নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৬ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯:৩৭
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিকল্প পথে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান এবার প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে এসব পারমাণবিক জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে চালানটি কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি হিসেবে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি সরবরাহ করা হবে। এসব জ্বালানি মোট নয়টি চালানে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। অবশিষ্ট চালানগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২৯ ও ৩০ অক্টোবর এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে বা তার আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত হলে উৎপাদিত বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘোরানো হবে। এর মাধ্যমে জেনারেটর চালু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার ফলাফল ও বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, কেন্দ্রটির প্রতিটি কার্যক্রম অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো যন্ত্রাংশে ত্রুটি পাওয়া গেলে কিংবা ভাল্ব পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না এলে সেগুলো পুনরায় পরীক্ষা ও মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিদ্যুতের সরবরাহও সম্প্রসারিত হবে।