচ মণ ফলন হলে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার আগে সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ২২ হাজার টাকা। তবে ফলন ও বাজারদরের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করে।এদিকে ধুনটের বৈশাখি, রাধানগর, নিউসারিয়াকান্দি, বতুয়ারভিটা ও পুকুরিয়া চরে বালুর আস্তরণ পড়া শত শত বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে চিনাবাদাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হতে পারে কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা চরাঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ, উন্নত বীজ সরবরাহ, চাষাবাদবিষয়ক পরামর্শ এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, বেলে-দোআঁশ মাটি চিনাবাদাম চাষের জন্য উপযোগী। চরাঞ্চলের মাটিও এ ফসল চাষের উপযুক্ত। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং সার ও সেচের প্রয়োজনও কম হওয়ায় কৃষকেরা চিনাবাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।যমুনার বালুচরে চিনাবাদাম চাষের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে অনাবাদি জমি উৎপাদনের আওতায় আসবে, বাড়বে কৃষকের আয়। যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে চরাঞ্চলের বালুময় জমিই হয়ে উঠতে পারে কৃষকের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন ভিত্তি।
২১ ঘন্টা আগে
ঢাকার ধামরাই উপজেলার নান্নার ইউনিয়নে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে নান্নার ইউনিয়ন এর ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠে নান্নার যুব ক্রীড়া সংঘের আয়োজনে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন। এতে সভাপতিত্ব করেন নান্নার যুব ক্রীড়া সংঘের সভাপতি মো. নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল হক মোল্লা, ধামরাই উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. শাহজাহান ফেরাজী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মিজানুর রহমান মোল্লা, কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ইবাদুল হক জাহিদ, নান্নার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল্লাহ, নান্নার ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি আবু বক্কর, ধামরাই পৌর যুবদল নেতা টুটুল, সুয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইদুর রহমান এবং ধামরাই উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাফিজুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদল নেতা সোলায়মান কবির মিল্টন, সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, “মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আয়োজকেরা জানান, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
২২ ঘন্টা আগে
জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, সরকার দিনের ভোট রাতে করতে চায় না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবসৃষ্ট স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।‘ভোটের মৌসুম শেষ, তাই পূজামণ্ডপে দেখা নেই’জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে মানুষকে ঠকানো হয়েছে। গত পূজায় যেভাবে ঢাকের তালে নাচলেন, এবার কেন গেলেন না? ভোটের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে।’তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতারা ভোটের সময় মানুষের কাছে যান, বেহেশতের প্রলোভন দেখান এবং পূজামণ্ডপে উপস্থিত হন। কিন্তু ভোট শেষ হলে জনগণের খোঁজ নেওয়ার সময় তাঁদের থাকে না। তাঁরা মৌসুমি রাজনীতি করেন বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।এ সময় লং মার্চের নামে তেল-গ্যাস নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করেন তিনি।‘বিএনপির লোক হলেও ছাড় নয়’আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবেন। নির্বাচনে কেউ হট্টগোল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বিএনপির নেতা-কর্মী হলেও ছাড় দেওয়া হবে না।তিনি বলেন, দলের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন, ততটাই কঠোর হবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে থাকবে। সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে গ্রামাঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সহজ হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাসপ্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার দেশের সব উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের দেওয়া হবে কৃষক কার্ড। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্যও বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করেই পাঁচ বছর পর আবার ভোট চাইতে যাবেন তাঁরা।আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটের প্রয়োজন ছিল না বলে তারা জনগণের কাছে যায়নি। কিন্তু বিএনপির ভোটের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাঁরা বারবার জনগণের কাছে যাবেন, মানুষের কথা শুনবেন এবং তাঁদের পাশে থাকবেন।সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।পরে প্রতিমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ময়লা পরিবহনের জন্য গার্বেজ ভ্যানের উদ্বোধন করেন।
১ দিন আগে
চাঁদপুরেরল আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শওকত আলী ছৈয়াল (৬৪) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মতলবের কলাকান্দা ইউনিয়নের দশানী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে শিশুটি বাড়ি থেকে তার বাবার দোকানে পেঁপে পৌঁছে দিতে যায়। দোকানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে গ্রামের একটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় শওকত আলী ছৈয়াল শিশুটিকে হাত ধরে টেনে পাশের একটি পরিত্যক্ত ভাঙা ঘরে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়িতে ফিরে এলে তার মা তাসলিমা বেগমের সন্দেহ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ছেবত আলী ছৈয়াল বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে মতলব উত্তর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলা নাম্বার ৮২।মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শওকত আলী ছৈয়াল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
১ দিন আগে