শাফি উদ্দিন আহমদ
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬ বিকাল ০৩:১৯:২২
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে : জাতিসংঘ মহাসচিব
২০২৬ সালের ‘ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, 'আজ আমরা ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগগুলোর (MSMEs) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উদযাপন করছি—যেসব উদ্যোগ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে, পরিবারগুলোর জীবিকা সচল রাখতে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য এগুলো অপরিহার্য; বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।'
তবে এই ব্যবসাগুলোকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, 'এর মধ্যে রয়েছে কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, বর্তমান ব্যবসায়িক মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যাপক প্রভাব এবং অত্যধিক শুল্ক ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি। বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতাও এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।'
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাণিজ্য পথ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, 'এই সংঘাত জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সামগ্রিক ব্যয়কে আকাশচুম্বী করেছে।'
মহাসচিব বলেন, 'বৈশ্বিক অভিঘাত বা সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা গড়ে তুলতে, রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য আনতে, উপকরণ ও কাঁচামালের নতুন উৎস খুঁজে বের করতে এবং উদ্যোক্তাদের—বিশেষ করে নারী ও তরুণদের—সহায়তায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে সরকার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন যাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সাশ্রয়ী সুদে ঋণ পেতে পারে এবং ঋণ গ্রহণের খরচ কমাতে পারে।'
আন্তোনিও গুতেরেস আরও বলেন, 'এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ও সফলতার জন্য উদ্ভাবন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যবসাগুলোকে সহায়তা করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার এই বিশ্বে শান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে; সেই সাথে বৈশ্বিক বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সচল রাখার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।'
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগগুলো যেন আগামী প্রজন্মের জন্যও সমৃদ্ধি ও সুযোগ সৃষ্টির চালিকাশক্তি হিসেবে টিকে থাকে, সেটি নিশ্চিতে সবার প্রতি আহবান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।