নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৩:০৫:৫২
নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্ভব নয়: জোনায়েদ সাকি
নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, সঠিক তথ্যের অভাবে দেশ কোন অবস্থানে রয়েছে, কোথায় যেতে চায় এবং সেই লক্ষ্যে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা জরুরি।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাকি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নযোগ্য পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক ও পাঁচটি স্তম্ভকে ভিত্তি করে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথমেই প্রয়োজন প্রকৃত পরিস্থিতির নির্ভরযোগ্য তথ্য।
তিনি আরও বলেন, অতীতে পরিসংখ্যান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে মানুষের মধ্যে সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগের বছরগুলোতে নিরূপণ করা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবের যথার্থতা যাচাইয়ে ফরেনসিক অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সহযোগিতায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে গবেষণা করেছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় জিডিপি নিরূপণের পদ্ধতিতে বেশ কিছু দুর্বলতা পাওয়া গেছে। এসব দুর্বলতার জায়গা জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। কোনো ধরনের তথ্য বিকৃতি করতে চায় না সরকার। কারণ, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। বরং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সরকারের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।
পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) নিরূপণে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কম্পিউটার সহায়তায় তথ্য সংগ্রহ করে তা সরাসরি ডেটাবেজে যুক্ত হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগে এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া রাখা হয়নি। ফলে তথ্য প্রকাশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা পরিবর্তনের সুযোগ কমবে।
তিনি আরও বলেন, পরিসংখ্যানকে সহজলভ্য করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শুধু সরকার নয়, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষেরও তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত কাজ শেষ হলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করা যাবে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন সাকি। তার মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণের সঙ্গে সমাজের অন্যান্য অংশের বিশ্লেষণের তুলনামূলক আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ থাকতে হবে। এতে তথ্যের যথার্থতা এবং নীতিনির্ধারণের কার্যকারিতা যাচাই করা সহজ হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য আলাদা পরিচিতি নম্বর ও ওয়ালেটভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরতে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি আরও উন্নত করতে হবে।