মো. আরিফ হোসেন চৌধুরী
প্রকাশ : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ০২:৩১:২৮
বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন নয়, ১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালু হতে পারে থার্ড টার্মিনাল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের বর্তমান নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পরীক্ষা ও ট্রায়াল চলছে। সার্বিক প্রস্তুতির অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ।
তিনি জানান, টার্মিনালটি একসঙ্গে পুরোপুরি চালু না করে ধাপে ধাপে কার্যক্রম বাড়ানো হবে। প্রথমে আংশিক কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে বাকি কাজ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমন্বয় সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আগের সময়ে টার্মিনাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সমন্বিত প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে ইন্টারনেট, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে ইন্টিগ্রেশনের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে এসব কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় চার গুণ বাড়বে বলে জানান তিনি। তখন একসঙ্গে ২০০ থেকে ২৫০টি উড়োজাহাজ হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা তৈরি হবে। এতে যাত্রীসেবার পাশাপাশি দেশের বিমান পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর থেকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগকারী আসবেন। আধুনিক ও সক্ষম বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
রাজস্বে বাংলাদেশের অংশ ২৭ শতাংশ
তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অংশ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে রাজস্বের ১৫ শতাংশ বাংলাদেশের পাওয়ার কথা থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে।
টার্মিনালের কাজের বিপরীতে আরও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এরই মধ্যে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ দেওয়ার লক্ষ্য
তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিমান থেকে নামার পর যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাগেজের জন্য অপেক্ষা করার অভিযোগ কমাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, যাত্রীরা যাতে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ হাতে পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পালন করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের জরিমানার আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
বদলাচ্ছে না শাহজালাল বিমানবন্দরের নাম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও সরকার আপাতত এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থ অতিরিক্ত ব্যয় করে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করতে চায় না সরকার। ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান নামই বহাল থাকবে।
মন্ত্রী জানান, ১৬ ডিসেম্বর আংশিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। কাজের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ে আংশিকভাবে টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর পর আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে টার্মিনালের দায়িত্ব বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।