নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৫:৪৩
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে গোলাবারুদ সংকটে যুক্তরাষ্ট্র : পেন্টাগন
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে বিপুল গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতিতে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) ইন্সপেক্টর জেনারেলের মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক অফিসিয়াল প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
কংগ্রেসে জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরিতে’ যুক্তরাষ্ট্রের আনুমানিক ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার (৩ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার) ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও যুদ্ধাস্ত্রের পেছনেই খরচ হয়েছে ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানে অভূতপূর্ব মাত্রায় গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশলগত সামরিক মজুতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ দ্রুত পুনরায় সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্পে বিভিন্ন উৎপাদন ও সরবরাহজনিত জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে।
সংঘাতের সময় ইরানের হামলায় চারটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, একটি এফ-৩৫ ক্ষতিগ্রস্ত, সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত এবং সর্বোচ্চ ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে।
এর আগে সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, দীর্ঘ পাল্লার নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠেকানোর ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহার করে ফেলেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার উদ্বেগ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার উড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘সীমাহীন’ গোলাবারুদ রয়েছে। সোমবারও নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি উন্নত ও অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদন করছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে সব ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না এবং এর আর্থিক দায়িত্ব কে বহন করবে তা নিশ্চিত না থাকায় এই হিসাবের মধ্যে পুনর্নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়নি।