নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০২:৩৮:৫৫
বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন ঘটেছে।খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেল প্রতি ১.৩৭ ডলার বা ১.৩ শতাংশ কমে ১০২.৯১ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১.০৯ ডলার বা ১.২ শতাংশ কমে ৯০.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সাপ্তাহিক হিসেবে আগের দিনের বৃদ্ধির ওপর ভর করে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও ডব্লিউটিআই সামান্য দরপতনের মুখে পড়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো সামরিক হামলার পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। একই দিনে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছেন, যার বাস্তবায়নে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই স্বস্তি ধরে রাখতে হলে কূটনৈতিক আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যুদ্ধ থামানোর উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। গত বৃহস্পতিবারও তারা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহণে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭টি জাহাজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে। বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ চীন তাদের ‘গোল্ডেন উইক’ ছুটির পর পুনরায় পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে ডিজেল, পেট্রোল ও বিমান জ্বালানির ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও (আইইএ) তাদের সদস্য দেশগুলোর তেলের জরুরি মজুত দ্রুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
অন্যদিকে মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আইসাইয়াস’-এর কারণে মার্কিন অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে। আমেরিকান সামুদ্রিক খনিজ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের আশঙ্কায় অঞ্চলটিতে দৈনিক প্রায় ১৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে, যা তাদের বর্তমান উৎপাদনের প্রায় ৬২.৯ শতাংশ।