গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে বৈধভাবে লিজ নেওয়া জমিতে রাতের আঁধারে কলাগাছ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই লিজগ্রহীতার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।এ ঘটনায় হাদিছুর রহমান বাদী হয়ে দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগী হাদিছুর রহমান জানান, প্রায় এক বছর আগে নিয়ম অনুযায়ী গোপালগঞ্জ সদর থানার হরিদাসপুর রেলব্রিজের উত্তর-পশ্চিম পাশে রেললাইনের অবশিষ্ট জমি লিজ নেন তিনি। লিজ নেওয়ার পর সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেন। পাশাপাশি পুকুরপাড়ের খালি জায়গায় বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি ও কলাগাছ রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতের কোনো একসময় রবিউল মাতুব্বরের ছেলে শাহীন মাতুব্বর (৩৫) ও আতফাক মাতুব্বরের ছেলে রবিউল মাতুব্বর পূর্বশত্রুতার জেরে লিজকৃত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। পরে তারা পুকুরপাড়ের ফলন্ত কলাগাছ ও সবজি ক্ষেত কেটে নষ্ট করে দেন বলে অভিযোগ করেন হাদিছুর রহমান।পরদিন সকালে খামারে গিয়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পান তিনি। এতে তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।অপর ক্ষতিগ্রস্ত লিজগ্রহীতা চীনপ্রবাসী কৃষিবিদ মো. ইউনুস মোল্লা বলেন, তিনি নিয়ম মেনে সরকারি জমি লিজ নিয়ে কলাগাছ, কচু, বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, চায়না মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছিলেন। রাতের আঁধারে তার ফলন্ত গাছ ও সবজি কেটে ফেলা হয়েছে।তিনি বলেন, “তারা শুধু আমার আর্থিক ক্ষতি করেনি, এক বছরের পরিশ্রমও নষ্ট করে দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা ফসল নষ্ট করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গাজী নবীন বলেন, “আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”
১ দিন আগে
ইবতেদায়ি পঞ্চম ও দাখিল অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফরম পূরণের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, অনলাইনে বোর্ড ফি জমা দেওয়া যাবে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ফরম পূরণ করা যাবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বোর্ড অনুমোদিত সব মাদরাসার প্রধানকে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশেষ বিবেচনায় ইবতেদায়ি পঞ্চম ও দাখিল অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফরম পূরণের সময় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না বলেও জানিয়েছে বোর্ড।এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর এ দুই শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ ছিল। আর অনলাইনে বোর্ড ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১১ সেপ্টেম্বর।পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের জন্য বোর্ড ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা। এই অর্থ অনলাইন সিস্টেমে জমা হওয়ার পরই শিক্ষার্থীর তথ্য আপলোডের জন্য নতুন এন্ট্রি অপশন পাওয়া যাবে। এছাড়া কেন্দ্র ফি হিসেবে আরও ২০০ টাকা দিতে হবে।মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে বর্ধিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে ফরম পূরণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ১৯ সেপ্টেম্বরের পর ফরম পূরণের সময় আর বাড়ানো হবে না।
১ দিন আগে
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের নতুন অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।পাশাপাশি ৩৬ জন জেলা প্রশাসক বা ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে এমন খবর সামনে আসার পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।এনসিপির এ মুখপাত্র ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’
১ দিন আগে
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের নতুন অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং বিভিন্ন নিয়োগ, পদায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ লেনদেনের কথা বলা হয়েছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগসহ ঢাকা ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে কমিশন এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে।নতুন অভিযোগগুলো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগে থেকে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এসেছে।গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগর ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে সম্পদ গড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে আসিফের বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষের তদবির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে।তানজির আহমেদ বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগের একটি অভিযোগের অনুসন্ধান ইতোমধ্যে চলছে। নতুন অভিযোগগুলোও ওই অনুসন্ধানের আওতায় এনে খতিয়ে দেখা হবে।দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টেন্ডার কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডারেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়ানো এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগের বিনিময়ে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগের ৬০ কোটি টাকাসহ এসব চার নিয়োগে অভিযোগের মোট অঙ্ক ১৮৭ কোটি টাকা বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং পাঁচ তারকা হোটেলে যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও দামি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতির অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের ‘গ্রিন গ্রুপে’ বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। চার দেশের হিসাবে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ হাজার কোটি টাকা।আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে।পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।তবে দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি এবং অনুসন্ধানের পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১ দিন আগে