ঢাকার মিরপুরে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলার একটি ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরেছে।আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কালশী রোডে এ হামলার ঘটনা ঘটে।ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন কয়েকজন। কয়েকজন আবার হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন।এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, মিরপুর ১১ থেকে যখন শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে, তখন তারা কালশীর দিকে সরে যায়। সেই সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা মিরপুর-১১ এর দিকে আসছিল। দলছুট অবস্থায় পেয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।এদিন সকাল থেকে পল্লবীর শিল্প এলাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। সে সময় তাদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা গেছে।এরপর শ্রমিকরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তখন শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। মিরপুর ১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ চলায় এ স্টেশনের ভেতরে আটকা পড়েন বহু যাত্রী। এর মধ্যে পূরবী শিল্প এলাকার বিভিন্ন গলি থেকে অন্তত পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য বলে দাবি পুলিশের।
১ ঘন্টা আগে
প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শুরু হয়েছে দুই মাসব্যাপী কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার ভ্যানের মাধ্যমে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন ৪০ জন নারী-পুরুষ।যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডারপ্রিভিলেজড রুরাল ইয়ং পিপল অব বাংলাদেশ (টেকার দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ চলবে। এতে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের কম্পিউটার পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও নেটওয়ার্কিং বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দ্বীপাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো এবং কর্মমুখী শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, হাতিয়ার মতো প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলে বসে এ ধরনের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতে চাকরি কিংবা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা।এদিকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাঝে বই ও ব্যাগ বিতরণ করেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগের সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ডিজিটাল কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং ও আত্মকর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরিতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে হাতিয়ার শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মজীবনে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১ ঘন্টা আগে
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া মোড়ে বাসের উল্টো পথে বিপজ্জনক মোড় নেওয়ার জেরে এক ভয়াবহ চতুর্মুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চার যানবাহনের এই ধারাবাহিক ধাক্কায় দোলা পরিবহনের বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন শহিদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ইঞ্জিনচালিত ভ্যানচালক। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।নিহত শহিদুল ইসলাম কাশিয়ানী উপজেলার চরভাটপাড়া গ্রামের আমিন শেখের ছেলে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী 'ইমাদ পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাস কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া মোড় এলাকায় পৌঁছে নিয়মবহির্ভূতভাবে উল্টো পথে মোড় ঘুরতে যায়। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি কাভার্ডভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় কাভার্ডভ্যানটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা 'দোলা পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাসকে আঘাত করে এবং দোলা পরিবহন গিয়ে আছড়ে পড়ে পাশে থাকা একটি লোকাল বাসের ওপর।ঠিক সেই মুহূর্তেই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইঞ্জিনচালিত ভ্যানটি দোলা পরিবহনের বাসের নিচে চাপা পড়ে। এতে ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিয়ানী হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোঃ রাজিব জানান, দুর্ঘটনাটির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। যেহেতু ঘটনাটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই ঘটনার বিস্তারিত কারণ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
৩ ঘন্টা আগে
একদিকে বসতভিটা, অন্যদিকে কবরস্থান। মাঝখানে মাত্র কয়েক হাত মাটি। সেই মাটিটুকুও ধীরে ধীরে কেড়ে নিচ্ছে মেঘনা নদী। নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকায় নদীভাঙন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জীবিত মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি মৃত স্বজনদের শেষ ঠিকানাও পড়েছে ঝুঁকিতে।কবরস্থানের পাশের মাটি সরে গেছে। কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। নদী আর একটু এগিয়ে এলেই মেঘনার স্রোতে বিলীন হয়ে যেতে পারে কবরগুলো। এ নিয়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আফাজিয়া বাজার জামে মসজিদের সামনের কবরস্থানে কয়েক বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার তমুক মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে দাফন করা হয়। তখন কবরস্থানটি নদী থেকে কিছুটা দূরে ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদীর অব্যাহত ভাঙনে তীরের মাটি সরে যেতে যেতে কবরস্থানটিও চলে এসেছে মেঘনার একেবারে কিনারায়।কবরস্থানের আশপাশে গেলেই চোখে পড়ে ভাঙনের ভয়াবহ চিহ্ন। কোথাও নদীর তীর ধসে পড়েছে, কোথাও কবরের পাশের মাটি নরম হয়ে গেছে। প্রতিদিন নদীর গতিপথ ও পানির ওঠানামার দিকে তাকিয়ে থাকছেন স্বজনরা। তাঁদের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকানো না গেলে একসময় কবরগুলোর অস্তিত্বও থাকবে না।স্থানীয় বাসিন্দা নিপু খিলজি খবরের কাগজকে বলেন, হাতিয়ায় নদীভাঙন নতুন কোনো ঘটনা নয়। বছরের পর বছর ধরে মানুষ ঘরবাড়ি, জমিজমা হারাচ্ছেন। কিন্তু কবরস্থান ভাঙনের মুখে পড়ায় কষ্টটা অন্যরকম। জীবিত অবস্থায় বসতভিটা হারানোর পর এখন মৃত স্বজনদের কবরও হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।আফাজিয়া বাজার জামে মসজিদের দায়েমি মুসল্লি আজিজ মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, মানুষ মারা যাওয়ার পর কবরই তাঁর শেষ ঠিকানা। স্বজনকে দাফন করার পর মনে করি, অন্তত এই জায়গাটুকু থাকবে। কিন্তু নদী যদি সেই কবরও নিয়ে যায়, তাহলে কষ্টটা আরও বেশি। ঘর হারানোর কষ্ট সহ্য করা যায়, কিন্তু বাবা-মা কিংবা স্বজনের কবর নদীতে বিলীন হতে দেখা আরও বেদনাদায়ক।স্থানীয়রা জানান, জোয়ারের সময় নদীর পানি বাড়লে কবরস্থান নিয়ে তাঁদের আতঙ্কও বেড়ে যায়। নদীর তীর থেকে মাটি সরে যাওয়ার দৃশ্য দেখে অনেকে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের কবর দেখে আসেন। তাঁদের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে একসময় কোনো কোনো কবরের চিহ্নও মুছে যেতে পারে।স্থানীয় মানুষের কাছে কবরস্থান শুধু কয়েক হাত মাটি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবার, স্মৃতি ও প্রজন্মের সম্পর্ক। বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান কিংবা স্বজনের কবর জিয়ারত করতে প্রতিনিয়ত সেখানে যান মানুষ। ঈদ কিংবা পারিবারিক বিশেষ দিনেও অনেকে কবরস্থানে গিয়ে দোয়া করেন। সেই শেষ আশ্রয়টিই যখন নদীর কিনারায় চলে আসে, তখন মানুষের উদ্বেগ শুধু মাটি হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মেঘনার ভাঙনে বসতভিটা, কৃষিজমি, রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার একাধিকবার ঘর সরিয়ে অন্যত্র বসতি গড়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “ঘর হারালে নতুন করে ঘর তোলা যায়, কিন্তু নদীতে হারিয়ে যাওয়া কবরস্থান আর ফিরে পাওয়া যায় না।এ কারণে নদীভাঙনকে শুধু ভূমি হারানোর সমস্যা হিসেবে দেখতে চান না স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, এর সঙ্গে মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক অস্তিত্বও জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে কবরস্থান ঝুঁকিতে পড়ায় বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কবরস্থানগুলো চিহ্নিত করে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মেঘনার ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নেরও দাবি তাঁদের।স্থানীয়দের প্রশ্ন—জীবিত মানুষের ঘরবাড়ি যদি মেঘনা কেড়ে নেয়, সেটি অবশ্যই বেদনাদায়ক। কিন্তু মৃত্যুর পরও যদি মানুষের শেষ ঠিকানাটুকু নিরাপদ না থাকে, তাহলে এই নদীভাঙনের কাছে মানুষের অসহায়ত্বের সীমা কোথায়?মেঘনার ভাঙন তাই হাতিয়ার মানুষের কাছে এখন শুধু ঘর কিংবা জমি হারানোর গল্প নয়। জীবিতের ঘরের পাশেই মৃতের কবরও দাঁড়িয়ে আছে একই অনিশ্চয়তার সামনে। নদীর ভাঙন থামানো না গেলে হয়তো একদিন মানুষের বসতভিটার মতোই মেঘনার বুকে হারিয়ে যাবে বহু প্রিয়জনের শেষ ঠিকানাও।
৩ ঘন্টা আগে