আব্দুল জব্বার, নড়িয়া - শরীয়তপুর
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৯:১৩:৪০
বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে থানার সামনে বিক্ষোভ কিশোর মারুফের
বাবা আমাকে রেখে ওপারে চলে গেল, বাবা আমাকে এখন আর বলবে না স্কুলে যাওনা কেনো। শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলায় কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে লাঠির আঘাতে নিহত আনোয়ার ভূঁইয়া (৪২) এর ১৪ বছরের কিশোর সন্তান স্কুল পড়ুয়া মারুফ, বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে, গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।
মারুফ গণমাধ্যমকে বলে, আমার বাবাকে মেরে ফেলল কিন্তু যারা মারল তাদেরকে পুলিশ ধরল না (গ্রেফতার করল না) । যারা আমার বাবাকে মেরেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।
গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের মানাখান এলাকায় একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে আনোয়ার ভূঁইয়া (৪২) সহ ২ জন আহত হন । পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুরুতর আহত আনোয়ার ভূঁইয়াকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে আনোয়ারের বোন খালেদা আক্তার (৩২) বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে, হত্যার অভিযোগে স্থানীয় জয়দুল ঢালী (৪৫) সহ ৭ জনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আনোয়ারের স্ত্রী সায়মা বেগমকে গ্রেফতার করে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনোয়ার হোসেন চ্যানেল এস কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, নিহত আনোয়ার ভূঁইয়া ওই এলাকার সেকেন্দার ভূঁইয়ার ছেলে। তার জান্নাত (৯) ও মারুফ ভূইয়া (১৪) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। আনোয়ার কে হত্যার ঘটনায় জয়দুলের স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করা যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আনোয়ারের পরিবার ও স্থানীয়রা আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে থানা সম্মুখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়নি।
তবে ঘটনার সময় আসামি জয়দুল ঢালীর লাঠির আঘাতে আনোয়ার গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুলফতগঞ্জে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে স্থানীয় জনতা ক্ষোপের বসে অভিযুক্ত জয়দুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন।
নিহত আনোয়ারের বোন মামলার বাদী খালেদা আক্তার বিক্ষোভ শেষে চ্যানেল এস কে বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে জয়দুল ঢালী আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করলো। আমার স্বামী রুবেল এই ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায়। জানিনা সে বাচবে কিনা। আমি শুধু হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।
তিনি জানান, আজ ঘটনার ৫ দিন হতে চলল পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ আসামির পরিবার আমাদেরকে প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, নিহত আনোয়ারের পরিবার এবং স্থানীয়রা থানা সম্মুখে অন্তত ৩০ মিনিট বিক্ষোভ করেন, বিক্ষোভ শেষে তারা থানার সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন।