চীনের নাগরিকদের ভ্রমণে নতুন বিধি
চীনে নাগরিকদের বিদেশ যাওয়া ও বিদেশ থেকে দেশে ফেরার বিষয়ে নতুন বিধি কার্যকর হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ফলে দেশের নাগরিকদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হতে পারে। খবর বিবিসির। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানকালে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থের ‘ক্ষতি’ করেছেন বলে বিবেচিত নাগরিকদের দেশে ফেরার পর সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত আবার চীন ছাড়তে নিষেধ করা হতে পারে। এ ছাড়া প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করলেও কাউকে বিদেশযাত্রা থেকে নিষিদ্ধ করা যাবে।চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন বিধির উদ্দেশ্য হলো ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা করা’। সাধারণ নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর এতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা।তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন নিয়মের মাধ্যমে বিদেশে থাকা চীনা নাগরিকদের কর্মকাণ্ডের ওপর বেইজিংয়ের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা আরও বাড়বে।জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এশিয়ান ল-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক টম কেলগ বিবিসি চীনা বিভাগকে বলেন, ‘চীনা নাগরিকেরা বিদেশে কী করেন এবং কী বলেন, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি আরেকটি হাতিয়ার।’তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে বিদেশে চীনা সরকারের সমালোচনা ঠেকাতে অথবা অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে কাউকে শাস্তি দিতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সরাসরি পাসপোর্ট দিতে অস্বীকৃতি জানায়।’ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন বিধি অনুযায়ী, কোনো চীনা নাগরিক এমন প্রযুক্তি আমদানি বা রপ্তানি সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ করলে, যা ‘জাতীয় শিল্প বা প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে’, তাকে দেশ ছাড়তে নিষেধ করা হতে পারে।চীনা সরকারের গুজব খণ্ডনকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত পিয়াও গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন বিধি ‘সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণ সীমিত করার জন্য নয়’। বরং ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য এবং অস্বাভাবিক ভ্রমণ আচরণ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।বিবৃতিতে বলা হয়, মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে যাওয়া, কিংবা বিদেশে অবৈধ জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার মতো ‘সমস্যা’ মোকাবিলার জন্যই এসব বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীনা নাগরিকেরা নিজেরা যাচাই করতে পারেন না যে তাদের ওপর বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না। সাধারণত সরকারি লিখিত বা মৌখিক কোনো নোটিশ না পাওয়া পর্যন্ত মানুষ জানতে পারেন না যে তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় অথবা দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেই অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি জানা যায়।চীনের প্রশাসনিক লাইসেন্স আইন অনুযায়ী, কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কোনো অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কারণ লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করার কথা। কিন্তু বিবিসির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, বাস্তবে এই নিয়ম সবসময় কার্যকর হয় না। এ বিষয়ে বিবিসি চীনের পক্ষ থেকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।