আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠেয় ওই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে।সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ আগামী ২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী।তবে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ শিক্ষার্থী এক বিষয়ে এবং ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে ফলাফল ঘোষণার দিনে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেয়ার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এরই ধারাবাহিকতায় এইচএসসিতে অকৃতকার্য মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জনের পুনঃপরীক্ষা নেয়া হবে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রতিবেদক হিসেবে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক মো. শাহ্ আলম। সে সময় তরুণ, সাহসী, উদ্যমী ও মেধাবী প্রতিবেদক হিসেবে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি পান ‘শাহ্ আলম বাংলাদেশ টেলিভিশন’ নামে। ২০০৫ সালে বিটিভিতে ‘সময়ের সংলাপ’ নামে একটি টকশোও শুরু করেন তিনি।একই বছরের ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন শাহ আলম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি স্বর্ণপদকও লাভ করেন বলে জানা গেছে।তবে শিক্ষকতায় যোগ দেওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই রাজনৈতিক পরিচয় ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের কারণে নানা হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন শাহ আলম। তার দাবি, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়তে হয়। এমনকি একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপক আবু ইউসুফ আলমের অসন্তোষের কারণে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।শাহ আলমের অভিযোগ, বিটিভিতে কর্মরত অবস্থায় সরকারের সমালোচনামূলক বিভিন্ন সংবাদ প্রচার করায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তৎকালীন উপাচার্য। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের চিরাচরিত নিয়ম ও চরিত্র অনুসারে, তারা কাউকে ফাঁসাতে চাইলে আগে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করত। এরপর তাকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসত।”তিনি আরও বলেন, “মরহুম আবু ইউসুফ আলম উপাচার্য হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বিভাগে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের শিক্ষকদের চাকরি যাওয়ার হিড়িক শুরু হয়। তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের চাকরি চলে যায়।”চাকরিচ্যুতির ঘটনায় শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান শাহ আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। পরে মৌখিকভাবে তাঁকে বিভাগে যোগদানের কথা জানানো হলেও প্রায় এক বছর বেতন-ভাতা ছাড়াই তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ওই সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতাও তিনি পাননি বলে দাবি করেন।ওই সময় বিভাগের পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহ আলম। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ডিপার্টমেন্ট ছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের আতঙ্ক।” তাঁর অভিযোগ, বিভাগের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিল। তাদের মতের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে, এমনকি নিজ রাজনৈতিক বলয়ের লোক হলেও তাঁকে ছাড় দেওয়া হতো না। ভিন্নমত পোষণকারীদের নানাভাবে হয়রানি ও চাপে রাখা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।শাহ আলমের ভাষ্য, বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর পেশাগত জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনের সংবাদ বিটিভিতে প্রচার করার বিষয়টিও তাঁর বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব তৈরির কারণ হয়েছিল বলে মনে করেন তিনি।শাহ আলমের অভিযোগ, ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন তিনি। তাঁর দাবি, পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও তাঁর আবেদন যথাযথভাবে বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। এদিকে তাঁর জুনিয়র সহকর্মীদের পদোন্নতি দেওয়া হলেও তাঁর আবেদন বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়। দীর্ঘ চার বছর এভাবে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর।তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাঁর পদোন্নতি দেওয়া হলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অসন্তুষ্ট হতে পারেন। এ কারণে তাঁর পদোন্নতির বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন শাহ আলম।এ ছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত করা, বেতন আটকে রাখা এবং তাঁর বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তুলে হয়রানি করারও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার কারণে দীর্ঘদিন মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানান শাহ আলম। তাঁর দাবি, এই মানসিক চাপের মধ্যেই তিনি দুইবার স্ট্রোক করেন। প্রথমবার ভারতে এবং পরবর্তী সময়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চিকিৎসা নিতে হয় তাঁকে।দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান শাহ আলম। তবে তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ে পদোন্নতি না পাওয়ায় যে আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো পূরণ হয়নি। এ কারণে পদোন্নতির চার বছরের বিলম্বের ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।তবে শাহ আলমের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী। তিনি বলেন, পদোন্নতি দেওয়া বা আটকে রাখার একক ক্ষমতা তার ছিল না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল।অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, শাহ আলম ২০২০ সালে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তবে সে সময় তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।শিক্ষকতার দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিলম্বের অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাহ আলম। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে যে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে, তার যথাযথ প্রতিকার এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।
২ দিন আগে
দেশের উচ্চশিক্ষায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে প্রায় ১১ লাখ শিক্ষার্থীর। তবে এই বিপুল আসনের বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে নয়, অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ভর্তির আসন রয়েছে মাত্র ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। বিপরীতে অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে আসন রয়েছে ১০ লাখ ১৮ হাজার ৬৩২টি। সব মিলিয়ে মোট আসন ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি।রোববার (১ নভেম্বর) পর্যন্ত হালনাগাদ করা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির আসনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।এতে দেখা যায়, মোট আসনের মাত্র ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে। বাকি ৯৪ দশমিক ১২ শতাংশ আসনই অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে একটি আসনের বিপরীতে অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে রয়েছে প্রায় ১৬টি আসন।বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আসন রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। প্রতিষ্ঠানটির অধিভুক্ত কলেজগুলোতে মোট ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি আসন রয়েছে। এটি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে থাকা মোট স্নাতক আসনের প্রায় ৮৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে ৪২ হাজার ৪৩৪টি আসন।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি আসন রয়েছে নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে। প্রতিষ্ঠানটির আসনসংখ্যা ১১ হাজার ২৯০টি। এরপরই রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে মূল ক্যাম্পাসে আসন ৬ হাজার ১২৫টি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৩৩টি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৫৬টি আসন রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে আরও ১ হাজার ৫৮৬টি আসন রয়েছে। ফলে মূল ক্যাম্পাস ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অধীনে মোট আসন ৭ হাজার ৭১১টি। একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৭৮৪টি আসনসহ মোট আসন ৫ হাজার ৭৪০টি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৪২০টি আসনসহ মোট আসন ৪ হাজার ৪৫৩টি।এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৮৪৮টি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫১৫টি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৯৫৭টি এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫৭০টি আসন রয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন ১ হাজার ৭০টি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ১ হাজার ১০৯টি এবং অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে আরও ১৮৬টি আসন রয়েছে।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ১ হাজার ৬৩৬টি এবং অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ১৮০টি আসন রয়েছে। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ১০০টি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৬১১টি এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫৮০টি আসন রয়েছে।অন্যদিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭৫টি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩০টি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৩০টি, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯০টি এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০৪টি আসন রয়েছে।প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আসন ১ হাজার ৩০৯টি। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ১ হাজার ২৩৫টি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১ হাজার ১০৫টি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৯৩১টি এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ৭৮০টি আসন রয়েছে। এই পাঁচ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন ৫ হাজার ৩৬০টি।কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৪টি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১০টি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩১টি এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৫০টি, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭৫টি, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০টি এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৪টি আসন রয়েছে।বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) মূল ক্যাম্পাসে ১ হাজার ৮০০টি এবং অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ৯০টি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আসন ৬৩০টি এবং অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৪৪০টি। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে আসন ২০০টি এবং অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে ১২০টি।অন্যদিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক পর্যায়ের আসন রয়েছে ৫০টি। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৯০৫টি, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার ৯৭১টি এবং খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৪৮৬টি আসন রয়েছে। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে মূল ক্যাম্পাস ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান; উভয় জায়গাতেই আসনসংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে।ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদরাসাগুলোতে রয়েছে ১১ হাজার ৫৫টি আসন। এই আসনগুলোও সামগ্রিক হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ১৭৫টি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৯৫টি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে ৮৫০টি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯০টি এবং ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশে ২২০টি আসন রয়েছে।নতুন ও তুলনামূলক ছোট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০টি, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৬টি, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭২টি, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬০টি এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬০টি আসন রয়েছে।তবে তালিকাভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির আসন নির্ধারিত হয়নি। প্রকাশিত তথ্যে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে।সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও কোনো আসন দেখানো হয়নি। সব মিলিয়ে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল ক্যাম্পাস ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান উভয় ক্ষেত্রেই আসন শূন্য রয়েছে। এর বাইরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি স্নাতক ভর্তির আসন না থাকলেও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে।
২ দিন আগে
এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি কিংবা পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ নির্দেশনার কথা জানান তিনি।পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য কিংবা আশঙ্কাজনকভাবে কম, সেসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এক সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, সারাদেশে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর শূন্যপাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে, এ বছর ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে।ফল প্রকাশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শূন্যপাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে সংশোধন করা যায়, তা নিয়ে ভাবা হবে। প্রয়োজনে পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শূন্যপাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো একীভূত করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরি যাবে না।এদিকে, শনিবার আন্তশিক্ষা সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছিলেন, এসএসসি পরীক্ষায় শূন্যপাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে যে ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রয়েছে, এইচএসসির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো শূন্যপাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের সতর্ক করার পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। তবে একাধিকবার শূন্যপাস করা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ হতে পারে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
২ দিন আগে