নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬ রাত ০৬:১৩:৫৮
ফায়ার ফাইটার নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, সিসিটিভি ও ড্রোনে কঠোর নজরদারি
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা। সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ফায়ার ফাইটার নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। নিয়োগের প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো মাঠজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, আকাশে উড়ছে ড্রোন এবং প্রতিটি কার্যক্রম ভিডিওতে ধারণ করা হচ্ছে।
নিয়োগের প্রথম ধাপে প্রার্থীদের উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ যাচাই করা হচ্ছে। এরপর ৪০০ মিটার দৌড় এবং পুশ-আপ পরীক্ষার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সবশেষে মেডিকেল পরীক্ষা ও তথ্য যাচাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবং নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. শহীদ আতাহার হোসেন বলেন, “একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।”
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনিবন্ধিত কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি চক্র নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
নিয়োগ কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটি প্রতিদিন পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অযোগ্য প্রার্থীদের আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারেন এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি না হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসে লিখিত পরীক্ষা এবং আগস্টে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে শেষ হবে নিয়োগ কার্যক্রম।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও বহুমাত্রিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এবার একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।