জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৭:৫৫:২৯
গাছের মগডালে থেকে সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গোরস্তানের ওপর একটি গাছের মগডাল থেকে কাজল মিয়া (৫৫) নামে এক সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ, পরিবারের অভিযোগ পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ১ নং বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের বিরামপুর উত্তরপাড়া চৌধুরীবাড়ির পেছনে গোরস্তানের একটি গাছে তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত কাজল মিয়া সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাটিয়াম গ্রামের জবান আলীর ছেলে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন। বর্তমানে ধর্মপাশার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার পর থেকে কাজলের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চলছিল। শুক্রবার সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তাঁরা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, কাজলকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করে পরে গোরস্তানের ওপর একটি গাছের মগডালে বসা অবস্থায় রেখে গলায় দড়ি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কর্মস্থলের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও উল্লেখ করে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কাজলের বড় ভাই বলেন, “গত বুধবার আনুমানিক বেলা আড়াইটার দিকে কাজলের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় গিয়ে জিডি করি। আজ সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি, কে বা কারা আমার ভাইকে মেরে গাছের মগডালে বসা অবস্থায় গলায় দড়ি লাগিয়ে রেখেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
নিহতের ভাগ্নিজামাই রনি বলেন, “গতকাল বিকেল ৫টার দিকে আমার স্ত্রী আমাকে জানায়, মামাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে পোস্ট করি। রাতে বিরামপুর বাজার এলাকায় খোঁজাখুঁজি করা হয়। এখানে তাঁর সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কে বা কারা মামাকে হত্যা করে গাছের ওপর রেখে গেছে, আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর ইসলাম হারুন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সুরতার প্রতিবেদন তৈরি করা ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।