ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬ রাত ০৬:৪৯:৫৯
ঈশ্বরদীতে শিক্ষিকাকে পিটিয়ে যখম
পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় এক শিক্ষিকাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা বিদ্যানিকেতন-এ এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী, প্রধান শিক্ষিকা শামিমা নাসরিন (২৮) এবং সেলিনা বেগম (৫০)। আহতদের মধ্যে ঝর্ণা খাতুন সাথীকে গুরুতর অবস্থায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক মনে হলেও বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সালাহউদ্দিন ইউসুফ নিবিড়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল খাতুনকে পড়াশোনায় অবহেলার অভিযোগে শাসন করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীর মা লিপি খাতুন বিদ্যালয়ে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর উজ্জ্বল মাল ও তার ছেলে বাসীর মালসহ কয়েকজন বিদ্যালয়ে এসে উপস্থিত শিক্ষকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ধর্মীয় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আল আমিন বলেন, “উজ্জ্বল মাল বিদ্যালয়ে এসে সেলিম রেজাকে না পেয়ে এক শিক্ষিকার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে টানতে টানতে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।”
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা মৃত বক্কার মালের ছেলে উজ্জ্বল মাল এবং তার ছেলে বাসীর মাল-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষককে মারধরের খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।