হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেটে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো এলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ২৭ মিনিটের দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।এ সময় সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।এক দিনের সফরে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন তিনি।রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কর্মসূচির স্থান, যাতায়াতের পথ এবং নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট সার্কিট হাউসে যাবেন তিনি। সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারে যাবেন।দুপুরের বিরতির পর বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবনের সামনে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সফর শেষে রাত ৮টায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
১০ মিনিট আগে
সৌদি আরবের তিন শহর খামিস মুশাইত, আবহা এবং তাইফে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুথি। এতে ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।এছাড়াও বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ৭টি বাড়িঘর এবং ২টি যানবাহন। সোমবার দিবাগত রাতে এ হামলার পর মঙ্গলবার ভোরের দিকে আবহা, জেদ্দা, জাজান, তাইফ, ইয়ানবু, আলুলাসহ সৌদির বেশ কয়েকটি পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা বিষয়ক অ্যালার্ট জারি করেছে সরকার।ইয়েমেনে হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “সন্ত্রাসী হুথি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক লোকজন ও স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা যে উগ্র ও সহিংস মতবাদে বিশ্বাসী— বেসমারিকদের লক্ষ্য করে এসব হামলা তার প্রমাণ।”বিবৃতিতে তুরকি আল-মালকি আরও বলেছেন, “সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোট এসব হামলার মোকাবিলা করবে। আমরা আমরা যথাযথ দায়িত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে সৌদি আরব, বেসামরিক লোকজন এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে রক্ষা করবো”, বিবৃতিতে বলেছেন তুরকি আল মালকি।সোমবারের হামলার ব্যাপারে হুথি গোষ্ঠীর তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রোববার ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যে ৭০টি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছিল সৌদি আরব, তার বদলা হিসেবে সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে হুথি গোষ্ঠী।আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবের। ইতোমধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করেছে হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদির জন্য বড় দুঃসংবাদ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে এত দিন নিজেদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান পরিচালনা করছে সৌদি আরব। হুথি বিদ্রোহীদের তথ্য অনুযায়ী রোববারের আগ পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে সৌদি বিমানবাহিনী।ইয়েমেনের সেনাবাহিনীও উত্তর ইয়েমেন এবং রাজধানী সানা-কে হুথিদের দখলমুক্ত করতে অভিযানে নেমেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো মুখপাত্র ইয়েমেনে সাম্প্রতিক বিমান অভিযান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, সৌদির বিমান অভিযানগুলো এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সহায়তার ওপরই সীমাবদ্ধ আছে; রাজধানী সানা-সহ হুথিদের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলোকে এখনও লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ২০১৪ সাল থেকে। সে বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।সূত্র : আরব নিউজ
৪২ মিনিট আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগরীর পাঁচটি ভেন্যু ও তিনটি কর্মসূচিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।সোমবার সফরের বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় সিলেট মহানগর পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।সফরকে কেন্দ্র করে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও মাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কারকাজ জোরদার করা হয়েছে।সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিলেটে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। বিকেল ৩টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়োজনে নগর ভবন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সংবর্ধনা শেষে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
১ ঘন্টা আগে
অবশেষে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে আজ (মঙ্গলবার)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের সাত শীর্ষ নেতার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর এ রায়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে পলাতক এই সাত নেতার ভাগ্য। যদিও তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।প্রসিকিউশন জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। অবশেষে এ রায় আজ ঘোষণা করা হবে। এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
১ ঘন্টা আগে