ম্যাকাই টেস্টে দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে হারল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তারা অলআউট হয়েছে ৯৫ রানে। এই প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই এক শর নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ।টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং বেছে নেওয়ার পর থেকে কখনোই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। দুই ইনিংসেই হতাশার ব্যাটিংয়ের পর একমাত্র স্বস্তি শরীফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ উইকেট পাওয়া।এই টেস্টে টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং বেছে নেওয়ার পর থেকে কখনোই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই হতাশার ব্যাটিংয়ের মাঝে একমাত্র প্রাপ্তি দুর্দান্ত বোলিংয়ে শরীফুল ইসলামের ৭ উইকেট পাওয়া।রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে অস্ট্রেলিয়ার ২ উইকেট তুলে নিতে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লাগে বাংলাদেশের। এর মধ্যেই প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যায় ১৪৬ রানে।উইকেটে বোলারদের খুব বেশি বাড়তি সুবিধা ছিল না। তবু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসের মতোই হতাশ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তারা যেভাবে আউট হয়েছেন, তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।থিতু হয়ে যাওয়ার পর ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল, তানজিদ আউট হয়েছেন হুক করতে গিয়ে, লিটন ১০ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। একপ্রান্ত আগলে থাকা মুশফিক ৮০ বল খেলে ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।শেষটা হতাশার হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে ভালোভাবেই লেখা থাকবে এই সিরিজটা। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে ডারউইন টেস্টের জয়টা ক্রিকেটারদের স্মৃতিতেও সবসময় থেকে যাবে। দীর্ঘ অপেক্ষার দুই টেস্টের সিরিজ শেষ হলো ১–১ সমতায়।
১ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ব্যর্থতাকে সরিয়ে দিয়ে ডারউইনে তারা ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পায়। সেই সাফল্যে উজ্জীবিত বাংলাদেশ ম্যাকাই টেস্টে হতাশ করল। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে তারা। সফরকারীদের গুটিয়ে দিতে ৩৪ ওভার লেগেছে অস্ট্রেলিয়ার। ডারউইনে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য জয়ের পর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যে ম্যাকাই টেস্টে নেমেছিল। কিন্তু স্টার্ক তার প্রথম ২২ বলে ৫ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন তছনছ করে দেন। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে সফরকারীরা। ৬.৪ ওভারে ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। স্টার্ক এই সময়ে ৪ ওভার চার ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র চার রান দিয়ে ফাইফার পান। এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে ফাইফারের দেখা পান তিনি।প্রথম বলে সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের শিকার বানান অজি পেসার। পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান স্টার্ক। প্রথম তিন ব্যাটারই মারেন ডাক। মুমিনুল হককেও ফেরান তিনি মাত্র ৯ রানে। ৫ বল খেলে লিটন দাস ডাক মারেন। টেস্টে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা আপাতত কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। তবে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়া এড়াতে এখনও কিছুটা পথ বাকি। যদিও মুশফিকুর রহিম ৪২ বলে ৫ রান করে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন। ২১ রানে ৬ উইকেট পড়েছে বাংলাদেশের। তারপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের ১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথম সেশন শেষ করে তারা। মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। টেস্টে সর্বনিম্ন রানে অলআউট (২৬) হওয়ার লজ্জা এড়াতে পারলেও হতাশা নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে ছিল ৩৫ রান।দ্বিতীয় সেশনে কামিন্স প্রথমবার বল হাতে নিয়ে এই জুটি ভেঙে দেন। তৃতীয় স্লিপে ইনিংস ১১ রানে বেউ ওয়েবস্টারের ক্যাচ হন মিরাজ। হাসানের সঙ্গে তার ১৫ রানের জুটি ভেঙে যায়। পরের ওভারে জশ হ্যাজেলউডের শিকার হাসান। ১০ রানে নাথান লায়নের ক্যাচ হন তিনি। তাসকিন আহমেদকে কামিন্স নিজের তৃতীয় শিকার বানান। ম্যাথু রেনশর ক্যাচ হয়ে ১ রানে থামেনি বাংলাদেশি ব্যাটার।৩৯ রানে নবম উইকেট হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন রানে (৪৩) অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল। কিন্তু তাইজুল ইসলাম ৩০তম ওভারের শেষ বলে হ্যাজেলউডকে চার মেরে সেই লজ্জা এড়ান। এদিকে শরিফুল ১১ নম্বরে নেমে ইনিংস সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটি গড়েন। তাকে ফিরিয়ে স্টার্ক বাংলাদেশকে অলআউট করেন। তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। বাংলাদেশ একাদশসাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।অস্ট্রেলিয়া একাদশট্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড।
২ দিন আগে
নানা বিতর্কে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ ও ফিফায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার জেরে এবার সরাসরি তার পদত্যাগ দাবি করেছে বিশ্বব্যাপী ফুটবল সমর্থক জোটগুলো। ফুটবল সমর্থকদের ইউরোপীয় সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) এই দাবিতে একটি পিটিশনে সমর্থন দিয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে এ কথা জানা গেছে। ‘চেঞ্জ ডট ওআরজি’তে প্রকাশিত পিটিশনে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের পাশাপাশি ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা এবং সংস্থাটির নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত পিটিশনে সাক্ষর করেছে ২৮ হাজার ৩২ জন।এফএসইর সঙ্গে পিটিশনে যুক্ত হয়েছে আফ্রিকার ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার ইন্ডিপেনডেন্ট সাপোর্টার্স কাউন্সিল। বিভিন্ন দেশের আরও কয়েক ডজন সমর্থক সংগঠনও এতে সমর্থন জানিয়েছে।ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সমর্থকদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বকাপের মালিকানা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার সাম্প্রতিক পরিকল্পনা। গত মাসে বিশ্বকাপের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি। তখনই এর বিরোধিতা করেছিল এফএসই।সমর্থক সংগঠনটির মতে, ফুটবল কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়; এটি একটি ‘সামাজিক সম্পদ’। তাই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ফুটবল আয়োজনের মূল্য থেকে মুনাফা করার চেষ্টা মেনে নেয়া যায় না।পিটিশনে ইনফান্তিনোর ওই উদ্যোগকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে দেয়ার চেষ্টা ফুটবলের প্রতি সমর্থকদের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।শুধু পদত্যাগের দাবিতেই থেমে থাকেনি পিটিশনে। ফিফায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের আহ্বানও জানানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা, নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কার্যকর নজরদারি এবং সংস্থার ভেতরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন সমর্থকেরা।পিটিশনে বলা হয়েছে, ফিফার বর্তমান স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বারবার পর্যাপ্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সংস্থাটির ওপর আবারও আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশের কাছে ডারউইন টেস্টে হারের পর বেশ নাজুক পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তারা স্কোয়াডে পরিবর্তন আনে। এবার ম্যাকাইতে হতে যাওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচটির আগে একাদশেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সাধারণত টেস্টের একদিন আগেই একাদশ ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া, টাইগারদের হারাতে তারা এবার বেশ ভেবেচিন্তে আগাচ্ছে!২১ আগস্ট শনিবার ভোরে ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ এড়ানোর লক্ষ্যে নামবে কামিন্সের দল। ড্র হলেও তারা প্রথমবার টেস্টে টাইগারদের কাছে সিরিজ হাতছাড়া করবে। ফলে জয় ভিন্ন বিকল্প নেই অজিদের সামনে। নাথান লায়নকে একাদশের বাইরে রেখে চার পেসার নিয়ে ম্যাকাইতে নামতে পারে স্বাগতিকরা।সংবাদমাধ্যম ফক্স স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি স্পিনারকে বাইরে রাখা হয়, সেটি হবে স্কট বোল্যান্ডের অনুকূলে সিদ্ধান্ত। আর তা হবে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ আট টেস্টে পঞ্চমবার বিশেষজ্ঞ কোনো স্পিনারকে ছাড়া ম্যাচ। সর্বশেষ অ্যাশেজের অ্যাডিলেড টেস্টে লায়ন হ্যামস্ট্রিং চোট পাওয়ার পর মেলবোর্ন ও সিডনিতে সাইডলাইনে ছিলেন টড মারফি। দলে থাকলেও অজিরা এই স্পিনারকে খেলায়নি।ডারউইন টেস্টের পরই অস্ট্রেলিয়ার একাদশে অন্তত একটি পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সেখানকার ‘লোকাল বয়’ জ্যাক ওয়েদারল্ড দুই ইনিংসেই বলার মতো কিছু করতে পারেননি। ফলে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ম্যাট রেনশকে দলে ডাকেন অজি নির্বাচকরা। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাকাইতে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেন করতে পারেন ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার রেনশ।ম্যাট রেনশ’র (সর্বডানে) দলে ফেরা নিশ্চিত, নাথান লায়নের (বামে) জায়গায় খেলতে পারেন স্কট বোল্যান্ড (মাঝে)এদিকে, লায়নকে একাদশের বাইরে রাখলে সেটি হবে ডারউইন টেস্টের দল থেকে দ্বিতীয় পরিবর্তন। এ ছাড়া অধিনায়ক কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড তো আছেন–ই, তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন বোল্যান্ড। এই পেসারকে আগামীকালের ম্যাচে নেওয়ার বিষয়টি নির্বাচকরা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন কামিন্স। তার মতে, টস দিতে নামার সময় একাদশ চূড়ান্ত হবে।
৩ দিন আগে