নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২:২৭:৪৩
নিরাপদ সীমান্ত গড়তে প্রযুক্তির বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ও বাণিজ্য গতিশীল করতে সমন্বিত ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি তারকা হোটেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের সঙ্গে ক্রমেই বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক যাতায়াত বাড়ার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী বিভিন্ন ঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বৈধ যাত্রী ও পণ্য চলাচল সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল প্রয়োগ, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।
মানবপাচার ও আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান তিনি। বাংলাদেশে আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে আইওএমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা দিতে আইওএম প্রস্তুত রয়েছে।
আইওএমের প্রস্তাবিত কৌশলগত রূপরেখায় চারটি সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান ও উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।