নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৫:২৮:৩২
জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গ্রহণ নিয়ে সেন্দাইয়ে বিএসএসএজে’র সেমিনার
জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গ্রহণের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে জাপানের সেন্দাই শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে জাপানি শিক্ষার্থী প্রেরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশি স্টুডেন্টস’ সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন ইন জাপান (বিএসএসএজে)-এর উদ্যোগে গত ১০ আগস্ট সেন্দাই সিটি ওয়ার রিকনস্ট্রাকশন মেমোরিয়াল হলে “বাংলাদেশ থেকে বিদেশি শিক্ষার্থী গ্রহণ—সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে জাপানের বিভিন্ন ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারিগরি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশে শিক্ষা ও বিদেশগমন-সংক্রান্ত বিদ্যমান ব্যবস্থা, এর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন BSSAJ-এর সভাপতি নাগামাৎসু ফারুক। তিনি বাংলাদেশ থেকে জাপানে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, জীবনযাপন ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে জাপানে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। তবে শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির দিকে নজর না দিয়ে তারা জাপানে এসে কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং কেমন পরিবেশে থাকছে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী—দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের একই প্ল্যাটফর্মে আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াকে তিনি আয়োজনটির অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর ও হেড অব চ্যান্সেরি মো. মাহাবুবুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষা বিনিময় বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করতে পারে। শিক্ষার্থীরা যাতে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে জাপানে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে জন্য শিক্ষার্থী প্রেরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সেমিনারে “উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কেন জাপানকে বেছে নিচ্ছেন” বিষয়ে বক্তব্য দেন বিএসএসএজে’র পরিচালক ও নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। সংগঠনের কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের মনিটরিং ও হেল্পডেস্ক সেবা নিয়ে বক্তব্য দেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা কেন সেন্দাইকে উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন এবং বর্তমানে তারা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সে বিষয়ে বক্তব্য দেন এসকেসি মানামির সিইও লস্কর আরিফ হোসেন।
গ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন রিচিনোমোরি জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ স্কুল সেন্দাইয়ের অধ্যক্ষ মেগুমি আরাই এবং তোয়ো ইন্টারন্যাশনাল কালচারাল একাডেমির অধ্যক্ষ কেই হিকিচি।
মেগুমি আরাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমী ও মনোযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জাপানে আসার পর প্রথম কয়েক মাস তাদের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। অন্যদিকে কেই হিকিচি বলেন, শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী পরিবেশ, জাপানে আসার লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা থাকলে তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবন আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
সেমিনারে তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর গবেষণা অনুষদের ইসলাম মো. রফিকুল এবং জাপানে অধ্যয়নরত একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও শিক্ষার্থী প্রেরণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বেসিক জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ স্কুলের চেয়ারম্যান মো. মফিজ উদ্দিন, জেবি কোকুসাই গো গাকুইনের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম রাজিব, ইনোচি গ্লোবাল এডুকেশন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন, জেন জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ কনসালটেন্সির নাজমুস সাকিব, সানশাইন জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ স্কুলের চেয়ারম্যান জিহাদ, ফিউচার একাডেমির চেয়ারম্যান মো. আরাফাত হোসেন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা, হিকারি এডুকেশনের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম কাব্য, আকুয়া জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের চেয়ারম্যান রাকিব হাসান ভূঁইয়া এবং আসাহী একাডেমির চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার।
সেমিনারের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা। এতে শিক্ষার্থী প্রেরণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া, জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পর কর্মসংস্থান সহায়তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান এবং জাপানে শিক্ষার্থী গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভিন্ন ধারণা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বিএসএসএজে জানায়, জাপানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সংগঠনটি প্রাক-যাত্রা দিকনির্দেশনা, জাপানে পৌঁছানোর পর মনিটরিং এবং দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় হেল্পডেস্ক সেবা দিয়ে আসছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সুসংগঠিত হবে, প্রেরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বাংলাদেশ ও জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।