এক পাশে নদী, অন্য পাশে বর্জ্যের স্তূপ—এক্সক্যাভেটরে প্রতিদিন ময়লা ঠেলে ফেলা হচ্ছে করতোয়ায়
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৮ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২:৩৩:৫৬
করতোয়া বাঁচাতে হাজার কোটি, নদীতেই সিটি করপোরেশনের ময়লার পাহাড়
মৃতপ্রায় করতোয়া নদীকে বাঁচাতে হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প। অথচ সেই নদীর বুকেই প্রতিদিন ঠেলে ফেলা হচ্ছে বগুড়া শহরের শত শত টন বর্জ্য। এক পাশে করতোয়া নদী, অন্য পাশে ময়লার পাহাড়—মাঝখানে এক্সক্যাভেটর দিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলছে বর্জ্য নদীতে ঠেলে ফেলার কাজ।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের ২৪টি ট্রাকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য সদর উপজেলার বাঘোপাড়ায় করতোয়া নদীর তীরে আনা হয়। এরপর এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে এসব বর্জ্যের একটি বড় অংশ নদীর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, তীর ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মক দূষণের মুখে পড়ছে।
নদী বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ২০২১ সালের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণ এবং ডাম্পিংয়ের স্থান নির্বাচনে পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে এসব বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করেই করতোয়া নদীর তীরে বর্জ্য ফেলার কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পরিবেশ অধিদপ্তরও বিষয়টি নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিল। ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর নদী দূষণের তালিকায় তৎকালীন বগুড়া পৌরসভাকে—বর্তমান সিটি করপোরেশন—একাধিকবার নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়।
এদিকে দ্রুত নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন চালুর আশ্বাস দিয়েছেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই। জায়গা খোঁজা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই-তিনটি জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর জায়গা কিনে সেখানে বর্জ্য ফেলা হবে।
বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি ডাম্পিং জোন করতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সচেতনভাবে বর্জ্য ফেললেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যে নদীকে বাঁচাতে সরকার নিয়েছে হাজার কোটি টাকার উদ্যোগ, সেই নদীর তীরেই যদি প্রতিদিন নতুন করে বর্জ্যের পাহাড় গড়ে ওঠে—তাহলে করতোয়া বাঁচানোর সেই মহাপরিকল্পনার সুফল মিলবে কীভাবে?
মৃতপ্রায় করতোয়া নদীর প্রাণ ফেরাতে চলতি বছরের ১৬ জুন একনেকে ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একদিকে নদী রক্ষায় বিপুল অর্থের মেগাপ্রকল্প, অন্যদিকে সেই নদীতেই প্রতিদিন বর্জ্য ফেলার এমন চিত্র—এ নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে জনমনে।