মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬ সকাল ১১:৫৬:১০
গঙ্গাচড়ায় দুর্নীতির মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান-সচিবের কারাদণ্ড
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়ন পরিষদে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিবকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রংপুরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. বদরুল আলম ভূঞা সম্প্রতি এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
রায়ে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ টিটুলকে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত আত্মসাৎ করা রাষ্ট্রীয় অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন।
মামলার অপর আসামি নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব চন্দ্র শেখর রায়কে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে চন্দ্র শেখর রায় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা ও সম্পৃক্ততার দায় এড়াতে পারেননি।
রায়ে আরও বলা হয়, বর্তমানে পলাতক থাকা আসামিরা আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে। বিচারাধীন অবস্থায় হাজতে কাটানো সময় চূড়ান্ত সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে আলোচিত এ দুর্নীতি মামলার রায়কে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।