নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৬:৩৪:৫৬
দেশের বাজারে এক যুগ পূর্তি: যশোরা প্ল্যান্টে হিরোর বড় মাইলফলক উদযাপন
বাংলাদেশে পথচলার ১২ বছর পূর্ণ করেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মোটরসাইকেল ও স্কুটার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিরো মোটোকর্প। এ উপলক্ষে যশোরের পদ্মবিলা এলাকায় অবস্থিত এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের (এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ) প্ল্যান্টে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল হিরো মোটোকর্প ও নিলয় মোটরস বাংলাদেশে যৌথভাবে কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ এই সময়ে গ্রাহকের আস্থা ও ভালোবাসায় দেশের মোটরসাইকেল বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে হিরোর মোট গ্রাহক সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি, মানসম্মত পণ্য, গ্রাহকসেবা ও নির্ভরযোগ্যতার মাধ্যমে এই আস্থা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
হিরোর বাংলাদেশে উৎপাদন সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ প্ল্যান্ট। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই কারখানায় বছরে দেড় লাখের বেশি ইউনিট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দেশের মোটরসাইকেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে প্ল্যান্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে হিরো। প্ল্যান্টটিতে সৌরশক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্ল্যান্টের কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫ হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে নিটল নিলয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুসাব্বির আহমেদ বলেন, ১২ বছরের যাত্রায় প্ল্যান্টের সাফল্যের পেছনে পুরো দলের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে ছোট ছোট উন্নতিই বড় সাফল্য তৈরি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাজারে নেতৃত্বের অবস্থান ধরে রাখতে প্ল্যান্টটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এক্সট্রিম সিরিজ, নতুন স্প্লেন্ডার মডেল এবং জুম সিরিজসহ নতুন মডেলগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে হিরো মোটোকর্প ও এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থান, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা জানান, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্য পণ্য এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুই চাকার যানবাহনের বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চান তারা।
আগামী দিনগুলোতে নতুন পণ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের চলাচলকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি দেশের মোটরসাইকেল শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছে হিরো।