পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী আফরোজা
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, পোশাক, হস্তশিল্প ও খাদ্যসংস্কৃতি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ সিজন-২।শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ফুলছড়া চা-বাগান মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এনডিসি ফাহমিদা আখতার।আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো এই উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবটি ১৯ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।উৎসবে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে খাসিয়া, মণিপুরী, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, ওরাও, মুন্ডা, কুর্মী, ভূমিজ, খাড়িয়া, বারাইক, গঞ্জু, কড়া, লোহারসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী। তারা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, ব্যবহার্য সামগ্রী ও খাদ্যসংস্কৃতি প্রদর্শন করছে।উৎসবে মোট ৮৫টি প্রদর্শনী স্টল রয়েছে। এসব স্টলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তৈরি পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী, হস্তশিল্প, অলংকার এবং ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলায় বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। আধুনিকতার প্রভাবে এসব ঐতিহ্যের অনেক কিছুই হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই এ ধরনের আয়োজন তাদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উৎসবে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা চা-শ্রমিক ও খাসিয়া সম্প্রদায়সহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।স্থানীয়রা মনে করেন, শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করতে এবং এলাকার বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।উৎসব উপলক্ষে প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য, গান এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।