ওবায়দুর রহমান ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০:৫১:৪৮
ভাঙ্গায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে বিরক্ত করার প্রতিবাদে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সানি ব্যাপারী (২০) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে ১২ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্ৰামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কৈডুবী সদরদী গ্রামের আতিয়ার ব্যাপারীর ছেলে সানি ব্যাপারী(২০)।
আহতরা হলেন , সবুজ ব্যাপারী, মনির ব্যাপারী, আরাফাত হোসেন, শাবানা বেগম, আতিয়ার ব্যাপারী। পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
গ্রামবাসী সুত্রে জানা যায় , হযরত ফাতেমাতুজ যহুরা (রাযিঃ) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু দিন ধরে যাতায়াত করার সময় বিরক্ত করতেছিল একই এলাকার বশার মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর।
আজ সকালে সোমবার এর প্রতিবাদ করে মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মনির ব্যাপারী।
এই ঘটনার সুত্র ধরে ঐ গ্রামের লোকজন বশার মাতুব্বর, বাক্কার মাতুব্বর, আলমগীর মাতুব্বর, হাসান মাতুব্বর, জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের সাথে এবং মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মনির ব্যাপারী, সবুজ ব্যাপারী, পলাশ ব্যাপারী ও আতিয়ার ব্যাপারীর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়।
ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়। স্থানীয় জনতা আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে গুরুতর আহত ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে এবং আতিয়ার ব্যাপারীর ছেলে সানি ব্যাপারী(২০) কে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। এলাকা থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আছমত মাতুব্বর জানান, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদে আজ দুপুরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি হয়। সে সময় আমি উভয় পক্ষকে শান্ত করে যার যার বাড়িতে ফিরিয়ে দেই। এর ঘন্টাব্যাপী পর উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।