আহমেদ সাজু, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৭:৫১
সখীপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সেঁজুতি (৮) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সেঁজুতি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার ফালু চন্দ্র মালুর মেয়ে। সে সখীপুর আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্বজনদের ভাষ্য, গত শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলা মাঠে খেলতে গিয়ে সেঁজুতি নিখোঁজ হয়। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন রাতেই সেঁজুতির বাবা সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের একাধিক সদস্য দাবি করেন, রোববার রাতে তাদের কাছে একটি ফোনকল আসে। ওই কলদাতা সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কল পাওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সোমবার সকালে স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদের পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি সেঁজুতির বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের বাবা ফালু চন্দ্র মালু বলেন, “আমার ছোট্ট মেয়েটিকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ফোনে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনি সহায়তাসহ পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
সখীপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি পানিতে ডুবে মারা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।