আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান।আজ শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি বলেন, শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হলেও গত সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দলীয়করণ ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পরিবর্তে তারা নানা সংকটের মুখে পড়েছে।মুশফিকুর রহমান বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
১২ ঘন্টা আগে
আগামী বছর (২০২৭ সালে) তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। আগামী ২০২৭ সালে এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা যাবে। তিস্তা নদী ও এর আশপাশের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এই মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এ সময় তিনি মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধ বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে ১১টি সেলাই মেশিন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫০ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইনুল হক সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মনোনিতা দাসসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
১২ ঘন্টা আগে
একসময় বর্ষা এলেই ছাতকের বিল-নদী ও জলাশয়গুলোতে দেখা মিলত দেশি নানা প্রজাতির মাছের। পানির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ত মাছের আনাগোনা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন অনেক জলাশয়েই মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননের জায়গা দখল করে নিয়েছে নিষিদ্ধ ও অবৈধ জাল।সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিভিন্ন বিল, নদী, খাল ও জলাশয়ে কারেন্ট জাল, চায়না রিং জাল, ম্যাজিক জাল, সুতিজাল, চায়না দোয়ারী ও রিংচাইসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে।বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বড় মাছের পাশাপাশি নির্বিচারে ধরা পড়ছে মাছের পোনা, ডিমওয়ালা মাছ ও ছোট আকারের দেশি প্রজাতির মাছ। এতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হয়ে জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।উপজেলার কুড়ি বিল, সিংগাপই বিল, নলুয়া বিল, মৌআলু বিল, দেউসাফরা বিল, বোকা নদী ও রাংড়িংগা নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, এসব জালের সূক্ষ্ম ফাঁকে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা, ছোট মাছ এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে মাছের সঙ্গে সঙ্গে সাপ, ব্যাঙ, শামুকসহ জলজ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।দেবেরগাঁও গ্রামের মৎস্যজীবী নরেশ চন্দ্র বলেন, “কুড়ি বিলের আশপাশে এবং বিলের ভেতরে অবৈধ চায়না দোয়ারী ও রিং জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। বিষয়টি মৎস্য অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় ছাতকের বিল ও নদীতে প্রচুর পরিমাণে শোল, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, কৈ, সরপুঁটি, পাবদা, আইড়, বাইম, খলসে, রিঠা, বেতাগা, বাঁশপাতা, রয়না ও কালিবাউশসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যেত।বর্তমানে এসব মাছের অনেক প্রজাতিই আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্থানীয় হাট-বাজারেও দেশি মাছের সরবরাহ ও বৈচিত্র্য কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।তাদের মতে, মাছের প্রজনন ও ডিম ছাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে পোনা ও ছোট মাছ ধরে ফেলার কারণেই জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। অবৈধ জাল উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার—তিন ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।লিখিত ও মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।তবে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, “কোন কোন জায়গায় অবৈধ জাল দিয়ে মাছ মারা হচ্ছে, আমাদের তথ্য দিলে আমরা অভিযান পরিচালনা করব। সবার সহযোগিতা পেলে অভিযান অব্যাহত রাখব এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এখনই ব্যবস্থা না নিলে বিপন্ন হবে দেশি মাছবিশেষজ্ঞদের মতে, দেশি মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান, জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং জেলে ও মাছ শিকারিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একসময় ছাতকের বিল-নদী ও জলাশয় থেকে হারিয়ে যেতে পারে বহু পরিচিত দেশি মাছের প্রজাতি। তখন শুধু মাছের সংকট নয়, বদলে যেতে পারে ছাতকের দীর্ঘদিনের জলজ জীববৈচিত্র্যের চিত্রও।
১২ ঘন্টা আগে
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ীতে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে এক বিশাল আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।মাদক ও সন্ত্রাসকে না বলুন এই প্রতিপাদ্য ও স্লোগানকে সামনে রেখে বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানটি বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজার সংলগ্ন কানুরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। কানুরগাঁও মাঠে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।আলোচনা সভা শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি খাসেরহাট বাজার ও তার আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গড়ার পক্ষে নানা প্রতিবাদী ও সচেতনতামূলক স্লোগান দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোঃ নুরুল ইসলাম সরদার, সভাপতি, বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি। মোঃ মামুন তালুক, সাধারণ সম্পাদক, বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি। দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই, খাশেরহাট তদন্ত কেন্দ। মোঃ নেয়ামত সিকদার, সাবেক সভাপতি, শ্রমিক দল। এছাড়াও বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উক্ত সভায় উপস্থিত থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে গ্রাম পর্যায় থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা জরুরি। সমাজ থেকে সব ধরনের অপকর্ম উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।
১২ ঘন্টা আগে