আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৪:৫৮:৩৬
আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি, আরও ২টি দাবি আছে: ককরোচ পার্টি
ব্যাপক আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে তার পদত্যাগ কেবল একটি আংশিক বিজয়, আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)। তাদের বাকি ২টি দাবি সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে হুশিঁয়ারি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে দিল্লির যন্তর মন্তরের মূল মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
তিনি বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতির কারণে চরম হতাশায় ভুগে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রছাত্রীরা আত্মহত্যা করেছে তাদের পরিবার কি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত নয়? তাদের পাওয়া উচিত, তাই না? ঐ সমস্ত পরিবার ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য। দ্বিতীয়ত, গত ২০ জুলাই যে পুলিশকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর গুন্ডার মতো হামলা চালিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।’
এরআগে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
মূলত, মোদি সরকারের সঙ্গে শনিবার তৃতীয় দফা আলোচনার কথা ছিল সিজেপি। কিন্তু তার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে প্ল্যাটফর্মটি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা নয়।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আপস চলবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নেতিবাচক জবাব এলে আলোচনার আর কোনো অর্থ থাকে না।
এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। অনুষ্ঠিত আলোচনায় সরকার বিক্ষোভকারীদের দুটি দাবিতে নীতিগতভাবে একমত হয়। এগুলো হলো—বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি জন্য একদিনের সময় চেয়েছিল মোদি সরকার।
এছাড়াও, প্রশ্নপত্র ফাঁস মোকাবিলায় গত দুই দিনে কেন্দ্র একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার বিচারের জন্য দ্রুত বিচার আদালত স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আইনে আরও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান যুক্ত করতে সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে।
এছাড়া কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিবকে অপসারণ এবং পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা এনটিএর ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার। পাশাপাশি শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি