নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৮:৪৫:০৩
ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরবর্তী ধাপ নিয়ে ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট অনুষ্ঠিত
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ সংস্করণ। ১০ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে এই সম্মেলনে ব্যাংকিং ও ফিনটেক খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন। মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং এর ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিকাশে বিদ্যমান সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেন।
জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নীতিবিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে দেশের ফিনটেক খাতকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই ছিল এই সামিটের মূল লক্ষ্য। এ বছরের আলোচনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়াও অধিকতর মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা, গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় প্রধান্য পেয়েছে।
আয়োজনটির স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর সাজিদ মাহবুব উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ফিনটেক খাতের আগামী দিনের অগ্রগতি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমরা কতটা স্থায়ী আর্থিক সক্ষমতায় রূপান্তর করতে পারি তার ওপর। উদ্ভাবনের মাধ্যমে আর্থিক সেবাকে মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার পাশাপাশি এসব সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন। এজন্য প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতের আর্থিক সেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মান গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এ বছরের সামিটটি দুটি কিনোট সেশন, তিনটি প্যানেল ডিসকাশন, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ, একটি ইনসাইট সেশন এবং একটি কেইস স্টাডির সমন্বয়ে সাজানো হয়েছিল। এসব আলোচনায় আঞ্চলিক ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের প্রকৃত প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারগুলো বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সামিটের কিনোট সেশনগুলোতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন, পারস্পরিক সংযোগ এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ব্যাংককে শূন্য থেকে দশ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এছাড়াও সামিটের এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ ও অন্যান্য সেশনে স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা থেকে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই পরিবর্তনের গুরুত্ব, নগদবিহীন লেনদেন এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবার মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে আরও দশ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েও কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে নিরাপদ আর্থিক অবকাঠামো তৈরি, নতুন সেবা পরীক্ষার সুযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে সঠিক তদারকি এবং তথ্য ও গ্রাহক সুরক্ষার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
দেশের ব্যাংকিং, পেমেন্টস, বীমা এবং করপোরেট খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রধান নির্বাহী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সামিটের বিভিন্ন সেশনে উপস্থিত থেকে তাদের সুচিন্তিত মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। মাস্টারকার্ড, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি ও উপায়ের পাশাপাশি এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ব্রেইন স্টেশন ২৩, বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল এবং ব্যাকপেজ পিআর।