হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার ছুটির তালিকা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এ বন্ধ উপভোগ করা যাবে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির সময়সূচিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে।এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও বাড়িয়েছে সরকার। আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে নতুন করে ছুটি ঘোষণা করায় এবারের দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীরা মোট পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছেন।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে আগে থেকেই ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নতুন করে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন।অন্যদিকে ২০২৬ সালের সরকারি, বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচদিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটি শুরুর আগে ও পরে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরা আরও চারদিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পেতে পারে।পরদিন ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আরও একদিন ছুটির সুযোগ রয়েছে। ফলে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের পাওয়া যাবে। তবে এ ছুটির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলেজে এ বছর ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এ হিসাবের মধ্যে মাঝের দুই শুক্রবার ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত নয়। দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর পাশাপাশি প্রবারণা পূর্ণিমা ও ২৫ অক্টোবরের লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এই ছুটি রাখা হয়েছে।কলেজের এ ছুটির আগে ও পরের শুক্র-শনিবারও যুক্ত করলে বিরতিটি আরও দীর্ঘ হবে। ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এবং ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি ধরলে মোট ১৬ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হবে।অন্যদিকে পূজা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও তিন দিনের ছুটি পাবেন। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে ছুটির সময়সূচি এক নয়। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকারি ছুটির তালিকা সরাসরি প্রযোজ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নিজেদের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে ছুটির দিন নির্ধারণ করে।এ কারণে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির সময়সূচিতে ভিন্নতা থাকতে পারে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ছুটি দিতে পারে। আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এর আগে বা পরে অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে।একইভাবে ক্লাস, পরীক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলের কার্যক্রমের সময়সূচিও প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। ফলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্গাপূজার ছুটি কত দিন থাকবে বা টানা কত দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
১ দিন আগে
আন্তর্জাতিক শিক্ষার অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তিন শিক্ষার্থী। মিশরের বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রি-আযহার প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছে তারা। রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফকীর ইলহাম বিন ইসলাম, মোঃ রিদম হাসান ও মোঃ রুবিউল হাসান ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার পাশাপাশি হিফযুল কুরআন সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ সুযোগ অর্জন করেছে।বাংলাদেশের প্রথম ফুলটাইম হিফযভিত্তিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হিসেবে পরিচিত রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার পাশাপাশি হিফযুল কুরআন, আরবি ভাষা ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত পাঠদান করা হয়।আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তারা প্রি-আযহার প্রোগ্রামে অধ্যয়নের জন্য নির্বাচিত হয়। ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে মিশরে তাদের নতুন শিক্ষাজীবন শুরু হতে যাচ্ছে।বাংলাদেশের ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ অর্জন একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।এ বিষয়ে রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান মুনাইম বিল্লাহ বলেন, ‘এর আগেও গত বছর আমাদের একজন শিক্ষার্থী আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রি-আযহার প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছে। এবার আমাদের আরও তিন শিক্ষার্থীর এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এটি কেবল আমাদের স্কুলের সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও গৌরবের বিষয়। শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই আন্তর্জাতিক সুযোগ অর্জিত হয়েছে। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।’তিন শিক্ষার্থীর এই অর্জন রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।সন্তানদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও। তারা রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে মিশরে নতুন শিক্ষাজীবনে তাদের সন্তানরা যেন সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারে, সে জন্য সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা কামনা করেন।
৩ দিন আগে
বিজিএমইইউ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)-র নবগঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের প্রথম সভা গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রায় এই সভাটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।এবারের সভায় জনাব এম কাফিল উদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আশা করা হচ্ছে, তাঁর সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং কর্মদক্ষতা বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিক্ষা খাতের ধারাবাহিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।নবগঠিত এই ট্রাস্টি বোর্ডের আত্মপ্রকাশ দেশের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ, গুণগত মান এবং নেতৃত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে বিইউএফটি-র অবিচল প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।এই প্রথম সভাটি বিইউএফটি-র জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ এবং দেশের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিল্পে শিক্ষানুরাগী অবদানকে আরও বেগবান করতে এই নতুন বোর্ড অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
৪ দিন আগে
শিক্ষাখাতের নীতিমালা, পরিকল্পনা ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করেছেন বিশ্ব ব্যাংক ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। মঙ্গলবার বিকেলে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে সরকারের অগ্রাধিকার, শিক্ষার আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ নিয়েও কথা হয়।বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসম, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের শিক্ষা ও দক্ষতা বৈশ্বিক প্র্যাকটিসের প্র্যাকটিস ম্যানেজার শেরেজাদ মোনামি লতিফ, বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার ড. গেইল এইচ মার্টিন, সিনিয়র শিক্ষা বিশেষজ্ঞ আব্দুল হাই সোফিজাদা, সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ এবং সিনিয়র শিক্ষা বিশেষজ্ঞ তাসনিনা রহমান।বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে ‘মিড-ডে মিল’ চালু, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণ, চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে নতুন দুটি বই সংযোজন এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিক্ষাক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক পরীক্ষাগার ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।এছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ছাত্রীদের স্নাতকোত্তর এবং ছাত্রদের মাধ্যমিক ও সমমান পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ইকোসিস্টেম ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অফিস স্থাপন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নিয়েও কথা হয়। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বাধ্যতামূলক কারিগরি ল্যাব চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বৈঠকে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ বাস্তবায়নের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।এছাড়া শিক্ষাখাতের অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, নীতি পরামর্শ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৪ দিন আগে