ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬ রাত ০৮:৩১:৫৪
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ভৈরব রেলওয়ে থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদ আহমেদ।
তিনি জানান, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে বোরহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ওসি সাইদ আহমেদ আরও জানান, গত ছয় মাসে ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের ছাদে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ২৩৯ কেজি গাঁজা এবং ১০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ে পুলিশের একক অভিযানে ৯৬ কেজি এবং র্যাবের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ১৪৩ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, একই সময়ে স্টেশন এলাকা, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং ৫৮ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া শিকল পরিহিত মানসিক ভারসাম্যহীন একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করে ভৈরবে আসা শিক্ষার্থীদের আটক করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের পর অভিভাবক ও শিক্ষকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওসি সাইদ আহমেদ বলেন, আলোচিত কলেজছাত্র ইউসুফ হত্যা মামলার ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি, চোর, ছিনতাইকারী ও ট্রেনে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার পরিচালিত অভিযানের সাফল্যকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং রেলওয়ে পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “গত ৯ ও ১৪ জুন ট্রেনের ছাদ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। স্টেশনে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”