আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১:২৫:০৮
রাশিয়ার সহায়তায় ‘সুপারসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে গোপনে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইরান। আর এই প্রকল্পে তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে এই এ তথ্য উঠে এসেছে। ফাঁস হওয়া রুশ নথি, ভ্রমণ রেকর্ড ও সামরিক পেটেন্ট বিশ্লেষণ করে তদন্ত করতে গিয়ে এ তথ্য পেয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদন বলা হয়, ২০২৩ সালে রাশিয়া-ইরানের এই গোপন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়, যার সাংকেতিক নাম- সি৪৩০এল। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি র্যামজেটচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা, যা শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে উড়তে পারবে। র্যামজেট প্রযুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডল থেকে বাতাস টেনে নিয়ে উচ্চ গতিতে দীর্ঘ সময় উড্ডয়ন করতে পারে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মতে, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মূলত যুদ্ধজাহাজ ও স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। উচ্চ গতি ও তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড্ডয়নের সক্ষমতার কারণে এগুলো শনাক্ত ও প্রতিহত করা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের জন্য এটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান- ‘রোসোবোরোনএক্সপোর্ট’ প্রকল্পটির সমন্বয় করছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়া।
প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক চুক্তি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত হয় বলে নথিতে দেখা গেছে। এর আগে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার ইরান সফর করেন।
শুধু প্রযুক্তিগত পরামর্শ নয়, রুশ বিশেষজ্ঞরা ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিনের জ্বালানি ব্যবস্থা, দহন স্থিতিশীলতা, বায়ু প্রবেশপথ ও নোজল নিয়ে ইরানের সঙ্গে কাজ করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রায় দুই ডজন রুশ বিশেষজ্ঞকে ইরানে পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীতে মোতায়েন হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইরান র্যামজেট প্রযুক্তি তৈরি ও পরীক্ষা করেছে; কিন্তু রুশ সহায়তায় তৈরি পূর্ণাঙ্গ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখনো কার্যকরভাবে মোতায়েনের পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতা রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ইরানের শাহেদ ড্রোন সরবরাহের পর এবার মস্কোর কাছ থেকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি পাওয়ার মাধ্যমে তেহরান নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়াতে চাইছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, দ্য প্রিন্ট