শান্ত মাহমুদ
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৭:৪৭:৫৩
উত্তরায় লেগুনা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, জিম্মি যাত্রী ও সাধারণ মানুষ
রাজধানীর উত্তরায় লেগুনা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে জিম্মি হয়ে পড়েছেন যাত্রী, অটোরিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষ। উত্তরা উত্তর থেকে হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত চলাচলকারী বেশ কিছু লেগুনার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, এ রুটে চলাচলকারী অনেক লেগুনার ফিটনেস সনদ নেই। একই সঙ্গে কিছু চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ‘জিপি’র নামে আদায় করা হয় ২৫০ টাকা। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এ রুটে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০টি লেগুনা চলাচল করে। সে হিসাবে প্রতিদিন আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। মাসে এ অর্থের পরিমাণ ১১ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে বলে অভিযোগ।
শুধু চাঁদা আদায় নয়, ভাড়া নিয়ে বিরোধ, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে কথিত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অটোরিকশাচালকদেরও বিভিন্ন সময় হয়রানি ও মারধরের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক অটোরিকশাচালককে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক লেগুনাচালক জানান, নিয়মিত টাকা না দিলে চালকদের কথিত অফিসে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে কথিত লেগুনা সিন্ডিকেট। এতে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
তাদের দাবি, লেগুনাগুলোর কাগজপত্র, ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স যাচাইয়ের পাশাপাশি চাঁদা আদায় ও মারধরের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে কথিত লেগুনা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে উত্তরা ট্রাফিক জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুবেল হক চ্যানেল এসকে জানান, নিয়মিত অভিযান চলছে, পাশাপাশি লেগুনাস্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।