রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ০১:০১:৪৮
ভুল ইনজেকশনে’ রোগীর মৃত্যু, শজিমেকে স্বজন-চিকিৎসক সংঘর্ষে আহত ১২
বগুড়ায় রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন-চিকিৎসক সংঘর্ষ, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার পর শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার পর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১২টা থেকে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুমূর্ষু অবস্থায় মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁকে চিকিৎসা দেন। রাত ১০টার পর তিনি মারা যান। এরপর ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজন ও ১০ থেকে ১৫ জন বহিরাগত তাঁদের ওপর হামলা চালান। কয়েক দফায় মারধরের ঘটনায় ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙেছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। স্বজনদের দাবি, পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁদের সঙ্গে থাকা ছয়জনকে মারধর করে হাসপাতালের ভেতরে আটকে রাখেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই ছয়জনের মধ্যে চারজন মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতা।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তখন পুলিশকে জানান, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বহিরাগতরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
ওসি বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ হাসপাতালের ভেতর থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করে। তাঁদের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। চারজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। বাকি দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন চিকিৎসকেরা।
ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। যেকোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।