মোঃ শাহপরান, কসবা, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২:২৯:৫৮
পাঁচ ঘণ্টা পর দাবি জানিয়ে আখাউড়ায় অবরোধ প্রত্যাহার
ইউনিয়ন বিভক্তি ও নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া। নিজেদের প্রশাসনিক পরিচয় ও ভৌগোলিক সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখার দাবিতে এবার রেললাইন ও সড়কে নেমে এসেছেন বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাঁদের অবরোধে টানা পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের ট্রেন চলাচল। থমকে যায় আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের যান চলাচলও।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে উপজেলার কোড্ডা এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধকারীরা রেললাইনে স্লিপার ফেলে ট্রেন চলাচলে বাধা দেন। অন্যদিকে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ট্রেনযাত্রী ও সড়কপথের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম নিয়ে বরিশল নামে পৃথক ইউনিয়ন গঠন এবং একই নামে উপজেলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। নতুন প্রশাসনিক কাঠামোয় যেতে অনিচ্ছুক বাসিন্দারা আগের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অধীনেই থাকতে চান।
অবরোধের খবর পেয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম রোমা। তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।
বাসুদেব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন শের শাহ অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার ভাই প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সানির প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের না জানিয়ে ইউনিয়ন বিভক্ত করে বরিশল ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। তাঁরা এ সিদ্ধান্ত মানতে চান না। পাশাপাশি বরিশল নামে উপজেলা গঠনের উদ্যোগও বন্ধের দাবি জানান তিনি।
বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নয়ন বলেন, বরিশল গ্রামটি তাঁদের এলাকার অনেক দূরে। সেখানে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হবে। এতে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক সেবা নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
পাঁচ ঘণ্টার অবরোধ শেষে রেল ও সড়কপথে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে তিন দিনের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান না হলে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন।