নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬ রাত ০৬:৪০:৫৯
সরকারি অনুমোদন ছাড়াই সিসি রাস্তা ভাঙার অভিযোগ, সোনারগাঁওয়ে জনদুর্ভোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একই এলাকায় কাবিখা প্রকল্পের আওতায় প্রায় এক হাজার ফুট মাটির রাস্তা নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ওই প্রকল্পে ব্যবহৃত ভেকু (খননযন্ত্র) আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে সদ্য নির্মিত ও চলাচলযোগ্য সিসি ঢালাই রাস্তার একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে ভেকু ব্যবহার করে রাস্তাটি ভাঙা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আমি কারও অনুমতি নিইনি। নিজ উদ্যোগে রাস্তাটি ভেঙেছি। পরে আবার রাস্তাটি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি জনসাধারণের ব্যবহৃত সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে ভাঙা হলো এবং কার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যে মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য ভেকু ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি সাধারণ মানুষের নিয়মিত চলাচলের পথ নয়। অথচ প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রধান সিসি সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষসহ সাধারণ পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গোবিন্দপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কোনো পূর্বঘোষণা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ করে রাস্তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার না করা হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাস্তা ভাঙার সময় ঘটনাস্থলে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম ভূঁইয়াসহ স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ লাঘবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কোনো অবকাঠামো অপসারণ বা ভাঙতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন। যথাযথ অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কাজ সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।