মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৭:২১:০৬
৯ মাসে ১৩৩ মাদক মামলা, গ্রেপ্তার ১৬৮
থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মতলব উত্তর থানায় ১৩৩টি মাদক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৭ কেজি ১৪০ গ্রাম গাঁজা, ১০টি গাঁজা গাছ, ২ লিটার চোলাই মদ এবং ৩৭৫ মিলিলিটার কেরু মদ। এছাড়া মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৪৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন ওসি কামরুল হাসান। থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার এবং বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধেও সক্রিয় রয়েছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মতলব উত্তরকে নিরাপদ রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোথাও মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য থাকলে পুলিশকে জানালে তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তাদের মতে, মতলব উত্তর থানার মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাদকের উৎস, কারবারি ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।