মো. আরিফ হোসেন চৌধুরী
প্রকাশ : ৭ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:২০:৪৪
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ৩৪০ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী আরও ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ফ্লাই ওইয়া এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট YI5040-এ তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার তত্ত্বাবধানে এবং দেশটির জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকারের সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় তাদের দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে ত্রিপোলির সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমন্বয় করা হয়।
প্রত্যাবাসনের আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণ ও সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাদের অভিজ্ঞতা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি দেশে ফেরার পর নতুনভাবে জীবন শুরু করার পরামর্শ দেন।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা প্রতিকূলতার পর দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী অনেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম), প্রথম সচিব (শ্রম)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যাবাসন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ত্রিপোলির মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও উপস্থিত থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।
প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও নিবিড় সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
মানবিক কারণে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনে দেশটির সরকারের অগ্রাধিকার দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।
দেশে ফিরে আসা নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজের নেতিবাচক মন্তব্য বা অবজ্ঞাকে উপেক্ষা করে পরিবারের সহযোগিতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নতুনভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে তাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অন্য কেউ যেন একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার না হন, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি মানবপাচার ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস ও লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টা এবং আন্তরিক সমন্বয়ের ফলেই এই মানবিক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি ভবিষ্যতেও লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে দেশটির সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।