• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯ রাত ১১:৪০:৪৬ (01-Dec-2022)
  • - ৩৩° সে:

০৩:০২ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০২২


ক্যাটাগরি

বাংলাদেশ
বাণিজ্য
অর্থনীতি

ভুটান প্রতিনিধিদলের চিলাহাটি রেলপথ, স্টেশন ও লুপলাইন পরিদর্শন


শুক্রবার ১১ই নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৩:০২



ভুটান প্রতিনিধিদলের চিলাহাটি রেলপথ, স্টেশন ও লুপলাইন পরিদর্শন

ছবি : সংগৃহীত

ভুটান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চিলাহাটি রেলপথ, স্টেশন ও লুপলাইন পরিদর্শন করেছে। 

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে ভুটান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলটি চিলাহাটি রেলপথ, স্টেশন ও লুপলাইন পরিদর্শন করে।

এডিবির বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ১৮ সদস্যের ভুটানের প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন সে দেশের পররাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান শেরিং লাহাদন। এর আগে পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চিলাহাটি রেলস্টেশনের অতিথিশালায় তারা বৈঠক করেন।

বর্তমানে বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথে পণ্য আমদানি-রফতনি হচ্ছে ভুটান থেকে। তবে চিলাহাটি রেলপথ ব্যবহার করা গেলে মোংলা বন্দরের দূরত্ব ও পরিবহন খরচ কমবে। তাই ভুটান-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ রেলপথকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে ভুটানের প্রতিনিধিদল।

পরিদর্শন শেষে ভুটান প্রতিনিধি দলের পক্ষে এডিবির কনসালট্যান্ট ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘ভুটান আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ, প্রতিনিধিদলটি চিলাহাটিতে ভিজিটে এসেছে। আমাদের সরকার ও এডিবি তাদের সহযোগিতা করছে। তারা এ পথে পণ্য আমদানি-রফতানির চিন্তাভাবনা করছে। এ লক্ষ্যে এটি তাদের প্রিলিমিনারি ভিজিট।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিলাহাটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটির সঙ্গে আমাদের সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আসাম ও শিলিগুড়ি-দার্জিলিংয়ের সঙ্গে কানেক্টিভিটি ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের চলমান বাণিজ্য এ রেল কানেক্টিভিটি ব্যবহার করে করা যায় কি না, তা সরেজমিন প্রতিবেদন করতে এসেছে প্রতিনিধিদল। চিলাহাটিতে স্থলবন্দর করা গেলে সে পথ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা। ওনাদের রেলওয়েতে যুক্ত ব্যক্তিরা যাতে সহজে ইমিগ্রেশন সুবিধা পান, সে বিষয়েও আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে বিভাগসহ অন্যান্য বর্ডার অথরিটিকে জানিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিষয়গুলো ভেবে দেখছেন তারা। মোংলা বন্দরের সঙ্গে খুলনার যে রেল সংযোগ যুক্ত হচ্ছে, সেই প্রজেক্ট শেষ হলে তারা হয়তো মোংলা বন্দর ব্যবহার করবেন। সে ক্ষেত্রে চিলাহাটি রেলবন্দর এবং ভবিষ্যতে যদি এখানে স্থলবন্দর হয়, ইমিগ্রেশন সুবিধা দেয়া যায়, তাহলে চিলাহাটি রেলবন্দরের গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পাবে।’

ভুটানের এ পথ ব্যবহারে ভারতীয় করিডোরের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি তাদের কোনো প্রশ্ন করিনি। তবে আমি যতটুকু জানি, ভারতের সঙ্গে তাদের সহজ চলাচল এবং পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা আছে।’

ভুটানের চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সহসভাপতি কমল প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দ্রুত ও কম সময়ের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ, মোংলা সমুদ্রবন্দর ও বুড়িমারী-চেংড়াবান্ধা স্থলবন্দরকে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। এ জন্য আমরা ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন রুট পরিদর্শনে এসেছি। চিলাহাটি রেলপথটি অনেক সম্ভাবনাময়। এটি চালু হলে দুদেশের মধ্যে কম খরচে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দুদেশের ব্যবসায়ীরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব বাড়বে।’

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস, বিভাগীয় ব্যবস্থাপক সুফি নুর মোহাম্মদ, রংপুর বিভাগীয় কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মানস কুমার বর্মণ, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ও চিলাহাটি-হলদিবাড়ি লিংক রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল রহিম।

সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ভুটান-বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। তাদের বাণিজ্য করতে হয় ভারতে মধ্য দিয়ে। কলকাতা হয়ে শিলিগুড়ি-হলদিবাড়ি ঘুরে তাদের দেশে যেতে অনেক পথ অতিক্রম করতে হয়। ভুটান যদি আমাদের মোংলা বন্দর ব্যবহার করে চিলাহাটি হয়ে ভারতের হলদিবাড়ি দিয়ে হাসিমারা পর্যন্ত যেতে পারে, তাহলে সেখান থেকে তাদের বর্ডারের দূরত্ব মাত্র ১৬ কিলোমিটার। এই ১৬ কিলোমিটার পথ যদি তারা বাইরোডে পণ্য আনা-নেয়া করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের দুয়ার প্রসারিত হবে। তারা আমাদের দেশে পাথর রফতানি করতে পারবে। ভুটানে প্রচুর ফল উৎপাদন হয়, সে ফল তারা বাংলাদেশ এবং মোংলা বন্দর দিয়ে বহির্বিশ্বে রফতানি করতে পারবে। চিলাহাটি রুট ব্যবহারে তাদের মোংলা বন্দরের দূরত্ব কমবে। এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে চিলাহাটি রেল কানেক্টিভিটি অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কেমন আছে সেটি দেখার জন্য উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটির আগমন।’

এর এক দিন আগে ওই প্রতিনিধিদল ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় লালমনিরহাটের বুড়িমারী ও ভারতের কোচবিহারের চেংড়াবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার চিলাহাটি পরিদর্শন শেষে বুড়িমারী হয়ে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

রেলওয়ে সূত্রমতে, দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ চালু হয়, যা বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য করুনঃ


সর্বশেষ সংবাদ